সংস্কৃত এবং হিব্রু বেদের সমধর্মিতা: কেন?

সংস্কৃত বেদে মনুর বিবরণ এবং হিব্রু বেদে নোহের বিবরণের মধ্যে মিলগুলো আমরা দেখেছি I বন্যার বিবরণের তুলনায় এই মিল আরও গভীরে প্রবেশ  করে I এছাড়াও সময়ের ঊষাকালে পুরুসার বলিদানের প্রতিশ্রুতি এবং হিব্রু আদিপুস্তকের সেই প্রদত্ত বংশধরের প্রতিশ্রুতির মধ্যে একই মিল রয়েছে I অতএব কেন আমরা এই সাদৃশ্যগুলো দেখি? সমধর্মিতা? একটি বিবরণ কি অন্য বিবরণের থেকে ধার করেছে বা চুরি করেছে? এখানে একটি পরামর্শ দেওয়া হ’ল I     

বাবিলের মিনার – বন্যার পরে

নোহের বিবরণের পরে, বেদা পুস্তকম (বাইবেল) তার তিন পুত্রদের বংশধর  এবং রাজ্যগুলোর নথিভুক্ত করতে অগ্রসর হয় I “বন্যার পরে এদের থেকে  জাতিগুলো সমস্ত পৃথিবী ব্যাপী ছড়িয়ে পড়ল I” (আদিপুস্তক 10:32) I সংস্কৃত বেদও ঘোষণা করে যে মনুর তিন পুত্র ছিল যাদের থেকে সমস্ত মানব জাতির অবতরণ হ’ল I কিন্তু এই “ছড়িয়ে পড়া” কিভাবে ঘটল?    

প্রাচীন হিব্রু বেদা নোহের এই তিন পুত্রদের বংশধরগুলোর নাম তালিকাভুক্ত করেছে – সম্পূর্ণ তালিকাটি এখানে I বিবরণটি বর্ণনা করতে এগিয়ে যায় কিভাবে এই বংশধরগুলো ঈশ্বরের (প্রজাপতি) – সৃষ্টিকর্তার নির্দেশগুলোর অবমাননা করলো, যিনি তাদেরকে ‘পৃথিবী পরিপূর্ণ করতে’ আজ্ঞা দিয়েছিলেন I আপনি সেটিকে এখানে পড়তে পারেন I এই মিনার ‘আকাশ পর্যন্ত পৌঁছল’ (আদিপুস্তক 11:4) যার মানে হ’ল নোহের এই বংশধরেরা সৃষ্টিকর্তার পরিবর্তে নক্ষত্র এবং সূর্য, চাঁদ, গ্রহ সমূহ ইত্যাদির আরাধনা করার উদ্দেশ্যে মিনার তৈরী করছিল I এটি সুপরিচিত যে নক্ষত্রর আরাধনা মেসোপটোমিয়ার মধ্যে উৎপত্তি হয়েছিল (যেখানে এই বংশধররা বসবাস করছিল) এবং তাতে এটা তখন সমস্ত পৃথিবী জুড়ে ছড়াল I      

অতএব সৃষ্টিকর্তার আরাধনা করার পরিবর্তে, আমাদের পূর্বপুরুষরা নক্ষত্র সমূহের আরাধনা করত I পরে বিবরণটি বলে যে এটিকে নিরুৎসাহ করতে, যাতে আরাধনার অশুচিতা অপরিবর্তনীয় না হয়ে ওঠে, সৃষ্টিকর্তা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন    

…ভাষার ভেদ জন্মাতে যাতে তারা একজন অন্যজনের ভাষা বুঝতে না পারে I

আদিপুস্তক 11:7

এর ফলে, নোহের এই প্রথম বংশধররা একে অপরকে বুঝতে পারল না আর তাই এইভাবে সৃষ্টিকর্তা

তাদেরকে সমস্ত ভূমন্ডলে ছিন্নভিন্ন করলেন

আদিপুস্তক 11:8

একবার যখন এই লোকেরা একে অপরের সঙ্গে আর কথা বলতে পারল না, তারা একে অপরের থেকে দেশান্তরে গেল, তাদের নবনির্মিত ভাষাসংক্রান্ত  গোষ্ঠীদের মধ্যে, এবং এইরূপে তারা ‘বিচ্ছিন্ন’ হয়ে গেল I এটি ব্যাখ্যা করে কেন বিভিন্ন লোকেদের গোষ্ঠী আজকের সময়ে পৃথিবীতে একেবারে বিভিন্ন ভাষায় কথা বলে, যেমনভাবে প্রতিটি গোষ্ঠী মেসোপটোমিয়ার, (অনেক প্রজন্মব্যাপী সময়ে সময়ে) তাদের মূল কেন্দ্র থেকে স্থানগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছিল যাদেরকে আজ আমরা দেখতে পাই I এইরূপে, তাদের নিজ নিজ ইতিহাসগুলো এই বিন্দু থেকে নানান দিকে ছড়িয়ে পড়ে I কিন্তু প্রতিটি ভাষার গোষ্ঠীর (যা এই প্রথম জাতিগুলোকে গঠন করেছিল) এই বিন্দু পর্যন্ত এক সাধারণ ইতিহাস ছিল I এই সাধারণ ইতিহাস পুরুসার বলিদানের মাধ্যমে মোক্ষের প্রতিশ্রুতি এবং মনুর (নোহ) বন্যার বিবরণকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল I সংস্কৃতের ঋষিগণ এই ঘটনাগুলোকে তাদের বেদের মাধ্যমে মনে রেখেছিল এবং হিব্রুরা এই একই ঘটনাগুলোকে তাদের বেদের (ভাববাদী মশির তোরাহ) মাধ্যমে মনে রেখেছিল I  

বিচিত্র বন্যার স্বাক্ষ্য – পৃথিবীর চারিদিক থেকে

আগ্রহের বিষয় হ’ল, বন্যার বিবরণ কেবলমাত্র প্রাচীন হিব্রু এবং সংস্কৃত বেদের মধ্যে স্মরণ করা হয় নি I বিশ্বের চারিদিকের নানাবিধ লোকেদের গোষ্ঠী তাদের নিজ নিজ ইতিহাসে এক বিশাল বন্যাকে মনে রেখেছে I নিম্নলিখিত বর্ণনাচিত্র এটিকে বর্ণনা করে I 

Flood accounts from cultures around the world compared to the flood account in the Bible

বাইবেলের বন্যার বিবরণের সঙ্গে পৃথিবী ব্যাপী সংস্কৃতি সমূহের বন্যার তুলনামূলক বিবরণ

এটি শীর্ষ জুড়ে পৃথিবীর চতুর্দিকে বসবাসকারী বিভিন্ন ভাষা সম্প্রদায়ের লোকেদের দেখায় – প্রত্যেকটি মহাদেশে I বর্ণনাচিত্রের কোশিকাগুলো চিহ্নিত করে হিব্রু বন্যার (বর্ণনাচিত্রের বাঁ দিকে তালিকাভুক্ত) বিবরণের নির্দিষ্ট তথ্য  তাদের নিজস্ব বন্যার বিবরণকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে কি না I কালো কোশিকাগুলো ইঙ্গিত দেয় যে এই তথ্য তাদের বন্যার বিবরণের মধ্যে আছে, যখন খালি কোশিকাগুলো ইঙ্গিত দেয় যে এই তথ্য তাদের স্থানীয় বিবরণের মধ্যে নেই I আপনি এখতে পারেন যে প্রায় সমস্ত এই গোষ্ঠীগুলোর কাছে কমপক্ষে  সাধারণভাবে ‘স্মৃতি’ ছিল যে বন্যাটি সৃষ্টিকর্তার ন্যায়বিচার ছিল তবে কিছু লোকেদের একটি বিরাট জাহাজের মধ্যে রক্ষা করা হয়েছিল I অন্য কথায়, এই বন্যার স্মৃতি না কেবল সংস্কৃত এবং হিব্রু বেদগুলোতে, বরং এছাড়া পৃথিবীর চতুর্দিকের সাংস্কৃতিক ইতিহাস এবং মহাদশগুলোর মধ্যেও পাওয়া গিয়েছিল I এটি আমাদের সুদূর অতীতে ঘটা এই ঘটনার দিকে নির্দেশ করে I 

হিন্দি ক্যালেন্ডারের স্বাক্ষ্য

hindu-calendar-panchang

হিন্দি ক্যালেন্ডার – মাসের দিনগুলো শীর্ষ থেকে নীচু অবধি যায়, কিন্তু সাত-দিনের সপ্তাহ আছে 

পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডারের সঙ্গে হিন্দি ক্যালেন্ডারের পার্থক্য এবং মিল অনুরূপভাবে সুদূর অতীতের এই ভাগ করা স্মৃতির স্বাক্ষ্য হয় I বেশিরভাগ হিন্দি ক্যালেন্ডার  গঠন করা হয় যা এদিক থেকে ওদিকের সারির পরিবর্তে (বাঁ থেকে ডান দিকে) নিচের কলমে (উপর থেকে নীচে) যায়, যেটি পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডারের জন্য সার্বজনীন গঠন I ভারতের কিছু হিন্দু ক্যালেন্ডার সংখ্যার জন্য হিন্দি লিপি ব্যবহার করে  (१, २,  ३ …), এবং কিছু পাশ্চাত্য সংখ্যা (1, 2, 3…) ব্যবহার করে I এই পার্থক্যগুলো আশানুরূপ যেহেতু একটি ক্যালেন্ডারকে চিহ্নিত করার জন্য কোনো ‘সঠিক’ পদ্ধতি নেই I কিন্তু সমস্ত ক্যালেন্ডারগুলোর মধ্যে একটি কেন্দ্রীয় সাদৃশ্য আছে I পাশ্চাত্য জগতের মতন – হিন্দি ক্যালেন্ডার 7-দিনের সপ্তাহ ব্যবহার করে I কেন? আমরা বুঝতে পারি পাশ্চাত্য একটির মতন কেন ক্যালেন্ডারকে বছর এবং মাসে বিভক্ত করা হয়েছিল যেহেতু এগুলো পৃথিবীর চারপাশে থাকা সূর্য এবং চাঁদের চারিপাশে পৃথিবীর প্রদক্ষিণের উপরে ভিত্তিশীল হয় – এইরূপে সাধারণত সমস্ত লোকেদের কাছে গ্রহবিজ্ঞান সংক্রান্ত ভিত্তিগুলো দেয় I কিন্তু সাত-দিনের সপ্তাহের জন্য গ্রহবিজ্ঞান সংক্রান্ত কোনো ভিত্তি নেই I এটি প্রথা এবং পরম্পরা থেকে আসে যা ইতিহাসের সুদুর অতীতে গমন করে I (কেউ বোধ হয় জানে না কতটা পেছনে যায়) I          

… এবং বৌদ্ধধর্মালম্বী থাই ক্যালেন্ডার

thai_lunar_calendar

থাই ক্যালেন্ডার বাঁ থেকে ডান দিকে যায়, কিন্তু পশ্চিমের তুলনায় একটি ভিন্ন বছর আছে – কিন্তু তবুও 7-দিনের সপ্তাহ 

বৌদ্ধ ধর্মালম্বী দেশ হয়ে, থাইরা বুদ্ধের জীবন থেকে তাদের বছরগুলো চিহ্নিত করে যাতে তাদের বছরগুলো সর্বদা পশ্চিমের তুলনায় 543 বছর অধিক হয় (অর্থাৎ খ্রীষ্টপুর্বাব্দ 2019 বৌদ্ধ যুগের মধ্যে 2562 হয় – থাই ক্যালেন্ডারের মধ্যে) I কিন্তু পুনরায় তারা একটি 7-দিনের সপ্তাহ ব্যবহার করে I কোথা থেকে তারা সেটি পেল? বিভিন্ন দেশ জুড়ে 7-দিনের সপ্তাহের উপরে ভিত্তিশীল ক্যালেন্ডারগুলো এত ভিন্ন উপায়ে আলাদা কেন যখন এই সময় ইউনিটের জন্য কোনো প্রকৃত গ্রহবিজ্ঞান সংক্রান্ত ভিত্তি নেই?  

সপ্তাহের উপরে প্রাচীন গ্রীকের স্বাক্ষ্য

প্রাচীন গ্রীকরাও তাদের ক্যালেন্ডারের মধ্যে 7-দিনের সপ্তাহ ব্যবহার করত I 

প্রাচীন গ্রীক চিকিৎসাবিদ হিপ্পোক্রেটস, যিনি প্রায় 400 খ্রীষ্টপূর্বাব্দের পাশাপাশি বাস করতেন আধুনিক চিকিৎসার জনক বিবেচনা করা হয় এবং তিনি বই লিখলেন, আজ অবধি সংরক্ষিত আছে, তার চিকিৎসাশাস্ত্র বিষয়ক পর্যবেক্ষণগুলো নথিভুক্ত করে I এই রকম করার সময়ে তিনি একটি সময় ইউনিট হিসাবে ‘সপ্তাহ’ কে ব্যবহার করতেন I কোনো রোগের ক্রমবর্ধমান লক্ষণগুলো সম্বন্ধে লিখতে গিয়ে তিনি ব্যক্ত করলেন:      

চতুর্থ দিবস হ’ল সপ্তম দিবসের সূচক; অষ্টম হ’ল দ্বিতীয় সপ্তাহের  সূত্রপাত; আর অত:পর, একাদশতম দ্বিতীয় সপ্তাহের চতুর্থ হয়ে সূচকও  হয়; আর পুনরায়, সপ্তদশতম সূচক হয়, যেমন চতুর্দশতম থেকে চতুর্থ, এবং একাদশতম থেকে সপ্তম হয়   

হিপ্পোক্রেটস, এফোরিসম্স I #24

350 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে, এরিস্টটল নিয়মিতরূপে সময়ের সীমানির্দেশ করতে লেখার সময়ে ‘সপ্তাহ’ কে ব্যবহার করেন I একটি উদাহরণ দিতে তিনি লেখেন:

বেশিরভাগ শিশু মৃত্যু শিশুর এক সপ্তাহ বয়সের পূর্বে ঘটে I অত:পর সেই বয়সে শিশুর নামকরণ প্রথাগত, একটি বিশ্বাস থেকে যে এর বেঁচে থাকার এখন ভাল সুযোগ আছে I   

এরিস্টটল, দি হিস্ট্রি অফ এনিমালস, খন্ড 12, প্রায় 350 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ

তাই ভারত এবং থাই দেশের থেকে অনেক দূরে থাকা, এই প্রাচীন গ্রীক  লেখকরা ‘সপ্তাহের’ ধারণা কোথায় পেল যেন তারা এই আশা করে ব্যবহার করত যে তাদের গ্রীক পাঠকরা জানত যে একটি ‘সপ্তাহ’ কি ছিল? হয়ত সেখানে এটি ঐতিহাসিক ঘটনা তাদের অতীতে এই সমস্ত সংস্কৃতিগুলোর মধ্যে ঘটেছিল (যদিও তারা ঘটনাটি ভুলে গিয়ে থাকবে) যা 7-দিনের সপ্তাহকে স্থাপিত করেছিল?

ঠিক এইরকম একটি ঘটনাকে হিব্রু বেদা বর্ণনা করে – পৃথিবীর প্রারম্ভিক    সৃষ্টি I সেই বিস্তারিত এবং প্রাচীন বিবরণে সৃষ্টিকর্তা পৃথিবীর সৃষ্টি করেন এবং 7 দিনে (বিশ্রামের সপ্তম দিন সহ 6 দিনে) প্রথম মানুষের আকার প্রদান করেন I সেই কারণে, প্রথম মানবজাতি তাদের ক্যালেন্ডারে 7-দিনের সপ্তাহের সময় ইউনিট ব্যবহার করল I মানবজাতি যখন পরবর্তীকালে ভাষার বিভ্রান্তির দ্বারা বিচ্ছিন্ন হল তখন আসন্ন বলিদানের প্রতিশ্রুতি, বিপর্যয়মূলক বন্যার বিবরণের, পাশা পাশি 7-দিনের সপ্তাহ সহ এই বৃহৎ ঘটনাগুলোকে এই বিচ্ছিনতার পূর্বে এই বিভিন্ন ভাষা গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অনেকেদের দ্বারা স্মরণ করা হয়েছিল I    

এই স্মৃতিগুলো আদি মানবজাতির জীবন্ত শিল্পকর্ম এবং এই বেদগুলোতে নথিভুক্ত ঘটনাগুলোর ইতিহাসের কাছে একটি নিয়ম I এই ব্যাখ্যা হিব্রু এবং সংস্কৃতের বেদগুলোর মধ্যে অভিন্নতা ব্যাখ্যা করতে নিশ্চিতভাবে অত্যন্ত সরাসরি উপায় I কেউ কেউ এই প্রাচীন রচনাগুলোকে নেহাৎ কুসংস্কারপূর্ণ পুরাণশাস্ত্র রূপে আজকের দিনে বাতিল করে কিন্তু তাদের অভিন্নতাগুলো গুরুত্বপূর্ণভাবে সেগুলোকে  আমাদের গ্রহণ করার কারণ হয় I    

আদি মানবজাতির একটি সাধারণ ইতিহাস ছিল যা সৃষ্টিকর্তার থেকে মোক্ষের প্রতিশ্রুতিকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল I কিন্তু প্রতিশ্রুতি কিভাবে পূরণ হবে? আমরা এক পবিত্র মানুষের বর্ণনার সাথে চলতে থাকি যিনি ভাষার বিভ্রান্তির দ্বারা সৃষ্ট বিচ্ছিন্নতার ঠিক পরে বাস করতেন I আমরা এটিকে পরবর্তী পর্যায়ে ওঠাবো I  

[প্রাচীন স্মৃতিগুলোর দিকে আরও একবার দৃষ্টি দিতে যা একই ধরণের সমধর্মিতা সমূহকে দেখায় – কিন্তু এই সময়ে চীন ভাষার লিপিবিদ্যার মাধ্যমে এখানে দেখুন]

কিভাবে মানবজাতি ক্রমাগত চলতে থাকলো – মনুর (বা নোহ) বিবরণের শিক্ষার উপরে

পূর্বে আমরা মোক্ষের প্রতিশ্রুতিকে দেখলাম যাকে মানব ইতিহাসের একেবারে শুরুতে দেওয়া হয়েছিল I এছাড়াও আমরা প্রত্যক্ষ্য করলাম যে সেখানে আমাদের সম্বন্ধে এমনকিছু আছে যা দুর্নীতির দিকে চালিত করে, যা অভীষ্ট নৈতিক ব্যবহারের লক্ষ্যচ্যুত আমাদের কার্যকলাপের মধ্যে দেখায়, এবং এমনকি আমাদের সত্তার বিশেষ প্রকৃতির অধিকতর গভীরে I ঈশ্বরের (প্রজাপতি) দ্বারা সৃষ্ট আমাদের মূল প্রতিমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে I যদিও আমরা অনেক ধর্মানুষ্ঠান, ধৌতকরণ ও প্রার্থনার সাহায্যে আমরা কঠিনভাবে চেষ্টা করি, তবুও আমাদের দুর্নীতি আমাদেরকে আন্তরিকভাবে অনুভব করায় শুচিশুদ্ধ হওয়ার একটি প্রয়োজনকে যাকে আমরা যথাযথভাবে অর্জন করতে পারি না I নিখুঁত শুদ্ধতার সাথে জীবনযাপন করতে চেষ্টা করার অবিরত এই ‘দুরূহ’ সংগ্রামে আমরা প্রায়শই ক্লান্ত হয়ে পড়ি I

এই দুর্নীতি যদি কোনো নৈতিক সংযম ছাড়া বৃদ্ধি পায় তবে জিনিসগুলো দ্রুত ক্ষয় হতে থাকে I মানব ইতিহাসের একেবারে শুরুতে এটি ঘটেছিল I বাইবেলের (বেদা পুস্তকম) প্রথম দিকের অধ্যায়গুলো আমাদের বলে কিভাবে এটি ঘটেছিল I শতপথ ব্রাহ্মনর মধ্যে এই বিবরণটি সমান্তরাল যা বিস্তৃতভাবে বলে কিভাবে মানবজাতির পূর্বপুরুষ আজকের দিনে  – মনু নাম আখ্যাত  – এক বন্যার এক বিশাল দণ্ডাদেশ থেকে রক্ষা পেল যা মানবীয় দুর্নীতির কারণে এসেছিল, এবং এক বিরাট জাহাজের মধ্যে আশ্রয় চাওয়ার দ্বারা এইরকম করল I বাইবেল (বেদা পুস্তকম) এবং সংস্কৃত বেদ উভয় আমাদের বলে যে সমস্ত মানবজাতি আজকের দিনে তার বংশধর হয়ে জীবিত আছে I    

প্রাচীন মনু – যেখানে আমরা ইংরেজি শব্দ ‘মানুষ’ পাই

ইংরেজি শব্দ ‘মানুষ’ প্রাচীন জার্মানির থেকে এসেছে I টাসিটাস নামে একজন রোমীয় ঐতিহাসিক যিনি যীশু খ্রীষ্টের (যেশু সৎসংগ) সময়ের আশেপাশে বাস করতেন, জার্মানদের ইতিহাস সম্বন্ধে জার্মানিয়া নামে একটি বই লিখেছিলেন I এর মধ্যে তিনি বলেন

তাদের প্রাচীন লোকগাথায় (যা তাদের ইতিহাস) তারা পৃথিবী থেকে উৎপন্ন এক দেবতা তুইস্তো এবং জাতির পিতা ও প্রতিষ্ঠাতা তার পুত্র মান্নুসের উৎসব পালন করে, মান্নুসের সঙ্গে তারা তিনজন পুত্রের নামযুক্ত করে, যাদের নাম সমূহের উপরে বহু লোকেরা আখ্যাত হয় (প্রায় 100 খ্রীষ্টাব্দে টাসিটাসের দ্বারা লিখিত জার্মানিয়া)    

পন্ডিতরা আমাদের বলে যে এই প্রাচীন জার্মানি শব্দ ‘মান্নুস প্রোটো-ইন্দো-ইউরোপিয়ান “মানুহ” থেকে এসেছে (তুলনা. সংস্কৃত মানুহ, অভেস্তান মানু-,)I অতএব ইংরেজি শব্দ ‘মানুষ’ মানুর থেকে এসেছে যাকে বাইবেল (বেদা পুস্তকম) এবং শতপথ ব্রাহ্মন উভয়ই আমাদের পূর্বপুরুষ বলে! শতপথ ব্রাহ্মন থেকে সংক্ষিপ্তসার করে এই ব্যক্তিটির দিকে দেখা যাক I সেখানে অল্প কিছু পথদর্শন আছে যাতে বিবরণটির প্রতি একটু ভিন্ন দৃষ্টিকোন আছে, তাই আমি সাধারণ বিষয়গুলো বর্ণনা করব I       

সংস্কৃত বেদের মধ্যে মনুর বিবরণ

বেদের মধ্যে মনু একজন ধার্মিক মানুষ ছিলেন, যে সত্যের সন্ধান করেছিল I কারণ মনু একেবার সৎ ছিল, সে প্রাথমিকভাবে সত্যব্রত বলে পরিচিত ছিল (“একজন সত্যের শপথের সাথে”) I 

শতপথ ব্রাহ্মন অনুসারে (শতপথ ব্রাহ্মনের মধ্যে পড়তে এখানে ক্লিক করুন), একজন অবতার এক আসন্ন বন্যার সম্বন্ধে মনুকে সাবধান করেছিল I  প্রাথমিকভাবে অবতারকে এক শাফারি রূপে দেখা গিয়েছিল (একটি ছোট্ট মাছ) যখন সে একটি নদীতে তার হাত ধুয়েছিল I ছোট্ট মাছ মনুকে বলল তাকে রক্ষা করতে, আর করুণা বশত: সে তাকে একটি জলের বয়ামের মধ্যে   রাখল I এটি বৃহৎ থেকে বৃহত্তর হতে থাকল, যতক্ষণ না মনু তাকে একটি আরও বড় কলসীর মধ্যে রাখল, এবং তারপরে তাকে একটি কুয়োর মধ্যে গচ্ছিত রাখল I নিরন্তর বাড়তে থাকা মাছটির জন্য যখন কুয়োটি অপর্যাপ্ত প্রমাণিত হ’ল, মনু তাকে একটি বড় জলাধারের (চৌবাচ্চা) মধ্যে রাখল, যেটি উচ্চতায় ভূতল থেকে 2 যোজন (25 কিলো মিটার) এবং জমিতে ততটাই দীর্ঘ এবং প্রস্থে এক যোজন (13 কিলো মিটার) ছিল I মাছটি আরো বাড়ার সাথে সাথে মনুকে তাকে একটি নদীতে রাখতে হল, এবং যখন নদীটি এমকি অপর্যাপ্ত প্রমাণিত হ’ল সে তাকে সাগরে রাখল, যার পরে এটি বিরাট সাগরের বিস্তৃত পরিসরকে প্রায় পরিপূর্ণ করল I         

ঠিক তখন অবতার মনুকে সর্ব-বিনাশক বন্যার সম্বন্ধে খবর দিল যা খুব শীঘ্র আসবে I তাই মনু এক বিশালাকার নৌকো নির্মাণ করলো যা পৃথিবীকে জনপূর্ণ করতে তার পরিবার, বিভিন্ন বীজ, এবং প্রানীদের আশ্রয় দিল, কারণ বন্যা হ্রাসপ্রাপ্ত হওয়ার পরে মহাসাগর এবং সমুদ্র পূর্ব অবস্থা থেকে অপসারণ করবে এবং পৃথিবীর লোক এবং প্রানীদের দ্বারা জনপূর্ণ হওয়ার প্রয়োজন হবে I বন্যার সময়ে মনু একটি মাছের শৃঙ্গতে নৌকটিকে বাঁধলো যে আবারও একজন অবতার ছিল I তার নৌকাটি পর্বতের চুড়ায় বন্যার পরে শেষ হয়েছিল I সে তখন পর্বত থেকে অবতরণ করল এবং তার উদ্ধারের জন্য বলি ও নৈবেদ্য উৎসর্গ করল I আজকের পৃথিবীর উপরে সমস্ত লোকেরা তার বংশধর I  

বাইবেলে (বেদা পুস্তকম) নোহের বিবরণ

বাইবেলের (বেদা পুস্তকম) বিবরণ একই ঘটনার বিবরণ করে, কিতু এই বিবরণে মানুকে ‘নোহ’, বলা হয় I নোহ এবং বিস্তৃতরূপে বিশ্বব্যাপী বন্যার বিবরণ পড়তে এখানে ক্লিক করুন)I সংস্কৃত বেদ এবং বাইবেলের সাথে সাথে, এই ঘটনার স্মৃতি বিভিন্ন সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং ধর্ম সমূহের অনেক ইতিহাসে সংরক্ষিত করে রাখা আছে I পৃথিবী পাললিক শিলা দিয়ে আচ্ছাদিত আছে, যা বন্যার সময়ে গঠিত হয়েছিল তাই আমাদের কাছে এই বন্যার প্রাকৃতিক স্বাক্ষ্যের পাশা পাশি নৃতাত্ত্বিক স্বাক্ষ্যও আছে I কিন্তু আজকে আমাদের জন্য শিক্ষা কি যে এই বিবরণের মধ্যে আমাদের মনোযোগ দেওয়া উচিত?    

দয়া হারাচ্ছি বনাম পাচ্ছি

যখন আমরা বলি ঈশ্বর দুর্নীতি (পাপ) বিচার করবেন কি না, এবং বিশেষত আমাদের নিজের পাপ বিচারিত হবে কি না, প্রতিক্রিয়া প্রায়শই এইরকম কিছু হয়, “আমি বিচার সম্বন্ধে ততটা চিন্তিত নয় কারণ ঈশ্বর করুনাময় এবং দয়ালু আমার মনে হয় না তিনি আমাকে সত্যিকারের বিচার করবেন” I নোহ (বা মনু) আমাদেরকে পুনর্বার এটি চিন্তা করতে বাধ্য করে I সমগ্র পৃথিবী (নোহ এবং তার পরিবার ছাড়া) সেই বিচারে ধ্বংশ হয়ে গিয়েছিল I অতএব তাঁর করুণা তখন কোথায় ছিল? এটিকে জাহাজের মধ্যে দেওয়া হয়েছিল I 

ঈশ্বর তাঁর করুণায়, একটি জাহাজ দিয়েছিলেন যেটি যেকোনো কারোর জন্য উপলব্ধ ছিল I যে কেউ সেই জাহাজে প্রবেশ করতে পারত এবং করুণা ও আসন্ন বন্যা থেকে নিরাপত্তা পেতে পারত I সমস্যা ছিল প্রায় সকল লোকেরা আসন্ন বন্যার প্রতি অবিশ্বাসের সাথে প্রতিক্রিয়া জানাল I তারা নোহের প্রতি ঠাট্টা করল এবং যে আসন্ন বিচার সত্যিকারের ঘটবে তার বিশ্বাস করল না I তাই তারা বন্যায় বিনষ্ট হয়ে গেল I তবুও তাদের দরকার ছিল জাহাজে প্রবেশ  করা এবং তারা বিচার থেকে রক্ষা পেতে পারত I

যারা অতীতে বেঁচে ছিল তারা সম্ভবতঃ ভেবেছিল যে তারা উঁচু একটি পর্বতে চড়ে, বা একটি বড় ভেলা নির্মাণ করে তারা বন্যাকে এড়িয়ে যেতে পারবে I কিন্তু তারা বিচারের আকার এবং ক্ষমতাকে সম্পূর্ণরূপে ছোট করে দেখল I এই ‘উত্তম ধারণাগুলো’ সেই বিচারের জন্য পর্যাপ্ত হত না; তাদের এমন কিছুর প্রয়োজন ছিল যা তাদেকে আচ্ছাদন করতে পারত  – জাহাজ I যখন তারা সকলে জাহাজটিকে তৈরী হতে লক্ষ্য করল এটি আসন্ন বিচার এবং উপলব্ধ করুণা উভয়ের একটি স্পষ্ট চিহ্ন ছিল I আর নোহের (মনু) উদাহরণের প্রতি মনোযোগ দিলে এটি আমাদেরকে আজ সেই একই ভাবে কথা বলে, দেখায় যে  করুণা ঈশ্বরের প্রতিষ্ঠিত যোগানের দ্বারা অর্জিত হয়, আমাদের উত্তম ধারণা সমূহের দ্বারা নয় I   

তাহলে নোহ কেন ঈশ্বরে করুণা দেখতে পেল? আপনারা লক্ষ্য করবেন বাইবেল বিভিন্ন সময়ে বাক্যাংশটির পুনরাবৃত্তি করেছে

আর নোহ সেই সমস্ত কিছু করল যা সদাপ্রভু তাকে আদেশ করলেন

আমি দেখি যে আমি যা বুঝি তাই করতে ইচ্ছা হয়, বা আমার যা পচ্ছন্দ, বা আমি যার সঙ্গে একমত হই I আমি নিশ্চিত যে তার মনে একটি আসন্ন বন্যার সতর্কতা এবং জমির উপর এই ধরণের এক বৃহৎ জাহাজ নির্মাণের আদেশ সম্বন্ধে অবশ্যই নোহের অনেক প্রশ্ন থেকে থাকবে I আমি নিশ্চিত সে যুক্তি দিয়ে থাকতে পারে যে সে যেহেতু একজন উত্তম এবং সত্যবাদী মানুষ তাই তার এই জাহাজ নির্মাণের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই I কিন্তু সে সেই ‘সমস্ত’ কিছু করলো যার আদেশ দেওয়া হয়েছিল  –  না কেবল সে যা বুঝেছিল, না তার কাছে যা আরামযোগ্য ছিল, এবং না এমনকি যা তার কাছে বোধগম্য ছিল I আমাদের অনুসরণ করার জন্য এটি একটি মহান উদাহরণ I  

পরিত্রাণের জন্য দ্বার

এছাড়াও বাইবেল আমাদের বলে যে নোহের পরে, তার পরিবার, এবং প্রাণী সকল সেই জাহাজে প্রবেশ করল

তারপর সদাপ্রভু তাকে ভেতরে বন্ধ করলেন

ইনি ঈশ্বর ছিলেন যিনি জাহাজের মধ্যে একটি দ্বার নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাবস্থাপন  করলেন  – নোহ নয় I যখন বিচার এলো এবং জল স্ফীত হল, জাহাজের উপর লোকেদের থেকে কোনো পরিমাণের আওয়াজ নোহকে দ্বার খুলতে বিচলিত করতে পারল না I ঈশ্বর সেই একটি দ্বারকে নিয়ন্রণ করলেন I কিন্তু সেই একই সময়ে যারা ভেতরে ছিল তারা আত্মবিশ্বাসে বিশ্রাম করতে পারল যে ঈশ্বর যেহেতু দ্বার নিয়ন্রণ করছেন সেই হেতু কোনো বাতাস বা ঢেউ এটিকে জোর করে খুলতে পারবে না I তারা ঈশ্বরের যত্ন এবং করুণার দ্বারে নিরাপদ ছিল I   

ঈশ্বর যেহেতু অপরিবর্তনশীল এটি আজকের দিনে এখনও আমাদের কাছে  প্রযোজ্য I বাইবেল সাবধান করে যে আর একটি বিচার আসন্ন  –  এবং এটি আগুনের দ্বারা  –  কিন্তু নোহের চিহ্ন আমাদের আশ্বস্ত করে যে তাঁর বিচারের সাথে সাথে তিনি করুণাও প্রদান করেন I আমাদের এক দ্বার বিশিষ্ট ‘জাহাজের’ খোঁজ করা উচিত যা আমাদর প্রয়োজনকে ভরাট করবে এবং আমাদের করুণা অনুমোদন করবে I  

পুনরায় বলিদান

বাইবেল আমাদের এও বলে যে নোহ:

সদাপ্রভুর কাছে একটি বেদী নির্মাণ করল এবং, শুচি পশু এবং শুচি  পক্ষীদের থেকে কতকগুলোকে নিয়ে এর উপরে হোম বলি উৎসর্গ করল I

আদিপুস্তক 8:20

এটি পুরুসাসুক্তার বলির নমুনার সাথে খাপ খায় I এটি যেন নোহ (বা মনু) জানত যে পুরুসার বলি দেওয়া হবে তাই সে এই আসন্ন বলিদানের একটি চিত্র রূপে একটি পশুর বলি উৎসর্গ করল তার বিশ্বাস প্রদর্শন করতে যে ঈশ্বর এটি করবেন I আসলে বাইবেল বলে যে ঠিক এই বলিদানের পরে ঈশ্বর নোহ এবং তার পুত্রগণকে আশীর্বাদ করলেন (আদিপুস্তক 9:1) এবং ‘নোহের সঙ্গে এক নিয়ম স্থির করলেন’ (আদিপুস্তক 9:8) কোনো বন্যার দ্বারা সমস্ত লোকেদের আর বিচার করা হবে না I তাই এটি বোধ হয় যে নোহের দ্বারা একটি পশুর বলিদান তার আরাধনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছিল I     

পুনর্জন্ম – ব্যবস্থার মাধ্যমে বা …

বৈদিক পরম্পরার মধ্যে মানু মনুস্মৃতির জন্য একটি উৎস যা একজনের জীবনে বর্ণ/জাতের পরামর্শ দেয় বা বিহিত করে I যজুর্বেদ বলে যে, সমস্ত মানবজাতি সুদ্র বা দাস হয়ে জন্মায়, কিন্তু এই দাসত্ব থেকে রক্ষা পেতে আমাদের একটি দ্বিতীয় বা নতুন জন্মের প্রয়োজন I মনুস্মৃতি বিতর্কিত এবং স্মৃতি সম্পর্কে এর  মধ্যে বিভিন্ন দৃষ্টিকোন প্রকাশিত হয়েছে I এইগুলোকে বিস্তৃতভাবে আলোচনা করা আমাদের সুযোগের বাইরে I যাইহোক, যা অনুসন্ধান করার যোগ্য তা বাইবেলের মধ্যে আছে, নোহ/মনুর বংশধর সেমিটিক ভাষার লোকেরাও দুটি উপায় পেয়েছিল যার মধ্যে শুচিতা এবং শুদ্ধিকরণ পাওয়া যায় I একটি উপায় ছিল একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে যা শুদ্ধিকরণ, ধর্মীয় ধৌতকরণ এবং বলিদান সমূহ – একেবারে মনুস্মৃতির অনুরূপ I অন্য উপায়টি অনেক বেশি রহস্যজনক ছিল. এবং এটি পুনর্জন্ম অর্জনের পূর্বে একটি মৃত্যুকে জড়িত করেছিল I যীশুও এই সম্বন্ধে শিক্ষা দিয়েছিলেন I তিনি তাঁর সময়ে একজন বিদ্যান পন্ডিতকে বললেন যে     


যীশু উত্তর দিলেন, “সত্যি সত্যি আমি তোমাদের বলছি, নতুন জন্ম না হলে কেউ ঈশ্বরের রাজ্য দেখতে পারে না I

যোহন 3:3

পরবর্তী প্রবন্ধগুলোতে আমরা এই বিষয়ে আরও দেখব I কিন্তু পরবর্তী ক্ষেত্রে আমরা সন্ধান করব বাইবেল এবং সংস্কৃত বেদের মধ্যে কেন এই ধরণের মিলগুলো আছে I

মোক্ষের প্রতিশ্রুতি – একদম শুরুর থেকে

আমরা দেখেছি কিভাবে তাদের সৃষ্টির প্রথম অবস্থা থেকে মানবজাতির পতন হ’ল I কিন্তু বাইবেল (বেদা পুস্তকম) একেবারে শুরুর থেকে ঈশ্বরের কাছে থাকা এক পরিকল্পনা নিয়ে ক্রমাগত অগ্রসর হতে থাকে I পূর্বে জারি করা এই পরিকল্পনা একটি প্রতিশ্রুতির উপরে কেন্দ্রীভূত এবং সেই একই পরিকল্পনা যা পুরুসাসুক্তর মধ্যে প্রতিধ্বনিত করে I

বাইবেল – সত্যিকারের এক গ্রন্থাগার

এই প্রতিশ্রুতির তাৎপর্যকে তারিফ করতে গিয়ে বাইবেল সম্পর্কে আমাদের অবশ্যই কিছু মৌলিক বিষয়গুলোকে জানা উচিৎ I যদিও এটি একটি পুস্তক, এবং আমরা এটিকে এইরকমই ভাবি, এটির সম্বন্ধে আরও সঠিক ভাবলে এটি একটি ভ্রাম্যমান গ্রন্থাগার হয় I এই কারণে এটি পুস্তক সমূহের একটি সংগ্রহ, 1500 বছর সময়ের ব্যবধানে একাধিক রচয়িতা গোষ্ঠীর দ্বারা রচিত হয়েছে I আজ এই পুস্তকগুলো একটি খন্ডের মধ্যে বাঁধা – বাইবেল I এই বিষয়টি একাই বাইবেলকে পৃথিবীর মহান পুস্তকগুলোর মধ্যে অন্যতম ঋক বেদের মতন অনন্য করেছে I নানাবিধ রচয়িতাস্বত্ব ছাড়াও, বাইবেলের পুস্তকগুলো যে সব বক্তব্য, ঘোষণা এবং ভবিষ্যদ্বানী সমূহ করেছে তাকে পরবর্তী লেখকরা অনুসরণ করে I বাইবেল যদি কেবলমাত্র একজন লেখক অথবা লেখকদের এক গোষ্ঠী দ্বারা রচিত হত যারা একে অপরকে জানত, তবে তা তাৎপর্যপূর্ণ হত না I কিন্তু বাইবেলের রচিয়তারা শত শত এবং এমনকি সহস্রাধিক বৎসর ধরে বিচ্ছিন্ন, বিভিন্ন সভ্যতা, ভাষা, সামাজিক স্তর এবং সাহিত্যিক ধারায় রচনা করেছে – তথাপি তাদের বার্তা সমূহ এবং ভবিষ্যদ্বাণীগুলো বাইবেলের বাইরের ঐতিহাসিক ঘটনা সমূহের যাচাইয়ের মাধ্যমে পরবর্তী লেখকদের দ্বারা আরও উন্নত  হয়েছে I এটি বাইবেলকে একটি সামগ্রিক ভিন্ন স্তরে অনন্য করে তোলে – এবং আমাদেরকে এর বার্তাটিকে বুঝতে অনুপ্রাণিত হওয়া উচিৎ I পুরনো নিয়মের বইয়ের বিদ্যমান হস্তলিপির প্রতিলিপিগুলো (যীশুর আগেকার  বইগুলো) যার তারিখ প্রায় 200 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ হবে যাতে বাইবেলের পাঠগত ভিত্তি, সর্বাংশে, পৃথিবীর প্রাচীন বইগুলোর থেকে ভাল I               

বাগানের মধ্যে মোক্ষের প্রতিশ্রুতি

বাইবেলের আদিপুস্তকের ঠিক শুরুতে সৃষ্টি এবং পতনের বিবরণের পরবর্তী ঘটনা সমূহের দিকে আমরা এটিকে ‘প্রত্যাশা করতে’ দেখি I অন্য কথায়, যদিও এটি শুরুকে বর্ণনা করছে, তবুও এটিকে শেষের পরিপ্রেক্ষিতে লেখা হয়েছিল I এখানে আমরা একটি প্রতিশ্রুতিকে দেখি যখন ঈশ্বর তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সর্পের স্বরূপে মন্দের ব্যক্তিত্ব শয়তানের মুখোমুখি হয়, এবং ঠিক শয়তানের দ্বারা মানবীয় পতন নিয়ে আসার পরে তার সাথে এক হেঁয়ালিতে কথা বলে I    

 “… আর আমি (ঈশ্বর) তোমাতে (শয়তান) ও নারীতে এবং তোমার বংশে ও তার বংশে শত্রুতা রাখব I সে তোমার মস্তক চূর্ণ করবে এবং তুমি তার পাদমূল চূর্ণ করবে I” 

আদিপুস্তক 3:15

সতর্কভাবে পড়লে আপনারা দেখবেন যে পাঁচটি বিভিন্ন চরিত্র উল্লিখিত আছে এবং যে এটি তার মধ্যে ভবিষ্যদ্বাণীপূর্ণ হয় যাতে এটি সময়মত প্রত্যাশা করে (‘উইল’ এর পুন: পুন: ব্যবহারের দ্বারা দেখা যায় যেন ভবিষ্যৎ কালে) I চরিত্রগুলো হ’ল     

1.ঈশ্বর/প্রজাপতি

2.শয়তান/সর্প

3. স্ত্রী

4. স্ত্রীর বংশধর

5. শয়তানের বংশধর

আর হেঁয়ালি ভবিষ্যদ্বাণী করে এই চরিত্রগুলো ভবিষ্যতে কিভাবে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত হবে I এটিকে নিচে দেখানো হয়েছে 

আদিপুস্তকের প্রতিশ্রুতিতে চরিত্রগুলোর মধ্যে সম্পর্ক সমূহ 

ঈশ্বর ব্যবস্থা করবেন যে শয়তান এবং স্ত্রীটির মধ্যে এক ‘বংশধর’ থাকবে I এই বংশধর এবং স্ত্রী ও শয়তানের মধ্যে ‘শত্রুতা বা ঘৃণা হবে I শয়তান স্ত্রীর বংশধরের ‘পাদমূল’ চূর্ণ করবে’ যেখানে স্ত্রীটির বংশধর শয়তানের মস্তক ‘চূর্ণ করবে’ I   

বংশধরের উপরে অনুমান – একটি ‘সে’

এতক্ষণ পর্যন্ত আমরা পাঠ্যের থেকে কেবল সরাসরিভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি I এখন কিছু যুক্তিপূর্ণ অনুমানের জন্য I যেহেতু স্ত্রীটির ‘বংশধর’ কে একটি ‘সে’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং একটি ‘তার’ কে আমরা জানি এটি একটি একক পুরুষ মানুষ – একজন মানুষ I সেটার সাহায্যে আমরা কিছু সম্ভাব্য ব্যাখ্যা সমূহকে বাতিল করতে পারি I একটি ‘সে’ হিসাবে বংশধরটি একটি ‘স্ত্রী লিঙ্গের একজন ‘সে’ নয় এবং এইরূপে স্ত্রী হতে পারে না I একজন ‘সে’ হিসাবে বংশধর একটি ‘তারা’ নয়, যা এটি সম্ভবতঃ হতে পারত, হয়ত লোকাদের এক গোষ্ঠী, বা এক প্রজাতি, বা একটি দল, বা একটি জাতি I বিভিন্ন সময়ে এবং বিভিন্ন উপায়ে লোকেরা ভেবেছে যে একটি ‘তারা’ হবে উত্তর I কিন্তু বংশধরটি, একটি ‘সে’ হলে লোকেদের কোনো গোষ্ঠী নয় তা একটি জাতি কিম্বা একটি নির্দিষ্ট ধর্ম যেমন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান, মুসলমান, বা এমনকি একটি জাতকে বোঝায় কি না I একটি ‘সে’ হিসাবে বংশধরটি একটি ‘ইহা’ নয় (বংশধরটি একজন ব্যক্তি) I এটি সম্ভাবনাকে বাদ দেয় যে বংশধরটি একটি নির্দিষ্ট, শিক্ষা, প্রযুক্তিবিদ্যা, রাজনৈতিক ব্যবস্থা, অথবা ধর্ম I এই ধরণগুলোর মধ্যে একটি ‘ইহা’ সম্ভবত হয়ে থাকবে, এবং এখনও আমাদের পচ্ছন্দের চয়ন হ’ল পৃথিবীকে ঠিক করা I আমরা ভাবি যে যা আমাদের পরিস্থিতিকে ঠিক করবে তা এক প্রকারের ‘ইহা’, তাই মানবীয় চিন্তাশীল ব্যক্তিদের মধ্যে সব থেকে উত্তমরা শতাব্দীব্যাপী বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যবস্থা, প্রযুক্তিবিদ্যা, ধর্ম ইত্যাদির জন্য বিতর্ক করে এসেছেন I কিন্তু এই প্রতিশ্রুতি এক সম্পূর্ণ ভিন্ন দিশাকে নির্দেশ করে I ঈশ্বরের মনে অন্য কিছু ছিল – একজন ‘সে’ I এবং এই ‘সে’ সর্পের মস্তক চূর্ণ করবে I            

এছাড়া. যা বলা হয় না তা লক্ষ্য করা চিত্তাকর্ষক I ঈশ্বর একজন বংশধর মানুষকে প্রতিশ্রুতি দেন যেমন তিনি স্ত্রীটিকে প্রতিশ্রুতি দেন I এটি একেবারে অসাধারণ বিশেষত বাইবেল এবং প্রাচীন জগৎব্যাপী পিতাদের মাধ্যমে পুত্রদের আসার উপরে জোর দেওয়া হয়েছে I কিন্তু এ ক্ষেত্রে একজন বংশধরের (এক ‘সে’) কোনো প্রতিশ্রুতি নেই I এটি বলে যে কোনো পুরুষের উল্লেখ ছাড়াই, কেবলমাত্র স্ত্রীটির থেকে একজন বংশধর আসছে I

এখনও অবধি অবস্থিত সমস্ত মানব জাতি, ঐতিহাসিকভাবে অথবা পৌরাণিকভাবে, কেবলমাত্র একজন মায়ের অস্তিত্বের দাবি করেছিল কিন্তু সেই একই সময়ে কখনও একজন শারীরিক পিতার অস্তিত্ব ছিল না I ইনি যীশু ছিলেন (যেশু সৎসংগ) যাকে নতুন নিয়ম (এই প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সহস্রাধিক বছর পরে লেখা) কুমারী মায়ের থেকে জন্ম নেওয়ার কথা ঘোষণা করে – এইরূপে একজন মা কোনো মানবীয় পিতা নয় I সময়ের শুরুতে এখানে কি এই হেঁয়ালির মধ্যে যীশুর সম্বন্ধে পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে? এটি পর্যবেক্ষণের সঙ্গে খাপ খায় যে বংশধর একজন ‘সে’, একজন স্ত্রী লিঙ্গের ‘সে’ ‘তারা’ বা ‘ইহা’ নয়, I সেই পরিপ্রেক্ষিতের সাহায্যে, ধাঁধার কিছু টুকরোর সমাধান হয় I     

 ‘তার পাদমূল চূর্ণ করে’ ??

এর মানে কি যে শয়তান/সর্প ‘তার পাদমূল’ চূর্ণ করবে? আমি বুঝতে পারিনি যতক্ষণ না পর্যন্ত আমি আফ্রিকার জঙ্গলে কাজ করলাম I আমাদেরকে এমনকি আর্দ্র গরমের মধ্যেও মোটা রাবারের জুতো পরতে হত – কারণ সাপেরা সেখানে লম্বা ঘাসের মধ্যে শুয়ে থাকত এবং আপনার পায়ে আঘাত করত – অর্থাৎ আপনার পাদমূল – এবং আপনাকে মেরে ফেলত I আমার প্রথম দিন সেখানে আমি প্রায় একটা সাপের উপর পা দিয়ে ফেলেছিলাম, এবং এর থেকে সম্ভবত আমি মারা যেতে পারতাম I তার পরে হেঁয়ালিটি আমার কাছে বোধগম্য হল I ‘সে’ সর্পটির বিনাশ করবে (‘তোমার পাদমূল চূর্ণ করবে’) I সেটি যীশুর বলিদানের মাধ্যমে অর্জিত বিজয়ের আভাস দেয়     

সাপের বংশধর?

কিন্তু তার অন্য শত্রু কে, শয়তানের এই বংশধর? যদিও আমাদের কাছে এখানে স্থান নেই এটিকে বিস্তৃতরূপে সন্ধান করার, পরবর্তী বইগুলো একজন আসন্ন ব্যক্তির সম্বন্ধে কথা বলে I বিবরণটিকে নোট করুন:

আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের আগমন এবং তাঁর কাছে আমাদের সংগৃহীত  হওয়ার বিষয়ে … যে কোনো ভাবে কাউকে আপনাদের প্রতাড়িত করতে দেবেন না, কারণ সেই দিন আসবে না যতক্ষণ পর্যন্ত বিদ্রোহ ঘটে এবং অরাজকতার মানুষটি প্রকাশিত হয়, সেই মানুষটি বিনাশের দণ্ড পায় I সে বিরোধিতা করবে এবং সমস্তকিছুর উপরে নিজেকে উচ্চকৃত করবে যে ঈশ্বর নামে আখ্যাত হয় বা পূজ্য হয়, যাতে সে ঈশ্বরের মন্দিরে নিজেকে স্থাপন করে, নিজেকে ঈশ্বর হতে ঘোষণা করে    

2 থিষলনীকীয় 2:1-4; গ্রীসে প্রায় 50 খ্রীষ্টাব্দে পৌলের দ্বারা লিখিত

এই পরবর্তী বইগুলো স্পষ্টভাবে স্ত্রীটির বংশধর এবং শয়তানের বংশধরের মধ্যে একটি সংঘর্ষের উল্টো গণনার কথা বলে I কিন্তু মানব ইতিহাসের একেবারে শুরুতে, পরিপূর্ণ হওয়ার অপেক্ষায় বিশদভাবে এটি প্রথমে আদিপুস্তকের এই প্রতিশ্রুতিতে ভ্রুণ-মত রূপের মধ্যে উল্লেখ করা হয় I সুতরাং ইতিহাসের চরম পরিণতি, শয়তান এবং ঈশ্বরের মধ্যে এক চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দীতার উল্টো গণনাকে প্রাচীনতম বইয়ের মধ্যে আগে থেকেই দেখা যায় I   

পূর্বে আমরা প্রাচীন স্তোত্র পুরুসাসুক্তর মধ্য দিয়ে যাত্রা করেছি I আমরা দেখলাম যে এই স্ত্রোতটি এছাড়াও একজন নিখুঁত মানুষের আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী করল  – পুরুসা  – একজন মানুষ যিনি আবারও আসবেন ‘মানবীয় ক্ষমতার দ্বারা নয়’I এই মানুষটিকে আবারও বলিতে সমর্পণ করা হবে I আসলে আমরা দেখলাম যে সময়ের শুরুতে ঈশ্বরের হৃদয় এবং মনের মধ্যে এটি সিদ্ধান্ত এবং নির্ধারিত করা হল I এই বই দুটি কি একই ব্যক্তির সম্বন্ধে কথা বলছে? আমার  যে তারা বলছে I পুরুসাসুক্ত এবং আদিপুস্তকে প্রতিশ্রুতি একই ঘটনাকে স্মরণ করে  –  যখন ঈশ্বর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন যে তিনি টিই একদিন মানুষ রূপে অবতার গ্রহণ করবেন যাতে ধর্ম নির্বিশেষে সমস্ত মানব জাতির সার্বজনীন প্রয়োজনের জন্য এই মানুষটিকে বলিতে সমর্পণ করতে পারা যায় I কিন্তু ঋক  বেদ এবং বাইবেলের মধ্যে এই প্রতিশ্রুতিটি এই একমাত্র অনুরূপতা নয় I যেহেতু তারা মানব ইতিহাসের প্রাচীনতমটি নথিভুক্ত করে সেইহেতু তারা অন্যান্য ঘটনাগুলোকেও একসাথে নথিভুক্ত করে যেটাকে আমরা পরবর্তী পর্যায়ে দেখি I      

বিকৃত (দ্বিতীয় খণ্ড)… আমরা লক্ষচ্যুত হচ্ছি

আমরা শেষে দেখলাম দেখলাম কিভাবে বেদ পুস্তকম (বাইবেল) ঈশ্বরের মূল প্রতিমূর্তি যাতে আমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছিল আমাদেরকে তার থেকে ভিন্ন   বিকৃত রূপে বর্ণনা করেছে I একটি চিত্র যা আমাকে এটিকে আরও ভালোভাবে দেখতে সাহায্য করেছে তা ছিল মধ্য পৃথিবীর শয়তানের দল, পরীদের বিকৃত স্বরূপ I কিন্তু কিরূপে এটি ঘটল?

পাপের উৎপত্তি 

এটিকে বাইবেলের আদিপুস্তকে নথিভুক্ত করা হয়েছে I ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্টি হওয়ার অব্যবহিত পরে প্রথম মানব জাতির পরীক্ষা নেওয়া হল I বিবরণটিকে একটি ‘সর্পের’ বিনিময়ের সাথে নথিভুক্ত করা হয়েছে I সর্পকে সর্বদা সার্বজনীন রূপে শয়তান হওয়াকে বুঝিয়েছে – ঈশ্বরের বিরোধী একটি আত্মা I বাইবেলের মধ্য দিয়ে, শয়তান সাধারণতঃ অন্য ব্যক্তির মাধ্যমে কথা বলার দ্বারা মন্দ করতে প্রলোভিত করে I এই ক্ষেত্রে সে সর্পের মধ্য দিয়ে কথা বলেছে I এইভাবে এটিই নথিভুক্ত করা হয়েছে I  

সদাপ্রভু যে সমস্ত বন্য পশুদের তৈরি করেছিলেন তার মধ্যে সর্প ছিল সবচেয়ে চতুর। একদিন তিনি মহিলাটিকে জিজ্ঞাসা করলেন, “Godশ্বর কি সত্যিই বলেছিলেন যে আপনি বাগানের কোনও গাছের ফল খাবেন না?”

মহিলা অবশ্যই জবাব দিলেন, “আমরা অবশ্যই বাগানের গাছ থেকে ফল খেতে পারি।” “বাগানের ঠিক মাঝখানে গাছ থেকে ফল পাওয়া যায় যা আমাদের খেতে দেওয়া হয় না। saidশ্বর বলেছিলেন, ‘আপনি এটি খাবেন না এমনকি স্পর্শও করবেন না; যদি করেন তবে আপনি মরে যাবেন।”

“তুমি শেষ!” সাপটি মহিলাকে উত্তর দিল। “Knowsশ্বর জানেন যে আপনি এটি খাওয়ার সাথে সাথেই আপনার চোখ খুলবে এবং আপনি ভাল এবং মন্দ উভয়ই জেনে .শ্বরের পছন্দ করবেন” “

 মহিলা দৃ was় বিশ্বাস ছিল। তিনি দেখেছিলেন যে গাছটি সুন্দর এবং এর ফলগুলি সুস্বাদু লাগছিল এবং সে তার দেওয়া জ্ঞান চেয়েছিল। তাই সে কিছু ফল নিয়ে তা খেয়ে ফেলল। তারপরে তিনি তার স্বামীকে কিছু উপহার দিয়েছিলেন, তিনি তার সাথে ছিলেন এবং তিনি তাও খেয়েছিলেন। এই মুহুর্তে তাদের চোখ খুলে গেল এবং হঠাৎ করে তারা তাদের উলঙ্গ অবস্থায় লজ্জা পেয়েছিল। তাই তারা নিজেরাই কতে ডুমুর পাতা এক সাথে সেলাই করল।

আদিপুস্তক 3:1-6

তাদের পচ্ছন্দের মূল্, এবং এইরূপে প্রলোভন, ছিল যে তারা ‘ঈশ্বরের মতন হতে’ পারে I এই বিন্দু পর্যন্ত তারা সমস্ত কিছুর জন্য ঈশ্বরের উপরে ভরসা করেছিল এবং সমস্ত কিছুর জন্য শুধুমাত্র তাঁকে তার বাক্যে গ্রহণ করেছিল I কিন্তু এখন তা পেছনে ছেড়ে দিতে তাদের পচ্ছন্দ ছিল, ‘ঈশ্বরের মতন’ হতে, নিজেদের উপরে ভরসা করে এবং জিনিসগুলোর জন্য তাদের নিজের কথাকে গ্রহণ করে I তারা নিজেরা ‘ঈশ্বর’ হতে পারত, তাদের নিজেদের জাহাজের অধিনায়ক, তাদের অদৃষ্টের প্রভু, কেবল মাত্র নিজেদের কাছে স্বতন্ত্র এবং উত্তরদায়ী I    

ঈশ্বরের বিরুদ্ধে তাদের বিদ্রোহে তাদের মধ্যে কিছু পরিবর্তন হল I যেমন অধ্যায়টি বর্ণনা করে, তারা লজ্জা বোধ করল এবং লুকোতে চাইল I আসলে, ঠিক অব্যবহিত পরে, যখন ঈশ্বর আদমের অবাধ্যতার সম্মুখীন হলেন, আদম ঈভের উপরে দোষ চাপাল (এবং ঈশ্বর যাকে সৃষ্টি করেছেন) I পরিবর্তে সে সর্পের উপর দোষ দিল I কেউ দায়িত্ব স্বীকার করল না I   

আদমের বিদ্রোহের পরিণাম

আর সেদিন যা আরম্ভ হল তা চলতে থাকলো যেহেতু আমরা সেই একই অন্তর্নিহিত প্রবণতার উত্তরাধিকারী হয়েছি I সেই কারণে আমরা আদমের ন্যায় আচরণ করি – যেহেতু আমরা তার প্রকৃতির উত্তরাধিকারী হয়েছি I কেউ কেউ বাইবেলকে ভুলভাবে বোঝে আদমের বিদ্রোহের জন্য আমাদেরকে দোষ দেওয়া হয়েছে I আসলে, কেবলমাত্র একজন দোষী সে হল আদম কিন্তু আমরা সেই বিদ্রোহের পরিণামের মধ্যে বাস করি I আমরা এটিকে জেনেটিক্যালি ভাবতে পারি I সন্তানরা তাদের পিতা-মাতার বৈশিষ্ট্যগুলোকে অর্জন করে – ভালো আর মন্দ – তাদের জীন সমূহকে উত্তরাধিকারী রূপে গ্রহণ করে I আদমের এই বিদ্রোহমূলক প্রকৃতিকে আমরা উত্তরাধকারী রূপে পেয়েছি এবং এইরূপে অন্তর্নিহিতভাবে, প্রায় অচেতনভাবে, বরং ইচ্ছাকৃতভাবে আমরা বিদ্রোহকে চালিয়ে যাই যা সে আরম্ভ করেছিল I হয়ত আমরা বিশ্ব ব্রহ্মান্ডর ঈশ্বর না হতে চাই, কিন্তু আমরা আমাদের সেটিংসের মধ্যে ঈশ্বর হতে চাই; ঈশ্বরের থেকে স্বতন্ত্র I         

আজকের দিনে পাপের প্রভাব এতটা সুস্পষ্ট

আর এটি মানব জীবন সম্পর্কে এত বেশি ব্যাখ্যা করে যে আমরা নিশ্চিতভাবে ধরে নিই I এটিই কারণ যে প্রত্যেক স্থানে লোকেদের তাদের দরজার জন্য তালা, তাদের পুলিশ, উকিল, ব্যাঙ্কের জন্য সংকেতমূলক পাসওয়ার্ডগুলোর প্রয়োজন হয় – কারণ আমাদের বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা একে অপরের থেকে চুরি করি I এই জন্যই সাম্রাজ্য এবং সমাজগুলো সকলের অবশেষে ক্ষয় হয় এবং ভেঙ্গে পড়ে – কারণ এই সমস্ত সাম্রাজ্যগুলোর মধ্যে নাগরিকদের ক্ষয়িষ্ণু হওয়ার একটি প্রবণতা থাকে I এই কারণে সমস্ত প্রকার সরকার এবং অর্থনৈতিক পদ্ধতিগুলোর চেষ্টা করার পরেও এবং যদিও অন্যদের থেকে কারোর ভাল কাজ হওয়া স্বত্তেও প্রত্যেকে রাজনৈতিক অথবা অর্থনৈতিক পদ্ধতিগুলো অবশেষে বোধ হয় নিজে নিজেই ভেঙ্গে পড়তে উপক্রম হয় – কারণ এই ভাবাদর্শগুলোতে জীবিত লোকেদের মধ্যে এমন প্রবণতা থাকে যা সমগ্র ব্যবস্থাকে নিচে টেনে আনে I এই কারণে যদিও প্রজন্ম সর্বাধিক শিক্ষিত হয়েও যা কখনও দেখা যায় নি আমাদের মধ্যে এখনও এই সমস্যগুলো রয়ে গেছে, কারণ এটি আমাদের শিক্ষার স্তরের থেকেও আরো গভীরে যায় I এই কারণে আমরা এত ভালোভাবে প্রাতস্নান মন্ত্রর সঙ্গে অভিন্ন বলে গন্য করি – কারণ এটি আমাদেরকে এত ভালোভাবে বর্ণনা করে I        

পাপ – ‘লক্ষচ্যুত’ করে   

এটিও তাই কেন কোনো ধর্ম সমাজের জন্য সম্পূর্ণরূপে তাদের দর্শনকে নিয়ে আসে নি – বরং নাস্তিক একজনের কাছেও নেই (স্তালিনের সোভিয়েত ইউনিয়ন, মাওয়ের চীন, পল পটের কম্বোডিয়ার কথা ভাবুন) – কারণ যে কোনো ভাবেই হোক আমাদের দর্শনকে হারিয়ে ফেলতে আমরা ইচ্ছুক হই I আসলে, ওই ‘লক্ষচ্যুত’ শব্দটি আদের পরিস্থিতিকে দেখায় I বাইবেল থেকে একটি পদ একটি চিত্র দেয় যা আমাদেরকে এটি বুঝতে ভালোভাবে সাহায্য করে I এটি বলে   

 এই সমস্ত সৈন্যের মধ্যে সাত শতাধিক নির্বাচিত সৈন্য ছিল যারা বাম হাতে ছিল, যাদের প্রত্যেকেই একটি চুলে পাথর বানাতে পারত এবং মিস করতে পারত না।

বিচারকতৃগনের বিবরণ 20:16

এই পদটি সৈন্যদের বর্ণনা করে যারা ফিঙ্গার পাথর মারতে দক্ষ ছিল এবং কখনও লক্ষচ্যুত হত না I যে মূল হিব্রু শব্দটি উপরোক্ত ‘লক্ষচ্যুত’ কে অনুবাদিত করেছে তা হল יַחֲטִֽא׃ এই একই হিব্রু শব্দটিকে বাইবেলের অধিকাংশ স্থান জুড়ে পাপ রূপে আবারও অনুবাদিত করা হয়েছে I উদাহরণস্বরূপ, এই একই হিব্রু শব্দ হল ‘পাপ’ যখন যোষেফ, যাকে মিশরে দাস রূপে বিক্রি করা হয়েছিল, তার মনিবের স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচার করত না, এমনকি যদিও সে তার কাছে অনুনয় করল I সে তাকে বলল:    

 এই বাড়িতে আমার চেয়ে বড় কেউ নেই। আমার মালিক তোকে বাদ দিয়ে আমার কাছ থেকে কিছুই রক্ষা করেন নি, কারণ আপনি তাঁর স্ত্রী। তাহলে আমি কীভাবে againstশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ করতে পারি?

আদিপুস্তক 39:9

এবং ঠিক দশ আজ্ঞা সমূহকে দেওয়ার পরে এটি বলে:

 মূসা লোকদের বললেন, “ভয় কোরো না। Youশ্বর আপনাকে পরীক্ষা করতে এসেছেন, যাতে ningশ্বরের ভয় আপনাকে পাপ থেকে বিরত রাখতে পারে ”’

যাত্রাপুস্তক 20:20

এই উভয় স্থানের মধ্যে এটি একই হিব্রু শব্দ יַחֲטִֽא׃ যেটির অনুবাদ হল ‘পাপ’ I এটি সৈন্যদের সঙ্গে ‘লক্ষচ্যুত’র জন্য ঠিক সেই একই শব্দ যারা লক্ষের দিকে ফিঙ্গার পাথর মারে যেমনটি এই পদগুলোর মধ্যে আছে যা ‘পাপ’ কে বোঝায় যখন লোকেরা একে অপরের সঙ্গে ব্যবহার করে I এটি একটি চিত্রকে প্রদান করে আমাদেরকে বোঝাতে যে ‘পাপ’ কি I সৈন্য একটি পাথর এবং ফিঙ্গার নিয়ে এটিকে লক্ষের উপরে আঘাত করে I যদি এটি লক্ষচ্যুত হয় এটি তার উদ্দেশ্যকে ব্যর্থ করেছে I একইভাবে, আমাদেরকে ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্টি করা হয়েছিল লক্ষকে আঘাত করতে কিভাবে আমরা তাঁর সঙ্গে এবং অন্যদের সম্পর্ক স্থাপন করি I ‘পাপ’ করা মানে এই উদ্দেশ্য অথবা লক্ষ্যর থেকে লক্ষচ্যুত হওয়া, যা আমাদের জন্য অভীষ্ট করা হয়েছিল, এবং যাকে আমাদের বিভিন্ন পদ্ধতি, ধার্মিক এবং ভাবাদর্শ সমূহের মধ্যে নিজেদের জন্যও চাই I         

‘পাপের’  মন্দ সংবাদ – সত্যের একটি সমস্যা পচ্ছন্দ নয়

মানব জাতির এই বিকৃত এবং লক্ষচ্যুত চিত্র সুন্দর নয়, এটি ভালো-লাগা নয়, নাতো এটি আশাবাদী I বছরের পর বছর ধরে এই নির্দিষ্টি শিক্ষার বিরুদ্ধে আমি লোকেদের তীব্রভাবে প্রতিক্রয়া করতে পেয়েছি I এখানে কানাডায় আমার মনে পড়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আমার দিকে তাকিয়ে ভয়াযক ক্রোধের সাথে বলে, “আমি আপনাকে বিশ্বাস করি না কারণ আপনি যা বলছেন আমি পচ্ছন্দ করি না I” এখন আমরা এটি পচ্ছন্দ না করতে পারি, কিন্তু ওটির উপর ফোকাস করা হল বিষয়টির থেকে লক্ষচ্যুত হওয়া I কোন কিছুকে ‘পছন্দ করার’ সঙ্গে যে কোনো কিছুকে সত্য বা মিথ্যা রূপে পাওয়ার কিসের সামঞ্জস্য আছে? আমি কর, যুদ্ধ, এইডস এবং ভূমিকম্প পচ্ছন্দ করি না – কেউ করে না – কিন্তু তা তাদেরকে দুরে যেতে দেয় না, এবং নাতো আমরা তাদের কোনটিকে অগ্রাহ্য করতে পারি I      

আইন, পুলিশ, তালা, চাবি, নিরাপত্তা ইত্যাদির সমস্ত পদ্ধতিগুলো যাদেরকে আমরা সমস্ত সমাজে একে অন্যের থেকে রক্ষা করতে গড়ে তুলেছি প্রস্তাব দেয় যে কোনো কিছু অন্যায় I ঘটনা হল যে কুম্ভ মেলার মতন উৎসবগুলো ‘আমাদের পাপগুলোকে ধুতে’ লক্ষ লক্ষ লোকদের আকর্ষণ করে যা সংকেত দেয় যে আমরা নিজেরা সহজাতভাবে জানি যে যে কোনো ভাবে আমরা উদ্দেশের থেকে লক্ষ্যচ্যুত হয়েছি I ঘটনা হল যে বলিদানের ধারণা স্বর্গের জন্য একটি প্রয়োজন যাকে সমস্ত ধর্ম সমূহের মধ্যে দেখা যায় যা একটি সুত্র যে এমন কিছু আছে যা আমাদের সম্বন্ধে ঠিক নয় I কমপক্ষে, এই মতবাদ নিরপেক্ষভাবে বিবেচনার যোগ্য I

কিন্তু পাপের এই মতবাদ সমস্ত ধর্ম, ভাষা এবং জাতি সমূহ ব্যাপী – আমাদের সকলকে লক্ষ্যচ্যুত করাচ্ছে যা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করে I ঈশ্বর এই সম্বন্ধে কি করতে যাচ্ছিলেন? আমাদের পরবর্তী পোস্টে ঈশ্বরের প্রতিক্রিয়াকে আমরা দেখব – যেখানে আমরা আসন্ন মুক্তিদাতার প্রথম প্রতিশ্রুতিকে দেখি – পুরুষা যাকে আমাদের জন্য পাঠানো হবে I

কিন্তু বিকৃত … মধ্য-পৃথিবীর মন্দ শক্তির কুৎসিত জাতির মতন

আমাদের পূর্ববর্তী রচনায় আমরা দেখলাম কিভাবে বাইবেল আমাদের এবং অন্যদের চিত্রিত করেছে – যে আমাদেরকে ঈশ্বরর প্রতিমূর্তিতে সৃষ্টি করা  হয়েছে I কিন্তু বেদা পুস্তকম (বাইবেল) এই ভিত্তির উপরে আরও অগ্রসর হয় I পুরনো নিয়মে ইব্রীয়দের দ্বারা ব্যবহৃত তাদের ঈশ্বরের আরাধনায় গীত সংহিতা হল পবিত্র গীত ও স্ত্রোত্রের একটি সংগ্রহ I প্রায় 1000 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে রাজা দায়ূদের (যিনি একজন ভাববাদীও ছিলেন) দ্বারা লিখিত গীত সংহিতা 14 লেখা হয়েছিল I এবং এই স্ত্রোত নথিভুক্ত করেছে কিভাবে ঈশ্বরের দৃষ্টিভঙ্গী থেকে জিনিসগুলোকে দেখায় I     

সদাপ্রভু স্বর্গ থেকে নীচে তাকিয়ে দেখেন যে লোকেরা বুঝতে পারে যে, Godশ্বরের সন্ধানকারী কেউ আছে কি না। প্রত্যেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তারা একসাথে দুর্নীতিগ্রস্থ হয়েছে; ভাল কেউই নেই, এমনকি একজনও নেই।

গীতসংহিতা 14: 2-3

‘বিকৃত হওয়া’ বাক্যাংশটি সমগ্র মানব জাতিকে বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয় I যেহেতু এটি এমন কিছু ভাবে আমরা বিকৃত ‘হয়েছি’ যাকে ‘ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে’ হওয়ার সেই প্রারম্ভিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে উল্লেখ করা হয়েছে I এটি বলে যে আমাদের বিকৃতি স্বয়ং নিজেকে ঈশ্বরের থেকে একটি নির্ধারিত স্বতন্ত্রতার মধ্যে দেখায় (‘সকলে’ ‘ঈশ্বরকে চাওয়ার’ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে) এবং এছাড়াও ‘ভালো’ করার মধ্যে নেই I 

মানবরূপী অলৌকিক সত্তা এবং মন্দ শক্তির কুৎসিত জাতির সমন্ধে চিন্তা    

Orcs were hideous in so many ways. But they were simply corrupt descendants of elves

মন্দ শক্তির কুৎসিত জাতিগুলো বিভিন্ন দিকে দিয়ে বীভৎস ছিল I বরং তারা কেবলমাত্র মানবরূপী ওলৌকিক সত্তার বিকৃত বংশধর ছিল  

The elves were noble and majestic

মানবররূপী অলৌকিক সত্তা মহান এবং সৌম্য ছিল 

লর্ড অফ রিংস বা হব্বিতেরমধ্যে মধ্য পৃথিবীর মন্দ শক্তির কুৎসিত জাতিগুলোর  এই চিন্তাধারাকে একটি দৃষ্টান্ত রূপে আরও ভালোভাবে বুঝুন I মন্দ শক্তির কুৎসিত জাতিগুলো রূপে, ব্যবহারে, এবং পৃথিবীতে তাদের আচরণে বীভৎস প্রাণী সমূহ হচ্ছে I তথাপি মন্দ শক্তির কুৎসিত জাতিগুলো মানবররূপী অলৌকিক সত্তার থেকে উৎপন্ন বংশধর যারা সৌরনের দ্বারা বিকৃত হয়েছিল I যখন আপনি মহিমান্বিত আচরণ, ঐকতান এবং প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ককে দেখেন যা মানবররূপী অলৌকিক সত্তাগুলোর মধ্যে ছিল (লেগালোসর কথা ভাবুন) এবং উপলব্ধি করুন যে চরিত্রহীন মন্দ শক্তির কুৎসিত জাতিগুলো একসময় মানবররূপী অলৌকিক সত্তা ছিল যারা ‘বিকৃত হয়েছে’ তখন আপনি একটি ধারণা পাবেন যে এখানে লোকেদের সম্বন্ধে কি বলা হয়েছে I ঈশ্বর মানবররূপী অলৌকিক সত্তাগুলোকে সৃষ্টি করেছিলেন কিন্তু তারা শয়তানে পরিণত হল I       

এটি একেবারে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যাকে আমরা লোকেদের মধ্যে একটি সার্বজনীন প্রবণতা রূপে দেখি, আমাদের পাপ এবং সুদ্ধতার জন্য প্রয়োজনের প্রতি সচেতন হতে – যেমনটি কুম্ভ মেলা উৎসবের মধ্যে বর্ণনা করা হয়েছে I সুতরাং এখানে আমরা একটি প্রেক্ষাপটে পৌঁছাই যেটি অত্যন্ত শিক্ষামূলক: বাইবেল  সংবেদী, ব্যক্তিগত, এবং নৈতিক লোকেদের নিয়ে আরম্ভ হয় কিন্তু পরে নৈতিক অবনতি নিয়েও, এবং এটি তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যা আমরা আমাদের নিজেদের সম্বন্ধে পর্যবেক্ষণ করি I বাইবেল লোকেদের সম্বন্ধে তার পর্যালোচনায় বিচক্ষণভাবে সম্পূর্ণ সঠিক, আমাদের ভেতরের একটি অন্তর্নিহিত নৈতিক প্রকৃতিকে চিহ্নিত করে যাকে সহজেই উপেক্ষা করা যায় যেহেতু আমাদের কার্যকলাপ কখনও আমাদের কাছ থেকে প্রকৃতির দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না – এই বিকৃতির কারণে I বাইবেল সংক্রান্ত জুতো মানবীয় পায়ের উপযুক্ত I যাইহোক, এটি একটি স্পষ্ট প্রশ্ন উত্থাপন করে: ঈশ্বর কেন আমাদেরকে এইরূপে সৃষ্টি করলেন? একটি নৈতিক পরিসরের সাথে আর তবুও এর থেকে নৈতিক অবনতি? একজন সুপ্রসিদ্ধ নাস্তিক ক্রিষ্টোফার হিচেন্স যেমনটি অভিযোগ করেন:       

 “… যদি ঈশ্বর সত্যই লোকেদের এই ধরণের চিন্তাধারা থেকে মুক্ত হোক চাইতেন [অর্থাৎ, এক নৈতিক অবনতি], তাহলে তিনি এক ভিন্ন প্রজাতিকে আবিষ্কার করতে আরও যত্নশীল হতে পারতেন I” ক্রিষ্টোফার হিচেন্স 2007 I গড ইস নট গ্রেট: হাউ রিলিজিঅন ডেস্ট্রয়স এভরিথিং I পৃষ্ঠা 100

কিন্তু এখানেই তিনি তার ব্যস্ততার মধ্যে বাইবেলকে সমলোচনা করতে গিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছুর থেকে লক্ষ্যচ্যুত হন I বাইবেল বলে না যে ঈশ্বর আমাদেরকে এইভাবে তৈরী করেছেন, কিন্তু সেই ভয়ানক এমনকিছু সৃষ্টির প্রথমে ঘটল যা এই কঠিন পরিস্থিতি নিয়ে এলো I আমাদের সৃষ্টির পরে মানব ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটন ঘটল I প্রথম মানবজাতি ঈশ্বরকে অবজ্ঞা করল, যেমন আদিপুস্তকে নথিভুক্ত আছে – বাইবেলে (বেদা পুস্তকম) মধ্যে প্রথম প্রাচীনতম বই, আর তাদের অবাধ্যতায় তারা পরিবর্তিত এবং বিকৃত হল I এই কারণেই আমরা এখন তমসা, বা অন্ধকারে বাস করি I      

মানবজাতির পতন

মানবীয় ইতিহাসের মধ্যে এই ঘটনাকে প্রায়শই পতন বলা হয় I প্রথম ব্যক্তি, আদম, ঈশ্বরের দ্বারা সৃষ্ট হয়েছিল I ঈশ্বর ও আদমের মধ্যে একটি নিয়ম ছিল, বিশ্বস্ততার একটি বিবাহের নিয়মের মতন, আর আদম এটিকে ভগ্ন করল I বাইবেল নথিভুক্ত করে যে আদম ‘ভালো ও মন্দের জ্ঞানের বৃক্ষ’ থেকে ফল খেল এমনকি যদিও তারা একমত হয়েছিল যে সে ওই বৃক্ষ থেকে ফল খাবে  না I নিয়ম এবং বৃক্ষটি স্বয়ং, আদমকে ঈশ্বরের সাথে বিশ্বস্ত থাকতে বা না থাকতে একটি স্বতন্ত্র ইচ্ছা দিয়েছিল I আদমকে ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্টি করা হয়েছিল, এবং তাঁর বন্ধুত্বের মধ্যে স্থাপিত করা হয়েছিল I কিন্তু এই সৃষ্টির সমন্ধে আদমের কোনো ইচ্ছা ছিল না, ঈশ্বরের সঙ্গে বন্ধুত্বকে চয়ন করতে ঈশ্বর তাকে অনুমতি দিয়েছিলেন I ঠিক যেমন দাঁড়িয়ে থাকার পচ্ছন্দ প্রকৃত নয়, যদি বসে থাকা অসম্ভব হয় I ঈশ্বরের প্রতি আদমের বন্ধুত্ব এবং ভরসা একটি পচ্ছন্দ হওয়ার ছিল I এই পচ্ছন্দ আজ্ঞায় প্রবেশ করেছিল যে একটি বৃক্ষ থেকে যেন ফল না খায় I কিন্তু আদম বিদ্রোহ করতে পচ্ছন্দ করল I আদম তার বিদ্রোহের সাথে যা আরম্ভ করলো তা সমস্ত প্রজন্মগুলোর মধ্য দিয়ে নিরবিচ্ছিন্নভাবে গিয়েছে আর আজও আমাদের মধ্য দিয়েও চলতে থাকছে I আমরা পরবর্তী পর্যায়ে দেখব এর অর্থ কি?

ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে

আমরা দেখেছি কিভাবে পুরুষাসুক্ত এমনকি সময় কাল আরম্ভ হওয়ার আগে পিছনে যায় এবং ঈশ্বরের (প্রজাপতি) মনকে ব্যাখ্যা করে যা পুরুষ কে বলি দিতে নির্ণয় করে I এই নির্ণয় থেকে সমস্ত কিছুর সৃষ্টি অনুসৃত হয় – মানবজাতির সৃষ্টি সহ I   

এখন আমাদের বিবেচনা করা যাক বেদ পুস্তকম (বাইবেল) মানবজাতির সৃষ্টি সম্বন্ধে কি বলে যাতে আমাদের সম্পর্কে বাইবেলের শিক্ষার উপলব্ধি আমরা   পাই I   

 তখন Godশ্বর বলেছিলেন, “আসুন আমরা মানুষকে আমাদের প্রতিমূর্তিতে, আমাদের অনুরূপে তৈরি করি …” সুতরাং Godশ্বর মানুষকে তাঁর নিজের ইমেজে তৈরি করেছেন, Godশ্বরের প্রতিমূর্তিতে তিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন; তিনি নর-স্ত্রী তিনিই তাদের সৃষ্টি করেছেন। ”

আদিপুস্তক 1: 26-27

 “ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে”

এর অর্থ কি যে মানুষ ‘ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে’ সৃষ্টি হয়েছিল? এর অর্থ এই নয় যে ঈশ্বর একটি শারীরিক সত্তা যার দুই হাত, একটি মস্তক ইত্যাদি, আছে I বরং একটি গভীর স্তরে এটি বলছে যে লোকেদের মৌলিক বৈশিষ্ট্যগুলো ঈশ্বরের অনুরূপ বৈশিষ্ট্যগুলো থেকে নেওয়া হয়েছে I যেমন উদাহরণস্বরূপ, উভয় ঈশ্বর (বাইবেলে) এবং লোকেরা (পর্যবেক্ষণ থেকে) বুদ্ধি, আবেগ এবং ইচ্ছা আছে I বাইবেলের মধ্যে ঈশ্বরকে কখনও কখনও দুঃখী, ক্রোধিত অথবা আনন্দময় রূপে  চিত্রিত করা হয়েছে – সেই একই আবেগ সমূহের শ্রেণী যাকে আমরা মানবজাতি অনুভব করি I আমরা বাছাই করি এবং সিদ্ধান্তে আসি I আমাদের যুক্তি এবং চিন্তা করার ক্ষমতা বিমূর্ত রূপে ঈশ্বরের থেকে আসে I আমাদের কাছে বুদ্ধি ও আবেগের সক্ষমতা আছে কারণ ঈশ্বরের কাছেও সেগুলো আছে এবং আমাদেরকে  তার প্রতিমূর্তিতে সৃষ্টি করা হয়েছে I   

এক গভীরতর স্তরে আমরা দেখি যে আমরা ভাবপ্রবণ সত্তা, আত্ম-অবগত এবং ‘আমি’ এবং ‘তুমি’র সম্বন্ধে সচেতন I আমরা নৈর্ব্যক্তিক নয় ‘ইহার’ I আমরা এইরকম হই কারণ ঈশ্বর এইরকম হন I এই মৌলিক প্রেক্ষাপটের মধ্যে, বাইবেলের ঈশ্বরকে সুপরিচিত চলচিত্র স্টার ওয়ারস-এর মধ্যে ‘শক্তি’র মতন  সর্বেশ্বরবাদী ঔদাসীন্য রূপে চিত্রিত করা হয় না I ঘটনা হল যে মানব জাতি ‘ইহার’ অপেক্ষা ভাবপ্রবণ ব্যক্তি যা ঈশ্বর সম্বন্ধে এই আগের শিক্ষার আলোতে অর্থপূর্ণ হয় I আমরা এইরকম হই কারণ ঈশ্বর এইরকম হন, এবং আমাদেরকে তাঁর প্রতিমূর্তিতে সৃষ্টি করা হয়েছে I    

কেন আমরা রুচিজ্ঞানসম্পন্ন

এছাড়া আমরা শিল্প এবং অভিনয় ভালোবাসি I আমরা তারিফ করি এবং এমনকি সৌন্দর্যর প্রয়োজন বোধ করি I এটি কেবলমাত্র চাক্ষুষ সৌন্দর্যকে ছাড়িয়ে সঙ্গীত ও সাহিত্যকে অন্তর্ভুক্ত করে I ভেবে দেখুন সঙ্গীত আমাদের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ – এমনকি আমরা কিভাবে নৃত্য করতে ভালোবাসি I সঙ্গীত আমাদের জীবন সমূহকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ করে I আমরা উত্তম কাহিনী সমূহকে ভালোবাসি, উপন্যাসে হোক বা নাটক সমূহে হোক, বা খুব সাধারণভাবে আজকের দিনে, চলচ্চিত্রর মধ্যে I কাহিনীগুলোর মধ্যে নায়ক, খলনায়ক, নাটক থাকে এবং মহান কাহিনীগুলো এই নায়ক, খলনায়ক, এবং নাটকগুলোকে আমাদের কল্পনা সমূহের মধ্যে দীপ্তি দেয় I আমাদের মনোরঞ্জন করতে, উজ্জীবিত করতে এবং সতেজ করতে শিল্পকলাকে এর বিভিন্ন স্বরূপে আমাদের পক্ষে ব্যবহার এবং তারিফ করা অত্যন্ত স্বাভাবিক কারণ ঈশ্বর একটি শিল্প এবং আমরা তাঁর প্রতিমূর্তিতে আছি I   

এটি একটি প্রশ্ন যা জিজ্ঞাসা করার পক্ষে যোগ্য I কেন আমরা স্বাভাবিকভাবে রুচিজ্ঞানসম্পন্ন, হয় শিল্পে, নাটকে, সঙ্গীতে, নৃত্যে কিম্বা সাহিত্যে? যখনই আমি ভারবর্ষে ভ্রমণ করি আমি ভারতীয় চলচ্চিত্র দেখে সর্বদা মুগ্ধ হই যা সঙ্গীত এবং নৃত্যে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ এমনকি প্রাশ্চাত্য-সৃষ্ট চলচ্চিত্রর অপেক্ষা বেশি I ডেনিয়েল ডেনেট, একজন নাস্তিক স্পষ্টভাষী এবং জ্ঞানগত প্রক্রিয়ার উপলব্ধির উপরে পন্ডিত, একটি বস্তুবাদী পরিপ্রেক্ষিত থেকে উত্তর দেন:  

“কিন্তু এই গবেষণার অধিকাংশ এখনও সঙ্গীতের প্রকৃত মূল্য না জেনেই মেনে নেয় I এটি কদাচিৎ প্রশ্ন করে: সঙ্গীতের অস্তিত্ব কেন? এর একটি সংক্ষিপ্ত উত্তর আছে, এবং এটি সত্য, যতদুর এটি যায়: এটি বিদ্যমান কারণ আমরা একে ভালোবাসি এবং তাই আমরা এর থেকে আরও বেশি করে অস্তিত্বে নিয়ে আসতে থাকি I কিন্তু আমরা কেন এটিকে ভালবাসি? কারণ আমরা দেখি যে এটি সুন্দর I কিন্ত এটি কেন আমাদের কাছে সুন্দর? এটি সম্পূর্ণরূপে একটি উত্তম জৈবিক প্রশ্ন, কিন্তু এটির কাছে এখনও একটি উত্তম উত্তর নেই I” (ডেনিয়েল ডেনেট I ব্রেকিং দি স্পেল: রিলিজিওন এস এ নাচুরাল ফেনোমেনন I পৃষ্ঠা 43)   

মানবজাতির উপরে বস্তুবাদী পরিপ্রেক্ষিতের কাছে আমাদের মানবীয় প্রকৃতির এই মৌলিক প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই I বাইবেলীয় পরিপ্রেক্ষিত থেকে এটি ঈশ্বরের কারণে শিল্পিসুলভ এবং রুচিজ্ঞানসম্পন্ন হয় I তিনি জিনিসগুলোকে সুন্দর করে তৈরী করেছেন এবং সৌন্দর্যকে উপভোগ করেন I আমরা, তাঁর প্রতিমূর্তিতে তৈরী, অনুরূপ হই I  

আমরা কেন নৈতিক

অতিরিক্তভাবে, ‘ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্টি’ স্বাভাবিক নৈতিক ক্ষমতাকে ব্যাখ্যা করে যেটি সমস্ত সংস্কৃতিগুলোতে অত্যন্ত সাধারণ, এবং যেটিকে আমরা গুরু সাঁই বাবার নৈতিক শিক্ষায় আবৃত করেছি I কারণ আমাদের ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং নৈতিকতা তাঁর কাছে সহজাত, যেমন একটি কম্পাস চৌম্বক উত্তরে সারিবদ্ধ, আমাদের সারিবদ্ধতা ‘ন্যায্য’. ‘উত্তম’, ‘সঠিক’ এর প্রতি এই ভাবে যেহেতু তিনি এইভাবেই হন I এটি কেবলমাত্র ধার্মিক লোক নয় যাদেরকে এইভাবে তৈরী করা হয়েছে – প্রত্যেককে I না জানলে এটি ভুল বোঝাবুঝি বাড়িয়ে তুলতে পারে I এই চ্যালেঞ্জকে বস্তুবাদী আমেরিকান স্যাম হ্যারিসের থেকে উদাহরণস্বরূপ গ্রহণ করুন I       

 “যদি আপনি বিশ্বাস করতে সঠিক হন যে ধার্মিক আস্থা কেবলমাত্র নৈতিকতার জন্য প্রকৃত ভিত্তি প্রদান করে, তাহলে নাস্তিকদের বিশ্বাসীদের থেকে কম নৈতিক হওয়া উচিত I” স্যাম হ্যারিস I 2005 I লেটার টু এ খ্রিষ্টিয়ান

নেশন পৃষ্ঠা. 38-39 

হ্যারিস এখানে শুধুমাত্র ভুল I আমাদের নৈতিকতার ধারণা ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্টি হওয়ার থেকে আসে, ধার্মিক হওয়ার থেকে নয় I আর সেই জন্য নাস্তিকদের কাছে, আমাদের বাকি সকলের মতন, এই নৈতিক ধারণা আছে এবং নৈতিকভাবে কার্য করতে পারে I নাস্তিকবাদের সঙ্গে কঠিনতা হল বিবরণ দেওয়া কেন আমাদের কাছে নৈতিকতা আছে – কিন্তু ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্টি হওয়া একটি সরল এবং অকপট ব্যাখ্যা I    

আমরা কেন এতটা সম্বন্ধযুক্ত

বাইবেলসম্মতভাবে, আমাদেরকে বোঝার প্রারম্ভিক বিন্দু হল জানা যে আমাদেরকে ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্টি করা হয়েছে I এই কারণে, যে মুহুর্তে আমরা হয় ঈশ্বর (তাঁর সম্বন্ধে বাইবেলে যা প্রকাশিত হয়েছে) অথবা লোকেদের মধ্যে (পর্যবেক্ষণ ও প্রতিফলনের মাধ্যমে) অন্তর্দৃষ্টি লাভ করি আমরা আবার অন্যদের মধ্যে অন্তর্দৃষ্টি লাভ করি I উদাহরণস্বরূপ, সম্পর্ক সমূহের উপরে লোকেদের দ্বারা স্থাপিত প্রয়োজনীয়তার উপরে প্রতিফলন করুন I একটি উত্তম চলচ্চিত্র দেখা ঠিক আছে, কিন্তু একজন বন্ধুর সাথে এটিকে দেখা আরও অধিক ভাল অভিজ্ঞতা I আমরা অভিজ্ঞতাকে শেয়ার করতে আমরা স্বাভাবিকভাবে বন্ধুদের খোঁজ করি I আমাদের কল্যানের ধারণার মূল হল অর্থপূর্ণ বন্ধুত্ব এবং পারিবারিক সম্পর্ক I বিপরীতক্রমে, একাকীত্ব এবং/বা চিড় ধরা পারিবারিক সম্পর্ক এবং বন্ধুত্বের ভাঙ্গন আমাদের উদ্বিগ্ন করে I অন্যদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের অবস্থার ক্ষেত্রে আমরা নিরপেক্ষ বা অবিচল নই I বলিউড চলচ্চিত্রগুলো এত জনপ্রিয় হয় কারণ তারা চরিত্রগুলোর মধ্যে সম্পর্ক সমূহের ক্ষেত্রে যথাযথভাবে প্রচন্ড গুরুত্ব দেয় (প্রেমিকগণ, পারিবারিক সম্পর্ক সমূহ ইত্যাদির মধ্যে)      

এখন, আমরা যদি ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে হই, তাহলে আমরা এই ঈশ্বরের সাথে এই একই সম্বন্ধযুক্ত গুরুত্বকে দেখতে আশা করব I বাইবেল বলে যে “ঈশ্বর প্রেম…” (1 যোহন 4:8) I তাঁর এবং অন্যদের জন্য প্রেমের উপরে ঈশ্বর যে গুরুত্ব স্থাপন করেছেন সেই সম্বন্ধে বাইবেলে অনেক কিছু লেখা হয়েছে – সেগুলোকে আসলে বাইবেলের মধ্যে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আজ্ঞা সমূহ বলে যীশুর (যেশু সৎসংগ) দ্বারা অভিহিত করা হয়েছে I যখন আপনি এই সম্বন্ধে চিন্তা করেন, তখন প্রেম অবশ্যই সম্বন্ধযুক্ত হওয়া উচিত যেহেতু এটির একজন ব্যক্তির প্রয়োজন যে ভালবাসে (প্রেমিক) এবং একজন ব্যক্তি যে এই ভালবাসার লক্ষিত ব্যক্তি – প্রীত I     

এইরূপে ঈশ্বরকে একজন প্রেমী রূপে আমাদের ভাবা উচিত I আমরা যদি কেবলমাত্র তাঁকে এই বলে ভাবি যে তিনি ‘আদি চালক’, ‘প্রথম উৎস’, ‘সর্বজ্ঞানী দেবতা’, ‘কল্যাণময় সত্তা’ বা হয়ত ‘নৈর্ব্যক্তিক আত্মা’ তাহলে আমরা  বাইবেলসম্বন্ধীয় ঈশ্বরের কথা ভাবছি না – বরং আমরা আমাদের মনের মধ্যে এক ঈশ্বরকে প্রস্তুত করেছি I যদিও তিনি এই সবগুলো হচ্ছেন, তবুও তাঁকে সম্পর্কের মধ্যে প্রায় বেপরোয়াভাবে করুনাময় রূপে চিত্রিত করা হয়েছে I তাঁর কাছে প্রেম নেই I তিনিই ‘হচ্ছেন’ প্রেম I লোকেদের সঙ্গে ঈশ্বরের সম্পর্কের দুটি অত্যন্ত লক্ষনীয় বাইবেলীয় রূপক হল একজন পিতার সাথে তার সন্তানদের এবং একজন পতির সাথে তার পত্নীর সংগে সম্পর্ক I ওগুলো করুণাহীনভাবে দর্শন সংক্রান্ত ‘প্রথম উৎস’ উপমা সমূহ নয় বরং গভীরতম এবং অত্যন্ত অন্তরঙ্গতার সেই মানবীয় সম্পর্ক সমূহ I            

সুতরাং এখনও অবধি আমরা এখানে ভিত্তি স্থাপন করেছি I লোকেদেরকে ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্টি করা হয়েছে যার মধ্যে মন, আবেগ, এবং ইচ্ছা  রয়েছে I আমরা ভাবপ্রবণ এবং আত্ম-সচেতন I আমরা আমাদের নৈতিক ব্যাকরণ সহ নৈতিক সত্তা যা আমাদের একটি অন্তর্নিহিত শিক্ষা দেয় যে কোনটি ‘সঠিক’ এবং ‘ন্যায্য’, এবং কোনটি নয় I সৌন্দর্য, নাটক, শিল্প এবং এর সমস্ত প্রকারের কাহিনীকে উন্নত এবং তারিফ করতে আমাদের মধ্যে সহজাত ক্ষমতা থাকে I আর আমরা অন্তর্নিহিতভাবে এবং স্বাভাবিকভাবে অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক ও বন্ধুত্বগুলোকে খুঁজে বের করব এবং উন্নত করব I আমরা এই সব রকম কারণ ঈশ্বর এই সব রকম এবং আমাদেরকে ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্টি করা হয়েছে I এই সমস্ত সিদ্ধান্তগ্রহণগুলো আমরা আমাদের সম্বন্ধে যা প্রতক্ষ্য করি তার সঙ্গে কমপক্ষে সামঞ্জস্যপূর্ণ যেমনটি আমরা এই ভিত্তিমূলকে স্থাপন করেছি I আমরা কিছু কঠিনতা সমূহকে দেখতে পরবর্তী পোস্টে চলতে থাকব I    

বলিদানের সার্বজনীন প্রয়োজনীয়তা

যুগ যুগ ধরে মুনি ও ঋষিরা জেনেছেন যে মানুষ মায়া এবং পাপের মধ্যে বাস করেছে I এটি যুগে যুগে সমস্ত ধর্মের লোকেদর মধ্যে ঘটেছে এবং শিক্ষা স্তর সমমূহর মধ্যে একটি সহজাত সচেতনতা রয়েছে যে তাদের ‘পরিশুদ্ধ’ হওয়ার প্রয়োজন আছে I এইজন্যই অতশত লোক কুম্ভ মেলা উৎসবে অংশগ্রহন করে এবং কেন পূজা করার পূর্বে লোকেরা প্রার্থ স্নানা (অথবা প্রাতসানা) মন্ত্রম বলে (“আমি একজন পাপী I আমি পাপের পরিণাম I আমার পাপের থেকে জন্ম I আমার আত্মা পাপের মধ্যে I আমি সবথেকে খারাপ পাপী I হে প্রভু যাঁর সুন্দর চক্ষু আছে I আমাকে রক্ষা করুন, হে বলিদানের প্রভু I”) I পরিশুদ্ধ করার জন্য সাথে সাথে এই সহজাত প্রয়োজনীয়তার একটি ধারণা হল আমাদের পাপের জন্য বা আমাদদের জীবনের অন্ধকারের (তমসা) জন্য কোনভাবে মূল্য প্রদান করতে একটি বলিকে উৎসর্গ করা I এবং আর একবার পূজার বলিদানের মধ্যে, অথবা কিম্ভ কুম্ভ মেলা ও অন্যান্য উৎসবের মধ্যে লোকেরা সময়, অর্থ, তপস্যার বলিদান দেয় এই উদ্দেশ্যে যাতে বলি দিতে সহজাত প্রয়োজনীয়তা পূরণ করে I আমি এমন লোকেদের কথা শুনেছি যারা একটি গরুকে নিয়ে এর লেজ ধরে যাতে এটি নদীর মধ্যে চারিদিকে সাঁতরে বেড়ায় I এটিকে একটি পূজা বা বলিদান রূপে করা হয় যাতে ক্ষমা পাওয়া যায় I        

বলি দেওয়ার এই প্রয়োজনীয়তা আমাদের চারিদিকে আছে যত দিন ধরে  প্রাচীনতম ধার্মিক শাস্ত্রগুলো চারিদিকে রয়েছে I আর এই পাঠ্যগুলো সুনিশ্চিত করে যা আমাদের সহজাত প্রবৃত্তিগুলো বলে – যে বলি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অবশ্যই তা দেওয়া উচিত I উদাহরণস্বরূপ নিচের শিক্ষাগুলোকে বিবেচনা করুন:

কাঠোপনিষদের (হিন্দু পাঠ্য) মধ্যে অধিবক্তা নচিকেতা বলেন:

“আমি বাস্তবিক জানি যে অগ্নি বলিদান স্বর্গে নিয়ে যায় এবং স্বর্গ লাভের উপায়” কাঠোপনিষদ 1:14 

কাঠোপনিষদ 1:14 

হিন্দুদের পুস্তক বলে:

“এটি বলিদানই হচ্ছে যার মাধ্যমে মানুষ স্বর্গে পৌঁছায়” শথপথ ব্রাহ্মণ VIII.6.1.10

“বলিদানের মাধ্যমে, না কেবল মনুষ্য বরং ঈশ্বরও অমরত্ব লাভ করে” শ

থপথ ব্রাহ্মণ II.2.2.8-14  

অতএব বলিদানের মাধ্যমেই আমরা অমরত্ব ও স্বর্গ (মোক্ষ) লাভ করি I কিন্তু প্রশ্ন এখনও অবশিষ্ট থেকে যায় যে মূল্য প্রদানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে অথবা আমাদের পাপ/অন্ধকার সমূহের বিরুদ্ধে যথেষ্ট যোগ্যতা অর্জন করতে কি প্রকারের বলিদান এবং কতটা পরিমাণ পর্যাপ্ত? পাঁচ বছরের তপস্যা কি যথেষ্ট হবে? দরিদ্রদের অর্থ দেওয়া কি একটি পর্যাপ্ত বলিদান হবে? আর তাই যদি হয়, কতটা?

প্রজাপতি/সদাপ্রভু: ঈশ্বর যিনি বলি যোগান দেন

অত্যন্ত প্রাচীনতম বৈদিক পাঠ্যগুলোর মধ্যে, ঈশ্বর যিনি সমস্ত সৃষ্টির প্রভু ছিলেন – একজন যিনি বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি এবং নিয়ন্ত্রণ করেছেন – তাঁকে প্রজাপতি বলা হয় I ইনি প্রজাপতি যার মধ্য দিয়ে অন্য সমস্ত কিছু অস্তিত্বে এসেছে I

বেদা পুস্তকমের (বাইবেল) প্রাচীনতম পাঠ্য তোরাহ নাম পরিচিত I তোরাহ আনুমানিক 1500 খ্রীষ্টাব্দে লেখা হয়েছিল, যে সময়ে ঋক বেদ রচিত হয়েছিল I তোরাহ এই ঘোষণা দিয়ে আরম্ভ হয় যে একজন জীবন্ত ঈশ্বর আছেন যিনি সমগ্র বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডর সৃষ্টিকর্তা I মূল হিব্রুর লিপ্যন্তরের মধ্যে এই ঈশ্বরকে এলোহীম বা সদাপ্রভু বলা হত এবং তাদেরকে এই হিব্রু পাঠ্যের মধ্যে আগে পিছে অদলবদল করা হয়েছিল I এইরূপে ঋক বেদের প্রজাপতির ন্যায় তোরাহর মধ্যে সদাপ্রভু, বা এলোহীম সমস্ত সৃষ্টির প্রভু ছিলেন (এবং হন) I

তোরাহর প্রারম্ভে, ভাববাদী আব্রাহামের সংগে এক উল্লেখযোগ্য সাক্ষাত্কারের মধ্যে সদাপ্রভু আবারও স্বয়ংকে ‘যোগানদাতা’ ঈশ্বর রূপে প্রকাশ করেন I আমি যোগানদাতা সদাপ্রভুর (যহোবা-যিরে রূপে হিব্রু থেকে লিপ্যন্তর) সাথে সেই ঋক বেদের প্রজাপতির অনুরূপতার সঙ্গে ধাক্কা খেলাম যিনি “সৃষ্টি সমূহের সংরক্ষক অথবা সহায়ক” I     

কিভাবে সদাপ্রভু যোগান দেন? আমরা ইতিমধ্যেই লোকেদের জন্য বলি দেওয়ার সহজাত প্রয়োজনীয়তাকে লক্ষ্য করেছি, কিন্তু কোনরকম আশ্বাসন ছাড়া যে বলি আমরা নিয়ে আসি তা যথেষ্ট I যেটি এত চিত্তাকর্ষক তা হল আমাদের প্রয়োজনের এই বিশেষ নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তান্দ্যমহা ব্রাহ্মণ ঘোষণা করে কিভাবে প্রজাপতি আমাদের প্রয়োজন যোগান দেয় I এটি বলে: 

“স্বয়ং-বলিদান রূপে প্রস্তুত করে প্রজাপতি (সমস্ত সৃষ্টির প্রভু) নিজেকে ঈশ্বরদের জন্য সমর্পণ করলেন” তান্দ্যমহা ব্রাহ্মণ 2 খন্ডের অধ্যায় 7

[সংস্কৃত অক্ষরীকরণ হল “প্রজাপতির্দ দেবেভ্য আত্মানম যজ্ঞম কর্তভা প্রয়চ্ছত”] I   

এখানে প্রজাপতি একবচনের মধ্যে আছে I কেবল একমাত্র প্রজাপতি, ঠিক যেমন তোরাহতে কেবল একজন সদাপ্রভু I পরে পুরাণ সাহিত্যে (500 থেকে – 1000 খ্রীষ্টাব্দের মধ্যে লিখিত) বিভন্ন প্রজাপতি সমূহকে সনাক্তকরণ করা হয়েছে I কিন্তু প্রাচীনতম পাঠ্যে উল্লিখিত উক্ত প্রজাপতি একবচনের মধ্যে আছে I এবং এই বক্তব্যর মধ্যে আমরা দেখি যে প্রজাপতি নিজে প্রদান করেন বা বলি হচ্ছেন এবং তিনি এটিকে অন্যদের হয়ে দান করেন I ঋক বেদ এই বলে এটিকে সমর্থন করে:   

 “আসল বলিদান প্রজাপতি স্বয়ং” (সংস্কৃত: ‘প্রজাপতির্র যজ্ঞ’]

সংস্কৃত পন্ডিত এইচ, আগুইলার শতপথ ব্রাহ্মণ থেকে অনুবাদ করে এর উপরে  টিপ্পনী করেন:

 “আর বাস্তবিক, বলিদানের উপযুক্ত সেখানে আর কোনো (জীবন্ত বলি) ছিল না বরং সেই একজন প্রজাপতি, এবং দেবতারা তাঁকে বলিদানে সমর্পণের জন্য স্থাপিত করলেন – কারণ বলিদানের সাহায্যে তারা তাঁকে (প্রজাপতি) সমর্পণ করলেন – এগুলো ছিল প্রথম বিধি, কারণ এই ব্যবস্থা সমূহকে প্রথমে জারি করা হয়েছিল” এইচ. আগুইলার, দি স্যাক্রিফাইস ইন দি ঋক বেদা    

প্রাচীন কাল থেকে বেদ ঘোষণা করে যে সদাপ্রভু বা প্রজাপতি আমাদদের যা প্রয়োজন তা জানতেন তাই তিনি নিজেকে আমাদের জন্য এক স্বয়ং-বলিদানের মধ্যে প্রদান করলেন I কিভাবে তিনি এটি করলেন তা আমরা পরবর্তী রচনা সমূহের মধ্যে দেখি যে মুহুর্তে আমরা ঋক বেদের পুরুষাসুক্তর পুরুষা-প্রজাপতির বলিদানের উপরে মনোযোগ দিই, কিন্তু এখনকার জন্য কেবল চিন্তা করুন এটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ I শ্বেতাশ্বর উপনিষদ বলে  

 ‘অনন্ত জীবনে প্রবেশ করার আর কোনো উপায় নেই’ (সংস্কৃত: ন্যান্য: পন্থা বিদ্যতেঅয়নায়) শ্বেতাশ্বর উপনিষদ 3:8  

আপনারা যদি অনন্ত জীবনে উৎসাহিত হন, আপনার যদি মোক্ষ অথবা চেতনার দীপ্তি পেতে ইচ্ছা করেন তাহলে এটি দেখা বিচক্ষণ হবে যা প্রকাশিত হয়েছে যে কিভাবে এবং কেন প্রজাপতি (বা সদাপ্রভু) স্বয়ং-বলিদানের মাধ্যমে আমাদের জন্য প্রদান করেছেন যাতে আমরা স্বর্গ লাভ করতে পারি I আর বেদ আমাদের ঝুলিয়ে রাখে না I ঋক বেদের মধ্যে পুরুষাসুক্ত যা প্রজাপতির অবতার এবং তার দ্বারা প্রস্তুত আমাদের জন্য বলিকে বর্ণনা করে I এখানে আমরা পুরুসাসুক্তকে প্রবর্তন করি যেমন বাইবেল (বেদা পুস্তকম) যেশু সৎসংগকে (নাসরতের যীশুক) এবং তাঁর বলিদানকে বর্ণনা করেছে যা আমাদের কাছে মোক্ষ অথবা মুক্তি (অমরত্ব) নিয়ে আসে I এখানে আমরা সরাসরি যীশুর (যেশু সৎসংগ) বলিদান এবং আমাদের প্রতি তাঁর উপহারকে দেখি I    

পুরুষার বলিদান : সমস্ত জিনিসের উৎপত্তি

পদ 3 এবং 4 এর পরে পুরুষাশুক্তা এর ফোকাসকে পুরুষার গুণাবলীর থেকে পুরুষার বলিদানে পরিবর্তন করে I পদ 6 এবং 7 এটিকে নিম্নলিখিত উপায়ে করে I (সংস্কৃত অক্ষরীকরণ, এবং পুরুষাশুক্তর উপরে আমার অনেক চিন্তাধারা, যোষেফ পাদিনজারেকারা লিখিত ক্রাইষ্ট ইন দি এনসিয়েন্ট বেদাস বইয়ের অধ্যয়ন থেকে এসেছে (346 পৃষ্ঠা 2007)

পুরুষাশুক্তর মধ্যে পদ 6-7

বাংলা অনুবাদ সংস্কৃত অক্ষরীকরণ
দেবতারা যখন পুরুষাকে একটি নৈবেদ্য রূপে বলি উৎসর্গ করলেন, তখন বসন্ত এর দ্রবীভূত মাখনে, গ্রীষ্ম এর জ্বালানিতে, এবং শরৎ এর নৈবেদ্যে পরিণত হল I তারা আদিতে বলিরূপী জন্মানো পুরুষাকে শুষ্ক তৃণের মধ্যে ছিটিয়ে দিল I দেবতারা, সাধ্যরা, এবং ভবিষ্যদদর্শীরা তাঁকে জীবন্ত বলি রূপে উৎসর্গ করলেন I  যাতপুরুসেনা হাবিসা দেবা জ্ঞানম অতনবাতা বাসান্ত আস্যাসিদ অজ্যম গ্রিস্মা ইধ্মাহ: সরদ্ধাবিহ: তাম জ্ঞানম বারহিসি প্রৌক্ষম পুরুষম যতমগ্রাতাহ: তেনা দেবা অজ্ঞানতা সাধ্যা রসব্যাস চ ইয়ে 

যদিও সবটা সোজাসুজিভাবে স্পষ্ট নয়, কিন্তু যেটা স্পষ্ট তা হল যে ফোকাস পুরুষার বলিদানের উপর I প্রাচীন বৈদিক টীকাকার শংকারাচার্যর এই মন্তব্যটি ছিল: 

“ঋষিগণ – সাধু ও দেবতাগণ – বলিসংক্রান্ত শিকার পুরুষাকে, এক বলিসংক্রান্ত পশু রূপে একটি বলিসংক্রান্ত খুঁটির সাথে আবদ্ধ করলেন, এবং তাদের মনের দ্বারা একটি বলিদানের মধ্যে তাঁকে উৎসর্গ করলেন”

ঋক বেদের উপরে শংকারাচার্যর ভাষ্য 10.90.7      

পদ 8-9 “তস্মাদ্যজ্ঞাস্তর্বহুত:…” বাক্যাংশ দিয়ে আরম্ভ হয় যার অর্থ হল যে তাঁর বলিদানে পুরুষা তাঁর সমস্ত কিছুকে উৎসর্গ করলেন  – তিনি কিছুই রেখে দিলেন না I এটি পুরুষার প্রেমকে প্রদর্শিত করেছিল যা তিনি তাঁর বলিদানের মধ্য দিয়ে দিয়েছিলেন I এটি একমাত্র প্রেম যার সাথে আমরা নিজেদেরকে সম্পূর্ণরূপে অন্যদের দিতে পারি এবং কিছুই রেখে দিই না I যেমনটি যেশু সৎসংগ (যীশু খ্রীষ্ট) বেদ পুস্তকমের মধ্যে (বাইবেল) বললেন       

“ইহা অপেক্ষা অধিক প্রেম আর কাহারও নেই: কেহ যে আপন বন্ধুদের নিমিত্ত নিজ প্রাণ সমর্পণ করে”

যোহন 15:13

যেশু সৎসংগ (যীশু খ্রীষ্ট) এটি বললেন যেন তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে ক্রুশের বলিদানে নিজেকে সমর্পণ করছিলেন I পুরুষার সঙ্গে যেশু সৎসংগের ঐ বলিদানের মধ্যে কোনো সংযোগ আছে কি? পুরুষাসুক্তার পদ 5 (যেটিকে আমরা এখনও পর্যন্ত বাদ দিয়ে এসেছি) একটি সুত্র প্রদান করে  –  কিন্তু সূত্রটি রহস্যজনক I এখানে পদ 5টি আছে   

পুরুষাসুক্তার পদ 5

বাংলা অনুয়াদ সংস্কৃত অক্ষরীকরণ
তার থেকে  – পুরুষার একটি অংশ থেকে  – ব্রহ্মান্ডর সৃষ্টি হল এবং এটিকে পুরুষার সিংহাসন করা হল এবং তিনি সর্বব্যাপী হলেন তস্মাদ বিরলাজায়াতা বিরাজ অধি পুরুষ: সা জাত অত্যারিচিয়াতা পশ্চাদভুমিম অর্থ পুরাহ:

পুরুষাসুক্তা অনুসারে, পুরুষাকে সময়ের প্রারম্ভে বলিদান করা হয়েছিল এবং এর পরিণামস্বরূপ ব্রহ্মান্ডর সৃষ্টি হয়েছিল I এইরূপে এই বলিদানকে পৃথিবীর উপরে উৎসর্গ করতে পারা যায় নি কারণ বলিদান তাই ছিল যা পৃথিবীকে এগিয়ে  নিয়ে এসেছিল I পদ 13 স্পষ্টরূপে দেখায় এই সৃষ্টি পুরুষার বলিদানের থেকে বার হয়ে আসছে I এটি বলে

পুরুষাসুক্তার পদ 13

বাংলা অনুবাদ সংস্কৃত অক্ষরীকরণ
চাঁদ তাঁর মুখের থেকে জন্মেছিল I সূর্য তাঁর চোখের থেকে বেরিয়েছিল I বিদ্যুত, বৃষ্টি এবং অগ্নি তার মুখ থেকে উৎপন্ন হয়েছিল I তাঁর নিঃস্বাস থেকে বায়ুর জন্ম হয়েছিল I   চন্দ্রমা মনসো জাতশ্চক্ষো সূর্য আজায়তা মুখদ ইন্দ্রাশ্চ অগ্নিশ্চ প্রনাদ বায়ুর অযায়াতা

বেদা পুস্তকমের (বাইবেল) গভীর উপলব্ধির মধ্যে এর সবকিছু স্পষ্ট হয়ে উঠেছে I আমরা এটি দেখি যখন আমরা ঋষি (ভাববাদী) মীখার লেখা পড়ি I তিনি প্রায় 370 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ সময়কালে বাস করতেন এবং যদিও তিনি যীশু খ্রীষ্টের (যেশু সৎসংগ) আগমনের 750 বছর পূর্বে বাস করতেন তিনি আগে থেকেই তাঁর আগমনকে দেখেছিলেন সেই শহরের নাম উল্লেখ করে যে কোথায় তিন জন্মগ্রহণ করবেন I তিনি ভাববাণী বলেছিলেন:     

“আর তুমি হে বৈতলেহেম ইফ্রাথা,

যদিও তুমি য়িহূদার সহস্রগনের মধ্যে ক্ষুদ্রা,

তোমার থেকে আমার জন্য আসবেন

একজন যিনি ইস্রায়েলের উপর শাসন করবেন

যাঁর উৎপত্তি প্রাক্কাল থেকে,

অনাদিকালের সময় থেকে I   

মীখা 5:2

মীখা ভাববাণী করলেন যে শাসনকর্ত্তা (বা খ্রীষ্ট) বৈতলেহেমশহর থেকে  বের হয়ে আসবেন I 750 বছর পরে যীশু খ্রীষ্ট (যেশু সৎসংগ) এই দর্শনের পরিপূর্ণতায় বৈতলেহেমে জন্মগ্রহণ করলেন I সত্যের অন্বেষণকারীগণ মীখার দর্শনের এই বিশেষ দিকের উপরে সাধারণতঃ তাদের আশ্চর্যকে ফোকাস করেন I যাইহোক, এটিই একজনের এই আগমনের উৎপত্তির বিবরণ যার উপর আমাদের ফোকাস করার প্রয়োজন I মীখা ভবিষ্যতের আগমন সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করেন, কিন্তু তিনি বলেন যে একজনের এই আগমনের উৎপত্তি অতীতের গভীরে নিহিত রয়েছে I তাঁর ‘উৎপত্তি প্রাক্কাল থেকে’ I একজনের এই আগমনের উৎপত্তি পৃথিবীর উপরে তাঁর আবির্ভাবের পূর্বেই দিন স্থির করে রাখে! কত পেছনে ‘… অথবা প্রাক্কালে’ যায়? এটি ‘অনন্তকালীন সময়’ এর দিকে যায় I বেদা পুস্তকমের (বাইবেল) সত্য প্রজ্ঞার অন্য কথাগুলো এটিকে আরও প্রাঞ্জল করে I কলসীয় 1:15 এর মধ্যে ভাববাদী  পৌল (যিনি প্রায় খ্রীষ্টাব্দ 50 এ লিখেছিলেন) যেশু (যীশু) সম্পর্কে ঘোষণা করেছিলেন যে:        

ইনিই অদৃশ্য ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি, সমুদয় সৃষ্টির প্রথমজাত I

কলসীয় 1: 15

যেশুকে ‘অদৃশ্য ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি’ হতে ঘোষণা করা হয় এবং ‘সমুদয় সৃষ্টির প্রথমজাত I’ অন্য কথায়, যদিও যেশুর অবতার ইতিহাসের একটি যথাযথ সময়ে হয়েছিল (4 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ – 33 খীষ্টাব্দ), কোনো কিছু সৃষ্টি হওয়ার পূর্বেই তিনি বিরাজমান ছিলেন  –  এমনকি অনন্তকালীন অতীত পর্যন্ত I তিনি এইরকম করলেন কারণ ঈশ্বর (প্রজাপতি) সর্বদা অনন্তকালীন অতীতে বিরাজমান রয়েছেন, এবং তাঁর ‘প্রতিমূর্তি’ হয়ে যীশু (যেশু সৎসংগ) সর্বদা বিদ্যমান হয়ে থেকেছেন I    

পৃথিবীর সৃষ্টি থেকে বলিদান সমস্ত কিছুর উৎপত্তি 

কিন্তু না কেবল তিনি অনন্তকালীন অতীত থেকে বিদ্যমান রয়েছেন, সাধু (ভাববাদী) যোহন স্বর্গের এক দর্শনে দেখলেন এই যীশুকে (যেশু সৎসংগ) চিত্রিত করা হয়েছে 

 “…জগৎপত্তনের সময় অবধি হত মেষশাবক রূপে”) 

প্রকাশিত বাক্য 13:8

এটি কি অসঙ্গতি? যীশু (যেশু সৎসংগ) কি 33 খ্রীষ্টাব্দে হত হন নি? যদি তিনি হত হয়ে থাকেন তবে, তিনি কিভাবে ‘জগতের সৃষ্টি’ থেকে আবারও হত হয়ে থাকতে পারেন? এটিকে এই কূটাভাসের মধ্যে আমরা দেখি যে পুরুষাসুক্তা এবং বেদা পুস্তকম একই জিনিসকে বর্ণনা করছে I আমরা দেখলাম যে বলে যে পুরুষা:র বলিদান ‘প্রারম্ভে; ছিল I যোষেফ পাদিনজারেকারা তার ক্রাইষ্ট ইন দি বেদাস  বইতে ইঙ্গিত দেন যে পুরুষাসুক্তার উপর সংস্কৃত ভাষ্য আমাদের বলে যে পুরুষার এই বলিদান প্রারম্ভে ‘ঈশ্বরের হৃদয়ে’ ছিল (তিনি এটিকে সংস্কৃতের ‘মনোসয়াগম’ এর অর্থ রূপে অনুবাদ করেছেন) I এছাড়াও তিনি সংস্কৃত পন্ডিত এন জে শেনদের উল্লেখ করেছেন যিনি বলেন যে প্রারম্ভের এই বলিদান একটি “মানসিক বা প্রতীকাত্মক একটি” * ছিল I     

সুতরাং এখন পুরুষাসুক্তার রহস্য স্পষ্ট হয় I পুরুষা ঈশ্বর এবং অনন্তকালীন থেকে ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি ছিলেন I তিনি অন্য কোনো কিছুর পূর্বে ছিলেন I তিনি সমুদয়ের প্রথম জাত হন I ঈশ্বর, তাঁর সর্বজ্ঞানের মধ্যে জানতেন যে মানবজাতির সৃষ্টির একটি বলিদানের প্রয়োজন হবে – যার সমস্ত কিছুর দরকার হবে যা সে দিতে পারত – জগতের মধ্যে পুরুষার অবতারকে পাপ থেকে ধৌত বা শুদ্ধিকরণ রূপে বলি হতে হবে I এটি এই বিন্দুতে ছিল যে ঈশ্বরকে নির্ণয় করতে হত তিনি ব্রহ্মাণ্ড এবং মানব জাতির সৃষ্টি করতে অগ্রসর হবেন কি  না I সেই নির্ণয়ের মধ্যে পুরুষা বলি হতে ইচ্ছুক হলেন, এবং সৃষ্টি এগিয়ে  গেল I সুতরাং মানসিকভাবে, অথবা ঈশ্বরের হৃদয়ে, পুরুষা ‘জগৎপত্তনের থেকে হত হলেন’ যেমনটি বেদ পুস্তকম ঘোষণা করে I  

একবার যখন ওই নির্ণয় গ্রহণ করা হল  – এমনকি সময় আরম্ভ হওয়ার পূর্বে  – ঈশ্বর (প্রজাপতি  – সমস্ত সৃষ্টির প্রভু) ব্রহ্মান্ড এবং মানবজাতির সৃষ্টির সময় স্থির করলেন I এইরূপে পুরুষার ইচ্ছাকৃত বলিদান ‘ব্রহ্মান্ডর সৃষ্টি হওয়ার’ কারণ হল (পদ 5), চাঁদ, সূর্য, বিদ্যুত এবং বৃষ্টি (পদ 13) সৃষ্টি হল, এমনকি সময় স্বয়ং ( বসন্ত, গ্রীষ্ম এবং শরৎ 6 পদে উল্লিখিত) আরম্ভ হল I পুরুষা এই সমুদয়ের মধ্যে প্রথম জাত ছিল I 

‘ঈশ্বরগণ’ কারা যারা পুরুষাকে বলি দিল?

কিন্তু একটি ধাঁধা অবশিষ্ট থেকে যায় I পুরুষাসুক্তার পদ 6 বলে যে ‘ঈশ্বররা’ (দেবতারা) পুরুষাকে বলি দিলেন? এই ঈশ্বররা কারা? বেদ পুস্তকম (বাইবেল) এটিকে ব্যাখ্যা করে I ভাববাদীদের মধ্যে একজন দায়ূদ 1000 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে একটি পবিত্র স্ত্রোত লিখলেন যা প্রকাশ করল ঈশ্বর (প্রজাপতি) পুরুষ এবং নারী সম্পর্কে কিভাবে বললেন:   

 “আমি বলিয়াছি, ‘তোমরা “ঈশ্বরগণ”; তোমরা সকলে পরাৎপরের সন্তান I’   

গীত সংহিতা 82:6

যেশু সৎসংগ (যীশু খ্রীষ্ট) 1000 বছর পরে ভাববাদী দায়ূদ দ্বারা কথিত এই পবিত্র স্ত্রোতের উপরে মন্তব্য করলেন এই বলে:

যীশু তাদের উত্তর দিলেন, “তোমাদের ব্যবস্থায় এটি কি লেখা নেই, ‘আমি বলিলাম তোমরা ‘ঈশ্বর,’ যদি তিনি তাদেরকে ‘ঈশ্বর’ বলে ডেকে থাকেন, যাদের উপরে ঈশ্বরের বাক্য এসেছিল—আর শাস্ত্রকে খন্ডন করা যায় না—তবে যাকে পিতা পবিত্র করলেন ও জগতে পাঠালেন তাঁর সম্বন্ধে কি বল?

যোহন 10:34-36

যেশু সৎসংগ (যীশু খ্রীষ্ট) ভাববাদী দায়ূদের দ্বারা ‘ঈশ্বর’ পরিভাষার ব্যবহারকে প্রকৃত শাস্ত্র বাক্য বলে অনুমোদন করেন I  কি ভাবে এটি তাই হয়? আমরা বেদা পুস্তকমের মধ্যে সৃষ্টির বিবরণের মধ্যে দেখি যে আমাদেরকে ‘ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্টি করা হয়েছে’ (আদিপুস্তক 1:27) I সুতরাং কিছু অর্থে আমাদেরকে ‘ঈশ্বর’ বলে বিবেচনা করা যেতে পারে কারণ আমাদেরকে ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্টি করা হয়েছে I কিন্তু বেদা পুস্তকম আরও ব্যাখ্যা করে I এটি ঘোষণা করে যে যারা পুরুষার এই বলিদানকে স্বীকার করে তারা হয়:  

কেননা তিনি জগৎপত্তনের পূর্বে খ্রীষ্টে আমাদেরকে মনোনীত করেছিলেন, যেন আমরা তাঁর সাক্ষাতে পবিত্র ও নিষ্কলঙ্ক হই I প্রেমে তিনি যীশু খ্রীষ্ট দ্বারা নিজের দত্তকপুত্রের নিমিত্ত আমাদেকে তাঁর নিজের অনুগ্রহ ও ইচ্ছা অনুসারে, পূর্ব থেকে নিরূপিত করলেন,

ইফিষীয় 1:4-5

যখন প্রজাপতি-পুরুষা জগৎপত্তনের পূর্বে পুরুষাকে সিদ্ধ বলি রূপে উৎসর্গ করতে নির্ণয় নিলেন, ঈশ্বর লোকদেরকেও মনোনীত করলেন I কিসের জন্য তিনি তাদেরকে মনোনীত করলেন? এটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলে যে তিনি আমাদের তার ‘পুত্রগণ’ হতে মনোনীত করলেন I 

অন্য কথায় বেদা পুস্তকম (বাইবেল) ঘোষণা করে যে পুরুষ এবং নারীকে মনোনীত করা হয়েছিল যখন ঈশ্বর নিজেকে সম্পূর্ণভাবে সিদ্ধ বলিতে উৎসর্গ করে সমর্পণ করলেন যেন এই বলিদানের মাধ্যমে তিনি ঈশ্বরের সন্তান হতে পারেন I ওই সম্পূর্ণ অর্থে আমাদেরকে ‘ঈশ্বরগণ’ বলা হয় I এটি তাদের পক্ষে সত্য (যেমনটি যেশু সৎসংগ উপরে ঘোষণা করেছে) ‘যাদের কাছে ঈশ্বরের বাক্য এলো’ – তাদের কাছে যারা তাঁর বলিদানকে স্বীকার করে I সেই অর্থে এটি ঈশ্বরের ভবিষ্যত পুত্রদের প্রয়োজন ছিল যা পুরুষাকে বলিদানে আবদ্ধ করল I পুরুষাসুক্ত পদ 6 যেমন বলে ‘দেবতারা পুরুষাকে এক নৈবেদ্য রূপে একটি বলি উৎসর্গ করলেন’ I পুরুষার বলিদান আমাদেরকে শুচিসুদ্ধ করার জন্য ছিল I

পুরুষার বলিদান স্বর্গে যাওয়ার পথ

সুতরাং প্রাচীন পুরুষাসুক্ত এবং বেদা পুস্তকমের প্রজ্ঞার মধ্যে আমরা ঈশ্বরের প্রকাশিত পরিকল্পনাকে দেখি I এটি একটি অদ্ভূত পরিকল্পনা এমন একটি যার আমরা কল্পনা করতে পারি না I এছাড়া এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ যেভাবে পুরুষাসুক্ত পদ 16 এর মধ্যে এটিকে সমাপ্ত করেছে 

বাংলা অনুবাদ সংস্কৃত অক্ষরীকরণ
দেবতারা পুরুষাকে বলি রূপে উৎসর্গ করলেন I এটি প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠিত  নীতি I এর মধ্য দিয়ে ঋষিরা স্বর্গ প্রাপ্ত করে  যজ্ঞেনং যজ্ঞমং যজন্ত দেবাস্তানি ধর্মাণি প্রথমান্যাংসন তেহ নাকম মহিমান: সচন্ত যত্র পূর্বে সাধ্যা: সন্তিদেবা:   

এক ঋষি একজন ‘জ্ঞানী’ ব্যক্তি I আর স্বর্গ প্রাপ্ত করার জন্য একটি প্রকৃত জ্ঞানকে অর্জন করার এটি একটি বিষয় I এটি আমাদের নাগালের বাইরে নয় I এটি অসম্ভব নয় I এটি কেবল পবিত্র লোকদের কঠোর তপস্যার জন্য নয় যারা প্রচন্ড শৃঙ্খলা এবং সাধনার মাধ্যমে মোক্ষ প্রাপ্ত করে I এটি কেবল গুরুদের জন্য নয় I বিপরীত দিকে এটি একটি পথ ছিল যাকে স্বয়ং পুরুষার দ্বারা তাঁর অবতারে প্রদত্ত হয়েছিল যেমন যীশু খ্রীষ্ট (যেশু সৎসংগ)     

পুরুষার বলিদান স্বর্গে যাওয়ার আর কোনো পথ নেই

আসলে না কেবল আমাদের জন্য এটিকে দেওয়া হয়েছে বরং পুরুষাসুক্তর 15 এবং 16 পদের উপরে শঙ্করাচার্যর সংস্কৃত ভাষ্য বলে  

বাংলা অনুবাদ সংস্কৃত অক্ষরীকরণ
এইরূপে, একজন যিনি জানেন এ মৃত্যুহীনতার অবস্থায় পৌঁছে যায় I এর জন্য আর কোনো উপায় জানা নেই তমেব বিদ্যানমৃত ইহ ভবতি নান্য: পন্থা অয়নায় বিদ্যতে

অনন্ত জীবনে (মৃত্যুহীনতা) পৌঁছনোর আর কোনো উপায় জানা নেই! নিশ্চিতরূপে এই বিষয়টিকে আরও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অধ্যয়ন করা বিচক্ষণ হয় I এপর্যন্ত আমরা বেদা পুস্তকমের (বাইবেল) মধ্য দিয়ে লাফিয়ে বেড়িয়েছি দেখাতে কিভাবে এটি ঈশ্বর, মানবজাতি ইবন বাস্তবতার নাগাল পাওয়ার একটি গল্পকে বলে যা পুরুষাসুক্তর কথার প্রতিধ্বনি করে I কিন্তু আমরা এই গল্পটিকে বিস্তারিতভাবে দেখি নি অথবা ক্রম অনুসারে I তাই, আমরা আপনাকে আমন্ত্রণ জানাই বেদা পুস্তকমের মধ্যে আমাদের সাথে অন্বেষণ করতে প্রারম্ভ থেকে শুরু করে, সৃষ্টি সম্পর্কে জানতে, কি এমন ঘটল যার জন্য পুরুষার বলিদানের প্রয়োজন হল, জগতে কি এমন ঘটল যা মানুর বন্যা (বেদা পুস্তকমের মধ্যে নোহ) নিয়ে এলো এবং বিশ্বের জাতিগণ কিভাবে শিখল এবং প্রতিশ্রুতিকে সংরক্ষিত করে রাখল যে সিদ্ধ বলিদান তাদেরকে মৃত্যু থেকে মুক্তি দেবে এবং স্বর্গে অনন্ত জীবন দান করবে I নিশ্চিতভাবে এটি এমনকিছু যা জানার যোগ্য I     

*(এন যে শিন্দে I দি পুরুষাসুক্ত (আর ভি 10-90) বৈদিক সাহিত্যের মধ্যে (পাব্লিকেশন অফ দি সেন্টার অফ অ্যাডভান্সড স্টাডি ইন সংস্কৃত, ইউনিভার্সিটি অফ পূনা) 1965 I

পদ 3 এবং 4 – পুরুষার অবতার

পুরুষাশুক্ত পদ 2 থেকে নিম্নলিখিতগুলোকে নিয়ে চলতে থাকে I (সংস্কৃত অক্ষরীকরণ, এবং পুরুষাশুক্তর উপরে আমার অনেক চিন্তাধারা, যোষেফ পাদিনজারেকারা লিখিত ক্রাইষ্ট ইন দি এনসিয়েন্ট বেদাস বইয়ের অধ্যয়ন থেকে এসেছে (346 পৃষ্ঠা 2007)

বাংলা অনুবাদ  সংস্কৃত অক্ষরীকরণ
সৃষ্টি পুরুষার গৌরব – ততটা মহান  তার মহিমা I এখনও তিনি এই সৃষ্টির চেয়ে মহান I পুরুষার এক চতুর্থাংশ (ব্যক্তিত্ব) এই জগতের মথ্যে রয়েছে I তাঁর তিন চতুর্থাংশ এখনও অনন্তকালীন ধরে স্বর্গের মধ্যে বাস করছে I পূরুষা  নিজের তিন চতুর্থাংশের সাথে উর্দ্ধে উঠলেন I তাঁর এক চতুর্থাংশ এখানে জন্ম নিল I তার থেকে তিনি সমস্ত জীবন্ত সত্তার মধ্যে জীবন ব্যাপ্ত  করলেন I  এতাবান অস্য মহিমা অত জ্যায়ামশ্চ পুরুষ:পাদ-অস্য বিশ্বা ভূতানি ত্রিপাদ অস্যমর্তম দিবি ত্রিপাদ উর্ধবা উদাইত পুরুষা: পাদৌ-অস্যেহা অভাবত পুণঃ তাত বিস্বান্ন্বি অক্রামত সসাননাসানে অভি   

এখানে ব্যবহৃত চিত্রাবলীকে বোঝা মুস্কিল I যাইহোক, এটি স্পষ্ট যে এই পদগুলো পুরুষার মহানতা এবং মহিমার কথা বলছে I এটি খুব স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে যে তিনি সৃষ্টির চেয়ে মহান I এছাড়াও আমরা বুঝতে পারি যে তাঁর মহানতার কেবলমাত্র একটি অংশই এই জগতে প্রকাশিত হয়েছে I কিন্তু এটি এই জগতে আবারও তাঁর অবতারের কথা বলে – এক জগত লোক যেখানে আপনি এবং আমি বাস করি (‘তাঁর এক চতুর্থাংশ এখানে জন্ম নিল’) I তাই ঈশ্বর যখন তাঁর অবতাররূপে নিচে নেমে এলেন টিই এই জগতে তাঁর গৌরবের কেবলমাত্র এক অংশকেই প্রকাশিত করলেন I তিনি কোনভাবে নিজেকে শুন্য করলেন যখন তিন জন্মগ্রহণ করলেন I এটি পুরুষের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যেমনটি পদ 2 এর মধ্যে বর্ণনা করা হয়েছে – ‘নিজেকে 10 অঙ্গুলির মধ্যে সীমিত করেছেন’ I   

এছাড়াও এটি বেদ পুস্তকমের (বাইবেল) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যা নাসরতের যীশুর অবতারকে বর্ণনা করে I এটি তাঁর সম্বন্ধে বলে যে

আমার উদ্দেশ্য হল … তারা জ্ঞানের নিশ্চয়তারূপ সমস্ত ধনে ধনী হয়ে ওঠে যেন ঈশ্বরের নিগূঢ়তত্ত্ব, অর্থাৎ খ্রীষ্টকে জানতে পায়, যাঁর মধ্যে জ্ঞানের ও বিদ্যার সমস্ত নিধি গুপ্ত রয়েছে I

কলসীয় 2:2-3

অতএব খ্রীষ্ট ঈশ্বরের অবতার ছিলেন কিন্তু তার প্রকাশন মূলত ‘গুপ্ত’ ছিল I কিভাবে এটি গুপ্ত ছিল? এটি আরও ব্যাখ্যা করে:

ক্রীষ্ট যীশুতে যে ভাব ছিল, তা তোমাদের মধ্যেও হওয়া উচিত:

6 ঈশ্বরের স্বরূপবিশিষ্ট থাকতে তিনি ঈশ্বরের সাথে সমান ধরে নেওয়ার বিষয়ে জ্ঞান করলেন না,

7 কিন্তু নিজেকে শুন্য করলে, দাসের রূপ ধারণ করলেন, মনুষ্যের সাদৃশ্যে জন্মগ্রহণ করলেন I

8 এবং আকারে প্রকারে মনুষ্যবৎ প্রত্যক্ষ হলেন, নিজেকে অবনত করলেন

এবং মৃত্যু পর্যন্ত আজ্ঞাবহ হলেন—
এমনকি ক্রুশীয় মৃত্যু পর্যন্ত!

9 এই কারণে ঈশ্বর তাঁকে অতিশয় উচ্চে গৌরবান্বিত করলেন

এবং তাঁকে সেই নাম দান করলেন যা প্রত্যেক নাম অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ

ফিলিপীয় 2:5-9

অতএব যীশু তাঁর অবতারে ‘নিজেকে শুন্য করলেন’ এবং সেই অবস্থায় নিজেকে বলিদানের জন্য প্রস্তত করলেন I তাঁর প্রকাশিত গৌরব কেবলমাত্র আংশিক ছিল, ঠিক যেমনটি পুরুষাসুক্তা ব্যক্ত করে I এটি তাঁর আসন্ন বলিদানের কারণে ছিল I এই পদ সমূহের পরবর্তী সময় থেকে পুরুষাশুক্তা সেই একই ভাবকে অনুসরণ করে যা তাঁর বলিদানের উপরে ফোকাস করতে পুরুষার আংশিক গৌরবকে বর্ণনা করার থেকে ফিরে আসে I যেটিকে আমরা পরবর্তী পোস্টে দেখি I     

পদ 2 – পুরুষা অমরত্বর প্রভু

আমরা পুরুষাসুক্তর প্রথম পদে দেখলাম যে পুরুষা কে সর্বজ্ঞানী, সর্বশক্তিমান এবং সর্বব্যাপী রূপে বর্ণনা করা হয়েছে I আমরা তখন প্রশ্ন উত্থাপন করলাম পুরুষা কি যেশু সত্সংগ (যীশু খ্রীষ্ট) হতে পারে আর মনের মধ্যে এই প্রশ্ন নিয়ে পুরুষাসুক্তর মধ্য দিয়ে এক যাত্রা আরম্ভ করলাম I অতএব আমরা পুরুষাসুক্তর দ্বিতীয় পদে আসি যা মানুষ পুরুষাকে প্রত্যেক অস্বাভাবিক পরিভাষায় মানুষ পুরুষাকে বর্ণনা করতে থাকে I এখানে সংস্কৃত অক্ষরীকরণ এবং ইংরেজি অনুবাদ আছে (সংস্কৃত অক্ষরীকরণ সমূহ যোষেফ পাদিনজারেকারার দ্বারা লিখিত ক্রাইষ্ট ইন দি এনসিয়েন্ট বেদাস বইটির অধ্যয়নের থেকে এসেছে (পৃষ্ঠা 346. 2007)) I

পুরুশাসুক্তর দ্বিতীয় পদ
বাংলা অনুবাদ সংস্কৃত অক্ষরীকরণ
পুরুষা হচ্ছেন এই সমগ্র বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড, যা আছে এবং যা হবে I আর তিনি অমরত্বের প্রভু, যা তিনি খাদ্য বিনা প্রদান করেন [প্রাকৃতিক সারবস্তু] পুরুষা এভেদম সর্বম যাদভূতম যাচ্ছা ভব্যম উতামৃততভাস্যেসানো যাদান্নেনাতিরোহতি

পুরুষার গুণ সমূহ

পুরুষা বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডর থেকে শ্রেষ্ঠ (মহাশূণ্য এবং পদার্থর সামগ্রিক পরিধি) এবং প্রভুর সময় (‘যা হয়েছে এবং যা হবে’) তথা ‘অমরত্বের প্রভু’ – অনন্তকালীন জীবন I হিন্দু পুরাণে অনেক দেব-দেবী আছে কিন্তু কাউকেও এই ধরণের অসীম গুণ সমূহ দেওয়া হয় না I    

এইগুলো এইধরণের অদ্ভূত প্রেরণাদায়ক গুণ সমূহ যে সেগুলো কেবলমাত্র একজন প্রকৃত ঈশ্বরের কাছে থাকতে পারে – স্বয়ং সৃষ্টির প্রভু I ইনি ঋক বেদের প্রজপতি হবেন (পুরনো নিয়মের ইব্রীয়দের সদাপ্রভুর সঙ্গে সমার্থক) I এইরূপে, এই মানুষ, পুরুষাকে, এই এক ঈশ্বরের একজন অবতার রূপে একমাত্র বোঝা  যেতে পারে – সমস্ত সৃষ্টির প্রভু I  

বরং আমাদের জন্য এমনকি অধিক প্রাসঙ্গিক হল যে পুরুষা আমাদেরকে এই অমরত্ব (অনন্ত জীবন) ‘প্রদান করে’ I তিনি প্রাকৃতিক সারবস্তু ব্যবহার না করে এটি করেন, অর্থাৎ, তিনি অনন্ত জীবন অনুমোদন বা প্রদান করতে বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডর প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া সমূহ অথবা প্রাকৃতিক পদার্থ/শক্তি ব্যবহার করেন  না I আমরা সকলে মৃত্যু এবং কর্মের অভিশাপের অধীনে আছি I এটি আমাদের অস্তিত্বের নিষ্ফলতা যার থেকে আমরা রেহাই পেতে আকাঙ্খা করি এবং যার জন্য আমরা পূজা, স্নান, এবং অন্যান্য অভ্যাস সমূহ পালন করতে এত কঠিন পরিশ্রম করি I যদি সেখানে এমনকি একটু অল্পও সুযোগ থাকে যে এটি সত্য এবং যে পুরুষার কাছে অমরত্ব প্রদান করার ক্ষমতা এবং ইচ্ছা উভয়ই আছে এটি বিচক্ষণ হবে কমপক্ষে এই সম্বন্ধে আরও অধিক জ্ঞাত হওয়া I 

বেদা পুস্তকমের (বাইবেল) ভাববাদীদের তুলনা

এটিকে মনে রেখে আসুন আমরা মানবীয় ইতিহাসের প্রাচীনতম পবিত্র রচনাগুলোর মধ্যে অন্যতম একটিকে বিবেচনা করি I ইব্রীয় টেস্টামেন্টের (বাইবেল অথবা বেদা পুস্তকমে পুরনো নিয়ম বলা হয়) মধ্যে দেখা যায় ঋক বেদের মতন এই বইটিতে দৈববাণী, স্তোত্র, ইতিহাস এবং অনেক ভাববাদীদের ভাববাণীর সংগ্রহ আছে যারা যদিও দীর্ঘ সময় পূর্বে জন্মগ্রহণ করেছিল, তারা বাস করেছিল এবং ইতিহাসের বিভিন্ন যুগে লিখেছিল I সুতরাং একটি বইয়ের মধ্যে সংকলিত বিভিন্ন অনুপ্রাণিত রচনা সমূহের একটি সংগ্রহ বা লাইব্রেরি রূপে পুরনো নিয়ম সর্বোৎকৃষ্ট চিন্তাধারা I এই ভাববাদীদের সর্বাধিক রচনা সমূহ ইব্রীয় ছিল এবং এইরূপে তারা মহান ভাববাদী আব্রাহামের বংশধর ছিল যারা প্রায় 2000 খ্রীষ্ট পূর্বাব্দে বাস করত I যাইহোক, সেখানে ভাববাদী ইয়োবের দ্বারা লিখিত একটি রচনা আছে, যিনি আব্রাহামের পূর্বে বাস করতেন I তথাপি সেখানে কোন ইব্রীয় জাতি ছিল না যখন তিনি বাস করতেন I যারা ইয়োব পড়েছেন হিসাব করুন যে তিনি 2200 খ্রীষ্টাব্দে, 4000 বছর পূর্বে বাস করতেন I    

…ইয়োবের বইয়ের মধ্যে

তার পবিত্র বইয়ের মধ্যে, যাকে তার নামের উপরে ইয়োব বলা হয়, আমরা তাকে তার সঙ্গীদের নিম্নলিখিত কথা বলতে দেখি:

আমি জানি আমার মুক্তিকর্তা জীবিত,

আর তিনি শেষে ধুলির উপরে উঠে দাঁড়াবেন I

আর আমার চরম এইরূপে বিনষ্ট হলে পরে

তবু আমি মাংসবিহীন হয়ে ঈশ্বরকে দেখব;

আমি তাকে নিজে দেখব

আমার চক্ষু দিয়ে  – আমি এবং অন্য কেউ নয়,

আমার মধ্যে আমার হৃদয় ক্ষীণ হচ্ছে!(ইয়োব 19:25-27) 

ইয়োব 19:25-27

ইয়োব এক আসন্ন ‘মুক্তিদাতার’ কথা বলছেন I আমরা জানি যে ইয়োব ভবিষ্যতের দিকে দেখছেন কারণ মুতিদাতা পৃথিবীর উপরে ‘দাঁড়াবেন’ (অর্থাৎ ভবিষ্যৎ কালে) I কিন্তু এই মুক্তিদাতা এখনও বর্তমানে ‘জীবিত আছেন’ – যদিও পৃথিবীর উপরে নয় I অতএব এই মুক্তিদাতা, পুরুষাসুক্তর এই পদের মধ্যে পুরুষার মতন সময়ের প্রভু কারণ তাঁর অস্তিত্ব আমাদের মতন সময়ে আবদ্ধ নন I    

ইয়োব তখন ঘোষণা করেন যে ‘আমার চরম বিনষ্ট হয়েছে’ (অর্থাৎ তার মৃত্যুর পরে) তিনি ‘তাঁকে’ (এই মুক্তিদাতা) দেখবেন আর একই সময়ে ‘ঈশ্বরকে দেখবেন’ অন্য কথায় এই আসন্ন মুক্তিদাতা হলেন ঈশ্বরের অবতার, ঠিক যেমন প্রজাপতির অবতার হলেন পুরুষা I কিন্তু তার নিজের মৃত্যুর পরে ইয়োব কিভাবে তাঁকে দেখতে পারেন? আর সেটিকে নিশ্চিত করতে আমরা এই বিষয় থেকে লক্ষচ্যুত না হই যে ইয়োব ঘোষণা করেছেন যে ‘আমার নিজের চোখ দিয়ে’ – আমি অন্য আর কেউ নয় যে এই মুক্তিদাকে পৃথিবীর উপরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখবে I এর জন্য কেবলমাত্র ব্যাখ্যা হল যে এই মুক্তিদাতা ইয়োবকে অমরত্ব প্রদান করেছেন এবং তিনি সেই দিনের অপেক্ষা করছিলেন যখন এই মুক্তিদাতা, যিনি হলেন ঈশ্বর, পৃথিবীর উপরে চলছেন এবং ইয়োবকে অমরত্ব প্রদান করেছেন যাতে তিনিও পুনরায় পৃথিবীর উপরে চলছেন এবং মুক্তিদাতাকে তার চোখ দিয়ে দেখছেন I এই আশা ইয়োবকে এতটা বিমুগ্ধ করল যে এই দিনের অপেক্ষায় তার ‘হৃদয় তার মধ্যে ক্ষীণ হল’ I এটি একটি মন্ত্র ছিল যা তাকে রূপান্তর করল I       

…আর যিশাইয়

ইব্রীয় ভাববাদীও এক আসন্ন মানুষের কথা বলল যা পুরুষা এবং ইয়োবের মুতিদাতার এই বর্ণনার একদম অনুরূপ শোনায় I যিশাইয় এইরকমই একজন ভাববাদী ছিলেন যিনি আনুমানিক 750 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে বাস করতেন I তিনি স্বর্গীয় প্রেরণার অধীনে বিভিন্ন দৈববাণী লিখেছিলেন I এখানে তিনি এই মানুষটির আগমনের কথা যেভাবে বর্ণনা করলেন:  

তবুও, যারা চরম দুর্দশায় ছিলেন তাদের জন্য আর কোনো বিষাদ থাকবে না I অতীতে তিনি সবুলুনের দেশ এবং নপ্তালির দেশকে নত করলেন, কিন্তু ভবিষ্যতে তিনি সমুদ্রের ধারে, যর্দ্দনের পাশদিয়ে পরজাতিদের গালিলীর সম্মান করবেন –   

2 যে লোকেরা অন্ধকারে ভ্রমণ করত

তারা মহা-আলোক দেখেছে;

যারা মৃত্যুছায়ার দেশে বাস করত

তাদের উপরে আলোক উদিত হয়েছে…

6. কারণ একটি বালক আমাদের জন্য জন্মেছেন,

একটি পুত্র আমাদেরকে দত্ত হয়েছে,

আর তারই কাঁধের উপরে শাসনভার থাকবে I

এবং তার নাম হবে

আশ্চর্য মন্ত্রী, শক্তিশালী ঈশ্বর,

সনাতন পিতা, শান্তির রাজকুমার I

যিশাইয় 9:1-2,6

অন্য কথায় ভাববাদী যিশাইয় আগে থেকেই একটি পুত্রের জন্ম দেখছেন এবং ঘোষণা করছেন এবং এই পুত্রকে ডাকা হবে …শক্তিশালী ঈশ্বর’ I এই সংবাদ তাদের কাছে নির্দিষ্টভাবে উপযোগী হবে যারা মৃত্যুর ছায়ার দেশে বাস     করছে I” এর অর্থ কি? আমাদের জীবন বেঁচে থাকে এই জেনে যে আমরা আমাদের আসন্ন মৃত্যু এবং কর্ম থেকে বাঁচতে পারি না যা আমাদের ওপর কত্তৃত্ত করে I অতএব আমরা আক্ষরিকভাবে ‘মৃত্যুর ছায়ায়’ বাস করি I এইরূপে, এই আসন্ন মানুষ, যাকে ‘শক্তিশালী ঈশ্বর’ বলে ডাকা হবে, আমাদের মধ্যে তাদের উপরে এক মহা আলোক বা আশা হবে যারা আমরা আসন্ন মৃত্যুর ছায়ায় বাস করি I   

…মীখা

আর একজন ভাববাদী মীখাও, যিনি যিশাইয়র সময়ে (750 খ্রীষ্টপুর্বাব্দে বাস করতেন এই আসন্ন মানুষটির সম্বন্ধে এক স্বর্গীয় দৈববাণী পেলেন I তিনি লিখলেন:

কিন্তু তুমি বৈৎলেহেম-ইফ্রাথা,

যদিও তুমি যিহূদার সহস্রগণের মধ্যে ক্ষুদ্রা,

তোমার থেকে আমার জন্য আসবেন

একজন যিনি ইস্রায়েলের শাসনকর্তা হবেন,

যার উৎপত্তি প্রাক্কাল থেকে,

অনাদিকাল থেকে

মীখা 5:2

মীখা বললেন যে একজন মানুষ ইফ্রাথা অঞ্চলের বৈৎলেহেম শহর থেকে বার হয়ে আসবেন যেখানে যিহূদা গোষ্ঠী (অর্থাৎ যিহূদিরা) বাস করত I এই মানুষটি সমন্ধে যেটা সবথেকে অনন্য তা হল যদিও ইতিহাসের এক নির্দিষ্ট সময়ে বৈৎলেহেম থেকে বার হয়ে ‘তিনি আসবেন’, তিনি সময়ের আরম্ভ থেকে এই উৎপত্তিকে পূর্ব থেকেই বিদ্যমান করেছিলেন I এইরূপে, পুরুষাসুক্তর পদ 2 এর মতন, এবং ইয়োবের আসন্ন মুক্তিদাতার মতন, এই মানুষটিকে আমাদের মতন করে সময়ের দ্বারা আবদ্ধ করা যাবে না I তিনি সময়ের প্রভু হবেন I এটি একটি স্বর্গীয় ক্ষমতা, কোনো মানবীয় একটি নয়, এবং এইরূপে তারা সকলে একই ব্যক্তিকে উল্লেখ করছেন I   

যেশু সত্সংগের (যীশু খ্রীষ্ট) মধ্যে পরিপূর্ণ 

কিতু এই ব্যক্তিটি কে? মীখা এখানে আমাদেরকে এক গুরুত্বপুর্ণ ঐতিহাসিক সুত্র প্রদান করে I আসন্ন ব্যক্তি বৈৎলেহেম থেকে বার হয়ে আসবে I বৈৎলেহেম একটি প্রকৃত শহর যেটির সহস্রাধিক বছর ধরে অস্তিত্ব ছিল যাকে আজ ইস্রায়েল/ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক বলা হয় I আপনি এটিকে গুগল করতে পারেন এবং একটি মানচিত্রের উপরে দেখতে পারেন I এটি একটি বড় শহর নয়, এবং কখনও থাকে নি I কিন্তু বিশ্বব্যাপী এটি বিখ্যাত এবং প্রতি বছর বিশ্বের সংবাদে থাকে I কেন? কারণ এটি যীশু খ্রীষ্টের (বা যেশু সত্সংগ) জন্ম   স্থান I এটি সেই শহর যেখানে তিনি 2000 বছর পূর্বে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন I যিশাইয় আমাদেরকে আর একটি সুত্র দিয়েছিলন কারণ তিনি বলেছিলেন এই ব্যক্তি গালিলীকে প্রভাবিত করবে I এবং যদিও যেশু সত্সংগ (যীশু খ্রীষ্ট) বৈৎলেহেমে জন্মগ্রহণ করেছিলেন (মীখা যেমন আগে থেকে দেখেছিলেন),তিনি বেড়ে উঠেছিলেন এবং গালিলিতে একজন শিক্ষক রূপে সেবা করেছিলেন, যেমন যিশাইয় ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন I      

তার জন্ম স্থান রূপে বৈৎলেহেম এবং তার সেবাকার্যের স্থান রূপে গালিলী যেশু সত্সংগের  (যীশু খ্রীষ্ট) জীবনের দুটি সর্বাধিক সুপরিচিত বিষয় সমূহ I সুতরাং এখানে আমরা বিভিন্ন ভাববাদীদের ভবিষ্যদ্বাণীকে যীশু খ্রীষ্টের (যেশু সত্সংগ) ব্যক্তিত্বের মধ্যে পরিপূর্ণ হতে দেখি I সেই যেশু কি এই পুরুষা/মুক্তিদাতা/শাসক হতে পারে যা এই ভাববাদিগণ আগে থেকে দেখেছিলেন? এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া চাবিকাঠি হতে পারে যা উন্মুক্ত করে কিভাবে আমাদেরকে যারা ‘মৃত্যুর ছায়ায়’ (এবং কর্ম) বাস করে ‘অমরত্ব’ প্রদান করা হবে এটি নিশ্চিতরূপে বিবেচনা করার আমাদের যোগ্য সময় I সুতরাং পুরুষাসুক্তর মধ্য দিয়ে আরও অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে আমরা আমাদের অন্বেষণ চালিয়ে যাব এবং এটিকে ইব্রীয় বেদা পুস্তকমের ভাববাদীদের সঙ্গে তুলনা করব I