রাজের মতন: যীশু খ্রীষ্টের ‘খ্রীষ্টের’ মানে কি?

আমি মাঝে মাঝে লোকেদের জিজ্ঞাসা করি যীশুর শেষ নাম কি ছিল I তারা সাধারণতঃ উত্তর দেয়,

 “আমার মনে হয় তার শেষ নাম ছিল ‘খ্রীষ্ট’, তবে আমি নিশ্চিত নয়”I 

তখন আমি জিজ্ঞাসা করি,

“তাহলে যীশু যখন এক বালক ছিল তখন যোষেফ খ্রীষ্ট এবং মরিয়ম ছোট্ট যীশু খ্রীষ্টকে কি বাজারে নিয়ে গিয়েছিলেন?’ 

সেইভাবে রাখলে, তারা উপলব্ধি করে যে ‘খ্রীষ্ট’ যীশুর পারিবারিক নাম নয় I তাহলে ‘খ্রীষ্ট’ কি? কোথা থেকে এটি এসেছে? এর মানে কি? অনেকের কাছে অবাক লাগে, ‘খ্রীষ্ট’ এমন একটি উপাধি যার অর্থ ‘শাসক’ বা ‘শাসন করা’ I এটি ‘রাজ’ শিরোনামের বিপরীত নয়, যেমন ব্রিটিশ রাজের মধ্যে যে স্বাধীনতার পূর্বে ভারতবর্ষকে শাসন করেছিল I 

অনুবাদ বনাম অক্ষরীকরণ 

আমাদের প্রথমে অনুবাদের কিছু মূলসুত্রগুলোকে বুঝতে হবে I অনুবাদকরা মাঝে মাঝে অর্থের পরিবর্তে অনুরূপ ধ্বনির দ্বারা অনুবাদ করতে পচ্ছন্দ করে, বিশেষকরে নাম এবং শিরোনাম সমূহের I এটিকে অক্ষরীকরণ বলা হয় I উদাহরণস্বরূপ, “কুম্ভ মেলা” হিন্দি कुंभ मेला থেকে একটি ইংরেজি অক্ষরীকরণ I যদিও मेला মানে ‘মেলা’ বা ‘উৎসব’ এটিকে কুম্ভ ফেয়ারের পরিবর্তে অনুরূপ ধ্বনির দ্বারা ইংরেজিতে নিয়ে আসা হয়েছে I “রাজ” হিন্দি  “राज” থেকে একটি ইংরেজি অক্ষরীকরণ I যদিও राज  মানে   ‘শাসন করা’  বোঝায় এটিকে “ব্রিটিশ শাসনের’ পরিবর্তে “ব্রিটিশ রাজ” ধ্বনির দ্বারা ইংরেজিতে নিয়ে আসা হয়েছিল I বেদা [পুস্তকমের] (বাইবেল) সাথে, অনুবাদকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হত কোন নাম এবং শিরোনামগুলোকে (অর্থের দ্বারা) অনুবাদ এবং কোনগুলোকে (ধ্বনির দ্বারা) অক্ষরীকরণ করতে হবে I সেখানে কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই I 

সেপ্টুজিয়ান্ট 

বাইবেলকে প্রথমে 250 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে অনুবাদ করা হয়েছিল যখন হিব্রু বেদা (পুরনো নিয়ম) গ্রীকে অনুবাদিত হয়েছিল – সেই সময়ের আন্তর্জাতিক ভাষা I এই অনুবাদ সেপ্টুজিয়ান্ট (বা LXX) নামে পরিচিত এবং এটি খুব প্রভাবী  ছিল I যেহেতু নতুন নিয়মকে গ্রীকের মধ্যে লেখা হয়েছিল, এর পুরনো নিয়মের অনেক উদ্ধৃতি সমূহকে সেপ্টুজিয়ান্ট থেকে নেওয়া হয়েছিল I 

সেপ্টুজিয়ান্ট এর মধ্যে অনুবাদ এবং অক্ষরীকরণ 

নিচের চিত্রটি এই প্রক্রিয়াকে দেখায় এবং কিভাবে এটি আধুনিক-দিনের বাইবেলগুলোকে প্রভাবিত করে  

অনুবাদ প্রবাহ মূল ভাষা থেকে আধুনিক-দিনের বাইবেলে

মূল হিব্রু পুরনো নিয়মকে (1500 – 400 খ্রীষ্টাব্দে লেখা) চতুর্থাংশ #1 এর মধ্যে দেখানো হয়েছে I কারণ সেপ্টুজিয়ান্ট একটি 250 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ হিব্রু –>  গ্রীক অনুবাদ ছিল এটিকে একটি তীরের দ্বারা দেখান হয়েছে চতুর্থাংশ  #1 থেকে  #2 এর দিকে যাচ্ছে I নতুন নিয়ম গ্রীকে লেখা হয়েছিল (50 – 90 খ্রীষ্টাব্দ) তাই #2 এর মধ্যে উভয় পুরনো এবং নতুন নিয়ম রয়েছে I নিচের অর্ধেক  (#3) বাইবেলের একটি আধুনিক ভাষার অনুবাদ I পুরনো নিয়মটি (হিব্রু বেদা) মূল হিব্রু থেকে (1–>3) অনুবাদিত হয়েছে এবং নতুন নিয়ম গ্রীক থেকে (2–>3) অনুবাদিত হয়েছে I নাম এবং শিরোনাম সমূহের উপরে অনুবাদকদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে যেমনটি পূর্বে ব্যাখ্যা করা হয়েছে I এটিকে অক্ষরীকরণ এবং অনুবাদ লেবেলের সাথে নীল তীরের দ্বারা দেখানো হয়েছে, দেখায় যে অনুবাদকরা উভয় পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারেন I     

 ‘খ্রীষ্টের’ উৎপত্তি  

‘খ্রীষ্ট’ শব্দের উপরে ফোকাস করে এখন উপরোক্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন I  

বাইবেলের মধ্যে ‘খ্রীষ্ট’ কোথা থেকে এসেছে?

হিব্রু পুরনো নিয়মে উপাধিটি হ’ল  ‘מָשִׁיחַ’ (মাশিয়াক) যার অর্থ হ’ল অভিষিক্ত বা উৎসর্গীকৃত ব্যক্তি, যেমন একজন রাজা বা শাসক I সেই সময়ের হিব্রু রাজাদের তাদের রাজা হওয়ার পূর্বে অভিষিক্ত করা হত (আনুষ্ঠিনিকভাবে তৈল মর্দন করে) এইরূপে তারা অভিষিক্ত ব্যক্তি বা মাশিয়াক হয়েছিল I তারপরে তারা শাসক হত, কিন্তু তাদের শাসনকে ঈশ্বরের স্বর্গীয় শাসনের অধীনস্থ হতে হত, তাঁর ব্যবস্থা অনুসারে I সেই অর্থে পুরনো নিয়মে হিব্রু রাজারা রাজের মতন ছিল I রাজ দক্ষিন এশিয়ার ব্রিটিশ অঞ্চলের উপরে শাসন করত, তবে বৃটেনের সরকারের অধীনস্থ হয়ে, এর ব্যবস্থা অনুসারে I      

পুরনো নিয়ম একজন নির্দিষ্ট মাশিয়াকের আগমনের বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল (একটি নির্দিষ্ট আর্টিকেল ‘দি’ এর সাথে) যিনি একজন অনন্য রাজা হবেন I 250 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে যখন সেপ্টুজিয়ান্ট অনুবাদিত হ’ল, অনুবাদকরা গ্রীকের মধ্যে একটি অনুরূপ অর্থের শব্দের চয়ন করলেন I Χριστός (ক্রিস্তোস ধ্বনির মতন), ক্রিয়োর থেকে ভিত্তি করে, যার অর্থ ছিল তৈলের দ্বারা আনুষ্ঠানিকভাবে মর্দন করা I অতএব হিব্রু ‘মাশিযাক’ অর্থের দ্বারা গ্রীক সেপ্টুজিয়ান্ট এর মধ্যে Χριστός তে অনুবাদিত হয়েছিল (ধ্বনির দ্বারা অক্ষরীকরণ নয়) I নতুন নিয়মের রচয়িতারা যীশুর পরিচিতির জন্য ক্রিস্তোস শব্দটিকে ক্রমাগত ব্যবহার করতে লাগলেন যেমনটি এটিকে ‘মাশিয়াক’ রূপে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল I   

ইউরোপীয় ভাষাগুলোর জন্য অনুরূপ অর্থ সহ কোনো স্পষ্ট শব্দ ছিল না তাই নতুন নিয়মের গ্রীক ‘ক্রিস্তোস’ ‘খ্রীষ্টে’ অক্ষরীকরণ করা হয়েছিল I ‘খ্রীষ্ট’ শব্দটি পুরনো নিয়মের মূলগুলোর সাথে একটি অত্যন্ত নিদিষ্ট উপাধি, হিব্রুর থেকে গ্রীকে অনুবাদের দ্বারা এবং তারপরে গ্রীক থেকে আধুনিক ভাষাগুলোতে অক্ষরীকরণের দ্বারা I পুরনো নিয়মকে হিব্রু থেকে আধুনিক ভাষাগুলোতে সরাসরিভাবে অনুবাদ করা হয়েছে এবং অনুবাদকরা মূল হিব্রু ‘মাশিয়াক’ সম্বন্ধে বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন I কিছু বাইবেল মসীহর বৈচিত্রের সাথে  মাশিয়াকের অক্ষরীকরণ করে, অন্যরা অভিষিক্ত ব্যক্তি রূপে অর্থের দ্বরা অনুবাদ করে I খ্রীষ্টের জন্য একটি [হিন্দি] শব্দ (मसीह) আরবী থেকে অক্ষরীকরণ করা হয়েছে, যেটিকে পরিবর্তে, মূল হিব্রু থেকে অনুবাদিত করা হয়েছিল I অতএব এর উচ্চারণ মসীহ মূলের কাছাকাছি I  

হিব্রু শব্দ מָשִׁיחַ (মাশিয়াহ, মেশিয়াহ) কে “ক্রিস্তোস” রূপে গ্রিক সেপ্টুজিয়ান্ট এর মহ্য়ে অনুবাদিত করা হয়েছে I এটিকে পরিবর্তে ইংরেজিতে ‘খ্রীষ্ট’ রূপে অনুবাদিত করা হয়েছে এবং ‘ক্রাইস্ট’ এর মতন শুনতে লাগে I রীষ্টের বাংলা শব্দ হল ক্রিস্টো । এটি গ্রীক শব্দ “ক্রিস্টোস” থেকে অনূদিত এবং তাই krisṭō হিসাবেও উচ্চারণ করা হয়।

যেহেতু আমরা পুরনো নিয়মে ‘খ্রীষ্ট’ শব্দটিকে সাধারণতঃ দেখিনা, পুরনো নিয়মের সঙ্গে এর যোগাযোগ সর্বদা স্পষ্ট নয় I তবে অধ্যয়ন থেকে আমরা জানি যে ‘খ্রীষ্ট’=’মেশিয়াহ’=’অভিষিক্ত ব্যক্তি’ এবং সেটি একটি নিদিষ্ট উপাধি ছিল I    

প্রথম শতাব্দীতে খ্রীষ্ট প্রত্যাশিত ছিল 

এখন সুসমাচার থেকে আমাদের কিছু পর্যবেক্ষণ করা যাক I নিচে রাজা হেরোদের প্রতিক্রিয়া রয়েছে যখন মাগি যিহূদিদের রাজার খোঁজে এলো, খ্রীষ্টমাস কাহিনীর একটি অংশ I লক্ষ্য করুন খ্রীষ্টের পূর্বে ‘দি’ রয়েছে এমনকি যদিও এটি নির্দিষ্টভাবে যীশুর সমন্ধে উল্লেখ করছে না I 

রাজা হেরোদ একথা শুনে খুব বিচলিত হলেন এবং তাঁর সঙ্গে জেরুশালেমের সব লোক বিচলিত হল৷
তখন তিনি ইহুদীদের মধ্যে যাঁরা প্রধান যাজক ও ব্যবস্থার শিক্ষক ছিলেন, তাঁদের ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, মশীহ (খ্রীষ্ট) কোথায় জন্মগ্রহণ করবেন?

মথি 2:3-4

আপনি দেখুন ‘দি খ্রীষ্টের’ ধারণাকে রাজা হেরোদ এবং তার পরামর্শকারীদের মধ্যেকার বিষয় রূপে ভালভাবে বোঝা যায় – এবং এখানে যীশুকে নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে না I এটি দেখায় ‘খ্রীষ্ট’ পুরনো নিয়ম থেকে আসে, সাধারনভাবে প্রথম শতাব্দীর মধ্যে গ্রীক সেপ্টুজিয়ান্ট থেকে লোকেদের দ্বারা পড়া হয় I ‘খ্রীষ্ট’ ছিল (এবং আছে) একটি উপাধি, নাম নয়, একজন শাসক বা রাজাকে বোঝায় I এই জন্যই হেরোদ ‘বিচলিত হলেন’ কারণ আর একজন রাজার সম্ভাবনার ঝুঁকি তিনি অনুভব করলেন I আমরা ধারনাটিকে খারিজ করতে পারি যে ‘খ্রীষ্ট’ একটি খ্রীষ্টান আবিষ্কার ছিল I সেখানে কোনো খ্রীষ্টান থাকার পূর্বে উপাধিটি শতাধিক বছর ধরে ব্যবহারে ছিল I  

খ্রীষ্টের কর্তৃত্বের প্রহেলিকা 

যীশুর আদি অনুগামীরা বিশ্বস্ত হয়েছিল যে যীশু ছিলেন আসন্ন খ্রীষ্ট যার সম্বন্ধে হিব্রু বেদার মধ্যে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল, যখন অন্যরা এই বিশ্বাসের বিরোধিতা করেছিল I  

কেন? 

উত্তরটি প্রেম বা শক্তির উপরে ভিত্তিশীল শাসন সম্পর্কে একটি প্রহেলিকার  হৃদয়ে যায় I ব্রিটিশ মুকুটের অধীনে ভারতে শাসন করার রাজের কর্তৃত্ব ছিল I তবে এটি ভারতকে শাসন করার অধিকার পেয়েছিল কারণ রাজ প্রথমে সামরিক শক্তিতে এসেছিল এবং এর ক্ষমতার মাধ্যমে বাহ্যিক অধীনস্থ জোরপূর্বক চাপিয়ে দিয়েছিল I লোকেরা রাজকে ভালোবাসেনি এবং গান্ধীর মতন নেতাদের মাধ্যমে, অবশেষে রাজকে উচ্ছেদ করা হল I  

যীশু খ্রীষ্ট হিসাবে অধীনস্থ দাবি করতে আসেন নি, এমনকি যদিও তার কাছে কর্তৃত্ব ছিল I প্রেম বা ভক্তির উপরে ভিত্তিশীল একটি অনন্তকালীন রাজ্য স্থাপন করতে এসেছিলেন, এবং এটির প্রয়োজন ছিল যে একদিকে ক্ষমতা এবং কর্তৃত্বের মধ্যে কূটাভাস অন্যদিকে প্রেমের সাক্ষাত I হিব্রু ভাববাদীরা ‘খ্রীষ্টের’ আগমনের বিষয়ে আমাদেরকে বুঝতে সাহায্য করতে এই প্রহেলিকার অন্বেষণ করলেন I হিব্রু রাজা দায়ূদের থেকে 1000 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে আসা হিব্রু বেদার মধ্যে ‘খ্রীষ্টের’ প্রথম আবির্ভাব থেকে আমরা তাদের অন্তর্দৃষ্টিকে অনুসরণ করে আসছি I  

যিহূদিদের ইতিহাস: সারা ভারতবর্ষ এবং পৃথিবী ব্যাপী

ভারতবর্ষে যিহূদিদের এক দীর্ঘ ইতিহাস আছে, তারা সহস্রাধিক বছর ধরে এখানে থেকে, ভারতীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে মশি সংক্রান্ত একটি ছোট সম্প্রদায়কে গঠন করেছে I অন্য সম্প্রদায় সমূহের থেকে আলাদা (যেমন জৈন, শিখ, বৌদ্ধ সমূহ), যিহূদিরা তাদের ঘর তৈরী করতে মূলতঃ ভারতবর্ষের বাইরে থেকে এসেছিল I 2017 সালের গ্রীষ্মে ভারতের প্রধান মন্ত্রী মোদির ইস্রায়েল ভ্রমণের ঠিক পূর্বে তিনি ইস্রায়েলের প্রধান মন্ত্রী নেতানিয়াহুর সাথে একটি সংযুক্ত ওপ-এড লিখলেন I যখন তারা লিখলেন তারা ভারতবর্ষে যিহূদিদের বসবাস হেতু আগমনকে স্বীকৃতি দিলেন I

ভারতবর্ষের যিহূদি সম্প্রদায়কে সর্বদা উষ্ণ এবং সম্মানের সাথে স্বাগত করা হয়েছিল এবং কখনও কোনো অত্যাচারের সম্মুখীন হয় নি I 

প্রকৃতপক্ষে, ভারতবর্ষের ইতিহাসের উপরে যিহূদিদের এক গভীর প্রভাব ছিল, ভারতীয় ইতিহাসের একগুঁয়ে রহস্যের সমাধান করে – কিভাবে লেখার উদয় হয়েছিল যেমন এটি ভারতে হয়েছিল? এই প্রশ্নের উত্তর ভারতীয় সংস্কৃতির সমস্ত

ভারতবর্ষের যিহূদি ইতিহাস

যদিও স্বতন্ত্র, তবুও যিহূদিরা পরম্পরাগত ভারতীয় পোশাক গ্রহণ করার দ্বারা মিশে গিয়েছিল I 

কত সময় ধরে যিহূদি সম্প্রদায় সমূহ ভারতবর্ষে রয়েছে? দি টাইমস অফ ইস্রায়েল সম্প্রতি একট নিবন্ধ প্রকাশিত করেছে যা লক্ষণীয় যে 27 শতাব্দীর পরে মনশি: উপজাতির (মনশিদের সন্তানরা) থেকে যিহূদিরা মিজোরাম থেকে ইস্রায়েলে ফিরছে I সেটি তাদের পূর্বপুরুষগণকে মূলতঃ 700 খ্রীষ্টপূর্বাব্দের আশেপাশে এখানে পৌঁছায় I তাদের তেলেগুভাষী আত্মীয় স্বজনদের কাছে যারা পার্সিয়া, আফগানিস্তান, তিব্বত এবং পরে চীনের মধ্য দিয়ে ঘুরে বেড়ানোর পরে যিহূদি উপজাতি ইফ্রয়িমের (ইফ্রয়িমের সন্তানরা) থেকে অন্ধ্রপ্রদেশে বাস করছে তাদের কাছে 1000 বছরের বেশি সময় ধরে ভারতে থাকার সম্মলিত এক স্মৃতি রয়েছে I কেরালার কোচিন যিহূদিরা প্রায় 2600 বছর ধরে সেখানে বাস করছে I শত শত বছর ধরে যিহূদিরা ভারতবর্ষ জুড়ে ছোট কিন্তু স্বতন্ত্র সম্প্রদায় সমূহ গঠন করেছিল I তবে এখন তারা ইস্রায়েলের জন্য ভারত্বর্শছেরে চলে যাচ্ছে I

কোচিনের যিহূদি সমাজগৃহের উপরে শিলালিপি I এটি সেখানে 300 বছর ধরে রয়েছে I

যিহূদিরা কিভাবে ভারতবর্ষে বসবাস করতে এসেছিল? এত দীর্ঘ সময় পরে তারা কেন ইস্রায়েলে ফিরে যাচ্ছে? অন্য কোনো জাতির চয়ে তাদের ইতিহাস সম্বন্ধে আমাদের কাছে অধিক তথ্য সমূহ আছে I একটি কালপঞ্জিকে ব্যবহার করে তাদের ইতিহাসকে সংক্ষিপ্তসার করতে আমরা এই তথ্যকে ব্যবহার করব I  

আব্রাহাম: যিহূদি পরিবারের আরম্ভ

আব্রাহামের সাথে কালপঞ্জি শুরু হয় I তাকে জাতি সমূহের এক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল এবং তার সাথে ঈশ্বরের সাক্ষাতকার হয়েছিল যা তার পুত্র ইসহাকের প্রতীকাত্মক বলিদানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় I এটি তার বলিদানের ভবিষ্যত স্থানকে চিহ্নিত করার দ্বারা যীশুর (যেশু সৎসংগ) প্রতি একটি সাঙ্কেতিক চিহ্ন ছিল I ইসহাকের পুত্রকে ঈশ্বরের দ্বারা ইস্রায়েল নামে অভিহিত করা হয়েছিল I মিসরে ইস্রায়েলের বংশধরদের দাস রূপে থাকার সময়টি  কালপঞ্জির মধ্যে সবুজের মধ্যে চলতে থাকে I এই সময়কাল আরম্ভ হয়েছিল যখন ইস্রায়েলের পুত্র যাকোব (বংশ্রক্রমটি ছিল: আব্রাহাম -> ইসহাক -> ইস্রায়েল  (এছাড়াও যাকোব রূপে পরিচিত) -> যোষেফ), ইস্রায়েলীয়দের মিসরে নিয়ে গেল, যেখানে পরবর্তী সময়ে তারা দাসে পরিণত হল I

ফরৌণের দাস রূপে মিসরে বসবাস 

মশি: ইস্রায়েলীয়রা ঈশ্বরের অধীনে এক জাতিতে পরিণত হ’ল

নিস্তারপর্ব মহামারীর সাহায্যে মশি ইস্রায়েলীয়দের নেতৃত্ব দিলেন, যা মিসরকে ধ্বংস করল এবং ইস্রায়েলীয়দের মিসর থেকে ইস্রায়েল দেশে নিয়ে এল I তার মৃত্যুর পূর্বে, মশি ইস্রায়েলীয়দের উপরে আশীর্বাদ এবং অভিশাপ ঘোষণা করলেন (যখন কালপঞ্জি সবুজ থেকে হলুদের দিকে যায়) I তারা আশির্বাদিত হবে যদি তারা ঈশ্বরের বাধ্য হয়, যদি তারা না করে তবে অভিশপ্ত হবে I ইস্রায়েলের ইতিহাস এই আশীর্বাদ এবং অভিশাপের কাছে পরে চিরকাল আবদ্ধ রইল I

শত শত বছর ধরে ইস্রায়েলীয়রা তাদের দেশে রইল তবে তাদের কাছে কোনো রাজা থাকলো না, নাতো তাদের কাছে যিরূশালেমের রাজধানী নগর থাকল – এই সময়ে এটি অন্য লোকেদের কাছে ছিল I যাইহোক 1000 খ্রীষ্টাব্দের আশে পাশে রাজা দায়ূদের সাথে এটির পরিবর্তন হ’ল I 
যিরূশালেম থেকে রাজা দায়ূদের শাসনের সাথে বসবাস

রাজা দায়ূদ যিরূশালেমে এক রাজকীয় বংশের স্থাপনা করেন 

দায়ূদ য়িরুশালেম জয় করে এটিকে তার রাজধানী নগর বানালেন I তিনি এক আসন্ন ‘খ্রীষ্টের’ প্রতিশ্রুতি পেলেন এবং সেই সময় থেকে যিহূদি জনগন খ্রীষ্টের আগমনের প্রতীক্ষা করল I তার পুত্র ধনবান এবং বিখ্যাত শলোমন তার উত্তরাধিকারী হলেন এবং যিরূশালেমর মধ্যে মোরিয়া পর্বতের উপরে প্রথম যিহূদি মন্দির নির্মাণ করলেন I দায়ূদের বংশধররা প্রায় 400 বছর ধরে শাসন করতে থাকল আর এই সময়কালকে ফেকাশে নীলবর্ণে দেখানো হয়েছে (1000 – 600 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) I এটি ইস্রায়েলের গৌরবের সময়কাল ছিল – তাদের কাছে প্রতিশ্রুত আশীর্বাদ সমূহ ছিল I তারা একটি শক্তিশালী জাতি ছিল; তাদের কাছে একটি উন্নত সমাজ, সংস্কৃতি, এবং তাদের মন্দির ছিল I তবে এছাড়াও  পুরনো নিয়ম এই সময়ে তাদের ক্রমবর্ধমান দুর্নীতির কথা বর্ণনা করে I এই সময়কালের মধ্যে অনেক ভাববাদী ইস্রায়েলীয়দের সতর্ক করেছিলেন যে যদি তাদের পরিবর্তন না হয় তবে মশির অভিশাপ সমূহ তাদের উপরে আসবে I এই সতর্কতা সমূহকে উপেক্ষা করা হয়েছিল I এই সময়কালের মধ্যে ইস্রায়েলীয়রা দুটি আলাদা রাজ্যে বিভক্ত হ’ল: ইস্রায়েল বা ইফ্রয়িমের উত্তরাঞ্চল রাজ্য, এবং যিহূদার দক্ষিণাঞ্চল রাজ্য (যেমন আজকের কোরিয়া, এক জনগণ দুটি দেশে বিভক্ত – উত্তর এবং দক্ষিন কোরিয়া) I

প্রথম যিহূদি নির্বাসন: অশুরিয়া এবং বাবিল 

অবশেষে, দুটি পর্যায়ে তাদের উপরে অভিশাপ সমূহ নেমে এলো I 722 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে অশুরিয়রা উত্তরাঞ্চল রাজ্যকে ধ্বংস করল এবং ওই ইস্রায়েলীয়দের তাদের বিশাল সাম্রাজ্য জুড়ে গণ নির্বাসনে পাঠানো হল I মিজোরামের মনশি: সন্তানরা, অন্ধ্রপ্রদেশের ইফ্রয়িম সন্তানরা ওই নির্বাসিত ইস্রায়েলীয়দের বংশধর I পরে 586 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে, একজন শক্তিশালী বাবিলোনিয়ান রাজা নবুখদনিৎসর এলেন – ঠিক যেমন মশি 900 বছর পূর্বে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যখন তিনি তার অভিশাপের মধ্যে লিখলেন: 

49 “তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য প্রভু বহু দূর থেকে এক জাতির আগমণ ঘটাবেন| তোমরা তাদের ভাষা বুঝবে না| ঈগল পাখী য়েমন আকাশ থেকে নেমে আসে তেমনি দ্রুত তারা আসবে| 
50 সেই সব লোক নিষ্ঠুর হবে| তারা বৃদ্ধদের বিষয়ে কোন চিন্তা করবে না এবং শিশুদের প্রতিও দযা করবে না| 
51 তারা তোমাদের পশু ও উত্পন্ন খাদ্য নিয়ে নেবে| তোমাদের ধ্বংস না করা পর্য়ন্ত তারা তোমাদের সর্বস্ব নিয়ে যাবে| তারা তোমাদের শস্য, দ্রাক্ষারস, তেল, গরু, মেষ ও ছাগলের কিছুই ছেড়ে যাবে না| তোমাদের ধ্বংস না করা পর্য়ন্ত তারা তোমাদের সর্বস্ব নিয়ে যাবে| 
52 “সেই জাতি তোমাদের নগরের চারিদিক ঘিরে তোমাদের আক্রমণ করবে| তোমরা কি মনে করছ নগরের চারিধারের শক্ত উঁচু প্রাচীর তোমাদের রক্ষা করবে? কিন্তু তারা ভেঙ্গে পড়বে| প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের, দেওয়া সেই দেশের সর্বত্র সমস্ত নগরগুলি শত্রুরা আক্রমণ করবে| 

দ্বিতীয় বিবরণ 28: 49-52

নবুখদনিৎসর যিরূশালেম জয় করলেন, এটিকে পোড়ালেন, এবং শলোমনের দ্বারা নির্মিত মন্দিরকে ধ্বংস করলেন I এটি মশির ভবিষ্যদ্বাণী সমূহকে পূর্ণ করল যে

63 “প্রভু তোমাদের মঙ্গল করে ও তোমাদের জাতির বৃদ্ধি সাধন করে য়েমন আনন্দ পেতেন, সেই একই ভাবে তিনি তোমাদের সর্বনাশ ও ধ্বংস দেখে আনন্দ পাবেন| তুমি য়ে দেশ অধিকার করতে যাচ্ছ, লোক তোমাদের সেই দেশ থেকে বের করে দেবে| 
64 আর প্রভু পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্য়ন্ত সমস্ত জাতির মধ্যে তোমাদের ছড়িয়ে দেবেন| সেখানে তোমরা কাঠ, পাথরের তৈরী এমন মূর্ত্তির পূজা করবে, যাদের পূজা তোমাদের পূর্বপুরুষরা কখনও করে নি|

দ্বিতীয় বিবরণ 28:63-64
পরাজিত এবং বাবিলে নির্বাসিত হ’ল I

কেরালার কোচিনের যিহূদিরা এই নির্বাসিত ইস্রায়েলীয়দের বংশধর সমূহ ছিল I 70 বছর ধরে, সময়কালটিকে লালের মধ্যে দেখানো হয়েছে, এই ইস্রায়েলীয়দের (বা যিহূদিরা যেমন তাদেরকে এখন ডাকা হয়) দেশের বাইরে নির্বাসিত করা হয়েছিল যা আব্রাহাম এবং তার বংশধরদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল I

ভারতীয় সমাজে যিহূদি’র অবদান

 আমরা লেখার প্রশ্নটিকে তুলি যেটি ভারতবর্ষে উদিত হয়েছিল   I ভারতবর্ষের আধুনিক ভাষা সমূহকে তৎসহ হিন্দি, বাঙালি, মারাঠি, গুজরাতি তেলেগু, কান্নাড়, মালায়ালাম এবং তামিলের পাশাপাশি প্রাচীন সংস্কৃত যার মধ্যে ঋক বেদ এবং অন্যান্য সনাতন সাহিত্য লেখা হয়েছিল ব্রাহ্মিক লিপি সমূহ  বলে শ্রেণীভুক্ত করা হয় I যেহেতু এরা সবাই ব্রাহ্মীলিপি  নাম পরিচিত একটি পৈতৃক লিপি থেকে অবতীর্ণ হয় I ব্রাহ্মীলিপিকে অশোকের সাম্রাজ্যের সময়্কাল থেকে কেবলমাত্র কিছু প্রাচীন মুহুর্তে দেখা যায় I

অশোকের স্তম্ভের উপরে ব্রাহ্মীলিপি (250 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ)

যদিও বোঝা যায় ব্রাহ্মীলিপি কিভাবে এই আধুনিক ভাষা সমূহে পরিবর্তিত হয়, তবে যেটি স্পষ্ট নয় তা হ’ল ভারতবর্ষ প্রথমে কিভাবে ব্রাহ্মীলিপিকে গ্রহণ করল I পন্ডিতগণ লক্ষ্য করেন যে ব্রাহ্মীলিপি হিব্রু-ফৈনিকী লিপির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত, যেটি সেই লিপি ছিল যাকে ইস্রায়েলের যিহূদিদের দ্বারা তাদের নির্বাসন এবং ভারতবর্ষে আগমন কালে ব্যবহৃত হয়েছিল I ঐতিহাসিক ডা. অভিগদর সাচন (1) প্রস্তাব দেন যে ভারতে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী নির্বাসিত ইস্রায়েলীয়রা তাদের সঙ্গে করে হিব্রু-ফৈনিকীকে নিয়ে এসেছিল – যা ব্রাহ্মীলিপিতে পরিণত হয়েছিল I এছাড়াও এটি এই রহস্যের সমাধান করে কিভাবে ব্রাহ্মীলিপি এর নাম পেল I এটি কি শুধুমাত্র কাকতলীয় ঘটনা যে ব্রাহ্মীলিপি সেই একই সময়ে উত্তর ভারতে দেখা যায় যখন তাদের পৈতৃক ভূমি, আব্রাহামের দেশ থেকে নির্বাসনের মধ্যে আসা যিহূদিরা সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করে? স্থানীয় নিবাসিগণ যারা আব্রাহামের বংশধরদের লিপিকে গ্রহণ করল তারা এটিকে (A) ব্রাহ্মীলিপি নাম দিল I আব্রাহামের ধর্ম ছিল একেশ্বরবাদ, যার ভূমিকা সীমিত নয় I তিনি প্রথম, শেষ এবং অনন্তকালীন I সম্ভবতঃ এই জন্যই সেখানে (A) ব্র্হ্মার ধর্মের থেকে, ব্র্হ্মায় বিশ্বাসের আরম্ভ হ’ল I যিহূদিরা, তাদের লিপি এবং ধর্মকে ভারতবর্ষে আনার মাধ্যমে অনেক আক্রমনকারীদের তুলনায় যারা তাকে জয় করতে ও শাসন করতে চেয়েছিল এর চিন্তাধারা এবং ইতিহাসকে আরও অধিক মৌলিকভাবে রূপ দিল I এবং হিব্রু বেদার, মূলতঃ হিব্রু-ফৈনিকী/ব্রাহ্মীলিপিতে আসন্ন একজনের সম্বন্ধে এর থিম রয়েছে, যা সংস্কৃত ঋক বেদের আসন্ন পুরুসার থিমের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ I তবে আমরা তাদের পৈতৃক ভূমির থেকে তাদের নির্বাসনের পরে আরব প্রাচ্যে যিহূদিদের ইতিহাসে ফিরি I

পারস্যের অধীনে নির্বাসন থেকে প্রত্যাবর্তন

তার পরে, পার্সিয়ান সম্রাট কোরস বাবিলকে জয় করলেন এবং কোরস বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তি হলেন I তিনি যিহূদিদের তাদের দেশে ফেরার অনুমতি দিলেন I

পারস্য সাম্রাজ্যের অংশ হিসাবে দেশে বাস বসবাস 

যাইহোক তারা আর স্বতন্ত্র দেশ রইল না,তারা এখন পারস্য সাম্রাজ্যের মধ্যে একটি প্রদেশ ছিল I এটি 200 বছর ধরে চলতে থাকল এবং কালপঞ্জির গোলাপির মধ্যে রয়েছে I এই সময়ের মধ্যে যিহূদি মন্দির (দ্বিতীয় মন্দির রূপে পরিচিত) এবং য়িরুশালেম নগরকে পুনর্নির্মাণ করা হল I যদিও যিহূদিদের ইস্রায়েলে ফেরার অনুমতি দেওয়া হ’ল, তবুও অনেকে বিদেশের নির্বাসনে রয়ে গেল I

গ্রীকদের সময়কাল 

মহান আলেক্সান্ডার পারস্য সাম্রাজ্য জয় করল এবং গ্রীক সাম্রাজ্যের মধ্যে আরও 200 বছর ধরে ইস্রায়েলকে এক প্রদেশ পরিণত করল I এটিকে গাড় নীলের মধ্যে দেখানো হয়েছে I 

গ্রীক সাম্রাজ্যের অংশ হিসাবে দেশে বসবাস 

রোমীয়দের সময়কাল 

পরে রোমীয়রা গ্রীক সাম্রাজ্যকে পরাস্ত করল এবং তারা পৃথিবীতে প্রভাবী শক্তিতে পরিণত হ’ল I যিহূদিরা পুনরায় এই সাম্রাজ্যের মধ্যে এক প্রদেশে পরিণত হ’ল এবং এটিকে হাল্কা হলুদে দেখানো হয়েছে I এটাই হল সময় যখন যীশু বেঁচে ছিলেন I এটা ব্যাখ্যা করে কেন রোমীয় সৈন্যরা সুসমাচারের মধ্যে আছে – কারণ রোমীয়রা যীশুর জীবনকালে যিহূদিদের শাসন করত I 

রোমীয় সাম্রাজ্যের অংশ হিসাবে দেশে বসবাস 

রোমীয়দের অধীনে দ্বিতীয় যিহূদি নির্বাসন 

বাবিলোনিয়ানের সময়কাল থেকে (586 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) যিহূদিরা রাজা দায়ূদের অধীনে থাকার মতন স্বতন্ত্র ছিল ছিল না I তারা অন্যান্য সাম্রাজ্য সমূহের দ্বারা শাসিত হয়েছিল, ঠিক যেভাবে ব্রিটিশ স্বাধীনতার পূর্বে ভারতবর্ষকে শাসন করেছিল I যিহূদির এতে অসন্তুষ্ট ছিল এবং তারা রোমীয় শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করল I রোমীয়রা এসে যিরূশালেমকে ধ্বংস করল (70 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ), দ্বিতীয় মন্দিরকে পুড়িয়ে দিল, এবং সারা রোমীয় সাম্রাজ্য জুড়ে যিহূদিদের দাস হিসাবে নির্বাসিত করল I এটি দ্বিতীয় যিহূদি নির্বাসন ছিল I যেহেতু রোমীয় সাম্রাজ্য বিশাল বড় ছিল সেইহেতু যিহূদিরা অবশেষে সমস্ত পৃথিবীর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল I

রোমীয়দের দ্বারা 70 খ্রীষ্টাব্দে যিরূশালেম এবং মন্দিরকে ধ্বংস করা হ’ল; যিহূদিদের বিশ্ব জুড়ে নির্বাসনে পাঠানো হ’ল 

এইভাবে যিহূদি লোকেরা প্রায় 2000 বছর ধরে বাস করল; বিদেশী ভুমিতে ছত্ত্রভঙ্গ হয় এবং এই দেশগুলোতে কখনও স্বীকৃত হ’ল না I এই বিভিন্ন জাতি সমূহের মধ্যে যিহূদিরা মহা অত্যাচার ভোগ করল I যিহূদিদের উপরে অত্যাচার  ইউরোপের মধ্যে বিশেষভাবে সত্য ছিল I পাশ্চাত্য ইউরোপের স্পেন থেকে নিয়ে, রাশিয়া পর্যন্ত যিহূদিরা প্রায়শই এই সমস্ত রাজ্য সমূহের মধ্যে বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যে বাস করত I যিহূদিরা এই সমস্ত অত্যাচার থেকে অব্যাহতি পেতে কোচিনে পৌঁছতে লাগল I মধ্য প্রাচ্য থেকে যিহূদিরা

ডেভিড স্যাসন এবং পুত্রগণ – ভারতবর্ষের ধনবান বাগদাদী যিহূদিরা

ভারতবর্ষের অন্যান্য অংশে সপ্তদশ এবং অষ্টাদশ শতাব্দীতে পৌঁছাল, এবং বাগদাদী যিহূদি রূপে পরিচিত হ’ল, অধিকাংশ মুম্বাই, দিল্লী এবং কলকাতায় স্থায়ীভাবে বাস করতে থাকল I 1500 খ্রীষ্টপূর্বাব্দের অতীতে মশির অভিশাপ সমূহে তাদের জীবন যাত্রা সম্বন্ধে সঠিক বর্ণনা ছিল I

65 “এই সমস্ত জাতির মধ্যে তোমরা কোন শান্তি পাবে না এবং বিশ্রামের জায়গাও পাবে না| প্রভু তোমাদের মন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করবেন| তখন তোমাদের চোখ ক্লান্ত হয়ে পড়বে এবং তোমরা বিচলিত হয়ে পড়বে| 

দ্বিতীয় বিবরণ 28:65

ইস্রায়েলীয়দের বিরুদ্ধে অভিশাপ সমূহকে দেওয়া হয়েছিল লোকেদের জিজ্ঞাসা করতে:

24 “অন্যান্য সব জাতির লোকরা জিজ্ঞেস করবে, ‘প্রভু এই দেশের প্রতি কেন এমনটি করলেন? কেন তিনি এত ক্রুদ্ধ হলেন?’

দ্বিতীয় বিবরণ 29:24

এবং উত্তর দিতে:

25 উত্তর এই হবে, ‘প্রভু ক্রুদ্ধ কারণ ইস্রায়েলের লোকরা তাদের প্রভুর অর্থাত্‌ পূর্বপুরুষের ঈশ্বরের নিয়ম ত্যাগ করেছে| প্রভু তাদের মিশর দেশ থেকে বের করে আনার সময় য়ে চুক্তি করেছিলেন তা তারা আর পালন করে না| 
26 প্রভু য়ে সমস্ত দেবতার পূজা করতে নিষেধ করেছিলেন, যাদের পূজা তারা আগে কখনও করে নি, ইস্রায়েলের লোকরা সেই অন্যান্য দেবতার সেবা করেছে| 
27 সেই কারণেই প্রভু এই দেশের লোকদের প্রতি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হলেন| আর তাই তিনি পুস্তকে লেখা সমস্ত অভিশাপ তাদের উপর আনলেন| 
28 প্রভু তাদের প্রতি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ ও বিরক্ত হলেন, তাই তিনি তাদের দেশ থেকে বের করে দিয়ে অন্য এক দেশে রাখলেন, সেখানেই আজ তারা রয়েছে|’

দ্বিতীয় বিবরণ 29:25-28

নিচের কালপঞ্জি এই 1900 বছরের সময়কালকে দেখায় I এই সময়কালকে এক দীর্ঘ লাল বারের মধ্যে দেখানো হয়েছে I

বৃহত্তর স্কেলের উপরে যিহূদিদের ঐতিহাসিক কালপঞ্জি – নির্বাসনের দুটি সময়কালের বৈশিষ্ট্যকে দেখায়

আপনারা দেখতে পারেন যে তাদের ইতিহাসের মধ্যে যিহূদি লোকেরা নির্বাসনের দুটি সময়কালের মধ্য দিয়ে গমন করেছিল তবে দ্বিতীয় নির্বাসনটি প্রথম নির্বাসনের চেয়ে অনেক দীর্ঘ ছিল I

বিংশ শতাব্দীর গণহত্যা 

যিহূদিদের বিরুদ্ধে অত্যাচার শীর্ষে উঠল যখন হিটলার, নাৎসী জার্মানির মাধ্যমে, ইউরোপে বসবাসকারী সমস্ত যিহূদিদের নির্মূল করার চেষ্টা করল I সে প্রায় সফল হ’ল তবে সে পরাজিত হ’ল এবং যিহূদিদের এক অবশিষ্টাংশ জীবিত রইল I 

ইস্রায়েলের আধুনিক পুনর্জনম 

ঘটনা যে সেখানে এমন লোক ছিল যাদের সহস্রাধিক বছর পরে একটি গৃহভূমি হীন ‘যিহূদি’ হিসাবে স্ব-চিহ্নিত থাকা উল্লেখযোগ্য ছিল I তবে এটি 3500 বছর পূর্বে লেখা মশির চূড়ান্ত বাক্য সমূহকে সত্যে পরিণত হতে অনুমতি দিল I 1948 সালে পৃথিবী, সংযুক্ত রাষ্ট্র সমূহের মাধ্যমে, ইস্রায়েলের আধুনিক রাষ্ট্রের অভূতপূর্ব পুনর্জন্ম দেখল, যেমন মশি বহু শতাব্দী পূর্বে লিখে গিয়েছিলেন:

তবে প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের প্রতি করুণা করবেন| প্রভু আবার তোমাদের মুক্ত করবেন| তিনি তোমাদের য়ে সব জাতির মধ্যে পাঠিয়ে ছিলেন সেখান থেকে আবার ফিরিয়ে আনবেন| 
এমন কি তোমরা যদি পৃথিবীর দূরতম প্রান্তেও গিয়ে থাকো, প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, সেখান থেকে তোমাদের সংগ্রহ করবেন| 
তোমাদের পূর্বপুরুষদের য়ে দেশ ছিল, প্রভু সেই দেশে তোমাদের ফিরিয়ে আনবেন এবং সেই দেশ তোমাদের অধিকারে আসবে| প্রভু তোমাদের মঙ্গল করবেন এবং পূর্বপূরুষদের চাইতেও তোমাদের অধিক হবে| তোমাদের জাতির লোকসংখ্যা এমন বৃদ্ধি পাবে যা আগে কখনও হয় নি| 

দ্বিতীয় বিবরণ 30:3-5

এছাড়াও এটি আরও উল্লেখযোগ্য ছিল যেহেতু এই রাষ্ট্রটি প্রবল বিরোধিতা স্বত্তেও প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল I 1948 … 1956 … 1967 এবং পুনরায় 1973 সালে চারিদিকের জাতিগুলোর অধিকাংশ ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল I একটি অত্যন্ত ক্ষুদ্র জাতি ইস্রায়েল, মাঝে মাঝে একই সময়ে পাঁচটি জাতির সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত ছিল I তথাপি না কেবল ইস্রায়েল জীবিত থাকল, বরং তার এলাকা বৃদ্ধি পেল I 3000 বছর পূর্বে দায়ূদের দ্বারা স্থাপিত তার ঐতিহাসিক রাজধানী নগর যিরূশালেমকে 1967 সালে ছয় দিনের যুদ্ধে, ইস্রায়েল পুনরায় অর্জন   করল I ইস্রায়েল রাষ্ট্র গঠনের পরিণাম, এবং এই যুদ্ধগুলোর থেকে উৎপন্ন  ফলাফলগুলো আমাদের আজকের বিশ্বে সবচেয়ে জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে I 

মশির দ্বারা যেমনভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল এবং আরও সম্পূর্ণরূপে এখানে অনুসন্ধান করা হল, ইস্রায়েলের পুনর্জন্ম ভারতের যিহূদিদের জন্য ইস্রায়েলে ফিরে যাওয়ার এক উদ্দীপনা সৃষ্টি করল I ইস্রায়েলে এখন 80,000 যিহূদি বাস করছে যাদের ভারতের থেকে একজন পিতা আছে এবং কেবলমাত্র 5000 যিহূদি ভারতে পড়ে আছে I মশির আশীর্বাদ অনুসারে তারা ‘দূরবর্তী দেশ সমূহ’ (যেমন মিজোরাম) থেকে ‘একত্রিত’ হচ্ছে এবং ‘ফিরিয়ে’ আনা হচ্ছে I মশি লিখেছিলেন যে যিহূদি এবং অ-যিহূদি উভয়েরই এই তাৎপর্যগুলোকে লক্ষ্য করা উচিত I

(1) ডা: অভিগদর সাচান I হারিয়ে যাওয়া দশ উপজাতির পদক্ষেপের মধ্যে পৃষ্ঠা 261

সংস্কৃত এবং হিব্রু বেদের সমধর্মিতা: কেন?

সংস্কৃত বেদে মনুর বিবরণ এবং হিব্রু বেদে নোহের বিবরণের মধ্যে মিলগুলো আমরা দেখেছি I বন্যার বিবরণের তুলনায় এই মিল আরও গভীরে প্রবেশ  করে I এছাড়াও সময়ের ঊষাকালে পুরুসার বলিদানের প্রতিশ্রুতি এবং হিব্রু আদিপুস্তকের সেই প্রদত্ত বংশধরের প্রতিশ্রুতির মধ্যে একই মিল রয়েছে I অতএব কেন আমরা এই সাদৃশ্যগুলো দেখি? সমধর্মিতা? একটি বিবরণ কি অন্য বিবরণের থেকে ধার করেছে বা চুরি করেছে? এখানে একটি পরামর্শ দেওয়া হ’ল I     

বাবিলের মিনার – বন্যার পরে

নোহের বিবরণের পরে, বেদা পুস্তকম (বাইবেল) তার তিন পুত্রদের বংশধর  এবং রাজ্যগুলোর নথিভুক্ত করতে অগ্রসর হয় I “বন্যার পরে এদের থেকে  জাতিগুলো সমস্ত পৃথিবী ব্যাপী ছড়িয়ে পড়ল I” (আদিপুস্তক 10:32) I সংস্কৃত বেদও ঘোষণা করে যে মনুর তিন পুত্র ছিল যাদের থেকে সমস্ত মানব জাতির অবতরণ হ’ল I কিন্তু এই “ছড়িয়ে পড়া” কিভাবে ঘটল?    

প্রাচীন হিব্রু বেদা নোহের এই তিন পুত্রদের বংশধরগুলোর নাম তালিকাভুক্ত করেছে – সম্পূর্ণ তালিকাটি এখানে I বিবরণটি বর্ণনা করতে এগিয়ে যায় কিভাবে এই বংশধরগুলো ঈশ্বরের (প্রজাপতি) – সৃষ্টিকর্তার নির্দেশগুলোর অবমাননা করলো, যিনি তাদেরকে ‘পৃথিবী পরিপূর্ণ করতে’ আজ্ঞা দিয়েছিলেন I আপনি সেটিকে এখানে পড়তে পারেন I এই মিনার ‘আকাশ পর্যন্ত পৌঁছল’ (আদিপুস্তক 11:4) যার মানে হ’ল নোহের এই বংশধরেরা সৃষ্টিকর্তার পরিবর্তে নক্ষত্র এবং সূর্য, চাঁদ, গ্রহ সমূহ ইত্যাদির আরাধনা করার উদ্দেশ্যে মিনার তৈরী করছিল I এটি সুপরিচিত যে নক্ষত্রর আরাধনা মেসোপটোমিয়ার মধ্যে উৎপত্তি হয়েছিল (যেখানে এই বংশধররা বসবাস করছিল) এবং তাতে এটা তখন সমস্ত পৃথিবী জুড়ে ছড়াল I      

অতএব সৃষ্টিকর্তার আরাধনা করার পরিবর্তে, আমাদের পূর্বপুরুষরা নক্ষত্র সমূহের আরাধনা করত I পরে বিবরণটি বলে যে এটিকে নিরুৎসাহ করতে, যাতে আরাধনার অশুচিতা অপরিবর্তনীয় না হয়ে ওঠে, সৃষ্টিকর্তা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন    

…ভাষার ভেদ জন্মাতে যাতে তারা একজন অন্যজনের ভাষা বুঝতে না পারে I

আদিপুস্তক 11:7

এর ফলে, নোহের এই প্রথম বংশধররা একে অপরকে বুঝতে পারল না আর তাই এইভাবে সৃষ্টিকর্তা

তাদেরকে সমস্ত ভূমন্ডলে ছিন্নভিন্ন করলেন

আদিপুস্তক 11:8

একবার যখন এই লোকেরা একে অপরের সঙ্গে আর কথা বলতে পারল না, তারা একে অপরের থেকে দেশান্তরে গেল, তাদের নবনির্মিত ভাষাসংক্রান্ত  গোষ্ঠীদের মধ্যে, এবং এইরূপে তারা ‘বিচ্ছিন্ন’ হয়ে গেল I এটি ব্যাখ্যা করে কেন বিভিন্ন লোকেদের গোষ্ঠী আজকের সময়ে পৃথিবীতে একেবারে বিভিন্ন ভাষায় কথা বলে, যেমনভাবে প্রতিটি গোষ্ঠী মেসোপটোমিয়ার, (অনেক প্রজন্মব্যাপী সময়ে সময়ে) তাদের মূল কেন্দ্র থেকে স্থানগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছিল যাদেরকে আজ আমরা দেখতে পাই I এইরূপে, তাদের নিজ নিজ ইতিহাসগুলো এই বিন্দু থেকে নানান দিকে ছড়িয়ে পড়ে I কিন্তু প্রতিটি ভাষার গোষ্ঠীর (যা এই প্রথম জাতিগুলোকে গঠন করেছিল) এই বিন্দু পর্যন্ত এক সাধারণ ইতিহাস ছিল I এই সাধারণ ইতিহাস পুরুসার বলিদানের মাধ্যমে মোক্ষের প্রতিশ্রুতি এবং মনুর (নোহ) বন্যার বিবরণকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল I সংস্কৃতের ঋষিগণ এই ঘটনাগুলোকে তাদের বেদের মাধ্যমে মনে রেখেছিল এবং হিব্রুরা এই একই ঘটনাগুলোকে তাদের বেদের (ভাববাদী মশির তোরাহ) মাধ্যমে মনে রেখেছিল I  

বিচিত্র বন্যার স্বাক্ষ্য – পৃথিবীর চারিদিক থেকে

আগ্রহের বিষয় হ’ল, বন্যার বিবরণ কেবলমাত্র প্রাচীন হিব্রু এবং সংস্কৃত বেদের মধ্যে স্মরণ করা হয় নি I বিশ্বের চারিদিকের নানাবিধ লোকেদের গোষ্ঠী তাদের নিজ নিজ ইতিহাসে এক বিশাল বন্যাকে মনে রেখেছে I নিম্নলিখিত বর্ণনাচিত্র এটিকে বর্ণনা করে I 

বাইবেলের বন্যার বিবরণের সঙ্গে পৃথিবী ব্যাপী সংস্কৃতি সমূহের বন্যার তুলনামূলক বিবরণ

এটি শীর্ষ জুড়ে পৃথিবীর চতুর্দিকে বসবাসকারী বিভিন্ন ভাষা সম্প্রদায়ের লোকেদের দেখায় – প্রত্যেকটি মহাদেশে I বর্ণনাচিত্রের কোশিকাগুলো চিহ্নিত করে হিব্রু বন্যার (বর্ণনাচিত্রের বাঁ দিকে তালিকাভুক্ত) বিবরণের নির্দিষ্ট তথ্য  তাদের নিজস্ব বন্যার বিবরণকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে কি না I কালো কোশিকাগুলো ইঙ্গিত দেয় যে এই তথ্য তাদের বন্যার বিবরণের মধ্যে আছে, যখন খালি কোশিকাগুলো ইঙ্গিত দেয় যে এই তথ্য তাদের স্থানীয় বিবরণের মধ্যে নেই I আপনি এখতে পারেন যে প্রায় সমস্ত এই গোষ্ঠীগুলোর কাছে কমপক্ষে  সাধারণভাবে ‘স্মৃতি’ ছিল যে বন্যাটি সৃষ্টিকর্তার ন্যায়বিচার ছিল তবে কিছু লোকেদের একটি বিরাট জাহাজের মধ্যে রক্ষা করা হয়েছিল I অন্য কথায়, এই বন্যার স্মৃতি না কেবল সংস্কৃত এবং হিব্রু বেদগুলোতে, বরং এছাড়া পৃথিবীর চতুর্দিকের সাংস্কৃতিক ইতিহাস এবং মহাদশগুলোর মধ্যেও পাওয়া গিয়েছিল I এটি আমাদের সুদূর অতীতে ঘটা এই ঘটনার দিকে নির্দেশ করে I 

হিন্দি ক্যালেন্ডারের স্বাক্ষ্য

হিন্দি ক্যালেন্ডার – মাসের দিনগুলো শীর্ষ থেকে নীচু অবধি যায়, কিন্তু সাত-দিনের সপ্তাহ আছে 

পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডারের সঙ্গে হিন্দি ক্যালেন্ডারের পার্থক্য এবং মিল অনুরূপভাবে সুদূর অতীতের এই ভাগ করা স্মৃতির স্বাক্ষ্য হয় I বেশিরভাগ হিন্দি ক্যালেন্ডার  গঠন করা হয় যা এদিক থেকে ওদিকের সারির পরিবর্তে (বাঁ থেকে ডান দিকে) নিচের কলমে (উপর থেকে নীচে) যায়, যেটি পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডারের জন্য সার্বজনীন গঠন I ভারতের কিছু হিন্দু ক্যালেন্ডার সংখ্যার জন্য হিন্দি লিপি ব্যবহার করে  (१, २,  ३ …), এবং কিছু পাশ্চাত্য সংখ্যা (1, 2, 3…) ব্যবহার করে I এই পার্থক্যগুলো আশানুরূপ যেহেতু একটি ক্যালেন্ডারকে চিহ্নিত করার জন্য কোনো ‘সঠিক’ পদ্ধতি নেই I কিন্তু সমস্ত ক্যালেন্ডারগুলোর মধ্যে একটি কেন্দ্রীয় সাদৃশ্য আছে I পাশ্চাত্য জগতের মতন – হিন্দি ক্যালেন্ডার 7-দিনের সপ্তাহ ব্যবহার করে I কেন? আমরা বুঝতে পারি পাশ্চাত্য একটির মতন কেন ক্যালেন্ডারকে বছর এবং মাসে বিভক্ত করা হয়েছিল যেহেতু এগুলো পৃথিবীর চারপাশে থাকা সূর্য এবং চাঁদের চারিপাশে পৃথিবীর প্রদক্ষিণের উপরে ভিত্তিশীল হয় – এইরূপে সাধারণত সমস্ত লোকেদের কাছে গ্রহবিজ্ঞান সংক্রান্ত ভিত্তিগুলো দেয় I কিন্তু সাত-দিনের সপ্তাহের জন্য গ্রহবিজ্ঞান সংক্রান্ত কোনো ভিত্তি নেই I এটি প্রথা এবং পরম্পরা থেকে আসে যা ইতিহাসের সুদুর অতীতে গমন করে I (কেউ বোধ হয় জানে না কতটা পেছনে যায়) I          

… এবং বৌদ্ধধর্মালম্বী থাই ক্যালেন্ডার

থাই ক্যালেন্ডার বাঁ থেকে ডান দিকে যায়, কিন্তু পশ্চিমের তুলনায় একটি ভিন্ন বছর আছে – কিন্তু তবুও 7-দিনের সপ্তাহ 

বৌদ্ধ ধর্মালম্বী দেশ হয়ে, থাইরা বুদ্ধের জীবন থেকে তাদের বছরগুলো চিহ্নিত করে যাতে তাদের বছরগুলো সর্বদা পশ্চিমের তুলনায় 543 বছর অধিক হয় (অর্থাৎ খ্রীষ্টপুর্বাব্দ 2019 বৌদ্ধ যুগের মধ্যে 2562 হয় – থাই ক্যালেন্ডারের মধ্যে) I কিন্তু পুনরায় তারা একটি 7-দিনের সপ্তাহ ব্যবহার করে I কোথা থেকে তারা সেটি পেল? বিভিন্ন দেশ জুড়ে 7-দিনের সপ্তাহের উপরে ভিত্তিশীল ক্যালেন্ডারগুলো এত ভিন্ন উপায়ে আলাদা কেন যখন এই সময় ইউনিটের জন্য কোনো প্রকৃত গ্রহবিজ্ঞান সংক্রান্ত ভিত্তি নেই?  

সপ্তাহের উপরে প্রাচীন গ্রীকের স্বাক্ষ্য

প্রাচীন গ্রীকরাও তাদের ক্যালেন্ডারের মধ্যে 7-দিনের সপ্তাহ ব্যবহার করত I 

প্রাচীন গ্রীক চিকিৎসাবিদ হিপ্পোক্রেটস, যিনি প্রায় 400 খ্রীষ্টপূর্বাব্দের পাশাপাশি বাস করতেন আধুনিক চিকিৎসার জনক বিবেচনা করা হয় এবং তিনি বই লিখলেন, আজ অবধি সংরক্ষিত আছে, তার চিকিৎসাশাস্ত্র বিষয়ক পর্যবেক্ষণগুলো নথিভুক্ত করে I এই রকম করার সময়ে তিনি একটি সময় ইউনিট হিসাবে ‘সপ্তাহ’ কে ব্যবহার করতেন I কোনো রোগের ক্রমবর্ধমান লক্ষণগুলো সম্বন্ধে লিখতে গিয়ে তিনি ব্যক্ত করলেন:      

চতুর্থ দিবস হ’ল সপ্তম দিবসের সূচক; অষ্টম হ’ল দ্বিতীয় সপ্তাহের  সূত্রপাত; আর অত:পর, একাদশতম দ্বিতীয় সপ্তাহের চতুর্থ হয়ে সূচকও  হয়; আর পুনরায়, সপ্তদশতম সূচক হয়, যেমন চতুর্দশতম থেকে চতুর্থ, এবং একাদশতম থেকে সপ্তম হয়   

হিপ্পোক্রেটস, এফোরিসম্স I #24

350 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে, এরিস্টটল নিয়মিতরূপে সময়ের সীমানির্দেশ করতে লেখার সময়ে ‘সপ্তাহ’ কে ব্যবহার করেন I একটি উদাহরণ দিতে তিনি লেখেন:

বেশিরভাগ শিশু মৃত্যু শিশুর এক সপ্তাহ বয়সের পূর্বে ঘটে I অত:পর সেই বয়সে শিশুর নামকরণ প্রথাগত, একটি বিশ্বাস থেকে যে এর বেঁচে থাকার এখন ভাল সুযোগ আছে I   

এরিস্টটল, দি হিস্ট্রি অফ এনিমালস, খন্ড 12, প্রায় 350 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ

তাই ভারত এবং থাই দেশের থেকে অনেক দূরে থাকা, এই প্রাচীন গ্রীক  লেখকরা ‘সপ্তাহের’ ধারণা কোথায় পেল যেন তারা এই আশা করে ব্যবহার করত যে তাদের গ্রীক পাঠকরা জানত যে একটি ‘সপ্তাহ’ কি ছিল? হয়ত সেখানে এটি ঐতিহাসিক ঘটনা তাদের অতীতে এই সমস্ত সংস্কৃতিগুলোর মধ্যে ঘটেছিল (যদিও তারা ঘটনাটি ভুলে গিয়ে থাকবে) যা 7-দিনের সপ্তাহকে স্থাপিত করেছিল?

ঠিক এইরকম একটি ঘটনাকে হিব্রু বেদা বর্ণনা করে – পৃথিবীর প্রারম্ভিক    সৃষ্টি I সেই বিস্তারিত এবং প্রাচীন বিবরণে সৃষ্টিকর্তা পৃথিবীর সৃষ্টি করেন এবং 7 দিনে (বিশ্রামের সপ্তম দিন সহ 6 দিনে) প্রথম মানুষের আকার প্রদান করেন I সেই কারণে, প্রথম মানবজাতি তাদের ক্যালেন্ডারে 7-দিনের সপ্তাহের সময় ইউনিট ব্যবহার করল I মানবজাতি যখন পরবর্তীকালে ভাষার বিভ্রান্তির দ্বারা বিচ্ছিন্ন হল তখন আসন্ন বলিদানের প্রতিশ্রুতি, বিপর্যয়মূলক বন্যার বিবরণের, পাশা পাশি 7-দিনের সপ্তাহ সহ এই বৃহৎ ঘটনাগুলোকে এই বিচ্ছিনতার পূর্বে এই বিভিন্ন ভাষা গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অনেকেদের দ্বারা স্মরণ করা হয়েছিল I    

এই স্মৃতিগুলো আদি মানবজাতির জীবন্ত শিল্পকর্ম এবং এই বেদগুলোতে নথিভুক্ত ঘটনাগুলোর ইতিহাসের কাছে একটি নিয়ম I এই ব্যাখ্যা হিব্রু এবং সংস্কৃতের বেদগুলোর মধ্যে অভিন্নতা ব্যাখ্যা করতে নিশ্চিতভাবে অত্যন্ত সরাসরি উপায় I কেউ কেউ এই প্রাচীন রচনাগুলোকে নেহাৎ কুসংস্কারপূর্ণ পুরাণশাস্ত্র রূপে আজকের দিনে বাতিল করে কিন্তু তাদের অভিন্নতাগুলো গুরুত্বপূর্ণভাবে সেগুলোকে  আমাদের গ্রহণ করার কারণ হয় I    

আদি মানবজাতির একটি সাধারণ ইতিহাস ছিল যা সৃষ্টিকর্তার থেকে মোক্ষের প্রতিশ্রুতিকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল I কিন্তু প্রতিশ্রুতি কিভাবে পূরণ হবে? আমরা এক পবিত্র মানুষের বর্ণনার সাথে চলতে থাকি যিনি ভাষার বিভ্রান্তির দ্বারা সৃষ্ট বিচ্ছিন্নতার ঠিক পরে বাস করতেন I আমরা এটিকে পরবর্তী পর্যায়ে ওঠাবো I  

[প্রাচীন স্মৃতিগুলোর দিকে আরও একবার দৃষ্টি দিতে যা একই ধরণের সমধর্মিতা সমূহকে দেখায় – কিন্তু এই সময়ে চীন ভাষার লিপিবিদ্যার মাধ্যমে এখানে দেখুন]

কিভাবে প্রভু যীশুর বলি হতে শুচি করার উপহার পাবেন?

প্রভু যীশু নিজেই সমস্ত মানব জাতির জন্য একটি বলিদান হিসাবে দিতে এসেছিলেন। এই বার্তাটি প্রাচীন আরজি বেদের স্তোত্রগুলির পাশাপাশি প্রাচীন হিব্রু বেদের প্রতিশ্রুতি এবং উত্সবগুলিতে পূর্বরচিত। প্রতিবার আমরা প্রার্থস্নান (বা প্রতাশন) মন্ত্রটির প্রার্থনা পাঠ করে আমরা যে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করি তার উত্তর যীশু। এটা কিভাবে? বাইবেল (বেদ পুস্তকান) একটি কর্মিক আইন ঘোষণা করেছে যা আমাদের সকলকে প্রভাবিত করে:

কারণ পাপ য়ে মজুরি দেয়, সেই মজুরি হল মৃত্যু৷ কিন্তু ঈশ্বর অনুগ্রহ করে যা দান করেন সেই দান হল আমাদের প্রভু খ্রীষ্ট যীশুতে অনন্ত জীবন৷ পাপের বেতন মৃত্যু কিন্তু………..

রোমীয় ৬:২৩

নীচে আমি একটি দৃষ্টান্তের মাধ্যমে এই কর্মিক আইনটি দেখাব। “মৃত্যুর” অর্থ পৃথকীকরণ। যখন আমাদের আত্মা আমাদের শরীর থেকে পৃথক হয় তখন আমরা শারীরিকভাবে মৃত। একইভাবে আমরা আধ্যাত্মিকভাবে ঈশ্বরের কাছ থেকে পৃথক হয়েছি। এটি সত্য কারণ ঈশ্বর পবিত্র (নিষ্পাপ)।

আমরা আমাদের পাপ দ্বারা aশ্বরের কাছ থেকে পৃথক হয়েছি দু’টি শিংয়ের মধ্যে

আমরা আমাদের পাপের দ্বারা ঈশ্বরের কাছ থেকে পৃথক হয়েছি দুটি বাঁধের মাঝে ফাটলের মত

এই বিচ্ছেদ অপরাধবোধ এবং ভয় সৃষ্টি করে। সুতরাং আমরা প্রাকৃতিকভাবে যা করার চেষ্টা করি তা হ’ল একটি সেতু তৈরি করা যা আমাদের পক্ষ থেকে (মৃত্যুর) Godশ্বরের পক্ষে নিয়ে যায়। আমরা বলিদান করি, পূজা করি, তপস্যা করি, উত্সবে অংশ গ্রহণ করি, মন্দিরে যাই, অনেক প্রার্থনা করি এবং আমাদের পাপ কমাতে বা বন্ধ করার চেষ্টা করি। যোগ্যতা অর্জনের জন্য কাজের এই তালিকাটি আমাদের কারও জন্য খুব দীর্ঘ হতে পারে। সমস্যাটি হ’ল আমাদের প্রচেষ্টা, যোগ্যতা, ত্যাগ এবং তপস্যা অভ্যাস ইত্যাদি যদিও নিজেদের মধ্যে মন্দ না হলেও অপর্যাপ্ত কারণ আমাদের পাপের জন্য প্রদত্ত অর্থের (“মজুরি”) হচ্ছে ‘মৃত্যু’ ’ এটি পরবর্তী চিত্রে চিত্রিত করা হয়েছে।

ধর্মীয় যোগ্যতা – যদিও তা ভাল হতে পারে – আমাদের এবং .শ্বরের মধ্যে বিচ্ছেদকে সরিয়ে দিতে পারে না

এই বিচ্ছেদ অপরাধবোধ এবং ভয়ের কারণ। সুতরাং আমরা স্বাভাবিকভাবে যা করার চেষ্টা করি তা হ’ল একটি সেতু তৈরি করা যা আমাদের দিক থেকে (মৃত্যুর) ঈশ্বরের দিকে নিযে যায়। আমরা বলি উতস্বর্গ করি, পূজা করি, তপস্যা করি, উত্সবে অংশ গ্রহণ করি, মন্দিরে যাই এবং অনেক প্রার্থনা করি এবং পাপ কমাতে বা বন্ধ করার চেষ্টা করি। কাজের এই তালিকাটি যোগ্যতা অর্জনের জন্য আমাদের কাছে কারও জন্য খুব দীর্ঘ হতে পারে। সমস্যাটি হ’ল আমাদের প্রচেষ্টা, যোগ্যতা, ত্যাগ এবং তপস্যা অভ্যাস ইত্যাদি নিজেদের মধ্যে মন্দ না হলেও, যথেষ্ট না কারণ আমাদের পাপের জন্য প্রয়োজনীয় মূল্য্ (`বেতন্’) ‘মৃত্যু’। এটি পরবর্তী চিত্রে চিত্রিত করা হয়েছে।

কার্মিক আইনটি হল একটি খারাপ সংবাদ – এটি এতটাই খারাপ যে আমরা প্রায়শই এটি শুনতে চাই না এবং আমরা প্রায়শই আমাদের জীবনকে বিভিন্ন কার্যকলাপে ভরে রাখি এবং আশা করি যে এই আইনটি চলে যাবে – যতক্ষণ না আমাদের পরিস্থিতির গুরুতর অবস্থা আমাদের আত্মায় ডুবে যায়। কিন্তু বাইবেলে এই কার্মিক আইন দিয়ে শেষ হয় না।

কারণ পাপ য়ে মজুরি দেয়, সেই মজুরি হল মৃত্যু৷ কিন্তু ঈশ্বর অনুগ্রহ করে যা দান করেন সেই দান হল আমাদের প্রভু খ্রীষ্ট যীশুতে অনন্ত জীবন৷ পাপের বেতন মৃত্যু কিন্তু………..

রোমীয় ৬:২৩

ছোট্ট শব্দ ‘কিন্তু’ দেখায় যে, পথ নির্দেশের নিয়ম এক দিক থেকে অন্য দিক দিয়ে চলেছে, সুসংবাদ-সুসমাচার। এটি মোক্ষ এবং জ্ঞানবিদ্যার একটিতে পরিবর্তিত কার্মিক আইন। তাহলে মোক্ষের এই সুসংবাদটি কী?

 পাপের বেতন মৃত্যু কিন্তু ঈশ্বরের দান খ্রীষ্ট যীশুতে অনন্ত জীবন।

রোমীয় ৬:২৩

সুসমাচারের সুসংবাদটি হ’ল এই যে, প্রভু যীশুর’ ক্রুশীয় মৃত্যুর ত্যাগ আমাদের এবং ঈশ্বরের মধ্যে এই বিচ্ছেদকে সেতু বন্ধন করার জন্য যথেষ্ট। আমরা জানি যে তিনি তাঁর মৃত্যুর তিন দিন পরে আবার শারীরিকভাবে পুনরুত্থিত হয়েছেন, একটি শারিরীক পুনরুত্থানের মধ্যে আবার ফিরে এসেছিলেন। যদিও কিছু লোক আজ যীশুর পুনরুত্থানকে অস্বীকার করেন এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং সর্বসমক্ষে বক্তৃতায় দেখানো হয়েছে (এখানে ভিডিও লিঙ্ক)।

যীশু হলেন নিখুঁত পুরূষ এবং নিখুঁত বলিদান প্রদান করেছেন। যেহেতু তিনি একজন মানুষ ছিলেন তিনি একটি সেতু হতে সক্ষম হন যা ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেন এবং মানুষকে  স্পর্শ করেন এবং অপরপক্ষে তিনি নিখুঁত ছিলেন ও ঈশ্বরের পক্ষেও ছিলেন। তিনি জীবনের জন্য একটি সেতু এবং এটি নীচে চিত্রিত করা যেতে পারে।

যীশু হলেন সেই সেতু যা Godশ্বর ও মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর ত্যাগ আমাদের পাপকে মূল্য দেয়।

লক্ষ করুন কীভাবে যীশুর এই বলিদান আমাদের দেওয়া হয়েছে। এটি একটি… উপহার হিসাবে দেওয়া হয়েছে। উপহার সম্পর্কে চিন্তা করুন। উপহারটি যাই হোক না কেন, এটি যদি সত্যিই উপহার হয় তবে আপনি এর পক্ষে কাজ করেন না এবং যোগ্যতার দ্বারা উপার্জন করেন না। আপনি যদি এটি অর্জন করেন তবে উপহারটি আর উপহার থাকে না! একইভাবে আপনি যীশুর বলিদানকে যোগ্যতা বা উপার্জন করতে পারবেন না। এটি আপনাকে উপহার হিসাবে দেওয়া হয়েছে।

আর উপহারটি কী? এটি ‘অনন্তজীবন’। এর অর্থ হ’ল পাপ যা আপনার জীবনে মৃত্যু এনেছিল তা এখন বাতিল হয়ে গেছে। যীশুর বলিদান হল এমন একটি সেতু যার উপর দিয়ে আপনি ঈশ্বরের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে এবং জীবন লাভ করতে পারেন – যা চিরকাল স্থায়ী হয়। এই উপহারটি যীশু দিয়েছেন, যিনি মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত হয়ে নিজেকে ‘প্রভু’ বলে দেখান।

তাহলে আপনি এবং আমি কীভাবে জীবনের এই সেতুতে ‘ক্রস’ করব যা যীশু আমাদের উপহার হিসাবে দিয়েছেন? আবার, উপহারের কথা ভাবুন। যদি কেউ এসে আপনাকে উপহার দেয় তবে এটি এমন কিছু যা আপনার পক্ষে কাজ করে না। তবে উপহারটি থেকে কোনও উপকার পাওয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই এটি ‘গ্রহণ’ করতে হবে। যে কোনও সময় উপহার দেওয়ার জন্য দুটি বিকল্প রয়েছে। হয় উপহারটি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে (“আপনাকে ধন্যবাদ না”) বা এটি প্রাপ্ত হয়েছে (“আপনার উপহারের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আমি এটি গ্রহণ করব”)। সুতরাং যীশু যে এই উপহার প্রদান করবেন তা অবশ্যই গ্রহণ করা উচিত। এটিকে কেবল ‘বিশ্বাস’ করা, অধ্যয়ন করা বা বোঝা যায় না। এটি পরবর্তী চিত্রটিতে চিত্রিত করা হয়েছে যেখানে আমরা সেতুতে শ্বরের দিকে মনোনিবেশ করে এবং তিনি আমাদের যে উপহার দিয়েছিলেন তা গ্রহণ করে সেতুতে ‘হাঁটাচলা’ করে।

যিশুর ত্যাগ একটি উপহার যা আমাদের প্রত্যেককে গ্রহণ করার জন্য বেছে নিতে হবে

তাহলে আমরা কীভাবে এই উপহারটি পাব? বাইবেল বলে যে

12 এক্ষেত্রে ইহুদী ও অইহুদীদের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই, একই প্রভু সকলের প্রভু৷ যত লোক তাঁকে ডাকে সেই সকলের ওপর তিনি প্রচুর আশীর্বাদ ঢেলে দেন৷ যে কেউ প্রভুর নামে ডাকে সে রক্ষা পাবে

রোমীয় 10:12

লক্ষ্য করুন যে এই প্রতিশ্রুতি ‘প্রত্যেকের’ জন্য, সেগুলি নির্দিষ্ট ধর্ম, বর্ণ বা দেশের নয়। যেহেতু তিনি মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত হয়েছেন যীশু এখনও বেঁচে আছেন এবং তিনি ‘প্রভু’। সুতরাং আপনি যদি তাকে ডাকেন তিনি শুনবেন এবং তাঁর জীবন উপহার আপনার কাছে প্রসারিত করবেন। আপনাকে তাঁকে ডাকতে হবে এবং তাঁর সাথে কথোপকথন করতে হবে। হয়ত আপনি এটি কখনও করেন নি। এখানে একজন পথপ্রদর্শক আছে যিনি আপনাকে তাঁর সাথে এই কথোপকথন এবং প্রার্থনা করতে সাহায্য করতে পারেন। এটি কোনও যাদু মন্ত্র নয়। শক্তি দেয় এমন নির্দিষ্ট শব্দ নয়।

প্রিয় প্রভু যীশু। আমি বুঝতে পারি যে আমার জীবনের পাপগুলির সাথে আমি ঈশ্বরের কাছ থেকে পৃথক হয়েছি। যদিও আমি কঠোর চেষ্টা করতে পারি, তবুও আমার পক্ষ থেকে কোনও প্রচেষ্টা এবং ত্যাগ এই বিচ্ছিন্নতা আটকাবে না। তবে আমি এটা বুঝতে পারি যে আপনার মৃত্যু সমস্ত পাপ এমনকি আমার পাপকে ধুয়ে দেওয়ার জন্য একটি আত্মত্যাগ ছিল। আমি বিশ্বাস করি যে আপনার আত্মত্যাগের পরে আপনি মৃতদের মধ্য থেকে উঠেছিলেন তাই আমি আপনার আত্মত্যাগকে জানতে পারিআমি আপনাকে বলছি দয়া করে আমাকে আমার পাপ থেকে ধৌত করুন এবং আমাকে ঈশ্বরের কাছে থাকতে সাহায্য করুন যাতে আমি অনন্ত জীবন পেতে পারি। আমি পাপের দাস হয়ে জীবন যাপন করতে চাই না তাই দয়া করে আমাকে এই পাপসমূহ থেকে মুক্ত করুন যা আমাকে কর্মের কবলে রেখেছে। আপনাকে ধন্যবাদ, প্রভু যীশু, এই সমস্ত কিছুর জন্য ধন্যবাদ এবং আপনি আমার জীবনের পথপ্রদর্শক হযে সারাজীবন চালিয়ে যাও যাতে আমি আপনাকে আমার প্রভু হিসাবে অনুসরণ করতে পারি।