ঈশ্বরের মহাজাগতিক নৃত্য – সৃষ্টি থেকে ক্রুশ পর্যন্ত ছন্দ

নৃত্য কি? নাট্য নৃত্যটি ছন্দবদ্ধ গতিকে ধারণ করে, যা দর্শকদের দ্বারা দেখা এবং একটি গল্প বলতে বোঝায় I নর্তকী অন্যন্য নর্তকীদের সাথে তাদের নিজেদের শরীরের বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করে তাদের গতি সমূহকে সমন্বয় করে, যাতে করে তাদের গতিগুলো দৃশ্যমান সৈন্দর্য উৎপন্ন করে এবং পুনরাবৃত্ত সময়ের ব্যবধানে ছন্দকে উচ্চারিত করে, যাকে তাল বলা হয় I   

নাট্য শাস্ত্র, নৃত্য সংক্রান্ত ধ্রুপদী কাজ শিক্ষা দেয় যা বিনোদন নৃত্যের একটি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হওয়া উচিত তবে এর প্রাথমিক লক্ষ্য নয় I সঙ্গীত এবং নৃত্যের লক্ষ্য হ’ল রস, শ্রোতাদেরকে আরও গভীর বাস্তবতায় নিয়ে যায়, যেখানে আশ্চর্যজনকভাবে তারা আধ্যাত্মিক এবং নৈতিক প্রশ্নের উপরে প্রতিফলন ঘটায় I    

শিবের তান্ডবের নটরাজ

শিবের দক্ষিণ চরণ দৈত্যকে পদদলিত করে  

তাহলে স্বর্গীয় নৃত্য কার মতন দেখতে লাগে? তাণ্ডব (তান্ডবম, তাণ্ডব নৃত্যম বা নদান্তা) দেবতাদের নৃত্যের সাথে সংযুক্ত I আনন্দ তাণ্ডব আনন্দের নৃত্য করে যখন রুদ্র তাণ্ডব ক্রোধের নৃত্য করে I নটরাজ স্বর্গীয় নৃত্যের প্রতিনিধিত্ব  করে যার মধ্যে শিব তাঁর পরিচিত মুদ্রায় (হাত এবং পায়ের অবস্থায়) নৃত্যের প্রভু হিসাবে প্রদর্শিত হন I তাঁর ডান পা দৈত্য অপাস্মারা বা মূয়ালাকার উপরে পদদলিত করছে I যাই হোক না কেন, আঙ্গুলগুলি মাটি থেকে উঁচুতে উঠে বাঁ পায়ের দিকে সংকেত করে I      

শিবের শাস্ত্রীয় নৃত্যের নটরাজ চিত্র

কেন তিনি এটির দিকে সংকেত করেন?

কেননা ওই উত্তোলিত পা, মাধ্যাকর্ষণকে উপেক্ষা করে মুক্তি, অর্থাৎ মোক্ষকে প্রতীকী করে I যেমন তামিল রচনা উত্মাই উলখাম ব্যাখ্যা করে:

“সৃষ্টি ড্রাম থেকে উৎপন্ন হয়; সুরক্ষা আশার হাত থেকে এগিয়ে যায়; আগুন থেকে ধ্বংস এগিয়ে চলেছে; মুয়ালকার উপরে রাখা পা দুষ্টের ধ্বংসের দিকে এগিয়ে চলেছে; উঁচুতে ধরে রাখা পা মুক্তি প্রদান করে…..”

কৃষ্ণ দৈত্য-নাগ কালিয়ার মস্তকের উপরে নৃত্য করে

কৃষ্ণ কালিয়া নাগের উপরে নৃত্য করছেন  

আর একটি শাস্ত্রীয় নৃত্য হ’ল কালিয়ার উপরে কৃষ্ণের নৃত্য I পুরাণ অনুসারে, কালিয়া যমুনা নদীতে বাস করত, জনতাকে ত্রাসিত করত এবং সারা দেশ জুড়ে নিজের বিষ ছড়াত I 

কৃষ্ণ যখন নদীতে ঝাঁপ দিলেন কালিয়া তাকে ধরে নিল I কালিয়া তারপরে কৃষ্ণকে তার কুন্ডলীর মধ্যে জড়িয়ে ধরে দংশন করল, প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্বিগ্ন করল, কৃষ্ণ এটির অনুমতি দিলেন, তবে লোকেদের উদ্বিগ্ন দেখে তাদের আশ্বস্ত করতে মনস্থির করলেন I এইরূপে, কৃষ্ণ সর্পের ফণার উপরে ঝাঁপ দিয়ে তাঁর বিখ্যাত নৃত্য শুরু করলেন, যা ভগবানের লীলার (স্বর্গীয় ক্রীড়া) প্রতীক ছিল, যাকে “আরাভতি” বলা হত I কৃষ্ণ কালিয়ার প্রতিটি ফণার উপরে ছন্দের মধ্যে নৃত্য করে তাকে পরাজিত করলেন I   

ক্রুশ – নাগের মস্তকের উপরে একটি ছন্দময় নৃত্য

সুসমাচার ঘোষণা করে যে যীশুর ক্রুশবিদ্ধকরণ এবং পুনরুত্থান সর্পকে পরাজিত করার ক্ষেত্রে তাঁর নৃত্যের অনুরূপ ছিল I এটি আনন্দ তান্ডব এবং রুদ্র তান্ডব উভয়ই ছিল তার মধ্যে এই নৃত্য প্রভুর আনন্দ এবং ক্রোধ উভয়কে জাগিয়ে তুলেছিল I আমরা এটিকে মানব ইতিহাসের ঠিক শুরুতে দেখি, যখন আদম, প্রথম মনু, সর্পের কাছে সমর্পণ করে দিয়েছিল I ঈশ্বর (বিশদ বিবরণ এখানে) সর্পকে বলেছিলেন  

15 তোমার এবং নারীর মধ্যে আমি শত্রুতা আনব এবং তার সন্তানসন্ততি এবং তোমার সন্তান সন্ততির মধ্যে এই শত্রুতা বয়ে চলবে| তুমি কামড় দেবে তার সন্তানের পাযে কিন্তু সে তোমার মাথা চূর্ণ করবে|”

আদিপুস্তক 3:15
স্ত্রীর বীজ সর্পের মস্তক পদদলিত করবে

অতএব এই নাটক সর্প এবং বীজ বা স্ত্রীটির বংশধরের মধ্যে একটি সংগ্রামকে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল I এই বীজটি ছিল যীশু এবং তাদের সংগ্রাম ক্রুশের উপরে চূড়ান্ত পরিণতি হ’ল I কৃষ্ণ যেমনভাবে কালিয়াকে তাকে আঘাত করতে অনুমতি দিয়েছিল, তেমনিভাবে যীশু সর্পকে তাঁকে আঘাত করতে অনুমতি দিয়েছিলেন, তাঁর চূড়ান্ত বিজয় সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন I যেমন ভাবে শিব মোক্ষের দিকে সংকেত দিয়ে আপস্মরাকে পদদলিত করেন তেমনভাবে যীশু সর্পের উপরে পদদলিত করলেন এবং জীবনের প্রতি রাস্তা তৈরী করলেন I বাইবেল তাঁর বিজয় এবং আমাদের জীবনের পথকে এইভাবে বর্ণনা করে: 

13 তোমরা সতর্ক থেকো, বিশ্বাসে স্থির থেকো, সাহস য়োগাও, বলবান হও৷
14 তোমরা যা কিছু কর তা ভালবাসার সঙ্গে কর৷
15 আমার ভাইয়েরা, আমি তোমাদের কাছে একটা অনুরোধ করছি, তোমরা স্তিফান ও তাঁর পরিবারের বিষয়ে জান৷ আখায়াতে (গ্রীসে) তাঁরাই প্রথম খ্রীষ্টানুসারী হন৷ এখন তাঁরা খ্রীষ্টানুসারীদের সেবায় নিজেদের নিযোগ করেছেন৷ ভাইয়েরা, তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ,

কলসীয় 2:13-15

তাদের সংঘর্ষ ‘সাত’ এবং ‘তিন’ সমূহের একটি ছন্দময় নৃত্যের মধ্যে উদ্ঘাটিত হয়েছিল যাকে সৃষ্টির মাধ্যমে যীশুর শেষ সপ্তাহে দেখা গিয়েছিল I  

ঈশ্বরের পূর্বজ্ঞান হিব্রু বেদের শুরু থেকে প্রকাশিত হয়েছিল

সমস্ত পবিত্র বইগুলের মধ্যে (সংস্কৃত এবং হিব্রু বেদ, সুসমাচারগুলো) কেবলমাত্র দুটি সপ্তাহ আছে যেখানে সপ্তাহের প্রতিটি দিনের ঘটনাগুলোকে বর্ণনা করা হয়েছে I হিব্রু বেদের শুরুতে লিপিবদ্ধ, প্রথম এই ধরণের সপ্তাহ, লিপিবদ্ধ করে কিভাবে ঈশ্বর সমস্তকিছু সৃষ্টি করলেন I    

যীশুর শেষ সপ্তাহে অন্য সপ্তাহটিক দৈনন্দিন ঘটনাগুলির সাথে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে I অন্য কোনো সাধু, ঋষি বা ভাববাদীর দৈনন্দিন ক্রিয়াকলাপগুলিকে সম্পূর্ণ একসপ্তাহ ধরে বর্ণনা করা হয় নি I হিব্রু বেদের সৃষ্টির বিবরণ এখানে দেওয়া হয়েছে I আমরা যীশুর শেষ সপ্তাহের দৈনন্দিন ঘটনাবলীর মধ্য দিয়ে গিয়েছিলাম এবং এই টেবিলটিতে এই দুই সপ্তাহের প্রতিটি দিনকে পাশাপাশি দেখান হয়েছে I শুভ সংখ্যা ‘সাত’, যা একটি সপ্তাহ গঠন করে, এইরূপে একটি ভিত্তি পরিমাপক বা সময় যার উপরে সৃষ্টিকর্তা তাঁর ছন্দকে ভিত্তি করেছেন I     

সপ্তাহের দিনসৃষ্টির সপ্তাহযীশুর শেষ সপ্তাহ
দিন 1অন্ধকার পরিবেষ্টিত ঈশ্বর বললেন, আলো হোক t’  আর অন্ধকারের মধ্যে আলো হ’লযীশু বললেন,“ আমি জগতে এক জ্যোতি রূপে এসেছি…” অন্ধকারে জ্যোতি হ’ল
দিন 2ঈশ্বর পৃথিবীকে আকাশ থেকে পৃথক করলেনযীশু মন্দিরকে প্রার্থনার স্থল হিসাবে শুদ্ধ করে স্বর্গ থেকে পৃথিবীকে পৃথক করলেন
দিন 3 ঈশ্বর বললেন তাই সমুদ্র থেকে ভূমি উঠে এল Iযীশু এমন বিশ্বাসের কথা বললেন যা পাহাড়কে সমুদ্রে ফেলে দেয় I
 ঈশ্বর আবার বললেন,“ভূমি থেকে গাছপালা অঙ্কুরিত এবং সবজি উৎপন্ন হোক Iযীশু এক অভিশাপের কথা বললেন আর গাছটি শুকিয়ে গেল I
দিন 4ঈশ্বর বললেন, ‘আকাশে আলো হোক আর  সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্র আকাশে আলো দিতে উদয় হ’ল Iযীশু তাঁর প্রত্যাবর্তনের চিহ্নর কথা বললেন – সূর্য, চন্দ্র মক্ষত্র অন্ধকার হয়ে যাবে I
দিন 5শয়তান উড়ন্ত ডায়নোসর সরীসৃপ, বা ড্রাগন সহ উড়ন্ত প্রাণী সৃষ্টি করলেন I শয়তান, দুর্দান্ত ড্রাগন খ্রীষ্টকে আঘাত করতে অগ্রসর হ’ল I
দিন 6ঈশ্বর কথা বললেন আর ভূমির প্রাণী জীবিত হল Iমন্দিরে নিস্তারপর্বের মেষ শাবক প্রানীদের বধ করা হ’ল I  
 সদারভু ঈশ্বর আদমের নাসিকায় ফুঁ দিয়ে প্রাণবায়ু প্রবেশ করালেন’ I আদম শ্বাস প্রশ্বাস নিতে আরম্ভ  করল I“পরে যীশু উচ্চ রব ছেড়ে শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করলেন I” (মার্ক 15:37)
 ঈশ্বর আদমকে বাগানে রাখেনযীশু স্বাধীনভাবে একটি বাগানে প্রবেশ  করেন I   
 আদমকে এক অভিশাপের সাথে জ্ঞান বৃক্ষের থেকে দুরে থাকতে সাবধান করা হয় Iযীশুকে একটি গাছে পেরেক দিয়ে বিদ্ধ করা হ’ল এবং শাপগ্রস্ত হলেন I (গালাতীয় 3:13) খ্রীষ্টই মূল্য দিয়া আমাদিগকে ব্যবস্থার শাপ হইতে মুক্ত করিয়াছেন, কারণ তিনি আমাদের নিমিত্তে শাপস্বরূপ হইলেন; কেননা লেখা আছে, “যে কেহ গাছে টাঙ্গান যায়, সে শাপগ্রস্ত”
 আদমের জন্য কোন প্রাণী উপযুক্ত ছিল না I অন্য আর এক জনের প্রয়োজন ছিল Iনিস্তারপর্বের প্রাণীর বলিদান পর্যাপ্ত ছিল  না I একজন ব্যক্তির প্রয়োজন ছিল I (ইব্রীয় 10:4-5) 4কারণ বৃষের কি ছাগের রক্ত যে পাপ হরণ করিবে, ইহা হইতেই পারে না। 5এই কারণ খ্রীষ্ট জগতে প্রবেশ করিবার সময়ে বলেন, তু তুমি যজ্ঞ ও নৈবেদ্য ইচ্ছা কর নাই,  কিন্তু আমার জন্য দেহ রচনা করিয়াছ;
 ঈশ্বর আদমকে এক গভীর নিদ্রায় রাখলেন Iযীশু মৃত্যুর নিদ্রায় প্রবেশ করেন
 ঈশ্বর আদমর পাঁজরে ক্ষত করলেন যার সাহায্যে তিনি আদমের কনেকে সৃষ্টি করলেনযীশুর পাঁজরে একটি ক্ষত করা হয় I তাঁর বলিদান থেকে যীশু তাঁর কনেকে জয় করেন, যারা তাঁতে থাকে I (প্রকাশিত বাক্য 21:9)                           আর যে সপ্ত দূতের কাছে সপ্ত শেষ আঘাতে পরিপূর্ণ সপ্ত বাটি ছিল, তাঁহাদের মধ্যে এক দূত আসিয়া আমার সঙ্গে আলাপ করিয়া কহিলেন, আইস, আমি তোমাকে সেই কন্যাকে, মেষশাবকের ভার্য্যাকে দেখাই।  
দিন 7ঈশ্বর কার্য থেকে বিশ্রাম নিলেন I যীশু মৃত্যুর মধ্যে বিশ্রাম নিলেন
সৃষ্টির সপ্তাহের সাথে ছন্দের মধ্যে যীশুর শেষ সপ্তাহ

আদমের ষষ্ঠ দিনটি যীশুর সাথে নৃত্য করে

এই দুই সপ্তাহের জন্য প্রতি দিনের ঘটনাবলী ছন্দবদ্ধ প্রতিসাম্য সরবরাহ করে  একে অপরের সাথে মিল খায় I এই দুই 7-দিনের চক্র সমূহের উভয়ের শেষে, নতুন জীবনের প্রথম ফল ফুটতে এবং এক নতুন সৃষ্টিকে বহুগণিত করতে  প্রস্তুত I অতএব আদম এবং যীশু একসাথে নৃত্য করছেন, আর এক সমন্বিত নাটক তৈরি করছেন I    

আদমর সম্বন্ধে বাইবেল বলে যে  

আদম, যিনি আসন্ন একজনের নমুনা

রোমীয় 5:14

এবং

21 কারণ একজন মানুষের মধ্য দিয়ে য়েমন মৃত্যু এসেছে, মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থানও তেমনিভাবেই একজন মানুষের দ্বারা এসেছে৷
22 কারণ আদমে য়েমন সকলের মৃত্যু হয়, ঠিক সেভাবে খ্রীষ্টে সকলেই জীবন লাভ করবে৷

1 করিন্থীয়ান 15:21-22

এই দুই সপ্তাহকে তুলনা করলে আমরা দেখি যে আদম যীশুর সাথে একটি নমুনাকে মঞ্চস্থ করে রস উৎপন্ন করেছিল I পৃথিবীকে তৈরী করতে ঈশ্বরের কি ছয় দিনের প্রয়োজন ছিল? তিনি কি এক আজ্ঞা সহকারে সমস্তকিছু তৈরী করতে পারতেন না? তবে কেন তিনি তাঁর ক্রমটিকে তৈরী করলেন? কেন ঈশ্বর সপ্তম দিনে বিশ্রাম নিলেন যখন তিনি ক্লান্ত হতে পারেন না? তিনি সমস্রকিছু সময় এবং ক্রমে করলেন যেন তিনি এমনটি করলেন যাতে যীশুর শেষ সপ্তাহকে ইতিমধ্যেই সৃষ্টির সপ্তাহর মধ্যে প্রত্যাশিত করা যায় I    

এটি ছয় দিনের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সত্য I আমরা ব্যবহৃত বাক্য সমূহের মধ্যে প্রতক্ষ্যভাবে প্রতিসাম্যটিকে দেখি I উদাহরণস্বরূপ, ‘যীশু মারা গেছেন’ সরলভাবে বলার পরিবর্তে সুসমাচার বলে ‘তিনি তাঁর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন’ আদমের কাছে একটি বিপরীত প্রতক্ষ্য নমুনা যিনি ‘জীবনের শ্বাস’ পেয়েছিলেন I সময়ের শুরু থেকে এই জাতীয় একটি নমুনা সময় এবং বিশ্বের বিস্তৃত পূর্বজ্ঞানকে দেখায় I সংক্ষেপে, এটি একটি স্বর্গীয় নৃত্য I  

 ‘তিনের’ তালের মধ্যে নৃত্য

সংখ্যা তিনকে শুভ বিবেচনা করা হয় কেননা ত্রাহি থেকে রত্ম প্রকাশিত হয়, ছন্দময় ক্রম এবং নিয়মিততা যা সৃষ্টি নিজেই সংরক্ষণ করে I রত্ম হল অন্তর্নিহিত কম্পন যা পুরো সৃষ্টিকে বিস্তৃত করে I সুতরাং, এটি সময় এবং ঘটনাগুলির সাথে সাথে নিজেকে বিভিন্নভাবে প্রকাশ করে I 

এইজন্য এটি আশ্চর্য নয় যে এটি সেই একই সময় যাকে সৃষ্টির প্রথম তিন দিন এবং যীশুর মৃত্যুর তিন দিনগুলির মধ্যে দেখা যায় I এই টেবিলটি এই নমুনাকে লক্ষনীয় করে তোলে I

 সৃষ্টির সপ্তাহমৃত্যুর মধ্যে যীশুর দিনগুলো
দিন 1 এবং শুভ শুক্রবারদিনটি অন্ধকারে শুরু   হয় I ঈশ্বর বলেন, আলো হোক আর অন্ধকারে আলো হ’ল Iঅন্ধকার পরিবেষ্টিত দিনটি আলো (যীশু) দিয়ে শুরু হয় I তাঁর মৃত্যুতে সেই আলো নির্বাপিত হয় এবং জগৎ এক গ্রহনের মধ্যে অন্ধকারে চলে   যায় I
দিন 2 এবং  বিশ্রামবারের বিশ্রামঈশ্বর পৃথিবী থেকে আকাশকে সরিয়ে আকাশ থেকে পৃথিবীকে আলাদা করেন Iযখন তাঁর দেহ বিশ্রাম নেয়, তখন যীশুর আত্মা পৃথিবীর নিচে মৃত বন্দিদের স্বর্গে আরোহণ করতে মুক্ত করেন I 
দিন 3 পুনরুত্থান  এবং প্রথম ফলঈশ্বর বলেন, ‘ভূমি গাছপালা উৎপন্ন করুক আর শাকসব্জি জীবনে অঙ্কুরিত হয় I যে বীজটি মারা যায় তা নতুন জীবনে অঙ্কুরিত হয়, তাদের সকলের কাছে উপলব্ধ হয় যারা একে গ্রহণে করে I
এইরূপে ঈশ্বর এক বড় তাল (সাত দিনের দ্বারা) এবং একটি ছোট তালে (তিন দিনের দ্বারা) নৃত্য করেন ঠিক যেমন নর্তকীরা তাদের শরীরকে বিভিন্ন সময় চক্র সমূহের মধ্যে গতিশীল করে I  

পরবর্তী মুদ্রা সমূহ

হিব্রু বেদ নির্দিষ্ট ঘটনাবলী এবং উৎসবগুলো লিপিবদ্ধ করেছিল যা যীশুর আগমনকে চিত্রিত করে I ঈশ্বর এগুলিকে দিয়েছেন যাতে আমরা জানতে পারি এটি ঈশ্বরের নাটক ছিল, মানুষের নয় I নিচের টেবিলটি এই মহান চিহ্নগুলির সাথে সংযুক্ত করার সাথে সংক্ষিপ্তসার করে যাকে যীশুর বেঁচে থাকার কয়েকশত বছর পূর্বে লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল I    

হিব্রু বেদকিভাবে এটি যীশুর আগমনকে দেখায়  
আদমের চিহ্নঈশ্বর সর্পের সম্মুখীন হলেন এবং ঘোষণা করলেন সর্পের মস্তক চূর্ণ করতে বীজটি আসছে I
নোহ বিরাট জল প্লাবন থেকে বেঁচে আয় বলি উৎসর্গ করা হয়, যীশুর আসন্ন বলিদানের পরই সংকেত  দেয় I  
আব্রাহামের বলিদানের চিহ্নআব্রাহামের বলিদানের স্থান সেই একই পর্বত ছিল যেখানে কয়েক হাজার বছর পরে যীশুকে বলি দেওয়া হয় I শেষ মুহুর্তে মেষের বিকল্প করা হ’ল তাই পুত্র জীবিত রইল, যা চিত্রিতকরে ‘ঈশ্বরের মেষ’ কীভাব নিজেকে বলি দেন যাতে আমরা বেঁচে থাকতে পারি I 
নিস্তারপর্বের চিহ্নএকটি নির্দিষ্ট দিনে = নিস্তারপর্বে মেষদের বলি চড়ানো হত I যারা বাধ্য হয়েছিল তারা রক্ষা পেয়েছিল, তবে যারা অবাধ্য হয়েছিল তারা মারা গিয়েছিল I কয়েকশত বছর পরে যীশুকে এই যথাযথ দিনে – নিস্তারপর্বে বলি দেওয়া হয়েছিল I
ইয়োম কিপ্পুরবার্ষিক উদযাপন বলির পাঁঠার উৎসর্গকে জড়িত করে – যীশুর  বলিদানের দিকে সংকেত দেয় I  
’সেই রাজের’ মতন: ‘খ্রীষ্ট’ বলতে কি বোঝায়?’খ্রীষ্ট’ উপাধিটিকে তাঁর আগমনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে উদ্বোধন করা  হয়েছিল I  
যেমন কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে…যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাজা দায়ুদের কাছে থেকে ‘খ্রীষ্ট’ নেমে আসবে I
শাখার চিহ্ন‘খ্রীষ্ট’ একটি মৃত গুড়ি থেকে একটি শাখার ন্যায় অঙ্কুরিত হবেন I
আসন্ন শাখার নামকরণঅঙ্কুরিত ‘শাখাটির’ নামকরণ 500 বছর পূর্বে করা হয়েছিল I
সকলের জন্য কষ্টভোগী দাসদৈববাণী বর্ণনা করে কিভাবে এই ব্যক্তি সমস্ত মানবজাতির সেবা করেন I
পবিত্র সাত সমূহে আগমনদৈববাণী বলে কখন তিনি আসবেন যাকে সাত চক্রের মধ্যে দেওয়া হয়েছে I
জন্ম সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণীকুমারী জন্ম এবং জন্ম স্থান তাঁর জন্মের বহু পূর্বে প্রকাশিত  হয়েছিল I
উৎসব এবং দৈববাণী সমূহ নৃত্যের মধ্যে মুদ্রার ন্যায় যীশুর দিকে সংকেত দেয় 

নৃত্যে হাত এবং পা এবং ধড়ের বড় গতিবিধি রয়েছে, তবে এই গতিবিধিগুলিকে কৌতহলযুক্ত করে তুলতে হাত এবং আঙ্গুলগুলিকেও ব্যবহার করা হয় I আমরা হাত এবং অঙ্গুলিগুলির এই বিভিন্ন ভঙ্গিমাকে মুদ্রা বলি I এই দৈববাণী এবং উৎসবগুলি স্বর্গীয় নৃত্যের মুদ্রার মতন I ‘নাট্য শাস্ত্র’ যেমন নৃত্যের বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছে, তেমনি ঈশ্বর ছন্দের গতিতে চলে রসের প্রমোদের বাইরে আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন I        

আমাদের আমন্ত্রণ

ঈশ্বর আমাদের তাঁর নৃত্যে যোগ দিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন I ভক্তির নিরিখে আমরা আমাদের প্রতিক্রিয়া বুঝতে পারি I 

তিনি আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রবেশ করতে তাঁর প্রেমের মধ্যে যা রাম এবং সীতার মধ্যেকার মতন গভীর I  

এখানে বুঝতে পারি যীশুর দ্বারা প্রদত্ত অনন্ত জীবনের উপহার কিভাবে পাওয়া যায় I

শয়তানের দ্বারা যীশু প্রলোভিত হন – সেই প্রাচীন অসুর সর্প

হিন্দু পুরাণ সময়ের বিবরণ দেয় যখন কৃষ্ণ শত্রু অসুরদের সঙ্গে লড়াই করে পরাজিত করল, বিশেষত অসুর রাক্ষসরা কৃষ্ণকে সর্প রূপে ভয় দেখাচ্ছিল I ভাগবদ পুরাণ (শ্রীমদ্ভগবদ) গল্পটির বিবরণ দেয় যখন কংসের যে কৃষ্ণের জন্ম থেকে তাকে হত্যা করতে চেষ্টা করছিল এক মিত্র অঘাসুর এমন এক বৃহৎ সর্পের রূপ ধারণ করত যে যখন সে মুখ খুলত তখন এটি এক গুহার সাদৃশ্য হত I অঘাসুর পুতানার (যাকে কৃষ্ণ শিশু হয়ে তার থেকে বিষ চোষার সময়ে হত্যা করেছিল) ভাই এবং বকাসুর (যাকে কৃষ্ণ আবারও তার চঞ্চু ভেঙ্গে হত্যা করেছিল) আর এইরূপে প্রতিশোধ চেয়েছিল I অঘাসুর মুখ খুলল আর গোপী রাখাল বালকরা এটিকে জঙ্গলের মধ্যে এক গুহা ভেবে এর মধ্যে প্রবেশ করল I কৃষ্ণও এর মধ্যে গেলেন তবে এটিকে বকাসুর উপলব্ধি করে তিনি যতক্ষণ বকাসুর শ্বাস রুদ্ধ হয়ে মারা না যায় ততক্ষণ অবধি তার শরীর প্রসারিত করে রাখলেন I আর একটি ঘটনায়, জনপ্রিয় প্রদর্শনী শ্রী কৃষ্ণতে শক্তিশালী অসুর সর্প কালিয়ানাগকে নদীর মধ্যে তার সঙ্গে লড়াইয়ের সময়ে তার মাথার উপরে নৃত্য করে পরাজিত করলেন I           

পুরাণ আবারও অশুর নেতা এবং শক্তিশালী সর্প/রাক্ষস বৃত্রের বর্ণনা করে I ঋক বেদ ব্যাখ্যা করে যে দেবতা ইন্দ্র এক প্রচন্ড যুদ্ধে বৃত্রের সম্মুখীন হয়েছিল এবং তার বজ্রের (বজ্রযুদ্ধ) সাহায্যে তাকে হত্যা করেছিল, যা বৃত্রের চোয়াল ভেঙ্গে দিয়েছিল I ভাগবদ পুরাণের সংস্করণ ব্যাখ্যা করে যে বৃত্র এমন ধরণের এক বৃহৎ সর্প/রাক্ষস ছিল যে সে সমস্তকিছুকে ঢেকে ফেলত, এমনকি গ্রহ  এবং নক্ষত্রদের বিপদে ফেলত যাতে প্রত্যেকে তাকে ভয় পেত I বৃত্র দেবতাদের সঙ্গে যুদ্ধে আধিপত্য লাভ করেছিল I ইন্দ্র শক্তিতে তাকে পরাজিত করতে পারে নি, তবে ঋষি দধীচির হাড় চাওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল I দধীচি তার হাড়কে বজ্রযুদ্ধে পরিনত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন যা ইন্দ্রকে অবশেষে  বিশাল সর্প বৃত্রকে পরাজিত এবং হত্যা করতে অনুমতি দিল I

হিব্রু বেদের শয়তান: সুন্দর আত্মা মারাত্মক সর্পে পরিনত হয়  

হিব্রু বেদ আবারও লিপিবদ্ধ করে যে একটি শক্তিশালী আত্মা আছে যে নিজেকে সর্বোচ্চ ঈশ্বরের এক প্রতিদ্বন্দী (শয়তান মানে ‘প্রতিদ্বন্দী’) রূপে স্থাপন করেছে I হিব্রু বেদ তাকে সুন্দর এবং বুদ্ধিমান হিসাবে বর্ণনা করেছে, প্রারম্ভে তাকে এক দেবতা রূপে সৃষ্টি করা হয়েছিল I এই বর্ণনাটিকে দেওয়া হয়েছে:   

12 “মনুষ্যসন্তান, সোরের রাজাকে নিয়ে এই শোকের গানটা গাও| তাকে বল, “প্রভু আমার সদাপ্রভু এই কথাগুলি বলেছেন:“‘তুমি এক জন আদর্শবান লোক ছিলে, প্রজ্ঞায পূর্ণ ও সর্বাঙ্গ সুন্দর|
13 তুমি ঈশ্বরের উদ্য়ান এদনে ছিলে| তোমার কাছে সব ধরণের মূল্যবান পাথর- চুনি, পীতমনি, হীরে, বৈদুর্য়্য়মণি গোমেদক সূর্য়কান্ত, নীলকান্ত, হরিম্মণি ও মরকত ছিল| প্রতিটি পাথরই স্বর্নখচিত ছিল| তোমার সৃষ্টির দিনে তুমি ঐ সৌন্দর্য়্য়ে ভূষিত হয়েছিলে|
14 আমি বিশেষ ভাবে তোমার জন্যই একজন করূবকে তোমার একজন অভিভাবক হিসেবে নিযুক্ত করেছিলাম| আমি তোমাকে ঈশ্বরের পবিত্র পর্বতের ওপর স্থাপন করেছিলাম| আগুনের মত চকচকে ঐ মণি মানিক্যের মধ্যে দিয়ে তুমি যাতায়াত করতে|
15 তোমাকে যখন সৃষ্টি করেছিলাম তখন তুমি ধার্মিক ও সত্‌ ছিলে| কিন্তু তারপর তোমার মধ্যে দুষ্টতা পাওয়া গেল|

যিহিষ্কেল 28:12b-15 

কেন এই শক্তিশালী দেবতার মধ্যে দুষ্টতা দেখা গিয়েছিল? হিব্রু বেদ ব্যাখ্যা কর

17 তোমার সৌন্দর্য়্য়ই তোমাকে গর্বিত করেছিল| তোমার গৌরবই তোমার প্রজ্ঞা নষ্ট করল তাই আমি তোমাকে মাটিতে আছাড় মারলাম| এখন অন্য রাজারা তোমার দিকে তাকিযে দেখে|

যিহিষ্কেল 28:17

এই দেবতার পতন আরও বর্ণনা করা হয়:

12 তুমি সকালের তারার মতো ছিলে| কিন্তু এখন তোমার আকাশ থেকে পতন হয়েছে| একদা পৃথিবীর সমস্ত জাতি তোমার সামনে মাথা নত করেছে| কিন্তু এখন তোমাকে কেটে ফেলা হয়েছে|
13 তুমি সর্বদা নিজেকে বলতে: “আমি হব পরাত্‌পরের মতো| আমি স্বর্গারোহণ করব| ঈশ্বরের নক্ষত্রমণ্ডলীর উর্দ্ধে আমার সিংহাসন উন্নীত করব| আমি পবিত্র দেবতাদের সমাগম পর্বতে অধিষ্ঠান করব| ঐ পর্বতের ওপর দেবতাদের সঙ্গে আমার সাক্ষাত হবে|
14 আমি মেঘের বেদীতে উঠব| আমি পরাত্‌পরের তুল্য হব|”

যিশাইয় 14:12-14

শয়তান এখন

এই শক্তিশালী আত্মাকে এখন শয়তান (মানে ‘ফরিয়াদী’) বা ডেভিল  বলা হয় তবে প্রথম থেকে তাকে লুসিফার বলা হত – ‘ঊষার পুত্র’ i হিব্রু বেদ বলে সে একটি আত্মা, এক মন্দ অসুর, তবে অঘাসুর এবং বৃত্রের মতন তাকে এক সর্প বা রাক্ষসের রূপ ধারণকারী হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে I এইভাবেই পৃথিবীতে তার নিক্ষেপ ঘটেছিল:   

7 এরপর স্বর্গে এক যুদ্ধ বেধে গেল৷ মীখায়েল ও তার অধীনে অন্যান্য স্বর্গদূতরা সেই নাগের সঙ্গে যুদ্ধ করল৷ সেই নাগও তার অপদূতদের সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধ করতে লাগল;
8 কিন্তু সাপ যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল না, তাই তারা স্বর্গের স্থান হারালো৷
9 সেই বিরাট নাগকে স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে ছুঁড়ে ফেলা হল৷ এই বিরাট নাগ হল সেই পুরানো নাগ যাকে দিয়াবল বা শয়তান বলা হয়, সে সমগ্র জগতকে ভ্রান্ত পথে নিয়ে যায়৷ সেই নাগ ও তার সঙ্গী অপদূতদের পৃথিবীতে ছুঁড়ে ফেলা

হল৷প্রকাশিত বাক্য 12:7-9  

শয়তান এখন প্রধান অশুর যে পুরো পৃথিবীকে বিপথে চালিত করে’ I আসলে, এক সর্পের রূপে, যে প্রথম মানবজাতিকে পপের কাছে নিয়ে এসেছিল I এটি স্বর্গে সত্যের যুগ, সত্য যুগকে শেষ করেছিল I  

শয়তান তার মূল বুদ্ধিমত্তা এবং সৌন্দর্যের কোনো কিছুকে হারায় নি, যা তাকে অধিকতর বিপজ্জনক করে তোলে যেহেতু সে চেহারার পেছনে তার প্রতারণাকে ভালভাবে লুকোতে পারে I বাইবেল বর্ণনা দেয় কীভাবে সে কার্য করে:

আর এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই, কারণ শয়তান নিজেই আলোর দেবদূত হয়ে মাস্ক্রেড করে2

করিন্থীয়ান 11:14

যীশু শয়তানের সঙ্গে যুদ্ধ করেন

যীশুকে এই প্রতিদ্বন্দীর সম্মুখীন হতে হয়েছিল I যোহনের দ্বারা বাপ্তাইজ হওয়ার ঠিক পরে তিনি বাণপ্রস্থ গ্রহণ করে জঙ্গলে প্রবেশ করলেন I তবে তিনি অবসর নিতে এইরকম করেন নি, কিন্তু যুদ্ধে তার প্রতিদ্বন্দীর সম্মুখীন হতে I এই যুদ্ধ শারীরিক ছিল না যেমনটি কৃষ্ণ এবং অঘাসুর বা ইন্দ্র ও বৃত্রের মধ্যে বর্ণিত হয়েছিল, কিন্তু প্রলোভনের এক যুদ্ধ I সুসমাচার এইভাবে এটিকে লিপিবদ্ধ করে: 

রপর যীশু পবিত্র আত্মায় পূর্ণ হয়ে যর্দন নদী থেকে ফিরে এলেন: আর আত্মার পরিচালনায় প্রান্তরের মধ্যে গেলেন৷
2 সেখানে চল্লিশ দিন ধরে দিযাবল তাঁকে প্রলোভনে ফেলতে চাইল৷ সেই সময় তিনি কিছুই খাদ্য গ্রহণ করেন নি৷ ঐ সময় পার হয়ে গেলে যীশুর খিদে পেল৷
3 তখন দিযাবল তাঁকে বলল, ‘তুমি যদি ঈশ্বরের পুত্র হও, তবে এই পাথরটিকে রুটি হয়ে য়েতে বল৷’
4 এর উত্তরে যীশু তাকে বললেন, ‘শাস্ত্রে লেখা আছে: ‘মানুষ কেবল রুটিতেই বাঁচে না৷” দ্বিতীয় বিবরণ 8:3
5 এরপর দিযাবল তাঁকে একটা উঁচু জায়গায় নিয়ে গেল আর মুহূর্তের মধ্যে জগতের সমস্ত রাজ্য দেখাল৷
6 দিযাবল যীশুকে বলল, ‘এই সব রাজ্যের পরাক্রম ও মহিমা আমি তোমায় দেব, কারণ এই সমস্তই আমাকে দেওযা হয়েছে, আর আমি যাকে চাই তাকেই এসব দিতে পারি৷
7 এখন তুমি যদি আমার উপাসনা কর তবে এসবই তোমার হবে৷’
8 এর উত্তরে যীশু তাকে বললেন, ‘শাস্ত্রে লেখা আছে:‘তুমি কেবল তোমার প্রভু ঈশ্বরকেই উপাসনা করবে, কেবল তাঁরই সেবা করবে!’দ্বিতীয় বিবরণ 6:13
9 এরপর দিযাবল তাঁকে জেরুশালেমে নিয়ে গিয়ে মন্দিরের চূড়ার ওপরে দাঁড় করিয়ে বলল, ‘তুমি যদি ঈশ্বরের পুত্র হও, তবে এখান থেকে লাফ দিয়ে নীচে পড়৷
10 কারণ শাস্ত্রে লেখা আছে:‘ঈশ্বর তাঁর স্বর্গদূতদের তোমার বিষয়ে আদেশ দেবেন য়েন তারা তোমাকে রক্ষা করে৷’ গীতসংহিতা 91 : 11
11 আরো লেখা আছে:‘তারা তোমাকে তাদের হাতে করে তুলে ধরবে য়েন তোমার পায়ে পাথরের আঘাত না লাগে৷” গীতসংহিতা 91 :12
12 এর উত্তরে যীশু তাকে বললেন, ‘শাস্ত্রে একথাও বলা হয়েছে:‘তুমি তোমার প্রভু ঈশ্বরের পরীক্ষা করো না৷” দ্বিতীয় বিবরণ 6:16
13 এইভাবে দিযাবল তাঁকে সমস্ত রকমের প্রলোভনে ফেলার চেষ্টা করে, আরো ভাল সুয়োগের অপেক্ষায় যীশুকে ছেড়ে চলে

গেল৷লুক: 4:1-13 

তাদের সংগ্রাম মানবীয় ইতিহাসের প্রারম্ভে শুরু হয়েছিল I এটি শিশু যীশুকে হত্যা করার প্রচেষ্টার মাধ্যমে যীশুর জন্মে পুনর্নবীকরণ করেছিল I যুদ্ধের এই দফায়, যীশু বিজয়ী প্রমাণিত হয়েছিলেন, শয়তানকে শারীরিকভাবে পরাজিত করার কারণে নয়, বরং তিনি তার সম্মুখে শয়তানের রাখা সমস্ত শক্তিশালী প্রলোভনগুলোকে প্রতিরোধ করেছিলেন সেই কারণে I এই দুজনের মধ্যে লড়াই সামনের মাসগুলোতে চলতে থাকত, সেই সর্পের দ্বারা ‘পাদমূল আঘাত করে’ এবং যীশুর দ্বারা ‘মস্তক চুর্ণ করে’ শেষ হত I তবে তার পূর্বে যীশুকে অন্ধকার মেটানোর শিক্ষা দিতে গুরুর ভূমিকা পালন করতে ছিল I     

যীশু – এমন কেউ যিনি আমাদের বোঝেন

যীশুর প্রলোভন এবং পরীক্ষার সময়কাল আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ I যীশুর সম্বন্ধে বাইবেল ব্যক্ত করে যে: 

18 যীশু নিজে পরীক্ষা ও দুঃখভোগের মধ্য দিয়ে গেছেন বলে যাঁরা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তাদের যীশু সাহায্য করতে

পারেন৷হিব্রু 2:18

এবং

15 আমাদের মহাযাজক যীশু আমাদের দুর্বলতার কথা জানেন৷ যীশু এই পৃথিবীতে সবরকমভাবে প্রলোভিত হয়েছিলেন৷ আমরা য়েভাবে পরীক্ষিত হই যীশু সেইভাবেই পরীক্ষিত হয়েছিলেন, কিন্তু তিনি কখনও পাপ করেন নি৷
16 সেইজন্যে বিশ্বাসে ভর করে করুণা সিংহাসনের সামনে এসো, যাতে আমাদের প্রযোজনে আমরা দয়া ও অনুগ্রহ পেতে

পারি৷হিব্রু 4:15-16

হিব্রু দূর্গা পূজা, ইয়োম কিপ্পুরে, মহা যাজক বলিদানগুলো নিয়ে আসতেন যাতে ইস্রায়েলীয়রা ক্ষমা পেতে পারে I এখন যীশু একজন যাজক হয়েছেন যিনি সহানুভূতি প্রকাশ করতে পারেন এবং আমাদের বুঝতে পারেন – এমনকি আমাদের প্রলোভনের মধ্যে সাহায্য করতে পারেন, স্পষ্টতই তিনি স্বয়ং প্রলুব্ধ হয়েছিলেন – তথাপি পাপ ছাড়া I আমরা সর্বোচ্চ ঈশ্বরের সামনে আস্থা রাখতে পারি কারণ মহা যাজক আমাদের অত্যন্ত কঠিন প্রলোভন সমূহের মধ্য দিয়ে অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন I তিনি এমন একজন যিনি আমাদের বোঝেন এবং আমাদের নিজস্ব প্রলোভন এবং পাপ সমেত আমাদের সাহায্য করতে পারেন I প্রশ্ন হল: আমরা কি তাঁকে করতে দেব?