কালী, মৃত্যু এবং নিস্তারপর্বের চিহ্ন

কালী সাধারণতঃ মৃত্যুর দেবী বলে পরিচিত, তবে আরও সঠিকভাবে সংস্কৃত শব্দ কাল অর্থাৎ সময় থেকে আসে | কালীর বিগ্রহ ভীতিজনক কারণ তাকে সাধারণতঃ ছিন্ন মুণ্ডমালা এবং ছিন্ন হস্ত সমূহ সহ ঘাগড়া পরিহিত এক হস্তে রক্ত চুঁইয়ে পড়া সদ্যখন্ডিত মস্তক ধারণকারী, সাথে তার স্বামী শিবের শায়িত শরীরের উপরে একটি চরণ স্থাপনকারী রূপে চিত্রিত করা হয় | মৃত্যু সম্পর্কে হিব্রু বেদ – বাইবেলের অন্য একটি কাহিনীকে কালী আমাদের বুঝতে সাহায্য করে |     

শিবের শায়িত শরীরের উপরে দন্ডায়মান কালী ছিন্ন মুন্ড এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের দ্বারা সুসজ্জিত

কালী সম্বন্ধে পুরাণ বর্ণনা করে যে অসুর রাজ মহিষাসুর দেবতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের হুমকি দিল । তাই তারা তাদের সত্তা সমূহের থেকে কালীকে সৃষ্টি   করল । কালী অসুর-সৈন্যদের মাঝখান দিয়ে নির্মমভাবে ছড়িয়ে পড়লেন সকলকে সংহার করলেন যারা তার রাস্তায় এলো । অসুর রাজ মহিষাসুররের সঙ্গে তার লড়াইয়ে যুদ্ধের পরিণতি ছিল যে এক হিংস্র মুখোমুখি সংঘর্ষে তাকে তিনি সংহার করলেন । কালী তার শত্রুদের রক্তাক্ত শারীরিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মধ্য দিয়ে ধ্বংস করলেন, কিন্তু রক্তপাতের মধ্যে এতটাই মত্ত হয়ে গেলেন যে তিনি নিজেকে মৃত্যু ও ধ্বংসের পথ থেকে থামাতে পারলেন না । দেবতারা নিশ্চিত ছিলেন না যে কিভাবে তাকে থামানো যাবে যতক্ষণ না শিব রণ ক্ষেত্রের মধ্যে সজ্ঞাহীন হয়ে স্বৈচ্ছিকভাবে শুয়ে পড়লেন । তাই কালী যখন তার মৃত শত্রুদের মুণ্ড এবং হস্ত সমূহ দ্বারা সজ্জিত হয়ে শায়িত শিবের উপরে পা রাখলেন এবং তার দিকে দৃষ্টিপাত করলেন তিনি তার চেতনায় ফিরে এলেন এবং ধ্বংসলীলা শেষ হল ।         

হিব্রু বাইবেলের নিস্তারপর্বের বিবরণ কালী ও শিবের কাহিনীকে প্রতিবিম্বিত  করে I নিস্তারপর্বের কাহিনী একজন দুতকে নথিভুক্ত করে যে, কালীর মতন, এক মন্দ রাজার বিরুদ্ধে ব্যাপক মৃত্যু নিয়ে আসে I কালীকে থামাতে শিবের দ্বারা একটি আক্রম্য অবস্থান নেওয়ার মতন এই মৃত্যুর দূতকে, যে কোনো গৃহের থেকে আটকে রাখা হয় যেখানে একজন অসহায় মেষ শাবককে বলি দেওয়া হয় I প্রাজ্ঞজনেরা আমাদের বলে যে কালীর এই কাহিনী অহংবোধের  উপরে বিজয়কে সম্পর্কযুক্ত করে I এছাড়াও নিস্তারপর্বের কাহিনীর মধ্যে একটি অর্থ রয়েছে যা নাসরতীয় যীশুর – যেশু সৎসংগের – আগমন এবং তার অহংকারকে পরিত্যাগ করার নম্রতা এবং আমাদের হয়ে নিজের বলিদানকে  নির্দেশ করে I নিস্তারপর্বের কাহিনীটি জানার যোগ্য I           

যাত্রাপুস্তক নিস্তারপর্ব

আমরা দেখলাম তার পুত্রের জন্য কিভাবে ভাববাদী আব্রাহামের বলিদান একটি চিহ্ন ছিল যা যীশুর বলিদানের দিকে নির্দেশ করল I আব্রাহামের পরে, তার বংশধররা তার এই পুত্র ইসহাকের মাধ্যমে, ইস্রায়েলীয়দের ডাকলো, এক বিশাল সংখ্যক লোকে পরিণত হ’ল কিন্তু সাথে সাথে মিসরের দাসও হ’ল I   

অতএব আমরা এখন এক অত্যন্ত নাটকীয় সংগ্রামের মধ্যে এসেছি যাকে ইস্রায়েলীয়দের নেতা মশি কর্ত্তৃক গৃহীত হয়েছিল যেটিকে বাইবেলের যাত্রাপুস্তকে হিব্রু বেদের মধ্যে নথিভুক্ত করা হয়েছে I এটি আব্রাহামের পরে 1500 খ্রীষ্টপূর্বাব্দের আশেপাশে নথিভুক্ত করে কিভাবে মশি ইস্রায়েলীয়দের 500 বছরের মিসরের দাসত্ব থেকে বার করে নিয়ে এল I মিশরের (শাসক) ফৌরণের মুখোমুখি হতে সৃষ্টিকর্তার দ্বারা মশিকে আজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল এবং এটি দুজনের মধ্যে এক দ্বন্দে পরিণত করল যা মিসরের উপরে নটি মহামারী বা বিপর্যয় নিয়ে এলো I কিন্তু ফৌরণ ইস্রায়েলীয়দের মুক্ত হয়ে যেতে সম্মতি দিল না তাই ঈশ্বর দশম এবং চূড়ান্ত মহামারী আনতে যাচ্ছিলেন I দশম মহামারীর সম্পূর্ণ বিবরণটি এখানে রয়েছে I   

ঈশ্বর আদেশ জারি করলেন যে দশম মহামারীর জন্য মৃত্যুর এক দূত (আত্মা) মিসরে সমস্ত গৃহ সমূহের মধ্য দিয়ে যাবে I সমগ্র দেশ ব্যাপী প্রতিটি গৃহে প্রত্যেক প্রথমজাত পুত্র একটি নির্দিষ্ট রাত্রে মারা যাবে কেবল তারা ছাড়া যারা সেই গৃহে থাকবে যেখানে একটি মেষ শাবকের বলির রক্ত ওই গৃহের দরজার চৌকাঠে লাগিয়ে দেওয়া হবে I ফরৌণের দণ্ড, যদি সে না মানে এবং মেষ শাবকের রক্ত তার দরজার চৌকাঠে না লাগায়, তবে তার পুত্র এবং সিংহাসনের অধিকারী মারা যাবে I আর মিসরের প্রত্যেকটি গৃহ তার প্রথমজাত পুত্রকে হারাবে – যদি উৎসর্গকৃত একটি মেষ শাবকের রক্ত দরজার চৌকাঠে লাগানো না হয় I মিশর জাতীয় বিপর্যয়ের সম্মুখীন হ’ল I      

কিন্তু গৃহগুলোর মধ্যে উৎসর্গকৃত একটি মেষ শাবকের রক্তকে দরজার চৌকাঠে লাগিয়ে দেওয়া হলে প্রতিশ্রুতি ছিল যে প্রত্যেকে নিরাপদ থাকবে I মৃত্যুর দূত সেই গৃহকে ছেড়ে যাবে I তাই সেই দিনটিকে নিস্তারপর্ব বলে অভিহিত করা হ’ল (যেহেতু মৃত্যু সমস্ত গৃহকে দরজার চৌকাঠে মেষ শাবকের রক্ত লাগানোর জন্য নিস্তার দিল) I    

নিস্তার পর্বের চিহ্ন

যারা এই কাহিনীটিকে শুনেছে তারা মনে করে যে দরজার উপরে রক্ত মৃত্যুর দুতের জন্য একটি চিহ্ন ছিল I কিন্ত 3500 বছর পূর্বে লিখিত বিবরণ থেকে গৃহীত বিস্ময়কর ঘটনাটিকে দেখুন I 

সদাপ্রভু মশিকে বললেন …” … আমি সদাপ্রভু I তোমরা যে গৃহে থাক তার উপরে রক্ত [নিস্তার পর্বের মেষ শাবকের] একটি তোমার জন্য চিহ্ন হবে; আর আমি যখন রক্ত দেখব, আমি তোমাদেরকে ছেড়ে এগিয়ে যাব

যাত্রাপুস্তক 12:13

যদিও ঈশ্বর দরজার উপরে রক্তের খোঁজ করছিলেন, এবং যখন তিনি এটি দেখলেন মৃত্যু ছেড়ে এগিয়ে যাবে, তখন ঈশ্বরের জন্য রক্ত একটি চিহ্ন ছিল  না I এটি অত্যন্তু স্পষ্টভাবে বলে, যে রক্ত একটি ‘তোমার জন্য চিহ্ন’ ছিল – লোকেদের জন্য I এছাড়া এটি আমাদের জন্যও একটি চিহ্ন যারা এই বিবরণটিকে পড়ে I কিন্তু এটি কিরূপে একটি চিহ্ন হয়? পরবর্তীকালে সদাপ্রভু তাদের আজ্ঞা দিলেন:

27 তখন তোমরা বলবে, ‘এই নিস্তারপর্ব প্রভুকে সম্মান জানাবার জন্য| কেন? কারণ যখন আমরা মিশরে ছিলাম তখন প্রভু আমাদের ইস্রায়েলবাসীদের বাড়ীগুলিকে নিস্তার দিয়েছিলেন| প্রভু মিশরীয়দের হত্যা করেছিলেন কিন্তু আমাদের লোকদের বাড়ীগুলো রক্ষা করেছিলেন| সুতরাং লোকে নত হয়ে প্রভুর উপাসনা করল|”

যাত্রা পুস্তক 12:24-27
Jewish man with lamb at Passover

নিস্তারপর্বের মেষশাবকের সাথে যিহূদি লোকটি

প্রতি বছর একই দিনে নিস্তারপর্ব উদযাপন করতে ইস্রাযেলীয়দের আজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, এটি হিন্দু ক্যালেন্ডারের মতন একটি চান্দ্র ক্যালেন্ডার, তাই এটি পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডারের থেকে একটু আলাদা, এবং পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডার অনুসারে প্রতি বছর উৎসবের দিন পরিবর্তিত হয় I কিন্তু আজ পর্যন্ত, 3500 বছর পরেও, যিহূদি লোকেরা এই ঘটনাকে স্মৃতি এবং তাদের প্রতি প্রদত্ত সেই আজ্ঞার বাধ্যতা অনুসারে তাদের বছরের সেই একই দিনে নিস্তারপর্বের উদযাপনকে একটি উৎসব রূপে পালন করে আসছে I      

নিস্তারপর্বের চিহ্ন প্রভু যীশুর দিকে ইঙ্গিত করছে

ইতিহাসের মাধ্যমে এই উৎসবটির উপরে নজর রাখতে গিয়ে আমরা একেবারে  অসাধারণ কিছু লক্ষ্য করি I সুসমাচারের মধ্যে আপনি এটি দেখতে পারেন যেখানে এটি যীশুর গ্রেফতার এবং বিচারের বর্ণনা করে (সেই প্রথম নিস্তারপর্বের মহামারীর 1500 বছর পরে):  

28 এরপর তারা যীশুকে কায়াফার বাড়ি থেকে রাজ্যপালের প্রাসাদে নিয়ে গেল৷ তখন ভোর হয়ে গিয়েছিল৷ তারা নিজেরা রাজ্যপালের প্রাসাদের ভেতরে য়েতে চাইল না, পাছে অশুচিহয়ে পড়ে, কারণ তারা নিস্তারপর্বের ভোজ খেতে

চাইছিল৷যোহন 18:28

39 কিন্তু তোমাদের এমন এক রীতি আছে, সেই অনুসারে নিস্তারপর্বের সময়ে একজন বন্দীকে মুক্তি দিয়ে থাকি৷ বেশ তোমাদের কি ইচ্ছা, আমি তোমাদের জন্য ‘ইহুদীদের রাজাকে’

ছেড়ে দেব?’যোহন 18:39

অন্য কথায়, যিহূদি ক্যালেন্ডারের ঠিক সেই নিস্তারপর্বের দিনে যীশুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং ক্রুশারোপনের জন্য পাঠানো হয়েছিল I যীশুকে দেওয়া শিরোনামগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল 

 29 পরের দিন য়োহন যীশুকে তাঁর দিকে আসতে দেখে বললেন, ‘ঐ দেখ, ঈশ্বরের মেষশাবক, যিনি জগতের পাপরাশি বহন করে নিয়ে যান!
30 ইনিই সেই লোক, য়াঁর বিষয়ে আমি বলেছিলাম, ‘আমার পরে একজন আসছেন, কিন্তু তিনি আমার থেকে মহান, কারণ তিনি আমার অনেক আগে থেকেই আছেন৷’

যোহন 1:29-30

এখানে আমরা দেখি আমাদের জন্য নিস্তারপর্ব কিরূপে একটি চিহ্ন হয় I ‘ঈশ্বরের মেষ শাবক’ যীশু, ক্রুশারোপিত হলেন (অর্থাৎ উৎসর্গ করা হল) বছরের বিশেষ একই দিনে যেমন সমস্ত যিহূদিগণ প্রথম নিস্তারপর্বের স্মৃতিতে একটি মেষ শাবককে উৎসর্গ করছিল যা 1500 বছর পূর্বে ঘটেছিল I এটি দুটি ছুটির বাৎসরিক সময়ের ব্যাখ্যা করে যা প্রত্যেক বছর পুন: পুন: ঘটে I যিহূদিদের নিস্তারপর্বের উৎসব প্রতি বছর প্রায় ইষ্টারের সময়ে ঘটে – একটি ক্যালেন্ডার পরীক্ষা করে দেখুন I(যিহূদি ক্যালেন্ডারের মধ্যে চান্দ্র-ভিত্তিক লিপ বছরের চক্রের জন্য প্রতি 19 বছরে একটি মাসের একটি অপসারণ হয়)I এই জন্যই প্রতি বছর ইষ্টার সরে যায় কারণ এটি নিস্তারপর্বের উপরে ভিত্তিশীল, আর নিস্তারপর্ব যিহূদি ক্যালেন্ডারের সময় অনুসারে নির্ধারিত হয় যার হিসাব  পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডারের থেকে আলাদা I           

এখন এক মিনিটের জন্য ভাবুন ‘চিহ্নগুলো’ কিসের জন্য I আপনি এখানে নিচে কিছু চিহ্ন দেখতে পারেন I 

Flag_of_India

 

ভারতবর্ষের একটি চিহ্ন

Signs

 

বানিজ্যিক চিহ্নগুলো আমাদেরকে ম্যাকডোনাল্ডস এবং নাইক সম্পর্কে ভাবায়

পতাকা একটি চিহ্ন বা ভারতবর্ষের প্রতীক I আমরা কেবলমাত্র কমলা এবং একটি সবুজ রঙের ফিতে ঘেরা একটি সমকোণী চতুর্ভুজকে ‘দেখি’ না I না. আমরা যখন পতাকাটি দেখি আমরা ভারতবর্ষের কথা ভাবি I ‘সোনার তোরণের’ চিহ্ন আমাদেরকে ম্যাকডোনাল্ডসের সম্বন্ধে ভাবায় I নাদালের মাথার ফিতের উপরে ‘√’ চিহ্ন নাইকের জন্য I নাইক চায় আমরা তাদের জন্য চিন্তা করি যখন আমরা নাইকের উপরে এই চিহ্ন দেখি I অভীষ্ট বস্তুর প্রতি আমাদের মনের মধ্যে ভাবনাকে নির্দেশ করার জন্য চিহ্নগুলো নির্দেশক সমূহ হয় I     

যাত্রাপুস্তকের হিব্রু বেদের নিস্তারপর্বের বিবরণ সুস্পষ্টভাবে বলল যে চিহ্নটি  লোকেদের জন্য ছিল, সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বরের জন্য নয় (যদিও তিনি তখনও রক্ত এবং গৃহের নিস্তারের দিকে লক্ষ্য রেখেছিলেন যাতে তিনি এটিকে দেখতে পান) I এই চিহ্নগুলোর সাথে সাথে, তিনি আমাদের কি ভাবাতে চেয়েছিলেন যখন আমরা নিস্তারপর্বের দিকে দেখি? যীশুর সাথে সাথে একই দিনে মেষ শাবকদের উৎসর্গ হওয়ার উল্লেখযোগ্য সময়ের সাহায্যে, এটি যীশুর বলিদানের প্রতি একটি নির্দেশক হয় I   

এটি আমাদের মনের মধ্যে কার্য করে যেমন আমরা নিচে দেখিয়েছি I চিহ্নটি আমাদেরকে যীশুর বলিদানের প্রতি ইঙ্গিত দেয় I

passover-and-jesus

নিস্তারপর্বের সময়ে যীশুর বলিদানের নির্ভুল সময়টি একটি চিহ্ন

সেই প্রথম নিস্তারপর্বে মেষ শাবকদের বলি দেওয়া হয়েছিল এবং রক্ত ছড়ানো হয়েছিল যাতে লোকেরা বাঁচতে পারে I আর এইরূপে, যীশুর প্রতি ইঙ্গিতকারী এই চিহ্ন হল আমাদের বলতে যে তাঁকে ‘ঈশ্বরের মেষ শাবককে’, আবারও মৃত্যুতে একটি বলি রূপে উৎসর্গীকৃত করা হল এবং তাঁর রক্ত ছড়িয়ে পড়ল যাতে আমরা জীবন পেতে পারি

আব্রাহামের চিহ্নর মধ্যে স্থানটি ছিল পর্বত মোরিয়া যেখানে তার পুত্রের বলিদানের মাধ্যমে আব্রাহামকে পরীক্ষা করা হয়ছিল I একটি মেষ শাবক মারা গেল তাই আব্রাহামের পুত্র বাঁচতে পারল I

The Sign of Abraham was pointing to the location

আব্রাহামের চিহ্ন স্থানটির দিকে নির্দেশ করছিল

পর্বত মোরিয়া বিশেষ একই স্থান ছিল যেখানে যীশুকে উৎসর্গ করা হয়েছিল I স্থানটির প্রতি ইঙ্গিত করার দ্বারা আমাদেরকে তার মৃত্যুর অর্থ দেখাবার জন্য ওটি  একটি চিহ্ন ছিল I নিস্তারপর্বের মধ্যে যীশুর বলিদানের প্রতি আর একটি নির্দেশককে দেখি – বছরের মধ্যে একই দিনকে ইঙ্গিত করার দ্বারা I মেষ শাবকের বলিদানকে আর একবার ব্যবহার করা হল – দেখায় যে এটি একটি ঘটনার কেবল একটি সমাপতন নয় – বরং যীশুর বলিদানের দিকে নির্দেশ করে I দুটি ভিন্ন উপায়ে (স্থান এবং সময়ের মাধ্যমে) পবিত্র হিব্রু বাইবেলের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উৎসবগুলোর মধ্যে দুটি যীশুর বলিদানের দিকে সরাসরিভাবে ইঙ্গিত করে I ইতিহাসের মধ্যে আমি এমন কোনো ব্যক্তির সম্বন্ধে ভাবতে পারি না যার মৃত্যু সম্বন্ধে এই ধরণের নাটকীয় কায়দার মধ্যে এই প্রকারের সমান্তরাল সমূহের দ্বারা এমনভাবে পূর্বাভাস দেওয়া  হয়েছে I আপনি কি পারেন?

এই চিহ্নগুলো দেওয়া হয়েছে যাতে আমাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস থাকতে পারে যে যীশুর বলিদান প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরের দ্বারা পরিকল্পিত এবং অভিষিক্ত হয়েছিল I একটি চিত্রকে দেওয়ার জন্য এটি ছিল যা আমাদের দৃষ্টিগোচর করতে সাহায্য করে কিভাবে যীশুর বলিদান মৃত্যুর থেকে আমাদের রক্ষা করে এবং পাপের থেকে আমাদের শুদ্ধ করে – সকলের কাছে ঈশ্বরের উপহার যারা এটিকে গ্রহণ করবে I     

দশ আজ্ঞা: কলি যুগের করোনা জীবানুর পরীক্ষার মতন

সাধারনভাবে এটিকে স্বীকার করে নেওয়া হয় যে আমরা কলি যুগে অথবা কলির যুগে বাস করছি I চারটি যুগের মধ্যে এটি শেষ যুগ, যা সত্য, ত্রেতা, এবং দ্বাপর যুগের সাথে শুরু হয় I এই চারটি যুগের মধ্যে যেটি সাধারণ সেটি হল সত্য যুগের (সত্যযুগ) পর থেকে এক অবিচল নৈতিক এবং সামাজিক অবক্ষয়, আমাদের বর্তমান  কলি যুগ পর্যন্ত নেমে এসেছে I   

মহাভারতের মধ্যে মার্কন্ড কলি যুগের মানবীয় আচরণ সম্পর্কে এইভাবে বর্ণনা  করেন:

ক্রোধ, কোপ এবং অজ্ঞানতা বৃদ্ধি পাবে

ধর্ম, সত্যবাদিতা, স্বচ্ছতা, সহিষ্ণুতা, দয়া, শারীরিক শক্তি এবং স্মৃতি শক্তি প্রতি দিন যাওয়ার সাথে সাথে হ্রাস পাবে I .

লোকেরা কোনো রকম ন্যায্যতা ছাড়াই হত্যার চিন্তা করবে এবং তার মধ্যে কোনো অন্যায় দেখবে না I 

কামপ্রবৃত্তিকে সামাজিক গ্রহনযোগ্য বলে দেখা হবে এবং যৌন সম্ভোগ জীবনের কেন্দ্রীয় প্রয়োজনীয়তা রূপে লক্ষিত হবে I  

পাপ ব্যাখ্যামূলকভাবে বৃদ্ধি পাবে, যখন সদগুণ ম্লান হবে এবং ক্ষান্ত হতে থাকবে I

লোকেরা উত্তেজক পানীয় এবং মাদক দ্রব্যের প্রতি আসক্ত হবে I

গুরুদের আর শ্রদ্ধা করা হবে না এবং তাদের ছাত্ররা তাদের আহত করতে প্রচেষ্টা করবে I তাদের শিক্ষাকে অপমান করা হবে, এবং কাম মনের উপরে নিয়ন্ত্রণকে সমস্ত মানবজাতি থেকে ছিনিয়ে নেবে I

সমুদয় মানবজাতি দেবতাকে স্বয়ং রূপে বা দেবতাদের প্রদত্ত বরদানকে নিজেদের দান বলে ঘোষণা করবে এবং শিক্ষাদানের পরিবর্তে এটিকে ব্যবসা রূপে প্রস্তুত করবে I 

লোকেরা আর বিবাহিত হবে না এবং কেবল যৌন সুখের জন্য একে অপরের সঙ্গে বসবাস করবে I 

মশি এবং দশ আজ্ঞা সমূহ

হিব্রু বেদ আমাদের বর্তমান যুগকে অনেকটা একইভাবে বর্ণনা করে I আমাদের পাপের প্রতি প্রবনতার কারণে, ঈশ্বর মশিকে নিস্তারপর্বের সাথে তাদের মিসর থেকে পলায়ন করার কিছুদিন পরে দশটি আজ্ঞা দিলেন I ইস্রায়েলীয়দের মিসর থেকে বার করার নেতৃত্ব দেওয়া মশির কেবলমাত্র লক্ষ্য ছিল না বরং এক নতুন জীবন যাত্রার প্রতি তাদেরকে চালিত করাও লক্ষ্য ছিল I মিসর থেকে ইস্রায়েলীয়দের উদ্ধারকারী নিস্তারপর্বের 50 দিন পরে মশি তাদের সীনয় (হোরেব পর্বতও) পর্বতে নিয়ে গেলেন যেখানে তারা ঈশ্বরের থেকে ব্যবস্থা পেলেন I কলি যুগের সমস্যা সমূহকে উদঘাটন করতে কলি যুগে এই ব্যবস্থা পাওয়া গেল I 

মশি কি কি আজ্ঞা সকল পেলেন? যদিও সম্পূর্ণ ব্যবস্থা বেশ দীর্ঘ, তবুও মশি প্রথমে পাথরের ফলকে ঈশ্বরের দ্বারা লিখিত এক গুচ্ছ নৈতিক আজ্ঞা সমূহ পেলেন, যা দশ আজ্ঞা সমূহ (বা দশ আদেশ) বলে পরিচিত I এই দশটি আজ্ঞা ব্যবস্থার সংক্ষিপ্তসারকে রচনা করল – ক্ষুদ্রতর বিবরণের পূর্বে নৈতিক ধর্ম – এবং সেগুলো এখন কলি যুগের সাধারণ মন্দতাগুলোর বিষয়ে অনুতাপ করতে আমাদেরকে রাজি করতে ঈশ্বরের সক্রিয় শক্তি হয় I  

দশ আজ্ঞা সমূহ

এখানে পাথরের উপরে ঈশ্বরের দ্বারা লিখিত দশ আজ্ঞা সমূহের সম্পূর্ণ তালিকা রয়েছে, পরে মশির দ্বারা হিব্রু বেদের মধ্যে নথিভুক্ত করা হয়েছে I 

খন ঈশ্বর এই সব কথা বললেন:
2 “আমিই প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর| আমিই তোমাদের মিশরের দাসত্ব থেকে মুক্ত করেছি| তাই তোমরা এই নির্দেশগুলি মানবে:
3 “আমাকে ছাড়া তোমরা আর কোনও দেবতাকে উপাসনা করবে না|
4 “তোমরা অবশ্যই অন্য কোন মূর্তি গড়বে না য়েগুলো আকাশের, ভূমির অথবা জলের নীচের কোন প্রাণীর মত দেখতে|
5 কোন মূর্ত্তির উপাসনা বা সেবা করবে না| কারণ, আমিই প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর| যারা অন্য দেবতার উপাসনা করবে তাদের আমি ঘৃণা করি| আমার বিরুদ্ধে যারা পাপ করবে তারা আমার শত্রুতে পরিণত হবে| এবং আমি তাদের শাস্তি দেব| আমি তাদের সন্তানসন্ততি এবং পরবর্তী প্রজন্মকেও শাস্তি দেব|
6 কিন্তু যারা আমায ভালবাসবে ও আমার নির্দেশ মান্য করবে তাদের প্রতি আমি সর্বদা দযালু থাকব| আমি তাদের হাজার প্রজন্ম পর্য়ন্ত দযা প্রদর্শন করব|”
7 “তোমরা তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের নাম ভুল ভাবে ব্যবহার করবে না| যদি কেউ তা করে তাহলে সে দোষী এবং প্রভু তাকে নির্দোষ সাব্যস্ত করবেন না|
8 “বিশ্রামের দিনটিকে বিশেষ দিন হিসাবে মনে রাখবে|
9 সপ্তাহে ছয় দিন কাজ করো|
10 কিন্তু সপ্তমদিনটি হবে অবসরের| প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের প্রতি সম্মান প্রর্দশনের দিন| সুতরাং সেই দিনে কেউ কাজ করবে না-তুমি নয়, অথবা তোমার ছেলেরা এবং মেয়েরা, অথবা তোমার স্ত্রী, অথবা তোমার ক্রীতদাস-দাসীরা কেউ নয়| এমনকি তোমাদের গৃহপালিত পশু এবং তোমাদের শহরে বাস করা বিদেশীরাও বিশ্রামের দিনে কোন কাজ করবে না|
11 কারণ প্রভু সপ্তাহে ছয় দিন কাজ করে এই আকাশ, পৃথিবী, সমুদ্র এবং এর মধ্যস্থিত সব কিছু বানিয়েছেন এবং সপ্তমদিনে তিনি বিশ্রাম নিয়েছেন| এইভাবে বিশ্রামের দিনটি প্রভুর আশীর্বাদ ধন্য – ছুটির দিন| প্রভু এই দিনটিকে বিশেষ দিন হিসাবে সৃষ্টি করেছেন|
12 “তুমি অবশ্যই তোমার পিতামাতাকে সম্মান করবে, তাহলে তোমরা তোমাদের দেশে দীর্ঘ জীবনযাপন করবে| য়েটা প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের দিচ্ছেন|
13 “কাউকে হত্যা কোরো না|
14 “ব্যাভিচার কোরো না|
15 “চুরি কোরো না|
16 “অন্যদের সম্বন্ধে মিথ্যা বোলো না|
17 “তোমাদের প্রতিবেশীর ঘরবাড়ীর প্রতি লোভ কোরো না| তার স্ত্রীকে ভোগ করতে চেও না| এবং তার দাস-দাসী, গবাদি পশু অথবা গাধাদের আত্মসাত্‌ করতে চেও না| অন্যদের কোন কিছুর প্রতি লোভ কোরো না|”

যাত্রাপুস্তক20:1-17

দশ আজ্ঞা সমূহের মানদণ্ড

আজকের দিনে আমরা মাঝে মাঝে ভুলে যাই যে এগুলো আজ্ঞার সমষ্টি I এগুলো প্রস্তাব সমূহ নয় I নাতো সেগুলো সুপারিশ সমূহ I কিন্তু কত দূর পর্যন্ত আমাদেরকে এই আজ্ঞা সমূহকে মান্য কতে হয়? দশ আজ্ঞা সমূহ দেওয়ার ঠিক পূর্বে নিম্নলিখিতটি আসে

 3 তারপর মোশি পর্বতে উঠল ঈশ্বরের সঙ্গে সাক্ষাত্‌ করার উদ্দেশ্যে| সেই পর্বতে ঈশ্বর মোশিকে ডেকে বললেন, “ইস্রায়েলের লোকজন ও মহান যাকোব পরিবারের লোকজনকে একথাগুলি বলো:
4 তোমরা নিজেরাই দেখেছ আমি মিশরীয়দের কি অবস্থা করেছি| তোমরা দেখেছো আমি কিভাবে ঈগল পাখীর মতো মিশর থেকে তোমাদের বের করে আমার কাছে এখানে নিয়ে এসেছি|
5 তাই এখন আমি তোমাদের আমার নির্দেশগুলো মেনে চলতে বলছি| আমার চুক্তি পালন করো| তোমরা যদি তা করো তাহলে তোমরা হবে আমার বিশেষ লোক| এই পুরো পৃথিবীটাই আমার; কিন্তু আমি তোমাদের আমার বিশেষ লোক হিসেবে মনোনীত করেছি|

যাত্রাপুস্তক 19:3,5

দশ আজ্ঞা সমূহ দেওয়ার ঠিক পরে এটিকে দেওয়া হয়েছিল

 7 মোশি তখন খাতাটি নিয়ে তাতে লেখা চুক্তিগুলি চেঁচিয়ে পড়তে থাকল| লোকরা তা শুনে বলে উঠল, “আমরা প্রভুর দেওয়া বিধিগুলি শুনেছি এবং আমরা তা মানতে রাজি আছি|”

যাত্রাপুস্তক24:7

মাঝে মাঝে স্কুলের পরীক্ষায়, শিক্ষক একাধিক প্রশ্ন দেন (উদাহরণস্বরূপ 20) কিন্তু পরে কেবল কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন হয় I উদাহরণস্বরূপ, উত্তর দিতে 20টির মধ্যে আমরা যে কোনো 15টি প্রশ্ন চয়ন করতে পারি I প্রত্যেকটি ছাত্র 15টি সহজতম প্রশ্নের উত্তর দিতে তার জন্য তুলে নিতে পারে I এইভাবে পরীক্ষক পরীক্ষাকে সহজতর করে I   

অনেকে দশ আজ্ঞা সমূহের সম্পর্কে এইভাবে চিন্তা করে I তারা ভাবে যে ঈশ্বর, দশ আজ্ঞা দেওয়ার পরে, বোঝাতে চেয়েছেন, “এই দশটির থেকে তোমার পছন্দ মতন যে কোনো ছয়টিকে চেষ্টা কর” I আমরা এইভাবে চিন্তা করি কারণ আমরা কল্পনা করি ঈশ্বর আমাদের ‘উত্তম কার্যগুলোকে’ আমাদের ‘মন্দ কার্যগুলোর’ বিপরীতে ভারসাম্য বজার রাখছেন I যদি আমাদের উত্তম যোগ্যতাগুলো ওজনে অধিক হয় বা আমাদের মন্দ ত্রুটিবিচ্যুতিগুলোকে বাতিল করে তাহলে আমরা আশা করি যে ঈশ্বর লাভের পক্ষে এটি যথেষ্ট I  

যাইহোক, দশ আজ্ঞাগুলো সম্বন্ধে একটি সৎ অধ্যয়ন দেখায় যে কিরূপে এটিকে দেওয়া হয়েছিল সেটি কোনো বিষয় ছিল না I লোকেদেরকে সমুদয় আজ্ঞাগুলোকে মানতে এবং পালন করতে হবে – সর্বদা I এটির নিছক অসুবিধা অনেককে দশ আজ্ঞাগুলোকে খারিজ  করতে বাধ্য করেছে I কিন্তু কলি যুগের দ্বারা আনীত পরিস্থিতির জন্য সেগুলোকে কলি যুগে দেওয়া হয়েছিল I

দশ আজ্ঞা সমূহ এবং করোনা বীজাণুর পরীক্ষা

2020 সালের বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা বীজাণুর মহামারীর সঙ্গে তুলনা করার দ্বারা আমরা হয়ত কঠিন দশ আজ্ঞাগুলোর উদ্দেশ্যকে কলি যুগে ভালভাবে বুঝতে পারি I কোভিদ 19 জ্বর, কাশি এবং শ্বাস কষ্টের লক্ষণগুলো সহ একটি রোগ যেটি করোনা বীজাণুর দ্বারা সংক্রমিত হয় – এমন ক্ষুদ্র কিছু যাকে আমরা দেখতে পারি   না I    

ধরুন কেউ জ্বর বোধ করছে এবং কাশি আছে I এই ব্যক্তি আশ্চর্য বোধ করে সমস্যটা কি I তার কি সাধারণ জ্বর আছে বা তারা কি করোনা বীজাণুর দ্বারা  সংক্রমিত হয়েছে? যদি তাই হয় তবে এটি একটি গুরুতর সমস্যা – এমনকি জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ I যেহেতু করোনা জীবাণু দ্রুত ছড়ায় এবং এটির প্রকৃত সম্ভাবনা যে  প্রত্যেকে সহজেই প্রভাবিত হয় I অন্বেষণ করতে তারা একটি বিশেষ পরীক্ষা গ্রহণ করে যা নির্ধারণ করে তাদের শরীরে করোনার বীজাণু উপস্থিত আছে কি না I করোনা বীজাণুর পরীক্ষা তাদের রোগের থেকে সুস্থতা দেয় না, এটি তাদের কেবল বলে নিশ্চিতভাবে তাদের মধ্যে করোনা জীবাণু আছে কি না যার পরিণাম কোভিদ-19 হবে অথবা তাদের কেবল একটি সাধারণ জ্বর আছে I     

দশ অগ্জ্ঞাগুলোর সাথে এটি সেই একই রকম I কলি যুগে নৈতিক অবক্ষয়ের মতন 2020 সালের করোনা বীজাণু ততটাই প্রভাবশালী I সাধারণ নৈতিক পাপের এই যুগে আমরা জানতে চাই আমরা নিজেরা ধার্মিক কি না বা আমরাও পাপের দ্বারা কলঙ্কিত হয়েছি কি না I দশ আজ্ঞাগুলোকে দেওয়া হয়েছিল যাতে আমাদের জীবনকে তাদের বিপরীতে পরীক্ষা করে আমরা জানতে পারি আমরা পাপ এবং এর সাথে আসা কর্মের থেকে মুক্ত কি না, বা আমাদের উপরে পাপের কোনো কব্জা আছে কি না I দশ অজ্ঞাগুলো করোনা জীবাণুর পরীক্ষার মতন কার্য করে – যাতে করে আপনি জানতে পারেন আপনার মধ্যে রোগ (পাপ) আছে কি না বা আপনি এর থেকে মুক্ত কি  না I    

পাপের আক্ষরিক অর্থ ‘লক্ষ্যচ্যুত’ সেই লক্ষ্যের থেকে যাকে ঈশ্বর আমাদের থেকে আশা করেন কিভাবে আমরা অন্যদের, আমাদের নিজেদের এবং ঈশ্বরের সঙ্গে আচরণ   করি I কিন্তু আমাদের সমস্যাকে জানার পরিবর্তে আমাদের ইচ্ছা অনুযায়ী আমরা  হয় অন্যদের সাথে (ভুল মাপদণ্ডর বিপরীতে আমাদের পরিমাপ করা) নিজেদের তুলনা করি, ধার্মিক যোগ্যতা অর্জন করতে কঠিন প্রচেষ্টা করি, বা ছেড়ে দিই এবং আমোদ প্রমোদের জন্য কেবল বেঁচে থাকি I অতএব ঈশ্বর দশ আজ্ঞা সমূহ দিলেন যাতে করে:  

 20 কারণ বিধি-ব্যবস্থা পালন করলেই য়ে ঈশ্বরের সামনে ধার্মিক প্রতিপন্ন হওয়া যায় তা নয়, বিধি-ব্যবস্থা কেবল পাপকে চিহ্নিত করে৷

রোমীয়3:20

দশ আজ্ঞা সমূহের বিপরীতে আমরা যদি আমাদের জীবনকে পরীক্ষা করি তাহলে এটি করোনা বীজাণুর পরীক্ষা গ্রহণ করার মতন হয় যা আভ্যন্তরিক সমস্যাকে দেখায় I দশ আজ্ঞা সমূহ আমাদের সমস্যা ‘ঠিক’ করে না, কিন্তু সমস্যাটিকে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করে যাতে ঈশ্বরের দেওয়া সমাধানকে আমরা স্বীকার করি I অবিরত আত্মপ্রবঞ্চনায় চলতে থাকার পরিবর্তে, ব্যবস্থা আমাদেরকে নিখুঁতভাবে দেখতে অনুমতি দেয় I

অনুতাপের মধ্যে ঈশ্বরের বরদান দেওয়া হয়

ঈশ্বর যে সমাধান দিয়েছেন তা হ’ল যেশু সৎসংগ – যীশু খ্রীষ্টের মৃত্যু এবং পুনরুত্থানের মাধ্যমে পাপের ক্ষমার বরদান I জীবনের এই বরদানকে শুধুমাত্র তখনই  আমাদের দেওয়া হয় যদি আমরা যীশুর কার্যের উপরে ভরসা বা বিশ্বাস করি I   

16 প্রভু ঈশ্বর মানুষটিকে এই আদেশ দিলেন, “বাগানের য়ে কোনও বৃক্ষের ফল তুমি খেতে পারো|

গালাতীয় 2:16

যেমনভাবে ভাববাদী আব্রাহামকে ঈশ্বরের সামনে ধার্মিক প্রতিপন্ন করা হয়   আমাদেরকেও ধার্মিকতা দেওয়া যেতে পারে I কিন্তু এটার জন্য প্রয়োজন যে আমরা  অনুতাপ করি I অনুতাপকে প্রায়শই ভুল বোঝা হয়, কিন্তু অনুতাপের সরল অর্থ হ’ল ‘আমাদের মন পরিবর্তন করা’ পাপের থেকে মুখ ফেরানো এবং ঈশ্বর ও তার দেওয়া বরদানের দিকে মন ঘোরানকে অন্তর্ভুক্ত করে I বেদা পুশ্তকম (বাইবেল) যেমনভাবে ব্যাখ্যা করে:

 অতএব অনুশোচনা করুন এবং toশ্বরের দিকে প্রত্যাবর্তন করুন, যাতে আপনার পাপগুলি মুছে যায় এবং প্রভুর কাছ থেকে সতেজ হওয়ার সময় আসতে পারে,

প্রেরিতের কার্য 3:19

আপনার এবং আমার জন্য প্রতিশ্রুতি হ’ল যে আমরা অনুতাপ করি, ঈশ্বরের দিকে ফিরি, যাতে আমাদের বিরুদ্ধে আমাদের পাপের গণনা করা হবে না এবং আমরা জীবন পাব I ঈশ্বর, তাঁর মহান দয়ায়, কলি যুগে পাপের জন্য একটি পরীক্ষা এবং টীকা উভয়ই আমাদেরকে দিয়েছেন I   

সূর্যের নিচে জীবনের পরিতৃপ্তি খোঁজার মায়া

মায়া সংস্কৃত থেকে এসেছে তার অর্থ হ’ল ‘সেটা যেটা নেই’ এবং অতএব ‘মায়া’ I বিভিন্ন প্রাজ্ঞ পুরুষরা এবং দার্শনিক গোষ্ঠী মায়ার বিভ্রমের উপরে ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে জোর দিয়েছিলেন কিন্তু সাধারণভাবে ধারণাটি প্রকাশ করে যে জাগতিক বা ভৌতিক আমাদের আত্মাকে ভুল পথে চালিত করতে পারে এবং এইরূপে দাসত্বের মধ্যে একে জড়াতে এবং ফাঁদে ফেলতে পারে I আমাদের আত্মা পদার্থ নিয়ন্ত্রণ করতে এবং উপভোগ করতে আকুলভাবে আকাঙ্খী I যাইহোক, এর ফলে আমরা শেষ পর্যন্ত লালসা, লোভ এবং ক্রোধের সেবা করি I আমরা তখন প্রায়শই আমাদের প্রচেষ্টাকে দ্বিগুন করি এবং চক্রবৃদ্ধিহারে ভুলের উপর ভুল করে, মায়া বা বিভ্রমের গভীরে পড়ি I এইরূপে মায়া একটি ঘুর্নির মতন কাজ করতে পারে যেটি শক্তি বৃদ্ধির সাথে, একের পর এক ফাঁদে ফেলে একজনকে হতাশার দিকে নিয়ে যায় I মায়ার ফলে স্বীকার্য হয় যে যেটি অস্থায়ী সেটির মূল্য যেন স্থায়ী লাগে, এবং এই জগতে স্থায়ী সুখের খোঁজ করি যা এ দিতে পারে না I       

প্রজ্ঞার সনাতন তামিল বই, তিরুক্কুরাল, আমাদের উপরে মায়া এবং তার প্রভাবকে এইভাবে বর্ণনা করেছে  

 “কেউ যদি তার মোহগুলোতে আঁকড়ে থাকে, যেতে দিতে অস্বীকার করে তবে দুঃখগুলো তার উপরে কবজাকে যেতে দেবে না” 

তিরুক্কুরাল 35.347-348

হিব্রু বেদের মধ্যে তিরুক্কুরালের মতন অনেকটা একইরকম প্রজ্ঞার সাহিত্য আছে I এই প্রজ্ঞার কবিতার রচয়িতা ছিলেন শলোমন I তিনি বর্ণনা করেন কিভাবে তিনি ‘সূর্যের নিচে’ থাকার সাথে সাথে মায়া এবং এর প্রভাবের অভিজ্ঞতা লাভ করেছিলেন – অর্থাৎ, যেন কেবল বস্তুর মূল্য আছে বলে বাস করা, এবং সূর্যের পথের নিচে কেবলমাত্র এই ভৌতিক জগতের মধ্যে স্থায়ী সুখের খোঁজ করা 

 ‘সূর্যের নিচে’ মায়ার সম্বন্ধে শলোমনের অভিজ্ঞতা

শলোমন, তার প্রজ্ঞার জন্য বিখ্যাত এক প্রাচীন রাজা, 950 খ্রীষ্টপূর্বাব্দের আশে পাশে একাধিক কবিতা লিখেছিলেন যেটি বাইবেলের পুরনো নিয়মের অংশ I উপদেশকের মধ্যে, তিনি সেই সমস্ত গুলো বর্ণনা করলেন যা তিনি জীবনে পরিতৃপ্তি পেতে করেছিলেন I তিনি লিখলেন: 

মি নিজেকে বলেছিলাম, “আমি যতটা সম্ভব সব কিছুকে উপভোগ করব|” কিন্তু আমি জানতে পেরেছিলাম য়ে এসবই অসার|
2 হাসি জিনিষটা বোকামি; আনন্দ কোন উদ্দেশ্য সিদ্ধ করে না|
3 তাই আমি ঠিক করেছিলাম দ্রাক্ষারস পান করে শরীরকে ও জ্ঞানলাভ করে মনকে ভাল রাখব| আমি এরকম বোকামি করেছিলাম কারণ আমি সুখের সন্ধান পেতে চেয়েছিলাম| আমি বুঝতে চেয়েছিলাম এই অল্প দিনের জীবনে মানুষের কি করা উচিত্‌|
4 তারপর আমি নানা মহত্‌ কাজ করতে শুরু করেছিলাম| আমি নিজের জন্য নানা জায়গায় বাড়ি তৈরী করেছিলাম| দ্রাক্ষার ক্ষেত তৈরী করেছিলাম|
5 আমি বাগান করেছিলাম| উপবন করেছিলাম, আমি সব রকম ফলের গাছ লাগিয়েছিলাম|
6 আমি নিজের জন্য পুকুর কাটিযে ছিলাম| আমি সেই পুকুরের জল আমার বাগানের গাছে দেওয়ার জন্য ব্যবহার করতাম|
7 আমি পুরুষ ও স্ত্রী এীতদাস কিনেছিলাম এবং আমি যখন তাদের মালিকানা পেলাম তখন তাদের ছেলেমেযে ছিল| আমার অনেক ঐশ্বর্য় ছিল| আমার অনেক গরু ও মেষের পাল ছিল| আমি এত ধনী ছিলাম য়ে সে রকম ধনী জেরুশালেমে কেউ ইতিপূর্বে ছিল না|
8 আমি আমার নিজের জন্য সোনা ও রূপা সংগ্রহ করেছিলাম| আমি বিভিন্ন দেশের রাজাদের কাছ থেকে ধন সংগ্রহ করেছিলাম| আমাকে খুশী করার জন্য অনেক গায়ক ও গাযিকা ছিল| আমার কাছে সবই ছিল যা সকলের কাছে রয়োজনীয়| আমার কাছে সমস্ত রকমের বাদ্যযন্ত্র ছিল|
9 আমি বিরাট ঐশ্বর্য়্য় ও খ্যাতি লাভ করেছিলাম| জেরুশালেমে আমার আগে য়ে সমস্ত লোক ছিল আমি ছিলাম তাদের সবার চেয়ে মহত্‌| আমার জ্ঞান ছিল সব সময় আমার সহায়|
10 আমার চোখে যা ভাল লাগত এবং আমাকে যা খুশী করত, আমি তা সবই পেতাম| আমি কঠিন পরিশ্রম করে যা কিছু করেছিলাম তা নিয়ে আনন্দিত ছিলাম এবং আমার এই সব জিনিস প্রাপ্য ছিল, কারণ আমি এর জন্য কাজ করেছিলাম|

উপদেশক 2:1-10

ঐশ্বর্য, খ্যাতি, জ্ঞান, প্রকল্প, স্ত্রী, আমোদ, রাজ্য, পেশা, দ্রাক্ষারস… শলোমনের কাছে এই সমস্ত ছিল – এবং এটি তার সময়ের কারোর বা আমাদের থেকেও বেশি I এক আইনস্টাইনের বুদ্ধিমত্তা, লক্ষী মিত্তলের ঐশ্বর্য, এক বলিউড তারকার সামাজিক/যৌন জীবন, তার সাথে ব্রিটিশ রাজকীয় পরিবারের রাজকুমার উইলিয়ামের মতন এক রাজকীয় বংশতালিকা – সব একটির মধ্যে সম্মিলিত হয়েছিল I কে ওই সম্মেলনকে হারাতে পারে? আপনি ভাববেন সমস্ত লোকেদের মধ্যে তিনি, পরিতৃপ্ত হয়ে থাকবেন I    

শ্রেষ্টগীতের তার কবিতার অন্য একটির মধ্যে, যা বাইবেলের মধ্যেও আছে, তিনি তার মধ্যে থাকা একটি উদ্রেককারী, প্রচন্ড প্রণয়লীলাকে নথিভুক্ত করেন – বিশেষ বস্তুটি যা খুব সম্ভবতঃ জীবন-ব্যাপী সুখ দেবে বলে মনে হয় I সম্পূর্ণ কবিতাটি এখানে রয়েছে I তবে নিচে তার এবং তার প্রেমিকের মধ্যে প্রেম বিনিময়ের কবিতার একটি অংশ রয়েছে I  

শ্রেষ্ঠগীতের নির্যাস

তিনি
9 আমি তোমাকে আমার প্রিয়তমের সাথে একটি গাঁয়ের সাথে তুলনা করছি
ফেরাউনের রথের ঘোড়াগুলির মধ্যে।
10 আপনার গাল কানের দুল দিয়ে সুন্দর,
আপনার গলায় রত্নের স্ট্রিং
11 আমরা আপনাকে সোনার কানের দুল তৈরি করব,
রূপা দিয়ে জড়িত।

সে
12 রাজা যখন তাঁর টেবিলে ছিলেন,
আমার সুগন্ধি তার সুগন্ধ ছড়িয়েছে
13 আমার প্রিয় আমার কাছে গন্ধযুক্ত এক থলি
আমার স্তনের মাঝে বিশ্রাম নিচ্ছি
14 আমার প্রিয় আমার কাছে মেহেদী ফুল ফোটে
Gন গেদীর দ্রাক্ষাক্ষেত্র থেকে।

তিনি
15 তুমি কত সুন্দর!
ওহ, কত সুন্দর!
তোমার চোখ কপোত।

সে
16 তুমি কত সুন্দর!
ওহ, কত মনোরম!
এবং আমাদের বিছানা বৃষ্টির হয়।

তিনি

17 আমাদের বাড়ির মরীচিগুলি देवदार;
আমাদের rafters firs হয়।

সে
3 বনের গাছের মধ্যে একটি আপেল গাছের মতো
যুবকদের মধ্যে আমার প্রিয়।
আমি তার ছায়ায় বসে আনন্দিত,
এবং তার ফল আমার স্বাদ মিষ্টি।
4 সে আমাকে বনভোজন ঘরে নিয়ে যাবে,
এবং আমার উপর তার ব্যানার প্রেম হতে দিন।
5 কিসমিস দিয়ে আমাকে শক্ত করুন,
আপেল দিয়ে আমাকে সতেজ করুন,
কারণ আমি ভালবাসায় অজ্ঞান।
6 তাঁর বাম হাতটি আমার মাথার নীচে,
এবং তাঁর ডান বাহু আমাকে জড়িয়ে ধরে।
7 জেরুশালেমের কন্যারা, আমি তোমাকে এই আদেশ দিই
গ্যাজেলেস এবং ক্ষেত্রের কাজ দ্বারা:
জাগ্রত বা জাগ্রত করবেন না
যতক্ষণ না এটি ইচ্ছা করে। ()

গান 1: 9 – 2: 7

প্রায় 3000 বয়সী এই কবিতার মধ্যে, বলিউডের সেরা প্রেমের চলচ্চিত্রগুলোর  রোমাঞ্চকর তীব্রতা রয়েছে I বাইবেল নথিভুক্ত করে যে তার অগাধ ধনের  সাহায্যে তিনি 700 উপপত্নী পেয়েছিলেন I সেটি বলিউড বা হলিউডের উর্বর  প্রেমিকদের চেয়ে অনেক বেশি কখনও হয়ে থাকবে I তাই আপনি ভাববেন যে সেই সমস্ত পেমের সাহায্যে তিনি পরিতৃপ্ত হবেন I কিন্তু সেই সমস্ত প্রেম, সমস্ত ঐশ্বর্য, সমস্ত খ্যাতি এবং সমস্ত প্রজ্ঞা থাকা স্বত্তেও – তিনি উপসংহারে বললেন:   

  গুলি হল, উপদেশকের কথা যিনি ছিলেন দায়ূদের পুত্র এবং জেরুশালেমের রাজা|
2 সবই এত অর্থহীন! তাই উপদেশকের মতে সবই অসার, সবই সময়ের অপচয!
3 মানুষ সূর্য়ের নীচে য়ে কঠিন পরিশ্রম করে সে কি তার কোন ফল পায়? না!
4 বংশপরম্পরা পর্য়ায়এমে আসে এবং যায়| কিন্তু পৃথিবী চিরন্তণ|
5 সূর্য় ওঠে আবার অস্ত যায়| তারপর দ্রুত ফিরে যায় সেই একই জায়গায় য়েখান থেকে আবার সূর্য় ওঠে|
6 বাতাস দক্ষিণে বয় এবং উত্তরেও বয়| বাতাস চারিদিক ঘুরে ঘুরে আবার তার নিজের জায়গায় ফিরে যায়|
7 সব নদী বার বার একই দিকে বয়ে চলে| সমস্ত নদীই সমুদ্রে গিয়ে মেশে কিন্তু সমুদ্র কখনও পূর্ণ হয় না|
8 সব কথাই ক্লান্তিকর| কিন্তু তবুও লোকে কথা বলে| আমরা সব সময়ই কথা শুনি কিন্তু তাতে আমরা সন্তুষ্ট হই না| আবার সব সময় আমরা য়ে সব জিনিস দেখি তাতেও আমাদের মন ভরে না|
9 সব জিনিসই সৃষ্টির সময় য়েমন ছিল সে রকমই থেকে যায়| যা আগে করা হয়েছে তাই আবার পরেও করা হবে| সূর্য়ের নীচে কোন কিছুই নতুন নয়|
10 এমন কোন কিছু নেই যাকে কোন ব্যক্তি নতুন বলতে পারে! য়ে জিনিসকে মানুষ নতুন বলবে তা আমাদের জন্মের আগে থেকেই বর্তমান|
11 যা অনেক আগে ঘটে গেছে সে ঘটনা লোকে মনে রাখে না| এখন যা ঘটছে ভবিষ্যতে তা লোকে ভুলে যাবে| পরবর্তী প্রজন্ম মনেও রাখবে না আগেকার লোক তাদের জন্য কি করে গেছে|
12 আমি উপদেশক, আমি ছিলাম জেরুশালেমের অন্তর্গত ইস্রায়েলের রাজা|
13 সূর্য়ের নীচে যা কিছু ঘটে তাকে আমি প্রজ্ঞা দ্বারা জানতে চেয়েছিলাম| আমি জানতে পেরেছিলাম য়ে ঈশ্বর লোকদের যা করতে দেন তা খুবই কঠিন ও কষ্টকর|
14 আমি দেখেছিলাম সূর্য়ের নীচে যা কিছু করা হয় তা সবই অসার, সময়ের অপচয় মাত্র| এ য়েন অনেকটা হাওয়ার পেছনে ছোটা|

উপদেশক 1:1-14

  11 কিন্তু আমি যখন আমার সমস্ত কাজের কথা, পরিশ্রমের কথা চিন্তা করলাম তখন দেখলাম সবই সময়ের অপচয! এসবই ছিল হাওযার পিছনে ছোটা| সূর্য়ের নীচে আমরা যা করি তাতে কোন লাভ নেই|
12 এক জন পুরাতন রাজা ইতিমধ্যেই যা করেছে, এক জন নতুন রাজা তার চেয়ে বেশী কিছু করতে পারে না| তাই আমি আমার বিজ্ঞতার, ভুলভ্রান্তির ও পাগলামির কথা আবার ভাবতে শুরু করলাম|
13 অন্ধকারের থেকে আলো য়েমন ভালো জ্ঞানও ঠিক তেমনি অজ্ঞানতার চেয়ে ভালো|
14 এক জন জ্ঞানী মানুষ তার পথ দেখবার জন্য তার চোখ ব্যবহার করে| কিন্তু য়ে মূর্খ সে শুধুই অন্ধকারে ঘুরে বেড়ায়|কিন্তু আমি লক্ষ্য করলাম য়ে এক জন জ্ঞানী ও মূর্খ উভয়ের পরিসমাপ্তি একই| অবশেষে তারা উভয়েই মারা যায়|
15 আমি নিজে ভেবেছিলাম, “এক জন মূর্খের য়ে পরিণতি হয় আমারও তাই হবে| তবে আমি কেন জ্ঞান লাভের জন্য এত কঠিন পরিশ্রম করব?” আমি নিজেকে বললাম, “জ্ঞানী হওয়াও অর্থহীন|”
16 জ্ঞানী ও মূর্খ উভয়েরই পরিণতি মৃত্যু এবং মানুষ জ্ঞানী বা মূর্খ কাউকেই চিরকাল মনে রাখবে না| তারা যা কিছু করেছিল ভবিষ্যতে তা মানুষ ভুলে যাবে| তাই জ্ঞানী ও মূর্খ প্রকৃত অর্থে একই|
17 এতে আমার জীবনের প্রতি ঘৃণা এসে গেল| আমার মনে হল য়ে পৃথিবীতে আমার কাছে যা কিছু আছে তা সবই অর্থহীন| সবই হাওযাকে ধরবার চেষ্টা করবার মত|
18 সূর্য়ের নীচে আমার সমস্ত কঠিন পরিশ্রমের কাজে আমার ঘৃণা জন্মেছিল| যার জন্য আমি কঠিন পরিশ্রম করে গিয়েছি তা আমার পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রেখে যাব| আমার কঠিন পরিশ্রমের ফল আমি আমার সঙ্গে রাখতে পারব না|
19 আমি যা কিছু শিখেছি এবং যা কিছু কাজ করেছি তা অন্য কোন লোক নিয়ন্ত্রণ করবে| এমনকি আমি এটাও জানতে পারব না য়ে সে জ্ঞানী হবে কি মূর্খ| এটাও অসার|
20 আমি সূর্য়ের নীচে যা কিছু কাজ করেছি তার জন্য আমি দুঃখিত|
21 এক জন ব্যক্তি তার সমস্ত প্রজ্ঞা, জ্ঞান ও পারদর্শীতা দিয়ে কঠিন পরিশ্রম করতে পারে| কিন্তু তার পরিশ্রমের ফল তার মৃত্যুর পর অন্য লোক ভোগ করবে| সেই লোকরা বিনা আয়াসে সব কিছু পেয়ে যাবে| এটাও অসার এবং এ একটা ভীষণ পাপ|
22 এক জন ব্যক্তি সূর্য়ের নীচে তার জীবনভর সংগ্রামের পর কতটুকু পায়?
23 সে সারা জীবন পায় শুধু যন্ত্রণা, হতাশা আর কঠিন পরিশ্রম| এমনকি রাতেও সে বিশ্রাম পায় না| এটাও অসার|

উপদেশক 2:11-23

চূড়ান্তভাবে তৃপ্তি দেওয়ার জন্য আনন্দ, সম্পদ, কাজ, প্রকল্প, রোমাঞ্চকর প্রেমের প্রতিশ্রুতিকে তার দ্বারা একটি মায়া রূপে দেখানো হয়েছিল I তবে আজ এটি একই বার্তা যা আপনি এবং আমি এখনও পরিতৃপ্তির নিশ্চিত পথ রূপে   শুনছি I শলোমনের কবিতা আমাদের আগেই বলেছে যে সেই উপায়গুলোতে তিনি পরিতৃপ্তিকে পেতে সক্ষম হন নি I   :

শলোমন মৃত্যু তথা জীবনের উপরে অনুধাবন করতে তার কবিতা চালিয়ে গেলেন:

  19 মানুষ কি পশুদের চেয়ে শ্রেয়? না! কেন? কারণ সব কিছুই অর্থহীন| পশু এবং মানুষদের ক্ষেত্রে একই ব্যাপার ঘটে- উভয়েরই মৃত্যু আসে| মানুষ এবং পশুরা একই “নিঃশ্বাস” নেয়| একটি মৃত মানুষ ও মৃত পশুর মধ্যে কি কোনও পার্থক্য আছে?
20 মানুষ এবং পশুদের দেহ একই ভাবে বিলীন হয়| তারা মাটি থেকেই আসে এবং মাটিতেই ফিরে যায়|
21 কে জানে মানুষের আত্মার কি হয়? কে বলতে পারে পশুর কোন আত্মা যখন মাটির নীচে প্রবেশ করছে তখন হয়তো কোন মানুষের আত্মা ঈশ্বরের কাছে যাচ্ছে?

উপদেশক 3:19-21

  2 কিন্তু সবার ক্ষেত্রে একই জিনিস ঘটে| ভাল ও মন্দ উভয় ধরণের লোকরাই মারা যান| শুচি ও অশুচি দুধরণের লোকের কাছেই মৃত্যু আসে| যারা ঈশ্বরকে নৈবেদ্য দেয় না তাদের মতো যারা ঈশ্বরকে নৈবেদ্য দেয় তারাও মারা যায়| এক জন ভাল লোকও এক জন পাপীর মত মারা যায়| য়ে ব্যক্তি ঈশ্বরের কাছে বিশেষ প্রতিশ্রুতি দেয় সেও সেই ব্যক্তির মতো মারা যায়, য়ে ঈশ্বরের কাছে প্রতিশ্রুতি দিতে ভয় পায়|
3 সূর্য়ের নীচে যা কিছু খারাপ ঘটনা ঘটে প্রত্যেকের ক্ষেত্রে একই পরিণতি হয়| এটাও খুবই খারাপ য়ে লোকেরা সবসময় মন্দ ও মূর্খের মতো চিন্তা করবে এবং সেই চিন্তা তাকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাবে|
4 য়ে এখনও বেঁচে আছে সে য়েই হোক না কেন তার জন্য আশা আছে| এই প্রবাদটি সত্যি য়ে:জীবিত কুকুর মৃত সিংহের চেয়ে শ্রেয়|
5 জীবিত মানুষ জানে য়ে সে মারা যাবে| কিন্তু মৃত মানুষ কিছু জানে না| মৃত মানুষের আর কোন কিছু পাওয়ার নেই| মানুষ খুব তাড়াতাড়ি তাকে ভুলে যাবে|

উপদেশক 9:2-5

একটি পবিত্র বই বাইবেলেতে, কেন ধন এবং প্রেমের অনুধাবন সম্পর্কে কবিতা থাকবে – যে বিশেষ জিনিসগুলোকে আমরা পবিত্রতার সঙ্গে যুক্ত করি না? আমাদের মধ্যে অধিকাংশ আশা করে পবিত্র বইগুলো বেঁচে থাকার জন্য তপস্যা, ধর্ম এবং নৈতিক উপদেশগুলো নিয়ে আলোচনা করবে i আর কেন শলোমন বাইবেলে মৃত্যু সম্পর্কে এমন চূড়ান্ত এবং নিরাশাবাদী উপায় লেখেন?   

যে পথ শলোমন গ্রহণ করেছিলেন, এত সাধারণভাবে জগত জুড়ে অনুসৃত হয়েছিল, তা নিজের জন্য বেঁচে থাকতে ছিল, যাই মানে সৃষ্টি করুক না কেন, আনন্দ বা আদর্শগুলোকে অনুসরণ করতে তিনি বেছে নিয়েছিলেন I কিন্তু শলোমনের জন্য সেই পরিসমাপ্তি ভাল ছিল না – পরিতৃপ্তি ছিল অস্থায়ী এবং মায়া i বাইবেলের মধ্যে তার কবিতাগুলো একটি বড় সাবধানের চিহ্ন ছিল – “এখানে যেও না – এটি তোমাকে নিরাশ করবে!” যেহেতু আমাদের মধ্যে প্রায় অধিকাংশ শলোমনের দ্বারা গৃহীত সেই একই পথ ধরে এগোতে চেষ্টা করব আমরা জ্ঞানী হব যদি আমরা তার কথা শুনি i    

সুসমাচার – শলোমনের কবিতার উত্তর

যীশু খ্রীষ্ট (যেশু সতসংগ) সম্ভবত সর্বাধিক সু-পরিচিত ব্যক্তি যার সমন্ধে বাইবেলে লেখা হয়েছে I তিনিও জীবন সম্বন্ধে বক্তব্য রেখেছেন I আসলে তিনি বললেন

 “… আমি এসেছি যাতে তারা জীবন পায় এবং উপচয় পায়”

যোহন 10:10

  28 ‘তোমরা যাঁরা শ্রান্ত-ক্লান্ত ও ভারাক্রান্ত মানুষ, তারা আমার কাছে এস, আমি তোমাদের বিশ্রাম দেব৷
29 আমার জোয়াল তোমাদের কাঁধে তুলে নাও, আর আমার কাছ থেকে শেখ, কারণ আমি বিনযী ও নম্র, তাতে তোমাদের প্রাণ বিশ্রাম পাবে৷
30 কারণ আমার দেওয়া জোয়াল বয়ে নেওয়া সহজ ও আমার দেওয়া ভার হাল্কা৷’

মথি 11:28-30

যীশু যখন এটি বলেন তখন তিনি শলোমনের দ্বারা তার কবিতার মধ্যে লিখিত নিষ্ফলতা ও আশাহীনতার উত্তর দেন I হতে পারে, কেবলমাত্র হতে পারে, শলোমনের পথের কানা-গলির প্রতি এখানে একটি উত্তর I সর্বোপরি, গসপেলের আক্ষরিক অর্থ ‘সুসমাচার’ I গসপেল সত্যিই কি সুসমাচার? এর উত্তর দেওয়ার জন্য আমাদের কাছে সুসমাচারের একটি অবগত উপলব্ধির প্রয়োজন i এছাড়াও সুসমাচারের দাবিগুলোকে আমাদের পরীক্ষা করার প্রয়োজন রয়েছে – কেবলমাত্র একজন নির্বোধ সমালোচক না হয়ে, সুসমাচার সম্বন্ধে গম্ভীরভাবে চিন্তা করতে হবে I    

আমার কাহিনীর মধ্যে আমার শেয়ার করার সময় এটি ছিল আমার এক   যাত্রা I এই ওয়েবসাইটের মধ্যে এখানে নিবন্ধগুলো রয়েছে যাতে আপনিও অন্বেষণ করতে পারেন I যীশুর অবতার শুরু করার জন্য একটি উত্তম স্থান I