সূর্যের নিচে জীবনের পরিতৃপ্তি খোঁজার মায়া

মায়া সংস্কৃত থেকে এসেছে তার অর্থ হ’ল ‘সেটা যেটা নেই’ এবং অতএব ‘মায়া’ I বিভিন্ন প্রাজ্ঞ পুরুষরা এবং দার্শনিক গোষ্ঠী মায়ার বিভ্রমের উপরে ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে জোর দিয়েছিলেন কিন্তু সাধারণভাবে ধারণাটি প্রকাশ করে যে জাগতিক বা ভৌতিক আমাদের আত্মাকে ভুল পথে চালিত করতে পারে এবং এইরূপে দাসত্বের মধ্যে একে জড়াতে এবং ফাঁদে ফেলতে পারে I আমাদের আত্মা পদার্থ নিয়ন্ত্রণ করতে এবং উপভোগ করতে আকুলভাবে আকাঙ্খী I যাইহোক, এর ফলে আমরা শেষ পর্যন্ত লালসা, লোভ এবং ক্রোধের সেবা করি I আমরা তখন প্রায়শই আমাদের প্রচেষ্টাকে দ্বিগুন করি এবং চক্রবৃদ্ধিহারে ভুলের উপর ভুল করে, মায়া বা বিভ্রমের গভীরে পড়ি I এইরূপে মায়া একটি ঘুর্নির মতন কাজ করতে পারে যেটি শক্তি বৃদ্ধির সাথে, একের পর এক ফাঁদে ফেলে একজনকে হতাশার দিকে নিয়ে যায় I মায়ার ফলে স্বীকার্য হয় যে যেটি অস্থায়ী সেটির মূল্য যেন স্থায়ী লাগে, এবং এই জগতে স্থায়ী সুখের খোঁজ করি যা এ দিতে পারে না I       

প্রজ্ঞার সনাতন তামিল বই, তিরুক্কুরাল, আমাদের উপরে মায়া এবং তার প্রভাবকে এইভাবে বর্ণনা করেছে  

 “কেউ যদি তার মোহগুলোতে আঁকড়ে থাকে, যেতে দিতে অস্বীকার করে তবে দুঃখগুলো তার উপরে কবজাকে যেতে দেবে না” 

তিরুক্কুরাল 35.347-348

হিব্রু বেদের মধ্যে তিরুক্কুরালের মতন অনেকটা একইরকম প্রজ্ঞার সাহিত্য আছে I এই প্রজ্ঞার কবিতার রচয়িতা ছিলেন শলোমন I তিনি বর্ণনা করেন কিভাবে তিনি ‘সূর্যের নিচে’ থাকার সাথে সাথে মায়া এবং এর প্রভাবের অভিজ্ঞতা লাভ করেছিলেন – অর্থাৎ, যেন কেবল বস্তুর মূল্য আছে বলে বাস করা, এবং সূর্যের পথের নিচে কেবলমাত্র এই ভৌতিক জগতের মধ্যে স্থায়ী সুখের খোঁজ করা 

 ‘সূর্যের নিচে’ মায়ার সম্বন্ধে শলোমনের অভিজ্ঞতা

শলোমন, তার প্রজ্ঞার জন্য বিখ্যাত এক প্রাচীন রাজা, 950 খ্রীষ্টপূর্বাব্দের আশে পাশে একাধিক কবিতা লিখেছিলেন যেটি বাইবেলের পুরনো নিয়মের অংশ I উপদেশকের মধ্যে, তিনি সেই সমস্ত গুলো বর্ণনা করলেন যা তিনি জীবনে পরিতৃপ্তি পেতে করেছিলেন I তিনি লিখলেন: 

মি নিজেকে বলেছিলাম, “আমি যতটা সম্ভব সব কিছুকে উপভোগ করব|” কিন্তু আমি জানতে পেরেছিলাম য়ে এসবই অসার|
2 হাসি জিনিষটা বোকামি; আনন্দ কোন উদ্দেশ্য সিদ্ধ করে না|
3 তাই আমি ঠিক করেছিলাম দ্রাক্ষারস পান করে শরীরকে ও জ্ঞানলাভ করে মনকে ভাল রাখব| আমি এরকম বোকামি করেছিলাম কারণ আমি সুখের সন্ধান পেতে চেয়েছিলাম| আমি বুঝতে চেয়েছিলাম এই অল্প দিনের জীবনে মানুষের কি করা উচিত্‌|
4 তারপর আমি নানা মহত্‌ কাজ করতে শুরু করেছিলাম| আমি নিজের জন্য নানা জায়গায় বাড়ি তৈরী করেছিলাম| দ্রাক্ষার ক্ষেত তৈরী করেছিলাম|
5 আমি বাগান করেছিলাম| উপবন করেছিলাম, আমি সব রকম ফলের গাছ লাগিয়েছিলাম|
6 আমি নিজের জন্য পুকুর কাটিযে ছিলাম| আমি সেই পুকুরের জল আমার বাগানের গাছে দেওয়ার জন্য ব্যবহার করতাম|
7 আমি পুরুষ ও স্ত্রী এীতদাস কিনেছিলাম এবং আমি যখন তাদের মালিকানা পেলাম তখন তাদের ছেলেমেযে ছিল| আমার অনেক ঐশ্বর্য় ছিল| আমার অনেক গরু ও মেষের পাল ছিল| আমি এত ধনী ছিলাম য়ে সে রকম ধনী জেরুশালেমে কেউ ইতিপূর্বে ছিল না|
8 আমি আমার নিজের জন্য সোনা ও রূপা সংগ্রহ করেছিলাম| আমি বিভিন্ন দেশের রাজাদের কাছ থেকে ধন সংগ্রহ করেছিলাম| আমাকে খুশী করার জন্য অনেক গায়ক ও গাযিকা ছিল| আমার কাছে সবই ছিল যা সকলের কাছে রয়োজনীয়| আমার কাছে সমস্ত রকমের বাদ্যযন্ত্র ছিল|
9 আমি বিরাট ঐশ্বর্য়্য় ও খ্যাতি লাভ করেছিলাম| জেরুশালেমে আমার আগে য়ে সমস্ত লোক ছিল আমি ছিলাম তাদের সবার চেয়ে মহত্‌| আমার জ্ঞান ছিল সব সময় আমার সহায়|
10 আমার চোখে যা ভাল লাগত এবং আমাকে যা খুশী করত, আমি তা সবই পেতাম| আমি কঠিন পরিশ্রম করে যা কিছু করেছিলাম তা নিয়ে আনন্দিত ছিলাম এবং আমার এই সব জিনিস প্রাপ্য ছিল, কারণ আমি এর জন্য কাজ করেছিলাম|

উপদেশক 2:1-10

ঐশ্বর্য, খ্যাতি, জ্ঞান, প্রকল্প, স্ত্রী, আমোদ, রাজ্য, পেশা, দ্রাক্ষারস… শলোমনের কাছে এই সমস্ত ছিল – এবং এটি তার সময়ের কারোর বা আমাদের থেকেও বেশি I এক আইনস্টাইনের বুদ্ধিমত্তা, লক্ষী মিত্তলের ঐশ্বর্য, এক বলিউড তারকার সামাজিক/যৌন জীবন, তার সাথে ব্রিটিশ রাজকীয় পরিবারের রাজকুমার উইলিয়ামের মতন এক রাজকীয় বংশতালিকা – সব একটির মধ্যে সম্মিলিত হয়েছিল I কে ওই সম্মেলনকে হারাতে পারে? আপনি ভাববেন সমস্ত লোকেদের মধ্যে তিনি, পরিতৃপ্ত হয়ে থাকবেন I    

শ্রেষ্টগীতের তার কবিতার অন্য একটির মধ্যে, যা বাইবেলের মধ্যেও আছে, তিনি তার মধ্যে থাকা একটি উদ্রেককারী, প্রচন্ড প্রণয়লীলাকে নথিভুক্ত করেন – বিশেষ বস্তুটি যা খুব সম্ভবতঃ জীবন-ব্যাপী সুখ দেবে বলে মনে হয় I সম্পূর্ণ কবিতাটি এখানে রয়েছে I তবে নিচে তার এবং তার প্রেমিকের মধ্যে প্রেম বিনিময়ের কবিতার একটি অংশ রয়েছে I  

শ্রেষ্ঠগীতের নির্যাস

তিনি
9 আমি তোমাকে আমার প্রিয়তমের সাথে একটি গাঁয়ের সাথে তুলনা করছি
ফেরাউনের রথের ঘোড়াগুলির মধ্যে।
10 আপনার গাল কানের দুল দিয়ে সুন্দর,
আপনার গলায় রত্নের স্ট্রিং
11 আমরা আপনাকে সোনার কানের দুল তৈরি করব,
রূপা দিয়ে জড়িত।

সে
12 রাজা যখন তাঁর টেবিলে ছিলেন,
আমার সুগন্ধি তার সুগন্ধ ছড়িয়েছে
13 আমার প্রিয় আমার কাছে গন্ধযুক্ত এক থলি
আমার স্তনের মাঝে বিশ্রাম নিচ্ছি
14 আমার প্রিয় আমার কাছে মেহেদী ফুল ফোটে
Gন গেদীর দ্রাক্ষাক্ষেত্র থেকে।

তিনি
15 তুমি কত সুন্দর!
ওহ, কত সুন্দর!
তোমার চোখ কপোত।

সে
16 তুমি কত সুন্দর!
ওহ, কত মনোরম!
এবং আমাদের বিছানা বৃষ্টির হয়।

তিনি

17 আমাদের বাড়ির মরীচিগুলি देवदार;
আমাদের rafters firs হয়।

সে
3 বনের গাছের মধ্যে একটি আপেল গাছের মতো
যুবকদের মধ্যে আমার প্রিয়।
আমি তার ছায়ায় বসে আনন্দিত,
এবং তার ফল আমার স্বাদ মিষ্টি।
4 সে আমাকে বনভোজন ঘরে নিয়ে যাবে,
এবং আমার উপর তার ব্যানার প্রেম হতে দিন।
5 কিসমিস দিয়ে আমাকে শক্ত করুন,
আপেল দিয়ে আমাকে সতেজ করুন,
কারণ আমি ভালবাসায় অজ্ঞান।
6 তাঁর বাম হাতটি আমার মাথার নীচে,
এবং তাঁর ডান বাহু আমাকে জড়িয়ে ধরে।
7 জেরুশালেমের কন্যারা, আমি তোমাকে এই আদেশ দিই
গ্যাজেলেস এবং ক্ষেত্রের কাজ দ্বারা:
জাগ্রত বা জাগ্রত করবেন না
যতক্ষণ না এটি ইচ্ছা করে। ()

গান 1: 9 – 2: 7

প্রায় 3000 বয়সী এই কবিতার মধ্যে, বলিউডের সেরা প্রেমের চলচ্চিত্রগুলোর  রোমাঞ্চকর তীব্রতা রয়েছে I বাইবেল নথিভুক্ত করে যে তার অগাধ ধনের  সাহায্যে তিনি 700 উপপত্নী পেয়েছিলেন I সেটি বলিউড বা হলিউডের উর্বর  প্রেমিকদের চেয়ে অনেক বেশি কখনও হয়ে থাকবে I তাই আপনি ভাববেন যে সেই সমস্ত পেমের সাহায্যে তিনি পরিতৃপ্ত হবেন I কিন্তু সেই সমস্ত প্রেম, সমস্ত ঐশ্বর্য, সমস্ত খ্যাতি এবং সমস্ত প্রজ্ঞা থাকা স্বত্তেও – তিনি উপসংহারে বললেন:   

  গুলি হল, উপদেশকের কথা যিনি ছিলেন দায়ূদের পুত্র এবং জেরুশালেমের রাজা|
2 সবই এত অর্থহীন! তাই উপদেশকের মতে সবই অসার, সবই সময়ের অপচয!
3 মানুষ সূর্য়ের নীচে য়ে কঠিন পরিশ্রম করে সে কি তার কোন ফল পায়? না!
4 বংশপরম্পরা পর্য়ায়এমে আসে এবং যায়| কিন্তু পৃথিবী চিরন্তণ|
5 সূর্য় ওঠে আবার অস্ত যায়| তারপর দ্রুত ফিরে যায় সেই একই জায়গায় য়েখান থেকে আবার সূর্য় ওঠে|
6 বাতাস দক্ষিণে বয় এবং উত্তরেও বয়| বাতাস চারিদিক ঘুরে ঘুরে আবার তার নিজের জায়গায় ফিরে যায়|
7 সব নদী বার বার একই দিকে বয়ে চলে| সমস্ত নদীই সমুদ্রে গিয়ে মেশে কিন্তু সমুদ্র কখনও পূর্ণ হয় না|
8 সব কথাই ক্লান্তিকর| কিন্তু তবুও লোকে কথা বলে| আমরা সব সময়ই কথা শুনি কিন্তু তাতে আমরা সন্তুষ্ট হই না| আবার সব সময় আমরা য়ে সব জিনিস দেখি তাতেও আমাদের মন ভরে না|
9 সব জিনিসই সৃষ্টির সময় য়েমন ছিল সে রকমই থেকে যায়| যা আগে করা হয়েছে তাই আবার পরেও করা হবে| সূর্য়ের নীচে কোন কিছুই নতুন নয়|
10 এমন কোন কিছু নেই যাকে কোন ব্যক্তি নতুন বলতে পারে! য়ে জিনিসকে মানুষ নতুন বলবে তা আমাদের জন্মের আগে থেকেই বর্তমান|
11 যা অনেক আগে ঘটে গেছে সে ঘটনা লোকে মনে রাখে না| এখন যা ঘটছে ভবিষ্যতে তা লোকে ভুলে যাবে| পরবর্তী প্রজন্ম মনেও রাখবে না আগেকার লোক তাদের জন্য কি করে গেছে|
12 আমি উপদেশক, আমি ছিলাম জেরুশালেমের অন্তর্গত ইস্রায়েলের রাজা|
13 সূর্য়ের নীচে যা কিছু ঘটে তাকে আমি প্রজ্ঞা দ্বারা জানতে চেয়েছিলাম| আমি জানতে পেরেছিলাম য়ে ঈশ্বর লোকদের যা করতে দেন তা খুবই কঠিন ও কষ্টকর|
14 আমি দেখেছিলাম সূর্য়ের নীচে যা কিছু করা হয় তা সবই অসার, সময়ের অপচয় মাত্র| এ য়েন অনেকটা হাওয়ার পেছনে ছোটা|

উপদেশক 1:1-14

  11 কিন্তু আমি যখন আমার সমস্ত কাজের কথা, পরিশ্রমের কথা চিন্তা করলাম তখন দেখলাম সবই সময়ের অপচয! এসবই ছিল হাওযার পিছনে ছোটা| সূর্য়ের নীচে আমরা যা করি তাতে কোন লাভ নেই|
12 এক জন পুরাতন রাজা ইতিমধ্যেই যা করেছে, এক জন নতুন রাজা তার চেয়ে বেশী কিছু করতে পারে না| তাই আমি আমার বিজ্ঞতার, ভুলভ্রান্তির ও পাগলামির কথা আবার ভাবতে শুরু করলাম|
13 অন্ধকারের থেকে আলো য়েমন ভালো জ্ঞানও ঠিক তেমনি অজ্ঞানতার চেয়ে ভালো|
14 এক জন জ্ঞানী মানুষ তার পথ দেখবার জন্য তার চোখ ব্যবহার করে| কিন্তু য়ে মূর্খ সে শুধুই অন্ধকারে ঘুরে বেড়ায়|কিন্তু আমি লক্ষ্য করলাম য়ে এক জন জ্ঞানী ও মূর্খ উভয়ের পরিসমাপ্তি একই| অবশেষে তারা উভয়েই মারা যায়|
15 আমি নিজে ভেবেছিলাম, “এক জন মূর্খের য়ে পরিণতি হয় আমারও তাই হবে| তবে আমি কেন জ্ঞান লাভের জন্য এত কঠিন পরিশ্রম করব?” আমি নিজেকে বললাম, “জ্ঞানী হওয়াও অর্থহীন|”
16 জ্ঞানী ও মূর্খ উভয়েরই পরিণতি মৃত্যু এবং মানুষ জ্ঞানী বা মূর্খ কাউকেই চিরকাল মনে রাখবে না| তারা যা কিছু করেছিল ভবিষ্যতে তা মানুষ ভুলে যাবে| তাই জ্ঞানী ও মূর্খ প্রকৃত অর্থে একই|
17 এতে আমার জীবনের প্রতি ঘৃণা এসে গেল| আমার মনে হল য়ে পৃথিবীতে আমার কাছে যা কিছু আছে তা সবই অর্থহীন| সবই হাওযাকে ধরবার চেষ্টা করবার মত|
18 সূর্য়ের নীচে আমার সমস্ত কঠিন পরিশ্রমের কাজে আমার ঘৃণা জন্মেছিল| যার জন্য আমি কঠিন পরিশ্রম করে গিয়েছি তা আমার পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রেখে যাব| আমার কঠিন পরিশ্রমের ফল আমি আমার সঙ্গে রাখতে পারব না|
19 আমি যা কিছু শিখেছি এবং যা কিছু কাজ করেছি তা অন্য কোন লোক নিয়ন্ত্রণ করবে| এমনকি আমি এটাও জানতে পারব না য়ে সে জ্ঞানী হবে কি মূর্খ| এটাও অসার|
20 আমি সূর্য়ের নীচে যা কিছু কাজ করেছি তার জন্য আমি দুঃখিত|
21 এক জন ব্যক্তি তার সমস্ত প্রজ্ঞা, জ্ঞান ও পারদর্শীতা দিয়ে কঠিন পরিশ্রম করতে পারে| কিন্তু তার পরিশ্রমের ফল তার মৃত্যুর পর অন্য লোক ভোগ করবে| সেই লোকরা বিনা আয়াসে সব কিছু পেয়ে যাবে| এটাও অসার এবং এ একটা ভীষণ পাপ|
22 এক জন ব্যক্তি সূর্য়ের নীচে তার জীবনভর সংগ্রামের পর কতটুকু পায়?
23 সে সারা জীবন পায় শুধু যন্ত্রণা, হতাশা আর কঠিন পরিশ্রম| এমনকি রাতেও সে বিশ্রাম পায় না| এটাও অসার|

উপদেশক 2:11-23

চূড়ান্তভাবে তৃপ্তি দেওয়ার জন্য আনন্দ, সম্পদ, কাজ, প্রকল্প, রোমাঞ্চকর প্রেমের প্রতিশ্রুতিকে তার দ্বারা একটি মায়া রূপে দেখানো হয়েছিল I তবে আজ এটি একই বার্তা যা আপনি এবং আমি এখনও পরিতৃপ্তির নিশ্চিত পথ রূপে   শুনছি I শলোমনের কবিতা আমাদের আগেই বলেছে যে সেই উপায়গুলোতে তিনি পরিতৃপ্তিকে পেতে সক্ষম হন নি I   :

শলোমন মৃত্যু তথা জীবনের উপরে অনুধাবন করতে তার কবিতা চালিয়ে গেলেন:

  19 মানুষ কি পশুদের চেয়ে শ্রেয়? না! কেন? কারণ সব কিছুই অর্থহীন| পশু এবং মানুষদের ক্ষেত্রে একই ব্যাপার ঘটে- উভয়েরই মৃত্যু আসে| মানুষ এবং পশুরা একই “নিঃশ্বাস” নেয়| একটি মৃত মানুষ ও মৃত পশুর মধ্যে কি কোনও পার্থক্য আছে?
20 মানুষ এবং পশুদের দেহ একই ভাবে বিলীন হয়| তারা মাটি থেকেই আসে এবং মাটিতেই ফিরে যায়|
21 কে জানে মানুষের আত্মার কি হয়? কে বলতে পারে পশুর কোন আত্মা যখন মাটির নীচে প্রবেশ করছে তখন হয়তো কোন মানুষের আত্মা ঈশ্বরের কাছে যাচ্ছে?

উপদেশক 3:19-21

  2 কিন্তু সবার ক্ষেত্রে একই জিনিস ঘটে| ভাল ও মন্দ উভয় ধরণের লোকরাই মারা যান| শুচি ও অশুচি দুধরণের লোকের কাছেই মৃত্যু আসে| যারা ঈশ্বরকে নৈবেদ্য দেয় না তাদের মতো যারা ঈশ্বরকে নৈবেদ্য দেয় তারাও মারা যায়| এক জন ভাল লোকও এক জন পাপীর মত মারা যায়| য়ে ব্যক্তি ঈশ্বরের কাছে বিশেষ প্রতিশ্রুতি দেয় সেও সেই ব্যক্তির মতো মারা যায়, য়ে ঈশ্বরের কাছে প্রতিশ্রুতি দিতে ভয় পায়|
3 সূর্য়ের নীচে যা কিছু খারাপ ঘটনা ঘটে প্রত্যেকের ক্ষেত্রে একই পরিণতি হয়| এটাও খুবই খারাপ য়ে লোকেরা সবসময় মন্দ ও মূর্খের মতো চিন্তা করবে এবং সেই চিন্তা তাকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাবে|
4 য়ে এখনও বেঁচে আছে সে য়েই হোক না কেন তার জন্য আশা আছে| এই প্রবাদটি সত্যি য়ে:জীবিত কুকুর মৃত সিংহের চেয়ে শ্রেয়|
5 জীবিত মানুষ জানে য়ে সে মারা যাবে| কিন্তু মৃত মানুষ কিছু জানে না| মৃত মানুষের আর কোন কিছু পাওয়ার নেই| মানুষ খুব তাড়াতাড়ি তাকে ভুলে যাবে|

উপদেশক 9:2-5

একটি পবিত্র বই বাইবেলেতে, কেন ধন এবং প্রেমের অনুধাবন সম্পর্কে কবিতা থাকবে – যে বিশেষ জিনিসগুলোকে আমরা পবিত্রতার সঙ্গে যুক্ত করি না? আমাদের মধ্যে অধিকাংশ আশা করে পবিত্র বইগুলো বেঁচে থাকার জন্য তপস্যা, ধর্ম এবং নৈতিক উপদেশগুলো নিয়ে আলোচনা করবে i আর কেন শলোমন বাইবেলে মৃত্যু সম্পর্কে এমন চূড়ান্ত এবং নিরাশাবাদী উপায় লেখেন?   

যে পথ শলোমন গ্রহণ করেছিলেন, এত সাধারণভাবে জগত জুড়ে অনুসৃত হয়েছিল, তা নিজের জন্য বেঁচে থাকতে ছিল, যাই মানে সৃষ্টি করুক না কেন, আনন্দ বা আদর্শগুলোকে অনুসরণ করতে তিনি বেছে নিয়েছিলেন I কিন্তু শলোমনের জন্য সেই পরিসমাপ্তি ভাল ছিল না – পরিতৃপ্তি ছিল অস্থায়ী এবং মায়া i বাইবেলের মধ্যে তার কবিতাগুলো একটি বড় সাবধানের চিহ্ন ছিল – “এখানে যেও না – এটি তোমাকে নিরাশ করবে!” যেহেতু আমাদের মধ্যে প্রায় অধিকাংশ শলোমনের দ্বারা গৃহীত সেই একই পথ ধরে এগোতে চেষ্টা করব আমরা জ্ঞানী হব যদি আমরা তার কথা শুনি i    

সুসমাচার – শলোমনের কবিতার উত্তর

যীশু খ্রীষ্ট (যেশু সতসংগ) সম্ভবত সর্বাধিক সু-পরিচিত ব্যক্তি যার সমন্ধে বাইবেলে লেখা হয়েছে I তিনিও জীবন সম্বন্ধে বক্তব্য রেখেছেন I আসলে তিনি বললেন

 “… আমি এসেছি যাতে তারা জীবন পায় এবং উপচয় পায়”

যোহন 10:10

  28 ‘তোমরা যাঁরা শ্রান্ত-ক্লান্ত ও ভারাক্রান্ত মানুষ, তারা আমার কাছে এস, আমি তোমাদের বিশ্রাম দেব৷
29 আমার জোয়াল তোমাদের কাঁধে তুলে নাও, আর আমার কাছ থেকে শেখ, কারণ আমি বিনযী ও নম্র, তাতে তোমাদের প্রাণ বিশ্রাম পাবে৷
30 কারণ আমার দেওয়া জোয়াল বয়ে নেওয়া সহজ ও আমার দেওয়া ভার হাল্কা৷’

মথি 11:28-30

যীশু যখন এটি বলেন তখন তিনি শলোমনের দ্বারা তার কবিতার মধ্যে লিখিত নিষ্ফলতা ও আশাহীনতার উত্তর দেন I হতে পারে, কেবলমাত্র হতে পারে, শলোমনের পথের কানা-গলির প্রতি এখানে একটি উত্তর I সর্বোপরি, গসপেলের আক্ষরিক অর্থ ‘সুসমাচার’ I গসপেল সত্যিই কি সুসমাচার? এর উত্তর দেওয়ার জন্য আমাদের কাছে সুসমাচারের একটি অবগত উপলব্ধির প্রয়োজন i এছাড়াও সুসমাচারের দাবিগুলোকে আমাদের পরীক্ষা করার প্রয়োজন রয়েছে – কেবলমাত্র একজন নির্বোধ সমালোচক না হয়ে, সুসমাচার সম্বন্ধে গম্ভীরভাবে চিন্তা করতে হবে I    

আমার কাহিনীর মধ্যে আমার শেয়ার করার সময় এটি ছিল আমার এক   যাত্রা I এই ওয়েবসাইটের মধ্যে এখানে নিবন্ধগুলো রয়েছে যাতে আপনিও অন্বেষণ করতে পারেন I যীশুর অবতার শুরু করার জন্য একটি উত্তম স্থান I  

বলিদানের সার্বজনীন প্রয়োজনীয়তা

যুগ যুগ ধরে মুনি ও ঋষিরা জেনেছেন যে মানুষ মায়া এবং পাপের মধ্যে বাস করেছে I এটি যুগে যুগে সমস্ত ধর্মের লোকেদর মধ্যে ঘটেছে এবং শিক্ষা স্তর সমমূহর মধ্যে একটি সহজাত সচেতনতা রয়েছে যে তাদের ‘পরিশুদ্ধ’ হওয়ার প্রয়োজন আছে I এইজন্যই অতশত লোক কুম্ভ মেলা উৎসবে অংশগ্রহন করে এবং কেন পূজা করার পূর্বে লোকেরা প্রার্থ স্নানা (অথবা প্রাতসানা) মন্ত্রম বলে (“আমি একজন পাপী I আমি পাপের পরিণাম I আমার পাপের থেকে জন্ম I আমার আত্মা পাপের মধ্যে I আমি সবথেকে খারাপ পাপী I হে প্রভু যাঁর সুন্দর চক্ষু আছে I আমাকে রক্ষা করুন, হে বলিদানের প্রভু I”) I পরিশুদ্ধ করার জন্য সাথে সাথে এই সহজাত প্রয়োজনীয়তার একটি ধারণা হল আমাদের পাপের জন্য বা আমাদদের জীবনের অন্ধকারের (তমসা) জন্য কোনভাবে মূল্য প্রদান করতে একটি বলিকে উৎসর্গ করা I এবং আর একবার পূজার বলিদানের মধ্যে, অথবা কিম্ভ কুম্ভ মেলা ও অন্যান্য উৎসবের মধ্যে লোকেরা সময়, অর্থ, তপস্যার বলিদান দেয় এই উদ্দেশ্যে যাতে বলি দিতে সহজাত প্রয়োজনীয়তা পূরণ করে I আমি এমন লোকেদের কথা শুনেছি যারা একটি গরুকে নিয়ে এর লেজ ধরে যাতে এটি নদীর মধ্যে চারিদিকে সাঁতরে বেড়ায় I এটিকে একটি পূজা বা বলিদান রূপে করা হয় যাতে ক্ষমা পাওয়া যায় I        

বলি দেওয়ার এই প্রয়োজনীয়তা আমাদের চারিদিকে আছে যত দিন ধরে  প্রাচীনতম ধার্মিক শাস্ত্রগুলো চারিদিকে রয়েছে I আর এই পাঠ্যগুলো সুনিশ্চিত করে যা আমাদের সহজাত প্রবৃত্তিগুলো বলে – যে বলি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অবশ্যই তা দেওয়া উচিত I উদাহরণস্বরূপ নিচের শিক্ষাগুলোকে বিবেচনা করুন:

কাঠোপনিষদের (হিন্দু পাঠ্য) মধ্যে অধিবক্তা নচিকেতা বলেন:

“আমি বাস্তবিক জানি যে অগ্নি বলিদান স্বর্গে নিয়ে যায় এবং স্বর্গ লাভের উপায়” কাঠোপনিষদ 1:14 

কাঠোপনিষদ 1:14 

হিন্দুদের পুস্তক বলে:

“এটি বলিদানই হচ্ছে যার মাধ্যমে মানুষ স্বর্গে পৌঁছায়” শথপথ ব্রাহ্মণ VIII.6.1.10

“বলিদানের মাধ্যমে, না কেবল মনুষ্য বরং ঈশ্বরও অমরত্ব লাভ করে” শ

থপথ ব্রাহ্মণ II.2.2.8-14  

অতএব বলিদানের মাধ্যমেই আমরা অমরত্ব ও স্বর্গ (মোক্ষ) লাভ করি I কিন্তু প্রশ্ন এখনও অবশিষ্ট থেকে যায় যে মূল্য প্রদানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে অথবা আমাদের পাপ/অন্ধকার সমূহের বিরুদ্ধে যথেষ্ট যোগ্যতা অর্জন করতে কি প্রকারের বলিদান এবং কতটা পরিমাণ পর্যাপ্ত? পাঁচ বছরের তপস্যা কি যথেষ্ট হবে? দরিদ্রদের অর্থ দেওয়া কি একটি পর্যাপ্ত বলিদান হবে? আর তাই যদি হয়, কতটা?

প্রজাপতি/সদাপ্রভু: ঈশ্বর যিনি বলি যোগান দেন

অত্যন্ত প্রাচীনতম বৈদিক পাঠ্যগুলোর মধ্যে, ঈশ্বর যিনি সমস্ত সৃষ্টির প্রভু ছিলেন – একজন যিনি বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি এবং নিয়ন্ত্রণ করেছেন – তাঁকে প্রজাপতি বলা হয় I ইনি প্রজাপতি যার মধ্য দিয়ে অন্য সমস্ত কিছু অস্তিত্বে এসেছে I

বেদা পুস্তকমের (বাইবেল) প্রাচীনতম পাঠ্য তোরাহ নাম পরিচিত I তোরাহ আনুমানিক 1500 খ্রীষ্টাব্দে লেখা হয়েছিল, যে সময়ে ঋক বেদ রচিত হয়েছিল I তোরাহ এই ঘোষণা দিয়ে আরম্ভ হয় যে একজন জীবন্ত ঈশ্বর আছেন যিনি সমগ্র বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডর সৃষ্টিকর্তা I মূল হিব্রুর লিপ্যন্তরের মধ্যে এই ঈশ্বরকে এলোহীম বা সদাপ্রভু বলা হত এবং তাদেরকে এই হিব্রু পাঠ্যের মধ্যে আগে পিছে অদলবদল করা হয়েছিল I এইরূপে ঋক বেদের প্রজাপতির ন্যায় তোরাহর মধ্যে সদাপ্রভু, বা এলোহীম সমস্ত সৃষ্টির প্রভু ছিলেন (এবং হন) I

তোরাহর প্রারম্ভে, ভাববাদী আব্রাহামের সংগে এক উল্লেখযোগ্য সাক্ষাত্কারের মধ্যে সদাপ্রভু আবারও স্বয়ংকে ‘যোগানদাতা’ ঈশ্বর রূপে প্রকাশ করেন I আমি যোগানদাতা সদাপ্রভুর (যহোবা-যিরে রূপে হিব্রু থেকে লিপ্যন্তর) সাথে সেই ঋক বেদের প্রজাপতির অনুরূপতার সঙ্গে ধাক্কা খেলাম যিনি “সৃষ্টি সমূহের সংরক্ষক অথবা সহায়ক” I     

কিভাবে সদাপ্রভু যোগান দেন? আমরা ইতিমধ্যেই লোকেদের জন্য বলি দেওয়ার সহজাত প্রয়োজনীয়তাকে লক্ষ্য করেছি, কিন্তু কোনরকম আশ্বাসন ছাড়া যে বলি আমরা নিয়ে আসি তা যথেষ্ট I যেটি এত চিত্তাকর্ষক তা হল আমাদের প্রয়োজনের এই বিশেষ নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তান্দ্যমহা ব্রাহ্মণ ঘোষণা করে কিভাবে প্রজাপতি আমাদের প্রয়োজন যোগান দেয় I এটি বলে: 

“স্বয়ং-বলিদান রূপে প্রস্তুত করে প্রজাপতি (সমস্ত সৃষ্টির প্রভু) নিজেকে ঈশ্বরদের জন্য সমর্পণ করলেন” তান্দ্যমহা ব্রাহ্মণ 2 খন্ডের অধ্যায় 7

[সংস্কৃত অক্ষরীকরণ হল “প্রজাপতির্দ দেবেভ্য আত্মানম যজ্ঞম কর্তভা প্রয়চ্ছত”] I   

এখানে প্রজাপতি একবচনের মধ্যে আছে I কেবল একমাত্র প্রজাপতি, ঠিক যেমন তোরাহতে কেবল একজন সদাপ্রভু I পরে পুরাণ সাহিত্যে (500 থেকে – 1000 খ্রীষ্টাব্দের মধ্যে লিখিত) বিভন্ন প্রজাপতি সমূহকে সনাক্তকরণ করা হয়েছে I কিন্তু প্রাচীনতম পাঠ্যে উল্লিখিত উক্ত প্রজাপতি একবচনের মধ্যে আছে I এবং এই বক্তব্যর মধ্যে আমরা দেখি যে প্রজাপতি নিজে প্রদান করেন বা বলি হচ্ছেন এবং তিনি এটিকে অন্যদের হয়ে দান করেন I ঋক বেদ এই বলে এটিকে সমর্থন করে:   

 “আসল বলিদান প্রজাপতি স্বয়ং” (সংস্কৃত: ‘প্রজাপতির্র যজ্ঞ’]

সংস্কৃত পন্ডিত এইচ, আগুইলার শতপথ ব্রাহ্মণ থেকে অনুবাদ করে এর উপরে  টিপ্পনী করেন:

 “আর বাস্তবিক, বলিদানের উপযুক্ত সেখানে আর কোনো (জীবন্ত বলি) ছিল না বরং সেই একজন প্রজাপতি, এবং দেবতারা তাঁকে বলিদানে সমর্পণের জন্য স্থাপিত করলেন – কারণ বলিদানের সাহায্যে তারা তাঁকে (প্রজাপতি) সমর্পণ করলেন – এগুলো ছিল প্রথম বিধি, কারণ এই ব্যবস্থা সমূহকে প্রথমে জারি করা হয়েছিল” এইচ. আগুইলার, দি স্যাক্রিফাইস ইন দি ঋক বেদা    

প্রাচীন কাল থেকে বেদ ঘোষণা করে যে সদাপ্রভু বা প্রজাপতি আমাদদের যা প্রয়োজন তা জানতেন তাই তিনি নিজেকে আমাদের জন্য এক স্বয়ং-বলিদানের মধ্যে প্রদান করলেন I কিভাবে তিনি এটি করলেন তা আমরা পরবর্তী রচনা সমূহের মধ্যে দেখি যে মুহুর্তে আমরা ঋক বেদের পুরুষাসুক্তর পুরুষা-প্রজাপতির বলিদানের উপরে মনোযোগ দিই, কিন্তু এখনকার জন্য কেবল চিন্তা করুন এটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ I শ্বেতাশ্বর উপনিষদ বলে  

 ‘অনন্ত জীবনে প্রবেশ করার আর কোনো উপায় নেই’ (সংস্কৃত: ন্যান্য: পন্থা বিদ্যতেঅয়নায়) শ্বেতাশ্বর উপনিষদ 3:8  

আপনারা যদি অনন্ত জীবনে উৎসাহিত হন, আপনার যদি মোক্ষ অথবা চেতনার দীপ্তি পেতে ইচ্ছা করেন তাহলে এটি দেখা বিচক্ষণ হবে যা প্রকাশিত হয়েছে যে কিভাবে এবং কেন প্রজাপতি (বা সদাপ্রভু) স্বয়ং-বলিদানের মাধ্যমে আমাদের জন্য প্রদান করেছেন যাতে আমরা স্বর্গ লাভ করতে পারি I আর বেদ আমাদের ঝুলিয়ে রাখে না I ঋক বেদের মধ্যে পুরুষাসুক্ত যা প্রজাপতির অবতার এবং তার দ্বারা প্রস্তুত আমাদের জন্য বলিকে বর্ণনা করে I এখানে আমরা পুরুসাসুক্তকে প্রবর্তন করি যেমন বাইবেল (বেদা পুস্তকম) যেশু সৎসংগকে (নাসরতের যীশুক) এবং তাঁর বলিদানকে বর্ণনা করেছে যা আমাদের কাছে মোক্ষ অথবা মুক্তি (অমরত্ব) নিয়ে আসে I এখানে আমরা সরাসরি যীশুর (যেশু সৎসংগ) বলিদান এবং আমাদের প্রতি তাঁর উপহারকে দেখি I    

কুম্ভমেলা উৎসব : পাপের খারাপ খবর এবং আমাদের শুদ্ধতার প্রয়োজন তা দেখায়

মানব ইতিহাসের সর্ববৃহৎ সমাবেশটি ২০১৩ সালে ঘটেছিল – কুম্ভমেলা উৎসব যা প্রতি ১২ বছর পর একবার পালন করা হয়। ৫৫ দিনের এই উৎসব পালনের জন্য প্রায় ১০ কোটি মানুষ গঙ্গা নদীর তীরে এলাহাবাদ শহরে অবতরণ করেছিল, কেবল/শুধু উদ্বোধনের দিন ১ কোটি মানুষ গঙ্গায় স্নান করেছিল।

কুম্ভমেলার জন্য গঙ্গায় লক্ষ্য লক্ষ্য ভক্তের সমাগম

এন.ডি.টি.ভি অনুযায়ী আয়োজকগণ ১৫ই ফেব্রুয়ারী, ২০১৩ শেষ স্নান যাত্রার দিন ২ কোটি মানুষের স্নানের অনুমান করেছেন । এই কুম্ভ মেলার সংখ্যাগুলি মক্কায় যে প্র্তিবছর হ্জ তীর্থস্থানগুলি মুসলমানরা তৈরি করে তার – একটি `মাত্র’ 2-3 মিলিয়ন।    

 

আমি এলাহাবাদ এসেছি আর কল্পনা করতে পারছি না কিভাবে এতো লক্ষ্যাধিক লোক একসাথে জড়ো হয়েছে অন্য কোন কার্য স্তব্ধ না হয়ে। বিবসি রিপোর্ট অনুযায়ী প্রত্যেক দিনের কার্যের জন্য যেমন টয়লেট ও ডাক্তার জোগাড়ের জন্য বিপুল পরিশ্রম করতে হয়েছে। এই কুম্ভ মেলা, মুসলিমদের বাত্সরিক মক্কাতে হজ যাত্রা ২০১২ সালে যা ছিল ৩.১ মিলিয়ন লোক তাকেও খর্ব করে দিয়েছে। তাহলে কেন ১০০ মিলিয়ন লোক ১২০ বিলিয়ন অর্থ খরচ করে এই গঙ্গা নদীতে স্নানের জন্য আসে? নেপাল থেকে আসা একজন ভক্ত বিবিসিকে বলেছে যে

“আমার পাপ ধোয়ার জন্য এসেছি”

রিউটার্স রিপোর্ট অনুযায়ী-

“এই জীবন ও গত জীবনে সমস্ত পাপ ধুয়েছি” ৭৭ বছরের উল্লঙ্গ ঠান্ডায় কাঁপতে থাকা ভবঘুরে তপস্বী স্বামী শংকরানন্দ সরস্বতী বলেছিলেন।

এনডিটিভি আমাদের বলে যে-

ভক্তরা, যারা বিশ্বাস করে যে পবিত্র জলে ডুব দিলে তাদের পাপ ক্ষমা হয়, বিগত ২০০১ সালের অনুষ্ঠানে আমি দেখেছিলাম তখন বিবিসি-র একটি সাক্ষাত্কারে মোহন শর্মা একজন তীর্থযাত্রী বলেছিলেন যে, “যে পাপ আমরা করেছি তা এখানে ধুয়ে যায়”।

সার্ব্বজনীনভাবে মানুষের “পাপের” ধারণা

অন্যভাবে, বহু লক্ষাধিক মানুষ অর্থ ব্যয় করেন, ভীড়ে ঠাসা ট্রেনে যাত্রা করেন, ঘিন্জি পরিবেশকে সহ্য করেন এবং নিজেদের পাপ ধৌত করার জন্য গঙ্গা নদীতে স্নান করেন। এই ভক্তরা কি করছেন তা  দেখবার আগে, আসুন আমরা লক্ষ্য করি তারা তাদের জীবনের সমস্যা পাপ কে উপলদ্ধি করতে পারছেন।

শ্রী সত্য সাঁই বাবা এবং সঠিকভুল

আসুন হিন্দু গুরু শ্রী সত্য সাঁই বাবার শিক্ষা থেকে ইহা দেখি, যার উপদেশটি আমি মনে করেছিলাম প্রশংসনীয়। নিম্নে সেগুলি আমি অনুলিপি করছি। এগুলি পড়ার সময় নিজেকে প্রশ্ন করুন “এই উত্তম নৈতিক উপদেশগুলি কি বাঁচার জন্য? আমার কি এগুলি দ্বারা বাঁচা উচিত”?

“এবং ধর্ম (আমাদের নৈতিক দায়িত্ব) কী? আপনি যা প্রচার করেন তা অনুশীলন করা, আপনি যেমন বলছেন তা করতে হবে, অনুধাবন এবং অনুশীলনকে লাইনে রেখে। পুণ্য অর্জন করা, ধার্মিকভাবে আকাঙ্ক্ষা; ঈশ্বরের ভয়ে বেঁচে থাকা, ঈশ্বরের কাছে পৌঁছানোর জন্য বেঁচে থাকা: এটাই ধর্ম” সত্য সাঁই কথা ৪, পৃষ্ঠা ৩৩৯

“আপনার সঠিক দায়িত্ব কি?……

  • প্রথমে আপনার পিতামাতাকে ভালবাসা এবং শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সাথে স্নেহ/পরিচর্যা করা।
  • দ্বিতীয়ত, সত্য কথা বলা এবং সদর্থক আচরণ করা।
  • তৃতীয়্ত, যখনই আপনার কাছে কয়েক মুহুর্তের অবকাশ থাকবে, তখনই আপনার মনে প্রভুর নাম পুনরাবৃত্তি করা।
  • চতুর্থতঃ, কখনও অন্যের সম্পর্কে খারাপ কথা না বলা অথবা অন্যের মধ্যে ত্রুটিগুলি আবিষ্কার/খোঁজার চেষ্টা না করা।
  • এবং অবশেষে, অন্যকে কোনওভাবে ব্যথার কারণ হবেন না” সত্য সাঁই কথা ৪, পৃষ্ঠা ৩৪৮-৩৪৯   

“যে ব্যক্তি নিজের অহংকারকে বশীভূত করে, তার স্বার্থপর আকাঙ্ক্ষাগুলি জয় করে, তার পাশবিক অনুভূতি এবং আবেগগুলি ধ্বংস করে এবং শরীরকে নিজের হিসাবে গণ্য করার প্রাকৃতিক প্রবণতা ছেড়ে দেয়, সে অবশ্যই ধর্মের পথে রয়েছে” ধর্ম ভীরু, পৃষ্ঠা ৪

আমি এইগুলি পড়ার সময় আমি দেখতে পেলাম যেগুলি আমার বেঁচে থাকার ধর্মানুশাসন ছিল – একটি সাধারণ নৈতিক দায়িত্ব হিসাবে। আপনি কি একমত নন? তবে আপনি কি সত্যই তাদের দ্বারা জীবনযাপন করছেন? আপনি (এবং আমি) পরিমাপ করেছেন? এবং যখন আমরা এইরকম ভাল শিক্ষাগুলি করতে ব্যর্থ হই বা না মেনে চলি তখন কী ঘটে? শ্রী সত্য সাঁইবাবা নিম্নলিখিত উপায়ে এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।

“সাধারনতঃ আমি মিষ্টি কথা বলি, কিন্তু শৃঙ্খলার এই বিষয়ে, আমি কোনও ছাড় দেই না, আমি কঠোর আনুগত্যের জন্য জোর করি। আপনার স্তর অনুসারে আমি কঠোরতা হ্রাস করব না”। – সত্য সাই কথা ২, পৃষ্ঠা ১৮৬

কঠোরতার যে স্তর তা ঠিক থাকবে – যদি আপনি প্রয়োজনীয়তাগুলি পূরণ করতে পারেন। কিন্তু আপনি যদি প্রয়োজনীয়তাগুলি পূরণ করতে না পারেন? এখান থেকেই ‘পাপের’ ধারনা আসে। যখন আমি নৈতিক লক্ষ্যটি হারিয়ে ফেলি অথবা আমি জানি যে আমার যা করা উচিত তা করতে ব্যর্থ হলে আমি ‘পাপ’ করি এবং আমি একজন পাপী। কেউ পছন্দ করে না সেটা শুনতে যে তারা পাপী – এটি এমন কিছু যা আমাদেরকে অস্বস্তিকর এবং অপরাধী করে তোলে, এবং বাস্তবে আমরা সমস্ত কিছু চিন্তাভাবনা দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে অনেক মানসিক শক্তি ব্যয় করি। সম্ভবত আমরা শ্রী সত্য সাই বাবাকে বাদ দিয়ে অন্য কোন শিক্ষকের কাছে গিয়ে দেখতে পারি, তবে তিনি যদি একজন ভাল শিক্ষক হন তবে তাঁর নৈতিক প্রজ্ঞাটি একই রকম এবং সমানভাবে কার্যকর হবে যা অনুশীলন করা উচিত।

বাইবেল (বেদ পুস্তকাম) বলে যে ধর্ম বা শিক্ষার স্তর নির্বিশেষে আমরা সকলেই পাপের এই বোধ অনুভব করি কারণ পাপের এই ধারণাটি আমাদের বিবেক থেকেই আসে। বেদ পুস্তকাম এভাবে প্রকাশ করেছেন।

প্রকৃতপক্ষে, পরজাতীয়রা (যেমন অ-ইহুদী), যাদের আইন নেই (বাইবেলের দশ আজ্ঞা) যখন আইন দ্বারা প্রয়োজনীয় প্রকৃতির জিনিসগুলি করে, আইন না থাকলেও তারা নিজেরাই একটি আইন। তারা দেখায় যে আইনটির প্রয়োজনীয়তাগুলি তাদের অন্তরে লেখা আছে, তাদের বিবেকগুলিও সাক্ষ্য দেয় এবং তাদের চিন্তাভাবনাগুলি কখনও কখনও তাদেরকে দোষী করে এবং অন্যান্য সময়ে এমনকি তাদের রক্ষাও করে।

রোমীয় ২:১৪-১৫

এইজন্য লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রী তাদের পাপ অনুভব করে। এটি ঠিক যেমন বেদ পুস্তকে (বাইবেল) বলে। সকলেই পাপ করেছে এবং ঈশ্বরের গৌরব বিহীন হয়েছে

রোমীয় ৩:২৩

প্রতাশন মন্ত্রে পাপ প্রকাশ করেছেন

এই ধারণাটি প্রসিদ্ধ প্রাতস্নানা  (বা প্রতাশন) মন্ত্রে প্রকাশিত হয়েছে যা আমি নীচে পুনরুউক্তি করেছি

আমি একজন পাপী। আমি পাপের ফলস্বরুপ। আমি পাপে জন্মগ্রহন করেছি। আমার আত্মা পাপের অধীনে। হে ঈশ্বর যাহার সুন্দর চোখ রয়েছে, আমায় রক্ষা করুন, হে বলিদানের ঈশ্বর।

আপনি কি এই প্রার্থনাটির বিবৃতি এবং অনুরোধের সাথে পরিচিত না?

ঈশ্বরের বাক্য/ সুসমাচার আমাদের পাপকে ধৌত করে

সুসমাচার একই সমস্যার সমাধান করে কুম্ভমেলার তীর্থযাত্রী এবং প্রাতস্নানা ভক্ত তাদের পাপ ধুয়ে ফেলতে চান। যারা তাদের ‘পোশাক’ ধুয়ে ফেলেন (নৈতিক ক্রিয়া) তাদের জন্য একটি আশীর্বাদের প্রতিশ্রুতি দেয়। আশীর্বাদ স্বর্গে এক অমরত্ব (জীবনের বৃক্ষ) (‘শহর’)।

ধন্য তারা, যারা তাদের পোশাক ধুয়ে ফেলে, যেন তারা জীবনবৃক্ষের অধিকারী হতে পারে এবং দ্বার দিয়ে শহরে প্রবেশ করতে পারে।

প্রকাশিত বাক্য ২২:১৪

কুম্ভমেলা উত্সব আমাদের পাপের বাস্তবতার “খারাপ সংবাদ” প্রদর্শন করে, এবং এভাবে আমাদের শুচি হওয়ার জন্য আমাদেরকে জাগ্রত করে । এমনকি যদি সুসমাচার থেকে এই প্রতিশ্রুতিটি সত্যই থাকে  তবে কেবলমাত্র একটি দূরবর্তী সম্ভাবনা উপস্থিত আছে তবে এটি এত গুরুত্বপুর্ণ যে, অবশ্যই এটিকে আরও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা সার্থক। এই ওয়েবসাইটটির উদ্দেশ্য হল এটি যেন অনুসন্ধান করতে পারেন।

আপনি যদি অনন্তজীবনে আগ্রহী হন, যদি আপনি পাপ থেকে মুক্তি চান তবে যে প্রজাপতি ঈশ্বর বিশ্বকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমাদের জন্য কিভাবে যোগান দিয়েছিলেন সে সম্পর্কে কি প্রকাশিত হয়েছে তা পর্যবেক্ষণ করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে এবং আমরা স্বর্গ অর্জন করতে পারি। এবং বেদ আমাদের এই শিক্ষা দেয়। রিগ বেদে পুরুষসুক্ত রয়েছে যা প্রজাপতির অবতার এবং তিনি আমাদের জন্য যে আত্ম্ত্যাগ স্বীকার করেছেন তা বর্ণনা করে। বাইবেল (বেদ পুস্তকাম) আরও অনেক বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করেছে যে কীভাবে এই পরিকল্পনাটি মানব ইতিহাসে অবতীর্ণ হয়েছিল, প্রভু যীশু সত্সংয়ের জীবনও মৃত্যুর মধ্য দিয়ে (যীশুখ্রীষ্ট)। আপনার পাপ ধুয়ে ফেলতে পারেন, তা দেখার জন্য এই পরিকল্পনাটি তদন্ত করতে এবং বুঝতে কেন আপনি সময় নিচ্ছেন না।

দীপাবলি এবং প্রভু যীশু

যখন আমি ভারতে কাজ করছিলাম তখন প্রথমবারের মতো দীপাবলির ‘কাছাকাছি’ অভিজ্ঞতা হয়েছিল। আমি এক মাস থাকতে এসেছি এবং আমার থাকার শুরুতে আমার চারদিকে দীপাবলি উদযাপিত হয়েছিল। আমার সবথেকে বেশি যা মনে আছে তা হল আতশবাজির ধোঁয়ায় বাতাস ঘন হয়ে গিয়েছিল এবং এটা আমার চোখে কিছুটা য্ন্ত্রনা সৃষ্টি করছিল। আমার চারপাশে যে সমস্ত উত্তেজনা চলছে তা নিয়ে আমি দীপাবলি সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলাম, এটি কী ছিল এবং এর অর্থ কী। এবং আমি এটির প্রেমে পড়েছিলাম।

‘আলোর উত্সব’ আমাকে অনুপ্রাণিত করেছিল কারণ আমি বিশ্বাসী এবং অনুগামী, য়েশু সৎসাং প্রভু যীশু হিসাবেও পরিচিত। এবং তাঁর শিক্ষার মূল বার্তাটি হ’ল তাঁর জ্যোতি/আলো আমাদের অন্ধকারকে কাটিয়ে তুলবে। তাই দিওয়ালি অনেকটা প্রভু যীশুর মতো।

আমরা বেশিরভাগ সবাই বুঝতে পারি যে আমাদের মধ্যে অন্ধকারের সমস্যা রয়েছে। এ কারণই বহু লক্ষ লক্ষ লোক কুম্ভমেলা উত্সবে অংশ নেয় – কারণ লক্ষ লক্ষ মানুষ জানেন যে আমরা পাপী এবং আমাদের সেই পাপ ধুয়ে ফেলতে হবে এবং নিজেকে পরিষ্কার করতে/রাখতে হবে। পাশাপাশি, সুপরিচিত প্রার্থ স্নানা (বা প্রতাশন) মন্ত্রের প্রাচীন প্রার্থনা আমাদের হৃদয়ে থাকা এই পাপ বা অন্ধকারকে স্বীকার করে।

আমি একজন পাপী। আমি পাপের ফলস্বরুপ। আমি পাপে জন্মগ্রহণ করেছি। আমার আত্মা পাপের অধীন। আমি পাপীদের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ। হে সদাপ্রভু, যার সুন্দর চোখ আছে, আমাকে রক্ষা করুন, হে বলিদানের প্রভু।

কিন্তু আমাদের ভিতরের অন্ধকার বা পাপের এই সমস্ত চিন্তাভাবনা উত্সাহজনক নয়। আসলে  আমরা মাঝে মাঝে এটিকে ‘খারাপ সংবাদ’ বলে মনে করি। এই কারণেই অন্ধকারকে কাটিয়ে ওঠার জন্য আলো আমাদের আশা এবং উদ্দীপনা দেয়। আর তাই মোমবাতি, মিষ্টি এবং আতশবাজির পাশাপাশি দীপাবলি এই আশা প্রকাশ করে যে আলো অন্ধকারকে কাটিয়ে দেবে।

প্রভু যীশু পৃথিবীর মধ্যে আলো

প্রভু যীশু ঠিক এইভাবেই করেছিলেন। বেদ পুস্তকান (বা বাইবেল) এর সুসমাচার প্রভু যীশুকে নিম্নলিখিত উপায়ে বর্ণনা করেছেন।

জীবনের শব্দ প্রথম থেকেই ছিল। আমরা এটা শুনেছি। আমরা এটা দেখেছি। আমরা এটি পর্যবেক্ষণ এবং ছোঁয়া। এই জীবন আমাদের কাছে প্রকাশিত হয়েছিল। আমরা এটি দেখেছি এবং আমরা এটির বিষয়ে সাক্ষ্য দিই। আমরা আপনাকে এই অনন্তজীবন সম্পর্কে জানাই যা পিতার উপস্থিতিতে ছিল এবং আমাদের কাছে প্রকাশিত হয়েছিল। 3 এটাই সেই জীবন যা আমরা দেখেছি এবং শুনেছি। আমরা আপনাকে এটির বিষয়েও জানিয়ে দিচ্ছি যাতে আপনিও আমাদের সাথে সম্পর্ক রাখতে পারেন। আমাদের সম্পর্ক পিতা এবং তাঁর পুত্র যীশু খ্রিস্টের সাথে। 4 আমরা এটি লিখছি যাতে আমরা সম্পূর্ণ আনন্দের সাথে পূর্ণ হতে পারি।আমরা খ্রীষ্টের কাছ থেকে এই বার্তাটি শুনেছি এবং আপনাকে জানিয়েছি: lightশ্বর আলো, তাঁর মধ্যে কোনও অন্ধকার নেই।

যোহন ১:১-৫

সুতরাং আপনি দেখুন, এই দীপাবলি ‘বাক্য’ আশার পরিপূর্ণতাকে প্রকাশ করেছে। এবং এই আশা ঈশ্বরের কাছ থেকে পাওয়া ‘বাক্য’ থেকে আসে, যা যোহন পরে প্রভু যীশু হিসাবে চিহ্নিত করেছিলেন। সুসমাচারটি উল্লেখ করে চলতে থাকে। 

9 আসল আলো যা সবার উপরে জ্বলজ্বল করে তা পৃথিবীতে আসছিল। 10 তিনি দুনিয়াতে ছিলেন এবং তাঁর মধ্য দিয়েই পৃথিবীটি অস্তিত্ব নিয়েছে। তবুও, বিশ্ব তাকে চিনতে পারে নি। 11 তিনি তাঁর নিজের লোকদের কাছে গিয়েছিলেন এবং তাঁর নিজের লোকেরা তাঁকে গ্রহণ করেন নি। 12 তবে, যারা heমান এনেছে তাদের প্রত্যেককে তিনি শ্বরের সন্তান হওয়ার অধিকার দিয়েছেন। 13 এই লোকেরা দৈহিক উপায়ে শ্বরের সন্তান হয়ে উঠেনি। মানুষের প্ররোচনা থেকে বা স্বামীর সন্তানের ইচ্ছা থেকে। তারা শ্বরের কাছ থেকে জন্মগ্রহণ করেছিল

(যোহন ১:৯-১৩

প্রভু যীশু কিভাবে ‘সকলকে আলোকিত’ করতে এই পৃথিবীতে এসেছিলেন তা ব্যাখা করছে। কেউ কেউ মনে করেন এটি কেবল খ্রীষ্টানদের জন্য, তবে লক্ষ্য করুন যে এই সুযোগ ‘বিশ্বের’ সবার জন্য “ঈশ্বরের সন্তান হওয়ার” জন্য। এই সুযোগ হল প্রত্যেকের, কমপক্ষে প্রত্যেক আগ্রহীর কাছে দীপাবলির মতো, আলো তাদের হৃদয়ের অন্ধকারকে ঢেকে দেবে।

প্রভু যীশুর জীবন কয়েকশ বছর আগেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল

প্রভু যীশু সম্পর্কে প্রভু যীশু সম্পর্কে যা অসাধারণ তা হ’ল তাঁর অবতারের বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল এবং পূর্বের মানব ইতিহাসের বিভিন্ন উপায়ে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল এবং সেগুলি হিব্রু বেদে লিপিবদ্ধ আছে। সুতরাং এই পৃথিবীতে আসার আগেই তাঁর সম্বন্ধে লেখা হয়েছিল। আর তাঁর অবতারের পূর্বাভাসের কিছুটা রিগবেদের অতি প্রাচীন স্তবগুলিতেও লেখা আছে, যা পুরুসার আগমনের প্রশংসা করে এবং মানবতার প্রথম দিকের কিছু ঘটনা লেখা আছে যেমন বন্যা, একই ব্যক্তি যাকে বাইবেল – বেদ পুস্তকান – ‘নোহ’ বলে। এই প্রাচীন বিবরণগুলি মানুষের পাপের অন্ধকারকে চিত্রিত করে, আসন্ন পুরুষা বা প্রভু যীশুর প্রত্যাশার প্রস্তাব দেয়।

রিগবেদের পূর্বাভাসে, পুরুষা ঈশ্বরের অবতার এবং সিদ্ধপুরুষ, বলি হতে চলেছিল। এই বলিদানটি আমাদের পাপের কর্মের জন্য এবং আমাদের ভিতরে পরিষ্কার করার জন্য যথেষ্ট ছিল। পরিষ্কার এবং পূজা ভাল, তবে সেগুলি আমাদের বাইরের দিকে সীমাবদ্ধ। আমাদের হৃদয় পরিষ্কার করার জন্য আমাদের আরও ভাল বলিদান প্রয়োজন।

প্রভু যীশু হিব্রু বেদে ভোবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন

রিগ বেদে এই স্তোত্রগুলির পাশাপাশি হিব্রু বেদও এই আগমনীর ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। হিব্রু বেদে সুপরিচিত ছিলেন ঋষি যিশাইয় (যিনি খ্রীস্টপূর্ব প্রায় ৭৫০ বছর পূর্বে ছিলেন, অন্য কথায় প্রভু যীশু এই পৃথিবীতে আসার আগেও ৭৫০ বছর পূর্বে ছিলেন)। তাঁর এই আগমনকে নিয়ে অনেক অন্তর্দৃষ্টি ছিল। তিনি যখন প্রভু যীশু সম্পর্কে ঘোষণা করেন তখন তিনি দীপাবলির প্রত্যাশা করেন:

এই সব দেশের লোক অন্ধকারে বাস করত| কিন্তু তারা মহা-আলোকটি দেখতে পাবে| ঐসব লোক কবরের মত অন্ধকার জায়গায় বাস করত| কিন্তু “মহা-আলোক” তাদের ওপর কিরণ

যিশাইয় ৯:২

কেন এমন হবে? তিনি আরও বলেছেন

একটি বিশেষ শিশু জন্মগ্রহণ করার পরই এটা ঘটবে| ঈশ্বর আমাদের একটি পুত্র দেবেন| লোকদের নেতৃত্ব দেওয়ার ভার তার ওপর থাকবে| তার নাম হবে “আশ্চর্য়্য় মন্ত্রী, ক্ষমতাবান ঈশ্বর, চিরজীবি পিতা, শান্তির রাজকুমার|”

যিশাইয় ৯:৬

তবে যদিও তিনি অবতার ছিলেন, তিনি আমাদের অন্ধকারের প্রয়োজনে আমাদের সাহায্য করার জন্য তিনি আমাদের একজন দাস হয়েছেন।

কিন্তু সে আমাদের অসুখগুলোকে বয়ে বেড়িযে-ছিল| সে আমাদের যন্ত্রণা ভোগ করেছিল| এবং আমরা মনে করেছিলাম ঈশ্বর তাকে শাস্তি দিচ্ছেন| তার কোন কৃতকর্মের জন্য ঈশ্বর তাকে শাস্তি দিচ্ছেন বলে আমরা মনে করেছিলাম|
কিন্তু আমাদেরই ভুল কাজের জন্য তাকে আহত হতে হয়েছিল| আমাদের পাপের জন্য সে ক্ষত-বিক্ষত হয়েছিল| আমাদের কাঙ্খিত শাস্তি সে পেয়েছিল| তার আঘাতের জন্য আমাদের আঘাত সেরে উঠেছিল|
আমরা সবাই হারিযে যাওয়া মেষের মত ঘুরে বেড়িযেছিলাম| আমরা সবাই আমাদের নিজেদের পথে গিয়েছিলাম যখন প্রভু আমাদের সব শাস্তি তাকে দিয়ে ভোগ করাচ্ছিলেন|

যিশাইয় ৫৩:৪-৬

যিশাইয় প্রভু যীশুর ক্রুশবিদ্ধকরণের বর্ণনা দিচ্ছেন। তিনি ৭৫০ বছর আগে এটি করেছিলেন এবং তিনি ক্রুশবিদ্ধকরণকে আমাদের সুস্থতার বলিদান হিসাবে বর্ণনা করেছেন । এবং এই কাজ দাসের যা   ঈশ্বর তাকে করার জন্য প্রস্তাব  করেছিলেন।  

“তুমি আমার খুবই গুরুত্বপূর্ণ দাস| ইস্রায়েলের লোকরা এখন বন্দী| কিন্তু তাদের আমার কাছে আনা হবে| যাকোবের পরিবারগোষ্ঠী আমার কাছেই ফিরে আসবে| কিন্তু তোমার অন্য কাজ আছে, এর থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেই কাজ! আমি তোমাকে সমস্ত জাতির আলো হিসেবে তৈরি করব| বিশ্ববাসীকে রক্ষা করতে তুমিই হবে আমার পথ|”
প্রভু, ইস্রায়েলের পবিত্র একজন, ইস্রায়েলের পরিত্রাতা বলেন, “আমার দাস ঘৃণিত| সে শাসকদের সেবা করে| লোকে তাকে ঘৃণা করে| কিন্তু রাজারা তাকে দেখবে এবং তাকে সম্মান জানানোর জন্য উঠে দাঁড়াবে| মহান নেতারা তার সামনে মাথা নত করবে|” এই সব ঘটবে কারণ প্রভু, ইস্রায়েলের পবিত্রতম এই সব চান| এবং প্রভুকে বিশ্বাস করা যেতে পারে| তিনিই সে জন যিনি তোমাকে বেছে নিয়েছিলেন| যিশাইয়

৪৯:৬-৭

তাহলে আপনি দেখন! এটি আপনার জন্য এবং এটি আমার জন্য । এটা সবার জন্য।

পৌলের উদাহরণ

প্রকৃতপক্ষে, একজন ব্যক্তি যিনি নিশ্চিতভাবে ভাবেন নি যে প্রভু যীশুর আত্মত্যাগ তাঁর জন্য, তিনি হলেন যীশু নামের বিরুদ্ধাচরণকারী ব্যক্তি পৌল, কিন্তু প্রভু যীশুর সাথে তাঁর একটি মুখোমুখি সাক্ষাতের ঘটনা ঘটেছিল যা তাকে পরবর্তীকালে লেখার কারণ হয়েছিল।

অনেক কষ্ট, মনো বেদনা ও চোখের জলের মধ্যে দিয়ে সেই চিঠি তোমাদের লিখেছিলাম৷ আমি তোমাদের ব্যথা দিতে চাই নি; কিন্তু বোঝাতে চেয়েছিলাম য়ে আমি তোমাদের কতো ভালবাসি৷
কিন্তু কেউ যদি ব্যথা দিয়ে থাকে তবে সে য়ে শুধু আমাকে ব্যথা দিয়েছে তা নয়, বেশী বাড়িয়ে না বলে এটুকু বলছি য়ে, তোমাদের সকলকেই সে কিছু পরিমাণ ব্যাথা দিয়েছে৷
তোমাদের মধ্যে বেশীর ভাগ লোক মিলে এই ধরণের লোককে য়ে শাস্তি দিয়েছ সেটাই তার পক্ষে যথেষ্ট৷

২ করিন্থীয় ৪:৬

পৌলের সাথে প্রভু যীশুর ব্যক্তিগত সাক্ষাত হয়েছিল যার ফলে তাঁর হৃদয় আলোকিত হয়েছিল।

প্রভু যীশুর এই জ্যোতি/আলো আপনার জন্য অভিজ্ঞতা লাভ করা

সুতরাং অন্ধকার ও পাপ থেকে এই ‘পরিত্রাণ’ পাওয়ার জন্য আমাদের কী করতে হবে যা যিশাইয় ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, প্রভু যীশু পেয়েছিলেন এবং যা পৌল অনুভব করেছিলেন? পৌল এই প্রশ্নের উত্তর অন্য একটি লেখা চিঠিতে  দিয়েছেন।

23 কারণ পাপ য়ে মজুরি দেয়, সেই মজুরি হল মৃত্যু৷ কিন্তু ঈশ্বর অনুগ্রহ করে যা দান করেন সেই দান হল আমাদের প্রভু খ্রীষ্ট যীশুতে অনন্ত জীবন৷

রোমীয় ৬:২৩

দেখুন কীভাবে তিনি বলেছেন এটি একটি ‘উপহার’। সংজ্ঞা অনুসারে একটি উপহার উপার্জন করা যায় না। আপনাকে যখন কেউ উপহার দেয় তখন আপনার উপার্জন বা যোগ্যতা না দেখে দেয়। তবে উপহারটি কখনই আপনার উপকারে আসবে না বা দখলে থাকবে না যদি তা আপনি ‘গ্রহণ’ না করেন। এখানে বিশদ ভাবে এটি আরও ব্যাখ্যা করা হয়েছে, তবে কেন যোহন, আগের উদ্ধৃতিতে লিখেছিলেন।

 কিন্তু কিছু লোক তাঁকে গ্রহণ করল এবং তাঁকে বিশ্বাস করল৷ যাঁরা বিশ্বাস করল তাদের সকলকে তিনি ঈশ্বরের সন্তান হবার অধিকার দান করলেন৷

যোহন ১:১২

সুতরাং, আপনি তাকে সহজেই গ্রহন করেছেন। বিনামূল্যে যে উপহারটি দেওয়া হয়েছে তার জন্য আপনি তাকে অনুরোধ করে এটি করতে পারেন। আপনি জিজ্ঞাসা করতে পারেন কারণ হল যে তিনি জীবিত। হ্যাঁ, তিনি আমাদের পাপের জন্য বলি/উত্সর্গীকৃত হয়েছিলেন, কিন্তু তিন দিন পরে আবার তিনি পুনরুত্থিত হয়েছিলেন, ঠিক যেমন যিশাইয় কয়েকশো বছর আগে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, যখন তিনি পীড়িত দাস সম্পর্কে লিখেছিলেন।

11 তার আত্মা বহু কষ্ট পেলেও সে অনেক ভালো জিনিস ঘটা দেখতে পাবে| সে যেসব জিনিস শিখেছে তা নিয়ে সন্তুষ্ট হবে| আমার ভালো দাসটি অনেক মানুষকে ধার্মিক করবে| সে তাদের অপরাধের দরুণ শাস্তি ভোগ করবে|

যিশাইয় (৫৩:১১

তবে প্রভু যীশু জীবিত আছেন এবং আপনি যখন তাঁর কাছে প্রার্থনা করেন তখন তিনি শুনতে পান। আপনি তাঁর কাছে প্রার্থস্নান (বা প্রতাশন) মন্ত্রটি প্রার্থনা করতে পারেন এবং তিনি শুনবেন এবং সংরক্ষণ করবেন কারণ তিনি আপনার জন্য নিজেকে উত্সর্গ করেছেন এবং এখন তার সমস্ত কর্তৃত্ব আছে। এখানে আবার সেই প্রার্থনা যা আপনি তাঁর কাছে চোখের জলে করতে পারেন:

আমি একজন পাপী। আমি পাপের ফলস্বরুপ। আমি পাপে জন্মগ্রহণ করেছি। আমার আত্মা পাপের অধীন। আমি পাপীদের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ। হে সদাপ্রভু, যার সুন্দর চোখ আছে, আমাকে রক্ষা করুন, হে বলিদানের প্রভু।

এখানে অন্যান্য নিবন্ধ খোঁজ/ব্রাউজ করুন। তারা মানব ইতিহাসের শুরুতে সংস্কৃত এবং হিব্রু বেদ থেকে, অন্ধকার থেকে আমাদের বাঁচাতে এবং আমাদের আলোতে আনার জন্য ঈশ্বরের এই পরিকল্পনা, উপহার হিসাবে আমাদেরকে প্রদান করেছিলেন।

এই দীপাবলিতে, আপনি যেমন মোমবাতি জ্বালিয়ে এবং উপহার বিনিময় করেন, তেমনি আপনিও এক পলকে প্রভু যীশুর কাছ থেকে হৃদয়ের আলোর অভিজ্ঞতা অনুভব করতে পারেন, যেমনভাবে বহু বছর আগে পৌল এই অর্ন্তনিহিত উপহার উপভোগ করেছেন এবং পরিবর্তিত হয়েছিলেন। শুভ দীপাবলি

কিভাবে প্রভু যীশুর বলি হতে শুচি করার উপহার পাবেন?

প্রভু যীশু নিজেই সমস্ত মানব জাতির জন্য একটি বলিদান হিসাবে দিতে এসেছিলেন। এই বার্তাটি প্রাচীন আরজি বেদের স্তোত্রগুলির পাশাপাশি প্রাচীন হিব্রু বেদের প্রতিশ্রুতি এবং উত্সবগুলিতে পূর্বরচিত। প্রতিবার আমরা প্রার্থস্নান (বা প্রতাশন) মন্ত্রটির প্রার্থনা পাঠ করে আমরা যে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করি তার উত্তর যীশু। এটা কিভাবে? বাইবেল (বেদ পুস্তকান) একটি কর্মিক আইন ঘোষণা করেছে যা আমাদের সকলকে প্রভাবিত করে:

কারণ পাপ য়ে মজুরি দেয়, সেই মজুরি হল মৃত্যু৷ কিন্তু ঈশ্বর অনুগ্রহ করে যা দান করেন সেই দান হল আমাদের প্রভু খ্রীষ্ট যীশুতে অনন্ত জীবন৷ পাপের বেতন মৃত্যু কিন্তু………..

রোমীয় ৬:২৩

নীচে আমি একটি দৃষ্টান্তের মাধ্যমে এই কর্মিক আইনটি দেখাব। “মৃত্যুর” অর্থ পৃথকীকরণ। যখন আমাদের আত্মা আমাদের শরীর থেকে পৃথক হয় তখন আমরা শারীরিকভাবে মৃত। একইভাবে আমরা আধ্যাত্মিকভাবে ঈশ্বরের কাছ থেকে পৃথক হয়েছি। এটি সত্য কারণ ঈশ্বর পবিত্র (নিষ্পাপ)।

আমরা আমাদের পাপ দ্বারা aশ্বরের কাছ থেকে পৃথক হয়েছি দু’টি শিংয়ের মধ্যে

আমরা আমাদের পাপের দ্বারা ঈশ্বরের কাছ থেকে পৃথক হয়েছি দুটি বাঁধের মাঝে ফাটলের মত

এই বিচ্ছেদ অপরাধবোধ এবং ভয় সৃষ্টি করে। সুতরাং আমরা প্রাকৃতিকভাবে যা করার চেষ্টা করি তা হ’ল একটি সেতু তৈরি করা যা আমাদের পক্ষ থেকে (মৃত্যুর) Godশ্বরের পক্ষে নিয়ে যায়। আমরা বলিদান করি, পূজা করি, তপস্যা করি, উত্সবে অংশ গ্রহণ করি, মন্দিরে যাই, অনেক প্রার্থনা করি এবং আমাদের পাপ কমাতে বা বন্ধ করার চেষ্টা করি। যোগ্যতা অর্জনের জন্য কাজের এই তালিকাটি আমাদের কারও জন্য খুব দীর্ঘ হতে পারে। সমস্যাটি হ’ল আমাদের প্রচেষ্টা, যোগ্যতা, ত্যাগ এবং তপস্যা অভ্যাস ইত্যাদি যদিও নিজেদের মধ্যে মন্দ না হলেও অপর্যাপ্ত কারণ আমাদের পাপের জন্য প্রদত্ত অর্থের (“মজুরি”) হচ্ছে ‘মৃত্যু’ ’ এটি পরবর্তী চিত্রে চিত্রিত করা হয়েছে।

ধর্মীয় যোগ্যতা – যদিও তা ভাল হতে পারে – আমাদের এবং .শ্বরের মধ্যে বিচ্ছেদকে সরিয়ে দিতে পারে না

এই বিচ্ছেদ অপরাধবোধ এবং ভয়ের কারণ। সুতরাং আমরা স্বাভাবিকভাবে যা করার চেষ্টা করি তা হ’ল একটি সেতু তৈরি করা যা আমাদের দিক থেকে (মৃত্যুর) ঈশ্বরের দিকে নিযে যায়। আমরা বলি উতস্বর্গ করি, পূজা করি, তপস্যা করি, উত্সবে অংশ গ্রহণ করি, মন্দিরে যাই এবং অনেক প্রার্থনা করি এবং পাপ কমাতে বা বন্ধ করার চেষ্টা করি। কাজের এই তালিকাটি যোগ্যতা অর্জনের জন্য আমাদের কাছে কারও জন্য খুব দীর্ঘ হতে পারে। সমস্যাটি হ’ল আমাদের প্রচেষ্টা, যোগ্যতা, ত্যাগ এবং তপস্যা অভ্যাস ইত্যাদি নিজেদের মধ্যে মন্দ না হলেও, যথেষ্ট না কারণ আমাদের পাপের জন্য প্রয়োজনীয় মূল্য্ (`বেতন্’) ‘মৃত্যু’। এটি পরবর্তী চিত্রে চিত্রিত করা হয়েছে।

কার্মিক আইনটি হল একটি খারাপ সংবাদ – এটি এতটাই খারাপ যে আমরা প্রায়শই এটি শুনতে চাই না এবং আমরা প্রায়শই আমাদের জীবনকে বিভিন্ন কার্যকলাপে ভরে রাখি এবং আশা করি যে এই আইনটি চলে যাবে – যতক্ষণ না আমাদের পরিস্থিতির গুরুতর অবস্থা আমাদের আত্মায় ডুবে যায়। কিন্তু বাইবেলে এই কার্মিক আইন দিয়ে শেষ হয় না।

কারণ পাপ য়ে মজুরি দেয়, সেই মজুরি হল মৃত্যু৷ কিন্তু ঈশ্বর অনুগ্রহ করে যা দান করেন সেই দান হল আমাদের প্রভু খ্রীষ্ট যীশুতে অনন্ত জীবন৷ পাপের বেতন মৃত্যু কিন্তু………..

রোমীয় ৬:২৩

ছোট্ট শব্দ ‘কিন্তু’ দেখায় যে, পথ নির্দেশের নিয়ম এক দিক থেকে অন্য দিক দিয়ে চলেছে, সুসংবাদ-সুসমাচার। এটি মোক্ষ এবং জ্ঞানবিদ্যার একটিতে পরিবর্তিত কার্মিক আইন। তাহলে মোক্ষের এই সুসংবাদটি কী?

 পাপের বেতন মৃত্যু কিন্তু ঈশ্বরের দান খ্রীষ্ট যীশুতে অনন্ত জীবন।

রোমীয় ৬:২৩

সুসমাচারের সুসংবাদটি হ’ল এই যে, প্রভু যীশুর’ ক্রুশীয় মৃত্যুর ত্যাগ আমাদের এবং ঈশ্বরের মধ্যে এই বিচ্ছেদকে সেতু বন্ধন করার জন্য যথেষ্ট। আমরা জানি যে তিনি তাঁর মৃত্যুর তিন দিন পরে আবার শারীরিকভাবে পুনরুত্থিত হয়েছেন, একটি শারিরীক পুনরুত্থানের মধ্যে আবার ফিরে এসেছিলেন। যদিও কিছু লোক আজ যীশুর পুনরুত্থানকে অস্বীকার করেন এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং সর্বসমক্ষে বক্তৃতায় দেখানো হয়েছে (এখানে ভিডিও লিঙ্ক)।

যীশু হলেন নিখুঁত পুরূষ এবং নিখুঁত বলিদান প্রদান করেছেন। যেহেতু তিনি একজন মানুষ ছিলেন তিনি একটি সেতু হতে সক্ষম হন যা ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেন এবং মানুষকে  স্পর্শ করেন এবং অপরপক্ষে তিনি নিখুঁত ছিলেন ও ঈশ্বরের পক্ষেও ছিলেন। তিনি জীবনের জন্য একটি সেতু এবং এটি নীচে চিত্রিত করা যেতে পারে।

যীশু হলেন সেই সেতু যা Godশ্বর ও মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর ত্যাগ আমাদের পাপকে মূল্য দেয়।

লক্ষ করুন কীভাবে যীশুর এই বলিদান আমাদের দেওয়া হয়েছে। এটি একটি… উপহার হিসাবে দেওয়া হয়েছে। উপহার সম্পর্কে চিন্তা করুন। উপহারটি যাই হোক না কেন, এটি যদি সত্যিই উপহার হয় তবে আপনি এর পক্ষে কাজ করেন না এবং যোগ্যতার দ্বারা উপার্জন করেন না। আপনি যদি এটি অর্জন করেন তবে উপহারটি আর উপহার থাকে না! একইভাবে আপনি যীশুর বলিদানকে যোগ্যতা বা উপার্জন করতে পারবেন না। এটি আপনাকে উপহার হিসাবে দেওয়া হয়েছে।

আর উপহারটি কী? এটি ‘অনন্তজীবন’। এর অর্থ হ’ল পাপ যা আপনার জীবনে মৃত্যু এনেছিল তা এখন বাতিল হয়ে গেছে। যীশুর বলিদান হল এমন একটি সেতু যার উপর দিয়ে আপনি ঈশ্বরের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে এবং জীবন লাভ করতে পারেন – যা চিরকাল স্থায়ী হয়। এই উপহারটি যীশু দিয়েছেন, যিনি মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত হয়ে নিজেকে ‘প্রভু’ বলে দেখান।

তাহলে আপনি এবং আমি কীভাবে জীবনের এই সেতুতে ‘ক্রস’ করব যা যীশু আমাদের উপহার হিসাবে দিয়েছেন? আবার, উপহারের কথা ভাবুন। যদি কেউ এসে আপনাকে উপহার দেয় তবে এটি এমন কিছু যা আপনার পক্ষে কাজ করে না। তবে উপহারটি থেকে কোনও উপকার পাওয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই এটি ‘গ্রহণ’ করতে হবে। যে কোনও সময় উপহার দেওয়ার জন্য দুটি বিকল্প রয়েছে। হয় উপহারটি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে (“আপনাকে ধন্যবাদ না”) বা এটি প্রাপ্ত হয়েছে (“আপনার উপহারের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আমি এটি গ্রহণ করব”)। সুতরাং যীশু যে এই উপহার প্রদান করবেন তা অবশ্যই গ্রহণ করা উচিত। এটিকে কেবল ‘বিশ্বাস’ করা, অধ্যয়ন করা বা বোঝা যায় না। এটি পরবর্তী চিত্রটিতে চিত্রিত করা হয়েছে যেখানে আমরা সেতুতে শ্বরের দিকে মনোনিবেশ করে এবং তিনি আমাদের যে উপহার দিয়েছিলেন তা গ্রহণ করে সেতুতে ‘হাঁটাচলা’ করে।

যিশুর ত্যাগ একটি উপহার যা আমাদের প্রত্যেককে গ্রহণ করার জন্য বেছে নিতে হবে

তাহলে আমরা কীভাবে এই উপহারটি পাব? বাইবেল বলে যে

12 এক্ষেত্রে ইহুদী ও অইহুদীদের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই, একই প্রভু সকলের প্রভু৷ যত লোক তাঁকে ডাকে সেই সকলের ওপর তিনি প্রচুর আশীর্বাদ ঢেলে দেন৷ যে কেউ প্রভুর নামে ডাকে সে রক্ষা পাবে

রোমীয় 10:12

লক্ষ্য করুন যে এই প্রতিশ্রুতি ‘প্রত্যেকের’ জন্য, সেগুলি নির্দিষ্ট ধর্ম, বর্ণ বা দেশের নয়। যেহেতু তিনি মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত হয়েছেন যীশু এখনও বেঁচে আছেন এবং তিনি ‘প্রভু’। সুতরাং আপনি যদি তাকে ডাকেন তিনি শুনবেন এবং তাঁর জীবন উপহার আপনার কাছে প্রসারিত করবেন। আপনাকে তাঁকে ডাকতে হবে এবং তাঁর সাথে কথোপকথন করতে হবে। হয়ত আপনি এটি কখনও করেন নি। এখানে একজন পথপ্রদর্শক আছে যিনি আপনাকে তাঁর সাথে এই কথোপকথন এবং প্রার্থনা করতে সাহায্য করতে পারেন। এটি কোনও যাদু মন্ত্র নয়। শক্তি দেয় এমন নির্দিষ্ট শব্দ নয়।

প্রিয় প্রভু যীশু। আমি বুঝতে পারি যে আমার জীবনের পাপগুলির সাথে আমি ঈশ্বরের কাছ থেকে পৃথক হয়েছি। যদিও আমি কঠোর চেষ্টা করতে পারি, তবুও আমার পক্ষ থেকে কোনও প্রচেষ্টা এবং ত্যাগ এই বিচ্ছিন্নতা আটকাবে না। তবে আমি এটা বুঝতে পারি যে আপনার মৃত্যু সমস্ত পাপ এমনকি আমার পাপকে ধুয়ে দেওয়ার জন্য একটি আত্মত্যাগ ছিল। আমি বিশ্বাস করি যে আপনার আত্মত্যাগের পরে আপনি মৃতদের মধ্য থেকে উঠেছিলেন তাই আমি আপনার আত্মত্যাগকে জানতে পারিআমি আপনাকে বলছি দয়া করে আমাকে আমার পাপ থেকে ধৌত করুন এবং আমাকে ঈশ্বরের কাছে থাকতে সাহায্য করুন যাতে আমি অনন্ত জীবন পেতে পারি। আমি পাপের দাস হয়ে জীবন যাপন করতে চাই না তাই দয়া করে আমাকে এই পাপসমূহ থেকে মুক্ত করুন যা আমাকে কর্মের কবলে রেখেছে। আপনাকে ধন্যবাদ, প্রভু যীশু, এই সমস্ত কিছুর জন্য ধন্যবাদ এবং আপনি আমার জীবনের পথপ্রদর্শক হযে সারাজীবন চালিয়ে যাও যাতে আমি আপনাকে আমার প্রভু হিসাবে অনুসরণ করতে পারি।