খ্রীষ্টের আগমন:’সাত’ চক্রে

পবিত্র সাত

সাত একটি শুভ সংখ্যা যা নিয়মিতরূপে পবিত্রতার সঙ্গে যুক্ত I সাতটি পবিত্র নদী সমূহের সম্বন্ধে বিবেচনা করুন: গঙ্গা, গোদাবরী, যমুনা, সিন্ধু, সরস্বতী, কাবেরী, এবং নর্মদা I

সাতটি পবিত্র স্থলের সাথে সাতটি পবিত্র শহর (সপ্ত পুরী) I সাতটি তীর্থ স্থান:

1.  অযোধ্যা (অযোধ্যা পুরী)

2, মথুরা (মথুরা পুরী)

3. হরিদ্বার (মায়া পুরী)

4. বারানসী (কাশী পুরী)

5. কাঞ্চিপুরম (কাঁচি পুরী)

6. উজ্জৈন (অবন্তিকা পুরী)

7. দ্বারকা (দ্বারকা পুরী)

মহাজাগতিক বিশ্বে সাতটি ঊর্ধ্ব এবং সাতটি নিম্ন লোক সমূহ রয়েছে I উইকিপিডিয়া বলে

… 14টি জগৎ, সাতটি উর্ধ্বে I (ব্যহর্তি)এবং সাতটি নিম্নে (পাতাল), অর্থাৎ ভু:, ভুর্ভ:, স্ব:, মহ:”, জন:, তপ:, এবং সত্য উপরে এবং নীচে অতল, বিতল, সুতল, রসাতল, তলাতল, মহাতল, পাতাল…  

চক্রের ছাত্ররা নিয়মিতভাবে আমাদের শরীরের সাত চক্র মন্ডল উদ্ধৃত করে

1. মূলাধার চক্র 2. স্বাধিস্টান চক্র 3. নাভি-মনিপুর চক্র 4. অনাহত চক্র 5. বিশুদ্ধি চক্র 6. আজ্ঞা চক্র 7. সহস্রা চক্র  

হিব্রু বেদে ‘সাত’ পবিত্র

যেহেতু নদী, তীর্থ, ব্যহর্তি, পাতাল এবং চক্র সমূহ ‘সাতের’ দ্বারা সম্পূর্ণ হয়েছে, সেই হেতু এটি দেখতে পাওয়া আশ্চর্য নয় যে হিব্রু বেদে খ্রীষ্টের আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী করতে সাত কে আবারও ব্যবহার করা হয়েছিল I প্রকৃতপক্ষে. প্রাচীন ঋষিগণ তাঁর আগমনকে নির্দিষ্ট করে দেওয়ার জন্য সাতের সাতটি চক্র ব্যবহার করেছিলেন I আমরা এই ‘সাত সমূহের সাত’ চক্রকে উদঘাটন করি, তবে প্রথমে এই প্রাচীন হিব্রু ভাববাদীদের একটি সামান্য পর্যালোচনা I

যদিও কয়েক শত বছর ধরে একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্নতা, তাদের নিজেদের মধ্যে মানবীয় সামঞ্জস্যকে অসম্ভব করে তোলে, তাদের ভাববাণীগুলো আসন্ন খ্রীষ্টের উপরে কেন্দ্রীভূত ছিল I যিশাইয় এই বিষয়টিকে আরম্ভ করতে শাখার চিহ্নকে ব্যবহার করেছিলেন I সখরিয় ভবিষ্যদ্বাণী করলেন যে এই শাখার নাম ইহোশুয়া হবে I (ইংরেজিতে যীশু) I হ্যাঁ, খ্রীষ্টের বিশেষ নামটি যীশুর বেঁচে থাকার 500 বছর পূর্বে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল I   

ভাববাদী দানিয়েল – সাত সমূহের মধ্যে

এখন দানিয়েলের সম্বন্ধে I তিনি বাবিলের নির্বাসনে বাস করতেন, বাবিল এবং পারস্য সরকারের মধ্যে এক শক্তিশালী পদাধিকারী হয়েছিলেন – এবং একজন হিব্রু ভাববাদী I

কালপঞ্জির মধ্যে হিব্রু বেদের অন্যান্য ভাববাদীদের সঙ্গে দানিয়েলকে দেখান হয়েছে  

 তার বইয়ের মধ্যে, দানিয়েল নিম্নলিখিত বার্তাটি পেয়েছিলেন:

21আমার প্রার্থনার কথা শেষ হইতে না হইতে, আমি প্রথম দর্শনে যে ব্যক্তিকে দেখিয়াছিলাম, সেই গাব্রিয়েল বেগে উড়িয়া আসিয়া সন্ধ্যাকালীন নৈবেদ্যের সময়ে আমাকে স্পর্শ করিলেন। 22তিনি আমাকে বুঝাইয়া দিলেন, এবং আমার সহিত আলাপ করিয়া কহিলেন, হে দানিয়েল, আমি এক্ষণে তোমাকে বুদ্ধিকৌশল দিতে আসিয়াছি। 23তোমার বিনতির আরম্ভ সময়ে আজ্ঞা নির্গত হইয়াছিল, তাই আমি তোমাকে সংবাদ দিতে আসিলাম, কেননা তুমি অতিশয় প্রীতি-পাত্র; অতএব এই বিষয় বিবেচনা কর, ও এই দর্শন বুঝিয়া লও।

24তোমার জাতির ও তোমার পবিত্র নগরের সম্বন্ধে সত্তর সপ্তাহ নিরূপিত হইয়াছে—অধর্ম্ম সমাপ্ত করিবার জন্য, পাপ শেষ করিবার জন্য, অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত করিবার জন্য, অনন্তকালস্থায়ী ধার্ম্মিকতা আনয়ন করিবার জন্য, দর্শন ও ভাববাণী মুদ্রাঙ্কিত করিবার জন্য, এবং মহাপবিত্রকে অভিষেক করিবার জন্য। 25অতএব তুমি জ্ঞাত হও, বুঝিয়া লও, যিরূশালেমকে পুনঃস্থাপন ও নির্ম্মাণ করিবার আজ্ঞা বাহির হওয়া অবধি অভিষিক্ত ব্যক্তি, নায়ক, পর্য্যন্ত সাত সপ্তাহ আর বাষট্টি সপ্তাহ হইবে, উহা চক ও পরিখাসহ পুনরায় নির্ম্মিত হইবে, সঙ্কটকালেই হইবে। 26সেই বাষট্টি সপ্তাহের পরে অভিষিক্ত ব্যক্তি উচ্ছিন্ন হইবেন, এবং তাঁহার কিছুই থাকিবে না; 

দানিয়েল 9:21-26a

এটি ‘অভিষিক্ত ব্যক্তির’ সম্বন্ধে একটি ভবিষ্যদ্বাণী (=খ্রীষ্ট = মসীহ) পূর্বাভাস দেয় কখন তিনি আসবেন I এটি ‘যিরূশালেমের পুনস্থাপন এবং পুনর্নির্মাণের’ আদেশ জারি করার সাথে শুরু হবে I যদিও দানিয়েলকে এই বার্তাটি দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি লিখেছিলেন (প্রায় 537 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে) এই উল্টো গণনা শুরু হওয়া দেখতে তিনি বেঁচে থাকেন নি I

যিরূশালেমের পুনস্থাপনের অদেশ জারি

তবে নহিমিয়, দানিয়েলের প্রায় একশত বছরের পরে, এই উল্টোগণনাকে শুরু হতে দেখেছিলেন I তিনি তার বইয়ের মধ্যে লিখেছেন যে 

1অর্তক্ষস্ত রাজার অধিকারের বিংশতিতম বৎসরের নীসন মাসে রাজার সম্মুখে দ্রাক্ষারস থাকাতে আমি সেই দ্রাক্ষারস লইয়া রাজাকে দিলাম। [তৎপূর্ব্বে] আমি তাঁহার সাক্ষাতে কখনও বিষণ্ণ হই নাই। 2রাজা আমাকে কহিলেন, তোমার ত পীড়া হয় নাই, তবে মুখ কেন বিষণ্ণ হইয়াছে? ইহা ত চিত্তের বিষাদ ব্যতিরেকে আর কিছু নয়। তখন আমি অতিমাত্র ভীত হইলাম। 3আর আমি রাজাকে কহিলাম, মহারাজ চিরজীবী হউন; আমি কেন বিষণ্ণবদন হইব না? যে নগর আমার পিতৃলোকদের কবরস্থান, তাহা ধ্বংসিত ও তাহার দ্বার সকল অগ্নিভক্ষিত হইয়াছে।

4তখন রাজা আমাকে কহিলেন, তুমি কি ভিক্ষা চাও? তাহাতে আমি স্বর্গের ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করিলাম। 5আর রাজাকে কহিলাম, যদি মহারাজের তুষ্টি হয়, এবং আপনার দাস যদি আপনার দৃষ্টিতে অনুগ্রহ পাইয়া থাকে, তবে আপনি আমাকে যিহূদায়, আমার পিতৃলোকদের কবরের নগরে, বিদায় করুন, যেন আমি তাহা নির্ম্মাণ করি।

6তখন রাজা—রাজমহিষীও তাঁহার পার্শ্বে উপবিষ্টা ছিলেন—আমাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমার যাত্রা কত দিনের জন্য হইবে? আর কবে ফিরিয়া আসিবে? এইরূপে রাজা সন্তুষ্ট হইয়া আমাকে বিদায় করিলেন, আর আমি তাঁহার কাছে সময় নিরূপণ করিলাম।

নহিমিয় 2:1-6

আর আমি যিরূশালেমে উপস্থিত হইয়া সে স্থানে তিন দিন রহিলাম।

নহিমিয় 2:11

এটি ‘যিরূশালেমের পুনস্থাপন এবং পুনর্নির্মাণের’ আদেশকে নথিভুক্ত করে যার সম্বন্ধে দানিয়েল উল্টো গণনা শুরু হওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল I এটি ইতিহাসের সু-পরিচিত পারস্য সম্রাট অর্তক্ষস্তের রাজত্বের বিংশতিতম বছরে ছিল যা 465 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে শুরু হয় I সুতরাং তার বিংশতিতম বছর 444 খ্রীষ্ট পূর্বাব্দে এই আদেশকে স্থাপন করা হবে I দানিয়েলের প্রায় এক শত বছর পরে. পারস্য সম্রাট তার আদেশ জারি করলেন, উল্টো গণনা শুরু করে যা খ্রীষ্টকে নিয়ে আসবে I   

রহস্যময় সাত সমূহ

দানিয়েলের ভবিষ্যদ্বাণী ইঙ্গিত দিল যে “সাত ‘সপ্তাহ’ এবং বাষট্টি ‘সপ্তাহ’” এর পরে খ্রীষ্ট প্রকাশিত হবেন I  

একটি ‘সাত’ বলতে কি বোঝায়? 

মশির ব্যবস্থায় একটি সাত-বছরের চক্র রয়েছে I প্রত্যেকে সাত বছর অন্তর  জমিকে কৃষিকার্য থেকে বিশ্রাম দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল যাতে জমিকে সম্পুরন করা যেতে পারে I অতএব ‘সাত’ একটি 7-বছরের চক্র I সেটিকে মনে রেখে আমরা দেখি যে উল্টো গণনা দু ভাগে আসে I প্রথম ভাগটি ছিল ‘সাত সপ্তাহ’ বা সাত 7-বছর সময়কাল I এই 7X7=49 বছর যিরূশালেমকে পুনর্নির্মাণ করতে সময় নিয়েছিল I এর পরে বাষট্টি সপ্তাহ ছিল. সুতরাং পুরো উল্টো গননা ছিল 7×7+62×7= 483 বছর I আদেশ জারির থেকে খ্রীষ্টের প্রকাশন পর্যন্ত 483 বছর হবে I      

360-দিনের বছর

আমাদেরকে সামান্য একটু ক্যালেডার সমন্বয় করতে হবে I যেমনভাবে বহু প্রাচীনরা করেছিলেন, ভাববাদীরা এক 360 দিন দীর্ঘ বছর ব্যবহার করতেন I একটি ক্যালেণ্ডারের মধ্যে একট ‘বছরের’ দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করার বিভিন্ন উপায়  রয়েছে I পাশ্চাত্য একটি (সৌর প্রদক্ষিণের উপরে ভিত্তিশীল) 365.24 দিন  দীর্ঘ, মুসলিম একটি 354 দিন (চন্দ্রের চক্রের উপরে ভিত্তিশীল) I যেটি দানিয়েল ব্যবহার করেছিল তা 360 দিনের অর্ধেক পথ ছিল I অতএব 483  ‘360-দিন’ বছরের 483X360/365.24 = 476 সৌর বছর হয় I          

যে বছর খ্রীষ্টের আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল

আমরা এখন হিসাব করতে পারি কখন খ্রীষ্টের আগমন সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল I আমরা ‘খ্রীষ্টপূর্বাব্দ’ থেকে ‘খ্রীষ্টাব্দ’ যুগে 1 খ্রীষ্ট পূর্বাব্দ থেকে 1 খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত (কোনো ‘শুন্য’ বছর নেই) শুধুমাত্র 1 বছরের সাথে যাই I এখানে হিসাবটি রয়েছে I

শুরুর বছর 444 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ (অর্তক্ষত্রের বিংশতিতম বছর)
সময়ের দৈর্ঘ্য 476 সৌর বছর
আধুনিক ক্যালেন্ডারের প্রত্যাশিত আগমন (-444+476+1)(‘+1’ কারণ কোনো 0  খ্রীষ্টপূর্বাব্দ নেই = 33
প্রত্যাশিত বছর33 খ্রীষ্টাব্দ
খ্রীষ্টের আগমনের জন্য আধুনিক ক্যালেন্ডারের হিসাব

নাসরতের যীশু যিরূশালেমে একটি গাধার উপরে চড়ে এসেছিলেন যার মধ্য দিয়ে সু-পরিচিত খর্জুর রবিবারের উৎসব গড়ে উঠলো I সেই দিনই তিনি নিজেকে ঘোষণা করেছিলেন এবং তাদের খ্রীষ্ট হিসাবে যিরূশালেমে প্রবেশ করেছিলেন I বছরটি ছিল 33 খ্রীষ্টাব্দ – যেমন ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল I    

ভাববাদী দামিয়েল এবং নহিমিয়, একে অপরকে জানতে অক্ষম ছিল যেহেতু তারা 100 বছরের ব্যবধানে বাস করেছিল, ঈশ্বরের দ্বারা সমন্বিত হয়েছিল ভবিষ্যদ্বাণীগুলো জানার জন্য উল্টোগণনাকে গতিশীল করতে যা খ্রীষ্টকে প্রকাশ করেছিল I দানিয়েলের ‘সত্তর সপ্তাহের’ তার দর্শন পাওয়ার 537 বছরের পরে, যীশু খ্রীষ্ট রূপে যিরূশালেমে প্রবেশ করেছিলেন I খ্রীষ্টের নামের বিষয়ে সখরিয়র ভবিষ্যদ্বাণীর পাশাপাশি, এই ভাববাদীগণ আশ্চর্য ভবিষ্যদ্বাণী লিখেছিলেন যাতে সকলে ঈশ্বরের পরিকল্পনার প্রকাশ দেখতে পায় I   

আগমনের ‘সেই দিনের’ সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী

এটি ঘটার কয়েক শত বছর পূর্বে, প্রবেশের বছর সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করা, বিস্ময়কর I তবে তারা দিনটির বিষয়েও এটিকে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল I 

খ্রীষ্টের প্রকাশনের পূর্বে এক 360-দিনের বছরকে ব্যবহার করে দানিয়েল 483 বছরের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল I তদানুসারে, দিনগুলোর সংখ্যা হ’ল:   

483 বছর X 360 দিন/বছর = 173880 দিন

আধুনিক আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারের ক্ষেত্রে 365.242 দিন/বছর সহ এটি হ’ল অতিরিক্ত 25 দিন সহ 476 বছর I (173880/365.24219879 = 476 অবশিষ্ট 25)

রাজা অর্তক্ষত্র যিরূশালেমের পুনস্থাপনের আদেশ জারি করলেন:

বিংশতিতম বছরের নীসনের মাসে…

নহিমিয় 2:1

নীসন 1 তারিখ নিশ্চিত যেহেতু এটি যিহূদি এবং পার্সিয়ান নতুন বছর শুরু করেছিল, যা উৎসবের মধ্যে রাজার পক্ষে নহিমিয়র সাথে কথা বলার কারণ দেয় I নীসন 1 তারিখ এছাড়াও এক অমাবস্যাকে চিহ্নিত করে যেহেতু তারা চান্দ্র মাসের ব্যবহার করত I আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের সাহায্যে আমরা জানি খ্রীষ্টপূর্ব 444 এর নীসন 1 তারিখ যা আমাবস্যাকে চিহ্নিত করে কখন ঘটেছিল I জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুসারে পারস্য সম্রাট অর্তক্ষত্রর বিংশতিতম বছরের নীসন 1 তারিখের অর্ধ চন্দ্রকে আধুনিক ক্যালেন্ডারের মধ্যে খ্রীষ্টপূর্ব 444 এর মার্চ 4 তারিখের রাত্রি 10 টায় স্থাপন করে[[i]]I      

খর্জুর রবিবারের সেই দিনের প্রতি

দানিয়েলের ভবিষ্যদ্বাণী করা সময়ের 476 বছরকে আজকের দিনের সাথে যোগ করলে আমাদের কাছে 33 খ্রীষ্টাব্দের মার্চ 4 তারিখ নিয়ে আসে, যেমন ভাবে উপরে ব্যাখ্যা করা হয়েছে I দানিয়েলের ভবিষ্যদ্বাণী করা সময়ের অবশিষ্ট 25 দিনগুলো 33 খ্রীষ্টাব্দের মার্চ 4 তারিখের সঙ্গে যোগ করলে আমাদেরকে 33 খ্রীষ্টাব্দের 29 মার্চ দেয় I 33 খ্রীষ্টাব্দের 29 মার্চ ছিল রবিবার – খর্জুর রবিবারসেই বিশেষ দিন যাতে খ্রীষ্ট হওয়ার দাবি কোরে, যীশু গাধার উপরে চড়ে যিরূশালেমে প্রবেশ করেছিলেন[ii]I     

আরম্ভ – আদেশ জারি হয় মার্চ 4,  444 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ
সৌর বছরগুলো যুক্ত করুন (-444+ 476 +1)মার্চ 4, 33 খ্রীষ্টাব্দ
শেষ ‘সাত সপ্তাহের’ 25 দিনগুলো যোগ করুনমার্চ 4 + 25 = মার্চ 29, 33 খ্রীষ্টাব্দ
মার্চ 29, 33 খ্রীষ্টাব্দখর্জুর রবিবারে যিরূশালেমে যীশুর প্রবেশ
29 মার্চ, 33 খ্রীষ্টাব্দে, গাধার উপরে চড়ে যিরূশালেমে প্রবেশ করে, যীশু সখরিয় এবং দানিয়েল উভয়ের ভবিষ্যদ্বাণী পূরণ করেছিলেন – সেই দিনে I 
দানিয়েলের ‘সাত সপ্তাহের’ চক্র খর্জুর রবিবারের দিনকে পূরণ করেছিল

খ্রীষ্টের প্রকাশনের 173880 দিনের পূর্বে দানিয়েল ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল; নহিমিয় সময়টি আরম্ভ করেছিল I এটি 29 মার্চ, 33 খ্রীষ্টাব্দে শেষ হয়েছিল যখন যীশু খর্জুর রবিবারের দিনে যিরূশালেমে প্রবেশ করেছিলেন. সবকিছু ‘সাত সপ্তাহের’ মধ্যে পুরো হয়ে গিয়েছিল I  

পরে সেই একই দিনে যীশু আর একটি সাত সৃষ্টির সপ্তাহের নমুনায় তাঁর ক্রিয়া কলাপ আরম্ভ করলেন I এইভাবে তিনি তাঁর শত্রু মৃত্যুর সঙ্গে তাঁর যুদ্ধের দিকে নিয়ে যাওয়া ঘটনাগুলোকে গতিশীল করলেন I  


1.ডা. হ্যারল্ড ডব্লিউ. হোএনার, খ্রীস্টের জীবনের ঐতিহাসিক বিষয় সমূহ I 1977. 176 পৃষ্ঠা.

2.আসন্ন শুক্রবার ছিল নিস্তারপর্ব, এবং নিস্তারপর্ব সর্বদা নীসন 14 তারিখে হত I 33 খ্রীষ্টাব্দের নীসন 14 তারিখ ছিল 3 এপ্রিল I  শুক্রবার 3 এপ্রিলের 5 দিন পূর্বে খর্জুর রবিবার ছিল 29 মার্চ I

অবর্ণ থেকে বর্ণর জন্য: পুরুষটি সকল লোকেদের জন্য আসছেন

পুরুষসুক্তর প্রারম্ভে ঋগ্বেদের মধ্যে বেদ আসন্ন ব্যক্তির সমন্ধে পূর্বাভাষ   দিয়েছিল I তারপরে আমরা হিব্রু বেদের সঙ্গে চালিয়ে গেলাম, যা পরামর্শ দেয় যে সংস্কৃত এবং হিব্রু বেদ (বাইবেল) উভয়ই যেশু সৎসঙ্গের (নাসরতের যীশু) দ্বারা পূর্ণ হয়েছিল I

তাহলে যীশু কি ভবিষ্যদ্বাণী করা পুরুষ বা খ্রীষ্ট ছিলেন? তার আগমন কি কেবল একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য ছিল, বা সকলের জন্য – বর্ণ থেকে অবর্ণ, সমস্ত জাতি সহ?

পুরুষসুক্তর মধ্যে জাতি (বর্ণ) 

পুরুষ সম্বন্ধে পুরুষসুক্ত বলল যে:

পুরুষসুক্ত পদ 11-12 – সংস্কৃতসংস্কৃত ট্রান্সলিটারেশনবাংলা অনুবাদ
यत पुरुषं वयदधुः कतिधा वयकल्पयन |
मुखं किमस्य कौ बाहू का ऊरू पादा उच्येते ||
बराह्मणो.अस्य मुखमासीद बाहू राजन्यः कर्तः |
ऊरूतदस्य यद वैश्यः पद्भ्यां शूद्रो अजायत ||
11 yat puruṣaṃ vyadadhuḥ katidhā vyakalpayan |
mukhaṃ kimasya kau bāhū kā ūrū pādā ucyete ||
12 brāhmaṇo.asya mukhamāsīd bāhū rājanyaḥ kṛtaḥ |
ūrūtadasya yad vaiśyaḥ padbhyāṃ śūdro ajāyata
11 পুরুষকে বিভাজন করার সময়ে তারা কতগুলো অংশ করল? তারা তার মুখ, তার বাহুকে কি বলে? তার তার জঙ্ঘা এবং চরণকে কি বলে?
12 ব্রাহ্মণই ছিল তার মুখ, তার উভয় বাহু রাজন্যতে তৈরী ছিল I 
তার জঙ্ঘা হ’ল বৈশ্য, তার চরণ থেকে শুদ্র উৎপন্ন হল I

সংস্কৃত বেদের মধ্যে জাতি সমূহ বা বর্ণের সম্বন্ধে এটি সব থেকে প্রথম দিকের উল্লেখ I এটি পুরুষের শরীরকে বিচ্ছিন্ন করার সাথে সাথে চার জাতি সমূহকে  বর্ণনা করে: তার মুখ থেকে ব্রাহ্মিণ জাত/বর্ণ, তার বাহু থেকে রাজন্য (আজকের দিনে ক্ষত্রিয় জাত/বর্ণ বলে পরিচিত), তার জঙ্ঘা থেকে বৈশ্য, এবং তার চরণ থেকে শুদ্র I পুরুষ হতে গেলে যীশুর পক্ষে তাকে অবশ্যই প্রত্যেককে প্রতিনিধিত্ব করা উচিত I

তিনি কি করেন?

ব্রাহ্মিণ এবং ক্ষত্রিয় রূপে যীশু 

আমরা দেখলাম যে ‘খ্রীষ্ট’ একটি প্রাচীন হিব্রু উপাধি যার মানে ‘শাসক’ – শাসকদের শাসক I ‘খ্রীষ্ট’ হিসাবে, যীশু সম্পূর্ণরূপে ক্ষত্রিয়ের সাথে চিহ্নিত হয় এবং প্রতিনিধিত্ব করে I এছাড়াও যাজক রূপে আসতে আমরা দেখলাম যে  ‘শাখা’ হিসাবে যীশুকে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল, তাই তিনি সম্পূর্ণরূপে ব্রাহ্মিণের সঙ্গে চিহ্নিত হন এবং প্রতিনিধিত্ব করেন I প্রকৃতপক্ষে, হিব্রু ভবিষ্যদ্বাণী ইঙ্গিত দিয়েছিল যে একজন ব্যক্তির মধ্যে তিনি যাজক এবং রাজার দুই ভূমিকাকে ঐক্যবদ্ধ করবেন I

13 তিনি প্রভুর মন্দির গাঁথবেন ও সম্মান গ্রহণ করবেন| তিনি সিংহাসনে বসে শাসন করবেন| আর একজন যাজক তার সিংহাসনের পাশে দাঁড়াবে| এই দুই জন একসাথে শান্তিতে কাজ করবে|

সখরিয় 6:13

বৈশ্য হিসাবে যীশু 

এছাড়াও হিব্রু ঋষি/ভাববাদীরা ভবিষ্যদ্বাণী করলেন যে আসন্ন একজন, বণিকের  মতন ব্যবসায়ী হবেন I তারা ভবিষ্যদ্বাণী করলেন:

কারণ আমি, প্রভু তোমার ঈশ্বর| আমি ইস্রায়েলের পবিত্রতম তোমার রক্ষাকর্তা| আমি তোমার জন্য মূল্য দিতে মিশরকে দিয়েছিলাম| আমি তোমাকে আমার করতে কূশ ও সবা দিয়েছিলাম|

যিশাইয় 43:3

আসন্ন একজনের সঙ্গে ঈশ্বর ভবিষ্যদ্বাণীপূর্ণভাবে কথা বলছেন, বলেন যে তিনি  জিনিসের ব্যবসা করবেন না বরং তিনি লোকেদের জন্য ব্যবসা করবেন তার জীবনের বিনিময়ে I তাই আসন্ন একজন লোকেদের মুক্ত করার ব্যবসায়ে,  একজন বণিক হবেন I একজন বণিক হিসাবে তিনি বৈশ্যর সঙ্গে চিহ্নিত হন এবং প্রতিনিধিত্ব করেন I

শুদ্র – দাস 

এছাড়াও ঋষি/ভাববাদীরা একজন দাস হিসাবে তার আসন্ন ভূমিকা সম্বন্ধে অত্যন্ত বিস্তৃতভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন I আমরা দেখলাম কিভাবে ভাববাদীরা ভবিষ্যদ্বাণী করলেন যে শাখাটি একজন দাস হবে যার সেবা হবে পাপকে অপসারণ করা:

ওহে মহাযাজক যিহোশূয় এবং তোমার সামনে য়ে মহাযাজকেরা বসে আছে, সবাই দয়া করে শোন| অদূর ভবিষ্যতে আমার বিশেষ দাসকে যখন আমি আনব তখন কি ঘটবে তা দেখাবার জন্য এই লোকেরা তার উদাহরণস্বরূপ| তাকে ‘শাখা’ এই নামে ডাকা হয়|
দেখ, আমি যিহোশূয়র সামনে একটা বিশেষ ধরণের পাথর রাখছি| ঐ পাথরটার সাতটা দিক রয়েছে| আমি একটি বিশেষ বার্তা তাতে খোদাই করব| এটাই দেখাবে য়ে আমি একদিনে এই দেশের প্রতিটি পাপ দূর করব|”

সখরিয় 3:8-9

আসন্ন শাখাটি, যিনি যাজক, শাসক,এবং বণিক ছিলেন, এছাড়াও একজন দাস – শুদ্র ছিলেন I যিশাইয় তার দাসের (শুদ্র) ভূমিকা সম্বন্ধে অত্যন্ত বিস্তৃতভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন I তার ভবিষ্যদ্বাণীতে ঈশ্বর সমস্ত ‘দূরবর্তী’ জাতি সমূহ (অর্থাৎ আমাদের!) এই শুদ্রর সেবাতে মনোযোগ দিতে পরামর্শ দেন I

রবর্তী স্থানের সব লোকরা আমার কথা শোন| পৃথিবীবাসী সবাই আমার কথা শোন! আমি জন্মাবার আগেই প্রভু আমাকে তাঁর সেবা করতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন| আমি মাতৃজঠরে থাকার সময়েই প্রভু আমার নাম ধরে ডাক দেন|
প্রভু আমাকে তাঁর কথা বলতে ব্যবহার করেন! তিনি আমার মুখকে ধারালো তরবারির মতো তৈরী করেছেন| তিনি আমাকে নিজের হাতে লুকিয়ে রেখে আমাকে রক্ষাও করেছেন| প্রভু আমাকে একটি ধারালো তীরের মতো ব্যবহার করলেও, তিনি আমাকে তাঁর তীরের থলিতে লুকিয়ে রাখেন|
প্রভু আমাকে বললেন, “ইস্রায়েল তুমি আমার ভৃত্য! তোমার জন্য আমি যা করি তার জন্য আমি সম্মানিত হব|”
আমি বললাম, “আমি কঠোর পরিশ্রম করেছি| আমি নিজেকে ক্ষয় করেছি, কিন্তু কোন প্রযো-জনীয কাজ করি নি| আমি আমার সমস্ত শক্তি ব্যয করেছি| কিন্তু আমি সত্যিকারের কিছুই করতে পারিনি| তাই প্রভুকেই ঠিক করতে হবে| তিনি আমাকে নিয়ে কি করবেন| ঈশ্বরই আমার পুরস্কারের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন|
প্রভু আমাকে আমার মাতৃগর্ভে সৃষ্টি করেছেন, যাতে আমি তাঁর দাস হতে পারি এবং যাকোব ও ইস্রায়েলকে পথ প্রদর্শন করে তাঁর কাছে ফিরিয়ে আনতে পারি| প্রভু আমাকে সম্মান দেবেন| ঈশ্বরের কাছ থেকে আমি আমার শক্তি পাব|”প্রভু আমাকে বলেন,
“তুমি আমার খুবই গুরুত্বপূর্ণ দাস| ইস্রায়েলের লোকরা এখন বন্দী| কিন্তু তাদের আমার কাছে আনা হবে| যাকোবের পরিবারগোষ্ঠী আমার কাছেই ফিরে আসবে| কিন্তু তোমার অন্য কাজ আছে, এর থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেই কাজ! আমি তোমাকে সমস্ত জাতির আলো হিসেবে তৈরি করব| বিশ্ববাসীকে রক্ষা করতে তুমিই হবে আমার পথ|”

যিশাইয় 49:1-6

যদিও হিব্রু/যিহূদি জাতি থেকে আসছেন, এটি ভবিষ্যদ্বাণী করল যে এই দাসের সেবা ‘পৃথিবীর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছবে’ I যেমন ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল  যীশুর সেবা বাস্তবিকই পৃথিবীর উপরে সমস্ত জাতিকে স্পর্শ করেছে I দাস হিসাবে, যীশু সম্পূর্ণরূপে সমস্ত শুদ্রর সঙ্গে চিহ্নিত হন এবং প্রতিনিধিত্ব   করলেন I 

এছাড়াও অবর্ণ …

সমস্ত লোকদের জন্য মধ্যস্ততা করতে এছাড়াও যীশুকে অবর্ণ বা তফসিলি জাতি, উপজাতি এবং দলিতদের প্রতিনিধিত্ব করতে হয় I কিভাবে তিনি করবেন? হিব্রু বেদ ভবিষ্যদ্বাণী করল যে তাকে সম্পূর্নভাবে ভগ্ন এবং তুচ্ছ করা হবে, অবর্ণ হিসাবে আমাদের মধ্যে বাকিদের দ্বারা যেমন দেখা হয় I

কি উপায়ে?

এখানে কিছু ব্যাখ্যা সন্নিবেশ করা সহ সম্পূর্ন ভবিষ্যদ্বাণীটি রয়েছে I লক্ষ্য করুন যে এটি ‘তিনি’ এবং ‘তাঁকে’ এর সম্বন্ধে কথা বলেন তাই এটি একজন আসন্ন পুরুষের ভবিষ্যদ্বাণী করে I যেহেতু ভবিষ্যদ্বাণীটি ‘অঙ্কুর’ এর চিত্র ব্যবহার করে আমরা জানি এটি শাখাটিকে বোঝাচ্ছে যিনি যাজক এবং শাসক ছিলেন I তবে বর্ণনাটি অবর্ণ সম্বন্ধে I

আসন্ন তুচ্ছ একজন 

সত্যিই বিশ্বাস করেছিল, আমাদের ঘোষণার কথা? কে সত্যি সত্যিই গ্রহণ করেছিল প্রভুর শাস্তি?
সে প্রভুর সামনে, ছোট গাছের মতে বড় হতে লাগল| সে ছিল শুকনো জমিতে গাছের শিকড়ের বড় হওয়ার মতো| তাকে দেখতে বিশেষ কিছু লাগত না| তার কোন বিশেষ মহিমা ছিল না| যদি আমরা তার দিকে তাকাতাম তবে তাকে ভালো লাগার মত বিশেষ কিছুই চোখে পড়ত না|
লোকে তাকে ঘৃণা করেছিল, তার বন্ধুরা তাকে ত্যাগ করেছিল| তার প্রচুর দুঃখ ছিল| অসুস্থতার বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা ছিল| লোকরা তার কাছ থেকে লুকিয়ে থাকত| আমরা তাকে ঘৃণা করতাম| আমরা তার কথা চিন্তাও করিনি|

যিশাইয় 53:1-3

যদিও ‘অঙ্কুরটি’ ঈশ্বরের সামনে (অর্থাৎ বট বৃক্ষের শাখা), এই পুরুষটি সম্পূর্ন কষ্টভোগ সহ ‘তুচ্ছ’ এবং ‘প্রত্যাখ্যাত’ হবে এবং অন্যদের ‘দ্বারা কম সম্মানে রাখা’ হবে I তাকে আক্ষরিকভাবে অস্পৃশ্য রূপে গন্য করা হবে I এই আসন্ন একজন তখন তাদের প্রতিনিধিত্ব করতে সক্ষম হয় যারা অস্পৃশ্যদের মতন ততটাই ভগ্ন যতটা তফসিলি উপজাতি (বনবাসী) এবং পিছড়া জাতি সমূহ – দলিতরা I

কিন্তু সে আমাদের অসুখগুলোকে বয়ে বেড়িযে-ছিল| সে আমাদের যন্ত্রণা ভোগ করেছিল| এবং আমরা মনে করেছিলাম ঈশ্বর তাকে শাস্তি দিচ্ছেন| তার কোন কৃতকর্মের জন্য ঈশ্বর তাকে শাস্তি দিচ্ছেন বলে আমরা মনে করেছিলাম|
কিন্তু আমাদেরই ভুল কাজের জন্য তাকে আহত হতে হয়েছিল| আমাদের পাপের জন্য সে ক্ষত-বিক্ষত হয়েছিল| আমাদের কাঙ্খিত শাস্তি সে পেয়েছিল| তার আঘাতের জন্য আমাদের আঘাত সেরে উঠেছিল|

যিশাইয় 53:4-5

আমরা মাঝে মাঝে অন্যদের দুর্ভাগ্যের বিচার করি, বা তাদের দিকে দেখি যারা সমাজের মধ্যে নিচুতলার অবস্থায় আছে, তাদের পাপের ফলস্বরূপ, বা কর্মের কারণে I অনুরূপভাবে, এই পুরুষটির দুর্দশা এত দুর্দান্ত হবে যে আমরা অনুমান করি তিনি ঈশ্বরের দ্বারা শাস্তি পাচ্ছেন I এইজন্যে তিনি তুচ্ছ হবেন I তবে তিনি তা নিজের পাপের জন্য শাস্তি পাবেন না – বরং আমাদের পাপের জন্য I তিনি আমাদের নিরাময় এবং শান্তির জন্য এক ভয়াভয় বোঝা বহন করবেন I  

এটিকে নাসরতের যীশুর ক্রুশারোপনের মধ্যে পরিপূর্ণ করা হয়েছিল, যাকে ক্রুশের উপরে ‘বিদ্ধ করা’ হয়েছিল, জর্জরিত এবং নিপীড়িত I তথাপি এই ভবিষ্যদ্বাণীটি তার জীবিত থাকার পূর্বে 750 বছর পূর্বে লেখা হয়েছিল I কম সম্মানে থাকা   এবং তার কষ্টভোগের মধ্যে, যীশুর ভবিষ্যদ্বাণীটিকে পুরণ করেছিলেন এবং এখন সমস্ত পিছিয়ে পড়া জাতি এবং উপজাতি সমূহকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন I

আমরা সবাই হারিযে যাওয়া মেষের মত ঘুরে বেড়িযেছিলাম| আমরা সবাই আমাদের নিজেদের পথে গিয়েছিলাম যখন প্রভু আমাদের সব শাস্তি তাকে দিয়ে ভোগ করাচ্ছিলেন|
তার সঙ্গে নিষ্ঠুর ব্যবহার করা হয়েছিল এবং সে আত্মসমর্পণ করেছিল| সে কখনও প্রতিবাদ করেনি| মেষকে যেমন হত্যার জন্য নিয়ে যাওয়া হলে সে নালিশ করে না তেমনি সেও চুপচাপ ছিল| মেষ যেমন তার পশম কাটার সময় কোন শব্দ করে না, সেও তেমনি তার মুখ খোলে নি|

যিশাইয় 53:6-7

এটি আমাদের পাপ এবং ধর্মা থেকে আমাদের বিপথগামিতা যা এই পুরুষটির আমাদের অপরাথ বা পাপসমূহ বহন করার জন্য দরকার I আমাদের জায়গায় বধ হতে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে যেতে ইচ্ছুক হবেন, প্রতিবাদ না করে, বা এমনকি ‘তার মুখ না খুলে’ I যীশু যেভাবে স্বেচ্ছায় ক্রুশে গিয়েছিলেন তাতে এটি যথাযথভাবে পরিপূর্ণ হয়েছিল I

মানুষ শক্তি প্রযোগ করে তাকে নিয়েছিল এবং তার প্রতি ন্যায্য বিচার করেনি| তাঁর ভবিষ্যত্‌ পরিবার সম্পর্কে কেউ কিছু বলেনি| কারণ সে জীবিতদের দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল| আমার লোকদের পাপের জন্য সে শাস্তি পেয়েছিল|

যিশাইয় 53:8

ভবিষ্যদ্বাণীটি ব্যক্ত করল যে তাকে ‘জীবিতদের দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে’, পরিপূর্ণ হ’ল যখন যীশু ক্রুশের উপরে মারা গেলেন I

তার মৃত্যু হয়েছিল এবং ধনীদের সঙ্গে তাকে সমাহিত করা হয়েছিল| তাকে দুষ্ট লোকদের সঙ্গে সমাহিত করা হয়েছিল যদিও সে কোন হিংস্র কাজ করেনি| সে কখনও কাউকে প্রতারণা করেনি|

যিশাইয় 53:9

যীশু একজন ‘দুষ্ট’ পুরুষ হিসাবে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে মারা গেলেন এমনকি যদিও ‘তিনি কোনো হিংসা করেন নি’ এবং ‘মুখের মধ্যে কোনো ছলনা ছিল’ না I তথাপি, তাকে এক ধনী যাজক আরিমাথিয়ার যোষেফের কবরে সমাধি দেওয়া হ’ল I যীশু ‘দুষ্টের সঙ্গে একটি কবরে নির্ধারিত’ কিন্তু তার নৃত্যুতে ধনীর সঙ্গে’ হয়ে উভয়কে পূর্ণ করলেন I

10 প্রভু তাকে মেরে পিষে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন| যদি সে দোষমোচনের বলি হিসেবে নিজেকে উত্সর্গ করে, সে তার সন্তানের মুখ দেখবে এবং দীর্ঘ দিন বাঁচবে| ঈশ্বরের অভিপ্রায় তার হাতে সফল হবে|

যিশাইয় 53:10

নিষ্ঠুর মৃত্যু ছিল কোনো ভয়ানক দুর্ঘটনা বা দুর্ভাগ্য নয় I এটি ‘সেই সদাপ্রভুর’ ইচ্ছা’ ছিল I 

কেন?

কেননা এই পুরুষটির ‘জীবন’ টি একটি ‘পাপের জন্য উৎসর্গ’ হবে I   

কার পাপ?

আমাদের মধ্যে যারা ‘অনেক জাতি সমূহ’ যারা ‘বিপথে চলে গেছে’ I যীশু যখন ক্রুশে মারা গেলেন, এটি আমাদের সকলকে জাতি, ধর্ম বা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে পাপের থেকে শুদ্ধ করতে ছিল I

তুচ্ছ একজন বিজয়ী হয় 

11 তার আত্মা বহু কষ্ট পেলেও সে অনেক ভালো জিনিস ঘটা দেখতে পাবে| সে যেসব জিনিস শিখেছে তা নিয়ে সন্তুষ্ট হবে| আমার ভালো দাসটি অনেক মানুষকে ধার্মিক করবে| সে তাদের অপরাধের দরুণ শাস্তি ভোগ করবে|

যিশাইয় 53:11

ভবিষ্যদ্বাণীটির সুর এখন বিজয়ী হতে বদলে যায় I ভয়ংকর ‘কষ্টভোগের’ পরে (বা ‘তুচ্ছ’ হয়ে, এবং ‘জীবিত দেশের থেকে বিছিন্ন হয়ে’ এবং ‘একটি কবরে’ নির্ধারিত হয়ে) এই দাস ‘জীবনের আলো’ দেখবে I  

তিনি জীবনে ফিরে আসবেন! এবং এইরকম করার দ্বারা এই দাস অনেককে ‘ন্যায়সঙ্গত’ করবেন I   

‘ন্যায়সঙ্গত’ করা ‘ধার্মিকতা’ পাওয়ার মতন একই হয় I ঋষি আব্রাহামের স্বপক্ষে ‘ধার্মিকতা’ ‘জমা করা’ বা দেওয়া হয়েছিল I এটিকে শুধুমাত্র তাকে তার বিশ্বাসের কারণে দেওয়া হয়েছিল I অনুরূপভাবে এই দাস যিনি অস্পৃশ্য হওয়ার জন্য এতটা নিচু হবেন ন্যায়সঙ্গত করবেন বা ‘অনেকের’ পক্ষে ধার্মিকতা জমা দেবেন I তার মৃত্যুর পরে মৃতদের মধ্য থেকে উত্থিত হয়ে এটাকেই প্রকৃতপক্ষে যীশু সম্পন্ন করেছিলেন এবং আমাদের ন্যায়সঙ্গত করেন I 

12 এই কারণে আমি তাকে অনেক লোকের মধ্যে পুরস্কৃত করব| যে সব লোকরা শক্তিশালী তাদের সঙ্গে সমস্ত জিনিসে তার অংশ থাকবে|আমি এটা তার জন্য করব কারণ সে লোকের জন্য নিজের জীবন উত্সর্গ করে মারা গিয়েছিল| তাকে এক জন অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হত| কিন্তু সত্যটা হল সে অনেক লোকের পাপ বহন করে ছিল| এবং এখন সে পাপী লোকদের সপক্ষে কথা বলছে|

যিশাইয় 53:12

যদিও যীশুর জীবিত থাকার 750 বছর পূর্বে এটিকে লেখা হয়েছিল, এটি ঈশ্বরের পরিকল্পনাকে দেখাতে এতটা বিস্তৃত ভাবে তার দ্বারা পরিপূর্ণ হয়েছিল I এছাড়াও এটি দেখায় যে যীশু অবর্ণকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন, যাদেরকে প্রায়শই নিম্নতম সম্মানের মধ্যে রাখা হয় I আসলে, তিনি প্রতিনিধিত্ব করতে, তাদের পাপ সমূহ বহন এবং তাদের পাপ, পাশাপাশি ব্রাহ্মিণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য এবং শুদ্রর পাপ সমূহ থেকে শুদ্ধ করতে এসেছিলেন I     

তিনি ঈশ্বরের পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আপনাকে এবং আমাকে জীবনের উপহার দিতে এসেছিলেন – পাপের অপরাধ এবং কর্ম থেকে শুদ্ধ করতে I এই ধরণের একটি উপহারকে সম্পূর্ণরূপে বিবেচনা করা এবং বোঝা কি সার্থক নয়? এটিকে করার বিভিন্ন উপায় সমূহ এখানে রয়েছে:

আসন্ন মহৎ রাজা: কয়েকশত বছর পূর্বে নামকরণ

রাজা ভেনার সম্বন্ধে বিষ্ণু পুরাণ বলে I যদিও ভেনা এক উত্তম রাজা রূপে আরম্ভ করেছিলেন, দুর্নীতির প্রভাবের কারণে তিনি এতটাই মন্দ হয়ে গেলেন যে তিনি ত্যাগ ও প্রার্থনা নিষিদ্ধ করেছিলেন I তিনি এমকি দাবি করলেন যে তিনি বিষ্ণুর চেয়েও শ্রেষ্ঠ I ঋষি এবং ব্রাহ্মণ/পুরোহিতরা তার সাথে যুক্তি দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন, এই বলে যে রাজা হিসাবে তার শিক্ষা দেওয়া উচিত এবং যথোচিত ধর্মার জন্য এক উদাহরণ স্থাপন করা উচিত, না একে নিম্নমানের  করা উচিত I যাইহোক ভেনা শুনতেন না I তাই পুরোহিতরা ধর্মাকে পুনস্থাপন করতে বেপরোয়া হলেন এবং যেহেতু তারা তাকে অনুতাপ করতে রাজি করতে  পারে নি, তাই মন্দতার রাজ্যকে যা তিনি হয়েছিলেন উদ্ধার করতে তাকে হত্যা করলেন I   

সেটি রাজ্যকে এক শাসক বিহীন করে ছেড়ে গেল I অতএব পুরোহিতরা রাজার দক্ষিণ হস্তকে ঘর্ষণ করলেন এবং পৃথু/প্রুথু নামে এক সৎ ব্যক্তির উত্থান হ’ল I পৃথুকে ভেনার উত্তরাধিকারী মনোনীত করা হ’ল I সবাই আনন্দিত ছিল যে এই জাতীয় একজন নৈতিক ব্যক্তি রাজা হবেন এবং এমনকি ব্রহ্মা পৃথুর রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠানের জন্য হাজির হলেন I পৃথুর রাজত্বকালে রাজ্য এক স্বর্ণ যুগে প্রবেশ করল I   

এটি ভাববাদী যিশাইয় এবং যিরমিয়র মুখোমুখি অনুরূপ দ্বিধাকে চিত্রিত করে I তারা দেখল ইস্রায়েলর রাজারা প্রাথমিকভাবে মহৎ এবং দশ আজ্ঞা সমূহের ধর্মাকে অনুসরণ করলেও পরে তারা দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে গেল I তারা ভবিষ্যদ্বাণী করলেন যে রাজবংশের পতন হবে যেমনভাবে একটি বৃক্ষকে কেটে ফেলা হয় I তবে এছাড়াও তারা এক ভবিষ্যতের মহৎ রাজার সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন, একটি শাখা যা পতিত বৃক্ষের গুড়ি থেকে অঙ্কুরিত হবে I 

এছাড়াও ভেনার গল্প পুরোহিত এবং রাজাদের মধ্যে ভূমিকার স্পষ্ট বিচ্ছেদকে চিত্রিত করে I রাজা ভেনাকে পুরোহিতদের দ্বারা সরানোর সময়ে তারা শাসন গ্রহণ করতে পারল না যেহেতু সেটি তাদের অধিকারে ছিল না I যিশাইয় এবং যিরমিয়র সময়েও রাজা এবং পুরোহিতের মধ্যে ভূমিকার এই একই বিচ্ছেদ বলবৎ ছিল I এই গল্পগুলোর মধ্যে পার্থক্য হ’ল যে পৃথুর নাম তার জন্মের পরে দেওয়া হয়েছিল, যেখানে আমরা দেখব হিব্রু ঋষিরা আসন্ন রাজার নাম তার জন্মের কয়েকশত বৎসর পূর্বে কিভাবে দিয়েছিলেন I

যিশাইয় প্রথমে আসন্ন শাখার সম্বদ্ধে লিখলেন I দায়ূদের পতিত রাজবংশের থেকে একটি ‘তিনি, প্রজ্ঞা এবং শক্তির অধিকারী হয়ে আসছেন I যিরমিয় এই বলে অনুসরণ করলেন যে এইশাখাকে প্রভু বলে জানা যাবে – সৃষ্টিকারী ঈশ্বরের জন্য হিব্রু নাম, এবং আমাদের ধার্মিকতা হবেন I

সখরিয় শাখাটিকে চালিয়ে যান 

বাবিলোনীয় নির্বাসনের পরে সখরিয় মন্দির পুনর্নির্মাণ করত ফিরলেন 

ঋষি সখরিয় 520 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে বাস করতেন, যখন যিহূদিরা তাদের প্রথম  নির্বাসন থেকে যিরূশালেমে ফেরা আরম্ভ করেছিল I তারা ফিরে এলে, তারা তাদের ধ্বংস মন্দির পুনর্নির্মাণ করতে আরম্ভ করল I সেই সময়ে মহা যাজকের নাম যিহোশুয়া দেওয়া হয়েছিল, এবং তিনি মন্দিরের যাজকদের কাজ পুনরায় আরম্ভ করছিলেন I যিহূদি লোকেদের ফেরৎ নিয়ে আসার ক্ষেত্রে ঋষি-ভাববাদী, সখরিয় মহা যাজক যিহোশুয়ার সাথে অংশীদার হলেন I সখরিয়র মাধ্যমে – এখানে ঈশ্বর যা – এই যিহোশুয়ার সম্বন্ধে বললেন:

ওহে মহাযাজক যিহোশূয় এবং তোমার সামনে য়ে মহাযাজকেরা বসে আছে, সবাই দয়া করে শোন| অদূর ভবিষ্যতে আমার বিশেষ দাসকে যখন আমি আনব তখন কি ঘটবে তা দেখাবার জন্য এই লোকেরা তার উদাহরণস্বরূপ| তাকে ‘শাখা’ এই নামে ডাকা হয়|
দেখ, আমি যিহোশূয়র সামনে একটা বিশেষ ধরণের পাথর রাখছি| ঐ পাথরটার সাতটা দিক রয়েছে| আমি একটি বিশেষ বার্তা তাতে খোদাই করব| এটাই দেখাবে য়ে আমি একদিনে এই দেশের প্রতিটি পাপ দূর করব|”

সখরিয় 3:8-9

শাখাটি! যিশাইয়র দ্বারা 200 বছর পূর্বে আরম্ভ হয়ে, যিরমিয়র দ্বারা 60 বছর পরে চলতে থাকল I সখরিয় আরও দুরে ‘শাখাটিকে’ বহন করলেন এমনকি যদিও রাজবংশটিকে এখন কেটে ফেলা হয়েছিল I বটবৃক্ষের মতন এই শাখাটি একটি মৃত গুড়ির থেকে মূল বিস্তার করে চলতে থাকল I শাখাটিকে এখন ‘আমার দাস’ বলা হয় – ঈশ্বরের দাস I য়িরুশালেমে 520 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে কোনো ভাবে সখরিয়র সহকর্মী মহা যাজক যিহোশুয়া, এই আসন্ন শাখার প্রতীকী ছিলেন I

কিন্তু কিভাবে?

‘এক দিনের মধ্যে’ প্রভুর দ্বারা কিভাবে পাপগুলোকে অপসারণ করা হবে? 

শাখাটি: যাজক এবং রাজাকে ঐক্যবদ্ধ করছে 

বুঝতে আমাদের জানা উচিত যে হিব্রু বেদে যাজক এবং রাজার ভূমিকা সমূহ উভয়কে কঠোরভাবে পৃথক করা হয়েছিল I রাজাদের মধ্যে কেউ যাজক হতে পারতেন না এবং যাজকরা রাজা হতে পারতেন না I যাজকের ভূমিকা ছিল ঈশ্বরের কাছে বলি অর্পণ করার দ্বারা ঈশ্বর এবং মানুষের মধ্যে মধ্যস্ততা করা এবং রাজার দায়িত্ব ছিল সিংহাসন থেকে ন্যায়ের সাথে শাসন করা I উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ছিল; উভয়ই স্বতন্ত্র ছিল I তবুও সখরিয় লিখলেন যে ভবিষ্যতে:

তখন আমি প্রভুর কাছ থেকে আরেকটি বার্তা পেলাম| তিনি বললেন,
10 “হিল্দয, টোবিয ও য়িদায বাবিলের বন্দী দশা থেকে ফিরে এসেছে| সেই লোকেদের কাছ থেকে তুমি রূপো ও সোনা সংগ্রহ কর এবং সফনিয়ের পুত্র য়োশিযের বাড়ী যাও|
11 সেই রূপো ও সোনা ব্যবহার করে একটি মুকুট তৈরী কর এবং যিহোষাদকের পুত্র, মহাযাজক যিহোশূয়কে মুকুট মণ্ডিত কর| তারপর যিহোশূয়কে এই বিষয়গুলি বল:
12 প্রভু সর্বশক্তিমান এই কথাগুলি বলেন: ‘শাখা নামে এক মানুষ আছেন, তিনি শক্তিমান হয়ে উঠবেন, তিনি প্রভুর মন্দির গাঁথবেন|
13 তিনি প্রভুর মন্দির গাঁথবেন ও সম্মান গ্রহণ করবেন| তিনি সিংহাসনে বসে শাসন করবেন| আর একজন যাজক তার সিংহাসনের পাশে দাঁড়াবে| এই দুই জন একসাথে শান্তিতে কাজ করবে|

সখরিয় 6:9, 11-13

পূর্বের নজিরের বিপরীত, সখরিয়ের দিনে মহা যাজককে (যিহোশুয়া) শাখা হিসাবে প্রতীকীভাবে রাজার মুকুট পরিয়ে দেওয়া হয়েছিল (মনে রাখুন যিহোশুয়া আসন্ন জিনিসগুলোর ‘প্রতীকী’ ছিলেন) I মহা যাজক যিহোশুয়া, রাজার মুকুট পরে, এক ব্যক্তির মধ্যে রাজা এবং যাজকের ঐক্যবদ্ধকারী ভবিষ্যতের পূর্বাভাষ দেখেছিলেন – রাজার সিংহাসনে একজন যাজক I তদুপরি সখরিয় লিখলেন যে ‘যিহোশুয়া’ শাখাটির নাম ছিল I সেটির কি অর্থ ছিল?

নাম সমূহ ‘যিহোশুয়া’ এবং ‘যীশু’ 

বাইবেল অনুবাদের কিছু ইতিহাস আমাদের জানা প্রয়োজন I মূল হিব্রু বেদ 250 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে গ্রীকে অনুবাদিত হয়েছিল, এবং সেপ্টুজিয়ান্ট বা LXX বলা  হত I এখনও ব্যাপকভাবে পড়া হয়, আমরা দেখলাম কিভাবে ‘খ্রীষ্ট’ কে প্রথমে LXX এর মধ্যে ব্যবহার করা হ’ল এবং এখানে ‘যিহোশুয়ার’ জন্য আমরা সেই একই বিশ্লেষণকে অনুসরণ করি I

যিহোশুয়া’ = ‘যীশু’ উভয়ই হিব্রু নাম ‘যহোশুয়া’ থেকে এসেছিল 

যিহোশুয়া মূল হিব্রু নাম ‘যহোশুয়া’র একটি বাংলা অক্ষরীকরণ I চতুর্থাংশ #1 দেখায় কিভাবে সখরিয় 520 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে ‘যিহোশুয়া’ লিখেছিলেন I এটিকে বাংলায় ‘যিহোশুয়া’ অক্ষরীকরণ করা হয় (#1=> #3) I হিব্রুতে ‘যহোশুয়া’ বাংলায় যিহোশুয়ার মতন একই I যখন 250 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে LXX কে হিব্রু থেকে গ্রীকে অনুবাদ করা হয়েছিল তখন যহোশুয়াকে যেসাসে অক্ষরীকরণ করা হয়েছিল (#1 => #2) I হিব্রুতে যহোশুয়া গ্রীকের মধ্যে যেসাসের মতন একই I যখন গ্রীক বাংলায় অনুবাদিত হয়, যেসাস কে ‘যীশু’তে অক্ষরীকরণ করা হয় (#2 => #3) I গ্রীকের মধ্যে যেসাস বাংলার মধ্যে যীশুর মতন একই I     

যখন হিব্রুতে কথা বলা হয় তখন যীশুকে যহোশুয়া বলা হয়, তবে গ্রীক নতুন নিয়মের মধ্যে তার নামকে ‘যেসাস’ বলে লেখা হয়েছিল – ঠিক যেভাবে গ্রীক পুরনো নিয়ম LXX ওই নামটিকে লিখেছিল I যখন গ্রীক নতুন নিয়মকে গ্রীক থেকে [বাংলায়] অনুবাদিত করা হয় (#2 => #3) ‘যেসাস’ কে পরিচিত ‘যীশু’ তে অক্ষরীকরণ করা হয় I অতএব নাম ‘যেসাস’ = ‘যিহোশুয়া’, সহ ‘যীশু’ একটি মধ্যবর্তী গ্রীক পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, এবং যিহোশুয়া  হিব্রুর থেকে সরাসরি আসছে I       

সংক্ষিপ্তভাবে, উভয়ই নাসরতের যীশু, এবং 520 খ্রীষ্টাব্দের মহা যাজক যিহোশুয়ার একই নাম ছিল, তাদের স্থানীয় হিব্রুতে ‘যহোশুয়া’ বলা হত I গ্রীকের মধ্যে, উভয়কে ‘যেসাস’ বলা হত I

নাসরতের যীশু শাখা হয় 

এখন সখরিয়র ভবিষ্যদ্বাণীটি বোধগম্য I 520 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে করা ভবিষ্যদ্বাণীটি  ছিল যে আসন্ন শাখাটির নামযীশু’ হবে, সরাসরি নাসরতের যীশুর দিকে সংকেত দেয় I

যীশু ‘যিশয়ের গুড়ি থেকে’ আসে যেহেতু যিশয় এবং দায়ূদ তার পূর্বপুরুষ ছিলেন I যীশু অধিকারী ছিলেন প্রজ্ঞার এবং বুদ্ধির এমন একটি মাত্রা পর্যন্ত যা তাকে আলাদা করে রাখে I তার বিচক্ষণতা, ভারসাম্য এবং অন্তর্দৃষ্টি সমালোচক এবং অনুগামী উভয়দের মুগ্ধ করে চলেছে I সুসমাচারগুলোতে অলৌকিক কার্যের মাধ্যমে তার শক্তি অনস্বীকার্য I কেউ হয়ত সেগুলোকে বিশ্বাস করতে পছন্দ না করতে পারে; কিন্তু কেউ তাদেরকে উপেক্ষা করতে পারে না I যীশু ব্যতিক্রমী প্রজ্ঞা এবং ক্ষমতা রাখার মানের সাথে খাপ খান যা যিশাইয় ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন একদিন এই শাখা থেকে আসবে I

এখন নাসরতের যীশুর জীবনের কথা ভাবুন I তিনি নিশ্চিতভাবে এক রাজা হতে দাবি করেছিলেন – প্রকৃতপক্ষে রাজা I এটাই যা ‘খ্রীষ্ট’ বলতে বোঝায় I তবে পৃথিবীতে থাকাকালীন তিনি যা করেছিলেন তা যাজকীয় ছিল I যাজক লোকেদের স্বপক্ষে গ্রহণযোগ্য বলি অর্পণ করতেন I যীশুর মৃত্যু তাতে  তাত্পর্যপূর্ণ ছিল, এছাড়াও এটি, আমাদের স্বপক্ষে ঈশ্বরের কাছে একটি অর্পণ ছিল I তার মৃত্যু যে কোনো ব্যক্তির পাপ এবং অপরাধের জন্য প্রায়শ্চিত্ত   করে I দেশের পাপ সমূহকে আক্ষরিকভাবে ‘একটি দিনের মধ্যে’ অপসারণ করা  হয়েছিল যেমন সখরিয় ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন – সেই দিন যীশু মৃত্যু বরণ করলেন এবং সকল পাপ সমূহের জন্য মূল্য প্রদান করলেন I এমনকি যদিও  তিনি সর্বাধিকভাবে খ্রীষ্ট/রাজা হিসাবে পরিচিত হন, তার মৃত্যুতে তিনি যাজক হিসাবে সমস্ত প্রয়োজনীয়তাগুলোকে পূরণ করলেন I তার পুনরুত্থানে তিনি তার শক্তি এবং মৃত্যুর উপরে কর্তৃত্বকে দেখালেন I তিনি দুটি ভূমিকাকে একসাথে নিয়ে এলেন I দায়ূদ দীর্ঘ সময় পূর্বে যে শাখাটিকে ‘খ্রীষ্ট’ বলে অভিহিত করেছিলেন, তিনি হলেন যাজক-রাজা I এবং তার নামকে তার জন্মের 500 বছর পূর্বে সখরিয় দ্বারা ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল I

ভবিষ্যদ্বাণীপূর্ণ প্রমাণ 

তার সময়ে, আজকের মতন, তার কর্তৃত্বকে প্রশ্ন করতে যীশুর সমালোচক   ছিল I তার উত্তরটি তার আগে আসা ভাববাদীদের দিকে ইঙ্গিত করে দাবি করা হয়েছিল যে তারা জীবন সম্পর্কে আগে থেকেই দেখেছিলেন I এখানে একটি উদাহরণ যেখানে যীশু তাদের বললেন যারা তার বিরোধিতা করছে:

… এইগুলো বিশেষ শাস্ত্রীয় বাক্য সমূহ যা আমার সম্বন্ধে স্বাক্ষ্য দেয় … (যোহন 5:39)

অন্য কথায়, যীশু দাবি করলেন যে তার জীবনের সম্বন্ধে হিব্রু বেদে কয়েকশত  বছর পূর্বে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল I যেহেতু মানবিক অন্তর্দৃষ্টি ভবিষ্যত সম্পর্কে কয়েকশত বছরের ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে না, যীশু বললেন যাচাই করার এটি প্রমাণ ছিল যে মানব জাতির জন্য তিনি প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরের পরিকল্পনা অনুযায়ী এসেছিলেন I আজ ব্যক্তিগতভাবে এটিকে যাচাই করতে আমাদের জন্য হিব্রু বেদ উপলব্ধ আছে I   

আজ পর্যন্ত হিব্রু ভাববাদীরা যা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন আসুন তার সংক্ষিপ্তসার করা যাক I যীশুর আগমনের সম্বন্ধে মানব ইতিহাসের শুরুতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল I তারপরে আব্রাহাম অবস্থানটির সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন যেখানে যীশুকে বলি দেওয়ার কথা ছিল যখন নিস্তারপর্ব বছরের দিনের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল I আমরা দেখলাম যে গীতসংহিতা 2 ছিল যেখানে ‘খ্রীষ্ট’ উপাধিকে এক আসন্ন রাজার ভবিষ্যদ্বাণী রূপে ব্যবহার করা হয়েছিল I আমরা সবেমাত্র দেখেছি যে তার বংশ, যাজকীয় কর্মজীবন এবং নামের ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল I সমগ্র ইতিহাসের মধ্যে আপনি কি আর কারোর সম্বন্ধে ভাবতে পারেন যার জীবনকে নাসরতের যীশুর মতন এমনকি এত দূর থেকেও এতগুলো  ভাববাদীদের দ্বারা ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল? 

উপসংহার: জীবনের বৃক্ষ সকলকে দেওয়া হয়েছে 

বট বৃক্ষের মতন, একটি অমর এবং টেকসই বৃক্ষের চিত্র, বাইবেলের একেবারে শেষ অধ্যায় পর্যন্ত চলতে থাকে, পুনরায় ভবিষ্যতের মধ্যে দূরদৃষ্টি, পরবর্তী বিশ্বের দিকে, একটি ‘জীবন-জলের নদীর’ সাথে যেখানে

নদীটি নগরের রাজপথের মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেছে৷ নদীর তীরেই জীবনবৃক্ষ আছে৷ বছরের বারো মাসই তাতে বারো বার ফল ধরে, প্রতি মাসে নতুন নতুন ফল হয়৷ সেই জীবন বৃক্ষের পাতা জাতিবৃন্দের আরোগ্য দায়ক৷

প্রকাশিত বাক্য 22:2

সমস্ত জাতির লোকেরা – আপনি সহ –মৃত্যু থেকে উদ্ধার এবং জীবন-বৃক্ষের ঐশ্বর্য – একটি প্রকৃতপক্ষে অমর বটবৃক্ষ উভয়ের অভিজ্ঞতা লাভ করতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে I তবে হিব্রু ভাববাদীরা ভাববাণী করেন এর জন্য  প্রখমে কিভাবে শাখাটির ‘কাটার’ প্রয়োজন হবে, যেমন আমরা পরবর্তী তে দেখি I

শাখার চিহ্ন: বট সাবিত্রীর মধ্যে অটল বটবৃক্ষের মতন

বটবৃক্ষ, বরগদ বা বট গাছ দক্ষিণ এশিয়ার আধ্যাত্মিকতার কেন্দ্রস্থল এবং ভারতবর্ষের জাতীয় বৃক্ষ I এটি মৃত্যুর ঈশ্বর যমের সাথে সংযুক্ত, তাই প্রায়শই স্মশানের পাশে রোপন করা হয় I পুনরায় অঙ্কুরিত হওয়ার দক্ষতার কারণে এর কাছে দীর্ঘাযুতা রয়েছে এবং এটি অমরত্বের প্রতীক I এই বটবৃক্ষের দ্বারাই সাবিত্রী যমের সাথে দর কষাকষি করেছিলেন তার মৃত স্বামী এবং রাজা সত্যবানকে ফেরৎ দেবার জন্য যাতে করে তিনি এক পুত্রকে পেতে পারেন – যাকে বট পূর্নিমা এবং বট সাবিত্রীর বাৎসরিক উৎসবে স্মরণ করা হয় I       

একটি অনুরূপ বিবরণকে হিব্রু বেদের (বাইবেল) মধ্যে দেখা যায় I সেখানে একটি মৃত বৃক্ষ আছে … জীবনে ফিরে আসছে … রাজাদের এক মৃত বংশের থেকে এক নতুন পুত্রের প্রতিনিধিত্ব করছে I বড় পার্থক্যটি হ’ল যে এই বিবরণটিকে এক ভবিষ্যত-দ্রষ্টা ভাববাণী এবং বিভিন্ন ভাববাদীদের (ঋষিদের) দ্বারা শত শত বছরের সময় কালের মধ্যে গড়ে তোলা হয়েছিল I তাদের সম্মিলিত গল্পটি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল যে কেউ আসছেন I যিশাইয় (750 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) এই গল্পটির আরম্ভ করেছিলেন যেটিকে ঋষি-ভাববাদীরা আরও উন্নত করেছিলেন – মৃত বৃক্ষ থেকে উৎপন্ন শাখাতে I

যিশাইয় এবং শাখাটি

ঐতিহাসিকভাবে যাচাই করা সময়ে যিশাইয় বাস করতেন, যিহূদিদের ইতিহাস  থেকে নেওয়া কালপঞ্জির মধ্যে দেখা যায় I

ঐতিহাসিক কালপঞ্জির মধ্যে দেখানো হয়েছে যিশাইয় ইস্রায়েলের দায়ূদ বংশীয় রাজাদের যুগে বাস করছেন 

যিশাইয় লিখলেন যখন রাজা দায়ূদের রাজবংশ (1000-600 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) যিরূশালেম থেকে শাসন করছিল I যিশাইয়র সময়ে (750 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) রাজ বংশ এবং শাসন দুর্নীতিগ্রস্ত হয়েছিল I ঈশ্বরের কাছে এবং মশির দশ আজ্ঞা সমূহের অভ্যাসের কাছে ফিরে আসতে যিশাইয় রাজাদের কাছে মিনতি করলেন I তবে যিশাইয় জানতেন যে ইস্রায়েল অনুতাপ করবে না এবং রাজ্যটি ধ্বংস হয়ে যাবে এবং রাজাদের শাসন শেষ হবে I 

একটি বৃহৎ বটবৃক্ষের ছবির মতন, তিনি রাজকীয় রাজবংশের জন্য একটি চিত্র ব্যবহার করলেন I এই বৃক্ষটির গোড়ায় রাজা দায়ূদের পিতা যিশয় ছিলেন I যিশয়ের উপরে রাজাদের রাজবংশ দায়ূদকে দিয়ে আরম্ভ হয়েছিল, এবং তার উত্তরাধিকারী, রাজা শলোমনের সঙ্গে চলতে থেকেছিল I যেমন নিচে চিত্রিত করা হয়েছে, রাজবংশের পরবর্তী পুত্রের শাসনের সাথে সাথে বৃক্ষটি বাড়তে এবং উন্নত হতে থাকল I

যিশাইয় রাজবংশের চিত্রটিকে একটি বৃহৎ বটবৃক্ষ রূপে ব্যবহার করেছিলেন সাথে রাজারা প্রতিষ্ঠাতার শিকড় – যিশয়ের থেকে বৃক্ষের গুঁড়িটিকে প্রসারিত করছে I

প্রথমে একটি বৃক্ষ – পরে একটি গুড়ি … তারপরে একটি শাখা 

যিশাইয় সতর্ক করলেন যে এই ‘বৃক্ষ’ বংশটিকে শীঘ্র কেটে ফেলা হবে, এটিকে একটি মৃত গুড়িতে পরিণত করা হবে I এখানে তিনি কিভাবে গুড়ি এবং শাখার ধাঁধা হিসাবে এই দৈববাণীকে লিখেছিলেন: 

কটি ছোট গাছ (শিশু) য়িশযের গোড়া (পরিবার) থেকে বাড়বে| ঐ শাখাটি য়িশযের শিকড়গুলি থেকে বাড়বে|
আর প্রভুর আত্মা এই বালকটির ওপরে ভর করবে| এই আত্মা বালকটিকে জ্ঞান, বুদ্ধি, পথনির্দেশ এবং শক্তি দেবে| এই আত্মা বালকটিকে প্রভুকে জানার এবং তাঁকে সম্মান করার শিক্ষা দেবে|

যিশাইয় 11:1-2
যিশাইয় সতর্ক করেছিলেন একদিন বংশটি একটি মৃত গুড়ি হবে 

প্রায় 650 খ্রীষ্টপূর্বাব্দের আশেপাশে যিশাইয়র 150 বছর পরে এই ‘বৃক্ষটিকে’ কেটে ফেলা হয়েছিল, যখন বাবিলোনিয়রা যিরূশালেমকে জয় করেছিল, রাজাদের –রাজবংশকে ছিনভিন্ন করেছিল এবং ইস্রায়েলীযদের বাবিলের নির্বাসনে টেনে নিয়ে গিয়েছিল (কালপঞ্জির মধ্য লাল যুগ) I এটি যিহূদিদের প্রথম নির্বাসন ছিল – যাদের মধ্যে কিছু ভারতবর্ষে বসবাস করতে চলে এসেছিল I সাবিত্রী এবং সত্যবানের গল্পের মধ্যে একটি মৃত রাজার পুত্র ছিল – সত্যবান I গুড়ির ভাববাণীতে রাজাদের সমগ্র বংশ সমাপ্ত হয়ে যাবে এবং বংশটি স্বয়ং মারা  যাবে I 

শাখাটি: দায়ূদের থেকে আসা একজন ‘তাঁকে’ যিনি প্রজ্ঞার অধিকারী  

যিশয়ের মৃত গুড়ির থেকে অঙ্কুর 

তবে ভাববাণীটি এছাড়াও কেবল রাজাদের কেটে ফেলার চেয়েও ভবিষ্যতের মধ্যে আরও আগে দেখেছিল I বটবৃক্ষের একটি সাধারণ বৈশিষ্টকে ব্যবহার করে এটি এরকম করেছিল I যখন বটবৃক্ষের বীজ অঙ্কুরিত হয় তারা প্রায়শই অন্য গাছের কাণ্ডের উপরেও এইরকম করে I অঙ্কুরোদ্গম বট বৃক্ষের কাছে গুড়ি একটি নিমন্ত্রণকর্তা I বট বৃক্ষের চারা প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে এটি নিমন্ত্রণকর্তা গুড়িকে ছাড়িয়ে যাবে এবং বেঁচে থাকবে I এই অঙ্কুরটিকে যিশাইয় পূর্বেই দেখেছিলেন যে এটি একটি বটবৃক্ষের মতন হবে যেহেতু নতুন অঙ্কুর এর শিকড় থেকে উপরে উঠবে – একটি শাখা তৈরী করতে I  

যিশাইয় এই চিত্রটিকে ব্যবহার করেছিলেন এবং ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে একদিন অদূর ভবিষ্যতে একটি অঙ্কুর, শাখা হিসাবে পরিচিত মৃত গুড়ি থেকে বেরিয়ে আসবে, ঠিক যেমন বটবৃক্ষের অঙ্কুর বৃক্ষের গুড়ি থেকে অঙ্কুরিত হয় I যিশাইয় অঙ্কুর হিসাবে ‘তাঁকে’ বোঝায় তাই যিশাইয় একজন নির্দিষ্ট মানুষের সম্বন্ধে কথা বলছেন, যিনি রাজবংশের পতনের পরে দায়ূদের বংশ থেকে আসছেন I এই মানুষটির মধ্যে প্রজ্ঞা, শক্তি, এবং জ্ঞানের এই ধরণের গুণ সমূহ   থাকবে এটি এরকম হবে যেন ঈশ্বরের বিশেষ আত্মা তার উপরে হবে I

একটি বটবৃক্ষ এর নিমন্ত্রণকর্তা গুড়িকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে I শীঘ্রই এটি শিকড় এবং অঙ্কুর বংশ বিস্তারের জট হবে I

অনেক রচনা সমূহ পুরাণের মধ্যে বটবৃক্ষকে অমরত্বের একটি প্রতীকী রূপে উল্লেখ করে I এর বায়বীয় শিকড়গুলো মাটির নীচে বাড়তে থাকে অতিরিক্ত গুড়ি তৈরী করে I এটি দীর্ঘায়ুটির প্রতীক ঐশ্বরিক স্রষ্টাকে প্রতিনিধিত্ব করে I 750 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে যিশাইয় এই শাখাটিকে পূর্বেই দেখেছিলেন যার মধ্যে অনেক অনুরূপ স্বর্গীয় বৈশিষ্ট সমূহ থাকবে, এবং রাজবংশের ‘গুড়ি’ অন্তর্নিহিত হয়ে যাওয়ার পরেও দীর্ঘ স্থায়ী হবে I

যিরমিয় এবং শাখাটি

ঋষি-ভাববাদী যিশাইয় একটি পথনির্দেশক স্তম্ভ খাড়া করলেন যাতে লোকেরা ভবিষ্যতের ঘটনাগুলোকে উদঘাটন করতে বুঝতে পারে I তবে যিশাইয়র 150 বছর পরে, 600 খ্রীষ্টপুর্বাব্দে তার বিভিন্ন চিহ্নগুলোর মধ্যে কেবলমাত্র প্রথম ছিল যখন তার বিশেষ চোখের সামনে দায়ূদের বংশকে কাটা হচ্ছিল, যিরমিয় লিখলেন:

প্রভু এই বার্তা বলেন, “সেই সময় আসছে যখন আমি একটি ভালো ‘নবোদগম’|উত্তোলন করব| সে বুদ্ধিমত্ত্বার সঙ্গে শাসন করবে এবং দেশে যা ন্যায্য এবং ঠিক তাই করবে| সে সুষ্ঠু ভাবে দেশ শাসন করবে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে|
তার রাজত্বের সময়, যিহূদা রক্ষা পাবে এবং ইস্রায়েল নিরাপদে থাকবে| এই হবে তার নাম: প্রভুই আমাদের ধার্মিকতা|”

যিরমিয় 23:5-6

যিরমিয় দায়ূদের রাজবংশের যিশাইয়র শাখা চিত্রের উপরে বিস্তৃত করলেন I শাখাটি আবারও একজন রাজা হবে I তবে দায়ূদের পূরবর্তী রাজাদের মতন এক রাজা নয় যাদেরকে মৃত গুড়িতে নামিয়ে আনা হয়েছিল I 

শাখাটি: প্রভু আমাদের ধার্মিকতা 

শাখাটির সাথে পার্থক্যকে তার নামের মধ্যে দেখা যায় I তিনি ঈশ্বরের বিশেষ নাম বহন করবেন (‘প্রভু’) – ঈশ্বরের জন্য হিব্রু নাম), অতএব একটি বটবৃক্ষের মতন এই শাখাটি স্বর্গীয় এক প্রতিমূর্তি হবে I এছাড়াও তিনি ‘আমাদের’ (আমাদের মানবজাতির) ধার্মিকতা হবেন I   

সাবিত্রী যখন তার স্বামী সত্যবানের দেহ নিয়ে যমের সাথে বিতর্ক করলেন, এটি তার ধার্মিকতা ছিল যা তাকে মৃত্যুর (যম) সম্মুখীন হতে শক্তি যুগিয়েছিল I কুম্ভ মেলা সম্পর্কে যেমন উল্লিখিত করা হয়, আমাদের সমস্যা হ’ল আমাদের দুর্নীতি বা পাপ, এবং তাই আমরা ‘ধার্মিকতার’ অভাব বোধ করি I বাইবেল আমাদের বলে যে সেইজন্য মৃত্যুর সম্মুখীন হতে আমাদের কাছে ক্ষমতা নেই I প্রকৃতপক্ষে এটি বলে এর বিরুদ্ধে আমরা অসহায়: 

14 ভাল, সেই সন্তানরা যখন রক্তমাংসের মানুষ, তখন যীশু নিজেও তাদের স্বরূপের অংশীদার হলেন৷ যীশু এইরকম করলেন য়েন মৃত্যুর মাধ্যমে মৃত্যুর অধিপতি দিয়াবলকে ধ্বংস করতে পারেন;
15 আর যাঁরা মৃত্যুর ভয়ে যাবজ্জীবন দাসত্বে কাটাচ্ছে তাদের যুক্ত করেন৷

ইব্রীয় 2:14b-15

বাইবেলের মধ্যে শয়তান যমের মতন হয় যেহেতু সে আমাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুর ক্ষমতাকে ধারণ করে I প্রকৃতপক্ষে, সত্যবানের দেহকে নিয়ে যমের বিতর্কের মতন বাইবেল অন্য সময়ে একটি দেহকে নিয়ে শয়তানের বিতর্ককে লিপিবদ্ধ করে, যখন 

কিন্তু প্রধান স্বর্গদূত মীখায়েলের কথা আমরা জানি, যখন তিনি মোশির দেহ নিয়ে দিয়াবলের সঙ্গে তর্ক করছিলেন তখন তিনি দিয়াবলকে কোন কটু কথা বলতে সাহস করেন নি, তার পরিবর্তে শুধু বলেছিলেন, ‘প্রভু তোমাকে তিরস্কার করুন৷’

যিহূদা 1:9

সাবিত্রী ও সত্যবানের গল্পে যমের মতন যেহেতু শয়তানের মশির মতন একজন মহৎ ভাববাদীর দেহকে নিয়ে বিতর্ক করার ক্ষমতা আছে, সেইহেতু নিশ্চিতভাবে আমাদের উপরে মৃত্যুর মধ্যে তার ক্ষমতা আছে – আমাদের পাপ এবং দুর্নীতির কারণে I এমনকি দেবদূতরাও জানতে পারে যে কেবলমাত্র প্রভুর কাছে – সৃষ্টিকারী ঈশ্বরের কাছে – মৃত্যুর মধ্যে শয়তানকে তিরষ্কার করার ক্ষমতা  আছে I 

এখানে, শাখাটির মধ্যে একটি প্রতিশ্রুতি রয়েছে যে ভবিষ্যতে প্রভু আমাদেরকে ‘ধার্মিকতা’ দেবেন যাতে মৃত্যুর উপরে আমরা বিজয় পেতে পারি I 

কিভাবে?

এই থিমটিকে তার গড়ে তোলার সাথে সাথে সখরিয় আরও বিবরণে পরিপূর্ণ করেন, এমনকি আসন্ন শাখার নামটিকে বিস্তৃতভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করেন যা মৃত্যুকে (যম) অমান্যকারী সাবিত্রী ও সত্যবানের গল্পের সমান্তরাল হয়, যেটাকে আমরা পরে দেখব I

যেমনটি কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে: আসন্ন ‘অভিষিক্ত’ শাসকের সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়

ভাগবদগীতা মহাভারত মহাকাব্যটির জ্ঞানের কেন্দ্রবিন্দু I যদিও গীতা (গান) হিসাবে লেখা হয় এটিকে আজ সাধারণতঃ পড়া হয় I কুরুক্ষেত্রের মহান যুদ্ধের আরম্ভের ঠিক পূর্বে প্রভু কৃষ্ণ এবং রাজকীয় যোদ্ধা অর্জুনের মধ্যে কথোপকথনকে গীতা বর্ণনা করে – রাজকীয় পরিবারের দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ I এই আসন্ন যুদ্ধে একে অপরের বিরোধিতা করা যোদ্ধাদের এবং প্রাচীন রাজকীয় রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা রাজা কুরুর দুই রাজবংশের শাসকদের দুই শাখাদের সাজানো  হয়েছিল I রাজ বংশের কোন পক্ষের শাসনের অধিকার ছিল – পান্ডব রাজা যুধিষ্টির বা কৌরব রাজ দুর্যোধন, সেই বিষয় নিয়ে পান্ডব এবং কৌরবদের ভাইয়েরা যুদ্ধে যাচ্ছিল I যুধিষ্টিরের কাছ থেকে দুর্যোধন সিংহাসন দখল করেছিলেন তাই যুধিষ্টির এবং তার পান্ডব সহযোগীরা একে ফিরে পেতে যুদ্ধে যাচ্ছিলেন I পান্ডব যোদ্ধা অর্জুন এবং প্রভু কৃষ্ণের মধ্যে ভাগবদগীতার কথোকথপন কঠিন পরিস্থিতিতে প্রকৃত প্রজ্ঞার উপরে ফোকাস করে যা আত্মিক স্বন্তন্ত্রতা এবং আশীর্বাদ উৎপন্ন করে I  

গীতসংহিতা হিব্রু বাইবেল বেদা পুস্তকম মহাকাব্যের জ্ঞান সাহিত্যের কেন্দ্রবিন্দু I যদিও গীতা (গান) হিসাবে লেখা হয় এটিকে আজ সাধারণতঃ পড়া হয় I দুই বিপরীত শক্তির এক মহান যুদ্ধের ঠিক পূর্বে গীত সংহিতা 2 সর্বোচ্চ প্রভু এবং তার অভিষিক্ত (=শাসকের)

মধ্যে একটি কথোপকথনকে বর্ণনা করে I এর আসন্ন যুদ্ধের দুই দিকে মহান যোদ্ধা এবং শাসকরা সজ্জিত হয় I একদিকে একজন রাজা যিনি প্রাচীন রাজকীয় রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা রাজকীয় রাজা দায়ূদের বংশধর I দুই পক্ষ যুদ্ধে যাচ্ছিল কোন পক্ষ কার উপরে শাসন করবে I প্রভু এবং তার শাসকের মধ্যে গীতসংহিতার কথোপকথন স্বতন্ত্রতা, প্রজ্ঞা এবং আশীর্বাদকে স্পর্শ করে I 

আপনার কি একইরকম বলে মনে হয় না?

যেহেতু ভাগবদগীতা সংস্কৃত বেদের জ্ঞানকে বোঝার পোর্টাল, গীত সংহিতা তেমনি হিব্রু বেদের (বাইবেল) জ্ঞানকে বোঝার পোর্টাল I সেই জ্ঞান লাভ করার জন্য আমাদের গীতসংহিতা এবং এর প্রধান রচয়িতা, রাজা দায়ূদের  সম্পর্কে কিছুটা পটভূমি তথ্যের প্রয়োজন I 

রাজা দায়ূদ কে ছিলেন এবং গীতসংহিতা কি?

[Photo]

ঐতিহাসিক কালপঞ্জির মধ্যে রাজা দায়ূদ, গীতসংহিতা এবং অন্যান্য ভাববাদী ও রচনা সমূহ 

ইস্রায়েলীয়দের ইতিহাস থেকে নেওয়া কালপঞ্জি থেকে আপনি দেখতে পারেন, যে দায়ূদ প্রায় 1000 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে বাস করতেন, ভাববাদী আব্রাহামের 1000 বছর এবং ভাববাদী মশির 

500 বছর [পরে] I দায়ূদ তার পরিবারের ভেড়া চড়িয়ে এক মেষপালক রূপে জীবনযাত্রা শুরু করেছিলেন I এক দুর্দান্ত শত্রু, এবং এক মানুষের দানব, নাম গলিয়াথ ইস্রায়েলীয়দের পরাজিত করতে এক সৈন্যবাহিনীর নেতৃত্ব দিল, এবং তাই ইস্রায়েলীয়রা নিরুৎসাহ হয়ে পরাজয় স্বীকার করল I দায়ূদ গলিয়াথকে চ্যালেঞ্জ করল এবং তাকে যুদ্ধে নিহত করল I এক মহান যোদ্ধার উপরে একজন বালক মেষপালক রাখালের উল্লেখযোগ্য বিজয় দায়ূদকে প্রখ্যাত করে তুলল I   

যাইহোক, তিনি কেবল দীর্ঘ এবং কঠিন অভিজ্ঞতা সমূহের পরে রাজা হলেন কারণ বিদেশে এবং ইস্রায়েলীয়দের উভয়ের মধ্যে তার অনেক শত্রু ছিল, যারা তার বিরোধিতা করেছিল I দায়ূদ তার সমস্ত শত্রুদের উপরে চূড়ান্তভাবে বিজয় লাভ করলেন কারণ তিনি ঈশ্বরের উপরে ভরসা করেছিলেন আর ঈশ্বর তাকে সাহায্য করলেন I হিব্রু বেদার বিভিন্ন বইগুলো অর্থাৎ বাইবেল দায়ূদের এই সংগ্রাম এবং বিজয়গুলো সম্পর্কে বর্ণনা করে I 

এছাড়াও দায়ূদ একজন সঙ্গীতজ্ঞ হিসাবে বিখ্যাত ছিলেন যিনি ঈশ্বরের নিকট সুন্দর গীত এবং কবিতা সমূহের রচনা করেছিলেন I এই গীত এবং কবিতাগুলো ঈশ্বরের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিল এবং বেদা পুস্তকমের মধ্যে গীতসংহিতার বই গঠন করেছিল I  

গীতসংহিতার মধ্যে ‘খ্রীষ্টের’ ভবিষ্যদ্বাণী সমূহ 

যদিও একজন মহান রাজা এবং যোদ্ধা ছিলেন, দায়ূদ গীতসংহিতার মধ্যে লিখেছিলেন একজন ‘খ্রীষ্ট’ তার রাজকীয় বংশের থেকে আসছেন যিনি তাকে শক্তি ও কর্তৃত্বের মধ্যে নিষ্প্রভ করবেন I এখানে হিব্রু বেদার (বাইবেল) গীতসংহিতার মধ্যে খ্রীষ্টকে যেভাবে প্রবর্তন করা হল তা ভাগবদ গীতার অনুরূপ রাজকীয় যুদ্ধের দৃশ্যের অবতারণা I 

1জাতিগণ কেন কলহ করে?

লোকবৃন্দ কেন অনর্থক বিষয় ধ্যান করে?

2পৃথিবীর রাজগণ দণ্ডায়মান হয়,

নায়কগণ একসঙ্গে মন্ত্রণা করে,

সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে এবং তাঁহার ‘অভিষিক্ত’ ব্যক্তির বিরুদ্ধে;

3[বলে,] ‘আইস, আমরা উহাদের বন্ধন ছিঁড়িয়া ফেলি,

আপনাদের হইতে উহাদের রজ্জু খুলিয়া ফেলি।’

4যিনি স্বর্গে উপবিষ্ট, তিনি হাস্য করিবেন;

প্রভু তাহাদিগকে বিদ্রূপ করিবেন।

5তখন তিনি ক্রোধে তাহাদের কাছে কথা কহিবেন,

কোপে তাহাদিগকে বিহ্বল করিবেন।

6আমিই আমার ‘রাজাকে’ স্থাপন করিয়াছি

আমার পবিত্র সিয়োন-পর্ব্বতে।

7আমি সেই বিধির বৃত্তান্ত প্রচার করিব;

সদাপ্রভু আমাকে কহিলেন, তুমি আমার পুত্র,

অদ্য আমি তোমাকে জন্ম দিয়াছি।

8আমার নিকটে যাচ্ঞা কর, আমি জাতিগণকে তোমার দায়াংশ করিব,

পৃথিবীর প্রান্ত সকল তোমার অধিকারে আনিয়া দিব।

9তুমি লৌহদণ্ড দ্বারা তাহাদিগকে ভাঙ্গিবে,

কুম্ভকারের পাত্রের ন্যায় খণ্ড বিখণ্ড করিবে।

10অতএব এখন, রাজগণ! বিবেচক হও;

পৃথিবীর বিচারকগণ! শাসন গ্রাহ্য কর।

11তোমার সভয়ে সদাপ্রভুর আরাধনা কর,

সকম্পে উল্লাস কর।

12পুত্রকে চুম্বন কর, পাছে তিনি ক্রুদ্ধ হন ও তোমরা পথে বিনষ্ট হও,

কারণ ক্ষণমাত্রে তাঁহার ক্রোধ প্রজ্বলিত হইবে।

ধন্য তাহারা সকলে, যাহারা তাঁহার শরণাপন্ন।

গীতসংহিতা 2 

এখানে সেই একই অনুচ্ছেদ কিন্তু গ্রীক থেকে যেমনটি পূর্বে ব্যাখ্যা করা   হয়েছে

ন্যান্য জাতিগুলোর লোকজন এত ক্রুদ্ধ কেন? কেন তারা বোকার মত পরিকল্পনা করছে?
তাদের রাজারা এবং নেতারা, প্রভু এবং তাঁর মনোনীত রাজার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য একত্রিত হচ্ছে|

গীতসংহিতা 2:1-2 – হিব্রু এবং গ্রীকের মূল ভাষায় (LXX)

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পরিণাম

যেমন আপনি দেখতে পারেন, গীতসংহিতা 2 এর মধ্যে ‘খ্রীষ্টের’/’অভিষিক্তের’ প্রসঙ্গ ভাগবদগীতার কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের অনুরূপ I তবে কিছু পার্থক্যের উদ্ভব হয় যখন আমরা অনেক আগের কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পরিণাম সম্পর্কে চিন্তা করি I

অর্জুন এবং পান্ডব যুদ্ধে জয়লাভ করলেন, এবং তাই যুধিষ্ঠিরকে ন্যায়সঙ্গত রাজা হিসাবে দখলকারী কৌরবদের হাত থেকে পান্ডবদের হাতে ক্ষমতার এবং শাসনের পরিবর্তন হ’ল I 18 দিনের যুদ্ধে সমস্ত পান্ডব ভাইগণ এবং কৃষ্ণ জীবিত রইলেন তবে মুষ্টিমেয় কয়েকজন জীবিত রইল বাকি প্রত্যেকে নিহত  হ’ল I তবে যুদ্ধের পরে 36 বছর ধরে শাসনের পরে যুধিষ্টির সিংহাসন ত্যাগ করেছিলেন এবং উপাধিটি অর্জুনের নাতি পরীক্ষিতকে দিয়েছিলেন I তিনি তারপরে দ্রৌপদী এবং তার ভাইদের সঙ্গে হিমালয়ে প্রস্থান করলেন I দ্রৌপদী এবং চার ভাই – ভীম, অর্জুন, নকুল এবং সহদেবের যাত্রার সময়ে মৃত্যু হ’ল I যুধিষ্ঠিরকে স্বয়ং স্বর্গে প্রবেশের অনুমোদন দেওয়া হ’ল I কৌরবদের মা গান্ধারী কৃষ্ণের উপর যুদ্ধ না থামাবার জন্য ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন এবং তাই তিনি তাকে অভিশাপ দিলেন এবং যুদ্ধের 36 বছর পরে তিনি নিহত হলেন যখন আন্ত:জাতির লড়াইয়ের কারণে দুর্ঘটনাক্রমে একটি তীর তাকে আঘাত করল I কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ এবং পরবর্তীকালে কৃষ্ণের হত্যাকান্ড বিশ্বকে কলিযুগে নিয়ে গেল I

সুতরাং কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের থেকে আমাদের কাছে কি লাভ এসেছে?

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের থেকে আমাদের কাছে ফল 

আমাদের জন্যে হাজার বছর পরে বাস করা আমরা আমাদের আরও বেশি প্রয়োজনের মধ্যে খুঁজে পাই I আমরা সংসারের মধ্যে বাস করি, অবিরতভাবে যন্ত্রণা, ব্যাধি, বৃদ্ধাবস্থা এবং মৃত্যুর ছায়ায় বসবাস করি I আমরা এমন সরকারের অধীনে বাস করি যারা সাধারণতঃ দুর্নীতিগ্রস্ত হয় এবং শাসকদের ধনী ও ব্যক্তিগত বন্ধুদের সাহায্য করে I আমরা বিভিন্ন দিক দিয়ে কলি যুগের প্রভাব সমূহকে অনুভব করি I 

আমরা এমন একটি সরকারের জন্য আকুল হয়ে আকাঙ্খা করি যা দুর্নীতি পোষণ করবে না এমন একটি সমাজের জন্য যা কলি যুগের অধীনে নয় এবং সংসারের অনন্তকালীন পাপ ও মৃত্যু থেকে ব্যক্তিগত মুক্তি পাওয়ার জন্য I 

গীতসংহিতার 2 এর আসন্ন ‘খ্রীষ্টের’ থেকে আমাদের জন্য ফল  

হিব্রু ভাববাদীরা ব্যাখ্যা করেন গীতসংহিতা 2 এর মধ্যে প্রবর্তিত ‘খ্রীষ্ট’ কিভাবে আমাদের এই চাহিদাগুলো পূরণ করবেন I এই চাহিদাগুলো পূরণের জন্য এক যুদ্ধের প্রয়োজন হবে, তবে কুরুক্ষেত্রের থেকে একটি ভিন্ন যুদ্ধ এবং এমনকি গীতসংহিতা 2 এর মধ্যে চিত্রিত যুদ্ধের থেকেও ভিন্ন I এটি এমন এক যুদ্ধ যাকে কেবলমাত্র ‘খ্রীষ্ট’ই শুরু করতে পারেন I এই ভাববাদীরা দেখায় যে ক্ষমতা এবং শক্তির দ্বারা শুরু করার পরিবর্তে, পাপ এবং মৃত্যু থেকে মুক্তি পাবার জন্য আমাদের প্রয়োজনে খ্রীষ্ট সেবা করার দ্বারা শুরু করেন I তারা দেখায় কিভাবে গীতসংহিতার দিকে পথে একদিন পৌঁছানো যাবে, অন্য এক দখলকারীকে পরাস্ত করার জন্য প্রথমে অন্য যুদ্ধের দীর্ঘ পথ অবলম্বন করা দরকার, সামরিক শক্তির দ্বারা নয় বরং তাদের জন্য প্রেম ও ত্যাগের দ্বারা যারা সংসারে বন্দী আছে I আমরা দায়ূদের রাজকীয় বৃক্ষের মৃত গুঁড়ির থেকে অঙ্কুর দিয়ে এই যাত্রা শুরু করি I

রাজের মতন: যীশু খ্রীষ্টের ‘খ্রীষ্টের’ মানে কি?

আমি মাঝে মাঝে লোকেদের জিজ্ঞাসা করি যীশুর শেষ নাম কি ছিল I তারা সাধারণতঃ উত্তর দেয়,

 “আমার মনে হয় তার শেষ নাম ছিল ‘খ্রীষ্ট’, তবে আমি নিশ্চিত নয়”I 

তখন আমি জিজ্ঞাসা করি,

“তাহলে যীশু যখন এক বালক ছিল তখন যোষেফ খ্রীষ্ট এবং মরিয়ম ছোট্ট যীশু খ্রীষ্টকে কি বাজারে নিয়ে গিয়েছিলেন?’ 

সেইভাবে রাখলে, তারা উপলব্ধি করে যে ‘খ্রীষ্ট’ যীশুর পারিবারিক নাম নয় I তাহলে ‘খ্রীষ্ট’ কি? কোথা থেকে এটি এসেছে? এর মানে কি? অনেকের কাছে অবাক লাগে, ‘খ্রীষ্ট’ এমন একটি উপাধি যার অর্থ ‘শাসক’ বা ‘শাসন করা’ I এটি ‘রাজ’ শিরোনামের বিপরীত নয়, যেমন ব্রিটিশ রাজের মধ্যে যে স্বাধীনতার পূর্বে ভারতবর্ষকে শাসন করেছিল I 

অনুবাদ বনাম অক্ষরীকরণ 

আমাদের প্রথমে অনুবাদের কিছু মূলসুত্রগুলোকে বুঝতে হবে I অনুবাদকরা মাঝে মাঝে অর্থের পরিবর্তে অনুরূপ ধ্বনির দ্বারা অনুবাদ করতে পচ্ছন্দ করে, বিশেষকরে নাম এবং শিরোনাম সমূহের I এটিকে অক্ষরীকরণ বলা হয় I উদাহরণস্বরূপ, “কুম্ভ মেলা” হিন্দি कुंभ मेला থেকে একটি ইংরেজি অক্ষরীকরণ I যদিও मेला মানে ‘মেলা’ বা ‘উৎসব’ এটিকে কুম্ভ ফেয়ারের পরিবর্তে অনুরূপ ধ্বনির দ্বারা ইংরেজিতে নিয়ে আসা হয়েছে I “রাজ” হিন্দি  “राज” থেকে একটি ইংরেজি অক্ষরীকরণ I যদিও राज  মানে   ‘শাসন করা’  বোঝায় এটিকে “ব্রিটিশ শাসনের’ পরিবর্তে “ব্রিটিশ রাজ” ধ্বনির দ্বারা ইংরেজিতে নিয়ে আসা হয়েছিল I বেদা [পুস্তকমের] (বাইবেল) সাথে, অনুবাদকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হত কোন নাম এবং শিরোনামগুলোকে (অর্থের দ্বারা) অনুবাদ এবং কোনগুলোকে (ধ্বনির দ্বারা) অক্ষরীকরণ করতে হবে I সেখানে কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই I 

সেপ্টুজিয়ান্ট 

বাইবেলকে প্রথমে 250 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে অনুবাদ করা হয়েছিল যখন হিব্রু বেদা (পুরনো নিয়ম) গ্রীকে অনুবাদিত হয়েছিল – সেই সময়ের আন্তর্জাতিক ভাষা I এই অনুবাদ সেপ্টুজিয়ান্ট (বা LXX) নামে পরিচিত এবং এটি খুব প্রভাবী  ছিল I যেহেতু নতুন নিয়মকে গ্রীকের মধ্যে লেখা হয়েছিল, এর পুরনো নিয়মের অনেক উদ্ধৃতি সমূহকে সেপ্টুজিয়ান্ট থেকে নেওয়া হয়েছিল I 

সেপ্টুজিয়ান্ট এর মধ্যে অনুবাদ এবং অক্ষরীকরণ 

নিচের চিত্রটি এই প্রক্রিয়াকে দেখায় এবং কিভাবে এটি আধুনিক-দিনের বাইবেলগুলোকে প্রভাবিত করে  

অনুবাদ প্রবাহ মূল ভাষা থেকে আধুনিক-দিনের বাইবেলে

মূল হিব্রু পুরনো নিয়মকে (1500 – 400 খ্রীষ্টাব্দে লেখা) চতুর্থাংশ #1 এর মধ্যে দেখানো হয়েছে I কারণ সেপ্টুজিয়ান্ট একটি 250 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ হিব্রু –>  গ্রীক অনুবাদ ছিল এটিকে একটি তীরের দ্বারা দেখান হয়েছে চতুর্থাংশ  #1 থেকে  #2 এর দিকে যাচ্ছে I নতুন নিয়ম গ্রীকে লেখা হয়েছিল (50 – 90 খ্রীষ্টাব্দ) তাই #2 এর মধ্যে উভয় পুরনো এবং নতুন নিয়ম রয়েছে I নিচের অর্ধেক  (#3) বাইবেলের একটি আধুনিক ভাষার অনুবাদ I পুরনো নিয়মটি (হিব্রু বেদা) মূল হিব্রু থেকে (1–>3) অনুবাদিত হয়েছে এবং নতুন নিয়ম গ্রীক থেকে (2–>3) অনুবাদিত হয়েছে I নাম এবং শিরোনাম সমূহের উপরে অনুবাদকদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে যেমনটি পূর্বে ব্যাখ্যা করা হয়েছে I এটিকে অক্ষরীকরণ এবং অনুবাদ লেবেলের সাথে নীল তীরের দ্বারা দেখানো হয়েছে, দেখায় যে অনুবাদকরা উভয় পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারেন I     

 ‘খ্রীষ্টের’ উৎপত্তি  

‘খ্রীষ্ট’ শব্দের উপরে ফোকাস করে এখন উপরোক্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন I  

বাইবেলের মধ্যে ‘খ্রীষ্ট’ কোথা থেকে এসেছে?

হিব্রু পুরনো নিয়মে উপাধিটি হ’ল  ‘מָשִׁיחַ’ (মাশিয়াক) যার অর্থ হ’ল অভিষিক্ত বা উৎসর্গীকৃত ব্যক্তি, যেমন একজন রাজা বা শাসক I সেই সময়ের হিব্রু রাজাদের তাদের রাজা হওয়ার পূর্বে অভিষিক্ত করা হত (আনুষ্ঠিনিকভাবে তৈল মর্দন করে) এইরূপে তারা অভিষিক্ত ব্যক্তি বা মাশিয়াক হয়েছিল I তারপরে তারা শাসক হত, কিন্তু তাদের শাসনকে ঈশ্বরের স্বর্গীয় শাসনের অধীনস্থ হতে হত, তাঁর ব্যবস্থা অনুসারে I সেই অর্থে পুরনো নিয়মে হিব্রু রাজারা রাজের মতন ছিল I রাজ দক্ষিন এশিয়ার ব্রিটিশ অঞ্চলের উপরে শাসন করত, তবে বৃটেনের সরকারের অধীনস্থ হয়ে, এর ব্যবস্থা অনুসারে I      

পুরনো নিয়ম একজন নির্দিষ্ট মাশিয়াকের আগমনের বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল (একটি নির্দিষ্ট আর্টিকেল ‘দি’ এর সাথে) যিনি একজন অনন্য রাজা হবেন I 250 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে যখন সেপ্টুজিয়ান্ট অনুবাদিত হ’ল, অনুবাদকরা গ্রীকের মধ্যে একটি অনুরূপ অর্থের শব্দের চয়ন করলেন I Χριστός (ক্রিস্তোস ধ্বনির মতন), ক্রিয়োর থেকে ভিত্তি করে, যার অর্থ ছিল তৈলের দ্বারা আনুষ্ঠানিকভাবে মর্দন করা I অতএব হিব্রু ‘মাশিযাক’ অর্থের দ্বারা গ্রীক সেপ্টুজিয়ান্ট এর মধ্যে Χριστός তে অনুবাদিত হয়েছিল (ধ্বনির দ্বারা অক্ষরীকরণ নয়) I নতুন নিয়মের রচয়িতারা যীশুর পরিচিতির জন্য ক্রিস্তোস শব্দটিকে ক্রমাগত ব্যবহার করতে লাগলেন যেমনটি এটিকে ‘মাশিয়াক’ রূপে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল I   

ইউরোপীয় ভাষাগুলোর জন্য অনুরূপ অর্থ সহ কোনো স্পষ্ট শব্দ ছিল না তাই নতুন নিয়মের গ্রীক ‘ক্রিস্তোস’ ‘খ্রীষ্টে’ অক্ষরীকরণ করা হয়েছিল I ‘খ্রীষ্ট’ শব্দটি পুরনো নিয়মের মূলগুলোর সাথে একটি অত্যন্ত নিদিষ্ট উপাধি, হিব্রুর থেকে গ্রীকে অনুবাদের দ্বারা এবং তারপরে গ্রীক থেকে আধুনিক ভাষাগুলোতে অক্ষরীকরণের দ্বারা I পুরনো নিয়মকে হিব্রু থেকে আধুনিক ভাষাগুলোতে সরাসরিভাবে অনুবাদ করা হয়েছে এবং অনুবাদকরা মূল হিব্রু ‘মাশিয়াক’ সম্বন্ধে বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন I কিছু বাইবেল মসীহর বৈচিত্রের সাথে  মাশিয়াকের অক্ষরীকরণ করে, অন্যরা অভিষিক্ত ব্যক্তি রূপে অর্থের দ্বরা অনুবাদ করে I খ্রীষ্টের জন্য একটি [হিন্দি] শব্দ (मसीह) আরবী থেকে অক্ষরীকরণ করা হয়েছে, যেটিকে পরিবর্তে, মূল হিব্রু থেকে অনুবাদিত করা হয়েছিল I অতএব এর উচ্চারণ মসীহ মূলের কাছাকাছি I  

হিব্রু শব্দ מָשִׁיחַ (মাশিয়াহ, মেশিয়াহ) কে “ক্রিস্তোস” রূপে গ্রিক সেপ্টুজিয়ান্ট এর মহ্য়ে অনুবাদিত করা হয়েছে I এটিকে পরিবর্তে ইংরেজিতে ‘খ্রীষ্ট’ রূপে অনুবাদিত করা হয়েছে এবং ‘ক্রাইস্ট’ এর মতন শুনতে লাগে I রীষ্টের বাংলা শব্দ হল ক্রিস্টো । এটি গ্রীক শব্দ “ক্রিস্টোস” থেকে অনূদিত এবং তাই krisṭō হিসাবেও উচ্চারণ করা হয়।

যেহেতু আমরা পুরনো নিয়মে ‘খ্রীষ্ট’ শব্দটিকে সাধারণতঃ দেখিনা, পুরনো নিয়মের সঙ্গে এর যোগাযোগ সর্বদা স্পষ্ট নয় I তবে অধ্যয়ন থেকে আমরা জানি যে ‘খ্রীষ্ট’=’মেশিয়াহ’=’অভিষিক্ত ব্যক্তি’ এবং সেটি একটি নিদিষ্ট উপাধি ছিল I    

প্রথম শতাব্দীতে খ্রীষ্ট প্রত্যাশিত ছিল 

এখন সুসমাচার থেকে আমাদের কিছু পর্যবেক্ষণ করা যাক I নিচে রাজা হেরোদের প্রতিক্রিয়া রয়েছে যখন মাগি যিহূদিদের রাজার খোঁজে এলো, খ্রীষ্টমাস কাহিনীর একটি অংশ I লক্ষ্য করুন খ্রীষ্টের পূর্বে ‘দি’ রয়েছে এমনকি যদিও এটি নির্দিষ্টভাবে যীশুর সমন্ধে উল্লেখ করছে না I 

রাজা হেরোদ একথা শুনে খুব বিচলিত হলেন এবং তাঁর সঙ্গে জেরুশালেমের সব লোক বিচলিত হল৷
তখন তিনি ইহুদীদের মধ্যে যাঁরা প্রধান যাজক ও ব্যবস্থার শিক্ষক ছিলেন, তাঁদের ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, মশীহ (খ্রীষ্ট) কোথায় জন্মগ্রহণ করবেন?

মথি 2:3-4

আপনি দেখুন ‘দি খ্রীষ্টের’ ধারণাকে রাজা হেরোদ এবং তার পরামর্শকারীদের মধ্যেকার বিষয় রূপে ভালভাবে বোঝা যায় – এবং এখানে যীশুকে নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে না I এটি দেখায় ‘খ্রীষ্ট’ পুরনো নিয়ম থেকে আসে, সাধারনভাবে প্রথম শতাব্দীর মধ্যে গ্রীক সেপ্টুজিয়ান্ট থেকে লোকেদের দ্বারা পড়া হয় I ‘খ্রীষ্ট’ ছিল (এবং আছে) একটি উপাধি, নাম নয়, একজন শাসক বা রাজাকে বোঝায় I এই জন্যই হেরোদ ‘বিচলিত হলেন’ কারণ আর একজন রাজার সম্ভাবনার ঝুঁকি তিনি অনুভব করলেন I আমরা ধারনাটিকে খারিজ করতে পারি যে ‘খ্রীষ্ট’ একটি খ্রীষ্টান আবিষ্কার ছিল I সেখানে কোনো খ্রীষ্টান থাকার পূর্বে উপাধিটি শতাধিক বছর ধরে ব্যবহারে ছিল I  

খ্রীষ্টের কর্তৃত্বের প্রহেলিকা 

যীশুর আদি অনুগামীরা বিশ্বস্ত হয়েছিল যে যীশু ছিলেন আসন্ন খ্রীষ্ট যার সম্বন্ধে হিব্রু বেদার মধ্যে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল, যখন অন্যরা এই বিশ্বাসের বিরোধিতা করেছিল I  

কেন? 

উত্তরটি প্রেম বা শক্তির উপরে ভিত্তিশীল শাসন সম্পর্কে একটি প্রহেলিকার  হৃদয়ে যায় I ব্রিটিশ মুকুটের অধীনে ভারতে শাসন করার রাজের কর্তৃত্ব ছিল I তবে এটি ভারতকে শাসন করার অধিকার পেয়েছিল কারণ রাজ প্রথমে সামরিক শক্তিতে এসেছিল এবং এর ক্ষমতার মাধ্যমে বাহ্যিক অধীনস্থ জোরপূর্বক চাপিয়ে দিয়েছিল I লোকেরা রাজকে ভালোবাসেনি এবং গান্ধীর মতন নেতাদের মাধ্যমে, অবশেষে রাজকে উচ্ছেদ করা হল I  

যীশু খ্রীষ্ট হিসাবে অধীনস্থ দাবি করতে আসেন নি, এমনকি যদিও তার কাছে কর্তৃত্ব ছিল I প্রেম বা ভক্তির উপরে ভিত্তিশীল একটি অনন্তকালীন রাজ্য স্থাপন করতে এসেছিলেন, এবং এটির প্রয়োজন ছিল যে একদিকে ক্ষমতা এবং কর্তৃত্বের মধ্যে কূটাভাস অন্যদিকে প্রেমের সাক্ষাত I হিব্রু ভাববাদীরা ‘খ্রীষ্টের’ আগমনের বিষয়ে আমাদেরকে বুঝতে সাহায্য করতে এই প্রহেলিকার অন্বেষণ করলেন I হিব্রু রাজা দায়ূদের থেকে 1000 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে আসা হিব্রু বেদার মধ্যে ‘খ্রীষ্টের’ প্রথম আবির্ভাব থেকে আমরা তাদের অন্তর্দৃষ্টিকে অনুসরণ করে আসছি I  

লক্ষী থেকে শিব পর্যন্ত: কিভাবে ভাববাদী মশির আশীর্বাদ এবং অভিশাপ আজকে প্রতিধ্বনি করে

যখন আমরা আশীর্বাদ এবং উত্তম ভাগ্যের সম্বন্ধে চিন্তা করি আমাদের মন ভাগ্য, সফলতা এবং ধনের দেবী লক্ষীর দিকে যায় I তিনি কঠোর পরিশ্রমকে আশীর্বাদ দেন যখন এটিকে লোভের মধ্যে না করা হয় I দুগ্ধ মহাসমুদ্রের  মন্থনের কাহিনীর মধ্যে, লক্ষ্মী ইন্দ্রের দ্বারা পবিত্র ফুল সমূহকে ছুঁড়ে ফেলার সময়ে অশ্রদ্ধার কারণে দেবতাদের ছেড়ে দুগ্ধ মহাসমুদ্রের মধ্যে প্রবেশ করলেন I যাইহোক, তার প্রত্যাবর্তনের জন্য এক সহস্র বছর ধরে সমুদ্র মন্থনের পরে, তিনি তার পুনর্জন্মের সাথে বিশ্বস্তকে আশীর্বাদ দিলেন I    

যখন আমরা বিনাশ, জনশূন্যতা এবং প্রলয়ের কথা ভাবি তখন আমাদের মন বৈভব, শিবের প্রচন্ড অবতার, বা এমনকি শিবের তৃতীয় চক্ষুর দিকে যায় I এটি প্রায়ই সর্বদা বন্ধ থাকে তবে তিনি মন্দকারীদের বিনাশ করতে এটি খোলেন I লক্ষ্মী এবং শিব উভয়ই শ্রদ্ধালুদের থেকে অনেক মনোযোগ পান, কারণ লোকেরা একজনের থেকে আশীর্বাদের আকাঙ্খা করে এবং অন্যজনের থেকে অভিশাপের ভয় বা বিনাশ I

আশীর্বাদ এবং অভিশাপ সমূহ … ইস্রায়েলীয়দের প্রতি … আমাদের প্রতি নির্দেশের জন্য

হিব্রু বেদার মধ্যে প্রকাশিত সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বর লক্ষ্মীর প্রতিদ্বন্দিতা করার জন্য এই জাতীয় আশীর্বাদ এবং ভৈরব বা শিবের ত্রিনেত্রর মতন ততটাই ভয়ানক অভিশাপ এবং বিনাশ উভয়েরই রচিয়তা ছিলেন I এটি তার মনোনীত লোকেদের কাছে নির্দেশিত হ’ল – ইস্রায়েলীয়দের কাছে – যারা তার শ্রদ্ধালু ছিল I ঈশ্বরের দ্বারা ইস্রায়েলীয়দের মিসরের দাসত্ব থেকে বার করে নিয়ে আসার পরে তাদেরকে দেওয়া হ’ল এবং তাদেরকে দশ আজ্ঞা সমূহ দিলেন – পাপ তাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়েছে কিনা তা জানার জন্য মানদণ্ড I এই আশীর্বাদ এবং অভিশাপ সমূহকে ইস্রায়েলীয়দের প্রতি নির্দেশিত করা হয়েছিল তবে তাদেরকে বহু পূর্বে ঘোষণা করা হয়েছিল যাতে অন্যান্য জাত সমূহ লক্ষ্য করবে এবং উপলব্ধি করবে যে তিনি আমাদেরকেও আশীর্বাদ দেবেন যে ক্ষমতার সাহায্যে তিনি ইস্রায়েলীয়দের উপরে আশীর্বাদ প্রদান করেছেন I আমাদের মধ্যে সবাই যারা সমৃদ্ধি এবং আশীর্বাদ চায় এবং বিনাশ ও অভিশাপ এড়াতে চায় তারা ইস্রায়েলীয়দের অভিজ্ঞতার থেকে শিখতে পারে I 

ভাববাদী মশি 3500 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে বাস করতেন এবং তিনি পাঁচটি বই লিখেছিলেন যা হিব্রু বেদাকে প্রস্তুত করে I তার শেষ বই, দ্বিতীয় বিবরণে, তার মারা যাওয়ার ঠিক পূর্বে লেখা চূড়ান্ত বাক্যগুলো রয়েছে I তার এই আশীর্বাদগুলো ইস্রায়েলের লোকেদের কাছে ছিল – যিহূদিদের কাছে, তবে এছাড়া তার অভিশাপগুলোও I মশি লিখলেন যে এই আশীর্বাদ এবং অভিশাপ সমূহ বিশ্ব ইতিহাসকে রূপ দেবে এবং লক্ষ্য করা উচিত, কেবলমাত্র যিহূদিদের দ্বারা নয়, বরং অন্য জাতিদের কাছেও I  এই আশীর্বাদ এবং অভিশাপ সমূহ ভারতের ইতিহাসকে প্রভাবিত করেছে I তাই এর উপরে প্রতিফলন করতে আমাদের জন্য এটিকে লেখা হয়েছিল I সম্পূর্ণ আশীর্বাদ এবং অভিশাপ সমূহ এখানে রয়েছে I সংক্ষিপ্তসারটি নিম্নরূপ:

ভাববাদী মশির আশীর্বাদ সমূহ

মশি আশীর্বাদ সমূহকে বর্ণনা করার দ্বারা আরম্ভ করলেন যে ইস্রায়েলীয়রা পাবে যদি তারা ব্যবস্থাকে (দশ আজ্ঞা সমূহ) মানে I ঈশ্বরের আশীর্বাদ এত মহান হবে যে অন্য সমস্ত জাতি সমূহ তাঁর আশীর্বাদগুলোকে চিনতে পারবে I এই আশীর্বাদগুলোর পরিণতি হবে:

10 তাহলে পৃথিবীর সমস্ত জাতি জানবে য়ে তোমরা প্রভুর নামে অভিহিত এবং তারা তোমাদের ভয় করবে|

দ্বিতীয় বিবরণ 28:10

… এবং অভিশাপ সমূহ

যাইহোক, ইস্রায়েলীয়রা যদি আজ্ঞা সমূহকে মানতে ব্যর্থ হয় তবে তারা অভিশাপ পাবে যা আশীর্বাদগুলোর সমকক্ষ এবং দর্পণ হবে I এই অভিশাপগুলোকে পরিবেষ্টিত জাতিদের দ্বারা দেখা যাবে যাতে করে:

37 প্রভু তোমাদের য়ে দেশগুলিতে পাঠাবেন, সেখানকার লোক তোমাদের দুর্দশা দেখে অবাক হবে| তারা তোমাদের দেখে হাসবে এবং তোমাদের সম্বন্ধে মন্দ কথা বলবে|

দ্বিতীয় বিবরণ 28:37

এবং অভিশাপগুলো ইতিহাসের মাধ্যমে প্রসারিত হবে I

46 এই শাপগুলি হবে লোকদের কাছে একটি চিহ্ন এবং তারা বুঝবে য়ে ঈশ্বর তোমাদের এবং তোমাদের উত্তরপুরুষদের বিচার করেছেন| তোমাদের ওপর য়ে ভয়ঙ্কর ঘনাগুলি ঘটবে তা দেখে লোকে আশ্চর্য় হয়ে যাবে|

দ্বিতীয় বিবরণ 28:46

তবে ঈশ্বর সতর্ক করলেন যে অভিশাপগুলোর সবচেয়ে খারাপ অংশ অন্য জাতিদের থেকে আসবে I

49 “তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য প্রভু বহু দূর থেকে এক জাতির আগমণ ঘটাবেন| তোমরা তাদের ভাষা বুঝবে না| ঈগল পাখী য়েমন আকাশ থেকে নেমে আসে তেমনি দ্রুত তারা আসবে| 
50 সেই সব লোক নিষ্ঠুর হবে| তারা বৃদ্ধদের বিষয়ে কোন চিন্তা করবে না এবং শিশুদের প্রতিও দযা করবে না| 
51 তারা তোমাদের পশু ও উত্পন্ন খাদ্য নিয়ে নেবে| তোমাদের ধ্বংস না করা পর্য়ন্ত তারা তোমাদের সর্বস্ব নিয়ে যাবে| তারা তোমাদের শস্য, দ্রাক্ষারস, তেল, গরু, মেষ ও ছাগলের কিছুই ছেড়ে যাবে না| তোমাদের ধ্বংস না করা পর্য়ন্ত তারা তোমাদের সর্বস্ব নিয়ে যাবে| 
52 “সেই জাতি তোমাদের নগরের চারিদিক ঘিরে তোমাদের আক্রমণ করবে| তোমরা কি মনে করছ নগরের চারিধারের শক্ত উঁচু প্রাচীর তোমাদের রক্ষা করবে? কিন্তু তারা ভেঙ্গে পড়বে| প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের, দেওয়া সেই দেশের সর্বত্র সমস্ত নগরগুলি শত্রুরা আক্রমণ করবে|

দ্বিতীয় বিবরণ 28:49-52

এটি খারাপ থেকে আরও খারাপের দিকে যাবে I 

63 “প্রভু তোমাদের মঙ্গল করে ও তোমাদের জাতির বৃদ্ধি সাধন করে য়েমন আনন্দ পেতেন, সেই একই ভাবে তিনি তোমাদের সর্বনাশ ও ধ্বংস দেখে আনন্দ পাবেন| তুমি য়ে দেশ অধিকার করতে যাচ্ছ, লোক তোমাদের সেই দেশ থেকে বের করে দেবে| 
64 আর প্রভু পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্য়ন্ত সমস্ত জাতির মধ্যে তোমাদের ছড়িয়ে দেবেন| সেখানে তোমরা কাঠ, পাথরের তৈরী এমন মূর্ত্তির পূজা করবে, যাদের পূজা তোমাদের পূর্বপুরুষরা কখনও করে নি| 
65 “এই সমস্ত জাতির মধ্যে তোমরা কোন শান্তি পাবে না এবং বিশ্রামের জায়গাও পাবে না| প্রভু তোমাদের মন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করবেন| তখন তোমাদের চোখ ক্লান্ত হয়ে পড়বে এবং তোমরা বিচলিত হয়ে পড়বে|

দ্বিতীয় বিবরণ 28:63-65

এই আশীর্বাদ এবং অভিশাপ সমূহ ঈশ্বর এবং ইস্রায়েলীয়দের মধ্যে বিধিবৎ চুক্তির দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল:

13 এই চুক্তির সাথে সাথেই প্রভু তোমাদের তাঁর নিজস্ব বিশেষ লোক করবেন এবং তিনি তোমাদের ঈশ্বর হবেন| তিনি তোমাদের যা বললেন তার প্রতিজ্ঞা তিনি তোমাদের পূর্বপুরুষ অব্রাহাম, ইসহাক ও যাকোবের কাছে করেছিলেন| 
14 প্রভু এই চুক্তি ও তাঁর প্রতিজ্ঞাসকল কেবল তোমাদের সাথেই করছেন না| 
15 এই চুক্তি তিনি আমরা যারা সকলে তাঁর সামনে আজ দাঁড়িয়ে আছি তাদের সঙ্গে এবং আমাদের উত্তরপুরুষরা যারা আজ এখানে নেই তাঁদের সাথেও করছেন|

দ্বিতীয় বিবরণ 29:13-15

এই নিয়ম সন্তানগণ, বা ভবিষ্যত প্রজন্ম সমূহের উপরে বাধ্য হবে I প্রকৃতপক্ষে এই নিয়মকে ভবিষ্যত প্রজন্মদের প্রতি নির্দেশিত করা হয়েছিল – ইস্রায়েলীয় এবং বিদেশী উভয়ের ক্ষেত্রে I

22 “ভবিষ্যতে তোমাদের উত্তরপুরুষরা ও দূর দেশের বিদেশীরা দেখবে কিভাবে এই দেশ ধ্বংস হয়েছে| প্রভু কিভাবে বিভিন্ন রোগ এনেছেন তাও তারা দেখবে| 
23 সমস্ত দেশ জ্বলন্ত গন্ধক ও লবনে ঢেকে যাওয়ায় আর ব্যবহারয়োগ্য থাকবে না| দেশে কিছুই বোনা হবে না, কিছুই বেড়ে উঠবে না, এমন কি জংলী গাছও না| প্রভু ক্রুদ্ধ হয়ে য়েভাবে সদোম, ঘমোরা, অদ্মা ও সবোযিম শহরগুলি ধ্বংস করেছিলেন সেই ভাবেই এই দেশ ধ্বংস হবে| 
24 “অন্যান্য সব জাতির লোকরা জিজ্ঞেস করবে, ‘প্রভু এই দেশের প্রতি কেন এমনটি করলেন? কেন তিনি এত ক্রুদ্ধ হলেন?’

দ্বিতীয় বিবরণ 29:22-24

উত্তর হবে:

25 উত্তর এই হবে, ‘প্রভু ক্রুদ্ধ কারণ ইস্রায়েলের লোকরা তাদের প্রভুর অর্থাত্‌ পূর্বপুরুষের ঈশ্বরের নিয়ম ত্যাগ করেছে| প্রভু তাদের মিশর দেশ থেকে বের করে আনার সময় য়ে চুক্তি করেছিলেন তা তারা আর পালন করে না| 
26 প্রভু য়ে সমস্ত দেবতার পূজা করতে নিষেধ করেছিলেন, যাদের পূজা তারা আগে কখনও করে নি, ইস্রায়েলের লোকরা সেই অন্যান্য দেবতার সেবা করেছে| 
27 সেই কারণেই প্রভু এই দেশের লোকদের প্রতি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হলেন| আর তাই তিনি পুস্তকে লেখা সমস্ত অভিশাপ তাদের উপর আনলেন| 
28 প্রভু তাদের প্রতি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ ও বিরক্ত হলেন, তাই তিনি তাদের দেশ থেকে বের করে দিয়ে অন্য এক দেশে রাখলেন, সেখানেই আজ তারা রয়েছে|’

দ্বিতীয় বিবরণ 29:25-28

আশীর্বাদ এবং অভিশাপগুলো কি ঘটেছিল?

আশীর্বাদগুলো আনন্দদায়ক ছিল, এবং অভিশাপগুলো ভয়ংকর ছিল, তবে সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ প্রশ্ন আমরা যা জিজ্ঞাসা করতে পারি তা হ’ল: ‘সেগুলো কি ঘটেছিল?’ হিব্রু বেদার অধিকাংশ ইস্রায়েলীয় ইতিহাসের নথিভুক্ত তাই আমরা তাদের অতীতকে জানি I এছাড়া আমাদের কাছে পুরনো নিয়মের বাইরে ঐতিহাসিক নথি সমূহ এবং অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক কীর্তিস্তম্ভ আছে I তারা সকলে ইস্রায়েলীয় বা যিহূদি ইতিহাসের এক সামঞ্জস্যপূর্ণ চিত্র অঙ্কন করে I একটি কালপঞ্জির মাধ্যমে এটিকে এখানে দেওয়া হ’ল I এটিকে পড়ুন এবং নিজের জন্য মূল্যায়ন করুন মশির অভিশাপগুলো সত্য হয়েছে কিনা I এটি ব্যাখ্যা করে কেন যিহূদি গোষ্ঠী সমূহ (অর্থাৎ মিজোরামের মনশি: সন্তান) 2700 বছর আগে থেকে শুরু করে ভারতে বাস করতে আগমন করেছিল I অশুরিয় এবং বাবিলোনিয়ান বিজয় সমূহের ফলে গণ নির্বাসনের পরে তারা ভারতবর্ষ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল – ঠিক যেভাবে মশি সাবধান করেছিলেন I

মশির আশীর্বাদ এবং অভিশাপ সমূহের সমাপ্তি 

মশির চূড়ান্ত বাক্য সমূহ অভিশাপের সঙ্গে শেষ হয় নি I এখানে যেভাবে মশি তার চূড়ান্ত ঘোষণা করলেন I 

“আমি তোমাদের আশীর্বাদ ও অভিশাপ সম্বন্ধে যা যা বললাম সেই সব যখন তোমাদের ওপর ঘটবে এবং প্রভু তোমাদের য়ে সব বিভিন্ন জাতির মধ্যে ছড়িয়ে দেবেন, সেখানে যদি এই সব বিষয়ে চিন্তা করে 
তুমি ও তোমার সন্তানরা প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের, কাছে ফিরে আসো অর্থাত্‌ যদি তোমরা তাঁকে তোমাদের সমস্ত হৃদয় এবং সমস্ত আত্মা দিয়ে অনুসরণ কর এবং তাঁর সব আজ্ঞাগুলি – যা কিছু আমি আজ দিয়েছি, তোমরা সেগুলির প্রতি সম্পূর্ণভাবে বাধ্য থাক, 
তবে প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের প্রতি করুণা করবেন| প্রভু আবার তোমাদের মুক্ত করবেন| তিনি তোমাদের য়ে সব জাতির মধ্যে পাঠিয়ে ছিলেন সেখান থেকে আবার ফিরিয়ে আনবেন| 
এমন কি তোমরা যদি পৃথিবীর দূরতম প্রান্তেও গিয়ে থাকো, প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, সেখান থেকে তোমাদের সংগ্রহ করবেন| 
তোমাদের পূর্বপুরুষদের য়ে দেশ ছিল, প্রভু সেই দেশে তোমাদের ফিরিয়ে আনবেন এবং সেই দেশ তোমাদের অধিকারে আসবে| প্রভু তোমাদের মঙ্গল করবেন এবং পূর্বপূরুষদের চাইতেও তোমাদের অধিক হবে| তোমাদের জাতির লোকসংখ্যা এমন বৃদ্ধি পাবে যা আগে কখনও হয় নি| 

দ্বিতীয় বিবরণ 30:1-5

সহস্রাধিক বছর ধরে নির্বাসনে থাকার পরে, 1948 সালে – আজকের দিনে অনেক জীবিতদের জীবনকালের মধ্যে – সংযুক্ত রাষ্ট্রের প্রস্তাবের থেকে ইস্রায়েলের আধুনিক রাষ্ট্রের পুনর্জন্ম হ’ল এবং যিহূদিরা বিশ্বের চতুর্দিকের রাষ্ট্র সমূহের  থেকে ইস্রায়েলে ফিরে আসতে শুরু করল – ঠিক যেমনভাবে মশি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন I ভারতবর্ষে আজকে, কোচিন, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং মিজোরামের সহস্র বছরের যিহূদি সম্প্রদায় সমূহের সংখ্যা তাদের পৈতৃক ভূমিতে ফিরে যাওয়ার সাথে সাথে দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে I কেবলমাত্র 5000 যিহূদি ভারতে রয়ে গেছে I মশির আশীর্বাদ সমূহ আমাদের চোখের সামনে পূর্ণ হচ্ছে, যেমন নিশ্চিতরূপে অভিশাপগুলো যেভাবে তাদের ইতিহাসকে রূপ দিয়েছিল I   

আমাদের জন্য এটির মধ্যে অনেক তাত্পর্য আছে I প্রথমত, আশীর্বাদ এবং অভিশাপ সমূহের কাছে ঈশ্বরের থেকে তাদের কতৃত্ব এবং ক্ষমতা ছিল I মশি কেবলমাত্র একজন আলোকিত বার্তাবাহক – ভাববাদী ছিলেন I ঘটনা হল যে এই অভিশাপ এবং আশীর্বাদগুলো হাজর হাজার বছর অবধি পৌঁছেছে, বিশ্বের সমস্ত জাতি সমূহ জুড়ে, এবং কোটি কোটি লোকেদের প্রভাবিত করেছে (ইস্রায়েলে যিহূদিদের প্রত্যাবর্তন অশান্তির সৃষ্টি করেছে – নিয়মিতভাবে ঘটনা ঘটিয়ে বিশ্বব্যাপী শিরোনাম তৈরী করছে) – যা স্বাক্ষ্য হয় যে এই ঈশ্বরের কাছে পরাক্রম এবং কর্তৃত্ব আছে যা বাইবেল (বেদা পুস্তকম) বলে তার আছে I সেই একই হিব্রু বেদে  তিনি এছাড়াও প্রতিশ্রুতি দিলেন ‘যে পৃথিবীর উপরে সমস্ত লোকেরা’ আশির্বাদিত হবে I ‘পৃথিবীর উপরে সমস্ত লোক’ আপনাকে এবং আমাকে অন্তর্ভুক্ত করে I পুনরায় আব্রাহামের পুত্রের বলিদানের মধ্যে, ঈশ্বর পুনরাবৃত্তি করলেন যে ‘সমস্ত জাতি সমূহ আশির্বাদিত হবে’ I ওই বলিদানের আকর্ষণীয় অবস্থান এবং বিবরণ কিভাবে এই আশীর্বাদ পাওয়া যায় তা জানতে আমাদের সাহায্য করে I এই আশীর্বাদগুলোকে এখন মিজোরাম, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং কেরালা থেকে প্রত্যাবর্তনকারী যিহূদিদের উপরে ঢেলে দেওয়া হচ্ছে যা একটি চিহ্ন যে ঈশ্বর ভারতের সমস্ত রাজ্যগুলোকে এবং বিশ্বের অন্য জাতি সমূহের লোকেদের সমানভাবে আশীর্বাদ দিতে চান এবং পারেন যেমন তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ছিলেন I আমাদের অভিশাপের মধ্যে আমাদেরকেও যিহূদিদের মতন আশীর্বাদ প্রদান করা হয়েছে I আশীর্বাদের উপহারকে গ্রহণ কেন করি না?

ওম কিপ্পুর – মূল দূর্গা পূজা

দূর্গা পূজা (বা দুর্গোৎসব) 6 থেকে 7 দিন ধরে আশ্বিন (আশ্বিন) মাসে  দক্ষিন এশিয়ার অধিকাংশ অঞ্চল জুড়ে উদযাপন করা হয় I অসুর মহিষাসুরের বিরুদ্ধে তার প্রাচীন যুদ্ধে দেবী দুর্গার বিজয়কে স্মরণ করতে এটি উদযাপন করা হয় I অনেক শ্রদ্ধালু উপলব্ধি করে না যে এটি অধিকতর ওম কিপ্পুর (বা প্রায়শ্চিত্তের দিন) নামক প্রাচীন উৎসবের সাথে মেলে, যেটি 3500 বছর পূর্বে আরম্ভ হয় এবং হিব্রু বছরের মধ্যে সপ্তম সৌর মাসের দশম দিনে উদযাপন করা হয় I এই উৎসব সমূহের উভয়ই প্রাচীন, উভয়ই একই দিনে পড়ে (তাদের পারস্পরিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী I হিন্দু এবং হিব্রু ক্যালেন্ডার সমূহের কাছে বিভিন্ন বছরের মধ্য তাদের অতিরিক্ত লিপ–মাস থাকে, যাতে তারা সর্বদা পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডারের সঙ্গে মেলে না তবে তারা উভয়ই সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যে সর্বদা ঘটে) উভয়ই ত্যাগ সমূহকে জড়িত করে, এবং উভয়ই মহান বিজয় সমূহকে স্মরণ করে I কিছু পার্থক্যগুলো সমানভাবে উল্লেখযোগ্য I

প্রায়শ্চিত্তের দিনের প্রবর্তন

মশি এবং তার ভাই হারোণ ইস্রায়েলীয়দের নেতৃত্ব দিল এবং যীশুর প্রায় 1500 বছর পূর্বে ব্যবস্থা পেলেন 

আমরা ভাববাদী মশিকে অনুসরণ করলাম যিনি ইস্রায়েলীয়দের (হিব্রু বা যিহূদিগণ) দাসত্ব থেকে বার করতে নেতৃত্ব দিলেন এবং কলি যুগে ইস্রায়েলীয়দের গাইড করতে দশ আজ্ঞা সমূহ পেলেন I পাপের দ্বারা প্রবৃত্ত হওয়া একজন ব্যক্তির পক্ষে ওই দশ আজ্ঞা সমূহ অত্যন্ত কঠোর, অসম্ভব I এই আজ্ঞা সমূহকে একটি বিশেষ বাক্সের মধ্যে রাখা হয়েছিল, যাকে নিয়মের সিন্দুক বলা হয় I নিয়মের সিন্দুক এক বিশেষ মন্দিরের মধ্যে ছিল যাকে সর্বোচ্চ পবিত্র স্থান বলা হয় I  

হারোণ, মশির ভাই, এবং তার বংশধর সমূহ যাজক সমূহ ছিলেন যারা প্রায়শ্চিত্ত করতে বা লোকেদের পাপ সমূহকে আচ্ছাদন করতে এই মন্দিরের মধ্যে বলি উৎসর্গ করেছিলেন I বিশেষ বলি চড়ানো হয়েছিল ওম কিপ্পুরের উপরে – প্রায়শ্চিত্তের দিনে I এগুলো আজকের দিনে আমাদের জন্য মূল্যবান শিক্ষা, এবং  প্রায়শ্চিত্তের দিনকে (ওম কিপ্পুর) দূর্গা পূজার অনুষ্ঠান সমূহের সাথে তুলনা করে আমরা অনেক কিছু জানতে পারি I  

প্রায়শ্চিত্তের দিন এবং বলির পাঁঠা 

হিব্রু বেদা, অর্থাৎ বাইবেল আজকে, মশির সময় থেকে প্রায়শ্চিত্তের দিনের বলিদান এবং রীতিগুলো সম্বন্ধে মূল্যবান নির্দেশ সমূহ দিয়েছে I আমরা দেখি কিভাবে এই নির্দেশগুলো আরম্ভ হয়:

১ হারোণের দুই পুত্র প্রভুর কাছে উপস্থিত হয়ে মারা ইস্রায়েলেবার পর প্রভু মোশিকে বললেন,
২ “তোমার ভাই হারোণের সঙ্গে কথা বলো, তাকে বলো যে সে তার ইচ্ছা মত যে কোন সমযে পর্দার পিছনে পবিত্রতম জায়গায় যেতে পারে না| চুক্তির পবিত্র সিন্দুকটি ঐ পর্দার পিছনের ঘরে আছে| ঐ পবিত্র সিন্দুকটির মাথায় আছে বিশেষ ধরণের আচ্ছাদন| আমি ঐ বিশেষ আচ্ছাদনের ওপর মেঘের মধ্যে আবির্ভূত হই| যদি হারোণ ঐ ঘরে ঢোকে সে মারা যেতে পারে|

লেবীয় 16:1-2 

মহা যাজক হারোণের দুই পুত্র মারা গেল যখন তারা অসম্মানজনকভাবে সর্বোচ্চ  পবিত্র স্থান মন্দিরে প্রবেশ করল যেখানে সদাপ্রভুর উপস্থিতি ছিল I সেই পবিত্র উপস্থিতিতে দশ আজ্ঞা সমূহকে পালন করার ব্যর্থতা তাদের মৃত্যুর ফলস্বরূপ হ’ল I   

তাই সতর্কমূলক নির্দেশগুলো দেওয়া হল, পুরো বছরের মধ্যে কেবলমাত্র একটি দিন সহ যখন মহা যাজক সর্বাধিক পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতে পারে – প্রায়শ্চিত্তের দিনে I যদি তিনি অন্য কোনো দিন পবেশ করতেন, তবে তিনি মারা যেতেন I তবে এমনকি এই এক দিনে, নিয়মের সিন্দুকের উপস্থিতিতে প্রবেশ করতে পারার পূর্বে, তাকে করতে হত:

৩ “পাপের প্রাযশ্চিত্তের দিন হারোণ অবশ্যই পাপমোচনের নৈবেদ্যর জন্য একটি ষাঁড় এবং হোমবলির জন্য একটি পুরুষ মেষ উত্সর্গ করবে| পবিত্রতম জায়গায় প্রবেশ করার আগেই হারোণ এটা করবে|
৪ হারোণ অবশ্যই তার দেহ জলে ধৌত করবে| তারপর সে এই সমস্ত পোশাক পরবে; হারোণকে অতি অবশ্যই পবিত্র লিনেন জামা পরতে হবে| লিনেনের অন্তর্বাসসমূহ তার দেহে থাকবে| সে তার চারপাশে লিনেনের বেল্ট ব্যবহার করবে এবং লিনেনের পাগড়ী পরবে| ঐগুলি হল পবিত্র পোশাক|

লেবীয় 16:3-4 

দূর্গা পূজার সপ্তমীর দিনে, দুর্গাকে প্রাণ প্রতিষ্ঠার দ্বারা মূর্তির মধ্যে আহ্বান করা  হয় এবং মূর্তিকে স্নান করিয়ে বস্ত্র দ্বারা সজ্জিত করা হয় I এছাড়া ওম কিপ্পুরও স্নান প্রক্রিয়াকে জড়িত করেছিল তবে ইনি মহা যাজক ছিলেন যাকে স্নান করানো হত এবং সর্বোচ্চ পবিত্র স্থানে, দেব-দেবীর কাছে নয়, প্রবেশ করাতে প্রস্তুত করা হত I সদাপ্রভু ঈশ্বরকে ডাকা – সারা বছর ধরে সর্বোচ্চ পবিত্র স্থানে তার উপস্থিতি অপ্রয়োজনীয় ছিল I পরিবর্তে এই উপস্থিতির সম্মুখীন হতে প্রস্তুত হওয়ার প্রয়োজন ছিল I যাজককে স্নান এবং বস্ত্র দ্বারা সজ্জিত করানোর পরে পশুদেরকে বলিদানের জন্য নিয়ে আসতে হত

৫ “ইস্রায়েলের লোকদের কাছ থেকে হারোণ দুটি পুরুষ ছাগল পাপমোচনের নৈবেদ্যর জন্য এবং একটি পুরুষ মেষ হোমবলির জন্য নেবে|
৬ তারপর হারোণ ষাঁড়টিকে পাপ মোচনের নৈবেদ্য হিসেবে উপহার দেবে| পাপ মোচনের নৈবেদ্যটি তার নিজের জন্য| নিজেকে এবং তার পরিবারকে পবিত্র করার জন্য হারোণ অবশ্যই এটা করবে|  I 

লেবীয় 16:5-6 

হারোণের নিজের পাপের জন্য আচ্ছাদন বা প্রায়শ্চিত্ত করতে, একটি ষাঁড়কে বলি দেওয়া হত I দূর্গা পূজার সময়ে মাঝে মাঝে ষাঁড় বা ছাগলের বলিদান করা হয় I যাজকের নিজের পাপকে আচ্ছাদন করতে ওম কিপ্পুরের জন্য ষাঁড়ের বলিদান একটি বিকল্প ছিল না I ষাঁড়ের বলিদানের সাহায্যে যদি তিনি তার পাপের আচ্ছাদন না করতেন তবে যাজক মারা যেতেন I   

তার ঠিক অব্যবহিত পরে, যাজক দুটি ছাগলের সম্বন্ধে উল্লেখযোগ্য আচরণবিধি  অনুষ্ঠিত করতেন I 

৭ “তারপর হারোণ ছাগল দুটি নেবে এবং তা সমাগম তাঁবুর ঢোকার দরজার মুখে প্রভুর সামনে আনবে।
৮ হারোণ ছাগল দুটির জন্য ঘুঁটি চাললে একটা হবে প্রভুর জন্য, অপরটি হবে অজাজেলের জন্য।
৯ “তারপর ঘুঁটি চেলে যে ছাগলটি প্রভুর জন্য নির্বাচিত হয় হারোণ অবশ্যই সেটিকে পাপ মোচনের নৈবেদ্য হিসাবে উত্সর্গ করবে।

লেবীয় 16:7-9 

তার নিজের পাপের জন্য একবার ষাঁড়ের বলিদান হয়ে গেলে, যাজক ছাগল দুটিকে নিয়ে গুলিবাঁট করতেন I একটি ছাগলকে বলির পাঁঠা রূপে সঙ্গায়িত করা হত I অন্য ছাগলটিকে পাপবলি রূপে উৎসর্গ করা হত I কেন?  

১৫ “তারপর হারোণ লোকদের জন্য পাপ মোচনের নৈবেদ্যর ছাগলটিকে হত্যা করে সেই রক্ত পর্দার আড়ালের ঘরটিতে আনবে। ষাঁড়ের রক্ত নিয়ে ইস্রায়েলে করেছিল, ছাগলটির রক্ত নিয়ে হারোণ ঠিক তাই করবে। হারোণ অবশ্যই ছাগলের রক্ত বিশেষ আচ্ছাদনের ওপর এবং আচ্ছাদনের সামনে ছিটিয়ে দেবে।
১৬ এইভাবে সে ঐ পবিত্রতম জায়গাটিকে ইস্রায়েলের লোকদের তাদের অশুচিতা, বিরুদ্ধাচরণ এবং তাদের কৃত সমস্ত পাপ থেকে শুচি করবে। হারোণকে সমাগম তাঁবুর জন্য এই সমস্ত কিছু করতে হবে, কারণ এটা অশুচি লোকদের মাঝখানে আছে।

লেবীয় 16:15-16 

বলির পাঁঠাটির ক্ষেত্রে কি ঘটল?

২০ “পবিত্রতম স্থান, সমাগম তাঁবু এবং বেদীকে পবিত্র করার পর হারোণ জীবন্ত ছাগলটি প্রভুর কাছে আনবে।”
২১ হারোণ তার হাত দুটি জীবন্ত ছাগলের মাথায় রাখবে এবং তার ওপর ইস্রায়েলের লোকদের পাপ ও অপরাধগুলি স্বীকার করবে। এইভাবে হারোণ লোকদের পাপসমূহকে ছাগলের মাথায় চাপাবে। তারপর সে ছাগলটাকে মরুভূমিতে পাঠাবে। একজন মানুষ নিযুক্ত করা হবে এবং সে ছাগলটিকে নিয়ে ইস্রায়েলেওযার জন্য তৈরী থাকবে।
২২ সুতরাং ছাগলটা নিজের ওপর সমস্ত মানুষের পাপ বয়ে নিয়ে খোলা মরুভূমিতে চলে ইস্রায়েলেবে। যে মানুষটি ছাগলটিকে নিয়ে ইস্রায়েলেবে সে তাকে মরুভূমিতে ছেড়ে দিয়ে আসবে।

লেবীয় 16:20-22 

ষাঁড়ের বলিদান হারোণের নিজের পাপের জন্য ছিল I প্রথম ছাগলের বলিদান ইস্রায়েলীয় লোকেদের পাপের জন্য ছিল I হারোণ তারপর জীবিত বলির পাঁঠাটির মস্তকের উপরে হস্তার্পণ করতেন এবং – প্রতীকাত্মক রূপে – বলির পাঁঠার উপরে লোকেদের পাপ সমূহকে প্রত্যার্পণ করতেন I তারপরে ছাগলটিকে প্রান্তরে ছেড়ে দেওয়া হত একটি চিহ্ন রূপে যেন লোকেদের পাপ সমূহ এখন লোকেদের থেকে দূরে অপসারিত হয়েছে I এই বলিদান সমূহের সাথে তাদের পাপ সমূহের প্রায়শ্চিত্ত হত I এটি প্রত্যেক বছর প্রায়শ্চিত্তের দিনে করা হত কেবলমাত্র সেই দিনে I 

প্রায়শ্চিত্তের দিন এবং দূর্গা পূজা 

ঈশ্বর কেন প্রতি বছর এই দিনে উৎসব উদযাপন করতে আজ্ঞা দিয়েছিলেন? এটি কি বোঝাতে চেয়েছিল? দূর্গা পূজা সেই সময়কে পেছনে ফিরে দেখে যখন দূর্গা মহিষ দানব মহিষাসুরকে পরাস্ত করেছিলেন I এটি অতীতের একটি ঘটনাকে স্মরণ করে I এছাড়া প্রায়শ্চিত্তের দিনটিও বিজয়কে স্মরণ করত তবে এটি ভবিষ্যদ্বাণীপূর্ণ ছিল যার মধ্যে এটি মন্দের উপরে একটি ভবিষ্যত বিজয়কে দেখেছিল I যদিও প্রকৃত পশুদের বলি দেওয়া হত, তবুও তারা প্রতীকাত্মক  ছিল I বেদা পুস্তকম (বাইবেল) সেটিকে ব্যাখ্যা করে    

৪ কারণ বৃষের কি ছাগের রক্ত পাপ দূর করতে পারে না।

ইব্রীয় 10:4 

প্রায়শ্চিত্তের দিনে বলিদানগুলো যেহেতু যাজক এবং শ্রদ্ধালুদের পাপ সমূহকে প্রকৃতপক্ষে হরণ করতে পারত না, তবে কেন প্রতি বছর তাদেরকে উৎসর্গ  করা হত? বেদা পুস্তকম (বাইবেল) ব্যাখ্যা করে 

১ ভবিষ্যতে য়ে সকল উত্‌কৃষ্ট বিষয় আসবে, বিধি-ব্যবস্থা হচ্ছে তারই অস্পষ্ট ছায়া মাত্র। বিধি-ব্যবস্থা ঐসব বিষয়ের বাস্তবরূপ নয়। তাই যাঁরা ঈশ্বরের উপাসনা করতে আসে, বছর বছর তারা একই রকম বলিদান বারবার করে, কিন্তু বিধি-ব্যবস্থা সেই লোকদের সিদ্ধি দিতে পারে না।
২ বিধি-ব্যবস্থা যদি পারত, তবে ঐ বলিদান কি শেষ হত না? কারণ যাঁরা উপাসনা করে তারা যদি একবার শুচি হয় তবে তাদের পাপের জন্য নিজেকে আর দোষী ভাববার প্রযোজন নেই। কিন্তু বিধি-ব্যবস্থা তা করতে সক্ষম নয়।
৩ ঐসব লোকের বলিদান বছর বছর তাদের পাপের ক্ষমা স্মরণ করিয়ে দেয়,

ইব্রীয় 10:1-3 

বলিদান সমূহ যদি পাপগুলোকে ধুয়ে ফেলতে পারত, তবে সেগুলোর পুনরাবৃত্তির প্রয়োজন হত না I কিন্তু তাদেরকে বছরের পর বছর পুনরাবৃত্তি করা হত, যা দেখায় যে সেগুলো কার্যকর ছিল না I   

তবে যখন যীশু খ্রীষ্ট (যেশু সৎসংগ) স্বয়ংকে এক বলিদান রূপে উৎসর্গ করলেন তখন এটির সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন ঘটল I  

৫ সেইজন্যই খ্রীষ্ট এ জগতে আসার সময় বলেছিলেন:‘তুমি বলিদান ও নৈবেদ্য চাও নি, কিন্তু আমার জন্য এক দেহ প্রস্তুত করেছ।
৬ তুমি হোমে ও পাপার্থক বলিদান উত্‌সর্গে প্রীত নও।
৭ এরপর তিনি বললেন, ‘এই আমি! শাস্ত্রে আমার বিষয়ে য়েমন লেখা আছে, হে ঈশ্বর দেখ, আমি তোমার ইচ্ছা পূর্ণ করতেই এসেছি।’গীতসংহিতা ৪০:৬-৮

ইব্রীয় 10:5-7 

তিনি নিজেকে বলি রূপে উৎসর্গ করতে এসেছিলেন I এবং যখন তিনি করলেন  

… যীশু খ্রীষ্টের দেহ একবার সকলের জন্য উৎসর্গ করণের দ্বারা আমরা পবিত্রীকৃত হয়েছি I 

১০ ঈশ্বরের ইচ্ছানুসারেই তিনি এই কাজ সমাপ্ত করেছেন। এইজন্যই খ্রীষ্ট তাঁর দেহ একবারেই চিরকালের জন্য উত্‌সর্গ করেছেন যাতে আমরা চিরকালের জন্য পবিত্র হই।

ইব্রীয় 10:10 

দুটি ছাগলের বলিদান প্রতীকাত্মকরূপে ভবিষ্যতের বলিদান এবং যীশুর বিজয়ের দিকে সংকেত দিচ্ছিল I তিনি বলিসংক্রান্ত ছাগল ছিলেন যেহেতু তাকে বলি দেওয়া হয়েছিল I এছাড়াও তিনি বলির পাঁঠা ছিলেন, যেহেতু তিনি বিশ্বব্যাপী সম্প্রদায়ের সমস্ত পাপ সমূহকে গ্রহণ করলেন এবং সেগুলোকে আমাদের থেকে দূরে অপসারণ করলেন, যাতে আমরা পরিস্কৃত হতে পারি I  

প্রায়শ্চিত্তের দিন কি দূর্গা পূজা ঘটিয়েছিল?

ইস্রায়েলের ইতিহাসের মধ্যে আমরা দেখেছি প্রায় 700 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে কিভাবে ইস্রায়েলের থেকে নির্বাসন ভারতে পৌঁছতে আরম্ভ করল, ভারতের শিক্ষা এবং ধর্মে অনেক অবদান করল I এই ইস্রায়েলীয়রা প্রত্যেক বছর সপ্তম মাসের দশম দিনে প্রায়শ্চিত্তের দিন উদযাপন করে থাকত I সম্ভবতঃ, ঠিক যেমন তারা ভারতের বিশেষ ভাষা সমূহে অবদান করল, ঠিক তেমনি তারা তাদের প্রায়শ্চিত্তের দিনকে অবদান করল যা দূর্গা পূজায় পরিণত হল, মন্দের উপরে এক মহান বিজয়ের উপরে স্মরণ I এটি দূর্গা পূজার আমাদের ঐতিহাসিক উপলব্ধির সাথে খাপ খায়, যা 600 খ্রীষ্টপূর্বাব্দের আশেপাশে উদযাপিত হতে আরম্ভ করল I     

কবে প্রায়শ্চিত্তের দিনের বলিদান সমূহ শেষ হ’ল  

যীশুর (যেশু সৎসংগ) বলিদান আমাদের স্বপক্ষে কার্যকর এবং পর্যাপ্ত ছিল I ক্রুশের (33 খ্রীষ্টাব্দ) উপরে যীশুর বলিদানের পরে শীঘ্রই রোমীয়রা 70 খ্রীষ্টাব্দে সর্বোচ্চ পবিত্র স্থানের সাথে মন্দিরকে ধ্বংস করল I তখন থেকে যিহূদিরা আর কখনও প্রায়শ্চিত্তের দিনে কোনো বলি উৎসর্গ করল না I আজ, যিহূদিরা উপবাসের একটি বিষন্ন দিনকে পালন করার দ্বারা এই উৎসবটি উদযাপন করে I ঠিক যেমন বাইবেল ব্যাখ্যা করে, একবার যখন কার্যকর বলিদান উৎসর্গ করা হ’ল তখন বাৎসরিক বলিদান চালিয়ে যাওয়ার আর কোনো প্রয়োজন ছিল না I তাই ঈশ্বর এটিকে বন্ধ করলেন I  

দূর্গা পূজার মধ্যে প্রতিমূর্তি এবং প্রায়শ্চিত্তের দিন 

দূর্গা পূজা দুর্গার একটি প্রতিমূর্তির আহ্বানে জড়িত থাকে যাতে মূর্তির মধ্যে দেবী বাস করে I প্রায়শ্চিত্তের দিন আসন্ন বলিদানের একটি ভবিষ্যদ্বাণী ছিল এবং কোনো প্রতিমূর্তিকে আহ্বান করে নি I সর্বোচ্চ পবিত্র স্থানের মধ্যে ঈশ্বর অদৃশ্য ছিলেন এবং তাই কোনো প্রতিমূর্তি ছিল না I  

তবে সফল বলিদানের সময়ে, বহু বছর ধরে প্রায়শ্চিত্তের অনেক দিন আগেই  একজন যেদিকে ইঙ্গিত করেছিল, সেখানে একট প্রতিমূর্তিকে আহ্বান করা   হয়েছিল I যেমন বেদা পুস্তকম (বাইবেল) ব্যাখ্যা করে   

১৫ কেউই ঈশ্বরকে দেখতে পায় না; কিন্তু যীশুই অদৃশ্য ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি এবং সমস্ত সৃষ্টির প্রথমজাত।

কলসীয় 1:15 

সফল বলিদানের সময়ে, অদৃশ্য ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিকে আহ্বান করা হয়েছিল এবং মানব যীশু হবে বলে দেখানো হয়েছিল I  

মূল্য গণনা করা 

আমরা বেদা পুস্তকমের (বাইবেল) মধ্য দিয়ে যাচ্ছি I আমরা দেখেছি ঈশ্বর কিভাবে তার পরিকল্পনাকে প্রকাশ করতে বিভিন্ন চিহ্ন সমূহ দিয়েছেন I প্রারম্ভে তিনি আসন্ন ‘সে’ সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন I এটি ভাববাদী আব্রাহামের বলিদান, নিস্তারপর্বের বলিদানের পরে এলো, এবং এছাড়া প্রায়শ্চিত্তের দিনের পরেও I ইস্রায়েলীয়দের উপরে মশির আশীর্বাদ এবং অভিশাপ সমূহ বাকি রইল I এটি তাদের ইতিহাসকে সঞ্চালন করত, পৃথিবী ব্যাপী ইস্রায়েলীয়দের বিচ্ছিন্ন করে, এমনকি ভারতের মধ্যেও, যেমন এখানে ব্যাখ্যা করা হয়েছে

দশ আজ্ঞা: কলি যুগের করোনা জীবানুর পরীক্ষার মতন

সাধারনভাবে এটিকে স্বীকার করে নেওয়া হয় যে আমরা কলি যুগে অথবা কলির যুগে বাস করছি I চারটি যুগের মধ্যে এটি শেষ যুগ, যা সত্য, ত্রেতা, এবং দ্বাপর যুগের সাথে শুরু হয় I এই চারটি যুগের মধ্যে যেটি সাধারণ সেটি হল সত্য যুগের (সত্যযুগ) পর থেকে এক অবিচল নৈতিক এবং সামাজিক অবক্ষয়, আমাদের বর্তমান  কলি যুগ পর্যন্ত নেমে এসেছে I   

মহাভারতের মধ্যে মার্কন্ড কলি যুগের মানবীয় আচরণ সম্পর্কে এইভাবে বর্ণনা  করেন:

ক্রোধ, কোপ এবং অজ্ঞানতা বৃদ্ধি পাবে

ধর্ম, সত্যবাদিতা, স্বচ্ছতা, সহিষ্ণুতা, দয়া, শারীরিক শক্তি এবং স্মৃতি শক্তি প্রতি দিন যাওয়ার সাথে সাথে হ্রাস পাবে I .

লোকেরা কোনো রকম ন্যায্যতা ছাড়াই হত্যার চিন্তা করবে এবং তার মধ্যে কোনো অন্যায় দেখবে না I 

কামপ্রবৃত্তিকে সামাজিক গ্রহনযোগ্য বলে দেখা হবে এবং যৌন সম্ভোগ জীবনের কেন্দ্রীয় প্রয়োজনীয়তা রূপে লক্ষিত হবে I  

পাপ ব্যাখ্যামূলকভাবে বৃদ্ধি পাবে, যখন সদগুণ ম্লান হবে এবং ক্ষান্ত হতে থাকবে I

লোকেরা উত্তেজক পানীয় এবং মাদক দ্রব্যের প্রতি আসক্ত হবে I

গুরুদের আর শ্রদ্ধা করা হবে না এবং তাদের ছাত্ররা তাদের আহত করতে প্রচেষ্টা করবে I তাদের শিক্ষাকে অপমান করা হবে, এবং কাম মনের উপরে নিয়ন্ত্রণকে সমস্ত মানবজাতি থেকে ছিনিয়ে নেবে I

সমুদয় মানবজাতি দেবতাকে স্বয়ং রূপে বা দেবতাদের প্রদত্ত বরদানকে নিজেদের দান বলে ঘোষণা করবে এবং শিক্ষাদানের পরিবর্তে এটিকে ব্যবসা রূপে প্রস্তুত করবে I 

লোকেরা আর বিবাহিত হবে না এবং কেবল যৌন সুখের জন্য একে অপরের সঙ্গে বসবাস করবে I 

মশি এবং দশ আজ্ঞা সমূহ

হিব্রু বেদ আমাদের বর্তমান যুগকে অনেকটা একইভাবে বর্ণনা করে I আমাদের পাপের প্রতি প্রবনতার কারণে, ঈশ্বর মশিকে নিস্তারপর্বের সাথে তাদের মিসর থেকে পলায়ন করার কিছুদিন পরে দশটি আজ্ঞা দিলেন I ইস্রায়েলীয়দের মিসর থেকে বার করার নেতৃত্ব দেওয়া মশির কেবলমাত্র লক্ষ্য ছিল না বরং এক নতুন জীবন যাত্রার প্রতি তাদেরকে চালিত করাও লক্ষ্য ছিল I মিসর থেকে ইস্রায়েলীয়দের উদ্ধারকারী নিস্তারপর্বের 50 দিন পরে মশি তাদের সীনয় (হোরেব পর্বতও) পর্বতে নিয়ে গেলেন যেখানে তারা ঈশ্বরের থেকে ব্যবস্থা পেলেন I কলি যুগের সমস্যা সমূহকে উদঘাটন করতে কলি যুগে এই ব্যবস্থা পাওয়া গেল I 

মশি কি কি আজ্ঞা সকল পেলেন? যদিও সম্পূর্ণ ব্যবস্থা বেশ দীর্ঘ, তবুও মশি প্রথমে পাথরের ফলকে ঈশ্বরের দ্বারা লিখিত এক গুচ্ছ নৈতিক আজ্ঞা সমূহ পেলেন, যা দশ আজ্ঞা সমূহ (বা দশ আদেশ) বলে পরিচিত I এই দশটি আজ্ঞা ব্যবস্থার সংক্ষিপ্তসারকে রচনা করল – ক্ষুদ্রতর বিবরণের পূর্বে নৈতিক ধর্ম – এবং সেগুলো এখন কলি যুগের সাধারণ মন্দতাগুলোর বিষয়ে অনুতাপ করতে আমাদেরকে রাজি করতে ঈশ্বরের সক্রিয় শক্তি হয় I  

দশ আজ্ঞা সমূহ

এখানে পাথরের উপরে ঈশ্বরের দ্বারা লিখিত দশ আজ্ঞা সমূহের সম্পূর্ণ তালিকা রয়েছে, পরে মশির দ্বারা হিব্রু বেদের মধ্যে নথিভুক্ত করা হয়েছে I 

খন ঈশ্বর এই সব কথা বললেন:
2 “আমিই প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর| আমিই তোমাদের মিশরের দাসত্ব থেকে মুক্ত করেছি| তাই তোমরা এই নির্দেশগুলি মানবে:
3 “আমাকে ছাড়া তোমরা আর কোনও দেবতাকে উপাসনা করবে না|
4 “তোমরা অবশ্যই অন্য কোন মূর্তি গড়বে না য়েগুলো আকাশের, ভূমির অথবা জলের নীচের কোন প্রাণীর মত দেখতে|
5 কোন মূর্ত্তির উপাসনা বা সেবা করবে না| কারণ, আমিই প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর| যারা অন্য দেবতার উপাসনা করবে তাদের আমি ঘৃণা করি| আমার বিরুদ্ধে যারা পাপ করবে তারা আমার শত্রুতে পরিণত হবে| এবং আমি তাদের শাস্তি দেব| আমি তাদের সন্তানসন্ততি এবং পরবর্তী প্রজন্মকেও শাস্তি দেব|
6 কিন্তু যারা আমায ভালবাসবে ও আমার নির্দেশ মান্য করবে তাদের প্রতি আমি সর্বদা দযালু থাকব| আমি তাদের হাজার প্রজন্ম পর্য়ন্ত দযা প্রদর্শন করব|”
7 “তোমরা তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের নাম ভুল ভাবে ব্যবহার করবে না| যদি কেউ তা করে তাহলে সে দোষী এবং প্রভু তাকে নির্দোষ সাব্যস্ত করবেন না|
8 “বিশ্রামের দিনটিকে বিশেষ দিন হিসাবে মনে রাখবে|
9 সপ্তাহে ছয় দিন কাজ করো|
10 কিন্তু সপ্তমদিনটি হবে অবসরের| প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের প্রতি সম্মান প্রর্দশনের দিন| সুতরাং সেই দিনে কেউ কাজ করবে না-তুমি নয়, অথবা তোমার ছেলেরা এবং মেয়েরা, অথবা তোমার স্ত্রী, অথবা তোমার ক্রীতদাস-দাসীরা কেউ নয়| এমনকি তোমাদের গৃহপালিত পশু এবং তোমাদের শহরে বাস করা বিদেশীরাও বিশ্রামের দিনে কোন কাজ করবে না|
11 কারণ প্রভু সপ্তাহে ছয় দিন কাজ করে এই আকাশ, পৃথিবী, সমুদ্র এবং এর মধ্যস্থিত সব কিছু বানিয়েছেন এবং সপ্তমদিনে তিনি বিশ্রাম নিয়েছেন| এইভাবে বিশ্রামের দিনটি প্রভুর আশীর্বাদ ধন্য – ছুটির দিন| প্রভু এই দিনটিকে বিশেষ দিন হিসাবে সৃষ্টি করেছেন|
12 “তুমি অবশ্যই তোমার পিতামাতাকে সম্মান করবে, তাহলে তোমরা তোমাদের দেশে দীর্ঘ জীবনযাপন করবে| য়েটা প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের দিচ্ছেন|
13 “কাউকে হত্যা কোরো না|
14 “ব্যাভিচার কোরো না|
15 “চুরি কোরো না|
16 “অন্যদের সম্বন্ধে মিথ্যা বোলো না|
17 “তোমাদের প্রতিবেশীর ঘরবাড়ীর প্রতি লোভ কোরো না| তার স্ত্রীকে ভোগ করতে চেও না| এবং তার দাস-দাসী, গবাদি পশু অথবা গাধাদের আত্মসাত্‌ করতে চেও না| অন্যদের কোন কিছুর প্রতি লোভ কোরো না|”

যাত্রাপুস্তক20:1-17

দশ আজ্ঞা সমূহের মানদণ্ড

আজকের দিনে আমরা মাঝে মাঝে ভুলে যাই যে এগুলো আজ্ঞার সমষ্টি I এগুলো প্রস্তাব সমূহ নয় I নাতো সেগুলো সুপারিশ সমূহ I কিন্তু কত দূর পর্যন্ত আমাদেরকে এই আজ্ঞা সমূহকে মান্য কতে হয়? দশ আজ্ঞা সমূহ দেওয়ার ঠিক পূর্বে নিম্নলিখিতটি আসে

 3 তারপর মোশি পর্বতে উঠল ঈশ্বরের সঙ্গে সাক্ষাত্‌ করার উদ্দেশ্যে| সেই পর্বতে ঈশ্বর মোশিকে ডেকে বললেন, “ইস্রায়েলের লোকজন ও মহান যাকোব পরিবারের লোকজনকে একথাগুলি বলো:
4 তোমরা নিজেরাই দেখেছ আমি মিশরীয়দের কি অবস্থা করেছি| তোমরা দেখেছো আমি কিভাবে ঈগল পাখীর মতো মিশর থেকে তোমাদের বের করে আমার কাছে এখানে নিয়ে এসেছি|
5 তাই এখন আমি তোমাদের আমার নির্দেশগুলো মেনে চলতে বলছি| আমার চুক্তি পালন করো| তোমরা যদি তা করো তাহলে তোমরা হবে আমার বিশেষ লোক| এই পুরো পৃথিবীটাই আমার; কিন্তু আমি তোমাদের আমার বিশেষ লোক হিসেবে মনোনীত করেছি|

যাত্রাপুস্তক 19:3,5

দশ আজ্ঞা সমূহ দেওয়ার ঠিক পরে এটিকে দেওয়া হয়েছিল

 7 মোশি তখন খাতাটি নিয়ে তাতে লেখা চুক্তিগুলি চেঁচিয়ে পড়তে থাকল| লোকরা তা শুনে বলে উঠল, “আমরা প্রভুর দেওয়া বিধিগুলি শুনেছি এবং আমরা তা মানতে রাজি আছি|”

যাত্রাপুস্তক24:7

মাঝে মাঝে স্কুলের পরীক্ষায়, শিক্ষক একাধিক প্রশ্ন দেন (উদাহরণস্বরূপ 20) কিন্তু পরে কেবল কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন হয় I উদাহরণস্বরূপ, উত্তর দিতে 20টির মধ্যে আমরা যে কোনো 15টি প্রশ্ন চয়ন করতে পারি I প্রত্যেকটি ছাত্র 15টি সহজতম প্রশ্নের উত্তর দিতে তার জন্য তুলে নিতে পারে I এইভাবে পরীক্ষক পরীক্ষাকে সহজতর করে I   

অনেকে দশ আজ্ঞা সমূহের সম্পর্কে এইভাবে চিন্তা করে I তারা ভাবে যে ঈশ্বর, দশ আজ্ঞা দেওয়ার পরে, বোঝাতে চেয়েছেন, “এই দশটির থেকে তোমার পছন্দ মতন যে কোনো ছয়টিকে চেষ্টা কর” I আমরা এইভাবে চিন্তা করি কারণ আমরা কল্পনা করি ঈশ্বর আমাদের ‘উত্তম কার্যগুলোকে’ আমাদের ‘মন্দ কার্যগুলোর’ বিপরীতে ভারসাম্য বজার রাখছেন I যদি আমাদের উত্তম যোগ্যতাগুলো ওজনে অধিক হয় বা আমাদের মন্দ ত্রুটিবিচ্যুতিগুলোকে বাতিল করে তাহলে আমরা আশা করি যে ঈশ্বর লাভের পক্ষে এটি যথেষ্ট I  

যাইহোক, দশ আজ্ঞাগুলো সম্বন্ধে একটি সৎ অধ্যয়ন দেখায় যে কিরূপে এটিকে দেওয়া হয়েছিল সেটি কোনো বিষয় ছিল না I লোকেদেরকে সমুদয় আজ্ঞাগুলোকে মানতে এবং পালন করতে হবে – সর্বদা I এটির নিছক অসুবিধা অনেককে দশ আজ্ঞাগুলোকে খারিজ  করতে বাধ্য করেছে I কিন্তু কলি যুগের দ্বারা আনীত পরিস্থিতির জন্য সেগুলোকে কলি যুগে দেওয়া হয়েছিল I

দশ আজ্ঞা সমূহ এবং করোনা বীজাণুর পরীক্ষা

2020 সালের বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা বীজাণুর মহামারীর সঙ্গে তুলনা করার দ্বারা আমরা হয়ত কঠিন দশ আজ্ঞাগুলোর উদ্দেশ্যকে কলি যুগে ভালভাবে বুঝতে পারি I কোভিদ 19 জ্বর, কাশি এবং শ্বাস কষ্টের লক্ষণগুলো সহ একটি রোগ যেটি করোনা বীজাণুর দ্বারা সংক্রমিত হয় – এমন ক্ষুদ্র কিছু যাকে আমরা দেখতে পারি   না I    

ধরুন কেউ জ্বর বোধ করছে এবং কাশি আছে I এই ব্যক্তি আশ্চর্য বোধ করে সমস্যটা কি I তার কি সাধারণ জ্বর আছে বা তারা কি করোনা বীজাণুর দ্বারা  সংক্রমিত হয়েছে? যদি তাই হয় তবে এটি একটি গুরুতর সমস্যা – এমনকি জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ I যেহেতু করোনা জীবাণু দ্রুত ছড়ায় এবং এটির প্রকৃত সম্ভাবনা যে  প্রত্যেকে সহজেই প্রভাবিত হয় I অন্বেষণ করতে তারা একটি বিশেষ পরীক্ষা গ্রহণ করে যা নির্ধারণ করে তাদের শরীরে করোনার বীজাণু উপস্থিত আছে কি না I করোনা বীজাণুর পরীক্ষা তাদের রোগের থেকে সুস্থতা দেয় না, এটি তাদের কেবল বলে নিশ্চিতভাবে তাদের মধ্যে করোনা জীবাণু আছে কি না যার পরিণাম কোভিদ-19 হবে অথবা তাদের কেবল একটি সাধারণ জ্বর আছে I     

দশ অগ্জ্ঞাগুলোর সাথে এটি সেই একই রকম I কলি যুগে নৈতিক অবক্ষয়ের মতন 2020 সালের করোনা বীজাণু ততটাই প্রভাবশালী I সাধারণ নৈতিক পাপের এই যুগে আমরা জানতে চাই আমরা নিজেরা ধার্মিক কি না বা আমরাও পাপের দ্বারা কলঙ্কিত হয়েছি কি না I দশ আজ্ঞাগুলোকে দেওয়া হয়েছিল যাতে আমাদের জীবনকে তাদের বিপরীতে পরীক্ষা করে আমরা জানতে পারি আমরা পাপ এবং এর সাথে আসা কর্মের থেকে মুক্ত কি না, বা আমাদের উপরে পাপের কোনো কব্জা আছে কি না I দশ অজ্ঞাগুলো করোনা জীবাণুর পরীক্ষার মতন কার্য করে – যাতে করে আপনি জানতে পারেন আপনার মধ্যে রোগ (পাপ) আছে কি না বা আপনি এর থেকে মুক্ত কি  না I    

পাপের আক্ষরিক অর্থ ‘লক্ষ্যচ্যুত’ সেই লক্ষ্যের থেকে যাকে ঈশ্বর আমাদের থেকে আশা করেন কিভাবে আমরা অন্যদের, আমাদের নিজেদের এবং ঈশ্বরের সঙ্গে আচরণ   করি I কিন্তু আমাদের সমস্যাকে জানার পরিবর্তে আমাদের ইচ্ছা অনুযায়ী আমরা  হয় অন্যদের সাথে (ভুল মাপদণ্ডর বিপরীতে আমাদের পরিমাপ করা) নিজেদের তুলনা করি, ধার্মিক যোগ্যতা অর্জন করতে কঠিন প্রচেষ্টা করি, বা ছেড়ে দিই এবং আমোদ প্রমোদের জন্য কেবল বেঁচে থাকি I অতএব ঈশ্বর দশ আজ্ঞা সমূহ দিলেন যাতে করে:  

 20 কারণ বিধি-ব্যবস্থা পালন করলেই য়ে ঈশ্বরের সামনে ধার্মিক প্রতিপন্ন হওয়া যায় তা নয়, বিধি-ব্যবস্থা কেবল পাপকে চিহ্নিত করে৷

রোমীয়3:20

দশ আজ্ঞা সমূহের বিপরীতে আমরা যদি আমাদের জীবনকে পরীক্ষা করি তাহলে এটি করোনা বীজাণুর পরীক্ষা গ্রহণ করার মতন হয় যা আভ্যন্তরিক সমস্যাকে দেখায় I দশ আজ্ঞা সমূহ আমাদের সমস্যা ‘ঠিক’ করে না, কিন্তু সমস্যাটিকে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করে যাতে ঈশ্বরের দেওয়া সমাধানকে আমরা স্বীকার করি I অবিরত আত্মপ্রবঞ্চনায় চলতে থাকার পরিবর্তে, ব্যবস্থা আমাদেরকে নিখুঁতভাবে দেখতে অনুমতি দেয় I

অনুতাপের মধ্যে ঈশ্বরের বরদান দেওয়া হয়

ঈশ্বর যে সমাধান দিয়েছেন তা হ’ল যেশু সৎসংগ – যীশু খ্রীষ্টের মৃত্যু এবং পুনরুত্থানের মাধ্যমে পাপের ক্ষমার বরদান I জীবনের এই বরদানকে শুধুমাত্র তখনই  আমাদের দেওয়া হয় যদি আমরা যীশুর কার্যের উপরে ভরসা বা বিশ্বাস করি I   

16 প্রভু ঈশ্বর মানুষটিকে এই আদেশ দিলেন, “বাগানের য়ে কোনও বৃক্ষের ফল তুমি খেতে পারো|

গালাতীয় 2:16

যেমনভাবে ভাববাদী আব্রাহামকে ঈশ্বরের সামনে ধার্মিক প্রতিপন্ন করা হয়   আমাদেরকেও ধার্মিকতা দেওয়া যেতে পারে I কিন্তু এটার জন্য প্রয়োজন যে আমরা  অনুতাপ করি I অনুতাপকে প্রায়শই ভুল বোঝা হয়, কিন্তু অনুতাপের সরল অর্থ হ’ল ‘আমাদের মন পরিবর্তন করা’ পাপের থেকে মুখ ফেরানো এবং ঈশ্বর ও তার দেওয়া বরদানের দিকে মন ঘোরানকে অন্তর্ভুক্ত করে I বেদা পুশ্তকম (বাইবেল) যেমনভাবে ব্যাখ্যা করে:

 অতএব অনুশোচনা করুন এবং toশ্বরের দিকে প্রত্যাবর্তন করুন, যাতে আপনার পাপগুলি মুছে যায় এবং প্রভুর কাছ থেকে সতেজ হওয়ার সময় আসতে পারে,

প্রেরিতের কার্য 3:19

আপনার এবং আমার জন্য প্রতিশ্রুতি হ’ল যে আমরা অনুতাপ করি, ঈশ্বরের দিকে ফিরি, যাতে আমাদের বিরুদ্ধে আমাদের পাপের গণনা করা হবে না এবং আমরা জীবন পাব I ঈশ্বর, তাঁর মহান দয়ায়, কলি যুগে পাপের জন্য একটি পরীক্ষা এবং টীকা উভয়ই আমাদেরকে দিয়েছেন I   

কালী, মৃত্যু এবং নিস্তারপর্বের চিহ্ন

কালী সাধারণতঃ মৃত্যুর দেবী বলে পরিচিত, তবে আরও সঠিকভাবে সংস্কৃত শব্দ কাল অর্থাৎ সময় থেকে আসে | কালীর বিগ্রহ ভীতিজনক কারণ তাকে সাধারণতঃ ছিন্ন মুণ্ডমালা এবং ছিন্ন হস্ত সমূহ সহ ঘাগড়া পরিহিত এক হস্তে রক্ত চুঁইয়ে পড়া সদ্যখন্ডিত মস্তক ধারণকারী, সাথে তার স্বামী শিবের শায়িত শরীরের উপরে একটি চরণ স্থাপনকারী রূপে চিত্রিত করা হয় | মৃত্যু সম্পর্কে হিব্রু বেদ – বাইবেলের অন্য একটি কাহিনীকে কালী আমাদের বুঝতে সাহায্য করে |     

শিবের শায়িত শরীরের উপরে দন্ডায়মান কালী ছিন্ন মুন্ড এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের দ্বারা সুসজ্জিত

কালী সম্বন্ধে পুরাণ বর্ণনা করে যে অসুর রাজ মহিষাসুর দেবতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের হুমকি দিল । তাই তারা তাদের সত্তা সমূহের থেকে কালীকে সৃষ্টি   করল । কালী অসুর-সৈন্যদের মাঝখান দিয়ে নির্মমভাবে ছড়িয়ে পড়লেন সকলকে সংহার করলেন যারা তার রাস্তায় এলো । অসুর রাজ মহিষাসুররের সঙ্গে তার লড়াইয়ে যুদ্ধের পরিণতি ছিল যে এক হিংস্র মুখোমুখি সংঘর্ষে তাকে তিনি সংহার করলেন । কালী তার শত্রুদের রক্তাক্ত শারীরিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মধ্য দিয়ে ধ্বংস করলেন, কিন্তু রক্তপাতের মধ্যে এতটাই মত্ত হয়ে গেলেন যে তিনি নিজেকে মৃত্যু ও ধ্বংসের পথ থেকে থামাতে পারলেন না । দেবতারা নিশ্চিত ছিলেন না যে কিভাবে তাকে থামানো যাবে যতক্ষণ না শিব রণ ক্ষেত্রের মধ্যে সজ্ঞাহীন হয়ে স্বৈচ্ছিকভাবে শুয়ে পড়লেন । তাই কালী যখন তার মৃত শত্রুদের মুণ্ড এবং হস্ত সমূহ দ্বারা সজ্জিত হয়ে শায়িত শিবের উপরে পা রাখলেন এবং তার দিকে দৃষ্টিপাত করলেন তিনি তার চেতনায় ফিরে এলেন এবং ধ্বংসলীলা শেষ হল ।         

হিব্রু বাইবেলের নিস্তারপর্বের বিবরণ কালী ও শিবের কাহিনীকে প্রতিবিম্বিত  করে I নিস্তারপর্বের কাহিনী একজন দুতকে নথিভুক্ত করে যে, কালীর মতন, এক মন্দ রাজার বিরুদ্ধে ব্যাপক মৃত্যু নিয়ে আসে I কালীকে থামাতে শিবের দ্বারা একটি আক্রম্য অবস্থান নেওয়ার মতন এই মৃত্যুর দূতকে, যে কোনো গৃহের থেকে আটকে রাখা হয় যেখানে একজন অসহায় মেষ শাবককে বলি দেওয়া হয় I প্রাজ্ঞজনেরা আমাদের বলে যে কালীর এই কাহিনী অহংবোধের  উপরে বিজয়কে সম্পর্কযুক্ত করে I এছাড়াও নিস্তারপর্বের কাহিনীর মধ্যে একটি অর্থ রয়েছে যা নাসরতীয় যীশুর – যেশু সৎসংগের – আগমন এবং তার অহংকারকে পরিত্যাগ করার নম্রতা এবং আমাদের হয়ে নিজের বলিদানকে  নির্দেশ করে I নিস্তারপর্বের কাহিনীটি জানার যোগ্য I           

যাত্রাপুস্তক নিস্তারপর্ব

আমরা দেখলাম তার পুত্রের জন্য কিভাবে ভাববাদী আব্রাহামের বলিদান একটি চিহ্ন ছিল যা যীশুর বলিদানের দিকে নির্দেশ করল I আব্রাহামের পরে, তার বংশধররা তার এই পুত্র ইসহাকের মাধ্যমে, ইস্রায়েলীয়দের ডাকলো, এক বিশাল সংখ্যক লোকে পরিণত হ’ল কিন্তু সাথে সাথে মিসরের দাসও হ’ল I   

অতএব আমরা এখন এক অত্যন্ত নাটকীয় সংগ্রামের মধ্যে এসেছি যাকে ইস্রায়েলীয়দের নেতা মশি কর্ত্তৃক গৃহীত হয়েছিল যেটিকে বাইবেলের যাত্রাপুস্তকে হিব্রু বেদের মধ্যে নথিভুক্ত করা হয়েছে I এটি আব্রাহামের পরে 1500 খ্রীষ্টপূর্বাব্দের আশেপাশে নথিভুক্ত করে কিভাবে মশি ইস্রায়েলীয়দের 500 বছরের মিসরের দাসত্ব থেকে বার করে নিয়ে এল I মিশরের (শাসক) ফৌরণের মুখোমুখি হতে সৃষ্টিকর্তার দ্বারা মশিকে আজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল এবং এটি দুজনের মধ্যে এক দ্বন্দে পরিণত করল যা মিসরের উপরে নটি মহামারী বা বিপর্যয় নিয়ে এলো I কিন্তু ফৌরণ ইস্রায়েলীয়দের মুক্ত হয়ে যেতে সম্মতি দিল না তাই ঈশ্বর দশম এবং চূড়ান্ত মহামারী আনতে যাচ্ছিলেন I দশম মহামারীর সম্পূর্ণ বিবরণটি এখানে রয়েছে I   

ঈশ্বর আদেশ জারি করলেন যে দশম মহামারীর জন্য মৃত্যুর এক দূত (আত্মা) মিসরে সমস্ত গৃহ সমূহের মধ্য দিয়ে যাবে I সমগ্র দেশ ব্যাপী প্রতিটি গৃহে প্রত্যেক প্রথমজাত পুত্র একটি নির্দিষ্ট রাত্রে মারা যাবে কেবল তারা ছাড়া যারা সেই গৃহে থাকবে যেখানে একটি মেষ শাবকের বলির রক্ত ওই গৃহের দরজার চৌকাঠে লাগিয়ে দেওয়া হবে I ফরৌণের দণ্ড, যদি সে না মানে এবং মেষ শাবকের রক্ত তার দরজার চৌকাঠে না লাগায়, তবে তার পুত্র এবং সিংহাসনের অধিকারী মারা যাবে I আর মিসরের প্রত্যেকটি গৃহ তার প্রথমজাত পুত্রকে হারাবে – যদি উৎসর্গকৃত একটি মেষ শাবকের রক্ত দরজার চৌকাঠে লাগানো না হয় I মিশর জাতীয় বিপর্যয়ের সম্মুখীন হ’ল I      

কিন্তু গৃহগুলোর মধ্যে উৎসর্গকৃত একটি মেষ শাবকের রক্তকে দরজার চৌকাঠে লাগিয়ে দেওয়া হলে প্রতিশ্রুতি ছিল যে প্রত্যেকে নিরাপদ থাকবে I মৃত্যুর দূত সেই গৃহকে ছেড়ে যাবে I তাই সেই দিনটিকে নিস্তারপর্ব বলে অভিহিত করা হ’ল (যেহেতু মৃত্যু সমস্ত গৃহকে দরজার চৌকাঠে মেষ শাবকের রক্ত লাগানোর জন্য নিস্তার দিল) I    

নিস্তার পর্বের চিহ্ন

যারা এই কাহিনীটিকে শুনেছে তারা মনে করে যে দরজার উপরে রক্ত মৃত্যুর দুতের জন্য একটি চিহ্ন ছিল I কিন্ত 3500 বছর পূর্বে লিখিত বিবরণ থেকে গৃহীত বিস্ময়কর ঘটনাটিকে দেখুন I 

সদাপ্রভু মশিকে বললেন …” … আমি সদাপ্রভু I তোমরা যে গৃহে থাক তার উপরে রক্ত [নিস্তার পর্বের মেষ শাবকের] একটি তোমার জন্য চিহ্ন হবে; আর আমি যখন রক্ত দেখব, আমি তোমাদেরকে ছেড়ে এগিয়ে যাব

যাত্রাপুস্তক 12:13

যদিও ঈশ্বর দরজার উপরে রক্তের খোঁজ করছিলেন, এবং যখন তিনি এটি দেখলেন মৃত্যু ছেড়ে এগিয়ে যাবে, তখন ঈশ্বরের জন্য রক্ত একটি চিহ্ন ছিল  না I এটি অত্যন্তু স্পষ্টভাবে বলে, যে রক্ত একটি ‘তোমার জন্য চিহ্ন’ ছিল – লোকেদের জন্য I এছাড়া এটি আমাদের জন্যও একটি চিহ্ন যারা এই বিবরণটিকে পড়ে I কিন্তু এটি কিরূপে একটি চিহ্ন হয়? পরবর্তীকালে সদাপ্রভু তাদের আজ্ঞা দিলেন:

27 তখন তোমরা বলবে, ‘এই নিস্তারপর্ব প্রভুকে সম্মান জানাবার জন্য| কেন? কারণ যখন আমরা মিশরে ছিলাম তখন প্রভু আমাদের ইস্রায়েলবাসীদের বাড়ীগুলিকে নিস্তার দিয়েছিলেন| প্রভু মিশরীয়দের হত্যা করেছিলেন কিন্তু আমাদের লোকদের বাড়ীগুলো রক্ষা করেছিলেন| সুতরাং লোকে নত হয়ে প্রভুর উপাসনা করল|”

যাত্রা পুস্তক 12:24-27
Jewish man with lamb at Passover

নিস্তারপর্বের মেষশাবকের সাথে যিহূদি লোকটি

প্রতি বছর একই দিনে নিস্তারপর্ব উদযাপন করতে ইস্রাযেলীয়দের আজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, এটি হিন্দু ক্যালেন্ডারের মতন একটি চান্দ্র ক্যালেন্ডার, তাই এটি পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডারের থেকে একটু আলাদা, এবং পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডার অনুসারে প্রতি বছর উৎসবের দিন পরিবর্তিত হয় I কিন্তু আজ পর্যন্ত, 3500 বছর পরেও, যিহূদি লোকেরা এই ঘটনাকে স্মৃতি এবং তাদের প্রতি প্রদত্ত সেই আজ্ঞার বাধ্যতা অনুসারে তাদের বছরের সেই একই দিনে নিস্তারপর্বের উদযাপনকে একটি উৎসব রূপে পালন করে আসছে I      

নিস্তারপর্বের চিহ্ন প্রভু যীশুর দিকে ইঙ্গিত করছে

ইতিহাসের মাধ্যমে এই উৎসবটির উপরে নজর রাখতে গিয়ে আমরা একেবারে  অসাধারণ কিছু লক্ষ্য করি I সুসমাচারের মধ্যে আপনি এটি দেখতে পারেন যেখানে এটি যীশুর গ্রেফতার এবং বিচারের বর্ণনা করে (সেই প্রথম নিস্তারপর্বের মহামারীর 1500 বছর পরে):  

28 এরপর তারা যীশুকে কায়াফার বাড়ি থেকে রাজ্যপালের প্রাসাদে নিয়ে গেল৷ তখন ভোর হয়ে গিয়েছিল৷ তারা নিজেরা রাজ্যপালের প্রাসাদের ভেতরে য়েতে চাইল না, পাছে অশুচিহয়ে পড়ে, কারণ তারা নিস্তারপর্বের ভোজ খেতে

চাইছিল৷যোহন 18:28

39 কিন্তু তোমাদের এমন এক রীতি আছে, সেই অনুসারে নিস্তারপর্বের সময়ে একজন বন্দীকে মুক্তি দিয়ে থাকি৷ বেশ তোমাদের কি ইচ্ছা, আমি তোমাদের জন্য ‘ইহুদীদের রাজাকে’

ছেড়ে দেব?’যোহন 18:39

অন্য কথায়, যিহূদি ক্যালেন্ডারের ঠিক সেই নিস্তারপর্বের দিনে যীশুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং ক্রুশারোপনের জন্য পাঠানো হয়েছিল I যীশুকে দেওয়া শিরোনামগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল 

 29 পরের দিন য়োহন যীশুকে তাঁর দিকে আসতে দেখে বললেন, ‘ঐ দেখ, ঈশ্বরের মেষশাবক, যিনি জগতের পাপরাশি বহন করে নিয়ে যান!
30 ইনিই সেই লোক, য়াঁর বিষয়ে আমি বলেছিলাম, ‘আমার পরে একজন আসছেন, কিন্তু তিনি আমার থেকে মহান, কারণ তিনি আমার অনেক আগে থেকেই আছেন৷’

যোহন 1:29-30

এখানে আমরা দেখি আমাদের জন্য নিস্তারপর্ব কিরূপে একটি চিহ্ন হয় I ‘ঈশ্বরের মেষ শাবক’ যীশু, ক্রুশারোপিত হলেন (অর্থাৎ উৎসর্গ করা হল) বছরের বিশেষ একই দিনে যেমন সমস্ত যিহূদিগণ প্রথম নিস্তারপর্বের স্মৃতিতে একটি মেষ শাবককে উৎসর্গ করছিল যা 1500 বছর পূর্বে ঘটেছিল I এটি দুটি ছুটির বাৎসরিক সময়ের ব্যাখ্যা করে যা প্রত্যেক বছর পুন: পুন: ঘটে I যিহূদিদের নিস্তারপর্বের উৎসব প্রতি বছর প্রায় ইষ্টারের সময়ে ঘটে – একটি ক্যালেন্ডার পরীক্ষা করে দেখুন I(যিহূদি ক্যালেন্ডারের মধ্যে চান্দ্র-ভিত্তিক লিপ বছরের চক্রের জন্য প্রতি 19 বছরে একটি মাসের একটি অপসারণ হয়)I এই জন্যই প্রতি বছর ইষ্টার সরে যায় কারণ এটি নিস্তারপর্বের উপরে ভিত্তিশীল, আর নিস্তারপর্ব যিহূদি ক্যালেন্ডারের সময় অনুসারে নির্ধারিত হয় যার হিসাব  পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডারের থেকে আলাদা I           

এখন এক মিনিটের জন্য ভাবুন ‘চিহ্নগুলো’ কিসের জন্য I আপনি এখানে নিচে কিছু চিহ্ন দেখতে পারেন I 

Flag_of_India

 

ভারতবর্ষের একটি চিহ্ন

Signs

 

বানিজ্যিক চিহ্নগুলো আমাদেরকে ম্যাকডোনাল্ডস এবং নাইক সম্পর্কে ভাবায়

পতাকা একটি চিহ্ন বা ভারতবর্ষের প্রতীক I আমরা কেবলমাত্র কমলা এবং একটি সবুজ রঙের ফিতে ঘেরা একটি সমকোণী চতুর্ভুজকে ‘দেখি’ না I না. আমরা যখন পতাকাটি দেখি আমরা ভারতবর্ষের কথা ভাবি I ‘সোনার তোরণের’ চিহ্ন আমাদেরকে ম্যাকডোনাল্ডসের সম্বন্ধে ভাবায় I নাদালের মাথার ফিতের উপরে ‘√’ চিহ্ন নাইকের জন্য I নাইক চায় আমরা তাদের জন্য চিন্তা করি যখন আমরা নাইকের উপরে এই চিহ্ন দেখি I অভীষ্ট বস্তুর প্রতি আমাদের মনের মধ্যে ভাবনাকে নির্দেশ করার জন্য চিহ্নগুলো নির্দেশক সমূহ হয় I     

যাত্রাপুস্তকের হিব্রু বেদের নিস্তারপর্বের বিবরণ সুস্পষ্টভাবে বলল যে চিহ্নটি  লোকেদের জন্য ছিল, সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বরের জন্য নয় (যদিও তিনি তখনও রক্ত এবং গৃহের নিস্তারের দিকে লক্ষ্য রেখেছিলেন যাতে তিনি এটিকে দেখতে পান) I এই চিহ্নগুলোর সাথে সাথে, তিনি আমাদের কি ভাবাতে চেয়েছিলেন যখন আমরা নিস্তারপর্বের দিকে দেখি? যীশুর সাথে সাথে একই দিনে মেষ শাবকদের উৎসর্গ হওয়ার উল্লেখযোগ্য সময়ের সাহায্যে, এটি যীশুর বলিদানের প্রতি একটি নির্দেশক হয় I   

এটি আমাদের মনের মধ্যে কার্য করে যেমন আমরা নিচে দেখিয়েছি I চিহ্নটি আমাদেরকে যীশুর বলিদানের প্রতি ইঙ্গিত দেয় I

passover-and-jesus

নিস্তারপর্বের সময়ে যীশুর বলিদানের নির্ভুল সময়টি একটি চিহ্ন

সেই প্রথম নিস্তারপর্বে মেষ শাবকদের বলি দেওয়া হয়েছিল এবং রক্ত ছড়ানো হয়েছিল যাতে লোকেরা বাঁচতে পারে I আর এইরূপে, যীশুর প্রতি ইঙ্গিতকারী এই চিহ্ন হল আমাদের বলতে যে তাঁকে ‘ঈশ্বরের মেষ শাবককে’, আবারও মৃত্যুতে একটি বলি রূপে উৎসর্গীকৃত করা হল এবং তাঁর রক্ত ছড়িয়ে পড়ল যাতে আমরা জীবন পেতে পারি

আব্রাহামের চিহ্নর মধ্যে স্থানটি ছিল পর্বত মোরিয়া যেখানে তার পুত্রের বলিদানের মাধ্যমে আব্রাহামকে পরীক্ষা করা হয়ছিল I একটি মেষ শাবক মারা গেল তাই আব্রাহামের পুত্র বাঁচতে পারল I

The Sign of Abraham was pointing to the location

আব্রাহামের চিহ্ন স্থানটির দিকে নির্দেশ করছিল

পর্বত মোরিয়া বিশেষ একই স্থান ছিল যেখানে যীশুকে উৎসর্গ করা হয়েছিল I স্থানটির প্রতি ইঙ্গিত করার দ্বারা আমাদেরকে তার মৃত্যুর অর্থ দেখাবার জন্য ওটি  একটি চিহ্ন ছিল I নিস্তারপর্বের মধ্যে যীশুর বলিদানের প্রতি আর একটি নির্দেশককে দেখি – বছরের মধ্যে একই দিনকে ইঙ্গিত করার দ্বারা I মেষ শাবকের বলিদানকে আর একবার ব্যবহার করা হল – দেখায় যে এটি একটি ঘটনার কেবল একটি সমাপতন নয় – বরং যীশুর বলিদানের দিকে নির্দেশ করে I দুটি ভিন্ন উপায়ে (স্থান এবং সময়ের মাধ্যমে) পবিত্র হিব্রু বাইবেলের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উৎসবগুলোর মধ্যে দুটি যীশুর বলিদানের দিকে সরাসরিভাবে ইঙ্গিত করে I ইতিহাসের মধ্যে আমি এমন কোনো ব্যক্তির সম্বন্ধে ভাবতে পারি না যার মৃত্যু সম্বন্ধে এই ধরণের নাটকীয় কায়দার মধ্যে এই প্রকারের সমান্তরাল সমূহের দ্বারা এমনভাবে পূর্বাভাস দেওয়া  হয়েছে I আপনি কি পারেন?

এই চিহ্নগুলো দেওয়া হয়েছে যাতে আমাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস থাকতে পারে যে যীশুর বলিদান প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরের দ্বারা পরিকল্পিত এবং অভিষিক্ত হয়েছিল I একটি চিত্রকে দেওয়ার জন্য এটি ছিল যা আমাদের দৃষ্টিগোচর করতে সাহায্য করে কিভাবে যীশুর বলিদান মৃত্যুর থেকে আমাদের রক্ষা করে এবং পাপের থেকে আমাদের শুদ্ধ করে – সকলের কাছে ঈশ্বরের উপহার যারা এটিকে গ্রহণ করবে I