কালী, মৃত্যু এবং নিস্তারপর্বের চিহ্ন

কালী সাধারণতঃ মৃত্যুর দেবী বলে পরিচিত, তবে আরও সঠিকভাবে সংস্কৃত শব্দ কাল অর্থাৎ সময় থেকে আসে | কালীর বিগ্রহ ভীতিজনক কারণ তাকে সাধারণতঃ ছিন্ন মুণ্ডমালা এবং ছিন্ন হস্ত সমূহ সহ ঘাগড়া পরিহিত এক হস্তে রক্ত চুঁইয়ে পড়া সদ্যখন্ডিত মস্তক ধারণকারী, সাথে তার স্বামী শিবের শায়িত শরীরের উপরে একটি চরণ স্থাপনকারী রূপে চিত্রিত করা হয় | মৃত্যু সম্পর্কে হিব্রু বেদ – বাইবেলের অন্য একটি কাহিনীকে কালী আমাদের বুঝতে সাহায্য করে |     

শিবের শায়িত শরীরের উপরে দন্ডায়মান কালী ছিন্ন মুন্ড এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের দ্বারা সুসজ্জিত

কালী সম্বন্ধে পুরাণ বর্ণনা করে যে অসুর রাজ মহিষাসুর দেবতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের হুমকি দিল । তাই তারা তাদের সত্তা সমূহের থেকে কালীকে সৃষ্টি   করল । কালী অসুর-সৈন্যদের মাঝখান দিয়ে নির্মমভাবে ছড়িয়ে পড়লেন সকলকে সংহার করলেন যারা তার রাস্তায় এলো । অসুর রাজ মহিষাসুররের সঙ্গে তার লড়াইয়ে যুদ্ধের পরিণতি ছিল যে এক হিংস্র মুখোমুখি সংঘর্ষে তাকে তিনি সংহার করলেন । কালী তার শত্রুদের রক্তাক্ত শারীরিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মধ্য দিয়ে ধ্বংস করলেন, কিন্তু রক্তপাতের মধ্যে এতটাই মত্ত হয়ে গেলেন যে তিনি নিজেকে মৃত্যু ও ধ্বংসের পথ থেকে থামাতে পারলেন না । দেবতারা নিশ্চিত ছিলেন না যে কিভাবে তাকে থামানো যাবে যতক্ষণ না শিব রণ ক্ষেত্রের মধ্যে সজ্ঞাহীন হয়ে স্বৈচ্ছিকভাবে শুয়ে পড়লেন । তাই কালী যখন তার মৃত শত্রুদের মুণ্ড এবং হস্ত সমূহ দ্বারা সজ্জিত হয়ে শায়িত শিবের উপরে পা রাখলেন এবং তার দিকে দৃষ্টিপাত করলেন তিনি তার চেতনায় ফিরে এলেন এবং ধ্বংসলীলা শেষ হল ।         

হিব্রু বাইবেলের নিস্তারপর্বের বিবরণ কালী ও শিবের কাহিনীকে প্রতিবিম্বিত  করে I নিস্তারপর্বের কাহিনী একজন দুতকে নথিভুক্ত করে যে, কালীর মতন, এক মন্দ রাজার বিরুদ্ধে ব্যাপক মৃত্যু নিয়ে আসে I কালীকে থামাতে শিবের দ্বারা একটি আক্রম্য অবস্থান নেওয়ার মতন এই মৃত্যুর দূতকে, যে কোনো গৃহের থেকে আটকে রাখা হয় যেখানে একজন অসহায় মেষ শাবককে বলি দেওয়া হয় I প্রাজ্ঞজনেরা আমাদের বলে যে কালীর এই কাহিনী অহংবোধের  উপরে বিজয়কে সম্পর্কযুক্ত করে I এছাড়াও নিস্তারপর্বের কাহিনীর মধ্যে একটি অর্থ রয়েছে যা নাসরতীয় যীশুর – যেশু সৎসংগের – আগমন এবং তার অহংকারকে পরিত্যাগ করার নম্রতা এবং আমাদের হয়ে নিজের বলিদানকে  নির্দেশ করে I নিস্তারপর্বের কাহিনীটি জানার যোগ্য I           

যাত্রাপুস্তক নিস্তারপর্ব

আমরা দেখলাম তার পুত্রের জন্য কিভাবে ভাববাদী আব্রাহামের বলিদান একটি চিহ্ন ছিল যা যীশুর বলিদানের দিকে নির্দেশ করল I আব্রাহামের পরে, তার বংশধররা তার এই পুত্র ইসহাকের মাধ্যমে, ইস্রায়েলীয়দের ডাকলো, এক বিশাল সংখ্যক লোকে পরিণত হ’ল কিন্তু সাথে সাথে মিসরের দাসও হ’ল I   

অতএব আমরা এখন এক অত্যন্ত নাটকীয় সংগ্রামের মধ্যে এসেছি যাকে ইস্রায়েলীয়দের নেতা মশি কর্ত্তৃক গৃহীত হয়েছিল যেটিকে বাইবেলের যাত্রাপুস্তকে হিব্রু বেদের মধ্যে নথিভুক্ত করা হয়েছে I এটি আব্রাহামের পরে 1500 খ্রীষ্টপূর্বাব্দের আশেপাশে নথিভুক্ত করে কিভাবে মশি ইস্রায়েলীয়দের 500 বছরের মিসরের দাসত্ব থেকে বার করে নিয়ে এল I মিশরের (শাসক) ফৌরণের মুখোমুখি হতে সৃষ্টিকর্তার দ্বারা মশিকে আজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল এবং এটি দুজনের মধ্যে এক দ্বন্দে পরিণত করল যা মিসরের উপরে নটি মহামারী বা বিপর্যয় নিয়ে এলো I কিন্তু ফৌরণ ইস্রায়েলীয়দের মুক্ত হয়ে যেতে সম্মতি দিল না তাই ঈশ্বর দশম এবং চূড়ান্ত মহামারী আনতে যাচ্ছিলেন I দশম মহামারীর সম্পূর্ণ বিবরণটি এখানে রয়েছে I   

ঈশ্বর আদেশ জারি করলেন যে দশম মহামারীর জন্য মৃত্যুর এক দূত (আত্মা) মিসরে সমস্ত গৃহ সমূহের মধ্য দিয়ে যাবে I সমগ্র দেশ ব্যাপী প্রতিটি গৃহে প্রত্যেক প্রথমজাত পুত্র একটি নির্দিষ্ট রাত্রে মারা যাবে কেবল তারা ছাড়া যারা সেই গৃহে থাকবে যেখানে একটি মেষ শাবকের বলির রক্ত ওই গৃহের দরজার চৌকাঠে লাগিয়ে দেওয়া হবে I ফরৌণের দণ্ড, যদি সে না মানে এবং মেষ শাবকের রক্ত তার দরজার চৌকাঠে না লাগায়, তবে তার পুত্র এবং সিংহাসনের অধিকারী মারা যাবে I আর মিসরের প্রত্যেকটি গৃহ তার প্রথমজাত পুত্রকে হারাবে – যদি উৎসর্গকৃত একটি মেষ শাবকের রক্ত দরজার চৌকাঠে লাগানো না হয় I মিশর জাতীয় বিপর্যয়ের সম্মুখীন হ’ল I      

কিন্তু গৃহগুলোর মধ্যে উৎসর্গকৃত একটি মেষ শাবকের রক্তকে দরজার চৌকাঠে লাগিয়ে দেওয়া হলে প্রতিশ্রুতি ছিল যে প্রত্যেকে নিরাপদ থাকবে I মৃত্যুর দূত সেই গৃহকে ছেড়ে যাবে I তাই সেই দিনটিকে নিস্তারপর্ব বলে অভিহিত করা হ’ল (যেহেতু মৃত্যু সমস্ত গৃহকে দরজার চৌকাঠে মেষ শাবকের রক্ত লাগানোর জন্য নিস্তার দিল) I    

নিস্তার পর্বের চিহ্ন

যারা এই কাহিনীটিকে শুনেছে তারা মনে করে যে দরজার উপরে রক্ত মৃত্যুর দুতের জন্য একটি চিহ্ন ছিল I কিন্ত 3500 বছর পূর্বে লিখিত বিবরণ থেকে গৃহীত বিস্ময়কর ঘটনাটিকে দেখুন I 

সদাপ্রভু মশিকে বললেন …” … আমি সদাপ্রভু I তোমরা যে গৃহে থাক তার উপরে রক্ত [নিস্তার পর্বের মেষ শাবকের] একটি তোমার জন্য চিহ্ন হবে; আর আমি যখন রক্ত দেখব, আমি তোমাদেরকে ছেড়ে এগিয়ে যাব

যাত্রাপুস্তক 12:13

যদিও ঈশ্বর দরজার উপরে রক্তের খোঁজ করছিলেন, এবং যখন তিনি এটি দেখলেন মৃত্যু ছেড়ে এগিয়ে যাবে, তখন ঈশ্বরের জন্য রক্ত একটি চিহ্ন ছিল  না I এটি অত্যন্তু স্পষ্টভাবে বলে, যে রক্ত একটি ‘তোমার জন্য চিহ্ন’ ছিল – লোকেদের জন্য I এছাড়া এটি আমাদের জন্যও একটি চিহ্ন যারা এই বিবরণটিকে পড়ে I কিন্তু এটি কিরূপে একটি চিহ্ন হয়? পরবর্তীকালে সদাপ্রভু তাদের আজ্ঞা দিলেন:

27 তখন তোমরা বলবে, ‘এই নিস্তারপর্ব প্রভুকে সম্মান জানাবার জন্য| কেন? কারণ যখন আমরা মিশরে ছিলাম তখন প্রভু আমাদের ইস্রায়েলবাসীদের বাড়ীগুলিকে নিস্তার দিয়েছিলেন| প্রভু মিশরীয়দের হত্যা করেছিলেন কিন্তু আমাদের লোকদের বাড়ীগুলো রক্ষা করেছিলেন| সুতরাং লোকে নত হয়ে প্রভুর উপাসনা করল|”

যাত্রা পুস্তক 12:24-27
Jewish man with lamb at Passover

নিস্তারপর্বের মেষশাবকের সাথে যিহূদি লোকটি

প্রতি বছর একই দিনে নিস্তারপর্ব উদযাপন করতে ইস্রাযেলীয়দের আজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, এটি হিন্দু ক্যালেন্ডারের মতন একটি চান্দ্র ক্যালেন্ডার, তাই এটি পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডারের থেকে একটু আলাদা, এবং পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডার অনুসারে প্রতি বছর উৎসবের দিন পরিবর্তিত হয় I কিন্তু আজ পর্যন্ত, 3500 বছর পরেও, যিহূদি লোকেরা এই ঘটনাকে স্মৃতি এবং তাদের প্রতি প্রদত্ত সেই আজ্ঞার বাধ্যতা অনুসারে তাদের বছরের সেই একই দিনে নিস্তারপর্বের উদযাপনকে একটি উৎসব রূপে পালন করে আসছে I      

নিস্তারপর্বের চিহ্ন প্রভু যীশুর দিকে ইঙ্গিত করছে

ইতিহাসের মাধ্যমে এই উৎসবটির উপরে নজর রাখতে গিয়ে আমরা একেবারে  অসাধারণ কিছু লক্ষ্য করি I সুসমাচারের মধ্যে আপনি এটি দেখতে পারেন যেখানে এটি যীশুর গ্রেফতার এবং বিচারের বর্ণনা করে (সেই প্রথম নিস্তারপর্বের মহামারীর 1500 বছর পরে):  

28 এরপর তারা যীশুকে কায়াফার বাড়ি থেকে রাজ্যপালের প্রাসাদে নিয়ে গেল৷ তখন ভোর হয়ে গিয়েছিল৷ তারা নিজেরা রাজ্যপালের প্রাসাদের ভেতরে য়েতে চাইল না, পাছে অশুচিহয়ে পড়ে, কারণ তারা নিস্তারপর্বের ভোজ খেতে

চাইছিল৷যোহন 18:28

39 কিন্তু তোমাদের এমন এক রীতি আছে, সেই অনুসারে নিস্তারপর্বের সময়ে একজন বন্দীকে মুক্তি দিয়ে থাকি৷ বেশ তোমাদের কি ইচ্ছা, আমি তোমাদের জন্য ‘ইহুদীদের রাজাকে’

ছেড়ে দেব?’যোহন 18:39

অন্য কথায়, যিহূদি ক্যালেন্ডারের ঠিক সেই নিস্তারপর্বের দিনে যীশুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং ক্রুশারোপনের জন্য পাঠানো হয়েছিল I যীশুকে দেওয়া শিরোনামগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল 

 29 পরের দিন য়োহন যীশুকে তাঁর দিকে আসতে দেখে বললেন, ‘ঐ দেখ, ঈশ্বরের মেষশাবক, যিনি জগতের পাপরাশি বহন করে নিয়ে যান!
30 ইনিই সেই লোক, য়াঁর বিষয়ে আমি বলেছিলাম, ‘আমার পরে একজন আসছেন, কিন্তু তিনি আমার থেকে মহান, কারণ তিনি আমার অনেক আগে থেকেই আছেন৷’

যোহন 1:29-30

এখানে আমরা দেখি আমাদের জন্য নিস্তারপর্ব কিরূপে একটি চিহ্ন হয় I ‘ঈশ্বরের মেষ শাবক’ যীশু, ক্রুশারোপিত হলেন (অর্থাৎ উৎসর্গ করা হল) বছরের বিশেষ একই দিনে যেমন সমস্ত যিহূদিগণ প্রথম নিস্তারপর্বের স্মৃতিতে একটি মেষ শাবককে উৎসর্গ করছিল যা 1500 বছর পূর্বে ঘটেছিল I এটি দুটি ছুটির বাৎসরিক সময়ের ব্যাখ্যা করে যা প্রত্যেক বছর পুন: পুন: ঘটে I যিহূদিদের নিস্তারপর্বের উৎসব প্রতি বছর প্রায় ইষ্টারের সময়ে ঘটে – একটি ক্যালেন্ডার পরীক্ষা করে দেখুন I(যিহূদি ক্যালেন্ডারের মধ্যে চান্দ্র-ভিত্তিক লিপ বছরের চক্রের জন্য প্রতি 19 বছরে একটি মাসের একটি অপসারণ হয়)I এই জন্যই প্রতি বছর ইষ্টার সরে যায় কারণ এটি নিস্তারপর্বের উপরে ভিত্তিশীল, আর নিস্তারপর্ব যিহূদি ক্যালেন্ডারের সময় অনুসারে নির্ধারিত হয় যার হিসাব  পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডারের থেকে আলাদা I           

এখন এক মিনিটের জন্য ভাবুন ‘চিহ্নগুলো’ কিসের জন্য I আপনি এখানে নিচে কিছু চিহ্ন দেখতে পারেন I 

Flag_of_India

 

ভারতবর্ষের একটি চিহ্ন

Signs

 

বানিজ্যিক চিহ্নগুলো আমাদেরকে ম্যাকডোনাল্ডস এবং নাইক সম্পর্কে ভাবায়

পতাকা একটি চিহ্ন বা ভারতবর্ষের প্রতীক I আমরা কেবলমাত্র কমলা এবং একটি সবুজ রঙের ফিতে ঘেরা একটি সমকোণী চতুর্ভুজকে ‘দেখি’ না I না. আমরা যখন পতাকাটি দেখি আমরা ভারতবর্ষের কথা ভাবি I ‘সোনার তোরণের’ চিহ্ন আমাদেরকে ম্যাকডোনাল্ডসের সম্বন্ধে ভাবায় I নাদালের মাথার ফিতের উপরে ‘√’ চিহ্ন নাইকের জন্য I নাইক চায় আমরা তাদের জন্য চিন্তা করি যখন আমরা নাইকের উপরে এই চিহ্ন দেখি I অভীষ্ট বস্তুর প্রতি আমাদের মনের মধ্যে ভাবনাকে নির্দেশ করার জন্য চিহ্নগুলো নির্দেশক সমূহ হয় I     

যাত্রাপুস্তকের হিব্রু বেদের নিস্তারপর্বের বিবরণ সুস্পষ্টভাবে বলল যে চিহ্নটি  লোকেদের জন্য ছিল, সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বরের জন্য নয় (যদিও তিনি তখনও রক্ত এবং গৃহের নিস্তারের দিকে লক্ষ্য রেখেছিলেন যাতে তিনি এটিকে দেখতে পান) I এই চিহ্নগুলোর সাথে সাথে, তিনি আমাদের কি ভাবাতে চেয়েছিলেন যখন আমরা নিস্তারপর্বের দিকে দেখি? যীশুর সাথে সাথে একই দিনে মেষ শাবকদের উৎসর্গ হওয়ার উল্লেখযোগ্য সময়ের সাহায্যে, এটি যীশুর বলিদানের প্রতি একটি নির্দেশক হয় I   

এটি আমাদের মনের মধ্যে কার্য করে যেমন আমরা নিচে দেখিয়েছি I চিহ্নটি আমাদেরকে যীশুর বলিদানের প্রতি ইঙ্গিত দেয় I

passover-and-jesus

নিস্তারপর্বের সময়ে যীশুর বলিদানের নির্ভুল সময়টি একটি চিহ্ন

সেই প্রথম নিস্তারপর্বে মেষ শাবকদের বলি দেওয়া হয়েছিল এবং রক্ত ছড়ানো হয়েছিল যাতে লোকেরা বাঁচতে পারে I আর এইরূপে, যীশুর প্রতি ইঙ্গিতকারী এই চিহ্ন হল আমাদের বলতে যে তাঁকে ‘ঈশ্বরের মেষ শাবককে’, আবারও মৃত্যুতে একটি বলি রূপে উৎসর্গীকৃত করা হল এবং তাঁর রক্ত ছড়িয়ে পড়ল যাতে আমরা জীবন পেতে পারি

আব্রাহামের চিহ্নর মধ্যে স্থানটি ছিল পর্বত মোরিয়া যেখানে তার পুত্রের বলিদানের মাধ্যমে আব্রাহামকে পরীক্ষা করা হয়ছিল I একটি মেষ শাবক মারা গেল তাই আব্রাহামের পুত্র বাঁচতে পারল I

The Sign of Abraham was pointing to the location

আব্রাহামের চিহ্ন স্থানটির দিকে নির্দেশ করছিল

পর্বত মোরিয়া বিশেষ একই স্থান ছিল যেখানে যীশুকে উৎসর্গ করা হয়েছিল I স্থানটির প্রতি ইঙ্গিত করার দ্বারা আমাদেরকে তার মৃত্যুর অর্থ দেখাবার জন্য ওটি  একটি চিহ্ন ছিল I নিস্তারপর্বের মধ্যে যীশুর বলিদানের প্রতি আর একটি নির্দেশককে দেখি – বছরের মধ্যে একই দিনকে ইঙ্গিত করার দ্বারা I মেষ শাবকের বলিদানকে আর একবার ব্যবহার করা হল – দেখায় যে এটি একটি ঘটনার কেবল একটি সমাপতন নয় – বরং যীশুর বলিদানের দিকে নির্দেশ করে I দুটি ভিন্ন উপায়ে (স্থান এবং সময়ের মাধ্যমে) পবিত্র হিব্রু বাইবেলের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উৎসবগুলোর মধ্যে দুটি যীশুর বলিদানের দিকে সরাসরিভাবে ইঙ্গিত করে I ইতিহাসের মধ্যে আমি এমন কোনো ব্যক্তির সম্বন্ধে ভাবতে পারি না যার মৃত্যু সম্বন্ধে এই ধরণের নাটকীয় কায়দার মধ্যে এই প্রকারের সমান্তরাল সমূহের দ্বারা এমনভাবে পূর্বাভাস দেওয়া  হয়েছে I আপনি কি পারেন?

এই চিহ্নগুলো দেওয়া হয়েছে যাতে আমাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস থাকতে পারে যে যীশুর বলিদান প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরের দ্বারা পরিকল্পিত এবং অভিষিক্ত হয়েছিল I একটি চিত্রকে দেওয়ার জন্য এটি ছিল যা আমাদের দৃষ্টিগোচর করতে সাহায্য করে কিভাবে যীশুর বলিদান মৃত্যুর থেকে আমাদের রক্ষা করে এবং পাপের থেকে আমাদের শুদ্ধ করে – সকলের কাছে ঈশ্বরের উপহার যারা এটিকে গ্রহণ করবে I     

সূর্যের নিচে জীবনের পরিতৃপ্তি খোঁজার মায়া

মায়া সংস্কৃত থেকে এসেছে তার অর্থ হ’ল ‘সেটা যেটা নেই’ এবং অতএব ‘মায়া’ I বিভিন্ন প্রাজ্ঞ পুরুষরা এবং দার্শনিক গোষ্ঠী মায়ার বিভ্রমের উপরে ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে জোর দিয়েছিলেন কিন্তু সাধারণভাবে ধারণাটি প্রকাশ করে যে জাগতিক বা ভৌতিক আমাদের আত্মাকে ভুল পথে চালিত করতে পারে এবং এইরূপে দাসত্বের মধ্যে একে জড়াতে এবং ফাঁদে ফেলতে পারে I আমাদের আত্মা পদার্থ নিয়ন্ত্রণ করতে এবং উপভোগ করতে আকুলভাবে আকাঙ্খী I যাইহোক, এর ফলে আমরা শেষ পর্যন্ত লালসা, লোভ এবং ক্রোধের সেবা করি I আমরা তখন প্রায়শই আমাদের প্রচেষ্টাকে দ্বিগুন করি এবং চক্রবৃদ্ধিহারে ভুলের উপর ভুল করে, মায়া বা বিভ্রমের গভীরে পড়ি I এইরূপে মায়া একটি ঘুর্নির মতন কাজ করতে পারে যেটি শক্তি বৃদ্ধির সাথে, একের পর এক ফাঁদে ফেলে একজনকে হতাশার দিকে নিয়ে যায় I মায়ার ফলে স্বীকার্য হয় যে যেটি অস্থায়ী সেটির মূল্য যেন স্থায়ী লাগে, এবং এই জগতে স্থায়ী সুখের খোঁজ করি যা এ দিতে পারে না I       

প্রজ্ঞার সনাতন তামিল বই, তিরুক্কুরাল, আমাদের উপরে মায়া এবং তার প্রভাবকে এইভাবে বর্ণনা করেছে  

 “কেউ যদি তার মোহগুলোতে আঁকড়ে থাকে, যেতে দিতে অস্বীকার করে তবে দুঃখগুলো তার উপরে কবজাকে যেতে দেবে না” 

তিরুক্কুরাল 35.347-348

হিব্রু বেদের মধ্যে তিরুক্কুরালের মতন অনেকটা একইরকম প্রজ্ঞার সাহিত্য আছে I এই প্রজ্ঞার কবিতার রচয়িতা ছিলেন শলোমন I তিনি বর্ণনা করেন কিভাবে তিনি ‘সূর্যের নিচে’ থাকার সাথে সাথে মায়া এবং এর প্রভাবের অভিজ্ঞতা লাভ করেছিলেন – অর্থাৎ, যেন কেবল বস্তুর মূল্য আছে বলে বাস করা, এবং সূর্যের পথের নিচে কেবলমাত্র এই ভৌতিক জগতের মধ্যে স্থায়ী সুখের খোঁজ করা 

 ‘সূর্যের নিচে’ মায়ার সম্বন্ধে শলোমনের অভিজ্ঞতা

শলোমন, তার প্রজ্ঞার জন্য বিখ্যাত এক প্রাচীন রাজা, 950 খ্রীষ্টপূর্বাব্দের আশে পাশে একাধিক কবিতা লিখেছিলেন যেটি বাইবেলের পুরনো নিয়মের অংশ I উপদেশকের মধ্যে, তিনি সেই সমস্ত গুলো বর্ণনা করলেন যা তিনি জীবনে পরিতৃপ্তি পেতে করেছিলেন I তিনি লিখলেন: 

মি নিজেকে বলেছিলাম, “আমি যতটা সম্ভব সব কিছুকে উপভোগ করব|” কিন্তু আমি জানতে পেরেছিলাম য়ে এসবই অসার|
2 হাসি জিনিষটা বোকামি; আনন্দ কোন উদ্দেশ্য সিদ্ধ করে না|
3 তাই আমি ঠিক করেছিলাম দ্রাক্ষারস পান করে শরীরকে ও জ্ঞানলাভ করে মনকে ভাল রাখব| আমি এরকম বোকামি করেছিলাম কারণ আমি সুখের সন্ধান পেতে চেয়েছিলাম| আমি বুঝতে চেয়েছিলাম এই অল্প দিনের জীবনে মানুষের কি করা উচিত্‌|
4 তারপর আমি নানা মহত্‌ কাজ করতে শুরু করেছিলাম| আমি নিজের জন্য নানা জায়গায় বাড়ি তৈরী করেছিলাম| দ্রাক্ষার ক্ষেত তৈরী করেছিলাম|
5 আমি বাগান করেছিলাম| উপবন করেছিলাম, আমি সব রকম ফলের গাছ লাগিয়েছিলাম|
6 আমি নিজের জন্য পুকুর কাটিযে ছিলাম| আমি সেই পুকুরের জল আমার বাগানের গাছে দেওয়ার জন্য ব্যবহার করতাম|
7 আমি পুরুষ ও স্ত্রী এীতদাস কিনেছিলাম এবং আমি যখন তাদের মালিকানা পেলাম তখন তাদের ছেলেমেযে ছিল| আমার অনেক ঐশ্বর্য় ছিল| আমার অনেক গরু ও মেষের পাল ছিল| আমি এত ধনী ছিলাম য়ে সে রকম ধনী জেরুশালেমে কেউ ইতিপূর্বে ছিল না|
8 আমি আমার নিজের জন্য সোনা ও রূপা সংগ্রহ করেছিলাম| আমি বিভিন্ন দেশের রাজাদের কাছ থেকে ধন সংগ্রহ করেছিলাম| আমাকে খুশী করার জন্য অনেক গায়ক ও গাযিকা ছিল| আমার কাছে সবই ছিল যা সকলের কাছে রয়োজনীয়| আমার কাছে সমস্ত রকমের বাদ্যযন্ত্র ছিল|
9 আমি বিরাট ঐশ্বর্য়্য় ও খ্যাতি লাভ করেছিলাম| জেরুশালেমে আমার আগে য়ে সমস্ত লোক ছিল আমি ছিলাম তাদের সবার চেয়ে মহত্‌| আমার জ্ঞান ছিল সব সময় আমার সহায়|
10 আমার চোখে যা ভাল লাগত এবং আমাকে যা খুশী করত, আমি তা সবই পেতাম| আমি কঠিন পরিশ্রম করে যা কিছু করেছিলাম তা নিয়ে আনন্দিত ছিলাম এবং আমার এই সব জিনিস প্রাপ্য ছিল, কারণ আমি এর জন্য কাজ করেছিলাম|

উপদেশক 2:1-10

ঐশ্বর্য, খ্যাতি, জ্ঞান, প্রকল্প, স্ত্রী, আমোদ, রাজ্য, পেশা, দ্রাক্ষারস… শলোমনের কাছে এই সমস্ত ছিল – এবং এটি তার সময়ের কারোর বা আমাদের থেকেও বেশি I এক আইনস্টাইনের বুদ্ধিমত্তা, লক্ষী মিত্তলের ঐশ্বর্য, এক বলিউড তারকার সামাজিক/যৌন জীবন, তার সাথে ব্রিটিশ রাজকীয় পরিবারের রাজকুমার উইলিয়ামের মতন এক রাজকীয় বংশতালিকা – সব একটির মধ্যে সম্মিলিত হয়েছিল I কে ওই সম্মেলনকে হারাতে পারে? আপনি ভাববেন সমস্ত লোকেদের মধ্যে তিনি, পরিতৃপ্ত হয়ে থাকবেন I    

শ্রেষ্টগীতের তার কবিতার অন্য একটির মধ্যে, যা বাইবেলের মধ্যেও আছে, তিনি তার মধ্যে থাকা একটি উদ্রেককারী, প্রচন্ড প্রণয়লীলাকে নথিভুক্ত করেন – বিশেষ বস্তুটি যা খুব সম্ভবতঃ জীবন-ব্যাপী সুখ দেবে বলে মনে হয় I সম্পূর্ণ কবিতাটি এখানে রয়েছে I তবে নিচে তার এবং তার প্রেমিকের মধ্যে প্রেম বিনিময়ের কবিতার একটি অংশ রয়েছে I  

শ্রেষ্ঠগীতের নির্যাস

তিনি
9 আমি তোমাকে আমার প্রিয়তমের সাথে একটি গাঁয়ের সাথে তুলনা করছি
ফেরাউনের রথের ঘোড়াগুলির মধ্যে।
10 আপনার গাল কানের দুল দিয়ে সুন্দর,
আপনার গলায় রত্নের স্ট্রিং
11 আমরা আপনাকে সোনার কানের দুল তৈরি করব,
রূপা দিয়ে জড়িত।

সে
12 রাজা যখন তাঁর টেবিলে ছিলেন,
আমার সুগন্ধি তার সুগন্ধ ছড়িয়েছে
13 আমার প্রিয় আমার কাছে গন্ধযুক্ত এক থলি
আমার স্তনের মাঝে বিশ্রাম নিচ্ছি
14 আমার প্রিয় আমার কাছে মেহেদী ফুল ফোটে
Gন গেদীর দ্রাক্ষাক্ষেত্র থেকে।

তিনি
15 তুমি কত সুন্দর!
ওহ, কত সুন্দর!
তোমার চোখ কপোত।

সে
16 তুমি কত সুন্দর!
ওহ, কত মনোরম!
এবং আমাদের বিছানা বৃষ্টির হয়।

তিনি

17 আমাদের বাড়ির মরীচিগুলি देवदार;
আমাদের rafters firs হয়।

সে
3 বনের গাছের মধ্যে একটি আপেল গাছের মতো
যুবকদের মধ্যে আমার প্রিয়।
আমি তার ছায়ায় বসে আনন্দিত,
এবং তার ফল আমার স্বাদ মিষ্টি।
4 সে আমাকে বনভোজন ঘরে নিয়ে যাবে,
এবং আমার উপর তার ব্যানার প্রেম হতে দিন।
5 কিসমিস দিয়ে আমাকে শক্ত করুন,
আপেল দিয়ে আমাকে সতেজ করুন,
কারণ আমি ভালবাসায় অজ্ঞান।
6 তাঁর বাম হাতটি আমার মাথার নীচে,
এবং তাঁর ডান বাহু আমাকে জড়িয়ে ধরে।
7 জেরুশালেমের কন্যারা, আমি তোমাকে এই আদেশ দিই
গ্যাজেলেস এবং ক্ষেত্রের কাজ দ্বারা:
জাগ্রত বা জাগ্রত করবেন না
যতক্ষণ না এটি ইচ্ছা করে। ()

গান 1: 9 – 2: 7

প্রায় 3000 বয়সী এই কবিতার মধ্যে, বলিউডের সেরা প্রেমের চলচ্চিত্রগুলোর  রোমাঞ্চকর তীব্রতা রয়েছে I বাইবেল নথিভুক্ত করে যে তার অগাধ ধনের  সাহায্যে তিনি 700 উপপত্নী পেয়েছিলেন I সেটি বলিউড বা হলিউডের উর্বর  প্রেমিকদের চেয়ে অনেক বেশি কখনও হয়ে থাকবে I তাই আপনি ভাববেন যে সেই সমস্ত পেমের সাহায্যে তিনি পরিতৃপ্ত হবেন I কিন্তু সেই সমস্ত প্রেম, সমস্ত ঐশ্বর্য, সমস্ত খ্যাতি এবং সমস্ত প্রজ্ঞা থাকা স্বত্তেও – তিনি উপসংহারে বললেন:   

  গুলি হল, উপদেশকের কথা যিনি ছিলেন দায়ূদের পুত্র এবং জেরুশালেমের রাজা|
2 সবই এত অর্থহীন! তাই উপদেশকের মতে সবই অসার, সবই সময়ের অপচয!
3 মানুষ সূর্য়ের নীচে য়ে কঠিন পরিশ্রম করে সে কি তার কোন ফল পায়? না!
4 বংশপরম্পরা পর্য়ায়এমে আসে এবং যায়| কিন্তু পৃথিবী চিরন্তণ|
5 সূর্য় ওঠে আবার অস্ত যায়| তারপর দ্রুত ফিরে যায় সেই একই জায়গায় য়েখান থেকে আবার সূর্য় ওঠে|
6 বাতাস দক্ষিণে বয় এবং উত্তরেও বয়| বাতাস চারিদিক ঘুরে ঘুরে আবার তার নিজের জায়গায় ফিরে যায়|
7 সব নদী বার বার একই দিকে বয়ে চলে| সমস্ত নদীই সমুদ্রে গিয়ে মেশে কিন্তু সমুদ্র কখনও পূর্ণ হয় না|
8 সব কথাই ক্লান্তিকর| কিন্তু তবুও লোকে কথা বলে| আমরা সব সময়ই কথা শুনি কিন্তু তাতে আমরা সন্তুষ্ট হই না| আবার সব সময় আমরা য়ে সব জিনিস দেখি তাতেও আমাদের মন ভরে না|
9 সব জিনিসই সৃষ্টির সময় য়েমন ছিল সে রকমই থেকে যায়| যা আগে করা হয়েছে তাই আবার পরেও করা হবে| সূর্য়ের নীচে কোন কিছুই নতুন নয়|
10 এমন কোন কিছু নেই যাকে কোন ব্যক্তি নতুন বলতে পারে! য়ে জিনিসকে মানুষ নতুন বলবে তা আমাদের জন্মের আগে থেকেই বর্তমান|
11 যা অনেক আগে ঘটে গেছে সে ঘটনা লোকে মনে রাখে না| এখন যা ঘটছে ভবিষ্যতে তা লোকে ভুলে যাবে| পরবর্তী প্রজন্ম মনেও রাখবে না আগেকার লোক তাদের জন্য কি করে গেছে|
12 আমি উপদেশক, আমি ছিলাম জেরুশালেমের অন্তর্গত ইস্রায়েলের রাজা|
13 সূর্য়ের নীচে যা কিছু ঘটে তাকে আমি প্রজ্ঞা দ্বারা জানতে চেয়েছিলাম| আমি জানতে পেরেছিলাম য়ে ঈশ্বর লোকদের যা করতে দেন তা খুবই কঠিন ও কষ্টকর|
14 আমি দেখেছিলাম সূর্য়ের নীচে যা কিছু করা হয় তা সবই অসার, সময়ের অপচয় মাত্র| এ য়েন অনেকটা হাওয়ার পেছনে ছোটা|

উপদেশক 1:1-14

  11 কিন্তু আমি যখন আমার সমস্ত কাজের কথা, পরিশ্রমের কথা চিন্তা করলাম তখন দেখলাম সবই সময়ের অপচয! এসবই ছিল হাওযার পিছনে ছোটা| সূর্য়ের নীচে আমরা যা করি তাতে কোন লাভ নেই|
12 এক জন পুরাতন রাজা ইতিমধ্যেই যা করেছে, এক জন নতুন রাজা তার চেয়ে বেশী কিছু করতে পারে না| তাই আমি আমার বিজ্ঞতার, ভুলভ্রান্তির ও পাগলামির কথা আবার ভাবতে শুরু করলাম|
13 অন্ধকারের থেকে আলো য়েমন ভালো জ্ঞানও ঠিক তেমনি অজ্ঞানতার চেয়ে ভালো|
14 এক জন জ্ঞানী মানুষ তার পথ দেখবার জন্য তার চোখ ব্যবহার করে| কিন্তু য়ে মূর্খ সে শুধুই অন্ধকারে ঘুরে বেড়ায়|কিন্তু আমি লক্ষ্য করলাম য়ে এক জন জ্ঞানী ও মূর্খ উভয়ের পরিসমাপ্তি একই| অবশেষে তারা উভয়েই মারা যায়|
15 আমি নিজে ভেবেছিলাম, “এক জন মূর্খের য়ে পরিণতি হয় আমারও তাই হবে| তবে আমি কেন জ্ঞান লাভের জন্য এত কঠিন পরিশ্রম করব?” আমি নিজেকে বললাম, “জ্ঞানী হওয়াও অর্থহীন|”
16 জ্ঞানী ও মূর্খ উভয়েরই পরিণতি মৃত্যু এবং মানুষ জ্ঞানী বা মূর্খ কাউকেই চিরকাল মনে রাখবে না| তারা যা কিছু করেছিল ভবিষ্যতে তা মানুষ ভুলে যাবে| তাই জ্ঞানী ও মূর্খ প্রকৃত অর্থে একই|
17 এতে আমার জীবনের প্রতি ঘৃণা এসে গেল| আমার মনে হল য়ে পৃথিবীতে আমার কাছে যা কিছু আছে তা সবই অর্থহীন| সবই হাওযাকে ধরবার চেষ্টা করবার মত|
18 সূর্য়ের নীচে আমার সমস্ত কঠিন পরিশ্রমের কাজে আমার ঘৃণা জন্মেছিল| যার জন্য আমি কঠিন পরিশ্রম করে গিয়েছি তা আমার পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রেখে যাব| আমার কঠিন পরিশ্রমের ফল আমি আমার সঙ্গে রাখতে পারব না|
19 আমি যা কিছু শিখেছি এবং যা কিছু কাজ করেছি তা অন্য কোন লোক নিয়ন্ত্রণ করবে| এমনকি আমি এটাও জানতে পারব না য়ে সে জ্ঞানী হবে কি মূর্খ| এটাও অসার|
20 আমি সূর্য়ের নীচে যা কিছু কাজ করেছি তার জন্য আমি দুঃখিত|
21 এক জন ব্যক্তি তার সমস্ত প্রজ্ঞা, জ্ঞান ও পারদর্শীতা দিয়ে কঠিন পরিশ্রম করতে পারে| কিন্তু তার পরিশ্রমের ফল তার মৃত্যুর পর অন্য লোক ভোগ করবে| সেই লোকরা বিনা আয়াসে সব কিছু পেয়ে যাবে| এটাও অসার এবং এ একটা ভীষণ পাপ|
22 এক জন ব্যক্তি সূর্য়ের নীচে তার জীবনভর সংগ্রামের পর কতটুকু পায়?
23 সে সারা জীবন পায় শুধু যন্ত্রণা, হতাশা আর কঠিন পরিশ্রম| এমনকি রাতেও সে বিশ্রাম পায় না| এটাও অসার|

উপদেশক 2:11-23

চূড়ান্তভাবে তৃপ্তি দেওয়ার জন্য আনন্দ, সম্পদ, কাজ, প্রকল্প, রোমাঞ্চকর প্রেমের প্রতিশ্রুতিকে তার দ্বারা একটি মায়া রূপে দেখানো হয়েছিল I তবে আজ এটি একই বার্তা যা আপনি এবং আমি এখনও পরিতৃপ্তির নিশ্চিত পথ রূপে   শুনছি I শলোমনের কবিতা আমাদের আগেই বলেছে যে সেই উপায়গুলোতে তিনি পরিতৃপ্তিকে পেতে সক্ষম হন নি I   :

শলোমন মৃত্যু তথা জীবনের উপরে অনুধাবন করতে তার কবিতা চালিয়ে গেলেন:

  19 মানুষ কি পশুদের চেয়ে শ্রেয়? না! কেন? কারণ সব কিছুই অর্থহীন| পশু এবং মানুষদের ক্ষেত্রে একই ব্যাপার ঘটে- উভয়েরই মৃত্যু আসে| মানুষ এবং পশুরা একই “নিঃশ্বাস” নেয়| একটি মৃত মানুষ ও মৃত পশুর মধ্যে কি কোনও পার্থক্য আছে?
20 মানুষ এবং পশুদের দেহ একই ভাবে বিলীন হয়| তারা মাটি থেকেই আসে এবং মাটিতেই ফিরে যায়|
21 কে জানে মানুষের আত্মার কি হয়? কে বলতে পারে পশুর কোন আত্মা যখন মাটির নীচে প্রবেশ করছে তখন হয়তো কোন মানুষের আত্মা ঈশ্বরের কাছে যাচ্ছে?

উপদেশক 3:19-21

  2 কিন্তু সবার ক্ষেত্রে একই জিনিস ঘটে| ভাল ও মন্দ উভয় ধরণের লোকরাই মারা যান| শুচি ও অশুচি দুধরণের লোকের কাছেই মৃত্যু আসে| যারা ঈশ্বরকে নৈবেদ্য দেয় না তাদের মতো যারা ঈশ্বরকে নৈবেদ্য দেয় তারাও মারা যায়| এক জন ভাল লোকও এক জন পাপীর মত মারা যায়| য়ে ব্যক্তি ঈশ্বরের কাছে বিশেষ প্রতিশ্রুতি দেয় সেও সেই ব্যক্তির মতো মারা যায়, য়ে ঈশ্বরের কাছে প্রতিশ্রুতি দিতে ভয় পায়|
3 সূর্য়ের নীচে যা কিছু খারাপ ঘটনা ঘটে প্রত্যেকের ক্ষেত্রে একই পরিণতি হয়| এটাও খুবই খারাপ য়ে লোকেরা সবসময় মন্দ ও মূর্খের মতো চিন্তা করবে এবং সেই চিন্তা তাকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাবে|
4 য়ে এখনও বেঁচে আছে সে য়েই হোক না কেন তার জন্য আশা আছে| এই প্রবাদটি সত্যি য়ে:জীবিত কুকুর মৃত সিংহের চেয়ে শ্রেয়|
5 জীবিত মানুষ জানে য়ে সে মারা যাবে| কিন্তু মৃত মানুষ কিছু জানে না| মৃত মানুষের আর কোন কিছু পাওয়ার নেই| মানুষ খুব তাড়াতাড়ি তাকে ভুলে যাবে|

উপদেশক 9:2-5

একটি পবিত্র বই বাইবেলেতে, কেন ধন এবং প্রেমের অনুধাবন সম্পর্কে কবিতা থাকবে – যে বিশেষ জিনিসগুলোকে আমরা পবিত্রতার সঙ্গে যুক্ত করি না? আমাদের মধ্যে অধিকাংশ আশা করে পবিত্র বইগুলো বেঁচে থাকার জন্য তপস্যা, ধর্ম এবং নৈতিক উপদেশগুলো নিয়ে আলোচনা করবে i আর কেন শলোমন বাইবেলে মৃত্যু সম্পর্কে এমন চূড়ান্ত এবং নিরাশাবাদী উপায় লেখেন?   

যে পথ শলোমন গ্রহণ করেছিলেন, এত সাধারণভাবে জগত জুড়ে অনুসৃত হয়েছিল, তা নিজের জন্য বেঁচে থাকতে ছিল, যাই মানে সৃষ্টি করুক না কেন, আনন্দ বা আদর্শগুলোকে অনুসরণ করতে তিনি বেছে নিয়েছিলেন I কিন্তু শলোমনের জন্য সেই পরিসমাপ্তি ভাল ছিল না – পরিতৃপ্তি ছিল অস্থায়ী এবং মায়া i বাইবেলের মধ্যে তার কবিতাগুলো একটি বড় সাবধানের চিহ্ন ছিল – “এখানে যেও না – এটি তোমাকে নিরাশ করবে!” যেহেতু আমাদের মধ্যে প্রায় অধিকাংশ শলোমনের দ্বারা গৃহীত সেই একই পথ ধরে এগোতে চেষ্টা করব আমরা জ্ঞানী হব যদি আমরা তার কথা শুনি i    

সুসমাচার – শলোমনের কবিতার উত্তর

যীশু খ্রীষ্ট (যেশু সতসংগ) সম্ভবত সর্বাধিক সু-পরিচিত ব্যক্তি যার সমন্ধে বাইবেলে লেখা হয়েছে I তিনিও জীবন সম্বন্ধে বক্তব্য রেখেছেন I আসলে তিনি বললেন

 “… আমি এসেছি যাতে তারা জীবন পায় এবং উপচয় পায়”

যোহন 10:10

  28 ‘তোমরা যাঁরা শ্রান্ত-ক্লান্ত ও ভারাক্রান্ত মানুষ, তারা আমার কাছে এস, আমি তোমাদের বিশ্রাম দেব৷
29 আমার জোয়াল তোমাদের কাঁধে তুলে নাও, আর আমার কাছ থেকে শেখ, কারণ আমি বিনযী ও নম্র, তাতে তোমাদের প্রাণ বিশ্রাম পাবে৷
30 কারণ আমার দেওয়া জোয়াল বয়ে নেওয়া সহজ ও আমার দেওয়া ভার হাল্কা৷’

মথি 11:28-30

যীশু যখন এটি বলেন তখন তিনি শলোমনের দ্বারা তার কবিতার মধ্যে লিখিত নিষ্ফলতা ও আশাহীনতার উত্তর দেন I হতে পারে, কেবলমাত্র হতে পারে, শলোমনের পথের কানা-গলির প্রতি এখানে একটি উত্তর I সর্বোপরি, গসপেলের আক্ষরিক অর্থ ‘সুসমাচার’ I গসপেল সত্যিই কি সুসমাচার? এর উত্তর দেওয়ার জন্য আমাদের কাছে সুসমাচারের একটি অবগত উপলব্ধির প্রয়োজন i এছাড়াও সুসমাচারের দাবিগুলোকে আমাদের পরীক্ষা করার প্রয়োজন রয়েছে – কেবলমাত্র একজন নির্বোধ সমালোচক না হয়ে, সুসমাচার সম্বন্ধে গম্ভীরভাবে চিন্তা করতে হবে I    

আমার কাহিনীর মধ্যে আমার শেয়ার করার সময় এটি ছিল আমার এক   যাত্রা I এই ওয়েবসাইটের মধ্যে এখানে নিবন্ধগুলো রয়েছে যাতে আপনিও অন্বেষণ করতে পারেন I যীশুর অবতার শুরু করার জন্য একটি উত্তম স্থান I  

পর্বতকে পবিত্র করার বলিদান

কৈলাশ পর্বত (বা কৈলাসা) ভারতের সীমার ঠিক ওপারে চীনের তিব্বতীয় অঞ্চলে একটি পর্বত I হিন্দু, বৌদ্ধ এবং জৈনরা কৈলাশ পর্বতকে একটি পবিত্র পর্বত রূপে গন্য করে I হিন্দুদের জন্য, কৈলাশ পর্বত স্ত্রী সঙ্গী, দেবী পার্বতী (উমা,গৌরী বলেও পরিচিত) এবং তাদের বংশধর প্রভু গনেশ (গণপতি বা বিনায়ক) সহ প্রভু শিবের (বা মহাদেব) নিবাস স্থান রূপে বিবেচনা করে I সহস্রাধিক হিন্দু এবং জৈন কৈলাশ পর্বতে তীথযাত্রা করে পবিত্র রীতিতে এর চতুর্দিকে ভ্রমণ করে এবং এর দেওয়া আশীর্বাদ গ্রহণ করে I   

কৈলাশে প্রভু শিব তার মস্তক ছিন্ন করে গনেশকে হত্যা করলেন যখন গনেশ তাকে পার্বতীকে তার স্নানের সময়ে দেখতে বাধা দিল I এইরূপে গনেশের সুপরিচিত কাহিনী শুরু হয় কিভাবে সে মৃত্যু থেকে শিবের কাছে ফিরল যখন একটি হাতির মস্তক তার ধড়ের উপরে স্থাপন করা হল I হাতি গনেশকে বলিসংক্রান্ত রূপে তার মস্তক দিতে গিয়ে মারা গেল তাই শিব মৃত্যুর থেকে তার পুত্রকে ফিরে পেতে পারল I এই বলিদান কৈলাশ পর্বতের উপরে ঘটল, এটিকে পবিত্র পর্বত রূপে তৈরী করলো যা আজকের দিনে বিদ্যমান I কিছুলোক এমনকি বিবেচনা করে যে কৈলাশ মেরু পর্বতের একটি নৈসর্গিক প্রকাশন বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের আধ্যাত্মিক এবং অধিবিদ্যামূলক কেন্দ্র I কৈলাশ পর্বতের মাধ্যমে মেরু পর্বত থেকে অনেক মন্দির এককেন্দ্রিক বৃত্ত সমূহের সাথে নির্মিত হয় চিহ্ন হিসাবে যা এই আধ্যাত্মিক কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করে

একটি পর্বতে উপরে বলিদানের মাধ্যমে মৃত্যু থেকে এক পুত্রকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা সম্বন্ধে ঈশ্বরের এই প্রকাশন আবারও একটি নমুনা যা আব্রাহামের দ্বারা অন্য একটি পর্বতের উপরে অভিজ্ঞতা লব্ধ হয় – মোরিয়া পর্বতে – তার পুত্রের সাথে I সে বলিদানও যেশু সৎসঙ্গের – যীশুর আসন্ন অবতারের মধ্যে একটি গভীর অধিবিদ্যামূলক বাস্তবতার দিকে নির্দেশ করে I হিব্রু বেদ আমাদের জন্য 4000 বছর পূর্বে শ্রী আব্রাহামের অভিজ্ঞতা সমূহকে বর্ণনা করতে থাকে I এটি সেই উপলব্ধিকে ঘোষণা করে যে এই চিহ্ন ‘সমস্ত জাতির’ প্রতি আশীর্বাদের প্রতিফল হবে – কেবল হিব্রুদের নয় I তাই কাহিনীটিকে জানা এবং এর তাত্পর্যকে বোঝা উপযুক্ত হয় I 

ভাববাদী আব্রাহামের বলিদানের চিহ্ন

আমরা দেখলাম কিভাবে আব্রাহামকে, অনেক দিন আগে, জাতিগণ সম্বন্ধে একটি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হল I আজকের যিহূদি এবং আরবরা আব্রাহামের থেকে এসেছিল, তাই আমরা জানি প্রতিশ্রুতিটি সত্য হ’ল এবং তিনি ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিক পালন করেছেন I আব্রাহামের এই প্রতিশ্রুতির উপরে বিশ্বাসের কারণে তাকে ধার্মিকতা দেওয়া হয়েছিল  –  তিনি মোক্ষ লাভ করলেন কঠোর যোগ্যতার মাধ্যমে নয় কিন্তু তিনি এটিকে এক উপহার রূপে গ্রহণ করলেন I     

কিছুদিন পরে, আব্রাহাম সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পুত্রকে পেল, ইসহাক (যার থেকে আজকের যিহূদিরা তাদের পূর্বপুরুষদের সন্ধান করে) ইসহাক এক যুবক পুরুষ হয়ে উঠল I কিন্তু তখন ঈশ্বর আব্রাহামকে এক নাটকীয়ভাবে পরীক্ষা করলেন I আপনারা এখানে সম্পূর্ণ বিবরণটি পড়তে পারেন আর আমরা এই রহস্যজনক পরীক্ষার অর্থটিকে উদঘাটন করতে মূল বিবরণগুলোর উপরে যাব – আমাদের বুঝতে সাহায্য করতে কিভাবে ধার্মিকতার জন্য মূল্য দেওয়া হবে I   

আব্রাহামের পরীক্ষা

পরীক্ষাটি একটি ভয়ংকর আজ্ঞা দিয়ে আরম্ভ হ’ল:

2 তখন ঈশ্বর বললেন, “তোমার একমাত্র পুত্র যাকে তুমি ভালবাস সেই ইসহাককে মোরিয়া দেশে নিয়ে যাও| সেখানে পর্বতগুলির মধ্যে একটির ওপরে তাকে আমার উদ্দেশ্যে বলি দাও| আমি তোমাকে বলব কোন পর্বতের ওপর তুমি তাকে বলি দেবে|”  

আদিপুস্তক 22:2

আব্রাহাম, আজ্ঞার বাধ্যতায় ‘পরের দিন ভোর বেলায় উঠলেন’ এবং ‘তিন দিন যাত্রার পরে’ তারা পর্বতে পৌছাল I তারপরে

  9 তাঁরা সেই স্থানটিতে পৌঁছলেন যেখানে ঈশ্বর য়েতে বলেছিলেন| সেখানে অব্রাহাম একটি বেদী তৈরী করলেন| বেদীর উপরে অব্রাহাম কাঠগুলো সাজালেন| তারপর অব্রাহাম তাঁর পুত্র ইসহাককে বাঁধলেন এবং বেদীর উপরে সাজানো কাঠগুলোর উপর তাকে শোয়ালেন|
10 এবার অব্রাহাম খাঁড়া বের করে ইসহাককে বলি দেওয়ার জন্যে তৈরী হলেন|      

আদিপুস্তক 22:9-10

আব্রাহাম আজ্ঞা পালন করতে অগ্রসর হলেন I কিন্তু তখন কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটল:

11 কিন্তু তখন প্রভুর দূত অব্রাহামকে বাধা দিলেন| সেই দূত স্বর্গ থেকে “অব্রাহাম, অব্রাহাম” বলে ডাকলেন|অব্রাহাম থেমে গিয়ে সাড়া দিলেন, “বলুন|”
12 দূত বললেন, “তোমার পুত্রকে হত্যা কোরো না, তাকে কোন রকম আঘাত দিও না| এখন আমি দেখতে পাচ্ছি, তুমি ঈশ্বরকে ভক্তি করো এবং তাঁর আজ্ঞা পালন করো| প্রভুর জন্যে তুমি তোমার একমাত্র পুত্রকে পর্য্ন্ত বলি দিতে প্রস্তুত|”
13 তখন অব্রাহাম একটা মেষ দেখতে পেলেন| একটা ঝোপে তার শিং আটকে গেছে| সুতরাং অব্রাহাম সেই মেষটা ধরে এনে বলি দিলেন| ঐ মেষটাই হল ঈশ্বরের জন্যে অব্রাহামের বলি| আর রক্ষা পেল অব্রাহামের পুত্র ইসহাক|    

আদিপুস্তক 22:11-13

অবশেষে ইসহাককে মৃত্যুর থেকে রক্ষা করা হল এবং আব্রাহাম একটি পুরুষ মেশকে দেখলেন এবং তার পুত্রের পরিবর্তে তাক বলি দিলেন I ঈশ্বর একটি মেষের যোগান দিয়েছিলেন এবং মেষটি ইসহাকের স্থান নিল I 

বলিদান: ভবিষ্যতের দিকে দেখছে  

আব্রাহাম তখন সেই স্থানটির নাম দেন: লক্ষ্য করুন তিনি এটার কি নাম  দেন I 

সুতরাং আব্রাহাম সেই স্থানটির নাম দিলেন ‘সদাপ্রভু যোগান দেবেন’ I আর আজকের দিন পর্যন্ত এটি বলা হয়, “সদাপ্রভুর পর্বতের উপরে এটির যোগান দেওয়া হবে I”

আদিপুস্তক 22:14

আব্রাহাম এটির নাম দিলেন ‘সদাপ্রভু যোগান দেবেন’ I এখানে একটি প্রশ্ন আছে I ওই নামটি কি অতীত কাল, বর্তমান কাল বা ভবিষ্যত কালে রয়েছে? এটি স্পষ্টভাবে ভবিষ্যত কালের মধ্যে রয়েছে I সমস্ত সন্দেহকে অপসারণ করতে অনুসৃত মন্তব্যটি পুনরাবৃত্তি করে “… এটিকে যোগান দেওয়া হবে” I এটি পুনরায় ভবিষ্যত কালের মধ্যে রয়েছে – এইরূপে আবারও ভবিষ্যতের দিকে দেখছে I কিন্তু এই নামকরণ ইসহাকের পরিবর্তে মেষটির (একটি পুরুষ মেষ) বলিদানের পরে ঘটল I অনেকে ভাবে যে আব্রাহাম, ওই স্থানটির নামকরণের সময়, ঝোপে বন্ধ সেই মেষকে উল্লেখ করছিল এবং সেই স্থানে তার পুত্রের পরিবর্তে বলি দিল I কিন্তু এটিকে ইতিমধ্যেই বলি দেওয়া হয়েছিল এবং এই মুহুর্তে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল I আব্রাহাম যদি মেষটির কথা ভাবছিল –  ইতিমধ্যেই মৃত, বলিতে উৎসর্গীকৃত এবং অগ্নিদ্বগ্ধ –  তিনি স্থানটির নামকরণ করে থাকতেন ‘সদাপ্রভু যোগান দিয়েছেন’ , অর্থাৎ অতীত কালে I আর মন্তব্যটি বলে থাকত ‘আর আজ পর্যন্ত এটা বলা হয় “সদাপ্রভুর পর্বতের উপরে এটিকে যোগান দেওয়া হয়েছিল” I কিন্তু আব্রাহাম এটিকে স্পষ্টভাবে অতীতকালে নাম দিয়েছিলেন আর তাই সেই ইতিমধ্যেই মৃত এবং উৎসর্গীকৃত মেষটির সম্বন্ধে ভাবছিল না I তিনি কিছু ভিন্ন বিষয়ের প্রতি আলোকিত হলেন I ভবিষ্যত সম্বন্ধে এমনকিছুর মধ্যে তার অন্তর্দৃষ্টি ছিল I কিন্তু কি?       

বলিদান কোথায় ঘটেছিল

মনে রাখবেন যে পর্বতটির দিকে আব্রাহামকে এই বলিদানের জন্য নির্দেশিত করা হয়েছিল তা ছিল:

তহন ঈশ্বর বললেন< তোমার পুত্রে নাও, একমাত্র পুত্র ইসহাক, যাকে তুনি ভালবাস, আর মোরিয়া অঞ্চলে যাও… 

পদ 2

এটি ‘মোরিয়ার’ মধ্যে ঘটল’ I কোথায় সেটা? আব্রাহামের সময়ে (2000 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ), যদিও এটি একটি প্রান্তরের অঞ্চল ছিল এক সহস্র বছর পরে (1000 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ), রাজা দায়ূদ সেখানে যিরূশালেম শহরের প্রতিষ্ঠা করলেন এবং তার পুত্র শলোমন সেখানে প্রথম মন্দির নির্মাণ করলেন I পুরনো নিয়মের ঐতিহাসিক বইগুলোর মধ্যে পরে আমরা পড়ি যে:

শলোমন জেরুজালেমে মোরিয়তা পর্বতে প্রভুর মন্দির নির্মাণ শুরু করেছিলেন, যেখানে প্রভু তাঁর পিতা দায়ূদের কাছে উপস্থিত হয়েছিল appeared

2 বংশাবলি 3:1

অন্য কথায়, আব্রাহামের আদি পুরনো নিয়মের সময়ে (4000 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) ‘পর্বত মোরিয়া’ প্রান্তরের মধ্যে একটি বিচ্ছিন্ন পর্বত শৃঙ্গ ছিল কিন্তু 1000 বছর পরে দায়ূদ এবং শলোমনের মাধ্যমে এটি ইস্রালীয়দের কেন্দ্রীয় শহরে পরিণত হল যেখানে তারা সৃষ্টিকর্তার কাছে মন্দির নির্মাণ করলেন I আজকের এই বিশেষ সময়ে যিহূদি লোকেদের জন্য এটি একটি পবিত্র স্থান এবং ইস্রায়েলের রাজধানী I    

যীশু – যেশু সৎসংগ – এবং আব্রাহামের বলিদান 

নতুন নিয়মের মধ্যে যীশুর শিরোনাম সম্বন্ধে এখন ভাবুন I তাঁর সঙ্গে যুক্ত যীশুর কাছে অনেকগুলো শিরোনাম ছিল I হয়ত সর্বাধিক সুপরিচিত শিরোনাম হচ্ছে ‘খ্রীষ্ট’ I কিন্ত তাকে আর একটি শিরোনাম দেওয়া হয়েছিল যেটি আবারও গুরুত্বপূর্ণ I আমরা এটিকে যোহনের সুসমাচারে দেখি যখন বাপ্তিস্মদাতা যোহন তাঁর সম্বন্ধে বলেন: 

পরের দিন জন (অর্থাৎ জন ব্যাপটিস্ট জন) যীশুকে (অর্থাত্ যীশু সত্তাং) তাঁর দিকে আসতে দেখলেন এবং বললেন, ‘দেখুন Godশ্বরের মেষশাবক, যিনি জগতের পাপকে সরিয়ে নিয়ে যান। এটিই আমি বোঝাতে চেয়েছি যখন আমি বলেছিলাম ‘আমার পরে যে ব্যক্তি আসবে সে আমাকে ছাড়িয়ে গেছে কারণ সে আমার আগে ছিল’

যোহন 1:29 30

অন্য কথায়, যীশু ‘ঈশ্বরের মেষশাবক’ রূপে পরিচিত I এখন যীশুর জীবনের শেষ বিচার করুন I কোথায় তিনি গ্রেফতার এবং ক্রুশারোপিত হয়েছিলেন? এটি যিরূশালেমে ছিল (যেটাকে আমরা যেমন দেখলাম – ‘পর্বত মোরিয়া’) I তাঁর গ্রেফতারের সময় এটিকে খুব স্পষ্ট করে বলা হয় যে:

যখন তিনি [পীলাত] জানতে পারলেন যে যীশু হেরোদের অধীনে ছিলেন তখন তিনি তাকে হেরোডের কাছে প্রেরণ করেছিলেন, যিনি জেরুজালেমেও ছিলেন ’’

লুক 23:7

যীশুর গ্রেফতারি, বিচার এবং ক্রুশারোপন যিরূশালেমে ঘটল (=পর্বত মোরিয়া) I টাইমলাইন পর্বত মোরিয়াতে ঘটা ঘটনাগুলোকে দেখায় I 

পুরনো নিয়ম থেকে নতুন নিয়মে পর্বত মোরিয়াতে ইতিহাসের বৃহৎ ঘটনাগুলো

এখন আব্রাহামের দিকে ফিরে চিন্তা করুন I কেন তিনি নামটিকে ভবিষ্যত কালে রাখলেন ‘সদাপ্রভু যোগান দেবেন’? কিভাবে তিনি জানতে পারলেন যে তার ভবিষ্যত কালে সেখানে এমনকিছু ‘দেওয়া’ হবে যা এত মূল্যবানরূপে প্রতিফলিত করবে যা তিনি পর্বত মোরিয়াতে সম্পন্ন করলেন? এই সম্বন্ধে ভাবুন – তার পরীক্ষায় ইসহাককে (তার পুত্র) শেষ মুহুর্তে মৃত্যু থেকে রক্ষা করা হয়েছিল কারণ একটি মেষকে তার পরিবর্তে বলি দেওয়া হয়েছিল I দুই সহস্র বছর পরে, যীশুকে ‘ঈশ্বরের মেষশাবক’ বলে অভিহিত করা হয় এবং সেই একই নির্দিষ্ট স্থানে বলি দেওয়া হয়! আব্রাহাম কিভাবে জানতে পারলেন এটি ‘সেই স্থান’ হবে? তিনি কেবলমাত্র জেনে থাকতে পারেন এবং এমনকিছু উল্লেখযোগ্য ভবিষ্যদ্বাণী করতে সক্ষম হন যদি তিনি প্রজাপতির থেকে, স্বয়ং ঈশ্বর সৃষ্টিকর্তার থেকে জ্ঞানের জ্যোতি পেয়ে থাকেন I      

এক স্বর্গীয় মন প্রকাশিত হয়

এটি এমন যদিও সেখানে একটি মন আছে যা এই দুটি ঘটনাকে স্থানের দ্বারা যুক্ত করেছে এমনকি যদিও তাদেরকে 2000 বছরের ইতিহাসের দ্বারা আলাদা করা হয়েছে I  

আব্রাহামের বলিদান একটি চিহ্ন ছিল – 2000 বছরের দিকে নির্দেশ করছে – যীশুর বলিদান সম্পর্কে আমাদের ভাবায় I

সংখ্যা বর্ণনা করে কিভাবে আদি ঘটনাটি (আব্রাহামের বলিদান) পরবর্তী একটিকে (যীশুর বলিদান) উল্লেখ করে এবং এই পরবর্তী ঘটনাকে আমাদের স্মরণ করাতে সজ্জিত হয়েছিল I এটি স্বাক্ষ্য যে এই মন (সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বর) ঘটনাগুলোকে সমন্বয়ের দ্বারা সহস্রাধিক বছরের বিভাজিতের মাধ্যমে স্বয়ংকে আমাদের কাছে প্রকাশিত করছেন I এটি একটি চিহ্ন যা ঈশ্বর আব্রাহামের মাধ্যমে বললেন I    

আপনার এবং আমার জন্য সুসমাচার

এছাড়া এই বিবরণটি অধিক ব্যক্তিগত কারণের জন্য আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ I উপসংহারে, ঈশ্বর অব্রামের কাছে ঘোষণা করলেন যে 

 “… আর তোমার বংশধরের মাধ্যমে পৃথিবীর উপরে সমস্ত জাতি আশির্বাদিত হবে কারণ তুমি আমাকে মান্য করেছ”  

আদিপুস্তক 22:18

আপনারা ‘পৃথিবীর উপরে সমস্ত জাতির’ একটির অন্তর্ভুক্ত – এতে কিছু এসে যায় না তোমার ভাষা, ধর্ম, শিক্ষা, বয়স, লিঙ্গ কি; বা সম্পদ! তাহলে এটি একটি প্রতিশ্রুতি যা নির্দিষ্টভাবে আপনাদেরকে দেওয়া হয়েছে I লক্ষ্য করুন প্রতিশ্রুতিটি কি – স্বয়ং ঈশ্বরের থেকে একটি ‘আশীর্বাদ’! এটি এমনকিছু নয়  যা কেবলমাত্র যিহূদিদের জন্য ছিল, কিন্তু সমস্ত বিশ্বব্যাপী লোকেদের জন্য I  

এই ‘আশীর্বাদ’ কিভাবে দেওয়া হয়? ‘বংশধর’ শব্দটি এখানে একবচনে আছে I এটি ‘বংশধরগণ’ নয় যেমন অনেক বংশধরদের বা লোকেদের মধ্যে, বরং একবচনে একটি ‘সে’ এর মধ্যে I এটি অনেক লোক বা এক দল লোকেদের মাধ্যমে নয় যেমন ‘তারা’ তে হয় I এটি ইতিহাসের শুরুতে প্রতিশ্রুতি দেওয়াকে সঠিকভাবে অনুসরণ করে যখন একটি ‘সে’ সাপের পাদমূল চূর্ণ করবে যেমনটি ইব্রীয় বেদে নথিভুক্ত হয়েছে এবং এছাড়া পুরুসাসুক্তর মধ্যে প্রদত্ত পুরুসার বলিদানের (একটি ‘সে’) প্রতিশ্রুতির সমান্তরাল হয় I এই চিহ্নর সাহায্যে এই প্রাচীন প্রতিশ্রুতিগুলোর আরও বিশদ বিবরণ দিতে নির্দিষ্ট স্থানটি – পর্বত মোরিয়ার (= যিরূশালেম) সম্বন্ধে – ভবিষ্যদ্বাণী করা হয় I আব্রাহামের বলিদানের নাটকের বর্ণনা আমাদের বুঝতে সাহায্য করে কিভাবে এই আশীর্বাদ দেওয়া হয়, এবং ধার্মিকতার মূল্য কিভাবে দেওয়া হবে I  

ঈশ্বরের আশ্বীর্বাদ কিভাবে পাওয়া যায়?

ঠিক যেভাবে মেষ ইসহাককে তার স্থানে বলি হয়ে মৃত্যু থেকে রক্ষা করল, সেইভাবে ঈশ্বরের মেষশাবক, তার বলিসংক্রান্ত মৃত্যুর দ্বারা, মৃত্যুর শক্তি এবং শাস্তি থেকে আমাদের রক্ষা করে I বাইবেল ঘোষণা করে যে

… পাপের বেতন মৃত্যু রোমীয় 6:23

.বলার আর একটি উপায় যে আমাদের থেকে উৎপন্ন পাপ একটি কর্মা যার পরিণাম মৃত্যু I কিন্তু ইসহাকের বিকল্প মেষশাবকের দ্বারা মৃত্যুর মূল্য দেওয়া হল I আব্রাহাম এবং ইসহাককে কেবল স্বীকার করতে ছিল I সে করে নি এবং এটির যোগ্য হওয়ার দাবি করতে পারে না I কিন্তু সে এটিকে একটি উপহার রূপে গ্রহণ করতে পারে I ঠিক এইভাবেই সে মোক্ষ লাভ করল I    

এটি একটি নমুনাকে দেখায় যাকে আমরা অনুসরণ করতে পারি I যীশু ঈশ্বরের ‘মেষ শাবক ছিলেন যিনি জগতের পাপ হরণ করেন’ I এটি আপনাদের নিজের পাপকে অন্তর্গত করে I তাই যীশু, মেষশাবক, আপনাদের ‘পাপ সকল হরণ’ করতে অর্পণ করলেন যেহেতু তিনি মৃত্যুর মূল্য দিলেন I আপনারা এটির যোগ্যতা দাবি করতে পারেন না কিন্তু এটিকে এক উপহার রূপে গ্রহণ করতে পারেন I যীশুকে ডাকুন, পুরুসা, এবং আপনাদের পাপ সকল হরণ করতে  তাঁকে বলুন I তাঁর বলিদান তাঁকে শক্তি দিয়েছে I আমরা এটি জানি কারণ মোরিয়া পর্বতের উপরে অব্রাহামার পুত্রের বলিদানের উল্লেখযোগ্য বিবরণের মধ্যে সেই সুযোগ সমাপতনের পেছনে এটির পূর্বাভাস ছিল I মোরিয়া পর্বত সেই একই নির্দিষ্ট স্থান যেখানে 2000 বছর পরে যীশুর দ্বারা ‘এটির যোগান দেওয়া হ’ল’I   

এটি ভবিষ্যদ্বাণীর দ্বারা অনুসৃত হয় যখন এটি নিস্তারপর্বের চিহ্নর মধ্যে ঘটবে I

মোক্ষ অর্জন করতে আব্রাহামের সহজ উপায়

বিশেষভাবে মহাভারত নি:সন্তান রাজা পান্ডুর সংঘর্ষের বিবরণ দেয় যার কোনো উত্তরাধিকারী ছিল না I ঋষি কিন্ডামা এবং তার স্ত্রী বিচক্ষণতার সঙ্গে প্রেম করার জন্য হরিণের রূপ ধারণ করেছিলেন I দুর্ভাগ্যক্রমে রাজা পান্ডু সেই সময়ে শিকার করছিলেন এবং দুর্ঘটনাক্রমে তাদের উপরে তীর নিক্ষেপ করেছিলেন I ক্ষুব্ধ হয়ে, কিন্ডামা পরবর্তী সময়ে তার স্ত্রীদের সঙ্গে সহবাস করার সময়ে রাজা পাণ্ডুকে মারা যাওয়ার জন্য অভিশাপ দিয়েছিলেন I এইরূপে রাজা পান্ডুকে কোন সন্তান এবং উত্তরাধিকারী পাওয়ার থেকে বিরত রাখা হয়েছিল I কিভাবে তার রাজ বংশের প্রতি এই হুমকি কাটিয়ে উঠবেন?    

পূর্ববর্তী প্রজন্মের সেই একই ধরণের সমস্যার সমাধানের জন্য রাজা পাণ্ডুর জন্ম স্বয়ং একটি বেপরোয়া কার্য ছিল I পূর্ববর্তী রাজা, বিচিত্রবীর্য নি:সন্তান হয়ে মারা যান আর তাই একজন উত্তরাধিকারীর প্রয়োজন ছিল I বিচিত্রবীর্যর মা সত্যবতীর বিচিত্রবীর্যর পিতা রাজা শান্তনুর সাথে বিবাহের পূর্বে এক পুত্র ছিল I এই পুত্র, ব্যাসকে বিচিত্রবীর্যর বিধবা পত্নী অম্বিকা এবং অম্বালিকার গর্ভ সঞ্চার করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল I ব্যাস এবং আম্বালিকার মিলনের মধ্য দিয়ে পান্ডু জন্মগ্রহণ করলেন I রাজা পাণ্ডু এইরূপে ব্যাসের জৈবিক পুত্র হলেন বরং পূর্ববর্তী রাজা বিচিত্রবীর্যর উত্তরাধিকারী হলেন নিয়োগের মাধ্যমে, এমন একটি অনুশীলন যেখানে একজন প্রতিনিধি পুরুষ এক সন্তানের পিতা হতে পারে যখন স্বামী মারা যায় I দুর্দান্ত প্রয়োজন বেপরোয়া পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল I  

এখন রাজা পাণ্ডু তার উপরে কিন্ডামার শ্রাপ থাকার কারণে একই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন I কি করা যায়? আর একবার বেপরায়া পদক্ষেপের প্রয়োজন হ’ল I পান্ডুর স্ত্রীদের মধ্যে একজন, রানী কুন্তি (বা প্রার্থা), একজন দেবতার দ্বারা তার গর্ভ সঞ্চারের সম্বন্ধে একটি গুপ্ত মন্ত্র জানতেন (ব্রাহামনা দুর্বাসা দ্বারা তার শৈশবকালে প্রকাশিত হয়েছিল) I সুতরাং কুন্তি তিনজন জৈষ্ঠ্য পান্ডব ভাইদের গর্ভ ধারণ করতে এই গুপ্ত মন্ত্র ব্যবহার করলেন: যুধিষ্ঠির, ভীম এবং অর্জুন I রানী কুন্তির সহ-পত্নী রানী মাদ্রী কুন্তির থেকে এই মন্ত্রটি পেয়েছিলেন, এবং তিনি একইভাবে কনিষ্ঠ পান্ডব ভাই নকুল ও সহদেবের জন্ম দিলেন I     

অবশিষ্ট সন্তান হীনতা দম্পতিদের কাছে দুর্দান্ত দুঃখ নিয়ে আসতে পারে I জাতির জন্য একজন উত্তরাধিকারী যখন বিপন্ন হয় তখন এটি এমনকি সহ্য করা আরও কঠিন হতে পারে I সারোগেট অংশীদারদের সন্ধান করা হোক বা দেবতাদের গতিশীল করতে গোপন মন্ত্রগুলো আহ্বান করা হোক না কেন, এই ধরণের পরিস্থিতিতে নিষ্ক্রিয় থাকা প্রায় কোন বিকল্প হয় I 

ভাববাদী আব্রাহাম 4000 বছর পূর্বে একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হলেন I যে উপায়ে তিনি সমস্যার সমাধান করলেন তাকে হিব্রু বেদা পুস্তকম এক আদর্শ রূপে ব্যবহার করেছে তাই এর থেকে শিখতে আমরা বুদ্ধিমান হব I

আব্রাহামের অভিযোগ

আদিপুস্তকের 12 পদে প্রতিশ্রুতি নথিভুক্ত হওয়ার কথা বলার পর থেকে আব্রাহামের জীবনের অনেকগুলো বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেল I আব্রাহাম প্রতিশ্রুত দেশে অগ্রসর হলেন যার মধ্যে সেই প্রতিশ্রুতির বাধ্যতা অনুসারে আজকের ইস্রায়েল রয়েছে I পরে তার জীবনে অন্যান্য ঘটনা সমূহ ঘটল কেবল বিশেষ একটি ছাড়া যার জন্য তিন আশা করেছিলেন – পুত্রের জন্ম যার মাধ্যমে এই প্রতিশ্রুতিটি পূর্ণ হবে I সুতরাং আব্রাহামের অভিযোগের সাথে বিবরণটি চালিয়ে যাই: 

  ইসব ঘটনাবলির পরে অব্রাম দর্শনের মধ্যে প্রভুর কথা শুনতে পেলেন| ঈশ্বর বললেন, “অব্রাম চিন্তা কোরো না| আমি তোমায় রক্ষা করব| আমি তোমায় এক মহাপুরস্কার দেব|”
2 কিন্তু অব্রাম বললেন, “প্রভু ঈশ্বর, আমায় খুশী করার মত আপনি কিছুই দিতে পারবেন না| কেন? কারণ আমার কোনও পুত্র নেই| তাই আমার মৃত্যুর পরে আমার দম্মেশকীয দাস ইলীযেষর আমার সমস্ত সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে|”
3 অব্রাম বললেন, “আপনি আমায় পুত্র দেননি| তাই য়ে দাস আমার ঘরে জন্ম লাভ করেছে সে-ই পাবে আমার সমস্ত ধনসম্পত্তি|”

আদিপুস্তক 15:1-3

ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতি

আব্রাহাম জমির মধ্যে শিবির রচনা করছিলেন ‘মহান জাতির’ আরম্ভের অপেক্ষায় যার তাকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল I কিন্তু কোনো পুত্র জন্মাল না আর এই সময়ের মধ্যে তার বয়স প্রায় 86 বছর হোল, যা তার অভিযোগের ফোকাস হ’ল:  

4 তখন প্রভু অব্রামের সঙ্গে কথা বললেন| ঈশ্বর বললেন, “ঐ দাস তোমার নিজের পুত্র হবে. এবং তোমার ঔরসজাত পুত্রই তোমার সমস্ত কিছুর উত্তরাধিকার পাবে|”
5 তখন ঈশ্বর অব্রামকে বাইরে ডেকে নিয়ে গেলেন| ঈশ্বর বললেন, “আকাশের দিকে তাকাও| দেখ, সেখানে কত তারা| এত তারা য়ে তুমি গুণতেই পারবে না| ভবিষ্যতে তোমার বংশধরেরাও ঐরকম অগুনতি হবে|”

আদিপুস্তক 15:4-5

তাদের বিনিময়ের মধ্যে ঈশ্বর তাঁর প্রতিশ্রুতির নবীকরণ করলেন ঘোষণার দ্বারা  যে আব্রাহাম একটি পুত্র পাবে যে আকাশের অগণিত তারার মতন এক বংশ হবে – নিশ্চিতভাবে অনেক, কিন্তু গণনা করা কঠিন I  

আব্রাহামের প্রতিক্রিয়া: স্থায়ী প্রভাবের সাথে একটি পূজার মতন

বলটি এখন আব্রাহামের দায়িত্বে ছিল I কিভাবে তিনি এই নুতন প্রতিশ্রুতির প্রতি সাড়া দেবেন? অনুসৃতটি বাইবেলের দ্বারা একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাক্য বলে বিবেচিত হয় I এটি অনন্তকালীন সত্যকে বুঝতে একটি ভিত্তি স্থাপন করে I এটি বলে:

  আব্রাহাম সদাপ্রভুতে বিশ্বাস করলেন, আর সদাপ্রভু আব্রাহামের স্বপক্ষে তা ধার্মিকতা বলে গণনা করলেন

আদিপুস্তক 15:6

এই বাক্যটি বুঝতে সহজ হয় আমরা যদি পড়তে গিয়ে, সর্বনামটিকে নামের সাথে বদল করি: 

আব্রাহাম সদাপ্রভুতে বিশ্বাস করলেন, আর সদাপ্রভু আব্রাহামের স্বপক্ষে তা ধার্মিকতা বলে গণনা করলেন

আদিপুস্তক 15:6

এটি এক ধরণের একটি ক্ষুদ্র এবং সুস্পষ্ট বাক্য I এটি খবরের কোনো শিরোনাম ছাড়া আসে এবং যায় আর তাই আমরা এটিকে হারিয়ে ফেলতে পারি I কিন্তু এটি সত্যই তাৎপর্যপূর্ণ I কেন? কারণ এই ক্ষুদ্র বাক্যে আব্রাহাম ‘ধার্মিকতা’ পায় I এটি পূজা করার একটি যোগ্যতা পাওয়ার মতন হয় যা কোনো দিন অবনতি বা বিনষ্ট হবে না I ধার্মিকতা একটি – এবং একমাত্র – যোগ্যতা যা আমাদের ঈশ্বরের সম্মুখে দাঁড়াবার জন্য প্রয়োজন হয় I

আমাদের সমস্যার পর্যালোচনা: বিকৃতি  

ঈশ্বরর দৃষ্টি থেকে, যদিও আমাদেরকে ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্টি করা হয়েছিল কিন্তু এমন কিছু ঘটল যা সেই প্রতিমুর্তিকে বিকৃত করল I এখন রায় হল যে

  2 ওদের মধ্যে ঈশ্বরের সাহায্য কামনা করে এমন দেখবার জন্য প্রভু স্বর্গ থেকে লোকদের প্রতি লক্ষ্য রেখেছিলেন| (জ্ঞানী লোকরা সাহায্যের জন্য ঈশ্বরমুখী হয়|)
3 কিন্তু প্রত্যেকটি লোকই ঈশ্বরের থেকে বিমুখ হয়ে গেছে| সব লোকই, মন্দ লোকে পরিণত হয়েছে| এমনকি একটা লোকও ভালো কাজ করে নি!  

গীতসংহিতা 14:2-3

সহজাতভাবে আমরা এই বিকৃতির আভাস পাই I এইজন্যই কুম্ভমেলা পর্বে, এত বিশাল উপস্থিতি হয় কারণ আমরা আমাদের পাপের আভাস এবং সুচিশুদ্ধ হওয়ার প্রয়োজন পাই I এছাড়া প্রাত: স্নান: (বা প্রাতস্নান) মন্ত্র এই মতবাদকে প্রকাশ করে যা আমাদের নিজেদের সম্বন্ধে আমাদের কাছে আছে:    

আমি একজন পাপী I আমি পাপের ফল I আমার জন্ম পাপের মধ্যে I আমার প্রাণ পাপের মধ্যে I আমি পাপীদের মধ্যে সবথেকে খারাপ I হে প্রভু যার সুন্দর নয়ন যুগল আছে, আমাকে রক্ষা করুন, হে বলিদানের প্রভু I  

আমাদের বিকৃতির পরিণাম হ’ল যে আমরা আমাদেরকে এক ধার্মিকতার ঈশ্বরের থেকে বিচ্ছিন্নতায় পাই I আমাদের বিকৃতি আমাদের নকারাত্মক কর্মের বৃদ্ধি – নিষ্ফলতা এবং মৃত্যু এর প্রাক্কালে আছে I আপনি যদি সন্দেহ করেন তাহলে কেবল কিছু খবরের শিরোনামে চোখ বুলিয়ে দেখুন বিগত 24 ঘন্টায় লোকেদের কি হয়েছে I আমরা জীবনের সৃষ্টিকতার থেকে বিচ্ছিন্ন এবং তাই বেদা পুস্তকমের (বাইবেল) ভাববাদী যিশাইয়র কথাগুলো সত্য হয় I    

 আমরা সকলেই এমন একজনের মতো হয়েছি যাঁরা অশুচি; আমরা সকলেই পাতার মতো ঝাঁকিয়ে উঠি এবং বাতাসের মতো আমাদের পাপগুলি আমাদের তাড়িয়ে দেয়।

যিশাইয় 64:6

আব্রাহাম এবং ধার্মিকতা  

কিন্তু এখানে আব্রাহাম এবং ঈশ্বরের মধ্যে আমরা ঘোষণাটিকে দেখি যার ফলে আব্রাহাম ‘ধার্মিকতা’ লাভ করেন, সেটি এত নিস্তব্ধভাবে পিছলে যায় যে আমরা প্রায় এটিকে হারিয়ে ফেলি, – যে ধরণটিকে ঈশ্বর স্বীকার করেন I সুতরাং আব্রাহাম এই ধার্মিকতা পেতে কি করলেন? আর একবার, তাই সতর্ক হোন যে আমরা বিষয়টিকে হারাবার বিপদের মধ্যে আছি I এটি কেবল আব্রাহামের সম্বন্ধে বলে যে তিনি ‘বিশ্বাস করেছিলেন’ I ব্যাস এটাই?! আমাদের কাছে পাপ ও বিকৃতির এই দুর্জয় সমস্যা আছে এবং তাই আমাদের স্বাভাবিক প্রবণতা যুগ যুগ ধরে সূক্ষ এবং কঠিন ধর্ম, প্রচেষ্টা, পূজা, নীতিশাস্ত্র তপস্বীর নিয়মানুবর্তিতা, শিক্ষা সমূহ ইত্যাদির খোঁজ করে – ধার্মিকতা লাভ করতে I কিন্তু এই লোকটি, আব্রাহাম শুধুমাত্র ‘বিশ্বাসের’ দ্বারা সেই পুরষ্কৃত ধার্মিকতা লাভ করলেন I এটি এত সরল যে আমরা প্রায় এটিকে হারিয়ে ফেলতে পারি I

আব্রাহাম ধার্মিকতা ‘অর্জন’ করেন নি: এটি তার উদ্দেশ্যে ‘জমা করা’ হয়েছিল I তাহলে পার্থক্য কি? ভালো কথা, যদি কোনো কিছু ‘অর্জন’ করা হয় অর্থাৎ আপনি এর জন্য কাজ করেছেন – আপনার এটি প্রাপ্য I এটি আপনার কাজের জন্য বেতন পাওয়ার মতন I কিন্তু যখন কোনো কিছু আপনার উদ্দেশ্যে জমা করা হয়, এটি আপনাকে দেওয়া হয় I যেমন কোনো উপহার বিনামূল্যে দেওয়া হয় এটি অর্জিত বা প্রাপ্য নয়, বরং শুধুমাত্র পাওয়া I

আব্রাহামের এই বিবরণ ধার্মিকতা সম্বন্ধে আমাদের সাধারণ উপলব্ধিকে পাল্টে দেয় যে হয় ঈশ্বরের অস্তিত্বের উপরে একটি বিশ্বাসের থেকে এটি আসে চিন্তাটির দ্বারা, বা প্রচুর পরিমাণে উত্তম বা ধার্মিক ক্রিয়াকলাপের দ্বারা ধার্মিকতাকে অর্জন করা যায় I এটি সেই পথ নয় যা আব্রাহাম গ্রহণ করেছিলেন I তিনি শুধুমাত্র তার প্রতি প্রসারিত প্রতিশ্রুতিটিকে বিশ্বাস করলেন, আর তখন তার উদ্দেশ্যে জমা করা হ’ল বা দেওয়া হল, ধার্মিকতা I

বাইবেলের অবশিষ্টাংশ এই সাক্ষাৎকারকে আমাদের জন্য একটি চিহ্ন রূপে বিবেচনা করে I আব্রাহামের বিশ্বাস ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতিতে, আর পরিণামস্বরূপ ধার্মিকতার গণনা, আমাদের অনুসরণ করার একটি নমুনা I সমগ্র সুসমাচারটি প্রতিশ্রুতি সমূহের উপরে প্রতিষ্ঠিত যা ঈশ্বর আমাদের প্রত্যেককে দিয়েছেন I

কিন্তু তাহলে ধার্মিকতা কে প্রদান করে বা অর্জন করে? আমরা এটিকে পরবর্তী পর্যায়ে গ্রহণ করব I    

আব্রাহামের উদ্যোগে:সর্বদা এবং সমস্ত লোকের তীর্থ যাত্রা

কাতারগামা উৎসবে যাওয়ার তীর্থযাত্রা (পদ যাত্রা) ভারত ছাড়িয়ে গেছে I এই তীর্থযাত্রা প্রভু মুরুগানের (প্রভু কাতারাগামা, কার্তিকেয়া বা স্কান্দা)তীর্থযাত্রাকে স্মরণ করিয়ে দেয় যখন তিনি স্থানীয় মেয়ে ভাল্লির প্রেমে পড়ে শ্রী লংকা যাত্রা করতে তার পিতা মাতার (শিব এবং পার্বতী) হিমালয়ের গৃহ পরিত্যাগ করেন I শ্রী লংকার কাতারাগামা মন্দিরের কাতারাগানা পেরাহেরা উৎসবে তাদের প্রেম এবং বিবাহকে স্মরণ করা হয় I   

ভক্তরা কয়েকশত কিলোমিটার পথ কাতারাগামায় পৌঁছতে উৎসবের 45 দিন পূর্বে তাদের তীর্থযাত্রা শুরু করে I যুদ্ধের দেবতা, প্রভু মুরুগানের স্মৃতিতে অনেকে একটি ভেল (বর্শা) বহন করে যখন তারা তাদের পরিচিত নিরাপদ স্থান ছেড়ে দিয়ে এই তীর্থযাত্রার মাধ্যমে অজানা স্থলে প্রবেশ করে I

তীর্থযাত্রীরা অমাবস্যায় কাতারাগামা উৎসব শুরু করতে কাতারাগামা পর্বতের দুর্গম পথে যাত্রা করে তাদের তীর্থযাত্র শেষ করে I 14 সন্ধ্যায় ভাল্লির মন্দিরে মুরুগানের মূর্তির একটি রাত্রিকালীন পেরাহেরা উদযাপিত হয় I পূর্নিমার শেষ সকালে জল-কাটা অনুষ্ঠান শিখরে পৌঁছে যায় যেখানে মুরুগানের মূর্তিকে মেনিক গঙ্গা নদীতে অবগাহন করান হয় এবং এর পর্বিত্র জল ভক্তদের উপরে ঢেলে দেওয়া হয় I   

এই উৎসবের আর একটি বিশেস্বত্ব হ’ল আগুনের উপরে চলার অনুষ্ঠান যেখানে ভক্তরা জ্বলন্ত গরম কয়লার আগুনের উপর দিয়ে চলে উপাদানগুলো কাটিয়ে উঠতে অবিশ্বাস্যভাবে তাদের আস্থার প্রদর্শন করে

বিভিন্ন ভাষা, ধর্ম. এবং জাতিভুক্ত লোকেরা গাইডেন্স, আশীর্বাদ, নিরাময় এবং তাদের বিশ্বাসের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে এই বার্ষিক তীর্থযাত্রায় একত্রিত হয় I সেক্ষেত্রে তারা 4000 বছর পূর্বে আব্রাহামের দ্বারা নির্ধারিত ধরনটি অনুসরণ করে I তিনি বেশ কয়েক মাস নয় পুরো জীবন জুড়েই তীর্থ যাত্রা করেছিলেন I তার তীর্থযাত্রার প্রভাব আপনার এবং আমার জীবনকে 4000 বছর পরে প্রভাবিত করে I এছাড়াও তার তীর্থযাত্রা ঈশ্বরে তার বিশ্বাসকে প্রদর্শন করার প্রয়োজন ছিল, এক পবিত্র পর্বতের উপর এক অবিশ্বাস্য বলিদান সমর্পণ করার দ্বারা I এটি এক জাতির উত্থান করে যার জন্মগ্রহণ সমুদ্রকে কেটে এবং আগুনের সাথে গমনাগমন করার দ্বারা হয়েছিল – পরে সমগ্র দক্ষিন এশিয়াকে প্রভাবিত করে I তার তীর্থযাত্রা কিভাবে গতিশীল হয়েছিল তা বোঝা যা আমাদের প্রতি আশীর্বাদ ও দিকনির্দেশনা দেয় যা আমাদের জ্ঞানঅর্জনের জন্য সুচনা হতে পারে I

 আমরা আব্রাহামের তীর্থযাত্রা অন্বেষণ করার আগে, আমরা বেদ পুস্তকম থেকে কিছু প্রসঙ্গ দেখব যা তার তার তীর্থযাত্রাকে নথিভুক্ত করেছে I   

মানুষের সমস্যা – ঈশ্বরের পরিকল্পনা

আমরা দেখলাম যে মানবজাতি নক্ষত্র এবং গ্রহ সমূহের আরাধনার মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তা প্রজাপতির আরাধনাকে দুষিত করল I এই কারণে প্রজাপতি ভাষাগুলোকে বিভ্রান্ত করে মনু/নোহের তিন পুত্রগনের বংশধরদের ছিন্নভিন্ন করলেন I আর সেইজন্যই আজকের দিনে অনেক জাতি সমূহ ভাষার দ্বারা বিচ্ছিন্ন হ’ল I মানব জাতির সাধারণ অতীতের প্রতিধ্বনি আজকের জগতের দ্বারা ব্যবহৃত 7-দিনের ক্যালেন্ডারগুলোর মধ্যে এবং সেই বিরাট বন্যার স্মৃতিগুলোর মধ্যে দেখা যেতে পারে I     

প্রজাপতি ইতিহাসের প্রারম্ভে প্রতিশ্রুতি দিলেন যে একজন নিখুঁত মানুষের বলিদানের মাধ্যমে ‘প্রাজ্ঞরা অমরত্ব লাভ করবে’ I এই বলিদান কেবল আমাদের বাইরের পরিবর্তে আমাদের অন্তরকে শুচিশুদ্ধ করতে একটি পূজার মতন কার্য করবে I যাইহোক, সৃষ্টিকর্তার আরাধনা দুষিত হওয়ার সাথে, নতুনভাবে বিচ্ছিন্ন জাতিগুলো আগেকার প্রতিশ্রুতি ভুলে গেল I এটিকে কেবল প্রাচীন ঋক বেদ এবং বেদা পুস্তকম – বাইবেল সহ মুষ্টিমেয় স্রোত সমূহের মধ্যে আজকের দিনে স্মরণ করা হয় I  

কিন্তু প্রজাপতি/ঈশ্বরের একটি পরিকল্পনা ছিল I এই পরিকল্পনা এমন কিছু ছিল না যেন আপনি এবং আমি অপেক্ষা করতাম কারণ এটি (আমাদের কাছে) অনেক ছোট এবং তাত্পর্যহীন বলে মনে হত I কিন্তু এটাই ছিল পরিকল্পনা যা তিনি চয়ন করেছিলেন I এই পরিকল্পনা প্রায় 2000 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে (অর্থাৎ 4000 বছর আগে) একজন মানুষ এবং তার পরিবারকে আহ্বান করা এবং তাকে ও তার বংশধরদের প্রতি আশীর্বাদ দেওয়াকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল যদি সে আশীর্বাদ  গ্রহণ করতে ইচ্ছা করত I এখানে এইভাবে বাইবেল এটিকে বর্ণনা করে I     

আব্রাহামের প্রতি প্রতিশ্রুতি   

সদাপ্রভু আব্রামকে বলেছিলেন, “তোমার দেশ, তোমার লোকেরা এবং তোমার বাবার পরিবার থেকে যে দেশ আমি তোমাকে দেখাব সে দেশে যাও।

“আমি তোমাকে একটি মহান জাতি হিসাবে পরিণত করব এবং আমি তোমাকে আশীর্বাদ করব; আমি তোমার নাম মহান করব এবং আপনি আশীর্বাদ পাবেন। যারা তোমাকে আশীর্বাদ করে আমি তাদের আশীর্বাদ করব এবং যে তোমাকে অভিশাপ দেয় আমি অভিশাপ দেব; এবং পৃথিবীর সমস্ত লোক তোমার মধ্য দিয়ে আশীর্বাদ পাবে। ‘

4 সদাপ্রভুর আদেশ অনুসারে অব্রাম চলে গেলেন; লোট তাঁর সংগে গেলেন। হারণ থেকে বের হয়ে আব্রামের বয়স পঁচাত্তর বছর। 5 তিনি তাঁর স্ত্রী সারাই, তাঁর ভাগ্নী লোট, তারা হারান শহরে যে সমস্ত সম্পত্তি জমি দিয়েছিলেন এবং যে লোকেরা কনান দেশে রওনা হয়েছিল তাদের নিয়ে গেলেন এবং সেখানে পৌঁছে গেলেন।

7 সদাপ্রভু অব্রামের কাছে উপস্থিত হয়ে বললেন, “আমি তোমার বংশকে এই দেশ দেব।” তিনি সেখানে প্রভুর সামনে একটি বেদী নির্মাণ করেছিলেন |

আদিপুস্তক 12: 1-7

কেউ কেউ আজকের দিনে আশ্চর্য হয় যদি সেখানে একজন বাক্তিগত ঈশ্বর থাকতেন তবে তিনি আমাদের বিপদগ্রস্ত জীবনে আশার সঞ্চার করতে যথেষ্ট সাহায্য করতে যত্ন নিতেন I এই বিবরণের মধ্যে আমরা এই প্রশ্নটিকে পরীক্ষা করতে পারি কারণ এর মধ্যে একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে একটি ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যার অংশগুলোকে আমরা যাচাই করতে পারি I এই বিবরণ নথিভুক্ত করে যে সদাপ্রভু সরাসরিভাবে আব্রাহামকে প্রতিশ্রুতি দিলেন যে ‘আমি তোমার নামকে মহান করব’ I আমরা একবিংশ শতাব্দীতে বাস করছি – 4000 বছর পরে – আর আব্রাহাম/অব্রামের নাম ইতিহাসে বিশ্বব্যাপী অন্যতম স্বীকৃত নাম I এই প্রতিশ্রুতি আক্ষরিকভাবে, ঐতিহাসিকভাবে, এবং যাচাইযোগ্যভাবে সত্য হয়েছে I      

বাইবেলের প্রাচীনতম বিদ্যমান প্রতিলিপি মৃত সাগরের হস্তলিপি থেকে নেওয়া হয়েছে যার তারিখ 200 থেকে 100 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ I এর অর্থ হল যে এই প্রতিশ্রতি, একেবারে সর্বশেষে, কমপক্ষে সেই সময় থেকে লেখায় রয়েছে I কিন্তু এমনকি 200 খ্রীষ্ট পূর্বাব্দে আব্রাহামের ব্যক্তিত্ব এবং নাম তখনও সুপরিচিত ছিল না – যিহূদিদের কেবল ক্ষুদ্র সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে পরিচিত হন I সুতরাং আমরা জানি যে প্রতিশ্রতির পরিপূর্ণতা এটিকে লেখার পরেই কেবল এসেছে I প্রতিশ্রতির ঘটার পরে লেখার দ্বারা ‘পরিপূর্ণ’ হওয়ার এটি একটি কোন ঘটনা নয় I     

… তার মহান জাতির মাধ্যমে

যা সমানভাবে বিস্ময়কর তা হ’ল আব্রাহাম প্রকৃতপক্ষে তার জীবনে উল্লেখযোগ্য কোনো কিছুই করেন নি – এমন ধরণের কিছু জিনিস যা একজনের নামকে সাধারণত ‘মহান’ করে I তিনি অসাধারণ কোনো কিছু লেখেন নি (যেমন ব্যাস মহাভারত লিখেছিলেন), তিনি উল্লেখযোগ্য কিছু নির্মাণ করেন নি (যেমন শাহ জাহান তাজ মহল নির্মাণ করেছিল), তিনি প্রভাবশালী সৈনিক দক্ষতার সাথে কোনো সৈন্য বাহিনীকে পরিচালনা করেন নি (যেমন ভাগবদ গীতার অর্জুন), নাতো তিনি কোনো রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়েছেন (যেমন মহাত্মা গান্ধী দিয়েছেন) I তিনি এমনকি এক রাজার মতন কোনো রাজত্ব শাসন করেন নি I প্রান্তরের মধ্যে শিবির স্থাস্পন এবং প্রার্থনা করা ও পরবর্তী সময়ে এক পুত্র লাভ ছাড়া তিনি প্রকৃতপক্ষে আর কিছুই করেন নি I    

আপনি যদি তার সময়ে ভবিষ্যদ্বাণী করতেন সহস্রাধিক বছর পরে কাকে সর্বাধিক স্মরণ করা হবে, তবে আপনি রাজা, সেনানায়ক, যুদ্ধবীর, বা অতীতের বসবাসকারী রাজসভার কবিদের উপরে বাজি লাগাতেন যাদের পরবর্তী কালে ইতিহাসে স্মরণ করা হবে I কিন্তু তাদের নাম সকল ভুলে যাওয়া হয়েছে – যেখানে যে মানুষটি প্রান্তরের মধ্যে কষ্ট সহকারে কেবল এক পরিবারকে দেখা শোনা করেছেন জগতের চতুর্দিকে সে একটি পারিবারিক নাম হয়ে উঠেছে I তার নাম মহান এই কারণে হয়েছে তিনি যে জাতির (গুলোর) জন্মদাতা তারা তার বিবরণকে নথিভুক্ত করেছে – এবং পরে তার থেকে নির্গত ব্যক্তি এবং জাতি সমূহ মহান হয়েছে I ঠিক এইভাবেই বহু আগে তাকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল (“আমি তোমাকে এক মহান জাতিতে পরিণত করব…আমি তোমার নাম মহান করব”) I তার নিজের জীবনে মহান কার্যসাধন করার তুলনায় কেবল তার থেকে নির্গত বংশধরদের কারণে যিনি এত সুপরিচিত তাকে ছাড়া সমগ্র ইতিহাসে আমি আর কারোর সম্বন্ধে ভাবতে পারি না I      

… প্রতিশ্রুতি-দাতার ইচ্ছার মাধ্যমে

আর লোকেরা আজকে যারা আব্রাহামের বংশধর – যিহূদিরা – কখনই প্রকৃতপক্ষে একটি জাতি হত না যাকে আমরা সাধারণত মহত্বের সাথে যুক্ত  করি I তারা মিসরীয়দের পিরামিডের মতন বৃহৎ স্থাপত্যের কাঠামো নির্মাণ করে নি – এবং নিশ্চিতভাবে তাজ মহলের মতন কিছু নয়, তারা গ্রীকদের মতন দর্শনশাস্ত্র লেখেনি বা ব্রিটিশদের মতন সুদূরপ্রসারিত অঞ্চলের উপর শাসন করেনি I এই জাতিগুলোর মধ্যে সকলে বিশ্ব-শক্তির সাম্রাজ্যের পরিপ্রেক্ষিতে  এইরকম করল যা অসাধারণ সামরিক শক্তির মাধ্যমে তাদের বিস্তীর্ণ সীমাগুলোকে প্রসারিত করল – এমন কিছু যা যিহূদিরা কখনও করেনি I যিহূদি লোকদের মহত্ব সর্বোচ্চ পরিমাণে ব্যবস্থা এবং পুস্তকের (বেদা পুস্তকম) কারণে হয়েছে যার তারা জন্ম দিয়েছিল; কতিপয় উল্লেখযোগ্য ব্যক্তির থেকে আর তাদের জাতির থেকে এসেছিল; এবং যেন তারা এই সহস্রাধিক বছর ধরে এক স্বতন্ত্র এবং একপ্রকারের ভিন্ন গোষ্ঠী হিসাবে বেঁচে রইল I তাদের মহত্ব প্রকৃতপক্ষে তাদের কোনো কিছু করার জন্য নয়, বরং তাদের প্রতি এবং তাদের মাধ্যমে যা করা হয়েছিল তার জন্য হয় I   

এখন বাক্তিটির দিকে দেখুন যিনি প্রতিশ্রুতিটি ঘটাতে যাচ্ছেন I সেখানে, কাগজে-কলমে, এটি পুন: পুন: বলে যে “আমি করব…” I যিনি অনন্য উপায়ে তাদের মহত্বকে ইতিহাসে নিঃশেষিত করেছেন তা আর একবার এক উল্লেখযোগ্যভাবে এই ঘোষণার সঙ্গে খাপ খায় যে ইনি কোনো সহজাত ক্ষমতা, বিজয় বা এই ‘জাতির’ ক্ষমতার অপেক্ষায় সৃষ্টিকর্তা হতে চলেছেন I পৃথিবীর চারিদিকে গণমাধ্যমের মনোযোগ আজকের দিনে ইস্রায়েলের ঘটনাগুলোর প্রতি দেওয়া হয়, আধুনিক যিহূদি জাতি আলোচ্য বিষয়ের একটি ঘটনা I আপনি কি নিয়মিতভাবে হাঙ্গেরি, নরওয়ে, পাপুয়া নিউ গিনিয়া, বলিভিয়া, বা কেন্দ্রীয় আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের ঘটনাগুলোর খবর শোনেন – যেগুলো বিশ্বের চারিদিকের একই আকারের দেশ সমূহ? কিন্তু ইস্রায়েল 80 লক্ষের এক ক্ষুদ্র দেশ, ক্রমাগত এবং নিয়মিতরূপে খবরের মধ্যে হয় I    

ইতিহাস বা মানবীয় ঘটনা সমূহের মধ্যে এমন কিছুই নেই যা এই প্রাচীন প্রতিশ্রুতিকে হুবহু উন্মুক্ত করবে যেমনটি এটিকে ঘোষণা করা হয়েছিল এই প্রাচীন মানুষটির কাছে যে, এই প্রতিশ্রুতির উপরে তার বিশ্বাসের কারণে এক বিশেষ পথকে চয়ন করল I ভাবুন এটি কতটা সম্ভব ছিল এই প্রতিশ্রুতিটির পক্ষে কোনভাবে ব্যর্থ হয়ে যাওয়া I কিন্তু পরিবর্তে এটি উদঘাটিত হ’ল, এবং উদঘাটিত হয়েই চলেছে, যেমন এটিকে সহস্রাধিক বছর পূর্বে ঘোষণা করা হয়েছিল I ঘটনাটি বাস্তবিকই শক্তিশালী যেন এটি সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিদাতার ক্ষমতা এবং কর্তৃত্বের উপরে রয়েছে যে এটিকে পরিপূর্ণ করা হয়েছে I

পদযাত্রা যা এখনও পৃথিবীকে ঝাঁকুনি দেয়

This map shows the route of Abraham's Journey

এই মানচিত্রটি আব্রাহামের পদযাত্রার গমনপথ দেখায়

বাইবেল নথিভুক্ত করে যে “তাই আব্রাহাম প্রস্থান করলেন যেমন সদাপ্রভু তাকে বললেন” (পদ 4) I তিনি এক পদযাত্রা আরম্ভ করলেন, মানচিত্রের উপরে দেখানো হয়েছে যা এখনও ইতিহাস তৈরী করছে I  

আমাদের প্রতি আশীর্বাদ

কিন্তু সেখানেই এটি শেষ হয় না যেহেতু সেখানে এছাড়া আরও কিছু প্রতিশ্রুতি রয়েছে I আশীর্বাদ শুধুমাত্র আব্রাহামের জন্য ছিল না কারণ এটি আবারও বলে যে 

 “পৃথিবীর উপরে সমস্ত লোকেরা তোমার মাধ্যমে আশির্বাদিত হবে” I

পদ 4

এটিকে আপনার এবং আমার নোট করা উচিত I আমরা আর্য, দ্রাবিড়িয়ান, তামিল, নেপালি, বা এমনকি এছাড়া অন্য কেউ যেই হই না কেন; আমাদের জাত যাই হোক না কেন; আমাদের ধর্ম যাই হোক না কেন, হিন্দু, মুসলমান, জৈন, শিখ বা খ্রীষ্টান যাই হোক ন কেন; আমরা ধনী বা দরিদ্র, স্বাস্থবান বা সুস্থ; শিক্ষিত বা নয় যাই হোক না কেন – ‘পৃথিবীর উপরে সমস্ত মানুষ’ আমাদের সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে I একটি আশীর্বাদের জন্য এই প্রতিশ্রুতি অতীত থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত জীবিত প্রত্যেককে অন্তর্ভুক্ত করে – যা আপনাকে বোঝায় I কিরূপে? কখন? কি ধরণের আশীর্বাদ? এটিকে ঠিক এখানে স্পষ্টরূপে বলা হয় না বরং এটি এমন কিছুর জন্ম যা আপনাকে এবং আমাকে প্রভাবিত   করে I  

আমরা সবেমাত্র ঐতিহাসিকভাবে এবং আক্ষরিকভাবে যাচাই করেছি যে আব্রাহামের প্রতি প্রতিশ্রুতির প্রথম অংশ সত্য হয়েছে I তাহলে আমাদের কাছে বিশ্বাস করার একটি উত্তম কারণ নেই কি যে প্রতিশ্রুতির অংশটি আপনার এবং আমার কাছেও সত্য হবে না? কারণ এটি সার্বজনীন এবং অপরিবর্তনীয় এই প্রতিশ্রুতি সত্য I কিন্তু এটিকে আমাদের উদঘাটন করতে হবে – এই প্রতিশ্রুতির সত্যকে বুঝতে হবে I আমাদের আলোকপাতের প্রয়োজন আছে যাতে আমরা বুঝতে পারি কিভাবে এই প্রতিশ্রুতি আমাদের ‘স্পর্শ’ করতে পারে I আব্রাহামের পদযাত্রাকে অনুসরণ করতে থাকার ক্ষেত্রে এই আলোকপাতকে দেখতে পাই I মোক্ষের চাবিকাঠি যাকে পাওয়ার জন্য পৃথিবীর চারিদিকে অনেকে এত কঠিন পরিশ্রম করছে তা আমাদের এই উল্লেখযোগ্য লোকটিকে অবিরত অনুসরণ করার সাথে সাথে আমাদের জন্য প্রকাশিত হয় I 

সংস্কৃত এবং হিব্রু বেদের সমধর্মিতা: কেন?

সংস্কৃত বেদে মনুর বিবরণ এবং হিব্রু বেদে নোহের বিবরণের মধ্যে মিলগুলো আমরা দেখেছি I বন্যার বিবরণের তুলনায় এই মিল আরও গভীরে প্রবেশ  করে I এছাড়াও সময়ের ঊষাকালে পুরুসার বলিদানের প্রতিশ্রুতি এবং হিব্রু আদিপুস্তকের সেই প্রদত্ত বংশধরের প্রতিশ্রুতির মধ্যে একই মিল রয়েছে I অতএব কেন আমরা এই সাদৃশ্যগুলো দেখি? সমধর্মিতা? একটি বিবরণ কি অন্য বিবরণের থেকে ধার করেছে বা চুরি করেছে? এখানে একটি পরামর্শ দেওয়া হ’ল I     

বাবিলের মিনার – বন্যার পরে

নোহের বিবরণের পরে, বেদা পুস্তকম (বাইবেল) তার তিন পুত্রদের বংশধর  এবং রাজ্যগুলোর নথিভুক্ত করতে অগ্রসর হয় I “বন্যার পরে এদের থেকে  জাতিগুলো সমস্ত পৃথিবী ব্যাপী ছড়িয়ে পড়ল I” (আদিপুস্তক 10:32) I সংস্কৃত বেদও ঘোষণা করে যে মনুর তিন পুত্র ছিল যাদের থেকে সমস্ত মানব জাতির অবতরণ হ’ল I কিন্তু এই “ছড়িয়ে পড়া” কিভাবে ঘটল?    

প্রাচীন হিব্রু বেদা নোহের এই তিন পুত্রদের বংশধরগুলোর নাম তালিকাভুক্ত করেছে – সম্পূর্ণ তালিকাটি এখানে I বিবরণটি বর্ণনা করতে এগিয়ে যায় কিভাবে এই বংশধরগুলো ঈশ্বরের (প্রজাপতি) – সৃষ্টিকর্তার নির্দেশগুলোর অবমাননা করলো, যিনি তাদেরকে ‘পৃথিবী পরিপূর্ণ করতে’ আজ্ঞা দিয়েছিলেন I আপনি সেটিকে এখানে পড়তে পারেন I এই মিনার ‘আকাশ পর্যন্ত পৌঁছল’ (আদিপুস্তক 11:4) যার মানে হ’ল নোহের এই বংশধরেরা সৃষ্টিকর্তার পরিবর্তে নক্ষত্র এবং সূর্য, চাঁদ, গ্রহ সমূহ ইত্যাদির আরাধনা করার উদ্দেশ্যে মিনার তৈরী করছিল I এটি সুপরিচিত যে নক্ষত্রর আরাধনা মেসোপটোমিয়ার মধ্যে উৎপত্তি হয়েছিল (যেখানে এই বংশধররা বসবাস করছিল) এবং তাতে এটা তখন সমস্ত পৃথিবী জুড়ে ছড়াল I      

অতএব সৃষ্টিকর্তার আরাধনা করার পরিবর্তে, আমাদের পূর্বপুরুষরা নক্ষত্র সমূহের আরাধনা করত I পরে বিবরণটি বলে যে এটিকে নিরুৎসাহ করতে, যাতে আরাধনার অশুচিতা অপরিবর্তনীয় না হয়ে ওঠে, সৃষ্টিকর্তা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন    

…ভাষার ভেদ জন্মাতে যাতে তারা একজন অন্যজনের ভাষা বুঝতে না পারে I

আদিপুস্তক 11:7

এর ফলে, নোহের এই প্রথম বংশধররা একে অপরকে বুঝতে পারল না আর তাই এইভাবে সৃষ্টিকর্তা

তাদেরকে সমস্ত ভূমন্ডলে ছিন্নভিন্ন করলেন

আদিপুস্তক 11:8

একবার যখন এই লোকেরা একে অপরের সঙ্গে আর কথা বলতে পারল না, তারা একে অপরের থেকে দেশান্তরে গেল, তাদের নবনির্মিত ভাষাসংক্রান্ত  গোষ্ঠীদের মধ্যে, এবং এইরূপে তারা ‘বিচ্ছিন্ন’ হয়ে গেল I এটি ব্যাখ্যা করে কেন বিভিন্ন লোকেদের গোষ্ঠী আজকের সময়ে পৃথিবীতে একেবারে বিভিন্ন ভাষায় কথা বলে, যেমনভাবে প্রতিটি গোষ্ঠী মেসোপটোমিয়ার, (অনেক প্রজন্মব্যাপী সময়ে সময়ে) তাদের মূল কেন্দ্র থেকে স্থানগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছিল যাদেরকে আজ আমরা দেখতে পাই I এইরূপে, তাদের নিজ নিজ ইতিহাসগুলো এই বিন্দু থেকে নানান দিকে ছড়িয়ে পড়ে I কিন্তু প্রতিটি ভাষার গোষ্ঠীর (যা এই প্রথম জাতিগুলোকে গঠন করেছিল) এই বিন্দু পর্যন্ত এক সাধারণ ইতিহাস ছিল I এই সাধারণ ইতিহাস পুরুসার বলিদানের মাধ্যমে মোক্ষের প্রতিশ্রুতি এবং মনুর (নোহ) বন্যার বিবরণকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল I সংস্কৃতের ঋষিগণ এই ঘটনাগুলোকে তাদের বেদের মাধ্যমে মনে রেখেছিল এবং হিব্রুরা এই একই ঘটনাগুলোকে তাদের বেদের (ভাববাদী মশির তোরাহ) মাধ্যমে মনে রেখেছিল I  

বিচিত্র বন্যার স্বাক্ষ্য – পৃথিবীর চারিদিক থেকে

আগ্রহের বিষয় হ’ল, বন্যার বিবরণ কেবলমাত্র প্রাচীন হিব্রু এবং সংস্কৃত বেদের মধ্যে স্মরণ করা হয় নি I বিশ্বের চারিদিকের নানাবিধ লোকেদের গোষ্ঠী তাদের নিজ নিজ ইতিহাসে এক বিশাল বন্যাকে মনে রেখেছে I নিম্নলিখিত বর্ণনাচিত্র এটিকে বর্ণনা করে I 

বাইবেলের বন্যার বিবরণের সঙ্গে পৃথিবী ব্যাপী সংস্কৃতি সমূহের বন্যার তুলনামূলক বিবরণ

এটি শীর্ষ জুড়ে পৃথিবীর চতুর্দিকে বসবাসকারী বিভিন্ন ভাষা সম্প্রদায়ের লোকেদের দেখায় – প্রত্যেকটি মহাদেশে I বর্ণনাচিত্রের কোশিকাগুলো চিহ্নিত করে হিব্রু বন্যার (বর্ণনাচিত্রের বাঁ দিকে তালিকাভুক্ত) বিবরণের নির্দিষ্ট তথ্য  তাদের নিজস্ব বন্যার বিবরণকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে কি না I কালো কোশিকাগুলো ইঙ্গিত দেয় যে এই তথ্য তাদের বন্যার বিবরণের মধ্যে আছে, যখন খালি কোশিকাগুলো ইঙ্গিত দেয় যে এই তথ্য তাদের স্থানীয় বিবরণের মধ্যে নেই I আপনি এখতে পারেন যে প্রায় সমস্ত এই গোষ্ঠীগুলোর কাছে কমপক্ষে  সাধারণভাবে ‘স্মৃতি’ ছিল যে বন্যাটি সৃষ্টিকর্তার ন্যায়বিচার ছিল তবে কিছু লোকেদের একটি বিরাট জাহাজের মধ্যে রক্ষা করা হয়েছিল I অন্য কথায়, এই বন্যার স্মৃতি না কেবল সংস্কৃত এবং হিব্রু বেদগুলোতে, বরং এছাড়া পৃথিবীর চতুর্দিকের সাংস্কৃতিক ইতিহাস এবং মহাদশগুলোর মধ্যেও পাওয়া গিয়েছিল I এটি আমাদের সুদূর অতীতে ঘটা এই ঘটনার দিকে নির্দেশ করে I 

হিন্দি ক্যালেন্ডারের স্বাক্ষ্য

হিন্দি ক্যালেন্ডার – মাসের দিনগুলো শীর্ষ থেকে নীচু অবধি যায়, কিন্তু সাত-দিনের সপ্তাহ আছে 

পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডারের সঙ্গে হিন্দি ক্যালেন্ডারের পার্থক্য এবং মিল অনুরূপভাবে সুদূর অতীতের এই ভাগ করা স্মৃতির স্বাক্ষ্য হয় I বেশিরভাগ হিন্দি ক্যালেন্ডার  গঠন করা হয় যা এদিক থেকে ওদিকের সারির পরিবর্তে (বাঁ থেকে ডান দিকে) নিচের কলমে (উপর থেকে নীচে) যায়, যেটি পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডারের জন্য সার্বজনীন গঠন I ভারতের কিছু হিন্দু ক্যালেন্ডার সংখ্যার জন্য হিন্দি লিপি ব্যবহার করে  (१, २,  ३ …), এবং কিছু পাশ্চাত্য সংখ্যা (1, 2, 3…) ব্যবহার করে I এই পার্থক্যগুলো আশানুরূপ যেহেতু একটি ক্যালেন্ডারকে চিহ্নিত করার জন্য কোনো ‘সঠিক’ পদ্ধতি নেই I কিন্তু সমস্ত ক্যালেন্ডারগুলোর মধ্যে একটি কেন্দ্রীয় সাদৃশ্য আছে I পাশ্চাত্য জগতের মতন – হিন্দি ক্যালেন্ডার 7-দিনের সপ্তাহ ব্যবহার করে I কেন? আমরা বুঝতে পারি পাশ্চাত্য একটির মতন কেন ক্যালেন্ডারকে বছর এবং মাসে বিভক্ত করা হয়েছিল যেহেতু এগুলো পৃথিবীর চারপাশে থাকা সূর্য এবং চাঁদের চারিপাশে পৃথিবীর প্রদক্ষিণের উপরে ভিত্তিশীল হয় – এইরূপে সাধারণত সমস্ত লোকেদের কাছে গ্রহবিজ্ঞান সংক্রান্ত ভিত্তিগুলো দেয় I কিন্তু সাত-দিনের সপ্তাহের জন্য গ্রহবিজ্ঞান সংক্রান্ত কোনো ভিত্তি নেই I এটি প্রথা এবং পরম্পরা থেকে আসে যা ইতিহাসের সুদুর অতীতে গমন করে I (কেউ বোধ হয় জানে না কতটা পেছনে যায়) I          

… এবং বৌদ্ধধর্মালম্বী থাই ক্যালেন্ডার

থাই ক্যালেন্ডার বাঁ থেকে ডান দিকে যায়, কিন্তু পশ্চিমের তুলনায় একটি ভিন্ন বছর আছে – কিন্তু তবুও 7-দিনের সপ্তাহ 

বৌদ্ধ ধর্মালম্বী দেশ হয়ে, থাইরা বুদ্ধের জীবন থেকে তাদের বছরগুলো চিহ্নিত করে যাতে তাদের বছরগুলো সর্বদা পশ্চিমের তুলনায় 543 বছর অধিক হয় (অর্থাৎ খ্রীষ্টপুর্বাব্দ 2019 বৌদ্ধ যুগের মধ্যে 2562 হয় – থাই ক্যালেন্ডারের মধ্যে) I কিন্তু পুনরায় তারা একটি 7-দিনের সপ্তাহ ব্যবহার করে I কোথা থেকে তারা সেটি পেল? বিভিন্ন দেশ জুড়ে 7-দিনের সপ্তাহের উপরে ভিত্তিশীল ক্যালেন্ডারগুলো এত ভিন্ন উপায়ে আলাদা কেন যখন এই সময় ইউনিটের জন্য কোনো প্রকৃত গ্রহবিজ্ঞান সংক্রান্ত ভিত্তি নেই?  

সপ্তাহের উপরে প্রাচীন গ্রীকের স্বাক্ষ্য

প্রাচীন গ্রীকরাও তাদের ক্যালেন্ডারের মধ্যে 7-দিনের সপ্তাহ ব্যবহার করত I 

প্রাচীন গ্রীক চিকিৎসাবিদ হিপ্পোক্রেটস, যিনি প্রায় 400 খ্রীষ্টপূর্বাব্দের পাশাপাশি বাস করতেন আধুনিক চিকিৎসার জনক বিবেচনা করা হয় এবং তিনি বই লিখলেন, আজ অবধি সংরক্ষিত আছে, তার চিকিৎসাশাস্ত্র বিষয়ক পর্যবেক্ষণগুলো নথিভুক্ত করে I এই রকম করার সময়ে তিনি একটি সময় ইউনিট হিসাবে ‘সপ্তাহ’ কে ব্যবহার করতেন I কোনো রোগের ক্রমবর্ধমান লক্ষণগুলো সম্বন্ধে লিখতে গিয়ে তিনি ব্যক্ত করলেন:      

চতুর্থ দিবস হ’ল সপ্তম দিবসের সূচক; অষ্টম হ’ল দ্বিতীয় সপ্তাহের  সূত্রপাত; আর অত:পর, একাদশতম দ্বিতীয় সপ্তাহের চতুর্থ হয়ে সূচকও  হয়; আর পুনরায়, সপ্তদশতম সূচক হয়, যেমন চতুর্দশতম থেকে চতুর্থ, এবং একাদশতম থেকে সপ্তম হয়   

হিপ্পোক্রেটস, এফোরিসম্স I #24

350 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে, এরিস্টটল নিয়মিতরূপে সময়ের সীমানির্দেশ করতে লেখার সময়ে ‘সপ্তাহ’ কে ব্যবহার করেন I একটি উদাহরণ দিতে তিনি লেখেন:

বেশিরভাগ শিশু মৃত্যু শিশুর এক সপ্তাহ বয়সের পূর্বে ঘটে I অত:পর সেই বয়সে শিশুর নামকরণ প্রথাগত, একটি বিশ্বাস থেকে যে এর বেঁচে থাকার এখন ভাল সুযোগ আছে I   

এরিস্টটল, দি হিস্ট্রি অফ এনিমালস, খন্ড 12, প্রায় 350 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ

তাই ভারত এবং থাই দেশের থেকে অনেক দূরে থাকা, এই প্রাচীন গ্রীক  লেখকরা ‘সপ্তাহের’ ধারণা কোথায় পেল যেন তারা এই আশা করে ব্যবহার করত যে তাদের গ্রীক পাঠকরা জানত যে একটি ‘সপ্তাহ’ কি ছিল? হয়ত সেখানে এটি ঐতিহাসিক ঘটনা তাদের অতীতে এই সমস্ত সংস্কৃতিগুলোর মধ্যে ঘটেছিল (যদিও তারা ঘটনাটি ভুলে গিয়ে থাকবে) যা 7-দিনের সপ্তাহকে স্থাপিত করেছিল?

ঠিক এইরকম একটি ঘটনাকে হিব্রু বেদা বর্ণনা করে – পৃথিবীর প্রারম্ভিক    সৃষ্টি I সেই বিস্তারিত এবং প্রাচীন বিবরণে সৃষ্টিকর্তা পৃথিবীর সৃষ্টি করেন এবং 7 দিনে (বিশ্রামের সপ্তম দিন সহ 6 দিনে) প্রথম মানুষের আকার প্রদান করেন I সেই কারণে, প্রথম মানবজাতি তাদের ক্যালেন্ডারে 7-দিনের সপ্তাহের সময় ইউনিট ব্যবহার করল I মানবজাতি যখন পরবর্তীকালে ভাষার বিভ্রান্তির দ্বারা বিচ্ছিন্ন হল তখন আসন্ন বলিদানের প্রতিশ্রুতি, বিপর্যয়মূলক বন্যার বিবরণের, পাশা পাশি 7-দিনের সপ্তাহ সহ এই বৃহৎ ঘটনাগুলোকে এই বিচ্ছিনতার পূর্বে এই বিভিন্ন ভাষা গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অনেকেদের দ্বারা স্মরণ করা হয়েছিল I    

এই স্মৃতিগুলো আদি মানবজাতির জীবন্ত শিল্পকর্ম এবং এই বেদগুলোতে নথিভুক্ত ঘটনাগুলোর ইতিহাসের কাছে একটি নিয়ম I এই ব্যাখ্যা হিব্রু এবং সংস্কৃতের বেদগুলোর মধ্যে অভিন্নতা ব্যাখ্যা করতে নিশ্চিতভাবে অত্যন্ত সরাসরি উপায় I কেউ কেউ এই প্রাচীন রচনাগুলোকে নেহাৎ কুসংস্কারপূর্ণ পুরাণশাস্ত্র রূপে আজকের দিনে বাতিল করে কিন্তু তাদের অভিন্নতাগুলো গুরুত্বপূর্ণভাবে সেগুলোকে  আমাদের গ্রহণ করার কারণ হয় I    

আদি মানবজাতির একটি সাধারণ ইতিহাস ছিল যা সৃষ্টিকর্তার থেকে মোক্ষের প্রতিশ্রুতিকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল I কিন্তু প্রতিশ্রুতি কিভাবে পূরণ হবে? আমরা এক পবিত্র মানুষের বর্ণনার সাথে চলতে থাকি যিনি ভাষার বিভ্রান্তির দ্বারা সৃষ্ট বিচ্ছিন্নতার ঠিক পরে বাস করতেন I আমরা এটিকে পরবর্তী পর্যায়ে ওঠাবো I  

[প্রাচীন স্মৃতিগুলোর দিকে আরও একবার দৃষ্টি দিতে যা একই ধরণের সমধর্মিতা সমূহকে দেখায় – কিন্তু এই সময়ে চীন ভাষার লিপিবিদ্যার মাধ্যমে এখানে দেখুন]

কিভাবে মানবজাতি ক্রমাগত চলতে থাকলো – মনুর (বা নোহ) বিবরণের শিক্ষার উপরে

পূর্বে আমরা মোক্ষের প্রতিশ্রুতিকে দেখলাম যাকে মানব ইতিহাসের একেবারে শুরুতে দেওয়া হয়েছিল I এছাড়াও আমরা প্রত্যক্ষ্য করলাম যে সেখানে আমাদের সম্বন্ধে এমনকিছু আছে যা দুর্নীতির দিকে চালিত করে, যা অভীষ্ট নৈতিক ব্যবহারের লক্ষ্যচ্যুত আমাদের কার্যকলাপের মধ্যে দেখায়, এবং এমনকি আমাদের সত্তার বিশেষ প্রকৃতির অধিকতর গভীরে I ঈশ্বরের (প্রজাপতি) দ্বারা সৃষ্ট আমাদের মূল প্রতিমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে I যদিও আমরা অনেক ধর্মানুষ্ঠান, ধৌতকরণ ও প্রার্থনার সাহায্যে আমরা কঠিনভাবে চেষ্টা করি, তবুও আমাদের দুর্নীতি আমাদেরকে আন্তরিকভাবে অনুভব করায় শুচিশুদ্ধ হওয়ার একটি প্রয়োজনকে যাকে আমরা যথাযথভাবে অর্জন করতে পারি না I নিখুঁত শুদ্ধতার সাথে জীবনযাপন করতে চেষ্টা করার অবিরত এই ‘দুরূহ’ সংগ্রামে আমরা প্রায়শই ক্লান্ত হয়ে পড়ি I

এই দুর্নীতি যদি কোনো নৈতিক সংযম ছাড়া বৃদ্ধি পায় তবে জিনিসগুলো দ্রুত ক্ষয় হতে থাকে I মানব ইতিহাসের একেবারে শুরুতে এটি ঘটেছিল I বাইবেলের (বেদা পুস্তকম) প্রথম দিকের অধ্যায়গুলো আমাদের বলে কিভাবে এটি ঘটেছিল I শতপথ ব্রাহ্মনর মধ্যে এই বিবরণটি সমান্তরাল যা বিস্তৃতভাবে বলে কিভাবে মানবজাতির পূর্বপুরুষ আজকের দিনে  – মনু নাম আখ্যাত  – এক বন্যার এক বিশাল দণ্ডাদেশ থেকে রক্ষা পেল যা মানবীয় দুর্নীতির কারণে এসেছিল, এবং এক বিরাট জাহাজের মধ্যে আশ্রয় চাওয়ার দ্বারা এইরকম করল I বাইবেল (বেদা পুস্তকম) এবং সংস্কৃত বেদ উভয় আমাদের বলে যে সমস্ত মানবজাতি আজকের দিনে তার বংশধর হয়ে জীবিত আছে I    

প্রাচীন মনু – যেখানে আমরা ইংরেজি শব্দ ‘মানুষ’ পাই

ইংরেজি শব্দ ‘মানুষ’ প্রাচীন জার্মানির থেকে এসেছে I টাসিটাস নামে একজন রোমীয় ঐতিহাসিক যিনি যীশু খ্রীষ্টের (যেশু সৎসংগ) সময়ের আশেপাশে বাস করতেন, জার্মানদের ইতিহাস সম্বন্ধে জার্মানিয়া নামে একটি বই লিখেছিলেন I এর মধ্যে তিনি বলেন

তাদের প্রাচীন লোকগাথায় (যা তাদের ইতিহাস) তারা পৃথিবী থেকে উৎপন্ন এক দেবতা তুইস্তো এবং জাতির পিতা ও প্রতিষ্ঠাতা তার পুত্র মান্নুসের উৎসব পালন করে, মান্নুসের সঙ্গে তারা তিনজন পুত্রের নামযুক্ত করে, যাদের নাম সমূহের উপরে বহু লোকেরা আখ্যাত হয় (প্রায় 100 খ্রীষ্টাব্দে টাসিটাসের দ্বারা লিখিত জার্মানিয়া)    

পন্ডিতরা আমাদের বলে যে এই প্রাচীন জার্মানি শব্দ ‘মান্নুস প্রোটো-ইন্দো-ইউরোপিয়ান “মানুহ” থেকে এসেছে (তুলনা. সংস্কৃত মানুহ, অভেস্তান মানু-,)I অতএব ইংরেজি শব্দ ‘মানুষ’ মানুর থেকে এসেছে যাকে বাইবেল (বেদা পুস্তকম) এবং শতপথ ব্রাহ্মন উভয়ই আমাদের পূর্বপুরুষ বলে! শতপথ ব্রাহ্মন থেকে সংক্ষিপ্তসার করে এই ব্যক্তিটির দিকে দেখা যাক I সেখানে অল্প কিছু পথদর্শন আছে যাতে বিবরণটির প্রতি একটু ভিন্ন দৃষ্টিকোন আছে, তাই আমি সাধারণ বিষয়গুলো বর্ণনা করব I       

সংস্কৃত বেদের মধ্যে মনুর বিবরণ

বেদের মধ্যে মনু একজন ধার্মিক মানুষ ছিলেন, যে সত্যের সন্ধান করেছিল I কারণ মনু একেবার সৎ ছিল, সে প্রাথমিকভাবে সত্যব্রত বলে পরিচিত ছিল (“একজন সত্যের শপথের সাথে”) I 

শতপথ ব্রাহ্মন অনুসারে (শতপথ ব্রাহ্মনের মধ্যে পড়তে এখানে ক্লিক করুন), একজন অবতার এক আসন্ন বন্যার সম্বন্ধে মনুকে সাবধান করেছিল I  প্রাথমিকভাবে অবতারকে এক শাফারি রূপে দেখা গিয়েছিল (একটি ছোট্ট মাছ) যখন সে একটি নদীতে তার হাত ধুয়েছিল I ছোট্ট মাছ মনুকে বলল তাকে রক্ষা করতে, আর করুণা বশত: সে তাকে একটি জলের বয়ামের মধ্যে   রাখল I এটি বৃহৎ থেকে বৃহত্তর হতে থাকল, যতক্ষণ না মনু তাকে একটি আরও বড় কলসীর মধ্যে রাখল, এবং তারপরে তাকে একটি কুয়োর মধ্যে গচ্ছিত রাখল I নিরন্তর বাড়তে থাকা মাছটির জন্য যখন কুয়োটি অপর্যাপ্ত প্রমাণিত হ’ল, মনু তাকে একটি বড় জলাধারের (চৌবাচ্চা) মধ্যে রাখল, যেটি উচ্চতায় ভূতল থেকে 2 যোজন (25 কিলো মিটার) এবং জমিতে ততটাই দীর্ঘ এবং প্রস্থে এক যোজন (13 কিলো মিটার) ছিল I মাছটি আরো বাড়ার সাথে সাথে মনুকে তাকে একটি নদীতে রাখতে হল, এবং যখন নদীটি এমকি অপর্যাপ্ত প্রমাণিত হ’ল সে তাকে সাগরে রাখল, যার পরে এটি বিরাট সাগরের বিস্তৃত পরিসরকে প্রায় পরিপূর্ণ করল I         

ঠিক তখন অবতার মনুকে সর্ব-বিনাশক বন্যার সম্বন্ধে খবর দিল যা খুব শীঘ্র আসবে I তাই মনু এক বিশালাকার নৌকো নির্মাণ করলো যা পৃথিবীকে জনপূর্ণ করতে তার পরিবার, বিভিন্ন বীজ, এবং প্রানীদের আশ্রয় দিল, কারণ বন্যা হ্রাসপ্রাপ্ত হওয়ার পরে মহাসাগর এবং সমুদ্র পূর্ব অবস্থা থেকে অপসারণ করবে এবং পৃথিবীর লোক এবং প্রানীদের দ্বারা জনপূর্ণ হওয়ার প্রয়োজন হবে I বন্যার সময়ে মনু একটি মাছের শৃঙ্গতে নৌকটিকে বাঁধলো যে আবারও একজন অবতার ছিল I তার নৌকাটি পর্বতের চুড়ায় বন্যার পরে শেষ হয়েছিল I সে তখন পর্বত থেকে অবতরণ করল এবং তার উদ্ধারের জন্য বলি ও নৈবেদ্য উৎসর্গ করল I আজকের পৃথিবীর উপরে সমস্ত লোকেরা তার বংশধর I  

বাইবেলে (বেদা পুস্তকম) নোহের বিবরণ

বাইবেলের (বেদা পুস্তকম) বিবরণ একই ঘটনার বিবরণ করে, কিতু এই বিবরণে মানুকে ‘নোহ’, বলা হয় I নোহ এবং বিস্তৃতরূপে বিশ্বব্যাপী বন্যার বিবরণ পড়তে এখানে ক্লিক করুন)I সংস্কৃত বেদ এবং বাইবেলের সাথে সাথে, এই ঘটনার স্মৃতি বিভিন্ন সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং ধর্ম সমূহের অনেক ইতিহাসে সংরক্ষিত করে রাখা আছে I পৃথিবী পাললিক শিলা দিয়ে আচ্ছাদিত আছে, যা বন্যার সময়ে গঠিত হয়েছিল তাই আমাদের কাছে এই বন্যার প্রাকৃতিক স্বাক্ষ্যের পাশা পাশি নৃতাত্ত্বিক স্বাক্ষ্যও আছে I কিন্তু আজকে আমাদের জন্য শিক্ষা কি যে এই বিবরণের মধ্যে আমাদের মনোযোগ দেওয়া উচিত?    

দয়া হারাচ্ছি বনাম পাচ্ছি

যখন আমরা বলি ঈশ্বর দুর্নীতি (পাপ) বিচার করবেন কি না, এবং বিশেষত আমাদের নিজের পাপ বিচারিত হবে কি না, প্রতিক্রিয়া প্রায়শই এইরকম কিছু হয়, “আমি বিচার সম্বন্ধে ততটা চিন্তিত নয় কারণ ঈশ্বর করুনাময় এবং দয়ালু আমার মনে হয় না তিনি আমাকে সত্যিকারের বিচার করবেন” I নোহ (বা মনু) আমাদেরকে পুনর্বার এটি চিন্তা করতে বাধ্য করে I সমগ্র পৃথিবী (নোহ এবং তার পরিবার ছাড়া) সেই বিচারে ধ্বংশ হয়ে গিয়েছিল I অতএব তাঁর করুণা তখন কোথায় ছিল? এটিকে জাহাজের মধ্যে দেওয়া হয়েছিল I 

ঈশ্বর তাঁর করুণায়, একটি জাহাজ দিয়েছিলেন যেটি যেকোনো কারোর জন্য উপলব্ধ ছিল I যে কেউ সেই জাহাজে প্রবেশ করতে পারত এবং করুণা ও আসন্ন বন্যা থেকে নিরাপত্তা পেতে পারত I সমস্যা ছিল প্রায় সকল লোকেরা আসন্ন বন্যার প্রতি অবিশ্বাসের সাথে প্রতিক্রিয়া জানাল I তারা নোহের প্রতি ঠাট্টা করল এবং যে আসন্ন বিচার সত্যিকারের ঘটবে তার বিশ্বাস করল না I তাই তারা বন্যায় বিনষ্ট হয়ে গেল I তবুও তাদের দরকার ছিল জাহাজে প্রবেশ  করা এবং তারা বিচার থেকে রক্ষা পেতে পারত I

যারা অতীতে বেঁচে ছিল তারা সম্ভবতঃ ভেবেছিল যে তারা উঁচু একটি পর্বতে চড়ে, বা একটি বড় ভেলা নির্মাণ করে তারা বন্যাকে এড়িয়ে যেতে পারবে I কিন্তু তারা বিচারের আকার এবং ক্ষমতাকে সম্পূর্ণরূপে ছোট করে দেখল I এই ‘উত্তম ধারণাগুলো’ সেই বিচারের জন্য পর্যাপ্ত হত না; তাদের এমন কিছুর প্রয়োজন ছিল যা তাদেকে আচ্ছাদন করতে পারত  – জাহাজ I যখন তারা সকলে জাহাজটিকে তৈরী হতে লক্ষ্য করল এটি আসন্ন বিচার এবং উপলব্ধ করুণা উভয়ের একটি স্পষ্ট চিহ্ন ছিল I আর নোহের (মনু) উদাহরণের প্রতি মনোযোগ দিলে এটি আমাদেরকে আজ সেই একই ভাবে কথা বলে, দেখায় যে  করুণা ঈশ্বরের প্রতিষ্ঠিত যোগানের দ্বারা অর্জিত হয়, আমাদের উত্তম ধারণা সমূহের দ্বারা নয় I   

তাহলে নোহ কেন ঈশ্বরে করুণা দেখতে পেল? আপনারা লক্ষ্য করবেন বাইবেল বিভিন্ন সময়ে বাক্যাংশটির পুনরাবৃত্তি করেছে

আর নোহ সেই সমস্ত কিছু করল যা সদাপ্রভু তাকে আদেশ করলেন

আমি দেখি যে আমি যা বুঝি তাই করতে ইচ্ছা হয়, বা আমার যা পচ্ছন্দ, বা আমি যার সঙ্গে একমত হই I আমি নিশ্চিত যে তার মনে একটি আসন্ন বন্যার সতর্কতা এবং জমির উপর এই ধরণের এক বৃহৎ জাহাজ নির্মাণের আদেশ সম্বন্ধে অবশ্যই নোহের অনেক প্রশ্ন থেকে থাকবে I আমি নিশ্চিত সে যুক্তি দিয়ে থাকতে পারে যে সে যেহেতু একজন উত্তম এবং সত্যবাদী মানুষ তাই তার এই জাহাজ নির্মাণের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই I কিন্তু সে সেই ‘সমস্ত’ কিছু করলো যার আদেশ দেওয়া হয়েছিল  –  না কেবল সে যা বুঝেছিল, না তার কাছে যা আরামযোগ্য ছিল, এবং না এমনকি যা তার কাছে বোধগম্য ছিল I আমাদের অনুসরণ করার জন্য এটি একটি মহান উদাহরণ I  

পরিত্রাণের জন্য দ্বার

এছাড়াও বাইবেল আমাদের বলে যে নোহের পরে, তার পরিবার, এবং প্রাণী সকল সেই জাহাজে প্রবেশ করল

তারপর সদাপ্রভু তাকে ভেতরে বন্ধ করলেন

ইনি ঈশ্বর ছিলেন যিনি জাহাজের মধ্যে একটি দ্বার নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাবস্থাপন  করলেন  – নোহ নয় I যখন বিচার এলো এবং জল স্ফীত হল, জাহাজের উপর লোকেদের থেকে কোনো পরিমাণের আওয়াজ নোহকে দ্বার খুলতে বিচলিত করতে পারল না I ঈশ্বর সেই একটি দ্বারকে নিয়ন্রণ করলেন I কিন্তু সেই একই সময়ে যারা ভেতরে ছিল তারা আত্মবিশ্বাসে বিশ্রাম করতে পারল যে ঈশ্বর যেহেতু দ্বার নিয়ন্রণ করছেন সেই হেতু কোনো বাতাস বা ঢেউ এটিকে জোর করে খুলতে পারবে না I তারা ঈশ্বরের যত্ন এবং করুণার দ্বারে নিরাপদ ছিল I   

ঈশ্বর যেহেতু অপরিবর্তনশীল এটি আজকের দিনে এখনও আমাদের কাছে  প্রযোজ্য I বাইবেল সাবধান করে যে আর একটি বিচার আসন্ন  –  এবং এটি আগুনের দ্বারা  –  কিন্তু নোহের চিহ্ন আমাদের আশ্বস্ত করে যে তাঁর বিচারের সাথে সাথে তিনি করুণাও প্রদান করেন I আমাদের এক দ্বার বিশিষ্ট ‘জাহাজের’ খোঁজ করা উচিত যা আমাদর প্রয়োজনকে ভরাট করবে এবং আমাদের করুণা অনুমোদন করবে I  

পুনরায় বলিদান

বাইবেল আমাদের এও বলে যে নোহ:

সদাপ্রভুর কাছে একটি বেদী নির্মাণ করল এবং, শুচি পশু এবং শুচি  পক্ষীদের থেকে কতকগুলোকে নিয়ে এর উপরে হোম বলি উৎসর্গ করল I

আদিপুস্তক 8:20

এটি পুরুসাসুক্তার বলির নমুনার সাথে খাপ খায় I এটি যেন নোহ (বা মনু) জানত যে পুরুসার বলি দেওয়া হবে তাই সে এই আসন্ন বলিদানের একটি চিত্র রূপে একটি পশুর বলি উৎসর্গ করল তার বিশ্বাস প্রদর্শন করতে যে ঈশ্বর এটি করবেন I আসলে বাইবেল বলে যে ঠিক এই বলিদানের পরে ঈশ্বর নোহ এবং তার পুত্রগণকে আশীর্বাদ করলেন (আদিপুস্তক 9:1) এবং ‘নোহের সঙ্গে এক নিয়ম স্থির করলেন’ (আদিপুস্তক 9:8) কোনো বন্যার দ্বারা সমস্ত লোকেদের আর বিচার করা হবে না I তাই এটি বোধ হয় যে নোহের দ্বারা একটি পশুর বলিদান তার আরাধনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছিল I     

পুনর্জন্ম – ব্যবস্থার মাধ্যমে বা …

বৈদিক পরম্পরার মধ্যে মানু মনুস্মৃতির জন্য একটি উৎস যা একজনের জীবনে বর্ণ/জাতের পরামর্শ দেয় বা বিহিত করে I যজুর্বেদ বলে যে, সমস্ত মানবজাতি সুদ্র বা দাস হয়ে জন্মায়, কিন্তু এই দাসত্ব থেকে রক্ষা পেতে আমাদের একটি দ্বিতীয় বা নতুন জন্মের প্রয়োজন I মনুস্মৃতি বিতর্কিত এবং স্মৃতি সম্পর্কে এর  মধ্যে বিভিন্ন দৃষ্টিকোন প্রকাশিত হয়েছে I এইগুলোকে বিস্তৃতভাবে আলোচনা করা আমাদের সুযোগের বাইরে I যাইহোক, যা অনুসন্ধান করার যোগ্য তা বাইবেলের মধ্যে আছে, নোহ/মনুর বংশধর সেমিটিক ভাষার লোকেরাও দুটি উপায় পেয়েছিল যার মধ্যে শুচিতা এবং শুদ্ধিকরণ পাওয়া যায় I একটি উপায় ছিল একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে যা শুদ্ধিকরণ, ধর্মীয় ধৌতকরণ এবং বলিদান সমূহ – একেবারে মনুস্মৃতির অনুরূপ I অন্য উপায়টি অনেক বেশি রহস্যজনক ছিল. এবং এটি পুনর্জন্ম অর্জনের পূর্বে একটি মৃত্যুকে জড়িত করেছিল I যীশুও এই সম্বন্ধে শিক্ষা দিয়েছিলেন I তিনি তাঁর সময়ে একজন বিদ্যান পন্ডিতকে বললেন যে     


যীশু উত্তর দিলেন, “সত্যি সত্যি আমি তোমাদের বলছি, নতুন জন্ম না হলে কেউ ঈশ্বরের রাজ্য দেখতে পারে না I

যোহন 3:3

পরবর্তী প্রবন্ধগুলোতে আমরা এই বিষয়ে আরও দেখব I কিন্তু পরবর্তী ক্ষেত্রে আমরা সন্ধান করব বাইবেল এবং সংস্কৃত বেদের মধ্যে কেন এই ধরণের মিলগুলো আছে I

মোক্ষের প্রতিশ্রুতি – একদম শুরুর থেকে

আমরা দেখেছি কিভাবে তাদের সৃষ্টির প্রথম অবস্থা থেকে মানবজাতির পতন হ’ল I কিন্তু বাইবেল (বেদা পুস্তকম) একেবারে শুরুর থেকে ঈশ্বরের কাছে থাকা এক পরিকল্পনা নিয়ে ক্রমাগত অগ্রসর হতে থাকে I পূর্বে জারি করা এই পরিকল্পনা একটি প্রতিশ্রুতির উপরে কেন্দ্রীভূত এবং সেই একই পরিকল্পনা যা পুরুসাসুক্তর মধ্যে প্রতিধ্বনিত করে I

বাইবেল – সত্যিকারের এক গ্রন্থাগার

এই প্রতিশ্রুতির তাৎপর্যকে তারিফ করতে গিয়ে বাইবেল সম্পর্কে আমাদের অবশ্যই কিছু মৌলিক বিষয়গুলোকে জানা উচিৎ I যদিও এটি একটি পুস্তক, এবং আমরা এটিকে এইরকমই ভাবি, এটির সম্বন্ধে আরও সঠিক ভাবলে এটি একটি ভ্রাম্যমান গ্রন্থাগার হয় I এই কারণে এটি পুস্তক সমূহের একটি সংগ্রহ, 1500 বছর সময়ের ব্যবধানে একাধিক রচয়িতা গোষ্ঠীর দ্বারা রচিত হয়েছে I আজ এই পুস্তকগুলো একটি খন্ডের মধ্যে বাঁধা – বাইবেল I এই বিষয়টি একাই বাইবেলকে পৃথিবীর মহান পুস্তকগুলোর মধ্যে অন্যতম ঋক বেদের মতন অনন্য করেছে I নানাবিধ রচয়িতাস্বত্ব ছাড়াও, বাইবেলের পুস্তকগুলো যে সব বক্তব্য, ঘোষণা এবং ভবিষ্যদ্বানী সমূহ করেছে তাকে পরবর্তী লেখকরা অনুসরণ করে I বাইবেল যদি কেবলমাত্র একজন লেখক অথবা লেখকদের এক গোষ্ঠী দ্বারা রচিত হত যারা একে অপরকে জানত, তবে তা তাৎপর্যপূর্ণ হত না I কিন্তু বাইবেলের রচিয়তারা শত শত এবং এমনকি সহস্রাধিক বৎসর ধরে বিচ্ছিন্ন, বিভিন্ন সভ্যতা, ভাষা, সামাজিক স্তর এবং সাহিত্যিক ধারায় রচনা করেছে – তথাপি তাদের বার্তা সমূহ এবং ভবিষ্যদ্বাণীগুলো বাইবেলের বাইরের ঐতিহাসিক ঘটনা সমূহের যাচাইয়ের মাধ্যমে পরবর্তী লেখকদের দ্বারা আরও উন্নত  হয়েছে I এটি বাইবেলকে একটি সামগ্রিক ভিন্ন স্তরে অনন্য করে তোলে – এবং আমাদেরকে এর বার্তাটিকে বুঝতে অনুপ্রাণিত হওয়া উচিৎ I পুরনো নিয়মের বইয়ের বিদ্যমান হস্তলিপির প্রতিলিপিগুলো (যীশুর আগেকার  বইগুলো) যার তারিখ প্রায় 200 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ হবে যাতে বাইবেলের পাঠগত ভিত্তি, সর্বাংশে, পৃথিবীর প্রাচীন বইগুলোর থেকে ভাল I               

বাগানের মধ্যে মোক্ষের প্রতিশ্রুতি

বাইবেলের আদিপুস্তকের ঠিক শুরুতে সৃষ্টি এবং পতনের বিবরণের পরবর্তী ঘটনা সমূহের দিকে আমরা এটিকে ‘প্রত্যাশা করতে’ দেখি I অন্য কথায়, যদিও এটি শুরুকে বর্ণনা করছে, তবুও এটিকে শেষের পরিপ্রেক্ষিতে লেখা হয়েছিল I এখানে আমরা একটি প্রতিশ্রুতিকে দেখি যখন ঈশ্বর তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সর্পের স্বরূপে মন্দের ব্যক্তিত্ব শয়তানের মুখোমুখি হয়, এবং ঠিক শয়তানের দ্বারা মানবীয় পতন নিয়ে আসার পরে তার সাথে এক হেঁয়ালিতে কথা বলে I    

 “… আর আমি (ঈশ্বর) তোমাতে (শয়তান) ও নারীতে এবং তোমার বংশে ও তার বংশে শত্রুতা রাখব I সে তোমার মস্তক চূর্ণ করবে এবং তুমি তার পাদমূল চূর্ণ করবে I” 

আদিপুস্তক 3:15

সতর্কভাবে পড়লে আপনারা দেখবেন যে পাঁচটি বিভিন্ন চরিত্র উল্লিখিত আছে এবং যে এটি তার মধ্যে ভবিষ্যদ্বাণীপূর্ণ হয় যাতে এটি সময়মত প্রত্যাশা করে (‘উইল’ এর পুন: পুন: ব্যবহারের দ্বারা দেখা যায় যেন ভবিষ্যৎ কালে) I চরিত্রগুলো হ’ল     

1.ঈশ্বর/প্রজাপতি

2.শয়তান/সর্প

3. স্ত্রী

4. স্ত্রীর বংশধর

5. শয়তানের বংশধর

আর হেঁয়ালি ভবিষ্যদ্বাণী করে এই চরিত্রগুলো ভবিষ্যতে কিভাবে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত হবে I এটিকে নিচে দেখানো হয়েছে 

আদিপুস্তকের প্রতিশ্রুতিতে চরিত্রগুলোর মধ্যে সম্পর্ক সমূহ 

ঈশ্বর ব্যবস্থা করবেন যে শয়তান এবং স্ত্রীটির মধ্যে এক ‘বংশধর’ থাকবে I এই বংশধর এবং স্ত্রী ও শয়তানের মধ্যে ‘শত্রুতা বা ঘৃণা হবে I শয়তান স্ত্রীর বংশধরের ‘পাদমূল’ চূর্ণ করবে’ যেখানে স্ত্রীটির বংশধর শয়তানের মস্তক ‘চূর্ণ করবে’ I   

বংশধরের উপরে অনুমান – একটি ‘সে’

এতক্ষণ পর্যন্ত আমরা পাঠ্যের থেকে কেবল সরাসরিভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি I এখন কিছু যুক্তিপূর্ণ অনুমানের জন্য I যেহেতু স্ত্রীটির ‘বংশধর’ কে একটি ‘সে’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং একটি ‘তার’ কে আমরা জানি এটি একটি একক পুরুষ মানুষ – একজন মানুষ I সেটার সাহায্যে আমরা কিছু সম্ভাব্য ব্যাখ্যা সমূহকে বাতিল করতে পারি I একটি ‘সে’ হিসাবে বংশধরটি একটি ‘স্ত্রী লিঙ্গের একজন ‘সে’ নয় এবং এইরূপে স্ত্রী হতে পারে না I একজন ‘সে’ হিসাবে বংশধর একটি ‘তারা’ নয়, যা এটি সম্ভবতঃ হতে পারত, হয়ত লোকাদের এক গোষ্ঠী, বা এক প্রজাতি, বা একটি দল, বা একটি জাতি I বিভিন্ন সময়ে এবং বিভিন্ন উপায়ে লোকেরা ভেবেছে যে একটি ‘তারা’ হবে উত্তর I কিন্তু বংশধরটি, একটি ‘সে’ হলে লোকেদের কোনো গোষ্ঠী নয় তা একটি জাতি কিম্বা একটি নির্দিষ্ট ধর্ম যেমন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান, মুসলমান, বা এমনকি একটি জাতকে বোঝায় কি না I একটি ‘সে’ হিসাবে বংশধরটি একটি ‘ইহা’ নয় (বংশধরটি একজন ব্যক্তি) I এটি সম্ভাবনাকে বাদ দেয় যে বংশধরটি একটি নির্দিষ্ট, শিক্ষা, প্রযুক্তিবিদ্যা, রাজনৈতিক ব্যবস্থা, অথবা ধর্ম I এই ধরণগুলোর মধ্যে একটি ‘ইহা’ সম্ভবত হয়ে থাকবে, এবং এখনও আমাদের পচ্ছন্দের চয়ন হ’ল পৃথিবীকে ঠিক করা I আমরা ভাবি যে যা আমাদের পরিস্থিতিকে ঠিক করবে তা এক প্রকারের ‘ইহা’, তাই মানবীয় চিন্তাশীল ব্যক্তিদের মধ্যে সব থেকে উত্তমরা শতাব্দীব্যাপী বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যবস্থা, প্রযুক্তিবিদ্যা, ধর্ম ইত্যাদির জন্য বিতর্ক করে এসেছেন I কিন্তু এই প্রতিশ্রুতি এক সম্পূর্ণ ভিন্ন দিশাকে নির্দেশ করে I ঈশ্বরের মনে অন্য কিছু ছিল – একজন ‘সে’ I এবং এই ‘সে’ সর্পের মস্তক চূর্ণ করবে I            

এছাড়া. যা বলা হয় না তা লক্ষ্য করা চিত্তাকর্ষক I ঈশ্বর একজন বংশধর মানুষকে প্রতিশ্রুতি দেন যেমন তিনি স্ত্রীটিকে প্রতিশ্রুতি দেন I এটি একেবারে অসাধারণ বিশেষত বাইবেল এবং প্রাচীন জগৎব্যাপী পিতাদের মাধ্যমে পুত্রদের আসার উপরে জোর দেওয়া হয়েছে I কিন্তু এ ক্ষেত্রে একজন বংশধরের (এক ‘সে’) কোনো প্রতিশ্রুতি নেই I এটি বলে যে কোনো পুরুষের উল্লেখ ছাড়াই, কেবলমাত্র স্ত্রীটির থেকে একজন বংশধর আসছে I

এখনও অবধি অবস্থিত সমস্ত মানব জাতি, ঐতিহাসিকভাবে অথবা পৌরাণিকভাবে, কেবলমাত্র একজন মায়ের অস্তিত্বের দাবি করেছিল কিন্তু সেই একই সময়ে কখনও একজন শারীরিক পিতার অস্তিত্ব ছিল না I ইনি যীশু ছিলেন (যেশু সৎসংগ) যাকে নতুন নিয়ম (এই প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সহস্রাধিক বছর পরে লেখা) কুমারী মায়ের থেকে জন্ম নেওয়ার কথা ঘোষণা করে – এইরূপে একজন মা কোনো মানবীয় পিতা নয় I সময়ের শুরুতে এখানে কি এই হেঁয়ালির মধ্যে যীশুর সম্বন্ধে পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে? এটি পর্যবেক্ষণের সঙ্গে খাপ খায় যে বংশধর একজন ‘সে’, একজন স্ত্রী লিঙ্গের ‘সে’ ‘তারা’ বা ‘ইহা’ নয়, I সেই পরিপ্রেক্ষিতের সাহায্যে, ধাঁধার কিছু টুকরোর সমাধান হয় I     

 ‘তার পাদমূল চূর্ণ করে’ ??

এর মানে কি যে শয়তান/সর্প ‘তার পাদমূল’ চূর্ণ করবে? আমি বুঝতে পারিনি যতক্ষণ না পর্যন্ত আমি আফ্রিকার জঙ্গলে কাজ করলাম I আমাদেরকে এমনকি আর্দ্র গরমের মধ্যেও মোটা রাবারের জুতো পরতে হত – কারণ সাপেরা সেখানে লম্বা ঘাসের মধ্যে শুয়ে থাকত এবং আপনার পায়ে আঘাত করত – অর্থাৎ আপনার পাদমূল – এবং আপনাকে মেরে ফেলত I আমার প্রথম দিন সেখানে আমি প্রায় একটা সাপের উপর পা দিয়ে ফেলেছিলাম, এবং এর থেকে সম্ভবত আমি মারা যেতে পারতাম I তার পরে হেঁয়ালিটি আমার কাছে বোধগম্য হল I ‘সে’ সর্পটির বিনাশ করবে (‘তোমার পাদমূল চূর্ণ করবে’) I সেটি যীশুর বলিদানের মাধ্যমে অর্জিত বিজয়ের আভাস দেয়     

সাপের বংশধর?

কিন্তু তার অন্য শত্রু কে, শয়তানের এই বংশধর? যদিও আমাদের কাছে এখানে স্থান নেই এটিকে বিস্তৃতরূপে সন্ধান করার, পরবর্তী বইগুলো একজন আসন্ন ব্যক্তির সম্বন্ধে কথা বলে I বিবরণটিকে নোট করুন:

আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের আগমন এবং তাঁর কাছে আমাদের সংগৃহীত  হওয়ার বিষয়ে … যে কোনো ভাবে কাউকে আপনাদের প্রতাড়িত করতে দেবেন না, কারণ সেই দিন আসবে না যতক্ষণ পর্যন্ত বিদ্রোহ ঘটে এবং অরাজকতার মানুষটি প্রকাশিত হয়, সেই মানুষটি বিনাশের দণ্ড পায় I সে বিরোধিতা করবে এবং সমস্তকিছুর উপরে নিজেকে উচ্চকৃত করবে যে ঈশ্বর নামে আখ্যাত হয় বা পূজ্য হয়, যাতে সে ঈশ্বরের মন্দিরে নিজেকে স্থাপন করে, নিজেকে ঈশ্বর হতে ঘোষণা করে    

2 থিষলনীকীয় 2:1-4; গ্রীসে প্রায় 50 খ্রীষ্টাব্দে পৌলের দ্বারা লিখিত

এই পরবর্তী বইগুলো স্পষ্টভাবে স্ত্রীটির বংশধর এবং শয়তানের বংশধরের মধ্যে একটি সংঘর্ষের উল্টো গণনার কথা বলে I কিন্তু মানব ইতিহাসের একেবারে শুরুতে, পরিপূর্ণ হওয়ার অপেক্ষায় বিশদভাবে এটি প্রথমে আদিপুস্তকের এই প্রতিশ্রুতিতে ভ্রুণ-মত রূপের মধ্যে উল্লেখ করা হয় I সুতরাং ইতিহাসের চরম পরিণতি, শয়তান এবং ঈশ্বরের মধ্যে এক চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দীতার উল্টো গণনাকে প্রাচীনতম বইয়ের মধ্যে আগে থেকেই দেখা যায় I   

পূর্বে আমরা প্রাচীন স্তোত্র পুরুসাসুক্তর মধ্য দিয়ে যাত্রা করেছি I আমরা দেখলাম যে এই স্ত্রোতটি এছাড়াও একজন নিখুঁত মানুষের আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী করল  – পুরুসা  – একজন মানুষ যিনি আবারও আসবেন ‘মানবীয় ক্ষমতার দ্বারা নয়’I এই মানুষটিকে আবারও বলিতে সমর্পণ করা হবে I আসলে আমরা দেখলাম যে সময়ের শুরুতে ঈশ্বরের হৃদয় এবং মনের মধ্যে এটি সিদ্ধান্ত এবং নির্ধারিত করা হল I এই বই দুটি কি একই ব্যক্তির সম্বন্ধে কথা বলছে? আমার  যে তারা বলছে I পুরুসাসুক্ত এবং আদিপুস্তকে প্রতিশ্রুতি একই ঘটনাকে স্মরণ করে  –  যখন ঈশ্বর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন যে তিনি টিই একদিন মানুষ রূপে অবতার গ্রহণ করবেন যাতে ধর্ম নির্বিশেষে সমস্ত মানব জাতির সার্বজনীন প্রয়োজনের জন্য এই মানুষটিকে বলিতে সমর্পণ করতে পারা যায় I কিন্তু ঋক  বেদ এবং বাইবেলের মধ্যে এই প্রতিশ্রুতিটি এই একমাত্র অনুরূপতা নয় I যেহেতু তারা মানব ইতিহাসের প্রাচীনতমটি নথিভুক্ত করে সেইহেতু তারা অন্যান্য ঘটনাগুলোকেও একসাথে নথিভুক্ত করে যেটাকে আমরা পরবর্তী পর্যায়ে দেখি I      

বিকৃত (দ্বিতীয় খণ্ড)… আমরা লক্ষচ্যুত হচ্ছি

আমরা শেষে দেখলাম দেখলাম কিভাবে বেদ পুস্তকম (বাইবেল) ঈশ্বরের মূল প্রতিমূর্তি যাতে আমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছিল আমাদেরকে তার থেকে ভিন্ন   বিকৃত রূপে বর্ণনা করেছে I একটি চিত্র যা আমাকে এটিকে আরও ভালোভাবে দেখতে সাহায্য করেছে তা ছিল মধ্য পৃথিবীর শয়তানের দল, পরীদের বিকৃত স্বরূপ I কিন্তু কিরূপে এটি ঘটল?

পাপের উৎপত্তি 

এটিকে বাইবেলের আদিপুস্তকে নথিভুক্ত করা হয়েছে I ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্টি হওয়ার অব্যবহিত পরে প্রথম মানব জাতির পরীক্ষা নেওয়া হল I বিবরণটিকে একটি ‘সর্পের’ বিনিময়ের সাথে নথিভুক্ত করা হয়েছে I সর্পকে সর্বদা সার্বজনীন রূপে শয়তান হওয়াকে বুঝিয়েছে – ঈশ্বরের বিরোধী একটি আত্মা I বাইবেলের মধ্য দিয়ে, শয়তান সাধারণতঃ অন্য ব্যক্তির মাধ্যমে কথা বলার দ্বারা মন্দ করতে প্রলোভিত করে I এই ক্ষেত্রে সে সর্পের মধ্য দিয়ে কথা বলেছে I এইভাবে এটিই নথিভুক্ত করা হয়েছে I  

সদাপ্রভু যে সমস্ত বন্য পশুদের তৈরি করেছিলেন তার মধ্যে সর্প ছিল সবচেয়ে চতুর। একদিন তিনি মহিলাটিকে জিজ্ঞাসা করলেন, “Godশ্বর কি সত্যিই বলেছিলেন যে আপনি বাগানের কোনও গাছের ফল খাবেন না?”

মহিলা অবশ্যই জবাব দিলেন, “আমরা অবশ্যই বাগানের গাছ থেকে ফল খেতে পারি।” “বাগানের ঠিক মাঝখানে গাছ থেকে ফল পাওয়া যায় যা আমাদের খেতে দেওয়া হয় না। saidশ্বর বলেছিলেন, ‘আপনি এটি খাবেন না এমনকি স্পর্শও করবেন না; যদি করেন তবে আপনি মরে যাবেন।”

“তুমি শেষ!” সাপটি মহিলাকে উত্তর দিল। “Knowsশ্বর জানেন যে আপনি এটি খাওয়ার সাথে সাথেই আপনার চোখ খুলবে এবং আপনি ভাল এবং মন্দ উভয়ই জেনে .শ্বরের পছন্দ করবেন” “

 মহিলা দৃ was় বিশ্বাস ছিল। তিনি দেখেছিলেন যে গাছটি সুন্দর এবং এর ফলগুলি সুস্বাদু লাগছিল এবং সে তার দেওয়া জ্ঞান চেয়েছিল। তাই সে কিছু ফল নিয়ে তা খেয়ে ফেলল। তারপরে তিনি তার স্বামীকে কিছু উপহার দিয়েছিলেন, তিনি তার সাথে ছিলেন এবং তিনি তাও খেয়েছিলেন। এই মুহুর্তে তাদের চোখ খুলে গেল এবং হঠাৎ করে তারা তাদের উলঙ্গ অবস্থায় লজ্জা পেয়েছিল। তাই তারা নিজেরাই কতে ডুমুর পাতা এক সাথে সেলাই করল।

আদিপুস্তক 3:1-6

তাদের পচ্ছন্দের মূল্, এবং এইরূপে প্রলোভন, ছিল যে তারা ‘ঈশ্বরের মতন হতে’ পারে I এই বিন্দু পর্যন্ত তারা সমস্ত কিছুর জন্য ঈশ্বরের উপরে ভরসা করেছিল এবং সমস্ত কিছুর জন্য শুধুমাত্র তাঁকে তার বাক্যে গ্রহণ করেছিল I কিন্তু এখন তা পেছনে ছেড়ে দিতে তাদের পচ্ছন্দ ছিল, ‘ঈশ্বরের মতন’ হতে, নিজেদের উপরে ভরসা করে এবং জিনিসগুলোর জন্য তাদের নিজের কথাকে গ্রহণ করে I তারা নিজেরা ‘ঈশ্বর’ হতে পারত, তাদের নিজেদের জাহাজের অধিনায়ক, তাদের অদৃষ্টের প্রভু, কেবল মাত্র নিজেদের কাছে স্বতন্ত্র এবং উত্তরদায়ী I    

ঈশ্বরের বিরুদ্ধে তাদের বিদ্রোহে তাদের মধ্যে কিছু পরিবর্তন হল I যেমন অধ্যায়টি বর্ণনা করে, তারা লজ্জা বোধ করল এবং লুকোতে চাইল I আসলে, ঠিক অব্যবহিত পরে, যখন ঈশ্বর আদমের অবাধ্যতার সম্মুখীন হলেন, আদম ঈভের উপরে দোষ চাপাল (এবং ঈশ্বর যাকে সৃষ্টি করেছেন) I পরিবর্তে সে সর্পের উপর দোষ দিল I কেউ দায়িত্ব স্বীকার করল না I   

আদমের বিদ্রোহের পরিণাম

আর সেদিন যা আরম্ভ হল তা চলতে থাকলো যেহেতু আমরা সেই একই অন্তর্নিহিত প্রবণতার উত্তরাধিকারী হয়েছি I সেই কারণে আমরা আদমের ন্যায় আচরণ করি – যেহেতু আমরা তার প্রকৃতির উত্তরাধিকারী হয়েছি I কেউ কেউ বাইবেলকে ভুলভাবে বোঝে আদমের বিদ্রোহের জন্য আমাদেরকে দোষ দেওয়া হয়েছে I আসলে, কেবলমাত্র একজন দোষী সে হল আদম কিন্তু আমরা সেই বিদ্রোহের পরিণামের মধ্যে বাস করি I আমরা এটিকে জেনেটিক্যালি ভাবতে পারি I সন্তানরা তাদের পিতা-মাতার বৈশিষ্ট্যগুলোকে অর্জন করে – ভালো আর মন্দ – তাদের জীন সমূহকে উত্তরাধিকারী রূপে গ্রহণ করে I আদমের এই বিদ্রোহমূলক প্রকৃতিকে আমরা উত্তরাধকারী রূপে পেয়েছি এবং এইরূপে অন্তর্নিহিতভাবে, প্রায় অচেতনভাবে, বরং ইচ্ছাকৃতভাবে আমরা বিদ্রোহকে চালিয়ে যাই যা সে আরম্ভ করেছিল I হয়ত আমরা বিশ্ব ব্রহ্মান্ডর ঈশ্বর না হতে চাই, কিন্তু আমরা আমাদের সেটিংসের মধ্যে ঈশ্বর হতে চাই; ঈশ্বরের থেকে স্বতন্ত্র I         

আজকের দিনে পাপের প্রভাব এতটা সুস্পষ্ট

আর এটি মানব জীবন সম্পর্কে এত বেশি ব্যাখ্যা করে যে আমরা নিশ্চিতভাবে ধরে নিই I এটিই কারণ যে প্রত্যেক স্থানে লোকেদের তাদের দরজার জন্য তালা, তাদের পুলিশ, উকিল, ব্যাঙ্কের জন্য সংকেতমূলক পাসওয়ার্ডগুলোর প্রয়োজন হয় – কারণ আমাদের বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা একে অপরের থেকে চুরি করি I এই জন্যই সাম্রাজ্য এবং সমাজগুলো সকলের অবশেষে ক্ষয় হয় এবং ভেঙ্গে পড়ে – কারণ এই সমস্ত সাম্রাজ্যগুলোর মধ্যে নাগরিকদের ক্ষয়িষ্ণু হওয়ার একটি প্রবণতা থাকে I এই কারণে সমস্ত প্রকার সরকার এবং অর্থনৈতিক পদ্ধতিগুলোর চেষ্টা করার পরেও এবং যদিও অন্যদের থেকে কারোর ভাল কাজ হওয়া স্বত্তেও প্রত্যেকে রাজনৈতিক অথবা অর্থনৈতিক পদ্ধতিগুলো অবশেষে বোধ হয় নিজে নিজেই ভেঙ্গে পড়তে উপক্রম হয় – কারণ এই ভাবাদর্শগুলোতে জীবিত লোকেদের মধ্যে এমন প্রবণতা থাকে যা সমগ্র ব্যবস্থাকে নিচে টেনে আনে I এই কারণে যদিও প্রজন্ম সর্বাধিক শিক্ষিত হয়েও যা কখনও দেখা যায় নি আমাদের মধ্যে এখনও এই সমস্যগুলো রয়ে গেছে, কারণ এটি আমাদের শিক্ষার স্তরের থেকেও আরো গভীরে যায় I এই কারণে আমরা এত ভালোভাবে প্রাতস্নান মন্ত্রর সঙ্গে অভিন্ন বলে গন্য করি – কারণ এটি আমাদেরকে এত ভালোভাবে বর্ণনা করে I        

পাপ – ‘লক্ষচ্যুত’ করে   

এটিও তাই কেন কোনো ধর্ম সমাজের জন্য সম্পূর্ণরূপে তাদের দর্শনকে নিয়ে আসে নি – বরং নাস্তিক একজনের কাছেও নেই (স্তালিনের সোভিয়েত ইউনিয়ন, মাওয়ের চীন, পল পটের কম্বোডিয়ার কথা ভাবুন) – কারণ যে কোনো ভাবেই হোক আমাদের দর্শনকে হারিয়ে ফেলতে আমরা ইচ্ছুক হই I আসলে, ওই ‘লক্ষচ্যুত’ শব্দটি আদের পরিস্থিতিকে দেখায় I বাইবেল থেকে একটি পদ একটি চিত্র দেয় যা আমাদেরকে এটি বুঝতে ভালোভাবে সাহায্য করে I এটি বলে   

 এই সমস্ত সৈন্যের মধ্যে সাত শতাধিক নির্বাচিত সৈন্য ছিল যারা বাম হাতে ছিল, যাদের প্রত্যেকেই একটি চুলে পাথর বানাতে পারত এবং মিস করতে পারত না।

বিচারকতৃগনের বিবরণ 20:16

এই পদটি সৈন্যদের বর্ণনা করে যারা ফিঙ্গার পাথর মারতে দক্ষ ছিল এবং কখনও লক্ষচ্যুত হত না I যে মূল হিব্রু শব্দটি উপরোক্ত ‘লক্ষচ্যুত’ কে অনুবাদিত করেছে তা হল יַחֲטִֽא׃ এই একই হিব্রু শব্দটিকে বাইবেলের অধিকাংশ স্থান জুড়ে পাপ রূপে আবারও অনুবাদিত করা হয়েছে I উদাহরণস্বরূপ, এই একই হিব্রু শব্দ হল ‘পাপ’ যখন যোষেফ, যাকে মিশরে দাস রূপে বিক্রি করা হয়েছিল, তার মনিবের স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচার করত না, এমনকি যদিও সে তার কাছে অনুনয় করল I সে তাকে বলল:    

 এই বাড়িতে আমার চেয়ে বড় কেউ নেই। আমার মালিক তোকে বাদ দিয়ে আমার কাছ থেকে কিছুই রক্ষা করেন নি, কারণ আপনি তাঁর স্ত্রী। তাহলে আমি কীভাবে againstশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ করতে পারি?

আদিপুস্তক 39:9

এবং ঠিক দশ আজ্ঞা সমূহকে দেওয়ার পরে এটি বলে:

 মূসা লোকদের বললেন, “ভয় কোরো না। Youশ্বর আপনাকে পরীক্ষা করতে এসেছেন, যাতে ningশ্বরের ভয় আপনাকে পাপ থেকে বিরত রাখতে পারে ”’

যাত্রাপুস্তক 20:20

এই উভয় স্থানের মধ্যে এটি একই হিব্রু শব্দ יַחֲטִֽא׃ যেটির অনুবাদ হল ‘পাপ’ I এটি সৈন্যদের সঙ্গে ‘লক্ষচ্যুত’র জন্য ঠিক সেই একই শব্দ যারা লক্ষের দিকে ফিঙ্গার পাথর মারে যেমনটি এই পদগুলোর মধ্যে আছে যা ‘পাপ’ কে বোঝায় যখন লোকেরা একে অপরের সঙ্গে ব্যবহার করে I এটি একটি চিত্রকে প্রদান করে আমাদেরকে বোঝাতে যে ‘পাপ’ কি I সৈন্য একটি পাথর এবং ফিঙ্গার নিয়ে এটিকে লক্ষের উপরে আঘাত করে I যদি এটি লক্ষচ্যুত হয় এটি তার উদ্দেশ্যকে ব্যর্থ করেছে I একইভাবে, আমাদেরকে ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্টি করা হয়েছিল লক্ষকে আঘাত করতে কিভাবে আমরা তাঁর সঙ্গে এবং অন্যদের সম্পর্ক স্থাপন করি I ‘পাপ’ করা মানে এই উদ্দেশ্য অথবা লক্ষ্যর থেকে লক্ষচ্যুত হওয়া, যা আমাদের জন্য অভীষ্ট করা হয়েছিল, এবং যাকে আমাদের বিভিন্ন পদ্ধতি, ধার্মিক এবং ভাবাদর্শ সমূহের মধ্যে নিজেদের জন্যও চাই I         

‘পাপের’  মন্দ সংবাদ – সত্যের একটি সমস্যা পচ্ছন্দ নয়

মানব জাতির এই বিকৃত এবং লক্ষচ্যুত চিত্র সুন্দর নয়, এটি ভালো-লাগা নয়, নাতো এটি আশাবাদী I বছরের পর বছর ধরে এই নির্দিষ্টি শিক্ষার বিরুদ্ধে আমি লোকেদের তীব্রভাবে প্রতিক্রয়া করতে পেয়েছি I এখানে কানাডায় আমার মনে পড়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আমার দিকে তাকিয়ে ভয়াযক ক্রোধের সাথে বলে, “আমি আপনাকে বিশ্বাস করি না কারণ আপনি যা বলছেন আমি পচ্ছন্দ করি না I” এখন আমরা এটি পচ্ছন্দ না করতে পারি, কিন্তু ওটির উপর ফোকাস করা হল বিষয়টির থেকে লক্ষচ্যুত হওয়া I কোন কিছুকে ‘পছন্দ করার’ সঙ্গে যে কোনো কিছুকে সত্য বা মিথ্যা রূপে পাওয়ার কিসের সামঞ্জস্য আছে? আমি কর, যুদ্ধ, এইডস এবং ভূমিকম্প পচ্ছন্দ করি না – কেউ করে না – কিন্তু তা তাদেরকে দুরে যেতে দেয় না, এবং নাতো আমরা তাদের কোনটিকে অগ্রাহ্য করতে পারি I      

আইন, পুলিশ, তালা, চাবি, নিরাপত্তা ইত্যাদির সমস্ত পদ্ধতিগুলো যাদেরকে আমরা সমস্ত সমাজে একে অন্যের থেকে রক্ষা করতে গড়ে তুলেছি প্রস্তাব দেয় যে কোনো কিছু অন্যায় I ঘটনা হল যে কুম্ভ মেলার মতন উৎসবগুলো ‘আমাদের পাপগুলোকে ধুতে’ লক্ষ লক্ষ লোকদের আকর্ষণ করে যা সংকেত দেয় যে আমরা নিজেরা সহজাতভাবে জানি যে যে কোনো ভাবে আমরা উদ্দেশের থেকে লক্ষ্যচ্যুত হয়েছি I ঘটনা হল যে বলিদানের ধারণা স্বর্গের জন্য একটি প্রয়োজন যাকে সমস্ত ধর্ম সমূহের মধ্যে দেখা যায় যা একটি সুত্র যে এমন কিছু আছে যা আমাদের সম্বন্ধে ঠিক নয় I কমপক্ষে, এই মতবাদ নিরপেক্ষভাবে বিবেচনার যোগ্য I

কিন্তু পাপের এই মতবাদ সমস্ত ধর্ম, ভাষা এবং জাতি সমূহ ব্যাপী – আমাদের সকলকে লক্ষ্যচ্যুত করাচ্ছে যা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করে I ঈশ্বর এই সম্বন্ধে কি করতে যাচ্ছিলেন? আমাদের পরবর্তী পোস্টে ঈশ্বরের প্রতিক্রিয়াকে আমরা দেখব – যেখানে আমরা আসন্ন মুক্তিদাতার প্রথম প্রতিশ্রুতিকে দেখি – পুরুষা যাকে আমাদের জন্য পাঠানো হবে I

কিন্তু বিকৃত … মধ্য-পৃথিবীর মন্দ শক্তির কুৎসিত জাতির মতন

আমাদের পূর্ববর্তী রচনায় আমরা দেখলাম কিভাবে বাইবেল আমাদের এবং অন্যদের চিত্রিত করেছে – যে আমাদেরকে ঈশ্বরর প্রতিমূর্তিতে সৃষ্টি করা  হয়েছে I কিন্তু বেদা পুস্তকম (বাইবেল) এই ভিত্তির উপরে আরও অগ্রসর হয় I পুরনো নিয়মে ইব্রীয়দের দ্বারা ব্যবহৃত তাদের ঈশ্বরের আরাধনায় গীত সংহিতা হল পবিত্র গীত ও স্ত্রোত্রের একটি সংগ্রহ I প্রায় 1000 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে রাজা দায়ূদের (যিনি একজন ভাববাদীও ছিলেন) দ্বারা লিখিত গীত সংহিতা 14 লেখা হয়েছিল I এবং এই স্ত্রোত নথিভুক্ত করেছে কিভাবে ঈশ্বরের দৃষ্টিভঙ্গী থেকে জিনিসগুলোকে দেখায় I     

সদাপ্রভু স্বর্গ থেকে নীচে তাকিয়ে দেখেন যে লোকেরা বুঝতে পারে যে, Godশ্বরের সন্ধানকারী কেউ আছে কি না। প্রত্যেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তারা একসাথে দুর্নীতিগ্রস্থ হয়েছে; ভাল কেউই নেই, এমনকি একজনও নেই।

গীতসংহিতা 14: 2-3

‘বিকৃত হওয়া’ বাক্যাংশটি সমগ্র মানব জাতিকে বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয় I যেহেতু এটি এমন কিছু ভাবে আমরা বিকৃত ‘হয়েছি’ যাকে ‘ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে’ হওয়ার সেই প্রারম্ভিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে উল্লেখ করা হয়েছে I এটি বলে যে আমাদের বিকৃতি স্বয়ং নিজেকে ঈশ্বরের থেকে একটি নির্ধারিত স্বতন্ত্রতার মধ্যে দেখায় (‘সকলে’ ‘ঈশ্বরকে চাওয়ার’ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে) এবং এছাড়াও ‘ভালো’ করার মধ্যে নেই I 

মানবরূপী অলৌকিক সত্তা এবং মন্দ শক্তির কুৎসিত জাতির সমন্ধে চিন্তা    

Orcs were hideous in so many ways. But they were simply corrupt descendants of elves

মন্দ শক্তির কুৎসিত জাতিগুলো বিভিন্ন দিকে দিয়ে বীভৎস ছিল I বরং তারা কেবলমাত্র মানবরূপী ওলৌকিক সত্তার বিকৃত বংশধর ছিল  

The elves were noble and majestic

মানবররূপী অলৌকিক সত্তা মহান এবং সৌম্য ছিল 

লর্ড অফ রিংস বা হব্বিতেরমধ্যে মধ্য পৃথিবীর মন্দ শক্তির কুৎসিত জাতিগুলোর  এই চিন্তাধারাকে একটি দৃষ্টান্ত রূপে আরও ভালোভাবে বুঝুন I মন্দ শক্তির কুৎসিত জাতিগুলো রূপে, ব্যবহারে, এবং পৃথিবীতে তাদের আচরণে বীভৎস প্রাণী সমূহ হচ্ছে I তথাপি মন্দ শক্তির কুৎসিত জাতিগুলো মানবররূপী অলৌকিক সত্তার থেকে উৎপন্ন বংশধর যারা সৌরনের দ্বারা বিকৃত হয়েছিল I যখন আপনি মহিমান্বিত আচরণ, ঐকতান এবং প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ককে দেখেন যা মানবররূপী অলৌকিক সত্তাগুলোর মধ্যে ছিল (লেগালোসর কথা ভাবুন) এবং উপলব্ধি করুন যে চরিত্রহীন মন্দ শক্তির কুৎসিত জাতিগুলো একসময় মানবররূপী অলৌকিক সত্তা ছিল যারা ‘বিকৃত হয়েছে’ তখন আপনি একটি ধারণা পাবেন যে এখানে লোকেদের সম্বন্ধে কি বলা হয়েছে I ঈশ্বর মানবররূপী অলৌকিক সত্তাগুলোকে সৃষ্টি করেছিলেন কিন্তু তারা শয়তানে পরিণত হল I       

এটি একেবারে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যাকে আমরা লোকেদের মধ্যে একটি সার্বজনীন প্রবণতা রূপে দেখি, আমাদের পাপ এবং সুদ্ধতার জন্য প্রয়োজনের প্রতি সচেতন হতে – যেমনটি কুম্ভ মেলা উৎসবের মধ্যে বর্ণনা করা হয়েছে I সুতরাং এখানে আমরা একটি প্রেক্ষাপটে পৌঁছাই যেটি অত্যন্ত শিক্ষামূলক: বাইবেল  সংবেদী, ব্যক্তিগত, এবং নৈতিক লোকেদের নিয়ে আরম্ভ হয় কিন্তু পরে নৈতিক অবনতি নিয়েও, এবং এটি তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যা আমরা আমাদের নিজেদের সম্বন্ধে পর্যবেক্ষণ করি I বাইবেল লোকেদের সম্বন্ধে তার পর্যালোচনায় বিচক্ষণভাবে সম্পূর্ণ সঠিক, আমাদের ভেতরের একটি অন্তর্নিহিত নৈতিক প্রকৃতিকে চিহ্নিত করে যাকে সহজেই উপেক্ষা করা যায় যেহেতু আমাদের কার্যকলাপ কখনও আমাদের কাছ থেকে প্রকৃতির দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না – এই বিকৃতির কারণে I বাইবেল সংক্রান্ত জুতো মানবীয় পায়ের উপযুক্ত I যাইহোক, এটি একটি স্পষ্ট প্রশ্ন উত্থাপন করে: ঈশ্বর কেন আমাদেরকে এইরূপে সৃষ্টি করলেন? একটি নৈতিক পরিসরের সাথে আর তবুও এর থেকে নৈতিক অবনতি? একজন সুপ্রসিদ্ধ নাস্তিক ক্রিষ্টোফার হিচেন্স যেমনটি অভিযোগ করেন:       

 “… যদি ঈশ্বর সত্যই লোকেদের এই ধরণের চিন্তাধারা থেকে মুক্ত হোক চাইতেন [অর্থাৎ, এক নৈতিক অবনতি], তাহলে তিনি এক ভিন্ন প্রজাতিকে আবিষ্কার করতে আরও যত্নশীল হতে পারতেন I” ক্রিষ্টোফার হিচেন্স 2007 I গড ইস নট গ্রেট: হাউ রিলিজিঅন ডেস্ট্রয়স এভরিথিং I পৃষ্ঠা 100

কিন্তু এখানেই তিনি তার ব্যস্ততার মধ্যে বাইবেলকে সমলোচনা করতে গিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছুর থেকে লক্ষ্যচ্যুত হন I বাইবেল বলে না যে ঈশ্বর আমাদেরকে এইভাবে তৈরী করেছেন, কিন্তু সেই ভয়ানক এমনকিছু সৃষ্টির প্রথমে ঘটল যা এই কঠিন পরিস্থিতি নিয়ে এলো I আমাদের সৃষ্টির পরে মানব ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটন ঘটল I প্রথম মানবজাতি ঈশ্বরকে অবজ্ঞা করল, যেমন আদিপুস্তকে নথিভুক্ত আছে – বাইবেলে (বেদা পুস্তকম) মধ্যে প্রথম প্রাচীনতম বই, আর তাদের অবাধ্যতায় তারা পরিবর্তিত এবং বিকৃত হল I এই কারণেই আমরা এখন তমসা, বা অন্ধকারে বাস করি I      

মানবজাতির পতন

মানবীয় ইতিহাসের মধ্যে এই ঘটনাকে প্রায়শই পতন বলা হয় I প্রথম ব্যক্তি, আদম, ঈশ্বরের দ্বারা সৃষ্ট হয়েছিল I ঈশ্বর ও আদমের মধ্যে একটি নিয়ম ছিল, বিশ্বস্ততার একটি বিবাহের নিয়মের মতন, আর আদম এটিকে ভগ্ন করল I বাইবেল নথিভুক্ত করে যে আদম ‘ভালো ও মন্দের জ্ঞানের বৃক্ষ’ থেকে ফল খেল এমনকি যদিও তারা একমত হয়েছিল যে সে ওই বৃক্ষ থেকে ফল খাবে  না I নিয়ম এবং বৃক্ষটি স্বয়ং, আদমকে ঈশ্বরের সাথে বিশ্বস্ত থাকতে বা না থাকতে একটি স্বতন্ত্র ইচ্ছা দিয়েছিল I আদমকে ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্টি করা হয়েছিল, এবং তাঁর বন্ধুত্বের মধ্যে স্থাপিত করা হয়েছিল I কিন্তু এই সৃষ্টির সমন্ধে আদমের কোনো ইচ্ছা ছিল না, ঈশ্বরের সঙ্গে বন্ধুত্বকে চয়ন করতে ঈশ্বর তাকে অনুমতি দিয়েছিলেন I ঠিক যেমন দাঁড়িয়ে থাকার পচ্ছন্দ প্রকৃত নয়, যদি বসে থাকা অসম্ভব হয় I ঈশ্বরের প্রতি আদমের বন্ধুত্ব এবং ভরসা একটি পচ্ছন্দ হওয়ার ছিল I এই পচ্ছন্দ আজ্ঞায় প্রবেশ করেছিল যে একটি বৃক্ষ থেকে যেন ফল না খায় I কিন্তু আদম বিদ্রোহ করতে পচ্ছন্দ করল I আদম তার বিদ্রোহের সাথে যা আরম্ভ করলো তা সমস্ত প্রজন্মগুলোর মধ্য দিয়ে নিরবিচ্ছিন্নভাবে গিয়েছে আর আজও আমাদের মধ্য দিয়েও চলতে থাকছে I আমরা পরবর্তী পর্যায়ে দেখব এর অর্থ কি?