কিভাবে যীশু আশ্রমদের ভার গ্রহণ করেছিলেন

একটি ধার্মিক জীবন চারটি আশ্রমে (আশ্রম সমূহ) বিভক্ত I আশ্রম/আশ্রম সমূহ হ’ল লক্ষ্য, অবদান এবং কার্যকলাপ যা একজনের জীবনের পর্যায়ের জন্য উপযুক্ত I পর্যায়গুলোর মধ্যে জীবনের বিভাগ আশ্রম ধর্ম, চারটি প্রগতিশীল পর্যায়ের মধ্য দিয়ে দেহ, মন এবং আবেগ সমূহের সঙ্গে মিল খায় I এটি হাজার হাজার বছর আগে উন্নত হয়েছিল এবং ধর্ম শাস্ত্র রূপে পরিচিত শাস্ত্রবাক্যের মধ্যে বিস্তৃতভাবে বর্ণিত হয়েছিল লক্ষনীয় করতে যে যুবক থেকে প্রাপ্তবয়স্ক, বয়স্ক ও বৃদ্ধ বয়সে অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে আমাদের কর্তব্য সমূহ ভিন্ন ভিন্ন হয় I         

সর্বোচ্চ ঈশ্বরের অবতার রূপে, যীশু, তাঁর জন্মের অল্পকাল পরে, আশ্রম ধর্ম আরম্ভ করেছিলেন I তিনি যেভাবে আরম্ভ করেছিলেন তা শিক্ষনীয় যেহেতু  তিনি একটি উদাহরণ প্রদান করেন অনুসরণ করতে যেন আমাদের আশ্রমের জন্য যথাযথভাবে জীবন যাপন করতে অন্বেষণ করি I আমরা ব্রহ্মচর্যের সাথে শুরু করি, যেখানে আমরা উপনয়ন এবং বিদ্যারম্ভর মতন ধারাবাহিকতার ক্রম  পাই I     

ব্রহ্মচার্য যীশু

ছাত্র আশ্রম, ব্রহ্মচর্য প্রথমে আসে I  এই সময়কালে ছাত্র কৌমার্যের মধ্যে বাস করে ভবিষ্যতের সেবার জন্য শিখতে এবং নিজেকে প্রস্তুত করতে যা পরে  আশ্রমের প্রয়োজন হয় I যীশু আজকের উপনয়নের অনুরূপ একটি হিব্রু দীক্ষা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে, যদিও কিছুটা আলাদা, ব্রহ্মচর্যে প্রবেশ করে I সুসমাচারগুলো তার উপনযনকে এইভাবে লিপিবদ্ধ করে I  

যীশুর উপনয়ন

24 আর প্রভুর বিধি-ব্যবস্থা অনুসারে, ‘এক জোড়া ঘুঘু অথবা দুটি পায়রার বাচ্চা উত্‌সর্গ করতে হবে৷’৷ সুতরাং য়োষেফ এবং মরিয়ম সেইমত কাজ করবার জন্য জেরুশালেমে গেলেন৷
25 জেরুশালেমে সেই সময় শিমিযোন নামে একজন ধার্মিক ও ঈশ্বরভক্ত লোক বাস করতেন৷ তিনি ইস্রায়েলের মুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন৷ পবিত্র আত্মা তাঁর ওপর অধিষ্ঠান করছিলেন৷
26 পবিত্র আত্মার মাধ্যমে তাঁর কাছে একথা প্রকাশ করা হয়েছিল য়ে প্রভু খ্রীষ্টকে না দেখা পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হবে না৷
27 পবিত্র আত্মার প্রেরণায় তিনি সেদিন মন্দিরে এসেছিলেন৷ যীশুর বাবা-মা মোশির বিধি-ব্যবস্থা পালন করতে যীশুকে নিয়ে সেখানে এলেন৷
28 তখন শিমিযোন যীশুকে কোলে তুলে নিয়ে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিয়ে বললেন,
29 ‘হে প্রভু, তোমার প্রতিশ্রুতি অনুসারে তুমি তোমার দাসকে শান্তিতে বিদায় দাও৷
30 কারণ আমি নিজের চোখে তোমার পরিত্রাণ দেখেছি৷
31 য়ে পরিত্রাণ তুমি সকল লোকের সাক্ষাতে প্রস্তুত করেছ৷
32 তিনি অইহুদীদের অন্তর আলোকিত করার জন্য আলো; আর তিনিই তোমার প্রজা ইস্রায়েলের জন্য সম্মান আনবেন৷’
33 তাঁর বিষয়ে যা বলা হল তা শুনে য়োষেফ ও মরিয়ম আশ্চর্য হয়ে গেলেন৷
34 এরপর শিমিযোন তাঁদের আশীর্বাদ করে যীশুর মা মরিয়মকে বললেন, ‘ইনি হবেন ইস্রায়েলের মধ্যে বহু লোকের পতন ও উত্থানের কারণ৷ ঈশ্বর হতে আগত এমন চিহ্ন যা বহু লোকই অগ্রাহ্য় করবে৷
35 এতে বহু লোকের হৃদয়ের গোপন চিন্তা প্রকাশ হয়ে পড়বে৷ যা যা ঘটবে তাতে তোমার হৃদয় বিদীর্ণ হবে৷’
36 সেখানে হান্না নামে একজন ভাববাদিনী ছিলেন৷ তিনি আশের গোষ্ঠীর পনুয়েলের কন্যা৷ তাঁর অনেক বয়স হয়েছিল৷ বিবাহের পর সাত বছর তিনি স্বামীর ঘর করেন,
37 তারপর চুরাশি বছর বয়স পর্যন্ত তিনি বৈধব্য জীবনযাপন করেছিলেন৷ মন্দির ছেড়ে তিনি কোথাও য়েতেন না; উপবাস ও প্রার্থনাসহ সেখানে দিন-রাত ঈশ্বরের উপাসনা করতেন৷
38 ঠিক সেই মুহূর্তে তিনি তাঁদের দিকে এগিয়ে এসে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিতে আরন্ভ করলেন; আর যাঁরা জেরুশালেমের মুক্তির অপেক্ষায় ছিল তাদের সকলের কাছে সেই শিশুটির বিষয় বলতে লাগলেন৷
39 প্রভুর বিধি-ব্যবস্থা অনুসারে যা যা করণীয় তা সম্পূর্ণ করে য়োষেফ ও মরিয়ম তাঁদের নিজেদের নগর নাসরতে ফিরে গেলেন৷
40 শিশুটি ক্রমে ক্রমে বেড়ে উঠতে লাগলেন ও বলিষ্ঠ হয়ে উঠলেন৷ তিনি জ্ঞানে পূর্ণ হতে থাকলেন, তাঁর ওপরে ঈশ্বরের আশীর্বাদ

ছিল৷লুক 2:22-40

কিছু উপনয়ন অনুষ্ঠান সমূহের মধ্যে আজকের দিনে মন্দিরের মধ্যে একটি পাঁঠাকে উৎসর্গ করা হয় I এটি হিব্রু উপনয়ন অনুষ্ঠানগুলোতেও সাধারণ ছিল I  তবে মশির ব্যবস্থা দরিদ্র পরিবারদের ছাগলের পরিবর্তে একটি কপোত উৎসর্গ করতে অনুমতি দেয় I আমরা দেখি যে যীশুকে নম্রভাবে গড়ে তোলা হয়েছিল যেহেতু তার মা-বাবার ছাগল উৎসর্গ করার ক্ষমতা ছিল না পরিবর্তে কপোত উৎসর্গ করেছিল I      

শিমোন, এক পবিত্র ঋষি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে যীশু ‘সমস্ত জাতি সমূহের’ জন্য, মানে সমস্ত ভাষা গোষ্ঠীর জন্য, ‘পরিত্রাণ’ এবং এক ‘জ্যোতি’ হবেন I আমরা পরে দেখি কিভাবে যীশু এটি করেন I   

তবে এই ভূমিকাকে পরিপূর্ণ করতে যীশুর জ্ঞান এবং অক্ষরের মধ্যে দীক্ষিত হওয়ার প্রয়োজন ছিল I ঠিক কখন এই বিদ্যারম্ভ দীক্ষা তাঁর জীবনে ঘটেছিল নির্দিষ্ট করা নেই I তবে তার পরিবার কদর করেছিল এবং জ্ঞান, অক্ষর এবং শিক্ষার উপরে যে জোর দিয়েছিলেন তা পরিষ্কার হয় কেননা 12 বছর বয়সে তার জ্ঞানের অবস্থানের একটি আশু চিত্র দেওয়া হয় I এখানে নথিটি রয়েছে:

41 নিস্তারপর্বপালনের জন্য তাঁর মা-বাবা প্রতি বছর জেরুশালেমে য়েতেন৷
42 যীশুর বয়স যখন বারো বছর, তখন তাঁরা যথারীতি সেই পর্বে য়োগ দিতে গেলেন৷
43 পর্বের শেষে তাঁরা যখন বাড়ি ফিরছিলেন, তখন বালক যীশু জেরুশালেমেই রয়ে গেলেন, এবিষয়ে তাঁর মা-বাবা কিছুই জানতে পারলেন না৷
44 তাঁরা মনে করলেন য়ে তিনি দলের সঙ্গেই আছেন৷ তাঁরা এক দিনের পথ চলার পর আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের মধ্যে তাঁর খোঁজ করতে লাগলেন৷
45 কিন্তু তাঁকে না পেয়ে তাঁরা যীশুর খোঁজ করতে করতে আবার জেরুশালেমে ফিরে গেলেন৷
46 শেষ পর্যন্ত তিন দিন পরে মন্দির চত্বরে তাঁর দেখা পেলেন৷ সেখানে তিনি ধর্ম শিক্ষকদের সাথে বসে তাঁদের কথা শুনছিলেন ও তাঁদের নানা প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করছিলেন৷
47 যাঁরা তাঁর কথা শুনছিলেন তাঁরা সকলে যীশুর বুদ্ধি আর প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওযা দেখে অবাক হয়ে গেলেন৷
48 যীশুর মা-বাবা তাঁকে সেখানে দেখে আশ্চর্য হয়ে গেলেন৷ তাঁরমা তাঁকেবললেন, ‘বাছা, তুমি আমাদের সঙ্গে কেন এমন করলে? তোমার বাবা ও আমি ভীষণ ব্যাকুল হয়ে তোমার খোঁজ করে বেড়াচ্ছি৷’
49 যীশু তখন তাঁদের বললেন, ‘তোমরা কেন আমার খোঁজ করছিলে? তোমরা কি জানতে না য়ে য়েখানে আমার পিতার কাজ, সেখানেই আমাকে থাকতে হবে?’
50 কিন্তু তিনি তাঁদের যা বললেন তার অর্থ তাঁরা বুঝতে পারলেন না৷
51 এরপর তিনি তাঁদের সঙ্গে নাসরতে ফিরে গেলেন, আর তাঁদের বাধ্য হয়ে রইলেন৷ তাঁর মা এসব কথা মনের মাঝে গেঁথে

রাখলেন৷লুক 2:41-51

হিব্রু বেদের পরিপূর্ণতা

পরবর্তী সেবার প্রস্তুতি হিসাবে, যীশুর শৈশবকাল এবং বৃদ্ধিকে, ঋষি যিশাইয়র দ্বারা আগে থেকেই পরিলক্ষিত হয়েছিল যিনি লিখেছিলেন:

ঐতিহাসিক কালপঞ্জির অধ্যে যিশাইয় এবং অন্যান্য ঋষিগণ (ভাববাদীরা)

ন্তু যে বিপদে পড়েছিল তার জন্য কোন অন্ধকার থাকবে না| লোকরা অতীতে সবূলূন দেশ ও নপ্তালি দেশকে কোন গুরুত্বই দিত না| কিন্তু পরবর্তী-কালে সমুদ্রের নিকটবর্তী দেশ, য়র্দন নদীর অপর পারের দেশ এবং অ-ইহুদীদের মহকুমাটিকে ঈশ্বর খুব মহান করবেন|
2 এই সব দেশের লোক অন্ধকারে বাস করত| কিন্তু তারা মহা-আলোকটি দেখতে পাবে| ঐসব লোক কবরের মত অন্ধকার জায়গায় বাস করত| কিন্তু “মহা-আলোক” তাদের ওপর কিরণ দেবে|
3 হে ঈশ্বর, আপনিই জাতিটিকে বড় হতে দেবেন| আপনিই সেখানকার লোকদের সুখী করবেন| তারা আপনার উপস্থিতিতে যুদ্ধ জয়ের শেষে লুটের মাল ভাগের সময়কার আনন্দের মতো, ফসল তোলার সময়ের আনন্দের মতো সুখ ভোগ করবে|
4 কেননা আপনি তাদের ভারের বোঝা, তাদের কাঁধের বাঁক, শাস্তি দেওয়ার জন্য তাদের উপর ব্যবহৃত শএুদের দণ্ড সরিয়ে নেবেন| যেমন মিদিযনকে হারানোর পরে আপনি করেছিলেন|
5 যুদ্ধে দুর্বারভাবে এগিয়ে যাওয়া প্রতিটি বুট, যুদ্ধে সজ্জিত ব্যক্তির রক্তে রঞ্জিত সাজ-পোশাক আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হবে|
6 একটি বিশেষ শিশু জন্মগ্রহণ করার পরই এটা ঘটবে| ঈশ্বর আমাদের একটি পুত্র দেবেন| লোকদের নেতৃত্ব দেওয়ার ভার তার ওপর থাকবে| তার নাম হবে “আশ্চর্য়্য় মন্ত্রী, ক্ষমতাবান ঈশ্বর, চিরজীবি পিতা, শান্তির রাজকুমার|

”যিশাইয় 9:1,6

যীশুর স্নান

ব্রহ্মচর্যের সমাপ্তি প্রায়শই স্নান বা সমাবর্তনের দ্বারা উদযাপিত হয় I এটি সাধারণতঃ শিক্ষক এবং অতিথি সমূহের উপস্থিতিতে একটি বিধিগত স্নানের দ্বারা চিহ্নিত হয় I যীশু বাপ্তিস্মদাতা যোহনের মাধ্যমে সমাবর্তন উদযাপিত  করেছিলেন, যিনি বাপ্তিস্ম নামক একটি বিধি অনুসারে লোকেদের নদীতে স্নান  করাতেন I মার্কের সুসমাচার (বাইবেলের চারটি সুসমাচার সমূহের মধ্যে একটি) যীশুর স্নান দিয়ে আরম্ভ হয়: 

শ্বর পুত্র যীশু খ্রীষ্টের সুসমাচারের সুচনা:
2 ভাববাদী যিশাইয়র পুস্তকে য়েমন লেখা আছে, ‘শোন! আমি নিজের সহায়কে তোমার আগে পাঠাবো৷ সে তোমার জন্য পথ প্রস্তুত করবে৷’ মালাখি 3:1
3 ‘মরুপ্রান্তরে একজনের রব ঘোষণা করছে, ‘তোমরা প্রভুর জন্য পথ প্রস্তুত কর, তাঁর জন্য পথ সরল কর৷” যিশাইয় 40:3
4 তাই বাপ্তিস্মদাতা য়োহন এলেন, তিনি মরুপ্রান্তরে লোকদের বাপ্তাইজকরছিলেন৷ তিনি প্রচার করেছিলেন য়েন লোকেরা পাপের ক্ষমা পাবার জন্য মন-ফেরায় ও বাপ্তিস্ম নেয়৷
5 তাতে যিহূদিযা ও জেরুশালেমের সমস্ত মানুষ তাঁর কাছে য়েতে শুরু করল৷ তারা নিজের নিজের পাপ স্বীকার করে যর্দন নদীতে তাঁর কাছে বাপ্তাইজ হতে লাগল৷
6 য়োহন উটের লোমের তৈরী কাপড় পরতেন৷ তাঁর কোমরে চামড়ার কোমর বন্ধনী ছিল এবং তিনি পঙ্গপাল ও বনমধু খেতেন৷
7 তিনি প্রচার করতেন, ‘আমার পরে এমন একজন আসছেন, যিনি আমার থেকে শক্তিমান, আমি নীচু হয়ে তাঁর পায়ের জুতোর ফিতে খোলার য়োগ্য নই৷
8 আমি তোমাদের জলে বাপ্তাইজ করলাম কিন্তু তিনি তোমাদের পবিত্র আত্মায় বাপ্তাইজ করবেন৷’
9 সেই সময় যীশু গালীলের নাসরত্ থেকে এলেন আর য়োহন তাঁকে যর্দন নদীতে বাপ্তাইজ করলেন৷
10 জল থেকে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে তিনি দেখলেন, আকাশ দুভাগ হয়ে গেল এবং পবিত্র আত্মা কপোতের মতো তাঁর ওপর নেমে

আসছেন৷মার্ক 1:1-10

গৃহস্থী যীশু

সাধারণতঃ গৃহস্থ বা গৃহকর্তা, আশ্রম ব্রহ্মচর্য আশ্রমের পরে আসে, যদিও কতিপয় তপস্বী গৃহস্থ আশ্রমকে ছেড়ে দিয়ে সরাসরি (পরিত্যাগ) সন্যাসে চলে যান I যীশু কোনটাই করেন নি I তার অনন্য মিশনের কারণে তিনি পরবর্তী সময় পর্যন্ত গৃহস্থ স্থগিত রেখেছিলেন I পরবর্তী গৃহস্থ আশ্রমে তিনি এক বধু এবং সন্তানদের নেবেন তবে তা এক ভিন্ন প্রকৃতির I শারীরিক বিবাহ এবং সন্তানগণ তাঁর রহস্যময় বিবাহ এবং পরিবারের প্রতীকী I যেমন বাইবেল তার বধুর সম্বন্ধে ব্যাখ্যা করে:

 7 আইস, আমরা আনন্দ ও উল্লাস করি, এবং তাঁহাকে গৌরব প্রদান করি, কারণ মেষশাবকের বিবাহ উপস্থিত হইল, এবং তাঁহার ভার্য্যা আপনাকে প্রস্তুত করিল।

প্রকাশিত বাক্য 19:7

আব্রাহাম এবং মশির সাথে যীশুকেমেষ শাবক বলা হত I এই মেষ শাবক এক বধুকে বিবাহ করবে, তবে সে প্রস্তুত ছিল না যখন তিনি ব্রহ্মচর্য সমাপ্ত করেছিলেন I আসলে, তাকে প্রস্তুত করা তাঁর জীবনের মিশন ছিল I কেউ কেউ অনুমান করে যে গৃহস্থ স্থগিত করার কারণে, তিনি বিবাহের বিরুদ্ধে ছিলেন I তবে প্রথম যে কার্যকলাপে তিনি সন্ন্যাস হিসাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন তা একটি বিবাহ ছিল I    

বানপ্রস্থ রূপে যীশু

সন্তানদের জন্ম দিতে তাঁকে প্রথমে করতে হয়েছিল:

কেননা যাঁহার কারণ সকলই ও যাঁহার দ্বারা সকলই হইয়াছে, ইহা তাঁহার উপযুক্ত ছিল যে, তিনি অনেক পুত্রকে প্রতাপে আনয়ন সম্বন্ধে তাহাদের পরিত্রাণের আদিকর্ত্তাকে দুঃখভোগ দ্বারা সিদ্ধ করেন।

ইব্রীয় 2:10

‘তাদের পরিত্রাণের পথিকৃত’ যীশুকে বোঝায়, এবং সন্তানদের পূর্বে তাঁকে ‘দুঃখভোগের’ মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল I সুতরাং, তাঁর বাপ্তিস্মের স্নানের পরে তিনি সরাসরিভাবে বানপ্রস্থে (বন-বাসী) গিয়েছিলেন যেখানে তিনি প্রান্তরের মধ্যে প্রলোভনের কষ্টভোগের মধ্যে ছিলেন, বিস্তারিত এখানে:  

সন্যাসী যীশু

প্রান্তরের মধ্যে বানপ্রস্থের অব্যবহিত পরে, যীশু সমস্ত শারীরিক বন্ধন পরিত্যাগ করলেন এবং একজন আশ্চর্যজনক শিক্ষক হিসাবে তাঁর জীবন শুরু করলেন I যীশুর সন্ন্যাস আশ্রম অত্যন্ত সু-পরিচিত I সুসমাচার সমূহ তাঁর সন্ন্যাসকে এইবাবে বর্ণনা করে:  

23 যীশু গালীলের সব জায়গায় ঘুরে ঘুরে, ইহুদীদের সমাজ-গৃহে গিয়ে শিক্ষা দিতে লাগলেন এবং সকলের কাছে স্বর্গরাজ্যের বিষয়ে সুসমাচার প্রচার করতে লাগলেন৷ তিনি লোকদের মধ্যে নানারকম রোগ-ব্যাধি ভাল করতে

থাকলেন৷মথি 4:23

এই সময়ে তিনি বেশিরভাগ গ্রাম থেকে গ্রাম ভ্রমণ করতেন, এমনকি তার নিজস্ব হিব্রু/যিহূদি লোকেদেরও বাইরে I তিনি তাঁর সন্যাস জীবনকে এইভাবে বর্ণনা করেছিলেন:

18 যীশু যখন দেখলেন য়ে তাঁর চারপাশে অনেক লোক জড়ো হয়েছে, তখনহ্রদের ওপারে যাওয়ার জন্য অনুগামীদের আদেশ দিলেন৷
19 একজন ব্যবস্থার শিক্ষক তাঁর কাছে এসে বললেন, ‘গুরু, আপনি য়েখানে যাবেন আমিও সেখানে যাব৷’
20 তখন যীশু তাকে বললেন, ‘শিয়ালের গর্ত আছে এবং আকাশের পাখীদের বাসা আছে; কিন্তু মানবপুত্রের মাথা গোঁজার ঠাঁই

নেই৷’মথি 8:18:20

মনুষ্য পুত্র, তার থাকার কোনো জায়গা ছিল না, এবং যারা তাঁকে অনুসরণ করত তাদের একই সমান আশা করা উচিত I এছাড়াও সুসমাচারগুলো ব্যাখ্যা করে সন্ন্যাসের মধ্যে তাঁকে কিভাবে আর্থিকরূপে সাহায্য করা হত I   

রপর যীশু গ্রামে ও নগরে নগরে ঘুরে ঈশ্বরের রাজ্যের সুসমাচার প্রচার করতে লাগলেন; তাঁর সঙ্গে ছিলেন সেই বারোজন প্রেরিত৷
2 এমন কয়েকজন স্ত্রীলোকও তাঁর সঙ্গে ছিলেন, যাঁরা নানারকম রোগ ব্যাধি থেকে সুস্থ হয়েছিলেন ও অশুচি আত্মার কবল থেকে মুক্ত হয়েছিলেন৷ এঁদের মধ্যে ছিলেন মরিয়ম মগ্দলীনী, এর মধ্যে যীশু সাতটি মন্দ আত্মা দূর করে দিয়েছিলেন৷
3 রাজা হেরোদের বাড়ির অধ্যক্ষ কূষেরস্ত্রী শোশন্না ও আরো অনেক স্ত্রীলোক ছিলেন৷ যীশু ও তাঁর শিষ্যদের সেবা যত্নের জন্য এরা নিজেদের টাকা খরচ

করতেন৷লুক 8:1-3

সন্ন্যাস সাধারণতঃ একজন কর্মীর সাথে ঘুরে বেড়ানোর দ্বারা চিহ্নিত করা   হয় I যীশু তাঁর শিষ্যদের শিক্ষা দিয়েছেলেন যখন তিনি তাদেরকে তাঁকে অনুসরণ করতে গাইড করছিলেন I এইগুলো ছিল তাঁর নির্দেশ সমূহ:  

6 তারা য়ে তাঁর ওপর বিশ্বাস করল না, এতে তিনি আশ্চর্য হয়ে গেলেন৷ এর পরে তিনি চারদিকে গ্রামে গ্রামে ঘুরে শিক্ষা দিলেন৷
7 পরে তিনি সেই বারোজনকে ডেকে দুজন দুজন করে তাঁদের পাঠাতে শুরু করলেন এবং তাঁদের অশুচি আত্মার ওপরে ক্ষমতা দান করলেন৷
8 তিনি তাঁদের আদেশ দিলেন য়েন তাঁরা পথে চলবার জন্য একটা লাঠি ছাড়া আর কিছু সঙ্গে না নেয় এবং রুটি, থলে এমনকি কোমরবন্ধনীতে কোন টাকাপয়সা নিতেও বারণ করলেন৷
9 তবে বললেন, পায়ে জুতো পরবে কিন্তু কোন বাড়তি জামা নেবে না৷
10 তিনি আরও বললেন, তোমরা য়ে কোন শহরে য়ে বাড়িতে ঢুকবে, সেই শহর না ছাড়া পর্য়্ন্ত সেই বাড়িতে থে

কো৷মার্ক 6:6-10

যীশুর সন্ন্যাস আশ্রম ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় I এই সময় কালের মধ্যে তিনি হয়ে উঠলেন একজন গুরু যাঁর শিক্ষা সমূহ জগতকে প্রভাবিত করল, অনেক  শক্তিশালী লোকেদের (যেমন মহাত্মা গান্ধী), এবং এছাড়াও আপনাকে, আমাকে, এবং সকল লোকেদের স্পষ্ট করে জানিয়ে অন্তর্দৃষ্টি দিচ্ছেন I পরে আমরা তাঁর দেওয়া পথ নির্দেশ, শিক্ষা এবং জীবনের উপহারকে আমরা শিখব, কিন্তু প্রথমে যোহনের (একজন যিনি স্নান করাতেন) শিক্ষার দিকে দেখব

যীশু খ্রীষ্টের জন্ম: ঋষিদের দ্বারা ভবিষ্যদ্বাণী, দেবতার দ্বারা ঘোষণা এবং মন্দের দ্বারা ভীতিপ্রদর্শন

সম্ভবতঃ অত্যন্ত ব্যাপকভাবে উদযাপিত বিশ্বব্যাপী ছুটির দিন – খ্রীষ্টমাসের পেছনে যীশুর (যেশু সৎসংগ) জন্ম হ’ল কারণ I  যদিও অনেকে খ্রীষ্টমাস সম্বন্ধে জানে, তবুও অনেক কম সুসমাচারের থেকে যীশুর জন্মকে জানে I এই জন্ম কাহিনী সান্তা এবং উপহার সমূহ সহ আধুনিক খ্রীষ্টমাসের থেকে অনেক ভাল, আর তাই জানা মূল্যবান I    

বাইবেলের মধ্যে যীশুর জন্ম সম্বন্ধে জানার একটি কার্যকর উপায় হ’ল এটিকে কৃষ্ণের জন্মের সঙ্গে তুলনা করা যেহেতু এই দুইকাহিনীর মধ্যে অনেক সাদৃশ্য আছে I 

কৃষ্ণের জন্ম 

কৃষ্ণের জন্ম সম্বন্ধে বিভিন্ন শাস্ত্র ভিন্ন ভিন্ন বিবরণ দেয় I হরিবংশের মধ্যে, বিষ্ণুকে খবর দেওয়াস হয় যে অসুর কালনেমি দুষ্ট রাজা কংস রূপে পুনর্বার জন্মগ্রহণ  করেছে I কংসকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, বিষ্ণু বাসুদেব (একজন পূর্ববর্তী ঋষি এক রাখাল রূপে পুনর্জন্ম গ্রহণ করে) এবং তার স্ত্রী দেবকীর গৃহে কৃষ্ণ রূপে জন্ম গ্রহণ করতে অবতার নেন I   

পৃথিবীর উপরে কংস-কৃষ্ণ দ্বন্দ ভবিষ্যদ্বাণীর দ্বারা আরম্ভ হয়েছিল যখন আকাশ থেকে একটি কন্ঠস্বর কংসের কাছে ঘোষণা করল যে দেবকীর পুত্র কংসকে বধ করবে I তাই কংস দেবকীর সন্তান-সন্ততি সম্বন্ধে ভয়ভীত হ’ল এবং তাকে ও তার পরিবারকে কারারুদ্ধ করল, তার সন্তানদের হত্যা করল যেন তাদের জন্ম বিষ্ণুর অবতারকে আঘাত করতে লক্ষ্যচ্যুত না করে I  

যাইহোক, কৃষ্ণ দেবকীর কাছে জন্ম গ্রহণ করলেন এবং বৈষ্ণব ভক্তদের অনুসারে, তার জন্মের সাথে সাথে গ্রহগুলো তার জন্মের জন্য সামঞ্জস্য করায় সেখানে শান্তি ও সমৃদ্ধির পরিবেশ হ’ল I    

পুরান তারপরে কংসের দ্বারা ধ্বংস হওয়ার থেকে তার সদ্যজাতকে বাঁচাতে বাসুদেবের (কৃষ্ণের পার্থিব পিতা) পলাযনকে বর্ণনা করে I যেখানে তাকে ও দেবকীকে দুষ্ট রাজার দ্বারা আটকে রাখা হয়েছিল, সেই কারাগারকে পরিত্যাগ করে বাসুদেব একটি নদী পার হয়ে শিশুকে নিয়ে পলায়ন করল I একবার একটি গ্রামে নিরাপদ হওয়ার পরে শিশু কৃষ্ণকে একটি স্থানীয় বালিকা শিশুর সাথে অদল বদল করা হ’ল I কংস পরে অদল বদল করা বালিকাটিকে দেখল এবং তাকে হত্যা করল I শিশুদের অদল বদলের প্রতি বিস্মৃত হয়ে, নন্দ এবং যশোদা (শিশু বালিকার বাবা-মা) তাদের নিজস্ব নম্র রাখাল হিসাবে কৃষ্ণকে গড়ে তুলল I কৃষ্ণের জন্ম দিন কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী রূপে উদযাপিত হয় I

হিব্রু বেদ যীশুর জন্ম সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করে

যেমনভাবে কংসকে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল যে দেবকীর এক পুত্র তাকে বধ করবে ঠিক তেমনিভাবে হিব্রু ঋষিরা মসীহ/খ্রীষ্টের আগমনের বিষয়ে ভাববাণী পেয়েছিলেন I যাইহোক, এই ভাববাণীগুলো পাওয়া গিয়েছিল এবং যীশুর জন্মের কয়েক শত বছর পূর্বে অনেক ভাববাদীদের দ্বারা লেখা হয়েছিল I কালপঞ্জি হিব্রু বেদের অনেক ভাববাদীদের সংকেত দিতে দেখায় যখন তাদের ভাববাণীগুলো প্রকাশিত এবং লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল I তারা মৃত গুড়ির থেকে একটি অঙ্কুরের ন্যায় একজনের আগমনের সম্বন্ধে দূরদর্শন করেছিল এবং তার নাম ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল – যীশু I

ইতিহাসের মধ্যে যিশাইয় এবং অন্য হিব্রু ঋষিরা (ভাববাদী গণ) I যিশাইয়র প্রায় একই সময়ে মীখাকে নোট করুন 

যিশাইয় এই ব্যক্তির জন্মের প্রকৃতির বিষয়ে আর একটি উল্লেখযোগ্য ভাববাণী লিপিবদ্ধ করেছিলেন I যেমন লেখা আছে:

“অতএব প্রভু আপনি তোমাদিগকে এক চিহ্ন দিবেন; দেখ, এক ‘কন্যা’ গর্ভবতী হইয়া পুত্র প্রসব করিবে, ও তাঁহার নাম ‘ইম্মানূয়েল’ [আমাদের সহিত ঈশ্বর] রাখিবে I”

যিশাইয় 7:14

এটি প্রাচীন হিব্রুদের হতভম্ব করল I একজন কুমারী কিভাবে সন্তান পেতে পারে? এটি অসম্ভব ছিল I যাইহোক, ভাববাণী ভবিষ্যদ্বাণী করল এই পুত্র হবে ইম্মানুয়েল, মানে ‘আমাদের সাথে ঈশ্বর’ I সর্বোচ্চ ঈশ্বর যদি, যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, তিনিই জন্ম গ্রহণ করেন তাহলে এটি অনুমেয় I তাই ঋষিগণ এবং হিব্রু বেদের প্রতিলিপিকারী অধ্যাপকরা বেদের থেকে ভাববাণীটিকে অপসারণ করতে সাহস করল না, সেখানে এটি তার পরিপূর্ণতার অপেক্ষায় জন্য যুগ যুগ ধরে রয়ে গেল I     

যিশাইয় কুমারী জন্মের ভাববাণী দিলেন একই সময়ের আশেপাশে অন্য একজন ভাববাদী মীখা ভবিষ্যদ্বাণী করলেন:

“আর তুমি, হে ‘বৈৎলেহম’-ইফ্রাথা, তুমি যিহূদার সহস্রগণের মধ্যে ক্ষুদ্রা বলিয়া অগণিতা, তোমা হইতে ইস্রায়েলের মধ্যে কর্ত্তা হইবার জন্য আমার উদ্দেশে এক ব্যক্তি উৎপন্ন হইবেন; প্রাক্কাল হইতে, অনাদিকাল হইতে তাঁহার উৎপত্তি I”

মীখা 5:2

মহান রাজা দায়ূদের পৈত্রিক নগর বৈৎলেহেম থেকে, শাসক আসবেন যার উৎপত্তি ‘প্রাচীন কাল থেকে’ ছিল – তার শারীরিক জন্মের অনেক আগে থেকে I

যীশুর জন্ম – দেবতার দ্বারা ঘোষিত 

কয়েক শত বছর ধরে যিহূদি/হিব্রুরা এই ভাববাণীগুলো ঘটার জন্য অপেক্ষা করেছিলেন I অনেকে আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন, সেগুলো সম্বন্ধে ভুলে গিয়েছিলেন, তবে ভাববাণীগুলো আসন্ন দিনের প্রত্যাশায় চুপ করে রইল I অবশেষে, 5 খ্রীষ্টাব্দের আসে পাশে এক বিশেষ বার্তাবাহক এক যুবতী মহিলার কাছে এক হতবুদ্ধিকর বার্তা নিয়ে এলেন I কংস যেমন আকাশ থেকে একটি কন্ঠস্বর শুনল, স্ত্রীলোকটি স্বর্গ থেকে একজন বার্তাবাহক পেল, গ্যাব্রিয়েল নামক এক দেব বা স্বর্গদূত I সুসমাচার লিপিবদ্ধ করে:

26 ইলীশাবেত্ যখন ছমাসের গর্ভবতী, তখন ঈশ্বর গাব্রিয়েল, স্বর্গদূতকে গালীলে নাসরত্ নগরে এক কুমারীর কাছে পাঠালেন৷ এই কুমারী ছিলেন য়োষেফ নামে এক ব্যক্তির বাগদত্তা৷ য়োষেফ ছিলেন রাজা দাযূদের বংশধর, আর য়ে কুমারীর কাছে তাঁকে পাঠানো হয়েছিল তাঁর নাম মরিয়ম৷
27
28 গাব্রিয়েল মরিয়মের কাছে এসে বললেন, ‘তোমার মঙ্গল হোক্! প্রভু তোমার প্রতি মুখ তুলে চেয়েছেন, তিনি তোমার সঙ্গে আছেন৷’
29 এই কথা শুনে মরিয়ম খুবই বিচলিত ও অবাক হয়ে ভাবতে লাগলেন, ‘এ কেমন শুভেচ্ছা?’
30 স্বর্গদূত তাঁকে বললেন, ‘মরিয়ম তুমি ভয় পেও না, কারণ ঈশ্বর তোমার ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন৷
31 শোন! তুমি গর্ভবতী হবে আর তোমার এক পুত্র সন্তান হবে৷ তুমি তাঁর নাম রাখবে যীশু৷
32 তিনি হবেন মহান, তাঁকে পরমেশ্বরের পুত্র বলা হবে, আর প্রভু ঈশ্বর তাঁর পিতৃপুরুষ রাজা দাযূদের সিংহাসন তাঁকে দেবেন৷
33 তিনি যাকোবের বংশের লোকদের ওপরে চিরকাল রাজত্ব করবেন, তাঁর রাজত্বের কখনও শেষ হবে না৷’
34 তখন মরিয়ম স্বর্গদূতকে বললেন, ‘এ কেমন করে সন্ভব? কারণ আমি তো কুমারী!’
35 এর উত্তরে স্বর্গদূত বললেন, ‘পবিত্র আত্মাতোমার ওপর অধিষ্ঠান করবেন আর পরমেশ্বরের শক্তি তোমাকে আবৃত করবে; তাই য়ে পবিত্র শিশুটি জন্মগ্রহণ করবে তাঁকে ঈশ্বরের পুত্র বলা হবে৷
36 আর শোন, তোমার আত্মীযা ইলীশাবেত্ যদিও এখন অনেক বৃদ্ধা তবু সে গর্ভে পুত্রসন্তান ধারণ করছে৷ এই স্ত্রীলোকের বিষয়ে লোকে বলত য়ে তার কোন সন্তান হবে না, কিন্তু সে এখন ছমাসের গর্ভবতী৷
37 কারণ ঈশ্বরের পক্ষে কোন কিছুই অসাধ্য নয়!’
38 মরিয়ম বললেন, ‘আমি প্রভুর দাসী৷ আপনি যা বলেছেন আমার জীবনে তাই হোক্!’ এরপর স্বর্গদূত মরিয়মের কাছ থেকে চলে গেলেন৷

লুক 1:26-38

গ্যাব্রিয়েলের বার্তার 9 মাস পরে, ভাববাদী যিশাইয়র ভবিষ্যদ্বাণী পরিপূর্ণ করে যীশু কুমারী মরিয়মের কাছে জন্ম গ্রহণ করবেন I তবে মীখা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে জন্ম বেৎলেহেমে হবে, আর মরিয়ম নাসরতে বাস করতেন I মীখার ভবিষ্যদ্বাণী কি ব্যর্থ হবে? সুসমাচার চলতে থাকে:

ই সময় আগস্ত কৈসর হুকুম জারি করলেন য়ে, রোম সাম্রাজ্যের সব জায়গায় লোক গণনা করা হবে৷
এটাই হল সুরিযার রাজ্যপাল কুরীণিয়ের সময়ে প্রথম আদমশুমারি৷
আর প্রত্যেকে নিজের নিজের শহরে নাম লেখাবার জন্য গেল৷
য়োষেফ ছিলেন রাজা দাযূদের বংশধর, তাই তিনি গালীল প্রদেশের নাসরত্ থেকে রাজা দাযূদের বাসভূমি বৈত্‌লেহমে গেলেন৷
য়োষেফ তাঁর বাগ্দত্তা স্ত্রী মরিয়মকে সঙ্গে নিয়ে নাম লেখাতে চললেন৷ এই সময় মরিয়ম ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা৷
তাঁরা যখন সেখানে ছিলেন, তখন মরিয়মের প্রসব বেদনা উঠল৷
আর মরিয়ম তাঁর প্রথম সন্তান প্রসব করলেন৷ তিনি সদ্য়োজাত সেই শিশুকে কাপড়ের টুকরো দিয়ে জড়িয়ে একটি জাবনা খাবার পাত্রে শুইয়ে রাখলেন, কারণ ঐ নগরের অতিথিশালায় তাঁদের জন্য জায়গা ছিল না৷
সেখানে গ্রামের বাইরে মেষপালকেরা রাতে মাঠে তাদের মেষপাল পাহারা দিচ্ছিল৷
এমন সময় প্রভুর এক স্বর্গদূত তাদের সামনে উপস্থিত হলে প্রভুর মহিমা চারদিকে উজ্জ্বল হয়ে দেখা দিল৷ এই দেখে মেষপালকরা খুব ভয় পেয়ে গেল৷
10 সেই স্বর্গদূত তাদের বললেন, ‘ভয় নেই, দেখ আমি তোমাদের কাছে এক আনন্দের সংবাদ নিয়ে এসেছি৷ এই সংবাদ সকলের জন্য মহা আনন্দের হবে৷
11 কারণ রাজা দাযূদের নগরে আজ তোমাদের জন্য একজন ত্রাণকর্তার জন্ম হয়েছে৷ তিনি খ্রীষ্ট প্রভু৷
12 আর তোমাদের জন্য এই চিহ্ন রইল, তোমরা দেখবে একটি শিশুকে কাপড়ে জড়িয়ে একটা জাবনা খাবার পাত্রে শুইয়ে রাখা হয়েছে৷’
13 সেই সময় হঠাত্ স্বর্গীয় বাহিনীর এক বিরাট দল ঐ স্বর্গদূতদের সঙ্গে য়োগ দিয়ে ঈশ্বরের প্রশংসা করতে করতে বললেন,
14 ‘স্বর্গে ঈশ্বরের মহিমা, পৃথিবীতে তাঁর প্রীতির পাত্র মনুষ্যদের মধ্যে শান্তি৷’
15 স্বর্গদূতেরা তাদের কাছ থেকে স্বর্গে ফিরে গেলে মেষপালকরা পরস্পর বলাবলি করতে লাগল, ‘চল, আমরা বৈত্‌লেহমে যাই, প্রভু আমাদের য়ে ঘটনার কথা জানালেন সেখানে গিয়ে তা দেখি৷’
16 তারা সেখানে ছুটে গেলে মরিয়ম, য়োষেফ এবং সেই শিশুটিকে একটি জাবনা খাবার পাত্রে শোযানো দেখল৷
17 মেষপালকেরা শিশুটিকে দেখতে পেয়ে, সেই শিশুটির বিষয়ে তাদের যা বলা হয়েছিল সেকথা সকলকে জানাল৷
18 মেষপালকদের মুখে ঐ কথা যাঁরা শুনল তারা সকলে আশ্চর্য হয়ে গেল৷
19 কিন্তু মরিয়ম এই কথা মনের মধ্যে গেঁথে নিয়ে সব সময় এবিষয়ে চিন্তা করতে লাগলেন৷
20 এরপর মেষপালকরা তাদের কাছে যা বলা হয়েছিল সেই অনুসারে সব কিছু দেখে ও শুনে ঈশ্বরের প্রশংসা করতে করতে ঘরে ফিরে গেল৷

লুক 2:1-20

পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিমান ব্যক্তি, রোম সম্রাট স্বয়ং, একটি রাজকীয় আদেশ জারি করলেন যাতে মরিয়ম ও যোষেফকে নাসরত থেকে বেৎলেহেমে ভ্রমণ করতে হল, যীশুর জন্মের জন্য ঠিক সময়ে উপস্থিত হ’ল I মীখার ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ হ’ল I   

একজন নম্র রাখাল হিসাবে কৃষ্ণের মতন যীশু দীনতার মধ্যে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন – আস্তাবলের মধ্যে যেখানে গরু এবং অন্য প্রানীদের রাখা হত, এবং তিনি বিনম্র মেষ পালকদের দ্বারা পরিদর্শিত হলেন I তথাপি স্বর্গের স্বর্গদূত এবং দেবতা তখনও তার জন্মের বিষয়ে গান গেয়েছিলেন I  

মন্দের দ্বারা ভীতিপ্রদর্শন 

কৃষ্ণের জন্মের সময়ে তার জীবন রাজা কংসের থেকে বিপদাপন্ন হয়েছিল যে তার আগমনে হুমকি অনুভব করেছিল I অনুরূপভাবে, যীশুর জন্মের মুহুর্তে তাঁর জীবন স্থানীয় রাজা হেরোদের থেকে বিপদাপন্ন হয়েছিল I হেরোদ তার শাসনের প্রতি ভীতিপ্রদর্শনকারী অন্য আর কোনো রাজা (‘খ্রীষ্ট’ হ’ল যার অর্থ) চান নি I সুসমাচার ব্যাখা করে:

রোদ যখন রাজা ছিলেন, সেই সময় যিহূদিয়ার বৈত্‌লেহমে যীশুর জন্ম হয়৷ সেই সময় প্রাচ্য থেকে কয়েকজন পণ্ডিত জেরুশালেমে এসে যীশুর খোঁজ করতে লাগলেন৷
তাঁরা এসে জিজ্ঞেস করলেন, ‘ইহুদীদের য়ে নতুন রাজা জন্মেছেন তিনি কোথায়? কারণ পূর্ব দিকে আকাশে আমরা তাঁর তারা দেখে তাঁকে প্রণাম জানাতে এসেছি৷’
রাজা হেরোদ একথা শুনে খুব বিচলিত হলেন এবং তাঁর সঙ্গে জেরুশালেমের সব লোক বিচলিত হল৷
তখন তিনি ইহুদীদের মধ্যে যাঁরা প্রধান যাজক ও ব্যবস্থার শিক্ষক ছিলেন, তাঁদের ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, মশীহ (খ্রীষ্ট) কোথায় জন্মগ্রহণ করবেন?
তাঁরা হেরোদকে বললেন, ‘যিহূদিয়া প্রদেশের বৈত্‌লেহমে, কারণ ভাববাদী সেরকমই লিখে গেছেন:
‘আর তুমি যিহূদা প্রদেশের বৈত্‌লেহম, তুমি যিহূদার শাসনকর্তাদের চোখে কোন অংশে নগন্য নও, কারণ তোমার মধ্য থেকে একজন শাসনকর্তা উঠবেন যিনি আমার প্রজা ইস্রায়েলকে চরাবেন৷’
তখন হেরোদ সেই পণ্ডিতদের সঙ্গে একান্তে দেখা করার জন্য তাঁদের ডেকে পাঠালেন৷ তিনি তাঁদের কাছ থেকে জেনে নিলেন ঠিক কোন সময় তারাটা দেখা গিয়েছিল৷
এরপর হেরোদ তাদের বৈত্‌লেহমে পাঠিয়ে দিলেন আর বললেন, ‘দেখ, তোমরা সেখানে গিয়ে ভাল করে সেই শিশুর খোঁজ কর; আর খোঁজ পেলে, আমাকে জানিয়ে য়েও,. য়েন আমিও সেখানে গিয়ে তাঁকে প্রণাম করতে পারি৷’
তাঁরা রাজার কথা শুনে রওনা দিলেন৷ তাঁরা পূর্ব দিকে আকাশে য়ে তারাটা উঠতে দেখেছিলেন, সেটা তাঁদের আগে আগে চলল এবং শিশুটি য়েখানে ছিলেন তার ওপরে থামল৷
10 তাঁরা সেই তারাটি দেখে আনন্দে আত্মহারা হলেন৷
11 পরে সেই ঘরের মধ্যে ঢুকে শিশুটি ও তাঁর মা মরিয়মকে দেখতে পেয়ে তাঁরা মাথা নত করে তাঁকে প্রণাম করলেন ও তাঁর উপাসনা করলেন৷ তারপর তাঁদের উপহার সামগ্রী খুলে বের করে তাঁকে সোনা, সুগন্ধি গুগ্গুল ও সুগন্ধি নির্যাস উপহার দিলেন৷
12 এরপর ঈশ্বর স্বপ্নে তাঁদের সাবধান করে দিলেন য়েন তাঁরা হেরোদের কাছে ফিরে না যান, তাই তাঁরা অন্য পথে নিজেদের দেশে ফিরে গেলেন৷
13 তাঁরা চলে যাবার পর প্রভুর এক দূত স্বপ্নে য়োষেফকে দেখা দিয়ে বললেন, ‘ওঠো!’ শিশুটি ও তাঁর মাকে নিয়ে মিশরে পালিয়ে যাও৷ যতদিন না আমি তোমাদের বলি, তোমরা সেখানেই থেকো, কারণ এই শিশুটিকে মেরে ফেলার জন্য হেরোদ এর খোঁজ করবে৷’
14 তখন য়োষেফ উঠে সেই শিশু ও তাঁর মাকে নিয়ে রাতে মিশরে রওনা হলেন৷
15 আর হেরোদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত সেখানে থাকলেন৷ এরূপ ঘটল যাতে ভাববাদীর মাধ্যমে প্রভুর কথা সফল হয়; প্রভু বললেন, ‘আমি মিশর থেকে আমার পুত্রকে ডেকে আনলাম৷’
16 হেরোদ যখন দেখলেন য়ে সেই পণ্ডিতরা তাঁকে বোকা বানিয়েছে, তখন তিনি প্রচণ্ড ক্রুদ্ধ হলেন৷ তিনি সেই পণ্ডিতদের কাছ থেকে য়ে সময়ের কথা জেনেছিলেন, সেই হিসাব মতো দু’বছর ও তার কম বয়সের যত ছেলে বৈত্‌লেহম ও তার আশেপাশের অঞ্চলে ছিল, সকলকে হত্যা করার হুকুম দিলেন৷
17 এর ফলে ভাববাদী যিরমিয়র মাধ্যমে ঈশ্বর য়ে কথা বলেছিলেন তা পূর্ণ হল:
18 ‘রামায় একটা শব্দ শোনা গেল, কান্নার রোল ও তীব্র হাহাকার, রাহেল তাঁর সন্তানদের জন্য কাঁদছেন৷ তিনি কিছুতেই শান্ত হতে চাইছেন না, কারণ তারা কেউ আর বেঁচে নেই৷’

মথি 2:1-18

যীশু এবং কৃষ্ণের জন্মের মধ্যে অনেকটাই মিল রয়েছে I কৃষ্ণকে বিষ্ণুর অবতার রূপে স্মরণ করা হয় I লোগো হিসাবে, যীশুর জন্ম প্রথিবীর সৃষ্টিকর্তা সর্বোচ্চ ঈশ্বরের অবতার ছিল I উভয় জন্মের পূর্বে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল, স্বর্গীয় বার্তাবাহকদের ব্যবহার করা হয়েছিল, এবং মন্দ রাজাদের দ্বারা তাদের আগমনের বিরোধিতা করে হুমকি দেওয়া হয়েছিল I

কিন্তু যীশুর জন্মের পিছনে উদ্দেশ্য কি ছিল? কেন তিনি এসেছিলেন? মানব ইতিহাসের শুরু থেকে, সর্বোচ্চ ঈশ্বর ঘোষণা করেছিলেন তিনি আমাদের গভীরতম প্রয়োজনগুলো পুরণ করবেন I কৃষ্ণ যেমন কালনেমিকে ধ্বংস করতে এসেছিলেন, যীশু তার শত্রুকে ধ্বংস করতে এসেছিলেন, যে আমাদের বন্দী করে রেখেছে I সুসমাচারগুলোর মধ্যে প্রকাশিত যীশুর জীবনকে আমাদের অন্বেষণ করতে থাকার সাথে সাথে আমরা শিখি কিভাবে এটি উদঘাটিত হয়, এবং আজকে আমাদের জন্য এর অর্থ কি I

ব্রহ্মান ও আত্মাকে বুঝতে লোগোর অবতার

ভগবান ব্রহ্মা মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তাকে সনাক্তকারী একটি সাধারণ নাম I প্রাচীন ঋগ্বেদে   (1500 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) প্রজাপতিকে  সাধারণতঃ সৃষ্টিকর্তার জন্য ব্যবহার করা হত তবে পুরাণগুলোর মধ্যে ভগবান ব্রহ্মার সাথে এটিকে বদলে দেওয়া হয়েছিল I আজকের ব্যবহারে, সৃষ্টিকর্তা রূপে ভগবান ব্রহ্মা, বিষ্ণু (সংরক্ষণকারী), এবং শিব (ধ্বংস কারী) সহ ঐশ্বরিক ত্রিমূর্তির (ত্রি-তত্ত্ব ঈশ্বর) তিনটি দিকের একটি I ঈশ্বর (ঈশ্বরা) ব্রহ্মার সাথে সমার্থক কারণ এটি সেই উচ্চ আত্মাকে বোঝায় যা সৃষ্টিকে সৃষ্টি করেছিল I        

যদিও ব্রহ্মাকে বোঝার জন্য এটি একটি প্রাথমিক লক্ষ্য, বাস্তবে এটি অধরা I ভক্তি এবং পূজার দিক দিয়ে শিব ও বিষ্ণু, তাদের স্ত্রী এবং অবতার সহ ভগবান ব্রহ্মার চেয়ে অধিক বেশি মনোযোগ পান I আমরা শীঘ্রই শিব ও বিষ্ণুর জন্য অবতার এবং স্ত্রীদের জন্য নাম দিতে পারি, তবে ব্রহ্মার জন্য আমরা এলো মেলো কথা বলি I     

কেন?

ব্রহ্মা, ব্রহ্মান বা ঈশ্বর, যদিও সৃষ্টিকর্তা, আমাদের থেকে সুদুর-অপসারিত এবং দুর্গম বলে মনে হয় যারা পাপ সমূহ, অন্ধকার এবং অস্থায়ীর প্রতি আসক্তির সাথে সংঘর্ষ করে I যদিও ব্রহ্মা সমস্ত কিছুর উৎস, এবং এই উৎসের কাছে আমাদের ফিরে যাওয়ার দরকার, এই স্বর্গীয় নীতিকে উপলব্ধি করা অনধিগম্য বলে মনে হয় I অতএব আমরা সাধারণতঃ আমাদের ভক্তিকে দেবতাদের উপরে ফোকাস করি যারা  অধিক মানবীয় এবং নিকটস্থ মনে হয় এবং আমাদের কাছে সাড়া দিতে পারে I ব্রহ্মানের স্বরূপের উপরে আমরা একটি দূরত্ব থেকে জল্পনা করতে পারি I বাস্তবে ব্রহ্মা একজন অচেনা ঈশ্বর সাথে ব্রহ্মার মূর্তি অপেক্ষাকৃতভাবে বিরল I     

সেই জল্পনার অংশ ঐশ্বরিক (ব্রহ্মান) এর সাথে প্রাণের (সেই আত্মান) সম্পর্কের চারিপাশে ঘোরে I এই প্রশ্নের উপরে কয়েকজন ঋষি বিভিন্ন দর্শন উত্থাপন করেছেন I এই অর্থে, মনোবিদ্যা এর অধ্যয়ন, আমাদের প্রাণ বা আত্মান, ধর্মবিদ্যা, ঈশ্বর বা ব্রহ্মান এর অধ্যয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত হয় I যদিও বিভিন্ন চিন্তাধারা বিদ্যমান, যেহেতু আমরা এক বৈজ্ঞানিক উপায়ে ঈশ্বরকে পরীক্ষা করতে পারি না, এবং যেহেতু ঈশ্বর দূরবর্তী, সেইহেতু বিজ্ঞতম দর্শনগুলোর বেশিরভাগই অন্ধকারের মধ্যে একটি হাতড়ানো হয় I        

দূরবর্তী স্বর্গীয় সৃষ্টিকর্তার সংগে সংযোগের অক্ষমতাকে বিস্তৃত প্রাচীন জগতে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল I প্রাচীন গ্রীকরা জগতের উৎপত্তির সম্বন্ধে নীতিমালা এবং কারণ সমূহকে বর্ণনা করতে লোগো পরিভাষাটিকে ব্যবহার করেছিলেন এবং তাদের লেখাগুলো লোগোস সম্বন্ধে আলোচনা করেছিল I যুক্তিবিদ্যা শব্দটি লোগো থেকে উদ্ভূত, প্রত্যয়ের সাথে – বিদ্যা (উদা: ধর্মবিদ্যা, মনোবিদ্যা, জীববিদ্যা ইত্যাদি) অধ্যয়নের সমস্ত শাখা সমূহ লোগো থেকে উদ্ভূত I লোগো ব্রহ্মা বা সেই ব্রহ্মানের সঙ্গে সমতুল্য I

হিব্রু বেদ, হিব্রুদের (বা যিহূদিরা) সঙ্গে তাদের জাতির পূর্বসুরী শ্রী আব্রাহামের সাথে আরম্ভ হওয়া দশ আজ্ঞা প্রাপ্ত মশি পর্যন্ত সৃষ্টিকর্তার আচরণের বর্ণনা করেছে I তাদের ইতিহাসে, আমাদের ন্যায়, হিব্রুরা অনুভব করেছিল সৃষ্টিকর্তা তাদের থেকে অপসারিত হয়েছেন আর তাই তাদেরকে অন্য দেবতাদের আরাধনা করতে টেনে আনা হয়েছে, যাদেরকে অন্তরঙ্গ এবং ব্যক্তিগত বলে মনে হয় I তাই হিব্রু বেদ সৃষ্টিকর্তাকে এই অন্যান্য দেবতাদের থেকে আলাদা করতে প্রায়শই সর্বোচ্চ ঈশ্বর বলে অবহিত করেছে I আমরা অনুমান করেছিলাম যে প্রজাপতি থেকে ব্রহ্মার উত্তরণ প্রায় 700 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে ভারতবর্ষে নির্বাসনের মধ্যে ইস্রায়েলীযদের আগমনের দ্বারা সহজতর হয়েছিল, যেহেতু এই ঈশ্বরকে তাদের পূর্বসুরী আব্রাহামের দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছিল এবং তার সাথে যুক্ত ঈশ্বর হয়েছিলেন (আ) ব্রহ্মা I

যেহেতু আমরা আমাদের ইন্দ্রিয় সমূহ দিয়ে ব্রহ্মা কে দেখতে পারি না, নাতো আত্মার স্বরূপকে উপলব্ধি করতে পারি, তাই ঈশ্বর ব্রহ্মান আমাদের মনের সাথে একা থাকুন, নিশ্চিত জ্ঞান অর্জনের একমাত্র উপায় ব্রহ্মা কে স্বয়ং আমাদের কাছে প্রকাশ করা I

সুসমাচার সমূহ যীশুকে (যেশু সৎসংগ) সৃষ্টিকর্তার অবতার রূপে বা সর্বোচ্চ ঈশ্বর, ব্রহ্মা বা লোগো রূপে উপস্থাপন করেছে I সময় ও সংস্কৃতি জুড়ে সমস্ত লোকেদের দ্বারা অনুভূত এই সীমাবদ্ধতাগুলোর কারণে তিনি আমাদের জগতে এসেছিলেন I যোহনের সুসমাচার এইভাবেই যীশুর পরিচয় করিয়ে দেয় I যেখানে আমরা শব্দটি পড়ি তা একই লোগো যাকে মূল গ্রীক পাঠ্য থেকে অনুবাদিত করা হয়েছিল I শব্দ/লোগো ব্যবহৃত হয়েছিল যাতে আমরা বুঝব যে একটি জাতীয় দেবতার সম্বন্ধে আলোচনা করা হচ্ছে না, বরং নীতি বা কারণ যার থেকে সকলে উদ্ভূত হয়েছে I যেখানেই শব্দটিকে দেখা যাক না কেন আপনি ব্রহ্মান এর সঙ্গে এটিকে বদলাতে পারেন এবং এই পাঠ্যটির বার্তা বদলাবে না I

দিতে বাক্যছিলেন, বাক্য ঈশ্বরের সঙ্গে ছিলেন আর সেই বাক্যই ঈশ্বর ছিলেন৷
সেই বাক্য আদিতে ঈশ্বরের সঙ্গে ছিলেন৷
তাঁর মাধ্যমেই সব কিছুর সৃষ্টি হয়েছিল এবং এর মধ্যে তাঁকে ছাড়া কোন কিছুরই সৃষ্টি হয় নি৷
তাঁর মধ্যে জীবন ছিল; আর সেই জীবন জগতের মানুষের কাছে আলো নিয়ে এল৷
সেই আলো অন্ধকারের মাঝে উজ্জ্বল হয়ে উঠল; আর অন্ধকার সেই আলোকে জয় করতে পারে নি৷
একজন লোক এলেন তাঁর নাম য়োহন; ঈশ্বর তাঁকে পাঠিয়েছিলেন৷
তিনি সেই আলোর বিষয়ে সাক্ষ্য দেবার জন্য সাক্ষী রূপে এলেন; যাতে তাঁর মাধ্যমে সকল লোক সেই আলোর কথা শুনে বিশ্বাস করতে পারে৷
য়োহন নিজে সেই আলো ছিলেন না; কিন্তু তিনি এসেছিলেন যাতে লোকদের কাছে সেই আলোর বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে পারেন৷
প্রকৃত য়ে আলো, তা সকল মানুষকে আলোকিত করতে পৃথিবীতে আসছিলেন৷
10 সেই বাক্য জগতে ছিল এবং এই জগত তাঁর দ্বারাই সৃষ্ট হয়েছিল; কিন্তু জগত তাঁকে চিনতে পারে নি৷
11 য়ে জগত তাঁর নিজস্ব সেখানে তিনি এলেন, কিন্তু তাঁর নিজের লোকেরাই তাঁকে গ্রহণ করল না৷
12 কিন্তু কিছু লোক তাঁকে গ্রহণ করল এবং তাঁকে বিশ্বাস করল৷ যাঁরা বিশ্বাস করল তাদের সকলকে তিনি ঈশ্বরের সন্তান হবার অধিকার দান করলেন৷
13 ঈশ্বরের এই সন্তানরা প্রাকৃতিক নিয়ম অনুসারে কোন শিশুর মতো জন্ম গ্রহণ করে নি৷ মা-বাবার দৈহিক কামনা-বাসনা অনুসারেও নয়, ঈশ্বরের কাছ থেকেই তাদের এই জন্ম৷
14 বাক্য মানুষের রূপ ধারণ করলেন এবং আমাদের মধ্যে বসবাস করতে লাগলেন৷ পিতা ঈশ্বরের একমাত্র পুত্র হিসাবে তাঁর য়ে মহিমা, সেই মহিমা আমরা দেখেছি৷ সে বাক্য অনুগ্রহ ও সত্যে পরিপূর্ণ ছিলেন৷
15 য়োহন তাঁর সম্পর্কে মানুষকে বললেন, ‘ইনিই তিনি য়াঁর সম্বন্ধে আমি বলেছি৷ ‘যিনি আমার পরে আসছেন, তিনি আমার থেকে মহান, কারণ তিনি আমার অনেক আগে থেকেই আছেন৷”
16 সেই বাক্য অনুগ্রহ ও সত্যে পূর্ণ ছিলেন৷ আমরা সকলে তাঁর থেকে অনুগ্রহের ওপর অনুগ্রহ পেয়েছি৷
17 কারণ মোশির মাধ্যমে বিধি-ব্যবস্থা দেওযা হয়েছিল, কিন্তু অনুগ্রহ ও সত্যের পথ যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে এসেছে৷
18 ঈশ্বরকে কেউ কখনও দেখেনি; কিন্তু একমাত্র পুত্র, যিনি পিতার কাছে থাকেন, তিনিই তাঁকে প্রকাশ করেছেন৷

যোহন 1:1-18

সুসমাচার সমূহ যীশুর একটি সম্পূর্ণ বিবরণ চিত্রিত করতে অগ্রসর হয় যাতে আমরা বুঝতে পারি তিনি কে, তাঁর মিশন কি, আমাদের জন্য এর অর্থ কি I (‘যোহনকে এখানে ব্যাখ্যা করা হয় I) যেহেতু ঈশ্বরের লোগো রূপে যীশুকে পরিচিত করা হয় আমরা জানি এটিকে কেবলমাত্র খ্রীষ্টানদের জন্য লেখা হয় নি বরং সকলের কাছে একটি সার্বজনীন লেখা যারা ঈশ্বর, বা ব্রহ্মানকে বুঝতে চায়, আরও স্পষ্টভাবে এবং এছাড়াও নিজেদেরকে ভালো করে বুঝতে পারে I যেহেতু লোগো কে বিশেষ পরিভাষা ধর্মবিদ্যাএবং মনোবিদ্যায় নিহিত করা হয় এবং যেহেতু ‘কেউ ঈশ্বরকে কখনও দেখেনি’ সেইহেতু আমাদের প্রাণ (আত্মা) এবং ঈশ্বরকে (ব্রহ্মান) বুঝতে যীশুর ব্যক্তিত্বকে বিবেচনা করার চেয়ে আর ভাল উপায় কি হতে পারে? তিনি বাস করলেন, হাঁটলেন এবং যাচাইযোগ্য ইতিহাসের মধ্যে শিক্ষা দিলেন I আমরা তাঁর জন্ম দিয়ে আরম্ভ করি, সুসমাচার সমূহের মধ্যে নথিভুক্ত সেই ঘটনা হিসাবে যার দ্বারা ‘বাক্য দেহে পরিণত হ’ল’ I

অবর্ণ থেকে বর্ণর জন্য: পুরুষটি সকল লোকেদের জন্য আসছেন

পুরুষসুক্তর প্রারম্ভে ঋগ্বেদের মধ্যে বেদ আসন্ন ব্যক্তির সমন্ধে পূর্বাভাষ   দিয়েছিল I তারপরে আমরা হিব্রু বেদের সঙ্গে চালিয়ে গেলাম, যা পরামর্শ দেয় যে সংস্কৃত এবং হিব্রু বেদ (বাইবেল) উভয়ই যেশু সৎসঙ্গের (নাসরতের যীশু) দ্বারা পূর্ণ হয়েছিল I

তাহলে যীশু কি ভবিষ্যদ্বাণী করা পুরুষ বা খ্রীষ্ট ছিলেন? তার আগমন কি কেবল একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য ছিল, বা সকলের জন্য – বর্ণ থেকে অবর্ণ, সমস্ত জাতি সহ?

পুরুষসুক্তর মধ্যে জাতি (বর্ণ) 

পুরুষ সম্বন্ধে পুরুষসুক্ত বলল যে:

পুরুষসুক্ত পদ 11-12 – সংস্কৃতসংস্কৃত ট্রান্সলিটারেশনবাংলা অনুবাদ
यत पुरुषं वयदधुः कतिधा वयकल्पयन |
मुखं किमस्य कौ बाहू का ऊरू पादा उच्येते ||
बराह्मणो.अस्य मुखमासीद बाहू राजन्यः कर्तः |
ऊरूतदस्य यद वैश्यः पद्भ्यां शूद्रो अजायत ||
11 yat puruṣaṃ vyadadhuḥ katidhā vyakalpayan |
mukhaṃ kimasya kau bāhū kā ūrū pādā ucyete ||
12 brāhmaṇo.asya mukhamāsīd bāhū rājanyaḥ kṛtaḥ |
ūrūtadasya yad vaiśyaḥ padbhyāṃ śūdro ajāyata
11 পুরুষকে বিভাজন করার সময়ে তারা কতগুলো অংশ করল? তারা তার মুখ, তার বাহুকে কি বলে? তার তার জঙ্ঘা এবং চরণকে কি বলে?
12 ব্রাহ্মণই ছিল তার মুখ, তার উভয় বাহু রাজন্যতে তৈরী ছিল I 
তার জঙ্ঘা হ’ল বৈশ্য, তার চরণ থেকে শুদ্র উৎপন্ন হল I

সংস্কৃত বেদের মধ্যে জাতি সমূহ বা বর্ণের সম্বন্ধে এটি সব থেকে প্রথম দিকের উল্লেখ I এটি পুরুষের শরীরকে বিচ্ছিন্ন করার সাথে সাথে চার জাতি সমূহকে  বর্ণনা করে: তার মুখ থেকে ব্রাহ্মিণ জাত/বর্ণ, তার বাহু থেকে রাজন্য (আজকের দিনে ক্ষত্রিয় জাত/বর্ণ বলে পরিচিত), তার জঙ্ঘা থেকে বৈশ্য, এবং তার চরণ থেকে শুদ্র I পুরুষ হতে গেলে যীশুর পক্ষে তাকে অবশ্যই প্রত্যেককে প্রতিনিধিত্ব করা উচিত I

তিনি কি করেন?

ব্রাহ্মিণ এবং ক্ষত্রিয় রূপে যীশু 

আমরা দেখলাম যে ‘খ্রীষ্ট’ একটি প্রাচীন হিব্রু উপাধি যার মানে ‘শাসক’ – শাসকদের শাসক I ‘খ্রীষ্ট’ হিসাবে, যীশু সম্পূর্ণরূপে ক্ষত্রিয়ের সাথে চিহ্নিত হয় এবং প্রতিনিধিত্ব করে I এছাড়াও যাজক রূপে আসতে আমরা দেখলাম যে  ‘শাখা’ হিসাবে যীশুকে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল, তাই তিনি সম্পূর্ণরূপে ব্রাহ্মিণের সঙ্গে চিহ্নিত হন এবং প্রতিনিধিত্ব করেন I প্রকৃতপক্ষে, হিব্রু ভবিষ্যদ্বাণী ইঙ্গিত দিয়েছিল যে একজন ব্যক্তির মধ্যে তিনি যাজক এবং রাজার দুই ভূমিকাকে ঐক্যবদ্ধ করবেন I

13 তিনি প্রভুর মন্দির গাঁথবেন ও সম্মান গ্রহণ করবেন| তিনি সিংহাসনে বসে শাসন করবেন| আর একজন যাজক তার সিংহাসনের পাশে দাঁড়াবে| এই দুই জন একসাথে শান্তিতে কাজ করবে|

সখরিয় 6:13

বৈশ্য হিসাবে যীশু 

এছাড়াও হিব্রু ঋষি/ভাববাদীরা ভবিষ্যদ্বাণী করলেন যে আসন্ন একজন, বণিকের  মতন ব্যবসায়ী হবেন I তারা ভবিষ্যদ্বাণী করলেন:

কারণ আমি, প্রভু তোমার ঈশ্বর| আমি ইস্রায়েলের পবিত্রতম তোমার রক্ষাকর্তা| আমি তোমার জন্য মূল্য দিতে মিশরকে দিয়েছিলাম| আমি তোমাকে আমার করতে কূশ ও সবা দিয়েছিলাম|

যিশাইয় 43:3

আসন্ন একজনের সঙ্গে ঈশ্বর ভবিষ্যদ্বাণীপূর্ণভাবে কথা বলছেন, বলেন যে তিনি  জিনিসের ব্যবসা করবেন না বরং তিনি লোকেদের জন্য ব্যবসা করবেন তার জীবনের বিনিময়ে I তাই আসন্ন একজন লোকেদের মুক্ত করার ব্যবসায়ে,  একজন বণিক হবেন I একজন বণিক হিসাবে তিনি বৈশ্যর সঙ্গে চিহ্নিত হন এবং প্রতিনিধিত্ব করেন I

শুদ্র – দাস 

এছাড়াও ঋষি/ভাববাদীরা একজন দাস হিসাবে তার আসন্ন ভূমিকা সম্বন্ধে অত্যন্ত বিস্তৃতভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন I আমরা দেখলাম কিভাবে ভাববাদীরা ভবিষ্যদ্বাণী করলেন যে শাখাটি একজন দাস হবে যার সেবা হবে পাপকে অপসারণ করা:

ওহে মহাযাজক যিহোশূয় এবং তোমার সামনে য়ে মহাযাজকেরা বসে আছে, সবাই দয়া করে শোন| অদূর ভবিষ্যতে আমার বিশেষ দাসকে যখন আমি আনব তখন কি ঘটবে তা দেখাবার জন্য এই লোকেরা তার উদাহরণস্বরূপ| তাকে ‘শাখা’ এই নামে ডাকা হয়|
দেখ, আমি যিহোশূয়র সামনে একটা বিশেষ ধরণের পাথর রাখছি| ঐ পাথরটার সাতটা দিক রয়েছে| আমি একটি বিশেষ বার্তা তাতে খোদাই করব| এটাই দেখাবে য়ে আমি একদিনে এই দেশের প্রতিটি পাপ দূর করব|”

সখরিয় 3:8-9

আসন্ন শাখাটি, যিনি যাজক, শাসক,এবং বণিক ছিলেন, এছাড়াও একজন দাস – শুদ্র ছিলেন I যিশাইয় তার দাসের (শুদ্র) ভূমিকা সম্বন্ধে অত্যন্ত বিস্তৃতভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন I তার ভবিষ্যদ্বাণীতে ঈশ্বর সমস্ত ‘দূরবর্তী’ জাতি সমূহ (অর্থাৎ আমাদের!) এই শুদ্রর সেবাতে মনোযোগ দিতে পরামর্শ দেন I

রবর্তী স্থানের সব লোকরা আমার কথা শোন| পৃথিবীবাসী সবাই আমার কথা শোন! আমি জন্মাবার আগেই প্রভু আমাকে তাঁর সেবা করতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন| আমি মাতৃজঠরে থাকার সময়েই প্রভু আমার নাম ধরে ডাক দেন|
প্রভু আমাকে তাঁর কথা বলতে ব্যবহার করেন! তিনি আমার মুখকে ধারালো তরবারির মতো তৈরী করেছেন| তিনি আমাকে নিজের হাতে লুকিয়ে রেখে আমাকে রক্ষাও করেছেন| প্রভু আমাকে একটি ধারালো তীরের মতো ব্যবহার করলেও, তিনি আমাকে তাঁর তীরের থলিতে লুকিয়ে রাখেন|
প্রভু আমাকে বললেন, “ইস্রায়েল তুমি আমার ভৃত্য! তোমার জন্য আমি যা করি তার জন্য আমি সম্মানিত হব|”
আমি বললাম, “আমি কঠোর পরিশ্রম করেছি| আমি নিজেকে ক্ষয় করেছি, কিন্তু কোন প্রযো-জনীয কাজ করি নি| আমি আমার সমস্ত শক্তি ব্যয করেছি| কিন্তু আমি সত্যিকারের কিছুই করতে পারিনি| তাই প্রভুকেই ঠিক করতে হবে| তিনি আমাকে নিয়ে কি করবেন| ঈশ্বরই আমার পুরস্কারের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন|
প্রভু আমাকে আমার মাতৃগর্ভে সৃষ্টি করেছেন, যাতে আমি তাঁর দাস হতে পারি এবং যাকোব ও ইস্রায়েলকে পথ প্রদর্শন করে তাঁর কাছে ফিরিয়ে আনতে পারি| প্রভু আমাকে সম্মান দেবেন| ঈশ্বরের কাছ থেকে আমি আমার শক্তি পাব|”প্রভু আমাকে বলেন,
“তুমি আমার খুবই গুরুত্বপূর্ণ দাস| ইস্রায়েলের লোকরা এখন বন্দী| কিন্তু তাদের আমার কাছে আনা হবে| যাকোবের পরিবারগোষ্ঠী আমার কাছেই ফিরে আসবে| কিন্তু তোমার অন্য কাজ আছে, এর থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেই কাজ! আমি তোমাকে সমস্ত জাতির আলো হিসেবে তৈরি করব| বিশ্ববাসীকে রক্ষা করতে তুমিই হবে আমার পথ|”

যিশাইয় 49:1-6

যদিও হিব্রু/যিহূদি জাতি থেকে আসছেন, এটি ভবিষ্যদ্বাণী করল যে এই দাসের সেবা ‘পৃথিবীর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছবে’ I যেমন ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল  যীশুর সেবা বাস্তবিকই পৃথিবীর উপরে সমস্ত জাতিকে স্পর্শ করেছে I দাস হিসাবে, যীশু সম্পূর্ণরূপে সমস্ত শুদ্রর সঙ্গে চিহ্নিত হন এবং প্রতিনিধিত্ব   করলেন I 

এছাড়াও অবর্ণ …

সমস্ত লোকদের জন্য মধ্যস্ততা করতে এছাড়াও যীশুকে অবর্ণ বা তফসিলি জাতি, উপজাতি এবং দলিতদের প্রতিনিধিত্ব করতে হয় I কিভাবে তিনি করবেন? হিব্রু বেদ ভবিষ্যদ্বাণী করল যে তাকে সম্পূর্নভাবে ভগ্ন এবং তুচ্ছ করা হবে, অবর্ণ হিসাবে আমাদের মধ্যে বাকিদের দ্বারা যেমন দেখা হয় I

কি উপায়ে?

এখানে কিছু ব্যাখ্যা সন্নিবেশ করা সহ সম্পূর্ন ভবিষ্যদ্বাণীটি রয়েছে I লক্ষ্য করুন যে এটি ‘তিনি’ এবং ‘তাঁকে’ এর সম্বন্ধে কথা বলেন তাই এটি একজন আসন্ন পুরুষের ভবিষ্যদ্বাণী করে I যেহেতু ভবিষ্যদ্বাণীটি ‘অঙ্কুর’ এর চিত্র ব্যবহার করে আমরা জানি এটি শাখাটিকে বোঝাচ্ছে যিনি যাজক এবং শাসক ছিলেন I তবে বর্ণনাটি অবর্ণ সম্বন্ধে I

আসন্ন তুচ্ছ একজন 

সত্যিই বিশ্বাস করেছিল, আমাদের ঘোষণার কথা? কে সত্যি সত্যিই গ্রহণ করেছিল প্রভুর শাস্তি?
সে প্রভুর সামনে, ছোট গাছের মতে বড় হতে লাগল| সে ছিল শুকনো জমিতে গাছের শিকড়ের বড় হওয়ার মতো| তাকে দেখতে বিশেষ কিছু লাগত না| তার কোন বিশেষ মহিমা ছিল না| যদি আমরা তার দিকে তাকাতাম তবে তাকে ভালো লাগার মত বিশেষ কিছুই চোখে পড়ত না|
লোকে তাকে ঘৃণা করেছিল, তার বন্ধুরা তাকে ত্যাগ করেছিল| তার প্রচুর দুঃখ ছিল| অসুস্থতার বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা ছিল| লোকরা তার কাছ থেকে লুকিয়ে থাকত| আমরা তাকে ঘৃণা করতাম| আমরা তার কথা চিন্তাও করিনি|

যিশাইয় 53:1-3

যদিও ‘অঙ্কুরটি’ ঈশ্বরের সামনে (অর্থাৎ বট বৃক্ষের শাখা), এই পুরুষটি সম্পূর্ন কষ্টভোগ সহ ‘তুচ্ছ’ এবং ‘প্রত্যাখ্যাত’ হবে এবং অন্যদের ‘দ্বারা কম সম্মানে রাখা’ হবে I তাকে আক্ষরিকভাবে অস্পৃশ্য রূপে গন্য করা হবে I এই আসন্ন একজন তখন তাদের প্রতিনিধিত্ব করতে সক্ষম হয় যারা অস্পৃশ্যদের মতন ততটাই ভগ্ন যতটা তফসিলি উপজাতি (বনবাসী) এবং পিছড়া জাতি সমূহ – দলিতরা I

কিন্তু সে আমাদের অসুখগুলোকে বয়ে বেড়িযে-ছিল| সে আমাদের যন্ত্রণা ভোগ করেছিল| এবং আমরা মনে করেছিলাম ঈশ্বর তাকে শাস্তি দিচ্ছেন| তার কোন কৃতকর্মের জন্য ঈশ্বর তাকে শাস্তি দিচ্ছেন বলে আমরা মনে করেছিলাম|
কিন্তু আমাদেরই ভুল কাজের জন্য তাকে আহত হতে হয়েছিল| আমাদের পাপের জন্য সে ক্ষত-বিক্ষত হয়েছিল| আমাদের কাঙ্খিত শাস্তি সে পেয়েছিল| তার আঘাতের জন্য আমাদের আঘাত সেরে উঠেছিল|

যিশাইয় 53:4-5

আমরা মাঝে মাঝে অন্যদের দুর্ভাগ্যের বিচার করি, বা তাদের দিকে দেখি যারা সমাজের মধ্যে নিচুতলার অবস্থায় আছে, তাদের পাপের ফলস্বরূপ, বা কর্মের কারণে I অনুরূপভাবে, এই পুরুষটির দুর্দশা এত দুর্দান্ত হবে যে আমরা অনুমান করি তিনি ঈশ্বরের দ্বারা শাস্তি পাচ্ছেন I এইজন্যে তিনি তুচ্ছ হবেন I তবে তিনি তা নিজের পাপের জন্য শাস্তি পাবেন না – বরং আমাদের পাপের জন্য I তিনি আমাদের নিরাময় এবং শান্তির জন্য এক ভয়াভয় বোঝা বহন করবেন I  

এটিকে নাসরতের যীশুর ক্রুশারোপনের মধ্যে পরিপূর্ণ করা হয়েছিল, যাকে ক্রুশের উপরে ‘বিদ্ধ করা’ হয়েছিল, জর্জরিত এবং নিপীড়িত I তথাপি এই ভবিষ্যদ্বাণীটি তার জীবিত থাকার পূর্বে 750 বছর পূর্বে লেখা হয়েছিল I কম সম্মানে থাকা   এবং তার কষ্টভোগের মধ্যে, যীশুর ভবিষ্যদ্বাণীটিকে পুরণ করেছিলেন এবং এখন সমস্ত পিছিয়ে পড়া জাতি এবং উপজাতি সমূহকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন I

আমরা সবাই হারিযে যাওয়া মেষের মত ঘুরে বেড়িযেছিলাম| আমরা সবাই আমাদের নিজেদের পথে গিয়েছিলাম যখন প্রভু আমাদের সব শাস্তি তাকে দিয়ে ভোগ করাচ্ছিলেন|
তার সঙ্গে নিষ্ঠুর ব্যবহার করা হয়েছিল এবং সে আত্মসমর্পণ করেছিল| সে কখনও প্রতিবাদ করেনি| মেষকে যেমন হত্যার জন্য নিয়ে যাওয়া হলে সে নালিশ করে না তেমনি সেও চুপচাপ ছিল| মেষ যেমন তার পশম কাটার সময় কোন শব্দ করে না, সেও তেমনি তার মুখ খোলে নি|

যিশাইয় 53:6-7

এটি আমাদের পাপ এবং ধর্মা থেকে আমাদের বিপথগামিতা যা এই পুরুষটির আমাদের অপরাথ বা পাপসমূহ বহন করার জন্য দরকার I আমাদের জায়গায় বধ হতে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে যেতে ইচ্ছুক হবেন, প্রতিবাদ না করে, বা এমনকি ‘তার মুখ না খুলে’ I যীশু যেভাবে স্বেচ্ছায় ক্রুশে গিয়েছিলেন তাতে এটি যথাযথভাবে পরিপূর্ণ হয়েছিল I

মানুষ শক্তি প্রযোগ করে তাকে নিয়েছিল এবং তার প্রতি ন্যায্য বিচার করেনি| তাঁর ভবিষ্যত্‌ পরিবার সম্পর্কে কেউ কিছু বলেনি| কারণ সে জীবিতদের দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল| আমার লোকদের পাপের জন্য সে শাস্তি পেয়েছিল|

যিশাইয় 53:8

ভবিষ্যদ্বাণীটি ব্যক্ত করল যে তাকে ‘জীবিতদের দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে’, পরিপূর্ণ হ’ল যখন যীশু ক্রুশের উপরে মারা গেলেন I

তার মৃত্যু হয়েছিল এবং ধনীদের সঙ্গে তাকে সমাহিত করা হয়েছিল| তাকে দুষ্ট লোকদের সঙ্গে সমাহিত করা হয়েছিল যদিও সে কোন হিংস্র কাজ করেনি| সে কখনও কাউকে প্রতারণা করেনি|

যিশাইয় 53:9

যীশু একজন ‘দুষ্ট’ পুরুষ হিসাবে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে মারা গেলেন এমনকি যদিও ‘তিনি কোনো হিংসা করেন নি’ এবং ‘মুখের মধ্যে কোনো ছলনা ছিল’ না I তথাপি, তাকে এক ধনী যাজক আরিমাথিয়ার যোষেফের কবরে সমাধি দেওয়া হ’ল I যীশু ‘দুষ্টের সঙ্গে একটি কবরে নির্ধারিত’ কিন্তু তার নৃত্যুতে ধনীর সঙ্গে’ হয়ে উভয়কে পূর্ণ করলেন I

10 প্রভু তাকে মেরে পিষে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন| যদি সে দোষমোচনের বলি হিসেবে নিজেকে উত্সর্গ করে, সে তার সন্তানের মুখ দেখবে এবং দীর্ঘ দিন বাঁচবে| ঈশ্বরের অভিপ্রায় তার হাতে সফল হবে|

যিশাইয় 53:10

নিষ্ঠুর মৃত্যু ছিল কোনো ভয়ানক দুর্ঘটনা বা দুর্ভাগ্য নয় I এটি ‘সেই সদাপ্রভুর’ ইচ্ছা’ ছিল I 

কেন?

কেননা এই পুরুষটির ‘জীবন’ টি একটি ‘পাপের জন্য উৎসর্গ’ হবে I   

কার পাপ?

আমাদের মধ্যে যারা ‘অনেক জাতি সমূহ’ যারা ‘বিপথে চলে গেছে’ I যীশু যখন ক্রুশে মারা গেলেন, এটি আমাদের সকলকে জাতি, ধর্ম বা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে পাপের থেকে শুদ্ধ করতে ছিল I

তুচ্ছ একজন বিজয়ী হয় 

11 তার আত্মা বহু কষ্ট পেলেও সে অনেক ভালো জিনিস ঘটা দেখতে পাবে| সে যেসব জিনিস শিখেছে তা নিয়ে সন্তুষ্ট হবে| আমার ভালো দাসটি অনেক মানুষকে ধার্মিক করবে| সে তাদের অপরাধের দরুণ শাস্তি ভোগ করবে|

যিশাইয় 53:11

ভবিষ্যদ্বাণীটির সুর এখন বিজয়ী হতে বদলে যায় I ভয়ংকর ‘কষ্টভোগের’ পরে (বা ‘তুচ্ছ’ হয়ে, এবং ‘জীবিত দেশের থেকে বিছিন্ন হয়ে’ এবং ‘একটি কবরে’ নির্ধারিত হয়ে) এই দাস ‘জীবনের আলো’ দেখবে I  

তিনি জীবনে ফিরে আসবেন! এবং এইরকম করার দ্বারা এই দাস অনেককে ‘ন্যায়সঙ্গত’ করবেন I   

‘ন্যায়সঙ্গত’ করা ‘ধার্মিকতা’ পাওয়ার মতন একই হয় I ঋষি আব্রাহামের স্বপক্ষে ‘ধার্মিকতা’ ‘জমা করা’ বা দেওয়া হয়েছিল I এটিকে শুধুমাত্র তাকে তার বিশ্বাসের কারণে দেওয়া হয়েছিল I অনুরূপভাবে এই দাস যিনি অস্পৃশ্য হওয়ার জন্য এতটা নিচু হবেন ন্যায়সঙ্গত করবেন বা ‘অনেকের’ পক্ষে ধার্মিকতা জমা দেবেন I তার মৃত্যুর পরে মৃতদের মধ্য থেকে উত্থিত হয়ে এটাকেই প্রকৃতপক্ষে যীশু সম্পন্ন করেছিলেন এবং আমাদের ন্যায়সঙ্গত করেন I 

12 এই কারণে আমি তাকে অনেক লোকের মধ্যে পুরস্কৃত করব| যে সব লোকরা শক্তিশালী তাদের সঙ্গে সমস্ত জিনিসে তার অংশ থাকবে|আমি এটা তার জন্য করব কারণ সে লোকের জন্য নিজের জীবন উত্সর্গ করে মারা গিয়েছিল| তাকে এক জন অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হত| কিন্তু সত্যটা হল সে অনেক লোকের পাপ বহন করে ছিল| এবং এখন সে পাপী লোকদের সপক্ষে কথা বলছে|

যিশাইয় 53:12

যদিও যীশুর জীবিত থাকার 750 বছর পূর্বে এটিকে লেখা হয়েছিল, এটি ঈশ্বরের পরিকল্পনাকে দেখাতে এতটা বিস্তৃত ভাবে তার দ্বারা পরিপূর্ণ হয়েছিল I এছাড়াও এটি দেখায় যে যীশু অবর্ণকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন, যাদেরকে প্রায়শই নিম্নতম সম্মানের মধ্যে রাখা হয় I আসলে, তিনি প্রতিনিধিত্ব করতে, তাদের পাপ সমূহ বহন এবং তাদের পাপ, পাশাপাশি ব্রাহ্মিণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য এবং শুদ্রর পাপ সমূহ থেকে শুদ্ধ করতে এসেছিলেন I     

তিনি ঈশ্বরের পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আপনাকে এবং আমাকে জীবনের উপহার দিতে এসেছিলেন – পাপের অপরাধ এবং কর্ম থেকে শুদ্ধ করতে I এই ধরণের একটি উপহারকে সম্পূর্ণরূপে বিবেচনা করা এবং বোঝা কি সার্থক নয়? এটিকে করার বিভিন্ন উপায় সমূহ এখানে রয়েছে:

আসন্ন মহৎ রাজা: কয়েকশত বছর পূর্বে নামকরণ

রাজা ভেনার সম্বন্ধে বিষ্ণু পুরাণ বলে I যদিও ভেনা এক উত্তম রাজা রূপে আরম্ভ করেছিলেন, দুর্নীতির প্রভাবের কারণে তিনি এতটাই মন্দ হয়ে গেলেন যে তিনি ত্যাগ ও প্রার্থনা নিষিদ্ধ করেছিলেন I তিনি এমকি দাবি করলেন যে তিনি বিষ্ণুর চেয়েও শ্রেষ্ঠ I ঋষি এবং ব্রাহ্মণ/পুরোহিতরা তার সাথে যুক্তি দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন, এই বলে যে রাজা হিসাবে তার শিক্ষা দেওয়া উচিত এবং যথোচিত ধর্মার জন্য এক উদাহরণ স্থাপন করা উচিত, না একে নিম্নমানের  করা উচিত I যাইহোক ভেনা শুনতেন না I তাই পুরোহিতরা ধর্মাকে পুনস্থাপন করতে বেপরোয়া হলেন এবং যেহেতু তারা তাকে অনুতাপ করতে রাজি করতে  পারে নি, তাই মন্দতার রাজ্যকে যা তিনি হয়েছিলেন উদ্ধার করতে তাকে হত্যা করলেন I   

সেটি রাজ্যকে এক শাসক বিহীন করে ছেড়ে গেল I অতএব পুরোহিতরা রাজার দক্ষিণ হস্তকে ঘর্ষণ করলেন এবং পৃথু/প্রুথু নামে এক সৎ ব্যক্তির উত্থান হ’ল I পৃথুকে ভেনার উত্তরাধিকারী মনোনীত করা হ’ল I সবাই আনন্দিত ছিল যে এই জাতীয় একজন নৈতিক ব্যক্তি রাজা হবেন এবং এমনকি ব্রহ্মা পৃথুর রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠানের জন্য হাজির হলেন I পৃথুর রাজত্বকালে রাজ্য এক স্বর্ণ যুগে প্রবেশ করল I   

এটি ভাববাদী যিশাইয় এবং যিরমিয়র মুখোমুখি অনুরূপ দ্বিধাকে চিত্রিত করে I তারা দেখল ইস্রায়েলর রাজারা প্রাথমিকভাবে মহৎ এবং দশ আজ্ঞা সমূহের ধর্মাকে অনুসরণ করলেও পরে তারা দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে গেল I তারা ভবিষ্যদ্বাণী করলেন যে রাজবংশের পতন হবে যেমনভাবে একটি বৃক্ষকে কেটে ফেলা হয় I তবে এছাড়াও তারা এক ভবিষ্যতের মহৎ রাজার সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন, একটি শাখা যা পতিত বৃক্ষের গুড়ি থেকে অঙ্কুরিত হবে I 

এছাড়াও ভেনার গল্প পুরোহিত এবং রাজাদের মধ্যে ভূমিকার স্পষ্ট বিচ্ছেদকে চিত্রিত করে I রাজা ভেনাকে পুরোহিতদের দ্বারা সরানোর সময়ে তারা শাসন গ্রহণ করতে পারল না যেহেতু সেটি তাদের অধিকারে ছিল না I যিশাইয় এবং যিরমিয়র সময়েও রাজা এবং পুরোহিতের মধ্যে ভূমিকার এই একই বিচ্ছেদ বলবৎ ছিল I এই গল্পগুলোর মধ্যে পার্থক্য হ’ল যে পৃথুর নাম তার জন্মের পরে দেওয়া হয়েছিল, যেখানে আমরা দেখব হিব্রু ঋষিরা আসন্ন রাজার নাম তার জন্মের কয়েকশত বৎসর পূর্বে কিভাবে দিয়েছিলেন I

যিশাইয় প্রথমে আসন্ন শাখার সম্বদ্ধে লিখলেন I দায়ূদের পতিত রাজবংশের থেকে একটি ‘তিনি, প্রজ্ঞা এবং শক্তির অধিকারী হয়ে আসছেন I যিরমিয় এই বলে অনুসরণ করলেন যে এইশাখাকে প্রভু বলে জানা যাবে – সৃষ্টিকারী ঈশ্বরের জন্য হিব্রু নাম, এবং আমাদের ধার্মিকতা হবেন I

সখরিয় শাখাটিকে চালিয়ে যান 

বাবিলোনীয় নির্বাসনের পরে সখরিয় মন্দির পুনর্নির্মাণ করত ফিরলেন 

ঋষি সখরিয় 520 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে বাস করতেন, যখন যিহূদিরা তাদের প্রথম  নির্বাসন থেকে যিরূশালেমে ফেরা আরম্ভ করেছিল I তারা ফিরে এলে, তারা তাদের ধ্বংস মন্দির পুনর্নির্মাণ করতে আরম্ভ করল I সেই সময়ে মহা যাজকের নাম যিহোশুয়া দেওয়া হয়েছিল, এবং তিনি মন্দিরের যাজকদের কাজ পুনরায় আরম্ভ করছিলেন I যিহূদি লোকেদের ফেরৎ নিয়ে আসার ক্ষেত্রে ঋষি-ভাববাদী, সখরিয় মহা যাজক যিহোশুয়ার সাথে অংশীদার হলেন I সখরিয়র মাধ্যমে – এখানে ঈশ্বর যা – এই যিহোশুয়ার সম্বন্ধে বললেন:

ওহে মহাযাজক যিহোশূয় এবং তোমার সামনে য়ে মহাযাজকেরা বসে আছে, সবাই দয়া করে শোন| অদূর ভবিষ্যতে আমার বিশেষ দাসকে যখন আমি আনব তখন কি ঘটবে তা দেখাবার জন্য এই লোকেরা তার উদাহরণস্বরূপ| তাকে ‘শাখা’ এই নামে ডাকা হয়|
দেখ, আমি যিহোশূয়র সামনে একটা বিশেষ ধরণের পাথর রাখছি| ঐ পাথরটার সাতটা দিক রয়েছে| আমি একটি বিশেষ বার্তা তাতে খোদাই করব| এটাই দেখাবে য়ে আমি একদিনে এই দেশের প্রতিটি পাপ দূর করব|”

সখরিয় 3:8-9

শাখাটি! যিশাইয়র দ্বারা 200 বছর পূর্বে আরম্ভ হয়ে, যিরমিয়র দ্বারা 60 বছর পরে চলতে থাকল I সখরিয় আরও দুরে ‘শাখাটিকে’ বহন করলেন এমনকি যদিও রাজবংশটিকে এখন কেটে ফেলা হয়েছিল I বটবৃক্ষের মতন এই শাখাটি একটি মৃত গুড়ির থেকে মূল বিস্তার করে চলতে থাকল I শাখাটিকে এখন ‘আমার দাস’ বলা হয় – ঈশ্বরের দাস I য়িরুশালেমে 520 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে কোনো ভাবে সখরিয়র সহকর্মী মহা যাজক যিহোশুয়া, এই আসন্ন শাখার প্রতীকী ছিলেন I

কিন্তু কিভাবে?

‘এক দিনের মধ্যে’ প্রভুর দ্বারা কিভাবে পাপগুলোকে অপসারণ করা হবে? 

শাখাটি: যাজক এবং রাজাকে ঐক্যবদ্ধ করছে 

বুঝতে আমাদের জানা উচিত যে হিব্রু বেদে যাজক এবং রাজার ভূমিকা সমূহ উভয়কে কঠোরভাবে পৃথক করা হয়েছিল I রাজাদের মধ্যে কেউ যাজক হতে পারতেন না এবং যাজকরা রাজা হতে পারতেন না I যাজকের ভূমিকা ছিল ঈশ্বরের কাছে বলি অর্পণ করার দ্বারা ঈশ্বর এবং মানুষের মধ্যে মধ্যস্ততা করা এবং রাজার দায়িত্ব ছিল সিংহাসন থেকে ন্যায়ের সাথে শাসন করা I উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ছিল; উভয়ই স্বতন্ত্র ছিল I তবুও সখরিয় লিখলেন যে ভবিষ্যতে:

তখন আমি প্রভুর কাছ থেকে আরেকটি বার্তা পেলাম| তিনি বললেন,
10 “হিল্দয, টোবিয ও য়িদায বাবিলের বন্দী দশা থেকে ফিরে এসেছে| সেই লোকেদের কাছ থেকে তুমি রূপো ও সোনা সংগ্রহ কর এবং সফনিয়ের পুত্র য়োশিযের বাড়ী যাও|
11 সেই রূপো ও সোনা ব্যবহার করে একটি মুকুট তৈরী কর এবং যিহোষাদকের পুত্র, মহাযাজক যিহোশূয়কে মুকুট মণ্ডিত কর| তারপর যিহোশূয়কে এই বিষয়গুলি বল:
12 প্রভু সর্বশক্তিমান এই কথাগুলি বলেন: ‘শাখা নামে এক মানুষ আছেন, তিনি শক্তিমান হয়ে উঠবেন, তিনি প্রভুর মন্দির গাঁথবেন|
13 তিনি প্রভুর মন্দির গাঁথবেন ও সম্মান গ্রহণ করবেন| তিনি সিংহাসনে বসে শাসন করবেন| আর একজন যাজক তার সিংহাসনের পাশে দাঁড়াবে| এই দুই জন একসাথে শান্তিতে কাজ করবে|

সখরিয় 6:9, 11-13

পূর্বের নজিরের বিপরীত, সখরিয়ের দিনে মহা যাজককে (যিহোশুয়া) শাখা হিসাবে প্রতীকীভাবে রাজার মুকুট পরিয়ে দেওয়া হয়েছিল (মনে রাখুন যিহোশুয়া আসন্ন জিনিসগুলোর ‘প্রতীকী’ ছিলেন) I মহা যাজক যিহোশুয়া, রাজার মুকুট পরে, এক ব্যক্তির মধ্যে রাজা এবং যাজকের ঐক্যবদ্ধকারী ভবিষ্যতের পূর্বাভাষ দেখেছিলেন – রাজার সিংহাসনে একজন যাজক I তদুপরি সখরিয় লিখলেন যে ‘যিহোশুয়া’ শাখাটির নাম ছিল I সেটির কি অর্থ ছিল?

নাম সমূহ ‘যিহোশুয়া’ এবং ‘যীশু’ 

বাইবেল অনুবাদের কিছু ইতিহাস আমাদের জানা প্রয়োজন I মূল হিব্রু বেদ 250 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে গ্রীকে অনুবাদিত হয়েছিল, এবং সেপ্টুজিয়ান্ট বা LXX বলা  হত I এখনও ব্যাপকভাবে পড়া হয়, আমরা দেখলাম কিভাবে ‘খ্রীষ্ট’ কে প্রথমে LXX এর মধ্যে ব্যবহার করা হ’ল এবং এখানে ‘যিহোশুয়ার’ জন্য আমরা সেই একই বিশ্লেষণকে অনুসরণ করি I

যিহোশুয়া’ = ‘যীশু’ উভয়ই হিব্রু নাম ‘যহোশুয়া’ থেকে এসেছিল 

যিহোশুয়া মূল হিব্রু নাম ‘যহোশুয়া’র একটি বাংলা অক্ষরীকরণ I চতুর্থাংশ #1 দেখায় কিভাবে সখরিয় 520 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে ‘যিহোশুয়া’ লিখেছিলেন I এটিকে বাংলায় ‘যিহোশুয়া’ অক্ষরীকরণ করা হয় (#1=> #3) I হিব্রুতে ‘যহোশুয়া’ বাংলায় যিহোশুয়ার মতন একই I যখন 250 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে LXX কে হিব্রু থেকে গ্রীকে অনুবাদ করা হয়েছিল তখন যহোশুয়াকে যেসাসে অক্ষরীকরণ করা হয়েছিল (#1 => #2) I হিব্রুতে যহোশুয়া গ্রীকের মধ্যে যেসাসের মতন একই I যখন গ্রীক বাংলায় অনুবাদিত হয়, যেসাস কে ‘যীশু’তে অক্ষরীকরণ করা হয় (#2 => #3) I গ্রীকের মধ্যে যেসাস বাংলার মধ্যে যীশুর মতন একই I     

যখন হিব্রুতে কথা বলা হয় তখন যীশুকে যহোশুয়া বলা হয়, তবে গ্রীক নতুন নিয়মের মধ্যে তার নামকে ‘যেসাস’ বলে লেখা হয়েছিল – ঠিক যেভাবে গ্রীক পুরনো নিয়ম LXX ওই নামটিকে লিখেছিল I যখন গ্রীক নতুন নিয়মকে গ্রীক থেকে [বাংলায়] অনুবাদিত করা হয় (#2 => #3) ‘যেসাস’ কে পরিচিত ‘যীশু’ তে অক্ষরীকরণ করা হয় I অতএব নাম ‘যেসাস’ = ‘যিহোশুয়া’, সহ ‘যীশু’ একটি মধ্যবর্তী গ্রীক পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, এবং যিহোশুয়া  হিব্রুর থেকে সরাসরি আসছে I       

সংক্ষিপ্তভাবে, উভয়ই নাসরতের যীশু, এবং 520 খ্রীষ্টাব্দের মহা যাজক যিহোশুয়ার একই নাম ছিল, তাদের স্থানীয় হিব্রুতে ‘যহোশুয়া’ বলা হত I গ্রীকের মধ্যে, উভয়কে ‘যেসাস’ বলা হত I

নাসরতের যীশু শাখা হয় 

এখন সখরিয়র ভবিষ্যদ্বাণীটি বোধগম্য I 520 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে করা ভবিষ্যদ্বাণীটি  ছিল যে আসন্ন শাখাটির নামযীশু’ হবে, সরাসরি নাসরতের যীশুর দিকে সংকেত দেয় I

যীশু ‘যিশয়ের গুড়ি থেকে’ আসে যেহেতু যিশয় এবং দায়ূদ তার পূর্বপুরুষ ছিলেন I যীশু অধিকারী ছিলেন প্রজ্ঞার এবং বুদ্ধির এমন একটি মাত্রা পর্যন্ত যা তাকে আলাদা করে রাখে I তার বিচক্ষণতা, ভারসাম্য এবং অন্তর্দৃষ্টি সমালোচক এবং অনুগামী উভয়দের মুগ্ধ করে চলেছে I সুসমাচারগুলোতে অলৌকিক কার্যের মাধ্যমে তার শক্তি অনস্বীকার্য I কেউ হয়ত সেগুলোকে বিশ্বাস করতে পছন্দ না করতে পারে; কিন্তু কেউ তাদেরকে উপেক্ষা করতে পারে না I যীশু ব্যতিক্রমী প্রজ্ঞা এবং ক্ষমতা রাখার মানের সাথে খাপ খান যা যিশাইয় ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন একদিন এই শাখা থেকে আসবে I

এখন নাসরতের যীশুর জীবনের কথা ভাবুন I তিনি নিশ্চিতভাবে এক রাজা হতে দাবি করেছিলেন – প্রকৃতপক্ষে রাজা I এটাই যা ‘খ্রীষ্ট’ বলতে বোঝায় I তবে পৃথিবীতে থাকাকালীন তিনি যা করেছিলেন তা যাজকীয় ছিল I যাজক লোকেদের স্বপক্ষে গ্রহণযোগ্য বলি অর্পণ করতেন I যীশুর মৃত্যু তাতে  তাত্পর্যপূর্ণ ছিল, এছাড়াও এটি, আমাদের স্বপক্ষে ঈশ্বরের কাছে একটি অর্পণ ছিল I তার মৃত্যু যে কোনো ব্যক্তির পাপ এবং অপরাধের জন্য প্রায়শ্চিত্ত   করে I দেশের পাপ সমূহকে আক্ষরিকভাবে ‘একটি দিনের মধ্যে’ অপসারণ করা  হয়েছিল যেমন সখরিয় ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন – সেই দিন যীশু মৃত্যু বরণ করলেন এবং সকল পাপ সমূহের জন্য মূল্য প্রদান করলেন I এমনকি যদিও  তিনি সর্বাধিকভাবে খ্রীষ্ট/রাজা হিসাবে পরিচিত হন, তার মৃত্যুতে তিনি যাজক হিসাবে সমস্ত প্রয়োজনীয়তাগুলোকে পূরণ করলেন I তার পুনরুত্থানে তিনি তার শক্তি এবং মৃত্যুর উপরে কর্তৃত্বকে দেখালেন I তিনি দুটি ভূমিকাকে একসাথে নিয়ে এলেন I দায়ূদ দীর্ঘ সময় পূর্বে যে শাখাটিকে ‘খ্রীষ্ট’ বলে অভিহিত করেছিলেন, তিনি হলেন যাজক-রাজা I এবং তার নামকে তার জন্মের 500 বছর পূর্বে সখরিয় দ্বারা ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল I

ভবিষ্যদ্বাণীপূর্ণ প্রমাণ 

তার সময়ে, আজকের মতন, তার কর্তৃত্বকে প্রশ্ন করতে যীশুর সমালোচক   ছিল I তার উত্তরটি তার আগে আসা ভাববাদীদের দিকে ইঙ্গিত করে দাবি করা হয়েছিল যে তারা জীবন সম্পর্কে আগে থেকেই দেখেছিলেন I এখানে একটি উদাহরণ যেখানে যীশু তাদের বললেন যারা তার বিরোধিতা করছে:

… এইগুলো বিশেষ শাস্ত্রীয় বাক্য সমূহ যা আমার সম্বন্ধে স্বাক্ষ্য দেয় … (যোহন 5:39)

অন্য কথায়, যীশু দাবি করলেন যে তার জীবনের সম্বন্ধে হিব্রু বেদে কয়েকশত  বছর পূর্বে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল I যেহেতু মানবিক অন্তর্দৃষ্টি ভবিষ্যত সম্পর্কে কয়েকশত বছরের ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে না, যীশু বললেন যাচাই করার এটি প্রমাণ ছিল যে মানব জাতির জন্য তিনি প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরের পরিকল্পনা অনুযায়ী এসেছিলেন I আজ ব্যক্তিগতভাবে এটিকে যাচাই করতে আমাদের জন্য হিব্রু বেদ উপলব্ধ আছে I   

আজ পর্যন্ত হিব্রু ভাববাদীরা যা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন আসুন তার সংক্ষিপ্তসার করা যাক I যীশুর আগমনের সম্বন্ধে মানব ইতিহাসের শুরুতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল I তারপরে আব্রাহাম অবস্থানটির সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন যেখানে যীশুকে বলি দেওয়ার কথা ছিল যখন নিস্তারপর্ব বছরের দিনের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল I আমরা দেখলাম যে গীতসংহিতা 2 ছিল যেখানে ‘খ্রীষ্ট’ উপাধিকে এক আসন্ন রাজার ভবিষ্যদ্বাণী রূপে ব্যবহার করা হয়েছিল I আমরা সবেমাত্র দেখেছি যে তার বংশ, যাজকীয় কর্মজীবন এবং নামের ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল I সমগ্র ইতিহাসের মধ্যে আপনি কি আর কারোর সম্বন্ধে ভাবতে পারেন যার জীবনকে নাসরতের যীশুর মতন এমনকি এত দূর থেকেও এতগুলো  ভাববাদীদের দ্বারা ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল? 

উপসংহার: জীবনের বৃক্ষ সকলকে দেওয়া হয়েছে 

বট বৃক্ষের মতন, একটি অমর এবং টেকসই বৃক্ষের চিত্র, বাইবেলের একেবারে শেষ অধ্যায় পর্যন্ত চলতে থাকে, পুনরায় ভবিষ্যতের মধ্যে দূরদৃষ্টি, পরবর্তী বিশ্বের দিকে, একটি ‘জীবন-জলের নদীর’ সাথে যেখানে

নদীটি নগরের রাজপথের মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেছে৷ নদীর তীরেই জীবনবৃক্ষ আছে৷ বছরের বারো মাসই তাতে বারো বার ফল ধরে, প্রতি মাসে নতুন নতুন ফল হয়৷ সেই জীবন বৃক্ষের পাতা জাতিবৃন্দের আরোগ্য দায়ক৷

প্রকাশিত বাক্য 22:2

সমস্ত জাতির লোকেরা – আপনি সহ –মৃত্যু থেকে উদ্ধার এবং জীবন-বৃক্ষের ঐশ্বর্য – একটি প্রকৃতপক্ষে অমর বটবৃক্ষ উভয়ের অভিজ্ঞতা লাভ করতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে I তবে হিব্রু ভাববাদীরা ভাববাণী করেন এর জন্য  প্রখমে কিভাবে শাখাটির ‘কাটার’ প্রয়োজন হবে, যেমন আমরা পরবর্তী তে দেখি I

শাখার চিহ্ন: বট সাবিত্রীর মধ্যে অটল বটবৃক্ষের মতন

বটবৃক্ষ, বরগদ বা বট গাছ দক্ষিণ এশিয়ার আধ্যাত্মিকতার কেন্দ্রস্থল এবং ভারতবর্ষের জাতীয় বৃক্ষ I এটি মৃত্যুর ঈশ্বর যমের সাথে সংযুক্ত, তাই প্রায়শই স্মশানের পাশে রোপন করা হয় I পুনরায় অঙ্কুরিত হওয়ার দক্ষতার কারণে এর কাছে দীর্ঘাযুতা রয়েছে এবং এটি অমরত্বের প্রতীক I এই বটবৃক্ষের দ্বারাই সাবিত্রী যমের সাথে দর কষাকষি করেছিলেন তার মৃত স্বামী এবং রাজা সত্যবানকে ফেরৎ দেবার জন্য যাতে করে তিনি এক পুত্রকে পেতে পারেন – যাকে বট পূর্নিমা এবং বট সাবিত্রীর বাৎসরিক উৎসবে স্মরণ করা হয় I       

একটি অনুরূপ বিবরণকে হিব্রু বেদের (বাইবেল) মধ্যে দেখা যায় I সেখানে একটি মৃত বৃক্ষ আছে … জীবনে ফিরে আসছে … রাজাদের এক মৃত বংশের থেকে এক নতুন পুত্রের প্রতিনিধিত্ব করছে I বড় পার্থক্যটি হ’ল যে এই বিবরণটিকে এক ভবিষ্যত-দ্রষ্টা ভাববাণী এবং বিভিন্ন ভাববাদীদের (ঋষিদের) দ্বারা শত শত বছরের সময় কালের মধ্যে গড়ে তোলা হয়েছিল I তাদের সম্মিলিত গল্পটি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল যে কেউ আসছেন I যিশাইয় (750 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) এই গল্পটির আরম্ভ করেছিলেন যেটিকে ঋষি-ভাববাদীরা আরও উন্নত করেছিলেন – মৃত বৃক্ষ থেকে উৎপন্ন শাখাতে I

যিশাইয় এবং শাখাটি

ঐতিহাসিকভাবে যাচাই করা সময়ে যিশাইয় বাস করতেন, যিহূদিদের ইতিহাস  থেকে নেওয়া কালপঞ্জির মধ্যে দেখা যায় I

ঐতিহাসিক কালপঞ্জির মধ্যে দেখানো হয়েছে যিশাইয় ইস্রায়েলের দায়ূদ বংশীয় রাজাদের যুগে বাস করছেন 

যিশাইয় লিখলেন যখন রাজা দায়ূদের রাজবংশ (1000-600 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) যিরূশালেম থেকে শাসন করছিল I যিশাইয়র সময়ে (750 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) রাজ বংশ এবং শাসন দুর্নীতিগ্রস্ত হয়েছিল I ঈশ্বরের কাছে এবং মশির দশ আজ্ঞা সমূহের অভ্যাসের কাছে ফিরে আসতে যিশাইয় রাজাদের কাছে মিনতি করলেন I তবে যিশাইয় জানতেন যে ইস্রায়েল অনুতাপ করবে না এবং রাজ্যটি ধ্বংস হয়ে যাবে এবং রাজাদের শাসন শেষ হবে I 

একটি বৃহৎ বটবৃক্ষের ছবির মতন, তিনি রাজকীয় রাজবংশের জন্য একটি চিত্র ব্যবহার করলেন I এই বৃক্ষটির গোড়ায় রাজা দায়ূদের পিতা যিশয় ছিলেন I যিশয়ের উপরে রাজাদের রাজবংশ দায়ূদকে দিয়ে আরম্ভ হয়েছিল, এবং তার উত্তরাধিকারী, রাজা শলোমনের সঙ্গে চলতে থেকেছিল I যেমন নিচে চিত্রিত করা হয়েছে, রাজবংশের পরবর্তী পুত্রের শাসনের সাথে সাথে বৃক্ষটি বাড়তে এবং উন্নত হতে থাকল I

যিশাইয় রাজবংশের চিত্রটিকে একটি বৃহৎ বটবৃক্ষ রূপে ব্যবহার করেছিলেন সাথে রাজারা প্রতিষ্ঠাতার শিকড় – যিশয়ের থেকে বৃক্ষের গুঁড়িটিকে প্রসারিত করছে I

প্রথমে একটি বৃক্ষ – পরে একটি গুড়ি … তারপরে একটি শাখা 

যিশাইয় সতর্ক করলেন যে এই ‘বৃক্ষ’ বংশটিকে শীঘ্র কেটে ফেলা হবে, এটিকে একটি মৃত গুড়িতে পরিণত করা হবে I এখানে তিনি কিভাবে গুড়ি এবং শাখার ধাঁধা হিসাবে এই দৈববাণীকে লিখেছিলেন: 

কটি ছোট গাছ (শিশু) য়িশযের গোড়া (পরিবার) থেকে বাড়বে| ঐ শাখাটি য়িশযের শিকড়গুলি থেকে বাড়বে|
আর প্রভুর আত্মা এই বালকটির ওপরে ভর করবে| এই আত্মা বালকটিকে জ্ঞান, বুদ্ধি, পথনির্দেশ এবং শক্তি দেবে| এই আত্মা বালকটিকে প্রভুকে জানার এবং তাঁকে সম্মান করার শিক্ষা দেবে|

যিশাইয় 11:1-2
যিশাইয় সতর্ক করেছিলেন একদিন বংশটি একটি মৃত গুড়ি হবে 

প্রায় 650 খ্রীষ্টপূর্বাব্দের আশেপাশে যিশাইয়র 150 বছর পরে এই ‘বৃক্ষটিকে’ কেটে ফেলা হয়েছিল, যখন বাবিলোনিয়রা যিরূশালেমকে জয় করেছিল, রাজাদের –রাজবংশকে ছিনভিন্ন করেছিল এবং ইস্রায়েলীযদের বাবিলের নির্বাসনে টেনে নিয়ে গিয়েছিল (কালপঞ্জির মধ্য লাল যুগ) I এটি যিহূদিদের প্রথম নির্বাসন ছিল – যাদের মধ্যে কিছু ভারতবর্ষে বসবাস করতে চলে এসেছিল I সাবিত্রী এবং সত্যবানের গল্পের মধ্যে একটি মৃত রাজার পুত্র ছিল – সত্যবান I গুড়ির ভাববাণীতে রাজাদের সমগ্র বংশ সমাপ্ত হয়ে যাবে এবং বংশটি স্বয়ং মারা  যাবে I 

শাখাটি: দায়ূদের থেকে আসা একজন ‘তাঁকে’ যিনি প্রজ্ঞার অধিকারী  

যিশয়ের মৃত গুড়ির থেকে অঙ্কুর 

তবে ভাববাণীটি এছাড়াও কেবল রাজাদের কেটে ফেলার চেয়েও ভবিষ্যতের মধ্যে আরও আগে দেখেছিল I বটবৃক্ষের একটি সাধারণ বৈশিষ্টকে ব্যবহার করে এটি এরকম করেছিল I যখন বটবৃক্ষের বীজ অঙ্কুরিত হয় তারা প্রায়শই অন্য গাছের কাণ্ডের উপরেও এইরকম করে I অঙ্কুরোদ্গম বট বৃক্ষের কাছে গুড়ি একটি নিমন্ত্রণকর্তা I বট বৃক্ষের চারা প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে এটি নিমন্ত্রণকর্তা গুড়িকে ছাড়িয়ে যাবে এবং বেঁচে থাকবে I এই অঙ্কুরটিকে যিশাইয় পূর্বেই দেখেছিলেন যে এটি একটি বটবৃক্ষের মতন হবে যেহেতু নতুন অঙ্কুর এর শিকড় থেকে উপরে উঠবে – একটি শাখা তৈরী করতে I  

যিশাইয় এই চিত্রটিকে ব্যবহার করেছিলেন এবং ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে একদিন অদূর ভবিষ্যতে একটি অঙ্কুর, শাখা হিসাবে পরিচিত মৃত গুড়ি থেকে বেরিয়ে আসবে, ঠিক যেমন বটবৃক্ষের অঙ্কুর বৃক্ষের গুড়ি থেকে অঙ্কুরিত হয় I যিশাইয় অঙ্কুর হিসাবে ‘তাঁকে’ বোঝায় তাই যিশাইয় একজন নির্দিষ্ট মানুষের সম্বন্ধে কথা বলছেন, যিনি রাজবংশের পতনের পরে দায়ূদের বংশ থেকে আসছেন I এই মানুষটির মধ্যে প্রজ্ঞা, শক্তি, এবং জ্ঞানের এই ধরণের গুণ সমূহ   থাকবে এটি এরকম হবে যেন ঈশ্বরের বিশেষ আত্মা তার উপরে হবে I

একটি বটবৃক্ষ এর নিমন্ত্রণকর্তা গুড়িকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে I শীঘ্রই এটি শিকড় এবং অঙ্কুর বংশ বিস্তারের জট হবে I

অনেক রচনা সমূহ পুরাণের মধ্যে বটবৃক্ষকে অমরত্বের একটি প্রতীকী রূপে উল্লেখ করে I এর বায়বীয় শিকড়গুলো মাটির নীচে বাড়তে থাকে অতিরিক্ত গুড়ি তৈরী করে I এটি দীর্ঘায়ুটির প্রতীক ঐশ্বরিক স্রষ্টাকে প্রতিনিধিত্ব করে I 750 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে যিশাইয় এই শাখাটিকে পূর্বেই দেখেছিলেন যার মধ্যে অনেক অনুরূপ স্বর্গীয় বৈশিষ্ট সমূহ থাকবে, এবং রাজবংশের ‘গুড়ি’ অন্তর্নিহিত হয়ে যাওয়ার পরেও দীর্ঘ স্থায়ী হবে I

যিরমিয় এবং শাখাটি

ঋষি-ভাববাদী যিশাইয় একটি পথনির্দেশক স্তম্ভ খাড়া করলেন যাতে লোকেরা ভবিষ্যতের ঘটনাগুলোকে উদঘাটন করতে বুঝতে পারে I তবে যিশাইয়র 150 বছর পরে, 600 খ্রীষ্টপুর্বাব্দে তার বিভিন্ন চিহ্নগুলোর মধ্যে কেবলমাত্র প্রথম ছিল যখন তার বিশেষ চোখের সামনে দায়ূদের বংশকে কাটা হচ্ছিল, যিরমিয় লিখলেন:

প্রভু এই বার্তা বলেন, “সেই সময় আসছে যখন আমি একটি ভালো ‘নবোদগম’|উত্তোলন করব| সে বুদ্ধিমত্ত্বার সঙ্গে শাসন করবে এবং দেশে যা ন্যায্য এবং ঠিক তাই করবে| সে সুষ্ঠু ভাবে দেশ শাসন করবে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে|
তার রাজত্বের সময়, যিহূদা রক্ষা পাবে এবং ইস্রায়েল নিরাপদে থাকবে| এই হবে তার নাম: প্রভুই আমাদের ধার্মিকতা|”

যিরমিয় 23:5-6

যিরমিয় দায়ূদের রাজবংশের যিশাইয়র শাখা চিত্রের উপরে বিস্তৃত করলেন I শাখাটি আবারও একজন রাজা হবে I তবে দায়ূদের পূরবর্তী রাজাদের মতন এক রাজা নয় যাদেরকে মৃত গুড়িতে নামিয়ে আনা হয়েছিল I 

শাখাটি: প্রভু আমাদের ধার্মিকতা 

শাখাটির সাথে পার্থক্যকে তার নামের মধ্যে দেখা যায় I তিনি ঈশ্বরের বিশেষ নাম বহন করবেন (‘প্রভু’) – ঈশ্বরের জন্য হিব্রু নাম), অতএব একটি বটবৃক্ষের মতন এই শাখাটি স্বর্গীয় এক প্রতিমূর্তি হবে I এছাড়াও তিনি ‘আমাদের’ (আমাদের মানবজাতির) ধার্মিকতা হবেন I   

সাবিত্রী যখন তার স্বামী সত্যবানের দেহ নিয়ে যমের সাথে বিতর্ক করলেন, এটি তার ধার্মিকতা ছিল যা তাকে মৃত্যুর (যম) সম্মুখীন হতে শক্তি যুগিয়েছিল I কুম্ভ মেলা সম্পর্কে যেমন উল্লিখিত করা হয়, আমাদের সমস্যা হ’ল আমাদের দুর্নীতি বা পাপ, এবং তাই আমরা ‘ধার্মিকতার’ অভাব বোধ করি I বাইবেল আমাদের বলে যে সেইজন্য মৃত্যুর সম্মুখীন হতে আমাদের কাছে ক্ষমতা নেই I প্রকৃতপক্ষে এটি বলে এর বিরুদ্ধে আমরা অসহায়: 

14 ভাল, সেই সন্তানরা যখন রক্তমাংসের মানুষ, তখন যীশু নিজেও তাদের স্বরূপের অংশীদার হলেন৷ যীশু এইরকম করলেন য়েন মৃত্যুর মাধ্যমে মৃত্যুর অধিপতি দিয়াবলকে ধ্বংস করতে পারেন;
15 আর যাঁরা মৃত্যুর ভয়ে যাবজ্জীবন দাসত্বে কাটাচ্ছে তাদের যুক্ত করেন৷

ইব্রীয় 2:14b-15

বাইবেলের মধ্যে শয়তান যমের মতন হয় যেহেতু সে আমাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুর ক্ষমতাকে ধারণ করে I প্রকৃতপক্ষে, সত্যবানের দেহকে নিয়ে যমের বিতর্কের মতন বাইবেল অন্য সময়ে একটি দেহকে নিয়ে শয়তানের বিতর্ককে লিপিবদ্ধ করে, যখন 

কিন্তু প্রধান স্বর্গদূত মীখায়েলের কথা আমরা জানি, যখন তিনি মোশির দেহ নিয়ে দিয়াবলের সঙ্গে তর্ক করছিলেন তখন তিনি দিয়াবলকে কোন কটু কথা বলতে সাহস করেন নি, তার পরিবর্তে শুধু বলেছিলেন, ‘প্রভু তোমাকে তিরস্কার করুন৷’

যিহূদা 1:9

সাবিত্রী ও সত্যবানের গল্পে যমের মতন যেহেতু শয়তানের মশির মতন একজন মহৎ ভাববাদীর দেহকে নিয়ে বিতর্ক করার ক্ষমতা আছে, সেইহেতু নিশ্চিতভাবে আমাদের উপরে মৃত্যুর মধ্যে তার ক্ষমতা আছে – আমাদের পাপ এবং দুর্নীতির কারণে I এমনকি দেবদূতরাও জানতে পারে যে কেবলমাত্র প্রভুর কাছে – সৃষ্টিকারী ঈশ্বরের কাছে – মৃত্যুর মধ্যে শয়তানকে তিরষ্কার করার ক্ষমতা  আছে I 

এখানে, শাখাটির মধ্যে একটি প্রতিশ্রুতি রয়েছে যে ভবিষ্যতে প্রভু আমাদেরকে ‘ধার্মিকতা’ দেবেন যাতে মৃত্যুর উপরে আমরা বিজয় পেতে পারি I 

কিভাবে?

এই থিমটিকে তার গড়ে তোলার সাথে সাথে সখরিয় আরও বিবরণে পরিপূর্ণ করেন, এমনকি আসন্ন শাখার নামটিকে বিস্তৃতভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করেন যা মৃত্যুকে (যম) অমান্যকারী সাবিত্রী ও সত্যবানের গল্পের সমান্তরাল হয়, যেটাকে আমরা পরে দেখব I

যেমনটি কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে: আসন্ন ‘অভিষিক্ত’ শাসকের সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়

ভাগবদগীতা মহাভারত মহাকাব্যটির জ্ঞানের কেন্দ্রবিন্দু I যদিও গীতা (গান) হিসাবে লেখা হয় এটিকে আজ সাধারণতঃ পড়া হয় I কুরুক্ষেত্রের মহান যুদ্ধের আরম্ভের ঠিক পূর্বে প্রভু কৃষ্ণ এবং রাজকীয় যোদ্ধা অর্জুনের মধ্যে কথোপকথনকে গীতা বর্ণনা করে – রাজকীয় পরিবারের দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ I এই আসন্ন যুদ্ধে একে অপরের বিরোধিতা করা যোদ্ধাদের এবং প্রাচীন রাজকীয় রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা রাজা কুরুর দুই রাজবংশের শাসকদের দুই শাখাদের সাজানো  হয়েছিল I রাজ বংশের কোন পক্ষের শাসনের অধিকার ছিল – পান্ডব রাজা যুধিষ্টির বা কৌরব রাজ দুর্যোধন, সেই বিষয় নিয়ে পান্ডব এবং কৌরবদের ভাইয়েরা যুদ্ধে যাচ্ছিল I যুধিষ্টিরের কাছ থেকে দুর্যোধন সিংহাসন দখল করেছিলেন তাই যুধিষ্টির এবং তার পান্ডব সহযোগীরা একে ফিরে পেতে যুদ্ধে যাচ্ছিলেন I পান্ডব যোদ্ধা অর্জুন এবং প্রভু কৃষ্ণের মধ্যে ভাগবদগীতার কথোকথপন কঠিন পরিস্থিতিতে প্রকৃত প্রজ্ঞার উপরে ফোকাস করে যা আত্মিক স্বন্তন্ত্রতা এবং আশীর্বাদ উৎপন্ন করে I  

গীতসংহিতা হিব্রু বাইবেল বেদা পুস্তকম মহাকাব্যের জ্ঞান সাহিত্যের কেন্দ্রবিন্দু I যদিও গীতা (গান) হিসাবে লেখা হয় এটিকে আজ সাধারণতঃ পড়া হয় I দুই বিপরীত শক্তির এক মহান যুদ্ধের ঠিক পূর্বে গীত সংহিতা 2 সর্বোচ্চ প্রভু এবং তার অভিষিক্ত (=শাসকের)

মধ্যে একটি কথোপকথনকে বর্ণনা করে I এর আসন্ন যুদ্ধের দুই দিকে মহান যোদ্ধা এবং শাসকরা সজ্জিত হয় I একদিকে একজন রাজা যিনি প্রাচীন রাজকীয় রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা রাজকীয় রাজা দায়ূদের বংশধর I দুই পক্ষ যুদ্ধে যাচ্ছিল কোন পক্ষ কার উপরে শাসন করবে I প্রভু এবং তার শাসকের মধ্যে গীতসংহিতার কথোপকথন স্বতন্ত্রতা, প্রজ্ঞা এবং আশীর্বাদকে স্পর্শ করে I 

আপনার কি একইরকম বলে মনে হয় না?

যেহেতু ভাগবদগীতা সংস্কৃত বেদের জ্ঞানকে বোঝার পোর্টাল, গীত সংহিতা তেমনি হিব্রু বেদের (বাইবেল) জ্ঞানকে বোঝার পোর্টাল I সেই জ্ঞান লাভ করার জন্য আমাদের গীতসংহিতা এবং এর প্রধান রচয়িতা, রাজা দায়ূদের  সম্পর্কে কিছুটা পটভূমি তথ্যের প্রয়োজন I 

রাজা দায়ূদ কে ছিলেন এবং গীতসংহিতা কি?

[Photo]

ঐতিহাসিক কালপঞ্জির মধ্যে রাজা দায়ূদ, গীতসংহিতা এবং অন্যান্য ভাববাদী ও রচনা সমূহ 

ইস্রায়েলীয়দের ইতিহাস থেকে নেওয়া কালপঞ্জি থেকে আপনি দেখতে পারেন, যে দায়ূদ প্রায় 1000 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে বাস করতেন, ভাববাদী আব্রাহামের 1000 বছর এবং ভাববাদী মশির 

500 বছর [পরে] I দায়ূদ তার পরিবারের ভেড়া চড়িয়ে এক মেষপালক রূপে জীবনযাত্রা শুরু করেছিলেন I এক দুর্দান্ত শত্রু, এবং এক মানুষের দানব, নাম গলিয়াথ ইস্রায়েলীয়দের পরাজিত করতে এক সৈন্যবাহিনীর নেতৃত্ব দিল, এবং তাই ইস্রায়েলীয়রা নিরুৎসাহ হয়ে পরাজয় স্বীকার করল I দায়ূদ গলিয়াথকে চ্যালেঞ্জ করল এবং তাকে যুদ্ধে নিহত করল I এক মহান যোদ্ধার উপরে একজন বালক মেষপালক রাখালের উল্লেখযোগ্য বিজয় দায়ূদকে প্রখ্যাত করে তুলল I   

যাইহোক, তিনি কেবল দীর্ঘ এবং কঠিন অভিজ্ঞতা সমূহের পরে রাজা হলেন কারণ বিদেশে এবং ইস্রায়েলীয়দের উভয়ের মধ্যে তার অনেক শত্রু ছিল, যারা তার বিরোধিতা করেছিল I দায়ূদ তার সমস্ত শত্রুদের উপরে চূড়ান্তভাবে বিজয় লাভ করলেন কারণ তিনি ঈশ্বরের উপরে ভরসা করেছিলেন আর ঈশ্বর তাকে সাহায্য করলেন I হিব্রু বেদার বিভিন্ন বইগুলো অর্থাৎ বাইবেল দায়ূদের এই সংগ্রাম এবং বিজয়গুলো সম্পর্কে বর্ণনা করে I 

এছাড়াও দায়ূদ একজন সঙ্গীতজ্ঞ হিসাবে বিখ্যাত ছিলেন যিনি ঈশ্বরের নিকট সুন্দর গীত এবং কবিতা সমূহের রচনা করেছিলেন I এই গীত এবং কবিতাগুলো ঈশ্বরের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিল এবং বেদা পুস্তকমের মধ্যে গীতসংহিতার বই গঠন করেছিল I  

গীতসংহিতার মধ্যে ‘খ্রীষ্টের’ ভবিষ্যদ্বাণী সমূহ 

যদিও একজন মহান রাজা এবং যোদ্ধা ছিলেন, দায়ূদ গীতসংহিতার মধ্যে লিখেছিলেন একজন ‘খ্রীষ্ট’ তার রাজকীয় বংশের থেকে আসছেন যিনি তাকে শক্তি ও কর্তৃত্বের মধ্যে নিষ্প্রভ করবেন I এখানে হিব্রু বেদার (বাইবেল) গীতসংহিতার মধ্যে খ্রীষ্টকে যেভাবে প্রবর্তন করা হল তা ভাগবদ গীতার অনুরূপ রাজকীয় যুদ্ধের দৃশ্যের অবতারণা I 

1জাতিগণ কেন কলহ করে?

লোকবৃন্দ কেন অনর্থক বিষয় ধ্যান করে?

2পৃথিবীর রাজগণ দণ্ডায়মান হয়,

নায়কগণ একসঙ্গে মন্ত্রণা করে,

সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে এবং তাঁহার ‘অভিষিক্ত’ ব্যক্তির বিরুদ্ধে;

3[বলে,] ‘আইস, আমরা উহাদের বন্ধন ছিঁড়িয়া ফেলি,

আপনাদের হইতে উহাদের রজ্জু খুলিয়া ফেলি।’

4যিনি স্বর্গে উপবিষ্ট, তিনি হাস্য করিবেন;

প্রভু তাহাদিগকে বিদ্রূপ করিবেন।

5তখন তিনি ক্রোধে তাহাদের কাছে কথা কহিবেন,

কোপে তাহাদিগকে বিহ্বল করিবেন।

6আমিই আমার ‘রাজাকে’ স্থাপন করিয়াছি

আমার পবিত্র সিয়োন-পর্ব্বতে।

7আমি সেই বিধির বৃত্তান্ত প্রচার করিব;

সদাপ্রভু আমাকে কহিলেন, তুমি আমার পুত্র,

অদ্য আমি তোমাকে জন্ম দিয়াছি।

8আমার নিকটে যাচ্ঞা কর, আমি জাতিগণকে তোমার দায়াংশ করিব,

পৃথিবীর প্রান্ত সকল তোমার অধিকারে আনিয়া দিব।

9তুমি লৌহদণ্ড দ্বারা তাহাদিগকে ভাঙ্গিবে,

কুম্ভকারের পাত্রের ন্যায় খণ্ড বিখণ্ড করিবে।

10অতএব এখন, রাজগণ! বিবেচক হও;

পৃথিবীর বিচারকগণ! শাসন গ্রাহ্য কর।

11তোমার সভয়ে সদাপ্রভুর আরাধনা কর,

সকম্পে উল্লাস কর।

12পুত্রকে চুম্বন কর, পাছে তিনি ক্রুদ্ধ হন ও তোমরা পথে বিনষ্ট হও,

কারণ ক্ষণমাত্রে তাঁহার ক্রোধ প্রজ্বলিত হইবে।

ধন্য তাহারা সকলে, যাহারা তাঁহার শরণাপন্ন।

গীতসংহিতা 2 

এখানে সেই একই অনুচ্ছেদ কিন্তু গ্রীক থেকে যেমনটি পূর্বে ব্যাখ্যা করা   হয়েছে

ন্যান্য জাতিগুলোর লোকজন এত ক্রুদ্ধ কেন? কেন তারা বোকার মত পরিকল্পনা করছে?
তাদের রাজারা এবং নেতারা, প্রভু এবং তাঁর মনোনীত রাজার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য একত্রিত হচ্ছে|

গীতসংহিতা 2:1-2 – হিব্রু এবং গ্রীকের মূল ভাষায় (LXX)

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পরিণাম

যেমন আপনি দেখতে পারেন, গীতসংহিতা 2 এর মধ্যে ‘খ্রীষ্টের’/’অভিষিক্তের’ প্রসঙ্গ ভাগবদগীতার কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের অনুরূপ I তবে কিছু পার্থক্যের উদ্ভব হয় যখন আমরা অনেক আগের কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পরিণাম সম্পর্কে চিন্তা করি I

অর্জুন এবং পান্ডব যুদ্ধে জয়লাভ করলেন, এবং তাই যুধিষ্ঠিরকে ন্যায়সঙ্গত রাজা হিসাবে দখলকারী কৌরবদের হাত থেকে পান্ডবদের হাতে ক্ষমতার এবং শাসনের পরিবর্তন হ’ল I 18 দিনের যুদ্ধে সমস্ত পান্ডব ভাইগণ এবং কৃষ্ণ জীবিত রইলেন তবে মুষ্টিমেয় কয়েকজন জীবিত রইল বাকি প্রত্যেকে নিহত  হ’ল I তবে যুদ্ধের পরে 36 বছর ধরে শাসনের পরে যুধিষ্টির সিংহাসন ত্যাগ করেছিলেন এবং উপাধিটি অর্জুনের নাতি পরীক্ষিতকে দিয়েছিলেন I তিনি তারপরে দ্রৌপদী এবং তার ভাইদের সঙ্গে হিমালয়ে প্রস্থান করলেন I দ্রৌপদী এবং চার ভাই – ভীম, অর্জুন, নকুল এবং সহদেবের যাত্রার সময়ে মৃত্যু হ’ল I যুধিষ্ঠিরকে স্বয়ং স্বর্গে প্রবেশের অনুমোদন দেওয়া হ’ল I কৌরবদের মা গান্ধারী কৃষ্ণের উপর যুদ্ধ না থামাবার জন্য ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন এবং তাই তিনি তাকে অভিশাপ দিলেন এবং যুদ্ধের 36 বছর পরে তিনি নিহত হলেন যখন আন্ত:জাতির লড়াইয়ের কারণে দুর্ঘটনাক্রমে একটি তীর তাকে আঘাত করল I কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ এবং পরবর্তীকালে কৃষ্ণের হত্যাকান্ড বিশ্বকে কলিযুগে নিয়ে গেল I

সুতরাং কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের থেকে আমাদের কাছে কি লাভ এসেছে?

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের থেকে আমাদের কাছে ফল 

আমাদের জন্যে হাজার বছর পরে বাস করা আমরা আমাদের আরও বেশি প্রয়োজনের মধ্যে খুঁজে পাই I আমরা সংসারের মধ্যে বাস করি, অবিরতভাবে যন্ত্রণা, ব্যাধি, বৃদ্ধাবস্থা এবং মৃত্যুর ছায়ায় বসবাস করি I আমরা এমন সরকারের অধীনে বাস করি যারা সাধারণতঃ দুর্নীতিগ্রস্ত হয় এবং শাসকদের ধনী ও ব্যক্তিগত বন্ধুদের সাহায্য করে I আমরা বিভিন্ন দিক দিয়ে কলি যুগের প্রভাব সমূহকে অনুভব করি I 

আমরা এমন একটি সরকারের জন্য আকুল হয়ে আকাঙ্খা করি যা দুর্নীতি পোষণ করবে না এমন একটি সমাজের জন্য যা কলি যুগের অধীনে নয় এবং সংসারের অনন্তকালীন পাপ ও মৃত্যু থেকে ব্যক্তিগত মুক্তি পাওয়ার জন্য I 

গীতসংহিতার 2 এর আসন্ন ‘খ্রীষ্টের’ থেকে আমাদের জন্য ফল  

হিব্রু ভাববাদীরা ব্যাখ্যা করেন গীতসংহিতা 2 এর মধ্যে প্রবর্তিত ‘খ্রীষ্ট’ কিভাবে আমাদের এই চাহিদাগুলো পূরণ করবেন I এই চাহিদাগুলো পূরণের জন্য এক যুদ্ধের প্রয়োজন হবে, তবে কুরুক্ষেত্রের থেকে একটি ভিন্ন যুদ্ধ এবং এমনকি গীতসংহিতা 2 এর মধ্যে চিত্রিত যুদ্ধের থেকেও ভিন্ন I এটি এমন এক যুদ্ধ যাকে কেবলমাত্র ‘খ্রীষ্ট’ই শুরু করতে পারেন I এই ভাববাদীরা দেখায় যে ক্ষমতা এবং শক্তির দ্বারা শুরু করার পরিবর্তে, পাপ এবং মৃত্যু থেকে মুক্তি পাবার জন্য আমাদের প্রয়োজনে খ্রীষ্ট সেবা করার দ্বারা শুরু করেন I তারা দেখায় কিভাবে গীতসংহিতার দিকে পথে একদিন পৌঁছানো যাবে, অন্য এক দখলকারীকে পরাস্ত করার জন্য প্রথমে অন্য যুদ্ধের দীর্ঘ পথ অবলম্বন করা দরকার, সামরিক শক্তির দ্বারা নয় বরং তাদের জন্য প্রেম ও ত্যাগের দ্বারা যারা সংসারে বন্দী আছে I আমরা দায়ূদের রাজকীয় বৃক্ষের মৃত গুঁড়ির থেকে অঙ্কুর দিয়ে এই যাত্রা শুরু করি I

রাজের মতন: যীশু খ্রীষ্টের ‘খ্রীষ্টের’ মানে কি?

আমি মাঝে মাঝে লোকেদের জিজ্ঞাসা করি যীশুর শেষ নাম কি ছিল I তারা সাধারণতঃ উত্তর দেয়,

 “আমার মনে হয় তার শেষ নাম ছিল ‘খ্রীষ্ট’, তবে আমি নিশ্চিত নয়”I 

তখন আমি জিজ্ঞাসা করি,

“তাহলে যীশু যখন এক বালক ছিল তখন যোষেফ খ্রীষ্ট এবং মরিয়ম ছোট্ট যীশু খ্রীষ্টকে কি বাজারে নিয়ে গিয়েছিলেন?’ 

সেইভাবে রাখলে, তারা উপলব্ধি করে যে ‘খ্রীষ্ট’ যীশুর পারিবারিক নাম নয় I তাহলে ‘খ্রীষ্ট’ কি? কোথা থেকে এটি এসেছে? এর মানে কি? অনেকের কাছে অবাক লাগে, ‘খ্রীষ্ট’ এমন একটি উপাধি যার অর্থ ‘শাসক’ বা ‘শাসন করা’ I এটি ‘রাজ’ শিরোনামের বিপরীত নয়, যেমন ব্রিটিশ রাজের মধ্যে যে স্বাধীনতার পূর্বে ভারতবর্ষকে শাসন করেছিল I 

অনুবাদ বনাম অক্ষরীকরণ 

আমাদের প্রথমে অনুবাদের কিছু মূলসুত্রগুলোকে বুঝতে হবে I অনুবাদকরা মাঝে মাঝে অর্থের পরিবর্তে অনুরূপ ধ্বনির দ্বারা অনুবাদ করতে পচ্ছন্দ করে, বিশেষকরে নাম এবং শিরোনাম সমূহের I এটিকে অক্ষরীকরণ বলা হয় I উদাহরণস্বরূপ, “কুম্ভ মেলা” হিন্দি कुंभ मेला থেকে একটি ইংরেজি অক্ষরীকরণ I যদিও मेला মানে ‘মেলা’ বা ‘উৎসব’ এটিকে কুম্ভ ফেয়ারের পরিবর্তে অনুরূপ ধ্বনির দ্বারা ইংরেজিতে নিয়ে আসা হয়েছে I “রাজ” হিন্দি  “राज” থেকে একটি ইংরেজি অক্ষরীকরণ I যদিও राज  মানে   ‘শাসন করা’  বোঝায় এটিকে “ব্রিটিশ শাসনের’ পরিবর্তে “ব্রিটিশ রাজ” ধ্বনির দ্বারা ইংরেজিতে নিয়ে আসা হয়েছিল I বেদা [পুস্তকমের] (বাইবেল) সাথে, অনুবাদকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হত কোন নাম এবং শিরোনামগুলোকে (অর্থের দ্বারা) অনুবাদ এবং কোনগুলোকে (ধ্বনির দ্বারা) অক্ষরীকরণ করতে হবে I সেখানে কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই I 

সেপ্টুজিয়ান্ট 

বাইবেলকে প্রথমে 250 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে অনুবাদ করা হয়েছিল যখন হিব্রু বেদা (পুরনো নিয়ম) গ্রীকে অনুবাদিত হয়েছিল – সেই সময়ের আন্তর্জাতিক ভাষা I এই অনুবাদ সেপ্টুজিয়ান্ট (বা LXX) নামে পরিচিত এবং এটি খুব প্রভাবী  ছিল I যেহেতু নতুন নিয়মকে গ্রীকের মধ্যে লেখা হয়েছিল, এর পুরনো নিয়মের অনেক উদ্ধৃতি সমূহকে সেপ্টুজিয়ান্ট থেকে নেওয়া হয়েছিল I 

সেপ্টুজিয়ান্ট এর মধ্যে অনুবাদ এবং অক্ষরীকরণ 

নিচের চিত্রটি এই প্রক্রিয়াকে দেখায় এবং কিভাবে এটি আধুনিক-দিনের বাইবেলগুলোকে প্রভাবিত করে  

অনুবাদ প্রবাহ মূল ভাষা থেকে আধুনিক-দিনের বাইবেলে

মূল হিব্রু পুরনো নিয়মকে (1500 – 400 খ্রীষ্টাব্দে লেখা) চতুর্থাংশ #1 এর মধ্যে দেখানো হয়েছে I কারণ সেপ্টুজিয়ান্ট একটি 250 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ হিব্রু –>  গ্রীক অনুবাদ ছিল এটিকে একটি তীরের দ্বারা দেখান হয়েছে চতুর্থাংশ  #1 থেকে  #2 এর দিকে যাচ্ছে I নতুন নিয়ম গ্রীকে লেখা হয়েছিল (50 – 90 খ্রীষ্টাব্দ) তাই #2 এর মধ্যে উভয় পুরনো এবং নতুন নিয়ম রয়েছে I নিচের অর্ধেক  (#3) বাইবেলের একটি আধুনিক ভাষার অনুবাদ I পুরনো নিয়মটি (হিব্রু বেদা) মূল হিব্রু থেকে (1–>3) অনুবাদিত হয়েছে এবং নতুন নিয়ম গ্রীক থেকে (2–>3) অনুবাদিত হয়েছে I নাম এবং শিরোনাম সমূহের উপরে অনুবাদকদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে যেমনটি পূর্বে ব্যাখ্যা করা হয়েছে I এটিকে অক্ষরীকরণ এবং অনুবাদ লেবেলের সাথে নীল তীরের দ্বারা দেখানো হয়েছে, দেখায় যে অনুবাদকরা উভয় পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারেন I     

 ‘খ্রীষ্টের’ উৎপত্তি  

‘খ্রীষ্ট’ শব্দের উপরে ফোকাস করে এখন উপরোক্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন I  

বাইবেলের মধ্যে ‘খ্রীষ্ট’ কোথা থেকে এসেছে?

হিব্রু পুরনো নিয়মে উপাধিটি হ’ল  ‘מָשִׁיחַ’ (মাশিয়াক) যার অর্থ হ’ল অভিষিক্ত বা উৎসর্গীকৃত ব্যক্তি, যেমন একজন রাজা বা শাসক I সেই সময়ের হিব্রু রাজাদের তাদের রাজা হওয়ার পূর্বে অভিষিক্ত করা হত (আনুষ্ঠিনিকভাবে তৈল মর্দন করে) এইরূপে তারা অভিষিক্ত ব্যক্তি বা মাশিয়াক হয়েছিল I তারপরে তারা শাসক হত, কিন্তু তাদের শাসনকে ঈশ্বরের স্বর্গীয় শাসনের অধীনস্থ হতে হত, তাঁর ব্যবস্থা অনুসারে I সেই অর্থে পুরনো নিয়মে হিব্রু রাজারা রাজের মতন ছিল I রাজ দক্ষিন এশিয়ার ব্রিটিশ অঞ্চলের উপরে শাসন করত, তবে বৃটেনের সরকারের অধীনস্থ হয়ে, এর ব্যবস্থা অনুসারে I      

পুরনো নিয়ম একজন নির্দিষ্ট মাশিয়াকের আগমনের বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল (একটি নির্দিষ্ট আর্টিকেল ‘দি’ এর সাথে) যিনি একজন অনন্য রাজা হবেন I 250 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে যখন সেপ্টুজিয়ান্ট অনুবাদিত হ’ল, অনুবাদকরা গ্রীকের মধ্যে একটি অনুরূপ অর্থের শব্দের চয়ন করলেন I Χριστός (ক্রিস্তোস ধ্বনির মতন), ক্রিয়োর থেকে ভিত্তি করে, যার অর্থ ছিল তৈলের দ্বারা আনুষ্ঠানিকভাবে মর্দন করা I অতএব হিব্রু ‘মাশিযাক’ অর্থের দ্বারা গ্রীক সেপ্টুজিয়ান্ট এর মধ্যে Χριστός তে অনুবাদিত হয়েছিল (ধ্বনির দ্বারা অক্ষরীকরণ নয়) I নতুন নিয়মের রচয়িতারা যীশুর পরিচিতির জন্য ক্রিস্তোস শব্দটিকে ক্রমাগত ব্যবহার করতে লাগলেন যেমনটি এটিকে ‘মাশিয়াক’ রূপে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল I   

ইউরোপীয় ভাষাগুলোর জন্য অনুরূপ অর্থ সহ কোনো স্পষ্ট শব্দ ছিল না তাই নতুন নিয়মের গ্রীক ‘ক্রিস্তোস’ ‘খ্রীষ্টে’ অক্ষরীকরণ করা হয়েছিল I ‘খ্রীষ্ট’ শব্দটি পুরনো নিয়মের মূলগুলোর সাথে একটি অত্যন্ত নিদিষ্ট উপাধি, হিব্রুর থেকে গ্রীকে অনুবাদের দ্বারা এবং তারপরে গ্রীক থেকে আধুনিক ভাষাগুলোতে অক্ষরীকরণের দ্বারা I পুরনো নিয়মকে হিব্রু থেকে আধুনিক ভাষাগুলোতে সরাসরিভাবে অনুবাদ করা হয়েছে এবং অনুবাদকরা মূল হিব্রু ‘মাশিয়াক’ সম্বন্ধে বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন I কিছু বাইবেল মসীহর বৈচিত্রের সাথে  মাশিয়াকের অক্ষরীকরণ করে, অন্যরা অভিষিক্ত ব্যক্তি রূপে অর্থের দ্বরা অনুবাদ করে I খ্রীষ্টের জন্য একটি [হিন্দি] শব্দ (मसीह) আরবী থেকে অক্ষরীকরণ করা হয়েছে, যেটিকে পরিবর্তে, মূল হিব্রু থেকে অনুবাদিত করা হয়েছিল I অতএব এর উচ্চারণ মসীহ মূলের কাছাকাছি I  

হিব্রু শব্দ מָשִׁיחַ (মাশিয়াহ, মেশিয়াহ) কে “ক্রিস্তোস” রূপে গ্রিক সেপ্টুজিয়ান্ট এর মহ্য়ে অনুবাদিত করা হয়েছে I এটিকে পরিবর্তে ইংরেজিতে ‘খ্রীষ্ট’ রূপে অনুবাদিত করা হয়েছে এবং ‘ক্রাইস্ট’ এর মতন শুনতে লাগে I রীষ্টের বাংলা শব্দ হল ক্রিস্টো । এটি গ্রীক শব্দ “ক্রিস্টোস” থেকে অনূদিত এবং তাই krisṭō হিসাবেও উচ্চারণ করা হয়।

যেহেতু আমরা পুরনো নিয়মে ‘খ্রীষ্ট’ শব্দটিকে সাধারণতঃ দেখিনা, পুরনো নিয়মের সঙ্গে এর যোগাযোগ সর্বদা স্পষ্ট নয় I তবে অধ্যয়ন থেকে আমরা জানি যে ‘খ্রীষ্ট’=’মেশিয়াহ’=’অভিষিক্ত ব্যক্তি’ এবং সেটি একটি নিদিষ্ট উপাধি ছিল I    

প্রথম শতাব্দীতে খ্রীষ্ট প্রত্যাশিত ছিল 

এখন সুসমাচার থেকে আমাদের কিছু পর্যবেক্ষণ করা যাক I নিচে রাজা হেরোদের প্রতিক্রিয়া রয়েছে যখন মাগি যিহূদিদের রাজার খোঁজে এলো, খ্রীষ্টমাস কাহিনীর একটি অংশ I লক্ষ্য করুন খ্রীষ্টের পূর্বে ‘দি’ রয়েছে এমনকি যদিও এটি নির্দিষ্টভাবে যীশুর সমন্ধে উল্লেখ করছে না I 

রাজা হেরোদ একথা শুনে খুব বিচলিত হলেন এবং তাঁর সঙ্গে জেরুশালেমের সব লোক বিচলিত হল৷
তখন তিনি ইহুদীদের মধ্যে যাঁরা প্রধান যাজক ও ব্যবস্থার শিক্ষক ছিলেন, তাঁদের ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, মশীহ (খ্রীষ্ট) কোথায় জন্মগ্রহণ করবেন?

মথি 2:3-4

আপনি দেখুন ‘দি খ্রীষ্টের’ ধারণাকে রাজা হেরোদ এবং তার পরামর্শকারীদের মধ্যেকার বিষয় রূপে ভালভাবে বোঝা যায় – এবং এখানে যীশুকে নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে না I এটি দেখায় ‘খ্রীষ্ট’ পুরনো নিয়ম থেকে আসে, সাধারনভাবে প্রথম শতাব্দীর মধ্যে গ্রীক সেপ্টুজিয়ান্ট থেকে লোকেদের দ্বারা পড়া হয় I ‘খ্রীষ্ট’ ছিল (এবং আছে) একটি উপাধি, নাম নয়, একজন শাসক বা রাজাকে বোঝায় I এই জন্যই হেরোদ ‘বিচলিত হলেন’ কারণ আর একজন রাজার সম্ভাবনার ঝুঁকি তিনি অনুভব করলেন I আমরা ধারনাটিকে খারিজ করতে পারি যে ‘খ্রীষ্ট’ একটি খ্রীষ্টান আবিষ্কার ছিল I সেখানে কোনো খ্রীষ্টান থাকার পূর্বে উপাধিটি শতাধিক বছর ধরে ব্যবহারে ছিল I  

খ্রীষ্টের কর্তৃত্বের প্রহেলিকা 

যীশুর আদি অনুগামীরা বিশ্বস্ত হয়েছিল যে যীশু ছিলেন আসন্ন খ্রীষ্ট যার সম্বন্ধে হিব্রু বেদার মধ্যে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল, যখন অন্যরা এই বিশ্বাসের বিরোধিতা করেছিল I  

কেন? 

উত্তরটি প্রেম বা শক্তির উপরে ভিত্তিশীল শাসন সম্পর্কে একটি প্রহেলিকার  হৃদয়ে যায় I ব্রিটিশ মুকুটের অধীনে ভারতে শাসন করার রাজের কর্তৃত্ব ছিল I তবে এটি ভারতকে শাসন করার অধিকার পেয়েছিল কারণ রাজ প্রথমে সামরিক শক্তিতে এসেছিল এবং এর ক্ষমতার মাধ্যমে বাহ্যিক অধীনস্থ জোরপূর্বক চাপিয়ে দিয়েছিল I লোকেরা রাজকে ভালোবাসেনি এবং গান্ধীর মতন নেতাদের মাধ্যমে, অবশেষে রাজকে উচ্ছেদ করা হল I  

যীশু খ্রীষ্ট হিসাবে অধীনস্থ দাবি করতে আসেন নি, এমনকি যদিও তার কাছে কর্তৃত্ব ছিল I প্রেম বা ভক্তির উপরে ভিত্তিশীল একটি অনন্তকালীন রাজ্য স্থাপন করতে এসেছিলেন, এবং এটির প্রয়োজন ছিল যে একদিকে ক্ষমতা এবং কর্তৃত্বের মধ্যে কূটাভাস অন্যদিকে প্রেমের সাক্ষাত I হিব্রু ভাববাদীরা ‘খ্রীষ্টের’ আগমনের বিষয়ে আমাদেরকে বুঝতে সাহায্য করতে এই প্রহেলিকার অন্বেষণ করলেন I হিব্রু রাজা দায়ূদের থেকে 1000 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে আসা হিব্রু বেদার মধ্যে ‘খ্রীষ্টের’ প্রথম আবির্ভাব থেকে আমরা তাদের অন্তর্দৃষ্টিকে অনুসরণ করে আসছি I  

যিহূদিদের ইতিহাস: সারা ভারতবর্ষ এবং পৃথিবী ব্যাপী

ভারতবর্ষে যিহূদিদের এক দীর্ঘ ইতিহাস আছে, তারা সহস্রাধিক বছর ধরে এখানে থেকে, ভারতীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে মশি সংক্রান্ত একটি ছোট সম্প্রদায়কে গঠন করেছে I অন্য সম্প্রদায় সমূহের থেকে আলাদা (যেমন জৈন, শিখ, বৌদ্ধ সমূহ), যিহূদিরা তাদের ঘর তৈরী করতে মূলতঃ ভারতবর্ষের বাইরে থেকে এসেছিল I 2017 সালের গ্রীষ্মে ভারতের প্রধান মন্ত্রী মোদির ইস্রায়েল ভ্রমণের ঠিক পূর্বে তিনি ইস্রায়েলের প্রধান মন্ত্রী নেতানিয়াহুর সাথে একটি সংযুক্ত ওপ-এড লিখলেন I যখন তারা লিখলেন তারা ভারতবর্ষে যিহূদিদের বসবাস হেতু আগমনকে স্বীকৃতি দিলেন I

ভারতবর্ষের যিহূদি সম্প্রদায়কে সর্বদা উষ্ণ এবং সম্মানের সাথে স্বাগত করা হয়েছিল এবং কখনও কোনো অত্যাচারের সম্মুখীন হয় নি I 

প্রকৃতপক্ষে, ভারতবর্ষের ইতিহাসের উপরে যিহূদিদের এক গভীর প্রভাব ছিল, ভারতীয় ইতিহাসের একগুঁয়ে রহস্যের সমাধান করে – কিভাবে লেখার উদয় হয়েছিল যেমন এটি ভারতে হয়েছিল? এই প্রশ্নের উত্তর ভারতীয় সংস্কৃতির সমস্ত

ভারতবর্ষের যিহূদি ইতিহাস

যদিও স্বতন্ত্র, তবুও যিহূদিরা পরম্পরাগত ভারতীয় পোশাক গ্রহণ করার দ্বারা মিশে গিয়েছিল I 

কত সময় ধরে যিহূদি সম্প্রদায় সমূহ ভারতবর্ষে রয়েছে? দি টাইমস অফ ইস্রায়েল সম্প্রতি একট নিবন্ধ প্রকাশিত করেছে যা লক্ষণীয় যে 27 শতাব্দীর পরে মনশি: উপজাতির (মনশিদের সন্তানরা) থেকে যিহূদিরা মিজোরাম থেকে ইস্রায়েলে ফিরছে I সেটি তাদের পূর্বপুরুষগণকে মূলতঃ 700 খ্রীষ্টপূর্বাব্দের আশেপাশে এখানে পৌঁছায় I তাদের তেলেগুভাষী আত্মীয় স্বজনদের কাছে যারা পার্সিয়া, আফগানিস্তান, তিব্বত এবং পরে চীনের মধ্য দিয়ে ঘুরে বেড়ানোর পরে যিহূদি উপজাতি ইফ্রয়িমের (ইফ্রয়িমের সন্তানরা) থেকে অন্ধ্রপ্রদেশে বাস করছে তাদের কাছে 1000 বছরের বেশি সময় ধরে ভারতে থাকার সম্মলিত এক স্মৃতি রয়েছে I কেরালার কোচিন যিহূদিরা প্রায় 2600 বছর ধরে সেখানে বাস করছে I শত শত বছর ধরে যিহূদিরা ভারতবর্ষ জুড়ে ছোট কিন্তু স্বতন্ত্র সম্প্রদায় সমূহ গঠন করেছিল I তবে এখন তারা ইস্রায়েলের জন্য ভারত্বর্শছেরে চলে যাচ্ছে I

কোচিনের যিহূদি সমাজগৃহের উপরে শিলালিপি I এটি সেখানে 300 বছর ধরে রয়েছে I

যিহূদিরা কিভাবে ভারতবর্ষে বসবাস করতে এসেছিল? এত দীর্ঘ সময় পরে তারা কেন ইস্রায়েলে ফিরে যাচ্ছে? অন্য কোনো জাতির চয়ে তাদের ইতিহাস সম্বন্ধে আমাদের কাছে অধিক তথ্য সমূহ আছে I একটি কালপঞ্জিকে ব্যবহার করে তাদের ইতিহাসকে সংক্ষিপ্তসার করতে আমরা এই তথ্যকে ব্যবহার করব I  

আব্রাহাম: যিহূদি পরিবারের আরম্ভ

আব্রাহামের সাথে কালপঞ্জি শুরু হয় I তাকে জাতি সমূহের এক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল এবং তার সাথে ঈশ্বরের সাক্ষাতকার হয়েছিল যা তার পুত্র ইসহাকের প্রতীকাত্মক বলিদানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় I এটি তার বলিদানের ভবিষ্যত স্থানকে চিহ্নিত করার দ্বারা যীশুর (যেশু সৎসংগ) প্রতি একটি সাঙ্কেতিক চিহ্ন ছিল I ইসহাকের পুত্রকে ঈশ্বরের দ্বারা ইস্রায়েল নামে অভিহিত করা হয়েছিল I মিসরে ইস্রায়েলের বংশধরদের দাস রূপে থাকার সময়টি  কালপঞ্জির মধ্যে সবুজের মধ্যে চলতে থাকে I এই সময়কাল আরম্ভ হয়েছিল যখন ইস্রায়েলের পুত্র যাকোব (বংশ্রক্রমটি ছিল: আব্রাহাম -> ইসহাক -> ইস্রায়েল  (এছাড়াও যাকোব রূপে পরিচিত) -> যোষেফ), ইস্রায়েলীয়দের মিসরে নিয়ে গেল, যেখানে পরবর্তী সময়ে তারা দাসে পরিণত হল I

ফরৌণের দাস রূপে মিসরে বসবাস 

মশি: ইস্রায়েলীয়রা ঈশ্বরের অধীনে এক জাতিতে পরিণত হ’ল

নিস্তারপর্ব মহামারীর সাহায্যে মশি ইস্রায়েলীয়দের নেতৃত্ব দিলেন, যা মিসরকে ধ্বংস করল এবং ইস্রায়েলীয়দের মিসর থেকে ইস্রায়েল দেশে নিয়ে এল I তার মৃত্যুর পূর্বে, মশি ইস্রায়েলীয়দের উপরে আশীর্বাদ এবং অভিশাপ ঘোষণা করলেন (যখন কালপঞ্জি সবুজ থেকে হলুদের দিকে যায়) I তারা আশির্বাদিত হবে যদি তারা ঈশ্বরের বাধ্য হয়, যদি তারা না করে তবে অভিশপ্ত হবে I ইস্রায়েলের ইতিহাস এই আশীর্বাদ এবং অভিশাপের কাছে পরে চিরকাল আবদ্ধ রইল I

শত শত বছর ধরে ইস্রায়েলীয়রা তাদের দেশে রইল তবে তাদের কাছে কোনো রাজা থাকলো না, নাতো তাদের কাছে যিরূশালেমের রাজধানী নগর থাকল – এই সময়ে এটি অন্য লোকেদের কাছে ছিল I যাইহোক 1000 খ্রীষ্টাব্দের আশে পাশে রাজা দায়ূদের সাথে এটির পরিবর্তন হ’ল I 
যিরূশালেম থেকে রাজা দায়ূদের শাসনের সাথে বসবাস

রাজা দায়ূদ যিরূশালেমে এক রাজকীয় বংশের স্থাপনা করেন 

দায়ূদ য়িরুশালেম জয় করে এটিকে তার রাজধানী নগর বানালেন I তিনি এক আসন্ন ‘খ্রীষ্টের’ প্রতিশ্রুতি পেলেন এবং সেই সময় থেকে যিহূদি জনগন খ্রীষ্টের আগমনের প্রতীক্ষা করল I তার পুত্র ধনবান এবং বিখ্যাত শলোমন তার উত্তরাধিকারী হলেন এবং যিরূশালেমর মধ্যে মোরিয়া পর্বতের উপরে প্রথম যিহূদি মন্দির নির্মাণ করলেন I দায়ূদের বংশধররা প্রায় 400 বছর ধরে শাসন করতে থাকল আর এই সময়কালকে ফেকাশে নীলবর্ণে দেখানো হয়েছে (1000 – 600 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) I এটি ইস্রায়েলের গৌরবের সময়কাল ছিল – তাদের কাছে প্রতিশ্রুত আশীর্বাদ সমূহ ছিল I তারা একটি শক্তিশালী জাতি ছিল; তাদের কাছে একটি উন্নত সমাজ, সংস্কৃতি, এবং তাদের মন্দির ছিল I তবে এছাড়াও  পুরনো নিয়ম এই সময়ে তাদের ক্রমবর্ধমান দুর্নীতির কথা বর্ণনা করে I এই সময়কালের মধ্যে অনেক ভাববাদী ইস্রায়েলীয়দের সতর্ক করেছিলেন যে যদি তাদের পরিবর্তন না হয় তবে মশির অভিশাপ সমূহ তাদের উপরে আসবে I এই সতর্কতা সমূহকে উপেক্ষা করা হয়েছিল I এই সময়কালের মধ্যে ইস্রায়েলীয়রা দুটি আলাদা রাজ্যে বিভক্ত হ’ল: ইস্রায়েল বা ইফ্রয়িমের উত্তরাঞ্চল রাজ্য, এবং যিহূদার দক্ষিণাঞ্চল রাজ্য (যেমন আজকের কোরিয়া, এক জনগণ দুটি দেশে বিভক্ত – উত্তর এবং দক্ষিন কোরিয়া) I

প্রথম যিহূদি নির্বাসন: অশুরিয়া এবং বাবিল 

অবশেষে, দুটি পর্যায়ে তাদের উপরে অভিশাপ সমূহ নেমে এলো I 722 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে অশুরিয়রা উত্তরাঞ্চল রাজ্যকে ধ্বংস করল এবং ওই ইস্রায়েলীয়দের তাদের বিশাল সাম্রাজ্য জুড়ে গণ নির্বাসনে পাঠানো হল I মিজোরামের মনশি: সন্তানরা, অন্ধ্রপ্রদেশের ইফ্রয়িম সন্তানরা ওই নির্বাসিত ইস্রায়েলীয়দের বংশধর I পরে 586 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে, একজন শক্তিশালী বাবিলোনিয়ান রাজা নবুখদনিৎসর এলেন – ঠিক যেমন মশি 900 বছর পূর্বে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যখন তিনি তার অভিশাপের মধ্যে লিখলেন: 

49 “তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য প্রভু বহু দূর থেকে এক জাতির আগমণ ঘটাবেন| তোমরা তাদের ভাষা বুঝবে না| ঈগল পাখী য়েমন আকাশ থেকে নেমে আসে তেমনি দ্রুত তারা আসবে| 
50 সেই সব লোক নিষ্ঠুর হবে| তারা বৃদ্ধদের বিষয়ে কোন চিন্তা করবে না এবং শিশুদের প্রতিও দযা করবে না| 
51 তারা তোমাদের পশু ও উত্পন্ন খাদ্য নিয়ে নেবে| তোমাদের ধ্বংস না করা পর্য়ন্ত তারা তোমাদের সর্বস্ব নিয়ে যাবে| তারা তোমাদের শস্য, দ্রাক্ষারস, তেল, গরু, মেষ ও ছাগলের কিছুই ছেড়ে যাবে না| তোমাদের ধ্বংস না করা পর্য়ন্ত তারা তোমাদের সর্বস্ব নিয়ে যাবে| 
52 “সেই জাতি তোমাদের নগরের চারিদিক ঘিরে তোমাদের আক্রমণ করবে| তোমরা কি মনে করছ নগরের চারিধারের শক্ত উঁচু প্রাচীর তোমাদের রক্ষা করবে? কিন্তু তারা ভেঙ্গে পড়বে| প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের, দেওয়া সেই দেশের সর্বত্র সমস্ত নগরগুলি শত্রুরা আক্রমণ করবে| 

দ্বিতীয় বিবরণ 28: 49-52

নবুখদনিৎসর যিরূশালেম জয় করলেন, এটিকে পোড়ালেন, এবং শলোমনের দ্বারা নির্মিত মন্দিরকে ধ্বংস করলেন I এটি মশির ভবিষ্যদ্বাণী সমূহকে পূর্ণ করল যে

63 “প্রভু তোমাদের মঙ্গল করে ও তোমাদের জাতির বৃদ্ধি সাধন করে য়েমন আনন্দ পেতেন, সেই একই ভাবে তিনি তোমাদের সর্বনাশ ও ধ্বংস দেখে আনন্দ পাবেন| তুমি য়ে দেশ অধিকার করতে যাচ্ছ, লোক তোমাদের সেই দেশ থেকে বের করে দেবে| 
64 আর প্রভু পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্য়ন্ত সমস্ত জাতির মধ্যে তোমাদের ছড়িয়ে দেবেন| সেখানে তোমরা কাঠ, পাথরের তৈরী এমন মূর্ত্তির পূজা করবে, যাদের পূজা তোমাদের পূর্বপুরুষরা কখনও করে নি|

দ্বিতীয় বিবরণ 28:63-64
পরাজিত এবং বাবিলে নির্বাসিত হ’ল I

কেরালার কোচিনের যিহূদিরা এই নির্বাসিত ইস্রায়েলীয়দের বংশধর সমূহ ছিল I 70 বছর ধরে, সময়কালটিকে লালের মধ্যে দেখানো হয়েছে, এই ইস্রায়েলীয়দের (বা যিহূদিরা যেমন তাদেরকে এখন ডাকা হয়) দেশের বাইরে নির্বাসিত করা হয়েছিল যা আব্রাহাম এবং তার বংশধরদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল I

ভারতীয় সমাজে যিহূদি’র অবদান

 আমরা লেখার প্রশ্নটিকে তুলি যেটি ভারতবর্ষে উদিত হয়েছিল   I ভারতবর্ষের আধুনিক ভাষা সমূহকে তৎসহ হিন্দি, বাঙালি, মারাঠি, গুজরাতি তেলেগু, কান্নাড়, মালায়ালাম এবং তামিলের পাশাপাশি প্রাচীন সংস্কৃত যার মধ্যে ঋক বেদ এবং অন্যান্য সনাতন সাহিত্য লেখা হয়েছিল ব্রাহ্মিক লিপি সমূহ  বলে শ্রেণীভুক্ত করা হয় I যেহেতু এরা সবাই ব্রাহ্মীলিপি  নাম পরিচিত একটি পৈতৃক লিপি থেকে অবতীর্ণ হয় I ব্রাহ্মীলিপিকে অশোকের সাম্রাজ্যের সময়্কাল থেকে কেবলমাত্র কিছু প্রাচীন মুহুর্তে দেখা যায় I

অশোকের স্তম্ভের উপরে ব্রাহ্মীলিপি (250 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ)

যদিও বোঝা যায় ব্রাহ্মীলিপি কিভাবে এই আধুনিক ভাষা সমূহে পরিবর্তিত হয়, তবে যেটি স্পষ্ট নয় তা হ’ল ভারতবর্ষ প্রথমে কিভাবে ব্রাহ্মীলিপিকে গ্রহণ করল I পন্ডিতগণ লক্ষ্য করেন যে ব্রাহ্মীলিপি হিব্রু-ফৈনিকী লিপির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত, যেটি সেই লিপি ছিল যাকে ইস্রায়েলের যিহূদিদের দ্বারা তাদের নির্বাসন এবং ভারতবর্ষে আগমন কালে ব্যবহৃত হয়েছিল I ঐতিহাসিক ডা. অভিগদর সাচন (1) প্রস্তাব দেন যে ভারতে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী নির্বাসিত ইস্রায়েলীয়রা তাদের সঙ্গে করে হিব্রু-ফৈনিকীকে নিয়ে এসেছিল – যা ব্রাহ্মীলিপিতে পরিণত হয়েছিল I এছাড়াও এটি এই রহস্যের সমাধান করে কিভাবে ব্রাহ্মীলিপি এর নাম পেল I এটি কি শুধুমাত্র কাকতলীয় ঘটনা যে ব্রাহ্মীলিপি সেই একই সময়ে উত্তর ভারতে দেখা যায় যখন তাদের পৈতৃক ভূমি, আব্রাহামের দেশ থেকে নির্বাসনের মধ্যে আসা যিহূদিরা সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করে? স্থানীয় নিবাসিগণ যারা আব্রাহামের বংশধরদের লিপিকে গ্রহণ করল তারা এটিকে (A) ব্রাহ্মীলিপি নাম দিল I আব্রাহামের ধর্ম ছিল একেশ্বরবাদ, যার ভূমিকা সীমিত নয় I তিনি প্রথম, শেষ এবং অনন্তকালীন I সম্ভবতঃ এই জন্যই সেখানে (A) ব্র্হ্মার ধর্মের থেকে, ব্র্হ্মায় বিশ্বাসের আরম্ভ হ’ল I যিহূদিরা, তাদের লিপি এবং ধর্মকে ভারতবর্ষে আনার মাধ্যমে অনেক আক্রমনকারীদের তুলনায় যারা তাকে জয় করতে ও শাসন করতে চেয়েছিল এর চিন্তাধারা এবং ইতিহাসকে আরও অধিক মৌলিকভাবে রূপ দিল I এবং হিব্রু বেদার, মূলতঃ হিব্রু-ফৈনিকী/ব্রাহ্মীলিপিতে আসন্ন একজনের সম্বন্ধে এর থিম রয়েছে, যা সংস্কৃত ঋক বেদের আসন্ন পুরুসার থিমের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ I তবে আমরা তাদের পৈতৃক ভূমির থেকে তাদের নির্বাসনের পরে আরব প্রাচ্যে যিহূদিদের ইতিহাসে ফিরি I

পারস্যের অধীনে নির্বাসন থেকে প্রত্যাবর্তন

তার পরে, পার্সিয়ান সম্রাট কোরস বাবিলকে জয় করলেন এবং কোরস বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তি হলেন I তিনি যিহূদিদের তাদের দেশে ফেরার অনুমতি দিলেন I

পারস্য সাম্রাজ্যের অংশ হিসাবে দেশে বাস বসবাস 

যাইহোক তারা আর স্বতন্ত্র দেশ রইল না,তারা এখন পারস্য সাম্রাজ্যের মধ্যে একটি প্রদেশ ছিল I এটি 200 বছর ধরে চলতে থাকল এবং কালপঞ্জির গোলাপির মধ্যে রয়েছে I এই সময়ের মধ্যে যিহূদি মন্দির (দ্বিতীয় মন্দির রূপে পরিচিত) এবং য়িরুশালেম নগরকে পুনর্নির্মাণ করা হল I যদিও যিহূদিদের ইস্রায়েলে ফেরার অনুমতি দেওয়া হ’ল, তবুও অনেকে বিদেশের নির্বাসনে রয়ে গেল I

গ্রীকদের সময়কাল 

মহান আলেক্সান্ডার পারস্য সাম্রাজ্য জয় করল এবং গ্রীক সাম্রাজ্যের মধ্যে আরও 200 বছর ধরে ইস্রায়েলকে এক প্রদেশ পরিণত করল I এটিকে গাড় নীলের মধ্যে দেখানো হয়েছে I 

গ্রীক সাম্রাজ্যের অংশ হিসাবে দেশে বসবাস 

রোমীয়দের সময়কাল 

পরে রোমীয়রা গ্রীক সাম্রাজ্যকে পরাস্ত করল এবং তারা পৃথিবীতে প্রভাবী শক্তিতে পরিণত হ’ল I যিহূদিরা পুনরায় এই সাম্রাজ্যের মধ্যে এক প্রদেশে পরিণত হ’ল এবং এটিকে হাল্কা হলুদে দেখানো হয়েছে I এটাই হল সময় যখন যীশু বেঁচে ছিলেন I এটা ব্যাখ্যা করে কেন রোমীয় সৈন্যরা সুসমাচারের মধ্যে আছে – কারণ রোমীয়রা যীশুর জীবনকালে যিহূদিদের শাসন করত I 

রোমীয় সাম্রাজ্যের অংশ হিসাবে দেশে বসবাস 

রোমীয়দের অধীনে দ্বিতীয় যিহূদি নির্বাসন 

বাবিলোনিয়ানের সময়কাল থেকে (586 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) যিহূদিরা রাজা দায়ূদের অধীনে থাকার মতন স্বতন্ত্র ছিল ছিল না I তারা অন্যান্য সাম্রাজ্য সমূহের দ্বারা শাসিত হয়েছিল, ঠিক যেভাবে ব্রিটিশ স্বাধীনতার পূর্বে ভারতবর্ষকে শাসন করেছিল I যিহূদির এতে অসন্তুষ্ট ছিল এবং তারা রোমীয় শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করল I রোমীয়রা এসে যিরূশালেমকে ধ্বংস করল (70 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ), দ্বিতীয় মন্দিরকে পুড়িয়ে দিল, এবং সারা রোমীয় সাম্রাজ্য জুড়ে যিহূদিদের দাস হিসাবে নির্বাসিত করল I এটি দ্বিতীয় যিহূদি নির্বাসন ছিল I যেহেতু রোমীয় সাম্রাজ্য বিশাল বড় ছিল সেইহেতু যিহূদিরা অবশেষে সমস্ত পৃথিবীর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল I

রোমীয়দের দ্বারা 70 খ্রীষ্টাব্দে যিরূশালেম এবং মন্দিরকে ধ্বংস করা হ’ল; যিহূদিদের বিশ্ব জুড়ে নির্বাসনে পাঠানো হ’ল 

এইভাবে যিহূদি লোকেরা প্রায় 2000 বছর ধরে বাস করল; বিদেশী ভুমিতে ছত্ত্রভঙ্গ হয় এবং এই দেশগুলোতে কখনও স্বীকৃত হ’ল না I এই বিভিন্ন জাতি সমূহের মধ্যে যিহূদিরা মহা অত্যাচার ভোগ করল I যিহূদিদের উপরে অত্যাচার  ইউরোপের মধ্যে বিশেষভাবে সত্য ছিল I পাশ্চাত্য ইউরোপের স্পেন থেকে নিয়ে, রাশিয়া পর্যন্ত যিহূদিরা প্রায়শই এই সমস্ত রাজ্য সমূহের মধ্যে বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যে বাস করত I যিহূদিরা এই সমস্ত অত্যাচার থেকে অব্যাহতি পেতে কোচিনে পৌঁছতে লাগল I মধ্য প্রাচ্য থেকে যিহূদিরা

ডেভিড স্যাসন এবং পুত্রগণ – ভারতবর্ষের ধনবান বাগদাদী যিহূদিরা

ভারতবর্ষের অন্যান্য অংশে সপ্তদশ এবং অষ্টাদশ শতাব্দীতে পৌঁছাল, এবং বাগদাদী যিহূদি রূপে পরিচিত হ’ল, অধিকাংশ মুম্বাই, দিল্লী এবং কলকাতায় স্থায়ীভাবে বাস করতে থাকল I 1500 খ্রীষ্টপূর্বাব্দের অতীতে মশির অভিশাপ সমূহে তাদের জীবন যাত্রা সম্বন্ধে সঠিক বর্ণনা ছিল I

65 “এই সমস্ত জাতির মধ্যে তোমরা কোন শান্তি পাবে না এবং বিশ্রামের জায়গাও পাবে না| প্রভু তোমাদের মন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করবেন| তখন তোমাদের চোখ ক্লান্ত হয়ে পড়বে এবং তোমরা বিচলিত হয়ে পড়বে| 

দ্বিতীয় বিবরণ 28:65

ইস্রায়েলীয়দের বিরুদ্ধে অভিশাপ সমূহকে দেওয়া হয়েছিল লোকেদের জিজ্ঞাসা করতে:

24 “অন্যান্য সব জাতির লোকরা জিজ্ঞেস করবে, ‘প্রভু এই দেশের প্রতি কেন এমনটি করলেন? কেন তিনি এত ক্রুদ্ধ হলেন?’

দ্বিতীয় বিবরণ 29:24

এবং উত্তর দিতে:

25 উত্তর এই হবে, ‘প্রভু ক্রুদ্ধ কারণ ইস্রায়েলের লোকরা তাদের প্রভুর অর্থাত্‌ পূর্বপুরুষের ঈশ্বরের নিয়ম ত্যাগ করেছে| প্রভু তাদের মিশর দেশ থেকে বের করে আনার সময় য়ে চুক্তি করেছিলেন তা তারা আর পালন করে না| 
26 প্রভু য়ে সমস্ত দেবতার পূজা করতে নিষেধ করেছিলেন, যাদের পূজা তারা আগে কখনও করে নি, ইস্রায়েলের লোকরা সেই অন্যান্য দেবতার সেবা করেছে| 
27 সেই কারণেই প্রভু এই দেশের লোকদের প্রতি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হলেন| আর তাই তিনি পুস্তকে লেখা সমস্ত অভিশাপ তাদের উপর আনলেন| 
28 প্রভু তাদের প্রতি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ ও বিরক্ত হলেন, তাই তিনি তাদের দেশ থেকে বের করে দিয়ে অন্য এক দেশে রাখলেন, সেখানেই আজ তারা রয়েছে|’

দ্বিতীয় বিবরণ 29:25-28

নিচের কালপঞ্জি এই 1900 বছরের সময়কালকে দেখায় I এই সময়কালকে এক দীর্ঘ লাল বারের মধ্যে দেখানো হয়েছে I

বৃহত্তর স্কেলের উপরে যিহূদিদের ঐতিহাসিক কালপঞ্জি – নির্বাসনের দুটি সময়কালের বৈশিষ্ট্যকে দেখায়

আপনারা দেখতে পারেন যে তাদের ইতিহাসের মধ্যে যিহূদি লোকেরা নির্বাসনের দুটি সময়কালের মধ্য দিয়ে গমন করেছিল তবে দ্বিতীয় নির্বাসনটি প্রথম নির্বাসনের চেয়ে অনেক দীর্ঘ ছিল I

বিংশ শতাব্দীর গণহত্যা 

যিহূদিদের বিরুদ্ধে অত্যাচার শীর্ষে উঠল যখন হিটলার, নাৎসী জার্মানির মাধ্যমে, ইউরোপে বসবাসকারী সমস্ত যিহূদিদের নির্মূল করার চেষ্টা করল I সে প্রায় সফল হ’ল তবে সে পরাজিত হ’ল এবং যিহূদিদের এক অবশিষ্টাংশ জীবিত রইল I 

ইস্রায়েলের আধুনিক পুনর্জনম 

ঘটনা যে সেখানে এমন লোক ছিল যাদের সহস্রাধিক বছর পরে একটি গৃহভূমি হীন ‘যিহূদি’ হিসাবে স্ব-চিহ্নিত থাকা উল্লেখযোগ্য ছিল I তবে এটি 3500 বছর পূর্বে লেখা মশির চূড়ান্ত বাক্য সমূহকে সত্যে পরিণত হতে অনুমতি দিল I 1948 সালে পৃথিবী, সংযুক্ত রাষ্ট্র সমূহের মাধ্যমে, ইস্রায়েলের আধুনিক রাষ্ট্রের অভূতপূর্ব পুনর্জন্ম দেখল, যেমন মশি বহু শতাব্দী পূর্বে লিখে গিয়েছিলেন:

তবে প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের প্রতি করুণা করবেন| প্রভু আবার তোমাদের মুক্ত করবেন| তিনি তোমাদের য়ে সব জাতির মধ্যে পাঠিয়ে ছিলেন সেখান থেকে আবার ফিরিয়ে আনবেন| 
এমন কি তোমরা যদি পৃথিবীর দূরতম প্রান্তেও গিয়ে থাকো, প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, সেখান থেকে তোমাদের সংগ্রহ করবেন| 
তোমাদের পূর্বপুরুষদের য়ে দেশ ছিল, প্রভু সেই দেশে তোমাদের ফিরিয়ে আনবেন এবং সেই দেশ তোমাদের অধিকারে আসবে| প্রভু তোমাদের মঙ্গল করবেন এবং পূর্বপূরুষদের চাইতেও তোমাদের অধিক হবে| তোমাদের জাতির লোকসংখ্যা এমন বৃদ্ধি পাবে যা আগে কখনও হয় নি| 

দ্বিতীয় বিবরণ 30:3-5

এছাড়াও এটি আরও উল্লেখযোগ্য ছিল যেহেতু এই রাষ্ট্রটি প্রবল বিরোধিতা স্বত্তেও প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল I 1948 … 1956 … 1967 এবং পুনরায় 1973 সালে চারিদিকের জাতিগুলোর অধিকাংশ ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল I একটি অত্যন্ত ক্ষুদ্র জাতি ইস্রায়েল, মাঝে মাঝে একই সময়ে পাঁচটি জাতির সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত ছিল I তথাপি না কেবল ইস্রায়েল জীবিত থাকল, বরং তার এলাকা বৃদ্ধি পেল I 3000 বছর পূর্বে দায়ূদের দ্বারা স্থাপিত তার ঐতিহাসিক রাজধানী নগর যিরূশালেমকে 1967 সালে ছয় দিনের যুদ্ধে, ইস্রায়েল পুনরায় অর্জন   করল I ইস্রায়েল রাষ্ট্র গঠনের পরিণাম, এবং এই যুদ্ধগুলোর থেকে উৎপন্ন  ফলাফলগুলো আমাদের আজকের বিশ্বে সবচেয়ে জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে I 

মশির দ্বারা যেমনভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল এবং আরও সম্পূর্ণরূপে এখানে অনুসন্ধান করা হল, ইস্রায়েলের পুনর্জন্ম ভারতের যিহূদিদের জন্য ইস্রায়েলে ফিরে যাওয়ার এক উদ্দীপনা সৃষ্টি করল I ইস্রায়েলে এখন 80,000 যিহূদি বাস করছে যাদের ভারতের থেকে একজন পিতা আছে এবং কেবলমাত্র 5000 যিহূদি ভারতে পড়ে আছে I মশির আশীর্বাদ অনুসারে তারা ‘দূরবর্তী দেশ সমূহ’ (যেমন মিজোরাম) থেকে ‘একত্রিত’ হচ্ছে এবং ‘ফিরিয়ে’ আনা হচ্ছে I মশি লিখেছিলেন যে যিহূদি এবং অ-যিহূদি উভয়েরই এই তাৎপর্যগুলোকে লক্ষ্য করা উচিত I

(1) ডা: অভিগদর সাচান I হারিয়ে যাওয়া দশ উপজাতির পদক্ষেপের মধ্যে পৃষ্ঠা 261

লক্ষী থেকে শিব পর্যন্ত: কিভাবে ভাববাদী মশির আশীর্বাদ এবং অভিশাপ আজকে প্রতিধ্বনি করে

যখন আমরা আশীর্বাদ এবং উত্তম ভাগ্যের সম্বন্ধে চিন্তা করি আমাদের মন ভাগ্য, সফলতা এবং ধনের দেবী লক্ষীর দিকে যায় I তিনি কঠোর পরিশ্রমকে আশীর্বাদ দেন যখন এটিকে লোভের মধ্যে না করা হয় I দুগ্ধ মহাসমুদ্রের  মন্থনের কাহিনীর মধ্যে, লক্ষ্মী ইন্দ্রের দ্বারা পবিত্র ফুল সমূহকে ছুঁড়ে ফেলার সময়ে অশ্রদ্ধার কারণে দেবতাদের ছেড়ে দুগ্ধ মহাসমুদ্রের মধ্যে প্রবেশ করলেন I যাইহোক, তার প্রত্যাবর্তনের জন্য এক সহস্র বছর ধরে সমুদ্র মন্থনের পরে, তিনি তার পুনর্জন্মের সাথে বিশ্বস্তকে আশীর্বাদ দিলেন I    

যখন আমরা বিনাশ, জনশূন্যতা এবং প্রলয়ের কথা ভাবি তখন আমাদের মন বৈভব, শিবের প্রচন্ড অবতার, বা এমনকি শিবের তৃতীয় চক্ষুর দিকে যায় I এটি প্রায়ই সর্বদা বন্ধ থাকে তবে তিনি মন্দকারীদের বিনাশ করতে এটি খোলেন I লক্ষ্মী এবং শিব উভয়ই শ্রদ্ধালুদের থেকে অনেক মনোযোগ পান, কারণ লোকেরা একজনের থেকে আশীর্বাদের আকাঙ্খা করে এবং অন্যজনের থেকে অভিশাপের ভয় বা বিনাশ I

আশীর্বাদ এবং অভিশাপ সমূহ … ইস্রায়েলীয়দের প্রতি … আমাদের প্রতি নির্দেশের জন্য

হিব্রু বেদার মধ্যে প্রকাশিত সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বর লক্ষ্মীর প্রতিদ্বন্দিতা করার জন্য এই জাতীয় আশীর্বাদ এবং ভৈরব বা শিবের ত্রিনেত্রর মতন ততটাই ভয়ানক অভিশাপ এবং বিনাশ উভয়েরই রচিয়তা ছিলেন I এটি তার মনোনীত লোকেদের কাছে নির্দেশিত হ’ল – ইস্রায়েলীয়দের কাছে – যারা তার শ্রদ্ধালু ছিল I ঈশ্বরের দ্বারা ইস্রায়েলীয়দের মিসরের দাসত্ব থেকে বার করে নিয়ে আসার পরে তাদেরকে দেওয়া হ’ল এবং তাদেরকে দশ আজ্ঞা সমূহ দিলেন – পাপ তাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়েছে কিনা তা জানার জন্য মানদণ্ড I এই আশীর্বাদ এবং অভিশাপ সমূহকে ইস্রায়েলীয়দের প্রতি নির্দেশিত করা হয়েছিল তবে তাদেরকে বহু পূর্বে ঘোষণা করা হয়েছিল যাতে অন্যান্য জাত সমূহ লক্ষ্য করবে এবং উপলব্ধি করবে যে তিনি আমাদেরকেও আশীর্বাদ দেবেন যে ক্ষমতার সাহায্যে তিনি ইস্রায়েলীয়দের উপরে আশীর্বাদ প্রদান করেছেন I আমাদের মধ্যে সবাই যারা সমৃদ্ধি এবং আশীর্বাদ চায় এবং বিনাশ ও অভিশাপ এড়াতে চায় তারা ইস্রায়েলীয়দের অভিজ্ঞতার থেকে শিখতে পারে I 

ভাববাদী মশি 3500 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে বাস করতেন এবং তিনি পাঁচটি বই লিখেছিলেন যা হিব্রু বেদাকে প্রস্তুত করে I তার শেষ বই, দ্বিতীয় বিবরণে, তার মারা যাওয়ার ঠিক পূর্বে লেখা চূড়ান্ত বাক্যগুলো রয়েছে I তার এই আশীর্বাদগুলো ইস্রায়েলের লোকেদের কাছে ছিল – যিহূদিদের কাছে, তবে এছাড়া তার অভিশাপগুলোও I মশি লিখলেন যে এই আশীর্বাদ এবং অভিশাপ সমূহ বিশ্ব ইতিহাসকে রূপ দেবে এবং লক্ষ্য করা উচিত, কেবলমাত্র যিহূদিদের দ্বারা নয়, বরং অন্য জাতিদের কাছেও I  এই আশীর্বাদ এবং অভিশাপ সমূহ ভারতের ইতিহাসকে প্রভাবিত করেছে I তাই এর উপরে প্রতিফলন করতে আমাদের জন্য এটিকে লেখা হয়েছিল I সম্পূর্ণ আশীর্বাদ এবং অভিশাপ সমূহ এখানে রয়েছে I সংক্ষিপ্তসারটি নিম্নরূপ:

ভাববাদী মশির আশীর্বাদ সমূহ

মশি আশীর্বাদ সমূহকে বর্ণনা করার দ্বারা আরম্ভ করলেন যে ইস্রায়েলীয়রা পাবে যদি তারা ব্যবস্থাকে (দশ আজ্ঞা সমূহ) মানে I ঈশ্বরের আশীর্বাদ এত মহান হবে যে অন্য সমস্ত জাতি সমূহ তাঁর আশীর্বাদগুলোকে চিনতে পারবে I এই আশীর্বাদগুলোর পরিণতি হবে:

10 তাহলে পৃথিবীর সমস্ত জাতি জানবে য়ে তোমরা প্রভুর নামে অভিহিত এবং তারা তোমাদের ভয় করবে|

দ্বিতীয় বিবরণ 28:10

… এবং অভিশাপ সমূহ

যাইহোক, ইস্রায়েলীয়রা যদি আজ্ঞা সমূহকে মানতে ব্যর্থ হয় তবে তারা অভিশাপ পাবে যা আশীর্বাদগুলোর সমকক্ষ এবং দর্পণ হবে I এই অভিশাপগুলোকে পরিবেষ্টিত জাতিদের দ্বারা দেখা যাবে যাতে করে:

37 প্রভু তোমাদের য়ে দেশগুলিতে পাঠাবেন, সেখানকার লোক তোমাদের দুর্দশা দেখে অবাক হবে| তারা তোমাদের দেখে হাসবে এবং তোমাদের সম্বন্ধে মন্দ কথা বলবে|

দ্বিতীয় বিবরণ 28:37

এবং অভিশাপগুলো ইতিহাসের মাধ্যমে প্রসারিত হবে I

46 এই শাপগুলি হবে লোকদের কাছে একটি চিহ্ন এবং তারা বুঝবে য়ে ঈশ্বর তোমাদের এবং তোমাদের উত্তরপুরুষদের বিচার করেছেন| তোমাদের ওপর য়ে ভয়ঙ্কর ঘনাগুলি ঘটবে তা দেখে লোকে আশ্চর্য় হয়ে যাবে|

দ্বিতীয় বিবরণ 28:46

তবে ঈশ্বর সতর্ক করলেন যে অভিশাপগুলোর সবচেয়ে খারাপ অংশ অন্য জাতিদের থেকে আসবে I

49 “তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য প্রভু বহু দূর থেকে এক জাতির আগমণ ঘটাবেন| তোমরা তাদের ভাষা বুঝবে না| ঈগল পাখী য়েমন আকাশ থেকে নেমে আসে তেমনি দ্রুত তারা আসবে| 
50 সেই সব লোক নিষ্ঠুর হবে| তারা বৃদ্ধদের বিষয়ে কোন চিন্তা করবে না এবং শিশুদের প্রতিও দযা করবে না| 
51 তারা তোমাদের পশু ও উত্পন্ন খাদ্য নিয়ে নেবে| তোমাদের ধ্বংস না করা পর্য়ন্ত তারা তোমাদের সর্বস্ব নিয়ে যাবে| তারা তোমাদের শস্য, দ্রাক্ষারস, তেল, গরু, মেষ ও ছাগলের কিছুই ছেড়ে যাবে না| তোমাদের ধ্বংস না করা পর্য়ন্ত তারা তোমাদের সর্বস্ব নিয়ে যাবে| 
52 “সেই জাতি তোমাদের নগরের চারিদিক ঘিরে তোমাদের আক্রমণ করবে| তোমরা কি মনে করছ নগরের চারিধারের শক্ত উঁচু প্রাচীর তোমাদের রক্ষা করবে? কিন্তু তারা ভেঙ্গে পড়বে| প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের, দেওয়া সেই দেশের সর্বত্র সমস্ত নগরগুলি শত্রুরা আক্রমণ করবে|

দ্বিতীয় বিবরণ 28:49-52

এটি খারাপ থেকে আরও খারাপের দিকে যাবে I 

63 “প্রভু তোমাদের মঙ্গল করে ও তোমাদের জাতির বৃদ্ধি সাধন করে য়েমন আনন্দ পেতেন, সেই একই ভাবে তিনি তোমাদের সর্বনাশ ও ধ্বংস দেখে আনন্দ পাবেন| তুমি য়ে দেশ অধিকার করতে যাচ্ছ, লোক তোমাদের সেই দেশ থেকে বের করে দেবে| 
64 আর প্রভু পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্য়ন্ত সমস্ত জাতির মধ্যে তোমাদের ছড়িয়ে দেবেন| সেখানে তোমরা কাঠ, পাথরের তৈরী এমন মূর্ত্তির পূজা করবে, যাদের পূজা তোমাদের পূর্বপুরুষরা কখনও করে নি| 
65 “এই সমস্ত জাতির মধ্যে তোমরা কোন শান্তি পাবে না এবং বিশ্রামের জায়গাও পাবে না| প্রভু তোমাদের মন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করবেন| তখন তোমাদের চোখ ক্লান্ত হয়ে পড়বে এবং তোমরা বিচলিত হয়ে পড়বে|

দ্বিতীয় বিবরণ 28:63-65

এই আশীর্বাদ এবং অভিশাপ সমূহ ঈশ্বর এবং ইস্রায়েলীয়দের মধ্যে বিধিবৎ চুক্তির দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল:

13 এই চুক্তির সাথে সাথেই প্রভু তোমাদের তাঁর নিজস্ব বিশেষ লোক করবেন এবং তিনি তোমাদের ঈশ্বর হবেন| তিনি তোমাদের যা বললেন তার প্রতিজ্ঞা তিনি তোমাদের পূর্বপুরুষ অব্রাহাম, ইসহাক ও যাকোবের কাছে করেছিলেন| 
14 প্রভু এই চুক্তি ও তাঁর প্রতিজ্ঞাসকল কেবল তোমাদের সাথেই করছেন না| 
15 এই চুক্তি তিনি আমরা যারা সকলে তাঁর সামনে আজ দাঁড়িয়ে আছি তাদের সঙ্গে এবং আমাদের উত্তরপুরুষরা যারা আজ এখানে নেই তাঁদের সাথেও করছেন|

দ্বিতীয় বিবরণ 29:13-15

এই নিয়ম সন্তানগণ, বা ভবিষ্যত প্রজন্ম সমূহের উপরে বাধ্য হবে I প্রকৃতপক্ষে এই নিয়মকে ভবিষ্যত প্রজন্মদের প্রতি নির্দেশিত করা হয়েছিল – ইস্রায়েলীয় এবং বিদেশী উভয়ের ক্ষেত্রে I

22 “ভবিষ্যতে তোমাদের উত্তরপুরুষরা ও দূর দেশের বিদেশীরা দেখবে কিভাবে এই দেশ ধ্বংস হয়েছে| প্রভু কিভাবে বিভিন্ন রোগ এনেছেন তাও তারা দেখবে| 
23 সমস্ত দেশ জ্বলন্ত গন্ধক ও লবনে ঢেকে যাওয়ায় আর ব্যবহারয়োগ্য থাকবে না| দেশে কিছুই বোনা হবে না, কিছুই বেড়ে উঠবে না, এমন কি জংলী গাছও না| প্রভু ক্রুদ্ধ হয়ে য়েভাবে সদোম, ঘমোরা, অদ্মা ও সবোযিম শহরগুলি ধ্বংস করেছিলেন সেই ভাবেই এই দেশ ধ্বংস হবে| 
24 “অন্যান্য সব জাতির লোকরা জিজ্ঞেস করবে, ‘প্রভু এই দেশের প্রতি কেন এমনটি করলেন? কেন তিনি এত ক্রুদ্ধ হলেন?’

দ্বিতীয় বিবরণ 29:22-24

উত্তর হবে:

25 উত্তর এই হবে, ‘প্রভু ক্রুদ্ধ কারণ ইস্রায়েলের লোকরা তাদের প্রভুর অর্থাত্‌ পূর্বপুরুষের ঈশ্বরের নিয়ম ত্যাগ করেছে| প্রভু তাদের মিশর দেশ থেকে বের করে আনার সময় য়ে চুক্তি করেছিলেন তা তারা আর পালন করে না| 
26 প্রভু য়ে সমস্ত দেবতার পূজা করতে নিষেধ করেছিলেন, যাদের পূজা তারা আগে কখনও করে নি, ইস্রায়েলের লোকরা সেই অন্যান্য দেবতার সেবা করেছে| 
27 সেই কারণেই প্রভু এই দেশের লোকদের প্রতি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হলেন| আর তাই তিনি পুস্তকে লেখা সমস্ত অভিশাপ তাদের উপর আনলেন| 
28 প্রভু তাদের প্রতি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ ও বিরক্ত হলেন, তাই তিনি তাদের দেশ থেকে বের করে দিয়ে অন্য এক দেশে রাখলেন, সেখানেই আজ তারা রয়েছে|’

দ্বিতীয় বিবরণ 29:25-28

আশীর্বাদ এবং অভিশাপগুলো কি ঘটেছিল?

আশীর্বাদগুলো আনন্দদায়ক ছিল, এবং অভিশাপগুলো ভয়ংকর ছিল, তবে সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ প্রশ্ন আমরা যা জিজ্ঞাসা করতে পারি তা হ’ল: ‘সেগুলো কি ঘটেছিল?’ হিব্রু বেদার অধিকাংশ ইস্রায়েলীয় ইতিহাসের নথিভুক্ত তাই আমরা তাদের অতীতকে জানি I এছাড়া আমাদের কাছে পুরনো নিয়মের বাইরে ঐতিহাসিক নথি সমূহ এবং অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক কীর্তিস্তম্ভ আছে I তারা সকলে ইস্রায়েলীয় বা যিহূদি ইতিহাসের এক সামঞ্জস্যপূর্ণ চিত্র অঙ্কন করে I একটি কালপঞ্জির মাধ্যমে এটিকে এখানে দেওয়া হ’ল I এটিকে পড়ুন এবং নিজের জন্য মূল্যায়ন করুন মশির অভিশাপগুলো সত্য হয়েছে কিনা I এটি ব্যাখ্যা করে কেন যিহূদি গোষ্ঠী সমূহ (অর্থাৎ মিজোরামের মনশি: সন্তান) 2700 বছর আগে থেকে শুরু করে ভারতে বাস করতে আগমন করেছিল I অশুরিয় এবং বাবিলোনিয়ান বিজয় সমূহের ফলে গণ নির্বাসনের পরে তারা ভারতবর্ষ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল – ঠিক যেভাবে মশি সাবধান করেছিলেন I

মশির আশীর্বাদ এবং অভিশাপ সমূহের সমাপ্তি 

মশির চূড়ান্ত বাক্য সমূহ অভিশাপের সঙ্গে শেষ হয় নি I এখানে যেভাবে মশি তার চূড়ান্ত ঘোষণা করলেন I 

“আমি তোমাদের আশীর্বাদ ও অভিশাপ সম্বন্ধে যা যা বললাম সেই সব যখন তোমাদের ওপর ঘটবে এবং প্রভু তোমাদের য়ে সব বিভিন্ন জাতির মধ্যে ছড়িয়ে দেবেন, সেখানে যদি এই সব বিষয়ে চিন্তা করে 
তুমি ও তোমার সন্তানরা প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের, কাছে ফিরে আসো অর্থাত্‌ যদি তোমরা তাঁকে তোমাদের সমস্ত হৃদয় এবং সমস্ত আত্মা দিয়ে অনুসরণ কর এবং তাঁর সব আজ্ঞাগুলি – যা কিছু আমি আজ দিয়েছি, তোমরা সেগুলির প্রতি সম্পূর্ণভাবে বাধ্য থাক, 
তবে প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের প্রতি করুণা করবেন| প্রভু আবার তোমাদের মুক্ত করবেন| তিনি তোমাদের য়ে সব জাতির মধ্যে পাঠিয়ে ছিলেন সেখান থেকে আবার ফিরিয়ে আনবেন| 
এমন কি তোমরা যদি পৃথিবীর দূরতম প্রান্তেও গিয়ে থাকো, প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, সেখান থেকে তোমাদের সংগ্রহ করবেন| 
তোমাদের পূর্বপুরুষদের য়ে দেশ ছিল, প্রভু সেই দেশে তোমাদের ফিরিয়ে আনবেন এবং সেই দেশ তোমাদের অধিকারে আসবে| প্রভু তোমাদের মঙ্গল করবেন এবং পূর্বপূরুষদের চাইতেও তোমাদের অধিক হবে| তোমাদের জাতির লোকসংখ্যা এমন বৃদ্ধি পাবে যা আগে কখনও হয় নি| 

দ্বিতীয় বিবরণ 30:1-5

সহস্রাধিক বছর ধরে নির্বাসনে থাকার পরে, 1948 সালে – আজকের দিনে অনেক জীবিতদের জীবনকালের মধ্যে – সংযুক্ত রাষ্ট্রের প্রস্তাবের থেকে ইস্রায়েলের আধুনিক রাষ্ট্রের পুনর্জন্ম হ’ল এবং যিহূদিরা বিশ্বের চতুর্দিকের রাষ্ট্র সমূহের  থেকে ইস্রায়েলে ফিরে আসতে শুরু করল – ঠিক যেমনভাবে মশি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন I ভারতবর্ষে আজকে, কোচিন, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং মিজোরামের সহস্র বছরের যিহূদি সম্প্রদায় সমূহের সংখ্যা তাদের পৈতৃক ভূমিতে ফিরে যাওয়ার সাথে সাথে দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে I কেবলমাত্র 5000 যিহূদি ভারতে রয়ে গেছে I মশির আশীর্বাদ সমূহ আমাদের চোখের সামনে পূর্ণ হচ্ছে, যেমন নিশ্চিতরূপে অভিশাপগুলো যেভাবে তাদের ইতিহাসকে রূপ দিয়েছিল I   

আমাদের জন্য এটির মধ্যে অনেক তাত্পর্য আছে I প্রথমত, আশীর্বাদ এবং অভিশাপ সমূহের কাছে ঈশ্বরের থেকে তাদের কতৃত্ব এবং ক্ষমতা ছিল I মশি কেবলমাত্র একজন আলোকিত বার্তাবাহক – ভাববাদী ছিলেন I ঘটনা হল যে এই অভিশাপ এবং আশীর্বাদগুলো হাজর হাজার বছর অবধি পৌঁছেছে, বিশ্বের সমস্ত জাতি সমূহ জুড়ে, এবং কোটি কোটি লোকেদের প্রভাবিত করেছে (ইস্রায়েলে যিহূদিদের প্রত্যাবর্তন অশান্তির সৃষ্টি করেছে – নিয়মিতভাবে ঘটনা ঘটিয়ে বিশ্বব্যাপী শিরোনাম তৈরী করছে) – যা স্বাক্ষ্য হয় যে এই ঈশ্বরের কাছে পরাক্রম এবং কর্তৃত্ব আছে যা বাইবেল (বেদা পুস্তকম) বলে তার আছে I সেই একই হিব্রু বেদে  তিনি এছাড়াও প্রতিশ্রুতি দিলেন ‘যে পৃথিবীর উপরে সমস্ত লোকেরা’ আশির্বাদিত হবে I ‘পৃথিবীর উপরে সমস্ত লোক’ আপনাকে এবং আমাকে অন্তর্ভুক্ত করে I পুনরায় আব্রাহামের পুত্রের বলিদানের মধ্যে, ঈশ্বর পুনরাবৃত্তি করলেন যে ‘সমস্ত জাতি সমূহ আশির্বাদিত হবে’ I ওই বলিদানের আকর্ষণীয় অবস্থান এবং বিবরণ কিভাবে এই আশীর্বাদ পাওয়া যায় তা জানতে আমাদের সাহায্য করে I এই আশীর্বাদগুলোকে এখন মিজোরাম, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং কেরালা থেকে প্রত্যাবর্তনকারী যিহূদিদের উপরে ঢেলে দেওয়া হচ্ছে যা একটি চিহ্ন যে ঈশ্বর ভারতের সমস্ত রাজ্যগুলোকে এবং বিশ্বের অন্য জাতি সমূহের লোকেদের সমানভাবে আশীর্বাদ দিতে চান এবং পারেন যেমন তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ছিলেন I আমাদের অভিশাপের মধ্যে আমাদেরকেও যিহূদিদের মতন আশীর্বাদ প্রদান করা হয়েছে I আশীর্বাদের উপহারকে গ্রহণ কেন করি না?