বিকৃত (দ্বিতীয় খণ্ড)… আমরা লক্ষচ্যুত হচ্ছি

আমরা শেষে দেখলাম দেখলাম কিভাবে বেদ পুস্তকম (বাইবেল) ঈশ্বরের মূল প্রতিমূর্তি যাতে আমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছিল আমাদেরকে তার থেকে ভিন্ন   বিকৃত রূপে বর্ণনা করেছে I একটি চিত্র যা আমাকে এটিকে আরও ভালোভাবে দেখতে সাহায্য করেছে তা ছিল মধ্য পৃথিবীর শয়তানের দল, পরীদের বিকৃত স্বরূপ I কিন্তু কিরূপে এটি ঘটল?

পাপের উৎপত্তি 

এটিকে বাইবেলের আদিপুস্তকে নথিভুক্ত করা হয়েছে I ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্টি হওয়ার অব্যবহিত পরে প্রথম মানব জাতির পরীক্ষা নেওয়া হল I বিবরণটিকে একটি ‘সর্পের’ বিনিময়ের সাথে নথিভুক্ত করা হয়েছে I সর্পকে সর্বদা সার্বজনীন রূপে শয়তান হওয়াকে বুঝিয়েছে – ঈশ্বরের বিরোধী একটি আত্মা I বাইবেলের মধ্য দিয়ে, শয়তান সাধারণতঃ অন্য ব্যক্তির মাধ্যমে কথা বলার দ্বারা মন্দ করতে প্রলোভিত করে I এই ক্ষেত্রে সে সর্পের মধ্য দিয়ে কথা বলেছে I এইভাবে এটিই নথিভুক্ত করা হয়েছে I  

সদাপ্রভু যে সমস্ত বন্য পশুদের তৈরি করেছিলেন তার মধ্যে সর্প ছিল সবচেয়ে চতুর। একদিন তিনি মহিলাটিকে জিজ্ঞাসা করলেন, “Godশ্বর কি সত্যিই বলেছিলেন যে আপনি বাগানের কোনও গাছের ফল খাবেন না?”

মহিলা অবশ্যই জবাব দিলেন, “আমরা অবশ্যই বাগানের গাছ থেকে ফল খেতে পারি।” “বাগানের ঠিক মাঝখানে গাছ থেকে ফল পাওয়া যায় যা আমাদের খেতে দেওয়া হয় না। saidশ্বর বলেছিলেন, ‘আপনি এটি খাবেন না এমনকি স্পর্শও করবেন না; যদি করেন তবে আপনি মরে যাবেন।”

“তুমি শেষ!” সাপটি মহিলাকে উত্তর দিল। “Knowsশ্বর জানেন যে আপনি এটি খাওয়ার সাথে সাথেই আপনার চোখ খুলবে এবং আপনি ভাল এবং মন্দ উভয়ই জেনে .শ্বরের পছন্দ করবেন” “

 মহিলা দৃ was় বিশ্বাস ছিল। তিনি দেখেছিলেন যে গাছটি সুন্দর এবং এর ফলগুলি সুস্বাদু লাগছিল এবং সে তার দেওয়া জ্ঞান চেয়েছিল। তাই সে কিছু ফল নিয়ে তা খেয়ে ফেলল। তারপরে তিনি তার স্বামীকে কিছু উপহার দিয়েছিলেন, তিনি তার সাথে ছিলেন এবং তিনি তাও খেয়েছিলেন। এই মুহুর্তে তাদের চোখ খুলে গেল এবং হঠাৎ করে তারা তাদের উলঙ্গ অবস্থায় লজ্জা পেয়েছিল। তাই তারা নিজেরাই কতে ডুমুর পাতা এক সাথে সেলাই করল।

আদিপুস্তক 3:1-6

তাদের পচ্ছন্দের মূল্, এবং এইরূপে প্রলোভন, ছিল যে তারা ‘ঈশ্বরের মতন হতে’ পারে I এই বিন্দু পর্যন্ত তারা সমস্ত কিছুর জন্য ঈশ্বরের উপরে ভরসা করেছিল এবং সমস্ত কিছুর জন্য শুধুমাত্র তাঁকে তার বাক্যে গ্রহণ করেছিল I কিন্তু এখন তা পেছনে ছেড়ে দিতে তাদের পচ্ছন্দ ছিল, ‘ঈশ্বরের মতন’ হতে, নিজেদের উপরে ভরসা করে এবং জিনিসগুলোর জন্য তাদের নিজের কথাকে গ্রহণ করে I তারা নিজেরা ‘ঈশ্বর’ হতে পারত, তাদের নিজেদের জাহাজের অধিনায়ক, তাদের অদৃষ্টের প্রভু, কেবল মাত্র নিজেদের কাছে স্বতন্ত্র এবং উত্তরদায়ী I    

ঈশ্বরের বিরুদ্ধে তাদের বিদ্রোহে তাদের মধ্যে কিছু পরিবর্তন হল I যেমন অধ্যায়টি বর্ণনা করে, তারা লজ্জা বোধ করল এবং লুকোতে চাইল I আসলে, ঠিক অব্যবহিত পরে, যখন ঈশ্বর আদমের অবাধ্যতার সম্মুখীন হলেন, আদম ঈভের উপরে দোষ চাপাল (এবং ঈশ্বর যাকে সৃষ্টি করেছেন) I পরিবর্তে সে সর্পের উপর দোষ দিল I কেউ দায়িত্ব স্বীকার করল না I   

আদমের বিদ্রোহের পরিণাম

আর সেদিন যা আরম্ভ হল তা চলতে থাকলো যেহেতু আমরা সেই একই অন্তর্নিহিত প্রবণতার উত্তরাধিকারী হয়েছি I সেই কারণে আমরা আদমের ন্যায় আচরণ করি – যেহেতু আমরা তার প্রকৃতির উত্তরাধিকারী হয়েছি I কেউ কেউ বাইবেলকে ভুলভাবে বোঝে আদমের বিদ্রোহের জন্য আমাদেরকে দোষ দেওয়া হয়েছে I আসলে, কেবলমাত্র একজন দোষী সে হল আদম কিন্তু আমরা সেই বিদ্রোহের পরিণামের মধ্যে বাস করি I আমরা এটিকে জেনেটিক্যালি ভাবতে পারি I সন্তানরা তাদের পিতা-মাতার বৈশিষ্ট্যগুলোকে অর্জন করে – ভালো আর মন্দ – তাদের জীন সমূহকে উত্তরাধিকারী রূপে গ্রহণ করে I আদমের এই বিদ্রোহমূলক প্রকৃতিকে আমরা উত্তরাধকারী রূপে পেয়েছি এবং এইরূপে অন্তর্নিহিতভাবে, প্রায় অচেতনভাবে, বরং ইচ্ছাকৃতভাবে আমরা বিদ্রোহকে চালিয়ে যাই যা সে আরম্ভ করেছিল I হয়ত আমরা বিশ্ব ব্রহ্মান্ডর ঈশ্বর না হতে চাই, কিন্তু আমরা আমাদের সেটিংসের মধ্যে ঈশ্বর হতে চাই; ঈশ্বরের থেকে স্বতন্ত্র I         

আজকের দিনে পাপের প্রভাব এতটা সুস্পষ্ট

আর এটি মানব জীবন সম্পর্কে এত বেশি ব্যাখ্যা করে যে আমরা নিশ্চিতভাবে ধরে নিই I এটিই কারণ যে প্রত্যেক স্থানে লোকেদের তাদের দরজার জন্য তালা, তাদের পুলিশ, উকিল, ব্যাঙ্কের জন্য সংকেতমূলক পাসওয়ার্ডগুলোর প্রয়োজন হয় – কারণ আমাদের বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা একে অপরের থেকে চুরি করি I এই জন্যই সাম্রাজ্য এবং সমাজগুলো সকলের অবশেষে ক্ষয় হয় এবং ভেঙ্গে পড়ে – কারণ এই সমস্ত সাম্রাজ্যগুলোর মধ্যে নাগরিকদের ক্ষয়িষ্ণু হওয়ার একটি প্রবণতা থাকে I এই কারণে সমস্ত প্রকার সরকার এবং অর্থনৈতিক পদ্ধতিগুলোর চেষ্টা করার পরেও এবং যদিও অন্যদের থেকে কারোর ভাল কাজ হওয়া স্বত্তেও প্রত্যেকে রাজনৈতিক অথবা অর্থনৈতিক পদ্ধতিগুলো অবশেষে বোধ হয় নিজে নিজেই ভেঙ্গে পড়তে উপক্রম হয় – কারণ এই ভাবাদর্শগুলোতে জীবিত লোকেদের মধ্যে এমন প্রবণতা থাকে যা সমগ্র ব্যবস্থাকে নিচে টেনে আনে I এই কারণে যদিও প্রজন্ম সর্বাধিক শিক্ষিত হয়েও যা কখনও দেখা যায় নি আমাদের মধ্যে এখনও এই সমস্যগুলো রয়ে গেছে, কারণ এটি আমাদের শিক্ষার স্তরের থেকেও আরো গভীরে যায় I এই কারণে আমরা এত ভালোভাবে প্রাতস্নান মন্ত্রর সঙ্গে অভিন্ন বলে গন্য করি – কারণ এটি আমাদেরকে এত ভালোভাবে বর্ণনা করে I        

পাপ – ‘লক্ষচ্যুত’ করে   

এটিও তাই কেন কোনো ধর্ম সমাজের জন্য সম্পূর্ণরূপে তাদের দর্শনকে নিয়ে আসে নি – বরং নাস্তিক একজনের কাছেও নেই (স্তালিনের সোভিয়েত ইউনিয়ন, মাওয়ের চীন, পল পটের কম্বোডিয়ার কথা ভাবুন) – কারণ যে কোনো ভাবেই হোক আমাদের দর্শনকে হারিয়ে ফেলতে আমরা ইচ্ছুক হই I আসলে, ওই ‘লক্ষচ্যুত’ শব্দটি আদের পরিস্থিতিকে দেখায় I বাইবেল থেকে একটি পদ একটি চিত্র দেয় যা আমাদেরকে এটি বুঝতে ভালোভাবে সাহায্য করে I এটি বলে   

 এই সমস্ত সৈন্যের মধ্যে সাত শতাধিক নির্বাচিত সৈন্য ছিল যারা বাম হাতে ছিল, যাদের প্রত্যেকেই একটি চুলে পাথর বানাতে পারত এবং মিস করতে পারত না।

বিচারকতৃগনের বিবরণ 20:16

এই পদটি সৈন্যদের বর্ণনা করে যারা ফিঙ্গার পাথর মারতে দক্ষ ছিল এবং কখনও লক্ষচ্যুত হত না I যে মূল হিব্রু শব্দটি উপরোক্ত ‘লক্ষচ্যুত’ কে অনুবাদিত করেছে তা হল יַחֲטִֽא׃ এই একই হিব্রু শব্দটিকে বাইবেলের অধিকাংশ স্থান জুড়ে পাপ রূপে আবারও অনুবাদিত করা হয়েছে I উদাহরণস্বরূপ, এই একই হিব্রু শব্দ হল ‘পাপ’ যখন যোষেফ, যাকে মিশরে দাস রূপে বিক্রি করা হয়েছিল, তার মনিবের স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচার করত না, এমনকি যদিও সে তার কাছে অনুনয় করল I সে তাকে বলল:    

 এই বাড়িতে আমার চেয়ে বড় কেউ নেই। আমার মালিক তোকে বাদ দিয়ে আমার কাছ থেকে কিছুই রক্ষা করেন নি, কারণ আপনি তাঁর স্ত্রী। তাহলে আমি কীভাবে againstশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ করতে পারি?

আদিপুস্তক 39:9

এবং ঠিক দশ আজ্ঞা সমূহকে দেওয়ার পরে এটি বলে:

 মূসা লোকদের বললেন, “ভয় কোরো না। Youশ্বর আপনাকে পরীক্ষা করতে এসেছেন, যাতে ningশ্বরের ভয় আপনাকে পাপ থেকে বিরত রাখতে পারে ”’

যাত্রাপুস্তক 20:20

এই উভয় স্থানের মধ্যে এটি একই হিব্রু শব্দ יַחֲטִֽא׃ যেটির অনুবাদ হল ‘পাপ’ I এটি সৈন্যদের সঙ্গে ‘লক্ষচ্যুত’র জন্য ঠিক সেই একই শব্দ যারা লক্ষের দিকে ফিঙ্গার পাথর মারে যেমনটি এই পদগুলোর মধ্যে আছে যা ‘পাপ’ কে বোঝায় যখন লোকেরা একে অপরের সঙ্গে ব্যবহার করে I এটি একটি চিত্রকে প্রদান করে আমাদেরকে বোঝাতে যে ‘পাপ’ কি I সৈন্য একটি পাথর এবং ফিঙ্গার নিয়ে এটিকে লক্ষের উপরে আঘাত করে I যদি এটি লক্ষচ্যুত হয় এটি তার উদ্দেশ্যকে ব্যর্থ করেছে I একইভাবে, আমাদেরকে ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্টি করা হয়েছিল লক্ষকে আঘাত করতে কিভাবে আমরা তাঁর সঙ্গে এবং অন্যদের সম্পর্ক স্থাপন করি I ‘পাপ’ করা মানে এই উদ্দেশ্য অথবা লক্ষ্যর থেকে লক্ষচ্যুত হওয়া, যা আমাদের জন্য অভীষ্ট করা হয়েছিল, এবং যাকে আমাদের বিভিন্ন পদ্ধতি, ধার্মিক এবং ভাবাদর্শ সমূহের মধ্যে নিজেদের জন্যও চাই I         

‘পাপের’  মন্দ সংবাদ – সত্যের একটি সমস্যা পচ্ছন্দ নয়

মানব জাতির এই বিকৃত এবং লক্ষচ্যুত চিত্র সুন্দর নয়, এটি ভালো-লাগা নয়, নাতো এটি আশাবাদী I বছরের পর বছর ধরে এই নির্দিষ্টি শিক্ষার বিরুদ্ধে আমি লোকেদের তীব্রভাবে প্রতিক্রয়া করতে পেয়েছি I এখানে কানাডায় আমার মনে পড়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আমার দিকে তাকিয়ে ভয়াযক ক্রোধের সাথে বলে, “আমি আপনাকে বিশ্বাস করি না কারণ আপনি যা বলছেন আমি পচ্ছন্দ করি না I” এখন আমরা এটি পচ্ছন্দ না করতে পারি, কিন্তু ওটির উপর ফোকাস করা হল বিষয়টির থেকে লক্ষচ্যুত হওয়া I কোন কিছুকে ‘পছন্দ করার’ সঙ্গে যে কোনো কিছুকে সত্য বা মিথ্যা রূপে পাওয়ার কিসের সামঞ্জস্য আছে? আমি কর, যুদ্ধ, এইডস এবং ভূমিকম্প পচ্ছন্দ করি না – কেউ করে না – কিন্তু তা তাদেরকে দুরে যেতে দেয় না, এবং নাতো আমরা তাদের কোনটিকে অগ্রাহ্য করতে পারি I      

আইন, পুলিশ, তালা, চাবি, নিরাপত্তা ইত্যাদির সমস্ত পদ্ধতিগুলো যাদেরকে আমরা সমস্ত সমাজে একে অন্যের থেকে রক্ষা করতে গড়ে তুলেছি প্রস্তাব দেয় যে কোনো কিছু অন্যায় I ঘটনা হল যে কুম্ভ মেলার মতন উৎসবগুলো ‘আমাদের পাপগুলোকে ধুতে’ লক্ষ লক্ষ লোকদের আকর্ষণ করে যা সংকেত দেয় যে আমরা নিজেরা সহজাতভাবে জানি যে যে কোনো ভাবে আমরা উদ্দেশের থেকে লক্ষ্যচ্যুত হয়েছি I ঘটনা হল যে বলিদানের ধারণা স্বর্গের জন্য একটি প্রয়োজন যাকে সমস্ত ধর্ম সমূহের মধ্যে দেখা যায় যা একটি সুত্র যে এমন কিছু আছে যা আমাদের সম্বন্ধে ঠিক নয় I কমপক্ষে, এই মতবাদ নিরপেক্ষভাবে বিবেচনার যোগ্য I

কিন্তু পাপের এই মতবাদ সমস্ত ধর্ম, ভাষা এবং জাতি সমূহ ব্যাপী – আমাদের সকলকে লক্ষ্যচ্যুত করাচ্ছে যা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করে I ঈশ্বর এই সম্বন্ধে কি করতে যাচ্ছিলেন? আমাদের পরবর্তী পোস্টে ঈশ্বরের প্রতিক্রিয়াকে আমরা দেখব – যেখানে আমরা আসন্ন মুক্তিদাতার প্রথম প্রতিশ্রুতিকে দেখি – পুরুষা যাকে আমাদের জন্য পাঠানো হবে I

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *