পদ 2 – পুরুষা অমরত্বর প্রভু

আমরা পুরুষাসুক্তর প্রথম পদে দেখলাম যে পুরুষা কে সর্বজ্ঞানী, সর্বশক্তিমান এবং সর্বব্যাপী রূপে বর্ণনা করা হয়েছে I আমরা তখন প্রশ্ন উত্থাপন করলাম পুরুষা কি যেশু সত্সংগ (যীশু খ্রীষ্ট) হতে পারে আর মনের মধ্যে এই প্রশ্ন নিয়ে পুরুষাসুক্তর মধ্য দিয়ে এক যাত্রা আরম্ভ করলাম I অতএব আমরা পুরুষাসুক্তর দ্বিতীয় পদে আসি যা মানুষ পুরুষাকে প্রত্যেক অস্বাভাবিক পরিভাষায় মানুষ পুরুষাকে বর্ণনা করতে থাকে I এখানে সংস্কৃত অক্ষরীকরণ এবং ইংরেজি অনুবাদ আছে (সংস্কৃত অক্ষরীকরণ সমূহ যোষেফ পাদিনজারেকারার দ্বারা লিখিত ক্রাইষ্ট ইন দি এনসিয়েন্ট বেদাস বইটির অধ্যয়নের থেকে এসেছে (পৃষ্ঠা 346. 2007)) I

পুরুশাসুক্তর দ্বিতীয় পদ
বাংলা অনুবাদ সংস্কৃত অক্ষরীকরণ
পুরুষা হচ্ছেন এই সমগ্র বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড, যা আছে এবং যা হবে I আর তিনি অমরত্বের প্রভু, যা তিনি খাদ্য বিনা প্রদান করেন [প্রাকৃতিক সারবস্তু] পুরুষা এভেদম সর্বম যাদভূতম যাচ্ছা ভব্যম উতামৃততভাস্যেসানো যাদান্নেনাতিরোহতি

পুরুষার গুণ সমূহ

পুরুষা বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডর থেকে শ্রেষ্ঠ (মহাশূণ্য এবং পদার্থর সামগ্রিক পরিধি) এবং প্রভুর সময় (‘যা হয়েছে এবং যা হবে’) তথা ‘অমরত্বের প্রভু’ – অনন্তকালীন জীবন I হিন্দু পুরাণে অনেক দেব-দেবী আছে কিন্তু কাউকেও এই ধরণের অসীম গুণ সমূহ দেওয়া হয় না I    

এইগুলো এইধরণের অদ্ভূত প্রেরণাদায়ক গুণ সমূহ যে সেগুলো কেবলমাত্র একজন প্রকৃত ঈশ্বরের কাছে থাকতে পারে – স্বয়ং সৃষ্টির প্রভু I ইনি ঋক বেদের প্রজপতি হবেন (পুরনো নিয়মের ইব্রীয়দের সদাপ্রভুর সঙ্গে সমার্থক) I এইরূপে, এই মানুষ, পুরুষাকে, এই এক ঈশ্বরের একজন অবতার রূপে একমাত্র বোঝা  যেতে পারে – সমস্ত সৃষ্টির প্রভু I  

বরং আমাদের জন্য এমনকি অধিক প্রাসঙ্গিক হল যে পুরুষা আমাদেরকে এই অমরত্ব (অনন্ত জীবন) ‘প্রদান করে’ I তিনি প্রাকৃতিক সারবস্তু ব্যবহার না করে এটি করেন, অর্থাৎ, তিনি অনন্ত জীবন অনুমোদন বা প্রদান করতে বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডর প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া সমূহ অথবা প্রাকৃতিক পদার্থ/শক্তি ব্যবহার করেন  না I আমরা সকলে মৃত্যু এবং কর্মের অভিশাপের অধীনে আছি I এটি আমাদের অস্তিত্বের নিষ্ফলতা যার থেকে আমরা রেহাই পেতে আকাঙ্খা করি এবং যার জন্য আমরা পূজা, স্নান, এবং অন্যান্য অভ্যাস সমূহ পালন করতে এত কঠিন পরিশ্রম করি I যদি সেখানে এমনকি একটু অল্পও সুযোগ থাকে যে এটি সত্য এবং যে পুরুষার কাছে অমরত্ব প্রদান করার ক্ষমতা এবং ইচ্ছা উভয়ই আছে এটি বিচক্ষণ হবে কমপক্ষে এই সম্বন্ধে আরও অধিক জ্ঞাত হওয়া I 

বেদা পুস্তকমের (বাইবেল) ভাববাদীদের তুলনা

এটিকে মনে রেখে আসুন আমরা মানবীয় ইতিহাসের প্রাচীনতম পবিত্র রচনাগুলোর মধ্যে অন্যতম একটিকে বিবেচনা করি I ইব্রীয় টেস্টামেন্টের (বাইবেল অথবা বেদা পুস্তকমে পুরনো নিয়ম বলা হয়) মধ্যে দেখা যায় ঋক বেদের মতন এই বইটিতে দৈববাণী, স্তোত্র, ইতিহাস এবং অনেক ভাববাদীদের ভাববাণীর সংগ্রহ আছে যারা যদিও দীর্ঘ সময় পূর্বে জন্মগ্রহণ করেছিল, তারা বাস করেছিল এবং ইতিহাসের বিভিন্ন যুগে লিখেছিল I সুতরাং একটি বইয়ের মধ্যে সংকলিত বিভিন্ন অনুপ্রাণিত রচনা সমূহের একটি সংগ্রহ বা লাইব্রেরি রূপে পুরনো নিয়ম সর্বোৎকৃষ্ট চিন্তাধারা I এই ভাববাদীদের সর্বাধিক রচনা সমূহ ইব্রীয় ছিল এবং এইরূপে তারা মহান ভাববাদী আব্রাহামের বংশধর ছিল যারা প্রায় 2000 খ্রীষ্ট পূর্বাব্দে বাস করত I যাইহোক, সেখানে ভাববাদী ইয়োবের দ্বারা লিখিত একটি রচনা আছে, যিনি আব্রাহামের পূর্বে বাস করতেন I তথাপি সেখানে কোন ইব্রীয় জাতি ছিল না যখন তিনি বাস করতেন I যারা ইয়োব পড়েছেন হিসাব করুন যে তিনি 2200 খ্রীষ্টাব্দে, 4000 বছর পূর্বে বাস করতেন I    

…ইয়োবের বইয়ের মধ্যে

তার পবিত্র বইয়ের মধ্যে, যাকে তার নামের উপরে ইয়োব বলা হয়, আমরা তাকে তার সঙ্গীদের নিম্নলিখিত কথা বলতে দেখি:

আমি জানি আমার মুক্তিকর্তা জীবিত,

আর তিনি শেষে ধুলির উপরে উঠে দাঁড়াবেন I

আর আমার চরম এইরূপে বিনষ্ট হলে পরে

তবু আমি মাংসবিহীন হয়ে ঈশ্বরকে দেখব;

আমি তাকে নিজে দেখব

আমার চক্ষু দিয়ে  – আমি এবং অন্য কেউ নয়,

আমার মধ্যে আমার হৃদয় ক্ষীণ হচ্ছে!(ইয়োব 19:25-27) 

ইয়োব 19:25-27

ইয়োব এক আসন্ন ‘মুক্তিদাতার’ কথা বলছেন I আমরা জানি যে ইয়োব ভবিষ্যতের দিকে দেখছেন কারণ মুতিদাতা পৃথিবীর উপরে ‘দাঁড়াবেন’ (অর্থাৎ ভবিষ্যৎ কালে) I কিন্তু এই মুক্তিদাতা এখনও বর্তমানে ‘জীবিত আছেন’ – যদিও পৃথিবীর উপরে নয় I অতএব এই মুক্তিদাতা, পুরুষাসুক্তর এই পদের মধ্যে পুরুষার মতন সময়ের প্রভু কারণ তাঁর অস্তিত্ব আমাদের মতন সময়ে আবদ্ধ নন I    

ইয়োব তখন ঘোষণা করেন যে ‘আমার চরম বিনষ্ট হয়েছে’ (অর্থাৎ তার মৃত্যুর পরে) তিনি ‘তাঁকে’ (এই মুক্তিদাতা) দেখবেন আর একই সময়ে ‘ঈশ্বরকে দেখবেন’ অন্য কথায় এই আসন্ন মুক্তিদাতা হলেন ঈশ্বরের অবতার, ঠিক যেমন প্রজাপতির অবতার হলেন পুরুষা I কিন্তু তার নিজের মৃত্যুর পরে ইয়োব কিভাবে তাঁকে দেখতে পারেন? আর সেটিকে নিশ্চিত করতে আমরা এই বিষয় থেকে লক্ষচ্যুত না হই যে ইয়োব ঘোষণা করেছেন যে ‘আমার নিজের চোখ দিয়ে’ – আমি অন্য আর কেউ নয় যে এই মুক্তিদাকে পৃথিবীর উপরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখবে I এর জন্য কেবলমাত্র ব্যাখ্যা হল যে এই মুক্তিদাতা ইয়োবকে অমরত্ব প্রদান করেছেন এবং তিনি সেই দিনের অপেক্ষা করছিলেন যখন এই মুক্তিদাতা, যিনি হলেন ঈশ্বর, পৃথিবীর উপরে চলছেন এবং ইয়োবকে অমরত্ব প্রদান করেছেন যাতে তিনিও পুনরায় পৃথিবীর উপরে চলছেন এবং মুক্তিদাতাকে তার চোখ দিয়ে দেখছেন I এই আশা ইয়োবকে এতটা বিমুগ্ধ করল যে এই দিনের অপেক্ষায় তার ‘হৃদয় তার মধ্যে ক্ষীণ হল’ I এটি একটি মন্ত্র ছিল যা তাকে রূপান্তর করল I       

…আর যিশাইয়

ইব্রীয় ভাববাদীও এক আসন্ন মানুষের কথা বলল যা পুরুষা এবং ইয়োবের মুতিদাতার এই বর্ণনার একদম অনুরূপ শোনায় I যিশাইয় এইরকমই একজন ভাববাদী ছিলেন যিনি আনুমানিক 750 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে বাস করতেন I তিনি স্বর্গীয় প্রেরণার অধীনে বিভিন্ন দৈববাণী লিখেছিলেন I এখানে তিনি এই মানুষটির আগমনের কথা যেভাবে বর্ণনা করলেন:  

তবুও, যারা চরম দুর্দশায় ছিলেন তাদের জন্য আর কোনো বিষাদ থাকবে না I অতীতে তিনি সবুলুনের দেশ এবং নপ্তালির দেশকে নত করলেন, কিন্তু ভবিষ্যতে তিনি সমুদ্রের ধারে, যর্দ্দনের পাশদিয়ে পরজাতিদের গালিলীর সম্মান করবেন –   

2 যে লোকেরা অন্ধকারে ভ্রমণ করত

তারা মহা-আলোক দেখেছে;

যারা মৃত্যুছায়ার দেশে বাস করত

তাদের উপরে আলোক উদিত হয়েছে…

6. কারণ একটি বালক আমাদের জন্য জন্মেছেন,

একটি পুত্র আমাদেরকে দত্ত হয়েছে,

আর তারই কাঁধের উপরে শাসনভার থাকবে I

এবং তার নাম হবে

আশ্চর্য মন্ত্রী, শক্তিশালী ঈশ্বর,

সনাতন পিতা, শান্তির রাজকুমার I

যিশাইয় 9:1-2,6

অন্য কথায় ভাববাদী যিশাইয় আগে থেকেই একটি পুত্রের জন্ম দেখছেন এবং ঘোষণা করছেন এবং এই পুত্রকে ডাকা হবে …শক্তিশালী ঈশ্বর’ I এই সংবাদ তাদের কাছে নির্দিষ্টভাবে উপযোগী হবে যারা মৃত্যুর ছায়ার দেশে বাস     করছে I” এর অর্থ কি? আমাদের জীবন বেঁচে থাকে এই জেনে যে আমরা আমাদের আসন্ন মৃত্যু এবং কর্ম থেকে বাঁচতে পারি না যা আমাদের ওপর কত্তৃত্ত করে I অতএব আমরা আক্ষরিকভাবে ‘মৃত্যুর ছায়ায়’ বাস করি I এইরূপে, এই আসন্ন মানুষ, যাকে ‘শক্তিশালী ঈশ্বর’ বলে ডাকা হবে, আমাদের মধ্যে তাদের উপরে এক মহা আলোক বা আশা হবে যারা আমরা আসন্ন মৃত্যুর ছায়ায় বাস করি I   

…মীখা

আর একজন ভাববাদী মীখাও, যিনি যিশাইয়র সময়ে (750 খ্রীষ্টপুর্বাব্দে বাস করতেন এই আসন্ন মানুষটির সম্বন্ধে এক স্বর্গীয় দৈববাণী পেলেন I তিনি লিখলেন:

কিন্তু তুমি বৈৎলেহেম-ইফ্রাথা,

যদিও তুমি যিহূদার সহস্রগণের মধ্যে ক্ষুদ্রা,

তোমার থেকে আমার জন্য আসবেন

একজন যিনি ইস্রায়েলের শাসনকর্তা হবেন,

যার উৎপত্তি প্রাক্কাল থেকে,

অনাদিকাল থেকে

মীখা 5:2

মীখা বললেন যে একজন মানুষ ইফ্রাথা অঞ্চলের বৈৎলেহেম শহর থেকে বার হয়ে আসবেন যেখানে যিহূদা গোষ্ঠী (অর্থাৎ যিহূদিরা) বাস করত I এই মানুষটি সমন্ধে যেটা সবথেকে অনন্য তা হল যদিও ইতিহাসের এক নির্দিষ্ট সময়ে বৈৎলেহেম থেকে বার হয়ে ‘তিনি আসবেন’, তিনি সময়ের আরম্ভ থেকে এই উৎপত্তিকে পূর্ব থেকেই বিদ্যমান করেছিলেন I এইরূপে, পুরুষাসুক্তর পদ 2 এর মতন, এবং ইয়োবের আসন্ন মুক্তিদাতার মতন, এই মানুষটিকে আমাদের মতন করে সময়ের দ্বারা আবদ্ধ করা যাবে না I তিনি সময়ের প্রভু হবেন I এটি একটি স্বর্গীয় ক্ষমতা, কোনো মানবীয় একটি নয়, এবং এইরূপে তারা সকলে একই ব্যক্তিকে উল্লেখ করছেন I   

যেশু সত্সংগের (যীশু খ্রীষ্ট) মধ্যে পরিপূর্ণ 

কিতু এই ব্যক্তিটি কে? মীখা এখানে আমাদেরকে এক গুরুত্বপুর্ণ ঐতিহাসিক সুত্র প্রদান করে I আসন্ন ব্যক্তি বৈৎলেহেম থেকে বার হয়ে আসবে I বৈৎলেহেম একটি প্রকৃত শহর যেটির সহস্রাধিক বছর ধরে অস্তিত্ব ছিল যাকে আজ ইস্রায়েল/ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক বলা হয় I আপনি এটিকে গুগল করতে পারেন এবং একটি মানচিত্রের উপরে দেখতে পারেন I এটি একটি বড় শহর নয়, এবং কখনও থাকে নি I কিন্তু বিশ্বব্যাপী এটি বিখ্যাত এবং প্রতি বছর বিশ্বের সংবাদে থাকে I কেন? কারণ এটি যীশু খ্রীষ্টের (বা যেশু সত্সংগ) জন্ম   স্থান I এটি সেই শহর যেখানে তিনি 2000 বছর পূর্বে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন I যিশাইয় আমাদেরকে আর একটি সুত্র দিয়েছিলন কারণ তিনি বলেছিলেন এই ব্যক্তি গালিলীকে প্রভাবিত করবে I এবং যদিও যেশু সত্সংগ (যীশু খ্রীষ্ট) বৈৎলেহেমে জন্মগ্রহণ করেছিলেন (মীখা যেমন আগে থেকে দেখেছিলেন),তিনি বেড়ে উঠেছিলেন এবং গালিলিতে একজন শিক্ষক রূপে সেবা করেছিলেন, যেমন যিশাইয় ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন I      

তার জন্ম স্থান রূপে বৈৎলেহেম এবং তার সেবাকার্যের স্থান রূপে গালিলী যেশু সত্সংগের  (যীশু খ্রীষ্ট) জীবনের দুটি সর্বাধিক সুপরিচিত বিষয় সমূহ I সুতরাং এখানে আমরা বিভিন্ন ভাববাদীদের ভবিষ্যদ্বাণীকে যীশু খ্রীষ্টের (যেশু সত্সংগ) ব্যক্তিত্বের মধ্যে পরিপূর্ণ হতে দেখি I সেই যেশু কি এই পুরুষা/মুক্তিদাতা/শাসক হতে পারে যা এই ভাববাদিগণ আগে থেকে দেখেছিলেন? এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া চাবিকাঠি হতে পারে যা উন্মুক্ত করে কিভাবে আমাদেরকে যারা ‘মৃত্যুর ছায়ায়’ (এবং কর্ম) বাস করে ‘অমরত্ব’ প্রদান করা হবে এটি নিশ্চিতরূপে বিবেচনা করার আমাদের যোগ্য সময় I সুতরাং পুরুষাসুক্তর মধ্য দিয়ে আরও অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে আমরা আমাদের অন্বেষণ চালিয়ে যাব এবং এটিকে ইব্রীয় বেদা পুস্তকমের ভাববাদীদের সঙ্গে তুলনা করব I

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *