পুনরুত্থান প্রথম ফল: আপনার জন্য জীবন

হিন্দু পঞ্জিকার শেষ পূর্নিমায় আমরা হোলি উদযাপন করি I এর চান্দ্র-সৌর মূল পঞ্জিকার সাথে হোলি পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডারে ঘুরতে থাকে, বসন্তের আগমনের এক আনন্দময় পর্ব হিসাবে সাধারণতঃ মার্চে আসে I যদিও অনেকে হোলি মানায়, তবে কয়েকজনই জানে এটি প্রথম ফলের সমান্তরাল, এবং পরবর্তী  উদযাপন ইস্টার  এর থেকে উদ্ভূত হয় I এই উদযাপনগুলো বসন্তের পূর্নিমায় ঘটে এবং প্রায়শই একসাথে মিলে যায় I  

হোলি উদযাপন করা হয়  

বসন্তের এক আনন্দময়, প্রেমের পর্ব, বা রঙের পর্ব হিসাবে লোকেরা হোলি উদযাপন করে I এর সর্বাধিক বিশিষ্ট উদ্দেশ্যটি বসন্তের শুরুটিকে ফসল কাটার  অনুষ্ঠান হিসাবে পালন করে I পরম্পরাগত সাহিত্য, এক প্রাচুর্যময় বসন্তকালীন ফসল কাটার পর্ব হিসাবে হোলিকে চিহ্নিত করেছে I

হোলি মন্দের উপরে ভালোর বিজয়কেও উদযাপন করে I হোলিকা দহনের সন্ধ্যার পর থেকে শুরু করে হোলি (বা রঙের হোলি, ধুলেটি, ধুলন্দি, বা ফাগবা) পরের দিন পর্যন্ত চলতে থাকে I   

একে অপরকে রঙ লাগিয়ে মানুষ হোলি উদযাপন করে I একে অপরকে ভিজিয়ে  রাখতে এবং রঙিন করতে তারা জলের বন্দুক এবং জল-ভর্তি বেলুন ব্যবহার করে I এটি একটি জল যুদ্ধের মতন, তবে রঙিন জলের সাথে I এটি একটি নিরপেক্ষ খেলা, যে কোনোর জন্য, বন্ধু বা অপরিচিত, ধনী বা গরীব, পুরুষ বা স্ত্রী, শিশু বা বৃদ্ধগণ I রঙের অসাধারণ আচরণ খোলা রাস্তায়, পার্কে, মন্দির এবং ভবনের বাইরে ঘটে I দলেরা ড্রাম এবং সঙ্গীতের যন্ত্রাদি বহন করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে, গাইতে গাইতে, নাচতে নাচতে যায় I বন্ধু এবং শত্রুরা একে অপরের উপরে রঙের পাউডার দিতে একসাথে আসে এবং হাঁসে, গল্প করে, তারপরে সুস্বাদু খাবার, ভোজন ও পানীয় বিতরণ করে I দুপুর বেলায় প্রত্যেককে রঙের পটের মতন দেখতে লাগে, তাই নাম “রঙের উৎসব” I      

হোলির সম্ভবতঃ সবচেয়ে অনন্যতা সামাজিক ভূমিকার উল্টোটা I পায়খানার এক ঝাড়ুদার ব্রাহ্মণকে আঘাত করতে পারে এবং এটি উৎসবের উল্টো ভূমিকার   অংশ I পিতা-মাতা, ভাই-বোন্, প্রতিবেশী এবং বিভিন্ন বর্ণের মধ্যে প্রেম শ্রদ্ধার প্রচলিত অভিব্যক্তিগুলির সব উল্টো I    

হোলি পুরাণ

হোলির পেছনে অনেক পুরাণ সমূহ আছে I গল্পটি হোলিকা দহন থেকে চলে এসে   রাজা হিরণ্যকশিপুর ভাগ্যকে সম্পর্কিত করে, যে তার বিশেষ ক্ষমতার সাহায্যে প্রহ্লাদকে হত্যা করতে ষড়যন্ত্র করেছিল I তাকে হত্যা করতে পারা যায় নি; না মানুষ নাতো জন্তুর দ্বারা, না ঘরে নাতো বাইরে, না দিনের বেলায় নাতো রাত্রি-কালে, না ক্ষেপণাস্ত্র নাতো হাতে ধরা অস্ত্রের দ্বারা, না মাটিতে, নাতো জলে বা বায়ুতে I হোলিকার দ্বারা প্রহ্লাদকে পুড়িয়ে মারার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরে, বিষ্ণু, নরসিংহ, অর্ধ-মানব, অর্ধ-সিংহ রূপে (না মানব নাতো পশু) গোধুলি লগ্নে (না দিন নাতো রাত) হিরণ্যকশিপুকে দোরগোড়ায় (না ঘরে নাতো বাইরে) নিয়ে গিয়ে তাঁর কোলে (না মাটি, জল নাতো বায়ু ) তাকে রাখলেন এবং তারপরে তার সিংহের নখ (না হাতে ধরা নাতো ক্ষেপণাস্ত্র) দিয়ে তার নাড়ি ভুঁড়ি বার করে দিলেন I এই গল্পের মধ্যে হোলি মন্দের উপরে ভালোর বিজয়কে উদযাপন করে I         

অনুরূপভাবে, প্রথম ফল সমূহ একটি বিজয়কে উদযাপন করে, তবে কোনো দুষ্ট রাজার উপরে নয়, বরং মৃত্যুর নিজের উপরে I সুসমাচার ব্যাখ্যা করে কিভাবে প্রথম ফল সমূহ, এখন ইস্টার রবিবার বলে পরিচিত, এটিকে স্পষ্ট করে, আপনাকে এবং আমাকে নতুন জীবন উপহার দেয় I  

প্রাচীন হিব্রু বেদের পর্ব সমূহ

আমরা যীশুর শেষ সপ্তাহের দৈনন্দিন ঘটনাগুলিকে অনুসরণ করেছি I তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল নিস্তারপর্বে, একটি পবিত্র যিহূদি পর্ব, সপ্তাহের সপ্তম দিন বিশ্রামবারে মৃত্যুর মধ্যে বিশ্রাম I ঈশ্বর এই পবিত্র দিনগুলি বহু আগে থেকেই হিব্রু বেদে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন I ওই নির্দেশগুলি পড়ে:  

ভু মোশিকে বললেন,
2 “ইস্রায়েলের লোকদের বলো: প্রভুর মনোনীত উত্সবগুলিকে তোমরা পবিত্র সভা বলে ঘোষণা কর| এইগুলি হল আমার নির্দিষ্ট ছুটির দিন:
3 “ছদিন ধরে কাজ কর, কিন্তু সপ্তম দিন কর্মবিরতির জন্য নির্দিষ্ট বিশ্রামপর্ব হবে বিশ্রামের বিশেষ দিন| তোমরা অবশ্যই কোন কাজ করবে না| এটা তোমাদের সকলের বাড়ীতেই প্রভুর জন্য বিশ্রামের দিন হবে|
4 “এগুলি হল প্রভুর মনোনীত নিস্তারপর্ব| তোমরা এগুলির জন্য মনোনীত সমযে পবিত্র সভার কথা ঘোষণা করবে|
5 প্রভুর নিস্তারপর্বের দিন হল প্রথম মাসের 14 দিনের দিন সূর্য়াস্তের সময়|

লেবীয় 23:1-5

এটি কি অবাক নয় যে যীশুর ক্রুশবিদ্ধকরণ এবং বাকি উভয়ই 1500 বছর আগে নির্ধারিত ঠিক এই দুটি পবিত্র পর্বে ঘটেছিল?

কেন? এর অর্থ কি?

যীশুর ক্রুশবিদ্ধকরণ নিস্তার পর্বে (দিন 6) ঘটেছিল এবং তাঁর বিশ্রাম বিশ্রামবারে (দিন 7) ঘটেছিল I

প্রাচীন হিব্রু বেদ পর্বগুলির সাথে এই সময়টি বহন করে I পরবর্তী পর্ব নিস্তারপর্ব এবং বিশ্রামবারের পরে ছিল ‘প্রথম ফসল’ I হিব্রু বেদ এর জন্য এই নির্দেশগুলি দিয়েছিল I  

হিব্রু প্রথম ফসল পর্ব

9আর সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, 10তুমি ইস্রায়েল-সন্তানগণকে কহ, তাহাদিগকে বল, আমি তোমাদিগকে যে দেশ দিব, সেই দেশে প্রবিষ্ট হইয়া তোমরা যখন তদুৎপন্ন শস্য ছেদন করিবে, তখন তোমাদের কাটা শস্যের অগ্রিমাংশ বলিয়া এক আটি যাজকের নিকটে আনিবে। 11সে সদাপ্রভুর সম্মুখে ঐ আটি দোলাইবে, যেন তোমাদের জন্য তাহা গ্রাহ্য হয়; বিশ্রামবারের পরদিন যাজক তাহা দোলাইবে।  

লেবীয় 23:9-11

14 ঈশ্বরের কাছে তা নৈবেদ্য হিসাবে না আনা পর্য়ন্ত তোমরা অবশ্যই কোন নতুন শস্য অথবা ফল বা নতুন শস্য থেকে তৈরী রুটি খাবে না| তোমরা যেখানেই বাস কর না কেন এই বিধি তোমাদের বংশ পরম্পরায চলবে|

লেবীয় 23:14

নিস্তারপর্বের ‘বিশ্রামবারের পরের দিন’ ছিল একটি তৃতীয় পবিত্র পর্ব, প্রথম ফসল I প্রত্যেক বছর এই দিনে মহা যাজক পবিত্র মন্দিরে প্রবেশ করতেন এবং সদাপ্রভুকে প্রথম বসন্তের শস্যের ফসল উৎসর্গ করতেন I হোলির মতন, এটি শীতের পরে নতুন জীবনের আরম্ভকে তাত্পর্যপূর্ণ করে, প্রচুর ফসলের দিকে তাকিয়ে থেকে মানুষকে তৃপ্তির সাথে খেতে সক্ষম করে I       

এটি হুবহু সেই দিন ছিল বিশ্রামবারের পরে যখন যীশু মৃত্যুর মধ্যে বিশ্রাম গ্রহণ  করেছিলেন, এক নতুন সপ্তাহের রবিবার, নীসন 16 তারিখ I সুসমাচার লিপিবদ্ধ করে এই দিনে কি ঘটেছিল যখন মহা যাজক নতুন জীবনের ‘প্রথম ফল’ উৎসর্গ করতে মন্দিরে প্রবেশ করেছিলেন I   

যীশু মৃত্যু থেকে উঠলেন

প্তাহের প্রথম দিন, সেই স্ত্রীলোকেরা খুব ভোরে ঐ সমাধিস্থলে এলেন৷ তাঁরা য়ে গন্ধদ্রব্য ও মশলা তৈরী করেছিলেন তা সঙ্গে আনলেন৷
2 তাঁরা দেখলেন সমাধিগুহার মুখ থেকে পাথরখানা একপাশে গড়িয়ে দেওযা আছে;
3 কিন্তু ভেতরে ঢুকে সেখানে প্রভু যীশুর দেহ দেখতে পেলেন না৷
4 তাঁরা যখন অবাক বিস্ময়ে সেই কথা ভাবছেন, সেই সময় উজ্জ্বল পোশাক পরে দুজন ব্যক্তি হঠাত্ এসে তাঁদের পাশে দাঁড়ালেন৷
5 ভয়ে তাঁরা মুখ নীচু করে নতজানু হয়ে রইলেন৷ ঐ দুজন তাঁদের বললেন, ‘যিনি জীবিত, তোমরা তাঁকে মৃতদের মাঝে খুঁজছ কেন?
6 তিনি এখানে নেই, তিনি পুনরুত্থিত হয়েছন৷ তিনি যখন গালীলে ছিলেন তখন তোমাদের কি বলেছিলেন মনে করে দেখ৷
7 তিনি বলেছিলেন, মানবপুত্রকে অবশ্যই পাপী মানুষদের হাতে ধরিয়ে দেওযা হবে, তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ হতে হবে; আর তিন দিনের দিন তিনি আবার মৃত্যুর মধ্য থেকে জীবিত হয়ে উঠবেন৷’
8 তখন যীশুর সব কথা তাঁদের মনে পড়ে গেল৷
9 তারপর তাঁরা সমাধিগুহা থেকে ফিরে এসে সেই এগারো জন প্রেরিতকে ও তাঁর অনুগামীদের এই ঘটনার কথা জানালেন৷
10 এই স্ত্রীলোকেরা হলেন মরিয়ম মগ্দলীনী, য়োহানা আর যাকোবের মা মরিয়ম৷ তাঁদের সঙ্গে আরো কয়েকজন এই সব ঘটনা প্রেরিতদের জানালেন৷
11 কিন্তু প্রেরিতদের কাছে সে সব প্রলাপ বলে মনে হল, তাঁরা সেই স্ত্রীলোকদের কথা বিশ্বাস করলেন না৷
12 কিন্তু পিতর উঠে দৌড়ে সমাধিগুহার কাছে গেলেন৷ তিনি নীচু হয়ে ঝুঁকে পড়ে দেখলেন, কেবল যীশুর দেহে জড়ানো কাপড়গুলো সেখানে পড়ে আছে; আর যা ঘটেছে তাতে আশ্চর্য হয়ে ঘরে ফিরে গেলেন৷
13 ঐ দিনই দুজন অনুগামী জেরুশালেম থেকে সাত মাইল দূরে ইম্মাযু নামে একটি গ্রামে যাচ্ছিলেন৷
14 এই য়ে সব ঘটনাগুলি ঘটে গেল, য়েতে য়েতে তাঁরা সে বিষয়েই পরস্পর আলোচনা করছিলেন৷
15 তাঁরা যখন এইসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন, এমন সময় যীশু নিজে এসে তাঁদের সঙ্গে সঙ্গে চলতে লাগলেন৷
16 ঘটনাটি এমনভাবেই ঘটল যাতে তাঁরা যীশুকে চিনতে না পারেন৷
17 যীশু তাঁদের বললেন, ‘তোমরা য়েতে য়েতে পরস্পর কি নিয়ে আলোচনা করছ?’তাঁরা থমকে দাঁড়ালেন, তাঁদের খুবই বিপন্ন দেখাচ্ছিল৷
18 তাঁদের মধ্যে ক্লিয়পা নামে একজন তাঁকে বললেন, ‘জেরুশালেমের অধিবাসীদের মধ্যে আমাদের মনে হয় আপনিই একমাত্র লোক, যিনি জানেন না গত কদিনে সেখানে কি কাণ্ডটাই না ঘটে গেছে৷’
19 যীশু তাঁদের বললেন, ‘কি ঘটেছে, তোমরা কিসের কথা বলছ?’ তাঁরা যীশুকে বললেন, ‘নাসরতীয় যীশুর বিষয়ে বলছি৷ তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি তাঁর কথা ও কাজের শক্তিতে ঈশ্বর ও সমস্ত মানুষের চোখে নিজেকে এক মহান ভাববাদীরূপে প্রমাণ করেছেন৷
20 কিন্তু আমাদের প্রধান যাজকরা ও নেতারা তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেবার জন্য ধরিয়ে দিল, তারা তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করে মারল৷
21 আমরা আশা করেছিলাম য়ে তিনিই সেই যিনি ইস্রায়েলকে মুক্ত করবেন৷ কেবল তাই নয়, আজ তিন দিন হল এসব ঘটে গেছে৷
22 আবার আমাদের মধ্যে কয়েকজন স্ত্রীলোক আমাদের অবাক করে দিলেন৷ তাঁরা আজ খুব ভোরে সমাধির কাছে গিয়েছিলেন;
23 কিন্তু সেখানে তাঁরা যীশুর দেহ দেখতে পান নি৷ সেখান থেকে ফিরে এসে তাঁরা আমাদের বললেন য়ে তাঁরা স্বর্গদূতদের দর্শন পেয়েছেন, আর সেই স্বর্গদূতেরা তাঁদের বলেছেন য়ে যীশু জীবিত৷
24 এরপর আমাদের সঙ্গে যাঁরা ছিলেন তাদের মধ্যে কয়েকজন সেই সমাধির কাছে গিয়েছিলেন; আর তাঁরা দেখলেন স্ত্রীলোকেরা যা বলেছেন তা সত্য৷ কিন্তু তাঁরা যীশুকে সেখানে দেখতে পান নি৷’
25 তখন যীশু তাঁদের বললেন, ‘তোমরা সত্যি কিছু বোঝ না, তোমাদের মন বড়ই অসাড়, তাই ভাববাদীরা যা কিছু বলে গেছেন তোমরা তা বিশ্বাস করতে পার না৷
26 খ্রীষ্টের মহিমায় প্রবেশ লাভের পূর্বে কি তাঁর এইসব কষ্টভোগ করার একান্ত প্রযোজন ছিল না?’
27 আর তিনি মোশির পুস্তক থেকে শুরু করে ভাববাদীদের পুস্তকে তাঁর বিষয়ে যা যা লেখা আছে, শাস্ত্রের সে সব কথা তাঁদের বুঝিয়ে দিলেন৷
28 তাঁরা য়ে গ্রামে যাচ্ছিলেন তার কাছাকাছি এলে পর যীশু আরো দূরে যাবার ভাব দেখালেন৷
29 তখন তাঁরা যীশুকে খুব অনুরোধ করে বললেন, ‘দেখুন, বেলা পড়ে গেছে, এখন সন্ধ্যা হয়ে এল, আপনি আমাদের এখানে থেকে যান৷’ তাই তিনি তাঁদের সঙ্গে থাকবার জন্য ভেতরে গেলেন৷
30 তিনি যখন তাঁদের সঙ্গে খেতে বসলেন, তখন রুটি নিয়ে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিলেন৷ পরে সেই রুটি টুকরো টুকরো করে তাঁদের দিলেন৷
31 সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের চোখ খুলে গেল, তাঁরা যীশুকে চিনতে পারলেন, আর তিনি সেখান থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলেন৷
32 তখন তাঁরা পরস্পর বলাবলি করলেন, ‘তিনি যখন রাস্তায় আমাদের সঙ্গে কথা বলছিলেন ও শাস্ত্র থেকে আমাদের বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন, তখন আমাদের অন্তর কি আবেগে উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে নি?’
33 তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে উঠে জেরুশালেমে গেলেন৷ সেখানে তাঁরা সেই এগারোজন প্রেরিত ও তাদের সঙ্গে আরো অনেককে দেখতে পেলেন৷
34 প্রেরিত ও অন্যান্য যাঁরা সেখানে ছিলেন তাঁরা বললেন, ‘প্রভু, সত্যি জীবিত হয়ে উঠেছেন৷ তিনি শিমোনকে দেখা দিয়েছেন৷’
35 তখন সেই দুজন অনুগামীও রাস্তায় যা ঘটেছিল তা তাঁদের কাছে ব্যক্ত করলেন৷ আর যীশু যখন রুটি টুকরো টুকরো করছিলেন তখন কিভাবে তাঁরা তাঁকে চিনতে পারলেন তাও জানালেন৷
36 তাঁরা যখন এসব কথা তাদের বলছেন, এমন সময় যীশু তাঁদের মাঝে এসে দাঁড়ালেন আর বললেন, ‘তোমাদের শান্তি হোক্!’
37 কিন্তু তাঁরা ভয়ে চমকে উঠলেন৷ তাঁরা মনে করলেন বোধ হয় কোন ভূত দেখছেন৷
38 কিন্তু যীশু তাঁদের বললেন, ‘তোমরা এত অস্থির হচ্ছ কেন? আর তোমাদের মনে সন্দেহই বা জাগছে কেন?
39 আমার হাত ও পা দেখ, আমার স্পর্শ করে দেখ, আত্মার এইরূপ হাড় মাংস থাকে না, কিন্তু তোমরা দেখতে পাচ্ছ আমার আছে৷’
40 এই কথা বলে তিনি তাঁদের হাত ও পা দেখালেন৷
41 তাঁদের এতই আনন্দ হয়েছিল ও য়ে তাঁরা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না৷ তাঁরা বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে গিয়েছিলেন৷ যীশু তাঁদের বললেন, ‘তোমাদের কাছে কিছু খাবার আছে কি?
42 তাঁরা তাঁকে এক টুকরো ভাজা মাছ দিলেন৷
43 তিনি সেটি নিয়ে তাঁদের সামনে গেলেন৷
44 তিনি তাঁদের বললেন, ‘আমি যখন তোমাদের সঙ্গে ছিলাম, তখনই তোমাদের এসব কথা বলেছিলাম, আমার সম্বন্ধে মোশির বিধি-ব্যবস্থায়, ভাববাদীদের পুস্তকে ও গীতসংহিতায় যা কিছু লেখা হয়েছে তা পূর্ণ হতেই হবে৷’
45 এরপর তিনি তাঁদের বুদ্ধি খুলে দিলেন, য়েন তাঁরা শাস্ত্রের কথা বুঝতে পারেন৷
46 যীশু তাঁদের বললেন, ‘একথা লেখা আছে খ্রীষ্টকে অবশ্যই কষ্ট ভোগ করতে হবে, আর তিনি মৃত্যুর তিন দিনের দিন মৃতদের মধ্য থেকে জীবিত হয়ে উঠবেন৷’
47 এবং পাপের জন্য অনুশোচনা ও পাপের ক্ষমার কথা অবশ্যই সমস্ত জাতির কাছে ঘোষণা করা হবে, জেরুশালেম থেকেই একাজ শুরু হবে আর তোমরাই এসবের সাক্ষী৷

লুক 24:1-48

যীশুর প্রথম ফল বিজয়

‘প্রথম ফলের’ পবিত্র দিনে মৃত্যুর উপরে যীশু বিজয়ী হয়ে উঠলেন, এমন একটি কীর্তি যাকে তাঁর শত্রু এবং শিষ্যরা উভয়ই অসম্ভব মনে করেছিল I যেভাবে হোলি মন্দের উপর ভালোর বিজয়কে উদযাপন করে, সেইভাবে যীশুর বিজয় এই দিনে ভালোর একটি বিজয় ছিল I  

54 এই ক্ষয়শীল দেহ যখন অক্ষয়তার পোশাক পরবে আর এই পার্থিব দেহ যখন অবিনশ্বরতায় ভূষিত হবে তখন শাস্ত্রে য়ে কথা লেখা আছে তা সত্য হবে:‘মৃত্যু জয়ে কবলিত হল৷’
55 ‘মৃত্যু তোমার জয় কোথায়? মৃত্যু তোমার হুল কোথায়?’
56 মৃত্যুর হুল পাপ আর পাপের শক্তি আসে বিধি-ব্যবস্থা থেকে৷

1 করিন্থীয়ান 15:54-56

আমরা যেমন ভূমিকা পাল্টানোর মাধ্যমে হোলি উদযাপন করি, এই ‘প্রথম ফল’ সর্বাধিক উল্টো ভূমিকা ঘটিয়েছিল I পূর্বে মৃত্যুর মানবজাতির উপরে চরম ক্ষমতা ছিল I এখন যীশু মৃত্যুর উপরে ক্ষমতা জয় করে নিয়েছেন I তিনি সেই ক্ষমতাকে উল্টে দিয়েছেন I যেমনভাবে নরসিংহ হিরন্যকশিপুর ক্ষমতার বিরুদ্ধে একটি উদ্বোধন দেখতে পেয়েছিল, যীশু পাপ রহিত মৃত্যু বরণের দ্বারা, এক আপাতদৃষ্টিতে অপরাজেয় মৃত্যুকে পরাস্ত করার উদ্বোধনকে দেখতে পেয়েছিলেন I     

আপনার এবং আমার জন্য বিজয়

তবে এটি কেবলমাত্র যীশুর জন্য একট বিজয় ছিল না I এটি আপনার এবং আমার পক্ষেও একটি বিজয়, প্রথম ফলের সাথে এর সময় নির্ধারিত গ্যারান্টিযুক্ত I বাইবেল ব্যাখ্যা করে:  

20 কিন্তু সত্যিই খ্রীষ্ট মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত হয়েছেন, আর য়েসব ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে তিনি তাদের মধ্যে প্রথম ফসল৷
21 কারণ একজন মানুষের মধ্য দিয়ে য়েমন মৃত্যু এসেছে, মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থানও তেমনিভাবেই একজন মানুষের দ্বারা এসেছে৷
22 কারণ আদমে য়েমন সকলের মৃত্যু হয়, ঠিক সেভাবে খ্রীষ্টে সকলেই জীবন লাভ করবে৷
23 কিন্তু প্রত্যেকে তার পালাক্রমে জীবিত হবে; খ্রীষ্ট, যিনি অগ্রনী, তিনি প্রথমে মৃতদের মধ্য থেকে জীবিত হলেন, আর এরপর যারা খ্রীষ্টের লোক তারা তাঁর পুনরুত্থানের সময়ে জীবিত হয়ে উঠবে৷
24 এরপর খ্রীষ্ট যখন প্রত্যেক শাসনকর্তার কর্ত্তৃত্ব ও পরাক্রমকে পরাস্ত করে পিতা ঈশ্বরের হাতে রাজ্য সঁপে দেবেন তখন সমাপ্তি আসবে৷
25 কারণ যতদিন না ঈশ্বর তাঁর সমস্ত শত্রুকে খ্রীষ্টের পদানত করছেন, ততদিন খ্রীষ্টকে রাজত্ব করতে হবে৷
26 শেষ শত্রু হিসেবে মৃত্যুও ধ্বংস হবে৷

1 করিন্থীয়ান 15:20-26

যীশু প্রথম ফলের উপরে পুনরুত্থিত হয়েছিলেন যাতে আমরা জানতে পারি যে তিনি মৃত্যু থেকে তাঁর পুনরুত্থানে আমাদের ভাগীদার হতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন I ঠিক যেমন প্রথম ফল পরে একটি বিরাট ফসলের প্রত্যাশা নিয়ে নতুন বসন্ত জীবনের উপহার ছিল, ঠিক তেমনি ‘প্রথম ফলের’ উপরে যীশুর উত্থান একটি পরবর্তী পুনরুত্থানের এক প্রত্যাশা সেই সকলের জন্য ধারণ করে ‘যারা তাঁর মধ্যে থাকে’ I     

বসন্তের বীজ…

অথবা এইভাবে ভাবুন I প্রথম দিনে যীশু নিজেকে ‘সেই বীজ’ বলে সম্বোধন করলেন I হোলি যেমন বসন্তের বীজ থেকে নতুন জীবনের অঙ্কুরকে উদযাপন করে, তাই হোলিও যীশুর নতুন জীবনের দিকে নির্দেশ করে, সেই ‘বীজ’ যিনি আবারও বসন্তে জীবনে পুনরায় ফিরে এসেছিলেন I    

পরবর্তী মনু…

এছাড়াও বাইবেল ব্যাখ্যা করে যীশুর পুনরুত্থান মনুর ধারণাকে ব্যবহার করে I প্রাচীনতম বেদের মধ্যে মনু সমস্ত মানবজাতির পূর্বসুরী ছিলেন I আমরা সবাই তার সন্তান I পুরাণ তারপরে প্রতিটি কল্প বা যুগের জন্য এক নতুন মনু অন্তর্ভুক্ত করেছিল (শ্রদ্ধাদেব মনু এই কল্পের মধ্যে মানবান্তর) I হিব্রু বেদ ব্যাখ্যা করে যে আদম হ’ল এই মনু, যার মৃত্যুর সাথে সাথে সমস্ত মানব জাতির মৃত্যু ঘটেছিল, যেহেতু এটি তার থেকে তার সন্তানদের কাছে চলে যায় I      

তবে যীশু হলেন পরবর্তী মনু I মৃত্যুর উপরে তাঁর বিজয়ের সাথে তিনি এক নতুন কল্পের উদঘাটন করলেন I যাঁর সন্তান রূপে আমরাও যীশুর ন্যায় পুনরুত্থিত হয়ে মৃত্যুর উপরে এই বিজয়ের ভাগীদারী হব I তিনি প্রথমে পুনরুত্থিত হয়েছিলেন এবং আমাদের পুনরুত্থান পরে আসে I তিনি নতুন জীবনের তাঁর প্রথম ফলকে অনুসরণ করতে আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন I  

ইস্টার: সেই রবিবারের পুনরুত্থানের উদযাপন

ইস্টার এবং হোলি উভয়ই রঙ দিয়ে উদযাপন করা হয়

আজকে, আমরা প্রায়শই যীশুর পুনরুত্থানকে ইস্টার বলে ডাকি, এবং ইস্টার রবিবার সেই রবিবারকে স্মরণ করে যেদিন তিনি উত্থিত হয়েছিলেন I অনেকে নতুন জীবনের রঙিন প্রতীক সমূহের দ্বারা ইস্টার উদযাপন করে, যেমন বাড়িকে রঙ করে I হোলিকে যেমন রঙের সাহায্যে উদযাপন করি তেমনি ইস্টারকেও I হোলি যেমন নতুন সুচনাকে উদযাপন করে ইস্টারও তেমনি করে I ইস্টার উদযাপনের নির্দিষ্ট পদ্ধতিটি গুরুত্বপূর্ণ নয় I যেটি গুরুত্বপূর্ণ তা হ’ল প্রথম ফলের পরিপূর্ণতা হিসাবে যীশুর পুনরুত্থান, এবং এর উপকারগুলি পাওয়া I

এই সপ্তাহের জন্য কালপঞ্জিতে আমরা এটিকে দেখি:

প্রথম ফলে যীশু মৃত্যুথেকে ওঠেন – আপনাকে এবং আমাকে মৃত্যু থেকে নতুন জীবন উপহার দেওয়া হয়েছে

 ‘শুভ শুক্রবার’ এর উত্তর দেওয়া হয়েছে

কেন শুভ শুক্রবার ‘শুভ’ আমাদের প্রশ্ন সম্বন্ধে এটি উত্তর দেয় I   

9 কিন্তু আমরা যীশুকে দেখেছি, য়াঁকে অল্পক্ষণের জন্য স্বর্গদূতদের থেকে নীচে স্থান দেওয়া হয়েছিল৷ সেই যীশুকেই এখন সম্মান আর মহিমার মুকুট পরানো হয়েছে৷ কারণ তিনি মৃত্যু যন্ত্রণা ভোগ করেছেন এবং ঈশ্বরের অনুগ্রহে সকল মানুষের জন্য মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন৷

ইব্রীয় 2:9

কিন্তু দূতগণ অপেক্ষা যিনি অল্পই ন্যূনীকৃত হইলেন, সেই ব্যক্তিকে অর্থাৎ যীশুকে দেখিতেছি, তিনি মৃত্যুভোগ হেতু প্রতাপ ও সমাদরমুকুটে বিভূষিত হইয়াছেন, যেন ঈশ্বরের অনুগ্রহে সকলের নিমিত্ত মৃত্যুর আস্বাদ গ্রহণ করেন

যখন যীশু ‘মৃত্যুর আস্বাদ গ্রহণ করলেন’ তিনি আপনার, আমার এবং প্রত্যেকের জন্য এইরকম করলেন I শুভ শুক্রবার ‘শুভ’ কারণ এটি আমাদের জন্য শুভ  ছিল I   

যীশুর পুনরুত্থান বিবেচিত

যীশু তাঁর পুনরুত্থানকে প্রমাণ করতে নিজেকে মৃত্যু থেকে অনেক দিন ধরে জীবিত দেখিয়েছিলেন, এখানে লিপিবদ্ধ রয়েছে I তবে তাঁর প্রথম আবির্ভাব তাঁর শিষ্যদের কাছে:   

…তাদের কাছে বাজে কথা বলে মনে হয়েছিল

24:10

এর জন্য যীশুকে বলতে হ’ল:

27 আর তিনি মোশির পুস্তক থেকে শুরু করে ভাববাদীদের পুস্তকে তাঁর বিষয়ে যা যা লেখা আছে, শাস্ত্রের সে সব কথা তাঁদের বুঝিয়ে দিলেন

৷লুক 24:27

এবং পরে আবার:

44 তিনি তাঁদের বললেন, ‘আমি যখন তোমাদের সঙ্গে ছিলাম, তখনই তোমাদের এসব কথা বলেছিলাম, আমার সম্বন্ধে মোশির বিধি-ব্যবস্থায়, ভাববাদীদের পুস্তকে ও গীতসংহিতায় যা কিছু লেখা হয়েছে তা পূর্ণ হতেই হবে৷’

লুক 24:44

আমরা কি করে নিশ্চিত হতে পারি যে আমাদেরকে অনন্ত জীবন দেওয়ার জন্য এটি সত্যই ঈশ্বরের পরিকল্পনা ছিল কিনা? একমাত্র ঈশ্বর ভবিষ্যত জানেন I ঋষিগণ কয়েকশত পূর্বে চিহ্ন এবং ভাববাণী সমূহ লিখেছিলেন যাতে আমরা যাচাই করতে পারি যীশু সেগুলিকে পুরণ করেছিলেন কিনা…  

4 যার ফলে আপনি জানবেন, য়ে বিষয়গুলি আপনাকে জানানো হয়েছে সেগুলি

সত্য৷লুক 1:4

যীশুর মৃত্যু এবং পুনরুত্থান সম্পর্কে জ্ঞাত হতে, আমরা অনুসন্ধান করি:

1. হিব্রু বেদ সৃষ্টির পর থেকে আবেগী সপ্তাহকে নৃত্য হিসাবে দেখায় 

2. একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে পুনরুত্থানের প্রমাণ I 

3. পুনরুত্থানের জীবনের এই উপহারটি কিভাবে পাওয়া যায় I

4. ভক্তির মাধ্যমে যীশুকে বুঝুন

5. রামায়ণের চশমার মাধ্যমে সুসমাচার I

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *