পুরুষার বলিদান : সমস্ত জিনিসের উৎপত্তি

পদ 3 এবং 4 এর পরে পুরুষাশুক্তা এর ফোকাসকে পুরুষার গুণাবলীর থেকে পুরুষার বলিদানে পরিবর্তন করে I পদ 6 এবং 7 এটিকে নিম্নলিখিত উপায়ে করে I (সংস্কৃত অক্ষরীকরণ, এবং পুরুষাশুক্তর উপরে আমার অনেক চিন্তাধারা, যোষেফ পাদিনজারেকারা লিখিত ক্রাইষ্ট ইন দি এনসিয়েন্ট বেদাস বইয়ের অধ্যয়ন থেকে এসেছে (346 পৃষ্ঠা 2007)

পুরুষাশুক্তর মধ্যে পদ 6-7

বাংলা অনুবাদ সংস্কৃত অক্ষরীকরণ
দেবতারা যখন পুরুষাকে একটি নৈবেদ্য রূপে বলি উৎসর্গ করলেন, তখন বসন্ত এর দ্রবীভূত মাখনে, গ্রীষ্ম এর জ্বালানিতে, এবং শরৎ এর নৈবেদ্যে পরিণত হল I তারা আদিতে বলিরূপী জন্মানো পুরুষাকে শুষ্ক তৃণের মধ্যে ছিটিয়ে দিল I দেবতারা, সাধ্যরা, এবং ভবিষ্যদদর্শীরা তাঁকে জীবন্ত বলি রূপে উৎসর্গ করলেন I  যাতপুরুসেনা হাবিসা দেবা জ্ঞানম অতনবাতা বাসান্ত আস্যাসিদ অজ্যম গ্রিস্মা ইধ্মাহ: সরদ্ধাবিহ: তাম জ্ঞানম বারহিসি প্রৌক্ষম পুরুষম যতমগ্রাতাহ: তেনা দেবা অজ্ঞানতা সাধ্যা রসব্যাস চ ইয়ে 

যদিও সবটা সোজাসুজিভাবে স্পষ্ট নয়, কিন্তু যেটা স্পষ্ট তা হল যে ফোকাস পুরুষার বলিদানের উপর I প্রাচীন বৈদিক টীকাকার শংকারাচার্যর এই মন্তব্যটি ছিল: 

“ঋষিগণ – সাধু ও দেবতাগণ – বলিসংক্রান্ত শিকার পুরুষাকে, এক বলিসংক্রান্ত পশু রূপে একটি বলিসংক্রান্ত খুঁটির সাথে আবদ্ধ করলেন, এবং তাদের মনের দ্বারা একটি বলিদানের মধ্যে তাঁকে উৎসর্গ করলেন”

ঋক বেদের উপরে শংকারাচার্যর ভাষ্য 10.90.7      

পদ 8-9 “তস্মাদ্যজ্ঞাস্তর্বহুত:…” বাক্যাংশ দিয়ে আরম্ভ হয় যার অর্থ হল যে তাঁর বলিদানে পুরুষা তাঁর সমস্ত কিছুকে উৎসর্গ করলেন  – তিনি কিছুই রেখে দিলেন না I এটি পুরুষার প্রেমকে প্রদর্শিত করেছিল যা তিনি তাঁর বলিদানের মধ্য দিয়ে দিয়েছিলেন I এটি একমাত্র প্রেম যার সাথে আমরা নিজেদেরকে সম্পূর্ণরূপে অন্যদের দিতে পারি এবং কিছুই রেখে দিই না I যেমনটি যেশু সৎসংগ (যীশু খ্রীষ্ট) বেদ পুস্তকমের মধ্যে (বাইবেল) বললেন       

“ইহা অপেক্ষা অধিক প্রেম আর কাহারও নেই: কেহ যে আপন বন্ধুদের নিমিত্ত নিজ প্রাণ সমর্পণ করে”

যোহন 15:13

যেশু সৎসংগ (যীশু খ্রীষ্ট) এটি বললেন যেন তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে ক্রুশের বলিদানে নিজেকে সমর্পণ করছিলেন I পুরুষার সঙ্গে যেশু সৎসংগের ঐ বলিদানের মধ্যে কোনো সংযোগ আছে কি? পুরুষাসুক্তার পদ 5 (যেটিকে আমরা এখনও পর্যন্ত বাদ দিয়ে এসেছি) একটি সুত্র প্রদান করে  –  কিন্তু সূত্রটি রহস্যজনক I এখানে পদ 5টি আছে   

পুরুষাসুক্তার পদ 5

বাংলা অনুয়াদ সংস্কৃত অক্ষরীকরণ
তার থেকে  – পুরুষার একটি অংশ থেকে  – ব্রহ্মান্ডর সৃষ্টি হল এবং এটিকে পুরুষার সিংহাসন করা হল এবং তিনি সর্বব্যাপী হলেন তস্মাদ বিরলাজায়াতা বিরাজ অধি পুরুষ: সা জাত অত্যারিচিয়াতা পশ্চাদভুমিম অর্থ পুরাহ:

পুরুষাসুক্তা অনুসারে, পুরুষাকে সময়ের প্রারম্ভে বলিদান করা হয়েছিল এবং এর পরিণামস্বরূপ ব্রহ্মান্ডর সৃষ্টি হয়েছিল I এইরূপে এই বলিদানকে পৃথিবীর উপরে উৎসর্গ করতে পারা যায় নি কারণ বলিদান তাই ছিল যা পৃথিবীকে এগিয়ে  নিয়ে এসেছিল I পদ 13 স্পষ্টরূপে দেখায় এই সৃষ্টি পুরুষার বলিদানের থেকে বার হয়ে আসছে I এটি বলে

পুরুষাসুক্তার পদ 13

বাংলা অনুবাদ সংস্কৃত অক্ষরীকরণ
চাঁদ তাঁর মুখের থেকে জন্মেছিল I সূর্য তাঁর চোখের থেকে বেরিয়েছিল I বিদ্যুত, বৃষ্টি এবং অগ্নি তার মুখ থেকে উৎপন্ন হয়েছিল I তাঁর নিঃস্বাস থেকে বায়ুর জন্ম হয়েছিল I   চন্দ্রমা মনসো জাতশ্চক্ষো সূর্য আজায়তা মুখদ ইন্দ্রাশ্চ অগ্নিশ্চ প্রনাদ বায়ুর অযায়াতা

বেদা পুস্তকমের (বাইবেল) গভীর উপলব্ধির মধ্যে এর সবকিছু স্পষ্ট হয়ে উঠেছে I আমরা এটি দেখি যখন আমরা ঋষি (ভাববাদী) মীখার লেখা পড়ি I তিনি প্রায় 370 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ সময়কালে বাস করতেন এবং যদিও তিনি যীশু খ্রীষ্টের (যেশু সৎসংগ) আগমনের 750 বছর পূর্বে বাস করতেন তিনি আগে থেকেই তাঁর আগমনকে দেখেছিলেন সেই শহরের নাম উল্লেখ করে যে কোথায় তিন জন্মগ্রহণ করবেন I তিনি ভাববাণী বলেছিলেন:     

“আর তুমি হে বৈতলেহেম ইফ্রাথা,

যদিও তুমি য়িহূদার সহস্রগনের মধ্যে ক্ষুদ্রা,

তোমার থেকে আমার জন্য আসবেন

একজন যিনি ইস্রায়েলের উপর শাসন করবেন

যাঁর উৎপত্তি প্রাক্কাল থেকে,

অনাদিকালের সময় থেকে I   

মীখা 5:2

মীখা ভাববাণী করলেন যে শাসনকর্ত্তা (বা খ্রীষ্ট) বৈতলেহেমশহর থেকে  বের হয়ে আসবেন I 750 বছর পরে যীশু খ্রীষ্ট (যেশু সৎসংগ) এই দর্শনের পরিপূর্ণতায় বৈতলেহেমে জন্মগ্রহণ করলেন I সত্যের অন্বেষণকারীগণ মীখার দর্শনের এই বিশেষ দিকের উপরে সাধারণতঃ তাদের আশ্চর্যকে ফোকাস করেন I যাইহোক, এটিই একজনের এই আগমনের উৎপত্তির বিবরণ যার উপর আমাদের ফোকাস করার প্রয়োজন I মীখা ভবিষ্যতের আগমন সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করেন, কিন্তু তিনি বলেন যে একজনের এই আগমনের উৎপত্তি অতীতের গভীরে নিহিত রয়েছে I তাঁর ‘উৎপত্তি প্রাক্কাল থেকে’ I একজনের এই আগমনের উৎপত্তি পৃথিবীর উপরে তাঁর আবির্ভাবের পূর্বেই দিন স্থির করে রাখে! কত পেছনে ‘… অথবা প্রাক্কালে’ যায়? এটি ‘অনন্তকালীন সময়’ এর দিকে যায় I বেদা পুস্তকমের (বাইবেল) সত্য প্রজ্ঞার অন্য কথাগুলো এটিকে আরও প্রাঞ্জল করে I কলসীয় 1:15 এর মধ্যে ভাববাদী  পৌল (যিনি প্রায় খ্রীষ্টাব্দ 50 এ লিখেছিলেন) যেশু (যীশু) সম্পর্কে ঘোষণা করেছিলেন যে:        

ইনিই অদৃশ্য ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি, সমুদয় সৃষ্টির প্রথমজাত I

কলসীয় 1: 15

যেশুকে ‘অদৃশ্য ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি’ হতে ঘোষণা করা হয় এবং ‘সমুদয় সৃষ্টির প্রথমজাত I’ অন্য কথায়, যদিও যেশুর অবতার ইতিহাসের একটি যথাযথ সময়ে হয়েছিল (4 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ – 33 খীষ্টাব্দ), কোনো কিছু সৃষ্টি হওয়ার পূর্বেই তিনি বিরাজমান ছিলেন  –  এমনকি অনন্তকালীন অতীত পর্যন্ত I তিনি এইরকম করলেন কারণ ঈশ্বর (প্রজাপতি) সর্বদা অনন্তকালীন অতীতে বিরাজমান রয়েছেন, এবং তাঁর ‘প্রতিমূর্তি’ হয়ে যীশু (যেশু সৎসংগ) সর্বদা বিদ্যমান হয়ে থেকেছেন I    

পৃথিবীর সৃষ্টি থেকে বলিদান সমস্ত কিছুর উৎপত্তি 

কিন্তু না কেবল তিনি অনন্তকালীন অতীত থেকে বিদ্যমান রয়েছেন, সাধু (ভাববাদী) যোহন স্বর্গের এক দর্শনে দেখলেন এই যীশুকে (যেশু সৎসংগ) চিত্রিত করা হয়েছে 

 “…জগৎপত্তনের সময় অবধি হত মেষশাবক রূপে”) 

প্রকাশিত বাক্য 13:8

এটি কি অসঙ্গতি? যীশু (যেশু সৎসংগ) কি 33 খ্রীষ্টাব্দে হত হন নি? যদি তিনি হত হয়ে থাকেন তবে, তিনি কিভাবে ‘জগতের সৃষ্টি’ থেকে আবারও হত হয়ে থাকতে পারেন? এটিকে এই কূটাভাসের মধ্যে আমরা দেখি যে পুরুষাসুক্তা এবং বেদা পুস্তকম একই জিনিসকে বর্ণনা করছে I আমরা দেখলাম যে বলে যে পুরুষা:র বলিদান ‘প্রারম্ভে; ছিল I যোষেফ পাদিনজারেকারা তার ক্রাইষ্ট ইন দি বেদাস  বইতে ইঙ্গিত দেন যে পুরুষাসুক্তার উপর সংস্কৃত ভাষ্য আমাদের বলে যে পুরুষার এই বলিদান প্রারম্ভে ‘ঈশ্বরের হৃদয়ে’ ছিল (তিনি এটিকে সংস্কৃতের ‘মনোসয়াগম’ এর অর্থ রূপে অনুবাদ করেছেন) I এছাড়াও তিনি সংস্কৃত পন্ডিত এন জে শেনদের উল্লেখ করেছেন যিনি বলেন যে প্রারম্ভের এই বলিদান একটি “মানসিক বা প্রতীকাত্মক একটি” * ছিল I     

সুতরাং এখন পুরুষাসুক্তার রহস্য স্পষ্ট হয় I পুরুষা ঈশ্বর এবং অনন্তকালীন থেকে ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি ছিলেন I তিনি অন্য কোনো কিছুর পূর্বে ছিলেন I তিনি সমুদয়ের প্রথম জাত হন I ঈশ্বর, তাঁর সর্বজ্ঞানের মধ্যে জানতেন যে মানবজাতির সৃষ্টির একটি বলিদানের প্রয়োজন হবে – যার সমস্ত কিছুর দরকার হবে যা সে দিতে পারত – জগতের মধ্যে পুরুষার অবতারকে পাপ থেকে ধৌত বা শুদ্ধিকরণ রূপে বলি হতে হবে I এটি এই বিন্দুতে ছিল যে ঈশ্বরকে নির্ণয় করতে হত তিনি ব্রহ্মাণ্ড এবং মানব জাতির সৃষ্টি করতে অগ্রসর হবেন কি  না I সেই নির্ণয়ের মধ্যে পুরুষা বলি হতে ইচ্ছুক হলেন, এবং সৃষ্টি এগিয়ে  গেল I সুতরাং মানসিকভাবে, অথবা ঈশ্বরের হৃদয়ে, পুরুষা ‘জগৎপত্তনের থেকে হত হলেন’ যেমনটি বেদ পুস্তকম ঘোষণা করে I  

একবার যখন ওই নির্ণয় গ্রহণ করা হল  – এমনকি সময় আরম্ভ হওয়ার পূর্বে  – ঈশ্বর (প্রজাপতি  – সমস্ত সৃষ্টির প্রভু) ব্রহ্মান্ড এবং মানবজাতির সৃষ্টির সময় স্থির করলেন I এইরূপে পুরুষার ইচ্ছাকৃত বলিদান ‘ব্রহ্মান্ডর সৃষ্টি হওয়ার’ কারণ হল (পদ 5), চাঁদ, সূর্য, বিদ্যুত এবং বৃষ্টি (পদ 13) সৃষ্টি হল, এমনকি সময় স্বয়ং ( বসন্ত, গ্রীষ্ম এবং শরৎ 6 পদে উল্লিখিত) আরম্ভ হল I পুরুষা এই সমুদয়ের মধ্যে প্রথম জাত ছিল I 

‘ঈশ্বরগণ’ কারা যারা পুরুষাকে বলি দিল?

কিন্তু একটি ধাঁধা অবশিষ্ট থেকে যায় I পুরুষাসুক্তার পদ 6 বলে যে ‘ঈশ্বররা’ (দেবতারা) পুরুষাকে বলি দিলেন? এই ঈশ্বররা কারা? বেদ পুস্তকম (বাইবেল) এটিকে ব্যাখ্যা করে I ভাববাদীদের মধ্যে একজন দায়ূদ 1000 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে একটি পবিত্র স্ত্রোত লিখলেন যা প্রকাশ করল ঈশ্বর (প্রজাপতি) পুরুষ এবং নারী সম্পর্কে কিভাবে বললেন:   

 “আমি বলিয়াছি, ‘তোমরা “ঈশ্বরগণ”; তোমরা সকলে পরাৎপরের সন্তান I’   

গীত সংহিতা 82:6

যেশু সৎসংগ (যীশু খ্রীষ্ট) 1000 বছর পরে ভাববাদী দায়ূদ দ্বারা কথিত এই পবিত্র স্ত্রোতের উপরে মন্তব্য করলেন এই বলে:

যীশু তাদের উত্তর দিলেন, “তোমাদের ব্যবস্থায় এটি কি লেখা নেই, ‘আমি বলিলাম তোমরা ‘ঈশ্বর,’ যদি তিনি তাদেরকে ‘ঈশ্বর’ বলে ডেকে থাকেন, যাদের উপরে ঈশ্বরের বাক্য এসেছিল—আর শাস্ত্রকে খন্ডন করা যায় না—তবে যাকে পিতা পবিত্র করলেন ও জগতে পাঠালেন তাঁর সম্বন্ধে কি বল?

যোহন 10:34-36

যেশু সৎসংগ (যীশু খ্রীষ্ট) ভাববাদী দায়ূদের দ্বারা ‘ঈশ্বর’ পরিভাষার ব্যবহারকে প্রকৃত শাস্ত্র বাক্য বলে অনুমোদন করেন I  কি ভাবে এটি তাই হয়? আমরা বেদা পুস্তকমের মধ্যে সৃষ্টির বিবরণের মধ্যে দেখি যে আমাদেরকে ‘ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্টি করা হয়েছে’ (আদিপুস্তক 1:27) I সুতরাং কিছু অর্থে আমাদেরকে ‘ঈশ্বর’ বলে বিবেচনা করা যেতে পারে কারণ আমাদেরকে ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্টি করা হয়েছে I কিন্তু বেদা পুস্তকম আরও ব্যাখ্যা করে I এটি ঘোষণা করে যে যারা পুরুষার এই বলিদানকে স্বীকার করে তারা হয়:  

কেননা তিনি জগৎপত্তনের পূর্বে খ্রীষ্টে আমাদেরকে মনোনীত করেছিলেন, যেন আমরা তাঁর সাক্ষাতে পবিত্র ও নিষ্কলঙ্ক হই I প্রেমে তিনি যীশু খ্রীষ্ট দ্বারা নিজের দত্তকপুত্রের নিমিত্ত আমাদেকে তাঁর নিজের অনুগ্রহ ও ইচ্ছা অনুসারে, পূর্ব থেকে নিরূপিত করলেন,

ইফিষীয় 1:4-5

যখন প্রজাপতি-পুরুষা জগৎপত্তনের পূর্বে পুরুষাকে সিদ্ধ বলি রূপে উৎসর্গ করতে নির্ণয় নিলেন, ঈশ্বর লোকদেরকেও মনোনীত করলেন I কিসের জন্য তিনি তাদেরকে মনোনীত করলেন? এটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলে যে তিনি আমাদের তার ‘পুত্রগণ’ হতে মনোনীত করলেন I 

অন্য কথায় বেদা পুস্তকম (বাইবেল) ঘোষণা করে যে পুরুষ এবং নারীকে মনোনীত করা হয়েছিল যখন ঈশ্বর নিজেকে সম্পূর্ণভাবে সিদ্ধ বলিতে উৎসর্গ করে সমর্পণ করলেন যেন এই বলিদানের মাধ্যমে তিনি ঈশ্বরের সন্তান হতে পারেন I ওই সম্পূর্ণ অর্থে আমাদেরকে ‘ঈশ্বরগণ’ বলা হয় I এটি তাদের পক্ষে সত্য (যেমনটি যেশু সৎসংগ উপরে ঘোষণা করেছে) ‘যাদের কাছে ঈশ্বরের বাক্য এলো’ – তাদের কাছে যারা তাঁর বলিদানকে স্বীকার করে I সেই অর্থে এটি ঈশ্বরের ভবিষ্যত পুত্রদের প্রয়োজন ছিল যা পুরুষাকে বলিদানে আবদ্ধ করল I পুরুষাসুক্ত পদ 6 যেমন বলে ‘দেবতারা পুরুষাকে এক নৈবেদ্য রূপে একটি বলি উৎসর্গ করলেন’ I পুরুষার বলিদান আমাদেরকে শুচিসুদ্ধ করার জন্য ছিল I

পুরুষার বলিদান স্বর্গে যাওয়ার পথ

সুতরাং প্রাচীন পুরুষাসুক্ত এবং বেদা পুস্তকমের প্রজ্ঞার মধ্যে আমরা ঈশ্বরের প্রকাশিত পরিকল্পনাকে দেখি I এটি একটি অদ্ভূত পরিকল্পনা এমন একটি যার আমরা কল্পনা করতে পারি না I এছাড়া এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ যেভাবে পুরুষাসুক্ত পদ 16 এর মধ্যে এটিকে সমাপ্ত করেছে 

বাংলা অনুবাদ সংস্কৃত অক্ষরীকরণ
দেবতারা পুরুষাকে বলি রূপে উৎসর্গ করলেন I এটি প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠিত  নীতি I এর মধ্য দিয়ে ঋষিরা স্বর্গ প্রাপ্ত করে  যজ্ঞেনং যজ্ঞমং যজন্ত দেবাস্তানি ধর্মাণি প্রথমান্যাংসন তেহ নাকম মহিমান: সচন্ত যত্র পূর্বে সাধ্যা: সন্তিদেবা:   

এক ঋষি একজন ‘জ্ঞানী’ ব্যক্তি I আর স্বর্গ প্রাপ্ত করার জন্য একটি প্রকৃত জ্ঞানকে অর্জন করার এটি একটি বিষয় I এটি আমাদের নাগালের বাইরে নয় I এটি অসম্ভব নয় I এটি কেবল পবিত্র লোকদের কঠোর তপস্যার জন্য নয় যারা প্রচন্ড শৃঙ্খলা এবং সাধনার মাধ্যমে মোক্ষ প্রাপ্ত করে I এটি কেবল গুরুদের জন্য নয় I বিপরীত দিকে এটি একটি পথ ছিল যাকে স্বয়ং পুরুষার দ্বারা তাঁর অবতারে প্রদত্ত হয়েছিল যেমন যীশু খ্রীষ্ট (যেশু সৎসংগ)     

পুরুষার বলিদান স্বর্গে যাওয়ার আর কোনো পথ নেই

আসলে না কেবল আমাদের জন্য এটিকে দেওয়া হয়েছে বরং পুরুষাসুক্তর 15 এবং 16 পদের উপরে শঙ্করাচার্যর সংস্কৃত ভাষ্য বলে  

বাংলা অনুবাদ সংস্কৃত অক্ষরীকরণ
এইরূপে, একজন যিনি জানেন এ মৃত্যুহীনতার অবস্থায় পৌঁছে যায় I এর জন্য আর কোনো উপায় জানা নেই তমেব বিদ্যানমৃত ইহ ভবতি নান্য: পন্থা অয়নায় বিদ্যতে

অনন্ত জীবনে (মৃত্যুহীনতা) পৌঁছনোর আর কোনো উপায় জানা নেই! নিশ্চিতরূপে এই বিষয়টিকে আরও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অধ্যয়ন করা বিচক্ষণ হয় I এপর্যন্ত আমরা বেদা পুস্তকমের (বাইবেল) মধ্য দিয়ে লাফিয়ে বেড়িয়েছি দেখাতে কিভাবে এটি ঈশ্বর, মানবজাতি ইবন বাস্তবতার নাগাল পাওয়ার একটি গল্পকে বলে যা পুরুষাসুক্তর কথার প্রতিধ্বনি করে I কিন্তু আমরা এই গল্পটিকে বিস্তারিতভাবে দেখি নি অথবা ক্রম অনুসারে I তাই, আমরা আপনাকে আমন্ত্রণ জানাই বেদা পুস্তকমের মধ্যে আমাদের সাথে অন্বেষণ করতে প্রারম্ভ থেকে শুরু করে, সৃষ্টি সম্পর্কে জানতে, কি এমন ঘটল যার জন্য পুরুষার বলিদানের প্রয়োজন হল, জগতে কি এমন ঘটল যা মানুর বন্যা (বেদা পুস্তকমের মধ্যে নোহ) নিয়ে এলো এবং বিশ্বের জাতিগণ কিভাবে শিখল এবং প্রতিশ্রুতিকে সংরক্ষিত করে রাখল যে সিদ্ধ বলিদান তাদেরকে মৃত্যু থেকে মুক্তি দেবে এবং স্বর্গে অনন্ত জীবন দান করবে I নিশ্চিতভাবে এটি এমনকিছু যা জানার যোগ্য I     

*(এন যে শিন্দে I দি পুরুষাসুক্ত (আর ভি 10-90) বৈদিক সাহিত্যের মধ্যে (পাব্লিকেশন অফ দি সেন্টার অফ অ্যাডভান্সড স্টাডি ইন সংস্কৃত, ইউনিভার্সিটি অফ পূনা) 1965 I

পদ 3 এবং 4 – পুরুষার অবতার

পুরুষাশুক্ত পদ 2 থেকে নিম্নলিখিতগুলোকে নিয়ে চলতে থাকে I (সংস্কৃত অক্ষরীকরণ, এবং পুরুষাশুক্তর উপরে আমার অনেক চিন্তাধারা, যোষেফ পাদিনজারেকারা লিখিত ক্রাইষ্ট ইন দি এনসিয়েন্ট বেদাস বইয়ের অধ্যয়ন থেকে এসেছে (346 পৃষ্ঠা 2007)

বাংলা অনুবাদ  সংস্কৃত অক্ষরীকরণ
সৃষ্টি পুরুষার গৌরব – ততটা মহান  তার মহিমা I এখনও তিনি এই সৃষ্টির চেয়ে মহান I পুরুষার এক চতুর্থাংশ (ব্যক্তিত্ব) এই জগতের মথ্যে রয়েছে I তাঁর তিন চতুর্থাংশ এখনও অনন্তকালীন ধরে স্বর্গের মধ্যে বাস করছে I পূরুষা  নিজের তিন চতুর্থাংশের সাথে উর্দ্ধে উঠলেন I তাঁর এক চতুর্থাংশ এখানে জন্ম নিল I তার থেকে তিনি সমস্ত জীবন্ত সত্তার মধ্যে জীবন ব্যাপ্ত  করলেন I  এতাবান অস্য মহিমা অত জ্যায়ামশ্চ পুরুষ:পাদ-অস্য বিশ্বা ভূতানি ত্রিপাদ অস্যমর্তম দিবি ত্রিপাদ উর্ধবা উদাইত পুরুষা: পাদৌ-অস্যেহা অভাবত পুণঃ তাত বিস্বান্ন্বি অক্রামত সসাননাসানে অভি   

এখানে ব্যবহৃত চিত্রাবলীকে বোঝা মুস্কিল I যাইহোক, এটি স্পষ্ট যে এই পদগুলো পুরুষার মহানতা এবং মহিমার কথা বলছে I এটি খুব স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে যে তিনি সৃষ্টির চেয়ে মহান I এছাড়াও আমরা বুঝতে পারি যে তাঁর মহানতার কেবলমাত্র একটি অংশই এই জগতে প্রকাশিত হয়েছে I কিন্তু এটি এই জগতে আবারও তাঁর অবতারের কথা বলে – এক জগত লোক যেখানে আপনি এবং আমি বাস করি (‘তাঁর এক চতুর্থাংশ এখানে জন্ম নিল’) I তাই ঈশ্বর যখন তাঁর অবতাররূপে নিচে নেমে এলেন টিই এই জগতে তাঁর গৌরবের কেবলমাত্র এক অংশকেই প্রকাশিত করলেন I তিনি কোনভাবে নিজেকে শুন্য করলেন যখন তিন জন্মগ্রহণ করলেন I এটি পুরুষের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যেমনটি পদ 2 এর মধ্যে বর্ণনা করা হয়েছে – ‘নিজেকে 10 অঙ্গুলির মধ্যে সীমিত করেছেন’ I   

এছাড়াও এটি বেদ পুস্তকমের (বাইবেল) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যা নাসরতের যীশুর অবতারকে বর্ণনা করে I এটি তাঁর সম্বন্ধে বলে যে

আমার উদ্দেশ্য হল … তারা জ্ঞানের নিশ্চয়তারূপ সমস্ত ধনে ধনী হয়ে ওঠে যেন ঈশ্বরের নিগূঢ়তত্ত্ব, অর্থাৎ খ্রীষ্টকে জানতে পায়, যাঁর মধ্যে জ্ঞানের ও বিদ্যার সমস্ত নিধি গুপ্ত রয়েছে I

কলসীয় 2:2-3

অতএব খ্রীষ্ট ঈশ্বরের অবতার ছিলেন কিন্তু তার প্রকাশন মূলত ‘গুপ্ত’ ছিল I কিভাবে এটি গুপ্ত ছিল? এটি আরও ব্যাখ্যা করে:

ক্রীষ্ট যীশুতে যে ভাব ছিল, তা তোমাদের মধ্যেও হওয়া উচিত:

6 ঈশ্বরের স্বরূপবিশিষ্ট থাকতে তিনি ঈশ্বরের সাথে সমান ধরে নেওয়ার বিষয়ে জ্ঞান করলেন না,

7 কিন্তু নিজেকে শুন্য করলে, দাসের রূপ ধারণ করলেন, মনুষ্যের সাদৃশ্যে জন্মগ্রহণ করলেন I

8 এবং আকারে প্রকারে মনুষ্যবৎ প্রত্যক্ষ হলেন, নিজেকে অবনত করলেন

এবং মৃত্যু পর্যন্ত আজ্ঞাবহ হলেন—
এমনকি ক্রুশীয় মৃত্যু পর্যন্ত!

9 এই কারণে ঈশ্বর তাঁকে অতিশয় উচ্চে গৌরবান্বিত করলেন

এবং তাঁকে সেই নাম দান করলেন যা প্রত্যেক নাম অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ

ফিলিপীয় 2:5-9

অতএব যীশু তাঁর অবতারে ‘নিজেকে শুন্য করলেন’ এবং সেই অবস্থায় নিজেকে বলিদানের জন্য প্রস্তত করলেন I তাঁর প্রকাশিত গৌরব কেবলমাত্র আংশিক ছিল, ঠিক যেমনটি পুরুষাসুক্তা ব্যক্ত করে I এটি তাঁর আসন্ন বলিদানের কারণে ছিল I এই পদ সমূহের পরবর্তী সময় থেকে পুরুষাশুক্তা সেই একই ভাবকে অনুসরণ করে যা তাঁর বলিদানের উপরে ফোকাস করতে পুরুষার আংশিক গৌরবকে বর্ণনা করার থেকে ফিরে আসে I যেটিকে আমরা পরবর্তী পোস্টে দেখি I     

পদ 2 – পুরুষা অমরত্বর প্রভু

আমরা পুরুষাসুক্তর প্রথম পদে দেখলাম যে পুরুষা কে সর্বজ্ঞানী, সর্বশক্তিমান এবং সর্বব্যাপী রূপে বর্ণনা করা হয়েছে I আমরা তখন প্রশ্ন উত্থাপন করলাম পুরুষা কি যেশু সত্সংগ (যীশু খ্রীষ্ট) হতে পারে আর মনের মধ্যে এই প্রশ্ন নিয়ে পুরুষাসুক্তর মধ্য দিয়ে এক যাত্রা আরম্ভ করলাম I অতএব আমরা পুরুষাসুক্তর দ্বিতীয় পদে আসি যা মানুষ পুরুষাকে প্রত্যেক অস্বাভাবিক পরিভাষায় মানুষ পুরুষাকে বর্ণনা করতে থাকে I এখানে সংস্কৃত অক্ষরীকরণ এবং ইংরেজি অনুবাদ আছে (সংস্কৃত অক্ষরীকরণ সমূহ যোষেফ পাদিনজারেকারার দ্বারা লিখিত ক্রাইষ্ট ইন দি এনসিয়েন্ট বেদাস বইটির অধ্যয়নের থেকে এসেছে (পৃষ্ঠা 346. 2007)) I

পুরুশাসুক্তর দ্বিতীয় পদ
বাংলা অনুবাদ সংস্কৃত অক্ষরীকরণ
পুরুষা হচ্ছেন এই সমগ্র বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড, যা আছে এবং যা হবে I আর তিনি অমরত্বের প্রভু, যা তিনি খাদ্য বিনা প্রদান করেন [প্রাকৃতিক সারবস্তু] পুরুষা এভেদম সর্বম যাদভূতম যাচ্ছা ভব্যম উতামৃততভাস্যেসানো যাদান্নেনাতিরোহতি

পুরুষার গুণ সমূহ

পুরুষা বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডর থেকে শ্রেষ্ঠ (মহাশূণ্য এবং পদার্থর সামগ্রিক পরিধি) এবং প্রভুর সময় (‘যা হয়েছে এবং যা হবে’) তথা ‘অমরত্বের প্রভু’ – অনন্তকালীন জীবন I হিন্দু পুরাণে অনেক দেব-দেবী আছে কিন্তু কাউকেও এই ধরণের অসীম গুণ সমূহ দেওয়া হয় না I    

এইগুলো এইধরণের অদ্ভূত প্রেরণাদায়ক গুণ সমূহ যে সেগুলো কেবলমাত্র একজন প্রকৃত ঈশ্বরের কাছে থাকতে পারে – স্বয়ং সৃষ্টির প্রভু I ইনি ঋক বেদের প্রজপতি হবেন (পুরনো নিয়মের ইব্রীয়দের সদাপ্রভুর সঙ্গে সমার্থক) I এইরূপে, এই মানুষ, পুরুষাকে, এই এক ঈশ্বরের একজন অবতার রূপে একমাত্র বোঝা  যেতে পারে – সমস্ত সৃষ্টির প্রভু I  

বরং আমাদের জন্য এমনকি অধিক প্রাসঙ্গিক হল যে পুরুষা আমাদেরকে এই অমরত্ব (অনন্ত জীবন) ‘প্রদান করে’ I তিনি প্রাকৃতিক সারবস্তু ব্যবহার না করে এটি করেন, অর্থাৎ, তিনি অনন্ত জীবন অনুমোদন বা প্রদান করতে বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডর প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া সমূহ অথবা প্রাকৃতিক পদার্থ/শক্তি ব্যবহার করেন  না I আমরা সকলে মৃত্যু এবং কর্মের অভিশাপের অধীনে আছি I এটি আমাদের অস্তিত্বের নিষ্ফলতা যার থেকে আমরা রেহাই পেতে আকাঙ্খা করি এবং যার জন্য আমরা পূজা, স্নান, এবং অন্যান্য অভ্যাস সমূহ পালন করতে এত কঠিন পরিশ্রম করি I যদি সেখানে এমনকি একটু অল্পও সুযোগ থাকে যে এটি সত্য এবং যে পুরুষার কাছে অমরত্ব প্রদান করার ক্ষমতা এবং ইচ্ছা উভয়ই আছে এটি বিচক্ষণ হবে কমপক্ষে এই সম্বন্ধে আরও অধিক জ্ঞাত হওয়া I 

বেদা পুস্তকমের (বাইবেল) ভাববাদীদের তুলনা

এটিকে মনে রেখে আসুন আমরা মানবীয় ইতিহাসের প্রাচীনতম পবিত্র রচনাগুলোর মধ্যে অন্যতম একটিকে বিবেচনা করি I ইব্রীয় টেস্টামেন্টের (বাইবেল অথবা বেদা পুস্তকমে পুরনো নিয়ম বলা হয়) মধ্যে দেখা যায় ঋক বেদের মতন এই বইটিতে দৈববাণী, স্তোত্র, ইতিহাস এবং অনেক ভাববাদীদের ভাববাণীর সংগ্রহ আছে যারা যদিও দীর্ঘ সময় পূর্বে জন্মগ্রহণ করেছিল, তারা বাস করেছিল এবং ইতিহাসের বিভিন্ন যুগে লিখেছিল I সুতরাং একটি বইয়ের মধ্যে সংকলিত বিভিন্ন অনুপ্রাণিত রচনা সমূহের একটি সংগ্রহ বা লাইব্রেরি রূপে পুরনো নিয়ম সর্বোৎকৃষ্ট চিন্তাধারা I এই ভাববাদীদের সর্বাধিক রচনা সমূহ ইব্রীয় ছিল এবং এইরূপে তারা মহান ভাববাদী আব্রাহামের বংশধর ছিল যারা প্রায় 2000 খ্রীষ্ট পূর্বাব্দে বাস করত I যাইহোক, সেখানে ভাববাদী ইয়োবের দ্বারা লিখিত একটি রচনা আছে, যিনি আব্রাহামের পূর্বে বাস করতেন I তথাপি সেখানে কোন ইব্রীয় জাতি ছিল না যখন তিনি বাস করতেন I যারা ইয়োব পড়েছেন হিসাব করুন যে তিনি 2200 খ্রীষ্টাব্দে, 4000 বছর পূর্বে বাস করতেন I    

…ইয়োবের বইয়ের মধ্যে

তার পবিত্র বইয়ের মধ্যে, যাকে তার নামের উপরে ইয়োব বলা হয়, আমরা তাকে তার সঙ্গীদের নিম্নলিখিত কথা বলতে দেখি:

আমি জানি আমার মুক্তিকর্তা জীবিত,

আর তিনি শেষে ধুলির উপরে উঠে দাঁড়াবেন I

আর আমার চরম এইরূপে বিনষ্ট হলে পরে

তবু আমি মাংসবিহীন হয়ে ঈশ্বরকে দেখব;

আমি তাকে নিজে দেখব

আমার চক্ষু দিয়ে  – আমি এবং অন্য কেউ নয়,

আমার মধ্যে আমার হৃদয় ক্ষীণ হচ্ছে!(ইয়োব 19:25-27) 

ইয়োব 19:25-27

ইয়োব এক আসন্ন ‘মুক্তিদাতার’ কথা বলছেন I আমরা জানি যে ইয়োব ভবিষ্যতের দিকে দেখছেন কারণ মুতিদাতা পৃথিবীর উপরে ‘দাঁড়াবেন’ (অর্থাৎ ভবিষ্যৎ কালে) I কিন্তু এই মুক্তিদাতা এখনও বর্তমানে ‘জীবিত আছেন’ – যদিও পৃথিবীর উপরে নয় I অতএব এই মুক্তিদাতা, পুরুষাসুক্তর এই পদের মধ্যে পুরুষার মতন সময়ের প্রভু কারণ তাঁর অস্তিত্ব আমাদের মতন সময়ে আবদ্ধ নন I    

ইয়োব তখন ঘোষণা করেন যে ‘আমার চরম বিনষ্ট হয়েছে’ (অর্থাৎ তার মৃত্যুর পরে) তিনি ‘তাঁকে’ (এই মুক্তিদাতা) দেখবেন আর একই সময়ে ‘ঈশ্বরকে দেখবেন’ অন্য কথায় এই আসন্ন মুক্তিদাতা হলেন ঈশ্বরের অবতার, ঠিক যেমন প্রজাপতির অবতার হলেন পুরুষা I কিন্তু তার নিজের মৃত্যুর পরে ইয়োব কিভাবে তাঁকে দেখতে পারেন? আর সেটিকে নিশ্চিত করতে আমরা এই বিষয় থেকে লক্ষচ্যুত না হই যে ইয়োব ঘোষণা করেছেন যে ‘আমার নিজের চোখ দিয়ে’ – আমি অন্য আর কেউ নয় যে এই মুক্তিদাকে পৃথিবীর উপরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখবে I এর জন্য কেবলমাত্র ব্যাখ্যা হল যে এই মুক্তিদাতা ইয়োবকে অমরত্ব প্রদান করেছেন এবং তিনি সেই দিনের অপেক্ষা করছিলেন যখন এই মুক্তিদাতা, যিনি হলেন ঈশ্বর, পৃথিবীর উপরে চলছেন এবং ইয়োবকে অমরত্ব প্রদান করেছেন যাতে তিনিও পুনরায় পৃথিবীর উপরে চলছেন এবং মুক্তিদাতাকে তার চোখ দিয়ে দেখছেন I এই আশা ইয়োবকে এতটা বিমুগ্ধ করল যে এই দিনের অপেক্ষায় তার ‘হৃদয় তার মধ্যে ক্ষীণ হল’ I এটি একটি মন্ত্র ছিল যা তাকে রূপান্তর করল I       

…আর যিশাইয়

ইব্রীয় ভাববাদীও এক আসন্ন মানুষের কথা বলল যা পুরুষা এবং ইয়োবের মুতিদাতার এই বর্ণনার একদম অনুরূপ শোনায় I যিশাইয় এইরকমই একজন ভাববাদী ছিলেন যিনি আনুমানিক 750 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে বাস করতেন I তিনি স্বর্গীয় প্রেরণার অধীনে বিভিন্ন দৈববাণী লিখেছিলেন I এখানে তিনি এই মানুষটির আগমনের কথা যেভাবে বর্ণনা করলেন:  

তবুও, যারা চরম দুর্দশায় ছিলেন তাদের জন্য আর কোনো বিষাদ থাকবে না I অতীতে তিনি সবুলুনের দেশ এবং নপ্তালির দেশকে নত করলেন, কিন্তু ভবিষ্যতে তিনি সমুদ্রের ধারে, যর্দ্দনের পাশদিয়ে পরজাতিদের গালিলীর সম্মান করবেন –   

2 যে লোকেরা অন্ধকারে ভ্রমণ করত

তারা মহা-আলোক দেখেছে;

যারা মৃত্যুছায়ার দেশে বাস করত

তাদের উপরে আলোক উদিত হয়েছে…

6. কারণ একটি বালক আমাদের জন্য জন্মেছেন,

একটি পুত্র আমাদেরকে দত্ত হয়েছে,

আর তারই কাঁধের উপরে শাসনভার থাকবে I

এবং তার নাম হবে

আশ্চর্য মন্ত্রী, শক্তিশালী ঈশ্বর,

সনাতন পিতা, শান্তির রাজকুমার I

যিশাইয় 9:1-2,6

অন্য কথায় ভাববাদী যিশাইয় আগে থেকেই একটি পুত্রের জন্ম দেখছেন এবং ঘোষণা করছেন এবং এই পুত্রকে ডাকা হবে …শক্তিশালী ঈশ্বর’ I এই সংবাদ তাদের কাছে নির্দিষ্টভাবে উপযোগী হবে যারা মৃত্যুর ছায়ার দেশে বাস     করছে I” এর অর্থ কি? আমাদের জীবন বেঁচে থাকে এই জেনে যে আমরা আমাদের আসন্ন মৃত্যু এবং কর্ম থেকে বাঁচতে পারি না যা আমাদের ওপর কত্তৃত্ত করে I অতএব আমরা আক্ষরিকভাবে ‘মৃত্যুর ছায়ায়’ বাস করি I এইরূপে, এই আসন্ন মানুষ, যাকে ‘শক্তিশালী ঈশ্বর’ বলে ডাকা হবে, আমাদের মধ্যে তাদের উপরে এক মহা আলোক বা আশা হবে যারা আমরা আসন্ন মৃত্যুর ছায়ায় বাস করি I   

…মীখা

আর একজন ভাববাদী মীখাও, যিনি যিশাইয়র সময়ে (750 খ্রীষ্টপুর্বাব্দে বাস করতেন এই আসন্ন মানুষটির সম্বন্ধে এক স্বর্গীয় দৈববাণী পেলেন I তিনি লিখলেন:

কিন্তু তুমি বৈৎলেহেম-ইফ্রাথা,

যদিও তুমি যিহূদার সহস্রগণের মধ্যে ক্ষুদ্রা,

তোমার থেকে আমার জন্য আসবেন

একজন যিনি ইস্রায়েলের শাসনকর্তা হবেন,

যার উৎপত্তি প্রাক্কাল থেকে,

অনাদিকাল থেকে

মীখা 5:2

মীখা বললেন যে একজন মানুষ ইফ্রাথা অঞ্চলের বৈৎলেহেম শহর থেকে বার হয়ে আসবেন যেখানে যিহূদা গোষ্ঠী (অর্থাৎ যিহূদিরা) বাস করত I এই মানুষটি সমন্ধে যেটা সবথেকে অনন্য তা হল যদিও ইতিহাসের এক নির্দিষ্ট সময়ে বৈৎলেহেম থেকে বার হয়ে ‘তিনি আসবেন’, তিনি সময়ের আরম্ভ থেকে এই উৎপত্তিকে পূর্ব থেকেই বিদ্যমান করেছিলেন I এইরূপে, পুরুষাসুক্তর পদ 2 এর মতন, এবং ইয়োবের আসন্ন মুক্তিদাতার মতন, এই মানুষটিকে আমাদের মতন করে সময়ের দ্বারা আবদ্ধ করা যাবে না I তিনি সময়ের প্রভু হবেন I এটি একটি স্বর্গীয় ক্ষমতা, কোনো মানবীয় একটি নয়, এবং এইরূপে তারা সকলে একই ব্যক্তিকে উল্লেখ করছেন I   

যেশু সত্সংগের (যীশু খ্রীষ্ট) মধ্যে পরিপূর্ণ 

কিতু এই ব্যক্তিটি কে? মীখা এখানে আমাদেরকে এক গুরুত্বপুর্ণ ঐতিহাসিক সুত্র প্রদান করে I আসন্ন ব্যক্তি বৈৎলেহেম থেকে বার হয়ে আসবে I বৈৎলেহেম একটি প্রকৃত শহর যেটির সহস্রাধিক বছর ধরে অস্তিত্ব ছিল যাকে আজ ইস্রায়েল/ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক বলা হয় I আপনি এটিকে গুগল করতে পারেন এবং একটি মানচিত্রের উপরে দেখতে পারেন I এটি একটি বড় শহর নয়, এবং কখনও থাকে নি I কিন্তু বিশ্বব্যাপী এটি বিখ্যাত এবং প্রতি বছর বিশ্বের সংবাদে থাকে I কেন? কারণ এটি যীশু খ্রীষ্টের (বা যেশু সত্সংগ) জন্ম   স্থান I এটি সেই শহর যেখানে তিনি 2000 বছর পূর্বে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন I যিশাইয় আমাদেরকে আর একটি সুত্র দিয়েছিলন কারণ তিনি বলেছিলেন এই ব্যক্তি গালিলীকে প্রভাবিত করবে I এবং যদিও যেশু সত্সংগ (যীশু খ্রীষ্ট) বৈৎলেহেমে জন্মগ্রহণ করেছিলেন (মীখা যেমন আগে থেকে দেখেছিলেন),তিনি বেড়ে উঠেছিলেন এবং গালিলিতে একজন শিক্ষক রূপে সেবা করেছিলেন, যেমন যিশাইয় ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন I      

তার জন্ম স্থান রূপে বৈৎলেহেম এবং তার সেবাকার্যের স্থান রূপে গালিলী যেশু সত্সংগের  (যীশু খ্রীষ্ট) জীবনের দুটি সর্বাধিক সুপরিচিত বিষয় সমূহ I সুতরাং এখানে আমরা বিভিন্ন ভাববাদীদের ভবিষ্যদ্বাণীকে যীশু খ্রীষ্টের (যেশু সত্সংগ) ব্যক্তিত্বের মধ্যে পরিপূর্ণ হতে দেখি I সেই যেশু কি এই পুরুষা/মুক্তিদাতা/শাসক হতে পারে যা এই ভাববাদিগণ আগে থেকে দেখেছিলেন? এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া চাবিকাঠি হতে পারে যা উন্মুক্ত করে কিভাবে আমাদেরকে যারা ‘মৃত্যুর ছায়ায়’ (এবং কর্ম) বাস করে ‘অমরত্ব’ প্রদান করা হবে এটি নিশ্চিতরূপে বিবেচনা করার আমাদের যোগ্য সময় I সুতরাং পুরুষাসুক্তর মধ্য দিয়ে আরও অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে আমরা আমাদের অন্বেষণ চালিয়ে যাব এবং এটিকে ইব্রীয় বেদা পুস্তকমের ভাববাদীদের সঙ্গে তুলনা করব I

পুরুষাসুক্তর বিবেচনা – মানুষের প্রশংসার গীত

ঋগ বেদ (অথবা ঋক বেদ) এর মধ্যে হয়ত সবথেকে বিখ্যাত কবিতা বা প্রার্থনা হল পুরুসাসুক্তম (পুরুসা সুক্তম)I 10 মণ্ডল এবং 90 অনুচ্ছেদের মধ্যে এটি দেখা যায় I একজন বিশেষ পুরুষের জন্য এটি একটি গান – পুরুসা  (পুরুষা উচ্চারণ করা হয়)I যেহেতু ঋক বেদের মধ্যে এটি দেখা যায় এটি  জগতের মধ্যে সব থেকে প্রাচীন মন্ত্রদের মধ্যে একটি, এবং তাই এটি অধ্যয়ন করা যোগ্য হচ্ছে দেখতে আমরা মুক্তি বা মোক্ষর (বোধদয়) পথে যেতে কি শিখতে পারি I     

অতএব পুরুসা কে? বৈদিক পাঠ্যপুস্তক আমাদে বলে যে

 “পুরুসা এবং প্রজাপতি এক এবং একই ব্যক্তি” (সংস্কৃত অক্ষরীকরণ পুরুসোহি প্রজাপতি)

মধ্যনদিয়া সথাপথা ব্রহ্মানা VII.4:1.1:56

উপনিষদ এই একই লাইনের উপরে বলার দ্বারা চলতে থাকে যে

 “সমস্ত কিছুর থেকে পুরুষ শ্রেষ্ঠ I কোনো কিছুই (কেউ নয়) পুরুষের  থেকে শ্রেষ্ঠ নয় I তিনিই শেষ এবং সর্বোচ্চ লক্ষ্য” (অভ্যাকৎ পুরুষা পরাহ I পুরুষন্না পরম কিনচিৎসা কাস্থা সা পরাগতি)

কঠোপনিষদ 3:11      

এবং নিশ্চয়ই অপ্রকাশনের পেছনেই সর্বোচ্চ পুরুষ… একজন যিনি তাকে জানেন মুক্ত হয় এবং অমরত্ব অর্জন করে (অভ্যাকৎ উ: পরাহ পুরুষা…যজ্ঞা ত্বা মুক্যাতে জন্তুরআত্মাত্বম কা গচ্ছতি)

কঠোপনিষদ 6:8     

সুতরাং পুরুসা হচ্ছেন প্রজাপতি (সমস্ত সৃষ্টির প্রভু) I কিন্তু হয়ত আরও অধিক গুরুত্বপূর্ণ, তাঁকে প্রতক্ষ্যভাবে জানা আপনাকে এবং আমাকে প্রভাবিত করে I উপনিষদ বলে:

অনন্ত জীবনে প্রবেশ করার আর কোনো পথ নেই (কিন্তু পুরুসার  মাধ্যমে) (নান্য: পন্থা বিদ্যতেঅয়নায়)

শ্বেতাশ্বতরপোনিষদ 3:8  

সুতরাং আমরা পুরুসাসুক্তর মাধ্যমে অধ্যয়ন করব, ঋক বেদের স্ত্রোত্রকে যা পুরুসাকে বর্ণনা করে I যেমনি আমরা তা করব, আমি হয়ত এক অদ্ভূত এবং মহান ধারনাকে বিবেচনা করতে আমাদের সামনে তুলে ধরব: পুরুসাসুক্তর মধ্যে এই পুরুসার কথা কি বলা হয়েছে যা 2000 বছর পূর্বে যেশু সৎসংগের (নসরৎ-এর যীশু) অবতারের মধ্যে পরিপূর্ণ? যেমন আমি বলেছি, এটি হয়ত একটি অদ্ভূত ধারণা, কিন্তু যেশু সৎসংগ (নসরৎ-এর যীশু) সমস্ত ধর্ম জুড়ে একজন পবিত্র পুরুসা বলে পরিচিত এবং তিনি ঈশ্বরের অবতার রূপে নিজেকে দাবি করেছিলেন, এবং তিনি ও পুরুসা উভয়কে বলি দেওয়া হয়েছে (যেমন আমরা দেখব) তাই এই ধারনাটিকে বিবেচনা এবং বিশ্লেষণ করতে আমাদেরকে উত্তম কারণ দেয় I সংস্কৃত অক্ষরীকরণ, এবং পুরুষাসুক্তর উপরে আমার চিন্তাধারার অনেক কিছু যোষেফ পাদিনজারেকারা দ্বারা লিখিত ক্রাইষ্ট ইন দি এনসিয়েন্ট বেদাস বইটির অধ্যয়ন থেকে এসেছে I (346 পৃষ্ঠায় প্রকাশিত  2007)         

পুরুসাসুক্তর প্রথম পদ

সংস্কৃত থেকে অক্ষরীকরণ বাংলাতে অনুবাদ
সহস্র শিরশা-পুরুষাসহস্র ক্ষাহ সহস্রপতসা ভুমিন ভিস্বাতো ভি ঋতভাতিষ্ঠাআদ্দাসংগুলম পুরুষের এক সহস্র মস্তক, এক সহস্র চক্ষু এবং এক সহস্র চরণ যুগল আছে I পৃথিবীর সমস্ত দিকে প্রদক্ষিন কোরে তিনি দীপ্তি দেন I এবং তিনি দশ অঙ্গুলিতে স্বয়ংকে সীমিত করেছেন

আমরা উপরে দেখলাম যে পুরুষ প্রজাপতির অনুরূপ I এখানে যেমন ব্যাখ্যা করা হয়েছে, প্রাচীনতম বেদে প্রজাপতিকে ঈশ্বর রূপে বিবেচনা করা হয়েছিল যিনি সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছিলেন – তিনি “সমস্ত সৃষ্টির প্রভু” ছিলেন 

পুরুসাসুক্তর প্রারম্ভে আমরা দেখি পুরুষের এক ‘সহস্র মস্তক, এক সহস্র চক্ষু এবং এক সহস্র পাদপীঠ আছে I’ এর অর্থ কি? এখানে ‘সহস্র’ বলতে একটি নির্দিষ্ট গণনার সংখ্যাকে বোঝায় না, বরং অধিক ‘অগণিত’, অথবা ‘অসীম’ কে বোঝায় I সুতরাং পুরুসার কাছে অসীম বুদ্ধি (‘মস্তক’) আছে I আজকের ভাষায় আমরা বলব তিন সর্বজ্ঞানী বা সব-জান্তা I এটি ঈশ্বরের (প্রজাপতি) একটি গুণ I তিনিই একমাত্র যিনি সবকিছু জানেন I এছাড়া ঈশ্বর দেখেন এবং  সমস্ত কিছুর সম্পর্কে সচতন I কথায় বলে যে পুরুসার কাছে ‘এক সহস্র চক্ষু; আছে তা একই কথা যা বলে যে পুরুসা সর্বজ্ঞানী – তিনি সমস্ত কিছুর সম্পর্কে সচেতন কারণ তিনি সর্বত্র বিরাজমান I অনুরূপভাবে, বাগ্ধারাটি ‘এক সহস্র চরণ যুগল’ সর্বশক্তিমান – অসীম শক্তির প্রতিনিধিত্ব করে I    

এইরূপে আমরা পুরুষাশসুক্তর প্রারম্ভ দেখি যে পুরুসাকে এক সর্বজ্ঞানী, সর্বত্র বিরাজমান এবং সর্বশক্তিমান পুরুষ রূপে প্রবর্তন করা হয়েছে I কেবলমাত্র ঈশ্বরের অবতার এই ধরণের এক ব্যক্তি হতে পারে I যাইহোক, পদটি এই বলে শেষ করে ‘তিনি স্বয়ংকে দশ অঙ্গুলিতে সীমিত করলেন’ I এর অর্থ কি? একজন অবতারী ব্যক্তি রূপে, পুরুষ তাঁর স্বর্গীয় পরাক্রম থেকে নিজেকে শুন্য করলেন এবং এক স্বাভাবিক মনুষ্যের ন্যায় স্বয়ংকে সীমিত করলেন – কেবলমাত্র ‘দশ অঙ্গুলি সহ’ I এইরূপে, যদিও পুরুসা স্বর্গীয় ছিলেন, সমস্ত কিছু সহ যা ফলস্বরূপ ঘটে, তিনি স্বয়ংকে তাঁর অবতারে শুন্য করলেন I     

বেদ পুস্তকম (বাইবেল), যখন যেশু সৎসংগের (নসরৎ-এর যীশু) কথা বলা হয় তখন ঠিক সেই একই ধারণা প্রকাশ করে I এটি বলে:  

… একই ভাব যেমন যীশু খ্রীষ্টের কাছে আছে:

যিনি, বিশেষ প্রকৃতিতে ঈশ্বর হন,

ঈশ্বরের সমান গন্য করেন নি এমনকিছু যা তাঁর নিজের সুবিধার্থে ব্যবহৃত হয়; বরং, তিনি একজন দাসের বিশেষ প্রকৃতিকে গ্রহণ করে নিজেকে শুন্য করলেন, মনুষ্যের সমানতায় নিজেকে প্রস্তুত করলেন I

এবং একজন মানুষের রূপে দেখা দিয়ে, তিনি নিযেকে নত করলেন মৃত্যু পযন্ত আজ্ঞাবহ হয়ে – এমনি ক্রুশের উপরে মৃত্যু বরণ করেন

ফিলিপীয় 2: 5-8

আপনারা দেখতে পারেন যে বেদ পুস্তকম (বাইবেল) একই চিন্তাধারাকে ব্যবহার করে যেমনটি পুরুষাসুক্ত পুরুষকে প্রবর্তনের ক্ষেত্রে করেছে – অসীম ঈশ্বর এক সীমিত মনুষ্যে দেহধারী হচ্ছেন I কিন্তু বাইবেলের মধ্যে এই অনুচ্ছেদটি দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে যায় তাঁর বলিদানকে বর্ণনা করতে – যেমনটি পুরুসাসুক্তও করবে I অতএব এটি যে কোনো কারোর পক্ষে উপযুক্ত এই দৈববাণীগুলোকে আরও বিশ্লেষণ করতে যে মোক্ষ পেতে ইচ্ছা রাখে, যেহেতু, উপনিষদের মধ্যে এটি যেমন বলে;

অনন্ত জীবনে যাওয়ার আর কোনো রাস্তা নেই (কিন্তু পুরুষের মাধ্যমে) (নান্য: পন্থা বিদ্যতেঅয়নায়)

শ্বেতাশ্বতরপোনিষদ 3:8

আমরা এখানে পুরুসাসুক্তর পদ 2 কে চালিয়ে যাচ্ছি I