রাজের মতন: যীশু খ্রীষ্টের ‘খ্রীষ্টের’ মানে কি?

আমি মাঝে মাঝে লোকেদের জিজ্ঞাসা করি যীশুর শেষ নাম কি ছিল I তারা সাধারণতঃ উত্তর দেয়,

 “আমার মনে হয় তার শেষ নাম ছিল ‘খ্রীষ্ট’, তবে আমি নিশ্চিত নয়”I 

তখন আমি জিজ্ঞাসা করি,

“তাহলে যীশু যখন এক বালক ছিল তখন যোষেফ খ্রীষ্ট এবং মরিয়ম ছোট্ট যীশু খ্রীষ্টকে কি বাজারে নিয়ে গিয়েছিলেন?’ 

সেইভাবে রাখলে, তারা উপলব্ধি করে যে ‘খ্রীষ্ট’ যীশুর পারিবারিক নাম নয় I তাহলে ‘খ্রীষ্ট’ কি? কোথা থেকে এটি এসেছে? এর মানে কি? অনেকের কাছে অবাক লাগে, ‘খ্রীষ্ট’ এমন একটি উপাধি যার অর্থ ‘শাসক’ বা ‘শাসন করা’ I এটি ‘রাজ’ শিরোনামের বিপরীত নয়, যেমন ব্রিটিশ রাজের মধ্যে যে স্বাধীনতার পূর্বে ভারতবর্ষকে শাসন করেছিল I 

অনুবাদ বনাম অক্ষরীকরণ 

আমাদের প্রথমে অনুবাদের কিছু মূলসুত্রগুলোকে বুঝতে হবে I অনুবাদকরা মাঝে মাঝে অর্থের পরিবর্তে অনুরূপ ধ্বনির দ্বারা অনুবাদ করতে পচ্ছন্দ করে, বিশেষকরে নাম এবং শিরোনাম সমূহের I এটিকে অক্ষরীকরণ বলা হয় I উদাহরণস্বরূপ, “কুম্ভ মেলা” হিন্দি कुंभ मेला থেকে একটি ইংরেজি অক্ষরীকরণ I যদিও मेला মানে ‘মেলা’ বা ‘উৎসব’ এটিকে কুম্ভ ফেয়ারের পরিবর্তে অনুরূপ ধ্বনির দ্বারা ইংরেজিতে নিয়ে আসা হয়েছে I “রাজ” হিন্দি  “राज” থেকে একটি ইংরেজি অক্ষরীকরণ I যদিও राज  মানে   ‘শাসন করা’  বোঝায় এটিকে “ব্রিটিশ শাসনের’ পরিবর্তে “ব্রিটিশ রাজ” ধ্বনির দ্বারা ইংরেজিতে নিয়ে আসা হয়েছিল I বেদা [পুস্তকমের] (বাইবেল) সাথে, অনুবাদকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হত কোন নাম এবং শিরোনামগুলোকে (অর্থের দ্বারা) অনুবাদ এবং কোনগুলোকে (ধ্বনির দ্বারা) অক্ষরীকরণ করতে হবে I সেখানে কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই I 

সেপ্টুজিয়ান্ট 

বাইবেলকে প্রথমে 250 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে অনুবাদ করা হয়েছিল যখন হিব্রু বেদা (পুরনো নিয়ম) গ্রীকে অনুবাদিত হয়েছিল – সেই সময়ের আন্তর্জাতিক ভাষা I এই অনুবাদ সেপ্টুজিয়ান্ট (বা LXX) নামে পরিচিত এবং এটি খুব প্রভাবী  ছিল I যেহেতু নতুন নিয়মকে গ্রীকের মধ্যে লেখা হয়েছিল, এর পুরনো নিয়মের অনেক উদ্ধৃতি সমূহকে সেপ্টুজিয়ান্ট থেকে নেওয়া হয়েছিল I 

সেপ্টুজিয়ান্ট এর মধ্যে অনুবাদ এবং অক্ষরীকরণ 

নিচের চিত্রটি এই প্রক্রিয়াকে দেখায় এবং কিভাবে এটি আধুনিক-দিনের বাইবেলগুলোকে প্রভাবিত করে  

অনুবাদ প্রবাহ মূল ভাষা থেকে আধুনিক-দিনের বাইবেলে

মূল হিব্রু পুরনো নিয়মকে (1500 – 400 খ্রীষ্টাব্দে লেখা) চতুর্থাংশ #1 এর মধ্যে দেখানো হয়েছে I কারণ সেপ্টুজিয়ান্ট একটি 250 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ হিব্রু –>  গ্রীক অনুবাদ ছিল এটিকে একটি তীরের দ্বারা দেখান হয়েছে চতুর্থাংশ  #1 থেকে  #2 এর দিকে যাচ্ছে I নতুন নিয়ম গ্রীকে লেখা হয়েছিল (50 – 90 খ্রীষ্টাব্দ) তাই #2 এর মধ্যে উভয় পুরনো এবং নতুন নিয়ম রয়েছে I নিচের অর্ধেক  (#3) বাইবেলের একটি আধুনিক ভাষার অনুবাদ I পুরনো নিয়মটি (হিব্রু বেদা) মূল হিব্রু থেকে (1–>3) অনুবাদিত হয়েছে এবং নতুন নিয়ম গ্রীক থেকে (2–>3) অনুবাদিত হয়েছে I নাম এবং শিরোনাম সমূহের উপরে অনুবাদকদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে যেমনটি পূর্বে ব্যাখ্যা করা হয়েছে I এটিকে অক্ষরীকরণ এবং অনুবাদ লেবেলের সাথে নীল তীরের দ্বারা দেখানো হয়েছে, দেখায় যে অনুবাদকরা উভয় পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারেন I     

 ‘খ্রীষ্টের’ উৎপত্তি  

‘খ্রীষ্ট’ শব্দের উপরে ফোকাস করে এখন উপরোক্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন I  

বাইবেলের মধ্যে ‘খ্রীষ্ট’ কোথা থেকে এসেছে?

হিব্রু পুরনো নিয়মে উপাধিটি হ’ল  ‘מָשִׁיחַ’ (মাশিয়াক) যার অর্থ হ’ল অভিষিক্ত বা উৎসর্গীকৃত ব্যক্তি, যেমন একজন রাজা বা শাসক I সেই সময়ের হিব্রু রাজাদের তাদের রাজা হওয়ার পূর্বে অভিষিক্ত করা হত (আনুষ্ঠিনিকভাবে তৈল মর্দন করে) এইরূপে তারা অভিষিক্ত ব্যক্তি বা মাশিয়াক হয়েছিল I তারপরে তারা শাসক হত, কিন্তু তাদের শাসনকে ঈশ্বরের স্বর্গীয় শাসনের অধীনস্থ হতে হত, তাঁর ব্যবস্থা অনুসারে I সেই অর্থে পুরনো নিয়মে হিব্রু রাজারা রাজের মতন ছিল I রাজ দক্ষিন এশিয়ার ব্রিটিশ অঞ্চলের উপরে শাসন করত, তবে বৃটেনের সরকারের অধীনস্থ হয়ে, এর ব্যবস্থা অনুসারে I      

পুরনো নিয়ম একজন নির্দিষ্ট মাশিয়াকের আগমনের বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল (একটি নির্দিষ্ট আর্টিকেল ‘দি’ এর সাথে) যিনি একজন অনন্য রাজা হবেন I 250 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে যখন সেপ্টুজিয়ান্ট অনুবাদিত হ’ল, অনুবাদকরা গ্রীকের মধ্যে একটি অনুরূপ অর্থের শব্দের চয়ন করলেন I Χριστός (ক্রিস্তোস ধ্বনির মতন), ক্রিয়োর থেকে ভিত্তি করে, যার অর্থ ছিল তৈলের দ্বারা আনুষ্ঠানিকভাবে মর্দন করা I অতএব হিব্রু ‘মাশিযাক’ অর্থের দ্বারা গ্রীক সেপ্টুজিয়ান্ট এর মধ্যে Χριστός তে অনুবাদিত হয়েছিল (ধ্বনির দ্বারা অক্ষরীকরণ নয়) I নতুন নিয়মের রচয়িতারা যীশুর পরিচিতির জন্য ক্রিস্তোস শব্দটিকে ক্রমাগত ব্যবহার করতে লাগলেন যেমনটি এটিকে ‘মাশিয়াক’ রূপে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল I   

ইউরোপীয় ভাষাগুলোর জন্য অনুরূপ অর্থ সহ কোনো স্পষ্ট শব্দ ছিল না তাই নতুন নিয়মের গ্রীক ‘ক্রিস্তোস’ ‘খ্রীষ্টে’ অক্ষরীকরণ করা হয়েছিল I ‘খ্রীষ্ট’ শব্দটি পুরনো নিয়মের মূলগুলোর সাথে একটি অত্যন্ত নিদিষ্ট উপাধি, হিব্রুর থেকে গ্রীকে অনুবাদের দ্বারা এবং তারপরে গ্রীক থেকে আধুনিক ভাষাগুলোতে অক্ষরীকরণের দ্বারা I পুরনো নিয়মকে হিব্রু থেকে আধুনিক ভাষাগুলোতে সরাসরিভাবে অনুবাদ করা হয়েছে এবং অনুবাদকরা মূল হিব্রু ‘মাশিয়াক’ সম্বন্ধে বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন I কিছু বাইবেল মসীহর বৈচিত্রের সাথে  মাশিয়াকের অক্ষরীকরণ করে, অন্যরা অভিষিক্ত ব্যক্তি রূপে অর্থের দ্বরা অনুবাদ করে I খ্রীষ্টের জন্য একটি [হিন্দি] শব্দ (मसीह) আরবী থেকে অক্ষরীকরণ করা হয়েছে, যেটিকে পরিবর্তে, মূল হিব্রু থেকে অনুবাদিত করা হয়েছিল I অতএব এর উচ্চারণ মসীহ মূলের কাছাকাছি I  

হিব্রু শব্দ מָשִׁיחַ (মাশিয়াহ, মেশিয়াহ) কে “ক্রিস্তোস” রূপে গ্রিক সেপ্টুজিয়ান্ট এর মহ্য়ে অনুবাদিত করা হয়েছে I এটিকে পরিবর্তে ইংরেজিতে ‘খ্রীষ্ট’ রূপে অনুবাদিত করা হয়েছে এবং ‘ক্রাইস্ট’ এর মতন শুনতে লাগে I রীষ্টের বাংলা শব্দ হল ক্রিস্টো । এটি গ্রীক শব্দ “ক্রিস্টোস” থেকে অনূদিত এবং তাই krisṭō হিসাবেও উচ্চারণ করা হয়।

যেহেতু আমরা পুরনো নিয়মে ‘খ্রীষ্ট’ শব্দটিকে সাধারণতঃ দেখিনা, পুরনো নিয়মের সঙ্গে এর যোগাযোগ সর্বদা স্পষ্ট নয় I তবে অধ্যয়ন থেকে আমরা জানি যে ‘খ্রীষ্ট’=’মেশিয়াহ’=’অভিষিক্ত ব্যক্তি’ এবং সেটি একটি নিদিষ্ট উপাধি ছিল I    

প্রথম শতাব্দীতে খ্রীষ্ট প্রত্যাশিত ছিল 

এখন সুসমাচার থেকে আমাদের কিছু পর্যবেক্ষণ করা যাক I নিচে রাজা হেরোদের প্রতিক্রিয়া রয়েছে যখন মাগি যিহূদিদের রাজার খোঁজে এলো, খ্রীষ্টমাস কাহিনীর একটি অংশ I লক্ষ্য করুন খ্রীষ্টের পূর্বে ‘দি’ রয়েছে এমনকি যদিও এটি নির্দিষ্টভাবে যীশুর সমন্ধে উল্লেখ করছে না I 

রাজা হেরোদ একথা শুনে খুব বিচলিত হলেন এবং তাঁর সঙ্গে জেরুশালেমের সব লোক বিচলিত হল৷
তখন তিনি ইহুদীদের মধ্যে যাঁরা প্রধান যাজক ও ব্যবস্থার শিক্ষক ছিলেন, তাঁদের ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, মশীহ (খ্রীষ্ট) কোথায় জন্মগ্রহণ করবেন?

মথি 2:3-4

আপনি দেখুন ‘দি খ্রীষ্টের’ ধারণাকে রাজা হেরোদ এবং তার পরামর্শকারীদের মধ্যেকার বিষয় রূপে ভালভাবে বোঝা যায় – এবং এখানে যীশুকে নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে না I এটি দেখায় ‘খ্রীষ্ট’ পুরনো নিয়ম থেকে আসে, সাধারনভাবে প্রথম শতাব্দীর মধ্যে গ্রীক সেপ্টুজিয়ান্ট থেকে লোকেদের দ্বারা পড়া হয় I ‘খ্রীষ্ট’ ছিল (এবং আছে) একটি উপাধি, নাম নয়, একজন শাসক বা রাজাকে বোঝায় I এই জন্যই হেরোদ ‘বিচলিত হলেন’ কারণ আর একজন রাজার সম্ভাবনার ঝুঁকি তিনি অনুভব করলেন I আমরা ধারনাটিকে খারিজ করতে পারি যে ‘খ্রীষ্ট’ একটি খ্রীষ্টান আবিষ্কার ছিল I সেখানে কোনো খ্রীষ্টান থাকার পূর্বে উপাধিটি শতাধিক বছর ধরে ব্যবহারে ছিল I  

খ্রীষ্টের কর্তৃত্বের প্রহেলিকা 

যীশুর আদি অনুগামীরা বিশ্বস্ত হয়েছিল যে যীশু ছিলেন আসন্ন খ্রীষ্ট যার সম্বন্ধে হিব্রু বেদার মধ্যে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল, যখন অন্যরা এই বিশ্বাসের বিরোধিতা করেছিল I  

কেন? 

উত্তরটি প্রেম বা শক্তির উপরে ভিত্তিশীল শাসন সম্পর্কে একটি প্রহেলিকার  হৃদয়ে যায় I ব্রিটিশ মুকুটের অধীনে ভারতে শাসন করার রাজের কর্তৃত্ব ছিল I তবে এটি ভারতকে শাসন করার অধিকার পেয়েছিল কারণ রাজ প্রথমে সামরিক শক্তিতে এসেছিল এবং এর ক্ষমতার মাধ্যমে বাহ্যিক অধীনস্থ জোরপূর্বক চাপিয়ে দিয়েছিল I লোকেরা রাজকে ভালোবাসেনি এবং গান্ধীর মতন নেতাদের মাধ্যমে, অবশেষে রাজকে উচ্ছেদ করা হল I  

যীশু খ্রীষ্ট হিসাবে অধীনস্থ দাবি করতে আসেন নি, এমনকি যদিও তার কাছে কর্তৃত্ব ছিল I প্রেম বা ভক্তির উপরে ভিত্তিশীল একটি অনন্তকালীন রাজ্য স্থাপন করতে এসেছিলেন, এবং এটির প্রয়োজন ছিল যে একদিকে ক্ষমতা এবং কর্তৃত্বের মধ্যে কূটাভাস অন্যদিকে প্রেমের সাক্ষাত I হিব্রু ভাববাদীরা ‘খ্রীষ্টের’ আগমনের বিষয়ে আমাদেরকে বুঝতে সাহায্য করতে এই প্রহেলিকার অন্বেষণ করলেন I হিব্রু রাজা দায়ূদের থেকে 1000 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে আসা হিব্রু বেদার মধ্যে ‘খ্রীষ্টের’ প্রথম আবির্ভাব থেকে আমরা তাদের অন্তর্দৃষ্টিকে অনুসরণ করে আসছি I  

লক্ষী থেকে শিব পর্যন্ত: কিভাবে ভাববাদী মশির আশীর্বাদ এবং অভিশাপ আজকে প্রতিধ্বনি করে

যখন আমরা আশীর্বাদ এবং উত্তম ভাগ্যের সম্বন্ধে চিন্তা করি আমাদের মন ভাগ্য, সফলতা এবং ধনের দেবী লক্ষীর দিকে যায় I তিনি কঠোর পরিশ্রমকে আশীর্বাদ দেন যখন এটিকে লোভের মধ্যে না করা হয় I দুগ্ধ মহাসমুদ্রের  মন্থনের কাহিনীর মধ্যে, লক্ষ্মী ইন্দ্রের দ্বারা পবিত্র ফুল সমূহকে ছুঁড়ে ফেলার সময়ে অশ্রদ্ধার কারণে দেবতাদের ছেড়ে দুগ্ধ মহাসমুদ্রের মধ্যে প্রবেশ করলেন I যাইহোক, তার প্রত্যাবর্তনের জন্য এক সহস্র বছর ধরে সমুদ্র মন্থনের পরে, তিনি তার পুনর্জন্মের সাথে বিশ্বস্তকে আশীর্বাদ দিলেন I    

যখন আমরা বিনাশ, জনশূন্যতা এবং প্রলয়ের কথা ভাবি তখন আমাদের মন বৈভব, শিবের প্রচন্ড অবতার, বা এমনকি শিবের তৃতীয় চক্ষুর দিকে যায় I এটি প্রায়ই সর্বদা বন্ধ থাকে তবে তিনি মন্দকারীদের বিনাশ করতে এটি খোলেন I লক্ষ্মী এবং শিব উভয়ই শ্রদ্ধালুদের থেকে অনেক মনোযোগ পান, কারণ লোকেরা একজনের থেকে আশীর্বাদের আকাঙ্খা করে এবং অন্যজনের থেকে অভিশাপের ভয় বা বিনাশ I

আশীর্বাদ এবং অভিশাপ সমূহ … ইস্রায়েলীয়দের প্রতি … আমাদের প্রতি নির্দেশের জন্য

হিব্রু বেদার মধ্যে প্রকাশিত সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বর লক্ষ্মীর প্রতিদ্বন্দিতা করার জন্য এই জাতীয় আশীর্বাদ এবং ভৈরব বা শিবের ত্রিনেত্রর মতন ততটাই ভয়ানক অভিশাপ এবং বিনাশ উভয়েরই রচিয়তা ছিলেন I এটি তার মনোনীত লোকেদের কাছে নির্দেশিত হ’ল – ইস্রায়েলীয়দের কাছে – যারা তার শ্রদ্ধালু ছিল I ঈশ্বরের দ্বারা ইস্রায়েলীয়দের মিসরের দাসত্ব থেকে বার করে নিয়ে আসার পরে তাদেরকে দেওয়া হ’ল এবং তাদেরকে দশ আজ্ঞা সমূহ দিলেন – পাপ তাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়েছে কিনা তা জানার জন্য মানদণ্ড I এই আশীর্বাদ এবং অভিশাপ সমূহকে ইস্রায়েলীয়দের প্রতি নির্দেশিত করা হয়েছিল তবে তাদেরকে বহু পূর্বে ঘোষণা করা হয়েছিল যাতে অন্যান্য জাত সমূহ লক্ষ্য করবে এবং উপলব্ধি করবে যে তিনি আমাদেরকেও আশীর্বাদ দেবেন যে ক্ষমতার সাহায্যে তিনি ইস্রায়েলীয়দের উপরে আশীর্বাদ প্রদান করেছেন I আমাদের মধ্যে সবাই যারা সমৃদ্ধি এবং আশীর্বাদ চায় এবং বিনাশ ও অভিশাপ এড়াতে চায় তারা ইস্রায়েলীয়দের অভিজ্ঞতার থেকে শিখতে পারে I 

ভাববাদী মশি 3500 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে বাস করতেন এবং তিনি পাঁচটি বই লিখেছিলেন যা হিব্রু বেদাকে প্রস্তুত করে I তার শেষ বই, দ্বিতীয় বিবরণে, তার মারা যাওয়ার ঠিক পূর্বে লেখা চূড়ান্ত বাক্যগুলো রয়েছে I তার এই আশীর্বাদগুলো ইস্রায়েলের লোকেদের কাছে ছিল – যিহূদিদের কাছে, তবে এছাড়া তার অভিশাপগুলোও I মশি লিখলেন যে এই আশীর্বাদ এবং অভিশাপ সমূহ বিশ্ব ইতিহাসকে রূপ দেবে এবং লক্ষ্য করা উচিত, কেবলমাত্র যিহূদিদের দ্বারা নয়, বরং অন্য জাতিদের কাছেও I  এই আশীর্বাদ এবং অভিশাপ সমূহ ভারতের ইতিহাসকে প্রভাবিত করেছে I তাই এর উপরে প্রতিফলন করতে আমাদের জন্য এটিকে লেখা হয়েছিল I সম্পূর্ণ আশীর্বাদ এবং অভিশাপ সমূহ এখানে রয়েছে I সংক্ষিপ্তসারটি নিম্নরূপ:

ভাববাদী মশির আশীর্বাদ সমূহ

মশি আশীর্বাদ সমূহকে বর্ণনা করার দ্বারা আরম্ভ করলেন যে ইস্রায়েলীয়রা পাবে যদি তারা ব্যবস্থাকে (দশ আজ্ঞা সমূহ) মানে I ঈশ্বরের আশীর্বাদ এত মহান হবে যে অন্য সমস্ত জাতি সমূহ তাঁর আশীর্বাদগুলোকে চিনতে পারবে I এই আশীর্বাদগুলোর পরিণতি হবে:

10 তাহলে পৃথিবীর সমস্ত জাতি জানবে য়ে তোমরা প্রভুর নামে অভিহিত এবং তারা তোমাদের ভয় করবে|

দ্বিতীয় বিবরণ 28:10

… এবং অভিশাপ সমূহ

যাইহোক, ইস্রায়েলীয়রা যদি আজ্ঞা সমূহকে মানতে ব্যর্থ হয় তবে তারা অভিশাপ পাবে যা আশীর্বাদগুলোর সমকক্ষ এবং দর্পণ হবে I এই অভিশাপগুলোকে পরিবেষ্টিত জাতিদের দ্বারা দেখা যাবে যাতে করে:

37 প্রভু তোমাদের য়ে দেশগুলিতে পাঠাবেন, সেখানকার লোক তোমাদের দুর্দশা দেখে অবাক হবে| তারা তোমাদের দেখে হাসবে এবং তোমাদের সম্বন্ধে মন্দ কথা বলবে|

দ্বিতীয় বিবরণ 28:37

এবং অভিশাপগুলো ইতিহাসের মাধ্যমে প্রসারিত হবে I

46 এই শাপগুলি হবে লোকদের কাছে একটি চিহ্ন এবং তারা বুঝবে য়ে ঈশ্বর তোমাদের এবং তোমাদের উত্তরপুরুষদের বিচার করেছেন| তোমাদের ওপর য়ে ভয়ঙ্কর ঘনাগুলি ঘটবে তা দেখে লোকে আশ্চর্য় হয়ে যাবে|

দ্বিতীয় বিবরণ 28:46

তবে ঈশ্বর সতর্ক করলেন যে অভিশাপগুলোর সবচেয়ে খারাপ অংশ অন্য জাতিদের থেকে আসবে I

49 “তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য প্রভু বহু দূর থেকে এক জাতির আগমণ ঘটাবেন| তোমরা তাদের ভাষা বুঝবে না| ঈগল পাখী য়েমন আকাশ থেকে নেমে আসে তেমনি দ্রুত তারা আসবে| 
50 সেই সব লোক নিষ্ঠুর হবে| তারা বৃদ্ধদের বিষয়ে কোন চিন্তা করবে না এবং শিশুদের প্রতিও দযা করবে না| 
51 তারা তোমাদের পশু ও উত্পন্ন খাদ্য নিয়ে নেবে| তোমাদের ধ্বংস না করা পর্য়ন্ত তারা তোমাদের সর্বস্ব নিয়ে যাবে| তারা তোমাদের শস্য, দ্রাক্ষারস, তেল, গরু, মেষ ও ছাগলের কিছুই ছেড়ে যাবে না| তোমাদের ধ্বংস না করা পর্য়ন্ত তারা তোমাদের সর্বস্ব নিয়ে যাবে| 
52 “সেই জাতি তোমাদের নগরের চারিদিক ঘিরে তোমাদের আক্রমণ করবে| তোমরা কি মনে করছ নগরের চারিধারের শক্ত উঁচু প্রাচীর তোমাদের রক্ষা করবে? কিন্তু তারা ভেঙ্গে পড়বে| প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের, দেওয়া সেই দেশের সর্বত্র সমস্ত নগরগুলি শত্রুরা আক্রমণ করবে|

দ্বিতীয় বিবরণ 28:49-52

এটি খারাপ থেকে আরও খারাপের দিকে যাবে I 

63 “প্রভু তোমাদের মঙ্গল করে ও তোমাদের জাতির বৃদ্ধি সাধন করে য়েমন আনন্দ পেতেন, সেই একই ভাবে তিনি তোমাদের সর্বনাশ ও ধ্বংস দেখে আনন্দ পাবেন| তুমি য়ে দেশ অধিকার করতে যাচ্ছ, লোক তোমাদের সেই দেশ থেকে বের করে দেবে| 
64 আর প্রভু পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্য়ন্ত সমস্ত জাতির মধ্যে তোমাদের ছড়িয়ে দেবেন| সেখানে তোমরা কাঠ, পাথরের তৈরী এমন মূর্ত্তির পূজা করবে, যাদের পূজা তোমাদের পূর্বপুরুষরা কখনও করে নি| 
65 “এই সমস্ত জাতির মধ্যে তোমরা কোন শান্তি পাবে না এবং বিশ্রামের জায়গাও পাবে না| প্রভু তোমাদের মন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করবেন| তখন তোমাদের চোখ ক্লান্ত হয়ে পড়বে এবং তোমরা বিচলিত হয়ে পড়বে|

দ্বিতীয় বিবরণ 28:63-65

এই আশীর্বাদ এবং অভিশাপ সমূহ ঈশ্বর এবং ইস্রায়েলীয়দের মধ্যে বিধিবৎ চুক্তির দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল:

13 এই চুক্তির সাথে সাথেই প্রভু তোমাদের তাঁর নিজস্ব বিশেষ লোক করবেন এবং তিনি তোমাদের ঈশ্বর হবেন| তিনি তোমাদের যা বললেন তার প্রতিজ্ঞা তিনি তোমাদের পূর্বপুরুষ অব্রাহাম, ইসহাক ও যাকোবের কাছে করেছিলেন| 
14 প্রভু এই চুক্তি ও তাঁর প্রতিজ্ঞাসকল কেবল তোমাদের সাথেই করছেন না| 
15 এই চুক্তি তিনি আমরা যারা সকলে তাঁর সামনে আজ দাঁড়িয়ে আছি তাদের সঙ্গে এবং আমাদের উত্তরপুরুষরা যারা আজ এখানে নেই তাঁদের সাথেও করছেন|

দ্বিতীয় বিবরণ 29:13-15

এই নিয়ম সন্তানগণ, বা ভবিষ্যত প্রজন্ম সমূহের উপরে বাধ্য হবে I প্রকৃতপক্ষে এই নিয়মকে ভবিষ্যত প্রজন্মদের প্রতি নির্দেশিত করা হয়েছিল – ইস্রায়েলীয় এবং বিদেশী উভয়ের ক্ষেত্রে I

22 “ভবিষ্যতে তোমাদের উত্তরপুরুষরা ও দূর দেশের বিদেশীরা দেখবে কিভাবে এই দেশ ধ্বংস হয়েছে| প্রভু কিভাবে বিভিন্ন রোগ এনেছেন তাও তারা দেখবে| 
23 সমস্ত দেশ জ্বলন্ত গন্ধক ও লবনে ঢেকে যাওয়ায় আর ব্যবহারয়োগ্য থাকবে না| দেশে কিছুই বোনা হবে না, কিছুই বেড়ে উঠবে না, এমন কি জংলী গাছও না| প্রভু ক্রুদ্ধ হয়ে য়েভাবে সদোম, ঘমোরা, অদ্মা ও সবোযিম শহরগুলি ধ্বংস করেছিলেন সেই ভাবেই এই দেশ ধ্বংস হবে| 
24 “অন্যান্য সব জাতির লোকরা জিজ্ঞেস করবে, ‘প্রভু এই দেশের প্রতি কেন এমনটি করলেন? কেন তিনি এত ক্রুদ্ধ হলেন?’

দ্বিতীয় বিবরণ 29:22-24

উত্তর হবে:

25 উত্তর এই হবে, ‘প্রভু ক্রুদ্ধ কারণ ইস্রায়েলের লোকরা তাদের প্রভুর অর্থাত্‌ পূর্বপুরুষের ঈশ্বরের নিয়ম ত্যাগ করেছে| প্রভু তাদের মিশর দেশ থেকে বের করে আনার সময় য়ে চুক্তি করেছিলেন তা তারা আর পালন করে না| 
26 প্রভু য়ে সমস্ত দেবতার পূজা করতে নিষেধ করেছিলেন, যাদের পূজা তারা আগে কখনও করে নি, ইস্রায়েলের লোকরা সেই অন্যান্য দেবতার সেবা করেছে| 
27 সেই কারণেই প্রভু এই দেশের লোকদের প্রতি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হলেন| আর তাই তিনি পুস্তকে লেখা সমস্ত অভিশাপ তাদের উপর আনলেন| 
28 প্রভু তাদের প্রতি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ ও বিরক্ত হলেন, তাই তিনি তাদের দেশ থেকে বের করে দিয়ে অন্য এক দেশে রাখলেন, সেখানেই আজ তারা রয়েছে|’

দ্বিতীয় বিবরণ 29:25-28

আশীর্বাদ এবং অভিশাপগুলো কি ঘটেছিল?

আশীর্বাদগুলো আনন্দদায়ক ছিল, এবং অভিশাপগুলো ভয়ংকর ছিল, তবে সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ প্রশ্ন আমরা যা জিজ্ঞাসা করতে পারি তা হ’ল: ‘সেগুলো কি ঘটেছিল?’ হিব্রু বেদার অধিকাংশ ইস্রায়েলীয় ইতিহাসের নথিভুক্ত তাই আমরা তাদের অতীতকে জানি I এছাড়া আমাদের কাছে পুরনো নিয়মের বাইরে ঐতিহাসিক নথি সমূহ এবং অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক কীর্তিস্তম্ভ আছে I তারা সকলে ইস্রায়েলীয় বা যিহূদি ইতিহাসের এক সামঞ্জস্যপূর্ণ চিত্র অঙ্কন করে I একটি কালপঞ্জির মাধ্যমে এটিকে এখানে দেওয়া হ’ল I এটিকে পড়ুন এবং নিজের জন্য মূল্যায়ন করুন মশির অভিশাপগুলো সত্য হয়েছে কিনা I এটি ব্যাখ্যা করে কেন যিহূদি গোষ্ঠী সমূহ (অর্থাৎ মিজোরামের মনশি: সন্তান) 2700 বছর আগে থেকে শুরু করে ভারতে বাস করতে আগমন করেছিল I অশুরিয় এবং বাবিলোনিয়ান বিজয় সমূহের ফলে গণ নির্বাসনের পরে তারা ভারতবর্ষ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল – ঠিক যেভাবে মশি সাবধান করেছিলেন I

মশির আশীর্বাদ এবং অভিশাপ সমূহের সমাপ্তি 

মশির চূড়ান্ত বাক্য সমূহ অভিশাপের সঙ্গে শেষ হয় নি I এখানে যেভাবে মশি তার চূড়ান্ত ঘোষণা করলেন I 

“আমি তোমাদের আশীর্বাদ ও অভিশাপ সম্বন্ধে যা যা বললাম সেই সব যখন তোমাদের ওপর ঘটবে এবং প্রভু তোমাদের য়ে সব বিভিন্ন জাতির মধ্যে ছড়িয়ে দেবেন, সেখানে যদি এই সব বিষয়ে চিন্তা করে 
তুমি ও তোমার সন্তানরা প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের, কাছে ফিরে আসো অর্থাত্‌ যদি তোমরা তাঁকে তোমাদের সমস্ত হৃদয় এবং সমস্ত আত্মা দিয়ে অনুসরণ কর এবং তাঁর সব আজ্ঞাগুলি – যা কিছু আমি আজ দিয়েছি, তোমরা সেগুলির প্রতি সম্পূর্ণভাবে বাধ্য থাক, 
তবে প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের প্রতি করুণা করবেন| প্রভু আবার তোমাদের মুক্ত করবেন| তিনি তোমাদের য়ে সব জাতির মধ্যে পাঠিয়ে ছিলেন সেখান থেকে আবার ফিরিয়ে আনবেন| 
এমন কি তোমরা যদি পৃথিবীর দূরতম প্রান্তেও গিয়ে থাকো, প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, সেখান থেকে তোমাদের সংগ্রহ করবেন| 
তোমাদের পূর্বপুরুষদের য়ে দেশ ছিল, প্রভু সেই দেশে তোমাদের ফিরিয়ে আনবেন এবং সেই দেশ তোমাদের অধিকারে আসবে| প্রভু তোমাদের মঙ্গল করবেন এবং পূর্বপূরুষদের চাইতেও তোমাদের অধিক হবে| তোমাদের জাতির লোকসংখ্যা এমন বৃদ্ধি পাবে যা আগে কখনও হয় নি| 

দ্বিতীয় বিবরণ 30:1-5

সহস্রাধিক বছর ধরে নির্বাসনে থাকার পরে, 1948 সালে – আজকের দিনে অনেক জীবিতদের জীবনকালের মধ্যে – সংযুক্ত রাষ্ট্রের প্রস্তাবের থেকে ইস্রায়েলের আধুনিক রাষ্ট্রের পুনর্জন্ম হ’ল এবং যিহূদিরা বিশ্বের চতুর্দিকের রাষ্ট্র সমূহের  থেকে ইস্রায়েলে ফিরে আসতে শুরু করল – ঠিক যেমনভাবে মশি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন I ভারতবর্ষে আজকে, কোচিন, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং মিজোরামের সহস্র বছরের যিহূদি সম্প্রদায় সমূহের সংখ্যা তাদের পৈতৃক ভূমিতে ফিরে যাওয়ার সাথে সাথে দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে I কেবলমাত্র 5000 যিহূদি ভারতে রয়ে গেছে I মশির আশীর্বাদ সমূহ আমাদের চোখের সামনে পূর্ণ হচ্ছে, যেমন নিশ্চিতরূপে অভিশাপগুলো যেভাবে তাদের ইতিহাসকে রূপ দিয়েছিল I   

আমাদের জন্য এটির মধ্যে অনেক তাত্পর্য আছে I প্রথমত, আশীর্বাদ এবং অভিশাপ সমূহের কাছে ঈশ্বরের থেকে তাদের কতৃত্ব এবং ক্ষমতা ছিল I মশি কেবলমাত্র একজন আলোকিত বার্তাবাহক – ভাববাদী ছিলেন I ঘটনা হল যে এই অভিশাপ এবং আশীর্বাদগুলো হাজর হাজার বছর অবধি পৌঁছেছে, বিশ্বের সমস্ত জাতি সমূহ জুড়ে, এবং কোটি কোটি লোকেদের প্রভাবিত করেছে (ইস্রায়েলে যিহূদিদের প্রত্যাবর্তন অশান্তির সৃষ্টি করেছে – নিয়মিতভাবে ঘটনা ঘটিয়ে বিশ্বব্যাপী শিরোনাম তৈরী করছে) – যা স্বাক্ষ্য হয় যে এই ঈশ্বরের কাছে পরাক্রম এবং কর্তৃত্ব আছে যা বাইবেল (বেদা পুস্তকম) বলে তার আছে I সেই একই হিব্রু বেদে  তিনি এছাড়াও প্রতিশ্রুতি দিলেন ‘যে পৃথিবীর উপরে সমস্ত লোকেরা’ আশির্বাদিত হবে I ‘পৃথিবীর উপরে সমস্ত লোক’ আপনাকে এবং আমাকে অন্তর্ভুক্ত করে I পুনরায় আব্রাহামের পুত্রের বলিদানের মধ্যে, ঈশ্বর পুনরাবৃত্তি করলেন যে ‘সমস্ত জাতি সমূহ আশির্বাদিত হবে’ I ওই বলিদানের আকর্ষণীয় অবস্থান এবং বিবরণ কিভাবে এই আশীর্বাদ পাওয়া যায় তা জানতে আমাদের সাহায্য করে I এই আশীর্বাদগুলোকে এখন মিজোরাম, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং কেরালা থেকে প্রত্যাবর্তনকারী যিহূদিদের উপরে ঢেলে দেওয়া হচ্ছে যা একটি চিহ্ন যে ঈশ্বর ভারতের সমস্ত রাজ্যগুলোকে এবং বিশ্বের অন্য জাতি সমূহের লোকেদের সমানভাবে আশীর্বাদ দিতে চান এবং পারেন যেমন তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ছিলেন I আমাদের অভিশাপের মধ্যে আমাদেরকেও যিহূদিদের মতন আশীর্বাদ প্রদান করা হয়েছে I আশীর্বাদের উপহারকে গ্রহণ কেন করি না?

ওম কিপ্পুর – মূল দূর্গা পূজা

দূর্গা পূজা (বা দুর্গোৎসব) 6 থেকে 7 দিন ধরে আশ্বিন (আশ্বিন) মাসে  দক্ষিন এশিয়ার অধিকাংশ অঞ্চল জুড়ে উদযাপন করা হয় I অসুর মহিষাসুরের বিরুদ্ধে তার প্রাচীন যুদ্ধে দেবী দুর্গার বিজয়কে স্মরণ করতে এটি উদযাপন করা হয় I অনেক শ্রদ্ধালু উপলব্ধি করে না যে এটি অধিকতর ওম কিপ্পুর (বা প্রায়শ্চিত্তের দিন) নামক প্রাচীন উৎসবের সাথে মেলে, যেটি 3500 বছর পূর্বে আরম্ভ হয় এবং হিব্রু বছরের মধ্যে সপ্তম সৌর মাসের দশম দিনে উদযাপন করা হয় I এই উৎসব সমূহের উভয়ই প্রাচীন, উভয়ই একই দিনে পড়ে (তাদের পারস্পরিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী I হিন্দু এবং হিব্রু ক্যালেন্ডার সমূহের কাছে বিভিন্ন বছরের মধ্য তাদের অতিরিক্ত লিপ–মাস থাকে, যাতে তারা সর্বদা পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডারের সঙ্গে মেলে না তবে তারা উভয়ই সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যে সর্বদা ঘটে) উভয়ই ত্যাগ সমূহকে জড়িত করে, এবং উভয়ই মহান বিজয় সমূহকে স্মরণ করে I কিছু পার্থক্যগুলো সমানভাবে উল্লেখযোগ্য I

প্রায়শ্চিত্তের দিনের প্রবর্তন

মশি এবং তার ভাই হারোণ ইস্রায়েলীয়দের নেতৃত্ব দিল এবং যীশুর প্রায় 1500 বছর পূর্বে ব্যবস্থা পেলেন 

আমরা ভাববাদী মশিকে অনুসরণ করলাম যিনি ইস্রায়েলীয়দের (হিব্রু বা যিহূদিগণ) দাসত্ব থেকে বার করতে নেতৃত্ব দিলেন এবং কলি যুগে ইস্রায়েলীয়দের গাইড করতে দশ আজ্ঞা সমূহ পেলেন I পাপের দ্বারা প্রবৃত্ত হওয়া একজন ব্যক্তির পক্ষে ওই দশ আজ্ঞা সমূহ অত্যন্ত কঠোর, অসম্ভব I এই আজ্ঞা সমূহকে একটি বিশেষ বাক্সের মধ্যে রাখা হয়েছিল, যাকে নিয়মের সিন্দুক বলা হয় I নিয়মের সিন্দুক এক বিশেষ মন্দিরের মধ্যে ছিল যাকে সর্বোচ্চ পবিত্র স্থান বলা হয় I  

হারোণ, মশির ভাই, এবং তার বংশধর সমূহ যাজক সমূহ ছিলেন যারা প্রায়শ্চিত্ত করতে বা লোকেদের পাপ সমূহকে আচ্ছাদন করতে এই মন্দিরের মধ্যে বলি উৎসর্গ করেছিলেন I বিশেষ বলি চড়ানো হয়েছিল ওম কিপ্পুরের উপরে – প্রায়শ্চিত্তের দিনে I এগুলো আজকের দিনে আমাদের জন্য মূল্যবান শিক্ষা, এবং  প্রায়শ্চিত্তের দিনকে (ওম কিপ্পুর) দূর্গা পূজার অনুষ্ঠান সমূহের সাথে তুলনা করে আমরা অনেক কিছু জানতে পারি I  

প্রায়শ্চিত্তের দিন এবং বলির পাঁঠা 

হিব্রু বেদা, অর্থাৎ বাইবেল আজকে, মশির সময় থেকে প্রায়শ্চিত্তের দিনের বলিদান এবং রীতিগুলো সম্বন্ধে মূল্যবান নির্দেশ সমূহ দিয়েছে I আমরা দেখি কিভাবে এই নির্দেশগুলো আরম্ভ হয়:

১ হারোণের দুই পুত্র প্রভুর কাছে উপস্থিত হয়ে মারা ইস্রায়েলেবার পর প্রভু মোশিকে বললেন,
২ “তোমার ভাই হারোণের সঙ্গে কথা বলো, তাকে বলো যে সে তার ইচ্ছা মত যে কোন সমযে পর্দার পিছনে পবিত্রতম জায়গায় যেতে পারে না| চুক্তির পবিত্র সিন্দুকটি ঐ পর্দার পিছনের ঘরে আছে| ঐ পবিত্র সিন্দুকটির মাথায় আছে বিশেষ ধরণের আচ্ছাদন| আমি ঐ বিশেষ আচ্ছাদনের ওপর মেঘের মধ্যে আবির্ভূত হই| যদি হারোণ ঐ ঘরে ঢোকে সে মারা যেতে পারে|

লেবীয় 16:1-2 

মহা যাজক হারোণের দুই পুত্র মারা গেল যখন তারা অসম্মানজনকভাবে সর্বোচ্চ  পবিত্র স্থান মন্দিরে প্রবেশ করল যেখানে সদাপ্রভুর উপস্থিতি ছিল I সেই পবিত্র উপস্থিতিতে দশ আজ্ঞা সমূহকে পালন করার ব্যর্থতা তাদের মৃত্যুর ফলস্বরূপ হ’ল I   

তাই সতর্কমূলক নির্দেশগুলো দেওয়া হল, পুরো বছরের মধ্যে কেবলমাত্র একটি দিন সহ যখন মহা যাজক সর্বাধিক পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতে পারে – প্রায়শ্চিত্তের দিনে I যদি তিনি অন্য কোনো দিন পবেশ করতেন, তবে তিনি মারা যেতেন I তবে এমনকি এই এক দিনে, নিয়মের সিন্দুকের উপস্থিতিতে প্রবেশ করতে পারার পূর্বে, তাকে করতে হত:

৩ “পাপের প্রাযশ্চিত্তের দিন হারোণ অবশ্যই পাপমোচনের নৈবেদ্যর জন্য একটি ষাঁড় এবং হোমবলির জন্য একটি পুরুষ মেষ উত্সর্গ করবে| পবিত্রতম জায়গায় প্রবেশ করার আগেই হারোণ এটা করবে|
৪ হারোণ অবশ্যই তার দেহ জলে ধৌত করবে| তারপর সে এই সমস্ত পোশাক পরবে; হারোণকে অতি অবশ্যই পবিত্র লিনেন জামা পরতে হবে| লিনেনের অন্তর্বাসসমূহ তার দেহে থাকবে| সে তার চারপাশে লিনেনের বেল্ট ব্যবহার করবে এবং লিনেনের পাগড়ী পরবে| ঐগুলি হল পবিত্র পোশাক|

লেবীয় 16:3-4 

দূর্গা পূজার সপ্তমীর দিনে, দুর্গাকে প্রাণ প্রতিষ্ঠার দ্বারা মূর্তির মধ্যে আহ্বান করা  হয় এবং মূর্তিকে স্নান করিয়ে বস্ত্র দ্বারা সজ্জিত করা হয় I এছাড়া ওম কিপ্পুরও স্নান প্রক্রিয়াকে জড়িত করেছিল তবে ইনি মহা যাজক ছিলেন যাকে স্নান করানো হত এবং সর্বোচ্চ পবিত্র স্থানে, দেব-দেবীর কাছে নয়, প্রবেশ করাতে প্রস্তুত করা হত I সদাপ্রভু ঈশ্বরকে ডাকা – সারা বছর ধরে সর্বোচ্চ পবিত্র স্থানে তার উপস্থিতি অপ্রয়োজনীয় ছিল I পরিবর্তে এই উপস্থিতির সম্মুখীন হতে প্রস্তুত হওয়ার প্রয়োজন ছিল I যাজককে স্নান এবং বস্ত্র দ্বারা সজ্জিত করানোর পরে পশুদেরকে বলিদানের জন্য নিয়ে আসতে হত

৫ “ইস্রায়েলের লোকদের কাছ থেকে হারোণ দুটি পুরুষ ছাগল পাপমোচনের নৈবেদ্যর জন্য এবং একটি পুরুষ মেষ হোমবলির জন্য নেবে|
৬ তারপর হারোণ ষাঁড়টিকে পাপ মোচনের নৈবেদ্য হিসেবে উপহার দেবে| পাপ মোচনের নৈবেদ্যটি তার নিজের জন্য| নিজেকে এবং তার পরিবারকে পবিত্র করার জন্য হারোণ অবশ্যই এটা করবে|  I 

লেবীয় 16:5-6 

হারোণের নিজের পাপের জন্য আচ্ছাদন বা প্রায়শ্চিত্ত করতে, একটি ষাঁড়কে বলি দেওয়া হত I দূর্গা পূজার সময়ে মাঝে মাঝে ষাঁড় বা ছাগলের বলিদান করা হয় I যাজকের নিজের পাপকে আচ্ছাদন করতে ওম কিপ্পুরের জন্য ষাঁড়ের বলিদান একটি বিকল্প ছিল না I ষাঁড়ের বলিদানের সাহায্যে যদি তিনি তার পাপের আচ্ছাদন না করতেন তবে যাজক মারা যেতেন I   

তার ঠিক অব্যবহিত পরে, যাজক দুটি ছাগলের সম্বন্ধে উল্লেখযোগ্য আচরণবিধি  অনুষ্ঠিত করতেন I 

৭ “তারপর হারোণ ছাগল দুটি নেবে এবং তা সমাগম তাঁবুর ঢোকার দরজার মুখে প্রভুর সামনে আনবে।
৮ হারোণ ছাগল দুটির জন্য ঘুঁটি চাললে একটা হবে প্রভুর জন্য, অপরটি হবে অজাজেলের জন্য।
৯ “তারপর ঘুঁটি চেলে যে ছাগলটি প্রভুর জন্য নির্বাচিত হয় হারোণ অবশ্যই সেটিকে পাপ মোচনের নৈবেদ্য হিসাবে উত্সর্গ করবে।

লেবীয় 16:7-9 

তার নিজের পাপের জন্য একবার ষাঁড়ের বলিদান হয়ে গেলে, যাজক ছাগল দুটিকে নিয়ে গুলিবাঁট করতেন I একটি ছাগলকে বলির পাঁঠা রূপে সঙ্গায়িত করা হত I অন্য ছাগলটিকে পাপবলি রূপে উৎসর্গ করা হত I কেন?  

১৫ “তারপর হারোণ লোকদের জন্য পাপ মোচনের নৈবেদ্যর ছাগলটিকে হত্যা করে সেই রক্ত পর্দার আড়ালের ঘরটিতে আনবে। ষাঁড়ের রক্ত নিয়ে ইস্রায়েলে করেছিল, ছাগলটির রক্ত নিয়ে হারোণ ঠিক তাই করবে। হারোণ অবশ্যই ছাগলের রক্ত বিশেষ আচ্ছাদনের ওপর এবং আচ্ছাদনের সামনে ছিটিয়ে দেবে।
১৬ এইভাবে সে ঐ পবিত্রতম জায়গাটিকে ইস্রায়েলের লোকদের তাদের অশুচিতা, বিরুদ্ধাচরণ এবং তাদের কৃত সমস্ত পাপ থেকে শুচি করবে। হারোণকে সমাগম তাঁবুর জন্য এই সমস্ত কিছু করতে হবে, কারণ এটা অশুচি লোকদের মাঝখানে আছে।

লেবীয় 16:15-16 

বলির পাঁঠাটির ক্ষেত্রে কি ঘটল?

২০ “পবিত্রতম স্থান, সমাগম তাঁবু এবং বেদীকে পবিত্র করার পর হারোণ জীবন্ত ছাগলটি প্রভুর কাছে আনবে।”
২১ হারোণ তার হাত দুটি জীবন্ত ছাগলের মাথায় রাখবে এবং তার ওপর ইস্রায়েলের লোকদের পাপ ও অপরাধগুলি স্বীকার করবে। এইভাবে হারোণ লোকদের পাপসমূহকে ছাগলের মাথায় চাপাবে। তারপর সে ছাগলটাকে মরুভূমিতে পাঠাবে। একজন মানুষ নিযুক্ত করা হবে এবং সে ছাগলটিকে নিয়ে ইস্রায়েলেওযার জন্য তৈরী থাকবে।
২২ সুতরাং ছাগলটা নিজের ওপর সমস্ত মানুষের পাপ বয়ে নিয়ে খোলা মরুভূমিতে চলে ইস্রায়েলেবে। যে মানুষটি ছাগলটিকে নিয়ে ইস্রায়েলেবে সে তাকে মরুভূমিতে ছেড়ে দিয়ে আসবে।

লেবীয় 16:20-22 

ষাঁড়ের বলিদান হারোণের নিজের পাপের জন্য ছিল I প্রথম ছাগলের বলিদান ইস্রায়েলীয় লোকেদের পাপের জন্য ছিল I হারোণ তারপর জীবিত বলির পাঁঠাটির মস্তকের উপরে হস্তার্পণ করতেন এবং – প্রতীকাত্মক রূপে – বলির পাঁঠার উপরে লোকেদের পাপ সমূহকে প্রত্যার্পণ করতেন I তারপরে ছাগলটিকে প্রান্তরে ছেড়ে দেওয়া হত একটি চিহ্ন রূপে যেন লোকেদের পাপ সমূহ এখন লোকেদের থেকে দূরে অপসারিত হয়েছে I এই বলিদান সমূহের সাথে তাদের পাপ সমূহের প্রায়শ্চিত্ত হত I এটি প্রত্যেক বছর প্রায়শ্চিত্তের দিনে করা হত কেবলমাত্র সেই দিনে I 

প্রায়শ্চিত্তের দিন এবং দূর্গা পূজা 

ঈশ্বর কেন প্রতি বছর এই দিনে উৎসব উদযাপন করতে আজ্ঞা দিয়েছিলেন? এটি কি বোঝাতে চেয়েছিল? দূর্গা পূজা সেই সময়কে পেছনে ফিরে দেখে যখন দূর্গা মহিষ দানব মহিষাসুরকে পরাস্ত করেছিলেন I এটি অতীতের একটি ঘটনাকে স্মরণ করে I এছাড়া প্রায়শ্চিত্তের দিনটিও বিজয়কে স্মরণ করত তবে এটি ভবিষ্যদ্বাণীপূর্ণ ছিল যার মধ্যে এটি মন্দের উপরে একটি ভবিষ্যত বিজয়কে দেখেছিল I যদিও প্রকৃত পশুদের বলি দেওয়া হত, তবুও তারা প্রতীকাত্মক  ছিল I বেদা পুস্তকম (বাইবেল) সেটিকে ব্যাখ্যা করে    

৪ কারণ বৃষের কি ছাগের রক্ত পাপ দূর করতে পারে না।

ইব্রীয় 10:4 

প্রায়শ্চিত্তের দিনে বলিদানগুলো যেহেতু যাজক এবং শ্রদ্ধালুদের পাপ সমূহকে প্রকৃতপক্ষে হরণ করতে পারত না, তবে কেন প্রতি বছর তাদেরকে উৎসর্গ  করা হত? বেদা পুস্তকম (বাইবেল) ব্যাখ্যা করে 

১ ভবিষ্যতে য়ে সকল উত্‌কৃষ্ট বিষয় আসবে, বিধি-ব্যবস্থা হচ্ছে তারই অস্পষ্ট ছায়া মাত্র। বিধি-ব্যবস্থা ঐসব বিষয়ের বাস্তবরূপ নয়। তাই যাঁরা ঈশ্বরের উপাসনা করতে আসে, বছর বছর তারা একই রকম বলিদান বারবার করে, কিন্তু বিধি-ব্যবস্থা সেই লোকদের সিদ্ধি দিতে পারে না।
২ বিধি-ব্যবস্থা যদি পারত, তবে ঐ বলিদান কি শেষ হত না? কারণ যাঁরা উপাসনা করে তারা যদি একবার শুচি হয় তবে তাদের পাপের জন্য নিজেকে আর দোষী ভাববার প্রযোজন নেই। কিন্তু বিধি-ব্যবস্থা তা করতে সক্ষম নয়।
৩ ঐসব লোকের বলিদান বছর বছর তাদের পাপের ক্ষমা স্মরণ করিয়ে দেয়,

ইব্রীয় 10:1-3 

বলিদান সমূহ যদি পাপগুলোকে ধুয়ে ফেলতে পারত, তবে সেগুলোর পুনরাবৃত্তির প্রয়োজন হত না I কিন্তু তাদেরকে বছরের পর বছর পুনরাবৃত্তি করা হত, যা দেখায় যে সেগুলো কার্যকর ছিল না I   

তবে যখন যীশু খ্রীষ্ট (যেশু সৎসংগ) স্বয়ংকে এক বলিদান রূপে উৎসর্গ করলেন তখন এটির সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন ঘটল I  

৫ সেইজন্যই খ্রীষ্ট এ জগতে আসার সময় বলেছিলেন:‘তুমি বলিদান ও নৈবেদ্য চাও নি, কিন্তু আমার জন্য এক দেহ প্রস্তুত করেছ।
৬ তুমি হোমে ও পাপার্থক বলিদান উত্‌সর্গে প্রীত নও।
৭ এরপর তিনি বললেন, ‘এই আমি! শাস্ত্রে আমার বিষয়ে য়েমন লেখা আছে, হে ঈশ্বর দেখ, আমি তোমার ইচ্ছা পূর্ণ করতেই এসেছি।’গীতসংহিতা ৪০:৬-৮

ইব্রীয় 10:5-7 

তিনি নিজেকে বলি রূপে উৎসর্গ করতে এসেছিলেন I এবং যখন তিনি করলেন  

… যীশু খ্রীষ্টের দেহ একবার সকলের জন্য উৎসর্গ করণের দ্বারা আমরা পবিত্রীকৃত হয়েছি I 

১০ ঈশ্বরের ইচ্ছানুসারেই তিনি এই কাজ সমাপ্ত করেছেন। এইজন্যই খ্রীষ্ট তাঁর দেহ একবারেই চিরকালের জন্য উত্‌সর্গ করেছেন যাতে আমরা চিরকালের জন্য পবিত্র হই।

ইব্রীয় 10:10 

দুটি ছাগলের বলিদান প্রতীকাত্মকরূপে ভবিষ্যতের বলিদান এবং যীশুর বিজয়ের দিকে সংকেত দিচ্ছিল I তিনি বলিসংক্রান্ত ছাগল ছিলেন যেহেতু তাকে বলি দেওয়া হয়েছিল I এছাড়াও তিনি বলির পাঁঠা ছিলেন, যেহেতু তিনি বিশ্বব্যাপী সম্প্রদায়ের সমস্ত পাপ সমূহকে গ্রহণ করলেন এবং সেগুলোকে আমাদের থেকে দূরে অপসারণ করলেন, যাতে আমরা পরিস্কৃত হতে পারি I  

প্রায়শ্চিত্তের দিন কি দূর্গা পূজা ঘটিয়েছিল?

ইস্রায়েলের ইতিহাসের মধ্যে আমরা দেখেছি প্রায় 700 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে কিভাবে ইস্রায়েলের থেকে নির্বাসন ভারতে পৌঁছতে আরম্ভ করল, ভারতের শিক্ষা এবং ধর্মে অনেক অবদান করল I এই ইস্রায়েলীয়রা প্রত্যেক বছর সপ্তম মাসের দশম দিনে প্রায়শ্চিত্তের দিন উদযাপন করে থাকত I সম্ভবতঃ, ঠিক যেমন তারা ভারতের বিশেষ ভাষা সমূহে অবদান করল, ঠিক তেমনি তারা তাদের প্রায়শ্চিত্তের দিনকে অবদান করল যা দূর্গা পূজায় পরিণত হল, মন্দের উপরে এক মহান বিজয়ের উপরে স্মরণ I এটি দূর্গা পূজার আমাদের ঐতিহাসিক উপলব্ধির সাথে খাপ খায়, যা 600 খ্রীষ্টপূর্বাব্দের আশেপাশে উদযাপিত হতে আরম্ভ করল I     

কবে প্রায়শ্চিত্তের দিনের বলিদান সমূহ শেষ হ’ল  

যীশুর (যেশু সৎসংগ) বলিদান আমাদের স্বপক্ষে কার্যকর এবং পর্যাপ্ত ছিল I ক্রুশের (33 খ্রীষ্টাব্দ) উপরে যীশুর বলিদানের পরে শীঘ্রই রোমীয়রা 70 খ্রীষ্টাব্দে সর্বোচ্চ পবিত্র স্থানের সাথে মন্দিরকে ধ্বংস করল I তখন থেকে যিহূদিরা আর কখনও প্রায়শ্চিত্তের দিনে কোনো বলি উৎসর্গ করল না I আজ, যিহূদিরা উপবাসের একটি বিষন্ন দিনকে পালন করার দ্বারা এই উৎসবটি উদযাপন করে I ঠিক যেমন বাইবেল ব্যাখ্যা করে, একবার যখন কার্যকর বলিদান উৎসর্গ করা হ’ল তখন বাৎসরিক বলিদান চালিয়ে যাওয়ার আর কোনো প্রয়োজন ছিল না I তাই ঈশ্বর এটিকে বন্ধ করলেন I  

দূর্গা পূজার মধ্যে প্রতিমূর্তি এবং প্রায়শ্চিত্তের দিন 

দূর্গা পূজা দুর্গার একটি প্রতিমূর্তির আহ্বানে জড়িত থাকে যাতে মূর্তির মধ্যে দেবী বাস করে I প্রায়শ্চিত্তের দিন আসন্ন বলিদানের একটি ভবিষ্যদ্বাণী ছিল এবং কোনো প্রতিমূর্তিকে আহ্বান করে নি I সর্বোচ্চ পবিত্র স্থানের মধ্যে ঈশ্বর অদৃশ্য ছিলেন এবং তাই কোনো প্রতিমূর্তি ছিল না I  

তবে সফল বলিদানের সময়ে, বহু বছর ধরে প্রায়শ্চিত্তের অনেক দিন আগেই  একজন যেদিকে ইঙ্গিত করেছিল, সেখানে একট প্রতিমূর্তিকে আহ্বান করা   হয়েছিল I যেমন বেদা পুস্তকম (বাইবেল) ব্যাখ্যা করে   

১৫ কেউই ঈশ্বরকে দেখতে পায় না; কিন্তু যীশুই অদৃশ্য ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি এবং সমস্ত সৃষ্টির প্রথমজাত।

কলসীয় 1:15 

সফল বলিদানের সময়ে, অদৃশ্য ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিকে আহ্বান করা হয়েছিল এবং মানব যীশু হবে বলে দেখানো হয়েছিল I  

মূল্য গণনা করা 

আমরা বেদা পুস্তকমের (বাইবেল) মধ্য দিয়ে যাচ্ছি I আমরা দেখেছি ঈশ্বর কিভাবে তার পরিকল্পনাকে প্রকাশ করতে বিভিন্ন চিহ্ন সমূহ দিয়েছেন I প্রারম্ভে তিনি আসন্ন ‘সে’ সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন I এটি ভাববাদী আব্রাহামের বলিদান, নিস্তারপর্বের বলিদানের পরে এলো, এবং এছাড়া প্রায়শ্চিত্তের দিনের পরেও I ইস্রায়েলীয়দের উপরে মশির আশীর্বাদ এবং অভিশাপ সমূহ বাকি রইল I এটি তাদের ইতিহাসকে সঞ্চালন করত, পৃথিবী ব্যাপী ইস্রায়েলীয়দের বিচ্ছিন্ন করে, এমনকি ভারতের মধ্যেও, যেমন এখানে ব্যাখ্যা করা হয়েছে

কালী, মৃত্যু এবং নিস্তারপর্বের চিহ্ন

কালী সাধারণতঃ মৃত্যুর দেবী বলে পরিচিত, তবে আরও সঠিকভাবে সংস্কৃত শব্দ কাল অর্থাৎ সময় থেকে আসে | কালীর বিগ্রহ ভীতিজনক কারণ তাকে সাধারণতঃ ছিন্ন মুণ্ডমালা এবং ছিন্ন হস্ত সমূহ সহ ঘাগড়া পরিহিত এক হস্তে রক্ত চুঁইয়ে পড়া সদ্যখন্ডিত মস্তক ধারণকারী, সাথে তার স্বামী শিবের শায়িত শরীরের উপরে একটি চরণ স্থাপনকারী রূপে চিত্রিত করা হয় | মৃত্যু সম্পর্কে হিব্রু বেদ – বাইবেলের অন্য একটি কাহিনীকে কালী আমাদের বুঝতে সাহায্য করে |     

শিবের শায়িত শরীরের উপরে দন্ডায়মান কালী ছিন্ন মুন্ড এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের দ্বারা সুসজ্জিত

কালী সম্বন্ধে পুরাণ বর্ণনা করে যে অসুর রাজ মহিষাসুর দেবতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের হুমকি দিল । তাই তারা তাদের সত্তা সমূহের থেকে কালীকে সৃষ্টি   করল । কালী অসুর-সৈন্যদের মাঝখান দিয়ে নির্মমভাবে ছড়িয়ে পড়লেন সকলকে সংহার করলেন যারা তার রাস্তায় এলো । অসুর রাজ মহিষাসুররের সঙ্গে তার লড়াইয়ে যুদ্ধের পরিণতি ছিল যে এক হিংস্র মুখোমুখি সংঘর্ষে তাকে তিনি সংহার করলেন । কালী তার শত্রুদের রক্তাক্ত শারীরিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মধ্য দিয়ে ধ্বংস করলেন, কিন্তু রক্তপাতের মধ্যে এতটাই মত্ত হয়ে গেলেন যে তিনি নিজেকে মৃত্যু ও ধ্বংসের পথ থেকে থামাতে পারলেন না । দেবতারা নিশ্চিত ছিলেন না যে কিভাবে তাকে থামানো যাবে যতক্ষণ না শিব রণ ক্ষেত্রের মধ্যে সজ্ঞাহীন হয়ে স্বৈচ্ছিকভাবে শুয়ে পড়লেন । তাই কালী যখন তার মৃত শত্রুদের মুণ্ড এবং হস্ত সমূহ দ্বারা সজ্জিত হয়ে শায়িত শিবের উপরে পা রাখলেন এবং তার দিকে দৃষ্টিপাত করলেন তিনি তার চেতনায় ফিরে এলেন এবং ধ্বংসলীলা শেষ হল ।         

হিব্রু বাইবেলের নিস্তারপর্বের বিবরণ কালী ও শিবের কাহিনীকে প্রতিবিম্বিত  করে I নিস্তারপর্বের কাহিনী একজন দুতকে নথিভুক্ত করে যে, কালীর মতন, এক মন্দ রাজার বিরুদ্ধে ব্যাপক মৃত্যু নিয়ে আসে I কালীকে থামাতে শিবের দ্বারা একটি আক্রম্য অবস্থান নেওয়ার মতন এই মৃত্যুর দূতকে, যে কোনো গৃহের থেকে আটকে রাখা হয় যেখানে একজন অসহায় মেষ শাবককে বলি দেওয়া হয় I প্রাজ্ঞজনেরা আমাদের বলে যে কালীর এই কাহিনী অহংবোধের  উপরে বিজয়কে সম্পর্কযুক্ত করে I এছাড়াও নিস্তারপর্বের কাহিনীর মধ্যে একটি অর্থ রয়েছে যা নাসরতীয় যীশুর – যেশু সৎসংগের – আগমন এবং তার অহংকারকে পরিত্যাগ করার নম্রতা এবং আমাদের হয়ে নিজের বলিদানকে  নির্দেশ করে I নিস্তারপর্বের কাহিনীটি জানার যোগ্য I           

যাত্রাপুস্তক নিস্তারপর্ব

আমরা দেখলাম তার পুত্রের জন্য কিভাবে ভাববাদী আব্রাহামের বলিদান একটি চিহ্ন ছিল যা যীশুর বলিদানের দিকে নির্দেশ করল I আব্রাহামের পরে, তার বংশধররা তার এই পুত্র ইসহাকের মাধ্যমে, ইস্রায়েলীয়দের ডাকলো, এক বিশাল সংখ্যক লোকে পরিণত হ’ল কিন্তু সাথে সাথে মিসরের দাসও হ’ল I   

অতএব আমরা এখন এক অত্যন্ত নাটকীয় সংগ্রামের মধ্যে এসেছি যাকে ইস্রায়েলীয়দের নেতা মশি কর্ত্তৃক গৃহীত হয়েছিল যেটিকে বাইবেলের যাত্রাপুস্তকে হিব্রু বেদের মধ্যে নথিভুক্ত করা হয়েছে I এটি আব্রাহামের পরে 1500 খ্রীষ্টপূর্বাব্দের আশেপাশে নথিভুক্ত করে কিভাবে মশি ইস্রায়েলীয়দের 500 বছরের মিসরের দাসত্ব থেকে বার করে নিয়ে এল I মিশরের (শাসক) ফৌরণের মুখোমুখি হতে সৃষ্টিকর্তার দ্বারা মশিকে আজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল এবং এটি দুজনের মধ্যে এক দ্বন্দে পরিণত করল যা মিসরের উপরে নটি মহামারী বা বিপর্যয় নিয়ে এলো I কিন্তু ফৌরণ ইস্রায়েলীয়দের মুক্ত হয়ে যেতে সম্মতি দিল না তাই ঈশ্বর দশম এবং চূড়ান্ত মহামারী আনতে যাচ্ছিলেন I দশম মহামারীর সম্পূর্ণ বিবরণটি এখানে রয়েছে I   

ঈশ্বর আদেশ জারি করলেন যে দশম মহামারীর জন্য মৃত্যুর এক দূত (আত্মা) মিসরে সমস্ত গৃহ সমূহের মধ্য দিয়ে যাবে I সমগ্র দেশ ব্যাপী প্রতিটি গৃহে প্রত্যেক প্রথমজাত পুত্র একটি নির্দিষ্ট রাত্রে মারা যাবে কেবল তারা ছাড়া যারা সেই গৃহে থাকবে যেখানে একটি মেষ শাবকের বলির রক্ত ওই গৃহের দরজার চৌকাঠে লাগিয়ে দেওয়া হবে I ফরৌণের দণ্ড, যদি সে না মানে এবং মেষ শাবকের রক্ত তার দরজার চৌকাঠে না লাগায়, তবে তার পুত্র এবং সিংহাসনের অধিকারী মারা যাবে I আর মিসরের প্রত্যেকটি গৃহ তার প্রথমজাত পুত্রকে হারাবে – যদি উৎসর্গকৃত একটি মেষ শাবকের রক্ত দরজার চৌকাঠে লাগানো না হয় I মিশর জাতীয় বিপর্যয়ের সম্মুখীন হ’ল I      

কিন্তু গৃহগুলোর মধ্যে উৎসর্গকৃত একটি মেষ শাবকের রক্তকে দরজার চৌকাঠে লাগিয়ে দেওয়া হলে প্রতিশ্রুতি ছিল যে প্রত্যেকে নিরাপদ থাকবে I মৃত্যুর দূত সেই গৃহকে ছেড়ে যাবে I তাই সেই দিনটিকে নিস্তারপর্ব বলে অভিহিত করা হ’ল (যেহেতু মৃত্যু সমস্ত গৃহকে দরজার চৌকাঠে মেষ শাবকের রক্ত লাগানোর জন্য নিস্তার দিল) I    

নিস্তার পর্বের চিহ্ন

যারা এই কাহিনীটিকে শুনেছে তারা মনে করে যে দরজার উপরে রক্ত মৃত্যুর দুতের জন্য একটি চিহ্ন ছিল I কিন্ত 3500 বছর পূর্বে লিখিত বিবরণ থেকে গৃহীত বিস্ময়কর ঘটনাটিকে দেখুন I 

সদাপ্রভু মশিকে বললেন …” … আমি সদাপ্রভু I তোমরা যে গৃহে থাক তার উপরে রক্ত [নিস্তার পর্বের মেষ শাবকের] একটি তোমার জন্য চিহ্ন হবে; আর আমি যখন রক্ত দেখব, আমি তোমাদেরকে ছেড়ে এগিয়ে যাব

যাত্রাপুস্তক 12:13

যদিও ঈশ্বর দরজার উপরে রক্তের খোঁজ করছিলেন, এবং যখন তিনি এটি দেখলেন মৃত্যু ছেড়ে এগিয়ে যাবে, তখন ঈশ্বরের জন্য রক্ত একটি চিহ্ন ছিল  না I এটি অত্যন্তু স্পষ্টভাবে বলে, যে রক্ত একটি ‘তোমার জন্য চিহ্ন’ ছিল – লোকেদের জন্য I এছাড়া এটি আমাদের জন্যও একটি চিহ্ন যারা এই বিবরণটিকে পড়ে I কিন্তু এটি কিরূপে একটি চিহ্ন হয়? পরবর্তীকালে সদাপ্রভু তাদের আজ্ঞা দিলেন:

27 তখন তোমরা বলবে, ‘এই নিস্তারপর্ব প্রভুকে সম্মান জানাবার জন্য| কেন? কারণ যখন আমরা মিশরে ছিলাম তখন প্রভু আমাদের ইস্রায়েলবাসীদের বাড়ীগুলিকে নিস্তার দিয়েছিলেন| প্রভু মিশরীয়দের হত্যা করেছিলেন কিন্তু আমাদের লোকদের বাড়ীগুলো রক্ষা করেছিলেন| সুতরাং লোকে নত হয়ে প্রভুর উপাসনা করল|”

যাত্রা পুস্তক 12:24-27
Jewish man with lamb at Passover

নিস্তারপর্বের মেষশাবকের সাথে যিহূদি লোকটি

প্রতি বছর একই দিনে নিস্তারপর্ব উদযাপন করতে ইস্রাযেলীয়দের আজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, এটি হিন্দু ক্যালেন্ডারের মতন একটি চান্দ্র ক্যালেন্ডার, তাই এটি পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডারের থেকে একটু আলাদা, এবং পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডার অনুসারে প্রতি বছর উৎসবের দিন পরিবর্তিত হয় I কিন্তু আজ পর্যন্ত, 3500 বছর পরেও, যিহূদি লোকেরা এই ঘটনাকে স্মৃতি এবং তাদের প্রতি প্রদত্ত সেই আজ্ঞার বাধ্যতা অনুসারে তাদের বছরের সেই একই দিনে নিস্তারপর্বের উদযাপনকে একটি উৎসব রূপে পালন করে আসছে I      

নিস্তারপর্বের চিহ্ন প্রভু যীশুর দিকে ইঙ্গিত করছে

ইতিহাসের মাধ্যমে এই উৎসবটির উপরে নজর রাখতে গিয়ে আমরা একেবারে  অসাধারণ কিছু লক্ষ্য করি I সুসমাচারের মধ্যে আপনি এটি দেখতে পারেন যেখানে এটি যীশুর গ্রেফতার এবং বিচারের বর্ণনা করে (সেই প্রথম নিস্তারপর্বের মহামারীর 1500 বছর পরে):  

28 এরপর তারা যীশুকে কায়াফার বাড়ি থেকে রাজ্যপালের প্রাসাদে নিয়ে গেল৷ তখন ভোর হয়ে গিয়েছিল৷ তারা নিজেরা রাজ্যপালের প্রাসাদের ভেতরে য়েতে চাইল না, পাছে অশুচিহয়ে পড়ে, কারণ তারা নিস্তারপর্বের ভোজ খেতে

চাইছিল৷যোহন 18:28

39 কিন্তু তোমাদের এমন এক রীতি আছে, সেই অনুসারে নিস্তারপর্বের সময়ে একজন বন্দীকে মুক্তি দিয়ে থাকি৷ বেশ তোমাদের কি ইচ্ছা, আমি তোমাদের জন্য ‘ইহুদীদের রাজাকে’

ছেড়ে দেব?’যোহন 18:39

অন্য কথায়, যিহূদি ক্যালেন্ডারের ঠিক সেই নিস্তারপর্বের দিনে যীশুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং ক্রুশারোপনের জন্য পাঠানো হয়েছিল I যীশুকে দেওয়া শিরোনামগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল 

 29 পরের দিন য়োহন যীশুকে তাঁর দিকে আসতে দেখে বললেন, ‘ঐ দেখ, ঈশ্বরের মেষশাবক, যিনি জগতের পাপরাশি বহন করে নিয়ে যান!
30 ইনিই সেই লোক, য়াঁর বিষয়ে আমি বলেছিলাম, ‘আমার পরে একজন আসছেন, কিন্তু তিনি আমার থেকে মহান, কারণ তিনি আমার অনেক আগে থেকেই আছেন৷’

যোহন 1:29-30

এখানে আমরা দেখি আমাদের জন্য নিস্তারপর্ব কিরূপে একটি চিহ্ন হয় I ‘ঈশ্বরের মেষ শাবক’ যীশু, ক্রুশারোপিত হলেন (অর্থাৎ উৎসর্গ করা হল) বছরের বিশেষ একই দিনে যেমন সমস্ত যিহূদিগণ প্রথম নিস্তারপর্বের স্মৃতিতে একটি মেষ শাবককে উৎসর্গ করছিল যা 1500 বছর পূর্বে ঘটেছিল I এটি দুটি ছুটির বাৎসরিক সময়ের ব্যাখ্যা করে যা প্রত্যেক বছর পুন: পুন: ঘটে I যিহূদিদের নিস্তারপর্বের উৎসব প্রতি বছর প্রায় ইষ্টারের সময়ে ঘটে – একটি ক্যালেন্ডার পরীক্ষা করে দেখুন I(যিহূদি ক্যালেন্ডারের মধ্যে চান্দ্র-ভিত্তিক লিপ বছরের চক্রের জন্য প্রতি 19 বছরে একটি মাসের একটি অপসারণ হয়)I এই জন্যই প্রতি বছর ইষ্টার সরে যায় কারণ এটি নিস্তারপর্বের উপরে ভিত্তিশীল, আর নিস্তারপর্ব যিহূদি ক্যালেন্ডারের সময় অনুসারে নির্ধারিত হয় যার হিসাব  পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডারের থেকে আলাদা I           

এখন এক মিনিটের জন্য ভাবুন ‘চিহ্নগুলো’ কিসের জন্য I আপনি এখানে নিচে কিছু চিহ্ন দেখতে পারেন I 

Flag_of_India

 

ভারতবর্ষের একটি চিহ্ন

Signs

 

বানিজ্যিক চিহ্নগুলো আমাদেরকে ম্যাকডোনাল্ডস এবং নাইক সম্পর্কে ভাবায়

পতাকা একটি চিহ্ন বা ভারতবর্ষের প্রতীক I আমরা কেবলমাত্র কমলা এবং একটি সবুজ রঙের ফিতে ঘেরা একটি সমকোণী চতুর্ভুজকে ‘দেখি’ না I না. আমরা যখন পতাকাটি দেখি আমরা ভারতবর্ষের কথা ভাবি I ‘সোনার তোরণের’ চিহ্ন আমাদেরকে ম্যাকডোনাল্ডসের সম্বন্ধে ভাবায় I নাদালের মাথার ফিতের উপরে ‘√’ চিহ্ন নাইকের জন্য I নাইক চায় আমরা তাদের জন্য চিন্তা করি যখন আমরা নাইকের উপরে এই চিহ্ন দেখি I অভীষ্ট বস্তুর প্রতি আমাদের মনের মধ্যে ভাবনাকে নির্দেশ করার জন্য চিহ্নগুলো নির্দেশক সমূহ হয় I     

যাত্রাপুস্তকের হিব্রু বেদের নিস্তারপর্বের বিবরণ সুস্পষ্টভাবে বলল যে চিহ্নটি  লোকেদের জন্য ছিল, সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বরের জন্য নয় (যদিও তিনি তখনও রক্ত এবং গৃহের নিস্তারের দিকে লক্ষ্য রেখেছিলেন যাতে তিনি এটিকে দেখতে পান) I এই চিহ্নগুলোর সাথে সাথে, তিনি আমাদের কি ভাবাতে চেয়েছিলেন যখন আমরা নিস্তারপর্বের দিকে দেখি? যীশুর সাথে সাথে একই দিনে মেষ শাবকদের উৎসর্গ হওয়ার উল্লেখযোগ্য সময়ের সাহায্যে, এটি যীশুর বলিদানের প্রতি একটি নির্দেশক হয় I   

এটি আমাদের মনের মধ্যে কার্য করে যেমন আমরা নিচে দেখিয়েছি I চিহ্নটি আমাদেরকে যীশুর বলিদানের প্রতি ইঙ্গিত দেয় I

passover-and-jesus

নিস্তারপর্বের সময়ে যীশুর বলিদানের নির্ভুল সময়টি একটি চিহ্ন

সেই প্রথম নিস্তারপর্বে মেষ শাবকদের বলি দেওয়া হয়েছিল এবং রক্ত ছড়ানো হয়েছিল যাতে লোকেরা বাঁচতে পারে I আর এইরূপে, যীশুর প্রতি ইঙ্গিতকারী এই চিহ্ন হল আমাদের বলতে যে তাঁকে ‘ঈশ্বরের মেষ শাবককে’, আবারও মৃত্যুতে একটি বলি রূপে উৎসর্গীকৃত করা হল এবং তাঁর রক্ত ছড়িয়ে পড়ল যাতে আমরা জীবন পেতে পারি

আব্রাহামের চিহ্নর মধ্যে স্থানটি ছিল পর্বত মোরিয়া যেখানে তার পুত্রের বলিদানের মাধ্যমে আব্রাহামকে পরীক্ষা করা হয়ছিল I একটি মেষ শাবক মারা গেল তাই আব্রাহামের পুত্র বাঁচতে পারল I

The Sign of Abraham was pointing to the location

আব্রাহামের চিহ্ন স্থানটির দিকে নির্দেশ করছিল

পর্বত মোরিয়া বিশেষ একই স্থান ছিল যেখানে যীশুকে উৎসর্গ করা হয়েছিল I স্থানটির প্রতি ইঙ্গিত করার দ্বারা আমাদেরকে তার মৃত্যুর অর্থ দেখাবার জন্য ওটি  একটি চিহ্ন ছিল I নিস্তারপর্বের মধ্যে যীশুর বলিদানের প্রতি আর একটি নির্দেশককে দেখি – বছরের মধ্যে একই দিনকে ইঙ্গিত করার দ্বারা I মেষ শাবকের বলিদানকে আর একবার ব্যবহার করা হল – দেখায় যে এটি একটি ঘটনার কেবল একটি সমাপতন নয় – বরং যীশুর বলিদানের দিকে নির্দেশ করে I দুটি ভিন্ন উপায়ে (স্থান এবং সময়ের মাধ্যমে) পবিত্র হিব্রু বাইবেলের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উৎসবগুলোর মধ্যে দুটি যীশুর বলিদানের দিকে সরাসরিভাবে ইঙ্গিত করে I ইতিহাসের মধ্যে আমি এমন কোনো ব্যক্তির সম্বন্ধে ভাবতে পারি না যার মৃত্যু সম্বন্ধে এই ধরণের নাটকীয় কায়দার মধ্যে এই প্রকারের সমান্তরাল সমূহের দ্বারা এমনভাবে পূর্বাভাস দেওয়া  হয়েছে I আপনি কি পারেন?

এই চিহ্নগুলো দেওয়া হয়েছে যাতে আমাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস থাকতে পারে যে যীশুর বলিদান প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরের দ্বারা পরিকল্পিত এবং অভিষিক্ত হয়েছিল I একটি চিত্রকে দেওয়ার জন্য এটি ছিল যা আমাদের দৃষ্টিগোচর করতে সাহায্য করে কিভাবে যীশুর বলিদান মৃত্যুর থেকে আমাদের রক্ষা করে এবং পাপের থেকে আমাদের শুদ্ধ করে – সকলের কাছে ঈশ্বরের উপহার যারা এটিকে গ্রহণ করবে I     

দশ আজ্ঞা: কলি যুগের করোনা জীবানুর পরীক্ষার মতন

সাধারনভাবে এটিকে স্বীকার করে নেওয়া হয় যে আমরা কলি যুগে অথবা কলির যুগে বাস করছি I চারটি যুগের মধ্যে এটি শেষ যুগ, যা সত্য, ত্রেতা, এবং দ্বাপর যুগের সাথে শুরু হয় I এই চারটি যুগের মধ্যে যেটি সাধারণ সেটি হল সত্য যুগের (সত্যযুগ) পর থেকে এক অবিচল নৈতিক এবং সামাজিক অবক্ষয়, আমাদের বর্তমান  কলি যুগ পর্যন্ত নেমে এসেছে I   

মহাভারতের মধ্যে মার্কন্ড কলি যুগের মানবীয় আচরণ সম্পর্কে এইভাবে বর্ণনা  করেন:

ক্রোধ, কোপ এবং অজ্ঞানতা বৃদ্ধি পাবে

ধর্ম, সত্যবাদিতা, স্বচ্ছতা, সহিষ্ণুতা, দয়া, শারীরিক শক্তি এবং স্মৃতি শক্তি প্রতি দিন যাওয়ার সাথে সাথে হ্রাস পাবে I .

লোকেরা কোনো রকম ন্যায্যতা ছাড়াই হত্যার চিন্তা করবে এবং তার মধ্যে কোনো অন্যায় দেখবে না I 

কামপ্রবৃত্তিকে সামাজিক গ্রহনযোগ্য বলে দেখা হবে এবং যৌন সম্ভোগ জীবনের কেন্দ্রীয় প্রয়োজনীয়তা রূপে লক্ষিত হবে I  

পাপ ব্যাখ্যামূলকভাবে বৃদ্ধি পাবে, যখন সদগুণ ম্লান হবে এবং ক্ষান্ত হতে থাকবে I

লোকেরা উত্তেজক পানীয় এবং মাদক দ্রব্যের প্রতি আসক্ত হবে I

গুরুদের আর শ্রদ্ধা করা হবে না এবং তাদের ছাত্ররা তাদের আহত করতে প্রচেষ্টা করবে I তাদের শিক্ষাকে অপমান করা হবে, এবং কাম মনের উপরে নিয়ন্ত্রণকে সমস্ত মানবজাতি থেকে ছিনিয়ে নেবে I

সমুদয় মানবজাতি দেবতাকে স্বয়ং রূপে বা দেবতাদের প্রদত্ত বরদানকে নিজেদের দান বলে ঘোষণা করবে এবং শিক্ষাদানের পরিবর্তে এটিকে ব্যবসা রূপে প্রস্তুত করবে I 

লোকেরা আর বিবাহিত হবে না এবং কেবল যৌন সুখের জন্য একে অপরের সঙ্গে বসবাস করবে I 

মশি এবং দশ আজ্ঞা সমূহ

হিব্রু বেদ আমাদের বর্তমান যুগকে অনেকটা একইভাবে বর্ণনা করে I আমাদের পাপের প্রতি প্রবনতার কারণে, ঈশ্বর মশিকে নিস্তারপর্বের সাথে তাদের মিসর থেকে পলায়ন করার কিছুদিন পরে দশটি আজ্ঞা দিলেন I ইস্রায়েলীয়দের মিসর থেকে বার করার নেতৃত্ব দেওয়া মশির কেবলমাত্র লক্ষ্য ছিল না বরং এক নতুন জীবন যাত্রার প্রতি তাদেরকে চালিত করাও লক্ষ্য ছিল I মিসর থেকে ইস্রায়েলীয়দের উদ্ধারকারী নিস্তারপর্বের 50 দিন পরে মশি তাদের সীনয় (হোরেব পর্বতও) পর্বতে নিয়ে গেলেন যেখানে তারা ঈশ্বরের থেকে ব্যবস্থা পেলেন I কলি যুগের সমস্যা সমূহকে উদঘাটন করতে কলি যুগে এই ব্যবস্থা পাওয়া গেল I 

মশি কি কি আজ্ঞা সকল পেলেন? যদিও সম্পূর্ণ ব্যবস্থা বেশ দীর্ঘ, তবুও মশি প্রথমে পাথরের ফলকে ঈশ্বরের দ্বারা লিখিত এক গুচ্ছ নৈতিক আজ্ঞা সমূহ পেলেন, যা দশ আজ্ঞা সমূহ (বা দশ আদেশ) বলে পরিচিত I এই দশটি আজ্ঞা ব্যবস্থার সংক্ষিপ্তসারকে রচনা করল – ক্ষুদ্রতর বিবরণের পূর্বে নৈতিক ধর্ম – এবং সেগুলো এখন কলি যুগের সাধারণ মন্দতাগুলোর বিষয়ে অনুতাপ করতে আমাদেরকে রাজি করতে ঈশ্বরের সক্রিয় শক্তি হয় I  

দশ আজ্ঞা সমূহ

এখানে পাথরের উপরে ঈশ্বরের দ্বারা লিখিত দশ আজ্ঞা সমূহের সম্পূর্ণ তালিকা রয়েছে, পরে মশির দ্বারা হিব্রু বেদের মধ্যে নথিভুক্ত করা হয়েছে I 

খন ঈশ্বর এই সব কথা বললেন:
2 “আমিই প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর| আমিই তোমাদের মিশরের দাসত্ব থেকে মুক্ত করেছি| তাই তোমরা এই নির্দেশগুলি মানবে:
3 “আমাকে ছাড়া তোমরা আর কোনও দেবতাকে উপাসনা করবে না|
4 “তোমরা অবশ্যই অন্য কোন মূর্তি গড়বে না য়েগুলো আকাশের, ভূমির অথবা জলের নীচের কোন প্রাণীর মত দেখতে|
5 কোন মূর্ত্তির উপাসনা বা সেবা করবে না| কারণ, আমিই প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর| যারা অন্য দেবতার উপাসনা করবে তাদের আমি ঘৃণা করি| আমার বিরুদ্ধে যারা পাপ করবে তারা আমার শত্রুতে পরিণত হবে| এবং আমি তাদের শাস্তি দেব| আমি তাদের সন্তানসন্ততি এবং পরবর্তী প্রজন্মকেও শাস্তি দেব|
6 কিন্তু যারা আমায ভালবাসবে ও আমার নির্দেশ মান্য করবে তাদের প্রতি আমি সর্বদা দযালু থাকব| আমি তাদের হাজার প্রজন্ম পর্য়ন্ত দযা প্রদর্শন করব|”
7 “তোমরা তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের নাম ভুল ভাবে ব্যবহার করবে না| যদি কেউ তা করে তাহলে সে দোষী এবং প্রভু তাকে নির্দোষ সাব্যস্ত করবেন না|
8 “বিশ্রামের দিনটিকে বিশেষ দিন হিসাবে মনে রাখবে|
9 সপ্তাহে ছয় দিন কাজ করো|
10 কিন্তু সপ্তমদিনটি হবে অবসরের| প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের প্রতি সম্মান প্রর্দশনের দিন| সুতরাং সেই দিনে কেউ কাজ করবে না-তুমি নয়, অথবা তোমার ছেলেরা এবং মেয়েরা, অথবা তোমার স্ত্রী, অথবা তোমার ক্রীতদাস-দাসীরা কেউ নয়| এমনকি তোমাদের গৃহপালিত পশু এবং তোমাদের শহরে বাস করা বিদেশীরাও বিশ্রামের দিনে কোন কাজ করবে না|
11 কারণ প্রভু সপ্তাহে ছয় দিন কাজ করে এই আকাশ, পৃথিবী, সমুদ্র এবং এর মধ্যস্থিত সব কিছু বানিয়েছেন এবং সপ্তমদিনে তিনি বিশ্রাম নিয়েছেন| এইভাবে বিশ্রামের দিনটি প্রভুর আশীর্বাদ ধন্য – ছুটির দিন| প্রভু এই দিনটিকে বিশেষ দিন হিসাবে সৃষ্টি করেছেন|
12 “তুমি অবশ্যই তোমার পিতামাতাকে সম্মান করবে, তাহলে তোমরা তোমাদের দেশে দীর্ঘ জীবনযাপন করবে| য়েটা প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের দিচ্ছেন|
13 “কাউকে হত্যা কোরো না|
14 “ব্যাভিচার কোরো না|
15 “চুরি কোরো না|
16 “অন্যদের সম্বন্ধে মিথ্যা বোলো না|
17 “তোমাদের প্রতিবেশীর ঘরবাড়ীর প্রতি লোভ কোরো না| তার স্ত্রীকে ভোগ করতে চেও না| এবং তার দাস-দাসী, গবাদি পশু অথবা গাধাদের আত্মসাত্‌ করতে চেও না| অন্যদের কোন কিছুর প্রতি লোভ কোরো না|”

যাত্রাপুস্তক20:1-17

দশ আজ্ঞা সমূহের মানদণ্ড

আজকের দিনে আমরা মাঝে মাঝে ভুলে যাই যে এগুলো আজ্ঞার সমষ্টি I এগুলো প্রস্তাব সমূহ নয় I নাতো সেগুলো সুপারিশ সমূহ I কিন্তু কত দূর পর্যন্ত আমাদেরকে এই আজ্ঞা সমূহকে মান্য কতে হয়? দশ আজ্ঞা সমূহ দেওয়ার ঠিক পূর্বে নিম্নলিখিতটি আসে

 3 তারপর মোশি পর্বতে উঠল ঈশ্বরের সঙ্গে সাক্ষাত্‌ করার উদ্দেশ্যে| সেই পর্বতে ঈশ্বর মোশিকে ডেকে বললেন, “ইস্রায়েলের লোকজন ও মহান যাকোব পরিবারের লোকজনকে একথাগুলি বলো:
4 তোমরা নিজেরাই দেখেছ আমি মিশরীয়দের কি অবস্থা করেছি| তোমরা দেখেছো আমি কিভাবে ঈগল পাখীর মতো মিশর থেকে তোমাদের বের করে আমার কাছে এখানে নিয়ে এসেছি|
5 তাই এখন আমি তোমাদের আমার নির্দেশগুলো মেনে চলতে বলছি| আমার চুক্তি পালন করো| তোমরা যদি তা করো তাহলে তোমরা হবে আমার বিশেষ লোক| এই পুরো পৃথিবীটাই আমার; কিন্তু আমি তোমাদের আমার বিশেষ লোক হিসেবে মনোনীত করেছি|

যাত্রাপুস্তক 19:3,5

দশ আজ্ঞা সমূহ দেওয়ার ঠিক পরে এটিকে দেওয়া হয়েছিল

 7 মোশি তখন খাতাটি নিয়ে তাতে লেখা চুক্তিগুলি চেঁচিয়ে পড়তে থাকল| লোকরা তা শুনে বলে উঠল, “আমরা প্রভুর দেওয়া বিধিগুলি শুনেছি এবং আমরা তা মানতে রাজি আছি|”

যাত্রাপুস্তক24:7

মাঝে মাঝে স্কুলের পরীক্ষায়, শিক্ষক একাধিক প্রশ্ন দেন (উদাহরণস্বরূপ 20) কিন্তু পরে কেবল কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন হয় I উদাহরণস্বরূপ, উত্তর দিতে 20টির মধ্যে আমরা যে কোনো 15টি প্রশ্ন চয়ন করতে পারি I প্রত্যেকটি ছাত্র 15টি সহজতম প্রশ্নের উত্তর দিতে তার জন্য তুলে নিতে পারে I এইভাবে পরীক্ষক পরীক্ষাকে সহজতর করে I   

অনেকে দশ আজ্ঞা সমূহের সম্পর্কে এইভাবে চিন্তা করে I তারা ভাবে যে ঈশ্বর, দশ আজ্ঞা দেওয়ার পরে, বোঝাতে চেয়েছেন, “এই দশটির থেকে তোমার পছন্দ মতন যে কোনো ছয়টিকে চেষ্টা কর” I আমরা এইভাবে চিন্তা করি কারণ আমরা কল্পনা করি ঈশ্বর আমাদের ‘উত্তম কার্যগুলোকে’ আমাদের ‘মন্দ কার্যগুলোর’ বিপরীতে ভারসাম্য বজার রাখছেন I যদি আমাদের উত্তম যোগ্যতাগুলো ওজনে অধিক হয় বা আমাদের মন্দ ত্রুটিবিচ্যুতিগুলোকে বাতিল করে তাহলে আমরা আশা করি যে ঈশ্বর লাভের পক্ষে এটি যথেষ্ট I  

যাইহোক, দশ আজ্ঞাগুলো সম্বন্ধে একটি সৎ অধ্যয়ন দেখায় যে কিরূপে এটিকে দেওয়া হয়েছিল সেটি কোনো বিষয় ছিল না I লোকেদেরকে সমুদয় আজ্ঞাগুলোকে মানতে এবং পালন করতে হবে – সর্বদা I এটির নিছক অসুবিধা অনেককে দশ আজ্ঞাগুলোকে খারিজ  করতে বাধ্য করেছে I কিন্তু কলি যুগের দ্বারা আনীত পরিস্থিতির জন্য সেগুলোকে কলি যুগে দেওয়া হয়েছিল I

দশ আজ্ঞা সমূহ এবং করোনা বীজাণুর পরীক্ষা

2020 সালের বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা বীজাণুর মহামারীর সঙ্গে তুলনা করার দ্বারা আমরা হয়ত কঠিন দশ আজ্ঞাগুলোর উদ্দেশ্যকে কলি যুগে ভালভাবে বুঝতে পারি I কোভিদ 19 জ্বর, কাশি এবং শ্বাস কষ্টের লক্ষণগুলো সহ একটি রোগ যেটি করোনা বীজাণুর দ্বারা সংক্রমিত হয় – এমন ক্ষুদ্র কিছু যাকে আমরা দেখতে পারি   না I    

ধরুন কেউ জ্বর বোধ করছে এবং কাশি আছে I এই ব্যক্তি আশ্চর্য বোধ করে সমস্যটা কি I তার কি সাধারণ জ্বর আছে বা তারা কি করোনা বীজাণুর দ্বারা  সংক্রমিত হয়েছে? যদি তাই হয় তবে এটি একটি গুরুতর সমস্যা – এমনকি জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ I যেহেতু করোনা জীবাণু দ্রুত ছড়ায় এবং এটির প্রকৃত সম্ভাবনা যে  প্রত্যেকে সহজেই প্রভাবিত হয় I অন্বেষণ করতে তারা একটি বিশেষ পরীক্ষা গ্রহণ করে যা নির্ধারণ করে তাদের শরীরে করোনার বীজাণু উপস্থিত আছে কি না I করোনা বীজাণুর পরীক্ষা তাদের রোগের থেকে সুস্থতা দেয় না, এটি তাদের কেবল বলে নিশ্চিতভাবে তাদের মধ্যে করোনা জীবাণু আছে কি না যার পরিণাম কোভিদ-19 হবে অথবা তাদের কেবল একটি সাধারণ জ্বর আছে I     

দশ অগ্জ্ঞাগুলোর সাথে এটি সেই একই রকম I কলি যুগে নৈতিক অবক্ষয়ের মতন 2020 সালের করোনা বীজাণু ততটাই প্রভাবশালী I সাধারণ নৈতিক পাপের এই যুগে আমরা জানতে চাই আমরা নিজেরা ধার্মিক কি না বা আমরাও পাপের দ্বারা কলঙ্কিত হয়েছি কি না I দশ আজ্ঞাগুলোকে দেওয়া হয়েছিল যাতে আমাদের জীবনকে তাদের বিপরীতে পরীক্ষা করে আমরা জানতে পারি আমরা পাপ এবং এর সাথে আসা কর্মের থেকে মুক্ত কি না, বা আমাদের উপরে পাপের কোনো কব্জা আছে কি না I দশ অজ্ঞাগুলো করোনা জীবাণুর পরীক্ষার মতন কার্য করে – যাতে করে আপনি জানতে পারেন আপনার মধ্যে রোগ (পাপ) আছে কি না বা আপনি এর থেকে মুক্ত কি  না I    

পাপের আক্ষরিক অর্থ ‘লক্ষ্যচ্যুত’ সেই লক্ষ্যের থেকে যাকে ঈশ্বর আমাদের থেকে আশা করেন কিভাবে আমরা অন্যদের, আমাদের নিজেদের এবং ঈশ্বরের সঙ্গে আচরণ   করি I কিন্তু আমাদের সমস্যাকে জানার পরিবর্তে আমাদের ইচ্ছা অনুযায়ী আমরা  হয় অন্যদের সাথে (ভুল মাপদণ্ডর বিপরীতে আমাদের পরিমাপ করা) নিজেদের তুলনা করি, ধার্মিক যোগ্যতা অর্জন করতে কঠিন প্রচেষ্টা করি, বা ছেড়ে দিই এবং আমোদ প্রমোদের জন্য কেবল বেঁচে থাকি I অতএব ঈশ্বর দশ আজ্ঞা সমূহ দিলেন যাতে করে:  

 20 কারণ বিধি-ব্যবস্থা পালন করলেই য়ে ঈশ্বরের সামনে ধার্মিক প্রতিপন্ন হওয়া যায় তা নয়, বিধি-ব্যবস্থা কেবল পাপকে চিহ্নিত করে৷

রোমীয়3:20

দশ আজ্ঞা সমূহের বিপরীতে আমরা যদি আমাদের জীবনকে পরীক্ষা করি তাহলে এটি করোনা বীজাণুর পরীক্ষা গ্রহণ করার মতন হয় যা আভ্যন্তরিক সমস্যাকে দেখায় I দশ আজ্ঞা সমূহ আমাদের সমস্যা ‘ঠিক’ করে না, কিন্তু সমস্যাটিকে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করে যাতে ঈশ্বরের দেওয়া সমাধানকে আমরা স্বীকার করি I অবিরত আত্মপ্রবঞ্চনায় চলতে থাকার পরিবর্তে, ব্যবস্থা আমাদেরকে নিখুঁতভাবে দেখতে অনুমতি দেয় I

অনুতাপের মধ্যে ঈশ্বরের বরদান দেওয়া হয়

ঈশ্বর যে সমাধান দিয়েছেন তা হ’ল যেশু সৎসংগ – যীশু খ্রীষ্টের মৃত্যু এবং পুনরুত্থানের মাধ্যমে পাপের ক্ষমার বরদান I জীবনের এই বরদানকে শুধুমাত্র তখনই  আমাদের দেওয়া হয় যদি আমরা যীশুর কার্যের উপরে ভরসা বা বিশ্বাস করি I   

16 প্রভু ঈশ্বর মানুষটিকে এই আদেশ দিলেন, “বাগানের য়ে কোনও বৃক্ষের ফল তুমি খেতে পারো|

গালাতীয় 2:16

যেমনভাবে ভাববাদী আব্রাহামকে ঈশ্বরের সামনে ধার্মিক প্রতিপন্ন করা হয়   আমাদেরকেও ধার্মিকতা দেওয়া যেতে পারে I কিন্তু এটার জন্য প্রয়োজন যে আমরা  অনুতাপ করি I অনুতাপকে প্রায়শই ভুল বোঝা হয়, কিন্তু অনুতাপের সরল অর্থ হ’ল ‘আমাদের মন পরিবর্তন করা’ পাপের থেকে মুখ ফেরানো এবং ঈশ্বর ও তার দেওয়া বরদানের দিকে মন ঘোরানকে অন্তর্ভুক্ত করে I বেদা পুশ্তকম (বাইবেল) যেমনভাবে ব্যাখ্যা করে:

 অতএব অনুশোচনা করুন এবং toশ্বরের দিকে প্রত্যাবর্তন করুন, যাতে আপনার পাপগুলি মুছে যায় এবং প্রভুর কাছ থেকে সতেজ হওয়ার সময় আসতে পারে,

প্রেরিতের কার্য 3:19

আপনার এবং আমার জন্য প্রতিশ্রুতি হ’ল যে আমরা অনুতাপ করি, ঈশ্বরের দিকে ফিরি, যাতে আমাদের বিরুদ্ধে আমাদের পাপের গণনা করা হবে না এবং আমরা জীবন পাব I ঈশ্বর, তাঁর মহান দয়ায়, কলি যুগে পাপের জন্য একটি পরীক্ষা এবং টীকা উভয়ই আমাদেরকে দিয়েছেন I   

পর্বতকে পবিত্র করার বলিদান

কৈলাশ পর্বত (বা কৈলাসা) ভারতের সীমার ঠিক ওপারে চীনের তিব্বতীয় অঞ্চলে একটি পর্বত I হিন্দু, বৌদ্ধ এবং জৈনরা কৈলাশ পর্বতকে একটি পবিত্র পর্বত রূপে গন্য করে I হিন্দুদের জন্য, কৈলাশ পর্বত স্ত্রী সঙ্গী, দেবী পার্বতী (উমা,গৌরী বলেও পরিচিত) এবং তাদের বংশধর প্রভু গনেশ (গণপতি বা বিনায়ক) সহ প্রভু শিবের (বা মহাদেব) নিবাস স্থান রূপে বিবেচনা করে I সহস্রাধিক হিন্দু এবং জৈন কৈলাশ পর্বতে তীথযাত্রা করে পবিত্র রীতিতে এর চতুর্দিকে ভ্রমণ করে এবং এর দেওয়া আশীর্বাদ গ্রহণ করে I   

কৈলাশে প্রভু শিব তার মস্তক ছিন্ন করে গনেশকে হত্যা করলেন যখন গনেশ তাকে পার্বতীকে তার স্নানের সময়ে দেখতে বাধা দিল I এইরূপে গনেশের সুপরিচিত কাহিনী শুরু হয় কিভাবে সে মৃত্যু থেকে শিবের কাছে ফিরল যখন একটি হাতির মস্তক তার ধড়ের উপরে স্থাপন করা হল I হাতি গনেশকে বলিসংক্রান্ত রূপে তার মস্তক দিতে গিয়ে মারা গেল তাই শিব মৃত্যুর থেকে তার পুত্রকে ফিরে পেতে পারল I এই বলিদান কৈলাশ পর্বতের উপরে ঘটল, এটিকে পবিত্র পর্বত রূপে তৈরী করলো যা আজকের দিনে বিদ্যমান I কিছুলোক এমনকি বিবেচনা করে যে কৈলাশ মেরু পর্বতের একটি নৈসর্গিক প্রকাশন বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের আধ্যাত্মিক এবং অধিবিদ্যামূলক কেন্দ্র I কৈলাশ পর্বতের মাধ্যমে মেরু পর্বত থেকে অনেক মন্দির এককেন্দ্রিক বৃত্ত সমূহের সাথে নির্মিত হয় চিহ্ন হিসাবে যা এই আধ্যাত্মিক কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করে

একটি পর্বতে উপরে বলিদানের মাধ্যমে মৃত্যু থেকে এক পুত্রকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা সম্বন্ধে ঈশ্বরের এই প্রকাশন আবারও একটি নমুনা যা আব্রাহামের দ্বারা অন্য একটি পর্বতের উপরে অভিজ্ঞতা লব্ধ হয় – মোরিয়া পর্বতে – তার পুত্রের সাথে I সে বলিদানও যেশু সৎসঙ্গের – যীশুর আসন্ন অবতারের মধ্যে একটি গভীর অধিবিদ্যামূলক বাস্তবতার দিকে নির্দেশ করে I হিব্রু বেদ আমাদের জন্য 4000 বছর পূর্বে শ্রী আব্রাহামের অভিজ্ঞতা সমূহকে বর্ণনা করতে থাকে I এটি সেই উপলব্ধিকে ঘোষণা করে যে এই চিহ্ন ‘সমস্ত জাতির’ প্রতি আশীর্বাদের প্রতিফল হবে – কেবল হিব্রুদের নয় I তাই কাহিনীটিকে জানা এবং এর তাত্পর্যকে বোঝা উপযুক্ত হয় I 

ভাববাদী আব্রাহামের বলিদানের চিহ্ন

আমরা দেখলাম কিভাবে আব্রাহামকে, অনেক দিন আগে, জাতিগণ সম্বন্ধে একটি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হল I আজকের যিহূদি এবং আরবরা আব্রাহামের থেকে এসেছিল, তাই আমরা জানি প্রতিশ্রুতিটি সত্য হ’ল এবং তিনি ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিক পালন করেছেন I আব্রাহামের এই প্রতিশ্রুতির উপরে বিশ্বাসের কারণে তাকে ধার্মিকতা দেওয়া হয়েছিল  –  তিনি মোক্ষ লাভ করলেন কঠোর যোগ্যতার মাধ্যমে নয় কিন্তু তিনি এটিকে এক উপহার রূপে গ্রহণ করলেন I     

কিছুদিন পরে, আব্রাহাম সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পুত্রকে পেল, ইসহাক (যার থেকে আজকের যিহূদিরা তাদের পূর্বপুরুষদের সন্ধান করে) ইসহাক এক যুবক পুরুষ হয়ে উঠল I কিন্তু তখন ঈশ্বর আব্রাহামকে এক নাটকীয়ভাবে পরীক্ষা করলেন I আপনারা এখানে সম্পূর্ণ বিবরণটি পড়তে পারেন আর আমরা এই রহস্যজনক পরীক্ষার অর্থটিকে উদঘাটন করতে মূল বিবরণগুলোর উপরে যাব – আমাদের বুঝতে সাহায্য করতে কিভাবে ধার্মিকতার জন্য মূল্য দেওয়া হবে I   

আব্রাহামের পরীক্ষা

পরীক্ষাটি একটি ভয়ংকর আজ্ঞা দিয়ে আরম্ভ হ’ল:

2 তখন ঈশ্বর বললেন, “তোমার একমাত্র পুত্র যাকে তুমি ভালবাস সেই ইসহাককে মোরিয়া দেশে নিয়ে যাও| সেখানে পর্বতগুলির মধ্যে একটির ওপরে তাকে আমার উদ্দেশ্যে বলি দাও| আমি তোমাকে বলব কোন পর্বতের ওপর তুমি তাকে বলি দেবে|”  

আদিপুস্তক 22:2

আব্রাহাম, আজ্ঞার বাধ্যতায় ‘পরের দিন ভোর বেলায় উঠলেন’ এবং ‘তিন দিন যাত্রার পরে’ তারা পর্বতে পৌছাল I তারপরে

  9 তাঁরা সেই স্থানটিতে পৌঁছলেন যেখানে ঈশ্বর য়েতে বলেছিলেন| সেখানে অব্রাহাম একটি বেদী তৈরী করলেন| বেদীর উপরে অব্রাহাম কাঠগুলো সাজালেন| তারপর অব্রাহাম তাঁর পুত্র ইসহাককে বাঁধলেন এবং বেদীর উপরে সাজানো কাঠগুলোর উপর তাকে শোয়ালেন|
10 এবার অব্রাহাম খাঁড়া বের করে ইসহাককে বলি দেওয়ার জন্যে তৈরী হলেন|      

আদিপুস্তক 22:9-10

আব্রাহাম আজ্ঞা পালন করতে অগ্রসর হলেন I কিন্তু তখন কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটল:

11 কিন্তু তখন প্রভুর দূত অব্রাহামকে বাধা দিলেন| সেই দূত স্বর্গ থেকে “অব্রাহাম, অব্রাহাম” বলে ডাকলেন|অব্রাহাম থেমে গিয়ে সাড়া দিলেন, “বলুন|”
12 দূত বললেন, “তোমার পুত্রকে হত্যা কোরো না, তাকে কোন রকম আঘাত দিও না| এখন আমি দেখতে পাচ্ছি, তুমি ঈশ্বরকে ভক্তি করো এবং তাঁর আজ্ঞা পালন করো| প্রভুর জন্যে তুমি তোমার একমাত্র পুত্রকে পর্য্ন্ত বলি দিতে প্রস্তুত|”
13 তখন অব্রাহাম একটা মেষ দেখতে পেলেন| একটা ঝোপে তার শিং আটকে গেছে| সুতরাং অব্রাহাম সেই মেষটা ধরে এনে বলি দিলেন| ঐ মেষটাই হল ঈশ্বরের জন্যে অব্রাহামের বলি| আর রক্ষা পেল অব্রাহামের পুত্র ইসহাক|    

আদিপুস্তক 22:11-13

অবশেষে ইসহাককে মৃত্যুর থেকে রক্ষা করা হল এবং আব্রাহাম একটি পুরুষ মেশকে দেখলেন এবং তার পুত্রের পরিবর্তে তাক বলি দিলেন I ঈশ্বর একটি মেষের যোগান দিয়েছিলেন এবং মেষটি ইসহাকের স্থান নিল I 

বলিদান: ভবিষ্যতের দিকে দেখছে  

আব্রাহাম তখন সেই স্থানটির নাম দেন: লক্ষ্য করুন তিনি এটার কি নাম  দেন I 

সুতরাং আব্রাহাম সেই স্থানটির নাম দিলেন ‘সদাপ্রভু যোগান দেবেন’ I আর আজকের দিন পর্যন্ত এটি বলা হয়, “সদাপ্রভুর পর্বতের উপরে এটির যোগান দেওয়া হবে I”

আদিপুস্তক 22:14

আব্রাহাম এটির নাম দিলেন ‘সদাপ্রভু যোগান দেবেন’ I এখানে একটি প্রশ্ন আছে I ওই নামটি কি অতীত কাল, বর্তমান কাল বা ভবিষ্যত কালে রয়েছে? এটি স্পষ্টভাবে ভবিষ্যত কালের মধ্যে রয়েছে I সমস্ত সন্দেহকে অপসারণ করতে অনুসৃত মন্তব্যটি পুনরাবৃত্তি করে “… এটিকে যোগান দেওয়া হবে” I এটি পুনরায় ভবিষ্যত কালের মধ্যে রয়েছে – এইরূপে আবারও ভবিষ্যতের দিকে দেখছে I কিন্তু এই নামকরণ ইসহাকের পরিবর্তে মেষটির (একটি পুরুষ মেষ) বলিদানের পরে ঘটল I অনেকে ভাবে যে আব্রাহাম, ওই স্থানটির নামকরণের সময়, ঝোপে বন্ধ সেই মেষকে উল্লেখ করছিল এবং সেই স্থানে তার পুত্রের পরিবর্তে বলি দিল I কিন্তু এটিকে ইতিমধ্যেই বলি দেওয়া হয়েছিল এবং এই মুহুর্তে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল I আব্রাহাম যদি মেষটির কথা ভাবছিল –  ইতিমধ্যেই মৃত, বলিতে উৎসর্গীকৃত এবং অগ্নিদ্বগ্ধ –  তিনি স্থানটির নামকরণ করে থাকতেন ‘সদাপ্রভু যোগান দিয়েছেন’ , অর্থাৎ অতীত কালে I আর মন্তব্যটি বলে থাকত ‘আর আজ পর্যন্ত এটা বলা হয় “সদাপ্রভুর পর্বতের উপরে এটিকে যোগান দেওয়া হয়েছিল” I কিন্তু আব্রাহাম এটিকে স্পষ্টভাবে অতীতকালে নাম দিয়েছিলেন আর তাই সেই ইতিমধ্যেই মৃত এবং উৎসর্গীকৃত মেষটির সম্বন্ধে ভাবছিল না I তিনি কিছু ভিন্ন বিষয়ের প্রতি আলোকিত হলেন I ভবিষ্যত সম্বন্ধে এমনকিছুর মধ্যে তার অন্তর্দৃষ্টি ছিল I কিন্তু কি?       

বলিদান কোথায় ঘটেছিল

মনে রাখবেন যে পর্বতটির দিকে আব্রাহামকে এই বলিদানের জন্য নির্দেশিত করা হয়েছিল তা ছিল:

তহন ঈশ্বর বললেন< তোমার পুত্রে নাও, একমাত্র পুত্র ইসহাক, যাকে তুনি ভালবাস, আর মোরিয়া অঞ্চলে যাও… 

পদ 2

এটি ‘মোরিয়ার’ মধ্যে ঘটল’ I কোথায় সেটা? আব্রাহামের সময়ে (2000 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ), যদিও এটি একটি প্রান্তরের অঞ্চল ছিল এক সহস্র বছর পরে (1000 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ), রাজা দায়ূদ সেখানে যিরূশালেম শহরের প্রতিষ্ঠা করলেন এবং তার পুত্র শলোমন সেখানে প্রথম মন্দির নির্মাণ করলেন I পুরনো নিয়মের ঐতিহাসিক বইগুলোর মধ্যে পরে আমরা পড়ি যে:

শলোমন জেরুজালেমে মোরিয়তা পর্বতে প্রভুর মন্দির নির্মাণ শুরু করেছিলেন, যেখানে প্রভু তাঁর পিতা দায়ূদের কাছে উপস্থিত হয়েছিল appeared

2 বংশাবলি 3:1

অন্য কথায়, আব্রাহামের আদি পুরনো নিয়মের সময়ে (4000 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) ‘পর্বত মোরিয়া’ প্রান্তরের মধ্যে একটি বিচ্ছিন্ন পর্বত শৃঙ্গ ছিল কিন্তু 1000 বছর পরে দায়ূদ এবং শলোমনের মাধ্যমে এটি ইস্রালীয়দের কেন্দ্রীয় শহরে পরিণত হল যেখানে তারা সৃষ্টিকর্তার কাছে মন্দির নির্মাণ করলেন I আজকের এই বিশেষ সময়ে যিহূদি লোকেদের জন্য এটি একটি পবিত্র স্থান এবং ইস্রায়েলের রাজধানী I    

যীশু – যেশু সৎসংগ – এবং আব্রাহামের বলিদান 

নতুন নিয়মের মধ্যে যীশুর শিরোনাম সম্বন্ধে এখন ভাবুন I তাঁর সঙ্গে যুক্ত যীশুর কাছে অনেকগুলো শিরোনাম ছিল I হয়ত সর্বাধিক সুপরিচিত শিরোনাম হচ্ছে ‘খ্রীষ্ট’ I কিন্ত তাকে আর একটি শিরোনাম দেওয়া হয়েছিল যেটি আবারও গুরুত্বপূর্ণ I আমরা এটিকে যোহনের সুসমাচারে দেখি যখন বাপ্তিস্মদাতা যোহন তাঁর সম্বন্ধে বলেন: 

পরের দিন জন (অর্থাৎ জন ব্যাপটিস্ট জন) যীশুকে (অর্থাত্ যীশু সত্তাং) তাঁর দিকে আসতে দেখলেন এবং বললেন, ‘দেখুন Godশ্বরের মেষশাবক, যিনি জগতের পাপকে সরিয়ে নিয়ে যান। এটিই আমি বোঝাতে চেয়েছি যখন আমি বলেছিলাম ‘আমার পরে যে ব্যক্তি আসবে সে আমাকে ছাড়িয়ে গেছে কারণ সে আমার আগে ছিল’

যোহন 1:29 30

অন্য কথায়, যীশু ‘ঈশ্বরের মেষশাবক’ রূপে পরিচিত I এখন যীশুর জীবনের শেষ বিচার করুন I কোথায় তিনি গ্রেফতার এবং ক্রুশারোপিত হয়েছিলেন? এটি যিরূশালেমে ছিল (যেটাকে আমরা যেমন দেখলাম – ‘পর্বত মোরিয়া’) I তাঁর গ্রেফতারের সময় এটিকে খুব স্পষ্ট করে বলা হয় যে:

যখন তিনি [পীলাত] জানতে পারলেন যে যীশু হেরোদের অধীনে ছিলেন তখন তিনি তাকে হেরোডের কাছে প্রেরণ করেছিলেন, যিনি জেরুজালেমেও ছিলেন ’’

লুক 23:7

যীশুর গ্রেফতারি, বিচার এবং ক্রুশারোপন যিরূশালেমে ঘটল (=পর্বত মোরিয়া) I টাইমলাইন পর্বত মোরিয়াতে ঘটা ঘটনাগুলোকে দেখায় I 

পুরনো নিয়ম থেকে নতুন নিয়মে পর্বত মোরিয়াতে ইতিহাসের বৃহৎ ঘটনাগুলো

এখন আব্রাহামের দিকে ফিরে চিন্তা করুন I কেন তিনি নামটিকে ভবিষ্যত কালে রাখলেন ‘সদাপ্রভু যোগান দেবেন’? কিভাবে তিনি জানতে পারলেন যে তার ভবিষ্যত কালে সেখানে এমনকিছু ‘দেওয়া’ হবে যা এত মূল্যবানরূপে প্রতিফলিত করবে যা তিনি পর্বত মোরিয়াতে সম্পন্ন করলেন? এই সম্বন্ধে ভাবুন – তার পরীক্ষায় ইসহাককে (তার পুত্র) শেষ মুহুর্তে মৃত্যু থেকে রক্ষা করা হয়েছিল কারণ একটি মেষকে তার পরিবর্তে বলি দেওয়া হয়েছিল I দুই সহস্র বছর পরে, যীশুকে ‘ঈশ্বরের মেষশাবক’ বলে অভিহিত করা হয় এবং সেই একই নির্দিষ্ট স্থানে বলি দেওয়া হয়! আব্রাহাম কিভাবে জানতে পারলেন এটি ‘সেই স্থান’ হবে? তিনি কেবলমাত্র জেনে থাকতে পারেন এবং এমনকিছু উল্লেখযোগ্য ভবিষ্যদ্বাণী করতে সক্ষম হন যদি তিনি প্রজাপতির থেকে, স্বয়ং ঈশ্বর সৃষ্টিকর্তার থেকে জ্ঞানের জ্যোতি পেয়ে থাকেন I      

এক স্বর্গীয় মন প্রকাশিত হয়

এটি এমন যদিও সেখানে একটি মন আছে যা এই দুটি ঘটনাকে স্থানের দ্বারা যুক্ত করেছে এমনকি যদিও তাদেরকে 2000 বছরের ইতিহাসের দ্বারা আলাদা করা হয়েছে I  

আব্রাহামের বলিদান একটি চিহ্ন ছিল – 2000 বছরের দিকে নির্দেশ করছে – যীশুর বলিদান সম্পর্কে আমাদের ভাবায় I

সংখ্যা বর্ণনা করে কিভাবে আদি ঘটনাটি (আব্রাহামের বলিদান) পরবর্তী একটিকে (যীশুর বলিদান) উল্লেখ করে এবং এই পরবর্তী ঘটনাকে আমাদের স্মরণ করাতে সজ্জিত হয়েছিল I এটি স্বাক্ষ্য যে এই মন (সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বর) ঘটনাগুলোকে সমন্বয়ের দ্বারা সহস্রাধিক বছরের বিভাজিতের মাধ্যমে স্বয়ংকে আমাদের কাছে প্রকাশিত করছেন I এটি একটি চিহ্ন যা ঈশ্বর আব্রাহামের মাধ্যমে বললেন I    

আপনার এবং আমার জন্য সুসমাচার

এছাড়া এই বিবরণটি অধিক ব্যক্তিগত কারণের জন্য আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ I উপসংহারে, ঈশ্বর অব্রামের কাছে ঘোষণা করলেন যে 

 “… আর তোমার বংশধরের মাধ্যমে পৃথিবীর উপরে সমস্ত জাতি আশির্বাদিত হবে কারণ তুমি আমাকে মান্য করেছ”  

আদিপুস্তক 22:18

আপনারা ‘পৃথিবীর উপরে সমস্ত জাতির’ একটির অন্তর্ভুক্ত – এতে কিছু এসে যায় না তোমার ভাষা, ধর্ম, শিক্ষা, বয়স, লিঙ্গ কি; বা সম্পদ! তাহলে এটি একটি প্রতিশ্রুতি যা নির্দিষ্টভাবে আপনাদেরকে দেওয়া হয়েছে I লক্ষ্য করুন প্রতিশ্রুতিটি কি – স্বয়ং ঈশ্বরের থেকে একটি ‘আশীর্বাদ’! এটি এমনকিছু নয়  যা কেবলমাত্র যিহূদিদের জন্য ছিল, কিন্তু সমস্ত বিশ্বব্যাপী লোকেদের জন্য I  

এই ‘আশীর্বাদ’ কিভাবে দেওয়া হয়? ‘বংশধর’ শব্দটি এখানে একবচনে আছে I এটি ‘বংশধরগণ’ নয় যেমন অনেক বংশধরদের বা লোকেদের মধ্যে, বরং একবচনে একটি ‘সে’ এর মধ্যে I এটি অনেক লোক বা এক দল লোকেদের মাধ্যমে নয় যেমন ‘তারা’ তে হয় I এটি ইতিহাসের শুরুতে প্রতিশ্রুতি দেওয়াকে সঠিকভাবে অনুসরণ করে যখন একটি ‘সে’ সাপের পাদমূল চূর্ণ করবে যেমনটি ইব্রীয় বেদে নথিভুক্ত হয়েছে এবং এছাড়া পুরুসাসুক্তর মধ্যে প্রদত্ত পুরুসার বলিদানের (একটি ‘সে’) প্রতিশ্রুতির সমান্তরাল হয় I এই চিহ্নর সাহায্যে এই প্রাচীন প্রতিশ্রুতিগুলোর আরও বিশদ বিবরণ দিতে নির্দিষ্ট স্থানটি – পর্বত মোরিয়ার (= যিরূশালেম) সম্বন্ধে – ভবিষ্যদ্বাণী করা হয় I আব্রাহামের বলিদানের নাটকের বর্ণনা আমাদের বুঝতে সাহায্য করে কিভাবে এই আশীর্বাদ দেওয়া হয়, এবং ধার্মিকতার মূল্য কিভাবে দেওয়া হবে I  

ঈশ্বরের আশ্বীর্বাদ কিভাবে পাওয়া যায়?

ঠিক যেভাবে মেষ ইসহাককে তার স্থানে বলি হয়ে মৃত্যু থেকে রক্ষা করল, সেইভাবে ঈশ্বরের মেষশাবক, তার বলিসংক্রান্ত মৃত্যুর দ্বারা, মৃত্যুর শক্তি এবং শাস্তি থেকে আমাদের রক্ষা করে I বাইবেল ঘোষণা করে যে

… পাপের বেতন মৃত্যু রোমীয় 6:23

.বলার আর একটি উপায় যে আমাদের থেকে উৎপন্ন পাপ একটি কর্মা যার পরিণাম মৃত্যু I কিন্তু ইসহাকের বিকল্প মেষশাবকের দ্বারা মৃত্যুর মূল্য দেওয়া হল I আব্রাহাম এবং ইসহাককে কেবল স্বীকার করতে ছিল I সে করে নি এবং এটির যোগ্য হওয়ার দাবি করতে পারে না I কিন্তু সে এটিকে একটি উপহার রূপে গ্রহণ করতে পারে I ঠিক এইভাবেই সে মোক্ষ লাভ করল I    

এটি একটি নমুনাকে দেখায় যাকে আমরা অনুসরণ করতে পারি I যীশু ঈশ্বরের ‘মেষ শাবক ছিলেন যিনি জগতের পাপ হরণ করেন’ I এটি আপনাদের নিজের পাপকে অন্তর্গত করে I তাই যীশু, মেষশাবক, আপনাদের ‘পাপ সকল হরণ’ করতে অর্পণ করলেন যেহেতু তিনি মৃত্যুর মূল্য দিলেন I আপনারা এটির যোগ্যতা দাবি করতে পারেন না কিন্তু এটিকে এক উপহার রূপে গ্রহণ করতে পারেন I যীশুকে ডাকুন, পুরুসা, এবং আপনাদের পাপ সকল হরণ করতে  তাঁকে বলুন I তাঁর বলিদান তাঁকে শক্তি দিয়েছে I আমরা এটি জানি কারণ মোরিয়া পর্বতের উপরে অব্রাহামার পুত্রের বলিদানের উল্লেখযোগ্য বিবরণের মধ্যে সেই সুযোগ সমাপতনের পেছনে এটির পূর্বাভাস ছিল I মোরিয়া পর্বত সেই একই নির্দিষ্ট স্থান যেখানে 2000 বছর পরে যীশুর দ্বারা ‘এটির যোগান দেওয়া হ’ল’I   

এটি ভবিষ্যদ্বাণীর দ্বারা অনুসৃত হয় যখন এটি নিস্তারপর্বের চিহ্নর মধ্যে ঘটবে I

মোক্ষ অর্জন করতে আব্রাহামের সহজ উপায়

বিশেষভাবে মহাভারত নি:সন্তান রাজা পান্ডুর সংঘর্ষের বিবরণ দেয় যার কোনো উত্তরাধিকারী ছিল না I ঋষি কিন্ডামা এবং তার স্ত্রী বিচক্ষণতার সঙ্গে প্রেম করার জন্য হরিণের রূপ ধারণ করেছিলেন I দুর্ভাগ্যক্রমে রাজা পান্ডু সেই সময়ে শিকার করছিলেন এবং দুর্ঘটনাক্রমে তাদের উপরে তীর নিক্ষেপ করেছিলেন I ক্ষুব্ধ হয়ে, কিন্ডামা পরবর্তী সময়ে তার স্ত্রীদের সঙ্গে সহবাস করার সময়ে রাজা পাণ্ডুকে মারা যাওয়ার জন্য অভিশাপ দিয়েছিলেন I এইরূপে রাজা পান্ডুকে কোন সন্তান এবং উত্তরাধিকারী পাওয়ার থেকে বিরত রাখা হয়েছিল I কিভাবে তার রাজ বংশের প্রতি এই হুমকি কাটিয়ে উঠবেন?    

পূর্ববর্তী প্রজন্মের সেই একই ধরণের সমস্যার সমাধানের জন্য রাজা পাণ্ডুর জন্ম স্বয়ং একটি বেপরোয়া কার্য ছিল I পূর্ববর্তী রাজা, বিচিত্রবীর্য নি:সন্তান হয়ে মারা যান আর তাই একজন উত্তরাধিকারীর প্রয়োজন ছিল I বিচিত্রবীর্যর মা সত্যবতীর বিচিত্রবীর্যর পিতা রাজা শান্তনুর সাথে বিবাহের পূর্বে এক পুত্র ছিল I এই পুত্র, ব্যাসকে বিচিত্রবীর্যর বিধবা পত্নী অম্বিকা এবং অম্বালিকার গর্ভ সঞ্চার করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল I ব্যাস এবং আম্বালিকার মিলনের মধ্য দিয়ে পান্ডু জন্মগ্রহণ করলেন I রাজা পাণ্ডু এইরূপে ব্যাসের জৈবিক পুত্র হলেন বরং পূর্ববর্তী রাজা বিচিত্রবীর্যর উত্তরাধিকারী হলেন নিয়োগের মাধ্যমে, এমন একটি অনুশীলন যেখানে একজন প্রতিনিধি পুরুষ এক সন্তানের পিতা হতে পারে যখন স্বামী মারা যায় I দুর্দান্ত প্রয়োজন বেপরোয়া পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল I  

এখন রাজা পাণ্ডু তার উপরে কিন্ডামার শ্রাপ থাকার কারণে একই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন I কি করা যায়? আর একবার বেপরায়া পদক্ষেপের প্রয়োজন হ’ল I পান্ডুর স্ত্রীদের মধ্যে একজন, রানী কুন্তি (বা প্রার্থা), একজন দেবতার দ্বারা তার গর্ভ সঞ্চারের সম্বন্ধে একটি গুপ্ত মন্ত্র জানতেন (ব্রাহামনা দুর্বাসা দ্বারা তার শৈশবকালে প্রকাশিত হয়েছিল) I সুতরাং কুন্তি তিনজন জৈষ্ঠ্য পান্ডব ভাইদের গর্ভ ধারণ করতে এই গুপ্ত মন্ত্র ব্যবহার করলেন: যুধিষ্ঠির, ভীম এবং অর্জুন I রানী কুন্তির সহ-পত্নী রানী মাদ্রী কুন্তির থেকে এই মন্ত্রটি পেয়েছিলেন, এবং তিনি একইভাবে কনিষ্ঠ পান্ডব ভাই নকুল ও সহদেবের জন্ম দিলেন I     

অবশিষ্ট সন্তান হীনতা দম্পতিদের কাছে দুর্দান্ত দুঃখ নিয়ে আসতে পারে I জাতির জন্য একজন উত্তরাধিকারী যখন বিপন্ন হয় তখন এটি এমনকি সহ্য করা আরও কঠিন হতে পারে I সারোগেট অংশীদারদের সন্ধান করা হোক বা দেবতাদের গতিশীল করতে গোপন মন্ত্রগুলো আহ্বান করা হোক না কেন, এই ধরণের পরিস্থিতিতে নিষ্ক্রিয় থাকা প্রায় কোন বিকল্প হয় I 

ভাববাদী আব্রাহাম 4000 বছর পূর্বে একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হলেন I যে উপায়ে তিনি সমস্যার সমাধান করলেন তাকে হিব্রু বেদা পুস্তকম এক আদর্শ রূপে ব্যবহার করেছে তাই এর থেকে শিখতে আমরা বুদ্ধিমান হব I

আব্রাহামের অভিযোগ

আদিপুস্তকের 12 পদে প্রতিশ্রুতি নথিভুক্ত হওয়ার কথা বলার পর থেকে আব্রাহামের জীবনের অনেকগুলো বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেল I আব্রাহাম প্রতিশ্রুত দেশে অগ্রসর হলেন যার মধ্যে সেই প্রতিশ্রুতির বাধ্যতা অনুসারে আজকের ইস্রায়েল রয়েছে I পরে তার জীবনে অন্যান্য ঘটনা সমূহ ঘটল কেবল বিশেষ একটি ছাড়া যার জন্য তিন আশা করেছিলেন – পুত্রের জন্ম যার মাধ্যমে এই প্রতিশ্রুতিটি পূর্ণ হবে I সুতরাং আব্রাহামের অভিযোগের সাথে বিবরণটি চালিয়ে যাই: 

  ইসব ঘটনাবলির পরে অব্রাম দর্শনের মধ্যে প্রভুর কথা শুনতে পেলেন| ঈশ্বর বললেন, “অব্রাম চিন্তা কোরো না| আমি তোমায় রক্ষা করব| আমি তোমায় এক মহাপুরস্কার দেব|”
2 কিন্তু অব্রাম বললেন, “প্রভু ঈশ্বর, আমায় খুশী করার মত আপনি কিছুই দিতে পারবেন না| কেন? কারণ আমার কোনও পুত্র নেই| তাই আমার মৃত্যুর পরে আমার দম্মেশকীয দাস ইলীযেষর আমার সমস্ত সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে|”
3 অব্রাম বললেন, “আপনি আমায় পুত্র দেননি| তাই য়ে দাস আমার ঘরে জন্ম লাভ করেছে সে-ই পাবে আমার সমস্ত ধনসম্পত্তি|”

আদিপুস্তক 15:1-3

ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতি

আব্রাহাম জমির মধ্যে শিবির রচনা করছিলেন ‘মহান জাতির’ আরম্ভের অপেক্ষায় যার তাকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল I কিন্তু কোনো পুত্র জন্মাল না আর এই সময়ের মধ্যে তার বয়স প্রায় 86 বছর হোল, যা তার অভিযোগের ফোকাস হ’ল:  

4 তখন প্রভু অব্রামের সঙ্গে কথা বললেন| ঈশ্বর বললেন, “ঐ দাস তোমার নিজের পুত্র হবে. এবং তোমার ঔরসজাত পুত্রই তোমার সমস্ত কিছুর উত্তরাধিকার পাবে|”
5 তখন ঈশ্বর অব্রামকে বাইরে ডেকে নিয়ে গেলেন| ঈশ্বর বললেন, “আকাশের দিকে তাকাও| দেখ, সেখানে কত তারা| এত তারা য়ে তুমি গুণতেই পারবে না| ভবিষ্যতে তোমার বংশধরেরাও ঐরকম অগুনতি হবে|”

আদিপুস্তক 15:4-5

তাদের বিনিময়ের মধ্যে ঈশ্বর তাঁর প্রতিশ্রুতির নবীকরণ করলেন ঘোষণার দ্বারা  যে আব্রাহাম একটি পুত্র পাবে যে আকাশের অগণিত তারার মতন এক বংশ হবে – নিশ্চিতভাবে অনেক, কিন্তু গণনা করা কঠিন I  

আব্রাহামের প্রতিক্রিয়া: স্থায়ী প্রভাবের সাথে একটি পূজার মতন

বলটি এখন আব্রাহামের দায়িত্বে ছিল I কিভাবে তিনি এই নুতন প্রতিশ্রুতির প্রতি সাড়া দেবেন? অনুসৃতটি বাইবেলের দ্বারা একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাক্য বলে বিবেচিত হয় I এটি অনন্তকালীন সত্যকে বুঝতে একটি ভিত্তি স্থাপন করে I এটি বলে:

  আব্রাহাম সদাপ্রভুতে বিশ্বাস করলেন, আর সদাপ্রভু আব্রাহামের স্বপক্ষে তা ধার্মিকতা বলে গণনা করলেন

আদিপুস্তক 15:6

এই বাক্যটি বুঝতে সহজ হয় আমরা যদি পড়তে গিয়ে, সর্বনামটিকে নামের সাথে বদল করি: 

আব্রাহাম সদাপ্রভুতে বিশ্বাস করলেন, আর সদাপ্রভু আব্রাহামের স্বপক্ষে তা ধার্মিকতা বলে গণনা করলেন

আদিপুস্তক 15:6

এটি এক ধরণের একটি ক্ষুদ্র এবং সুস্পষ্ট বাক্য I এটি খবরের কোনো শিরোনাম ছাড়া আসে এবং যায় আর তাই আমরা এটিকে হারিয়ে ফেলতে পারি I কিন্তু এটি সত্যই তাৎপর্যপূর্ণ I কেন? কারণ এই ক্ষুদ্র বাক্যে আব্রাহাম ‘ধার্মিকতা’ পায় I এটি পূজা করার একটি যোগ্যতা পাওয়ার মতন হয় যা কোনো দিন অবনতি বা বিনষ্ট হবে না I ধার্মিকতা একটি – এবং একমাত্র – যোগ্যতা যা আমাদের ঈশ্বরের সম্মুখে দাঁড়াবার জন্য প্রয়োজন হয় I

আমাদের সমস্যার পর্যালোচনা: বিকৃতি  

ঈশ্বরর দৃষ্টি থেকে, যদিও আমাদেরকে ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্টি করা হয়েছিল কিন্তু এমন কিছু ঘটল যা সেই প্রতিমুর্তিকে বিকৃত করল I এখন রায় হল যে

  2 ওদের মধ্যে ঈশ্বরের সাহায্য কামনা করে এমন দেখবার জন্য প্রভু স্বর্গ থেকে লোকদের প্রতি লক্ষ্য রেখেছিলেন| (জ্ঞানী লোকরা সাহায্যের জন্য ঈশ্বরমুখী হয়|)
3 কিন্তু প্রত্যেকটি লোকই ঈশ্বরের থেকে বিমুখ হয়ে গেছে| সব লোকই, মন্দ লোকে পরিণত হয়েছে| এমনকি একটা লোকও ভালো কাজ করে নি!  

গীতসংহিতা 14:2-3

সহজাতভাবে আমরা এই বিকৃতির আভাস পাই I এইজন্যই কুম্ভমেলা পর্বে, এত বিশাল উপস্থিতি হয় কারণ আমরা আমাদের পাপের আভাস এবং সুচিশুদ্ধ হওয়ার প্রয়োজন পাই I এছাড়া প্রাত: স্নান: (বা প্রাতস্নান) মন্ত্র এই মতবাদকে প্রকাশ করে যা আমাদের নিজেদের সম্বন্ধে আমাদের কাছে আছে:    

আমি একজন পাপী I আমি পাপের ফল I আমার জন্ম পাপের মধ্যে I আমার প্রাণ পাপের মধ্যে I আমি পাপীদের মধ্যে সবথেকে খারাপ I হে প্রভু যার সুন্দর নয়ন যুগল আছে, আমাকে রক্ষা করুন, হে বলিদানের প্রভু I  

আমাদের বিকৃতির পরিণাম হ’ল যে আমরা আমাদেরকে এক ধার্মিকতার ঈশ্বরের থেকে বিচ্ছিন্নতায় পাই I আমাদের বিকৃতি আমাদের নকারাত্মক কর্মের বৃদ্ধি – নিষ্ফলতা এবং মৃত্যু এর প্রাক্কালে আছে I আপনি যদি সন্দেহ করেন তাহলে কেবল কিছু খবরের শিরোনামে চোখ বুলিয়ে দেখুন বিগত 24 ঘন্টায় লোকেদের কি হয়েছে I আমরা জীবনের সৃষ্টিকতার থেকে বিচ্ছিন্ন এবং তাই বেদা পুস্তকমের (বাইবেল) ভাববাদী যিশাইয়র কথাগুলো সত্য হয় I    

 আমরা সকলেই এমন একজনের মতো হয়েছি যাঁরা অশুচি; আমরা সকলেই পাতার মতো ঝাঁকিয়ে উঠি এবং বাতাসের মতো আমাদের পাপগুলি আমাদের তাড়িয়ে দেয়।

যিশাইয় 64:6

আব্রাহাম এবং ধার্মিকতা  

কিন্তু এখানে আব্রাহাম এবং ঈশ্বরের মধ্যে আমরা ঘোষণাটিকে দেখি যার ফলে আব্রাহাম ‘ধার্মিকতা’ লাভ করেন, সেটি এত নিস্তব্ধভাবে পিছলে যায় যে আমরা প্রায় এটিকে হারিয়ে ফেলি, – যে ধরণটিকে ঈশ্বর স্বীকার করেন I সুতরাং আব্রাহাম এই ধার্মিকতা পেতে কি করলেন? আর একবার, তাই সতর্ক হোন যে আমরা বিষয়টিকে হারাবার বিপদের মধ্যে আছি I এটি কেবল আব্রাহামের সম্বন্ধে বলে যে তিনি ‘বিশ্বাস করেছিলেন’ I ব্যাস এটাই?! আমাদের কাছে পাপ ও বিকৃতির এই দুর্জয় সমস্যা আছে এবং তাই আমাদের স্বাভাবিক প্রবণতা যুগ যুগ ধরে সূক্ষ এবং কঠিন ধর্ম, প্রচেষ্টা, পূজা, নীতিশাস্ত্র তপস্বীর নিয়মানুবর্তিতা, শিক্ষা সমূহ ইত্যাদির খোঁজ করে – ধার্মিকতা লাভ করতে I কিন্তু এই লোকটি, আব্রাহাম শুধুমাত্র ‘বিশ্বাসের’ দ্বারা সেই পুরষ্কৃত ধার্মিকতা লাভ করলেন I এটি এত সরল যে আমরা প্রায় এটিকে হারিয়ে ফেলতে পারি I

আব্রাহাম ধার্মিকতা ‘অর্জন’ করেন নি: এটি তার উদ্দেশ্যে ‘জমা করা’ হয়েছিল I তাহলে পার্থক্য কি? ভালো কথা, যদি কোনো কিছু ‘অর্জন’ করা হয় অর্থাৎ আপনি এর জন্য কাজ করেছেন – আপনার এটি প্রাপ্য I এটি আপনার কাজের জন্য বেতন পাওয়ার মতন I কিন্তু যখন কোনো কিছু আপনার উদ্দেশ্যে জমা করা হয়, এটি আপনাকে দেওয়া হয় I যেমন কোনো উপহার বিনামূল্যে দেওয়া হয় এটি অর্জিত বা প্রাপ্য নয়, বরং শুধুমাত্র পাওয়া I

আব্রাহামের এই বিবরণ ধার্মিকতা সম্বন্ধে আমাদের সাধারণ উপলব্ধিকে পাল্টে দেয় যে হয় ঈশ্বরের অস্তিত্বের উপরে একটি বিশ্বাসের থেকে এটি আসে চিন্তাটির দ্বারা, বা প্রচুর পরিমাণে উত্তম বা ধার্মিক ক্রিয়াকলাপের দ্বারা ধার্মিকতাকে অর্জন করা যায় I এটি সেই পথ নয় যা আব্রাহাম গ্রহণ করেছিলেন I তিনি শুধুমাত্র তার প্রতি প্রসারিত প্রতিশ্রুতিটিকে বিশ্বাস করলেন, আর তখন তার উদ্দেশ্যে জমা করা হ’ল বা দেওয়া হল, ধার্মিকতা I

বাইবেলের অবশিষ্টাংশ এই সাক্ষাৎকারকে আমাদের জন্য একটি চিহ্ন রূপে বিবেচনা করে I আব্রাহামের বিশ্বাস ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতিতে, আর পরিণামস্বরূপ ধার্মিকতার গণনা, আমাদের অনুসরণ করার একটি নমুনা I সমগ্র সুসমাচারটি প্রতিশ্রুতি সমূহের উপরে প্রতিষ্ঠিত যা ঈশ্বর আমাদের প্রত্যেককে দিয়েছেন I

কিন্তু তাহলে ধার্মিকতা কে প্রদান করে বা অর্জন করে? আমরা এটিকে পরবর্তী পর্যায়ে গ্রহণ করব I    

আব্রাহামের উদ্যোগে:সর্বদা এবং সমস্ত লোকের তীর্থ যাত্রা

কাতারগামা উৎসবে যাওয়ার তীর্থযাত্রা (পদ যাত্রা) ভারত ছাড়িয়ে গেছে I এই তীর্থযাত্রা প্রভু মুরুগানের (প্রভু কাতারাগামা, কার্তিকেয়া বা স্কান্দা)তীর্থযাত্রাকে স্মরণ করিয়ে দেয় যখন তিনি স্থানীয় মেয়ে ভাল্লির প্রেমে পড়ে শ্রী লংকা যাত্রা করতে তার পিতা মাতার (শিব এবং পার্বতী) হিমালয়ের গৃহ পরিত্যাগ করেন I শ্রী লংকার কাতারাগামা মন্দিরের কাতারাগানা পেরাহেরা উৎসবে তাদের প্রেম এবং বিবাহকে স্মরণ করা হয় I   

ভক্তরা কয়েকশত কিলোমিটার পথ কাতারাগামায় পৌঁছতে উৎসবের 45 দিন পূর্বে তাদের তীর্থযাত্রা শুরু করে I যুদ্ধের দেবতা, প্রভু মুরুগানের স্মৃতিতে অনেকে একটি ভেল (বর্শা) বহন করে যখন তারা তাদের পরিচিত নিরাপদ স্থান ছেড়ে দিয়ে এই তীর্থযাত্রার মাধ্যমে অজানা স্থলে প্রবেশ করে I

তীর্থযাত্রীরা অমাবস্যায় কাতারাগামা উৎসব শুরু করতে কাতারাগামা পর্বতের দুর্গম পথে যাত্রা করে তাদের তীর্থযাত্র শেষ করে I 14 সন্ধ্যায় ভাল্লির মন্দিরে মুরুগানের মূর্তির একটি রাত্রিকালীন পেরাহেরা উদযাপিত হয় I পূর্নিমার শেষ সকালে জল-কাটা অনুষ্ঠান শিখরে পৌঁছে যায় যেখানে মুরুগানের মূর্তিকে মেনিক গঙ্গা নদীতে অবগাহন করান হয় এবং এর পর্বিত্র জল ভক্তদের উপরে ঢেলে দেওয়া হয় I   

এই উৎসবের আর একটি বিশেস্বত্ব হ’ল আগুনের উপরে চলার অনুষ্ঠান যেখানে ভক্তরা জ্বলন্ত গরম কয়লার আগুনের উপর দিয়ে চলে উপাদানগুলো কাটিয়ে উঠতে অবিশ্বাস্যভাবে তাদের আস্থার প্রদর্শন করে

বিভিন্ন ভাষা, ধর্ম. এবং জাতিভুক্ত লোকেরা গাইডেন্স, আশীর্বাদ, নিরাময় এবং তাদের বিশ্বাসের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে এই বার্ষিক তীর্থযাত্রায় একত্রিত হয় I সেক্ষেত্রে তারা 4000 বছর পূর্বে আব্রাহামের দ্বারা নির্ধারিত ধরনটি অনুসরণ করে I তিনি বেশ কয়েক মাস নয় পুরো জীবন জুড়েই তীর্থ যাত্রা করেছিলেন I তার তীর্থযাত্রার প্রভাব আপনার এবং আমার জীবনকে 4000 বছর পরে প্রভাবিত করে I এছাড়াও তার তীর্থযাত্রা ঈশ্বরে তার বিশ্বাসকে প্রদর্শন করার প্রয়োজন ছিল, এক পবিত্র পর্বতের উপর এক অবিশ্বাস্য বলিদান সমর্পণ করার দ্বারা I এটি এক জাতির উত্থান করে যার জন্মগ্রহণ সমুদ্রকে কেটে এবং আগুনের সাথে গমনাগমন করার দ্বারা হয়েছিল – পরে সমগ্র দক্ষিন এশিয়াকে প্রভাবিত করে I তার তীর্থযাত্রা কিভাবে গতিশীল হয়েছিল তা বোঝা যা আমাদের প্রতি আশীর্বাদ ও দিকনির্দেশনা দেয় যা আমাদের জ্ঞানঅর্জনের জন্য সুচনা হতে পারে I

 আমরা আব্রাহামের তীর্থযাত্রা অন্বেষণ করার আগে, আমরা বেদ পুস্তকম থেকে কিছু প্রসঙ্গ দেখব যা তার তার তীর্থযাত্রাকে নথিভুক্ত করেছে I   

মানুষের সমস্যা – ঈশ্বরের পরিকল্পনা

আমরা দেখলাম যে মানবজাতি নক্ষত্র এবং গ্রহ সমূহের আরাধনার মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তা প্রজাপতির আরাধনাকে দুষিত করল I এই কারণে প্রজাপতি ভাষাগুলোকে বিভ্রান্ত করে মনু/নোহের তিন পুত্রগনের বংশধরদের ছিন্নভিন্ন করলেন I আর সেইজন্যই আজকের দিনে অনেক জাতি সমূহ ভাষার দ্বারা বিচ্ছিন্ন হ’ল I মানব জাতির সাধারণ অতীতের প্রতিধ্বনি আজকের জগতের দ্বারা ব্যবহৃত 7-দিনের ক্যালেন্ডারগুলোর মধ্যে এবং সেই বিরাট বন্যার স্মৃতিগুলোর মধ্যে দেখা যেতে পারে I     

প্রজাপতি ইতিহাসের প্রারম্ভে প্রতিশ্রুতি দিলেন যে একজন নিখুঁত মানুষের বলিদানের মাধ্যমে ‘প্রাজ্ঞরা অমরত্ব লাভ করবে’ I এই বলিদান কেবল আমাদের বাইরের পরিবর্তে আমাদের অন্তরকে শুচিশুদ্ধ করতে একটি পূজার মতন কার্য করবে I যাইহোক, সৃষ্টিকর্তার আরাধনা দুষিত হওয়ার সাথে, নতুনভাবে বিচ্ছিন্ন জাতিগুলো আগেকার প্রতিশ্রুতি ভুলে গেল I এটিকে কেবল প্রাচীন ঋক বেদ এবং বেদা পুস্তকম – বাইবেল সহ মুষ্টিমেয় স্রোত সমূহের মধ্যে আজকের দিনে স্মরণ করা হয় I  

কিন্তু প্রজাপতি/ঈশ্বরের একটি পরিকল্পনা ছিল I এই পরিকল্পনা এমন কিছু ছিল না যেন আপনি এবং আমি অপেক্ষা করতাম কারণ এটি (আমাদের কাছে) অনেক ছোট এবং তাত্পর্যহীন বলে মনে হত I কিন্তু এটাই ছিল পরিকল্পনা যা তিনি চয়ন করেছিলেন I এই পরিকল্পনা প্রায় 2000 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে (অর্থাৎ 4000 বছর আগে) একজন মানুষ এবং তার পরিবারকে আহ্বান করা এবং তাকে ও তার বংশধরদের প্রতি আশীর্বাদ দেওয়াকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল যদি সে আশীর্বাদ  গ্রহণ করতে ইচ্ছা করত I এখানে এইভাবে বাইবেল এটিকে বর্ণনা করে I     

আব্রাহামের প্রতি প্রতিশ্রুতি   

সদাপ্রভু আব্রামকে বলেছিলেন, “তোমার দেশ, তোমার লোকেরা এবং তোমার বাবার পরিবার থেকে যে দেশ আমি তোমাকে দেখাব সে দেশে যাও।

“আমি তোমাকে একটি মহান জাতি হিসাবে পরিণত করব এবং আমি তোমাকে আশীর্বাদ করব; আমি তোমার নাম মহান করব এবং আপনি আশীর্বাদ পাবেন। যারা তোমাকে আশীর্বাদ করে আমি তাদের আশীর্বাদ করব এবং যে তোমাকে অভিশাপ দেয় আমি অভিশাপ দেব; এবং পৃথিবীর সমস্ত লোক তোমার মধ্য দিয়ে আশীর্বাদ পাবে। ‘

4 সদাপ্রভুর আদেশ অনুসারে অব্রাম চলে গেলেন; লোট তাঁর সংগে গেলেন। হারণ থেকে বের হয়ে আব্রামের বয়স পঁচাত্তর বছর। 5 তিনি তাঁর স্ত্রী সারাই, তাঁর ভাগ্নী লোট, তারা হারান শহরে যে সমস্ত সম্পত্তি জমি দিয়েছিলেন এবং যে লোকেরা কনান দেশে রওনা হয়েছিল তাদের নিয়ে গেলেন এবং সেখানে পৌঁছে গেলেন।

7 সদাপ্রভু অব্রামের কাছে উপস্থিত হয়ে বললেন, “আমি তোমার বংশকে এই দেশ দেব।” তিনি সেখানে প্রভুর সামনে একটি বেদী নির্মাণ করেছিলেন |

আদিপুস্তক 12: 1-7

কেউ কেউ আজকের দিনে আশ্চর্য হয় যদি সেখানে একজন বাক্তিগত ঈশ্বর থাকতেন তবে তিনি আমাদের বিপদগ্রস্ত জীবনে আশার সঞ্চার করতে যথেষ্ট সাহায্য করতে যত্ন নিতেন I এই বিবরণের মধ্যে আমরা এই প্রশ্নটিকে পরীক্ষা করতে পারি কারণ এর মধ্যে একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে একটি ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যার অংশগুলোকে আমরা যাচাই করতে পারি I এই বিবরণ নথিভুক্ত করে যে সদাপ্রভু সরাসরিভাবে আব্রাহামকে প্রতিশ্রুতি দিলেন যে ‘আমি তোমার নামকে মহান করব’ I আমরা একবিংশ শতাব্দীতে বাস করছি – 4000 বছর পরে – আর আব্রাহাম/অব্রামের নাম ইতিহাসে বিশ্বব্যাপী অন্যতম স্বীকৃত নাম I এই প্রতিশ্রুতি আক্ষরিকভাবে, ঐতিহাসিকভাবে, এবং যাচাইযোগ্যভাবে সত্য হয়েছে I      

বাইবেলের প্রাচীনতম বিদ্যমান প্রতিলিপি মৃত সাগরের হস্তলিপি থেকে নেওয়া হয়েছে যার তারিখ 200 থেকে 100 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ I এর অর্থ হল যে এই প্রতিশ্রতি, একেবারে সর্বশেষে, কমপক্ষে সেই সময় থেকে লেখায় রয়েছে I কিন্তু এমনকি 200 খ্রীষ্ট পূর্বাব্দে আব্রাহামের ব্যক্তিত্ব এবং নাম তখনও সুপরিচিত ছিল না – যিহূদিদের কেবল ক্ষুদ্র সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে পরিচিত হন I সুতরাং আমরা জানি যে প্রতিশ্রতির পরিপূর্ণতা এটিকে লেখার পরেই কেবল এসেছে I প্রতিশ্রতির ঘটার পরে লেখার দ্বারা ‘পরিপূর্ণ’ হওয়ার এটি একটি কোন ঘটনা নয় I     

… তার মহান জাতির মাধ্যমে

যা সমানভাবে বিস্ময়কর তা হ’ল আব্রাহাম প্রকৃতপক্ষে তার জীবনে উল্লেখযোগ্য কোনো কিছুই করেন নি – এমন ধরণের কিছু জিনিস যা একজনের নামকে সাধারণত ‘মহান’ করে I তিনি অসাধারণ কোনো কিছু লেখেন নি (যেমন ব্যাস মহাভারত লিখেছিলেন), তিনি উল্লেখযোগ্য কিছু নির্মাণ করেন নি (যেমন শাহ জাহান তাজ মহল নির্মাণ করেছিল), তিনি প্রভাবশালী সৈনিক দক্ষতার সাথে কোনো সৈন্য বাহিনীকে পরিচালনা করেন নি (যেমন ভাগবদ গীতার অর্জুন), নাতো তিনি কোনো রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়েছেন (যেমন মহাত্মা গান্ধী দিয়েছেন) I তিনি এমনকি এক রাজার মতন কোনো রাজত্ব শাসন করেন নি I প্রান্তরের মধ্যে শিবির স্থাস্পন এবং প্রার্থনা করা ও পরবর্তী সময়ে এক পুত্র লাভ ছাড়া তিনি প্রকৃতপক্ষে আর কিছুই করেন নি I    

আপনি যদি তার সময়ে ভবিষ্যদ্বাণী করতেন সহস্রাধিক বছর পরে কাকে সর্বাধিক স্মরণ করা হবে, তবে আপনি রাজা, সেনানায়ক, যুদ্ধবীর, বা অতীতের বসবাসকারী রাজসভার কবিদের উপরে বাজি লাগাতেন যাদের পরবর্তী কালে ইতিহাসে স্মরণ করা হবে I কিন্তু তাদের নাম সকল ভুলে যাওয়া হয়েছে – যেখানে যে মানুষটি প্রান্তরের মধ্যে কষ্ট সহকারে কেবল এক পরিবারকে দেখা শোনা করেছেন জগতের চতুর্দিকে সে একটি পারিবারিক নাম হয়ে উঠেছে I তার নাম মহান এই কারণে হয়েছে তিনি যে জাতির (গুলোর) জন্মদাতা তারা তার বিবরণকে নথিভুক্ত করেছে – এবং পরে তার থেকে নির্গত ব্যক্তি এবং জাতি সমূহ মহান হয়েছে I ঠিক এইভাবেই বহু আগে তাকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল (“আমি তোমাকে এক মহান জাতিতে পরিণত করব…আমি তোমার নাম মহান করব”) I তার নিজের জীবনে মহান কার্যসাধন করার তুলনায় কেবল তার থেকে নির্গত বংশধরদের কারণে যিনি এত সুপরিচিত তাকে ছাড়া সমগ্র ইতিহাসে আমি আর কারোর সম্বন্ধে ভাবতে পারি না I      

… প্রতিশ্রুতি-দাতার ইচ্ছার মাধ্যমে

আর লোকেরা আজকে যারা আব্রাহামের বংশধর – যিহূদিরা – কখনই প্রকৃতপক্ষে একটি জাতি হত না যাকে আমরা সাধারণত মহত্বের সাথে যুক্ত  করি I তারা মিসরীয়দের পিরামিডের মতন বৃহৎ স্থাপত্যের কাঠামো নির্মাণ করে নি – এবং নিশ্চিতভাবে তাজ মহলের মতন কিছু নয়, তারা গ্রীকদের মতন দর্শনশাস্ত্র লেখেনি বা ব্রিটিশদের মতন সুদূরপ্রসারিত অঞ্চলের উপর শাসন করেনি I এই জাতিগুলোর মধ্যে সকলে বিশ্ব-শক্তির সাম্রাজ্যের পরিপ্রেক্ষিতে  এইরকম করল যা অসাধারণ সামরিক শক্তির মাধ্যমে তাদের বিস্তীর্ণ সীমাগুলোকে প্রসারিত করল – এমন কিছু যা যিহূদিরা কখনও করেনি I যিহূদি লোকদের মহত্ব সর্বোচ্চ পরিমাণে ব্যবস্থা এবং পুস্তকের (বেদা পুস্তকম) কারণে হয়েছে যার তারা জন্ম দিয়েছিল; কতিপয় উল্লেখযোগ্য ব্যক্তির থেকে আর তাদের জাতির থেকে এসেছিল; এবং যেন তারা এই সহস্রাধিক বছর ধরে এক স্বতন্ত্র এবং একপ্রকারের ভিন্ন গোষ্ঠী হিসাবে বেঁচে রইল I তাদের মহত্ব প্রকৃতপক্ষে তাদের কোনো কিছু করার জন্য নয়, বরং তাদের প্রতি এবং তাদের মাধ্যমে যা করা হয়েছিল তার জন্য হয় I   

এখন বাক্তিটির দিকে দেখুন যিনি প্রতিশ্রুতিটি ঘটাতে যাচ্ছেন I সেখানে, কাগজে-কলমে, এটি পুন: পুন: বলে যে “আমি করব…” I যিনি অনন্য উপায়ে তাদের মহত্বকে ইতিহাসে নিঃশেষিত করেছেন তা আর একবার এক উল্লেখযোগ্যভাবে এই ঘোষণার সঙ্গে খাপ খায় যে ইনি কোনো সহজাত ক্ষমতা, বিজয় বা এই ‘জাতির’ ক্ষমতার অপেক্ষায় সৃষ্টিকর্তা হতে চলেছেন I পৃথিবীর চারিদিকে গণমাধ্যমের মনোযোগ আজকের দিনে ইস্রায়েলের ঘটনাগুলোর প্রতি দেওয়া হয়, আধুনিক যিহূদি জাতি আলোচ্য বিষয়ের একটি ঘটনা I আপনি কি নিয়মিতভাবে হাঙ্গেরি, নরওয়ে, পাপুয়া নিউ গিনিয়া, বলিভিয়া, বা কেন্দ্রীয় আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের ঘটনাগুলোর খবর শোনেন – যেগুলো বিশ্বের চারিদিকের একই আকারের দেশ সমূহ? কিন্তু ইস্রায়েল 80 লক্ষের এক ক্ষুদ্র দেশ, ক্রমাগত এবং নিয়মিতরূপে খবরের মধ্যে হয় I    

ইতিহাস বা মানবীয় ঘটনা সমূহের মধ্যে এমন কিছুই নেই যা এই প্রাচীন প্রতিশ্রুতিকে হুবহু উন্মুক্ত করবে যেমনটি এটিকে ঘোষণা করা হয়েছিল এই প্রাচীন মানুষটির কাছে যে, এই প্রতিশ্রুতির উপরে তার বিশ্বাসের কারণে এক বিশেষ পথকে চয়ন করল I ভাবুন এটি কতটা সম্ভব ছিল এই প্রতিশ্রুতিটির পক্ষে কোনভাবে ব্যর্থ হয়ে যাওয়া I কিন্তু পরিবর্তে এটি উদঘাটিত হ’ল, এবং উদঘাটিত হয়েই চলেছে, যেমন এটিকে সহস্রাধিক বছর পূর্বে ঘোষণা করা হয়েছিল I ঘটনাটি বাস্তবিকই শক্তিশালী যেন এটি সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিদাতার ক্ষমতা এবং কর্তৃত্বের উপরে রয়েছে যে এটিকে পরিপূর্ণ করা হয়েছে I

পদযাত্রা যা এখনও পৃথিবীকে ঝাঁকুনি দেয়

This map shows the route of Abraham's Journey

এই মানচিত্রটি আব্রাহামের পদযাত্রার গমনপথ দেখায়

বাইবেল নথিভুক্ত করে যে “তাই আব্রাহাম প্রস্থান করলেন যেমন সদাপ্রভু তাকে বললেন” (পদ 4) I তিনি এক পদযাত্রা আরম্ভ করলেন, মানচিত্রের উপরে দেখানো হয়েছে যা এখনও ইতিহাস তৈরী করছে I  

আমাদের প্রতি আশীর্বাদ

কিন্তু সেখানেই এটি শেষ হয় না যেহেতু সেখানে এছাড়া আরও কিছু প্রতিশ্রুতি রয়েছে I আশীর্বাদ শুধুমাত্র আব্রাহামের জন্য ছিল না কারণ এটি আবারও বলে যে 

 “পৃথিবীর উপরে সমস্ত লোকেরা তোমার মাধ্যমে আশির্বাদিত হবে” I

পদ 4

এটিকে আপনার এবং আমার নোট করা উচিত I আমরা আর্য, দ্রাবিড়িয়ান, তামিল, নেপালি, বা এমনকি এছাড়া অন্য কেউ যেই হই না কেন; আমাদের জাত যাই হোক না কেন; আমাদের ধর্ম যাই হোক না কেন, হিন্দু, মুসলমান, জৈন, শিখ বা খ্রীষ্টান যাই হোক ন কেন; আমরা ধনী বা দরিদ্র, স্বাস্থবান বা সুস্থ; শিক্ষিত বা নয় যাই হোক না কেন – ‘পৃথিবীর উপরে সমস্ত মানুষ’ আমাদের সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে I একটি আশীর্বাদের জন্য এই প্রতিশ্রুতি অতীত থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত জীবিত প্রত্যেককে অন্তর্ভুক্ত করে – যা আপনাকে বোঝায় I কিরূপে? কখন? কি ধরণের আশীর্বাদ? এটিকে ঠিক এখানে স্পষ্টরূপে বলা হয় না বরং এটি এমন কিছুর জন্ম যা আপনাকে এবং আমাকে প্রভাবিত   করে I  

আমরা সবেমাত্র ঐতিহাসিকভাবে এবং আক্ষরিকভাবে যাচাই করেছি যে আব্রাহামের প্রতি প্রতিশ্রুতির প্রথম অংশ সত্য হয়েছে I তাহলে আমাদের কাছে বিশ্বাস করার একটি উত্তম কারণ নেই কি যে প্রতিশ্রুতির অংশটি আপনার এবং আমার কাছেও সত্য হবে না? কারণ এটি সার্বজনীন এবং অপরিবর্তনীয় এই প্রতিশ্রুতি সত্য I কিন্তু এটিকে আমাদের উদঘাটন করতে হবে – এই প্রতিশ্রুতির সত্যকে বুঝতে হবে I আমাদের আলোকপাতের প্রয়োজন আছে যাতে আমরা বুঝতে পারি কিভাবে এই প্রতিশ্রুতি আমাদের ‘স্পর্শ’ করতে পারে I আব্রাহামের পদযাত্রাকে অনুসরণ করতে থাকার ক্ষেত্রে এই আলোকপাতকে দেখতে পাই I মোক্ষের চাবিকাঠি যাকে পাওয়ার জন্য পৃথিবীর চারিদিকে অনেকে এত কঠিন পরিশ্রম করছে তা আমাদের এই উল্লেখযোগ্য লোকটিকে অবিরত অনুসরণ করার সাথে সাথে আমাদের জন্য প্রকাশিত হয় I 

সংস্কৃত এবং হিব্রু বেদের সমধর্মিতা: কেন?

সংস্কৃত বেদে মনুর বিবরণ এবং হিব্রু বেদে নোহের বিবরণের মধ্যে মিলগুলো আমরা দেখেছি I বন্যার বিবরণের তুলনায় এই মিল আরও গভীরে প্রবেশ  করে I এছাড়াও সময়ের ঊষাকালে পুরুসার বলিদানের প্রতিশ্রুতি এবং হিব্রু আদিপুস্তকের সেই প্রদত্ত বংশধরের প্রতিশ্রুতির মধ্যে একই মিল রয়েছে I অতএব কেন আমরা এই সাদৃশ্যগুলো দেখি? সমধর্মিতা? একটি বিবরণ কি অন্য বিবরণের থেকে ধার করেছে বা চুরি করেছে? এখানে একটি পরামর্শ দেওয়া হ’ল I     

বাবিলের মিনার – বন্যার পরে

নোহের বিবরণের পরে, বেদা পুস্তকম (বাইবেল) তার তিন পুত্রদের বংশধর  এবং রাজ্যগুলোর নথিভুক্ত করতে অগ্রসর হয় I “বন্যার পরে এদের থেকে  জাতিগুলো সমস্ত পৃথিবী ব্যাপী ছড়িয়ে পড়ল I” (আদিপুস্তক 10:32) I সংস্কৃত বেদও ঘোষণা করে যে মনুর তিন পুত্র ছিল যাদের থেকে সমস্ত মানব জাতির অবতরণ হ’ল I কিন্তু এই “ছড়িয়ে পড়া” কিভাবে ঘটল?    

প্রাচীন হিব্রু বেদা নোহের এই তিন পুত্রদের বংশধরগুলোর নাম তালিকাভুক্ত করেছে – সম্পূর্ণ তালিকাটি এখানে I বিবরণটি বর্ণনা করতে এগিয়ে যায় কিভাবে এই বংশধরগুলো ঈশ্বরের (প্রজাপতি) – সৃষ্টিকর্তার নির্দেশগুলোর অবমাননা করলো, যিনি তাদেরকে ‘পৃথিবী পরিপূর্ণ করতে’ আজ্ঞা দিয়েছিলেন I আপনি সেটিকে এখানে পড়তে পারেন I এই মিনার ‘আকাশ পর্যন্ত পৌঁছল’ (আদিপুস্তক 11:4) যার মানে হ’ল নোহের এই বংশধরেরা সৃষ্টিকর্তার পরিবর্তে নক্ষত্র এবং সূর্য, চাঁদ, গ্রহ সমূহ ইত্যাদির আরাধনা করার উদ্দেশ্যে মিনার তৈরী করছিল I এটি সুপরিচিত যে নক্ষত্রর আরাধনা মেসোপটোমিয়ার মধ্যে উৎপত্তি হয়েছিল (যেখানে এই বংশধররা বসবাস করছিল) এবং তাতে এটা তখন সমস্ত পৃথিবী জুড়ে ছড়াল I      

অতএব সৃষ্টিকর্তার আরাধনা করার পরিবর্তে, আমাদের পূর্বপুরুষরা নক্ষত্র সমূহের আরাধনা করত I পরে বিবরণটি বলে যে এটিকে নিরুৎসাহ করতে, যাতে আরাধনার অশুচিতা অপরিবর্তনীয় না হয়ে ওঠে, সৃষ্টিকর্তা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন    

…ভাষার ভেদ জন্মাতে যাতে তারা একজন অন্যজনের ভাষা বুঝতে না পারে I

আদিপুস্তক 11:7

এর ফলে, নোহের এই প্রথম বংশধররা একে অপরকে বুঝতে পারল না আর তাই এইভাবে সৃষ্টিকর্তা

তাদেরকে সমস্ত ভূমন্ডলে ছিন্নভিন্ন করলেন

আদিপুস্তক 11:8

একবার যখন এই লোকেরা একে অপরের সঙ্গে আর কথা বলতে পারল না, তারা একে অপরের থেকে দেশান্তরে গেল, তাদের নবনির্মিত ভাষাসংক্রান্ত  গোষ্ঠীদের মধ্যে, এবং এইরূপে তারা ‘বিচ্ছিন্ন’ হয়ে গেল I এটি ব্যাখ্যা করে কেন বিভিন্ন লোকেদের গোষ্ঠী আজকের সময়ে পৃথিবীতে একেবারে বিভিন্ন ভাষায় কথা বলে, যেমনভাবে প্রতিটি গোষ্ঠী মেসোপটোমিয়ার, (অনেক প্রজন্মব্যাপী সময়ে সময়ে) তাদের মূল কেন্দ্র থেকে স্থানগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছিল যাদেরকে আজ আমরা দেখতে পাই I এইরূপে, তাদের নিজ নিজ ইতিহাসগুলো এই বিন্দু থেকে নানান দিকে ছড়িয়ে পড়ে I কিন্তু প্রতিটি ভাষার গোষ্ঠীর (যা এই প্রথম জাতিগুলোকে গঠন করেছিল) এই বিন্দু পর্যন্ত এক সাধারণ ইতিহাস ছিল I এই সাধারণ ইতিহাস পুরুসার বলিদানের মাধ্যমে মোক্ষের প্রতিশ্রুতি এবং মনুর (নোহ) বন্যার বিবরণকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল I সংস্কৃতের ঋষিগণ এই ঘটনাগুলোকে তাদের বেদের মাধ্যমে মনে রেখেছিল এবং হিব্রুরা এই একই ঘটনাগুলোকে তাদের বেদের (ভাববাদী মশির তোরাহ) মাধ্যমে মনে রেখেছিল I  

বিচিত্র বন্যার স্বাক্ষ্য – পৃথিবীর চারিদিক থেকে

আগ্রহের বিষয় হ’ল, বন্যার বিবরণ কেবলমাত্র প্রাচীন হিব্রু এবং সংস্কৃত বেদের মধ্যে স্মরণ করা হয় নি I বিশ্বের চারিদিকের নানাবিধ লোকেদের গোষ্ঠী তাদের নিজ নিজ ইতিহাসে এক বিশাল বন্যাকে মনে রেখেছে I নিম্নলিখিত বর্ণনাচিত্র এটিকে বর্ণনা করে I 

Flood accounts from cultures around the world compared to the flood account in the Bible

বাইবেলের বন্যার বিবরণের সঙ্গে পৃথিবী ব্যাপী সংস্কৃতি সমূহের বন্যার তুলনামূলক বিবরণ

এটি শীর্ষ জুড়ে পৃথিবীর চতুর্দিকে বসবাসকারী বিভিন্ন ভাষা সম্প্রদায়ের লোকেদের দেখায় – প্রত্যেকটি মহাদেশে I বর্ণনাচিত্রের কোশিকাগুলো চিহ্নিত করে হিব্রু বন্যার (বর্ণনাচিত্রের বাঁ দিকে তালিকাভুক্ত) বিবরণের নির্দিষ্ট তথ্য  তাদের নিজস্ব বন্যার বিবরণকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে কি না I কালো কোশিকাগুলো ইঙ্গিত দেয় যে এই তথ্য তাদের বন্যার বিবরণের মধ্যে আছে, যখন খালি কোশিকাগুলো ইঙ্গিত দেয় যে এই তথ্য তাদের স্থানীয় বিবরণের মধ্যে নেই I আপনি এখতে পারেন যে প্রায় সমস্ত এই গোষ্ঠীগুলোর কাছে কমপক্ষে  সাধারণভাবে ‘স্মৃতি’ ছিল যে বন্যাটি সৃষ্টিকর্তার ন্যায়বিচার ছিল তবে কিছু লোকেদের একটি বিরাট জাহাজের মধ্যে রক্ষা করা হয়েছিল I অন্য কথায়, এই বন্যার স্মৃতি না কেবল সংস্কৃত এবং হিব্রু বেদগুলোতে, বরং এছাড়া পৃথিবীর চতুর্দিকের সাংস্কৃতিক ইতিহাস এবং মহাদশগুলোর মধ্যেও পাওয়া গিয়েছিল I এটি আমাদের সুদূর অতীতে ঘটা এই ঘটনার দিকে নির্দেশ করে I 

হিন্দি ক্যালেন্ডারের স্বাক্ষ্য

hindu-calendar-panchang

হিন্দি ক্যালেন্ডার – মাসের দিনগুলো শীর্ষ থেকে নীচু অবধি যায়, কিন্তু সাত-দিনের সপ্তাহ আছে 

পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডারের সঙ্গে হিন্দি ক্যালেন্ডারের পার্থক্য এবং মিল অনুরূপভাবে সুদূর অতীতের এই ভাগ করা স্মৃতির স্বাক্ষ্য হয় I বেশিরভাগ হিন্দি ক্যালেন্ডার  গঠন করা হয় যা এদিক থেকে ওদিকের সারির পরিবর্তে (বাঁ থেকে ডান দিকে) নিচের কলমে (উপর থেকে নীচে) যায়, যেটি পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডারের জন্য সার্বজনীন গঠন I ভারতের কিছু হিন্দু ক্যালেন্ডার সংখ্যার জন্য হিন্দি লিপি ব্যবহার করে  (१, २,  ३ …), এবং কিছু পাশ্চাত্য সংখ্যা (1, 2, 3…) ব্যবহার করে I এই পার্থক্যগুলো আশানুরূপ যেহেতু একটি ক্যালেন্ডারকে চিহ্নিত করার জন্য কোনো ‘সঠিক’ পদ্ধতি নেই I কিন্তু সমস্ত ক্যালেন্ডারগুলোর মধ্যে একটি কেন্দ্রীয় সাদৃশ্য আছে I পাশ্চাত্য জগতের মতন – হিন্দি ক্যালেন্ডার 7-দিনের সপ্তাহ ব্যবহার করে I কেন? আমরা বুঝতে পারি পাশ্চাত্য একটির মতন কেন ক্যালেন্ডারকে বছর এবং মাসে বিভক্ত করা হয়েছিল যেহেতু এগুলো পৃথিবীর চারপাশে থাকা সূর্য এবং চাঁদের চারিপাশে পৃথিবীর প্রদক্ষিণের উপরে ভিত্তিশীল হয় – এইরূপে সাধারণত সমস্ত লোকেদের কাছে গ্রহবিজ্ঞান সংক্রান্ত ভিত্তিগুলো দেয় I কিন্তু সাত-দিনের সপ্তাহের জন্য গ্রহবিজ্ঞান সংক্রান্ত কোনো ভিত্তি নেই I এটি প্রথা এবং পরম্পরা থেকে আসে যা ইতিহাসের সুদুর অতীতে গমন করে I (কেউ বোধ হয় জানে না কতটা পেছনে যায়) I          

… এবং বৌদ্ধধর্মালম্বী থাই ক্যালেন্ডার

thai_lunar_calendar

থাই ক্যালেন্ডার বাঁ থেকে ডান দিকে যায়, কিন্তু পশ্চিমের তুলনায় একটি ভিন্ন বছর আছে – কিন্তু তবুও 7-দিনের সপ্তাহ 

বৌদ্ধ ধর্মালম্বী দেশ হয়ে, থাইরা বুদ্ধের জীবন থেকে তাদের বছরগুলো চিহ্নিত করে যাতে তাদের বছরগুলো সর্বদা পশ্চিমের তুলনায় 543 বছর অধিক হয় (অর্থাৎ খ্রীষ্টপুর্বাব্দ 2019 বৌদ্ধ যুগের মধ্যে 2562 হয় – থাই ক্যালেন্ডারের মধ্যে) I কিন্তু পুনরায় তারা একটি 7-দিনের সপ্তাহ ব্যবহার করে I কোথা থেকে তারা সেটি পেল? বিভিন্ন দেশ জুড়ে 7-দিনের সপ্তাহের উপরে ভিত্তিশীল ক্যালেন্ডারগুলো এত ভিন্ন উপায়ে আলাদা কেন যখন এই সময় ইউনিটের জন্য কোনো প্রকৃত গ্রহবিজ্ঞান সংক্রান্ত ভিত্তি নেই?  

সপ্তাহের উপরে প্রাচীন গ্রীকের স্বাক্ষ্য

প্রাচীন গ্রীকরাও তাদের ক্যালেন্ডারের মধ্যে 7-দিনের সপ্তাহ ব্যবহার করত I 

প্রাচীন গ্রীক চিকিৎসাবিদ হিপ্পোক্রেটস, যিনি প্রায় 400 খ্রীষ্টপূর্বাব্দের পাশাপাশি বাস করতেন আধুনিক চিকিৎসার জনক বিবেচনা করা হয় এবং তিনি বই লিখলেন, আজ অবধি সংরক্ষিত আছে, তার চিকিৎসাশাস্ত্র বিষয়ক পর্যবেক্ষণগুলো নথিভুক্ত করে I এই রকম করার সময়ে তিনি একটি সময় ইউনিট হিসাবে ‘সপ্তাহ’ কে ব্যবহার করতেন I কোনো রোগের ক্রমবর্ধমান লক্ষণগুলো সম্বন্ধে লিখতে গিয়ে তিনি ব্যক্ত করলেন:      

চতুর্থ দিবস হ’ল সপ্তম দিবসের সূচক; অষ্টম হ’ল দ্বিতীয় সপ্তাহের  সূত্রপাত; আর অত:পর, একাদশতম দ্বিতীয় সপ্তাহের চতুর্থ হয়ে সূচকও  হয়; আর পুনরায়, সপ্তদশতম সূচক হয়, যেমন চতুর্দশতম থেকে চতুর্থ, এবং একাদশতম থেকে সপ্তম হয়   

হিপ্পোক্রেটস, এফোরিসম্স I #24

350 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে, এরিস্টটল নিয়মিতরূপে সময়ের সীমানির্দেশ করতে লেখার সময়ে ‘সপ্তাহ’ কে ব্যবহার করেন I একটি উদাহরণ দিতে তিনি লেখেন:

বেশিরভাগ শিশু মৃত্যু শিশুর এক সপ্তাহ বয়সের পূর্বে ঘটে I অত:পর সেই বয়সে শিশুর নামকরণ প্রথাগত, একটি বিশ্বাস থেকে যে এর বেঁচে থাকার এখন ভাল সুযোগ আছে I   

এরিস্টটল, দি হিস্ট্রি অফ এনিমালস, খন্ড 12, প্রায় 350 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ

তাই ভারত এবং থাই দেশের থেকে অনেক দূরে থাকা, এই প্রাচীন গ্রীক  লেখকরা ‘সপ্তাহের’ ধারণা কোথায় পেল যেন তারা এই আশা করে ব্যবহার করত যে তাদের গ্রীক পাঠকরা জানত যে একটি ‘সপ্তাহ’ কি ছিল? হয়ত সেখানে এটি ঐতিহাসিক ঘটনা তাদের অতীতে এই সমস্ত সংস্কৃতিগুলোর মধ্যে ঘটেছিল (যদিও তারা ঘটনাটি ভুলে গিয়ে থাকবে) যা 7-দিনের সপ্তাহকে স্থাপিত করেছিল?

ঠিক এইরকম একটি ঘটনাকে হিব্রু বেদা বর্ণনা করে – পৃথিবীর প্রারম্ভিক    সৃষ্টি I সেই বিস্তারিত এবং প্রাচীন বিবরণে সৃষ্টিকর্তা পৃথিবীর সৃষ্টি করেন এবং 7 দিনে (বিশ্রামের সপ্তম দিন সহ 6 দিনে) প্রথম মানুষের আকার প্রদান করেন I সেই কারণে, প্রথম মানবজাতি তাদের ক্যালেন্ডারে 7-দিনের সপ্তাহের সময় ইউনিট ব্যবহার করল I মানবজাতি যখন পরবর্তীকালে ভাষার বিভ্রান্তির দ্বারা বিচ্ছিন্ন হল তখন আসন্ন বলিদানের প্রতিশ্রুতি, বিপর্যয়মূলক বন্যার বিবরণের, পাশা পাশি 7-দিনের সপ্তাহ সহ এই বৃহৎ ঘটনাগুলোকে এই বিচ্ছিনতার পূর্বে এই বিভিন্ন ভাষা গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অনেকেদের দ্বারা স্মরণ করা হয়েছিল I    

এই স্মৃতিগুলো আদি মানবজাতির জীবন্ত শিল্পকর্ম এবং এই বেদগুলোতে নথিভুক্ত ঘটনাগুলোর ইতিহাসের কাছে একটি নিয়ম I এই ব্যাখ্যা হিব্রু এবং সংস্কৃতের বেদগুলোর মধ্যে অভিন্নতা ব্যাখ্যা করতে নিশ্চিতভাবে অত্যন্ত সরাসরি উপায় I কেউ কেউ এই প্রাচীন রচনাগুলোকে নেহাৎ কুসংস্কারপূর্ণ পুরাণশাস্ত্র রূপে আজকের দিনে বাতিল করে কিন্তু তাদের অভিন্নতাগুলো গুরুত্বপূর্ণভাবে সেগুলোকে  আমাদের গ্রহণ করার কারণ হয় I    

আদি মানবজাতির একটি সাধারণ ইতিহাস ছিল যা সৃষ্টিকর্তার থেকে মোক্ষের প্রতিশ্রুতিকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল I কিন্তু প্রতিশ্রুতি কিভাবে পূরণ হবে? আমরা এক পবিত্র মানুষের বর্ণনার সাথে চলতে থাকি যিনি ভাষার বিভ্রান্তির দ্বারা সৃষ্ট বিচ্ছিন্নতার ঠিক পরে বাস করতেন I আমরা এটিকে পরবর্তী পর্যায়ে ওঠাবো I  

[প্রাচীন স্মৃতিগুলোর দিকে আরও একবার দৃষ্টি দিতে যা একই ধরণের সমধর্মিতা সমূহকে দেখায় – কিন্তু এই সময়ে চীন ভাষার লিপিবিদ্যার মাধ্যমে এখানে দেখুন]

কিভাবে মানবজাতি ক্রমাগত চলতে থাকলো – মনুর (বা নোহ) বিবরণের শিক্ষার উপরে

পূর্বে আমরা মোক্ষের প্রতিশ্রুতিকে দেখলাম যাকে মানব ইতিহাসের একেবারে শুরুতে দেওয়া হয়েছিল I এছাড়াও আমরা প্রত্যক্ষ্য করলাম যে সেখানে আমাদের সম্বন্ধে এমনকিছু আছে যা দুর্নীতির দিকে চালিত করে, যা অভীষ্ট নৈতিক ব্যবহারের লক্ষ্যচ্যুত আমাদের কার্যকলাপের মধ্যে দেখায়, এবং এমনকি আমাদের সত্তার বিশেষ প্রকৃতির অধিকতর গভীরে I ঈশ্বরের (প্রজাপতি) দ্বারা সৃষ্ট আমাদের মূল প্রতিমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে I যদিও আমরা অনেক ধর্মানুষ্ঠান, ধৌতকরণ ও প্রার্থনার সাহায্যে আমরা কঠিনভাবে চেষ্টা করি, তবুও আমাদের দুর্নীতি আমাদেরকে আন্তরিকভাবে অনুভব করায় শুচিশুদ্ধ হওয়ার একটি প্রয়োজনকে যাকে আমরা যথাযথভাবে অর্জন করতে পারি না I নিখুঁত শুদ্ধতার সাথে জীবনযাপন করতে চেষ্টা করার অবিরত এই ‘দুরূহ’ সংগ্রামে আমরা প্রায়শই ক্লান্ত হয়ে পড়ি I

এই দুর্নীতি যদি কোনো নৈতিক সংযম ছাড়া বৃদ্ধি পায় তবে জিনিসগুলো দ্রুত ক্ষয় হতে থাকে I মানব ইতিহাসের একেবারে শুরুতে এটি ঘটেছিল I বাইবেলের (বেদা পুস্তকম) প্রথম দিকের অধ্যায়গুলো আমাদের বলে কিভাবে এটি ঘটেছিল I শতপথ ব্রাহ্মনর মধ্যে এই বিবরণটি সমান্তরাল যা বিস্তৃতভাবে বলে কিভাবে মানবজাতির পূর্বপুরুষ আজকের দিনে  – মনু নাম আখ্যাত  – এক বন্যার এক বিশাল দণ্ডাদেশ থেকে রক্ষা পেল যা মানবীয় দুর্নীতির কারণে এসেছিল, এবং এক বিরাট জাহাজের মধ্যে আশ্রয় চাওয়ার দ্বারা এইরকম করল I বাইবেল (বেদা পুস্তকম) এবং সংস্কৃত বেদ উভয় আমাদের বলে যে সমস্ত মানবজাতি আজকের দিনে তার বংশধর হয়ে জীবিত আছে I    

প্রাচীন মনু – যেখানে আমরা ইংরেজি শব্দ ‘মানুষ’ পাই

ইংরেজি শব্দ ‘মানুষ’ প্রাচীন জার্মানির থেকে এসেছে I টাসিটাস নামে একজন রোমীয় ঐতিহাসিক যিনি যীশু খ্রীষ্টের (যেশু সৎসংগ) সময়ের আশেপাশে বাস করতেন, জার্মানদের ইতিহাস সম্বন্ধে জার্মানিয়া নামে একটি বই লিখেছিলেন I এর মধ্যে তিনি বলেন

তাদের প্রাচীন লোকগাথায় (যা তাদের ইতিহাস) তারা পৃথিবী থেকে উৎপন্ন এক দেবতা তুইস্তো এবং জাতির পিতা ও প্রতিষ্ঠাতা তার পুত্র মান্নুসের উৎসব পালন করে, মান্নুসের সঙ্গে তারা তিনজন পুত্রের নামযুক্ত করে, যাদের নাম সমূহের উপরে বহু লোকেরা আখ্যাত হয় (প্রায় 100 খ্রীষ্টাব্দে টাসিটাসের দ্বারা লিখিত জার্মানিয়া)    

পন্ডিতরা আমাদের বলে যে এই প্রাচীন জার্মানি শব্দ ‘মান্নুস প্রোটো-ইন্দো-ইউরোপিয়ান “মানুহ” থেকে এসেছে (তুলনা. সংস্কৃত মানুহ, অভেস্তান মানু-,)I অতএব ইংরেজি শব্দ ‘মানুষ’ মানুর থেকে এসেছে যাকে বাইবেল (বেদা পুস্তকম) এবং শতপথ ব্রাহ্মন উভয়ই আমাদের পূর্বপুরুষ বলে! শতপথ ব্রাহ্মন থেকে সংক্ষিপ্তসার করে এই ব্যক্তিটির দিকে দেখা যাক I সেখানে অল্প কিছু পথদর্শন আছে যাতে বিবরণটির প্রতি একটু ভিন্ন দৃষ্টিকোন আছে, তাই আমি সাধারণ বিষয়গুলো বর্ণনা করব I       

সংস্কৃত বেদের মধ্যে মনুর বিবরণ

বেদের মধ্যে মনু একজন ধার্মিক মানুষ ছিলেন, যে সত্যের সন্ধান করেছিল I কারণ মনু একেবার সৎ ছিল, সে প্রাথমিকভাবে সত্যব্রত বলে পরিচিত ছিল (“একজন সত্যের শপথের সাথে”) I 

শতপথ ব্রাহ্মন অনুসারে (শতপথ ব্রাহ্মনের মধ্যে পড়তে এখানে ক্লিক করুন), একজন অবতার এক আসন্ন বন্যার সম্বন্ধে মনুকে সাবধান করেছিল I  প্রাথমিকভাবে অবতারকে এক শাফারি রূপে দেখা গিয়েছিল (একটি ছোট্ট মাছ) যখন সে একটি নদীতে তার হাত ধুয়েছিল I ছোট্ট মাছ মনুকে বলল তাকে রক্ষা করতে, আর করুণা বশত: সে তাকে একটি জলের বয়ামের মধ্যে   রাখল I এটি বৃহৎ থেকে বৃহত্তর হতে থাকল, যতক্ষণ না মনু তাকে একটি আরও বড় কলসীর মধ্যে রাখল, এবং তারপরে তাকে একটি কুয়োর মধ্যে গচ্ছিত রাখল I নিরন্তর বাড়তে থাকা মাছটির জন্য যখন কুয়োটি অপর্যাপ্ত প্রমাণিত হ’ল, মনু তাকে একটি বড় জলাধারের (চৌবাচ্চা) মধ্যে রাখল, যেটি উচ্চতায় ভূতল থেকে 2 যোজন (25 কিলো মিটার) এবং জমিতে ততটাই দীর্ঘ এবং প্রস্থে এক যোজন (13 কিলো মিটার) ছিল I মাছটি আরো বাড়ার সাথে সাথে মনুকে তাকে একটি নদীতে রাখতে হল, এবং যখন নদীটি এমকি অপর্যাপ্ত প্রমাণিত হ’ল সে তাকে সাগরে রাখল, যার পরে এটি বিরাট সাগরের বিস্তৃত পরিসরকে প্রায় পরিপূর্ণ করল I         

ঠিক তখন অবতার মনুকে সর্ব-বিনাশক বন্যার সম্বন্ধে খবর দিল যা খুব শীঘ্র আসবে I তাই মনু এক বিশালাকার নৌকো নির্মাণ করলো যা পৃথিবীকে জনপূর্ণ করতে তার পরিবার, বিভিন্ন বীজ, এবং প্রানীদের আশ্রয় দিল, কারণ বন্যা হ্রাসপ্রাপ্ত হওয়ার পরে মহাসাগর এবং সমুদ্র পূর্ব অবস্থা থেকে অপসারণ করবে এবং পৃথিবীর লোক এবং প্রানীদের দ্বারা জনপূর্ণ হওয়ার প্রয়োজন হবে I বন্যার সময়ে মনু একটি মাছের শৃঙ্গতে নৌকটিকে বাঁধলো যে আবারও একজন অবতার ছিল I তার নৌকাটি পর্বতের চুড়ায় বন্যার পরে শেষ হয়েছিল I সে তখন পর্বত থেকে অবতরণ করল এবং তার উদ্ধারের জন্য বলি ও নৈবেদ্য উৎসর্গ করল I আজকের পৃথিবীর উপরে সমস্ত লোকেরা তার বংশধর I  

বাইবেলে (বেদা পুস্তকম) নোহের বিবরণ

বাইবেলের (বেদা পুস্তকম) বিবরণ একই ঘটনার বিবরণ করে, কিতু এই বিবরণে মানুকে ‘নোহ’, বলা হয় I নোহ এবং বিস্তৃতরূপে বিশ্বব্যাপী বন্যার বিবরণ পড়তে এখানে ক্লিক করুন)I সংস্কৃত বেদ এবং বাইবেলের সাথে সাথে, এই ঘটনার স্মৃতি বিভিন্ন সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং ধর্ম সমূহের অনেক ইতিহাসে সংরক্ষিত করে রাখা আছে I পৃথিবী পাললিক শিলা দিয়ে আচ্ছাদিত আছে, যা বন্যার সময়ে গঠিত হয়েছিল তাই আমাদের কাছে এই বন্যার প্রাকৃতিক স্বাক্ষ্যের পাশা পাশি নৃতাত্ত্বিক স্বাক্ষ্যও আছে I কিন্তু আজকে আমাদের জন্য শিক্ষা কি যে এই বিবরণের মধ্যে আমাদের মনোযোগ দেওয়া উচিত?    

দয়া হারাচ্ছি বনাম পাচ্ছি

যখন আমরা বলি ঈশ্বর দুর্নীতি (পাপ) বিচার করবেন কি না, এবং বিশেষত আমাদের নিজের পাপ বিচারিত হবে কি না, প্রতিক্রিয়া প্রায়শই এইরকম কিছু হয়, “আমি বিচার সম্বন্ধে ততটা চিন্তিত নয় কারণ ঈশ্বর করুনাময় এবং দয়ালু আমার মনে হয় না তিনি আমাকে সত্যিকারের বিচার করবেন” I নোহ (বা মনু) আমাদেরকে পুনর্বার এটি চিন্তা করতে বাধ্য করে I সমগ্র পৃথিবী (নোহ এবং তার পরিবার ছাড়া) সেই বিচারে ধ্বংশ হয়ে গিয়েছিল I অতএব তাঁর করুণা তখন কোথায় ছিল? এটিকে জাহাজের মধ্যে দেওয়া হয়েছিল I 

ঈশ্বর তাঁর করুণায়, একটি জাহাজ দিয়েছিলেন যেটি যেকোনো কারোর জন্য উপলব্ধ ছিল I যে কেউ সেই জাহাজে প্রবেশ করতে পারত এবং করুণা ও আসন্ন বন্যা থেকে নিরাপত্তা পেতে পারত I সমস্যা ছিল প্রায় সকল লোকেরা আসন্ন বন্যার প্রতি অবিশ্বাসের সাথে প্রতিক্রিয়া জানাল I তারা নোহের প্রতি ঠাট্টা করল এবং যে আসন্ন বিচার সত্যিকারের ঘটবে তার বিশ্বাস করল না I তাই তারা বন্যায় বিনষ্ট হয়ে গেল I তবুও তাদের দরকার ছিল জাহাজে প্রবেশ  করা এবং তারা বিচার থেকে রক্ষা পেতে পারত I

যারা অতীতে বেঁচে ছিল তারা সম্ভবতঃ ভেবেছিল যে তারা উঁচু একটি পর্বতে চড়ে, বা একটি বড় ভেলা নির্মাণ করে তারা বন্যাকে এড়িয়ে যেতে পারবে I কিন্তু তারা বিচারের আকার এবং ক্ষমতাকে সম্পূর্ণরূপে ছোট করে দেখল I এই ‘উত্তম ধারণাগুলো’ সেই বিচারের জন্য পর্যাপ্ত হত না; তাদের এমন কিছুর প্রয়োজন ছিল যা তাদেকে আচ্ছাদন করতে পারত  – জাহাজ I যখন তারা সকলে জাহাজটিকে তৈরী হতে লক্ষ্য করল এটি আসন্ন বিচার এবং উপলব্ধ করুণা উভয়ের একটি স্পষ্ট চিহ্ন ছিল I আর নোহের (মনু) উদাহরণের প্রতি মনোযোগ দিলে এটি আমাদেরকে আজ সেই একই ভাবে কথা বলে, দেখায় যে  করুণা ঈশ্বরের প্রতিষ্ঠিত যোগানের দ্বারা অর্জিত হয়, আমাদের উত্তম ধারণা সমূহের দ্বারা নয় I   

তাহলে নোহ কেন ঈশ্বরে করুণা দেখতে পেল? আপনারা লক্ষ্য করবেন বাইবেল বিভিন্ন সময়ে বাক্যাংশটির পুনরাবৃত্তি করেছে

আর নোহ সেই সমস্ত কিছু করল যা সদাপ্রভু তাকে আদেশ করলেন

আমি দেখি যে আমি যা বুঝি তাই করতে ইচ্ছা হয়, বা আমার যা পচ্ছন্দ, বা আমি যার সঙ্গে একমত হই I আমি নিশ্চিত যে তার মনে একটি আসন্ন বন্যার সতর্কতা এবং জমির উপর এই ধরণের এক বৃহৎ জাহাজ নির্মাণের আদেশ সম্বন্ধে অবশ্যই নোহের অনেক প্রশ্ন থেকে থাকবে I আমি নিশ্চিত সে যুক্তি দিয়ে থাকতে পারে যে সে যেহেতু একজন উত্তম এবং সত্যবাদী মানুষ তাই তার এই জাহাজ নির্মাণের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই I কিন্তু সে সেই ‘সমস্ত’ কিছু করলো যার আদেশ দেওয়া হয়েছিল  –  না কেবল সে যা বুঝেছিল, না তার কাছে যা আরামযোগ্য ছিল, এবং না এমনকি যা তার কাছে বোধগম্য ছিল I আমাদের অনুসরণ করার জন্য এটি একটি মহান উদাহরণ I  

পরিত্রাণের জন্য দ্বার

এছাড়াও বাইবেল আমাদের বলে যে নোহের পরে, তার পরিবার, এবং প্রাণী সকল সেই জাহাজে প্রবেশ করল

তারপর সদাপ্রভু তাকে ভেতরে বন্ধ করলেন

ইনি ঈশ্বর ছিলেন যিনি জাহাজের মধ্যে একটি দ্বার নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাবস্থাপন  করলেন  – নোহ নয় I যখন বিচার এলো এবং জল স্ফীত হল, জাহাজের উপর লোকেদের থেকে কোনো পরিমাণের আওয়াজ নোহকে দ্বার খুলতে বিচলিত করতে পারল না I ঈশ্বর সেই একটি দ্বারকে নিয়ন্রণ করলেন I কিন্তু সেই একই সময়ে যারা ভেতরে ছিল তারা আত্মবিশ্বাসে বিশ্রাম করতে পারল যে ঈশ্বর যেহেতু দ্বার নিয়ন্রণ করছেন সেই হেতু কোনো বাতাস বা ঢেউ এটিকে জোর করে খুলতে পারবে না I তারা ঈশ্বরের যত্ন এবং করুণার দ্বারে নিরাপদ ছিল I   

ঈশ্বর যেহেতু অপরিবর্তনশীল এটি আজকের দিনে এখনও আমাদের কাছে  প্রযোজ্য I বাইবেল সাবধান করে যে আর একটি বিচার আসন্ন  –  এবং এটি আগুনের দ্বারা  –  কিন্তু নোহের চিহ্ন আমাদের আশ্বস্ত করে যে তাঁর বিচারের সাথে সাথে তিনি করুণাও প্রদান করেন I আমাদের এক দ্বার বিশিষ্ট ‘জাহাজের’ খোঁজ করা উচিত যা আমাদর প্রয়োজনকে ভরাট করবে এবং আমাদের করুণা অনুমোদন করবে I  

পুনরায় বলিদান

বাইবেল আমাদের এও বলে যে নোহ:

সদাপ্রভুর কাছে একটি বেদী নির্মাণ করল এবং, শুচি পশু এবং শুচি  পক্ষীদের থেকে কতকগুলোকে নিয়ে এর উপরে হোম বলি উৎসর্গ করল I

আদিপুস্তক 8:20

এটি পুরুসাসুক্তার বলির নমুনার সাথে খাপ খায় I এটি যেন নোহ (বা মনু) জানত যে পুরুসার বলি দেওয়া হবে তাই সে এই আসন্ন বলিদানের একটি চিত্র রূপে একটি পশুর বলি উৎসর্গ করল তার বিশ্বাস প্রদর্শন করতে যে ঈশ্বর এটি করবেন I আসলে বাইবেল বলে যে ঠিক এই বলিদানের পরে ঈশ্বর নোহ এবং তার পুত্রগণকে আশীর্বাদ করলেন (আদিপুস্তক 9:1) এবং ‘নোহের সঙ্গে এক নিয়ম স্থির করলেন’ (আদিপুস্তক 9:8) কোনো বন্যার দ্বারা সমস্ত লোকেদের আর বিচার করা হবে না I তাই এটি বোধ হয় যে নোহের দ্বারা একটি পশুর বলিদান তার আরাধনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছিল I     

পুনর্জন্ম – ব্যবস্থার মাধ্যমে বা …

বৈদিক পরম্পরার মধ্যে মানু মনুস্মৃতির জন্য একটি উৎস যা একজনের জীবনে বর্ণ/জাতের পরামর্শ দেয় বা বিহিত করে I যজুর্বেদ বলে যে, সমস্ত মানবজাতি সুদ্র বা দাস হয়ে জন্মায়, কিন্তু এই দাসত্ব থেকে রক্ষা পেতে আমাদের একটি দ্বিতীয় বা নতুন জন্মের প্রয়োজন I মনুস্মৃতি বিতর্কিত এবং স্মৃতি সম্পর্কে এর  মধ্যে বিভিন্ন দৃষ্টিকোন প্রকাশিত হয়েছে I এইগুলোকে বিস্তৃতভাবে আলোচনা করা আমাদের সুযোগের বাইরে I যাইহোক, যা অনুসন্ধান করার যোগ্য তা বাইবেলের মধ্যে আছে, নোহ/মনুর বংশধর সেমিটিক ভাষার লোকেরাও দুটি উপায় পেয়েছিল যার মধ্যে শুচিতা এবং শুদ্ধিকরণ পাওয়া যায় I একটি উপায় ছিল একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে যা শুদ্ধিকরণ, ধর্মীয় ধৌতকরণ এবং বলিদান সমূহ – একেবারে মনুস্মৃতির অনুরূপ I অন্য উপায়টি অনেক বেশি রহস্যজনক ছিল. এবং এটি পুনর্জন্ম অর্জনের পূর্বে একটি মৃত্যুকে জড়িত করেছিল I যীশুও এই সম্বন্ধে শিক্ষা দিয়েছিলেন I তিনি তাঁর সময়ে একজন বিদ্যান পন্ডিতকে বললেন যে     


যীশু উত্তর দিলেন, “সত্যি সত্যি আমি তোমাদের বলছি, নতুন জন্ম না হলে কেউ ঈশ্বরের রাজ্য দেখতে পারে না I

যোহন 3:3

পরবর্তী প্রবন্ধগুলোতে আমরা এই বিষয়ে আরও দেখব I কিন্তু পরবর্তী ক্ষেত্রে আমরা সন্ধান করব বাইবেল এবং সংস্কৃত বেদের মধ্যে কেন এই ধরণের মিলগুলো আছে I