রামায়ণের থেকে উত্তম এক প্রেমের মহাকাব্য – আপনি এর ভাগীদার হতে পারেন

যখন কেউ রচিত সমস্ত মহান মহাকাব্য এবং প্রেমের গল্পগুলি বিবেচনা করে, রামায়ণ নিশ্চিতভাবে তালিকার শীর্ষে আসে I এই মহাকাব্যের অনেক মহৎ দিক রয়েছে:   

  • রাম এবং সীতার মধ্যে প্রেম I
  • সিংহাসনের জন্য লড়াইয়ের পরিবর্তে জঙ্গলের নির্বাসন বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে রামের বিনম্রতা  
  • রামের উত্তমতা রাবনের মন্দতার বিরুদ্ধে দাঁড় করায়
  • রাবনের বন্দীদশায় থাকাকালীন সীতার পবিত্রতা
  • ওনাকে বাঁচাতে রামের সাহসিকতা  
রামায়ণের অনেক নাট্য রূপান্তরগুলোকে অনুষ্ঠিত করা হয়েছে

মন্দের উপরে ভালর বিজয়ের দীর্ঘ যাত্রার ফলস্বরূপ, যা স্বয়ং এর বীরদের চরিত্রগুলিকে সামনে নিয়ে আসে, তা রামায়ণকে এক সময়াতীত মহাকাব্য করে তুলেছে I এই কারণের জন্য, সম্প্রদায় প্রতি বছর রামলীলা অনুষ্ঠিত করে, বিশেষত বিজয়াদশমী (দশেহরা, দসারা বা দশাইন) উৎসবের সময়ে, যা রামায়ণের থেকে নেওয়া প্রায়শই সাহিত্যের উপর ভিত্তিশীল, যেমন রামচরিতমানস I

আমরা রামায়ণের ‘মধ্যে’ ভাগীদার হতে পারি না

রামায়ণের বৃহৎ দুর্বলতা যে আমরা কেবল পড়তে, শুনতে বা নাটক দেখতে পারি I কেউ কেউ রামলীলায় অংশগ্রহণ করতে পারে, তবে রামলীলা সত্য কাহিনী নয় I এটি কি ভাল হত না যদি আমরা প্রকৃতপক্ষে অযোধ্যার রাজা দশরথের রামায়ণের জগতে প্রবেশ করতে পারতাম এবং রামের সঙ্গে তার রোমাঞ্চে সঙ্গী হতাম? 

সেই মহাকাব্য যার ‘মধ্যে’ আমাদের প্রবেশ করতে আমন্ত্রিত করা হয়েছে

যদিও সেটি আমাদের কাছে উপলব্ধ নয়, তবে আর একটি মহাকাব্য আছে, রামায়ণের মতন একই পর্যায়ে, যার মধ্যে আমাদের প্রবেশ করতে আমন্ত্রিত করা হয়েছে I রামায়ণের সাথে এই মহাকাব্যটির অনেক মিল আছে যাতে আমরা এই বাস্তবিক জীবনের মহাকাব্যকে বুঝতে রামায়ণকে এক আদর্শ রূপে ব্যবহার করতে পারি I এই মহাকাব্যটি প্রাচীন হিব্রু বেদকে গঠন করে, যা এখন প্রায়শই বাইবেল বলে পরিচিত I তবে এই মহাকাব্যটি এই জগতে অনুষ্ঠিত হয় যার মধ্যে আমরা বাস করি, আমাদেরকে এর নাটকে প্রবেশ করতে অনুমতি দেয় I যেহেতু এটি আমাদের কাছে নতুন হতে পারে, আমরা রামায়ণের চশমা দিয়ে এর দিকে তাকিয়ে, এর গল্পটিকে বুঝতে পারি এবং ভূমিকাটি এর মধ্যে পালন করি I        

হিব্রু বেদ: রামায়ণের মতন একটি প্রেমের মহাকাব্য

রামায়ণের কেন্দ্র বিন্দু রাম এবং সীতার প্রেম কথা

যদিও অনেক ছোট ছোট কাহিনীর সাথে মিলে একটি মহাকাব্য রচিত হয়, রামায়ণের মূলটি নায়ক রাম এবং নায়িকা সীতার মধ্যে এক প্রেম কাহিনী রচনা করে I ঠিক একই ভাবে, যদিও হিব্রু মহাকাব্য অনেক ছোট ছোট কাহিনীর সাথে একটি বিরাট মহাকাব্য রচনা করে, বাইবেলের কেন্দ্র বিন্দু হ’ল একটি প্রেম কাহিনী যীশু (নায়ক) এবং এই জগতের লোকেদের মধ্যে যারা তাঁর কনে হয় যেমন সীতা রামের কনে হয়েছিল I সীতা যেমন রামায়ণের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল ঠিক তেমনি বাইবেলীয় কাহিনীর মধ্যে আমাদেরকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হয় I  

আরম্ভ: প্রেম হারিয়ে যায়

তবে শুরুতে আমাদের আরম্ভ করা যাক I বাইবেল বলে যে পৃথিবীর মাটি থেকে ঈশ্বর মানুষকে সৃষ্টি করলেন, অনুরূপভাবে সীতা বেশিরভাগ রামায়ণের পাঠ্যগুলির মধ্যে পৃথিবী থেকে বের হয়ে এসেছিল I ঈশ্বর এটি করেছিলেন কারণ তিনি মানুষকে ভালোবেসেছিলেন, তাঁর সাথে এক সম্পর্ক চেয়েছিলেন I প্রাচীন হিব্রু বেদে লক্ষ্য করুন ঈশ্বর লোকেদের জন্য কিভাবে তাঁর আকাঙ্খা বর্ণনা করলেন I     

23 আমি তার জমিতে বহু বীজ বপন করব| লো-রুহামাকে আমি কৃপা দেখাবো| লো-অম্মিকে, আমি বলব, ‘তুমি আমার লোক’ এবং তারা আমাকে বলবে, ‘আপনি আমাদের ঈশ্বর|”‘

হোশেয়া 2:23

খলনায়কের দ্বারা নায়িকাকে বন্দী

রাবণ সীতাকে অপহরণ করে, রামের থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করে

যাইহোক, ঈশ্বর যদিও মানবজাতিকে এই সম্পর্কের জন্য সৃষ্টি করলেন, একজন খলনায়ক সম্পর্কটিকে ধ্বংস করল I যেভাবে রাবণ সীতাকে অপহরণ করল এবং তার রাজ্যে তাকে বন্দী করে রাখল, সেইভাবে ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী, শয়তানকে, প্রায়শই এক অশুর-সম সর্প হিসাবে চিত্রিত করা হয়, যে মানবজাতির বন্দীত্বকে নিয়ে এসেছিল I বাইবেল এই বাক্যগুলির মধ্য দিয়ে তার নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আমাদের পরিস্থিতিকে বর্ণনা করে I  

তীতে পাপের দরুন ও ঈশ্বরের বিরুদ্ধে অপরাধের দরুন তোমাদের আত্মিক জীবন মৃত ছিল৷
2 হ্যাঁ, অতীতে ঐসব পাপ নিয়ে তোমরা জীবনযাপন করতে৷ জগত্ য়েভাবে চলে তোমরা সেভাবেই চলতে৷ তোমরা আকাশের মন্দ শক্তির অধিপতির অনুসরণকারী ছিলে৷ সেই একই আত্মা এখনও যাঁরা ঈশ্বরের অবাধ্য তাদের মধ্যে ক্রিয়াশীল৷
3 অতীতে আমরা সকলে ঐ লোকদের মত চলতাম৷ আমাদের কুপ্রকৃতির লালসাকে চরিতার্থ করতে চেষ্টা করতাম৷ আমরা আমাদের দেহ ও মনের অভিলাষ অনুযাযী চলতাম৷ আমাদের য়ে অবস্থা ছিল তার দরুন ঐশ্বরিক ক্রোধ আমাদের ওপর নেমে আসতে পারত, কারণ আমরা অন্য আর পাঁচজনের মতোই ছিলা

ম৷ইফিষীয় 2:1-3

আসন্ন সংঘর্ষ গড়ে ওঠা

রাবণ যখন সীতাকে তার রাজ্যে বন্দী করল, রাম তখন তাকে সাবধান করলেন যে তিনি তাকে উদ্ধার করবেন এবং তাকে ধ্বংস করবেন I ঠিক একই ভাবে, শয়তান যখন পাপ এবং মৃত্যুর মধ্যে আমাদের পতনকে নিয়ে এল, মানব ইতিহাসের শুরুতে, ঈশ্বর শয়তানকে সাবধান করলেন, স্ত্রীর বংশের মাধ্যমে কিভাবে তিনি তাকে ধ্বংস করবেন – আর এটাই হেঁয়ালি যা বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হল I   

ঈশ্বর এই বীজের আগমন সম্পর্কে প্রাচীন কালেই সুনিশিত করেছিলেন:

ঠিক এই ভাবেই রামায়ণ রাবণ এবং রামের মধ্যে চরম পরীক্ষার পরিকল্পনা করল:

  • একটি অসম্ভব গর্ভধারণ (দশরথের পত্নীরা স্বর্গীয় হস্তক্ষেপ ব্যতীত গর্ভধারণ করতে পারেনি),
  • এক পুত্রকে দিয়ে দেওয়া (দশরথকে রামকে বনবাসে ছেড়ে দিতে হয়েছিল),
  • লোকেদের উদ্ধার করা (রাক্ষস সুবাহ জঙ্গলের মুনিদের উপরে অত্যাচার করত, বিশেষ করে বিশ্বামিত্রকে, যতক্ষণ না পর্যন্ত রাম তাকে ধ্বংস করলেন),  
  • এক রাজকীয় বংশের স্থাপনা (রাম অবশেষে রাজা হিসাবে রাজত্ব করতে সক্ষম হলেন) I

নায়ক তার প্রেমকে বাঁচাতে আসে

সুসমাচার প্রকাশ করে যে যীশু সেই বংশ রূপে আসতে কুমারী স্ত্রীর মাধ্যমে প্রতিশ্রুত হয়েছিলেন I রাম যেমনভাবে রাবণের দ্বারা বন্দী সীতাকে উদ্ধার করতে এসেছিলেন, ঠিক তেমনি যীশু জগতে এসেছিলেন তাদেরকে উদ্ধার করতে যারা মৃত্যু এবং পাপের দ্বারা বন্দী ছিল I যদিও রামের মতন তিনি স্বর্গীয় রাজবংশ থেকে ছিলেন, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে সুবিধা এবং ক্ষমতা থেকে নিজেকে খালি করেছিলেন I বাইবেল এটিকে এইভাবে বর্ণনা করে 

5 খ্রীষ্ট যীশুর মধ্যে য়ে ভাব ছিল, তোমাদের মধ্যেও সেই মনোভাব থাকুক৷
6 যদিও সমস্ত দিক দিয়ে খ্রীষ্ট ছিলেন ঈশ্বরের মতো৷ তিনি ঈশ্বরের সমান ছিলেন; কিন্তু ঈশ্বরের সঙ্গে সমান থাকাটা তিনি আঁকড়ে ধরে থাকার মত এমন কিছু বলে মনে করেন নি৷ তিনি ঈশ্বরের স্তর থেকে নামলেন,
7 নিজের উচ্চস্থান ছেড়ে দিলেন এবং একজন ক্রীতদাসের মতো হলেন৷ তিনি মানুষের মত হয়ে জন্ম নিলেন ও একজন দাসের মতো হলেন৷
8 তিনি যখন মানব জীবনযাপন করলেন, তখন তিনি সম্পূর্ণভাবে ঈশ্বরের বাধ্যতা স্বীকার করলেন৷ সেই বাধ্যতার দরুণ তাঁর মৃত্যু হল, আর ক্রুশের ওপর তাঁকে প্রাণ দিতে হল৷

ফিলিপীয় 2:5b-8

পরাজয়ের মাধ্যমে বিজয়

রাম শারীরিক যুদ্ধের মাধ্যমে রাবণকে পরাজিত করেন

এখানে রামায়ণ এবং বাইবেলীয় মহাকাব্যের মধ্যে বৃহৎ পার্থক্য ঘটে I রামায়ণে, রাম পরাক্রমের বলের দ্বারা রাবণকে পরাজিত করেন I তিনি তাকে এক বীরতাপূর্ণ যুদ্ধে হত্যা করেন I

যীশুর বিজয় এক প্রতীয়মান পরাজয়ের মাধ্যমে এসেছিল 

যীশুর জন্য বিজয় পথ ভিন্ন ছিল; এটি পরাজয়ের পথের মাধ্যমে চলেছিল I এক শারীরিক যুদ্ধের পরিবর্তে, যীশু এক শারীরিক মৃত্যু বরণ করলেন, যেমনটি পূর্বে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল I তিনি এইরকম করলেন কারণ আমাদের বন্দীত্ব স্বয়ং মৃত্যুর কাছে, তাই তাঁর মৃত্যুকে পরাজিত করার প্রয়োজন ছিল I তিনি মৃত্যু থেকে উত্থিত হওয়ার দ্বারা এইরকম করলেন, যেটিকে আমরা ঐতিহাসিকভাবে পরীক্ষা করতে পারি I আমাদের জন্য মৃত্যু বরণ করে, তিনি আক্ষরিকভাবে আমাদের স্বপক্ষে স্বয়ংকে দান করেছিলেন I যেরকমভাবে বাইবেল যীশুর সম্বন্ধে বলে     

14 খ্রীষ্ট আমাদের জন্যে নিজেকে দিলেন, যাতে সমস্ত মন্দ থেকে আমাদের উদ্ধার করতে পারেন, যাতে আমরা সত্ কর্মে আগ্রহী ও পরিশুদ্ধ মানুষ হিসেবে কেবল তাঁর

হই৷তীত 2:14

প্রেমিকার আমন্ত্রণ…

রামায়ণে, রাবনের পরাজয়ের পরে রাম এবং সীতার পুনর্মিলন হয়েছিল I বাইবেলের মহাকাব্যে, এখন সেই যীশু মৃত্যুকে পরাজিত করে, অনুরূপভাবে আপনার এবং আমাকে ভক্তির মধ্যে সাড়া দিয়ে তাঁর হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ প্রসারিত করলেন, I যারা এটিকে পছন্দ করল তারা তাঁর কনে হ’ল I  

25 স্বামীরা, তোমরাও তোমাদের স্ত্রীদের অনুরূপ ভালবাসো, য়েমন খ্রীষ্ট তাঁর মণ্ডলীকে ভালবেসেছেন ও তার জন্য নিজের প্রাণ উত্‌সর্গ করেছেন৷
26 মণ্ডলীকে পবিত্র করার জন্য খ্রীষ্ট মৃত্যুভোগ করলেন৷ সুসমাচারের বাক্যরূপ জলে ধুয়ে তাকে পরিষ্কার করলেন, যাতে তিনি তা নিজেকে উপহার দিতে পারেন৷
27 খ্রীষ্ট তাকে পরিষ্কার করলেন যাতে সে নিজেকে একজন জ্যোতির্মযী বধূ হিসাবে পবিত্র ও অনিন্দনীয়ভাবে উপহার দিতে পারে, যাতে তার কোন কলঙ্ক বা কুজন বা কোন অসম্পূর্ণতা না থাকে৷

ইফিষীয় 5:25-27

32 এই নিগূঢ় সত্য মহান; আর আমি বলি এটা খ্রীষ্ট ও তাঁর মণ্ডলীর উদ্দেশ্যে প্রয়োজ্য৷

ইফিষীয় 5:32 

…সুন্দর এবং পবিত্র হতে

সীতা সুন্দর হওয়ার কারণে রাম তাকে ভালবাসেন  

রামায়ণে, রাম সীতাকে ভালবাসেন কারণ তিনি সুন্দর ছিলেন I তাঁর কাছে এক  পবিত্র চরিত্রও ছিল I বাইবেলীয় মহাকাব্য এই জগতে আমাদের সাথে উদঘাটিত হয় যারা পবিত্র নয়, তবে সুন্দর ও পবিত্র করে তাদেরকে গড়ে তুলতে, নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যের সাথে সম্পূর্ণ হয়   

22 কিন্তু আত্মার ফল হল ভালবাসা, আনন্দ, শান্তি, ধৈর্য্য, দয়া, মঙ্গলভাব, বিশ্বস্ততা, মৃদুতা ও আত্মসংযম৷
23 এই সবের বিরুদ্ধে কোন বিধি-ব্যবস্থা

নেই৷গালাতীয় 5:22-23

…অগ্নি পরীক্ষার পর

যীশু তাকে অভ্যন্তরীনভাবে সুন্দর করতে তাঁর কনেকে ভালবাসেন – পরীক্ষার মাধ্যমে 

যদিও রাবণের পরাজয়ের পর রাম ও সীতা পুনর্মিলিত হলেন, সীতার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠতে লাগল I কেউ কেউ তাকে রাবনের নিয়ন্ত্রণে থাকাকালীন অশুদ্ধ হওয়ার অভিযোগ করল I অতএব সীতাকে তার নির্দোষিতা প্রমাণ  করতে অগ্নি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হল I বাইবেলীয় মহাকাব্যে, পাপ এবং মৃত্যুর উপর বিজয় প্রাপ্ত করার পরে, যীশু স্বর্গে আরোহন করলেন তাঁর প্রেমকে প্রস্তুত করতে যার জন্য তিনি ফিরে আসবেন I আমরা যখন তাঁর থেকে বিচ্ছিন হই, আমাদেরকেও অগ্নি পরীক্ষা, বিচারের মধ্য দিয়ে যেতে হবে, যাকে বাইবেল আগুনের সাথে তুলনা করে; আমাদের নির্দোষিতা প্রমাণ করতে নয়, আমাদেরকে তার থেকে শুদ্ধ করতে যা তাঁর পবিত্র প্রেমকে দুষিত করে I বাইবেল এই চিত্রটিকে ব্যবহার করে       

3 প্রশংসিত হোন ঈশ্বর ও আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের পিতা৷ ঈশ্বরের মহাদয়ায় তিনি আমাদের নতুন জীবন দিয়েছেন৷ খ্রীষ্টের পুনরুত্থান দ্বারা এই নতুন জীবন এনেছে এক নতুন প্রত্যাশা৷
4 আমরা এখন ঈশ্বরের আশীর্বাদ প্রত্যাশা করব যা তিনি সন্তানদের জন্য স্বর্গে সঞ্চিত রেখেছেন, যা কখনও ধ্বংস বা বিনষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না৷
5 বিশ্বাসের মাধ্যমে ঈশ্বরের শক্তি তোমাদের রক্ষা করছে এবং য়ে পর্যন্ত না তোমরা পরিত্রাণ পাও সেই পর্যন্ত নিরাপদে রাখছে৷ সেই পরিত্রাণের আযোজন করা আছে যাতে তা শেষকালে তোমরা পাও৷
6 আপাততঃ বিভিন্ন দুঃখ কষ্ট তোমাদের ব্যথিত করলেও ঐ কথা ভেবে তোমরা আনন্দ কর৷
7 এসব দুঃখ কষ্ট আসে কেন? এরা আসে যাতে তোমাদের বিশ্বাস খাঁটি বলে প্রমাণিত হয়৷ য়ে সোনা ক্ষয় পায় তাকেও আগুনে পুড়িয়ে খাঁটি করা হয়, আর তোমাদের খাঁটি বিশ্বাস তো সেই সোনার চাইতেও মূল্যবান৷ বিশ্বাসের পরীক্ষায় যদি দেখা যায় য়ে তোমাদের বিশ্বাস অটল আছে, তবে যীশু খ্রীষ্টের পুনরাগমনের সময়ে তোমরা কত না প্রশংসা, গৌরব ও সম্মান পাবে৷
8 তাঁকে না দেখেও তোমরা তাঁকে ভালবাস৷ তোমরা তাঁকে না দেখতে পেয়েও বিশ্বাস করছ বলে তোমরা এক অনির্বচনীয় গৌরবময় মহা আনন্দে পরিপূর্ণ হচ্ছ৷
9 তোমাদের বিশ্বাসের এক লক্ষ্য আছে, আর সেই লক্ষ্য হল তোমাদের আত্মার পরিত্রাণ যা তোমরা লাভ করছ৷

1 পিতর 1:3-9

… মহান বিবাহের জন্য 

বাইবেলীয় মহাকাব্য এক বিবাহ দিয়ে শেষ হয়

বাইবেল ঘোষণা করে যে যীশু আবার ফিরে আসবেন তাঁর প্রেমের জন্য এবং এইরকম করার দ্বারা তাকে তাঁর কনে করবেন I তাই, অন্য সমস্ত মহান মহাকাব্যগুলিতে যেমন পাওয়া যায়, বাইবেল একটি বিবাহের সাথে শেষ হয় I যীশু যে মূল্য দিয়েছিলেন তা এই বিবাহের জন্য রাস্তা তৈরী করেছিল I এই বিবাহ অলংকারিক নয় বরং সত্য, এবং যারা তাঁর বিবাহের নিমন্ত্রণ স্বীকার করছেন তিনি তাদেরকে ‘খ্রীষ্টের কনে’ বলেন I যেমন এটি বলে:     

7 এস, আমরা আনন্দ ও উল্লাস করি, আর তাঁর মহিমা করি, কারণ মেষশাবকের বিবাহের দিন এল৷ তাঁর বধূও বিবাহের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছে৷প্রকাশি

ত বাক্য 19:7

যারা যীশুর মুক্তির উপহারকে পায় তারা তাঁর ‘কনে’ হয় I তিনি এই স্বর্গীয় বিবাহটিকে আমাদের সকলকে দিয়েছেন I তাঁর বিবাহতে আসার জন্য আপনার এবং আমার জন্য এই আমন্ত্রণ দিয়ে বাইবেল শেষ হয় I   

17 আত্মা ও বধূ বলছেন, ‘এস!’ য়ে একথা শোনে সেও বলুক, ‘এস!’ আর য়ে পিপাসিত সেও আসুক৷ য়ে চায় সে এসে বিনামূল্যে জীবন জল পান করুক৷প্রকাশিত

বাক্য 22:17

মহাকাব্যের মধ্যে প্রবেশ করা: সাড়া দেওয়ার দ্বারা

যীশুর মধ্যে আমাদের সাথে প্রস্তাবিত সম্পর্ককে বুঝতে রামায়ণের সীতা ও রামের মধ্যে সম্পর্কটিকে একটি চশমা রূপে ব্যবহার করা হয়েছে I এটি ঈশ্বরের স্বর্গীয় রোমান্স যিনি আমাদের ভালবাসেন I তিনি সবাইকে কনে হিসাবে বিবাহ করবেন যারা তাঁর বিবাহের প্রস্তাবকে স্বীকার করে I অন্য যে কোনো বিবাহের মতন আপনাকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হয়, প্রস্তাবটিকে স্বীকার করা বা না করা I প্রস্তাবটিকে স্বীকার করে আপনি সেই সময়াতীত মহাকাব্যের মধ্যে প্রবেশ করেন যা এমনকি রামায়ণ মহাকাব্যের আড়ম্বরকে ছাড়িয়ে যায় I      

যীশুর পুনরুত্থান: মিথ বা ইতিহাস?

পুরান, রামায়ণ, এবং মহাভারত কালের শেষ পর্যন্ত জীবিত থাকার জন্য খ্যাতিসম্পন্ন আট চিরঞ্জীবি সমূহের বিবরণ দেয় I এই মিথগুলি যদি ঐতিহাসিক হয় তবে এই চিরঞ্জীবিগুলি আজিও পৃথিবীতে বেঁচে থাকত, এইরকম করতে  আরও কয়েক হাজার বছর ধরে চলতে থাকত I   

এই চিরঞ্জীবিগুলি হ’ল:

  • বেদ ব্যাস, যিনি মহাভারত রচনা করেছিলেন, যিনি ত্রেতা যুগের শেষ দিকে জন্মগ্রহণ করেছিলেন I
  • হনুমান, একজন ব্রহ্মচারী, রামের সেবা করেছিল যেমন রামায়ণে ব্যাখ্যা করা হয়েছে I
  • পরশুরাম, পুরোহিত যোদ্ধা এবং বিষ্ণুর ষষ্ট অবতার, সমস্ত যুদ্ধে নিপুণ I  
  • বিভীষণ, রাবণের ভাই, যিনি রামের কাছে সমর্পণ করেন I রাবণকে মারার পরে রাম বিভীষণকে লঙ্কার রাজা করেছিলেন I মহাযুগের শেষ পর্যন্ত বেঁচে থাকার জন্য তার দীর্ঘায়ুর বর ছিল I
  • অশ্বথামা, এবং কৃপা কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের একমাত্র বেঁচে থাকা লোক ছিল I অশ্বথামা অবৈধভাবে কয়েকজন লোকদের হত্যা করেছিল তাই কৃষ্ণ তাকে শ্রাপ দিয়েছিলেন যে সে দুরারোগ্য ক্ষত নিয়ে পৃথিবীর চারিদিকে ঘুরে বেড়াবে I  
  • মহাবলী (রাজা বালী চক্রবর্তী) কেরলের আশেপাশে কোনো জায়গায় একজন দৈত্য-রাজা ছিল I সে এতটাই ক্ষমতাশালী ছিল যে দেবতারা তার থেকে ভয় পেত I তাই বামন, বিষ্ণুর খর্বাকৃত অবতার, তার সাথে ছলনা করে তাকে পাতালে পাঠিয়ে দিল I
  • কৃপা, মহাভারতের রাজপুত্রদের গুরু,  কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের কৌরবদের তিনজন জীবিতদের মধ্যে একজন ছিলেন, এই ধরণের আশ্চর্যজনক গুরু হওয়াতে কৃষ্ণ, তাকে অমরত্ব প্রদান করলেন এবং তিনি আজও জীবিত আছেন I   
  • মার্কন্ডেয় মহাভারতে উল্লিখিত একজন প্রাচীন ঋষি, যাকে তাঁর প্রতি নিষ্ঠার কারণে শিব তাকে অমরত্ব দান করলেন I 

চিরঞ্জীবিগুলি কি ঐতিহাসিক?

যদিও অনুপ্রেরণা হিসাবে শ্রদ্ধাশীল, চিরঞ্জীবির ঐতিহাসিক স্বীকৃতি অসমর্থিত I কোনো ঐতিহাসিকের কাছে তাদের সঙ্গে চাক্ষুষ সাক্ষাতকারের কথা লিপিবদ্ধ  নেই I পুরাণগুলির মধ্যে উল্লিখিত অনেক জায়গাগুলিকে ভৌগলিকভাবে স্থিত করা যেতে পারে না I লিখিত স্রোতগুলির পক্ষে, যেমন মহাভারত, রামায়ণ এবং পুরাণগুলি, ঐতহাসিকভাবে যাচাই করা কঠিন I পন্ডিতরা মূল্যায়ন করেন, উদাহরণস্বরূপ, যে খ্রীষ্টপূর্বাব্দ পঞ্চম শতাব্দীতে রামায়ণ লেখা হয়েছিল I কিন্তু পরিদৃশ্যটি 870000 পূর্বে ত্রেতাযুগে মেলে, যা এই ঘটনাগুলির জন্য কদাচিৎ কোনো চাক্ষুষ সুত্র প্রস্তুত করে I অনুরূপভাবে খ্রীষ্টপূর্বাব্দ 3 এবং খ্রীষ্টাব্দ 3 এর মহামাঝি কোনো সময়ে মহাভারত রচনা করা হয়েছিল, অথচ ঘটনাগুলির বিবরণ সম্ভবত 8 থেকে 9 খ্রীষ্টপূর্বাব্দের মধ্যে পাওয়া যায় I রচয়িতাগণ তাদের দ্বারা বর্ণিত ঘটনাগুলি প্রতক্ষ্য করেন নি যেহেতু সেগুলি কয়েকশত বছর পূর্বে ঘটেছিল I        

যীশুর পুনরুত্থান ঐতিহাসিকভাবে পরীক্ষিত

যীশুর পুনরুত্থান এবং নতুন জীবন সম্বন্ধে বাইবেলের দাবি কি বলে? যীশুর পুনরুত্থান কি চিরঞ্জীবির মতন পৌরাণিক, বা এটি কি ঐতিহাসিক?

যেহেতু এটি আমাদেরকে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত করে সেইহেতু এটি পরীক্ষা করার যোগ্য I আমরা সবাই মারা যাব, এতে কিছু এসে যায় না কত টাকা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য লক্ষ্যগুলিকে আমরা অর্জন করি I যদি যীশু মৃত্যুকে পরাজিত করে থাকেন তাহলে এটি আমাদের নিজের নিকটস্থ মৃত্যুর সম্মুখে আশা জাগায় I এখানে আমরা কতিপয় ঐতিহাসিক তথ্যকে দেখব যা তাঁর পুনরুত্থানকে সমর্থন করে I   

যীশুর ঐতিহাসিক পৃষ্ঠভূমি

যীশুর যে অস্তিত্ব ছিল এবং ইতিহাসের গতিকে পরিবর্তন করে এক প্রকাশ্য মৃত্যু বরণ করেছিলেন তা নিশ্চিত I ধর্মনিরপেক্ষ ইতিহাস যীশু এবং তাঁর সময়ের জগতের উপরে তাঁর প্রভাব সম্বন্ধে বিভিন্ন উল্লেখ সমূহকে লিপিবদ্ধ করে I দুটির প্রতি দেখা যাক I

ট্যাসিটাস  

রোমীয় রাজ্যপাল তথা ঐতিহাসিক ট্যাসিটাস এক আকর্ষনীয় উল্লেখ লিখেছিলেন যখন প্রথম শতাব্দীতে রোমীয় সম্রাট নীরো খ্রীষ্টানদের (65 খ্রীষ্টাব্দে) প্রাণদণ্ড দিয়েছিলেন I ট্যাসিটাস যা লিখেছিলেন তা এখানে রয়েছে:

‘নীরো… অত্যন্ত নিদারূণ অত্যাচারের সাথে ব্যক্তিদের শাস্তি দিতেন, যাদের সাধারণত খ্রীষ্টান বলা হত, যাদেরকে তাদের বিশালত্বর জন্য ঘৃনা করা হত I নামটির প্রতিষ্ঠাতা খ্রিস্তোসকে, তিবিরিয় অঞ্চলের যিহূদিয়ার ক্ষমতা সম্পন্ন প্রতিনিধি পন্তিয়াস পীলাতের দ্বারা মৃত্যু দণ্ড দেওয়া হয়েছিল; তবে এক সময়ের জন্য দমন করা ক্ষতিকারক কুসংস্কার, না কেবল যিহূদিয়ার মধ্য দিয়ে প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল, যেখানে অপকর্মের উৎপত্তি হয়েছিল, বরং রোমীয় শহরের মধ্য দিয়েও ছড়িয়ে পড়েছিল’      

ট্যাসিটাস I আন্নালস XV. 44. 112 CE

ট্যাসিটাস নিশ্চিত করেন যে যীশু ছিলেন:

  1. এক ঐতিহাসিক ব্যক্তি;
  2. পন্তিয়াস পীলাতের দ্বারা প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত;
  3. যিহূদিয়া/যিরূশালেম
  4. 65 খ্রীষ্টাব্দের মধ্যে, যীশুর প্রতি বিশ্বাস ভূমধ্যসাগর অতিক্রান্ত করে রোম পর্যন্ত এমন শক্তির সাথে ছড়িয়ে পড়েছিল যে রোমের সম্রাট অনুভব করলেন যে তাকে এর বিহিত করতে হবে I   

লক্ষ্য করুন যে ট্যাসিটাস এই বিষয়গুলি একটি প্রতিকূল সাক্ষী  হিসাবে বলছেন, যেহেতু তিনি বিবেচনা করেন যীশু একটি ‘দুষ্ট কুসংস্কার’ আন্দোলন শুরু করেছিলেন I তিনি এর বিরোধিতা করেন, তবে এর ঐতিহাসিকতা অস্বীকার করেন না I    

যোশেফাস

যোশেফাস, এক যিহূদি সামরিক নেতা/ঐতিহাসিক প্রথম শতাব্দীতে লিখতে  গিয়ে, যিহূদি ইতিহাস তাদের শুরু থেকে তার সময় পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত করেছিলেন I এইরকম করতে গিয়ে তিনি এই বাক্যগুলির সাহায্যে যীশুর সময় এবং জীবনীকে আবৃত করেছিলেন I 

‘এই সময়ে সেখানে একজন এক জ্ঞানী ব্যক্তি ছিলেন … যীশু …ভাল এবং … ধার্মিক I এবং যিহূদি ও অন্যান্য জাতিদের মধ্য থেকে অনেক লোক তাঁর শিষ্য হয়েছিল I পীলাত তাকে ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মারা যেতে দণ্ডিত করেছিলেন I এবং যারা তাঁর শিষ্য হলেন তারা তাঁর শিষ্যত্ব পরিত্যাগ করে নি I তারা জানিয়েছিল যে তিনি তার ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার তিনদিন পরে আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং তিনি জীবিত ছিলেন’  

যোশেফাস 90 খ্রীষ্টাব্দ আন্টিকুইটিস xviii. 33 

যোশেফাস নিশ্চিত করেন যে:

  1. যীশু ছিলেন,
  2. তিনি একজন ধার্মিক শিক্ষক ছিলেন,
  3. তাঁর শিষ্যগণ মৃত্যু থেকে যীশুর পুনরুত্থানকে প্রকাশ্যে ঘোষণা  করেছিলেন I   

এই ঐতিহাসিক ঝলকগুলি দেখায় যে খ্রীষ্টের মৃত্যু এক সু-পরিচিত ঘটনা এবং তাঁর শিষ্যরা তাঁর পুনরুত্থানের বিষয়টিকে গ্রীকো-রোমীয় জগতের উপরে জোর দিয়েছিল I

যোশেফাস ও ট্যাসিটাস সুনিশ্চিত করে যে যীশুর আন্দোলন যিহূদিয়াতে শুরু হয়েছিল তবে শীঘ্রই রোমে পৌঁছায় 

বাইবেল থেকে ঐতিহাসিক পৃষ্ঠভূমি

লুক, একজন ঐতিহাসিক, আরও ব্যাখ্যা করেন কিভাবে এই বিশ্বাসটি প্রাচীন  জগতে বিকশিত হয়েছিল I বাইবেলের প্রেরিতের বইয়ের থেকে এখানে তার অংশ দেওয়া হয়েছে: 

তর ও য়োহন যখন লোকদের সাথে কথা বলছিলেন, তখন মন্দির থেকে ইহুদী যাজকরা, মন্দিরের রক্ষীবাহিনীর সেনাপতি ও সদ্দূকীরা তাঁদের কাছে এসে হাজির হল৷
2 পিতর ও য়োহন লোকদের শিক্ষা দিচ্ছিলেন ও মৃতদের মধ্য থেকে যীশুর পুনরুত্থানের বিষয়ে লোকদের কাছে বলছিলেন বলে ঐ লোকেরা বিরক্ত হয়েছিল৷
3 তারা পিতর ও য়োহনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেল ও পরের দিন পর্যন্ত তাদের কারাগারে রাখল; কারণ তখন সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল৷
4 কিন্তু অনেকে যাঁরা পিতর ও য়োহনের মুখ থেকে সেই শিক্ষা শুনেছিল, তাদের মধ্যে অনেকেই যীশুর উপর বিশ্বাস করল৷ যাঁরা বিশ্বাস করল, সেই বিশ্বাসীদের মধ্যে পুরুষ মানুষই ছিল প্রায় পাঁচ হাজার৷
5 পরের দিন তাদের ইহুদী নেতারা, সমাজপতি ও ব্যবস্থার শিক্ষকরা সকলে জেরুশালেমে জড়ো হলেন৷
6 সেখানে হানন মহাযাজক, কাযাফা, য়োহন, আলেকসান্দার ও মহাযাজকের পরিবারের সব লোক ছিলেন৷
7 পিতর ও য়োহনকে তাদের সামনে দাঁড় করিয়ে ইহুদী নেতারা প্রশ্ন করলেন, ‘তোমরা কোন্ শক্তিতে বা অধিকারে এসব কাজ করছ?’
8 তখন পিতর পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ হয়ে তাঁদের বললেন, ‘মাননীয় জন-নেতৃবৃন্দ ও সমাজপতিরা:
9 একজন খোঁড়া লোকের উপকার করার জন্য যদি আজ আমাদের প্রশ্ন করা হয় য়ে সে কিভাবে সুস্থ হল,
10 তাহলে আপনারা সকলে ও ইস্রায়েলের সকল লোক একথা জানুক, য়ে এটা সেই নাসরতীয় যীশু খ্রীষ্টের শক্তিতে হল! যাকে আপনারা ক্রুশে বিদ্ধ করে হত্যা করেছিলেন, ঈশ্বর তাকে মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত করেছেন৷ হ্যাঁ, তাঁরই মাধ্যমে এই লোক আজ সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে৷
11 যীশু হলেন‘সেই পাথর যাকে রাজমিস্ত্রিরা অর্থাত্ আপনারা অগ্রাহ্য় করে সরিয়ে দিয়েছিলেন৷ তিনিই এখন কোণের প্রধান পাথর হয়ে উঠেছেন৷’
12 যীশুই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি মানুষকে উদ্ধার করতে পারেন৷ জগতে তাঁর নামই একমাত্র শক্তি যা মানুষকে উদ্ধার করতে পারে৷’
13 পিতর ও য়োহনের নির্ভীকতা দেখে ও তাঁরা য়ে লেখাপড়া না জানা সাধারণ মানুষ তা বুঝতে পেরে পর্ষদ আশ্চর্য হয়ে গেল৷ তখন তারা বুঝতে পারল য়ে পিতর ও য়োহন যীশুর সঙ্গে ছিলেন৷
14 য়ে লোকটি সুস্থ হয়েছিল, সে পিতর ও য়োহনের সঙ্গে আছে দেখে পর্ষদ কিছুই বলতে পারল না৷
15 তারা পিতর ও য়োহনকে সভাকক্ষ থেকে বাইরে য়েতে বলল৷ তাঁরা বাইরে গেলে নেতৃবর্গ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বলল,
16 ‘এই লোকদের নিয়ে কি করা যায়? কারণ এটা ঠিক য়ে ওরা য়ে উল্লেখয়োগ্য অলৌকিক কাজ করেছে তা জেরুশালেমের সকল লোক জেনে গেছে; আর আমরাও একথা অস্বীকার করতে পারি না৷
17 কিন্তু একথা য়েন লোকদের মধ্যে আর না ছড়ায়, তাই এস আমরা এদের ভয় দেখিয়ে সাবধান করে দিই, য়েন এই লোকের নামের বিষয় উল্লেখ করে তারা কোন কথা না বলে৷’

প্রেরিত 4:1-17 প্রায় 63 খ্রীষ্টাব্দ

কর্ত্তৃপক্ষ সমূহের থেকে আরও বিরোধিতা

17 এরপর মহাযাজক এবং তাঁর সঙ্গীরা অর্থাত্ সদ্দূকী দলের লোকেরা ঈর্ষায় জ্বলে উঠল৷
18 তারা প্রেরিতদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে আটকে দিল;
19 কিন্তু রাতের বেলায় প্রভুর এক দূত সেই কারাগারের দরজা খুলে দিলেন৷ তিনি তাদের পথ দেখিয়ে কারাগারের বাইরে নিয়ে গিয়ে বললেন,
20 ‘যাও মন্দিরের মধ্যে দাঁড়িয়ে তোমরা লোকদের এই নতুন জীবনের সকল বার্তা শোনাও৷’
21 প্রেরিতেরা আজ্ঞা অনুসারে ভোর বেলায় মন্দিরে গিয়ে শিক্ষা প্রচার করতে লাগলেন৷এদিকে মহাযাজক ও তার সঙ্গীরা, ইহুদী সমাজের গন্যমান্য লোকদের এক মহাসভা ডাকল; আর প্রেরিতদের সেখানে নিয়ে আসার জন্য কারাগারে লোক পাঠালো৷
22 কিন্তু সেই লোকেরা কারাগারে এসে কারাগারের মধ্যে প্রেরিতদের দেখতে পেল না৷ তাই তারা ফিরে গিয়ে বলল,
23 ‘আমরা দেখলাম কারাগারের তালা বেশ ভালভাবেই বন্ধ আছে, দরজায় দরজায় পাহারাদাররা দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু দরজা খুলে ভেতরে গিয়ে আমরা কাউকে দেখতে পেলাম না, দেখলাম কারাগার খালি পড়ে আছে৷’
24 মন্দির রক্ষীবাহিনীর প্রধান ও প্রধান যাজকেরা এই কথা শুনে হতবুদ্ধি হয়ে ভাবতে লাগল, ‘এর পরিণতি কি হবে?’
25 সেই সময় একজন এসে তাদের বলল, ‘শুনুন! য়ে লোকদের আপনারা কারাগারে রেখেছিলেন, দেখলাম তাঁরা মন্দিরের মধ্যে দাঁড়িয়ে লোকদের শিক্ষা দিচ্ছেন৷’
26 তখন রক্ষীবাহিনীর প্রধান তার লোকদের নিয়ে সেখানে গেল ও প্রেরিতদের নিয়ে এল৷ তারা কোনরকম জোর করল না, কারণ তারা লোকদের ভয় করতে লাগল, পাছে তারা পাথর ছুঁড়ে তাদের মেরে ফেলে৷
27 তারা প্রেরিতদের নিয়ে এসে ইহুদী নেতাদের সামনে দাঁড় করালে মহাযাজক প্রেরিতদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেন৷
28 তিনি বললেন, ‘ঐ মানুষটির বিষয়ে কোন শিক্ষা দিতে আমরা তোমাদের দৃঢ়ভাবে নিষেধ করেছিলাম৷ ভেবে দেখ তোমরা কি করেছ? তোমরা তোমাদের শিক্ষায় জেরুশালেম মাতিয়ে তুলেছ, আর সেই লোকের মৃত্যুর জন্য সব দোষ আমাদের ওপর চাপাতে চাইছ৷’
29 তখন পিতর ও অন্য প্রেরিতেরা এর উত্তরে বললেন, ‘মানুষের হুকুম মানার চেয়ে বরং ঈশ্বরের আদেশ আমাদের অবশ্যই পালন করতে হবে৷
30 আপনারা যীশুকে হত্যা করেছিলেন, তাঁকে বিদ্ধ করে ক্রুশে টাঙ্গিয়ে দিয়েছিলেন, কিন্তু ঈশ্বর আমাদের সেই পিতৃপুরুষদের ঈশ্বর যীশুকে মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত করেছেন৷
31 সেই যীশুকে ঈশ্বর নেতা ও ত্রাণকর্তারূপে উন্নত করে নিজের ডান দিকে স্থাপন করেছেন, যাতে ইহুদীরা তাদের মন ফিরায় ও তিনি তাদের পাপের ক্ষমা দিতে পারেন৷
32 আর আমরা এসব ঘটতে দেখেছি, বলতে পারি য়ে এসব সত্য৷ পবিত্র আত্মাও দেখাচ্ছেন য়ে এসব সত্য৷ যাঁরা তাঁর বাধ্য তাদের তিনি পবিত্র আত্মা দান করেছেন৷’
33 মহাসভার সভ্যরা এসব কথা শুনে প্রচণ্ড রেগে উঠল, আর তারা প্রেরিতদের হত্যা করতে চাইল৷
34 কিন্তু সেই মহাসভার একজন সভ্য, গমলীয়েল ইনি ব্যবস্থার শিক্ষক, যাকে সকলে মান্য করত, তিনি উঠে দাঁড়িয়ে ঐ প্রেরিতদের কিছু সময়ের জন্য সভা থেকে বাইরে নিয়ে য়েতে বললেন৷
35 পরে তিনি তাদের বললেন, ‘হে ইস্রায়েলীরা, এই লোকদের নিয়ে তোমরা যা করতে যাচ্ছ সে বিষয়ে সাবধান৷
36 কারণ এর কিছু আগে থুদা নামে একজন লোক নিজেকে মহান বলে দাবী করেছিল৷ প্রায় চারশো লোক তার অনুসারী হয়েছিল; আর সে নিহত হলে তার অনুগামীরা সব য়ে যার পালিয়ে গেল, তার কোন চিহ্নই রইল না৷
37 থুদার পরে আদমসুমারীর সময় গালীলীয় যিহূদার উদয় হয়, সেও বেশ কিছু লোককে তার দলে টানে; পরে সেও নিহত হয়, আর তার অনুগামীরাও ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়৷
38 তাই বর্তমানে এই অবস্থা দেখে আমি তোমাদের বলছি: এই লোকেদের থেকে দূরে থাক, তাদের ছেড়ে দাও, কারণ তাদের এই পরিকল্পনা অথবা এই কাজ যদি মানুষের থেকে হয় তবে তা ব্যর্থ হবে৷
39 কিন্তু যদি ঈশ্বরের কাছ থেকে হয়ে থাকে, তাহলে তোমরা তা বন্ধ করতে পারবে না৷ হয়তো দেখবে য়ে তোমরা ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছ৷’ তখন তারা এই পরামর্শ গ্রহণ করল৷
40 তারা প্রেরিতদের ভেতরে ডেকে এনে চাবুক মারল, যীশুর নামে একটি কথাও বলতে নিষেধ করে তাদের ছেড়ে দিল৷
41 প্রেরিতেরা মহাসভার সভাস্থল থেকে বেরিয়ে চলে গেলেন, আর যীশুর নামের জন্য তাঁরা য়ে নির্য়াতন ও অপমান সহ্য করার য়োগ্য বলে বিবেচিত হয়েছেন, এই কথা ভেবে আনন্দ করতে লাগ

লেন৷প্রেরিত 5:17-41

পর্যবেক্ষণ করুন কিভাবে যিহূদি নেতারা এই নতুন বিশ্বাসকে বন্ধ করতে বিরাট  পর্যায় পর্যন্ত গিয়েছিল I এই প্রাথমিক বিতর্কগুলি যিরূশালেমে ঘটেছিল, সেই একই নগরে যেখানে মাত্র কয়েক সপ্তাহ পূর্বে তারা যীশুকে প্রকাশ্যে প্রাণদণ্ড দিয়েছিল I   

এই ঐতিহাসিক তথ্য থেকে আমরা বিকল্পকে তুলনা করে পুনরুত্থানটিকে পরীক্ষা করতে পারি; দেখি এর অর্থ কি দাঁড়ায় I 

যীশুর দেহ এবং সমাধি

মৃত খ্রীষ্টের সমাধি সম্পর্কে কেবল দুটি বিকল্প সমূহ বিদ্যমান I হয় সমাধিটি খালি ছিল সেই ইস্টার রবিবারের সকালে বা এটিতে তাঁর দেহ রয়েছিল I সেখানে আর কোনো বিকল্প ছিল না I  

যিহূদি নেতারা পুনরুত্থানের বার্তার বিরোধিতা করেছিল তবে একটি দেহের সাহায্যে এটিকে খন্ডন করে নি

সমাধিটি যেখানে যীশুর দেহ ছিল মন্দির থেকে বেশি দুরে ছিল না যেখানে তাঁর শিষ্যরা জনতার ভীড়ের উদ্দেশ্যে চিত্কার করছিল যে তিনি মৃত থেকে উঠেছেন I যিহূদি নেতাদের পক্ষে এটি সহজ হত তাদের পুনরুত্থানের বার্তাকে অস্বীকার করতে শুধুমাত্র সমাধিটির মধ্যে দেহটিকে দেখানোর দ্বারা I ইতিহাস দেখায় যে পুনরুত্থানের বার্তা (যেটিকে মিথ্যা প্রমান করা যায় তখনও সমাধির মধ্যে একটি দেহের সাথে) সমাধির কাছেই শুরু হয়েছিল, যেখানে প্রত্যেকের কাছে প্রমাণটি সহজেই উপলব্ধ ছিল I যেহেতু যিহূদি নেতারা একটি দেহ দেখিয়ে তাদের বার্তাকে খন্ডন করেনি কারণ সমাধির মধ্যে দেখানোর জন্য কোনো দেহ ছিল না I     

যিরূশালেমে কয়েক হাজার লোক পুনরুত্থানের বার্তাকে বিশ্বাস করেছিল 

এই সময়ে যিরূশালেমে হাজার হাজার লোক যীশুর শারীরিক পুনরুত্থানে বিশ্বাস করতে ধর্মান্তরিত হয়েছিল I আপনি যদি ভীড়ের মধ্যে একজন হয়ে পিতরকে শুনতেন, অবাক হতেন বার্তাটি সত্য কিনা, তাহলে আপনি কি কমপক্ষে একটি মধ্যাহ্নভোজের বিরাম নিয়ে সমাধিতে গিয়ে দেখতেন না সমাধিতে তখনও দেহটা আছে কি না? যীশুর দেহটি যদি সমাধির মধ্যে তখনও থাকত তাহলে প্রেরিতদের বার্তাটিকে কেউ বিশ্বাস করত না I কিন্তু ইতিহাস লিপিবদ্ধ করে যে তারা যিরূশালেমে শুরু করে কয়েক হাজার লোকদের লাভ করেছিলেন I যিরূশালেমের মধ্যে চারিদিকে তখনও একটি দেহের সাথে সেটা অসম্ভব হত I সমাধির মধ্যে যীশুর দেহ থাকা অবাস্তবতার দিকে নিয়ে যায় I এটার কোনো অর্থ হয় না I    

গুগল ম্যাপ দ্বারা যিরূশালেমের নক্সা I যীশুর সমাধির জন্য দুটি সম্ভাব্য স্থান (কোনটাই একটি দেহ ছাড়া) যিরূশালেমের মন্দির থেকে দুরে নয় যেখানে কর্ত্তৃপক্ষগণ প্রেরিতদের বার্তাটিকে বন্ধ করতে চেষ্টা করেছিল

শিষ্যরা কি দেহটি চুরি করেছিল?

সুতরাং দেহটির কি হল? সর্বাধিক চিন্তিত ব্যাখ্যা ছিল যে শিষ্যরা দেহটিকে সমাধি থেকে চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল, কোথাও এটিকে লুকিয়ে রেখেছিল এবং পরে অন্যদের বিভ্রান্ত করতে সক্ষম হয়েছিল I

ধরে নিন তারা এটিকে করতে সফল হয়েছিল এবং তারা তাদের প্রবঞ্চনার উপর ভিত্তি করে একটি ধর্মীয় বিশ্বাস শুরু করেছিল I তবে প্রেরিত্গণ এবং যোশেফাসের বিবরণের দিকে ফিরে তাকালে আমরা লক্ষ্য করি যে বিতর্কটি ছিল “প্রেরিতগণ লোকেদের শিক্ষা দিচ্ছিলেন এবং মৃত থেকে যীশুর পুনরুত্থানের কথা ঘোষণা করছিলেন” I এই থিমটি তাদের লেখাগুলির মধ্যে সর্বত্র রয়েছে I লক্ষ্য করুন কিভাবে অন্য আর একজন প্রেরিত পৌল, খ্রীষ্টের পুনরুত্থানের গুরুত্বকে মূল্য দিয়েছেন:       

3 আমি য়ে বার্তা পেয়েছি তা গুরুত্বপূর্ণ মনে করে তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি৷ সেগুলি এইরকম: শাস্ত্রের কথা মতো খ্রীষ্ট আমাদের পাপের জন্য মরলেন,
4 এবং তাঁকে কবর দেওয়া হয়েছিল৷ আবার শাস্ত্রের কথা মতো মৃত্যুর তিন দিন পর তাঁকে মৃতদের মধ্যে থেকে জীবিত করা হল৷
5 আর তিনি পিতরকে দেখা দিলেন এবং পরে সেই বারোজন প্রেরিতকে দেখা দিলেন৷
6 এরপর তিনি একসঙ্গে সংখ্যায় পাঁচশোর বেশী বিশ্বাসী ভাইদের দেখা দিলেন৷ তাদের মধ্যে বেশীর ভাগ লোক এখনও জীবিত আছেন, কিছু লোক হয়তো এতদিনে মারা গেছেন৷
7 এরপর তিনি যাকোবকে দেখা দিলেন এবং পরে প্রেরিতদের সকলকে দেখা দিলেন৷
8 সব শেষে অসময়ে জন্মেছি য়ে আমি সেই আমাকেও দেখা দিলেন৷
9 প্রেরিতরা আমার থেকে মহান, কারণ ঈশ্বরের মণ্ডলীকে আমি নির্য়াতন করতাম, প্রেরিত নামে পরিচিত হবার য়োগ্যও আমি নই৷
10 কিন্তু এখন আমি যা হয়েছি, তা ঈশ্বরের অনুগ্রহের গুনেই হয়েছে৷ আমার প্রতি তাঁর য়ে অনুগ্রহ তা নিষ্ফল হয় নি, বরং আমি তাদের সকলের থেকে অধিক পরিশ্রম করেছি৷ তবে আমি য়ে এই কাজ করেছিলাম তা নয়; কিন্তু আমার মধ্যে ঈশ্বরের য়ে অনুগ্রহ ছিল তাতেই তা সন্ভব হয়েছে৷
11 সুতরাং আমি বা অন্যরা যারাই তোমাদের কাছে প্রচার করে থাকি না কেন, সকলে একই সুসমাচার প্রচার করেছিলাম, যা তোমরা বিশ্বাস করেছ৷
12 কিন্তু আমরা যদি প্রচার করে থাকি য়ে খ্রীষ্ট মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত হয়েছেন, তখন তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ কি করে বলছে য়ে মৃতদের পুনরুত্থান নেই?
13 মৃতদের যদি পুনরুত্থান না হয়, তাহলে খ্রীষ্টও তো উত্থাপিত হন নি,
14 আর খ্রীষ্ট যদি পুনরুত্থিত না হয়ে থাকেন তাহলে তো আমাদের সেই সুসমাচার ভিত্তিহীন, আর তোমাদের বিশ্বাসও ভিত্তিহীন৷
15 আবার আমরা য়ে ঈশ্বরের বিষয়ে মিথ্যা সাক্ষী দিচ্ছি, সেই দোষে আমরা দোষী সাব্যস্ত হব, কারণ আমরা ঈশ্বরের বিষয়ে প্রচার করতে গিয়ে একথা বলেছি য়ে তিনি খ্রীষ্টকে মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত করেছেন৷
16 মৃতদের পুনরুত্থান যদি না হয়, তবে খ্রীষ্টও মৃত্যু থেকে পুনরুত্থিত হন নি;
17 আর খ্রীষ্ট যদি পুনরুত্থিত না হয়ে থাকেন, তাহলে তোমাদের বিশ্বাসের কোন মূল্য নেই, তোমরা এখনও তোমাদের পাপের মধ্যেই আছ৷
18 হ্যাঁ, আর খ্রীষ্টানুসারী যারা মারা গেছে তারা সকলেই বিনষ্ট হয়েছে৷
19 খ্রীষ্টের প্রতি প্রত্যাশা যদি শুধু এই জীবনের জন্যই হয়, তবে অন্য লোকদের চেয়ে আমাদের দশা শোচনীয় হবে৷

1 করিন্থীয়ান 15 3-19 (57 খ্রীষ্টাব্দ

30 আমরাই বা কেন প্রতি মুহূর্তে বিপদের সম্মুখীন হই?
31 আমি প্রতিদিন মরছি৷ খ্রীষ্ট যীশুতে তোমাদের জন্য আমার য়ে গর্ব আছে তারই দোহাই দিয়ে আমি বলছি, একথা সত্য৷
32 যদি শুধু মানবিক স্তরে ইফিষের সেই হিংস্র পশুদের সঙ্গে যুদ্ধ করে থাকি তাহলে আমার কি লাভ হয়েছে? কিছুই না৷ মৃতদের যদি পুনরুত্থান নেই তবে, ‘এস ভোজন পান করি কারণ কাল তো আমরা মরবই৷’

1 করিন্থীয়ান 15:30-32

একটি মিথ্যা বলে আপনি যা জানলেন তার জন্য মরা কেন?

স্পষ্টভাবে, শিষ্যরা খ্রীষ্টের পুনরুত্থানকে তাদের বার্তার কেন্দ্রের মধ্যে রেখেছিল I   ধরে নিন যে এটি প্রকৃতপক্ষে মিথ্যা ছিল – যে এই শিষ্যরা দেহটিকে সত্যিকারের চুরি করেছিল সুতরাং তাদের পাল্টা প্রমানটি তাদের প্রকাশ করতে পারেনি I তাহলে তারা সফলতাপূর্বক জগতকে মুর্খ বানিয়ে থাকবে, তবে তারা জেনে থাকবে যে তারা যা প্রচার করছিল, লিখছিল এবং অভুথ্যান সৃষ্টি করছিল তা মিথ্যা ছিল I তথাপি তারা এই মিশনের জন্য তাদের জীবন দিয়েছিল (আক্ষরিকভাবে) I কেন তারা এটি করত – যদি তারা জানত এটি মিথ্যা  ছিল?  

লোকেরা উদ্দেশ্যের প্রতি জীবন দেয় কেননা তারা উদ্দেশ্যতে বিশ্বাস করে যার জন্য তারা লড়াই করে বা তারা উদ্দেশ্যেটির থেকে কিছু উপকার আশা করে I শিষ্যরা যদি দেহটি চুরি করে থাকত এবং এটিকে লুকিয়ে রাখত, সকল লোকেদের মধ্যে তারা জানত যে পুনরুত্থানটি সত্য ছিল না I তাদের নিজেদের বাক্য থেকে বিবেচনা করুন তাদের বার্তা প্রসার করার জন্য শিষ্যরা কি মূল্য দিয়েছিল I নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন আপনি এমনকিছুর জন্য যাকে মিথ্যা বলে জানতেন তার জন্য আপনি ব্যক্তিগত মূল্য দিতেন কি না:   

8 আমরা সবদিক দিয়েই নানা কষ্টদায়ক চাপের মধ্যে রয়েছি, কিন্তু ভেঙ্গে পড়ি নি৷ আমরা জানি না কি করব, অথচ হাল ছেড়ে দিই না৷
9 আমরা অত্যাচারিত হলেও ঈশ্বর কখনও আমাদের ছেড়ে দেন না৷ আমাদের মেরে ধরাশাযী করে দিলেও আমরা ধ্বংস হচ্ছি না৷

2 করিন্থীয়ান 4:8-9

4 আমরা সব বিষয়ে নিজেদেরকে ঈশ্বরের সেবক বলে প্রমাণ করি৷ আমরা ধৈর্য়ের সঙ্গে দুঃখভোগ করে সবসময় কষ্ট ও নির্য়াতন সহ্য করেছি৷
5 আমাদের মারধোর করা হয়েছে, কারাগারে দেওয়া হয়েছে, মারমুখী জনতার সামনে আমাদের দাঁড়াতে হয়েছে৷ কাজ করতে করতে অবসন্ন হয়েছি, কত রাত না ঘুমিয়ে কাটিয়েছি, এমনকি অনাহারেও কতদিন কেটেছে৷

2 করিন্থীয়ান 6:4-5

24 ইহুদীদের কাছ থেকে পাঁচবার উনচল্লিশটি করে চাবুকের মার খেতে হয়েছে৷
25 তিনবার আমাকে লাঠিপেটা করেছে, একবার আমার ওপর পাথর ছোঁড়া হয়েছে, তিনবার ঝড়ে জাহাজ ডুবিতে আমি কষ্ট পেয়েছি এবং সারা দিনরাত অগাধ জলের মধ্যে কাটিয়েছি৷
26 স্থলপথে যাত্রাকালে বহুবার বিপদে পড়েছি, নদী থেকে বিপদ এসেছে, কতবার ডাকাতের হাতে, কতবার আমার আপনজন ইহুদী ও অইহুদীদের দ্বারা বিপদগ্রস্ত হয়েছি৷ শহরের মধ্যে মহা বিপদে পড়তে হয়েছে, কখনও গ্রামাঞ্চলে, কখনও বিপদ সঙ্কুল সমুদ্রের মধ্যে এবং ভণ্ড খ্রীষ্টীয়ানদের কাছ থেকে৷
27 অনেকবার অনাহারে দিন কাটিয়েছি, যথেষ্ট পোশাকের অভাবে প্রচণ্ড শীতে কষ্ট পেয়েছি৷

2 করিন্থুয়ান 11:24-27 

প্রেরিতদের অবিচল সাহস

বাগানের সমাধিতে খালি সমাধি
বাগানের সমাধির বাইরে

বাগানের সমাধি: প্রায় 130 বছর আগে ধ্বংসস্তূপ থেকে অনাবৃত সম্ভাব্য যীশুর সমাধি

শিষ্যদের অটল সাহসিকতা এবং প্রতিকূল কর্ত্তৃপক্ষদের নীরবতা এক শক্তিশালী সত্যকে প্রস্তুত করে যে আসল ইতিহাসে যীশু উত্থিত হয়েছিলেন I তাঁর পুনরুত্থানের মধ্যে আমরা আমাদের বিশ্বাস রাখতে পারি I  

কিভাবে ভক্তি অনুশীলন করতে হয়

ভক্তি (भक्ति) সংস্কৃত থেকে এসেছে যার অর্থ শ্রদ্ধা, প্রেম, নিষ্ঠা, উপাসনার জন্য  

“সংযুক্তি, অংশগ্রহণ, অনুরাগ” I এটি কোনো ভক্তের দ্বারা ঈশ্বরের প্রতি এক অনমনীয় ভক্তি ও প্রেমকে বোঝায় I এইরূপে, ভক্তির ভক্ত ও দেবতার মধ্যে এক সম্পর্কের প্রয়োজন I যে ভক্তির অনুশীলন করে তাকে ভক্ত বলা হয় I ভক্তগণ  প্রায়শই বিষ্ণু, (বৈষ্ণববাদ) শিব (শৈববাদ) বা দেবীর (শক্তিবাদ) প্রতি ভক্তি দেখায় I যাইহোক, কয়েকজন ভক্তির জন্য অন্য দেবতাদের পছন্দ করে (উদা: কৃষ্ণ) I      

ভক্তির অনুশীলনের জন্য আবেগ ও বুদ্ধিকে নিযুক্ত কোরে প্রেম এবং ভক্তির প্রয়োজন I ভক্তি কোনো ঈশ্বরের প্রতি একটি বিধিসম্মত নিষ্ঠা নয়, তবে এমন আচরণের মধ্যে অংশগ্রহণ করা যা ব্যবহার, নৈতিকতা এবং অধ্যাত্মিকতাকে অন্তর্ভুক্ত করে I এটি, অন্যান্য বিষয়গুলিরর মধ্যে, একজনের মনের অবস্থা পরিশুদ্ধ করা, ঈশ্বরকে জানা, ঈশ্বরের মধ্যে অংশগ্রহণ, এবং ঈশ্বরকে অভ্যন্তরীণ করাকে জড়িত করে I যে আধ্যাত্মিক পথকে একজন ভক্ত গ্রহণ করে তাকে ভক্তি মার্গ বলা হয় I  বছরের পর বছর ধরে লেখা প্রচুর কবিতা এবং অনেক গান ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি প্রকাশ করার জন্য লেখা এবং গাওয়া হয়েছে I

ঈশ্বর থেকে ভক্তি

যদিও ভক্তগণ বিভিন্ন দেবতাদের প্রতি অনেক ভক্তি গীত এবং কবিতা লিখেছিলেন অদৃশ্যভাবে কয়েকজন দেবতা মানবজাতির কাছে ভক্তি গীত এবং কবিতা রচনা করেছিলেন I পুরাণগুলি ভক্তির যে ধরণের নমুনা দেয় তা কখনই একজন মরণশীল মানুষের জন্য দিব্য ভক্তি দিয়ে শুরু হয় না I ভগবান রামের প্রতি হনুমানের আবেগ একজন দাসের (দাস্যভাব) মতন; কৃষ্ণের প্রতি সেই অর্জুন এবং বৃন্দাবনের রাখাল বালকদের ভক্তি একজন বন্ধুর (সখ্যভাব) মতন; কৃষ্ণের প্রতি সেই ভক্তি হ’ল রাধার প্রেম (মাধুর্যভাব); এবং তাঁর শৈশবে কৃষ্ণকে দেখা শোনা করা যশোদার সেই ভক্তি হ’ল স্নেহ (বাৎসল্যভাব) I         

রামের প্রতি হনুমানের ভক্তিকে প্রায়শই ভক্তির এক উদাহরণ রূপে দেখান হয় 

তথাপি এই উদাহরণগুলির কোনটাও একজন মানুষের প্রতি ঐশ্বরিক উদ্যোগের  ভক্তি রূপে শুরু হয় না I মানুষের প্রতি ঈশ্বরের ভক্তি এতটাই বিরল যে আমরা কখনও কেন জিজ্ঞাসা করতে ভাবি না I আমরা যদি এক ঈশ্বরকে ভক্তি দিই যিনি আমাদের নিষ্ঠার প্রতি প্রতিক্রিয়া দিতে পারেন, তখন আমাদের থেকে ভক্তির উদ্যোগ নিতে এই ঈশ্বরের আর অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই, ঈশ্বর স্বয়ং উদ্যোগ নিতে পারেন I      

ভক্তিকে এইভাবে দেখা ঈশ্বরের থেকে মানুষের কাছে, মানুষ থেকে ঈশ্বরের পরিবর্তে, আমরা নিজেরা কিভাবে ভক্তি অনুশীলন করতে পারি তা বুঝতে পারি I

হিব্রু গীতা এবং দিব্য ভক্তি

হিব্রু বেদে মানুষ থেকে ঈশ্বরের পরিবর্তে ঈশ্বর থেকে মানুষের কাছে রচিত কবিতা এবং গান সমূহ রয়েছে I গীতসংহিতা নামে এই সংগ্রহটি, হিব্রু  গীতা I যদিও লোকেদের দ্বারা লিখিত, তবুও তাদের রচয়িতরা দাবি করে যে ঈশ্বর তাদের রচনাগুলোকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন, আর এইরূপে এগুলো তাঁর I কিন্তু এটি সত্য কি না কি করে আমরা জানতে পারি? আমরা এটিকে জানতে পারি কেননা তারা প্রকৃত মানব ইতিহাসকে আগে থেকে দেখেছিলেন বা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন আর আমরা ভবিষ্যদ্বাণীগুলিকে পরীক্ষা করতে পারি I   

উদাহরণস্বরূপ গীতসংহিতা 22 নিন I হিব্রু রাজা দায়ূদ এটিকে প্রায় 1000 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে (তিনি সেই আসন্ন ‘খ্রীষ্টকে’ আগে থেকে দেখেছিলেন)  লিখেছিলেন I এটি এমন কারোর প্রশংসা করে যাকে অত্যাচারের মধ্যে হাত ও পা ‘বিদ্ধ’ করা হয়, তারপরে ‘মৃত্যুর ধুলায় শোয়ানো হয়’ তবে পরে সমস্ত ‘পৃথিবীর পরিবারদের’ জন্যে এক দুর্দান্ত বিজয় অর্জন করেছিলেন I প্রশ্ন হ’ল কে তিনি?   

 এবং কেন?

উত্তরটি আমাদের আরও ভালো করে ভক্তিকে বুঝতে সাহায্য করে I 

ঈশ্বরের ভক্তি নিষ্ঠা গীতসংহিতা 22 এর দূরদর্শিতা দ্বারা প্রমাণিত

আপনি গীতসংহিতা 22-এর পুরোটাকে এখানে পড়তে পারেন I সাদৃশ্যগুলিকে লক্ষণীয় করতে রঙের-মিলনের সাথে নিচের টেবিলটি সুসমাচারগুলিতে লিপিবদ্ধ করা যীশুর ক্রুশবিদ্ধকরণের বর্ণনার সাথে গীতসংহিতা 22-কে পাশাপাশি দেখান হয়েছে I 

ক্রুশবিদ্ধ সম্পর্কে সুসমাচারের বিবরণের তুলনায় গীত সংহিতা 22

যীশুর ক্রুশারোপনের প্রত্যক্ষদর্শীগণ সুসমাচার লিখেছিলেন I তবে দায়ূদ গীতসংহিতাটি যে এটির অভিজ্ঞতা লাভ করেছিল সেই ব্যক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে রচনা করেছিলেন – 1000 বছর পূর্বে I এই লেখাগুলির মধ্যে সাদৃশ্যকে কিভাবে আমরা ব্যাখ্যা করতে পারি? এটি কি কাকতালীয় বিষয় যে বিশদগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য এতটা সঠিকভাবে মেলে যে সেনারা উভয়কে ভাগ করে নেয় (তারা জোড়ের সাথে সাথে সেলাই করা বস্ত্র ভাগ করে) এবং পরিচ্ছদের জন্য গুলিবাঁট করে (জোড় বিহীন পোশাক চিরলে এটিকে নষ্ট করবে তাই তারা এর জন্য জুয়া খেলে) I রোমীয়রা ক্রুশবিদ্ধকরণ আবিষ্কার করার আগে দায়ূদ গীতসংহিতা 22 রচনা করেছিলেন, তথাপি এটি ক্রুশবিদ্ধকরণকে বিস্তৃতভাবে বর্ণনা করেছে (হাত ও পা বিদ্ধ করা, অস্থি সন্ধিচ্যুত হওয়া – যেমন লম্বা হয়ে ঝুলে থাকা শিকারের থেকে)       

অতিরিক্তভাবে, যোহনের সুসমাচার লিপিবদ্ধ করে যে যীশুর পাঁজরে তাদের একটি বর্শা খোঁচানোর সময়ে রক্ত এবং জল বেরিয়ে এল, যা সংকেত দেয় হৃদয় যন্ত্রের চারিদিকে তরল পদার্থ গড়ে উঠেছিল I যীশু এইভাবে একটি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন, যা গীতসংহিতা 22 এর বর্ণনার সাথে মেলে, ‘আমার হৃদয় মোমে পরিণত হয়েছে’ I হিব্রু শব্দ যাকে ‘বিদ্ধ’ বলে অনুবাদ করেছে তার আক্ষরিক অর্থ হ’ল ‘এক সিংহের ন্যায়’ I অন্য কথায়, সেনারা যখন তাঁর হাত ও পা ছেদ করেছিল যেমন সিংহ তার শিকারকে থেঁতলায় যখন তারা তাকে ‘বিদ্ধ’ করেছিল I     

গীতসংহিতা 22 এবং যীশুর ভক্তি

উপরের টেবিলে 18 পদের সাথে গীতসংহিতা 22 শেষ হয়ে যায় না I এটি চলতে থাকে I মৃত্যুর  পরে – এটা কতটা বিজয়ী তা এখানে লক্ষ্য করুন!

26নম্রগণ ভোজন করিয়া তৃপ্ত হইবে,

সদাপ্রভুর অন্বেষীরা তাঁহার প্রশংসা করিবে;

তোমাদের অন্তঃকরণ নিত্যজীবী হউক।

27পৃথিবীর প্রান্তস্থিত সকলে স্মরণ করিয়া সদাপ্রভুর প্রতি ফিরিবে;

জাতিগণের সমস্ত গোষ্ঠী তোমার সম্মুখে প্রণিপাত করিবে।

28কেননা রাজত্ব সদাপ্রভুরই;

তিনিই জাতিগণের উপরে শাসনকর্ত্তা।

29পৃথিবীস্থ সকল পুষ্ট লোক ভোজন করিয়া প্রণিপাত করিবে;

যাহারা ধূলিতে নামিতে উদ্যত, তাহারা সকলে তাঁহার সাক্ষাতে জানু পাতিবে,

যে নিজে প্রাণ বাঁচাইতে অসমর্থ, সেও পাতিবে।

30এক বংশ তাঁহার সেবা করিবে,

প্রভুর সম্বন্ধে ইহা ভাবী বংশকে বলা যাইবে।

31তাহারা আসিবে, তাঁহার ধর্ম্মশীলতা জ্ঞাত করিবে,

অনুজাত লোকদিগকে কহিবে, তিনি কার্য্য সাধন করিয়াছেন।

গীতসংহিতা 22:26-31

 আজকের দিনে বেঁচে থাকতে আপনার এবং আমার কাছে দূরদর্শিতা

এটি আর এই ব্যক্তির মৃত্যুর বিশদ বর্ণনা করে না, যা গীতসংহিতার শুরুতে আলোচনা করা হয়েছিল I দায়ূদ এখন ‘উত্তরসুরী’ এবং ‘ভবিষ্যত প্রজন্মের’ (পদ 30) উপরে এর প্রভাবের বিষয়ে আলোচনা করতে, আরও ভবিষ্যতের মধ্যে যীশুর পুনরুত্থানের বিষয়টিকে অতীতে আগে থেকেই দেখেছিলেন I এরা হ’ল আমরা যারা যীশুর 2000 বছর পরে বাস করছি I দায়ূদ গেয়েছেন ‘হাত ও পা বিদ্ধ’ এমন একটি ভয়ংকর মৃত্যু বরণ করা এই মানুষটির পরে ‘উত্তরসুরীকে’ তার সম্পর্কে ‘বলা হবে’ এবং তার ‘সেবা করা হবে’ I 27 পদটি সীমার কথা বলে; ‘পৃথিবীর শেষ প্রান্ত’ পর্যন্ত, ‘জাতিগণের সমস্ত পরিবারের’ মধ্যে তাদেরকে ‘সদাপ্রভুর দিকে ফেরাবার’ কারণ করবে I 29 পদটি সংকেত দেয় কিভাবে ‘যারা নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে না’ (যা আমরা সবাই) একদিন তাঁর সামনে নতজানু হবে I এই ব্যক্তির বিজয় তাঁর মারা যাওয়ার পরে এমন লোকেদের কাছে ঘোষণা করা হবে যারা জীবিত ছিল না (সেই ‘তখনও অনাগত’)        

সুসমাচারগুলির সাথে এই সমাপনী সমাপ্তির কোনো সম্পর্ক নেই কারণ এটি এখন অনেক পরবর্তী ঘটনাগুলিকে –  আমাদের সময়ের সেগুলিকে আগে থেকেই দেখছে I প্রথম শতাব্দীর সুসমাচার লেখকরা, আমাদের সময়ের মধ্যে যীশুর মৃত্যুর প্রভাব ফেলতে পারে নি আর তাই সেটি লিপিবদ্ধ করে নি I এটি সন্দেহবাদীদের খন্ডন করে যারা অভিযোগ করে যে সুসমাচারের ক্রুশবিদ্ধের ঘটনা এবং গীতসংহিতা 22 এর সাদৃশ্য এই কারণে যে শিষ্যরা ঘটনাটিকে গানের মধ্যে ‘খাপ খাওয়াতে’ তৈরী করেছিলেন I প্রথম শতাব্দীতে তাদের সুসমাচারগুলি লেখার সময় বিশ্ব-ব্যাপী প্রভাবটি তখনও প্রতিষ্ঠিত হয় নি I       

গীতসংহিতা যে ভাবে যীশুর ক্রুশবিদ্ধকরণের প্রভাবের ভবিষ্যদ্বাণী করেছে তার চেয়ে ভাল আর কেউ করতে পারেনি I পৃথিবীর ইতিহাসে আর কে আছে যে দাবি করতে পারে তাঁর মৃত্যুর সেই বিস্তৃত বিবরণের পাশা পাশি সুদুর ভবিষ্যতে তাঁর জীবনের উত্তরাধিকারীকে তাঁর বাস করার 1000 বছর পূর্বে ঘোষণা করা হবে? যেহেতু কোনো মানুষ সুদুর ভবিষ্যতকে এতটা সুক্ষভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে না, সেইহেতু এটি প্রমাণ করে যে গীতসংহিতা 22 এর এই রচনাটিকে ঈশ্বর অনুপ্রাণিত করেছিলেন I   

‘জাতিগণের সমস্ত পরিবারগুলির’ মধ্যে আপনার কাছে ঈশ্বরের থেকে ভক্তি

যেমন উল্লেখ করা হয়েছে, ভক্তি কেবল আবেগকেই পরিবেষ্টন করে না, বরং তার নিষ্ঠার ব্যক্তির প্রতি ভক্তের সম্পূর্ণ অংশগ্রহণ I ঈশ্বর যদি এত সতর্কতার সঙ্গে তাঁর পুত্র যীশুর বলিদানের পরিকল্পনা করেছেন যেন তিনি 1000 বছর পূর্বে গানের মধ্যে বিস্তৃত বিবরণকে অনুপ্রাণিত করলেন I তিনি কোনো আবেগী প্রতিক্রিয়ার মধ্যে কাজ করেন নি, বরং গভীর দূরদর্শিতা, পরিকল্পনা এবং অভিপ্রায়ের সাথে কাজ করেছেন I ঈশ্বর এই কার্যের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে অংশগ্রহণ করেছেন, এবং এটি তিনি আপনার এবং আমার জন্য করেছিলেন I    

কেন?.

আমাদের প্রতি তাঁর নিষ্ঠার কারণে, দিব্য ভক্তির মধ্যে, ঈশ্বর যীশুকে পাঠালেন, আমাদের অনন্ত জীবন দেওয়ার জন্য ইতিহাসের শুরু থেকে বিস্তারিতভাবে সমস্ত পদ্ধতিতে পরিকল্পনা করলেন I তিনি আমাদেরকে এই জীবনকে এক উপহার রূপে দিয়েছেন I  

এর উপরে প্রতিবিম্ব করে ঋষি পৌল লিখলেন

ক্রুশের উপরে যীশুর বলিদান আমাদের কাছে ঈশ্বরের ভক্তি ছিল

6কেননা যখন আমরা শক্তিহীন ছিলাম, তখন খ্রীষ্ট উপযুক্ত সময়ে ভক্তিহীনদের নিমিত্ত মরিলেন। 7বস্তুতঃ ধার্ম্মিকের নিমিত্ত প্রায় কেহ প্রাণ দিবে না, সজ্জনের নিমিত্ত হয় ত কেহ সাহস করিয়া প্রাণ দিলেও দিতে পারে। 8কিন্তু ঈশ্বর আমাদের প্রতি তাঁহার নিজের প্রেম প্রদর্শন করিতেছেন; কারণ আমরা যখন পাপী ছিলাম, তখনও খ্রীষ্ট আমাদের নিমিত্ত প্রাণ দিলেন।  

রোমীয় 5:6-8

ঋষি যোহন যোগ করলেন:

16 কারণ ঈশ্বর এই জগতকে এতোই ভালবাসেন য়ে তিনি তাঁর একমাত্র পুত্রকে দিলেন, য়েন সেই পুত্রের ওপর য়ে কেউ বিশ্বাস করে সে বিনষ্ট না হয় বরং অনন্ত জীবন লাভ

করে৷যোহন 3:16

আমাদের প্রতিক্রিয়া – ভক্তি

সুতরাং ঈশ্বর কিভাবে আমাদের চান তাঁর প্রেমের প্রতি প্রতিক্রিয়া জানাতে? বাইবেল বলে

আমরা ভালোবাসি কারণ তিনি প্রথমে আমাদের ভালবাসেন।

1 যোহন 4:19

এবং

Thisশ্বর এটি এমনভাবে করেছিলেন যাতে তারা তাঁর সন্ধান করতে পারে এবং সম্ভবত তাঁর সন্ধান করতে পারে এবং তাকে খুঁজে পেতে পারে, যদিও তিনি আমাদের কারও থেকে দূরে নন।

প্রেরিত 17:27

ঈশ্বর আমাদের চান তাঁর কাছে ফিরে যেতে, তাঁর উপহার পেতে এবং প্রেমের মধ্যে তাঁর কাছে সাড়া দিতে I তাঁকে প্রেম করা শিখতে, একটি ভক্তির সম্পর্ক শুরু করে I যেহেতু ভক্তি প্রতিষ্ঠিত করতে তিনি প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, যেটির জন্য তাঁর অনেক ব্যয় হয়েছিল, অনেকটা দূরদর্শিতার সাথে জড়িত I আপনার এবং আমার পক্ষে তাঁর ভক্ত হিসাবে সাড়া দেওয়া কি যুক্তিসঙ্গত নয়? 

ঈশ্বরের মহাজাগতিক নৃত্য – সৃষ্টি থেকে ক্রুশ পর্যন্ত ছন্দ

নৃত্য কি? নাট্য নৃত্যটি ছন্দবদ্ধ গতিকে ধারণ করে, যা দর্শকদের দ্বারা দেখা এবং একটি গল্প বলতে বোঝায় I নর্তকী অন্যন্য নর্তকীদের সাথে তাদের নিজেদের শরীরের বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করে তাদের গতি সমূহকে সমন্বয় করে, যাতে করে তাদের গতিগুলো দৃশ্যমান সৈন্দর্য উৎপন্ন করে এবং পুনরাবৃত্ত সময়ের ব্যবধানে ছন্দকে উচ্চারিত করে, যাকে তাল বলা হয় I   

নাট্য শাস্ত্র, নৃত্য সংক্রান্ত ধ্রুপদী কাজ শিক্ষা দেয় যা বিনোদন নৃত্যের একটি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হওয়া উচিত তবে এর প্রাথমিক লক্ষ্য নয় I সঙ্গীত এবং নৃত্যের লক্ষ্য হ’ল রস, শ্রোতাদেরকে আরও গভীর বাস্তবতায় নিয়ে যায়, যেখানে আশ্চর্যজনকভাবে তারা আধ্যাত্মিক এবং নৈতিক প্রশ্নের উপরে প্রতিফলন ঘটায় I    

শিবের তান্ডবের নটরাজ

শিবের দক্ষিণ চরণ দৈত্যকে পদদলিত করে  

তাহলে স্বর্গীয় নৃত্য কার মতন দেখতে লাগে? তাণ্ডব (তান্ডবম, তাণ্ডব নৃত্যম বা নদান্তা) দেবতাদের নৃত্যের সাথে সংযুক্ত I আনন্দ তাণ্ডব আনন্দের নৃত্য করে যখন রুদ্র তাণ্ডব ক্রোধের নৃত্য করে I নটরাজ স্বর্গীয় নৃত্যের প্রতিনিধিত্ব  করে যার মধ্যে শিব তাঁর পরিচিত মুদ্রায় (হাত এবং পায়ের অবস্থায়) নৃত্যের প্রভু হিসাবে প্রদর্শিত হন I তাঁর ডান পা দৈত্য অপাস্মারা বা মূয়ালাকার উপরে পদদলিত করছে I যাই হোক না কেন, আঙ্গুলগুলি মাটি থেকে উঁচুতে উঠে বাঁ পায়ের দিকে সংকেত করে I      

শিবের শাস্ত্রীয় নৃত্যের নটরাজ চিত্র

কেন তিনি এটির দিকে সংকেত করেন?

কেননা ওই উত্তোলিত পা, মাধ্যাকর্ষণকে উপেক্ষা করে মুক্তি, অর্থাৎ মোক্ষকে প্রতীকী করে I যেমন তামিল রচনা উত্মাই উলখাম ব্যাখ্যা করে:

“সৃষ্টি ড্রাম থেকে উৎপন্ন হয়; সুরক্ষা আশার হাত থেকে এগিয়ে যায়; আগুন থেকে ধ্বংস এগিয়ে চলেছে; মুয়ালকার উপরে রাখা পা দুষ্টের ধ্বংসের দিকে এগিয়ে চলেছে; উঁচুতে ধরে রাখা পা মুক্তি প্রদান করে…..”

কৃষ্ণ দৈত্য-নাগ কালিয়ার মস্তকের উপরে নৃত্য করে

কৃষ্ণ কালিয়া নাগের উপরে নৃত্য করছেন  

আর একটি শাস্ত্রীয় নৃত্য হ’ল কালিয়ার উপরে কৃষ্ণের নৃত্য I পুরাণ অনুসারে, কালিয়া যমুনা নদীতে বাস করত, জনতাকে ত্রাসিত করত এবং সারা দেশ জুড়ে নিজের বিষ ছড়াত I 

কৃষ্ণ যখন নদীতে ঝাঁপ দিলেন কালিয়া তাকে ধরে নিল I কালিয়া তারপরে কৃষ্ণকে তার কুন্ডলীর মধ্যে জড়িয়ে ধরে দংশন করল, প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্বিগ্ন করল, কৃষ্ণ এটির অনুমতি দিলেন, তবে লোকেদের উদ্বিগ্ন দেখে তাদের আশ্বস্ত করতে মনস্থির করলেন I এইরূপে, কৃষ্ণ সর্পের ফণার উপরে ঝাঁপ দিয়ে তাঁর বিখ্যাত নৃত্য শুরু করলেন, যা ভগবানের লীলার (স্বর্গীয় ক্রীড়া) প্রতীক ছিল, যাকে “আরাভতি” বলা হত I কৃষ্ণ কালিয়ার প্রতিটি ফণার উপরে ছন্দের মধ্যে নৃত্য করে তাকে পরাজিত করলেন I   

ক্রুশ – নাগের মস্তকের উপরে একটি ছন্দময় নৃত্য

সুসমাচার ঘোষণা করে যে যীশুর ক্রুশবিদ্ধকরণ এবং পুনরুত্থান সর্পকে পরাজিত করার ক্ষেত্রে তাঁর নৃত্যের অনুরূপ ছিল I এটি আনন্দ তান্ডব এবং রুদ্র তান্ডব উভয়ই ছিল তার মধ্যে এই নৃত্য প্রভুর আনন্দ এবং ক্রোধ উভয়কে জাগিয়ে তুলেছিল I আমরা এটিকে মানব ইতিহাসের ঠিক শুরুতে দেখি, যখন আদম, প্রথম মনু, সর্পের কাছে সমর্পণ করে দিয়েছিল I ঈশ্বর (বিশদ বিবরণ এখানে) সর্পকে বলেছিলেন  

15 তোমার এবং নারীর মধ্যে আমি শত্রুতা আনব এবং তার সন্তানসন্ততি এবং তোমার সন্তান সন্ততির মধ্যে এই শত্রুতা বয়ে চলবে| তুমি কামড় দেবে তার সন্তানের পাযে কিন্তু সে তোমার মাথা চূর্ণ করবে|”

আদিপুস্তক 3:15
স্ত্রীর বীজ সর্পের মস্তক পদদলিত করবে

অতএব এই নাটক সর্প এবং বীজ বা স্ত্রীটির বংশধরের মধ্যে একটি সংগ্রামকে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল I এই বীজটি ছিল যীশু এবং তাদের সংগ্রাম ক্রুশের উপরে চূড়ান্ত পরিণতি হ’ল I কৃষ্ণ যেমনভাবে কালিয়াকে তাকে আঘাত করতে অনুমতি দিয়েছিল, তেমনিভাবে যীশু সর্পকে তাঁকে আঘাত করতে অনুমতি দিয়েছিলেন, তাঁর চূড়ান্ত বিজয় সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন I যেমন ভাবে শিব মোক্ষের দিকে সংকেত দিয়ে আপস্মরাকে পদদলিত করেন তেমনভাবে যীশু সর্পের উপরে পদদলিত করলেন এবং জীবনের প্রতি রাস্তা তৈরী করলেন I বাইবেল তাঁর বিজয় এবং আমাদের জীবনের পথকে এইভাবে বর্ণনা করে: 

13 তোমরা সতর্ক থেকো, বিশ্বাসে স্থির থেকো, সাহস য়োগাও, বলবান হও৷
14 তোমরা যা কিছু কর তা ভালবাসার সঙ্গে কর৷
15 আমার ভাইয়েরা, আমি তোমাদের কাছে একটা অনুরোধ করছি, তোমরা স্তিফান ও তাঁর পরিবারের বিষয়ে জান৷ আখায়াতে (গ্রীসে) তাঁরাই প্রথম খ্রীষ্টানুসারী হন৷ এখন তাঁরা খ্রীষ্টানুসারীদের সেবায় নিজেদের নিযোগ করেছেন৷ ভাইয়েরা, তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ,

কলসীয় 2:13-15

তাদের সংঘর্ষ ‘সাত’ এবং ‘তিন’ সমূহের একটি ছন্দময় নৃত্যের মধ্যে উদ্ঘাটিত হয়েছিল যাকে সৃষ্টির মাধ্যমে যীশুর শেষ সপ্তাহে দেখা গিয়েছিল I  

ঈশ্বরের পূর্বজ্ঞান হিব্রু বেদের শুরু থেকে প্রকাশিত হয়েছিল

সমস্ত পবিত্র বইগুলের মধ্যে (সংস্কৃত এবং হিব্রু বেদ, সুসমাচারগুলো) কেবলমাত্র দুটি সপ্তাহ আছে যেখানে সপ্তাহের প্রতিটি দিনের ঘটনাগুলোকে বর্ণনা করা হয়েছে I হিব্রু বেদের শুরুতে লিপিবদ্ধ, প্রথম এই ধরণের সপ্তাহ, লিপিবদ্ধ করে কিভাবে ঈশ্বর সমস্তকিছু সৃষ্টি করলেন I    

যীশুর শেষ সপ্তাহে অন্য সপ্তাহটিক দৈনন্দিন ঘটনাগুলির সাথে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে I অন্য কোনো সাধু, ঋষি বা ভাববাদীর দৈনন্দিন ক্রিয়াকলাপগুলিকে সম্পূর্ণ একসপ্তাহ ধরে বর্ণনা করা হয় নি I হিব্রু বেদের সৃষ্টির বিবরণ এখানে দেওয়া হয়েছে I আমরা যীশুর শেষ সপ্তাহের দৈনন্দিন ঘটনাবলীর মধ্য দিয়ে গিয়েছিলাম এবং এই টেবিলটিতে এই দুই সপ্তাহের প্রতিটি দিনকে পাশাপাশি দেখান হয়েছে I শুভ সংখ্যা ‘সাত’, যা একটি সপ্তাহ গঠন করে, এইরূপে একটি ভিত্তি পরিমাপক বা সময় যার উপরে সৃষ্টিকর্তা তাঁর ছন্দকে ভিত্তি করেছেন I     

সপ্তাহের দিনসৃষ্টির সপ্তাহযীশুর শেষ সপ্তাহ
দিন 1অন্ধকার পরিবেষ্টিত ঈশ্বর বললেন, আলো হোক t’  আর অন্ধকারের মধ্যে আলো হ’লযীশু বললেন,“ আমি জগতে এক জ্যোতি রূপে এসেছি…” অন্ধকারে জ্যোতি হ’ল
দিন 2ঈশ্বর পৃথিবীকে আকাশ থেকে পৃথক করলেনযীশু মন্দিরকে প্রার্থনার স্থল হিসাবে শুদ্ধ করে স্বর্গ থেকে পৃথিবীকে পৃথক করলেন
দিন 3 ঈশ্বর বললেন তাই সমুদ্র থেকে ভূমি উঠে এল Iযীশু এমন বিশ্বাসের কথা বললেন যা পাহাড়কে সমুদ্রে ফেলে দেয় I
 ঈশ্বর আবার বললেন,“ভূমি থেকে গাছপালা অঙ্কুরিত এবং সবজি উৎপন্ন হোক Iযীশু এক অভিশাপের কথা বললেন আর গাছটি শুকিয়ে গেল I
দিন 4ঈশ্বর বললেন, ‘আকাশে আলো হোক আর  সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্র আকাশে আলো দিতে উদয় হ’ল Iযীশু তাঁর প্রত্যাবর্তনের চিহ্নর কথা বললেন – সূর্য, চন্দ্র মক্ষত্র অন্ধকার হয়ে যাবে I
দিন 5শয়তান উড়ন্ত ডায়নোসর সরীসৃপ, বা ড্রাগন সহ উড়ন্ত প্রাণী সৃষ্টি করলেন I শয়তান, দুর্দান্ত ড্রাগন খ্রীষ্টকে আঘাত করতে অগ্রসর হ’ল I
দিন 6ঈশ্বর কথা বললেন আর ভূমির প্রাণী জীবিত হল Iমন্দিরে নিস্তারপর্বের মেষ শাবক প্রানীদের বধ করা হ’ল I  
 সদারভু ঈশ্বর আদমের নাসিকায় ফুঁ দিয়ে প্রাণবায়ু প্রবেশ করালেন’ I আদম শ্বাস প্রশ্বাস নিতে আরম্ভ  করল I“পরে যীশু উচ্চ রব ছেড়ে শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করলেন I” (মার্ক 15:37)
 ঈশ্বর আদমকে বাগানে রাখেনযীশু স্বাধীনভাবে একটি বাগানে প্রবেশ  করেন I   
 আদমকে এক অভিশাপের সাথে জ্ঞান বৃক্ষের থেকে দুরে থাকতে সাবধান করা হয় Iযীশুকে একটি গাছে পেরেক দিয়ে বিদ্ধ করা হ’ল এবং শাপগ্রস্ত হলেন I (গালাতীয় 3:13) খ্রীষ্টই মূল্য দিয়া আমাদিগকে ব্যবস্থার শাপ হইতে মুক্ত করিয়াছেন, কারণ তিনি আমাদের নিমিত্তে শাপস্বরূপ হইলেন; কেননা লেখা আছে, “যে কেহ গাছে টাঙ্গান যায়, সে শাপগ্রস্ত”
 আদমের জন্য কোন প্রাণী উপযুক্ত ছিল না I অন্য আর এক জনের প্রয়োজন ছিল Iনিস্তারপর্বের প্রাণীর বলিদান পর্যাপ্ত ছিল  না I একজন ব্যক্তির প্রয়োজন ছিল I (ইব্রীয় 10:4-5) 4কারণ বৃষের কি ছাগের রক্ত যে পাপ হরণ করিবে, ইহা হইতেই পারে না। 5এই কারণ খ্রীষ্ট জগতে প্রবেশ করিবার সময়ে বলেন, তু তুমি যজ্ঞ ও নৈবেদ্য ইচ্ছা কর নাই,  কিন্তু আমার জন্য দেহ রচনা করিয়াছ;
 ঈশ্বর আদমকে এক গভীর নিদ্রায় রাখলেন Iযীশু মৃত্যুর নিদ্রায় প্রবেশ করেন
 ঈশ্বর আদমর পাঁজরে ক্ষত করলেন যার সাহায্যে তিনি আদমের কনেকে সৃষ্টি করলেনযীশুর পাঁজরে একটি ক্ষত করা হয় I তাঁর বলিদান থেকে যীশু তাঁর কনেকে জয় করেন, যারা তাঁতে থাকে I (প্রকাশিত বাক্য 21:9)                           আর যে সপ্ত দূতের কাছে সপ্ত শেষ আঘাতে পরিপূর্ণ সপ্ত বাটি ছিল, তাঁহাদের মধ্যে এক দূত আসিয়া আমার সঙ্গে আলাপ করিয়া কহিলেন, আইস, আমি তোমাকে সেই কন্যাকে, মেষশাবকের ভার্য্যাকে দেখাই।  
দিন 7ঈশ্বর কার্য থেকে বিশ্রাম নিলেন I যীশু মৃত্যুর মধ্যে বিশ্রাম নিলেন
সৃষ্টির সপ্তাহের সাথে ছন্দের মধ্যে যীশুর শেষ সপ্তাহ

আদমের ষষ্ঠ দিনটি যীশুর সাথে নৃত্য করে

এই দুই সপ্তাহের জন্য প্রতি দিনের ঘটনাবলী ছন্দবদ্ধ প্রতিসাম্য সরবরাহ করে  একে অপরের সাথে মিল খায় I এই দুই 7-দিনের চক্র সমূহের উভয়ের শেষে, নতুন জীবনের প্রথম ফল ফুটতে এবং এক নতুন সৃষ্টিকে বহুগণিত করতে  প্রস্তুত I অতএব আদম এবং যীশু একসাথে নৃত্য করছেন, আর এক সমন্বিত নাটক তৈরি করছেন I    

আদমর সম্বন্ধে বাইবেল বলে যে  

আদম, যিনি আসন্ন একজনের নমুনা

রোমীয় 5:14

এবং

21 কারণ একজন মানুষের মধ্য দিয়ে য়েমন মৃত্যু এসেছে, মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থানও তেমনিভাবেই একজন মানুষের দ্বারা এসেছে৷
22 কারণ আদমে য়েমন সকলের মৃত্যু হয়, ঠিক সেভাবে খ্রীষ্টে সকলেই জীবন লাভ করবে৷

1 করিন্থীয়ান 15:21-22

এই দুই সপ্তাহকে তুলনা করলে আমরা দেখি যে আদম যীশুর সাথে একটি নমুনাকে মঞ্চস্থ করে রস উৎপন্ন করেছিল I পৃথিবীকে তৈরী করতে ঈশ্বরের কি ছয় দিনের প্রয়োজন ছিল? তিনি কি এক আজ্ঞা সহকারে সমস্তকিছু তৈরী করতে পারতেন না? তবে কেন তিনি তাঁর ক্রমটিকে তৈরী করলেন? কেন ঈশ্বর সপ্তম দিনে বিশ্রাম নিলেন যখন তিনি ক্লান্ত হতে পারেন না? তিনি সমস্রকিছু সময় এবং ক্রমে করলেন যেন তিনি এমনটি করলেন যাতে যীশুর শেষ সপ্তাহকে ইতিমধ্যেই সৃষ্টির সপ্তাহর মধ্যে প্রত্যাশিত করা যায় I    

এটি ছয় দিনের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সত্য I আমরা ব্যবহৃত বাক্য সমূহের মধ্যে প্রতক্ষ্যভাবে প্রতিসাম্যটিকে দেখি I উদাহরণস্বরূপ, ‘যীশু মারা গেছেন’ সরলভাবে বলার পরিবর্তে সুসমাচার বলে ‘তিনি তাঁর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন’ আদমের কাছে একটি বিপরীত প্রতক্ষ্য নমুনা যিনি ‘জীবনের শ্বাস’ পেয়েছিলেন I সময়ের শুরু থেকে এই জাতীয় একটি নমুনা সময় এবং বিশ্বের বিস্তৃত পূর্বজ্ঞানকে দেখায় I সংক্ষেপে, এটি একটি স্বর্গীয় নৃত্য I  

 ‘তিনের’ তালের মধ্যে নৃত্য

সংখ্যা তিনকে শুভ বিবেচনা করা হয় কেননা ত্রাহি থেকে রত্ম প্রকাশিত হয়, ছন্দময় ক্রম এবং নিয়মিততা যা সৃষ্টি নিজেই সংরক্ষণ করে I রত্ম হল অন্তর্নিহিত কম্পন যা পুরো সৃষ্টিকে বিস্তৃত করে I সুতরাং, এটি সময় এবং ঘটনাগুলির সাথে সাথে নিজেকে বিভিন্নভাবে প্রকাশ করে I 

এইজন্য এটি আশ্চর্য নয় যে এটি সেই একই সময় যাকে সৃষ্টির প্রথম তিন দিন এবং যীশুর মৃত্যুর তিন দিনগুলির মধ্যে দেখা যায় I এই টেবিলটি এই নমুনাকে লক্ষনীয় করে তোলে I

 সৃষ্টির সপ্তাহমৃত্যুর মধ্যে যীশুর দিনগুলো
দিন 1 এবং শুভ শুক্রবারদিনটি অন্ধকারে শুরু   হয় I ঈশ্বর বলেন, আলো হোক আর অন্ধকারে আলো হ’ল Iঅন্ধকার পরিবেষ্টিত দিনটি আলো (যীশু) দিয়ে শুরু হয় I তাঁর মৃত্যুতে সেই আলো নির্বাপিত হয় এবং জগৎ এক গ্রহনের মধ্যে অন্ধকারে চলে   যায় I
দিন 2 এবং  বিশ্রামবারের বিশ্রামঈশ্বর পৃথিবী থেকে আকাশকে সরিয়ে আকাশ থেকে পৃথিবীকে আলাদা করেন Iযখন তাঁর দেহ বিশ্রাম নেয়, তখন যীশুর আত্মা পৃথিবীর নিচে মৃত বন্দিদের স্বর্গে আরোহণ করতে মুক্ত করেন I 
দিন 3 পুনরুত্থান  এবং প্রথম ফলঈশ্বর বলেন, ‘ভূমি গাছপালা উৎপন্ন করুক আর শাকসব্জি জীবনে অঙ্কুরিত হয় I যে বীজটি মারা যায় তা নতুন জীবনে অঙ্কুরিত হয়, তাদের সকলের কাছে উপলব্ধ হয় যারা একে গ্রহণে করে I
এইরূপে ঈশ্বর এক বড় তাল (সাত দিনের দ্বারা) এবং একটি ছোট তালে (তিন দিনের দ্বারা) নৃত্য করেন ঠিক যেমন নর্তকীরা তাদের শরীরকে বিভিন্ন সময় চক্র সমূহের মধ্যে গতিশীল করে I  

পরবর্তী মুদ্রা সমূহ

হিব্রু বেদ নির্দিষ্ট ঘটনাবলী এবং উৎসবগুলো লিপিবদ্ধ করেছিল যা যীশুর আগমনকে চিত্রিত করে I ঈশ্বর এগুলিকে দিয়েছেন যাতে আমরা জানতে পারি এটি ঈশ্বরের নাটক ছিল, মানুষের নয় I নিচের টেবিলটি এই মহান চিহ্নগুলির সাথে সংযুক্ত করার সাথে সংক্ষিপ্তসার করে যাকে যীশুর বেঁচে থাকার কয়েকশত বছর পূর্বে লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল I    

হিব্রু বেদকিভাবে এটি যীশুর আগমনকে দেখায়  
আদমের চিহ্নঈশ্বর সর্পের সম্মুখীন হলেন এবং ঘোষণা করলেন সর্পের মস্তক চূর্ণ করতে বীজটি আসছে I
নোহ বিরাট জল প্লাবন থেকে বেঁচে আয় বলি উৎসর্গ করা হয়, যীশুর আসন্ন বলিদানের পরই সংকেত  দেয় I  
আব্রাহামের বলিদানের চিহ্নআব্রাহামের বলিদানের স্থান সেই একই পর্বত ছিল যেখানে কয়েক হাজার বছর পরে যীশুকে বলি দেওয়া হয় I শেষ মুহুর্তে মেষের বিকল্প করা হ’ল তাই পুত্র জীবিত রইল, যা চিত্রিতকরে ‘ঈশ্বরের মেষ’ কীভাব নিজেকে বলি দেন যাতে আমরা বেঁচে থাকতে পারি I 
নিস্তারপর্বের চিহ্নএকটি নির্দিষ্ট দিনে = নিস্তারপর্বে মেষদের বলি চড়ানো হত I যারা বাধ্য হয়েছিল তারা রক্ষা পেয়েছিল, তবে যারা অবাধ্য হয়েছিল তারা মারা গিয়েছিল I কয়েকশত বছর পরে যীশুকে এই যথাযথ দিনে – নিস্তারপর্বে বলি দেওয়া হয়েছিল I
ইয়োম কিপ্পুরবার্ষিক উদযাপন বলির পাঁঠার উৎসর্গকে জড়িত করে – যীশুর  বলিদানের দিকে সংকেত দেয় I  
’সেই রাজের’ মতন: ‘খ্রীষ্ট’ বলতে কি বোঝায়?’খ্রীষ্ট’ উপাধিটিকে তাঁর আগমনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে উদ্বোধন করা  হয়েছিল I  
যেমন কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে…যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাজা দায়ুদের কাছে থেকে ‘খ্রীষ্ট’ নেমে আসবে I
শাখার চিহ্ন‘খ্রীষ্ট’ একটি মৃত গুড়ি থেকে একটি শাখার ন্যায় অঙ্কুরিত হবেন I
আসন্ন শাখার নামকরণঅঙ্কুরিত ‘শাখাটির’ নামকরণ 500 বছর পূর্বে করা হয়েছিল I
সকলের জন্য কষ্টভোগী দাসদৈববাণী বর্ণনা করে কিভাবে এই ব্যক্তি সমস্ত মানবজাতির সেবা করেন I
পবিত্র সাত সমূহে আগমনদৈববাণী বলে কখন তিনি আসবেন যাকে সাত চক্রের মধ্যে দেওয়া হয়েছে I
জন্ম সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণীকুমারী জন্ম এবং জন্ম স্থান তাঁর জন্মের বহু পূর্বে প্রকাশিত  হয়েছিল I
উৎসব এবং দৈববাণী সমূহ নৃত্যের মধ্যে মুদ্রার ন্যায় যীশুর দিকে সংকেত দেয় 

নৃত্যে হাত এবং পা এবং ধড়ের বড় গতিবিধি রয়েছে, তবে এই গতিবিধিগুলিকে কৌতহলযুক্ত করে তুলতে হাত এবং আঙ্গুলগুলিকেও ব্যবহার করা হয় I আমরা হাত এবং অঙ্গুলিগুলির এই বিভিন্ন ভঙ্গিমাকে মুদ্রা বলি I এই দৈববাণী এবং উৎসবগুলি স্বর্গীয় নৃত্যের মুদ্রার মতন I ‘নাট্য শাস্ত্র’ যেমন নৃত্যের বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছে, তেমনি ঈশ্বর ছন্দের গতিতে চলে রসের প্রমোদের বাইরে আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন I        

আমাদের আমন্ত্রণ

ঈশ্বর আমাদের তাঁর নৃত্যে যোগ দিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন I ভক্তির নিরিখে আমরা আমাদের প্রতিক্রিয়া বুঝতে পারি I 

তিনি আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রবেশ করতে তাঁর প্রেমের মধ্যে যা রাম এবং সীতার মধ্যেকার মতন গভীর I  

এখানে বুঝতে পারি যীশুর দ্বারা প্রদত্ত অনন্ত জীবনের উপহার কিভাবে পাওয়া যায় I

পুনরুত্থান প্রথম ফল: আপনার জন্য জীবন

হিন্দু পঞ্জিকার শেষ পূর্নিমায় আমরা হোলি উদযাপন করি I এর চান্দ্র-সৌর মূল পঞ্জিকার সাথে হোলি পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডারে ঘুরতে থাকে, বসন্তের আগমনের এক আনন্দময় পর্ব হিসাবে সাধারণতঃ মার্চে আসে I যদিও অনেকে হোলি মানায়, তবে কয়েকজনই জানে এটি প্রথম ফলের সমান্তরাল, এবং পরবর্তী  উদযাপন ইস্টার  এর থেকে উদ্ভূত হয় I এই উদযাপনগুলো বসন্তের পূর্নিমায় ঘটে এবং প্রায়শই একসাথে মিলে যায় I  

হোলি উদযাপন করা হয়  

বসন্তের এক আনন্দময়, প্রেমের পর্ব, বা রঙের পর্ব হিসাবে লোকেরা হোলি উদযাপন করে I এর সর্বাধিক বিশিষ্ট উদ্দেশ্যটি বসন্তের শুরুটিকে ফসল কাটার  অনুষ্ঠান হিসাবে পালন করে I পরম্পরাগত সাহিত্য, এক প্রাচুর্যময় বসন্তকালীন ফসল কাটার পর্ব হিসাবে হোলিকে চিহ্নিত করেছে I

হোলি মন্দের উপরে ভালোর বিজয়কেও উদযাপন করে I হোলিকা দহনের সন্ধ্যার পর থেকে শুরু করে হোলি (বা রঙের হোলি, ধুলেটি, ধুলন্দি, বা ফাগবা) পরের দিন পর্যন্ত চলতে থাকে I   

একে অপরকে রঙ লাগিয়ে মানুষ হোলি উদযাপন করে I একে অপরকে ভিজিয়ে  রাখতে এবং রঙিন করতে তারা জলের বন্দুক এবং জল-ভর্তি বেলুন ব্যবহার করে I এটি একটি জল যুদ্ধের মতন, তবে রঙিন জলের সাথে I এটি একটি নিরপেক্ষ খেলা, যে কোনোর জন্য, বন্ধু বা অপরিচিত, ধনী বা গরীব, পুরুষ বা স্ত্রী, শিশু বা বৃদ্ধগণ I রঙের অসাধারণ আচরণ খোলা রাস্তায়, পার্কে, মন্দির এবং ভবনের বাইরে ঘটে I দলেরা ড্রাম এবং সঙ্গীতের যন্ত্রাদি বহন করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে, গাইতে গাইতে, নাচতে নাচতে যায় I বন্ধু এবং শত্রুরা একে অপরের উপরে রঙের পাউডার দিতে একসাথে আসে এবং হাঁসে, গল্প করে, তারপরে সুস্বাদু খাবার, ভোজন ও পানীয় বিতরণ করে I দুপুর বেলায় প্রত্যেককে রঙের পটের মতন দেখতে লাগে, তাই নাম “রঙের উৎসব” I      

হোলির সম্ভবতঃ সবচেয়ে অনন্যতা সামাজিক ভূমিকার উল্টোটা I পায়খানার এক ঝাড়ুদার ব্রাহ্মণকে আঘাত করতে পারে এবং এটি উৎসবের উল্টো ভূমিকার   অংশ I পিতা-মাতা, ভাই-বোন্, প্রতিবেশী এবং বিভিন্ন বর্ণের মধ্যে প্রেম শ্রদ্ধার প্রচলিত অভিব্যক্তিগুলির সব উল্টো I    

হোলি পুরাণ

হোলির পেছনে অনেক পুরাণ সমূহ আছে I গল্পটি হোলিকা দহন থেকে চলে এসে   রাজা হিরণ্যকশিপুর ভাগ্যকে সম্পর্কিত করে, যে তার বিশেষ ক্ষমতার সাহায্যে প্রহ্লাদকে হত্যা করতে ষড়যন্ত্র করেছিল I তাকে হত্যা করতে পারা যায় নি; না মানুষ নাতো জন্তুর দ্বারা, না ঘরে নাতো বাইরে, না দিনের বেলায় নাতো রাত্রি-কালে, না ক্ষেপণাস্ত্র নাতো হাতে ধরা অস্ত্রের দ্বারা, না মাটিতে, নাতো জলে বা বায়ুতে I হোলিকার দ্বারা প্রহ্লাদকে পুড়িয়ে মারার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরে, বিষ্ণু, নরসিংহ, অর্ধ-মানব, অর্ধ-সিংহ রূপে (না মানব নাতো পশু) গোধুলি লগ্নে (না দিন নাতো রাত) হিরণ্যকশিপুকে দোরগোড়ায় (না ঘরে নাতো বাইরে) নিয়ে গিয়ে তাঁর কোলে (না মাটি, জল নাতো বায়ু ) তাকে রাখলেন এবং তারপরে তার সিংহের নখ (না হাতে ধরা নাতো ক্ষেপণাস্ত্র) দিয়ে তার নাড়ি ভুঁড়ি বার করে দিলেন I এই গল্পের মধ্যে হোলি মন্দের উপরে ভালোর বিজয়কে উদযাপন করে I         

অনুরূপভাবে, প্রথম ফল সমূহ একটি বিজয়কে উদযাপন করে, তবে কোনো দুষ্ট রাজার উপরে নয়, বরং মৃত্যুর নিজের উপরে I সুসমাচার ব্যাখ্যা করে কিভাবে প্রথম ফল সমূহ, এখন ইস্টার রবিবার বলে পরিচিত, এটিকে স্পষ্ট করে, আপনাকে এবং আমাকে নতুন জীবন উপহার দেয় I  

প্রাচীন হিব্রু বেদের পর্ব সমূহ

আমরা যীশুর শেষ সপ্তাহের দৈনন্দিন ঘটনাগুলিকে অনুসরণ করেছি I তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল নিস্তারপর্বে, একটি পবিত্র যিহূদি পর্ব, সপ্তাহের সপ্তম দিন বিশ্রামবারে মৃত্যুর মধ্যে বিশ্রাম I ঈশ্বর এই পবিত্র দিনগুলি বহু আগে থেকেই হিব্রু বেদে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন I ওই নির্দেশগুলি পড়ে:  

ভু মোশিকে বললেন,
2 “ইস্রায়েলের লোকদের বলো: প্রভুর মনোনীত উত্সবগুলিকে তোমরা পবিত্র সভা বলে ঘোষণা কর| এইগুলি হল আমার নির্দিষ্ট ছুটির দিন:
3 “ছদিন ধরে কাজ কর, কিন্তু সপ্তম দিন কর্মবিরতির জন্য নির্দিষ্ট বিশ্রামপর্ব হবে বিশ্রামের বিশেষ দিন| তোমরা অবশ্যই কোন কাজ করবে না| এটা তোমাদের সকলের বাড়ীতেই প্রভুর জন্য বিশ্রামের দিন হবে|
4 “এগুলি হল প্রভুর মনোনীত নিস্তারপর্ব| তোমরা এগুলির জন্য মনোনীত সমযে পবিত্র সভার কথা ঘোষণা করবে|
5 প্রভুর নিস্তারপর্বের দিন হল প্রথম মাসের 14 দিনের দিন সূর্য়াস্তের সময়|

লেবীয় 23:1-5

এটি কি অবাক নয় যে যীশুর ক্রুশবিদ্ধকরণ এবং বাকি উভয়ই 1500 বছর আগে নির্ধারিত ঠিক এই দুটি পবিত্র পর্বে ঘটেছিল?

কেন? এর অর্থ কি?

যীশুর ক্রুশবিদ্ধকরণ নিস্তার পর্বে (দিন 6) ঘটেছিল এবং তাঁর বিশ্রাম বিশ্রামবারে (দিন 7) ঘটেছিল I

প্রাচীন হিব্রু বেদ পর্বগুলির সাথে এই সময়টি বহন করে I পরবর্তী পর্ব নিস্তারপর্ব এবং বিশ্রামবারের পরে ছিল ‘প্রথম ফসল’ I হিব্রু বেদ এর জন্য এই নির্দেশগুলি দিয়েছিল I  

হিব্রু প্রথম ফসল পর্ব

9আর সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, 10তুমি ইস্রায়েল-সন্তানগণকে কহ, তাহাদিগকে বল, আমি তোমাদিগকে যে দেশ দিব, সেই দেশে প্রবিষ্ট হইয়া তোমরা যখন তদুৎপন্ন শস্য ছেদন করিবে, তখন তোমাদের কাটা শস্যের অগ্রিমাংশ বলিয়া এক আটি যাজকের নিকটে আনিবে। 11সে সদাপ্রভুর সম্মুখে ঐ আটি দোলাইবে, যেন তোমাদের জন্য তাহা গ্রাহ্য হয়; বিশ্রামবারের পরদিন যাজক তাহা দোলাইবে।  

লেবীয় 23:9-11

14 ঈশ্বরের কাছে তা নৈবেদ্য হিসাবে না আনা পর্য়ন্ত তোমরা অবশ্যই কোন নতুন শস্য অথবা ফল বা নতুন শস্য থেকে তৈরী রুটি খাবে না| তোমরা যেখানেই বাস কর না কেন এই বিধি তোমাদের বংশ পরম্পরায চলবে|

লেবীয় 23:14

নিস্তারপর্বের ‘বিশ্রামবারের পরের দিন’ ছিল একটি তৃতীয় পবিত্র পর্ব, প্রথম ফসল I প্রত্যেক বছর এই দিনে মহা যাজক পবিত্র মন্দিরে প্রবেশ করতেন এবং সদাপ্রভুকে প্রথম বসন্তের শস্যের ফসল উৎসর্গ করতেন I হোলির মতন, এটি শীতের পরে নতুন জীবনের আরম্ভকে তাত্পর্যপূর্ণ করে, প্রচুর ফসলের দিকে তাকিয়ে থেকে মানুষকে তৃপ্তির সাথে খেতে সক্ষম করে I       

এটি হুবহু সেই দিন ছিল বিশ্রামবারের পরে যখন যীশু মৃত্যুর মধ্যে বিশ্রাম গ্রহণ  করেছিলেন, এক নতুন সপ্তাহের রবিবার, নীসন 16 তারিখ I সুসমাচার লিপিবদ্ধ করে এই দিনে কি ঘটেছিল যখন মহা যাজক নতুন জীবনের ‘প্রথম ফল’ উৎসর্গ করতে মন্দিরে প্রবেশ করেছিলেন I   

যীশু মৃত্যু থেকে উঠলেন

প্তাহের প্রথম দিন, সেই স্ত্রীলোকেরা খুব ভোরে ঐ সমাধিস্থলে এলেন৷ তাঁরা য়ে গন্ধদ্রব্য ও মশলা তৈরী করেছিলেন তা সঙ্গে আনলেন৷
2 তাঁরা দেখলেন সমাধিগুহার মুখ থেকে পাথরখানা একপাশে গড়িয়ে দেওযা আছে;
3 কিন্তু ভেতরে ঢুকে সেখানে প্রভু যীশুর দেহ দেখতে পেলেন না৷
4 তাঁরা যখন অবাক বিস্ময়ে সেই কথা ভাবছেন, সেই সময় উজ্জ্বল পোশাক পরে দুজন ব্যক্তি হঠাত্ এসে তাঁদের পাশে দাঁড়ালেন৷
5 ভয়ে তাঁরা মুখ নীচু করে নতজানু হয়ে রইলেন৷ ঐ দুজন তাঁদের বললেন, ‘যিনি জীবিত, তোমরা তাঁকে মৃতদের মাঝে খুঁজছ কেন?
6 তিনি এখানে নেই, তিনি পুনরুত্থিত হয়েছন৷ তিনি যখন গালীলে ছিলেন তখন তোমাদের কি বলেছিলেন মনে করে দেখ৷
7 তিনি বলেছিলেন, মানবপুত্রকে অবশ্যই পাপী মানুষদের হাতে ধরিয়ে দেওযা হবে, তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ হতে হবে; আর তিন দিনের দিন তিনি আবার মৃত্যুর মধ্য থেকে জীবিত হয়ে উঠবেন৷’
8 তখন যীশুর সব কথা তাঁদের মনে পড়ে গেল৷
9 তারপর তাঁরা সমাধিগুহা থেকে ফিরে এসে সেই এগারো জন প্রেরিতকে ও তাঁর অনুগামীদের এই ঘটনার কথা জানালেন৷
10 এই স্ত্রীলোকেরা হলেন মরিয়ম মগ্দলীনী, য়োহানা আর যাকোবের মা মরিয়ম৷ তাঁদের সঙ্গে আরো কয়েকজন এই সব ঘটনা প্রেরিতদের জানালেন৷
11 কিন্তু প্রেরিতদের কাছে সে সব প্রলাপ বলে মনে হল, তাঁরা সেই স্ত্রীলোকদের কথা বিশ্বাস করলেন না৷
12 কিন্তু পিতর উঠে দৌড়ে সমাধিগুহার কাছে গেলেন৷ তিনি নীচু হয়ে ঝুঁকে পড়ে দেখলেন, কেবল যীশুর দেহে জড়ানো কাপড়গুলো সেখানে পড়ে আছে; আর যা ঘটেছে তাতে আশ্চর্য হয়ে ঘরে ফিরে গেলেন৷
13 ঐ দিনই দুজন অনুগামী জেরুশালেম থেকে সাত মাইল দূরে ইম্মাযু নামে একটি গ্রামে যাচ্ছিলেন৷
14 এই য়ে সব ঘটনাগুলি ঘটে গেল, য়েতে য়েতে তাঁরা সে বিষয়েই পরস্পর আলোচনা করছিলেন৷
15 তাঁরা যখন এইসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন, এমন সময় যীশু নিজে এসে তাঁদের সঙ্গে সঙ্গে চলতে লাগলেন৷
16 ঘটনাটি এমনভাবেই ঘটল যাতে তাঁরা যীশুকে চিনতে না পারেন৷
17 যীশু তাঁদের বললেন, ‘তোমরা য়েতে য়েতে পরস্পর কি নিয়ে আলোচনা করছ?’তাঁরা থমকে দাঁড়ালেন, তাঁদের খুবই বিপন্ন দেখাচ্ছিল৷
18 তাঁদের মধ্যে ক্লিয়পা নামে একজন তাঁকে বললেন, ‘জেরুশালেমের অধিবাসীদের মধ্যে আমাদের মনে হয় আপনিই একমাত্র লোক, যিনি জানেন না গত কদিনে সেখানে কি কাণ্ডটাই না ঘটে গেছে৷’
19 যীশু তাঁদের বললেন, ‘কি ঘটেছে, তোমরা কিসের কথা বলছ?’ তাঁরা যীশুকে বললেন, ‘নাসরতীয় যীশুর বিষয়ে বলছি৷ তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি তাঁর কথা ও কাজের শক্তিতে ঈশ্বর ও সমস্ত মানুষের চোখে নিজেকে এক মহান ভাববাদীরূপে প্রমাণ করেছেন৷
20 কিন্তু আমাদের প্রধান যাজকরা ও নেতারা তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেবার জন্য ধরিয়ে দিল, তারা তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করে মারল৷
21 আমরা আশা করেছিলাম য়ে তিনিই সেই যিনি ইস্রায়েলকে মুক্ত করবেন৷ কেবল তাই নয়, আজ তিন দিন হল এসব ঘটে গেছে৷
22 আবার আমাদের মধ্যে কয়েকজন স্ত্রীলোক আমাদের অবাক করে দিলেন৷ তাঁরা আজ খুব ভোরে সমাধির কাছে গিয়েছিলেন;
23 কিন্তু সেখানে তাঁরা যীশুর দেহ দেখতে পান নি৷ সেখান থেকে ফিরে এসে তাঁরা আমাদের বললেন য়ে তাঁরা স্বর্গদূতদের দর্শন পেয়েছেন, আর সেই স্বর্গদূতেরা তাঁদের বলেছেন য়ে যীশু জীবিত৷
24 এরপর আমাদের সঙ্গে যাঁরা ছিলেন তাদের মধ্যে কয়েকজন সেই সমাধির কাছে গিয়েছিলেন; আর তাঁরা দেখলেন স্ত্রীলোকেরা যা বলেছেন তা সত্য৷ কিন্তু তাঁরা যীশুকে সেখানে দেখতে পান নি৷’
25 তখন যীশু তাঁদের বললেন, ‘তোমরা সত্যি কিছু বোঝ না, তোমাদের মন বড়ই অসাড়, তাই ভাববাদীরা যা কিছু বলে গেছেন তোমরা তা বিশ্বাস করতে পার না৷
26 খ্রীষ্টের মহিমায় প্রবেশ লাভের পূর্বে কি তাঁর এইসব কষ্টভোগ করার একান্ত প্রযোজন ছিল না?’
27 আর তিনি মোশির পুস্তক থেকে শুরু করে ভাববাদীদের পুস্তকে তাঁর বিষয়ে যা যা লেখা আছে, শাস্ত্রের সে সব কথা তাঁদের বুঝিয়ে দিলেন৷
28 তাঁরা য়ে গ্রামে যাচ্ছিলেন তার কাছাকাছি এলে পর যীশু আরো দূরে যাবার ভাব দেখালেন৷
29 তখন তাঁরা যীশুকে খুব অনুরোধ করে বললেন, ‘দেখুন, বেলা পড়ে গেছে, এখন সন্ধ্যা হয়ে এল, আপনি আমাদের এখানে থেকে যান৷’ তাই তিনি তাঁদের সঙ্গে থাকবার জন্য ভেতরে গেলেন৷
30 তিনি যখন তাঁদের সঙ্গে খেতে বসলেন, তখন রুটি নিয়ে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিলেন৷ পরে সেই রুটি টুকরো টুকরো করে তাঁদের দিলেন৷
31 সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের চোখ খুলে গেল, তাঁরা যীশুকে চিনতে পারলেন, আর তিনি সেখান থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলেন৷
32 তখন তাঁরা পরস্পর বলাবলি করলেন, ‘তিনি যখন রাস্তায় আমাদের সঙ্গে কথা বলছিলেন ও শাস্ত্র থেকে আমাদের বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন, তখন আমাদের অন্তর কি আবেগে উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে নি?’
33 তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে উঠে জেরুশালেমে গেলেন৷ সেখানে তাঁরা সেই এগারোজন প্রেরিত ও তাদের সঙ্গে আরো অনেককে দেখতে পেলেন৷
34 প্রেরিত ও অন্যান্য যাঁরা সেখানে ছিলেন তাঁরা বললেন, ‘প্রভু, সত্যি জীবিত হয়ে উঠেছেন৷ তিনি শিমোনকে দেখা দিয়েছেন৷’
35 তখন সেই দুজন অনুগামীও রাস্তায় যা ঘটেছিল তা তাঁদের কাছে ব্যক্ত করলেন৷ আর যীশু যখন রুটি টুকরো টুকরো করছিলেন তখন কিভাবে তাঁরা তাঁকে চিনতে পারলেন তাও জানালেন৷
36 তাঁরা যখন এসব কথা তাদের বলছেন, এমন সময় যীশু তাঁদের মাঝে এসে দাঁড়ালেন আর বললেন, ‘তোমাদের শান্তি হোক্!’
37 কিন্তু তাঁরা ভয়ে চমকে উঠলেন৷ তাঁরা মনে করলেন বোধ হয় কোন ভূত দেখছেন৷
38 কিন্তু যীশু তাঁদের বললেন, ‘তোমরা এত অস্থির হচ্ছ কেন? আর তোমাদের মনে সন্দেহই বা জাগছে কেন?
39 আমার হাত ও পা দেখ, আমার স্পর্শ করে দেখ, আত্মার এইরূপ হাড় মাংস থাকে না, কিন্তু তোমরা দেখতে পাচ্ছ আমার আছে৷’
40 এই কথা বলে তিনি তাঁদের হাত ও পা দেখালেন৷
41 তাঁদের এতই আনন্দ হয়েছিল ও য়ে তাঁরা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না৷ তাঁরা বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে গিয়েছিলেন৷ যীশু তাঁদের বললেন, ‘তোমাদের কাছে কিছু খাবার আছে কি?
42 তাঁরা তাঁকে এক টুকরো ভাজা মাছ দিলেন৷
43 তিনি সেটি নিয়ে তাঁদের সামনে গেলেন৷
44 তিনি তাঁদের বললেন, ‘আমি যখন তোমাদের সঙ্গে ছিলাম, তখনই তোমাদের এসব কথা বলেছিলাম, আমার সম্বন্ধে মোশির বিধি-ব্যবস্থায়, ভাববাদীদের পুস্তকে ও গীতসংহিতায় যা কিছু লেখা হয়েছে তা পূর্ণ হতেই হবে৷’
45 এরপর তিনি তাঁদের বুদ্ধি খুলে দিলেন, য়েন তাঁরা শাস্ত্রের কথা বুঝতে পারেন৷
46 যীশু তাঁদের বললেন, ‘একথা লেখা আছে খ্রীষ্টকে অবশ্যই কষ্ট ভোগ করতে হবে, আর তিনি মৃত্যুর তিন দিনের দিন মৃতদের মধ্য থেকে জীবিত হয়ে উঠবেন৷’
47 এবং পাপের জন্য অনুশোচনা ও পাপের ক্ষমার কথা অবশ্যই সমস্ত জাতির কাছে ঘোষণা করা হবে, জেরুশালেম থেকেই একাজ শুরু হবে আর তোমরাই এসবের সাক্ষী৷

লুক 24:1-48

যীশুর প্রথম ফল বিজয়

‘প্রথম ফলের’ পবিত্র দিনে মৃত্যুর উপরে যীশু বিজয়ী হয়ে উঠলেন, এমন একটি কীর্তি যাকে তাঁর শত্রু এবং শিষ্যরা উভয়ই অসম্ভব মনে করেছিল I যেভাবে হোলি মন্দের উপর ভালোর বিজয়কে উদযাপন করে, সেইভাবে যীশুর বিজয় এই দিনে ভালোর একটি বিজয় ছিল I  

54 এই ক্ষয়শীল দেহ যখন অক্ষয়তার পোশাক পরবে আর এই পার্থিব দেহ যখন অবিনশ্বরতায় ভূষিত হবে তখন শাস্ত্রে য়ে কথা লেখা আছে তা সত্য হবে:‘মৃত্যু জয়ে কবলিত হল৷’
55 ‘মৃত্যু তোমার জয় কোথায়? মৃত্যু তোমার হুল কোথায়?’
56 মৃত্যুর হুল পাপ আর পাপের শক্তি আসে বিধি-ব্যবস্থা থেকে৷

1 করিন্থীয়ান 15:54-56

আমরা যেমন ভূমিকা পাল্টানোর মাধ্যমে হোলি উদযাপন করি, এই ‘প্রথম ফল’ সর্বাধিক উল্টো ভূমিকা ঘটিয়েছিল I পূর্বে মৃত্যুর মানবজাতির উপরে চরম ক্ষমতা ছিল I এখন যীশু মৃত্যুর উপরে ক্ষমতা জয় করে নিয়েছেন I তিনি সেই ক্ষমতাকে উল্টে দিয়েছেন I যেমনভাবে নরসিংহ হিরন্যকশিপুর ক্ষমতার বিরুদ্ধে একটি উদ্বোধন দেখতে পেয়েছিল, যীশু পাপ রহিত মৃত্যু বরণের দ্বারা, এক আপাতদৃষ্টিতে অপরাজেয় মৃত্যুকে পরাস্ত করার উদ্বোধনকে দেখতে পেয়েছিলেন I     

আপনার এবং আমার জন্য বিজয়

তবে এটি কেবলমাত্র যীশুর জন্য একট বিজয় ছিল না I এটি আপনার এবং আমার পক্ষেও একটি বিজয়, প্রথম ফলের সাথে এর সময় নির্ধারিত গ্যারান্টিযুক্ত I বাইবেল ব্যাখ্যা করে:  

20 কিন্তু সত্যিই খ্রীষ্ট মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত হয়েছেন, আর য়েসব ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে তিনি তাদের মধ্যে প্রথম ফসল৷
21 কারণ একজন মানুষের মধ্য দিয়ে য়েমন মৃত্যু এসেছে, মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থানও তেমনিভাবেই একজন মানুষের দ্বারা এসেছে৷
22 কারণ আদমে য়েমন সকলের মৃত্যু হয়, ঠিক সেভাবে খ্রীষ্টে সকলেই জীবন লাভ করবে৷
23 কিন্তু প্রত্যেকে তার পালাক্রমে জীবিত হবে; খ্রীষ্ট, যিনি অগ্রনী, তিনি প্রথমে মৃতদের মধ্য থেকে জীবিত হলেন, আর এরপর যারা খ্রীষ্টের লোক তারা তাঁর পুনরুত্থানের সময়ে জীবিত হয়ে উঠবে৷
24 এরপর খ্রীষ্ট যখন প্রত্যেক শাসনকর্তার কর্ত্তৃত্ব ও পরাক্রমকে পরাস্ত করে পিতা ঈশ্বরের হাতে রাজ্য সঁপে দেবেন তখন সমাপ্তি আসবে৷
25 কারণ যতদিন না ঈশ্বর তাঁর সমস্ত শত্রুকে খ্রীষ্টের পদানত করছেন, ততদিন খ্রীষ্টকে রাজত্ব করতে হবে৷
26 শেষ শত্রু হিসেবে মৃত্যুও ধ্বংস হবে৷

1 করিন্থীয়ান 15:20-26

যীশু প্রথম ফলের উপরে পুনরুত্থিত হয়েছিলেন যাতে আমরা জানতে পারি যে তিনি মৃত্যু থেকে তাঁর পুনরুত্থানে আমাদের ভাগীদার হতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন I ঠিক যেমন প্রথম ফল পরে একটি বিরাট ফসলের প্রত্যাশা নিয়ে নতুন বসন্ত জীবনের উপহার ছিল, ঠিক তেমনি ‘প্রথম ফলের’ উপরে যীশুর উত্থান একটি পরবর্তী পুনরুত্থানের এক প্রত্যাশা সেই সকলের জন্য ধারণ করে ‘যারা তাঁর মধ্যে থাকে’ I     

বসন্তের বীজ…

অথবা এইভাবে ভাবুন I প্রথম দিনে যীশু নিজেকে ‘সেই বীজ’ বলে সম্বোধন করলেন I হোলি যেমন বসন্তের বীজ থেকে নতুন জীবনের অঙ্কুরকে উদযাপন করে, তাই হোলিও যীশুর নতুন জীবনের দিকে নির্দেশ করে, সেই ‘বীজ’ যিনি আবারও বসন্তে জীবনে পুনরায় ফিরে এসেছিলেন I    

পরবর্তী মনু…

এছাড়াও বাইবেল ব্যাখ্যা করে যীশুর পুনরুত্থান মনুর ধারণাকে ব্যবহার করে I প্রাচীনতম বেদের মধ্যে মনু সমস্ত মানবজাতির পূর্বসুরী ছিলেন I আমরা সবাই তার সন্তান I পুরাণ তারপরে প্রতিটি কল্প বা যুগের জন্য এক নতুন মনু অন্তর্ভুক্ত করেছিল (শ্রদ্ধাদেব মনু এই কল্পের মধ্যে মানবান্তর) I হিব্রু বেদ ব্যাখ্যা করে যে আদম হ’ল এই মনু, যার মৃত্যুর সাথে সাথে সমস্ত মানব জাতির মৃত্যু ঘটেছিল, যেহেতু এটি তার থেকে তার সন্তানদের কাছে চলে যায় I      

তবে যীশু হলেন পরবর্তী মনু I মৃত্যুর উপরে তাঁর বিজয়ের সাথে তিনি এক নতুন কল্পের উদঘাটন করলেন I যাঁর সন্তান রূপে আমরাও যীশুর ন্যায় পুনরুত্থিত হয়ে মৃত্যুর উপরে এই বিজয়ের ভাগীদারী হব I তিনি প্রথমে পুনরুত্থিত হয়েছিলেন এবং আমাদের পুনরুত্থান পরে আসে I তিনি নতুন জীবনের তাঁর প্রথম ফলকে অনুসরণ করতে আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন I  

ইস্টার: সেই রবিবারের পুনরুত্থানের উদযাপন

ইস্টার এবং হোলি উভয়ই রঙ দিয়ে উদযাপন করা হয়

আজকে, আমরা প্রায়শই যীশুর পুনরুত্থানকে ইস্টার বলে ডাকি, এবং ইস্টার রবিবার সেই রবিবারকে স্মরণ করে যেদিন তিনি উত্থিত হয়েছিলেন I অনেকে নতুন জীবনের রঙিন প্রতীক সমূহের দ্বারা ইস্টার উদযাপন করে, যেমন বাড়িকে রঙ করে I হোলিকে যেমন রঙের সাহায্যে উদযাপন করি তেমনি ইস্টারকেও I হোলি যেমন নতুন সুচনাকে উদযাপন করে ইস্টারও তেমনি করে I ইস্টার উদযাপনের নির্দিষ্ট পদ্ধতিটি গুরুত্বপূর্ণ নয় I যেটি গুরুত্বপূর্ণ তা হ’ল প্রথম ফলের পরিপূর্ণতা হিসাবে যীশুর পুনরুত্থান, এবং এর উপকারগুলি পাওয়া I

এই সপ্তাহের জন্য কালপঞ্জিতে আমরা এটিকে দেখি:

প্রথম ফলে যীশু মৃত্যুথেকে ওঠেন – আপনাকে এবং আমাকে মৃত্যু থেকে নতুন জীবন উপহার দেওয়া হয়েছে

 ‘শুভ শুক্রবার’ এর উত্তর দেওয়া হয়েছে

কেন শুভ শুক্রবার ‘শুভ’ আমাদের প্রশ্ন সম্বন্ধে এটি উত্তর দেয় I   

9 কিন্তু আমরা যীশুকে দেখেছি, য়াঁকে অল্পক্ষণের জন্য স্বর্গদূতদের থেকে নীচে স্থান দেওয়া হয়েছিল৷ সেই যীশুকেই এখন সম্মান আর মহিমার মুকুট পরানো হয়েছে৷ কারণ তিনি মৃত্যু যন্ত্রণা ভোগ করেছেন এবং ঈশ্বরের অনুগ্রহে সকল মানুষের জন্য মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন৷

ইব্রীয় 2:9

কিন্তু দূতগণ অপেক্ষা যিনি অল্পই ন্যূনীকৃত হইলেন, সেই ব্যক্তিকে অর্থাৎ যীশুকে দেখিতেছি, তিনি মৃত্যুভোগ হেতু প্রতাপ ও সমাদরমুকুটে বিভূষিত হইয়াছেন, যেন ঈশ্বরের অনুগ্রহে সকলের নিমিত্ত মৃত্যুর আস্বাদ গ্রহণ করেন

যখন যীশু ‘মৃত্যুর আস্বাদ গ্রহণ করলেন’ তিনি আপনার, আমার এবং প্রত্যেকের জন্য এইরকম করলেন I শুভ শুক্রবার ‘শুভ’ কারণ এটি আমাদের জন্য শুভ  ছিল I   

যীশুর পুনরুত্থান বিবেচিত

যীশু তাঁর পুনরুত্থানকে প্রমাণ করতে নিজেকে মৃত্যু থেকে অনেক দিন ধরে জীবিত দেখিয়েছিলেন, এখানে লিপিবদ্ধ রয়েছে I তবে তাঁর প্রথম আবির্ভাব তাঁর শিষ্যদের কাছে:   

…তাদের কাছে বাজে কথা বলে মনে হয়েছিল

24:10

এর জন্য যীশুকে বলতে হ’ল:

27 আর তিনি মোশির পুস্তক থেকে শুরু করে ভাববাদীদের পুস্তকে তাঁর বিষয়ে যা যা লেখা আছে, শাস্ত্রের সে সব কথা তাঁদের বুঝিয়ে দিলেন

৷লুক 24:27

এবং পরে আবার:

44 তিনি তাঁদের বললেন, ‘আমি যখন তোমাদের সঙ্গে ছিলাম, তখনই তোমাদের এসব কথা বলেছিলাম, আমার সম্বন্ধে মোশির বিধি-ব্যবস্থায়, ভাববাদীদের পুস্তকে ও গীতসংহিতায় যা কিছু লেখা হয়েছে তা পূর্ণ হতেই হবে৷’

লুক 24:44

আমরা কি করে নিশ্চিত হতে পারি যে আমাদেরকে অনন্ত জীবন দেওয়ার জন্য এটি সত্যই ঈশ্বরের পরিকল্পনা ছিল কিনা? একমাত্র ঈশ্বর ভবিষ্যত জানেন I ঋষিগণ কয়েকশত পূর্বে চিহ্ন এবং ভাববাণী সমূহ লিখেছিলেন যাতে আমরা যাচাই করতে পারি যীশু সেগুলিকে পুরণ করেছিলেন কিনা…  

4 যার ফলে আপনি জানবেন, য়ে বিষয়গুলি আপনাকে জানানো হয়েছে সেগুলি

সত্য৷লুক 1:4

যীশুর মৃত্যু এবং পুনরুত্থান সম্পর্কে জ্ঞাত হতে, আমরা অনুসন্ধান করি:

1. হিব্রু বেদ সৃষ্টির পর থেকে আবেগী সপ্তাহকে নৃত্য হিসাবে দেখায় 

2. একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে পুনরুত্থানের প্রমাণ I 

3. পুনরুত্থানের জীবনের এই উপহারটি কিভাবে পাওয়া যায় I

4. ভক্তির মাধ্যমে যীশুকে বুঝুন

5. রামায়ণের চশমার মাধ্যমে সুসমাচার I

দিন 7: বিশ্রামবারের বিশ্রামের মধ্যে স্বস্তি

স্বস্তিক শব্দটি নিম্নলিখিত দিয়ে তৈরী:

শু – আচ্ছা, ভাল, শুভ

অস্তি (আছে) – “এটি হয়”

স্বস্তিক লোক এবং স্থানের কল্যাণ কামনাকারী একটি আশীর্বচন বা আশীর্বাদ I এটি ঈশ্বর এবং আত্মায় বিশ্বাসের একটি ঘোষণা I এটি একটি আদর্শ, আত্মিক অভিব্যক্তি, যা একজনের উত্তম অভিপ্রায় প্রকাশ করতে সামাজিক কথাবার্তা এবং ধার্মিক সভায় ব্যবহৃত হয় I   

এই আশীর্বচন/আশীর্বাদকে এর চাক্ষুষ প্রতীক, স্বস্তিকার মাধ্যমেও প্রকাশ করা হয় I দক্ষিণ-বাহু সম্বলিত স্বস্তিকা (卐) সহস্রাব্দ ধরে দেবত্ব এবং আধ্যাত্মিকতাকে প্রতীকী করেছে I তবে এটির বিভিন্ন অর্থ রয়েছে, এবং নাৎসীরা সহ-বিকল্প অনুসরণ করে চারিদিকে এক খ্যাতি অর্জন করেছে তাই এটি এখন এশিয়া জুড়ে ঐতিহ্যগতভাবে ইতিবাচক অনুভূতির তুলনায় পশ্চিমে নেতিবাচক অনুভূতি জাগ্রত করে I এটি স্বস্তিকের এই বিবিধ ধারণাগুলি হয় যা এটিকে শুভ শুক্রবারের পরের দিন – দিন 7 এর উপযুক্ত প্রতীক করে তোলে I    

দিন 7 – বিশ্রামবারের বিশ্রাম

দিন 6 যীশুকে ক্রুশবিদ্ধ হতে দেখেছিল I সেই দিনে একটি অসম্পূর্ণ কাজকে  ছেড়ে চূড়ান্ত ঘটনা ছিল যীশুর সমাধি I  

55 য়ে স্ত্রীলোকেরা যীশুর সঙ্গে সঙ্গে গালীল থেকে এসেছিলেন, তাঁরা য়োষেফের সঙ্গে গেলেন, আর সেই সমাধিটি ও তার মধ্যে কিভাবে যীশুর দেহ শাযিত রাখা হল তা দেখলেন৷
56 এরপর তাঁরা বাড়ি ফিরে গিয়ে বিশেষ এক ধরণের সুগন্ধি তেল ও মশলা তৈরী করলেন৷ বিশ্রামবারে তাঁরা বিধি-ব্যবস্থা অনুসারে কাজকর্ম বন্ধ

রাখলেন৷লুক 23:55-56

মহিলারা তাঁর দেহটি সুবাসিত করতে চেয়েছিল কিন্তু সময় ফুরিয়েছিল এবং শুক্রবার সন্ধ্যায় সূর্যাস্তে বিশ্রামবার শুরু হয়ে গিয়েছিল I এটি সপ্তাহের সপ্তম দিনে অর্থাৎ বিশ্রামবারের দিনে শুরু হয়েছিল I যিহূদিরা সৃষ্টির বিবরণে ফিরে, বিশ্রামবারের দিনে কাজ করতে পারে না I 6 দিনে ঈশ্বর সমস্তকিছু সৃষ্টি করার পরে হিব্রু বেদ বলে:

ইভাবে পৃথিবী, আকাশ এবং তাদের আভ্যন্তরীণ যাবতীয় জিনিস সম্পূর্ণ হল|
2 য়ে কাজ ঈশ্বর শুরু করেছিলেন তা শেষ করে সপ্তম দিনে তিনি বিশ্রাম নিলেন|

আদিপুস্তক 2:1-2

মহিলারা যদিও তাঁর দেহ সুবাসিত করতে চাইছিল, তাদের বেদ অনুসরণ করে বিশ্রাম গ্রহণ করতে হল I

… যখন অন্যরা কাজ করেছিল  

তবে প্রধান যাজকরা বিশ্রামবারের দিনে তাদের কাজ চালিয়ে গেল I

62 পরের দিন, যখন শুক্রবার শেষ হল, অর্থাত্ প্রস্তুতি পর্বের পরের দিন, প্রধান যাজকরা ও ফরীশীরা গিয়ে পীলাতের সঙ্গে দেখা করল৷
63 তারা বলল, ‘হুজুর, আমাদের মনে পড়ছে সেই প্রতারক তাঁর জীবনকালে বলেছিল, ‘আমি তিনদিন পরে মৃত্যু থেকে পুনরুত্থিত হব৷’
64 তাই আপনি হুকুম দিন য়েন তিন দিন কবরটা পাহারা দেওযা হয়, তা না হলে ওর শিষ্যরা হয়তো এসে দেহটা চুরি করে নিয়ে গিয়ে বলবে, তিনি মৃত্যু থেকে পুনরুত্থিত হয়েছেন; তাহলে প্রথমটার চেয়ে শেষ ছলনাটা আরো খারাপ হবে৷’
65 পীলাত তাদের বললেন, ‘তোমাদের কাছে পাহারা দেবার লোক আছে, তোমরা গিয়ে যত ভালভাবে পারো পাহারা দেবার ব্যবস্থা কর৷’
66 তখন তারা সকলে গিয়ে কবরের মুখের সেই পাথররাশির উপর সীলমোহর করল ও সেখানে একদল প্রহরী মোতায়েন করে সমাধিটি সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা

করল৷মথি 27:62:66

অতএব সেই বিশ্রামবারে প্রধান যাজকরা সমাধির জন্য, যেখানে যীশুর দেহ মৃত্যুর মধ্যে বিশ্রামে ছিল, একটি প্রহরীর ব্যবস্থা করার জন্য কাজ করেছিল, যখন মহিলারা বাধ্যতায় বিশ্রাম নিয়েছিল I

নরকের থেকে বন্দী আত্মাদের মুক্তি দেওয়া  

যদিও মানুষের দৃষ্টিতে এটা লাগলো যে যীশু তাঁর যুদ্ধ হেরে গেছেন, তবুও এই দিন নরকে কিছু ঘটল I বাইবেল ব্যাখ্যা করে:

8 তাই শাস্ত্র বলছে: ‘তিনি উর্দ্ধে আকাশে গেলেন, সঙ্গে বন্দীদের নিয়ে গেলেন, আর মানুষের হাতে তুলে দিয়ে গেলেন নানা বরদান৷’ গীতসংহিতা 68 : 18
9 যখন বলা হয়েছে, ‘তিনি উর্দ্ধে উঠে গেলেন,’ তার অর্থ কি? তার অর্থ এই য়ে প্রথমে তিনি নিম্নে পৃথিবীতে নেমেছিলে

ন৷ইফিষীয় 4:8-9

যীশু সব চেয়ে নিচু অঞ্চলে অবতরণ করলেন, যাকে আমরা নরক বা পিতৃলোক বলি যেখানে পিতৃগণ (মৃত পূর্বপুরুষ) যম (যমরাজ) এবং যম-দূতদের  দ্বারা বন্দী আছে I যম এবং চিত্রগুপ্ত (ধর্মরাজ) মৃতদের বন্দী করে রেখেছিল কেননা তাদের কাছে তাদের কৃতকর্মের বিচার করার ও তাদের যোগ্যতা ওজন করার কর্ত্তৃত্ব ছিল I তবে সুসমাচার ঘোষণা করে যে যীশু, সপ্তম দিনে যখন তাঁর দেহ মৃত্যুর মধ্যে বিশ্রামে ছিল, তখনও তাঁর আত্মা অবতরণ করল এবং বন্দিদের সেখানে মুক্ত করল, তারপর তাদের সঙ্গে নিয়ে আরোহণ করলেন I যেমনভাবে আরও ব্যাখ্যা করা হয়েছে….

যম, যম-দূতরা এবং চিত্রগুপ্ত পরাজিত হল

তিনি অধ্যক্ষ ও ক্ষমতা লুণ্ঠন করে, তাদের মধ্যে প্রকাশ্যে তাদের জয়যুক্ত করলেন।

কলসীয় 2:15

যীশু নরকের কর্ত্তৃত্বদের (যম, যমদূতরা, এবং চিত্রগুপ্ত) পরাজিত করলেন  বাইবেল যাদেরকে শয়তান (দোষারোপকারী), পাপাত্মার অধিপতি (বিরোধী), সর্প (নাগ) এবং অধীনস্থ কর্ত্তৃত্ব সমূহ বলে I যীশুর আত্মা এই কর্ত্তৃত্ব সমূহের দ্বারা বন্দীদের মুক্তি দেওয়ার জন্য অবতীর্ণ হয়েছিল I

যীশু যখন নরকের থেকে এই বন্দীদের মুক্তি দিচ্ছিলেন, তখন পৃথিবীর উপরে যারা ছিল তারা এর সম্পর্কে অচেতন ছিল I জীবন্ত ভাবনা যে যীশু মৃত্যুর সঙ্গে যুদ্ধে পরাজিত হয়েছিলেন I এটিই ক্রুশের কূটাভাস I ফলাফলগুলি একই সাথে বিভিন্ন দিক নির্দেশ করে বলে মনে হচ্ছে I ষষ্ট দিনটি তাঁর মৃত্যুর চুর্ণকারী ক্ষতিতে শেষ হয়েছিল I তবে এটি নরকের বন্দিদের জন্য জয়লাভে পরিণত করেছিল I ষষ্ঠ দিনের পরাজয় সপ্তম দিনে তাদের বিজয় ছিল I স্বস্তিকা যেমন একসাথে বিপরীত দিকে নির্দেশ করে, ক্রুশও তেমনি একইভাবে করে I    

প্রতীক হিসাবে স্বস্তিকার উপরে ভাবনা  

স্বস্তিকের কেন্দ্রীয় বাহু সমূহের প্রতিচ্ছেদ একটি ক্রুশ তৈরী করে I এই জন্যই যীশুর আদি শিষ্যরা স্বস্তিকাকে তাদের প্রতীক হিসাবে ব্যবহার করত I  

যেহেতু ক্রস ‘স্বস্তিকায়’ আছে, স্বস্তিকা একটি Jesusতিহ্যবাহী প্রতীক যা যীশুকে ভক্তি দেখায়
স্বস্তিকা ক্রুশের কুটাভাসগুলির প্রতীক 

তদতিরিক্ত, প্রান্তগুলিতে বেঁকানো বাহুগুলি সমস্ত দিক সমূহকে নির্দেশ করে, ক্রুশের এই কূটাভাসগুলিকে প্রতীকী করে; এর পরাজয় এবং বিজয় উভয়কেই, এর ব্যয় এবং লাভ, নম্রতা এবং বিজয়, দুঃখ এবং আনন্দ. মৃত্যুর মধ্যে বিশ্রামকারী দেহ এবং মুক্তির জন্য কাজ করা আত্মা I সেইদিনটি অনেক যুগপৎ বিপরীতগুলিকে বের করে এনেছিল, যেমন স্বস্তিকা এত ভালভাবে প্রতীকী করে I   

প্রতিটি স্থানের জন্য স্বস্তিকা 

ক্রুশের আশীর্বাদগুলি পৃথিবীর চার কোনে অব্যাহত রয়েছে; উত্তর, দক্ষিন, পূর্ব এবং পশ্চিম দিকে, বেঁকানো বাহুগুলি যে দিকে নির্দেশ করে সেই চতুর্দিকের দ্বারা প্রতীকী হয় I   

নাৎসী বিদ্বেষ স্বস্তিকের শুভভাবনাকে দুষিত করেছিল I বেশিরভাগ পাশ্চাত্য দেশগুলি এটিকে ইতিবাচক হিসাবে আর বিবেচনা করে না I অতএব স্বস্তিকা নিজেই প্রতীকী করে যে কিভাবে অন্য প্রভাবগুলি দুষিত করতে এবং এমনকিছু যা শুভ তার পবিত্রতাকে বিকৃত করতে পারে I পাশ্চাত্য সাম্রাজ্যবাদ এবং উপনিবেশবাদ একইভাবে সুসমাচারকে অপহরণ করেছিল I মূলত মৃত্যুর মুখে আশা এবং সুসংবাদের এক এশিয়ান বার্তা, অনেক এশিয়ানরা এখন এটিকে ইউরোপীয় বা পাশ্চাত্য সংস্কৃতির স্বীকৃতি হিসাবে দেখছে I আমরা যেমন পাশ্চাত্যদের অতীতের নাৎসী সহ-বিকল্পটিকে দেখতে অনুরোধ করি, বাইবেলের পৃষ্ঠাগুলিতে প্রাপ্ত মূল সুসমাচারের বার্তার সাথে একই কাজ করতে স্বস্তিকা আমাদের জন্য একটি অনুস্মারক I 

…পরের দিনটির দিকে ইঙ্গিত করছে

তবে এটি স্বস্তিকের বেঁকানো পার্শ্বীয় বাহু সমূহ যা সপ্তম দিবসের বিশ্রামবারের জন্য তাত্পর্যপূর্ণ I 

দিন 7 এর দৃষ্টিকোণ: পেছনে দিন 6 এবং সামনে পুনরুত্থানের প্রথম ফল সমূহের দিকে তাকিয়ে থাকা  

দিন 7 টি ক্রুশারোপন এবং পরের দিনের মাঝখানে পড়ে I পরিণামস্বরূপ, স্বস্তিকের নিচের পার্শ্বীয় বাহু শুভ শুক্রবার এবং এর ঘটনাগুলিকে ইঙ্গিত    করে I উপরের পার্শ্বীয় বাহু পরের দিন, নতুন সপ্তাহের রবিবারের দিকে ইঙ্গিত করে, যখন যীশু সেই দিন মৃত্যুকে পরাজিত করেন যাকে মূলত প্রথম ফল সমূহ বলা হয় I 

দিন 6: শুভ শুক্রবার – যীশুর মহা শিবরাত্রি

মহা শিবরাত্রি (শিবের মহান রাত্রি) উদযাপন ফাল্গুনের (ফেব্রুয়ারী/মার্চ) 13 তারিখের সন্ধ্যায় শুরু হয়ে, 14 তারিখ পর্যন্ত চলে I অন্যান্য উৎসবগুলোর থেকে আলাদা, এটি সূর্যাস্তের পরে আরম্ভ হয় এবং সারা রাতের মধ্য দিয়ে গিয়ে পরের দিন পর্যন্ত যায় I অন্যান্য উৎসবগুলির আনন্দময় মজা উপভোগ করার পরিবর্তে উপবাস, অন্তর্দৃষ্টি এবং সজাগতা এর উদযাপনগুলিকে চিহ্নিত করে I মহা শিবরাত্রি জীবন এবং বিশ্বের “অন্ধকার ও অজ্ঞতা” কাটিয়ে ওঠার এক গম্ভীর স্মৃতিকে চিহ্নিত করে I উৎসাহী ভক্তরা সারা-রাত জেগে থাকে I        

মহা শিবরাত্রি এবং মহাসাগরের মন্থন

পুরাণ মহা শিবরাত্রির জন্য বিভিন্ন কারণ দেয় I কেউ বলে যে এই নির্দিষ্ট দিনে সমুদ্র মন্থনের (মহাসাগরের মন্থন) সময়ে উৎপন্ন হলাহল বিষকে গলায় ধারণ করে ভগবান শিব গলাধঃকরণ করেছিলেন I এটি আঘাতে বিবর্ণ করল এবং তাঁর গলাকে নীল করে তুলে তাঁকে নীলকন্ঠ নাম  দিল I ভাগবত পুরাণ, মহাভারত এবং বিষ্ণু পুরাণ এই কাহিনীটি বর্ণনা করেছে এবং অমরত্বের পানীয়, অমৃতের জন্মও বাখ্যা করেছে I মহাসাগর মন্থনের জন্য তারা মন্দোরা পর্বতকে মন্থনের একটি ডান্ডা হিসাবে ব্যবহার করেছিল I তারা শিবের ঘাড়ে বসবাসকারী একটি নাগরাজ সর্প বাসুকীকে মন্থনের দড়ি হিসাবে ব্যবহার করেছিল I         

মহাসাগরের মন্থন অনেক শিল্পকর্মকে উৎপন্ন করেছিল 

মহাসাগরের মন্থনের আগে পিছনে, সর্প বাসুকী এমন একটি শক্তিশালী মারাত্মক বিষ ছাড়ল যাতে এটি শুধুমাত্র মহাসাগরের মন্থনকেই ধ্বংস করত না, বরং পাশাপাশি সমগ্র পৃথিবীকেও I তাদেরকে বাঁচাতে শিব বিষকে তাঁর গলায় ধারণ করলেন এবং তা তার গলাকে নীল রঙে পরিবর্তন করল I কয়েকটি সংস্করণে, ভগবান শিব বিষকে গলাধঃকরণ করেছিলেন এবং এটি তাঁর শরীরে প্রবেশ করার সাথে সাথে তীব্র যন্ত্রণা ভোগ করেছিলেন I এই কারণেই ভক্তরা উপলক্ষটিকে উপবাস রেখে, বিষন্ন এবং অন্তর্মুখী উপায়ে পালন করে I 

শিব সর্প বিষ গ্রহণ করে পুনরায় কার্যকর করছেন

সমুদ্র মন্থনের গল্প এবং মহা শিবরাত্রি যা এটি উদযাপন করে, আবেগী সপ্তাহের ষষ্ঠ দিনে যীশু যা করেছিলেন তার প্রসঙ্গ দেয়, যাতে আমরা এর অর্থকে উপলব্ধি করতে পারি I

যীশু এবং মহাসাগরের রূপক মন্থন

যীশু যখন প্রথম দিনে যিরূশালেমে প্রবেশ করলেন তিনি মোরিয়া পর্বতের  উপরে দাঁড়ালেন, যেখানে 2000 বছর পূর্বে আব্রাহাম ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে এক মহান বলিদান দেওয়া ‘হবে’ (ভবিষ্যত কাল) I তখন যীশু ঘোষণা করলেন:

31 এখন জগতের বিচারের সময়৷ এই জগতের শাসককে দূরে নিক্ষেপ করা

হবে৷যোহন 12:31
ক্রুশে সর্পের মুখোমুখি অনেক শিল্পকর্ম দিয়েছে

তাঁর এবং প্রায়শই এক সর্প রূপে চিত্রিত ‘পৃথিবীর রাজকুমার’ শয়তানের মধ্যে, সেই পর্বতের উপরে আসন্ন সংঘটিত লড়াইয়ের চারিদিকে ‘পৃথিবী’ ঘুরে   বেড়াত I রূপক ভাবে বলতে গেলে, মোরিয়া পর্বত ছিল ঘুর্নায়মান ডাণ্ডা, মন্দোরা পর্বত, যা পরবর্তী যুদ্ধে সমগ্র পৃথিবীকে মন্থন করবে I 

সর্প (নাগরাজ) শয়তান খ্রীষ্টকে আঘাত করতে পঞ্চম দিনে যুদাসের মধ্যে প্রবেশ করল I বাসুকী যেমন একটি ঘুর্নায়মান দড়ি হ’ল, শয়তান, রূপকভাবে বলতে গেলে মোরিয়া পর্বতের চারিদিকে মন্থনের দড়ি হয়ে উঠলো কারণ এই দুজনের মধ্যে যুদ্ধের চূড়ান্ততা নিকটবর্তী হয়ে উঠেছিল I   

শেষ নৈশ ভোজ

পরের সন্ধ্যায় যীশু তাঁর শেষ নৈশ ভোজে শিষ্যদের সাথে ভাগ নিল I এটি মহা শিবরাত্রির ত্রয়োদশ সন্ধ্যা ছিল. যেমন মহা শিব রাত্রি ত্রয়োদশ তারিখে শুরু  হয় I সেই ভোজে যীশু যে ‘কাপটি’ পান করতে চলেছিলেন, সে সম্পর্কে ভাগ করে নিয়েছিলেন, শিবের মতই বাসুকীর বিষ পান করেছিলেন I এখানে সেই বক্তৃতাটি রয়েছে I   

27 এরপর তিনি পানপাত্র নিয়ে ধন্যবাদ দিলেন আর পানপাত্রটি শিষ্যদের দিয়ে বললেন, ‘তোমরা সকলে এর থেকে পান কর৷
28 কারণ এ আমার রক্ত, নতুন নিয়ম প্রতিষ্ঠিত হওযার রক্ত যা বহুলোকের পাপ মোচনের জন্য পাতিত

হল৷মথি 26:27-28

তখন তিনি উদাহরণ এবং শিক্ষার মাধ্যমে কিভাবে পরস্পরকে ভালবাসতে হয় এবং আমাদের জন্য ঈশ্বরের মহান প্রেমকে ব্যাখ্যা করলেন, যাকে সুসমাচার থেকে এখানে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে I পরে, তিনি সমস্ত বিশ্বাসীদের জন্য প্রার্থনা করলেন (এখানে পড়ুন)  

গেৎসিমনের বাগানে 

তারপরে, মহা শিবরাত্রির মতন, তিনি বাগানে সারা-রাত ধরে তাঁর সজাগতা আরম্ভ করলেন I

36 এরপর যীশু তাঁদের সঙ্গে গেত্‌শিমানী নামে একটা জায়গায় গিয়ে তাঁর শিষ্যদের বললেন, ‘আমি ওখানে গিয়ে যতক্ষণ প্রার্থনা করি, তোমরা এখানে বসে থাক৷’
37 এরপর তিনি পিতর ও সিবদিয়ের দুই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে চলতে থাকলেন৷ য়েতে য়েতে তাঁর মন উদ্বেগ ও ব্যথায় ভরে গেল, তিনি অভিভূত হয়ে পড়লেন৷
38 তখন তিনি তাদের বললেন, ‘দুঃখে আমার হৃদয় ভেঙ্গে যাচ্ছে৷ তোমরা এখানে থাক আর আমার সঙ্গে জেগে থাকো৷’
39 পরে তিনি কিছু দূরে গিয়ে মাটিতে উপুড় হয়ে পড়ে প্রার্থনা করে বললেন, ‘আমার পিতা, যদি সন্ভব হয় তবে এই কষ্টের পানপাত্র আমার কাছ থেকে দূরে যাক; তবু আমার ইচ্ছামতো নয়, কিন্তু তোমারই ইচ্ছা পূর্ণ হোক্৷’
40 এরপর তিনি শিষ্যদের কাছে ফিরে গিয়ে দেখলেন, তাঁরা ঘুমাচ্ছেন৷ তিনি পিতরকে বললেন, ‘একি! তোমরা আমার সঙ্গে এক ঘন্টাও জেগে থাকতে পারলে না?
41 জেগে থাক ও প্রার্থনা কর য়েন প্রলোভনে না পড়৷ তোমাদের আত্মা ইচ্ছুক বটে, কিন্তু দেহ দুর্বল৷’
42 তিনি গিয়ে আর একবার প্রার্থনা করলেন, ‘হে আমার পিতা, এই দুঃখের পানপাত্র থেকে আমি পান না করলে যদি তা দূর হওযা সন্ভব না হয় তবে তোমারইইচ্ছা পূর্ণ হোক্৷’
43 পরে তিনি ফিরে এসে দেখলেন, শিষ্যরা আবার ঘুমিয়ে পড়েছেন, কারণ তাদের চোখ ভারী হয়ে গিয়েছিল৷
44 তখন তিনি তাঁদের ছেড়ে চলে গেলেন ও তৃতীয় বার প্রার্থনা করলেন৷ তিনি আগের মতো সেই একই কথা বলে প্রার্থনা করলেন৷
45 পরে তিনি শিষ্যদের কাছে এসে বললেন, ‘তোমরা এখনও ঘুমিয়ে রয়েছ ও বিশ্রাম করছ? শোন, সময় ঘনিয়ে এল, মানবপুত্রকে পাপীদের হতে তুলে দেওযা হবে৷
46 ওঠ, চল আমরা যাই! ঐ দেখ! য়ে লোক আমায় ধরিয়ে দেবে, সে এসে

গেছে৷’মথি: 26:36-46

শিষ্যরা জেগে থাকতে পারল না এবং সজাগতা সবেমাত্র আরম্ভ হয়েছিল! সুসমাচার তারপরে বর্ণনা করে কিভাবে যুদাস তাকে বিশ্বাসঘাতকতা করল I

বাগানের মধ্যে গ্রেফতার

2 যীশু তাঁর শিষ্যদের নিয়ে প্রায়ই সেখানে আসতেন৷ এইজন্য যিহূদা সেই স্থানটি জানত৷ এই যিহূদা যীশুর সঙ্গে প্রতারণা করেছিল৷
3 সে ফরীশীদের ও প্রধান যাজকদের কাছ থেকে একদল সৈনিক ও কিছু রক্ষী নিয়ে সেখানে এল৷ তাদের হাতে ছিল মশাল, লন্ঠন ও নানা অস্ত্র৷
4 তখন যীশু, তাঁর প্রতি কি ঘটতে চলেছে সে সবই তাঁর জানা থাকার ফলে এগিয়ে গিয়ে বললেন, ‘তোমরা কাকে খুঁজছ?’
5 তারা তাঁকে বলল, ‘নাসরতীয় যীশুকে৷’যীশু বললেন, ‘আমিই তিনি৷’ য়ে যিহূদা যীশুর বিরুদ্ধে গিয়েছিল সেও তাদেরই সঙ্গে সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল৷
6 তিনি যখন তাদের বললেন, ‘আমিই তিনি৷’ তখন তারা পিছু হটে গিয়ে মাটিতে পড়ে গেল৷
7 তাই আবার একবার তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমরা কাকে খুঁজছ?’তারা বলল, ‘নাসরতীয় যীশুকে৷’
8 এর উত্তরে যীশু বললেন, ‘আমি তো তোমাদের আগেই বলেছি, ‘আমিই তিনি৷’ সুতরাং যদি তোমরা আমাকেই খুঁজছ, তাহলে এদের য়েতে দাও৷’
9 এটা ঘটল যাতে তাঁর আগের বক্তব্য যথার্থ প্রতিপন্ন হয়, ‘তুমি আমায় যাদের দিয়েছ তাদের কাউকে আমি হারাই নি৷’
10 তখন শিমোন পিতরের কাছে একটা তরোয়াল থাকায় তিনি সেটা টেনে বের করে মহাযাজকের চাকরকে আঘাত করে তার ডান কান কেটে ফেললেন৷ সেই চাকরের নাম মল্ক৷
11 তখন যীশু পিতরকে বললেন, ‘তোমার তরোযাল খাপে ভরো, য়ে পানপাত্র পিতা আমায় দিয়েছেন, আমাকে তা পান করতেই হবে৷’
12 এরপর সৈন্যরা ও তাদের সেনাপতি এবং ইহুদী রক্ষীরা যীশুকে গ্রেপ্তার করে বেঁধে প্রথমে হাননের কাছে নিয়ে গেল৷
13 সেই বছর যিনি মহাযাজক ছিলেন৷ সেই কায়াফার শ্বশুর এই

হানন৷যোহন 18:2-13
যীশু গ্রেফতার হলেন: সিনেমার দৃশ্য

যীশু বাগানে প্রার্থনা করতে গিয়েছিলেন I সেখানে যুদাস তাকে গ্রেফতার করতে সৈন্যদের নিয়ে এলেন I গ্রেফতার যদি আমাদের ভয়ভীত করে তবে আমরা লড়াই করতে, পালাতে বা লুকোতে পারি I কিন্তু এগুলোর মধ্যে যীশু কোনটাই করলেন না I তিনি স্বীকার করলেন যে তিনিই সেই ব্যক্তি যাকে তারা খুঁজছে I তাঁর স্পষ্ট স্বীকারোক্তি (“আমিই সে”) সৈন্যদের হতচকিত করল তাই তাঁর শিষ্যরা পলায়ন করল I যীশু গ্রেফতারের কাছে সমর্পণ করলেন এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হ’ল I  

প্রথম জিজ্ঞাসাবাদ

সুসমাচার লিপিবদ্ধ করে কিভাবে তারা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করল:

19 এরপর মহাযাজক যীশুকে তাঁর শিষ্যদের বিষয়ে ও তাঁর শিক্ষার বিষয়ে প্রশ্ন করতে লাগলেন৷
20 যীশু এর উত্তরে তাঁকে বললেন, ‘আমি সর্বদাই সকলের কাছে প্রকাশ্যে কথা বলেছি৷ আমি মন্দিরের মধ্যে ও সমাজ-গৃহেতে য়েখানে ইহুদীরা একসঙ্গে সমবেত হয় সেখানে সব সময় শিক্ষা দিয়েছি৷ আর আমি কখনও কোন কিছু গোপনে বলিনি৷
21 তোমরা আমায় কেন সে বিষয়ে প্রশ্ন করছ? যাঁরা আমার কথা শুনেছে তাদেরই জিজ্ঞেস কর আমি তাদের কি বলেছি৷ আমি কি বলেছি তারা নিশ্চয়ই জানবে!’
22 তিনি যখন একথা বলছেন, তখন সেই মন্দির রক্ষীবাহিনীর একজন য়ে সেখানে দাঁড়িয়েছিল সে যীশুকে এক চড় মেরে বলল, ‘তোর কি সাহস, তুই মহাযাজককে এরকম জবাব দিলি!’
23 এর উত্তরে যীশু তাকে বললেন, ‘আমি যদি অন্যায় কিছু বলে থাকি, তবে সকলকে বল কি অন্যায় বলেছি; কিন্তু আমি যদি সত্যি কথা বলে থাকি তাহলে তোমরা আমায় মারছ কেন?’
24 এরপর হানন, যীশুকে মহাযাজক কায়াফার কাছে পাঠিয়ে দিলেন৷ যীশু তখনও বাঁধা অবস্থায় ছিলেন৷

যোহন 18:19-24

অতএব তারা একটি দ্বিতীয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মহা যাজকের কাছে যীশুকে পাঠাল I

দ্বিতীয় জিজ্ঞাসাবাদ

তারা সেখানে তাঁকে সমস্ত নেতাদের সামনে জিজ্ঞাসাবাদ করল I সুসমাচার এই দ্বিতীয় জিজ্ঞাসাবাদ লিপিবদ্ধ করেছিল:

53 তখন তারা যীশুকে মহাযাজকের কাছে নিয়ে এল৷ প্রধান যাজকরা, বয়স্ক ইহুদী নেতারা এবং ব্যবস্থার শিক্ষকরা সকলে এক জায়গায় জড়ো হলেন৷
54 আর পিতর দূরে দূরে থেকে যীশুর পেছনে য়েতে য়েতে মহাযাজকের উঠোন পর্যন্ত গেলেন এবং রক্ষীদের সঙ্গে বসে আগুন পোহাতে লাগলেন৷
55 তখন প্রধান যাজকরা এবং মহাসভার সকলেই এমন একজন সাক্ষী খুঁজছিলেন যার কথার জোরে যীশুকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা যায়; কিন্তু তেমন সাক্ষ্য তারা পেলেন না৷
56 কারণ অনেকে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী দিল বটে কিন্তু তাদের সাক্ষ্য মিলল না৷
57 তখন কিছু লোক তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী দিয়ে বলল,
58 ‘আমরা তাঁকে বলতে শুনেছি, ‘মানুষের হাতে তৈরী এই মন্দিরটি ভেঙ্গে ফেলব এবং তিন দিনের মধ্যে মানুষের হাত দিয়ে তৈরী নয় এমনই একটি মন্দির আমি গড়ে তুলব৷”
59 কিন্তু এতেও তাদের সাক্ষ্যের প্রমাণ মিলল না৷
60 তখন মহাযাজক সকলের সামনে দাঁড়িয়ে যীশুকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি কিছুই উত্তর দেবে না? এই সমস্ত লোকরা তোমার বিরুদ্ধে কি সাক্ষ্য দিচ্ছে?’
61 কিন্তু তিনি চুপচাপ থাকলেন, কোন উত্তর দিলেন না৷ আবার মহাযাজক তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি সেই পরম খ্রীষ্ট পরম ধন্য, ঈশ্বরের পুত্র?’
62 যীশু বললেন, ‘হ্যাঁ, আমিই ঈশ্বরের পুত্র৷ তোমরা একদিন মানবপুত্রকে ঈশ্বরের ডানপাশে বসে থাকতে আকাশের মেঘে আবৃত হয়ে আসতে দেখবে৷’
63 তখন মহাযাজক তাঁর পোশাক ছিঁড়ে বললেন, ‘আমাদের সাক্ষীর আর কি প্রযোজন?
64 তোমরা তো ঈশ্বর নিন্দা শুনলে৷ তোমাদের কি মনে হয়?’ তারা সকলে তাঁকে দোষী স্থির করে বলল, ‘এঁর মৃত্যুদণ্ড হওযা উচিত৷’
65 তখন কেউ কেউ তাঁর মুখে থুথু ছিটিয়ে দিল, তাঁর মুখ ঢেকে ঘুষি মারল এবং বলতে লাগল, ‘ভাববাণী করে বল তো, কে তোমাকে ঘুষি মারল?’ পরে রক্ষীরা তাঁকে মারতে মারতে নিয়ে

গেল৷মথি 14:53-65

যিহূদি নেতারা যীশুকে মৃত্যুদণ্ড দিলেন I তবে যেহেতু রোমীয় রাজ্যপাল তাদের শাসন করত, কেবলমাত্র রোমীয় রাজ্যপালই একটি মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করতে পারত I সুতরাং তারা যীশুকে রোমীয় রাজ্যপাল পন্তিয়াস পীলাতের কাছে নিয়ে গেল I সুসমাচার আরও লিপিবদ্ধ করে যীশুর বিশ্বাসঘাতক যুদাস ইস্করিয়োতের সাথে কি ঘটেছিল I     

বিশ্বাসঘাতক যুদাসের সাথে কি ঘটল?

র হলে প্রধান যাজকরা ও সমাজপতিরা সবাইমিলেযীশুকে হত্যা করার চক্রান্ত করল৷
2 তারা তাঁকে বেঁধে রোমীয় রাজ্যপাল পীলাতের কাছে হাজির করল৷
3 যীশুকে শত্রুদের হাতে য়ে ধরিয়ে দিয়েছিল, সেই যিহূদা যখন দেখল যীশুকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে তখন তার মনে খুব ক্ষোভ হল৷ সে তখন যাজকদের ও সমাজপতিদের কাছে গিয়ে সেই ত্রিশটা রূপোর টাকা ফিরিয়ে দিয়ে বলল,
4 ‘একজন নিরপরাধ লোককে হত্যা করার জন্য আপনাদের হাতে তুলে দিয়ে তাঁর প্রতি আমি বিশ্বাসঘাতকতা করেছি, আমি মহাপাপ করেছি৷ইহুদী নেতারা বলল, ‘তাতে আমাদের কি? তুমি বোঝগে যাও৷’
5 তখন যিহূদা সেই টাকা মন্দিরের মধ্যে ছুঁড়ে ফেলে দিল, পরে বাইরে গিয়ে গলায় দড়ি দিয়ে

মরল৷মথি 27:1-5

যীশুকে রোমীয় রাজ্যপালের দ্বারা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল

11 এদিকে যীশুকে রাজ্যপালের সামনে হাজির করা হল; রাজ্যপাল যীশুকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি ইহুদীদের রাজা?’যীশু বললেন, ‘হ্যাঁ, আপনি য়েমন বললেন৷’
12 কিন্তু প্রধান যাজকরা ও ইহুদী নেতারা সমানে যখন তাঁর বিরুদ্ধে দোষ দিচ্ছিল, তখন তিনি তার একটারও জবাব দিলেন না৷
13 তখন পীলাত তাঁকে বললেন, ‘ওরা, তোমার বিরুদ্ধে কত দোষ দিচ্ছে, তুমি কি শুনতে পাচ্ছ না?’
14 কিন্তু যীশু তাঁকে কোন জবাব দিলেন না, এমন কি তাঁর বিরুদ্ধে একটা অভিযোগেরও উত্তর দিলেন না, এতে পীলাত আশ্চর্য হয়ে গেলেন৷
15 রাজ্যপালের রীতি অনুসারে প্রত্যেক নিস্তারপর্বের সময় জনসাধারণের ইচ্ছানুযাযী য়ে কোন কয়েদীকে তিনি মুক্ত করে দিতেন৷
16 সেই সময় বারাব্বানামে এক কুখ্যাত আসামী কারাগারে ছিল৷
17 তাই লোকরা সেখানে একসঙ্গে জড়ো হলে পীলাত তাদের জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমাদের জন্য আমি কাকে ছেড়ে দেব? তোমরা কি চাও, বারাব্বাকে বা যীশু, যাকে খ্রীষ্ট বলে তাকে?’
18 কারণ পীলাত জানতেন, তারা যীশুর ওপর ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে তাঁকে ধরিয়ে দিয়েছিল৷
19 পীলাত যখন বিচার আসনে বসে আছেন, সেই সময় তাঁর স্ত্রী তাঁকে বলে পাঠালেন, ‘ঐ নির্দোষ লোকটির প্রতি তুমি কিছু করো না, কারণ রাত্রে স্বপ্নে আমি তাঁর বিষয়ে যা দেখেছি তাতে আজ বড়ই উদ্বেগে কাটছে৷’
20 কিন্তু প্রধান যাজকরা ও ইহুদী নেতারা জনতাকে প্ররোচনা দিতে লাগল, য়েন তারা বারাব্বাকে ছেড়ে দিতে ও যীশুকে মৃত্যুদণ্ড দেওযার কথা বলে৷
21 তখন রাজ্যপাল তাদের জিজ্ঞেস করলেন, ‘এই দুজনের মধ্যে তোমরা কাকে চাও য়ে আমি তোমাদের জন্য ছেড়ে দিই?’ তারা বলল, ‘বারাব্বাকে!’
22 পীলাত তখন তাদের বললেন, ‘তাহলে যীশু যাকে মশীহ বলে তাকে নিয়ে কি করব?’তারা সবাইবলল, ‘ওকে ক্রুশে দেওযা হোক৷’
23 পীলাত বললেন, ‘কেন? ও কি অন্যায় করেছে?’ কিন্তু তারা তখন আরো জোরে চিত্‌কার করতে লাগল, ‘ওকে ক্রুশে দাও, ক্রুশে দাও!’
24 পীলাত যখন দেখলেন য়ে তাঁর চেষ্টার কোন ফল হল না, বরং আরো গোলমাল হতে লাগল, তখন তিনি জল নিয়ে লোকদের সামনে হাত ধুয়ে বললেন, ‘এই লোকের রক্তপাতের জন্য আমি দাযী নই৷’ এটা তোমাদেরইদায়৷
25 এই কথার জবাবে লোকেরা সমস্বরে বলল, ‘আমরা ও আমাদের সন্তানরা ওব রক্তের জন্য দাযী থাকব৷’
26 তখন পীলাত তাদের জন্য বারাব্বাকে ছেড়ে দিলেন; কিন্তু যীশুকে চাবুক মেরে ক্রুশে দেবার জন্য সঁপে দিলেন

৷মথি 27:11-26

যীশুর ক্রুশারোপন, মৃত্যু এবং সমাধি

সুসমাচার তখন যীশুর ক্রুশারোপণের বিস্তৃত বর্ননা লিপিবদ্ধ করে I

27 এরপর রাজ্যপালের সেনারা যীশুকে রাজভবনের সভাগৃহে নিয়ে গিয়ে সেখানে সমস্ত সেনাদলকে তাঁর চারধারে জড়ো করল৷
28 তারা যীশুর পোশাক খুলে নিল, আর তাঁকে একটা লাল রঙের পোশাক পরাল৷
29 পরে কাঁটা লতা দিয়ে একটা মুকুট তৈরী করে তা তাঁর মাথায় চেপে বসিয়ে দিল, আর তাঁর ডান হাতে একটা লাঠি দিল৷ পরে তাঁর সামনে হাঁটু গেড়ে তাঁকে ঠাট্টা করে বলল, ‘ইহুদীদের রাজা, দীর্ঘজীবি হোন্!’
30 তারা তাঁর মুখে থুথু দিল ও তাঁর লাঠিটি নিয়ে তাঁর মাথায় মারতে লাগল৷
31 এইভাবে তাঁকে বিদ্রূপ করবার পর তারা সেইপোশাকটি তাঁর গা থেকে খুলে নিয়ে তাঁর নিজের পোশাক আবার পরিয়ে দিল, তারপর তাঁকে ক্রুশে দেবার জন্য নিয়ে চলল৷
32 সৈন্যরা যখন যীশুকে নিয়ে নগরের বাইরে যাচ্ছে, তখন পথে শিমোন নামে কুরীশীয় অঞ্চলের একজন লোককে দেখতে পেয়ে যীশুর ক্রুশ বইবার জন্য তাকে তারা জোর করে বাধ্য করল৷
33 পরে তারা ‘গলগথা’ নামে এক জায়গায় এসে পৌঁছল৷ ‘গলগথা’ শব্দটির অর্থ ‘মাথার খুলিস্থান৷’
34 সেখানে পৌঁছে তারা যীশুকে মাদক দ্রব্য মেশানো তিক্ত দ্রাক্ষারস পান করতে দিল; কিন্তু তিনি তা সামান্য আস্বাদ করে আর খেতে চাইলেন না৷
35 তারা তাঁকে ক্রুশে দিয়ে তাঁর জামা কাপড় খুলে নিয়ে ঘুঁটি চেলে সেগুলো নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিল৷
36 আর সেখানে বসে যীশুকে পাহারা দিতে লাগল৷
37 তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের এই লিপি ফলকটি তাঁর মাথার উপরে ক্রুশে লাগিয়ে দিল, ‘এ যীশু, ইহুদীদের রাজা৷’
38 তারা দুজন দস্যুকেও যীশুর সঙ্গে ক্রুশে দিল, একজনকে তাঁর ডানদিকে ও অন্যজনকে তাঁর বাঁ দিকে৷
39 সেই সময় ঐ রাস্তা দিয়ে য়ে সব লোক যাতাযাত করছিল, তারা তাদের মাথা নেড়ে তাঁকে ঠাট্টা করে বলল,
40 ‘তুমি না মন্দির ভেঙ্গে আবার তা তিন দিনের মধ্যে তৈরী করতে পার! তাহলে এখন নিজেকে রক্ষা কর৷ তুমি যদি ঈশ্বরের পুত্র হও তবে ক্রুশ থেকে নেমে এস৷’
41 সেইভাবেই প্রধান যাজকরা, ব্যবস্থার শিক্ষকরা ও ইহুদী নেতারা বিদ্রূপ করে তাঁকে বলতে লাগলেন,
42 ‘এ লোক তো অপরকে রক্ষা করত, কিন্তু এ নিজেকে বাঁচাতে পারে না! ও তো ইস্রায়েলের রাজা, তাহলে এখন ও ক্রুশ থেকে নেমে আসুক, তাহলে আমরা ওর ওপর বিশ্বাস করব৷
43 ঐ লোকটি ঈশ্বরের ওপর বিশ্বাস করে৷ যদি তিনি চান, তবে ওকে এখনই রক্ষা করুন, কারণ ও তো বলেছে, ‘আমি ঈশ্বরের পুত্র৷'”
44 তাঁর সঙ্গে য়ে দুজন দস্যুকে ক্রুশে দেওযা হয়েছিল, তারাও সেইভাবেই তাঁকে বিদ্রূপ করতে লাগল৷
45 সেই দিন দুপুর বারোটা থেকে বেলা তিনটে পর্যন্ত সমস্ত দেশ অন্ধকারে ঢেকে রইল৷
46 প্রায় তিনটের সময় যীশু খুব জোরে বলে উঠলেন, ‘এলি, এলি লামা শবক্তানী?’ যার অর্থ, ‘ঈশ্বর আমার, ঈশ্বর আমার, তুমি কেন আমায় ত্যাগ করেছ?’
47 যাঁরা সেখানে দাঁড়িয়েছিল, তাদের মধ্যে কয়েকজন একথা শুনে বলতে লাগল, ‘ও এলীয়কে ডাকছে৷’
48 তাদের মধ্যে একজন তখনই দৌড়ে গিয়ে একটা স্পঞ্জ কতকটা সিরকায় ডুবিয়ে দিয়ে একটা নলের মাথায় সেটা লাগিয়ে তা যীশুর মুখে তুলে ধরে তাকে খেতে দিল৷
49 কিন্তু অন্যরা বলতে লাগল, ‘ছেড়ে দাও, দেখি এলীয় ওকে রক্ষা করতে আসেন কি না?’
50 পরে যীশু আর একবার খুব জোরে চিত্‌কার করে প্রাণ ত্যাগ করলেন৷
51 সঙ্গে সঙ্গে মন্দিরের মধ্যেকার সেই ভারী পর্দাটা ওপর থেকে নীচ পর্যন্ত চিরে দুভাগ হয়ে গেল, পৃথিবী কেঁপে উঠল, বড় বড় পাথরের চাঁই ফেটে গেল,
52 সমাধিগুহাগুলি খুলে গেল, আর মারা গিয়েছিলেন এমন অনেক ঈশ্বরের লোকের দেহ পুনরুত্থিত হল৷
53 যীশুর পুনরুত্থানের পর এরা কবর ছেড়ে পবিত্র নগর জেরুশালেমে গিয়ে বহুলোককে দেখা দিয়েছিলেন৷
54 ক্রুশের পাশে শতপতি ও তার সঙ্গে যাঁরা যীশুকে পাহারা দিচ্ছিল, তারা ভূমিকম্প ও অন্য সব ঘটনা দেখে ভীষণ ভয় পেয়ে বলল, ‘সত্যইইনি ঈশ্বরের পুত্র ছিলেন৷’

মথি 27:27-54
যীশু ক্রুশবিদ্ধ: তাঁর জীবনের সর্বাধিক চিত্রিত দৃশ্য

তাঁর পাঁজরেছিদ্রকরা হয়

যোহনের সুসমাচার ক্রুশারোপণের এক আকর্ষণীয় বর্ণনা লিপিবদ্ধ করে I এটি বলে:

31 ঐ দিনটা ছিল আযোজনের দিন৷ য়েহেতু বিশ্রামবার একটি বিশেষ দিন, ইহুদীরা চাইছিল না য়ে দেহগুলি ক্রুশের ওপরে থাকে৷ তাই ইহুদীরা পীলাতের কাছে গিয়ে তাঁকে আদেশ দিতে অনুরোধ করল, য়েন ক্রুশবিদ্ধ লোকদের পা ভেঙ্গে দেওযা হয় যাতে তাড়াতাড়ি তাদের মৃত্যু হয় এবং মৃতদেহগুলি ঐ দিনই ক্রুশ থেকে নামিয়ে ফেলা যায়৷
32 সুতরাং সেনারা এসে প্রথম লোকটির পা ভাঙ্গল, আর তার সঙ্গে যাকে ক্রুশে দেওযা হয়েছিল তারও পা ভাঙ্গল৷
33 কিন্তু তারা যীশুর কাছে এসে দেখল য়ে তিনি মারা গেছেন, তখন তাঁর পা ভাঙ্গল না৷
34 কিন্তু একজন সৈনিক যীশুর পাঁজরের নীচে বর্শা দিয়ে বিদ্ধ করল, আর সঙ্গে সঙ্গে সেখান দিয়ে রক্ত ও জল বেরিয়ে এল৷
35 এই ঘটনা য়ে দেখল সে এবিষয়ে সাক্ষ্য দিল তা আপনারা সকলেই বিশ্বাস করতে পারেন, আর তার সাক্ষ্য সত্য৷ আর সে জানে য়ে সে যা বলছে তা

সত্য৷যোহন 19:31-35

যোহন রোমীয় সৈন্যদের দ্বারা যীশুকে একটি বর্শা দিয়ে ছিদ্র করতে দেখেছিল I রক্ত এবং জল আলাদাভাবে বেরিয়া আসা, সংকেত দেয় যে হৃদয় যন্ত্র ব্যর্থ হওয়ায় তাঁর মৃত্যু ঘটেছিল I  

যীশুর পাঁজরে ছিদ্র করা হল

অনেকে আবার মহা শিবরাত্রিকে উদযাপন করে কারণ সেই দিন শিব পার্বতীকে বিবাহ করেছিলেন বলে তারা এটিকে বিবেচনা করে I শুভ শুক্রবারের সমান্তরাল মহা শিবরাত্রির সেই দিনে যীশু তাঁর রহস্যময় কনেও জিতেছিলেন, তাঁর পাঁজরে বর্শা দ্বারা ছাপ মেরে, এখানে আরও বাখ্যা করা হয়েছে I     

যীশুর সমাধি

সুসমাচার সেই দিনের চূড়ান্ত ঘটনা লিপিবদ্ধ করে – তাঁর সমাধি I

57 সন্ধ্যা নেমে আসছে এমন সময় আরিমাথিযার য়োষেফ নামে এক ধনী ব্যক্তি জেরুশালেমে এলেন; তিনিও যীশুর একজন অনুগামী ছিলেন৷
58 পীলাতের কাছে গিয়ে য়োষেফ যীশুর দেহটা চাইলেন৷ তখন পীলাত তাকে তা দিতে হুকুম করলেন৷
59 য়োষেফ দেহটি নিয়ে পরিষ্কার একটা কাপড়ে জড়ালেন৷
60 তারপর সেই দেহটা নিয়ে তিনি নিজের জন্য পাহাড়ের গায়ে য়ে নতুন সমাধিগুহা কেটে রেখেছিলেন, তাতে রাখলেন৷ পরে সেই সমাধির মুখ বন্ধ করতে বড় একটা পাথর গড়িয়ে নিয়ে গিয়ে তা বন্ধ করে দিয়ে চলে গেলেন৷
61 মরিয়ম মগ্দলীনী ও সেই অন্য মরিয়ম কবরের সামনে বসে

রইলেন৷মথি 27:57-61

দিন 6 – গুভ শুক্রবার

প্রত্যেক দিন যিহূদি ক্যালেন্ডার সূর্যাস্তে আরম্ভ হয় I সুতরাং দিন 6 শিষ্যদের সঙ্গে শেষ নৈশ ভোজে ভাগ নেওয়ার সাথে আরম্ভ হ’ল I সেই দিনের শেষে তাঁকে গ্রেফতার করা হ’ল, সারা রাত ধরে অনেকবার বিচারে রাখা হ’ল, ক্রুশবিদ্ধ করা হ’ল, একটি বর্শা দিয়ে ছিদ্র করা হ’ল, এবং সমাধিস্থ করা   হ’ল I এটি প্রকৃতপক্ষে যীশুর ‘এক মহা রাত্রি’ ছিল I যন্ত্রণা, দুখ, অপমান, এবং মৃত্যু এই দিনটিকে চিহ্নিত করেছিল এবং তাই লোকেরা মহা শিবরাত্রির মতই উদ্বিগ্ন চিন্তায় এটি স্মরণ করে I কিন্তু এই দিনটিকে ‘শুভ শুক্রবার’ বলা হয় I তবে কিভাবে বিশ্বাসঘাতকতা, অত্যাচার এবং মৃত্যুর একটি দিনকে কখনও ‘ভাল’ বলা হয়?        

কেন শুভ শুক্রবার এবং ‘খারাপ শুক্রবার’ নয়?

যেভাবে শিব সাপের বিষ গলাধ:করণ করে পৃথিবীকে রক্ষা করেছিল, সেইভাবে যীশু তাঁর কাপ পান করে বিশ্বকে রক্ষা করেছিল I এটি নীসন 14 তারিখে, পড়েছিল, সেই একই নিস্তারপর্বের দিন যখন 1500 বছর পূর্বে, বলি দেওয়া মেষ শাবক মৃত্যু থেকে রক্ষা করেছিল যা দেখায় এটিকে পরিকল্পনা করা হয়েছিল I 

দিন 6 – শুক্রবার, হিব্রু বেদের নিয়মাবলীর তুলনায় 

মানুষের বৃত্তান্ত তাদের মৃত্যুর সাথে শেষ হয়ে যায়, কিন্তু যীশুর নয় I পরে এসেছিল সাবাথ – দিন 7 I

দিন 5: হোলিকার বিশ্বাসঘাতকতার সাথে,শয়তান আঘাত করতে বক্রগতিতে চলে

হিন্দু বছরের শেষ পূর্নিমা হোলিকে চিহ্নিত করে I যদিও অনেকে হোলিতে মজা করে খুব কমই উপলব্ধি করে এটি আর একটি প্রাচীন পর্বের সমান্তরাল – নিস্তারপর্ব I

নিস্তারপর্বও বসন্তের পূর্নিমাতে পড়ে I যেহেতু হিব্রু ক্যালেন্ডারটি সৌর চক্রের বছরের সাথে চান্দ্র চক্র ভিন্নভাবে মেলে, মাঝে মাঝে এটি একই পূর্নিমা, বা মাঝে মাঝে পরবতী পূর্নিমাতে পড়ে I 2021 সালে, নিস্তারপর্ব এবং হোলি 28 মার্চ রবিবারে শুরু হয় I তবে 2022 সালে হোলি 18ই মার্চ শুরু হয় অথচ নিস্তারপর্ব পরবর্তী পূর্নিমাতে শুরু হয় I যাইহোক, এটি হোলির আগের দিন বা হোলিকা দহন, যা নিস্তারপর্বের সাদৃশ্যগুলিকে শুরু করে I   

হোলিকা দহন

লোকেরা হোলি শুরু হওয়ার আগের রাতে হোলিকা দহন (ছোটি হোলি বা কামুদু চিতা) মানায় I হোলিকা দহন প্রহ্লাদের পুণ্য এবং রাক্ষসী হোলিকার দহনকে স্মরণ করায় I কাহিনীটি রাক্ষস রাজা হিরণ্যকাশ্যপ এবং তার পুত্র প্রহ্লাদ দিয়ে শুরু হয় I হিরণ্যকাশ্যপু সমগ্র পৃথিবীকে জয় করেছিল I তিনি এতটাই গর্বিত ছিলেন যে তিনি তার রাজ্যের প্রত্যেককে কেবল তারই উপাসনা করতে আদেশ দিয়েছিলেন I তবে তার চরম হতাশায়, তার নিজের পুত্র তা করতে প্রত্যাখ্যান করল I      

তার পুত্রের আপাত বিশ্বাসঘাতকতায় ক্ষুব্ধ, হিরণ্যকাশ্যপ প্রহ্লাদকে মৃত্যুদণ্ড দিলেন এবং তাকে হত্যা করতে বিভিন্ন প্রচেষ্টা করলেন, তবে সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ হ’ল I বিষাক্ত সর্প দিয়ে কামড়ান থেকে, হাতীর পায়ের তলায় পদদলন পর্যন্ত, প্রহ্লাদ সর্বদা অক্ষত হয়ে বেরিয়ে এল I    

অবশেষে, হিরণ্যকাশ্যপু তার রাক্ষসী বোন্ হোলিকার দিকে ফিরল I তার কাছে এক অগ্নি প্রতিরোধকারী পোষাক ছিল I সুতরাং হিরণ্যকাশ্যপু হোলিকাকে তাকে আগুনে পুড়িয়ে প্রহ্লাদকে হত্যা করতে বললেন I হোলিকা একটি চিতার উপরে বসল এবং, বন্ধুত্বের ভান করে যুবক প্রহ্লাদকে তার কোলে বসতে খুশামোদ করল I তারপরে দ্রুত বিশ্বাসঘাতকায়, সে তার সহযোগীদের চিতায় আগুন জ্বালাতে বলল I হোলিকার পোষাক প্রহ্লাদকে তার দিকে ঝাপটে নিল I অগ্নিশিখা  প্রহ্লাদকে জ্বালাল না, অথচ হোলিকা তার মন্দ ষড়যন্ত্রের জন্য পুড়ে মারা গেল I এইরূপে, হোলিকা দহনের নাম হোলিকার জ্বলন থেকে পাওয়া যায় I     

যুদাস: হোলিকার মতন বিশ্বাসঘাতকতার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত

বাইবেল শয়তানকে শাসক আত্মা রাক্ষস হিসাবে চিত্রিত করেছে I হিরণ্যকাশ্যাপুর মতন, শয়তান যীশু সহ প্রত্যেককে তার উপাসনা করার ষড়যন্ত্র করে চলেছে I যখন তা ব্যর্থ হ’ল সে যীশুকে হত্যা করার পরিকল্পনা করল, লোকদের তার হুকুম মানতে হেরফের করল I যেভাবে হিরণ্যকাশ্যাপু প্রহ্লাদকে আঘাত করতে হোলিকার মাধ্যমে কাজ করেছিল, শয়তান পঞ্চম দিনে যীশুর তাঁর প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়ার ঠিক পরে যীশুকে আঘাত করতে যুদাসকে ব্যবহার  করল I বিবরণটি এখানে রয়েছে:    

1 তখন তাড়ীশূন্য রুটীর পর্ব্ব, যাহাকে নিস্তারপর্ব্ব বলে, নিকটবর্ত্তী হইতেছিল; 2 আর প্রধান যাজকগণ ও অধ্যাপকেরা কি প্রকারে তাঁহাকে বধ করিতে পারে, তাহারই চেষ্টা করিতেছিল, কেননা তাহারা লোকদিগকে ভয় করিত।

3 আর শয়তান ঈষ্করিয়োতীয় নামক যিহূদার ভিতরে প্রবেশ করিল, এ সেই বারো জনের এক জন। 4 তখন সে গিয়া প্রধান যাজকদের ও সেনাপতিদের সহিত কথোপকথন করিল, কিরূপে তাঁহাকে তাহাদের হস্তে সমর্পণ করিতে পারিবে। 5 তখন তাহারা আনন্দিত হইল, ও তাহাকে টাকা দিতে প্রতিজ্ঞা করিল। 6 তাহাতে সে সম্মত হইল, এবং জনতার অগোচরে তাঁহাকে তাহাদের হস্তে সমর্পণ করিবার সুযোগ অন্বেষণ করিতে লাগিল।

লুক 22:1-6

শয়্তান যীশুকে বিশ্বাসঘাতকতা করতে যুদাসের ভেতরে ‘প্রবেশ’ করতে তাদের দ্বন্দের সুযোগ নিল I এটির আমাদের অবাক করা উচিত নয় I সুসমাচার শয়তানকে এইভাবে বর্ণনা করে:

7 আর স্বর্গে যুদ্ধ হইল; মীখায়েল ও তাঁহার দূতগণ ঐ নাগের সহিত যুদ্ধ করিতে লাগিলেন। তাহাতে সেই নাগ ও তাহার দূতগণও যুদ্ধ করিল, 8 কিন্তু জয়ী হইল না, এবং স্বর্গে তাহাদের স্থান আর পাওয়া গেল না। 9 আর সেই মহানাগ নিক্ষিপ্ত হইল; এ সেই পুরাতন সর্প, যাহাকে দিয়াবল [অপবাদক] এবং শয়তান [বিপক্ষ] বলা যায়, সে সমস্ত নরলোকের ভ্রান্তি জন্মায়; সে পৃথিবীতে নিক্ষিপ্ত হইল, এবং তাহার দূতগণও তাহার সঙ্গে নিক্ষিপ্ত হইল।

প্রকাশিত বাক্য 12:7-9

বাইবেল শয়তানকে এমন এক শক্তিশালী ড্রাগনের সাথে তুলনা করেছে যা পুরো বিশ্বকে বিপথগামী করতে পারে, হিরণ্যকাশ্যপের মতন এক শক্তিশালী রাক্ষস I মানব ইতিহাসের শুরুতে সংঘাতের ভবিষ্যদ্বাণীর উল্লেখ করে তাকে একটি সর্পের সাথেও তুলনা করা হয়েছে I সেই প্রাচীন সর্প হিসাবে এখন সে আঘাত করতে বক্রগতিতে চলল I হিরণ্যকশ্যপ হোলিকার মাধ্যমে যেমন কার্য করেছিলেন সে যীশুকে ধ্বংস করার জন্য যুদাসকে হেরফের করল I সুসমাচার যেভাবে লিপিবদ্ধ করে:

তখন থেকেই যিহূদা তাকে হস্তান্তর করার সুযোগ

খুঁজছিল।মথি:26:16

পরবর্তী দিন, দিন 6, ছিল নিস্তারপর্বের উৎসব I কিভাবে শয়তান, যুদাসের মাধ্যমে, আঘাত করবে? যুদাসের ক্ষেত্রে কি ঘটবে? পরেরটিতে আমরা দেখব I  

দিন 5 সারাংশ

কালপঞ্জি দেখায় কিভাবে এই সপ্তাহের পঞ্চম দিনে, বিশাল রাক্ষস ড্রাগন, শয়তান তার শত্রু যীশুকে আঘাত করতে বক্রগতিতে চলেছিল I

দিন 5: শয়তান, ভয়ঙ্কর রাক্ষস ড্রাগন, যীশুকে আঘাত করতে যুদাসের মধ্যে প্রবেশ করে

 

দিন 4: কল্কির মতন চড়ে নক্ষত্রদের নেভাতে

যীশু তৃতীয় দিবসে একটি অভিশাপ উচ্চারণ করলেন. তাঁর জাতিকে নির্বাসনে দণ্ড দিলেন I এছাড়াও যীশু ভবিষ্যদ্বাণী করলেন যে তাঁর অভিশাপের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে, সঞ্চালিত ঘটনাগুলি এই যুগ শেষ করবে I শিষ্যরা এই সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করল এবং যীশু তাঁর প্রত্যাবর্তনকে সেই কল্কির (কাল্কিন) মতন বর্ণনা করে, ব্যাখ্যা করলেন I  

তিনি এইভাবে আরম্ভ করলেন I

শু মন্দির থেকে যখন বের হয়ে যাচ্ছিলেন, সেইসময়তাঁর শিষ্যরা তাঁর কাছে এসে মন্দিরের বড় বড় দালানের দিকে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইলেন৷
2 এর জবাবে যীশু তাঁদের বললেন, ‘তোমরা এখন এখানে এসব দেখছ, কিন্তু আমি তোমাদের সত্যি বলছি, এখানে একটা পাথর আর একটা পাথরের ওপর থাকবে না, এসবই ভুমিস্যাত্ হবে৷’
3 যীশু যখন জৈতুন পর্বতমালার ওপর বসেছিলেন, তখন তাঁর শিষ্যরা একান্তে তাঁর কাছে এসে তাঁকে বললেন, ‘আমাদের বলুন, কখন এসব ঘটবে, আর আপনার আসার এবং এযুগের শেষ পরিণতির সময় জানার চিহ্নই বা কি হবে?’

মথি 24:1-3

তিনি তাঁর অভিশাপের বিস্তৃত বর্ণনা দিয়ে আরম্ভ করলেন I তারপরে সন্ধ্যা হলে  তিনি যিরূশালেমের বাইরে অলিভ পর্বতে যেতে মন্দির ছেড়ে চলে গেলেন (i)I সূর্যাস্তে যিহূদি দিন শুরু হওয়ার কারণে, এটি এখন ছিল সপ্তাহের চতুর্থ দিন যখন তিনি তাঁর প্রত্যাবর্তনের বর্ণনা করলেন I  

পুরাণের কল্কি

গরুড় পুরাণ ব বিষ্ণুর দশাবতারের (দশটি প্রাথমিক অবতার/দেহধারণ) চূড়ান্ত অবতার রূপে কল্কির বর্ণনা করে I বর্তমান যুগ, কলি যুগের শেষে কল্কি আসবে I পুরাণ বলে যে কল্কির আবির্ভাবের ঠিক পূর্বে পৃথিবীর অধ:পতন হবে, ধর্ম হারিয়ে যাবে I লোকেরা অস্বাভাবিক যৌন সম্পর্ক সমূহের মধ্যে যুক্ত হবে, নগ্নতা এবং অধার্মিক আচরণের অনুরাগী হয়ে উঠবে, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং মহামারী ঘটবে I এই মুহুর্তে, জ্বলন্ত তরোয়াল চালিয়ে এবং একটি ঘোড়ায় চড়ে, অবতার কল্কি আবির্ভূত হবেন I কল্কি পৃথিবীর দুষ্ট বাসিন্দাদের ধ্বংস করবে, এবং এক নতুন যুগের সূচনা করবে, পৃথিবীকে সত্য যুগে ফিরিয়ে আনবে I     

যাইহোক, উইকিপিডিয়া বলে যে বেদ কল্কি/কাল্কিনের উল্লেখ করে না I ষষ্ঠ দশাবতার অবতার পরশুরামের বিস্তৃতি হিসাবে কেবল মহাভারতে তিনি প্রথমে আবির্ভূত হন I এই মহাভারতের সংস্করণে, কল্কি কেবলমাত্র মন্দ শাসকদের ধ্বংস করেন কিন্তু সত্য যুগের নবীকরণ নিয়ে আসেন না I পন্ডিতরা পরামর্শ দেয় খ্রীষ্টাব্দ 7–9 শতাব্দীর কোনো এক সময় এক কল্কির আদিরূপের বিকাশ হয় I  

কল্কির আকাঙ্খা

কল্কির বিকাশ এবং অন্যান্য ঐতিহ্য সমূহের মধ্যে অনুরূপ ব্যক্তি (বৌদ্ধ ধর্মে মৈত্রেয়, ইসলাম ধর্মে মেহদী, শিখ মেহদী মীর) আমাদের সহজাত বোধ প্রদর্শন করে যে পৃথিবীর সাথে কোনোকিছু অন্যায় হচ্ছে I আমরা চাই কেউ এসে  এটিকে ঠিক করুক I আমরা কামনা করি যে তিনি দুষ্ট অত্যাচারীদের পদচ্যুত করুন, দুর্নীতি দূর করুন এবং ধর্মকে উন্নত করুন I কিন্তু আমরা ভুলে যাই কেবল তাঁকে অবশ্যই মন্দকে ‘সেখানে’ মুছে ফেলতে হবে তা নয়, বরং আমাদের ভেতরের দুর্নীতিকেও পরিষ্কার করতে হবে I অন্য পবিত্র গ্রন্থগুলি কেউ এসে মন্দকে পরাভূত করুক এই আকাঙ্খা প্রকাশ করার অনেক আগেই, যীশু শিখিয়েছিলেন যে, কিভাবে তিনি দ্বি-অংশের কাজটির সম্বন্ধে অগ্রসর হবেন I তাঁর প্রথম আগমনেই তিনি আমাদের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতিকে পরিষ্কার করেন, তাঁর  দ্বিতীয় আগমনে তিনি সরকারী এবং সামাজিক অধর্মের মোকাবেলা করেন I এই সপ্তাহের চতুর্থ দিনে তাঁর প্রত্যাবর্তনের লক্ষণ সমূহকে বর্ণনা করে যীশু তাঁর দ্বিতীয় আগমনের প্রত্যাশা করেছিলেন I       

দিন – 4 – তাঁর প্রত্যাবর্তনের লক্ষণ সমূহ

4 এর উত্তরে যীশু তাদের বললেন, ‘দেখো! কেউ য়েন তোমাদের না ঠকায়৷
5 আমি তোমাদের একথা বলছি কারণ অনেকে আমার নামে আসবে আর তারা বলবে, ‘আমি খ্রীষ্ট৷’ আর তারা অনেক লোককে ঠকাবে৷
6 তোমরা নানা যুদ্ধের কথা শুনবে এবং তোমাদের কানে যুদ্ধের গুজব আসেব৷ কিন্তু দেখো, তোমরা ভয় পেও না, কারণ ঐ সব ঘটনা অবশ্যই ঘটবে কিন্তু তখনও শেষ নয়৷
7 হ্যাঁ, এক জাতি অন্য জাতির বিরুদ্ধে লড়াইকরবে; আর এক রাজ্য অন্য রাজ্যের বিরুদ্ধে যাবে৷ সর্বত্র দুর্ভিক্ষ ও ভূমিকম্প হবে৷
8 কিন্তু এসব কেবল যন্ত্রণার আরন্ভ মাত্র৷
9 ‘সেই সময় শাস্তি দেবার জন্য তারা তোমাদের ধরিয়ে দেবে ও হত্যা করবে৷ আমার শিষ্য হয়েছ বলে জগতের সকল জাতির লোকেরা তোমাদের ঘৃণা করবে৷
10 সেই সময় অনেক লোক বিশ্বাস থেকে সরে যাবে৷ তারা একে অপরকে শাসনকর্তাদের হাতে ধরিয়ে দেবে আর তারা পরস্পরকে ঘৃণা করবে৷
11 অনেক ভণ্ড ভাববাদীর আবির্ভাব হবে, যাঁরা বহু লোককে ঠকাবে৷
12 অধর্ম বেড়ে যাওযার ফলে অধিকাংশ লোকদের মধ্য থেকে ভালবাসা কমে যাবে৷
13 কিন্তু শেষ পর্যন্ত য়ে নিজেকে স্থির রাখবে, সে রক্ষা পাবে৷
14 আর রাজ্যের (স্বর্গ) এইসুসমাচার জগতের সর্বত্র প্রচার করা হবে৷ সমস্ত জাতির কাছে তা সাক্ষ্যরূপে প্রচারিত হবে, আর তারপরই উপস্থিত হবে সেই সময়৷
15 ‘তোমরা তখন দেখবে য়ে, ভাববাদী দানিয়েলের মধ্য দিয়ে য়ে ‘সর্বনাশা ঘৃণার বস্তুর’কথা বলা হয়েছিল তা পবিত্র স্থানে দাঁড়িয়ে আছে৷’ য়ে একথা পড়ছে সে বুঝুক এর অর্থ কি৷
16 ‘সেই সময় যাঁরা যিহূদিয়াতে থাকবে, তারা পাহাড় অঞ্চলে পালিয়ে যাক্৷
17 য়ে ছাদে থাকবে, সে য়েন ঘর থেকে তার জিনিস নেবার জন্য নীচে না নামে৷
18 ক্ষেতের মধ্যে য়ে কাজ করবে, সে তার জামা নেবার জন্য ফিরে না আসুক৷
19 হায়! সেই মহিলারা, যাঁরা সেইদিনগুলিতে গর্ভবতী থাকবে, বা যাদের কোলে থাকবে দুধের শিশু৷
20 তাই প্রার্থনা কর য়েন শীতকালে বা বিশ্রামবারে তোমাদের পালাতে না হয়৷
21 ‘সেই দিনগুলিতে এমন মহাকষ্ট হবে যা জগতের শুরু থেকে এই সময় পর্যন্ত আর কখনও হয় নি এবং হবে ও না৷
22 আরো বলছি, সেইদিনগুলির সংখ্যা ঈশ্বর যদি কমিয়ে না দিতেন তবে কেউই অবশিষ্ট থাকত না৷ কিন্তু তাঁর মনোনীত লোকদের জন্য তিনি সেই দিনের সংখ্যা কমিয়ে রেখেছেন৷
23 সেই সময় কেউ যদি তোমাদের বলে, ‘দেখ, মশীহ (খ্রীষ্ট)’ এখানে, অথবা ‘দেখ, তিনি ওখানে,’ তাহলে সে কথায় বিশ্বাস করো না৷
24 ‘আমি একথা বলছি, কারণ অনেক ভণ্ড খ্রীষ্ট ও ভণ্ড ভাববাদীর উদয় হবে৷ তারা মহা আশ্চর্য কাজ করবে ও চিহ্ন দেখাবে, য়েন লোকদের ঠকাতে পারে৷ যদি সন্ভব হয় এমনকি ঈশ্বরের মনোনীত লোকদেরও ঠকাবে৷
25 দেখ, আমি আগে থেকেইতোমাদের এসব কথা বলে রাখলাম৷
26 ‘তাইতারা যদি তোমাদের বলে, ‘দেখ, খ্রীষ্ট প্রান্তরে আছেন!’ তবে তোমরা সেখানে য়েও না, অথবা যদি বলে দেখ, ‘তিনি ভেতরের ঘরে লুকিয়ে আছেন, তাদের কথায় বিশ্বাস করো না৷
27 আকাশে বিদ্য়ুত্ য়েমন পূর্ব দিকে দেখা দিয়ে পশ্চিম দিক পর্যন্ত চমকে দেয়, তেমনি করেইমানবপুত্রের আবির্ভাব হবে৷
28 য়েখানে শব, সেখানেইশকুন এসে জড় হবে৷
29 মহাক্লেশের সেইদিনগুলির পরই, ‘সূর্য় অন্ধকার হয়ে যাবে, চাঁদ আর আলো দেবে না৷ তারাগুলো আকাশ থেকে খসে পড়বে আর আকাশমণ্ডলে মহা আলোড়নের সৃষ্টি হবে৷’
30 ‘সেই সময় আকাশে মানবপুত্রের চিহ্ন দেখা দেবে৷ তখন পৃথিবীর সকল গোষ্ঠী হাহুতাশ করবে; আর তারা মানবপুত্রকে মহাপরাক্রম ও মহিমামণ্ডিত হয়ে আকাশের মেঘে করে আসতে দেখবে৷
31 খুব জোরে তূরীধ্বনির সঙ্গে তিনি তাঁর স্বর্গদূতদের পাঠাবেন৷ তাঁরা আকাশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত, চার দিক থেকে তাঁর মনোনীত লোকদের জড়ো

করবেন৷মথি 24:4-31

চতুর্থ দিনে যীশু মন্দিরের আসন্ন ধ্বংসকে অতীতে দেখছিলেন I তিনি শিখিয়েছিলেন যে ক্রমবর্ধমান মন্দতা, ভূমিকম্প, দুর্ভিক্ষ, যুদ্ধ, এবং অত্যাচার সমূহ তাঁর প্রত্যাবর্তনের পূর্বে পৃথিবীর বৈশিষ্ট্য হবে I তবুও, তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করলেন যে সুসমাচার সারা পৃথিবী জুড়ে তখনও প্রচারিত হবে (পদ 14) I খ্রীষ্টের সম্বন্ধে জগত জানার সাথে সাথে সেখানে ভুয়ো শিক্ষকদের সংখ্যা বাড়বে এবং তাঁর ও তাঁর প্রত্যাবর্তনের সম্বন্ধে ছদ্ম দাবি করা হবে I নির্বিচার মহাজাগতিক অশান্তি, যুদ্ধ, বিশৃঙ্খলা এবং সঙ্কটের মাঝে তাঁর প্রত্যাবর্তনের আসল লক্ষণ হবে I তিনি নক্ষত্র, সূর্য এবং চন্দ্রের থেকে আলো নিভিয়ে   দেবেন I      

তাঁর প্রত্যাবর্তন বর্ণিত

যোহন এটিকে কল্কির মতন চিত্রিত করে পরে তাঁর প্রত্যাবর্তনের ব্যাখ্যা করেছিলেন:

11 এরপর আমি দেখলাম, স্বর্গ উন্মুক্ত, আর সেখানে সাদা একটা ঘোড়া দাঁড়িয়ে আছে৷ তার ওপর যিনি বসে আছেন, তাঁর নাম ‘বিশ্বস্ত ও সত্যময়’ আর তিনি ন্যায়সিদ্ধ বিচার করেন ও যুদ্ধ করেন৷
12 আগুনের শিখার মতো তাঁর চোখ, আর তাঁর মাথায় অনেকগুলি মুকুট আছে; সেই মুকুটগুলির উপর এমন এক নাম লেখা আছে, যার অর্থ তিনি ছাড়া অন্য আর কেউ জানে না৷
13 রক্তে ডোবানো পোশাক তাঁর পরণে; তাঁর নাম ঈশ্বরের বাক্য৷
14 স্বর্গের সেনাবাহিনী সাদা ঘোড়ায় চড়ে তাঁর পেছনে পেছনে চলেছিল৷ তাদের পরণে ছিল শুচিশুভ্র মসীনার পোশাক৷
15 একটি ধারালো তরবারি তাঁর মুখ থেকে বেরিয়ে আসছিল, যা দিয়ে তিনি পৃথিবীর সমস্ত জাতিকে আঘাত করবেন৷ লৌহ যষ্টি হাতে জাতিবৃন্দের ওপর তিনি শাসন পরিচালনা করবেন৷ সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের প্রচণ্ড ক্রোধের কুণ্ডে তিনি সব দ্রাক্ষা মাড়াই করবেন৷
16 তাঁর পোশাকে ও উরুতে লেখা আছে এই নাম:‘রাজাদের রাজা ও প্রভুদের প্রভু৷’
17 পরে আমি দেখলাম, একজন স্বর্গদূত সূর্যের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন৷ তিনি উঁচু আকাশ পথে য়ে সব পাখি উড়ে যাচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্যে খুব জোরে চিত্‌কার করে বললেন: ‘এস, ঈশ্বর য়ে মহাভোজের আযোজন করেছেন, তার জন্য এক জায়গায় জড়ো হও৷
18 এক, রাজাদের, প্রধান সেনাপতিদের ও বীরপুরুষদের মাংস, ঘোড়া ও ঘোড়-সওয়ারদের মাংস, স্বাধীন অথবা ক্রীতদাস, ক্ষুদ্র অথবা মহান সকল মানুষের মাংস খেয়ে যাও৷’
19 তখন আমি দেখলাম ঐ ঘোড়ার ওপর যিনি বসেছিলেন, তিনি ও তাঁর সৈন্যদের সঙ্গে সেই পশু ও পৃথিবীর রাজারা তাদের সমস্ত সেনাবাহিনী নিয়ে যুদ্ধ করার জন্য একত্র হল৷
20 কিন্তু সেই পশু ও ভণ্ড ভাববাদীকে ধরা হল৷ এই সেই ভণ্ড ভাববাদী, য়ে পশুর জন্য অলৌকিক কাজ করেছিল৷ এই অলৌকিক কাজের দ্বারা ভণ্ড ভাববাদী তাদের প্রতারণা করেছিল যাদের সেই পশুর চিহ্ন ছিল এবং যাঁরা তার উপাসনা করেছিল৷ ভণ্ড ভাববাদী এবং পশুটিকে জ্বলন্ত গন্ধকের হ্রদে ছুঁড়ে ফেলা হল৷
21 যাঁরা বাকী থাকল তারা সকলে সেই সাদা ঘোড়ার সওয়ারীর মুখ থেকে বেরিয়ে আসা ধারালো তলোয়ারের আঘাতে মারা পড়ল; আর সমস্ত পাখি তাদের মাংস খেয়ে তৃপ্ত

হল৷প্রকাশিত বাক্য 19:11-21

লক্ষণগুলির মূল্যায়ন করা

আমরা দেখতে পারি যুদ্ধ, সঙ্কট এবং ভূমিকম্প ক্রমশঃ বাড়ছে – সুতরাং তাঁর ফিরে আসার সময় নিকট হচ্ছে I তবে স্বর্গে এখনও কোনো ঝামেলা নেই তাই তাঁর প্রত্যাবর্তন ঠিক এখনও হয়নি I  

আমরা কতটা কাছে আছি?

এর উত্তর দিতে যীশু বলতে থাকলেন

32 ‘ডুমুর গাছ দেখে শিক্ষা নাও, তার কচি ডালে পাতা বের হলে জানা যায় গ্রীষ্মকাল কাছে এসে গেছে৷
33 ঠিক সেই রকম, যখন তোমরা দেখবে এসব ঘটছে, বুঝবে মানবপুত্রের পুনরুত্থানের সময় এসে গেছে, তা দরজার গোড়ায় এসে পড়েছে৷
34 আমি তোমাদের সত্যি বলছি, যতক্ষণ পর্যন্ত না এসব ঘটছে এই যুগের লোকদের শেষ হবে না৷
35 আকাশ ও সমগ্র পৃথিবী বিলুপ্ত হয়ে যাবে, কিন্তু আমার কোন কথা বিলুপ্ত হবে

না৷মথি 24:32:35

আমাদের চোখের সামনে ডুমুর গাছের পাতা সবুজ হচ্ছে

মনে রাখুন ইস্রায়েলের প্রতীক, ডুমুর গাছ, যাকে তিনি তৃতীয় দিনে অভিশাপ দিয়েছিলেন? 70 খ্রীষ্টাব্দে ইস্রায়েলের শুকিয়ে যাওয়া আরম্ভ হয়েছিল যখন রোমীয়রা মন্দিরকে ধ্বংস করেছিল এবং এটি 1900 বছর ধরে শুকনো  থাকলো I যীশু আমাদেরকে ডুমুর গাছ থেকে বেরিয়ে আসা সবুজ অঙ্কুরের দিকে তাকিয়ে থাকতে বলেছিলেন জানতে কখন তাঁর ফেরৎ আসা ‘নিকটস্থ’ হবে I বিগত 70 বছরে আমরা এই ‘ডুমুর গাছ’ কে লক্ষ্য করে এসেছি যা সবুজ  এবং পাতাগুলো আবার অঙ্কুরিত হতে শুরু করেছে I হ্যাঁ, এটি আমাদের সময়ে যুদ্ধ, সঙ্কট ও ঝামেলাগুলো যোগ করেছে, তবে তিনি আমাদের সতর্ক করেছিলেন বলে এটি আমাদের অবাক না করা উচিত I    

অতএব, আমাদের সময়ে আমাদের যত্নবান এবং সজাগ থাকা উচিত যেহেতু  তিনি তাঁর প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে অসতর্কতা এবং উদাসীনতার বিরুদ্ধে সাবধান  করেছিলেন I  

36 ‘সেই দিন ও মুহূর্ত্তের কথা কেউ জানে না, এমন কি স্বর্গদূতেরা অথবা পুত্র নিজেও তা জানেন না, কেবলমাত্র পিতা (ঈশ্বর) তা জানেন৷
37 নোহের সময় য়েমন হয়েছিল, মানবপুত্রের আগমনের সময় সেইরকম হবে৷
38 নোহের সময়ে বন্যা আসার আগে, য়ে পর্যন্ত না নোহ সেই জাহাজে ঢুকলেন, লোকেরা সমানে ভোজন পান করেছে, বিয়ে করেছে ও ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিয়েছে৷
39 ‘য়ে পর্যন্ত না বন্যা এসে তাদের সবাইকে ভাসিয়ে নিয়ে গেল, সে পর্যন্ত তারা কিছুইবুঝতে পারে নি য়ে কি ঘটতে যাচ্ছে৷ মানবপুত্রের আগমনও ঠিক সেই রকমভাবেইহবে৷
40 সেই সময় দুজন লোক মাঠে কাজ করবে৷ তাদের একজনকে নিয়ে যাওযা হবে, অন্য জন পড়ে থাকবে৷
41 দুজন স্ত্রীলোক য়াঁতা পিষবে, তাদের একজনকে নিয়ে যাওযা হবে, আর অন্যজন পড়ে থাকবে৷
42 ‘তাই তোমরা সজাগ থাক, কারণ তোমাদের প্রভু কোন দিন আসবেন, তা তোমরা জানো না৷
43 তবে একথা মনে রেখো, যদি গৃহস্থ জানত রাত্রে কোন সময় চোর আসবে, তবে সে জেগে থাকত৷ সে চোরকে নিজের ঘরের সিঁধ কাটতে দিত না৷
44 তাই তোমরাও প্রস্তুত থাক, কারণ তোমরা যখন তাঁর আগমনের বিষয়ে ভাববেও না, মানবপুত্র সেই সময়ই আসবেন৷
45 ‘সেইবিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান দাস তাহলে কে, যার ওপর তার প্রভু তাঁর বাড়ির অন্যান্য দাসদের ঠিক সময়ে খাবার দেবার দাযিত্ব দিয়েছেন?
46 সেই দাস ধন্য যার মনিব ফিরে এসে তাকে তার কর্তব্য করতে দেখবেন৷
47 আমি তোমাদের সত্যি বলছি, তিনি সেই দাসকেই তাঁর সমস্ত সম্পত্তি দেখাশোনার ভার দেবেন৷
48 কিন্তু ধর, সেই দাস যদি দুষ্ট হয়, আর মনে মনে বলে, ‘আমার মনিবের ফিরে আসতে অনেক দেরী আছে৷
49 ‘তাই সে তার সঙ্গী দাসদের মারধর করে এবং মাতালদের সঙ্গে খাওযা-দাওযা করতে শুরু করে৷
50 তাহলে য়ে দিন ও য়ে সময়ের কথা সেইদাস ভাবতেও পারবে না বা জানবেও না, সেই দিন ও সেই মুহূর্ত্তেইতার মনিব এসে হাজির হবেন৷
51 তখন তার মনিব তাকে কঠোর শাস্তি দেবেন, ভণ্ডদের মধ্যে তাকে স্থান দেবেন; য়েখানে লোকেরা কান্নাকাটি করে ও যন্ত্রণায় দাঁতে দাঁত

ঘসে৷মথি 24:36-51

যীশু শিক্ষা দিতে থাকলেন I লিঙ্কটি এখানে রয়েছে I

দিন 4 সারাংশ

আবেগী সপ্তাহের চতুর্থ দিন বুধবারে, যীশু তাঁর প্রত্যাবর্তনের লক্ষণগুলোকে বর্ণনা করেছিলেন – সমস্ত স্বর্গীয় দেহের অন্ধকারের সাথে চূড়ান্ত পরিণতি I

দিন 4: হিব্রু বেদের নিয়মগুলোর সাথে আবেগী সপ্তাহের ঘটনাগুলোর তুলনা

তিনি আমাদের সবাইকে তাঁর ফেরৎ আসার জন্য সজাগ থেকে লক্ষ্য করতে সতর্ক করেছিলেন I যেহেতু আমরা এখন ডুমুর গাছকে সবুজ দেখতে পাচ্ছি, আমাদের যত্ন নেওয়া উচিত I

সুসমাচার লিপিবদ্ধ করে কিভাবে তাঁর শত্রু পরে, পঞ্চম দিনে তাঁর বিরুদ্ধে অগ্রসর হ’ল I 


[i] সেই সপ্তাহের প্রতিটি দিনকে বর্ণনা করে, লুক ব্যাখ্যা করেন:

লুক 21:37

দিন3: যীশু শুকিয়ে দেওয়া অভিশাপটি উচ্চারণ করেন

দুর্বাসা শকুন্তলাকে অভিশাপ দেন 

আমরা পুরাণ কাহিনী জুড়ে অভিশাপ (শাপ) সম্পর্কে পড়ি এবং শুনি I সম্ভবতঃ সর্বাধিক প্রসিদ্ধটি প্রাচীন নাট্যকার কালিদাসের (প্রায় 400 খ্রীষ্টাব্দ) নাটক অভিজ্ঞানশকুন্তলম (শকুন্তলার স্বীকৃতি) থেকে আসে, যা আজও নিয়মিতভাবে অভিনয় করা হয় I এর মধ্যে, রাজা দুষ্যন্তর সাথে জঙ্গলের মধ্যে শকুন্তলা নামে এক সুন্দর স্ত্রীর দেখা হয় এবং প্রেমে পড়েন I দুষ্যন্ত তাড়াতাড়ি তাকে বিয়ে করে নেন তবে রাজকার্যের জন্য রাজধানীতে শীঘ্র ফিরে যেতে একটি রাজমোহর বসানো আংটি দিয়ে তাকে ছেড়ে চলে যান I শকুন্তলা গভীর প্রেমে তার নতুন স্বামীর সম্পর্কে দিবাস্বপ্নে মগ্ন থাকে I তার দিবাস্বপ্নে মগ্ন থাকার সময়ে, দুর্বাসা নামে এক শক্তিশালী ঋষি, পাশ দিয়ে যেতে গিয়ে ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠেন কারণ সে তাকে লক্ষ্য করেনি আর উপযুক্তভাবে অভিবাদন করেনি I পরিণামস্বরূপ তিনি তাকে অভিশাপ দিলেন তার দ্বারা সে অস্বীকৃত হবে যার সম্বন্ধে সে দিবাস্বপ্ন দেখছে I তিনি তারপরে অভিশাপটি কমিয়ে দিলেন যাতে সে যদি সেই ব্যক্তির দ্বারা দেওয়া কোনো উপহার ফিরিয়ে দেয় তবে তারা তাকে স্মরণ করবে I তাই শকুন্তলা আংটিটি নিয়ে রাজধানী যাত্রা করল, আশায় যে এই আংটির সাহায্যে রাজা দুষ্যন্ত তাকে স্মরণ করবে I কিন্তু যাত্রাপথে সে আংটিটি হারিয়ে ফেলল তাই যখন সে পৌঁছল রাজা তাকে চিনতে পারল না I     

ভৃগু বিষ্ণু কে অভিশাপ দেন

মৎস্য পুরাণ দেব-অসুরের স্থায়ী যুদ্ধের কথা বলে, যাতে দেবতারা সর্বদা জয়লাভ করে I অসুরদের গুরু শুক্রাচার্য অপমানিত হয়ে, অসুরদের অদৃশ্য করতে মৃতসঞ্জীবনী স্ত্রোত্র, বা মন্ত্রের জন্য শিবের দ্বারস্থ হন, এবং যাতে তার অসুরগণ তার বাবার (ভৃগু) আশ্রমে আশ্রয় নিতে পারে I তবে শুক্রাচার্য চলে যাওয়ার সাথে সাথে, দেবতারা অসুরদের আবার আক্রমণ করলেন I যাইহোক, অসুররা ভৃগুর স্ত্রীর সাহায্য পেল, যিনি ইন্দ্রকে অচল করে দিলেন I ইন্দ্র, পরিবর্তে তার থেকে রেহাই পেতে ভগবান বিষ্ণুর কাছে বিনতি করলেন I বিষ্ণু তাঁর সুদর্শন চক্র দিয়ে তার মস্তক ছিন্ন করে বাধিত করলেন I যখন ঋষি ভৃগু তার স্ত্রীর কি হয়েছে দেখলেন, তিনি বিষ্ণুকে বার বার পৃথিবীতে জন্ম গ্রহণ করে, পার্থিব জীবনের যন্ত্রণা ভোগ করার অভিশাপ দিলেন I তাই বিষ্ণুকে একাধিকবার অবতারিত হতে হয়েছিল I         

ভৃগু বিষ্ণুকে অভিশাপ দিতে আসেন

কাহিনীগুলোর মধ্যে অভিশাপ সমূহ মারাত্মক; তবে তারা প্রশ্ন উত্থাপন করে সেগুলো সত্যই ঘটেছিল কি না I শকুন্তলার উপরে দুর্বাসা বা বিষ্ণুর উপরে ভৃগুর মতন একটি অভিশাপ গম্ভীর হয়ে উঠত যদি আমরা জানতে পারতাম যে সেগুলো সত্যই ঘটেছিল I

যীশু ঠিক এই ধরণের একটি অভিশাপ পবিত্র সপ্তাহের তৃতীয় দিনে উচ্চারণ করলেন I প্রথমে আমরা সপ্তাহটিকে পর্যালোচনা করি I

যীশুর ক্রমবর্ধমান সংঘর্ষ  

যীশু যেই ভবিষ্যদ্বাণী করা রবিবারে যিরূশালেমে প্রবেশ করলেন  এবং তারপরে সোমবারে মন্দিরটিকে বন্ধ করলেন, যিহূদি নেতারা তাঁকে হত্যা করতে ষড়যন্ত্র করল I তবে এটি অকপটে হত না I

যখন যীশু নীসন 10 তারিখে মন্দিরে প্রবেশ করলেন ঈশ্বর যীশুকে তাঁর নিস্তারপর্বের মেষশাবক রূপে মনোনীত করলেন I হিব্রু বেদ নিস্তারপর্বের মনোনীত মেষশাবকের কি করনীয় তা নিয়ন্ত্রণ করে I

তোমরা মেষপালের কিম্বা ছাগপালের মধ্য হইতে তাহা লইবে; 

আর এই মাসের চতুর্দ্দশ দিন পর্য্যন্ত রাখিবে;  

যাত্রাপুস্তক 12:5b-6a

লোকেরা যেমনভাবে তাদের নিস্তারপর্বের মেষশাবকের যত্ন করত, ঠিক তেমনিভাবে ঈশ্বরও তাঁর নিস্তারপর্বের মেষশাবকের যত্নগ্রহণ করলেন এবং যীশুর শত্রুরা তাঁকে ধরতে পারল না (তখনও) I সুতরাং সেই সপ্তাহের তৃতীয় দিন মঙ্গলবারে যীশু যা করলেন সুসমাচার তা লিপিবদ্ধ করে I

যীশু ডুমুর গাছকে অভিশাপ দিলেন

17পরে তিনি তাহাদিগকে ছাড়িয়া নগরের বাহিরে বৈথনিয়ায় গেলেন, আর সেই স্থানে রাত্রি যাপন করিলেন।18প্রাতঃকালে নগরে ফিরিয়া যাইবার সময়ে তিনি ক্ষুধিত হইলেন। 19পথের পার্শ্বে একটা ডুমুরগাছ দেখিয়া তিনি তাহার নিকটে গেলেন, এবং পত্র বিনা আর কিছুই দেখিতে পাইলেন না। তখন তিনি গাছটিকে কহিলেন, আর কখনও তোমাতে ফল না ধরুক; আর হঠাৎ সেই ডুমুরগাছটা শুকাইয়া গেল। 

মথি 21:17-19
যিশু ডুমুর গাছকে অভিশপ্ত করলেন

যীশু ডুমুর গাছটিকে অভিশাপ দেন  

কেন তিনি এইরকম করলেন?

এর কি অর্থ ছিল?

ডুমুর গাছের অর্থ

:প্রাচীন ভাববাদীগণ এটিকে আমাদের কাছে ব্যাখ্যা করেন I এখানে লক্ষ্য করুন কিভাবে হিব্রু বেদ ইস্রায়েলের উপরে ন্যায়কে চিত্রিত করতে ডুমুর গাছটিকে ব্যবহার করেছিলেন:

হোশেয় আরো অগ্রবর্তী হয়ে, ডুমুর গাছটিকে ছবিতে ব্যবহার করে ইস্রায়েলকে অভিশাপ দিয়েছিলেন:

10 అరణ్యములో ద్రాక్షపండ్లు దొరికినట్లు ఇశ్రా యేలువారు నాకు దొరికిరి; చిగురుపెట్టు కాలమందు అంజూరపు చెట్టుమీద తొలి ఫలము దొరికినట్లు మీ పితరులు నాకు దొరికిరి. అయితే వారు బయల్పెయోరు నొద్దకు వచ్చి ఆ లజ్జాకరమైన దేవతకు తమ్మును తాము అప్పగించుకొనిరి; తాము మోహించినదానివలెనే వారు

హేయులైరి.হোশেয় 9:10

16 ఎఫ్రాయిము మొత్తబడెను, వారి వేరు ఎండిపోయెను, వారు ఫలమియ్యరు. వారు పిల్లలు కనినను వారి గర్భనిధిలోనుండివచ్చు సొత్తును నేను నాశనము చేసెదను.
17 వారు నా దేవుని మాటల నాలకించలేదు గనుక ఆయన వారిని విసర్జించెను. వారు దేశము విడిచి అన్యజనులలో

తిరుగుదురుহোশেয় 9:16-17 (ইফ্রয়িম=ইস্রায়েল)

586 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে যিরূশালেমের ধ্বংস একে এবং মশির অভিশাপকে (ইতিহাসকে দেখুন) পূরণ করেছিল I যীশু যখন ডুমুরগাছটিকে অভিশাপ দিলেন, তিনি যিরূশালেমের আর একটি আসন্ন ধ্বংস এবং দেশ থেকে যিহূদি  নির্বাসনকে প্রতীকী রূপে ঘোষণা করছিলেন I তিনি তাদেরকে পুনরায় নির্বাসনের অভিশাপ দিয়েছিলেন I  

ডুমুর গাছটিকে শাপ দেওয়ার পরে, যীশু মন্দিরে পুন:প্রবেশ করে শিক্ষা দিলেন এবং বিতর্ক করলেন I সুসমাচার এইভাবে লিপিবদ্ধ করে I

অভিশাপ অধিকার জমায়

ইতিহাস থেকে আমরা জানি যিরূশালেম এবং এর মন্দিরের ধ্বংস এবং বিশ্বব্যাপী যিহূদিদের নির্বাসন 70 খ্রীষ্টাব্দে ঘটেছিল I এগুলোর মধ্যে কিছু নির্বাসিত  ভারতে এসেছিল I

70 খ্রীষ্টাব্দে মন্দির ধ্বংসের সাথে সাথে ইসরায়েলের শুকিয়ে যাওয়া ঘটেছিল এবং এটি কয়েক হাজার বছর ধরে স্থায়ী হয়েছিল I

70 খ্রীষ্টাব্দে রোমীয় দ্বারা যিরূশালেমের ধ্বংস I সংরক্ষিত রোমীয় স্থাপত্য দেখায় তারা মন্দির লুট করছে এবং মেনোরাকে (বড়, 7-মোমবাতির বাতিদান) নিয়ে যাচ্ছে

এই অভিশাপটি শুধুমাত্র সুসমাচারের ইতিহাসের পাতায় বাস করে নি I আমরা এটিকে ইতিহাসের ঘটনা থেকে যাচাই করতে পারি, যা ভারতের ইতিহাসকে প্রভাবিত করে I যীশুর দ্বারা ঘোষিত এই শুকনো করার অভিশাপ বাস্তবিকই শক্তিশালী ছিল I তাঁর সময়ে লোকেরা তাদের বিনাশের প্রতি তাঁকে উপেক্ষা করেছিল I      

ওই মন্দিরের বিনাশকে আজও দেখা যায়

 অভিশাপটির মেয়াদ শেষ হবে I

যীশু পরে স্পষ্ট করলেন সেই অভিশাপ কিভাবে আসবে এবং এটি কত দিন ধরে  স্থায়ী হবে I 

লোকেরা খড়্গধারে পতিত হইবে; এবং বন্দি হইয়া সকল জাতির মধ্যে নীত হইবে; আর জাতিগণের সময় সম্পূর্ণ না হওয়া পর্য্যন্ত যিরূশালেম জাতিগণের পদ দলিত হইবে।  

লুক 21:24

তিনি শিক্ষা দিয়েছিলেন যে তাঁর অভিশাপ (নির্বাসন এবং যিরূশালেমের উপরে অ-যিহূদি নিয়ন্ত্রণ) শুধুমাত্র ততক্ষণ স্থায়ী হবে যতক্ষণ ‘পর্যন্ত পরজাতিদের (অ-যিহূদি) সময় পূর্ণ না হয়’, ভবিষ্যদ্বাণী করে যে তাঁর অভিশাপের মেয়াদ শেষ হবে I তিনি চতুর্থ দিনে এটিকে আরও ব্যাখ্যা করলেন I 

অভিশাপ তুলে নেওয়া হ

বৃহত্তর মাপনীর উপরে যিহূদিদের ঐতিহাসিক কালপঞ্জি – তাদের নির্বাসনের দুটি সময়কালকে দেখায়    

এই কালপঞ্জি যিহূদি লোকেদের ইতিহাসকে বিস্তৃতরূপে এখানে দেখায় I আমাদের আধুনিক যুগে ফিরে এলে, কালপঞ্জি দেখায় যে নির্বাসন শেষ হয়ে গেছে I 1948 সালে, সংযুক্ত রাষ্ট্রের একটি ঘোষণার থেকে, ইসরায়েলের আধুনিক রাষ্ট্র স্থাপিত হয় I 1967 সালের ছয়-দিবসীয় যুদ্ধে তারা যিরূশালেম নগরের পুনরুদ্ধার করে, যা এখন ইসরায়েলের রাজধানী I আমরা খবরের প্রতিবেদন থেকে দেখি ‘পরজাতিদের সময়’ শেষ হয়ে গেছে I  

যিহূদিরা এখন আবার মন্দির স্থলে প্রার্থনা করে

 যীশুর অভিশাপের আরম্ভ এবং অবসান, ডুমুর গাছের প্রতি প্রতীকী হিসাবে উচ্চারিত হয়েছিল এবং তার পরে তাঁর শ্রোতাদের কাছে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল যা শুধুমাত্র সুসমাচারের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকে নি I এই ঘটনাগুলো যাচাইযোগ্য, যা আজকের দিনে খবরের শিরোনাম তৈরী করে (উদা: আমেরিকা তার দুতাবাস যিরূশালেমে স্থানান্তর করেছে) I যীশু প্রকৃতির উপর ‘ওম’ বলার দ্বারা গভীরভাবে শিক্ষা দিয়েছিলেন, এবং আমরা দেখি যে তাঁর অভিশাপ কয়েক হাজার বছর ধরে জাতিদের উপরে ছাপ ফেলেছিল I আমরা আমাদের বিপদে তাঁকে অগ্রাহ্য করি I   

দিন 3 এর সারাংশ

আপডেট করা চার্টটি দেখায় যীশু তৃতীয় দিন, মঙ্গলবারে, ডুমুর গাছটিকে অভিশাপ দেন, যখন ঈশ্বরের মনোনীত মেষশাবক হিসাবে গ্রহণ করা হয় I চতুর্থ দিনে তিনি তাঁর আসন্ন প্রত্যাবর্তনকে ব্যাখ্যা করেন, এক কল্কি যে অনেক অন্যায়কে ঠিক করতে আসছে I 

দিন তিন: যীশু ডুমুর গাছটিকে অভিশাপ দেন