পুরুষার বলিদান : সমস্ত জিনিসের উৎপত্তি

পদ 3 এবং 4 এর পরে পুরুষাশুক্তা এর ফোকাসকে পুরুষার গুণাবলীর থেকে পুরুষার বলিদানে পরিবর্তন করে I পদ 6 এবং 7 এটিকে নিম্নলিখিত উপায়ে করে I (সংস্কৃত অক্ষরীকরণ, এবং পুরুষাশুক্তর উপরে আমার অনেক চিন্তাধারা, যোষেফ পাদিনজারেকারা লিখিত ক্রাইষ্ট ইন দি এনসিয়েন্ট বেদাস বইয়ের অধ্যয়ন থেকে এসেছে (346 পৃষ্ঠা 2007)

পুরুষাশুক্তর মধ্যে পদ 6-7

বাংলা অনুবাদ সংস্কৃত অক্ষরীকরণ
দেবতারা যখন পুরুষাকে একটি নৈবেদ্য রূপে বলি উৎসর্গ করলেন, তখন বসন্ত এর দ্রবীভূত মাখনে, গ্রীষ্ম এর জ্বালানিতে, এবং শরৎ এর নৈবেদ্যে পরিণত হল I তারা আদিতে বলিরূপী জন্মানো পুরুষাকে শুষ্ক তৃণের মধ্যে ছিটিয়ে দিল I দেবতারা, সাধ্যরা, এবং ভবিষ্যদদর্শীরা তাঁকে জীবন্ত বলি রূপে উৎসর্গ করলেন I  যাতপুরুসেনা হাবিসা দেবা জ্ঞানম অতনবাতা বাসান্ত আস্যাসিদ অজ্যম গ্রিস্মা ইধ্মাহ: সরদ্ধাবিহ: তাম জ্ঞানম বারহিসি প্রৌক্ষম পুরুষম যতমগ্রাতাহ: তেনা দেবা অজ্ঞানতা সাধ্যা রসব্যাস চ ইয়ে 

যদিও সবটা সোজাসুজিভাবে স্পষ্ট নয়, কিন্তু যেটা স্পষ্ট তা হল যে ফোকাস পুরুষার বলিদানের উপর I প্রাচীন বৈদিক টীকাকার শংকারাচার্যর এই মন্তব্যটি ছিল: 

“ঋষিগণ – সাধু ও দেবতাগণ – বলিসংক্রান্ত শিকার পুরুষাকে, এক বলিসংক্রান্ত পশু রূপে একটি বলিসংক্রান্ত খুঁটির সাথে আবদ্ধ করলেন, এবং তাদের মনের দ্বারা একটি বলিদানের মধ্যে তাঁকে উৎসর্গ করলেন”

ঋক বেদের উপরে শংকারাচার্যর ভাষ্য 10.90.7      

পদ 8-9 “তস্মাদ্যজ্ঞাস্তর্বহুত:…” বাক্যাংশ দিয়ে আরম্ভ হয় যার অর্থ হল যে তাঁর বলিদানে পুরুষা তাঁর সমস্ত কিছুকে উৎসর্গ করলেন  – তিনি কিছুই রেখে দিলেন না I এটি পুরুষার প্রেমকে প্রদর্শিত করেছিল যা তিনি তাঁর বলিদানের মধ্য দিয়ে দিয়েছিলেন I এটি একমাত্র প্রেম যার সাথে আমরা নিজেদেরকে সম্পূর্ণরূপে অন্যদের দিতে পারি এবং কিছুই রেখে দিই না I যেমনটি যেশু সৎসংগ (যীশু খ্রীষ্ট) বেদ পুস্তকমের মধ্যে (বাইবেল) বললেন       

“ইহা অপেক্ষা অধিক প্রেম আর কাহারও নেই: কেহ যে আপন বন্ধুদের নিমিত্ত নিজ প্রাণ সমর্পণ করে”

যোহন 15:13

যেশু সৎসংগ (যীশু খ্রীষ্ট) এটি বললেন যেন তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে ক্রুশের বলিদানে নিজেকে সমর্পণ করছিলেন I পুরুষার সঙ্গে যেশু সৎসংগের ঐ বলিদানের মধ্যে কোনো সংযোগ আছে কি? পুরুষাসুক্তার পদ 5 (যেটিকে আমরা এখনও পর্যন্ত বাদ দিয়ে এসেছি) একটি সুত্র প্রদান করে  –  কিন্তু সূত্রটি রহস্যজনক I এখানে পদ 5টি আছে   

পুরুষাসুক্তার পদ 5

বাংলা অনুয়াদ সংস্কৃত অক্ষরীকরণ
তার থেকে  – পুরুষার একটি অংশ থেকে  – ব্রহ্মান্ডর সৃষ্টি হল এবং এটিকে পুরুষার সিংহাসন করা হল এবং তিনি সর্বব্যাপী হলেন তস্মাদ বিরলাজায়াতা বিরাজ অধি পুরুষ: সা জাত অত্যারিচিয়াতা পশ্চাদভুমিম অর্থ পুরাহ:

পুরুষাসুক্তা অনুসারে, পুরুষাকে সময়ের প্রারম্ভে বলিদান করা হয়েছিল এবং এর পরিণামস্বরূপ ব্রহ্মান্ডর সৃষ্টি হয়েছিল I এইরূপে এই বলিদানকে পৃথিবীর উপরে উৎসর্গ করতে পারা যায় নি কারণ বলিদান তাই ছিল যা পৃথিবীকে এগিয়ে  নিয়ে এসেছিল I পদ 13 স্পষ্টরূপে দেখায় এই সৃষ্টি পুরুষার বলিদানের থেকে বার হয়ে আসছে I এটি বলে

পুরুষাসুক্তার পদ 13

বাংলা অনুবাদ সংস্কৃত অক্ষরীকরণ
চাঁদ তাঁর মুখের থেকে জন্মেছিল I সূর্য তাঁর চোখের থেকে বেরিয়েছিল I বিদ্যুত, বৃষ্টি এবং অগ্নি তার মুখ থেকে উৎপন্ন হয়েছিল I তাঁর নিঃস্বাস থেকে বায়ুর জন্ম হয়েছিল I   চন্দ্রমা মনসো জাতশ্চক্ষো সূর্য আজায়তা মুখদ ইন্দ্রাশ্চ অগ্নিশ্চ প্রনাদ বায়ুর অযায়াতা

বেদা পুস্তকমের (বাইবেল) গভীর উপলব্ধির মধ্যে এর সবকিছু স্পষ্ট হয়ে উঠেছে I আমরা এটি দেখি যখন আমরা ঋষি (ভাববাদী) মীখার লেখা পড়ি I তিনি প্রায় 370 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ সময়কালে বাস করতেন এবং যদিও তিনি যীশু খ্রীষ্টের (যেশু সৎসংগ) আগমনের 750 বছর পূর্বে বাস করতেন তিনি আগে থেকেই তাঁর আগমনকে দেখেছিলেন সেই শহরের নাম উল্লেখ করে যে কোথায় তিন জন্মগ্রহণ করবেন I তিনি ভাববাণী বলেছিলেন:     

“আর তুমি হে বৈতলেহেম ইফ্রাথা,

যদিও তুমি য়িহূদার সহস্রগনের মধ্যে ক্ষুদ্রা,

তোমার থেকে আমার জন্য আসবেন

একজন যিনি ইস্রায়েলের উপর শাসন করবেন

যাঁর উৎপত্তি প্রাক্কাল থেকে,

অনাদিকালের সময় থেকে I   

মীখা 5:2

মীখা ভাববাণী করলেন যে শাসনকর্ত্তা (বা খ্রীষ্ট) বৈতলেহেমশহর থেকে  বের হয়ে আসবেন I 750 বছর পরে যীশু খ্রীষ্ট (যেশু সৎসংগ) এই দর্শনের পরিপূর্ণতায় বৈতলেহেমে জন্মগ্রহণ করলেন I সত্যের অন্বেষণকারীগণ মীখার দর্শনের এই বিশেষ দিকের উপরে সাধারণতঃ তাদের আশ্চর্যকে ফোকাস করেন I যাইহোক, এটিই একজনের এই আগমনের উৎপত্তির বিবরণ যার উপর আমাদের ফোকাস করার প্রয়োজন I মীখা ভবিষ্যতের আগমন সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করেন, কিন্তু তিনি বলেন যে একজনের এই আগমনের উৎপত্তি অতীতের গভীরে নিহিত রয়েছে I তাঁর ‘উৎপত্তি প্রাক্কাল থেকে’ I একজনের এই আগমনের উৎপত্তি পৃথিবীর উপরে তাঁর আবির্ভাবের পূর্বেই দিন স্থির করে রাখে! কত পেছনে ‘… অথবা প্রাক্কালে’ যায়? এটি ‘অনন্তকালীন সময়’ এর দিকে যায় I বেদা পুস্তকমের (বাইবেল) সত্য প্রজ্ঞার অন্য কথাগুলো এটিকে আরও প্রাঞ্জল করে I কলসীয় 1:15 এর মধ্যে ভাববাদী  পৌল (যিনি প্রায় খ্রীষ্টাব্দ 50 এ লিখেছিলেন) যেশু (যীশু) সম্পর্কে ঘোষণা করেছিলেন যে:        

ইনিই অদৃশ্য ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি, সমুদয় সৃষ্টির প্রথমজাত I

কলসীয় 1: 15

যেশুকে ‘অদৃশ্য ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি’ হতে ঘোষণা করা হয় এবং ‘সমুদয় সৃষ্টির প্রথমজাত I’ অন্য কথায়, যদিও যেশুর অবতার ইতিহাসের একটি যথাযথ সময়ে হয়েছিল (4 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ – 33 খীষ্টাব্দ), কোনো কিছু সৃষ্টি হওয়ার পূর্বেই তিনি বিরাজমান ছিলেন  –  এমনকি অনন্তকালীন অতীত পর্যন্ত I তিনি এইরকম করলেন কারণ ঈশ্বর (প্রজাপতি) সর্বদা অনন্তকালীন অতীতে বিরাজমান রয়েছেন, এবং তাঁর ‘প্রতিমূর্তি’ হয়ে যীশু (যেশু সৎসংগ) সর্বদা বিদ্যমান হয়ে থেকেছেন I    

পৃথিবীর সৃষ্টি থেকে বলিদান সমস্ত কিছুর উৎপত্তি 

কিন্তু না কেবল তিনি অনন্তকালীন অতীত থেকে বিদ্যমান রয়েছেন, সাধু (ভাববাদী) যোহন স্বর্গের এক দর্শনে দেখলেন এই যীশুকে (যেশু সৎসংগ) চিত্রিত করা হয়েছে 

 “…জগৎপত্তনের সময় অবধি হত মেষশাবক রূপে”) 

প্রকাশিত বাক্য 13:8

এটি কি অসঙ্গতি? যীশু (যেশু সৎসংগ) কি 33 খ্রীষ্টাব্দে হত হন নি? যদি তিনি হত হয়ে থাকেন তবে, তিনি কিভাবে ‘জগতের সৃষ্টি’ থেকে আবারও হত হয়ে থাকতে পারেন? এটিকে এই কূটাভাসের মধ্যে আমরা দেখি যে পুরুষাসুক্তা এবং বেদা পুস্তকম একই জিনিসকে বর্ণনা করছে I আমরা দেখলাম যে বলে যে পুরুষা:র বলিদান ‘প্রারম্ভে; ছিল I যোষেফ পাদিনজারেকারা তার ক্রাইষ্ট ইন দি বেদাস  বইতে ইঙ্গিত দেন যে পুরুষাসুক্তার উপর সংস্কৃত ভাষ্য আমাদের বলে যে পুরুষার এই বলিদান প্রারম্ভে ‘ঈশ্বরের হৃদয়ে’ ছিল (তিনি এটিকে সংস্কৃতের ‘মনোসয়াগম’ এর অর্থ রূপে অনুবাদ করেছেন) I এছাড়াও তিনি সংস্কৃত পন্ডিত এন জে শেনদের উল্লেখ করেছেন যিনি বলেন যে প্রারম্ভের এই বলিদান একটি “মানসিক বা প্রতীকাত্মক একটি” * ছিল I     

সুতরাং এখন পুরুষাসুক্তার রহস্য স্পষ্ট হয় I পুরুষা ঈশ্বর এবং অনন্তকালীন থেকে ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি ছিলেন I তিনি অন্য কোনো কিছুর পূর্বে ছিলেন I তিনি সমুদয়ের প্রথম জাত হন I ঈশ্বর, তাঁর সর্বজ্ঞানের মধ্যে জানতেন যে মানবজাতির সৃষ্টির একটি বলিদানের প্রয়োজন হবে – যার সমস্ত কিছুর দরকার হবে যা সে দিতে পারত – জগতের মধ্যে পুরুষার অবতারকে পাপ থেকে ধৌত বা শুদ্ধিকরণ রূপে বলি হতে হবে I এটি এই বিন্দুতে ছিল যে ঈশ্বরকে নির্ণয় করতে হত তিনি ব্রহ্মাণ্ড এবং মানব জাতির সৃষ্টি করতে অগ্রসর হবেন কি  না I সেই নির্ণয়ের মধ্যে পুরুষা বলি হতে ইচ্ছুক হলেন, এবং সৃষ্টি এগিয়ে  গেল I সুতরাং মানসিকভাবে, অথবা ঈশ্বরের হৃদয়ে, পুরুষা ‘জগৎপত্তনের থেকে হত হলেন’ যেমনটি বেদ পুস্তকম ঘোষণা করে I  

একবার যখন ওই নির্ণয় গ্রহণ করা হল  – এমনকি সময় আরম্ভ হওয়ার পূর্বে  – ঈশ্বর (প্রজাপতি  – সমস্ত সৃষ্টির প্রভু) ব্রহ্মান্ড এবং মানবজাতির সৃষ্টির সময় স্থির করলেন I এইরূপে পুরুষার ইচ্ছাকৃত বলিদান ‘ব্রহ্মান্ডর সৃষ্টি হওয়ার’ কারণ হল (পদ 5), চাঁদ, সূর্য, বিদ্যুত এবং বৃষ্টি (পদ 13) সৃষ্টি হল, এমনকি সময় স্বয়ং ( বসন্ত, গ্রীষ্ম এবং শরৎ 6 পদে উল্লিখিত) আরম্ভ হল I পুরুষা এই সমুদয়ের মধ্যে প্রথম জাত ছিল I 

‘ঈশ্বরগণ’ কারা যারা পুরুষাকে বলি দিল?

কিন্তু একটি ধাঁধা অবশিষ্ট থেকে যায় I পুরুষাসুক্তার পদ 6 বলে যে ‘ঈশ্বররা’ (দেবতারা) পুরুষাকে বলি দিলেন? এই ঈশ্বররা কারা? বেদ পুস্তকম (বাইবেল) এটিকে ব্যাখ্যা করে I ভাববাদীদের মধ্যে একজন দায়ূদ 1000 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে একটি পবিত্র স্ত্রোত লিখলেন যা প্রকাশ করল ঈশ্বর (প্রজাপতি) পুরুষ এবং নারী সম্পর্কে কিভাবে বললেন:   

 “আমি বলিয়াছি, ‘তোমরা “ঈশ্বরগণ”; তোমরা সকলে পরাৎপরের সন্তান I’   

গীত সংহিতা 82:6

যেশু সৎসংগ (যীশু খ্রীষ্ট) 1000 বছর পরে ভাববাদী দায়ূদ দ্বারা কথিত এই পবিত্র স্ত্রোতের উপরে মন্তব্য করলেন এই বলে:

যীশু তাদের উত্তর দিলেন, “তোমাদের ব্যবস্থায় এটি কি লেখা নেই, ‘আমি বলিলাম তোমরা ‘ঈশ্বর,’ যদি তিনি তাদেরকে ‘ঈশ্বর’ বলে ডেকে থাকেন, যাদের উপরে ঈশ্বরের বাক্য এসেছিল—আর শাস্ত্রকে খন্ডন করা যায় না—তবে যাকে পিতা পবিত্র করলেন ও জগতে পাঠালেন তাঁর সম্বন্ধে কি বল?

যোহন 10:34-36

যেশু সৎসংগ (যীশু খ্রীষ্ট) ভাববাদী দায়ূদের দ্বারা ‘ঈশ্বর’ পরিভাষার ব্যবহারকে প্রকৃত শাস্ত্র বাক্য বলে অনুমোদন করেন I  কি ভাবে এটি তাই হয়? আমরা বেদা পুস্তকমের মধ্যে সৃষ্টির বিবরণের মধ্যে দেখি যে আমাদেরকে ‘ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্টি করা হয়েছে’ (আদিপুস্তক 1:27) I সুতরাং কিছু অর্থে আমাদেরকে ‘ঈশ্বর’ বলে বিবেচনা করা যেতে পারে কারণ আমাদেরকে ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্টি করা হয়েছে I কিন্তু বেদা পুস্তকম আরও ব্যাখ্যা করে I এটি ঘোষণা করে যে যারা পুরুষার এই বলিদানকে স্বীকার করে তারা হয়:  

কেননা তিনি জগৎপত্তনের পূর্বে খ্রীষ্টে আমাদেরকে মনোনীত করেছিলেন, যেন আমরা তাঁর সাক্ষাতে পবিত্র ও নিষ্কলঙ্ক হই I প্রেমে তিনি যীশু খ্রীষ্ট দ্বারা নিজের দত্তকপুত্রের নিমিত্ত আমাদেকে তাঁর নিজের অনুগ্রহ ও ইচ্ছা অনুসারে, পূর্ব থেকে নিরূপিত করলেন,

ইফিষীয় 1:4-5

যখন প্রজাপতি-পুরুষা জগৎপত্তনের পূর্বে পুরুষাকে সিদ্ধ বলি রূপে উৎসর্গ করতে নির্ণয় নিলেন, ঈশ্বর লোকদেরকেও মনোনীত করলেন I কিসের জন্য তিনি তাদেরকে মনোনীত করলেন? এটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলে যে তিনি আমাদের তার ‘পুত্রগণ’ হতে মনোনীত করলেন I 

অন্য কথায় বেদা পুস্তকম (বাইবেল) ঘোষণা করে যে পুরুষ এবং নারীকে মনোনীত করা হয়েছিল যখন ঈশ্বর নিজেকে সম্পূর্ণভাবে সিদ্ধ বলিতে উৎসর্গ করে সমর্পণ করলেন যেন এই বলিদানের মাধ্যমে তিনি ঈশ্বরের সন্তান হতে পারেন I ওই সম্পূর্ণ অর্থে আমাদেরকে ‘ঈশ্বরগণ’ বলা হয় I এটি তাদের পক্ষে সত্য (যেমনটি যেশু সৎসংগ উপরে ঘোষণা করেছে) ‘যাদের কাছে ঈশ্বরের বাক্য এলো’ – তাদের কাছে যারা তাঁর বলিদানকে স্বীকার করে I সেই অর্থে এটি ঈশ্বরের ভবিষ্যত পুত্রদের প্রয়োজন ছিল যা পুরুষাকে বলিদানে আবদ্ধ করল I পুরুষাসুক্ত পদ 6 যেমন বলে ‘দেবতারা পুরুষাকে এক নৈবেদ্য রূপে একটি বলি উৎসর্গ করলেন’ I পুরুষার বলিদান আমাদেরকে শুচিসুদ্ধ করার জন্য ছিল I

পুরুষার বলিদান স্বর্গে যাওয়ার পথ

সুতরাং প্রাচীন পুরুষাসুক্ত এবং বেদা পুস্তকমের প্রজ্ঞার মধ্যে আমরা ঈশ্বরের প্রকাশিত পরিকল্পনাকে দেখি I এটি একটি অদ্ভূত পরিকল্পনা এমন একটি যার আমরা কল্পনা করতে পারি না I এছাড়া এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ যেভাবে পুরুষাসুক্ত পদ 16 এর মধ্যে এটিকে সমাপ্ত করেছে 

বাংলা অনুবাদ সংস্কৃত অক্ষরীকরণ
দেবতারা পুরুষাকে বলি রূপে উৎসর্গ করলেন I এটি প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠিত  নীতি I এর মধ্য দিয়ে ঋষিরা স্বর্গ প্রাপ্ত করে  যজ্ঞেনং যজ্ঞমং যজন্ত দেবাস্তানি ধর্মাণি প্রথমান্যাংসন তেহ নাকম মহিমান: সচন্ত যত্র পূর্বে সাধ্যা: সন্তিদেবা:   

এক ঋষি একজন ‘জ্ঞানী’ ব্যক্তি I আর স্বর্গ প্রাপ্ত করার জন্য একটি প্রকৃত জ্ঞানকে অর্জন করার এটি একটি বিষয় I এটি আমাদের নাগালের বাইরে নয় I এটি অসম্ভব নয় I এটি কেবল পবিত্র লোকদের কঠোর তপস্যার জন্য নয় যারা প্রচন্ড শৃঙ্খলা এবং সাধনার মাধ্যমে মোক্ষ প্রাপ্ত করে I এটি কেবল গুরুদের জন্য নয় I বিপরীত দিকে এটি একটি পথ ছিল যাকে স্বয়ং পুরুষার দ্বারা তাঁর অবতারে প্রদত্ত হয়েছিল যেমন যীশু খ্রীষ্ট (যেশু সৎসংগ)     

পুরুষার বলিদান স্বর্গে যাওয়ার আর কোনো পথ নেই

আসলে না কেবল আমাদের জন্য এটিকে দেওয়া হয়েছে বরং পুরুষাসুক্তর 15 এবং 16 পদের উপরে শঙ্করাচার্যর সংস্কৃত ভাষ্য বলে  

বাংলা অনুবাদ সংস্কৃত অক্ষরীকরণ
এইরূপে, একজন যিনি জানেন এ মৃত্যুহীনতার অবস্থায় পৌঁছে যায় I এর জন্য আর কোনো উপায় জানা নেই তমেব বিদ্যানমৃত ইহ ভবতি নান্য: পন্থা অয়নায় বিদ্যতে

অনন্ত জীবনে (মৃত্যুহীনতা) পৌঁছনোর আর কোনো উপায় জানা নেই! নিশ্চিতরূপে এই বিষয়টিকে আরও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অধ্যয়ন করা বিচক্ষণ হয় I এপর্যন্ত আমরা বেদা পুস্তকমের (বাইবেল) মধ্য দিয়ে লাফিয়ে বেড়িয়েছি দেখাতে কিভাবে এটি ঈশ্বর, মানবজাতি ইবন বাস্তবতার নাগাল পাওয়ার একটি গল্পকে বলে যা পুরুষাসুক্তর কথার প্রতিধ্বনি করে I কিন্তু আমরা এই গল্পটিকে বিস্তারিতভাবে দেখি নি অথবা ক্রম অনুসারে I তাই, আমরা আপনাকে আমন্ত্রণ জানাই বেদা পুস্তকমের মধ্যে আমাদের সাথে অন্বেষণ করতে প্রারম্ভ থেকে শুরু করে, সৃষ্টি সম্পর্কে জানতে, কি এমন ঘটল যার জন্য পুরুষার বলিদানের প্রয়োজন হল, জগতে কি এমন ঘটল যা মানুর বন্যা (বেদা পুস্তকমের মধ্যে নোহ) নিয়ে এলো এবং বিশ্বের জাতিগণ কিভাবে শিখল এবং প্রতিশ্রুতিকে সংরক্ষিত করে রাখল যে সিদ্ধ বলিদান তাদেরকে মৃত্যু থেকে মুক্তি দেবে এবং স্বর্গে অনন্ত জীবন দান করবে I নিশ্চিতভাবে এটি এমনকিছু যা জানার যোগ্য I     

*(এন যে শিন্দে I দি পুরুষাসুক্ত (আর ভি 10-90) বৈদিক সাহিত্যের মধ্যে (পাব্লিকেশন অফ দি সেন্টার অফ অ্যাডভান্সড স্টাডি ইন সংস্কৃত, ইউনিভার্সিটি অফ পূনা) 1965 I

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *