জীবন্ত জল: গঙ্গা তীর্থের চশমার মাধ্যমে

এক প্রভাবশালী তীর্থ প্রয়োজনীয় হয় যদি কেউ ঈশ্বরের সাক্ষাত্কার আশা করে I তীর্থ (সংস্কৃত तीर्थ) যার অর্থ হ’ল “পার করার স্থান, নদী”, এবং যে কোনো পবিত্র স্থান, পাঠ্য বা ব্যক্তিকে বোঝায় I তীর্থ বাক্যগুলোর মধ্যে একটি পবিত্র স্পর্শকারী সংযোগ স্থল এবং তবুও একে অপরের থেকে  আলাদা I বৈদিক গ্রন্থ সমূহের মধ্যে, তীর্থ (বা ক্ষেত্র, গোপিথা এবং মহালয়া) এক পবিত্র ব্যক্তি বা পবিত্র গ্রন্থকে বোঝায়, যা এক অস্তিত্বের থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তর করতে পারে I       

তীর্থ-যাত্রা তীর্থের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত যাত্রা

আমরা আমাদের অভ্যন্তরীণ সত্তা সমূহকে পুনরুজ্জীবিত ও পবিত্র করতে তীর্থ-যাত্রা করি, এবং ভ্রমণের মধ্যে আধ্যাত্মিক যোগত্যার কারণে, বৈদিক গ্রন্থ সমূহের মধ্যে একটি থিম নিশ্চিত হয় I তারা দৃঢ়ভাবে বলে যে তীর্থ-যাত্রা পাপ থেকে মুক্তি দিতে পারে I তীর্থ=যাত্রা অভ্যন্তরীণ ধ্যান যাত্রা থেকে শুরু করে শারীরিকভাবে বিখ্যাত মন্দির ভ্রমন করতে পারে বা গঙ্গার মতন নদীতে স্নান, সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তীর্থ স্থল I ভারতীয় পরম্পরায় জল সবচেয়ে পবিত্র প্রতীক I গঙ্গার জল দিয়ে বিশেষত তাই I গঙ্গা নদীর দেবীকে গঙ্গা মাতা বলে শ্রদ্ধা করা হয় I       

তীর্থ হিসাবে গঙ্গার জল

গঙ্গা এর পুরো দৈর্ঘ্য জুড়ে পবিত্র I প্রতি দিনের আচার অনুষ্ঠান, পৌরানিক কাহিনী, উপাসনা পদ্ধতি এবং দেবী গঙ্গার শক্তি এবং তার জীবন্ত জলের প্রতি বিশ্বাস আজও ভক্তির কেন্দ্রবিন্দু I অনেক মৃত্যুর আচার অনুষ্ঠানে গঙ্গা জলের প্রয়োজন হয় I এইভাবে গঙ্গা জীবিত এবং মৃতদের মধ্যে তীর্থে পরিণত হয় I বলা হয় গঙ্গা তিনটি বিশ্বে প্রবাহিত: স্বর্গ, পৃথিবী, এবং ভূতল যাকে ত্রিলোক-পথ-গামিনী রূপে উল্লেখ করা হয় I এইভাবে এটি গঙ্গার ত্রিশালিতে (“তিনটি স্থান সমূহ”) যেখানে শ্রদ্ধা এবং বিসর্জন সাধারনত অনুষ্ঠিত হয় I অনেকে চায় তাদের ভষ্ম গঙ্গা নদীতে রাখা হোক I    

This image has an empty alt attribute; its file name is ganges-among-the-mountains.jpg

পর্বতের মধ্যে গঙ্গা নদী

গঙ্গার পুরাণশাস্ত্র  

শিব, গঙ্গাধারা বা “গঙ্গার বাহক”, যাঁকে গঙ্গার সঙ্গী বলা হয় I বৈদিক গ্রন্থে গঙ্গার অবতরণে শিবের ভূমিকা সম্পর্কে বলা হয়েছে I যখন গঙ্গা পৃথিবীতে অবতরণ করল, শিব তার মাথায় তাকে ধরার প্রতিশ্রুতি দিল যাতে পতন পৃথিবীকে টুকরো টুকরো না করে I গঙ্গা যখন শিবের মাথায় পড়ল, শিবের কেশ তার পতনকে ভেঙ্গে গঙ্গাকে সাতটি ধারায় ভগ্ন করল, প্রতিটি ভারতের বিভিন্ন অংশে প্রবাহিত হল I সুতরাং কেউ যদি গঙ্গা নদীর যাত্রা না করতে পারে তবে একটি যাত্রা এই অন্য পবিত্র ধারাগুলোতে করতে পারা যায়, যেগুলোকে বিশ্বাস করা হয় গঙ্গার মতন একই পবিত্রতা ধারণ করে: যমুনা, গোদাবরী সরস্বতী, নর্মদা, সিন্ধু এবং কাবেরী I      

গঙ্গার অবতরণ অবিরাম বলে বিবেচনা করা হয়; গঙ্গার প্রত্যেকটি ঢেউ পৃথিবীকে স্পর্শ করার পূর্বে শিবের মাথাকে স্পর্শ করে I গঙ্গা শিবের শক্তি বা বলের তরল রূপ I একটি তরল শক্তি হওয়ায় গঙ্গা ঈশ্বরের অবতার I গঙ্গার ঐশ্বরিক অবতরণ, সকলের জন্য মুক্তভাবে প্রবাহিত হচ্ছে I তার অবতরণের  পরে গঙ্গা শিবের বাহনে পরিণত হয়েছিল, তার বাহনের (গাড়ি) শীর্ষে কুমীর (মকর) যখন তার হাতে একটি কুম্ভ (প্রচুর পরিমানে ফুলদানি) চিত্রিত  হয়েছে I    

গঙ্গা দশহরা

প্রতি বছর একটি উৎসব গঙ্গা দশহরা, গঙ্গার প্রতি উৎসর্গীকৃত করে এই পৌরাণিক অনুষ্ঠানগুলো উদযাপন করে I উৎসবটি মে এবং জুনের মধ্যে দশ দিন ধরে চলে, জৈষ্ঠ মাসের দশম দিনে শেষ হয় I এই দিনে, স্বর্গ থেকে মর্ত্যে গঙ্গার অবতরণকে (অবতারণা) উদযাপন করা হয় I সেই দিনে গঙ্গার জলে বা অন্য পবিত্র ধারায় একটি দ্রুত অবগাহনকে দশটি পাপ (দশহারা) বা জীবনকালের পাপগুলো থেকে মুক্তি পাবে বলে ভাবা হয় I       

যীশু: তীর্থ আপনাকে জীবন্ত জল দেয়

যীশু নিজেকে বর্ণনা করতে এই একই বিশেষ ধারণাগুলোকে ব্যবহার   করেছিলেন I তিনি ঘোষণা করলেন তিনি হলেন অনন্ত জীবন প্রদানকারী ‘জীবন্ত জল’ I এটি তিনি একজন স্ত্রীকে বললেন যে পাপের মধ্যে আটকে পড়েছিল  এবং যার ফলে আমাদের মধ্যে সকলে যারা একই অবস্থায় আছে I বাস্তবে তিনি বলছিলেন তিনি তীর্থ এবং আমরা সবথেকে গুরুত্ত্বপূর্ণ তীর্থযাত্রা করতে পারি  তাঁর কাছে এসে I এই স্ত্রীটি দেখতে পেল যে তার সমস্ত পাপ সমূহ, কেবল দশটি নয়, চিরকালের নিমিত্ত শুদ্ধ হয়েছিল I আপনি যদি গঙ্গার জল পেতে দুরে যাত্রা করেন এর শুদ্ধ করার ক্ষমতার জন্য, তাহলে যীশুর দ্বারা প্রস্তাবিত ‘জীবন্ত জল’ কে বুঝে দেখুন I এই জলে আপনার শারীরিক যাত্রা করার দরকার নেই বরং স্ত্রীটি যেমন আবিষ্কার করল, আপনাকে অভ্যন্তরীণ শুদ্ধতার মধ্যে আত্ম-উপলব্ধিতায় যাত্রা করতে হবে তাঁর জল আপনাকে পবিত্র করার আগে I    

সুসমাচারটি এই সাক্ষাত্কারটি লিপিবদ্ধ করে:

যীশু এক শমরিয় স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন

রীশীরা জানতে পারল য়ে যীশু য়োহনের চেয়ে বেশী শিষ্য করেছেন ও বাপ্তাইজ করছেন৷
2 যদিও যীশু নিজে বাপ্তাইজ করছিলেন না, বরং তাঁর শিষ্যরাই তা করছিলেন৷
3 তারপর তিনি যিহূদিযা ছেড়ে চলে গেলেন এবং গালীলেই ফিরে গেলেন৷
4 গালীলে যাবার সময় তাঁকে শমরিযার মধ্য দিয়ে য়েতে হল৷
5 যাকোব তাঁর ছেলে য়োষেফকে য়ে ভূমি দিয়েছিলেন তারই কাছে শমরীযার শুখর নামে এক শহরে যীশু গেলেন৷
6 এখানেই যাকোবের কুযাটি ছিল, যীশু সেই কুযার ধারে এসে বসলেন কারণ তিনি হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন, তখন বেলা প্রায় দুপুর৷
7 একজন শমরীযা স্ত্রীলোক সেখানে জল তুলতে এল৷ যীশু তাকে বললেন, ‘আমায় একটু জল খেতে দাও তো৷’
8 সেই সময় শিষ্যরা শহরে কিছু খাবার কিনতে গিয়েছিল৷
9 সেই শমরীয় স্ত্রীলোকটি তাঁকে বলল, ‘একি আপনি একজন ইহুদী হয়ে আমার কাছ থেকে খাবার জন্য জল চাইছেন! আমি একজন শমরীয় স্ত্রীলোক!’ ইহুদীরা শমরীয়দের সঙ্গে কোনরকম মেলামেশা করত না৷
10 এর উত্তরে যীশু তাকে বললেন, ‘তুমি যদি জানতে য়ে ঈশ্বরের দান কি আর কে তোমার কাছ থেকে খাবার জন্য জল চাইছেন৷ তাহলে তুমিই আমার কাছে জল চাইতে আর আমি তোমাকে জীবন্ত জল দিতাম৷’
11 স্ত্রীলোকটি তাঁকে বলল, ‘মহাশয়, আপনি কোথা থেকে সেই জীবন্ত জল পাবেন? এই কুযাটি যথেষ্ট গভীর৷ জল তোলার কোন পাত্রও আপনার কাছে নেই৷
12 আপনি কি আমাদের পিতৃপুরুষ যাকোবের চেয়ে মহান? তিনি আমাদের এই কুযাটি দিয়ে গেছেন৷ তিনি নিজেই এই কুযার জল খেতেন এবং তাঁর সন্তানেরা ও তাঁর পশুপালও এর থেকেই জল পান করত৷’
13 যীশু তাকে বললেন, ‘য়ে কেউ এই জল পান করবে তার আবার তেষ্টা পাবে৷
14 কিন্তু আমি য়ে জল দিই তা য়ে পান করবে তার আর কখনও পিপাসা পাবে না৷ সেই জল তার অন্তরে এক প্রস্রবনে পরিণত হয়ে বইতে থাকবে, যা সেই ব্যক্তিকে অনন্ত জীবন দেবে৷’
15 স্ত্রীলোকটি তাঁকে বলল, ‘মশায়, আমাকে সেই জল দিন, য়েন আমার আর কখনও পিপাসা না পায় আর জল তুলতে আমায় এখানে আসতে না হয়৷’
16 তিনি তাকে বললেন, ‘যাও, তোমার স্বামীকে এখানে ডেকে নিয়ে এস৷’
17 তখন সেই স্ত্রীলোকটি বলল, ‘আমার স্বামী নেই৷’যীশু তাকে বললেন, ‘তুমি ঠিকই বলেছ য়ে তোমার স্বামী নেই৷
18 তোমার পাঁচ জন স্বামী হয়ে গেছে; আর এখন য়ে লোকের সঙ্গে তুমি আছ সে তোমার স্বামী নয়, তাই তুমি যা বললে তা সত্যি৷’
19 সেই স্ত্রীলোকটি তখন তাঁকে বলল, ‘মহাশয়, আমি দেখতে পাচ্ছি য়ে আপনি একজন ভাববাদী৷
20 আমাদের পিতৃপুরুষেরা এই পর্বতের ওপর উপাসনা করতেন৷ কিন্তু আপনারা ইহুদীরা বলেন য়ে জেরুশালেমই সেই জায়গা য়েখানে লোকেদের উপাসনা করতে হবে৷’
21 যীশু তাকে বললেন, ‘হে নারী, আমার কথায় বিশ্বাস কর! সময় আসছে যখন তোমরা পিতা ঈশ্বরের উপাসনা এই পাহাড়ে করবে না, জেরুশালেমেও নয়৷
22 তোমরা শমরীয়রা কি উপাসনা কর তোমরা তা জানো না৷ আমরা ইহুদীরা কি উপাসনা করি আমরা তা জানি, কারণ ইহুদীদের মধ্য থেকেই পরিত্রাণ আসছে৷
23 সময় আসছে, বলতে কি তা এসে গেছে, যখন প্রকৃত উপাসনাকারীরা আত্মায় ও সত্যে পিতা ঈশ্বরের উপাসনা করবে৷ পিতা ঈশ্বরও এইরকম উপাসনাকারীদেরই চান৷
24 ঈশ্বর আত্মা, যাঁরা তাঁর উপাসনা করে তাদেরকে আত্মায় ও সত্যে উপাসনা করতে হবে৷’
25 তখন সেই স্ত্রীলোকটি তাঁকে বলল, ‘আমি জানি, মশীহ আসছেন৷ মশীহকে তারা খ্রীষ্ট বলে৷ যখন তিনি আসবেন, তখন আমাদের সব কিছু জানাবেন৷’
26 যীশু তাকে বললেন, ‘তোমার সঙ্গে য়ে কথা বলছে আমিই সেই মশীহ৷’
27 সেই সময় তাঁর শিষ্যরা ফিরে এলেন৷ একজন স্ত্রীলোকের সঙ্গে যীশুকে কথা বলতে দেখে তাঁরা আশ্চর্য হয়ে গেলেন৷ তবু কেউ তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন না, ‘আপনি কি চাইছেন?’ বা ‘আপনি কি জন্য ওর সঙ্গে কথা বলছেন?’
28 সেই স্ত্রীলোকটি তখন তার কলসী ফেলে রেখে গ্রামে গেল, আর লোকদের বলল,
29 ‘তোমরা এস, একজন লোককে দেখ, আমি যা কিছু করেছি, তিনি আমাকে সে সব বলে দিলেন৷ তিনিই কি সেই মশীহ নন?’
30 তখন লোকেরা শহর থেকে বের হয়ে যীশুর কাছে আসতে লাগল৷
31 এরই মাঝে তার শিষ্যরা তাঁকে অনুরোধ করে বললেন, ‘রব্বি (গুরু), আপনি কিছু খেয়ে নিন!’
32 কিন্তু তিনি তাঁদের বললেন, ‘আমার কাছে এমন খাবার আছে যার কথা তোমরা কিছুই জান না৷’
33 তখন তাঁর শিষ্যরা পরস্পর বলাবলি করতে লাগল, ‘তাহলে কি কেউ তাঁকে কিছু খাবার এনে দিয়েছে?’
34 তখন যীশু তাঁদের বললেন, ‘যিনি আমায় পাঠিয়েছেন, তাঁর ইচ্ছা পালন করা ও তাঁর য়ে কাজ তিনি আমায় করতে দিয়েছেন তা সম্পন্ন করাই হল আমার খাবার৷
35 তোমরা প্রায়ই বলে থাক, ‘আর চার মাস বাকী আছে, তারপরই ফসল কাটার সময় হবে৷’ কিন্তু তোমরা চোখ মেলে একবার ক্ষেতের দিকে তাকিয়ে দেখ, ফসল কাটবার মতো সময় হয়েছে৷
36 য়ে ফসল কাটছে সে এখনই তার মজুরী পাচ্ছে, আর সে তা করছে অনন্ত জীবন লাভের জন্য৷ তার ফলে বীজ য়ে বোনে আর ফসল য়ে কাটে উভয়েই একই সঙ্গে আনন্দিত হয়৷
37 এই প্রবাদ বাক্যটি সত্য য়ে, ‘একজন বীজ বোনে আর অন্যজন কাটে৷’
38 আমি তোমাদের এমন ফসল কাটতে পাঠিয়েছি, যার জন্য তোমরা কোন পরিশ্রম করনি৷ তার জন্য অন্যরা খেটেছে আর তোমরা তাদের কাজের ফসল তুলছ৷’
39 সেই শহরের অনেক শমরীয় তাঁর ওপর বিশ্বাস করল, কারণ সেই স্ত্রীলোকটি সাক্ষ্য দিচ্ছিল, ‘আমি যা যা করেছি সবই তিনি আমাকে বলে দিয়েছেন৷’
40 শমরীয়রা তাঁর কাছে এসে যীশুকে তাদের সঙ্গে থাকতে অনুরোধ করল৷ তখন তিনি দুদিন সেখানে থাকলেন৷
41 আরও অনেক লোক তাঁর কথা শুনে তাঁর ওপর বিশ্বাস করল৷
42 তারা সেই স্ত্রীলোকটিকে বলল, ‘প্রথমে তোমার কথা শুনে আমরা বিশ্বাস করেছিলাম, কিন্তু এখন আমরা নিজেরা তাঁর কথা শুনে বিশ্বাস করেছি ও বুঝতে পেরেছি য়ে ইনি সত্যিই জগতের উদ্ধারকর্তা৷’ 

যোহন 4:1-42

যীশু দুটি কারণের জন্য জল চাইলেন I প্রথমত, তিনি তৃষ্ণার্ত ছিলেন I তবে তিনি (একজন ঋষি হওয়ায়) জানতেন যে সে এছাড়াও এক সম্পূর্ণ ভিন্ন উপায়ে তৃষ্ণার্ত ছিল I সে তার জীবনে সন্তুষ্টির জন্য তৃষ্ণার্ত ছিল I সে ভাবল পুরুষদের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করে সে তার তৃষ্ণাকে সন্তুষ্ট করতে   পারে I তার কাছে কয়েকজন পতি ছিল এবং এমনকি সে যীশুকে বলছিল যে সে যে পুরুষটির সংগে থাকছে সেও তার পতি ছিল না I তার প্রতিবেশীরা তাকে অনৈতিক হিসাবে দেখত I এই জন্যই সম্ভবত সে দুপুরবেলায় একা জল আনতে গিয়েছিল যেহেতু গ্রামের অন্যান্য মহিলারা তাকে সঙ্গে নিতে চাইত না যখন তারা সকালের ঠান্ডায় কুয়োতে জল আনতে যেত I স্ত্রীটির অনেক পুরুষ ছিল, এবং এটি তাকে গ্রামের অনান্য মহিলাদের থেকে পৃথক করেছিল I      

যীশু তৃষ্ণার সেই একই থিমটি ব্যবহার করেছিলেন যাতে সে উপলব্ধি করতে পারে যে তার পাপের মূল ছিল তার জীবনে এক গভীর তৃষ্ণা – এমন একটি তৃষ্ণা যাকে নিবারণ করতে হয়েছিল I তিনি তার (এবং আমাদের কাছে) কাছে আরও ঘোষণা করছিলেন যে কেবলমাত্র তিনিই চূড়ান্তভাবে আমাদের অভ্যন্তরীণ তৃষ্ণা মেটাতে পারেন যা আমাদের সহজে পাপের মধ্যে নিয়ে যায় I 

বিশ্বাস করা – সত্যের মধ্যে স্বীকারোক্তি

তবে ‘জীবন্ত জলের’ এই প্রস্তাব স্ত্রীটিকে একটি সংকটের মধ্যে ফেলল I যীশু যখন তাকে তার পতিকে নিয়ে আসতে বললেন তিনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাকে তার পাপকে স্বীকৃতি দিতে এবং স্বীকার করতে বাধ্য করছিলেন – এটি স্বীকার করার জন্য I আমরা যে কোনো মূল্যে এটিকে এড়িয়ে যাই! আমরা আমাদের পাপ লুকোতে পছন্দ করি I বা আমরা আমরা পাপের অজুহাত তৈরী করে যুক্তিযুক্ত করি I তবে আমরা যদি ‘অনন্ত জীবন’ গামী ঈশ্বরের বাস্তবতার অভিজ্ঞতা লাভ করি তাহলে আমাদের অবশ্যই সৎ হতে হবে এবং আমাদের পাপ স্বীকার করতে হবে, কারণ সুসমাচার তাই প্রতিশ্রুতি দেয়:

8 আমরা যদি বলি য়ে আমাদের কোন পাপ নেই, তাহলে আমরা নিজেদেরই ঠকাই এবং তাঁর সত্য আমাদের মধ্যে নেই৷
9 আমরা যদি নিজেদের পাপ স্বীকার করি, বিশ্বস্ত ও ধার্মিক ঈশ্বর আমাদের সমস্ত পাপ ক্ষমা করবেন ও সকল অধার্মিকতা থেকে আমাদের শুদ্ধ করবেন৷

1 যোহন 1:8-9

এই কারণে, যীশু যখন শমরিয় স্ত্রীটিকে বললেন যে

24 ঈশ্বর আত্মা, যাঁরা তাঁর উপাসনা করে তাদেরকে আত্মায় ও সত্যে উপাসনা করতে হবে৷’

যোহন 4:24

সত্য দ্বারা তিনি আমাদের নিজেদের সম্পর্কে সত্যবাদী হওয়া বোঝাতে চেয়েছিলেন, আমাদের ভুলকে আড়াল বা অজুহাত দেখানোর চেষ্টা করছেন না I আশ্চর্যজনক সংবাদ হ’ল যে ঈশ্বর ‘চান’ এবং আরাধনাকারীদের থেকে মুখ ফেরাবেন না যারা এই ভাবে সততার সাথে আসে – এতে কিছু এসে যায় না তারা কতটা অশুদ্ধ হয়েছে I 

তবে তার পাপকে স্বীকার করা তার পক্ষে অত্যন্ত কঠিন ছিল I লুকোনোর একটি সুবিধাজনক উপায় হ’ল আমাদের পাপের থেকে বিষয়টিকে ধর্মীয় দ্বন্দে পরিণত করা I পৃথিবীতে অনেক ধর্মীয় দ্বন্দ আছে I তখনকার দিনে শমরিয় এবং যিহূদিদের মধ্যে আরাধনার উপযুক্ত স্থান সম্বন্ধে এক ধর্মীয় দ্বন্দ ছিল I যিহূদিরা বলত আরাধনা যিরূশালেমে হওয়া উচিত আর শমরিয়রা ধরে ছিল এটি অন্য কোনো পর্বতে হওয়া উচিত I এই ধর্মীয় দ্বন্দের দিকে ফিরে সে কথাবার্তাটিকে তার পাপের থেকে সরিয়ে বিপথে নিয়ে যেতে আশা করছিল I সে এখন তার পাপকে তার ধর্মের পেছনে লুকোতে পারত I      

কত সহজ এবং স্বাভাবিকভাবে ভাবে আমরা একই জিনিস করি – বিশেষত আমরা যদি ধার্মিক হই I তখন আমরা বিচার করতে পারি অন্যরা কতটা ভুল আর আমরা কতটা সঠিক – যখন আমরা আমাদের পাপ স্বীকার করার প্রয়োজনকে উপেক্ষা করি I 

যীশু তার সঙ্গে এই দ্বন্দকে অনুসরণ করেন নি I তিনি জোর দিলেন যে আরাধনার স্থান অত বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়, তবে আরাধনার মধ্যে তার নিজের সততা বেশি মানে রাখে I সে ঈশ্বরের সামনে যে কোনো জায়গায় আসতে পারে (যেহেতু তিনি আত্মা), তবে এই ‘জীবন্ত জল’ গ্রহণ করতে পারার আগে তার সৎ আত্ম-উপলব্ধির প্রয়োজন I     

আমাদের সকলকে অবশ্যই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে

সুতরাং তাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ছিল I সে একটি ধর্মীয় দ্বন্দের পেছনে লুকিয়ে থাকা চালিয়ে যেতে বা হয়ত কেবল তাকে ছেড়ে দিতে পারত I তবে সে অবশেষে তার পাপ স্বীকার করতে পচ্ছন্দ করল – স্বীকার করতে – এত দূর পর্যন্ত যে সে অন্যদের বলতে গ্রামে ফিরে গেল কিভাবে এই ঋষি তাকে জানতেন এবং এবং তিনি কি করেছেন I সে আর লুকিয়ে থাকলো না I এইরকম করে সে একজন ‘বিশ্বাসী’ হয়ে গেল I সে আগে পূজা এবং ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান করত, কিন্তু এখন সে – এবং তার গ্রামের তারা – ‘বিশ্বাসী’ হয়ে গেল I   

একজন বিশ্বাসী হতে গেলে শুধুমাত্র মানসিকভাবে সঠিক শিক্ষার সঙ্গে একমত হওয়া নয় – যদিও সেটি গুরুত্বপূর্ণ I এটি হ’ল বিশ্বাস করার সম্বন্ধে যে তাঁর করুণার প্রতিশ্রুতির উপরে ভরসা করা যেতে পারে, আর তাই আপনার পাপকে আর ঢেকে রাখা উচিত নয় I এটাই দীর্ঘ সময় আগে আমাদের জন্য আব্রাহাম  নমুনা করেছিলেন – তিনি একটি প্রতিশ্রুতিতে ভরসা করেছিলেন I

আপনি কি আপনার পাপের অজুহাত করেন বা লুকিয়ে রাখেন? আপনি কি এটিকে ভক্তিপূর্ণ ধর্মীয় অনুশীলন বা ধর্মীয় দ্বন্দের সঙ্গে লুকিয়ে রাখেন? বা আপনি কি আপনার পাপ স্বীকার করেন? কেন আমাদের সৃষ্টিকর্তার সামনে এসে  সৎভাবে অপরাধ এবং লজ্জা সৃষ্টিকারী পাপকে স্বীকার করেন না? তখন আনন্দ করুন যে তিনি আপনার আরাধনা ‘চান’ এবং সমস্ত অধার্মিকতা থেকে আপনাকে পবিত্র করবেন I 

স্ত্রীটির তার প্রয়োজন সম্পর্কে সৎ গ্রহণযোগ্যতা তাকে খ্রীষ্টকে ‘মসীহ’ হিসাবে বোঝার জন্য পরিচালিত করেছিল এবং যীশুর দুদিন অবস্থান করার পরে তারা তাঁকে ‘জগতের উদ্ধারকর্তা’ হিসাবে বুঝতে পারল I হয়ত আমরা এটিকে এখনও পুরোপুরি বুঝি না I তবে স্বামী যোহন যেভাবে লোকেদের তাদের পাপ এবং প্রয়োজন স্বীকার করে বোঝার জন্য প্রস্তুত করেছিলেন, এটি আমাদের কিভাবে আমরা হারিয়ে গেছি তা সনাক্ত করতে এবং তাঁর কাছ থেকে জীবন্ত জল পান করতে প্রস্তুত করবে I 

ঈশ্বরের রাজ্য? পদ্ম, শঙ্খ এবং জোড়া মাছে গুণের চিত্র

পদ্মটি দক্ষিন এশিয়ার প্রতিষ্ঠিত ফুল I পদ্ম ফুলটি প্রাচীন ইতিহাসে একটি বিশিষ্ট প্রতীক ছিল, আজকের দিনেও তাই রয়েছে I পদ্ম গাছগুলো তাদের পাতাগুলোতে একটি স্বতন্ত্র কাঠামো রাখে যা একটি স্ব-পরিষ্কারের ক্ষমতা সরবরাহ করে, কাদা থেকে অপরিচ্ছন্ন ফুলগুলো ফুঠতে দেয় I এই প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যটি ময়লা থেকে দুরে থাকা কাদা থেকে উত্থিত হিসাবে ফুলের প্রতীকী উল্লেখ সমূহকে সৃষ্টি করেছে I ঋগ্বেদ প্রথমে একটি রূপকের মধ্যে পদ্মের উল্লেখ করেছে (RV 5. LXVIII. 7-9) যেখানে মনে হয় এটি কোনও শিশুর নিরাপদ জন্মের জন্য একটি ইচ্ছার বর্ণনা করে I    

বিষ্ণু যখন খর্বাকৃত বামন ছিলেন, তার পত্নী লক্ষ্মী একটি পদ্ম থেকে পদ্মা বা কমলা নামে যার উভয়ের অর্থ “পদ্ম” মহান সমুদ্র মন্থনের মধ্যে আবির্ভূত হয়েছিলেন I লক্ষ্মী পদ্মের সাথে এক নিবিড় সম্পর্ক বজায় রাখেন, ফুলের মধ্যেই নিজের নিবাস রেখেছেন I   

একটি শঙ্খ আচার এবং ধর্মীয় গুরুত্বের একটি শঙ্খের খোল I শঙ্খ একটি বৃহৎ সামুদ্রিক শামুকের খোল তবে পুরানে শঙ্খ বিষ্ণুর প্রতীক এবং প্রায়শই একটি তুরী হিসাবে ব্যবহৃত হয় I

পদ্ম এবং শঙ্খ আট অষ্টমঙ্গলার (শুভ লক্ষণ সমূহ) শিক্ষার সরঞ্জামগুলোর মধ্যে দুটি I এগুলো কালজয়ী যোগ্যতাবলী বা গুণের জন্য চিত্র বা প্রতীক হিসাবে পরিবেশন করে I অসংখ্য গ্রন্থে গুণ সহজাত প্রাকৃতিক শক্তির ধারনা নিয়ে আলোচনা করে, যা একত্রে পৃথিবীকে রূপান্তর করে পরিবর্তন করে চলেছে I তিনটে গুণ ভেতরে I শঙ্খর চিন্তাভাবনা হ’ল: স্বত্ব (উত্তমতা, গঠনমূলক, একতান), রজস (আবেগ, সক্রিয়, বিভ্রান্ত), এবং তামস (অন্ধকার, ধ্বংসাত্মক, বিশৃঙ্খল) I ন্যায় এবং বৈশেষিক চিন্তা ভাবনা আরও অধিক গুণ সমূহের জন্য অনুমতি দেয় I একটি গুণ হিসাবে ঈশ্বরের রাজ্যের সম্বন্ধে কি ভাবেন?   

পদ্ম ফুল শঙ্খ চিন্তাধারার মধ্যে সত্ত্ব, রজস, তামস গুণগুলোকে চিত্রিত করে I

যীশু ঈশ্বরের রাজ্যকে এক পরিচালনাকারী যোগ্যতা হিসাবে, একটি গুণ হিসাবে  দেখেছিলেন, যেহেতু এটি জৈবিকভাবে পরিবর্তন এবং বিশ্বকে পরাভূত করছে I তিনি শেখালেন যে আমাদেরকে ঈশ্বরের রাজ্যে আমন্ত্রণ করা হয়েছে, তবে এটি করার জন্য দ্বিজরও প্রয়োজন I তিনি তখন গাছপালা, শঙ্খ এবং জোড়া মাছ (অষ্টমঙ্গল গুণ সমূহ) ব্যবহার করে ঈশ্বরের রাজ্যের প্রকৃতি বা গুণের উপরে এক ধারাবাহিক গল্প (দৃষ্টান্ত বলা হয়) দিলেন ঈশ্বরের রাজ্যকে বোঝার জন্য  তাঁর শিক্ষার সরঞ্জাম হিসাবে আমাদের সাহায্য করতে I 

ই দিনই যীশু ঘর থেকে বের হয়েহ্রদের ধারে এসে বসলেন৷
2 তাঁর চারপাশে বহু লোক এসে জড় হল, তাইতিনি একটা নৌকায় উঠে বসলেন, আর সেই সমবেত জনতা তীরে দাঁড়িয়ে রইল৷
3 তখন তিনি দৃষ্টান্তের মাধ্যমে তাদের অনেক বিষয়ে শিক্ষা দিতে লাগলেন৷ তিনি বললেন, ‘একজন চাষী বীজ বুনতে গেল৷
4 সে যখন বীজ বুনছিল, তখন কতকগুলি বীজ পথের ধারে পড়ল, আর পাখিরা এসে সেগুলি খেয়ে ফেলল৷
5 আবার কতকগুলি বীজ পাথুরে জমিতে পড়ল, সেখানে মাটি বেশী ছিল না৷ মাটি বেশী না থাকাতে তাড়াতাড়ি অঙ্কুর বের হল৷
6 কিন্তু সূর্য় উঠলে পর অঙ্কুরগুলি ঝলসে গেল, আর শেকড় মাটির গভীরে যায়নি বলে তা শুকিয়ে গেল৷
7 আবার কিছু বীজ কাঁটাঝোপের মধ্যে পড়ল৷ কাঁটাঝোপ বেড়ে উঠে চারাগুলোকে চেপে দিল৷
8 কিছু বীজ ভাল জমিতে পড়ল, তাতে ফসল হতে লাগল৷ সে যা বুনেছিল, কোথাও তার ত্রিশগুণ, কোথাও ষাটগুণ, কোথাও শতগুণ ফসল হল৷
9 যার শোনার মতো কান আছে সে শুনুক!’

মথি 13:1-9
পদ্মের বীজের মধ্যে একটি জীবনী শক্তি থাকে যা তাদের অঙ্কুরিত করে

এই দৃষ্টান্তটির অর্থ কি? আমাদের অনুমান করতে হবে না, যেহেতু তিনি তাদেরকে অর্থ দিয়েছিলেন যারা চেয়েছিল:

18 ‘এখন তবে সেইচাষী ও তার বীজ বোনার মর্মার্থ শোন৷
19 কেউ যখন স্বর্গরাজ্যের শিক্ষার বিষয় শুনেও তা বোঝে না, তখন দুষ্ট আত্মা এসে তার অন্তরে যা বোনা হয়েছিল তা সরিয়ে নেয়৷ এটা হল সেই পথের ধারে পড়া বীজের

কথা৷মথি 13:18-19
তবে এই বীজগুলো কোন নিষ্পিষ্ট রাস্তায় অঙ্কুরিত হতে পারে না

20 আর পাথুরে জমিতে য়ে বীজ পড়েছিল, তা সেই সব লোকদের কথাই বলে যাঁরা স্বর্গরাজ্যের শিক্ষা শুনে সঙ্গে সঙ্গে আনন্দের সাথে তা গ্রহণ করে;
21 কিন্তু তাদের মধ্যে সেই শিক্ষার শেকড় ভাল করে গভীরে য়েতে দেয় না বলে তারা অল্প সময়ের জন্য স্থির থাকে৷ যখন সেই শিক্ষার জন্য সমস্যা, দুঃখ কষ্ট ও তাড়না আসে, তখনই তারা পিছিয়ে যায়৷

মথি 13:20-21
সূর্যের তাপ বীজের জীবনকে মেরে ফেলতে পারে

22 কাঁটাঝোপে য়ে বীজ পড়েছিল, তা এমন লোকদের বিষয় বলে যাঁরা সেই শিক্ষা শোনে, কিন্তু সংসারের চিন্তা ভাবনা ও ধনসম্পত্তির মাযা সেই শিক্ষাকে চেপে রাখে৷ সেজন্য তাদের জীবনে কোন ফল হয় না৷

মথি 13:22
অন্য গাছপালা পদ্ম ফুলের বৃদ্ধিকে বাধা দিতে পারে

23 য়ে বীজ উত্কৃষ্ট জমিতে বোনা হল, তা এমন লোকদের কথা প্রকাশ করে যাঁরা শিক্ষা শোনে, তা বোঝে এবং ফল দেয়৷ কেউ একশ গুণ, কেউ ষাট গুণ আর কেউ বা তিরিশ গুণ ফল

দেয়৷মথি 13:23
সঠিক জমিতে পদ্ম গাছ বেড়ে উঠবে এবং সৌন্দর্যে বহুগুণিত হবে  

ঈশ্বরের রাজ্যের সম্বন্ধে চারটি প্রতিক্রিয়া আছে I প্রথমটিতে কোনো ‘বুদ্ধি’ নেই আর তাই দুষ্ট বার্তাটিকে তাদের হৃদয় থেকে হরণ করে নিয়ে যায় I বাকি তিনটি প্রতিক্রিয়ার সবগুলো প্রাথমিকভাবে সকারাত্মক এবং তারা আনন্দের সঙ্গে বার্তাটিকে গ্রহণ করে I তবে এই বার্তাটিকে কঠিন সময়ের মাধ্যমে আমাদেরকে অবশ্যই গড়ে তুলতে হয় I এটি আমাদের জীবনে প্রভাবিত না করে এমন মানসিক শক্তি অপর্যাপ্ত I তাই এদের মধ্যে দুটি প্রতিক্রিয়া. যদিও তারা প্রাথমিকভাবে বার্তাটিকে পেয়েছিল, তাদের হৃদয়ে এটিকে বৃদ্ধি পেতে অনুমতি দেয় নি I কেবল চতুর্থ হৃদয়, যা ‘বাক্যটি শোনে এবং এটিকে বোঝে’ প্রকৃতরূপে এটিকে এমনভাবে গ্রহণ করবে যাকে ঈশ্বর অন্বেষণ করছিলেন I

যীশু এই দৃষ্টান্তটি শেখালেন যাতে আমরা আমাদের জিজ্ঞাসা করি: ‘এই মাটিগুলোর মধ্যে কোনটি আমি?’

আগাছার দৃষ্টান্ত

এই দৃষ্টান্তটি সম্বন্ধে ব্যাখ্যা করার পরে যীশু আগাছা ব্যবহার করে একটি দৃষ্টান্ত শেখালেন I 

24 এবার যীশু তাদের কাছে আর একটি দৃষ্টান্ত রাখলেন৷ ‘স্বর্গরাজ্য এমন একজন লোকের মতো যিনি তাঁর জমিতে ভাল বীজ বুনলেন৷
25 কিন্তু লোকেরা যখন সবাইঘুমিয়ে ছিল, তখন সেইমালিকের শত্রু এসে গমের মধ্যে শ্যামা ঘাসের বীজ বুনে দিয়ে চলে গেল৷
26 শেষে গমের চারা যখন বেড়ে উঠে ফল ধরল, তখন তার মধ্যে শ্যামাঘাসও দেখা গেল৷
27 সেইমালিকের মজুররা এসে তাঁকে বলল, ‘আপনি কি জমিতে ভাল বীজ বোনেন নি? তবে শ্যামাঘাস কোথা থেকে এল?’
28 তিনি তাদের বললেন, ‘এটা নিশ্চয়ই কোন শত্রুর কাজ৷’তাঁর চাকরেরা তখন তাঁকে বলল, ‘আপনি কি চান, আমরা গিয়ে কি শ্যামা ঘাসগুলি উপড়ে ফেলব?’
29 ‘তিনি বললেন, ‘না, কারণ তোমরা যখন শ্যামা ঘাস ওপড়াতে যাবে তখন হয়তো ঐগুলোর সাথে গমের গাছগুলোও উপড়ে ফেলবে৷
30 ফসল কাটার সময় না হওয়া পর্যন্ত একসঙ্গে সব বাড়তে দাও৷ পরে ফসল কাটার সময় আমি মজুরদের বলব তারা য়েন প্রথমে শ্যামা ঘাস সংগ্রহ করে আঁটি আঁটি করে বাঁধে ও তা পুড়িয়ে দেয় এবং গম সংগ্রহ করে গোলায় তোলে৷’ 

মথি 13:24-30
গাছ এবং গম: পাকা করার আগে গম এবং গাছগুলি একই দেখায়

আগাছা এবং গম: পেকে যাওয়ার পূর্বে গম এবং আগাছাকে একই রকম দেখতে লাগে   

এখানে তিনি দৃষ্টান্তটিকে ব্যাখ্যা করেন I

36 পরে যীশু লোকদের বিদায় দিয়ে ঘরে চলে গেলেন৷ তখন তাঁর শিষ্যরা এসে তাঁকে বললেন, ‘সেইক্ষেতের ও শ্যামা ঘাসের দৃষ্টান্তটি আমাদের বুঝিয়ে দিন৷’
37 এর উত্তরে যীশু তাদের বললেন, ‘যিনি ভাল বীজ বোনেন, তিনি মানবপুত্র৷
38 জমি বা ক্ষেত হল এই জগত, স্বর্গরাজ্যের লোকরা হল ভাল বীজ৷ আর শ্যামাঘাস তাদেরই বোঝায়, যাঁরা মন্দ লোক৷
39 গমের মধ্যে য়ে শত্রু শ্যামা ঘাস বুনে দিয়েছিল, সে হল দিয়াবল৷ ফসল কাটার সময় হল জগতের শেষ সময় এবং মজুররা যাঁরা সংগ্রহ করে, তারা ঈশ্বরের স্বর্গদূত৷
40 ‘শ্যামা ঘাস জড় করে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়৷ এইপৃথিবীর শেষের সময়েও ঠিক তেমনি হবে৷
41 মানবপুত্র তাঁর স্বর্গদূতদের পাঠিয়ে দেবেন, আর যাঁরা পাপ করে ও অপরকে মন্দের পথে ঠেলে দেয়, তাদের সবাইকে সেইস্বর্গদূতরা মানবপুত্রের রাজ্যের মধ্য থেকে একসঙ্গে জড় করবেন৷
42 তাদের জ্বলন্ত আগুনের মধ্যে ফেলে দেবেন৷ সেখানে লোকে কান্নাকাটি করবে ও দাঁতে দাঁত ঘষতে থাকবে৷
43 তারপর যাঁরা ধার্মিক প্রতিপন্ন হয়েছে, তারা পিতার রাজ্যে সূর্যের মতো উজ্জ্বল হয়ে দেখা দেবে৷ যার শোনার মতো কান আছে সে

শুনুক!মথি 13:36-43

সর্ষে বীজ এবং খামীরের দৃষ্টান্ত 

যীশু অন্যান্য সাধারণ গাছপালার উদাহরণ সহ আবার কিছু অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত দৃষ্টান্তও শিখিয়েছিলেন I 

31 যীশু তাদের সামনে আর একটি দৃষ্টান্ত রাখলেন, ‘স্বর্গরাজ্য এমন একটা সরষে দানার মতো যা নিয়ে কোন একজন লোক তার জমিতে লাগাল৷
32 সমস্ত বীজের মধ্যে ওটা সত্যিই সবচেয়ে ছোট, কিন্ত গাছ হয়ে বেড়ে উঠলে পর তা সমস্ত শাক-সব্জীর থেকে বড় হয়ে একটা বড় গাছে পরিণত হয়, যাতে পাখিরা এসে তার ডালপালায় বাসা বাঁধে৷’
33 তিনি তাদের আর একটা দৃষ্টান্ত বললেন, ‘স্বর্গরাজ্য য়েন খামিরের মতো৷ একজন স্ত্রীলোক তা নিয়ে একতাল ময়দার সঙ্গে মেশাল ও তার ফলে সমস্ত ময়দা ফেঁপে উঠল৷’

মথি 13:31:33
সর্ষে বীজ ক্ষুদ্র
সর্ষে গাছগুলো প্রচুর ভাবে বেড়ে ওঠে

ঈশ্বরের রাজ্য ক্ষুদ্র হয়ে শুরু হয় এবং এই জগতে তাত্পর্যহীন হয় তবে জগত জুড়ে ময়দার তালের মধ্যে কার্যরত খামিরের মতন বৃদ্ধি পাবে এবং একটি ক্ষুদ্র বীজ এক বৃহৎ বৃক্ষে বৃদ্ধি পাবে I এটি শক্তির দ্বারা ঘটে না, বা হঠাত, এর বৃদ্ধি অদৃশ্য তবে সর্বত্র এবং অপ্রতিরোধ্য I 

গুপ্ত খাজনা এবং বহুমূল্য মুক্তোর দৃষ্টান্ত

44 ‘স্বর্গরাজ্য ক্ষেতের মধ্যে লুকিয়ে রাখা ধনের মতো৷ একজন লোক তা খুঁজে পেয়ে আবার সেই ক্ষেতের মধ্যে লুকিয়ে রাখল৷ সে এতে এত খুশী হল য়ে সেখান থেকে গিয়ে তার সর্বস্ব বিক্রি করে সেই ক্ষেতটি কিনল৷
45 ‘আবার স্বর্গরাজ্য এমন একজন সওদাগরের মতো, য়ে ভাল মুক্তা খুঁজছিল৷
46 যখন সে একটা খুব দামী মুক্তার খোঁজ পেল, তখন গিয়ে তার যা কিছু ছিল সব বিক্রি করে সেইমুক্তাটাই

কিনল৷মথি 13:44-46
শামুকের খোলের মধ্যে মূল্যবান খাজনা থাকতে পারে তবে বাইরে থেকে মূল্যকে দেখা যায় না
কিছু শামুকের খোলের মধ্যে গোলাপী মুক্তো থাকে – বহু মূল্যের সাথে গুপ্তভাবে
গোলাপী মুক্তোগুলো অনেক মূল্যবান

এই দৃষ্টান্তগুলো ঈশ্বরের রাজ্যের মূল্যের উপরে ফোকাস করে I ক্ষেতের মধ্যে লুকোনো এক খাজনার কথা চিন্তা করুন I লুকোনো থাকায়, প্রত্যেকে এর পাশ দিয়ে চলে যায় ভাবে ক্ষেতটির মূল্য অল্প আর তাই এর প্রতি তাদের কোনো উৎসাহ নেই I তবে একজন বুঝতে পারে সেখানে খাজানা আছে, ক্ষেতটিকে মূল্যবান করেছে – যথেষ্ট মূল্যবান যে এটিকে ক্রয় করতে এবং খাজানাটিকে পেতে সমস্ত কিছু বিক্রী করে দেওয়া যায় I অতএব এটি ঈশ্বরের রাজ্যের সঙ্গে – অধিকাংশের দ্বারা অলক্ষিত মূল্য, তবে কয়েকজন যারা এর যোগ্যতাকে কে দেখে অনেক মূল্য লাভ করে I     

জালের দৃষ্টান্ত

47 ‘স্বর্গরাজ্য আবার এমন একটা বড় জালের মতো যা সমুদ্রে ফেলা হলে তাতে সব রকম মাছ ধরা পড়ল৷
48 জাল পূর্ণ হলে লোকরা সেটা পাড়ে টেনে তুলল, পরে তারা বসে ভালো মাছগুলো বেছে ঝুড়িতে রাখল এবং খারাপগুলো ফেলে দিল৷
49 জগতের শেষের দিনে এই রকমই হবে৷ স্বর্গদূতরা এসে ধার্মিক লোকদের মধ্য থেকে দুষ্ট লোকদের আলাদা করবেন৷
50 স্বর্গদূতরা জ্বলন্ত আগুনের মধ্যে দুষ্ট লোকদের ফেলে দেবেন৷ সেখানে লোকে কান্নাকাটি করবে ও দাঁতে দাঁত ঘসবে৷’

মথি 13:47:50
ঈশ্বরের রাজ্য গোয়ার এই মছুয়ারাদের মতন লোকেদের বাছাই করবে

যীশু অষ্টমঙ্গলার আর একটিকে ব্যবহার করেছিলেন – জোড়া মাছকে ঈশ্বরের রাজ্য সম্বন্ধে শিক্ষা দিতে I মছুয়ারাদের মাছকে আলাদা করার মতন ঈশ্বরের রাজ্য লোকেদের দুই দলে আলাদা করবে I এটি বিচারের দিনে ঘটবে I   

ঈশ্বরের রাজ্য রহস্যজনকভাবে বাড়ে, ময়দার তালে খামিরের মতন; বেশিরভাগ থেকে গোপনীয় মূল্য; এবং মানুষের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া জাগ্রত করে I এটি যারা বোঝে এবং যারা না বুঝবে তাদের আলাদা করে I এই দৃষ্টান্তগুলো শেখানোর পরে যীশু তাঁর শ্রোতাদের এই প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করলেন I

51 যীশু তাঁর শিষ্যদের জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমরা কি এসব কথা বুঝলে?’তারা তাঁকে বলল, ‘হ্যাঁ, আমরা

বুঝেছি৷’মথি 13:51

আপনি কি ভাবেন? ঈশ্বরের রাজ্যকে যদি বিশ্বব্যাপী চলমান একটি গুণের মতন বোঝা যায় এটি তবুও আপনার কোনো উপকারে আসে না যদি না এটি আপনার মাধ্যমেও চলতে পারে I কিন্তু কিভাবে?

যীশু একটি গঙ্গা তীর্থের মতন তাঁর জীবন্ত জলের দৃষ্টান্ত দিয়ে ব্যাখ্যা করেন I  

যীশু শিক্ষা দেন যে প্রাণ আমাদের দ্বিজর কাছে নিয়ে আসে

দ্বিজর অর্থ হ’ল ‘দ্বিতীয় জন্ম’ বা পুনরায় জন্ম’ I এটি এই ধারণার উপর প্রতিষ্ঠিত যে একজন ব্যক্তির প্রথমে জন্ম হয় এবং পরে আধ্যাত্মিকভাবে দ্বিত্বীয় বার জন্ম হয় I এই আধ্যাত্মিক জন্মটি পরম্পরাগতভাবে উপনয়ন অনুষ্ঠানের সময়ে ঘটে বলে প্রতীকী হয়, যখন পবিত্র সূতো (যজ্ঞপবীত, উপবীত বা জনৌ) পরিধান করা হয় I যাই হোক. যদিও প্রাচীন বৈদিক (1500-600 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) পাঠ্য যেমন বৌদ্ধায়ন গৃহসুত্র উপনয়ন সম্বদ্ধে আলোচনা করে, দ্বিজ সম্পর্কে কোনো প্রাচীন গ্রন্থ উল্লেখ করে না I উইকিপীডিয়া বলে        

এর ক্রমবর্দ্ধমান উল্লেখগুলো মধ্য থেকে শেষ প্রথম-সহ্রসাব্দ খ্রীষ্টাব্দের গ্রন্থের ধর্মশাস্ত্রগুলো পাঠ্যে প্রদর্শিত হয় I দ্বিজ শব্দের উপস্থিতি এমন একটি চিহ্ন যা এই পাঠ্যটি সম্ভবত মধ্যযুগীয় যুগের ভারতীয় পাঠ্য I   

অতএব যদিও দ্বিজ বর্তমানে একটি পরিচিত ধারণা, এটি আপেক্ষিকভাবে নতুন I দ্বিজ কোথা থেকে এসেছিল?

থোমার দ্বারা যীশু এবং দ্বিজ

দ্বিজর উপরে প্রাচীনতম যে কারোর দ্বারা নথিভুক্ত শিক্ষা হ’ল যীশুর I যোহনের সুসমাচার (50-100 খ্রীষ্টাব্দে লেখা) দ্বিজ সম্পর্কে যীশুর নেতৃত্বে একটি আলোচনাকে লিপিবদ্ধ করে I এটা খুব ভালো হতে পেরেছিল যে যীশুর এক শিষ্য থোমা, যিনি প্রথমে ভারতবর্ষে এসেছিলেন 52 খ্রীষ্টাব্দে মালাবার উপকূলে এবং তারপরে চেন্নাইতে যীশুর জীবন এবং শিক্ষার একজন প্রত্যক্ষদর্শী রূপে দ্বিজর ধারনাটিকে নিয়ে এসেছিলেন এবং ভারতীয় চিন্তাধারা এবং অনুশীলনের মধ্যে এটিকে প্রবর্তন করেছিলেন I যীশুর শিক্ষার সাথে ভারতবর্ষে থোমার আগমন ভারতীয় গ্রন্থে দ্বিজর উত্থানের সঙ্গে মেলে I       

প্রাণের মাধ্যমে যীশু এবং দ্বিজ

যীশু দ্বিজকে সংযুক্ত করেছিলেন, উপনয়নের সঙ্গে নয়, বরং প্রাণের (प्राण) সঙ্গে, যা আরও একটি প্রাচীন ধারণা I প্রাণ স্বাস, আত্মা, বায়ু বা জীবন শক্তিকে বোঝায় I প্রাণ সম্পর্কে প্রাচীনতম উল্লেখগুলোর মধ্যে একটি 3000 বছরের পুরনো ছন্দোক  উপনিষদে রয়েছে, তবে কথা, মুন্দকা এবং প্রশ্ন উপনিষদ সহ অন্য অনেক উপনিষদগুলো ধারনাটি ব্যবহার করে I বিভিন্ন গ্রন্থে বিকল্প সুনির্দিষ্ট বিবরণ দেওয়া রয়েছে, তবে প্রাণ প্রাণায়াম ও আয়ুর্বেদ সহ আমাদের শ্বাস/শ্বাস-প্রশ্বাসের দক্ষতা অর্জনের জন্য সমস্ত যৌগিক কৌশল অবলম্বন করে I প্রাণগুলোকে মাঝে মাঝে প্রাণ, অপান, উদান, সমান, আর ব্যান হিসাবে আয়ুর (বায়ু) দ্বারা শ্রেণীবদ্ধ করা হয় I    

এখানে দ্বিজর পরিচয় দিতে গিয়ে যীশুর কথোপকথন পাওয়া যায় I (নিম্নরেখাঙ্কিত শব্দগুলো দ্বিজ বা দ্বিতীয় জন্মের উল্লেখগুলোকে যখন মোটা মুদ্রাক্ষর বিশিষ্ট শব্দগুলো প্রাণ বা বায়ু, আত্মাকে চিহ্নিত করে)   

1ফরীশীদের মধ্যে এক ব্যক্তি ছিলেন, তাঁহার নাম নীকদীম; তিনি যিহূদীদের এক জন অধ্যক্ষ। 2তিনি রাত্রিকালে যীশুর নিকটে আসিলেন, এবং তাঁহাকে কহিলেন, রব্বি, আমরা জানি, আপনি ঈশ্বরের নিকট হইতে আগত গুরু; কেননা আপনি এই যে সকল চিহ্ন-কার্য্য সাধন করিতেছেন, ঈশ্বর সহবর্ত্তী না থাকিলে এ সকল কেহ করিতে পারে না।

3যীশু উত্তর করিয়া তাঁহাকে কহিলেন, সত্য, সত্য, আমি তোমাকে বলিতেছি, নূতন জন্ম না হইলে কেহ ঈশ্বরের রাজ্য দেখিতে পায় না।

4নীকদীম তাঁহাকে কহিলেন, মনুষ্য বৃদ্ধ হইলে কেমন করিয়া তাহার জন্ম হইতে পারে? সে কি দ্বিতীয় বার মাতার গর্ভে প্রবেশ করিয়া জন্মিতে পারে?

5যীশু উত্তর করিলেন, সত্য, সত্য, আমি তোমাকে বলিতেছি, যদি কেহ জল এবং আত্মা হইতে না জন্মে, তবে সে ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করিতে পারে না। 6মাংস হইতে যাহা জাত, তাহা মাংসই; আর আত্মা হইতে যাহা জাত, তাহা আত্মাই। 7আমি যে তোমাকে বলিলাম, তোমাদের নূতন জন্ম হওয়া আবশ্যক, ইহাতে আশ্চর্য্য জ্ঞান করিও না। 8বায়ু যে দিকে ইচ্ছা করে, সেই দিকে বহে, এবং তুমি তাহার শব্দ শুনিতে পাও; কিন্তু কোথা হইতে আইসে, আর কোথায় চলিয়া যায়, তাহা জান না; আত্মা হইতে জাত প্রত্যেক জন সেইরূপ।

9নীকদীম উত্তর করিয়া তাঁহাকে কহিলেন, এ সকল কি প্রকারে হইতে পারে?

10যীশু উত্তর করিয়া তাঁহাকে কহিলেন, তুমি ইস্রায়েলের গুরু, আর এ সকল বুঝিতেছ না? 11সত্য, সত্য, আমি তোমাকে বলিতেছি, আমরা যাহা জানি তাহা বলি, এবং যাহা দেখিয়াছি তাহার সাক্ষ্য দিই; আর তোমরা আমাদের সাক্ষ্য গ্রহণ কর না। 12আমি পার্থিব বিষয়ের কথা কহিলে তোমরা যদি বিশ্বাস না কর, তবে স্বর্গীয় বিষয়ের কথা কহিলে কেমন করিয়া বিশ্বাস করিবে? 13আর স্বর্গে কেহ উঠে নাই; কেবল যিনি স্বর্গ হইতে নামিয়াছেন, সেই মনুষ্যপুত্র, যিনি স্বর্গে থাকেন।

14আর মোশি যেমন প্রান্তরে সেই সর্পকে উচ্চে উঠাইয়াছিলেন, সেইরূপে মনুষ্যপুত্রকেও উচ্চীকৃত হইতে হইবে, 15যেন, যে কেহ তাঁহাতে বিশ্বাস করে, সে অনন্ত জীবন পায়। 16কারণ ঈশ্বর জগৎকে এমন প্রেম করিলেন যে, আপনার একজাত পুত্রকে দান করিলেন, যেন, যে কেহ তাঁহাতে বিশ্বাস করে, সে বিনষ্ট না হয়, কিন্তু অনন্ত জীবন পায়। 17কেননা ঈশ্বর জগতের বিচার করিতে পুত্রকে জগতে প্রেরণ করেন নাই, কিন্তু জগৎ যেন তাঁহার দ্বারা পরিত্রাণ পায়।

18যে তাঁহাতে বিশ্বাস করে, তাহার বিচার করা যায় না; যে বিশ্বাস না করে, তাহার বিচার হইয়া গিয়াছে, যেহেতুক সে ঈশ্বরের একজাত পুত্রের নামে বিশ্বাস করে নাই। 19আর সেই বিচার এই যে, জগতে জ্যোতি আসিয়াছে, এবং মনুষ্যেরা জ্যোতি হইতে অন্ধকার অধিক ভাল বাসিল, কেননা তাহাদের কর্ম্ম সকল মন্দ ছিল। 20কারণ যে কেহ কদাচরণ করে, সে জ্যোতি ঘৃণা করে, এবং জ্যোতির নিকটে আইসে না, পাছে তাহার কর্ম্ম সকলের দোষ ব্যক্ত হয়। 21কিন্তু যে সত্য সাধন করে, সে জ্যোতির নিকটে আইসে, যেন তাহার কর্ম্ম সকল ঈশ্বরে সাধিত বলিয়া সপ্রকাশ হয়।

যোহন 3:1-21

এই কথপোকথনের মধ্যে বিভিন্ন ধারণা সমূহকে উত্থাপন করা হয়েছে I প্রথমত, যীশু এই দ্বিতীয় জন্মের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন (‘আপনাকে অবশ্যই আবার জন্মগ্রহণ করতে হবে’) I তবে এই জন্মের মধ্যে কোনো মানবীয় প্রতিনিধি নেই I প্রথম জন্ম, যা মাংসের থেকে তা মাংসকে জন্ম দেয়’ এবং ‘জলের থেকে জন্ম’ মানবীয় প্রতিনিধির থেকে আসে এবং মানবীয় নিয়ন্ত্রণের অধীন হয় I কিন্তু দ্বিতীয় জন্ম (দ্বিজ) তিনটি স্বর্গীয় প্রতিনিধিকে জড়িত করে: ঈশ্বর, মনুষ্য পুত্র, এবং আত্মাকে (প্রাণ) I এগুলোকে আমাদের অন্বেষণ করা যাক   

ঈশ্বর

যীশু বললেন যে ‘ঈশ্বর জগতকে এমন প্রেম করলেন…’ অর্থাৎ ঈশ্বর সকল লোকদের ভালবাসেন … এই জগতের প্রত্যেক নিবাসীকে … কেউ বাদ নয় I আমরা এই ভালবাসার সীমাটির উপরে প্রতিফলন করতে সময় ব্যয় করতে পারি, তবে যীশু চান যে আমরা প্রথমে স্বীকৃতি দিই যে এর অর্থ ঈশ্বর আপনাকে ভালবাসেন I ঈশ্বর আপনাকে অনেক ভালবাসেন, বর্ণ, ধর্ম, ভাষা, বয়স, লিঙ্গ, ধন সম্পদ, শিক্ষা … আপনার অবস্থা যাই হোক না কেন I যেমন অন্য কোথাও বলা হয়েছে:  

38 কারণ আমি নিশ্চিতভাবে জানি য়ে কোন কিছুই প্রভু যীশু খ্রীষ্টের নিহিত ঐশ্বরিক ভালবাসা থেকে আমাদের বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না, মৃত্যু বা জীবন, কোন স্বর্গদূত বা প্রভুত্বকারী আত্মা, বর্তমান বা ভবিষ্যতের কোন কিছু, উর্দ্ধের বা নিম্নের কোন প্রভাব কিংবা সৃষ্ট কোন কিছুই আমাদের সেই ভালবাসা থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না৷

39রোমীয় 8:38-39

আপনার জন্য (এবং আমার জন্য) ঈশ্বরের ভালবাসা দ্বিতীয় জন্মের প্রয়োজনীয়তাকে অপসারণ করে না (“তারা যতক্ষণ না আবার জন্ম না নেয় কেউ ঈশ্বরের রাজ্য দেখতে পায় না”) বরং আপনার জন্য ঈশ্বরের ভালবাসা তাঁকে কার্যে পরিচালিত করেছিল I 

 “ঈশ্বর জগতকে এমন প্রেম করলেন যে তিনি তাঁর একটি এবং একমাত্র পুত্রকে দান করলেন …”

আমাদেরকে দ্বিতীয় স্বর্গীয় প্রতিনিধির কাছে নিয়ে আসে …

মনুষ্য পুত্র

 ‘মনুষ্য পুত্র’ যীশুর নিজের প্রতি উল্লেখ I এই পরিভাষাটির অর্থ কি আমরা পরে দেখব I এখানে তিনি বলছেন যে পুত্রকে পিতার দ্বারা প্রেরণ করা হয়েছিল I তারপরে তিনি উপরে ওঠার বিষয়ে মজার বিবৃতি দেন I 

14 ‘মরুভূমির মধ্যে মোশি য়েমন সাপকে উঁচুতে তুলেছিলেন, তেমনি মানবপুত্রকে অবশ্যই উঁচুতে

ওঠানো হবে৷যোহন 3:14

এটি প্রায় 1500 বছর আগে মশির সময়ে ঘটা হিব্রু বেদের বিবরণকে উল্লেখ করে যা এখানে দেওয়া হয়েছে:

ব্রোঞ্জের সর্প

4 তারা হোর পর্বত থেকে লোহিত সাগরের পথ ধরে ইদোমের আশেপাশে যাত্রা করেছিল। কিন্তু লোকেরা পথে অধৈর্য হয়ে উঠল; 5 তারা Godশ্বর ও মোশির বিরুদ্ধে কথা বলল এবং বলল, “আপনি কেন আমাদের মিশর থেকে মরুভূমিতে মরতে এনেছিলেন? রুটি নেই! জল নেই! এবং আমরা এই দু: খিত খাবারকে ঘৃণা করি! “

6 তখন প্রভু তাদের মধ্যে বিষাক্ত সাপ প্রেরণ করলেন; তারা লোকদের কামড় দিল এবং বহু ইস্রায়েলীয় মারা গেল। 7 লোকেরা মোশির কাছে এসে বলল, “আমরা যখন প্রভুর বিরুদ্ধে এবং আপনার বিরুদ্ধে কথা বলেছিলাম তখন আমরা পাপ করেছি। প্রার্থনা করুন যে প্রভু সাপগুলি আমাদের থেকে দূরে সরিয়ে নেবেন। ” সুতরাং মোশি লোকদের জন্য প্রার্থনা করলেন।

8 প্রভু মোশিকে বললেন, “একটি সাপ তৈরি কর এবং একটি খুঁটিতে লাগিয়ে দাও; যে কাউকে কামড়েছে সে তা দেখে বাঁচতে পারে। 9 সুতরাং মোশি একটি পিতলের সাপ তৈরি করলেন এবং একটি খুঁটিতে রাখলেন। তারপরে যখন কেউ সাপকে কামড়েছিল এবং ব্রোঞ্জের সাপের দিকে তাকাচ্ছিল তখন তারা বাঁ

চল।গণনা পুস্তক 21:4-9

যীশু এই গল্পটিকে ব্যবহার করে স্বগীয় সংস্থায় তার ভূমিকা ব্যাখ্যা করেছিলেন I সাপে কামড়ানো লোকেদের জন্য কি ঘটে থাকবে ভেবে দেখুন I   

যখন বিষাক্ত সাপের দ্বারা দংশিত হয় বিশ শরীরে প্রবেশ করে I স্বাভাবিক চিকিৎসা হ’ল বিষ চুষে বার করে দেওয়া; দংশিত অঙ্গ শক্তকরে বাঁধা যাতে রক্ত প্রবাহিত না হয় এবং বিষ দংশন থেকে ছড়িয়ে না যায়; এবং ক্রিয়াকলাপ কমিয়ে দেয় যাতে হৃৎপিণ্ডের কম স্পন্দন বিষকে দ্রুত পাম্প করে সারা শরীরে ছড়িয়ে না দেয় I    

যখন সর্পরা ইস্রায়েলীয়দের সংক্রমিত করল তাদের বলা হ’ল যে নিরাময় পেতে তাদেরকে নিকটস্থ একট পোলের উপরে উত্থিত ব্রোঞ্জ সর্পের দিকে তাকাতে হবে I আপনি এটি কল্পনা করতে পারেন যেন কেউ বিছানা থেকে ঘুরপাক খেতে খেতে কাছের উত্থিত সর্পটির দিকে তাকাচ্ছে এবং তারপরে সুস্থ হচ্ছে I কিন্তু ইস্রায়েলীয়দের শিবিরে 30 লক্ষ লোক ছিল (তারা সামরিক যুগের 6,00000 লাখেরও বেশি গণনা করেছিল) – একটি বৃহৎ আধুনিক শহরের আকার I সম্ভাবনা বেশি ছিল এই দংশনগুলো কয়েক মিটার দুরে ছিল এবং ব্রোঞ্জের সর্পের পোলের থেকে দেখার   বাইরে I অতএব সাপে দংশিতদের একটি পছন্দ করতে ছিল I তারা ক্ষতটি শক্তভাবে বেঁধে রাখা এবং বিষের বিস্তারকে সীমাবদ্ধ করার জন্য বিশ্রাম সহ সামান্য সাবধানতা অবলম্বন করতে পারত I অথবা তাদেরকে মশির দ্বারা ঘোষিত উপশমের উপরে ভরসা করতে হত এবং কয়েক কিলোমিটার চলতে হত রক্ত প্রবাহকে বাড়িয়ে  এবং বিষকে ছড়িয়ে পোলের উপরে ব্রোঞ্জের সর্পের দিকে তাকাতে I এটি মশির বাক্যের প্রতি আস্থা বা বিশ্বাসের অভাব হবে যা প্রতিটি ব্যক্তির ক্রিয়াকলাপ নির্ধারণ করবে I

যীশু ব্যাখ্যা করছিলেন যে তার সত্তা ক্রুশের উপরে উত্থিত হয়েছিল যা আমাদের পাপ এবং মৃত্যু থেকে মুক্ত করতে তাকে শক্তি দেয়, ঠিক যেমন ব্রোঞ্জের সর্প ইস্রায়েলীয়দের বিষাক্ত মৃত্যুর থেকে মুক্ত করত I যাইহোক, ঠিক যেমন ইস্রায়েলীয়দের ব্রোঞ্জের সর্পের উপশমের উপরে ভরসা করা এবং পোলের দিকে তাকানো দরকার ছিল আমাদেরও ভরসার চোখ, বা বিশ্বাস নিয়ে যীশুর দিকে তাকানোর দরকার I তার জন্য তৃতীয় স্বর্গীয় প্রতিনিধির কাজ করা দরকার I    

আত্মা – প্রাণ

আত্মা সম্পর্কে যীশুর বক্তব্য বিচার করুন

বায়ু যে দিকে ইচ্ছা করে, সেই দিকে বহে, এবং তুমি তাহার শব্দ শুনিতে পাও; কিন্তু কোথা হইতে আইসে, আর কোথায় চলিয়া যায়, তাহা জান না; আত্মা হইতে জাত প্রত্যেক জন সেইরূপ।

যোহন 3:8

এটি ‘আত্মা’ হিসাবে বায়ুরজন্য একই গ্রীক শব্দ (নিউমা) I ঈশ্বরের আত্মা বায়ুর মতন I কোনো মানুষ সরাসরিভাবে বায়ুকে কখনও দেখে নি I আপনি এটিকে দেখতে পারেন না I তবে বায়ু আমাদের চারিদিকে সর্বত্র রয়েছে I বায়ু  পর্যবেক্ষণযোগ্য I আপনি জিনিসগুলোতে এর প্রভাবের মাধ্যমে এটিকে পর্যবেক্ষণ করেন I বায়ু যখন যায় তখন এটি পাতাগুলো সঞ্চার করে, চুল ওড়ায়, পতাকা পতপত করায় এবং জিনিসগুলোকে উত্তেজিত করে I আপনি বায়ুকে নিয়ন্ত্রণ এবং এটিকে নির্দেশিত করতে পারেন না I বায়ু সেখানেই বয়ে যায় যেখানে এ বইবে I আমরা পাল তুলতে পারি যাতে বায়ুর শক্তি আমাদের নৌবহরে চালিত করে I উত্তোলিত এবং জড়িত পালটি তা হয় যা আমাদেরকে তার শক্তি প্রদান কোরে বায়ুকে আমাদের সাথে চলতে দেয় I ওই উত্থিত পাল ব্যতীত বায়ুর গতি এবং শক্তি, যদিও এটি আমাদের চারপাশে ঘুরপাক খায়, আমাদের কোনো উপকার করে না I   

আত্মার ক্ষেত্রেও এটি একই রকম I আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেখানে সে ইচ্ছা করে আত্মা সেখানেই চলে I তবে আত্মার অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে আপনি এটিকে আপনাকে প্রভাবিত করতে আপনি অনুমতি দিতে পারেন, এর জীবন শক্তিকে আপনার কাছে নিয়ে আসতে, আপনাকে চালাতে I ইনি ক্রুশের উপরে উত্থিত মনুষ্য পুত্র, যা  উত্থিত ব্রোঞ্জের সর্প, বা বাযুতে উত্থিত পাল I ক্রুশে উত্থিত মনুষ্য পুত্রের উপরে আমরা যখন ভরসা রাখি এটি আমাদেরকে জীবন দান করতে আত্মাকে অনুমতি  দেয় I আমরা তখন আবার জন্ম গ্রহণ করি – আত্মার এই দ্বিতীয় সময় I আমরা তখন আত্মার জীবন পাই – প্রাণ I আত্মাটির প্রাণ আমাদের ভেতর থেকে আমাদেরকে দ্বিজ হতে সক্ষম করে I কেবল উপনয়ন হিসাবে বাইরের প্রতীক রূপে নয় I       

দ্বিজ – উপর থেকে

এটিকে যোহনের সুসমাচারে একসাথে এনে এইভাবে সংক্ষিপ্তসার করা হয়:

12 কিন্তু কিছু লোক তাঁকে গ্রহণ করল এবং তাঁকে বিশ্বাস করল৷ যাঁরা বিশ্বাস করল তাদের সকলকে তিনি ঈশ্বরের সন্তান হবার অধিকার দান করলেন৷
13 ঈশ্বরের এই সন্তানরা প্রাকৃতিক নিয়ম অনুসারে কোন শিশুর মতো জন্ম গ্রহণ করে নি৷ মা-বাবার দৈহিক কামনা-বাসনা অনুসারেও নয়, ঈশ্বরের কাছ থেকেই তাদের এই

জন্ম৷যোহন 1:12-13

একটি শিশু হতে গেলে একটি জন্মের দরকার, সেইরকমভাবে ‘ঈশ্বরের সন্তান হতে’ দ্বিতীয় জন্মের বর্ণনা করছে – দ্বিজ I দ্বিজকে উপনয়নের মতন বিভিন্ন রীতিনীতির মাধ্যমে প্রতীকী করা যেতে পারে কিন্তু প্রকৃত অভ্যন্তরীণ দ্বিতীয় জন্মকে ‘মানবীয় সিদ্ধান্তের’ দ্বারা অভিষিক্ত করা যায় না I একটি রীতিনীতি, যেমনটি ঠিক, জন্মের বর্ণনা দিতে পারে, আমাদের এই জন্মের প্রয়োজনীয়তার কথা মনে করিয়ে দিতে পারে তবে এ এটিকে নিয়ে আসতে পারে না I আমরা যখন ‘তাঁকে গ্রহণ করি’ এবং ‘তাঁর নামে বিশ্বাস করি’ তখনই এটি কেবল ঈশ্বরের অভ্যন্তরীণ কাজ হয় I       

আলো এবং অন্ধকার

নৌযানটির পদার্থবিদ্যা বোঝার অনেক আগেই লোকে শতাব্দী ধরে পাল ব্যবহার করে বায়ুর শক্তি ব্যবহার করেছে I অনুরূপভাবে, আমরা দ্বিতীয় জন্মের জন্য আত্মাকে শক্তিশালী করতে পারি, এমনকি যদিও আমরা এটিকে আমাদের মন দিয়ে পুরোপুরি বুঝতে না পারি I এটি কোনো বুদ্ধির অভাব নয় যা আমাদের বাধা দেবে I যীশু বরং শিখিয়েছিলেন যে এটি আমাদের অন্ধকারের ভালবাসা (আমাদের মন্দ কর্ম) হতে পারে যা আমাদের সত্যের আলোতে আসতে বাধা দেয় I 

19 আর এটাই বিচারের ভিত্তি৷ জগতে আলো এসেছে, কিন্তু মানুষ আলোর চেয়ে অন্ধকারকে বেশী ভালবেসেছে, কারণ তারা মন্দ কাজ করেছে৷

যোহন 3:19

এটি আমাদের বুদ্ধিদীপ্ত উপলব্ধি অপেক্ষা বরং আমাদের নৈতিক প্রতিক্রিয়া যা আমাদের দ্বিতীয় জন্মকে বাধা দেয় I আমাদের আলোতে আসার পরিবর্তে অনুযোগ করা হয় I  

21 কিন্তু য়ে কেউ সত্যের অনুসারী হয় সে আলোর কাছে আসে, যাতে সেই আলোতে স্পষ্ট বোঝা যায় য়ে তার সমস্ত কাজ ঈশ্বরের মাধ্যমে হয়েছে৷

যোহন 3:21

আমরা দেখি কিভাবে তাঁর দৃষ্টান্তগুলো আমাদের আলোতে আসার সম্পর্কে আরও শিক্ষা দেয় I

একটি অভ্যন্তরীণ শুদ্ধতার উপরে শিক্ষা দেন

ধর্মীয় আচারগতভাবে শুদ্ধ হওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ? শুদ্ধতা বজায় রাখতে এবং অশুদ্ধতা এড়িয়ে যেতে? আমাদের মধ্যে অনেকে শুদ্ধতার বিভিন্ন পদ্ধতি সমূহকে এড়িয়ে যেতে বা কম করতে কঠিন পরিশ্রম করে, যেমন ছুয়াছুই, লোকেদের মধ্যে পারস্পরিক স্পর্শতা যা একে অপরকে অশুদ্ধ করে I অনেকে আবার অশুদ্ধ খাদ্য এড়িয়ে যায়, আর এক প্রকারের অশুদ্ধতা যেখানে আহার প্রস্তুতকারী একজনের অশুদ্ধতার কারণে আমাদের আহারের নিমিত্ত খাদ্যের মধ্যে অশুদ্ধতা উৎপন্ন হয় I      

ধর্মগুলো শুদ্ধতা বজায় রাখে

যখন আপনি এটির উপরে প্রতিবিম্বিত করেন, আমরা বিধিগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করতে প্রচুর চেষ্টা করতে পারি I একটি শিশুর জন্মের পরে, মায়ের সুতকের নির্ধারিত নিয়মগুলো অনুসরণ করা উচিত, যা এক দীর্ঘ সময়ের জন্য সামাজিক দুরত্বকে অন্তর্ভুক্ত করে I জন্মের পরে যাচচাকে (নুতন মা) কিছু পরম্পরায় এক মাস ধরে অশুদ্ধ বিবেচনা করা হয় I কেবলমাত্র একটি শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়ার (সর) মাধ্যমে যা স্নান এবং মালিশকে অন্তর্ভুক্ত করে, মাকে পুনরায় শুদ্ধ বলে বিবেচনা করা হবে I জন্ম ছাড়াও, স্ত্রীর মাসিক রক্তস্রাবের সময় যা সাধারণত তাকে অশুদ্ধ করে বলে দেখা হয় তাই তাকেও ধর্মীয় আচারের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শুদ্ধতা পুনর্লাভ করা উচিত I বিবাহের পূর্বে বা অগ্নি নৈবেদ্যের (হোম বা যজ্ঞ) আগে, শুদ্ধতা বজায় রাখতে অনেক লোক ধর্মীয় আচারের প্রক্রিয়া পালন করবে যাকে পুণ্যহবচনম বলা হয় যেখানে মন্ত্র উচ্চারণ করা হয় এবং লোকেদের উপরে জল ছিটানো হয় I           

যে খাদ্য আমরা খাই, যে জিনিসগুলো বা লোকেদের আমরা স্পর্শ করি, বা আমাদের শারীরিক কার্যকলাপ যাই হোক না কেন, নানান পদ্ধতি সমূহ আছে যার দ্বারা আমরা শুদ্ধ হতে পারি I অতএব অনেকে শুদ্ধতা বজায় রাখতে কঠিন পরিশ্রম করে I এই জন্যই উত্তরণের আচার অনুষ্ঠানকে, সমস্কার (বা সংস্কার) বলে জানা যায়, যা দেওয়া হয়েছিল – যথাযথভাব সুদ্ধতার সাথে জীবনের মাধ্যমে প্রগতি করতে I  

গৌতম ধর্ম সুত্র

প্রাচীনতম সংস্কৃত ধর্মসুত্রগুলোর মধ্যে গৌতম ধর্মসুত্র একটি অন্যতম I এর তালিকার মধ্যে 40টি বাহ্যিক সমস্কারগুলো (যেমন স্নানের পরে ধর্মীয় শুদ্ধতা) আছে তবে শুদ্ধতা বজায় রাখতে এছাড়াও আটটি অভ্যন্তরীণ সমস্কারগুলো আছে যেগুলোকে আমাদের অবশ্যই অনুশীলন করা উচিত I সেগুলো হ’ল: 

সমস্ত প্রাণীর প্রতি সমবেদনা, ধৈর্য, হিংসার অভাব, বিশুদ্ধতা, প্রশান্তি, একটি ইতিবাচক মনোভাব রাখা, উদারতা এবং অধিকারের অভাব I  

সমস্ত প্রাণীর প্রতি সমবেদনা, ধৈর্য, হিংসার অভাব, বিশুদ্ধতা, প্রশান্তি, ইতিবাচক মনোভাব, উদারতা এবং অধিকারের অভাব রয়েছে।

গৌতম ধর্ম-সুত্র 8:23

শুদ্ধতা এবং অশুদ্ধতার উপরে যীশু   

আমরা দেখেছি যীশুর বাক্যের শক্তি কিভাবে কর্ত্তৃত্বর সাথে শিক্ষা দেয়, লোকেদের সুস্থ করে, এবং প্রকৃতিকে আজ্ঞা দেয় I এছাড়াও যীশু আমাদের অভ্যন্তরীণ শুদ্ধতার সম্বন্ধে আমাদেরকে চিন্তা করতে বললেন, এবং শুধুমাত্র বাহ্যিক নয় I যদিও আমরা অন্য লোকেদের বাহ্যিক শুদ্ধতাকে কেবলমাত্র দেখতে পারি, ঈশ্বরের পক্ষে এটি আলাদা – তিনি অভ্যন্তরকেও দেখেন I যখন ইস্রায়েলের রাজাদের মধ্যে একজন বাহ্যিক শুদ্ধতা বজায় রাখলেন, কিন্তু তার অভ্যন্তরীণ হৃদয়ের শুদ্ধতা পালন করলেন না, তার গুরু বাইবেলে লিপিবদ্ধ এই বার্তাটি নিয়ে এলেন:    

যাদের হৃদয় তাঁর প্রতি সম্পূর্ণরূপে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ তাদের দৃ to় করার জন্য প্রভুর চোখ সমস্ত পৃথিবী জুড়ে রয়েছে।

2 বংশাবলী 16:9a  

অভ্যন্তরীণ শুদ্ধতার সম্পর্ক আমাদের ‘হৃদয়ের’ সাথে হয় – যে ‘আপনি’ যা ভাবে, অনুভব করে, সিদ্ধান্ত নেয়, সমর্পণ করে, মান্য করে এবং জিভকে নিয়ন্ত্রণ করে I কেবল আমাদের অভ্যন্তরীণ সুদ্ধতার সাথে আমাদের সমস্কার কার্যকর হবে I তাই যীশু তার শিক্ষায় বাহ্যিক শুদ্ধতার বিপরীত এটির উপরে জোর দিয়েছিলেন I এখানে সুসমাচার অভ্যন্তরীণ শুদ্ধতা সম্পর্কে তার শিক্ষাকে লিপিবদ্ধ করে I   

37 যীশু এই কথা শেষ করলে একজন ফরীশী তার বাড়িতে যীশুকে খাওযার জন্য নিমন্ত্রণ করল৷ তাই তিনি তার বাড়িতে গিয়ে খাবার আসনে বসলেন৷
38 কিন্তু সেই ফরীশী দেখল য়ে খাওযার আগে প্রথা মতো যীশু হাত ধুলেন না৷
39 প্রভু তাকে বললেন, ‘তোমরা ফরীশীরা থালা বাটির বাইরেটা পরিষ্কার কর, কিন্তু ভেতরে তোমরা দুষ্টতা ও লোভে ভরা৷
40 তোমরা মূর্খের দল! তোমরা কি জান না যিনি বাইরেটা করেছেন তিনি ভেতরটাও করেছেন?
41 তাই তোমাদের থালা বাটির ভেতরে যা কিছু আছে তা দরিদ্রদের বিলিয়ে দাও, তাহলে সবকিছুই তোমাদের কাছে সম্পূর্ণ শুচি হয়ে যাবে৷
42 কিন্তু হায়, ফরীশীরা ধিক্ তোমাদের কারণ তোমরা পুদিনা, ধনে ও বাগানের অন্যান্য শাকের দশমাংশ ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে উত্‌সর্গ করে থাক, কিন্তু ন্যায়বিচার ও ঈশ্বরের প্রতি প্রেমের বিষয়টি অবহেলা কর৷ কিন্তু প্রথম বিষয়গুলির সঙ্গে সঙ্গে শেষেরগুলিও তোমাদের জীবনে পালন করা কর্তব্য৷
43 ধিক্ ফরীশীরা! তোমরা সমাজ-গৃহে সম্মানিত আসন আর হাটে বাজারে সকলের সশ্রদ্ধ অভিবাদন পেতে কত না ভালবাস৷
44 ধিক্ তোমাদের! তোমরা মাঠের মাঝে মিশে থাকা কবরের মতো, লোকেরা না জেনে যার ওপর দিয়ে হেঁটে যায়৷

লুক 11:37-44

52 ‘ধিক্ ব্যবস্থার শিক্ষকরা কারণ তোমরা জ্ঞানের চাবিটি ধরে আছ৷ তোমরা নিজেরাও প্রবেশ করনি আর যাঁরা প্রবেশ করার চেষ্টা করছে তাদেরও বাধা

দিচ্ছ৷’লুক 11:52

 (‘ফরীশীরা’ স্বামী বা পন্ডিতদের অনুরূপ, যিহূদি শিক্ষক ছিলেন I যীশু ঈশ্বরকে ‘দশমাংশ’ দেওয়ার উল্লেখ করেছেন I এটি ছিল ধর্মীয় ভিক্ষা দান)     

একটি মৃত শরীর স্পর্শ করা যিহূদি ব্যবস্থায় অশুদ্ধতা ছিল I যীশু যখন বললেন তারা ‘চিহ্নবিহীন কবরের’ দিয়ে হেঁটে গেছে তিনি বুঝিয়েছিলেন যে তারা এমনকি এটি না জেনেও অশুচি ছিল কারণ তারা অভ্যন্তরীণ পরিচ্ছনতাকে উপেক্ষা করছিল I অভ্যন্তরীণ শুদ্ধতাকে উপেক্ষা করা আমাদেরকে একটি মৃত দেহ স্পর্শ করার মতন অশুদ্ধ করে I      

ধর্মীয়ভাবে শুদ্ধ ব্যক্তিকে হৃদয় অপবিত্র করে      

নিম্নলিখিত শিক্ষায়, যীশু ভাববাদী যিশাইয় থেকে উদ্ধৃত করলেন যিনি 750 খ্রীষ্টাব্দে বাস করতেন I

https://en.satyavedapusthakan.net/wp-content/uploads/sites/3/2017/10/isaiah-sign-of-the-branch-timeline--1024x576.jpg

ঐতিহাসিক কালপঞ্জির মধ্যে ঋষি যিশাইয় এবং অন্যান্য হিব্রু ঋষিগণ  (ভাববাদীরা)

রুশালেম থেকে কয়েকজন ফরীশী ও ব্যবস্থার শিক্ষক যীশুর সঙ্গে দেখা করতে এলেন৷ তাঁরা যীশুকে বললেন,
2 ‘আমাদের পিতৃপুরুষরা য়ে নিয়ম আমাদের দিয়েছেন, আপনার অনুগামীরা কেন তা মেনে চলে না? খাওয়ার আগে তারা ঠিকমতো হাত ধোয় না!’
3 এর উত্তরে যীশু তাঁদের বললেন, ‘তোমাদের পরম্পরাগত আচার পালনের জন্য তোমরাই বা কেন ঈশ্বরের আদেশ অমান্য করো?
4 কারণ ঈশ্বর বলেছেন, ‘তোমরা বাবা-মাকে সম্মান করো৷’আর ‘য়ে কেউ তার বাবা-মার নিন্দা করবে তার মৃত্যুদণ্ড হবে৷’
5 কিন্তু তোমরা বলে থাকো, কেউ যদি তার বাবা কিংবা মাকে বলে, ‘আমি তোমাদের কিছুই সাহায্য করতে পারব না, কারণ তোমাদের দেবার মত যা কিছু সব আমি ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে দানস্বরূপ উত্‌সর্গ করেছি,’
6 তবে বাবা মায়ের প্রতি তার কর্তব্য কিছু থাকে না৷ তাই তোমাদের পরম্পরাগত রীতির দ্বারা তোমরা ঈশ্বরের আদেশ মূল্যহীন করেছ৷
7 তোমরা হলে ভণ্ড! ভাববাদী যিশাইয় তোমাদের বিষয়ে ঠিকই ভাববাণী করেছেন:
8 ‘এই লোকগুলো মুখেই আমায় সম্মান করে, কিন্তু তাদের অন্তর আমার থেকে অনেক দূরে থাকে৷
9 এরা আমার য়ে উপাসনা করে তা মিথ্যা, কারণ এরা য়ে শিক্ষা দেয় তা মানুষের তৈরী কতকগুলি নিয়ম মাত্র৷'”
10 এরপর যীশু লোকদের তাঁর কাছে ডেকে বললেন, ‘আমি যা বলি তা শোন ও তা বুঝে দেখ৷
11 মানুষ যা খায় তা মানুষকে অশুচি করে না৷ কিন্তু মুখের ভেতর থেকে যা বের হয়ে আসে, তাইমানুষকে অশুচি করে৷’
12 তখন যীশুর শিষ্যরা তাঁর কাছে এসে বললেন, ‘আপনি কি জানেন ফরীশীরা আপনার এই কথা শুনে অপমান বোধ করছেন?’
13 এর উত্তরে যীশু বললেন, ‘য়ে চারাগুলি আমার স্বর্গের পিতা লাগাননি, সেগুলি উপড়ে ফেলা হবে৷
14 তাই ওদের কথা বাদ দাও৷ ওরা নিজেরা অন্ধ, ওরা আবার অন্য অন্ধদের পথ দেখাচ্ছে৷ দেখ, অন্ধ যদি অন্ধকে পথ দেখাতে যায়, তবে দুজনেইগর্তে পড়বে৷’
15 তখন পিতর যীশুকে বললেন, ‘আপনি যা বললেন, তার অর্থ আমাদের বুঝিয়ে দিন৷’
16 যীশু বললেন, ‘তোমরাও কি এখনও বুঝতে পারছ না?
17 তোমরা কি বোঝ না য়ে, যা কিছু মুখের মধ্যে যায় তা উদরে গিয়ে পৌঁছায় ও পরে তা বেরিয়ে পায়খানায় পড়ে৷
18 কিন্তুমুখেরমধ্য থেকে যা বের হয় তা মানুষের অন্তর থেকেই বের হয় আর তাই মানুষকে অশুচি করে তোলে৷
19 আমি একথা বলছি কারণ মানুষের অন্তর থেকেইসমস্ত মন্দচিন্তা, নরহত্যা, ব্যভিচার, য়ৌনপাপ, চুরি, মিথ্যা সাক্ষ্য ও নিন্দা বার হয়৷
20 এসবইমানুষকে অশুচি করে, কিন্তু হাত না ধুয়ে খেলে মানুষ অশুচি হয়

না৷’মথি 15:1-20

আমাদের হৃদয় থেকে যা বেরিয়ে আসে তা আমাদের অশুদ্ধ করে I গৌতম ধর্মসূত্রে তালিকাভুক্ত শুদ্ধ চিন্তার তালিকার প্রায় ঠিক বিপরীত যীশুর অশুদ্ধ চিন্তার তালিকা I এইভাবে তারা একই শিক্ষা দেয় I

23 ‘ধিক্ ব্যবস্থার শিক্ষক ও ফরীশীর দল, তোমরা ভণ্ড! তোমরা পুদিনা, মৌরী ও জিরার দশভাগের একভাগ ঈশ্বরকে দিয়ে থাক অথচ ন্যায়, দযা ও বিশ্বস্ততা, ব্যবস্থার এই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা অবহেলা করে থাক৷ আগের ঐ বিষয়গুলি পালন করার সঙ্গে সঙ্গে পরের এই বিষয়গুলি পালন করাও তোমাদের উচিত৷
24 তোমরা অন্ধ পথপ্রদর্শক, তোমরা মশা ছেঁকে ফেল, কিন্তু উট গিলে থাক৷
25 ‘ধিক্ ব্যবস্থার শিক্ষক ও ফরীশীর দল, তোমরা ভণ্ড! তোমরা থালা বাটির বাইরেটা পরিষ্কার করে থাক, কিন্তু ভেতরটা থাকে লোভ ও আত্মতোষণে ভরা৷
26 অন্ধ ফরীশী! প্রথমে তোমাদের পেয়ালার ভেতরটা পরিষ্কার কর, তাহলে গোটা পেয়ালার ভেতরে ও বাইরে উভয় দিকই পরিষ্কার হবে৷
27 ‘ধিক্ ব্যবস্থার শিক্ষক ও ফরীশীর দল, তোমরা ভণ্ড! তোমরা চুনকাম করা কবরের মতো, যার বাইরেটা দেখতে খুব সুন্দর, কিন্তু ভেতরে মরা মানুষের হাড়গোড় ও সব রকমের পচা জিনিস রয়েছে৷
28 তোমরা ঠিক সেইরকম, বাইরের লোকদের চোখে ধার্মিক, কিন্তু ভেতরে ভণ্ডামী ও দুষ্টতায়  

পূর্ণ৷মথি 23:23-28

যে কোনো পেয়ালায় আপনি পান করুন, আপনি চাইবেন ভেতরটা পরিষ্কার হোক, কেবল বাইরেটা নয় I এই দৃষ্টান্তটির মধ্যে আমরা হলাম পেয়ালা I ঈশ্বরও চান আমরা ভেতর থেকে পরিষ্কার হই, কেবল বাইরেটা নয় I  

আমরা সবাই যা দেখেছি যীশু তা উল্লেখ করছেন I ধর্মীয়দের মধ্যে বাহ্যিক পরিচ্ছনতা অনুসরণ করা একেবারে সাধারণ বিষয় হতে পারে, তবে অনেকে এখনও অভ্যন্তরে লোভ এবং প্রবৃত্তিতে পরিপূর্ণ – এমনকি তারাও যারা ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ I অভ্যন্তরীণ শুদ্ধতা অর্জন করা প্রয়োজন – তবে এটি অনেক কঠিন I    

যীশু গৌতম ধর্মসূত্রের মতই অনেক কিছু শিক্ষা দিলেন, যা আটটি অভ্যন্তরীণ সংস্কারের তালিকা তৈরি করার ঠিক পরে বলে: 

একজন লোক যে চল্লিশ সংস্কার সমূহ পালন করেছে কিন্তু এই আট গুণগুলোর অভাব আছে সে ব্রহ্মার সাথে একাত্মতা অর্জন করে না I

একজন লোক যে চল্লিশ সংস্কার সমূহের মধ্যে কেবল কিছু পালন করেছে  কিন্তু এই আট গুণগুলোর অধিকারী, অন্য দিকে, সে ব্রহ্মার সাথে একাত্মতা অর্জন করতে নিশ্চিত হয় I

গৌতম ধর্ম-সুত্র 8:24-25

অতএব সমস্যাটি উত্থিত হয়েছে I কিভাবে আমরা আমাদের হৃদয়কে শুদ্ধ করি যাতে আমরা ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করতে পারি – ব্রহ্মার সাথে একাত্মতা? দ্বিজা সম্পর্কে শিখতে আমরা সুসমাচারের মধ্যে দিয়ে চলতে যাচ্ছি I   

স্বর্গলোক: অনেককে আমন্ত্রণ জানানো হয় তবে….

যীশু, যেশু সৎসংগ, দেখালেন কিভাবে স্বর্গের নাগরিকদের একে অপরের সঙ্গে আচরণ করতে হয় I এছাড়াও তিনি লোকেদের অসুস্থতা এবং মন্দ আত্মা থেকে সুস্থ করার দ্বারা ‘স্বর্গ রাজ্যের’ এক পূর্বস্বাদ দিলেন I তাঁর রাজ্যের প্রকৃতিকে দেখাতে বাক্যের দ্বারা এই প্রকৃতিকে তিনি আজ্ঞা দিলেন I     

এই রাজ্যকে সনাক্ত করতে আমরা বিভিন্ন পরিভাষা ব্যবহার করি I সম্ভবত খুব সাধারনভাবে স্বর্গ বা স্বর্গালোক I অন্যান্য পরিভাষাগুলো হ’ল বৈকুন্ঠ, দেবলোক   , ব্রহ্মলোক, সত্যলোক, কৈলাশ, ব্রহ্মপুর, সত্যবাগিচা, বৈকুন্ঠলোক, বিষ্ণুলোক, পরমাম পদম, নিত্য বিভূতি, তিরুপ্পারামাপাধাম বা বৈকুন্ঠ সাগর I নানান  ঐতিহ্যগুলো বিভিন্ন পরিভাষা ব্যবহার করে, বিভিন্ন দেবতাদের সঙ্গে সম্পর্কের উপরে জোর দিয়ে, তবে এই পার্থক্যগুলো মৌলিক নয় I তবে মূল কথাটি হল স্বর্গ একটি সুখী এবং শান্ত জায়গা যা এখানে জীবনের সাধারণ কষ্টভোগ এবং অজ্ঞতা থেকে মুক্ত রয়েছে, এবং যেখানে ঈশ্বরের সাথে একটি সম্পর্ককে উপলব্ধি করা হয় I বাইবেল স্বর্গের এই মৌলিক বিষয়গুলোকে এইভাবে সংক্ষিপ্তসার   করে I

4 তিনি তাদের চোখের সব জল মুছিয়ে দেবেন৷ মৃত্যু, শোক, কান্না যন্ত্রণা আর থাকবে না, কারণ পুরানো বিষয়গুলি বিলুপ্ত

হল৷প্রকাশিত বাক্য 21:4

যীশু নিজেও স্বর্গের জন্য বিভিন্ন পরিভাষাকে ব্যবহার করেছেন I তিনি প্রায়শই স্বর্গকে ‘রাজ্যের’ সাথে সূচনা করেছেন (‘লোকের’ চেয়ে ‘রাজের’ কাছাকাছি)I এছাড়াও তিনি স্বর্গরাজ্যের সমার্থক শব্দে ‘স্বর্গ’ এবং ‘ঈশ্বরের রাজ্য’ ব্যবহার করেছিলেন I তবে অধিক গুরুত্ত্বপূর্ণরূপে, এছাড়াও স্বর্গের সম্বন্ধে আমাদের উপলব্ধি বাড়াতে তিনি সাধারণ, দৈনন্দিন গল্পগুলো ব্যবহার করতেন I স্বর্গকে ব্যাখ্যা করার জন্য তিনি মহা ভোজ বা পার্টির এক অনন্য দৃষ্টান্তকে ব্যবহার করেছিলেন I তার গল্পের মধ্যে সুপরিচিত বাক্যাংশ “অতিথি ঈশ্বর”(অতিথি দেব ভব) থেকে ‘আমরা ঈশ্বরের অতিথি’ বলে তিনি সংশোধন করেছেন I   

স্বর্গের মহা ভোজের গল্প

স্বর্গে প্রবেশের আমন্ত্রণটি কতটা প্রশস্ত এবং কতদূর প্রশস্ত করে তা বোঝানোর জন্য যীশু এক মহা ভোজের (এক ভোজ উৎসব) শিক্ষা দিয়েছিলেন I তবে গল্পটি আমাদের অপেক্ষা অনুসারে এগোয় না I সুসমাচার বর্ণনা করে:

15 যাঁরা খেতে বসেছিল তাদের মধ্যে একজন এই কথা শুনে যীশুকে বলল, ‘ঈশ্বরের রাজ্যে যাঁরা খেতে বসবে তারা সকলে ধন্য৷’
16 তখন যীশু তাকে বললেন, ‘একজন লোক এক বিরাট ভোজের আযোজন করেছিল আর সে অনেক লোককে নিমন্ত্রণ করেছিল৷
17 ভোজ খাওযার সময় হলে সে তার দাসকে দিয়ে নিমন্ত্রিত লোকদের বলে পাঠাল, ‘তোমরা এস! কারণ এখন সবকিছু প্রস্তুত হয়েছে!
18 তারা সকলেই নানা অজুহাত দেখাতে শুরু করল৷ প্রথম জন তাকে বলল, ‘আমায় মাপ কর, কারণ আমি একটা ক্ষেত কিনেছি, তা এখন আমায় দেখতে য়েতে হবে৷’
19 আর একজন বলল, ‘আমি পাঁচ জোড়া বলদ কিনেছি, এখন সেগুলি একটু পরখ করে নিতে চাই, তাই আমি য়েতে পারব না আমায় মাপ কর৷’
20 এরপর আর একজন বলল, ‘আমি সবে মাত্র বিয়ে করেছি, সেই কারণে আমি আসতে পারব না৷’
21 সেই দাস ফিরে গিয়ে তার মনিবকে একথা জানালে, তার মনিব রেগে গিয়ে তার দাসকে বলল, ‘যাও, শহরের পথে পথে, অলিতে গলিতে গিয়ে গরীব, খোঁড়া, পঙ্গু ও অন্ধদের ডেকে নিয়ে এস৷’
22 এরপর সেই দাস মনিবকে বলল, ‘প্রভু, আপনি যা যা বলেছেন তা করেছি, তা সত্ত্বেও এখনও অনেক জায়গা আছে৷
23 তখন মনিব সেই দাসকে বলল, ‘এবার তুমি গ্রামের পথে পথে, বেড়ার ধারে ধারে যাও, যাকে পাও তাকেই এখানে আসবার জন্য জোর কর, য়েন আমার বাড়ি ভরে যায়৷
24 আমি তোমাদের বলছি, যাদের প্রথমে নিমন্ত্রণ করা হয়েছিল, তাদের কেউই আমার এই ভোজের স্বাদ পাবে না!”

লুক 14:15-24

আমাদের স্বীকৃত উপলব্ধি সমূহ উল্টোপাল্টা হয়ে যায় – অনেক সময় – এই গল্পের মধ্যে I প্রথমত, আমরা ধরে নিতে পারি, যে ঈশ্বর লোকেদের স্বর্গে  (ভোজ) আমন্ত্রণ করেন না কেননা তিনি কেবল যোগ্য লোকদের আমন্ত্রণ করেন, কিন্ত সেটি ভুল I ভোজে আসার আমন্ত্রণ অনেক, অনেক লোকেদের কাছে যায় I প্রভু (ঈশ্বর) চান ভোজসভা পরিপূর্ণ হোক I

তবে সেখানে একট আশাতীত মোচড় আছে I আমন্ত্রিত অতিথি সমূহের মধ্যে অনেক কম আসতে চায় I পরিবর্তে তারা অজুহাত দেয় যাতে তাদের না আসতে হয়! আর চিন্তা করুন অজুহাতগুলো কতটা অযৌক্তিক I বলদ কেনার আগে প্রথমে তাদের চেষ্টা না করে কে তাদের কিনবে? ক্ষেত্রটি প্রথমে আগে থেকে না দেখে কে কিনবে? না, এই অজুহাতগুলো আমন্ত্রিত অতিথিদের হৃদয়ের প্রকৃত উদ্দেশ্যগুলো প্রকাশ করে – তারা স্বর্গের জন্য উৎসহিত ছিল না, পরিবর্তে অন্য উদ্দেশ্য ছিল I    

ঠিক যখন আমরা ভাবি যে হয়ত প্রভু ভোজে এত কম আসার জন্য হতাশ হবেন সেখানে আর একটি মোচড় I এখন ‘অসম্ভব’ লোকেরা যাদের আমরা নিজস্ব উৎসবে আমন্ত্রণ জানাই না, যারা “রাস্তা এবং গলি” এবং দূরবর্তী ‘রাস্তা এবং পল্লীর গলিতে’ বাস করে, যারা “দরিদ্র, পঙ্গু, অন্ধ এবং খঞ্জ” – যাদের থেকে আমরা প্রায়শই দুরে থাকি – তারা ভোজে আমন্ত্রণ পায় I এই ভোজের আমন্ত্রণ আরও দুরে যায়, এবং আপনার আমার কল্পনার বাইরে আরও অধিক লোকেদের আবৃত করে I প্রভু তাঁর ভোজে লোকেদের চান এবং তাদের আমন্ত্রণ জানান যাদেরকে আমরা আমাদের নিজস্ব গৃহে আমন্ত্রণ জানাই না I       

আর এই লোকেরা এলো! ভোজে আসার জন্য তাদের প্রেম থেকে বিপথগামী করতে ক্ষেত্র বা বলদের মতন তাদের কাছে আর কোনো প্রতিযোগিতামূলক আগ্রহ নেই I স্বর্গ পরিপূর্ণ আর প্রভুর ইচ্ছা সম্পন্ন হয়!

আমাদেরকে একটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে যীশু এই গল্পটি বললেন: “আমি যদি স্বর্গের কাছে একটি আমন্ত্রণ পেয়ে থাকি তবে আমি কি তা গ্রহণ করব? বা একটি প্রতিযোগিতামূলক আগ্রহ বা ভালবাসা আপনাকে কোন অজুহাত তৈরী করতে এবং আমন্ত্রণটি প্রত্যাখ্যান করতে বাধ্য করবে I সত্য হ’ল যে স্বর্গে এই ভোজে আপনি আমন্ত্রিত, তবে বাস্তবতা হ’ল যে আমাদের মধ্যে অধিকাংশ একটি বা অন্য কারণের জন্য আমন্ত্রণকে অস্বীকার করবে I আমরা সরাসরিভাবে ‘না’ কখনই বলব না তাই আমাদের প্রত্যাখ্যানকে লুকোতে আমরা অজুহাত  দেব I গভীরভাবে আমাদের ভিতর আরও কিছু ‘প্রেম’ রয়েছে যা আমাদের প্রত্যাখ্যানের মূল I এই গল্পের মধ্যে প্রত্যাখ্যানের মূল হ’ল অন্য জিনিস সমূহের প্রতি প্রেম I প্রথমে আমন্ত্রিত ব্যক্তিরা স্বর্গ এবং ঈশ্বরের চেয়ে এই জগতের অস্থায়ী জিনিসগুলোকে অধিক প্রেম করেছিল I (‘ক্ষেত’, ‘বলদ’ এবং ‘বিবাহের’ দ্বারা উপস্থাপিত)I     

অন্যায্য আচার্যের গল্প

আমাদের মধ্যে কতিপয় স্বর্গের চেয়ে বেশি এই জগতের জিনিসগুলোর প্রতি প্রেম করি আর তাই আমরা এই আমন্ত্রণকে প্রত্যাখ্যান করব I আমাদের মধ্যে অন্যরা আমাদের নিজস্ব যোগ্যতাকে প্রেম বা বিশ্বাস করি I যীশু এছাড়াও একজন শ্রদ্ধেয় নেতাকে একটি উদাহরণস্বরূপ ব্যবহার করে এই সম্বন্ধে আর একটি গল্পে শিক্ষা দিয়েছিলেন:

9 যাঁরা নিজেদেরকে ধার্মিক মনে করত আর অন্যকে তুচ্ছ করত, তাদের উদ্দেশ্যে তিনি এই দৃষ্টান্তটি দিলেন,
10 ‘দুজন লোক মন্দিরে প্রার্থনা করার জন্য গেল; তাদের মধ্যে একজন ফরীশী আর অন্য জন কর-আদায়কারী৷
11 ফরীশী দাঁড়িয়ে নিজের সম্বন্ধে এইভাবে প্রার্থনা করতে লাগল, ‘য়ে ঈশ্বর, আমি তোমায় ধন্যবাদ দিচ্ছি য়ে আমি অন্য সব লোকদের মতো নই; দস্য়ু, প্রতারক, ব্যভিচারী অথবা এই কর-আদায়কারীর মতো নই৷
12 আমি সপ্তাহে দুদিন উপোস করি, আর আমার আয়ের দশ ভাগের একভাগ দান করি৷’
13 ‘কিন্তু সেই কর-আদায়কারী দাঁড়িয়ে স্বর্গের দিকে মুখ তুলে তাকাতেও সাহস করল না, বরং সে বুক চাপড়াতে চাপড়াতে বলল, ‘হে ঈশ্বর, আমি পাপী! আমার প্রতি দযা কর!’
14 আমি তোমাদের বলছি, এই কর-আদায়কারী ধার্মিক প্রতিপন্ন হয়ে বাড়ি চলে গেল কিন্তু ঐ ফরীশী নয়৷ য়ে কেউ নিজেকে বড় করে তাকে ছোট করা হবে; আর য়ে নিজেকে ছোট করে তাকে বড় করা

হবে৷’লুক 18:9-14

এখানে একজন ফারিশীকে (আচার্যের মতন একজন ধর্মীয় নেতা) তার ধর্মীয় প্রচেষ্টা এবং যোগ্যতায় তাকে একজন খাঁটি বলে মনে হত I তার উপবাস এবং পূজা সমূহ খাঁটি ছিল এবং এমনকি প্রয়োজনের তুলনায় অধিক ছিল I তবে এই আচার্য তার নিজস্ব যোগ্যতার উপরে আস্থা রেখেছিল I এটি তা ছিল না যা আব্রাহাম বহু পূর্বে দেখিয়েছিলেন যখন তিনি শুধুমাত্র ঈশ্বরের উপরে বিনীত  বিশ্বাসের দ্বারা ধার্মিকতা পেয়েছিলেন I আসলে, একজন কর সংগ্রহকারী (সেই সংস্কৃতিতে একটি অনৈতিক পেশা) বিনীতভাবে করুণা যাচনা করলেন এবং বিশ্বাস করলেন যে তাকে করুণা দেওয়া হয়েছে ‘ন্যায়সঙ্গত’ হয়ে তিনি বাড়ি গেলেন – ঈশ্বরের সাথে সঠিক – অথচ ফারিশী (আচার্য) যাকে আমরা ধরে নিই যে তিনি পর্যাপ্ত যোগ্যতা অর্জন করেছেন অথচ তার বিরুদ্ধে তখনও তার পাপ সমূহ গণনা করা হ’ল I      

অতএব যীশু আপনাকে এবং আমাকে জিজ্ঞাসা করছেন আমরা কি সত্যই স্বর্গরাজ্যের ইচ্ছা করি নাকি অন্যান্য অনেক আগ্রহ সমূহের মধ্যে এটি কেবলমাত্র   একটি আগ্রহ I এছাড়াও তিনি আমাদের জিজ্ঞাসা করছেন কার উপরে আমরা বিশ্বাস করছি – আমাদের যোগ্যতা নাকি ঈশ্বরের করুণা এবং প্রেম I

আমাদের নিজেদেরকে এই প্রশ্নগুলো সৎভাবে জিজ্ঞাসা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেননা অন্যথায় আমরা তাঁর পরবর্তী শিক্ষাকে বুঝতে পারব না – যে আমাদের অভ্যন্তরীণ শুদ্ধতা প্রয়োজন

দেহের মধ্যে ওম – শক্তির বাক্যের দ্বারা দেখা যায়

চূড়ান্ত বাস্তবতা (ব্রহ্মা) বোঝার জন্য পবিত্র চিত্র বা স্থান সমূহের অপেক্ষা শব্দ একটি সম্পূর্ণ মাধ্যম I শব্দ মূলত তরঙ্গ দ্বারা প্রেরিত তথ্য I শব্দ দ্বারা বাহিত তথ্য সুন্দর সঙ্গীত, এক গুচ্ছ নির্দেশাবলী, বা কারোর পাঠানো যে কোনো শুভেচ্ছা বার্তা হতে পারে I    

ওমের প্রতীক I প্রণবের মধ্যে লক্ষ্য করুন তিনটি অংশ এবং সংখ্যা তিন

কিছু স্বর্গীয় বা স্বর্গীয় অংশকে প্রতিফলিত করে, যখন কেউ শব্দ সহ কোনো বার্তা উচ্চারণ করে I এটি পবিত্র শব্দ এবং প্রতীক ওম (অউম) এর মধ্যে ধরা পড়ে, যাকে প্রণব রূপে উল্লেখ করা হয় I ওম (অউম) উভয়ই একটি পবিত্র মন্ত্র এবং ত্রি-অংশ প্রতীক I ওমের অর্থ এবং সংজ্ঞা বিভিন্ন ঐতিহ্যের মধ্যে বিবিধ চিন্তাধারার মধ্যে পরিবর্তিত হয় I ত্রি-অংশ প্রণব চিহ্নটি ভারতবর্ষ জুড়ে প্রাচীন পান্ডুলিপি, মন্দির, মঠ এবং আধ্যাত্মিক নির্জন আশ্রয়গুলোর মধ্যে প্রচলিত I প্রণব মন্ত্র হ’ল চূড়ান্ত বাস্তবতা (ব্রহ্মা) কে ভালোভাবে বোঝা I  ওম আকসারা বা একাক্সারার সমতুল্য – এক অবিনশ্বর বাস্তবতা I

সে ক্ষেত্রে এটি তাত্পর্য যে বেদ পুস্তকন (বাইবেল) ত্রি-অংশ প্রতিনিধির কথার মাধ্যমে সৃষ্টির ঘটাকে লিপিবদ্ধ করেছে I ঈশ্বর ‘কথা বললেন’ (সংস্কৃত व्याहृति (ব্যাহৃতি)  এবং সেখানে তরঙ্গ হিসাবে সকল লোকার মাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের একটি সম্প্রচার ছিল যা আজ ব্রাহ্যতন্ত্রের জটিল মহাবিশ্বে ভর ও শক্তির ক্রম ঘটাচ্ছে I এটি ঘটল কারণ ‘ঈশ্বরের আত্মা’ বিষয়টির উপরে ঘোরাফেরা এবং কম্পন করছিল I কম্পন উভয়ই শক্তির একটি রূপ এবং শব্দের সংশ্লেষকে গঠন করে I হিব্রু বেদ বর্ণনা করে কিভাবে ত্রয়ী: ঈশ্বর, ঈশ্বরের বাক্য, এবং  ঈশ্বরের আত্মা তাঁর বাণী (ব্যাহৃতি) প্রচার করেছেন, যার ফলে আমরা এখন মহাবিশ্বকে লক্ষ্য করি I এখানে নথিটি রয়েছে I      

হিব্রু বেদ: ত্রয়ী সৃষ্টিকর্তা সৃষ্টি করেন

রুতে, ঈশ্বর আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করলেন| প্রথমে পৃথিবী সম্পূর্ণ শূন্য ছিল; পৃথিবীতে কিছুই ছিল না|
2 অন্ধকারে আবৃত ছিল জলরাশি আর ঈশ্বরের আত্মা সেই জলরাশির উপর দিয়ে ভেসে বেড়াচ্ছিল|
3 তারপর ঈশ্বর বললেন, “আলো ফুটুক!” তখনই আলো ফুটতে শুরু করল|
4 আলো দেখে ঈশ্বর বুঝলেন, আলো ভাল| তখন ঈশ্বর অন্ধকার থেকে আলোকে পৃথক করলেন|
5 ঈশ্বর আলোর নাম দিলেন, “দিন” এবং অন্ধকারের নাম দিলেন “রাত্রি|”সন্ধ্যা হল এবং সেখানে সকাল হল| এই হল প্রথম দিন|
6 তারপর ঈশ্বর বললেন, “জলকে দুভাগ করবার জন্য আকাশমণ্ডলের ব্যবস্থা হোক|”
7 তাই ঈশ্বর আকাশমণ্ডলের সৃষ্টি করে জলকে পৃথক করলেন| এক ভাগ জল আকাশমণ্ডলের উপরে আর অন্য ভাগ জল আকাশমণ্ডলের নীচে থাকল|
8 ঈশ্বর আকাশমণ্ডলের নাম দিলেন “আকাশ|” সন্ধ্যা হল আর তারপর সকাল হল| এটা হল দ্বিতীয় দিন|
9 তারপর ঈশ্বর বললেন, “আকাশের নীচের জল এক জায়গায় জমা হোক যাতে শুকনো ডাঙা দেখা যায়|” এবং তা-ই হল|
10 ঈশ্বর শুকনো জমির নাম দিলেন, “পৃথিবী” এবং এক জায়গায় জমা জলের নাম দিলেন, “মহাসাগর|” ঈশ্বর দেখলেন ব্যবস্থাটা ভাল হয়েছে|
11 তখন ঈশ্বর বললেন, “পৃথিবীতে ঘাস হোক, শস্যদায়ী গাছ ও ফলের গাছপালা হোক| ফলের গাছগুলিতে ফল আর ফলের ভেতরে বীজ হোক| প্রত্যেক উদ্ভিদ আপন আপন জাতের বীজ সৃষ্টি করুক| এইসব গাছপালা পৃথিবীতে বেড়ে উঠুক|” আর তাই-ই হল|
12 পৃথিবীতে ঘাস আর শস্যদায়ী উদ্ভিদ উত্পন্ন হল| আবার ফলদাযী গাছপালাও হল, ফলের ভেতরে বীজ হল| প্রত্যেক উদ্ভিদ আপন আপন জাতের বীজ সৃষ্টি করল এবং ঈশ্বর দেখলেন ব্যবস্থাটা ভাল হয়েছে|
13 সন্ধ্যা হল এবং সকাল হল| এভাবে হল তৃতীয় দিন|
14 তারপর ঈশ্বর বললেন, “আকাশে আলো ফুটুক| এই আলো দিন থেকে রাত্রিকে পৃথক করবে| এই আলোগুলি বিশেষ সভাশুরু করার বিশেষ বিশেষ সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত হবে| আর দিন ও বছর বোঝাবার জন্য এই আলোগুলি ব্যবহৃত হবে|
15 পৃথিবীতে আলো দেওয়ার জন্য এই আলোগুলি আকাশে থাকবে|” এবং তা-ই হল|
16 তখন ঈশ্বর দুটি মহাজ্যোতি বানালেন| ঈশ্বর বড়টি বানালেন দিনের বেলা রাজত্ব করার জন্য আর ছোটটি বানালেন রাত্রিবেলা রাজত্ব করার জন্য| ঈশ্বর তারকারাজিও সৃষ্টি করলেন|
17 পৃথিবীকে আলো দেওয়ার জন্য ঈশ্বর এই আলোগুলিকে আকাশে স্থাপন করলেন|
18 দিন ও রাত্রিকে কর্তৃত্ত্ব দেবার জন্য ঈশ্বর এই আলোগুলিকে আকাশে সাজালেন| এই আলোগুলি আলো আর অন্ধকারকে পৃথক করে দিল এবং ঈশ্বর দেখলেন ব্যবস্থাটা ভাল হয়েছে|
19 সন্ধ্যা হল এবং সকাল হল| এভাবে চতুর্থ দিন হল|
20 তারপর ঈশ্বর বললেন, “বহু প্রকার জীবন্ত প্রাণীতে জল পূর্ণ হোক আর পৃথিবীর ওপরে আকাশে ওড়বার জন্য বহু পাখী হোক|”
21 সুতরাং ঈশ্বর বড় বড় জলজন্তু এবং জলে বিচরণ করবে এমন সমস্ত প্রাণী সৃষ্টি করলেন| অনেক প্রকার সামুদ্রিক জীব রয়েছে এবং সে সবই ঈশ্বরের সৃষ্টি| যত রকম পাখী আকাশে ওড়ে সেইসবও ঈশ্বর বানালেন| এবং ঈশ্বর দেখলেন ব্যবস্থাটি ভাল হয়েছে|
22 ঈশ্বর এই সমস্ত প্রাণীদের আশীর্বাদ করলেন| ঈশ্বর সামুদ্রিক প্রাণীদের সংখ্যাবৃদ্ধি করে সমুদ্র ভরিয়ে তুলতে বললেন| ঈশ্বর পৃথিবীতে পাখীদের সংখ্যাবৃদ্ধি করতে বললেন|
23 সন্ধ্যা হয়ে গেল এবং তারপর সকাল হল| এভাবে পঞ্চম দিন কেটে গেল|
24 তারপর ঈশ্বর বললেন, “নানারকম প্রাণী পৃথিবীতে উত্পন্ন হোক| নানারকম বড় আকারের জন্তু জানোয়ার আর বুকে হেঁটে চলার নানারকম ছোট প্রাণী হোক এবং প্রচুর সংখ্যায় তাদের সংখ্যাবৃদ্ধি হোক|” তখন য়েমন তিনি বললেন সব কিছু সম্পন্ন হল|
25 সুতরাং ঈশ্বর সব রকম জন্তু জানোয়ার তেমনভাবে তৈরী করলেন| বন্য জন্তু, পোষ্য জন্তু আর বুকে হাঁটার সবরকমের ছোট ছোট প্রাণী ঈশ্বর বানালেন এবং ঈশ্বর দেখলেন প্রতিটি জিনিসই বেশ ভালো হয়েছে|

আদিপুস্তক 1:1-25

হিব্রু বেদ তারপরে বিবরণ দেয় যে ঈশ্বর ‘ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে’ মানবজাতিকে সৃষ্টি করলেন যাতে আমরা সৃষ্টিকর্তাকে প্রতিফলিত করতে পারি I তবে আমাদের প্রতিফলন সীমিত যাতে আমরা প্রকৃতিকে শুধুমাত্র এর সঙ্গে কথা বলে আজ্ঞা দিতে পারিনা I তবে যীশু এটি করেছিলেন I আমরা দেখি সুসমাচারগুলো কিভাবে এই ঘটনাগুলোকে লিপিবদ্ধ করে I 

যীশু প্রকৃতির সঙ্গে কথা বলেন

যীশুর কাছে ‘বাক্যের’ দ্বারা শিক্ষা দেওয়ার এবং সুস্থ করার কর্ত্তৃত্ব ছিল I সুসমাচার লিপিবদ্ধ করে কিভাবে তিনি এইরকম শক্তির প্রদর্শন করলেন যে তাঁর শিষ্যরা ‘ভয় এবং বিস্ময়ে’ পরিপূর্ণ হয়ে গেল I 

22 সেই সময় একদিন যীশু তাঁর শিষ্যদের সঙ্গে নিয়ে একটি নৌকায় উঠলেন৷ তিনি তাঁদের বললেন, ‘চল, আমরা হ্রদের ওপারে যাই৷’ তাঁরা রওনা দিলেন৷
23 নৌকা চলতে থাকলে যীশু নৌকার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়লেন৷হ্রদের মধ্যে হঠাত্ ঝড় উঠল আর তাঁদের নৌকাটি জলে ভর্তি হয়ে য়েতে লাগল, এতে তাঁরা খুবই বিপদে পড়লেন৷
24 তখন শিষ্যরা যীশুর কাছে এসে তাঁকে জাগিয়ে তুলে বললেন, ‘গুরু! গুরু! আমরা য়ে সত্যিই ডুবতে বসেছি৷তখন যীশু উঠে ঝোড়ো বাতাস ও তুফানকে ধমক দিলেন৷ সঙ্গে সঙ্গে ঝড় ও তুফান থেমে গেল, আর সব কিছু শান্ত হোল৷
25 তখন যীশু তাঁর অনুগামীদের বললেন, ‘তোমাদের বিশ্বাস কোথায়?’কিন্তু তাঁরা ভয় ও বিস্ময়ে বিহ্বল হয়ে গিয়েছিলেন৷ তাঁরা পরস্পর বলাবলি করতে লাগলেন, ‘ইনি কে য়ে ঝড় এবং সমুদ্রকে হুকুম করেন আর তারা তাঁর কথা শোনে!’

লুক 8:22-25

যীশুর বাক্য এমনকি বায়ু এবং ঢেউদেরকেও আজ্ঞা দিল! আশ্চর্যের কিছু নয় শিষ্যরা ভয়ে পরিপূর্ণ হ’ল I আর একটি ঘটনায় হাজার হাজার লোকেদের সাথে  তিনি অনুরূপ ক্ষমতা দেখালেন I এই সময় তিনি বায়ু এবং ঢেউকে আজ্ঞা দেন নি – বরং খাদ্যকে I   

রপর যীশু গালীল হ্রদের অপর পারে গেলেন, এই হ্রদকে তিবিরিযাও বলে৷
2 বহু লোক তাঁর পেছনে পেছনে চলতে লাগল, কারণ রোগীদের সুস্থ করতে তিনি য়ে সব অলৌকিক চিহ্ন করতেন তা তারা দেখেছিল৷
3 যীশু এবং তাঁর শিষ্যরা পাহাড়ের উপরে গিয়ে সেখানে বসলেন৷
4 সেই সময় ইহুদীদের নিস্তারপর্ব এগিয়ে আসছিল৷
5 যীশু যখন দেখলেন বহু লোক তাঁর কাছে আসছে তখন তিনি ফিলিপকে বললেন, ‘এই লোকেদের খেতে দেবার জন্য আমরা কোথায় রুটি কিনতে পাব?’
6 যীশু তাঁকে পরীক্ষা করবার জন্যই একথা বললেন, কারণ যীশু কি করবেন তা তিনি আগেই জানতেন৷
7 ফিলিপ যীশুকে বললেন, ‘প্রত্যেকের হাতে এক টুকরো করে রুটি দিতে গেলে সারা মাসের রোজগারে রুটি কিনলেও তা যথেষ্ট হবে না৷’
8 যীশুর শিষ্যদের মধ্যে আর একজন, যার নাম আন্দরিয়, ইনি শিমোন পিতরের ভাই, তিনি যীশুকে বললেন,
9 ‘এখানে একটা ছোট ছেলে আছে, যার কাছে যবের পাঁচটা রুটি আর ছোট দুটো মাছ আছে, কিন্তু এত লোকের জন্য নিশ্চয়ই সেগুলি যথেষ্ট হবে না৷’
10 যীশু বললেন, ‘লোকদের বসিয়ে দাও৷’ সেই জায়গায় অনেক ঘাস ছিল৷ তখন সব লোকেরা বসে গেল৷ সেখানে প্রায় পাঁচ হাজার পুরুষ ছিল৷
11 এরপর যীশু সেই রুটি কখানা নিয়ে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিলেন এবং যাঁরা সেখানে বসেছিল তাদের সেগুলি ভাগ করে দিলেন৷ আর তিনি মাছও ভাগ করে দিলেন৷ য়ে যত চাইল তত পেল৷
12 তারা পরিতৃপ্ত হলে, যীশু তাঁর শিষ্যদের বললেন, ‘য়ে সব টুকরো টাকরা পড়ে আছে তা জড়ো কর, য়েন কোন কিছু নষ্ট না হয়৷
13 তখন তাঁরা সে সব জড়ো করলেন, লোকেরা খাবার পরে যবের সেই পাঁচ খানা রুটির টুকরো-টাকরা যা পড়ে ছিল শিষ্যেরা তা জড়ো করলে বারো টুকরী ভর্তি হয়ে গেল৷
14 লোকেরা যীশুকে এই অলৌকিক চিহ্ন করতে দেখে বলতে লাগল, ‘জগতে য়াঁর আগমনের কথা আছে ইনি নিশ্চয়ই সেই ভাববাদী৷’
15 এতে যীশু বুঝলেন লোকেরা তাঁকে রাজা করবার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে৷ তাই তিনি তাদের ছেড়ে একাই সেই পাহাড়ে উঠে গেলেন৷

যোহন 6:1-15

যখন লোকেরা দেখল যে যীশু খাদ্যকে বহুগুণিত করতে পারেন শুধুমাত্র ধন্যবাদ প্রদানের বাক্যের দ্বারা তারা জানল যে তিনি অনন্য I তিনি ছিলেন বাগীশা (वागीशा, সংস্কৃতে প্রভুর বাণী) I তবে এর অর্থ কি ছিল? যীশু পরবর্তী সময়ে তাঁর বাক্যের শক্তি বা প্রাণকে প্রাঞ্জল করে ব্যাখ্যা করলেন   

63 আত্মাই জীবন দান করে, রক্ত মাংসের শরীর কোন উপকারে আসে না৷ আমি তোমাদের সকলকে য়ে সব কথা বলেছি তা হল আধ্যাত্মিক আর তাই জীবন দান করে৷

যোহন 6:63

এবং

57 য়েমন জীবন্ত পিতা আমাকে পাঠিয়েছেন, আর পিতার জন্য আমি জীবিত আছি, ঠিক সেরকম য়ে আমাকে খায় সে আমার দরুন জীবিত  

থাকবে৷যোহন 6:57

যীশু দাবি করছিলেন যে তিনি দেহের মধ্যে ত্রয়ী সৃষ্টিকর্তা (পিতা, বাক্য, আত্মা) রূপে মূর্ত হয়েছেন যে বিশ্বজগতকে অস্তিত্বের মধ্যে আসতে বলেছিল I তিনি মানব রূপের মধ্যে জীবিত ওম I তিনি জীবিত দেহের মধ্যে পবিত্র ত্রি-অংশের চিহ্ন I বায়ু, ঢেউ, এবং পদার্থের উপরে তাঁর শক্তিকে বলার দ্বারা তিনি প্রাণ (प्राण) বা জীবন-শক্তিকে জীবন্ত প্রণব হতে প্রদর্শন করেছিলেন I     

কি করে তা হতে পারে? এর অর্থ কি?

বুঝতে পারার জন্য হৃদয়

যীশুর শিষ্যদের এটিকে বুঝতে এক কঠিন সময় ছিল I 5000 লোকদের খাওয়াবার ঠিক অব্যবহিত পরে সুসমাচার তা লিপিবদ্ধ করে:

45 পরে তিনি তাঁর শিষ্যদের নৌকায় উঠে তাঁর আগে ওপারে বৈত্‌সৈদাতে পৌঁছাতে বললেন, সেইসময় তিনি লোকেদের বিদায় দিচ্ছিলেন৷
46 লোকেদের বিদায় করে তিনি প্রার্থনা করবার জন্য পাহাড়ে চলে গেলেন৷
47 সন্ধ্যাকালে নৌকাটিহ্রদের মাঝখানে ছিল এবং তিনি একা ডাঙ্গায় ছিলেন৷
48 তিনি দেখলেন য়ে শিষ্যরা বাতাসের বিরুদ্ধে খুব কষ্টের সঙ্গে দাঁড় টেনে চলেছেন৷ খুব ভোর বেলা প্রায় তিনটে ও ছটার মধ্যে তিনি হ্রদের জলের উপর দিয়ে হেঁটে তাদের কাছে এলেন৷ তিনি তাঁদের পাশ কাটিয়ে এগিয়ে য়েতে চাইলেন৷
49 কিন্তু হ্রদের উপর দিয়ে তাঁকে হাঁটতে দেখে তাঁরা ভাবলেন ভূত, আর এই ভেবে তাঁরা চেঁচিয়ে উঠলেন৷
50 কারণ তাঁরা সকলেই তাঁকে দেখে ভয় পেয়েছিলেন; কিন্তু যীশু সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের বললেন, ‘সাহস করো ! ভয় করো না, এতো আমি!’
51 পরে তিনি তাদের নৌকায় উঠলে ঝড় থেমে গেল৷ তাতে তাঁরা আশ্চর্য হয়ে গেলেন৷
52 কারণ এর আগে তাঁরা পাঁচটা রুটির ঘটনার অর্থ বুঝতে পারেন নি, তাঁদের মন কঠোর হয়ে পড়েছিল৷
53 পরে তাঁরা ্ব্রদ পার হয়ে গিনেষরত্ প্রদেশে এসে নৌকা বাঁধলেন৷
54 তিনি নৌকা থেকে নামলে লোকরা তাঁকে চিনে ফেলল৷
55 তারা ঐ এলাকার সমস্ত অঞ্চলে চারদিকে দৌড়াদৌড়ি করে অসুস্থ লোকদের খাটিযা করে তাঁর কাছে নিয়ে আসতে লাগল৷
56 গ্রামে, শহরে বা পাড়ায় য়েখানে তিনি য়েতেন, সেখানে লোকেরা অসুস্থ রোগীদের এনে বাজারের মধ্যে জড়ো করত৷ তারা মিনতি করত য়েন শুধু যীশুর কাপড়ের ঝালর স্পর্শ করতে পারে৷ আর যাঁরা তাঁর কাপড় স্পর্শ করত তারা সকলেই সুস্থ হয়ে

য়েত৷মার্ক 6:45-46

এটি বলে যে শিষ্যরা ‘বুঝতে পারল না’ I না বুঝতে পারার কারণ এটি নয় যে তারা বুদ্ধিমান ছিল না; না এটি কারণ ছিল যে যা ঘটেছিল তারা তা দেখেনি; না এটি কারণ ছিল যে তারা খারাপ শিষ্য ছিল; নাতো এই কারণ ছিল যে তাদের ঈশ্বরে বিশ্বাস ছিল না I এটি বলে যে তাদের ‘হৃদয়গুলো কঠোর ছিল’ I আমাদের নিজেদের হৃদয়গুলোও আমাদেরকে আত্মিক সত্যকে বুঝতে পারার থেকে দুরে রাখে I   

এটিই মৌলিক কারণ যে তাঁর সময়ে লোকেরা যীশুর সম্বন্ধে এতটা বিভক্ত  ছিল I বৈদিক ঐতিহ্যের মধ্যে আমরা বলব তিনি প্রণব বা আকসারা ওম হওয়ার দাবি করছিলেন, যিনি জগতকে অস্তিত্বের মধ্যে আসার কথা  বলেছিলেন, এবং পরে মানব হলেন – ক্ষর I বুদ্ধিগতভাবে বোঝার চেয়ে আমাদের হৃদয় থেকে জিদ দূর করার প্রয়োজন I 

এই জন্যই যোহনের প্রস্তুতি কার্য অত্যাবশক ছিল I তিনি লোকেদের এটিকে লুকোনোর পরিবর্তে তাদের পাপের স্বীকারোক্তির দ্বারা অনুতাপ করতে আহ্বান করেছিলেন I যীশুর শিষ্যদের যদি কঠোর হৃদয় থেকে থাকে যাতে তাদের অনুতাপ এবং পাপের স্বীকারোক্তির প্রয়োজন ছিল, আপনার এবং আমার জন্য তা কত অধিক দরকার হবে! 

কি করতে হবে?

হৃদয়কে কোমল এবং বুদ্ধি লাভ করতে মন্ত্র

আমি দেখতে পেয়েছি হিব্রু বেদের মধ্যে একটি মন্ত্র হিসাবে দেওয়া এই স্বীকারোক্তির প্রার্থনা উপযোগী হবে I হয়ত ধ্যান করা বা এটির মন্ত্র উচ্চারণ করার পাশাপাশি ওমও আপনার হৃদয়ে কাজ করবে I

পনার মহান প্রেমময় দয়ার জন্য এবং আপনার মহান করুণা দিয়ে আমার সমস্ত পাপসমূহ ধুয়ে মুছে দিন!
2 ঈশ্বর, আমার অপরাধ মুছে দিন. আমার সব পাপ ধুয়ে দিন| আবার আমায় পাপমুক্ত করে দিন!
3 আমি জানি আমি পাপ করেছি| সব সময় আমি সেই সব পাপ দেখতে পাই|
4 য়ে সব কাজকে আপনি গর্হিত বলেন, সেই সব কাজই আমি করেছি| ঈশ্বর আপনিই সেই ‘পরম এক’ যার বিরুদ্ধে আমি পাপ করেছি| এইসব কথা আমি স্বীকার করেছি যাতে মানুষ বোঝে আমি ভুল কিন্তু আপনি সঠিক| আপনার সব সিদ্ধান্ত যথায়থ নিরপেক্ষ|
5 আমি পাপের মধ্যে দিয়ে জন্মেছিলাম এবং পাপের মধ্যেই আমার মা আমায় গর্ভে ধারণ করেছিলেন|
6 হে ঈশ্বর, আপনি চান আমি প্রকৃতভাবে অনুগত হই| তাই আমার মনের গভীরে প্রকৃত জ্ঞান দান করুন|
7 এসবের দ্বারা আমার সব পাপ মুছে দিন, আমায় পবিত্র করে দিন| সমস্ত পাপ ধুয়ে দিয়ে আমাকে তুষারের থেকেও শুভ্র করে দিন!
8 আমায় সুখী করুন! আবার কি করে সুখী হতে পারবো তা বলে দিন| আপনি য়ে হাড়গুলো চূর্ণবিচূর্ণ করেছেন সেগুলো আবার সুখী হোক্!
9 আমার পাপের দিকে তাকাবেন না! আমার সব পাপ মুছে দিন!
10 ঈশ্বর আমার মধ্যে বিশুদ্ধ হৃদয় সৃষ্টি করুন! আমার আত্মাকে আবার শক্তিশালী করুন!
11 আমাকে দূরে ঠেলে দেবেন না! আমার কাছ থেকে আপনার পবিত্র আত্মাকে সরিয়ে নেবেন না!
12 আপনার সাহায্য আমাকে প্রচণ্ড সুখী করেছে! সেই আনন্দ আবার আমায় ফিরিয়ে দিন| আপনার নির্দেশ মান্য করার জন্য, আমার আত্মাকে শক্তিশালী করে দিন|

গীতসংহিতা 51: 1-4, 10-12

এই অনুতাপকে আমাদের বোঝার দরকার এটার অর্থ কি যে, জীবন্ত বাক্য রূপে, যীশু ঈশ্বরের ‘ওম’ I 

কেন তিনি এসেছিলেন? আমরা পরে দেখব I

যীশু সুস্থ করেন – তাঁর রাজ্য প্রকাশ করে

রাজস্থান, মেহন্দিপুরের নিকটবর্তী বালাজি মন্দিরের দুষ্ট আত্মা, শয়তান, ভূত, প্রেত বা অশরীরী সমূহের দ্বারা কষ্টভোগী লোকেদের সুস্থ করার এক খ্যাতি আছে I হনুমান জি (এক শিশুর আকারে প্রভু হনুমান) বালা জি বা বালাজি বলেও পরিচিত I তার বালাজি মন্দির, বা টেম্পল, দুষ্ট আত্মা সমূহের দ্বারা কষ্টভোগী লোকেদের জন্য একটি তীর্থ বা পিলগ্রিমেজ স্থান I প্রতিদিন, কয়েক হাজার তীর্থযাত্রী, ভক্তবৃন্দ এবং আত্মিক ভাবে কষ্টভোগী লোকেরা এই জাতীয় সমস্ত আত্মিক বন্ধনের থেকে মুক্তি পাবার আশায় তীর্থযাত্রার মধ্য দিয়ে মঠকে পরিদর্শন করে I পৈশাচিক এবং অশরীরী কর্ত্তৃত্ব, মোহ এবং ভূত বিদ্যা সমস্ত কিছু এই বালাজি বা হনুমান মন্দিরের সাধারণ স্থান আর তাই মেহন্দিপুর বালাজি মন্দির তীর্থ স্থান যাকে বিশ্বাস করা হয় আত্মাগুলোর থেকে উদ্ধার  করার এক ক্ষমতা দিতে পারে I      

কিংবদন্তি বিশদভাবে আলাদা হয় তবে হনুমান এক মূর্তি রূপে সেই স্থানে আত্ম-প্রকাশ করেছিলেন, তাই সেখানে হনুমানজির স্মৃতিতে মন্দিরটিকে নির্মান করা হয় I খবর আছে যে শ্রী মেহন্দিপুর বালাজি মন্দিরে মোহ, সম্মোহনীয় অবস্থায় এবং এমনকি দেওয়ালে শৃঙ্খলে আবদ্ধ লোকেরা মুক্তির জন্য অপেক্ষা করে I ভক্তবৃন্দ এগুলো বালাজির দিন বলে মঙ্গলবার এবং শনিবারে প্রচুর সংখ্যায় আসে I আরতি এবং আরাধনার সময়ে বন্ধকদের আর্তনাদ শোনা যেতে পারে, এবং লোকেদের আগুন জ্বেলে মোহগ্রস্ত হয়ে অস্থিরভাবে নৃত্য করতে দেখা যেতে পারে I      

বেদ পুস্তকনের মধ্যে ভূত এবং দুষ্ট আত্মা সমূহ

প্রকৃতপক্ষে ইতিহাস জুড়ে দুষ্ট আত্মা সমূহ লোকেদের কষ্ট দিয়েছে I কেন? কোথা থেকে আসে তারা?

বেদ পুস্তকন (বাইবেল) ব্যাখ্যা করে যে শয়তান, যে প্রান্তরের মধ্যে যীশুকে প্রলুব্ধ করেছিল, অনেক পতিত স্বর্গদূতদের উপরে তার নেতৃত্ব আছে I যবে থেকে প্রথম মানব জাতি সাপের কথা শুনল, তবে থেকে এই দুষ্ট আত্মারা লোকেদের উপরে অত্যাচার এবং নিয়ন্ত্রণ করল I প্রথম মানবজাতি যখন সাপের কথা শুনল, সত্য যুগের অবসান হল এবং আমরা এই দুষ্ট আত্মাদের আমাদের উপরে অত্যাচার ও নিয়ন্ত্রণ করতে অধিকার দিলাম I 

যীশু এবং ঈশ্বরের রাজ্য

যীশু ঈশ্বরের রাজ্যের সম্পর্কে কর্ত্তৃত্বের সাথে শিক্ষা দিয়েছিলেন I সেই কর্ত্তৃত্বের উপরে তাঁর অধিকার দেখাতে তিনি লোকেদের উপরে নিপীড়নকারী দুষ্ট আত্মা, পিশাচ, ভূতদের বার করে নিক্ষেপ করলেন I

যীশু পিশাচ-অধিকৃতকে সুস্থ করেন

দুষ্ট আত্মা বা ভূতদের সঙ্গে যীশুর বহুবার সাক্ষাৎকার হয়েছিল I যদিও এক শিক্ষক হিসাবে পরিচিত, সুসমাচারগুলো আবারও অনেকবার তাঁর দ্বারা দুষ্ট আত্মার লোকেদের সুস্থ করার ঘটনাকে লিপিবদ্ধ করে I এখানে তাঁর প্রথম এই জাতীয় সুস্থতা:     

21 এরপর তাঁরা কফরনাহূম শহরে গেলেন৷ পরদিন শনিবার সকালে, অর্থাত্ বিশ্রামবারে তিনি সমাজ-গৃহে গিয়ে লোকদের শিক্ষা দিতে শুরু করলেন৷
22 যীশুর শিক্ষা শুনে সবাই আশ্চর্য় হলেন, কারণ তিনি ব্যবস্থার শিক্ষকের মতো নয় কিন্তু সম্পূর্ণ কর্ত্তৃত্ব সম্পন্ন ব্যক্তির মতোই শিক্ষা দিতেন৷
23 সেই সমাজ-গৃহে হঠাত্ অশুচি আত্মায় পাওযা এক ব্যক্তি চেঁচিয়ে বলল,
24 ‘হে নাসরতীয় যীশু! আপনি আমাদের কাছে কি চান? আপনি কি আমাদের ধ্বংস করতে এসেছেন? আমি জানি আপনি কে, আপনি ঈশ্বরের সেই পবিত্র ব্যক্তি!’
25 কিন্তু যীশু তাকে ধমক দিয়ে বললেন, ‘চুপ কর! এই লোকটার ভেতর থেকে বেরিয়ে এসো!’
26 সঙ্গে সঙ্গে সেই অশুচি আত্মা ঐ লোকটাকে দুমড়ে মুচড়ে প্রচণ্ড জোরে চিত্‌কার করে লোকটির মধ্যে থেকে বেরিয়ে এল৷
27 এতে প্রত্যেকে অবাক হয়ে নিজেদের মধ্যে বলাবলি করতে লাগল, ‘এ কি ব্যাপার? এটা কি একটা নতুন শিক্ষা? সম্পূর্ণ কর্ত্তৃত্বের সঙ্গে তিনি শিক্ষা দেন, এমনকি অশুচি আত্মাদের আদেশ করেন এবং তারা তাঁর আদেশ মানে৷’
28 আর গালীলের সমস্ত অঞ্চলে তাঁর কথা ছড়িয়ে

পড়ল৷মার্ক 1:21-28  

সুসমাচারগুলো পরে একটি সুস্থতার বিবরণ দেয় যেখানে লোকেরা পীড়িত লোকটিকে শৃঙ্খল দ্বারা বেঁধে রাখতে চেষ্টা করেছিল, যেমন মেহন্দিপুর বালাজি মন্দিরে হয়, তবে ওই শৃঙ্খলগুলো তাকে ধরে রাখতে অক্ষম ছিল I সুসমাচার এটিকে এইভাবে লিপিবদ্ধ করে 

রপর যীশু এবং তাঁর শিষ্যরা হ্রদের ওপারে গেরাসেনীদের দেশে এলেন৷
2 তিনি নৌকা থেকে নামার সাথে সাথে একটি লোক কবরস্থান থেকে তাঁর সামনে এল, তাকে অশুচি আত্মায় পেয়েছিল৷
3 সে কবরস্থানে বাস করত, কেউ তাকে শেকল দিয়েও বেঁধে রাখতে পারত না৷
4 লোকে বারবার তাকে বেড়ী ও শেকল দিয়ে বাঁধত; কিন্তু সে শেকল ছিঁড়ে ফেলত এবং বেড়ী ভেঙ্গে টুকরো করত, কেউ তাকে বশ করতে পারত না৷
5 সে রাত দিন সব সময় কবরখানা ও পাহাড়ি জায়গায় থাকত এবং চিত্‌কার করে লোকদের ভয় দেখাত এবং ধারালো পাথর দিয়ে নিজেকে ক্ষত-বিক্ষত করত৷
6 সে দূর থেকে যীশুকে দেখে ছুটে এসে প্রণাম করল৷
7 আর খুব জোরে চেঁচিয়ে বলল, ‘হে ঈশ্বরের সবচেয়ে মহান পুত্র যীশু, আপনি আমায় নিয়ে কি করতে চান? আমি আপনাকে ঈশ্বরের দিব্যি দিচ্ছি, আমাকে যন্ত্রণা দেবেন না!’ কারণ তিনি তাকে বলেছিলেন, ‘ওহে অশুচি আত্মা, এই লোকটি থেকে বেরিয়ে যাও৷’
8
9 তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার নাম কি?’ সে তাঁকে বলল, ‘আমার নাম বাহিনী, কারণ আমরা অনেকগুলো আছি৷’
10 তখন সে যীশুর কাছে মিনতি করতে লাগল, য়েন তিনি তাদের সেই অঞ্চল থেকে তাড়িয়ে না দেন৷
11 সেখানে পর্বতের পাশে একদল শুযোর চরছিল,
12 আর তারা (অশুচি আত্মারা) যীশুকে অনুনয় করে বলল, ‘আমাদের এই শুযোরের পালের মধ্যে ঢুকতে হুকুম দিন৷’
13 তিনি তাদের অনুমতি দিলে সেই অশুচি আত্মারা বের হয়ে শুযোরদের মধ্যে ঢুকে পড়ল৷ তাতে সেই শুযোরের পাল, কমবেশী দুহাজার শুযোর দৌড়ে ঢালু পাড় দিয়ে হ্রদে গিয়ে পড়ল এবং ডুবে মরল৷
14 তখন যারা শুযোরগুলোকে চরাচ্ছিল তারা পালিয়ে গেল এবং শহরে ও খামার বাড়িগুলিতে গিয়ে খবর দিল৷ তখন কি হয়েছে তা দেখার জন্য লোকরা এল৷
15 তারা যীশুর কাছে এসে দেখল, সেই অশুচি আত্মায় পাওযা লোকটি, যাকে ভূতে পেয়েছিল, সে কাপড় পরে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় বসে আছে৷ তাতে তারা ভয় পেল,
16 আর যাঁরা ঐ অশুচি আত্মায় পাওযা লোকটির ও শুযোরের পালের ঘটনা দেখেছিল তারা সমস্ত ঘটনা যা ঘটেছিল তা বলল৷
17 তখন তারা যীশুকে অনুনয় করে তাদের অঞ্চল ছেড়ে চলে য়েতে বলল৷
18 পরে তিনি নৌকায় উঠছেন, এমন সময় য়ে লোকটিকে ভূতে পেয়েছিল, সে তাঁকে অনুনয় করে বলল, য়েন সে তাঁর সঙ্গে থাকতে পারে৷
19 কিন্তু যীশু তাকে অনুমতি দিলেন না, বরং বললেন, ‘তুমি তোমার পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের কাছে ফিরে যাও আর ঈশ্বর তোমার জন্য যা যা করেছেন ও তোমার প্রতি য়ে দযা দেখিয়েছেন তা তাদের বুঝিয়ে বল৷’
20 তখন সে চলে গেল এবং প্রভু তার জন্য যা যা করেছেন, তা দিকাপলি অঞ্চলে প্রচার করতে লাগল, তাতে সকলে অবাক হয়ে

গেল৷মার্ক 5:1-20

মানবীয় দেহে ঈশ্বর পুত্র হিসাবে, যীশু লোকেদের সুস্থ করতে গ্রামগঞ্জের চতুর্দিকে ঘুরে বেড়ালেন I তিনি সেখানে গেলেন যেখানে তারা বাস করত, ভূত এবং প্রেতদের থেকে তাদের অত্যাচারের সঙ্গে পরিচিত হয়ে, কেবলমাত্র তাঁর কথিত বাক্যের কর্ত্তৃত্বের দ্বারা তাদের সুস্থ করলেন I    

যীশু অসুস্থকে সুস্থ করেন

17ই মার্চ, 2020, করোনা জীবানুর প্রাদুর্ভাবের জন্য মেহন্দিপুর বালাজি মন্দির অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেল I যদিও দুষ্ট আত্মাদের থেকে নিরাময়ের জন্য প্রসিদ্ধ, মেহন্দিপুর বালাজি মন্দিরের শ্রদ্ধালুরা এই নতুন সংক্রামক রোগের প্রতি ঝুঁকিদায়ক I যীশু, যাইহোক, লোকেদের কেবল দুষ্ট আত্মাদের থেকেই মুক্তি দেন নি, বরং সংক্রামক রোগ সমূহের থেকেও মুক্তি দিয়েছেন I এই জাতীয় একটি সুস্থতাকে এইভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে I  

41 যীশু তার প্রতি মমতায় পূর্ণ হয়ে হাত বাড়িয়ে তাকে স্পর্শ করে বললেন, ‘আমি তা-ই চাই, তুমি ভাল হয়ে যাও৷’
42 আর সঙ্গে সঙ্গে তার কুষ্ঠ রোগ তাকে ছেড়ে গেল এবং সে সুস্থ হল৷
43 যীশু তাকে তখনই বিদায় দিলেন৷
44 তিনি তাকে দৃঢ়ভাবে বললেন, ‘দেখ, একথা কাউকে বলো না, কিন্তু যাজকের কাছে নিজেকে দেখাও এবং কুষ্ঠরোগ থেকে সুস্থ হওযার জন্য মোশির বিধান অনুযায়ী ঈশ্বরকে উপহার দাও, এতে সকলে জানতে পারবে য়ে তুমি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছ৷’
45 কিন্তু সে বাইরে গিয়ে তার সুস্থ হওযার কথা এত বেশী প্রচার করতে ও চারদিকে বলতে লাগল য়ে যীশু আর প্রকাশ্যে কোন শহরে প্রবেশ করতে পারলেন না৷ কাজেই তিনি শহরের বাইরে নির্জনে থেকে গেলেন আর লোকরা চারদিক থেকে তাঁর কাছে আসতে

লাগল৷মার্ক 1:40-45

সুস্থ করার ক্ষেত্রে যীশুর খ্যাতি বৃদ্ধি পেল যাতে করে লোকেদের ভিড় উপচে  পড়ল, ঠিক যেমন তারা বালাজি মন্দিরে (খোলা থাকার সময়ে) করে I  

38 যীশু সমাজ-গৃহ থেকে বেরিয়ে শিমোনের বাড়িতে গেলেন৷ সেখানে শিমোনের শাশুড়ী খুব জ্বরে ভুগছিলেন, তাই তারা এসে তাঁকে অনুরোধ করল য়েন তিনি তাঁকে সুস্থ করেন৷
39 তখন যীশু তাঁর কাছে দাঁড়িয়ে জ্বরকে ধমক দিলেন, এর ফলে জ্বর ছেড়ে গেল, আর তিনি তখনই উঠে তাদের খাওযা দাওযার ব্যবস্থা করতে লাগলেন৷
40 সূর্য় অস্ত যাবার সময় লোকরা তাদের বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের লোকজন, যাঁরা নানা রোগে অসুস্থ ছিল তাদের যীশুর কাছে নিয়ে এল৷ যীশু তাদের প্রত্যেকের ওপরে হাত রেখে তাদের সুস্থ করলেন৷
41 তাদের অনেকের মধ্যে থেকে ভূত বের হয়ে এল৷ তারা চিত্‌কার করে বলতে লাগল, ‘আপনি ঈশ্বরের পুত্র৷’ কিন্তু তিনি তাদের ধমক দিলেন, তাদের কথা বলতে দিলেন না, কারণ তারা জানত য়ে তিনিই সেই

খ্রীষ্ট৷লুক 4:38-41

যীশু খঞ্জ, অন্ধ, বধিরকে সুস্থ করেন

শুদ্ধ এবং সুস্থ হওয়ার আশায়, আজকের মতন যীশুর সময়ে তীর্থযাত্রীরা পবিত্র তীর্থগুলোতে পূজা অনুষ্ঠান করত I এই জাতীয় অনেক লিপিবদ্ধ সুস্থতাগুলোর মধ্যে দুটির প্রতি আমরা দেখব:  

রপর ইহুদীদের এক বিশেষ পর্বের সময় এলে যীশু জেরুশালেমে গেলেন৷
2 জেরুশালেমে মেষ ফটকের কাছে একটা পুকুর ছিল৷ ইব্রীয়তে সেই পুকুরটিকে ‘বৈথেসদা’ বলত৷ এই পুকুরটির পাঁচটি চাঁদনী ঘাট ছিল;
3 ঘাটের সেইসব চাতালে অনেক অসুস্থ লোক শুয়ে থাকত; তাদের মধ্যে কেউ কেউ অন্ধ, কেউ কেউ খোঁড়া এমনকি পঙ্গু রোগীও থাকত৷
4
5 সেখানে একজন লোক ছিল য়ে আটত্রিশ বছর ধরে রোগে ভুগছিল৷
6 যীশু তাকে সেখানে পড়ে থাকতে দেখলেন৷ তিনি জানতেন য়ে সে দীর্ঘদিন ধরে রোগে ভুগছে৷ তাই তাকে বললেন, ‘তুমি কি সুস্থ হতে চাও?’
7 সেই অসুস্থ লোকটি বলল, ‘মহাশয় আমার এমন কোন লোক নেই, জল কেঁপে ওঠার সময় য়ে আমাকে পুকুরে নামিয়ে দেবে৷ আমি ওখানে পৌঁছানোর আগেই কেউ না কেউ আমার আগে পুকুরে নেমে পড়ে৷’
8 যীশু তাকে বললেন, ‘ওঠ! তোমার বিছানা গুটিয়ে নাও, হেঁটে বেড়াও৷’
9 লোকটি সঙ্গে সঙ্গে ভাল হয়ে গেল, আর তার বিছানা তুলে নিয়ে হাঁটতে থাকল৷এ ঘটনা বিশ্রামবারে ঘটল,
10 তাই য়ে লোকটি আরোগ্য লাভ করেছিল তাকে ইহুদীরা বলল, ‘আজ বিশ্রামবার, এভাবে তোমার বিছানা বয়ে বেড়ানো বিধি-ব্যবস্থা বিরুদ্ধ কাজ হচ্ছে৷’
11 সে তখন তাদের বলল, ‘যিনি আমাকে সারিয়ে তুলেছেন তিনি বলেছিলেন, ‘তোমার বিছানা তুলে নিয়ে হেঁটে বেড়াও৷”
12 তারা সেই লোকটিকে জিজ্ঞেস করল, ‘কে তোমাকে বলেছে য়ে তোমার বিছানা গুটিয়ে নিয়ে হেঁটে বেড়াও?’
13 কিন্তু য়ে লোকটি আরোগ্যলাভ করেছিল সে জানত না, তিনি কে৷ কারণ সেই জায়গায় অনেক লোক ভীড় করেছিল এবং যীশু সেখান থেকে চলে গিয়েছিলেন৷
14 পরে যীশু মন্দিরের মধ্যে সেই লোকটিকে দেখতে পেয়ে তাকে বললেন, ‘দেখ, তুমি এখন সুস্থ হয়ে গেছ; আর পাপ কোরো না, যাতে তোমার আরও খারাপ কিছু না হয়!’
15 এরপর সেই লোকটি ইহুদীদের কাছে গিয়ে বলল য়ে, যীশুই তাকে আরোগ্য দান

করেছেন৷যোহন 5:1-15

27 যীশু যখন সেই জায়গা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, তখন দুজন অন্ধ তাঁর পিছনে পিছনে চলল৷ তারা চিত্‌কার করে বলতে লাগল, ‘হে দায়ূদের পুত্র, আমাদের প্রতি দয়া করুন৷’
28 যীশু বাড়িতে এলে সেই দুজন অন্ধ তাঁর কাছে এল৷ তখন যীশু তাদের বললেন, ‘তোমরা কি বিশ্বাস কর য়ে আমি তোমাদের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিতে পারি?’অন্ধ লোক দুটি বলল, ‘হ্যাঁ, প্রভু আমরা বিশ্বাস করি৷’
29 তখন তিনি তাদের চোখ স্পর্শ করে বললেন, ‘তোমরা য়েমন বিশ্বাস করেছ, তোমাদের প্রতি তেমনি হোক্৷’
30 আর তখনই তারা চোখে দেখতে পেল৷ যীশু তাদের দৃঢ়ভাবে নিষেধ করে বললেন, ‘দেখ, একথা কেউ য়েন জানতে না পারে৷’
31 কিন্তু তারা সেখান থেকে গিয়ে যীশুর বিষয়ে সেইঅঞ্চলের সব জায়গায় বলতে লাগল৷
32 ঐ দুজন লোক যখন চলে যাচ্ছে, এমন সময় কয়েকজন লোক ভূতে পাওয়া একজন লোককে যীশুর কাছে নিয়ে এল, সে কথা বলতে পারত না৷
33 সেই ভূতকে তার ভেতর থেকে তাড়িয়ে দেবার পর বোবা লোকটি কথা বলতে লাগল৷ তাতে সমবেত সব লোক আশ্চর্য হয়ে গেল৷ তারা বলল, ‘ইস্রায়েলে এমন কখনও দেখা যায়

নি৷’মথি 9:27-33  

যীশু মৃতকে উত্থাপন করেন

সুসমাচারগুলো এমন ঘটনার বর্ণনা দেয় যেখানে যীশু এমনকি মৃত লোকেদের জীবনে ফিরিয়ে এনেছিলেন I এখানে একটি বিবরণ রয়েছে

21 পরে যীশু নৌকায় আবার হ্রদ পার হয়ে অন্য পাড়ে এলে অনেক লোক তাঁর কাছে ভীড় করল৷ তিনি হ্রদের তীরেই ছিলেন৷
22 আর সমাজগৃহের নেতাদের মধ্যে যাযীর নামে এক ব্যক্তি এসে তাঁকে দেখে তাঁর পায়ে পড়লেন
23 এবং অনেক অনুনয় করে তাঁকে বললেন, ‘আমার মেয়ে মর মর, আপনি এসে মেয়েটির ওপর হাত রাখুন যাতে সে সুস্থ হয় ও বাঁচে৷’
24 তখন তিনি তার সঙ্গে গেলেন৷ বহুলোক তাঁর পেছন পেছন চলল, আর তাঁর চারদিকে ঠেলাঠেলি করতে লাগল৷
25 একটি স্ত্রীলোক বারো বছর ধরে রক্তস্রাব রোগে ভুগছিল৷
26 অনেক চিকিত্‌সকের সাহায্য নিয়ে এবং সর্বস্ব ব্যয় করেও এতটুকু ভাল না হয়ে বরং আরো অসুস্থ হয়ে পড়েছিল৷
27 সে যীশুর বিষয় শুনে ভীড়ের মধ্যে তাঁর পিছন দিকে এসে তাঁর পোশাক স্পর্শ করল৷
28 সে মনে মনে ভেবেছিল, ‘যদি কেবল তাঁর পোশাক ছুঁতে পারি, তবেই আমি সুস্থ হব৷’
29 আর সঙ্গে সঙ্গে তাঁর রক্তস্রাব বন্ধ হল এবং সে তার শরীরে অনুভব করল য়ে সেই রোগ থেকে সুস্থ হয়েছে৷
30 যীশু সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারলেন য়ে তাঁর মধ্য থেকে শক্তি বের হয়েছে৷ তাই ভীড়ের মধ্যে মুখ ফিরিয়ে বললেন, ‘কে আমার পোশাক স্পর্শ করেছে?’
31 তাঁর শিষ্যেরা তাঁকে বললেন, ‘আপনি দেখছেন, লোকরা আপনার ওপরে ঠেলাঠেলি করে পড়ছে, তবু বলছেন, ‘কে আমাকে স্পর্শ করল?”
32 কিন্তু য়ে এই কাজ করেছে, তাকে দেখবার জন্য তিনি চারদিকে দেখতে লাগলেন৷
33 তখন সেই স্ত্রীলোকটি ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে তার প্রতি কি করা হয়েছে তা জানাতে তাঁর পায়ে পড়ল এবং সমস্ত সত্যি কথা তাঁকে বলল৷
34 তখন যীশু তাকে বললেন, ‘তোমার বিশ্বাস তোমাকে ভাল করেছে, শান্তিতে চলে যাও ও তোমার রোগ থেকে সুস্থ থাক৷’
35 তিনি এই কথা বলছেন, সেইসময় সমাজগৃহের নেতা যাযীরের বাড়ি থেকে লোক এসে বলল, ‘আপনার মেয়ে মারা গেছে, গুরুকে আর কষ্ট দেবার কোন কারণ নেই৷’
36 কিন্তু যীশু তাদের কথায় কান না দিয়ে যাযীরকে বললেন, ‘ভয় করো না, কেবল বিশ্বাস রাখো৷’
37 আর তিনি পিতর, যাকোব ও যাকোবের ভাই য়োহনকে ছাড়া আর কাউকে নিজের সঙ্গে য়েতে দিলেন না৷
38 পরে তারা সমাজগৃহের নেতার বাড়িতে এসে দেখলেন সেখানে গোলমাল হচ্ছে, কেউ কেউ শোকে চিত্‌কার করে কাঁদছে ও বিলাপ করছে৷
39 তিনি ভিতরে গিয়ে তাদের বললেন, ‘তোমরা গোলমাল করছ ও কাঁদছ কেন? মেয়েটি তো মরে নি, সে ঘুমিয়ে আছে৷’
40 এতে তারা তাঁকে উপহাস করল৷ কিন্তু তিনি সকলকে বাইরে বার করে দিয়ে, মেয়েটির বাবা, মা ও নিজের শিষ্যদের নিয়ে য়েখানে মেয়েটি ছিল সেখানে গেলেন৷
41 আর মেয়েটির হাত ধরে বললেন, ‘টালিথা কুমী!’ যার অর্থ ‘খুকুমনি, আমি তোমাকে বলছি ওঠ!’
42 মেয়েটি সঙ্গে সঙ্গে উঠে হেঁটে বেড়াতে লাগল৷ তার বয়স তখন বারো বছর ছিল৷ তাই দেখে তারা সকলে খুব আশ্চর্য হয়ে গেল৷
43 পরে তিনি তাদের এই দৃঢ় আদেশ দিলেন যাতে কেউ এটা জানতে না পারে; আর মেয়েটিকে কিছু খেতে দিতে

বললেন৷মার্ক 5:21-43

যীশুর এইরকম নিরাময়ের ক্ষেত্রে তাঁর প্রভাব রয়েছে যে সমস্ত দেশে তাঁর নাম ব্যাপকভাবে পরিচিত, সেখানে খুব কম দুষ্ট আত্মা সকল আছে যাতে বেশিরভাগ  লোকেরা সেখানে এখন দুষ্ট আত্মাদের অস্তিত্বকে সন্দেহ করে কারণ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে প্রকাশনগুলো দুর্লভ হয়েছে I 

স্বর্গ রাজ্যের একটি পূর্বস্বাদ

যীশু দুষ্ট আত্মাদের ছাড়িয়েছেন, অসুস্থদের সুস্থ করেছেন এবং মৃতদের উঠিয়েছেন কেবলমাত্র লোকেদের সাহায্য করতে নয়, বরং তাঁর শিক্ষা দেওয়া রাজ্যের প্রকৃতিকেও দেখাতে I সেই আসন্ন রাজ্যের মধ্যে  

4 তিনি তাদের চোখের সব জল মুছিয়ে দেবেন৷ মৃত্যু, শোক, কান্না যন্ত্রণা আর থাকবে না, কারণ পুরানো বিষয়গুলি বিলুপ্ত

হল৷প্রকাশিত বাক্য 21:4

সুস্থতা এই রাজ্যের একটি পূর্বস্বাদ ছিল, যাতে আমরা দেখতে পারি এই ‘পুরনো জিনিসের ক্রমের’ উপরে বিজয় কেমন দেখতে লাগবে I   

আপনি কি এই ধরণের একটি ‘নতুন ক্রমের’ একটি রাজ্যের মধ্যে থাকতে পছন্দ করবেন না?

যীশু তাঁর আজ্ঞাসূচক প্রকৃতির দ্বারা তাঁর রাজ্যকে প্রদর্শন করে চলেছেন – নিজেকে দেহের মধ্যে ওম হিসাবে দেখিয়ে I

গুরু হিসাবে যীশু: কর্তৃত্বের সাথে অহিংসার শিক্ষা এমনকি মহাত্মা গান্ধীকেও আলোকিত করে

সংস্কৃতে গুরু (गुरू) ‘গু’ (অন্ধকার) এবং ‘রু’ (আলো) I একজন গুরু শিক্ষা দেন যাতে অজ্ঞতার অন্ধকার সত্যের জ্ঞানের দ্বারা দূরীভূত হয় I যীশুকে এইধরণের বিচক্ষণ শিক্ষার জন্য  জানা যায় যা অন্ধকারে বসবাসকারী লোকেদের আলোকিত করে যার জন্য তাঁকে এক গুরু বা আচার্য রূপে বিবেচনা করা উচিত I ঋষি যিশাইয় আসন্ন একজনের সম্বন্ধে এটিকে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন I 700 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে তিনি হিব্রু বেদের মধ্যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে: 

ন্তু যে বিপদে পড়েছিল তার জন্য কোন অন্ধকার থাকবে না| লোকরা অতীতে সবূলূন দেশ ও নপ্তালি দেশকে কোন গুরুত্বই দিত না| কিন্তু পরবর্তী-কালে সমুদ্রের নিকটবর্তী দেশ, য়র্দন নদীর অপর পারের দেশ এবং অ-ইহুদীদের মহকুমাটিকে ঈশ্বর খুব মহান করবেন|
2 এই সব দেশের লোক অন্ধকারে বাস করত| কিন্তু তারা মহা-আলোকটি দেখতে পাবে| ঐসব লোক কবরের মত অন্ধকার জায়গায় বাস করত| কিন্তু “মহা-আলোক” তাদের ওপর কিরণ দেবে|

যিশাইয় 9:1b-2
https://en.satyavedapusthakan.net/wp-content/uploads/sites/3/2017/10/isaiah-sign-of-the-branch-timeline--1024x576.jpg

ঐতিহাসিক কালপঞ্জির মধ্যে ঋষি (ভাববাদীগণ) যিশাইয়, দায়ূদ এবং অন্যান্য হিব্রু ঋষিগণ    

গালীলের অন্ধকারের লোকেদের মধ্যে এই আসন্ন ‘আলো’ কি ছিল? যিশাইয় বলতে থাকলেন: 

6 একটি বিশেষ শিশু জন্মগ্রহণ করার পরই এটা ঘটবে| ঈশ্বর আমাদের একটি পুত্র দেবেন| লোকদের নেতৃত্ব দেওয়ার ভার তার ওপর থাকবে| তার নাম হবে “আশ্চর্য়্য় মন্ত্রী, ক্ষমতাবান ঈশ্বর, চিরজীবি পিতা, শান্তির রাজকুমার|”

যিশাইয় 9:6

যিশাইয় আগেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন আসন্ন একজন কুমারীর থেকে জন্মগ্রহণ করবে I এখানে তিনি আরও নির্দিষ্ট করে বললেন তাকে ‘শক্তিমান ঈশ্বর’ বলে ডাকা হবে, এবং শান্তির পক্ষে পরামর্শদাতা হবে I গালীলের তীর থেকে শিক্ষা দিয়ে শান্তির এই গুরু বহু দূরবর্তী ভারতবর্ষে মহাত্মা গান্ধীর উপরে তাঁর প্রভাবের মাধ্যমে অনুভূত হবেন I  

গান্ধী এবং পাহাড়ের উপরে যীশুর উপদেশ 

https://en.satyavedapusthakan.net/wp-content/uploads/sites/3/2020/05/gandhi-law-student-image-e1588933813421-206x300.jpg

একজন আইনের ছাত্র হিসাবে গান্ধী  

ইংলান্ডে, যীশুর জন্মের 1900 বছর পরে, ভারতবর্ষ থেকে আইনের একজন যুবক ছাত্রকে এখন মহাত্মা গান্ধী (বা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী) বলে পরিচিত, একটি বাইবেল দেওয়া হয়েছিল I যখন তিনি পাহাড়ের উপরে উপদেশ বলে পরিচিত যীশুর শিক্ষা পড়লেন তিনি বিবরণ দিলেন   

“… পাহাড়ের উপর উপদেশ যা সরাসরি আমার হৃদয়ে গেল I”

এম.কে.গান্ধী, একটি আত্মজীবনী বা দি স্টোরি অফ মাই এক্সপেরিমেন্ট উইথ

ট্রুথ I 1927 পৃষ্ঠা 63

‘অন্য গাল ফিরিয়ে দেওয়া’ সম্বন্ধে যীশুর শিক্ষা অহিংসার (অ-আঘাত এবং অ-হত্যা) প্রাচীন ধারণার উপরে গান্ধীকে অন্তর্দৃষ্টি দিয়েছিল I এই চিন্তাধারাটি সু-পরিচিত বাক্যাংশ ‘অহিংসা পরম ধর্ম’ (অহিংসা সর্বাধিক নৈতিক গুণ) এর উপরে প্রতিফলিত হয়েছে I পরে গান্ধী এটিকে রাজনৈতিক শক্তি সত্যাদ্গ্রহ বা সত্যাগ্রহের মধ্যে পরিমার্জন করেছিলেন I বৃটিশের সাথে এটি তার অ-হিংসা অ-সহযোগিতার ব্যবহার ছিল I কয়েক দশকের সত্যাগ্রহের ফলশ্রুতিতে ভারতবর্ষ  গ্রেট ব্রিটেন থেকে স্বাধীনতা পেয়েছিল I গান্ধীর সত্যাগ্রহ এক বৃহৎ শান্তিপূর্ণ উপায়ে ভারতবর্ষকে ব্রিটেনের থেকে স্বাধীনতা অর্জনের অনুমতি দিয়েছিল I যীশুর শিক্ষা এই সমস্তকে প্রভাবিত করেছিল I      

পাহাড়ের উপরে যীশুর উপদেশ

তাহলে পাহাড়ের উপরে যীশুর শিক্ষা কি যা গান্ধীকে এতটা প্রভাবিত করেছিল? এটি সুসমাচারের মধ্যে যীশুর দীর্ঘ নথিভুক্ত বার্তা I নিচে কিছু লক্ষনীয় বৈশিষ্টকে দৃষ্টিগোচর করার সময়ে এখানে সম্পূর্ণ পাহাড়ের উপদেশটি দেওয়া  হ’ল I  

21 ‘তোমরা শুনেছ, আমাদের পিতৃপুরুষদের কাছে বলা হয়েছিল, ‘নরহত্যা করো না;আর কেউ নরহত্যা করলে তাকে বিচারালয়ে তার জবাবদিহি করতে হবে৷
22 কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, যদি কেউ কোনো লোকের প্রতি ক্রুদ্ধ হয় বিচারে তাকে তার জবাবদিহি করতে হবে৷ আর কেউ যদি কোন লোককে বলে, ‘ওরে মূর্খ’ (অর্থাত্ নির্বোধ) তবে তাকে ইহুদী মহাসভার সামনে তার জবাব দিতে হবে৷ কেউ যদি কাউকে বলে ‘তুমি পাষণ্ড,’ তবে তাকে নরকের আগুনেই তার জবাব দিতে হবে৷
23 ‘মন্দিরে যজ্ঞবেদীর সামনে নৈবেদ্য উত্‌সর্গ করার সময় যদি তোমার মনে পড়ে য়ে তোমার বিরুদ্ধে তোমার ভাইয়ের কোন অভিযোগ আছে,
24 তবে সেই নৈবেদ্য যজ্ঞবেদীর সামনে রেখে চলে যাও, প্রথমে গিয়ে তার সঙ্গে সে বিষয়ে মিটমাট করে নাও, পরে এসে তোমার নৈবেদ্য উত্‌সর্গ কোরো৷
25 ‘তোমার শত্রু যদি তোমার বিরুদ্ধে মামলা করতে চায় তবে আদালতে নিয়ে যাবার সময় পথেই তার সঙ্গে তাড়াতাড়ি মিটমাট করে ফেল; তা না হলে সে তোমাকে বিচারকের হাতে তুলে দেবে, বিচারক তোমাকে রক্ষীর হাতে দেবে আর রক্ষীরা তোমাকে কারাগারে পাঠাবে৷
26 আমি তোমায় সত্যি বলছি, সেখান থেকে তুমি ছাড়া পাবে না, যতক্ষণ না তোমার দেনার শেষ পয়সাটা চুকিয়ে দাও৷
27 তোমরা শুনেছ, একথা বলা হয়েছে: ‘য়ৌনপাপ করো না৷’
28 কিন্তু আমি তোমাদের বলছি কেউ যদি কোন স্ত্রীলোকের দিকে লালসাপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকায় তবে সে মনে মনে তার সঙ্গে য়ৌন পাপ করল৷
29 সেই রকম তোমার ডান চোখ যদি পাপ করার জন্য তোমায় প্ররোচিত করে তবে তা উপড়ে ফেলে দাও৷ সমস্ত দেহ নিয়ে নরকে যাওয়ার চেয়ে বরং তার একটা অংশ হারানো তোমার পক্ষে ভালো৷
30 যদি তোমার ডান হাত পাপ করতে প্ররোচিত করে, তবে তা কেটে ফেলে দাও৷ তোমার সমস্ত শরীর নরকে যাওয়ার চেয়ে বরং তার একটা অঙ্গ নষ্ট হওয়া তোমার পক্ষে ভালো৷
31 ‘আবার বলা হয়েছে, ‘কেউ যদি তার স্ত্রীকে ত্যাগ করতে চায়, তবে তাকে ত্যাগপত্র দিতে হবে৷
32 কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, একমাত্র য়ৌনপাপের দোষ ছাড়া অন্য কোন কারণে কেউ যদি তার স্ত্রীকে ত্যাগ করে, তবে সে তাকে ব্যাভিচারিণী হবার পথে নামিয়ে দেয়৷ আর য়ে কেউ সেই পরিত্যক্তা স্ত্রীকে বিয়ে করে সেও য়ৌনপাপ করে৷
33 ‘তোমরা একথা ও শুনেছ, আমাদের পিতৃপুরুষদের বলা হয়েছিল, ‘তোমরা ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে য়ে সব প্রতিশ্রুতি কর তা ভেঙ্গো না, তোমাদের কথা মতো সে সবই পূর্ণ করো৷’
34 কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, তোমরা কোন শপথইকরো না৷ স্বর্গের নামে করো না, কারণ তা ঈশ্বরের সিংহাসন৷
35 পৃথিবীর নামে শপথ করো না, কারণ পৃথিবী ঈশ্বরের পাদপীঠ৷ জেরুশালেমের নামেও শপথ করো না, কারণ তা হল মহান রাজার নগরী৷
36 এমন কি তোমার মাথার দিব্যিও দিও না, কারণ তোমার মাথার একগাছা চুল সাদা কি কালো করার ক্ষমতা তোমার নেই ৷
37 তোমাদের কথার ‘হ্যাঁ’ য়েন ‘হ্যাঁ’ আর ‘না’ য়েন ‘না’ হয়, এছাড়া অন্য আর যা কিছু তা মন্দের কাছ থেকে আসে৷
38 ‘তোমরা শুনেছ, একথা বলা হয়েছে য়ে, ‘চোখের বদলে চোখ ও দাঁতের বদলে দাঁত৷’
39 কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, দুষ্ট লোকদের প্রতিরোধ করো না, বরং কেউ যদি তোমার ডান গালে চড় মারে, তবে তার দিকে অপর গালটিও বাড়িয়ে দিও৷
40 কেউ যদি তোমার পাজামা নেবার জন্য আদালতে মামলা করতে চায়; তবে তাকে তোমার ধূতিটাও ছেড়ে দিও৷
41 যদি কেউ তার বোঝা নিয়ে তোমাকে এক মাইল পথ য়েতে বাধ্য করে, তার সঙ্গে দু মাইল য়েও৷
42 কেউ যদি তোমার কাছ থেকে কিছু চায়, তাকে তা দিও৷ তোমার কাছ থেকে কেউ ধার চাইলে তাকে তা দিতে অস্বীকার করো না৷
43 ‘তোমরা তাদের বলতে শুনেছ, ‘তোমার প্রতিবেশীকে ভালবাসো,শত্রুকে ঘৃণা করো৷
44 কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, তোমাদের শত্রুদের ভালবাসো৷ যাঁরা তোমাদের প্রতি নির্য়াতন করে তাদের জন্য প্রার্থনা করো,
45 য়েন তোমরা স্বর্গের পিতার সন্তান হতে পার৷ তিনি তো ভাল মন্দ সকলের উপর সূর্য়্য়ালোক দেন, ধার্মিক অধার্মিক সকলের উপর বৃষ্টি দেন৷
46 আমি একথা বলছি, কারণ যাঁরা তোমাদের ভালবাসে তোমরা যদি কেবল তাদেরইভালবাস, তবে তোমরা কি পুরস্কার পাবে? কর আদায়কারীরাও কি তাইকরে না?
47 তোমরা যদি কেবল তোমাদের ভাইদেরইশুভেচ্ছা জানাও, তবে অন্যদের থেকে আর বেশী কি করলে? বিধর্মীরাও তো এমন করে থাকে৷
48 তাই তোমাদের স্বর্গের পিতা য়েমন সিদ্ধ তোমরাও তেমন সিদ্ধ

হও৷মথি 5:21-48

যীশু যে রূপটি ব্যবহার করে শিক্ষা দিয়েছিলেন:

“তোমরা শুনেছ যে এটি বলা হয়েছে … তবে আমি তোমাদের বলছি …”,

এই সংরচনায় তিনি প্রথমে মশির ব্যবস্থা থেকে উদ্ধৃত করেন, এবং আজ্ঞার পরিধিকে উদ্দেশ্য, চিন্তাধারা এবং বাক্য সমূহের মধ্যে প্রসারিত করেন I যীশু মশির মাধ্যমে দেওয়া কঠোর আজ্ঞা সমূহকে গ্রহণ করে শিক্ষা দিলেন এবং সেগুলোকে এমনকি পালন করা আরও অধিক কঠিন করে তুললেন!    

পাহাড়ের উপদেশের মধ্যে নম্র কর্ত্তৃত্ব

যেটি উল্লেখযোগ্য তা হ’ল যে উপায়ে তিনি ব্যবস্থার আজ্ঞা সকলকে প্রসারিত করেছিলেন I তিনি তাঁর কর্তৃত্বের উপরে ভিত্তি করে এইরকম করলেন I বিতর্ক এবং ভীতিপ্রদর্শন ছাড়া তিনি সরলভাবে বললেন. ‘তবে আমি তোমাদের বলছি …’আর এর সাথে তিনি আজ্ঞার পরিধিকে বাড়িয়ে তুললেন I তিনি এটিকে নম্রতা তথাপি কর্তৃত্বের সাথে করলেন I এটি তাঁর শিক্ষার সম্বন্ধে অনন্য ছিল I সুসমাচারের বিবরণ হিসাবে যখন তিনি এই উপদেশ শেষ করলেন I   

28 যীশু যখন এই সব কথা বলা শেষ করলেন, তখন জনতা তাঁর এই সব শিক্ষা শুনে হতবুদ্ধি হয়ে গেল৷
29 কারণ যীশু একজন ব্যবস্থার শিক্ষকের মতো শিক্ষা দিচ্ছিলেন না, বরং যার অধিকার আছে সেইরকম লোকের মতোইশিক্ষা দিচ্ছি

লেন৷মথি 7:28-29

যীশু মহান কর্তৃত্বের সাথে এক গুরু হিসাবে শিক্ষা দিয়েছিলেন I বেশিরভাগ ভাববাদীরা দূত ছিল যারা ঈশ্বরের থেকে এক বার্তা দিয়েছিল, তবে এখানে এটি আলাদা ছিল I যীশু কেন এটি করতে সক্ষম হলেন? ‘খ্রীষ্ট’ বা ‘মসীহ’ হিসাবে তাঁর কাছে মহান কর্ত্তৃত্ব ছিল I হিব্রু বেদের গীতসংহিতা 2, যেখানে খ্রীষ্টের উপাধি প্রথমে ঘোষিত হয়েছিল বর্ণনা করে ঈশ্বর খ্রীষ্টের সংগে এইভাবে কথা বলছিলেন:

8 যদি তুমি আমার কাছে চাও, আমি সমগ্র জাতিগুলি তোমার হাতে দিয়ে দেব!গীতসং

হিতা 2:8

‘জাতিগণের’ উপরে খ্রীষ্টকে কর্ত্তৃত্ব দেওয়া হয়েছিল, এমনকি পৃথিবীর শেষ   পর্যন্ত I তাই খ্রীষ্ট হিসাবে যীশুর কাছে এইভাবে শিক্ষা দেওয়ার কর্তৃত্ব ছিল যেভাবে তিনি করেছিলেন, এবং তাঁর শিক্ষার জন্য প্রত্যেকের কাছে যেতে I 

প্রকৃতপক্ষে তার শিক্ষায় মশি এছাড়াও একজন অনন্য আসন্ন ভাববাদীর সম্বন্ধে   লিখেছিলেন (1500 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে) I মশির সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে, ঈশ্বর প্রতিশ্রুতি দিলেন

18 আমি তাদের কাছে তোমার মতোই একজন ভাববাদী পাঠাব| এই ভাববাদী তাদের লোকদের মধ্যেই একজন হবে| সে য়ে কথা অবশ্যই বলবে সেটা আমি তাকে বলে দেব| আমি যা আদেশ করি তার সমস্ত কিছু সে লোকদের বলবে|
19 এই ভাববাদী আমার জন্যই বলবে এবং যখন সে কথা বলবে, যদি কোন ব্যক্তি আমার আদেশ না শোনে তাহলে আমি সেই ব্যক্তিকে শাস্তি দেব|

’দ্বিতীয় বিবরণ 18:18-19
https://en.satyavedapusthakan.net/wp-content/uploads/sites/3/2020/05/abraham-Moses-to-jesus-timeline-1024x576.jpg

যীশুর 1500 বছর পূর্বে মশি ইস্রায়েলীয়দের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং ব্যবস্থা পেয়েছিলেন

তাঁর মতন শিক্ষণে, খ্রীষ্ট হিসাবে যীশু তাঁর কর্ত্তৃত্বকে ব্যবহার করছিলেন এবং মশির ভবিষ্যদ্বাণীকে পূরণ করছিলেন যিনি মুখে ঈশ্বরের বাক্যের শিক্ষা দেবেন I শান্তি এবং অহিংসা সম্বন্ধে তাঁর শিক্ষায় তিনি এছাড়াও উপরে প্রদর্শিত আলোর দ্বারা অন্ধকার মুছে ফেলার সম্বন্ধে যিশাইয়র ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ করলেন I তিনি এমনভাবে শিক্ষা দিলেন যেন তাঁর কাছে, না কেবল গান্ধীর গুরু, বরং আপনার এবং আমার গুরু হওয়ারও কর্ত্তৃত্ব ছিল I      

আপনি ও আমি এবং পাহাড়ের উপর উপদেশ

আপনি কিভাবে এটিকে অনুসরণ করবেন তা দেখার জন্য যদি পাহাড়ের উপরে এই উপদেশ পড়েন আপনি হয়ত বিভ্রান্ত হয়ে যেতে পারেন I কেউ কিভাবে এই জাতীয় অজ্ঞাগুলোর সাথে জীবন যাপন করতে পারে যা আমাদের হৃদয় এবং উদ্দেশ্যকে এইভাবে প্রকাশ করে? এই উপদেশের সাথে যীশুর কি অভীষ্ট ছিল? আমরা তাঁর শেষ বাক্যটির থেকে দেখতে পারি?

48 তাই তোমাদের স্বর্গের পিতা য়েমন সিদ্ধ তোমরাও তেমন সিদ্ধ

হও৷মথি 5:48

এটি একটি আজ্ঞা, কোনো প্রস্তাব নয় I তাঁর প্রয়োজনীয়তা যে আমরা সিদ্ধ  হই!

কেন?

যীশু কিভাবে তিনি পাহাড়ের উপরে উপদেশ শুরু করেছিলেন তার উত্তরটি প্রকাশ করেছিলেন I তিনি তাঁর শিক্ষার শেষ-লক্ষ্যের উল্লেখ করে শুরু করেন I

3 ‘ধন্য সেই লোকেরা যাঁরা আত্মায় নত-নম্র, কারণ স্বর্গরাজ্য তাদের

ই৷মথি 5:3

‘স্বর্গ রাজ্যের’ উপরে অন্তর্দৃষ্টি দেওয়ার জন্য উপদেশ I স্বর্গরাজ্য হিব্রু বেদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যেমন এটি সংস্কৃত বেদের মধ্যে আছে I কিভাবে যীশু নিরাময়ের তাঁর অলৌকিক কার্যের মাধ্যমে স্বর্গরাজ্যের প্রকৃতিকে প্রদর্শন করেন তা দেখার সাথে সাথে আমরা স্বর্গ রাজ্য বা বৈকুন্ঠ লোকের প্রকৃতি পরীক্ষা করি I

শয়তানের দ্বারা যীশু প্রলোভিত হন – সেই প্রাচীন অসুর সর্প

হিন্দু পুরাণ সময়ের বিবরণ দেয় যখন কৃষ্ণ শত্রু অসুরদের সঙ্গে লড়াই করে পরাজিত করল, বিশেষত অসুর রাক্ষসরা কৃষ্ণকে সর্প রূপে ভয় দেখাচ্ছিল I ভাগবদ পুরাণ (শ্রীমদ্ভগবদ) গল্পটির বিবরণ দেয় যখন কংসের যে কৃষ্ণের জন্ম থেকে তাকে হত্যা করতে চেষ্টা করছিল এক মিত্র অঘাসুর এমন এক বৃহৎ সর্পের রূপ ধারণ করত যে যখন সে মুখ খুলত তখন এটি এক গুহার সাদৃশ্য হত I অঘাসুর পুতানার (যাকে কৃষ্ণ শিশু হয়ে তার থেকে বিষ চোষার সময়ে হত্যা করেছিল) ভাই এবং বকাসুর (যাকে কৃষ্ণ আবারও তার চঞ্চু ভেঙ্গে হত্যা করেছিল) আর এইরূপে প্রতিশোধ চেয়েছিল I অঘাসুর মুখ খুলল আর গোপী রাখাল বালকরা এটিকে জঙ্গলের মধ্যে এক গুহা ভেবে এর মধ্যে প্রবেশ করল I কৃষ্ণও এর মধ্যে গেলেন তবে এটিকে বকাসুর উপলব্ধি করে তিনি যতক্ষণ বকাসুর শ্বাস রুদ্ধ হয়ে মারা না যায় ততক্ষণ অবধি তার শরীর প্রসারিত করে রাখলেন I আর একটি ঘটনায়, জনপ্রিয় প্রদর্শনী শ্রী কৃষ্ণতে শক্তিশালী অসুর সর্প কালিয়ানাগকে নদীর মধ্যে তার সঙ্গে লড়াইয়ের সময়ে তার মাথার উপরে নৃত্য করে পরাজিত করলেন I           

পুরাণ আবারও অশুর নেতা এবং শক্তিশালী সর্প/রাক্ষস বৃত্রের বর্ণনা করে I ঋক বেদ ব্যাখ্যা করে যে দেবতা ইন্দ্র এক প্রচন্ড যুদ্ধে বৃত্রের সম্মুখীন হয়েছিল এবং তার বজ্রের (বজ্রযুদ্ধ) সাহায্যে তাকে হত্যা করেছিল, যা বৃত্রের চোয়াল ভেঙ্গে দিয়েছিল I ভাগবদ পুরাণের সংস্করণ ব্যাখ্যা করে যে বৃত্র এমন ধরণের এক বৃহৎ সর্প/রাক্ষস ছিল যে সে সমস্তকিছুকে ঢেকে ফেলত, এমনকি গ্রহ  এবং নক্ষত্রদের বিপদে ফেলত যাতে প্রত্যেকে তাকে ভয় পেত I বৃত্র দেবতাদের সঙ্গে যুদ্ধে আধিপত্য লাভ করেছিল I ইন্দ্র শক্তিতে তাকে পরাজিত করতে পারে নি, তবে ঋষি দধীচির হাড় চাওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল I দধীচি তার হাড়কে বজ্রযুদ্ধে পরিনত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন যা ইন্দ্রকে অবশেষে  বিশাল সর্প বৃত্রকে পরাজিত এবং হত্যা করতে অনুমতি দিল I

হিব্রু বেদের শয়তান: সুন্দর আত্মা মারাত্মক সর্পে পরিনত হয়  

হিব্রু বেদ আবারও লিপিবদ্ধ করে যে একটি শক্তিশালী আত্মা আছে যে নিজেকে সর্বোচ্চ ঈশ্বরের এক প্রতিদ্বন্দী (শয়তান মানে ‘প্রতিদ্বন্দী’) রূপে স্থাপন করেছে I হিব্রু বেদ তাকে সুন্দর এবং বুদ্ধিমান হিসাবে বর্ণনা করেছে, প্রারম্ভে তাকে এক দেবতা রূপে সৃষ্টি করা হয়েছিল I এই বর্ণনাটিকে দেওয়া হয়েছে:   

12 “মনুষ্যসন্তান, সোরের রাজাকে নিয়ে এই শোকের গানটা গাও| তাকে বল, “প্রভু আমার সদাপ্রভু এই কথাগুলি বলেছেন:“‘তুমি এক জন আদর্শবান লোক ছিলে, প্রজ্ঞায পূর্ণ ও সর্বাঙ্গ সুন্দর|
13 তুমি ঈশ্বরের উদ্য়ান এদনে ছিলে| তোমার কাছে সব ধরণের মূল্যবান পাথর- চুনি, পীতমনি, হীরে, বৈদুর্য়্য়মণি গোমেদক সূর্য়কান্ত, নীলকান্ত, হরিম্মণি ও মরকত ছিল| প্রতিটি পাথরই স্বর্নখচিত ছিল| তোমার সৃষ্টির দিনে তুমি ঐ সৌন্দর্য়্য়ে ভূষিত হয়েছিলে|
14 আমি বিশেষ ভাবে তোমার জন্যই একজন করূবকে তোমার একজন অভিভাবক হিসেবে নিযুক্ত করেছিলাম| আমি তোমাকে ঈশ্বরের পবিত্র পর্বতের ওপর স্থাপন করেছিলাম| আগুনের মত চকচকে ঐ মণি মানিক্যের মধ্যে দিয়ে তুমি যাতায়াত করতে|
15 তোমাকে যখন সৃষ্টি করেছিলাম তখন তুমি ধার্মিক ও সত্‌ ছিলে| কিন্তু তারপর তোমার মধ্যে দুষ্টতা পাওয়া গেল|

যিহিষ্কেল 28:12b-15 

কেন এই শক্তিশালী দেবতার মধ্যে দুষ্টতা দেখা গিয়েছিল? হিব্রু বেদ ব্যাখ্যা কর

17 তোমার সৌন্দর্য়্য়ই তোমাকে গর্বিত করেছিল| তোমার গৌরবই তোমার প্রজ্ঞা নষ্ট করল তাই আমি তোমাকে মাটিতে আছাড় মারলাম| এখন অন্য রাজারা তোমার দিকে তাকিযে দেখে|

যিহিষ্কেল 28:17

এই দেবতার পতন আরও বর্ণনা করা হয়:

12 তুমি সকালের তারার মতো ছিলে| কিন্তু এখন তোমার আকাশ থেকে পতন হয়েছে| একদা পৃথিবীর সমস্ত জাতি তোমার সামনে মাথা নত করেছে| কিন্তু এখন তোমাকে কেটে ফেলা হয়েছে|
13 তুমি সর্বদা নিজেকে বলতে: “আমি হব পরাত্‌পরের মতো| আমি স্বর্গারোহণ করব| ঈশ্বরের নক্ষত্রমণ্ডলীর উর্দ্ধে আমার সিংহাসন উন্নীত করব| আমি পবিত্র দেবতাদের সমাগম পর্বতে অধিষ্ঠান করব| ঐ পর্বতের ওপর দেবতাদের সঙ্গে আমার সাক্ষাত হবে|
14 আমি মেঘের বেদীতে উঠব| আমি পরাত্‌পরের তুল্য হব|”

যিশাইয় 14:12-14

শয়তান এখন

এই শক্তিশালী আত্মাকে এখন শয়তান (মানে ‘ফরিয়াদী’) বা ডেভিল  বলা হয় তবে প্রথম থেকে তাকে লুসিফার বলা হত – ‘ঊষার পুত্র’ i হিব্রু বেদ বলে সে একটি আত্মা, এক মন্দ অসুর, তবে অঘাসুর এবং বৃত্রের মতন তাকে এক সর্প বা রাক্ষসের রূপ ধারণকারী হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে I এইভাবেই পৃথিবীতে তার নিক্ষেপ ঘটেছিল:   

7 এরপর স্বর্গে এক যুদ্ধ বেধে গেল৷ মীখায়েল ও তার অধীনে অন্যান্য স্বর্গদূতরা সেই নাগের সঙ্গে যুদ্ধ করল৷ সেই নাগও তার অপদূতদের সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধ করতে লাগল;
8 কিন্তু সাপ যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল না, তাই তারা স্বর্গের স্থান হারালো৷
9 সেই বিরাট নাগকে স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে ছুঁড়ে ফেলা হল৷ এই বিরাট নাগ হল সেই পুরানো নাগ যাকে দিয়াবল বা শয়তান বলা হয়, সে সমগ্র জগতকে ভ্রান্ত পথে নিয়ে যায়৷ সেই নাগ ও তার সঙ্গী অপদূতদের পৃথিবীতে ছুঁড়ে ফেলা

হল৷প্রকাশিত বাক্য 12:7-9  

শয়তান এখন প্রধান অশুর যে পুরো পৃথিবীকে বিপথে চালিত করে’ I আসলে, এক সর্পের রূপে, যে প্রথম মানবজাতিকে পপের কাছে নিয়ে এসেছিল I এটি স্বর্গে সত্যের যুগ, সত্য যুগকে শেষ করেছিল I  

শয়তান তার মূল বুদ্ধিমত্তা এবং সৌন্দর্যের কোনো কিছুকে হারায় নি, যা তাকে অধিকতর বিপজ্জনক করে তোলে যেহেতু সে চেহারার পেছনে তার প্রতারণাকে ভালভাবে লুকোতে পারে I বাইবেল বর্ণনা দেয় কীভাবে সে কার্য করে:

আর এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই, কারণ শয়তান নিজেই আলোর দেবদূত হয়ে মাস্ক্রেড করে2

করিন্থীয়ান 11:14

যীশু শয়তানের সঙ্গে যুদ্ধ করেন

যীশুকে এই প্রতিদ্বন্দীর সম্মুখীন হতে হয়েছিল I যোহনের দ্বারা বাপ্তাইজ হওয়ার ঠিক পরে তিনি বাণপ্রস্থ গ্রহণ করে জঙ্গলে প্রবেশ করলেন I তবে তিনি অবসর নিতে এইরকম করেন নি, কিন্তু যুদ্ধে তার প্রতিদ্বন্দীর সম্মুখীন হতে I এই যুদ্ধ শারীরিক ছিল না যেমনটি কৃষ্ণ এবং অঘাসুর বা ইন্দ্র ও বৃত্রের মধ্যে বর্ণিত হয়েছিল, কিন্তু প্রলোভনের এক যুদ্ধ I সুসমাচার এইভাবে এটিকে লিপিবদ্ধ করে: 

রপর যীশু পবিত্র আত্মায় পূর্ণ হয়ে যর্দন নদী থেকে ফিরে এলেন: আর আত্মার পরিচালনায় প্রান্তরের মধ্যে গেলেন৷
2 সেখানে চল্লিশ দিন ধরে দিযাবল তাঁকে প্রলোভনে ফেলতে চাইল৷ সেই সময় তিনি কিছুই খাদ্য গ্রহণ করেন নি৷ ঐ সময় পার হয়ে গেলে যীশুর খিদে পেল৷
3 তখন দিযাবল তাঁকে বলল, ‘তুমি যদি ঈশ্বরের পুত্র হও, তবে এই পাথরটিকে রুটি হয়ে য়েতে বল৷’
4 এর উত্তরে যীশু তাকে বললেন, ‘শাস্ত্রে লেখা আছে: ‘মানুষ কেবল রুটিতেই বাঁচে না৷” দ্বিতীয় বিবরণ 8:3
5 এরপর দিযাবল তাঁকে একটা উঁচু জায়গায় নিয়ে গেল আর মুহূর্তের মধ্যে জগতের সমস্ত রাজ্য দেখাল৷
6 দিযাবল যীশুকে বলল, ‘এই সব রাজ্যের পরাক্রম ও মহিমা আমি তোমায় দেব, কারণ এই সমস্তই আমাকে দেওযা হয়েছে, আর আমি যাকে চাই তাকেই এসব দিতে পারি৷
7 এখন তুমি যদি আমার উপাসনা কর তবে এসবই তোমার হবে৷’
8 এর উত্তরে যীশু তাকে বললেন, ‘শাস্ত্রে লেখা আছে:‘তুমি কেবল তোমার প্রভু ঈশ্বরকেই উপাসনা করবে, কেবল তাঁরই সেবা করবে!’দ্বিতীয় বিবরণ 6:13
9 এরপর দিযাবল তাঁকে জেরুশালেমে নিয়ে গিয়ে মন্দিরের চূড়ার ওপরে দাঁড় করিয়ে বলল, ‘তুমি যদি ঈশ্বরের পুত্র হও, তবে এখান থেকে লাফ দিয়ে নীচে পড়৷
10 কারণ শাস্ত্রে লেখা আছে:‘ঈশ্বর তাঁর স্বর্গদূতদের তোমার বিষয়ে আদেশ দেবেন য়েন তারা তোমাকে রক্ষা করে৷’ গীতসংহিতা 91 : 11
11 আরো লেখা আছে:‘তারা তোমাকে তাদের হাতে করে তুলে ধরবে য়েন তোমার পায়ে পাথরের আঘাত না লাগে৷” গীতসংহিতা 91 :12
12 এর উত্তরে যীশু তাকে বললেন, ‘শাস্ত্রে একথাও বলা হয়েছে:‘তুমি তোমার প্রভু ঈশ্বরের পরীক্ষা করো না৷” দ্বিতীয় বিবরণ 6:16
13 এইভাবে দিযাবল তাঁকে সমস্ত রকমের প্রলোভনে ফেলার চেষ্টা করে, আরো ভাল সুয়োগের অপেক্ষায় যীশুকে ছেড়ে চলে

গেল৷লুক: 4:1-13 

তাদের সংগ্রাম মানবীয় ইতিহাসের প্রারম্ভে শুরু হয়েছিল I এটি শিশু যীশুকে হত্যা করার প্রচেষ্টার মাধ্যমে যীশুর জন্মে পুনর্নবীকরণ করেছিল I যুদ্ধের এই দফায়, যীশু বিজয়ী প্রমাণিত হয়েছিলেন, শয়তানকে শারীরিকভাবে পরাজিত করার কারণে নয়, বরং তিনি তার সম্মুখে শয়তানের রাখা সমস্ত শক্তিশালী প্রলোভনগুলোকে প্রতিরোধ করেছিলেন সেই কারণে I এই দুজনের মধ্যে লড়াই সামনের মাসগুলোতে চলতে থাকত, সেই সর্পের দ্বারা ‘পাদমূল আঘাত করে’ এবং যীশুর দ্বারা ‘মস্তক চুর্ণ করে’ শেষ হত I তবে তার পূর্বে যীশুকে অন্ধকার মেটানোর শিক্ষা দিতে গুরুর ভূমিকা পালন করতে ছিল I     

যীশু – এমন কেউ যিনি আমাদের বোঝেন

যীশুর প্রলোভন এবং পরীক্ষার সময়কাল আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ I যীশুর সম্বন্ধে বাইবেল ব্যক্ত করে যে: 

18 যীশু নিজে পরীক্ষা ও দুঃখভোগের মধ্য দিয়ে গেছেন বলে যাঁরা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তাদের যীশু সাহায্য করতে

পারেন৷হিব্রু 2:18

এবং

15 আমাদের মহাযাজক যীশু আমাদের দুর্বলতার কথা জানেন৷ যীশু এই পৃথিবীতে সবরকমভাবে প্রলোভিত হয়েছিলেন৷ আমরা য়েভাবে পরীক্ষিত হই যীশু সেইভাবেই পরীক্ষিত হয়েছিলেন, কিন্তু তিনি কখনও পাপ করেন নি৷
16 সেইজন্যে বিশ্বাসে ভর করে করুণা সিংহাসনের সামনে এসো, যাতে আমাদের প্রযোজনে আমরা দয়া ও অনুগ্রহ পেতে

পারি৷হিব্রু 4:15-16

হিব্রু দূর্গা পূজা, ইয়োম কিপ্পুরে, মহা যাজক বলিদানগুলো নিয়ে আসতেন যাতে ইস্রায়েলীয়রা ক্ষমা পেতে পারে I এখন যীশু একজন যাজক হয়েছেন যিনি সহানুভূতি প্রকাশ করতে পারেন এবং আমাদের বুঝতে পারেন – এমনকি আমাদের প্রলোভনের মধ্যে সাহায্য করতে পারেন, স্পষ্টতই তিনি স্বয়ং প্রলুব্ধ হয়েছিলেন – তথাপি পাপ ছাড়া I আমরা সর্বোচ্চ ঈশ্বরের সামনে আস্থা রাখতে পারি কারণ মহা যাজক আমাদের অত্যন্ত কঠিন প্রলোভন সমূহের মধ্য দিয়ে অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন I তিনি এমন একজন যিনি আমাদের বোঝেন এবং আমাদের নিজস্ব প্রলোভন এবং পাপ সমেত আমাদের সাহায্য করতে পারেন I প্রশ্ন হল: আমরা কি তাঁকে করতে দেব?     

स्वामी जोन: प्रयासिट्टा र आत्म-अभिषेक सिकाउँदै


আমরা কৃষ্ণের জন্মের মাধ্যম যীশুর (যেশু সৎসংগ) জন্মের অনুসন্ধান  করেছি I পুরান লিপিবদ্ধ করেছে যে কৃষ্ণের এক জ্যেষ্ঠ ভাই ছিল বলরাম (বলরামা) I নন্দ ছিলেন কৃষ্ণের পালক-পিতা যিনি বলরামকেও কৃষ্ণের জেষ্ঠ্য ভাই হিসাবে মানুষ করেছিলেন I মহাকাব্যগুলোতে ভাই বলরাম এবং কৃষ্ণের দ্বারা যুদ্ধে বিভিন্ন অসুরদের একসাথে মিলে পরাজিত করার অনেক শৈশবের কাহিনী সমূহ পাওয়া যায় I কৃষ্ণ ও বলরাম তাদের অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে অংশীদার হয়েছিল – দুষ্টকে পরাজিত করতে I     

কৃষ্ণ ও বলরামের মতন, যীশু এবং যোহন

কৃষ্ণের মতন যীশুর এক নিকট আত্মীয় ছিল, যোহন, যার সঙ্গে তিনি তাঁর মিশন ভাগ করেছিলেন I যীশু এবং যোহনের মধ্যে সম্পর্ক তাদের মায়েদের মাধ্যমে গড়ে উঠেছিল আর যোহন যীশুর চেয়ে তিন মাস আগে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন I সুসমাচার প্রথমে যোহনকে তুলে ধরে যীশুর শিক্ষা এবং নিরাময়ের মিশন বর্ণনা করে I আমরা যদি প্রথমে যোহনের শিক্ষার নিচে না বসি তবে যীশুর মিশনকে নাও বুঝতে পারি I যোহন সুসমাচারের জন্য সূচনার বিন্দু হিসাবে অনুতাপ (প্রায়শ্চিত্ত) এবং শোধনকে (আমাদের নিজেদের অভিষেক) শিক্ষা দিতে চেষ্টা করেছিলেন I       

বাপ্তিস্মদাতা যোহন: আমাদের প্রস্তুত করতে আসন্ন স্বামী কে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল

সুসমাচারগুলোর মধ্যে প্রায়শই ‘বাপ্তিস্মদাতা যোহন’ বলে ডাকা হয় কারণ তিনি অনুতাপের (প্রায়শ্চিত্তা) একটি চিহ্ন হিসাবে শুদ্ধ করার উপরে জোর দিয়েছিলেন, যোহনের আগমনকে প্রাচীন হিব্রুর মধ্যে তার বাস করার কয়েক শত বছর পূর্বে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল I   

3 এই সময় সিয়োন এবং জেরুশালেমে তখনও বসবাস করা লোকদের পবিত্র মানুষ বলে গণ্য করা হবে| যাদের নাম বিশেষ তালিকায থাকবে তারাই ভাগ্যবান, পবিত্র মানুষ বলে বিবেচিত হবে| এবং এই তালিকাভুক্ত লোকদেরই বাস করে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে|

4 প্রভু সিয়োনের মহিলাদের থেকে নোংরা ধুয়ে মুছে ফেলবেন| তিনি জেরুশালেম থেকে রক্ত ধুয়ে ফেলবেন| প্রভু ন্যাযের নীতিটি ব্যবহার করবেন এবং ন্যায় বিচার করবেন| তিনি প্রজ্জ্বলিত করবার নীতিটি ব্যবহার করে প্রতিটি জিনিষকে শুদ্ধ করে তুলবেন|

5 তারপর প্রভু সিয়োন পর্বতের ভিত্তির ওপর আকাশে এবং তার সমাবেশ স্থানগুলিতে দিনে একটি ধোঁযার মেঘ ও রাত্রেও একটি জ্বলন্ত অগ্নিশিখা সৃষ্টি করবেন| সেখানে প্রতিটি সমাবেশের ওপর রক্ষার জন্য একটি আচ্ছাদন থাকবে|

যিশাইয় 40:3-5

যিশাইয় ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে ঈশ্বরের জন্য ‘পথ প্রস্তুত করতে’ ‘প্রান্তরে’ কেউ আসবেন I তিনি বাধা সমূহকে ঝামেলামুক্ত করবেন যাতে করে ‘সদাপ্রভুর মহিমা প্রকাশিত হবে’ I    

ঐতিহাসিক কালপঞ্জির মধ্যে যিশাইয় এবং অন্যান্য ঋষিগণ (ভাববাদীরা)I যীশুর পূর্বে মালাখি সর্বশেষ ছিলেন I

যিশাইয়র 300 বছর পরে মালাখি হিব্রু বেদের শেষ বইটি (পুরোনো নিয়ম) লিখেছিলেন I এই আসন্ন প্রস্তুতকারী সম্বন্ধে যিশাইয় যা বলেছিলেন মালাখি সেটিকে আরও বিস্তৃত করেছিলেন I তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করলেন:     

ভু সর্বশক্তিমান বলেন, “দেখ আমি আমার বার্তাবাহককে পাঠাচ্ছি এবং সে আমার আগে আগে আমার জন্য পথ পরিষ্কার করবে| তোমরা য়ে প্রভুর অন্বেষণ করছ, তিনি হঠাত্‌ তাঁর মন্দিরে আসবেন| হ্যাঁ, নতুন চুক্তির বার্তাবাহক যাঁকে তোমরা চাও, তিনি আসছেন|

মালাখি 3:1

মীখা ভবিষ্যদ্বাণী করলেন যে ‘বার্তাবাহক’ প্রস্তুতকারীর আগমনের ঠিক পরে, ঈশ্বর স্বয়ং তাঁর মন্দিরে আবির্ভূত হবেন I এটি দেহধারী ঈশ্বর, যীশুকে  বোঝায়, যিনি যোহনের ঠিক পরে আসছেন    

স্বামী যোহন

যোহনের সম্বন্ধে সুসমাচার লিপিবদ্ধ করে:

80 সেই শিশু য়োহন বড় হয়ে উঠতে লাগলেন, আর দিন দিন আত্মায় শক্তিশালী হয়ে উঠতে থাকলেন৷ ইস্রায়েলীয়দের কাছে প্রকাশ্যে বেরিয়ে আসার আগে পর্যন্ত তিনি নির্জন স্থানগুলিতে জীবনযাপন করছিলেন৷

बसे।লুক 1:80

যখন তিনি প্রান্তরে বাস করতেন:

4 য়োহন উটের লোমের তৈরী পোশাক পরতেন, কোমরে চামড়ার বেল্ট বাঁধতেন৷পঙ্গপালও বনমধু ছিল তাঁর

খাদ্য৷ थियो।মথি 3:4

বলরামের মধ্যে প্রচন্ড শারীরিক শক্তি ছিল I যোহনের প্রচন্ড মানসিক এবং আত্মিক শক্তি তাকে প্রায় শৈশব কাল থেকেই বানপ্রস্থ (বনবাসী) আশ্রমে নিয়ে গিয়েছিল I  বানপ্রস্থ হিসাবে বস্ত্র পরিধান এবং খাদ্য খেতে তার শক্তিশালী আত্মা তাকে চালিত করেছিল, যদিও অবসর গ্রহনের জন্য নয় বরং তার মিশনের প্রস্তুতির জন্য I কিভাবে প্রলোভনকে প্রতিরোধ করতে হয় তা বুঝতে, তার প্রান্তরের জীবন তার নিজেকে জানার জন্য তাকে গড়ে তুলেছিল I র্তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন যে তিনি কোনো অবতার নন, নাতো তিনি মন্দিরের কোনো যাজক I তার আত্ম-উপলব্ধি তাকে এক মহান শিক্ষক হিসাবে সকলের দ্বারা স্বীকৃত হতে চালিত করেছিল I যেহেতু স্বামী সংস্কৃত (स्वामी) থেকে আসে যার অর্থ ‘একজন যিনি জানেন বা নিজের সম্বন্ধে দক্ষ হয়’, এটি যোহনকে এক স্বামী রূপে বিবেচনা করার পক্ষে উপযুক্ত I        

স্বামী যোহন – ইতিহাসের মধ্যে দৃঢ়ভাবে স্থাপিত

সুসমাচার নথিবদ্ধ করে:

বিরিয় কৈসরের রাজত্বের পনের বছরের মাথায় যিহূদিযার রাজ্যপাল ছিলেন পন্তীয় পীলাত৷ সেই সময় হেরোদ ছিলেন গালীলের শাসনকর্তা এবং তাঁর ভাই ফিলিপ ছিলেন যিতুরিযা ও ত্রাখোনীতি যার শাসনকর্তা, লুষাণিয় ছিলেন অবিলীনীর শাসনকর্তা৷
2 হামন ও কায়াফা ছিলেন ইহুদীদের মহাযাজক৷ সেই সময় প্রান্তরের মধ্যে সখরিয়র পুত্র য়োহনের কাছে ঈশ্বরের আদেশ

এল৷।লুক:3:1-2

এটি যোহনের মিশন শুরু করে এবং এটি তাকে অনেক সু-পরিচিত ঐতিহাসিক লোকেদের পাশে স্থাপন করে I সেই সময়ের শাসকদের প্রতি বিস্তৃত উল্লেখ লক্ষ্য করুন I এটি সুসমাচারের বিবরণের যথার্থতাকে ঐতিহাসিকভাবে যাচাই করতে আমাদের অনুমতি দেয় I এইরকম করার দ্বারা আমরা দেখি যে তিবিরিয় কৈসর, পন্তিয়াস পীলাত, হেরোদ ফিলিপ, লুষাণিয়, হানন এবং কায়াফা সেই সমস্ত লোক যাদেরকে ধর্ম নিরপেক্ষ রোম এবং যিহূদি ঐতিহাসিকদের থেকে জানা যায় I বিভিন্ন শিরোনামগুলোকে যা বিভিন্ন শাসকদের দেওয়া হয় (যেমন পন্তিয়াস পীলাতের জন্য ‘দেশাধ্যক্ষ্য’, হেরোদের জন্য ‘তাঁবেদার রাজা’ ইত্যাদি) যাচাই করে ঐতিহাসিকভাবে সঠিক এবং যথার্থ বলে পাওয়া গেছে I এইরূপে আমরা মূল্যায়ন করতে পারি যে এই বিবরণটিকে বিশ্বস্তসূত্রে লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল I  

তিবিরিয় কৈসর 14 খ্রাষ্টাব্দে রোমের সিংহাসনে আরোহন করেছিলেন I তার রাজত্বের পঞ্চদশতম বছরের অর্থ হ’ল যোহন 29 খ্রীষ্টাব্দে তার মিশন শুরু  করেছিলেন I

স্বামী যোহনের বার্তা – অনুতাপ এবং স্বীকারোক্তি

যোহনের বার্তা কি ছিল? তার জীবন-শৈলীর মতন, তার বার্তা ছিল সরল এবং শক্তিশালী I সুসসমাচারটি বলে:

ই সময় বাপ্তিস্মদাতা য়োহন এসে যিহূদিয়ার প্রান্তর এলাকায় প্রচার করতে লাগলেন৷
2 তিনি বললেন, ‘তোমরা মন ফেরাও, দেখ স্বর্গরাজ্য এসে পড়ল৷’

মথি 3:1-2

প্রথমে তার বার্তা ছিল একটি ঘটনার ঘোষণা – স্বর্গরাজ্য ‘নিকটস্থ’ I তবে লোকেরা এই রাজ্যের জন্য প্রস্তুত হবে না যতক্ষণ না তারা অনুতাপ করে I যদি না তারা ‘অনুতাপ’ করে তারা এই রাজ্যকে হারাবে I অনুতাপের অর্থ হ’ল “আপনার মনকে পরিবর্তন করুন; পুনর্বিবেচনা করা; ভিন্নভাবে চিন্তা করা”I এক অর্থে এটি প্রায়শ্চিত্তার (প্রায়শ্চিত্ত) মতন I কিন্তু তাদের ভিন্নভাবে চিন্তা করার বিষয় কি ছিল? যোহনের বার্তার প্রতি তাকিয়ে আমরা দেখতে পারি I লোকেরা তার বার্তার প্রতি প্রতিক্রিয়া দিয়েছিল এর দ্বারা:  

6 তারা এসে নিজেদের পাপ স্বীকার করত আর তিনি তাদের যর্দন নদীতে বাপ্তাইজ

করতেন৷।মথি 3:6

আমাদের স্বাভাবিক ঝোঁক হ’ল আমাদের পাপগুলোকে লুকোনো এবং ভান করা যে আমরা কোনো অন্যায় করিনি I আমাদের পাপের অনুতাপ এবং স্বীকারোক্তি আমাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব কারণ এটি আমাদেরকে দোষ এবং লজ্জার প্রতি প্রকাশ করে I যোহন প্রচার করলেন যে স্বর্গরাজ্যের জন্য তাদেরকে প্রস্তুত করতে লোকেদের অনুতাপ (প্রায়শ্চিত্ত) করার প্রয়োজন I 

এই অনুতাপের একটি চিহ্ন হিসাবে তাদেরকে যোহনের দ্বারা নদীর মধ্যে তখন  ‘বাপ্তিস্ম’ নিতে হত I বাপ্তিস্ম জলের দ্বারা একটি বিধিগত ধৌতকরণ বা শুদ্ধিকরণ I এছাড়াও লোকেরা তখন তাদেরকে বিধিগতভাবে খাঁটি রাখতে কাপ এবং বাসনপত্র ‘বাপ্তিস্ম’ (ধৌত) করত I পুরোহিতদের দ্বারা উৎসর্গীকরণ এবং উৎসবগুলোর প্রস্তুতির জন্য অভিসেকের (অভিষেক) মধ্যে মূর্তির বিধিগতভাবে স্নানের সঙ্গে আমরা পরিচিত I মানবজাতিকে ‘ঈশ্বরের প্রতিমূর্তির মধ্যে সৃষ্টি করা হয়েছিল’ I আর তাই যোহনের বিধিগত নদীর স্নান একটি অভিসেকের মতন ছিল যা প্রতীকাত্মম্ভাবে ঈশ্বরের অনুতপ্ত প্রতিমূর্তি-ধারণকারীদের স্বর্গরাজ্যের জন্য প্রস্তুত করছিল I আজ বাপ্তিস্ম সাধারণতঃ একটি খ্রীষ্টান অনুশীলন হিসাবে বিবেচনা করা হয়, তবে এখানে এর ব্যবহার ছিল বিস্তৃত প্রকৃতির যা ঈশ্বরের রাজ্যের জন্য প্রস্তুতির জন শুদ্ধ করার ক্ষেত্রে তাত্পর্যপূর্ণ I      

প্রায়শ্চিত্তের ফল

অনেকে যোহনের কাছে বাপ্তিস্মের জন্য এসেছিল, তবে সকলে সৎভাবে তাদের পাপ কবুল এবং স্বীকার করেনি I সুসমাচারটি বলে:

7 য়োহন যখন দেখলেন য়ে অনেক ফরীশীও সদ্দূকীতাঁর কাছে বাপ্তিস্মের জন্য আসছে, তখন তিনি তাদের বললেন, ‘তোমরা সাপের বাচ্চারা! ঈশ্বরের আসন্ন ক্রোধ থেকে নিষ্কৃতি পাবার জন্য কে তোমাদের চেতনা দিল?
8 তোমরা কাজে দেখাও, যাতে বোঝা যায় য়ে তোমরা সত্যিই মন ফিরিয়েছ৷
9 আর নিজেরা মনে মনে একথা চিন্তা করে গর্ব করো না য়ে, ‘আমাদের পিতৃপুরুষ অব্রাহাম৷’ আমি তোমাদের বলছি, ঈশ্বর এই পাথরগুলিকেও অব্রাহামের সন্তানে পরিণত করতে পারেন৷
10 প্রতিটি গাছের গোড়াতে কুড়ুল লাগানোই আছে৷ আর য়ে গাছে ভাল ফল ধরে না, তা কেটে আগুনে ফেলে দেওয়া হবে৷’

।মথি 3:7-10

ফারিশী এবং সদ্দুকীরা মশির ব্যবস্থার শিক্ষক ছিল, ব্যবস্থার সমস্ত ধার্মিক রীতিগুলো পালন করতে কঠিন পরিশ্রম করছিল I প্রত্যেকে ভাবত যে এই  নেতারা, তাদের ধর্মীয় জ্ঞান এবং যোগ্যতার সাহায্যে ঈশ্বরের দ্বারা অনুমোদিত একজন ব্যক্তি ছিল I  কিন্তু যোহন তাদেরকে একটি “সাপের বাচ্চা’ বলে ডাকতেন এবং তাদেরকে তাদের আসন্ন বিচারের সম্বন্ধে সতর্ক করেছিলেন I   

কেন?

অনুতাপের সাথে ‘সামঞ্জস্যপূর্ণ ফল উৎপণ্য না করার’ দ্বারা দেখিয়েছিল যে তারা প্রকৃতপক্ষে অনুতাপ করেনি I তারা তাদের পাপগুলো স্বীকার করেনি তবে তাদের পাপ লুকোতে তারা তাদের ধর্মীয় রীতিগুলো ব্যবহার করছিল I তাদের ধর্মীয় ঐতিহ্য, যদিও এটি ভাল ছিল, তাদেরকে অনুতপ্ত করার বদলে অহংকারী করে তুলেছিল I    

অনুতাপের ফল

স্বীকারোক্তি এবং অনুতাপ ভিন্নভাবে বেঁচে থাকার এক অপেক্ষা নিয়ে এসেছিল I লোকেরা এই আলোচনার মধ্যে যোহনকে জিজ্ঞাসা করল কিভাবে তারা তাদের অনুতাপকে প্রদর্শন করতে পারে:

10 তখন লোকরা তাঁকে জিজ্ঞেস করল, ‘তাহলে আমাদের কি করতে হবে?’
11 এর উত্তরে তিনি তাদের বললেন, ‘যদি কারো দুটো জামা থাকে, তবে যার নেই তাকে য়েন তার থেকে একটি জামা দেয়; আর যার খাবার আছে, সেও অন্য়ের সঙ্গে সেইরকম য়েন ভাগ করে নেয়৷’
12 কয়েকজন কর আদায়কারীও বাপ্তাইজহবার জন্য এল৷ তারা তাঁকে বলল, ‘গুরু, আমরা কি করব?’
13 তখন তিনি তাদের বললেন, ‘যতটা কর আদায় করার কথা তার চেয়ে বেশী আদায় কোরো না৷’
14 কয়েকজন সৈনিকও তাঁকে জিজ্ঞেস করল, ‘আমাদের কি হবে? আমরা কি করব? তিনি তাদের বললেন, ‘কারো কাছ থেকে জোর করে কোন অর্থ নিও না৷ কারো প্রতি মিথ্যা দোষারোপ করো না৷ তোমাদের যা বেতন তাতেই সন্তুষ্ট থেকো৷’

লুক 3:10-14

যোহন কি খ্রীষ্ট ছিলেন?

তার বার্তার শক্তির কারণে, অনেকে আশ্চর্য হয়েছিল প্রাচীন কাল থেকে প্রতিশ্রুত আসন্ন ঈশ্বরের দেহধারী রূপে যোহন সেই মসীহ নাতো I সুসমাচারটি এই আলোচনাকে লিপিবদ্ধ করে: 

15 লোকরা মনে মনে আশা করেছিল, ‘য়ে য়োহনই হয়তো তাদের সেই প্রত্যাশিত খ্রীষ্ট৷’
16 তাদের এই রকম চিন্তার জবাবে য়োহন বললেন, ‘আমি তোমাদের জলে বাপ্তাইজ করি, কিন্তু আমার থেকে আরো শক্তিশালী একজন আসছেন, আমি তাঁর জুতোর ফিতে খোলবার য়োগ্য নই৷ তিনিই তোমাদের পবিত্র আত্মায় ও আগুনে বাপ্তাইজ করবেন৷
17 কুলোর বাতাস দিয়ে খামার পরিষ্কার করার জন্য কুলো তাঁর হাতেই আছে, তা দিয়ে তিনি সব শস্য জড়ো করে তাঁর গোলায় তুলবেন আর অনির্বাণ আগুনে তূষ পুড়িয়ে দেবেন৷’
18 আরো বিভিন্ন উপদেশের মাধ্যমে লোকদের উত্‌সাহিত করে য়োহন তাদের কাছে সুসমাচার প্রচার করবেন৷

লুক 3:15-18

যোহন তাদেরকে বললেন সেই মসীহ (খ্রীষ্ট) শীঘ্রই আসছেন, অর্থাৎ যীশু I

স্বামী যোহনের মিশন এবং আমরা

ঈশ্বরের রাজ্যর জন্য লোকেদের প্রস্তুত করার দ্বারা যোহন যীশুর সঙ্গে অংশীদারিত্ব করলেন, যেমনভাবে বলরাম দুষ্টের বিরুদ্ধে তাদের মিশনে কৃষ্ণের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করেছিলেন I যোহন তাদেরকে আরও অধিক ব্যবস্থা প্রদান করে প্রস্তুত করেন নি, বরং তাদেরকে তাদের পাপের থেকে অনুতাপ (প্রায়শ্চিত্ত) করতে আহ্বান করে এবং বিধিগতভাবে নদীতে স্নান করে (আত্ম-অভিসেক) দেখাতে যে তাদের আন্তরিক অনুতাপ তাদেরকে এখন তৈরী করেছে I    

তবে কঠোর তপস্বী বিধি গ্রহণ করা এতটা কঠিন কারণ আমাদের লজ্জা ও অপরাধবোধকে প্রকাশ করে I ধর্মীয় নেতারা তখন নিজেদেরকে অনুতাপ করতে নিয়ে আসতে পারেনি I পরিবর্তে তারা তাদের পাপ লুকোতে ধর্মকে ব্যবহার করেছিল I সেই পচ্ছন্দের কারণে যখন যীশু এলেন, তখন তারা ঈশ্বরের রাজ্যকে বুঝতে অপ্রস্তুত থাকল I যোহনের সাবধানবাণী আজকের মতনই প্রাসঙ্গিক I তিনি দাবি করেন যে আমরা পাপের থেকে অনুতাপ করি I আমরা করব কি? 

শয়তানের দ্বারা প্রলোভিত হওয়ার সময়ে যীশুর ব্যক্তিত্বকে আমরা অন্বেষণ করতে থাকি I