দিন 2: যীশুর মন্দির বন্ধ করা … মারাত্মক প্রদর্শনের দিকে নিয়ে যায়

যীশু এক রাজপদের দাবিদার রূপে এবং সমস্ত জাতির জন্য এক জ্যোতি রূপে যিরূশালেমে প্রবেশ করলেন I এটি ইতিহাসের সর্বাধিক কোলাহলপূর্ণ সপ্তাহগুলোর মধ্যে একটিকে আরম্ভ করেছিল, যা আজও অনুভূত হয় I তবে এর পরে তিনি মন্দিরে যা করলেন তা নেতাদের সাথে তার ফুটন্ত সংঘাতের বিস্ফোট ঘটাল I ওই মন্দিরে কি ঘটেছিল তা বুঝতে আমাদের এটিকে আজকে দিনের সর্বাধিক ধনী এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় মন্দিরগুলোর সাথে তুলনা করা উচিত I   

ভারতের ধনী এবং বিখ্যাত মন্দিরগুলো

বৃহদীশ্বর মন্দির

(রাজারাজেশ্বরম বা পেরুবুদইয়ার কোবিল) তামিলরাজ রাজা চোল 1 এর দ্বারা এক রাজকীয় মন্দির রূপে নির্মিত হয়েছিল (1003 – 1010 খ্রীষ্টাব্দে) I এর নির্মাণের পেছনে রাজা এবং রাজত্বের ক্ষমতা এবং সম্পদের সাহায্যে রাজকীয় মন্দিরটি বিশাল হয়েছিল যাকে প্রচুর পরিমাণে খন্ডিত গ্রানাইট পাথর দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল I বৃহদীশ্বর মন্দির যখন সম্পূর্ণ হ’ল তখন এটি ভারতের বৃহত্তম মন্দিরে পরিণত হয়েছিল এবং আজকের দিনে এটিকে “মহান জীবন্ত চোল মন্দির সমূহের” সর্বোত্তম উদাহরণ রূপে বিবেচনা করা হয় I

  • চমৎকার বৃহদীশ্বর মন্দির
  •  
  • বৃহদীশ্বরের অবস্থান
  • বৃহদীশ্বর: আর একটি সাফল্য

কৈলাশ পর্বতে শিবের নিয়মিত গৃহের পরিপূরক রূপে শিবের দক্ষিণের গৃহ হিসাবে নির্মিত হয়েছিল, এছাড়াও এটি নিয়োগকর্তা, বাড়িওয়ালা, এবং টাকা ধার দেবার   একজন ঋণদাতা হিসাবে কার্য করেছিল I এই সমস্ত কার্যকলাপের সাহায্যে বৃহদীশ্বর মন্দির দক্ষিন ভারতের জন্য এক বৃহৎ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হ’ল, এর সাথে অনেক সম্পত্তি যুক্ত হ’ল I রাজার সরকার রাজকীয় মন্দিরে কর্মচারী নিযুক্ত করল যারা সু-পরিকল্পিত ক্ষমতা এবং দায়িত্ব সমূহের মধ্যে কার্য   করত I ফলস্বরূপ. আর কোনো মন্দিরের কাছে এই মন্দিরের মতন সম্পত্তি, স্বর্ণ, এবং নগদ ছিল না, যতক্ষণ না পর্যন্ত নিচের মন্দিরের দ্বারা নিষ্প্রভ হ’ল  …  

ভেঙ্কটেশ্বর মন্দির

এটি অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুপতিতে আছে I মন্দিরটি ভেঙ্কটেশ্বরকে (বালাজী, গোবিন্দ, বা শ্রীনিবাস) উৎসর্গীকৃত করা হয়েছে I এই মন্দিরটির অন্য নামগুলো হ’ল তিরুমালা মন্দির, তিরুপতি মন্দির, এবং তিরুপতি বালাজী মন্দির I এটি অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, যা এই মন্দির থেকে প্রাপ্ত উপার্জনকে ব্যবহার করে I ভেঙ্কটেশ্বর মন্দির ভারতের সর্বাধিক ধনী মন্দির এবং পৃথিবীর সর্বাধিক ধনী ধার্মিক সংস্থাগুলোর মধ্যে অন্যতম বলা হয় I            

  • তিরুপতির ভেঙ্কটেশ্বর মন্দির
  • অন্ধ্রপ্রদেশের মধ্যে অবস্থান

.

এটি প্রতিদিন নিয়মিতভাবে এক লক্ষ দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে এবং শ্রদ্ধালুদের থেকে প্রচুর পরিমাণে নগদ এবং স্বর্ণ রূপে, কিন্তু চুল হিসাবেও উপহার সমূহ প্রাপ্ত করে I এটি ভেঙ্কটেশ্বরের একটি স্থানীয় কন্যাকে বিয়ে করে যৌতুকের ঋণের জালে পড়ে যাওয়ার কাহিনী থেকে এসেছে I অনেক শ্রদ্ধালুরা বিশ্বাস করে তারা তার জন্য সেই সুদের কিছুটা পরিশোধ করতে সাহায্য করে I কোবিড 19 এর কারণে মন্দিরটি কঠিন সময়ে পড়েছে এবং 1200 শ্রমিকদের ছাঁটাই করতে হয়েছে I     

পদম্নাভস্বামী মন্দির

সাম্প্রতিককালে কেরালা ধনী মন্দিরগুলোর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে I এই মন্দিরে পদম্নাভস্বামী সর্প আদি শেষনাগের উপর আবৃত প্রধান দেবতা I এর সব থেকে বড় উৎসব হ’ল লক্ষ্য দ্বীপম, বা এক লক্ষ প্রদীপ যা প্রতি 6 বছর অন্তর  ঘটে I 2011 সালে, সরকারী পদাধিকারীরা ঘোষণা করলেন যে তারা পদ্মনাভস্বামী মন্দিরের গোপন ভূগর্ভস্থ সিন্দুকগুলোতে হীরা, সোনার মুদ্রা, সোনার প্রতিমা, গয়না এবং অন্যান্য ধনসম্পদযুক্ত কোষাগার আবিষ্কার করেছিল I বিশেষজ্ঞরা এখন অনুমান করে এর মূল্য দুই লক্ষ কোটি আমেরিকান ডলার হবে I      

  • সুবর্ণ পদ্মনাভস্বামী
  • পদ্মনাভস্বামীর অবস্থান
  • পদ্মনাভস্বামী মন্দির

ইব্রীয়দের মন্দির

ইব্রীয়দের কেবলমাত্র একটি মন্দির ছিল, এবং এটি যিরূশালেমে ছিল I বৃহদীশ্বরের মতন, এটি একটি রাজকীয় মন্দির ছিল যা প্রায় 950 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে রাজা শলোমনের দ্বারা নির্মিত হয়েছিল I এটি অনেকগুলো খোদাই, সাজসজ্জা এবং প্রচুর সোনার বিস্তৃত কাঠামো ছিল I প্রথম মন্দিরটি ধ্বংস হওয়ার পরে ইব্রীয়রা ঠিক একই স্থানে একটি দ্বিতীয় মন্দির নির্মাণ করল I শক্তিশালী মহান হেরোদ এই মন্দিরটি ব্যাপকভাবে প্রসারিত করেছিলেন যাতে যীশুর প্রবেশের  সময়ে এটি রোমান সাম্রাজ্যের মধ্যে সর্বাধিক প্রভাবশালী কাঠামো হয়, যাকে বিস্তীর্ণরূপে সর্বত্র সোনার দ্বারা সজ্জিত করা হয়েছিল I নির্ধারিত উৎসবগুলোতে রোমান সাম্রাজ্য জুড়ে যিহূদি তীর্থযাত্রী এবং পর্যটকদের অবিচ্ছিন্ন প্রবাহে  দর্শনার্থীদের বন্যায় স্ফীত করত I এইভাবে যাজক এবং সরবরাহকারীদের একটি বিশাল কর্মীদল মন্দিরের উপাসনাটিকে এটি সমৃদ্ধ শিল্পে পরিণত করেছিল I   

  • যিরূশালেম মন্দির ঐতিহাসিক নমুনা
  • যিরূশালেমের উপরে মন্দিরের গম্বুজ

ঐশ্বর্য, প্রতিপত্তি, ক্ষমতা এবং মহিমাতে এই মন্দিরটি বৃহদেশ্বর, ভেঙ্কটেশ্বর এবং পদ্মনাভস্বামী মন্দিরগুলোর মতন ছিল I

তথাপি, এটি অন্যান্য উপায়ে আলাদা ছিল I পুরো দেশ জুড়ে এটি ছিল একমাত্র মন্দির I এর প্রাঙ্গনে কোনো মূর্তি বা প্রতিমা ছিল না I এটি ঈশ্বরের প্রাচীন হিব্রু প্রবক্তারা তাঁর বাসস্থান সম্পর্কে যা দাবি করেছিলেন তা প্রতিফলিত করেছিল I  

সদাপ্রভু এই কথা কহেন, স্বর্গ আমার সিংহাসন, পৃথিবী আমার পাদপীঠ; তোমরা আমার জন্য কিরূপ গৃহ নির্ম্মাণ করিবে? আমার বিশ্রাম স্থান কোন্‌ স্থান? এ সকলই ত আমার হস্ত দ্বারা নির্ম্মিত, তাই এই সকল উৎপন্ন হইল, ইহা সদাপ্রভু কহেন

যিশাইয় 66:1-2a

এই মন্দিরটি তা ছিল না যেখানে ঈশ্বরের বাস করতেন I পরিবর্তে এটি সেই ছিল যেখানে মানুষ ঈশ্বরের মুখোমুখি হতে পারত, যেখানে তাঁর উপস্থিতি সক্রিয় ছিল I ঈশ্বর সেখানে উপাসক নয়, সক্রিয় মাধ্যম ছিলেন I   

সক্রিয় মাধ্যম পরীক্ষা: বা যাত্রী?

এটিকে এইভাবে ভাবুন I বৃহদীশ্বর, ভেঙ্কটেশ্বর এবং পদ্মনাভস্বামী মন্দিরে যাওয়ার সময়ে, শ্রদ্ধালুরা পচ্ছন্দ করেন তারা কোন দেবতার উপাসনা করবেন I উদাহরণস্বরূপ, যদিও বৃহদীশ্বর শিবের প্রতি সমর্পিত, এটি অন্য দেবতাদেরও গৃহের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে বিষ্ণু, গনেশ, হরিহরা (অর্ধেক শিব, অর্ধেক বিষ্ণু), সরস্বতী I তাই বৃহদীশ্বরে প্রবেশের সময়ে ভক্তবৃন্দ পচ্ছন্দ করতে আশা করে কোন দেবতার উপাসনা করা যায় I তারা সবাইকে, কিছুকে বা তাদের পচ্ছন্দের কোন সংমিশ্রণকে শ্রদ্ধা জানাতে পারে I এটি এই সমস্ত মন্দিরগুলোর ক্ষেত্রে সত্য যাদের কাছে অনেক মূর্তির জন্য গৃহ আছে I দেবতাকে বেছে নেওয়ার দায়িত্ব যাত্রীর উপরে নির্ভর করে I

তার উপরে, এই মন্দিরগুলোতে এটি ভক্তবৃন্দ চয়ন করেন কোন ধরণের বা কি পরিমান উপহার প্রদান করবেন I এই মন্দিরগুলো যাত্রীগণ, রাজারা এবং পদাধিকারীরা প্রত্যেকে কি দেবে তাদের সিদ্ধান্তের কারণে শত শত বছরের সময়কালের মধ্যে ধনী হয়ে উঠেছে I কি উপহার দেওয়া উচিত সেই বিষয়ে দেবতারা নিজেরা মন্দিরের মধ্যে নির্ধারণ করেন নি I 

যদিও আমরা দেবদেবীদের উপাসনা করতে তীর্থযাত্রা করি, আমরা এমনভাবে কাজ করি যেন দেবতারা আসলে শক্তিহীন যেহেতু আমরা কখনই তাদের আমাদের বেছে নেওয়ার আশা করি না; বরং আমরা তাদের বেছে নিই I 

মন্দিরের সক্রিয় মাধ্যম কারা, ঈশ্বর বা তীর্থযাত্রী, এই বিষয়টি জিজ্ঞাসা করার সাথে আমরা বুঝতে পারি আবেগী সপ্তাহের দ্বিতীয় দিন, সোমবারে যীশুর সাথে কি ঘটেছিল I সেই মন্দিরের ঈশ্বর, যিনি স্বর্গ এবং পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা, তাকে এবং প্রয়োজনীয় উপহারটিকে বেছে নিয়েছিলেন I এই পরিপ্রেক্ষিতের সাথে আমরা পটভূমির নিয়মগুলোকে পর্যালোচনা করি I   

সেই দিনে মেষশাবকের মনোনয়ন

যীশু নীসন 9 তারিখে পবিত্র সপ্তাহের প্রথম দিন রবিবারে যিরূশালেমে প্রবেশ করলেন I প্রাচীন হিব্রু বেদ পরের দিন নীসন 10 তারিখের জন্য নিয়ম দিয়েছিল, যা এটিকে তাদের ক্যালেন্ডারে অনন্য করে তোলে I 1500 বছর পূর্বে, ঈশ্বর আসন্ন নিস্তারপর্বের উৎসব কিভাবে প্রস্তুত করতে হবে সেই বিষয়ে মশিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন I ঈশ্বর আরম্ভ করেছিলেন:  

 

1আর মিসর দেশে সদাপ্রভু মোশি ও হারোণকে কহিলেন, 2এই মাস তোমাদের আদি মাস হইবে; বৎসরের সকল মাসের মধ্যে প্রথম হইবে। 3সমস্ত ইস্রায়েল-মণ্ডলীকে এই কথা বল, তোমরা এই মাসের দশম দিনে তোমাদের পিতৃকুলানুসারে প্রত্যেক গৃহস্থ এক এক বাটীর জন্য এক একটী মেষশাবক লইবে।

যাত্রাপুস্তক 12:1-3

… এবং কেবলমাত্র সেই দিনে

নীসন ছিল যিহূদি বছরের প্রথম মাস I তাই, মশির থেকে শুরু করে প্রত্যেক যিহূদি পরিবার নীসন 10 তারিখের আসন্ন নিস্তারপর্বের উৎসবের জন্য তাদের মেষশাবক বেছে নিত I তারা কেবল সেই দিনেই চয়ন করত I সেই যিরূশালেম মন্দিরের প্রাঙ্গনে নিস্তার পর্বের মেষশাবকদের চয়ন করত – ঠিক সেইখানে যেখানে আব্রাহামের বলিদান বহু পূর্বে যিরূশালেমকে পবিত্র করেছিল I একটি নির্দিষ্ট জায়গায় একটি সুস্পষ্ট দিনে (নীসন 10), যিহূদিরা তাদের আসন্ন নিস্তারপর্বের (নীসন 14) জন্য মেষশাবকদের চয়ন করত I     

আপনি যেমন কল্পনা করতে পারেন, লোক এবং জানোয়ারদের বিশাল ভিড়, বদলাবদলির আওয়াজ, মুদ্রা বিনিময় নীসন 10 তারিখে মন্দিরকে এক উন্মত্ত বাজারে পরিণত করত I আজকের বৃহদীশ্বর, ভেঙ্কটেশ্বর এবং পদ্মনাভস্বামী মন্দিরগুলোতে কার্যকলাপ এবং তীর্থযাত্রীদের দেখা গেছে তা তুলনা করলে শান্ত বলে মনে হবে I

মন্দিরটিকে বন্ধ করার দ্বারাযীশু মনোনীত হন  

যীশু সেই দিন যা করেছিলেন সুসমাচার তা লিপিবদ্ধ করে I যখন এটি বলে ‘পরের দিন’ তখন সেটি তার যিরূশালেমে রাজকীয় প্রবেশের পরের দিন ছিল, সেই দিনটি নীসনের 10 তারিখে মন্দিরের মধ্যে নিস্তারপর্বের মেষশাবকদের বাছাই করার দিন I    

যীশু যিরূশালেমে প্রবেশ করলেন এবং মন্দির প্রাঙ্গনে গেলেন (নীসন 9) I

মার্ক 11:11

পরের দিন সকাল (নীসন 10)…  

  পরের দিন (নীসন 10) I

মার্ক 11:12a

15পরে তাঁহারা যিরূশালেমে আসিলেন, আর তিনি ধর্ম্মধামের মধ্য গিয়া, যাহারা ধর্ম্মধামের মধ্যে ক্রয় বিক্রয় করিতেছিল, তাহাদিগকে বাহির করিয়া দিতে লাগিলেন, এবং পোদ্দারদের মেজ, ও যাহারা কপোত বিক্রয় করিতেছিল, তাহাদের আসন সকল উল্টাইয়া ফেলিলেন। 16আর ধর্ম্মধামের মধ্য দিয়া কাহাকেও কোন পাত্র লইয়া যাইতে দিলেন না। 17আর তিনি উপদেশ দিয়া তাহাদিগকে বলিলেন, ইহা কি লেখা নাই, “আমার গৃহকে সর্ব্বজাতির প্রার্থনা-গৃহ বলা যাইবে”? কিন্তু তোমরা ইহা “দস্যুগণের গহ্বর” করিয়াছ।

মার্ক 11:15-17

যীশু সোমবার নীসন 10 তারিখে মন্দিরে গিয়েছিলেন, এবং আগ্রহের সাথে বানিজ্যিক কার্যকলাপ বন্ধ করেছিলেন I কেনা বেচা প্রার্থনার জন্য একটি বাধার সৃষ্টি করেছিল, বিশেষ করে যারা অন্যান্য জাতিগণ তাদের জন্য I এই জাতিগণের জন্য এক জ্যোতি হয়ে, তিনি বানিজ্য বন্ধ করে সেই বাধা ভাঙ্গলেন I তবে এছাড়া অদৃশ্য কিছু একইসঙ্গে ঘটল, যা শিরোনাম দ্বারা প্রকাশিত হয়েছিল যে স্বামী যোহন যীশুকে চিহ্নিত করেছিল I    

ঈশ্বর তাঁর মেষশাবককে মনোনীত করেন

তাঁর পরিচয় দিয়ে যোহন বললেন:

পরদিন তিনি যীশুকে আপনার নিকটে আসিতে দেখিলেন, আর কহিলেন, ঐ দেখ, ঈশ্বরের মেষশাবক, যিনি জগতের পাপভার লইয়া যান।  

যোহন 1:29

যীশু ‘ঈশ্বরের মেষশাবক’ ছিলেন I আব্রাহামের বলিদানের মধ্যে, ইনি ঈশ্বর ছিলেন যিনি আব্রাহামের পুত্রের বিকল্পরূপে মেষশাবককে মনোনীত করেছিলেন I মন্দিরটি সেই একই স্থানে ছিল I যীশু যখন নীসন 10 তারিখে মন্দিরে প্রবেশ করলেন তখন ঈশ্বর তাকে তাঁর নিস্তারপর্বের মেষশাবক রূপে মনোনীত  করলেন I মনোনীত হওয়ার জন্য তাঁকে সেই সঠিক দিনে মন্দিরে থাকার কথা ছিল I    

তিনি ছিলেন I

ঈশ্বরের মনোনয়নের আহ্বানকে বহু পূর্বে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল:

বলিদান এবং উত্সর্গ আপনি ইচ্ছা করেনি –
তবে আমার কান আপনি খুলে দিয়েছেন —
হোমবলি এবং পাপের নৈবেদ্যগুলির দরকার নেই।
7 তখন আমি বলেছিলাম, “আমি এখানে এসেছি —
এটা আমার সম্পর্কে লিখিত আছে লিখিত।
8 হে Godশ্বর, আমি তোমার ইচ্ছা পালন করতে চাই;
আপনার আইন আমার অন্তরে আছে। “

গীতসংহিতা 40: 6-8

মন্দিরের কার্যকলাপকে উপহার এবং নৈবেদ্যের দ্বারা সাহায্য করা হয় I তবে এটি কখনও ঈশ্বরের প্রধান ইচ্ছা ছিল না I ভবিষ্যদ্বাণীটি সংকেত দিয়েছিল যে তিনি একজন নির্দিষ্ট কারোর জন্য কামনা করেছিলেন I যখন ঈশ্বর তাকে দেখলেন, তিনি তাকে ডাকলেন এবং এই ব্যক্তিটি সাড়া দিলেন I এটি ঘটল যখন যীশু মন্দিরটি বন্ধ করলেন I ভবিষ্যদ্বাণীটি এটির পূর্বাভাষ দিয়েছিল এবং যেভাবে ঘটনাগুলো সপ্তাহের বাকি অংশকে প্রকাশ করেছিল I   

কেন যীশু মন্দিরটিকে বন্ধ করেছিলেন

কেন তিনি এরকম করলেন? যীশু যিশাইয় থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে উত্তর দিলেন I ‘আমার গৃহ সর্বজাতির প্রার্থনা গৃহ বলে আখ্যাত হবে’ I পুরো ভবিষ্যদ্বাণীটি পড়ুন (তার রেখাঙ্কিত সহ উদ্ধৃতিটি)

আর যে বিজাতি-সন্তানগণ সদাপ্রভুর পরিচর্য্যা করিবার জন্য, তাঁহার নামের প্রতি প্রেম দেখাইবার জন্য ও তাঁহার দাস হইবার জন্য সদাপ্রভুতে আসক্ত হয়, অর্থাৎ যে কেহ বিশ্রামবার পালন করে, অপবিত্র করে না, ও আমার নিয়ম দৃঢ় করিয়া রাখে, 7 তাহাদিগকে আমি আপন পবিত্র পর্ব্বতে আনিব, এবং আমার প্রার্থনা-গৃহে আনন্দিত করিব; তাহাদের হোমবলি ও অন্য বলি সকল আমার যজ্ঞবেদির উপরে গ্রাহ্য হইবে, যেহেতু আমার গৃহ সর্ব্বজাতির প্রার্থনা-গৃহ বলিয়া আখ্যাত হইবে।

যিশাইয় 56:6-7
  •  
ঐতিহাসিক কালপঞ্জির মধ্যে ঋষি যিশাইয় এবং অন্যান্য হিব্রু ঋষি (ভাববাদী)

 ‘পবিত্র পর্বত’ ছিল মোরিয়া পর্বত, যেখানে ঈশ্বর আব্রাহামের জন্য মেষশাবক মনোনীত করেছিলেন I ‘প্রার্থনার গৃহ’ ছিল মন্দির যেখানে যীশু নীসন 10  তারিখে মন্দিরে প্রবেশ করেছিলেন I যাইহোক, কেবল যিহূদিরা সদাপ্রভু ঈশ্বরের উপাসনা করতে মন্দিরে প্রবেশ করতে পারত I তবে যিশাইয় আগে থেকেই দেখেছিলেন যে ‘বিজাতীয়রা’ (অযিহূদিরা) একদিন দেখবে তাদের উপহার সমূহ তাঁর দ্বারা স্বীকৃত হয়েছে I যিশাইয়র মাধ্যমে, যীশু ঘোষণা করেছিলেন যে তার বন্ধ করা অ-যিহূদিদের জন্য এই প্রবেশাধিকার নিয়ে আসবে I এটি কিভাবে ঘটবে পরের দিনগুলোতে পরিষ্কার হয় I    

পবিত্র সপ্তাহের পরবর্তী দিনগুলো

আমরা নিস্তারপর্বের মেষশাবকের বাছাই করার নিয়মগুলোকে উপরের দিকে এবং  যীশুর দ্বারা মন্দির বন্ধ করাকে নিচের দিকে সন্নিবেশ করে সেই সোমবারের ঘটনাগুলোকে কালপঞ্জির সাথে যুক্ত করি I 

দ্বিতীয় দিনে সোমবারের ঘটনাগুলোর সাথে হিব্রু বেদের নিয়মগুলোর তুলনা

সুসমাচার যীশুর বন্ধ করার প্রভাবকে লিপিবদ্ধ করে:

এ কথা শুনিয়া প্রধান যাজক ও অধ্যাপকেরা, কিরূপে তাঁহাকে বিনষ্ট করিবে, তাহারই চেষ্টা দেখিতে লাগিল; কেননা তাহারা তাঁহাকে ভয় করিত, কারণ তাঁহার উপদেশে সমস্ত লোক চমৎকৃত হইয়াছিল।

মার্ক 11:18

মন্দিরটি বন্ধ করার সময় যীশু নেতাদের সাথে একটি সংঘর্ষ শুরু করলেন কেননা তারা এখন তাঁর হত্যার ষড়যন্ত্র করল I পরের তৃতীয় দিনে, আমরা দেখি, যীশু সহস্র বছর ধরে স্থায়ী হওয়া একটি অভিশাপ উচ্চারণ করলেন I

দিন 1: – জাতিগণের জ্যোতি

সংস্কৃত অর্থ ‘চিহ্ন’ বা ‘প্রতীক’ থেকে ‘লিঙ্গ’ এসেছে, এবং লিঙ্গম শিবের সর্বাধিক স্বীকৃত প্রতীক I শিব লিঙ্গ সুস্পষ্টভাবে বৃত্তাকার মাথার সাথে খাড়া বেলন প্রদর্শন করে, যাকে শিব-পীঠ বলা হয় I অন্যান্য কম বিশিষ্ট অংশগুলো হ’ল ব্রহ্ম-পীঠ (বৃত্তাকার আধার) এবং বিষ্ণু-পীঠ (মাঝখানে বাটি জাতীয় স্তম্ভমূল্) I   

লিঙ্গম দেখায় শিব, বিষ্ণু-পীঠ ও ব্রহ্ম-পীঠ

জ্যোতির্লিঙ্গ সমূহ

যদিও বিভিন্ন আকার, মাত্রা এবং বিভিন্ন উপকরণগুলোর মধ্যে অসংখ্য লিঙ্গ সমূহ রয়েছে তবে সর্বাধিক পবিত্র হ’ল জ্যোতির্লিঙ্গগুলো (জ্যোতি = আলো) বা উজ্জ্বল প্রতীক I জ্যোতির্লিঙ্গর (বা দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ) পেছনে পুরাণশাস্ত্র  বিবরণ দেয় যে ব্রহ্মা এবং বিষ্ণু তাদের মধ্যে কে সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী সেই নিয়ে বিতর্ক করছিলেন I তখন শিব জ্যোতির এক বিশাল স্তম্ভ (জ্যোতির্লিঙ্গ) হিসাবে উপস্থিত হন I বিষ্ণু জ্যোতির লিঙ্গের উপরের দিকে আর ব্রহ্মা লিঙ্গের নীচের দিকে প্রত্যেকে নিজ নিজ প্রান্তটির আবিষ্কারের আশায় যাত্রা করলেন I কেউই তা করতে সক্ষম হন নি, জ্যোতির স্তম্ভটি অনির্দিষ্টকালের জন্য এইভাবে একটি ঐশ্বরিক প্রতীক হিসাবে প্রসারিত হয়েছিল I      

শিব জ্যোতির এক বিশাল স্তম্ভ হিসাবে প্রকাশিত হলেন

জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির

জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দিরগুলো দ্বাদশ পবিত্র তীর্থস্থল যেখানে ভগবান শিব পৃথিবীর উপরে জ্যোতির এক স্তম্ভ হিসাবে প্রকাশিত হয়েছিলেন I শ্রদ্ধালুরা এই 12টি তীর্থ স্থানগুলোতে যাত্রা করে এবং পুরাণ বলে যে এই জ্যোতির্লিঙ্গগুলোর এমনকি নাম আবৃত্তি করলেও মৃত্যু এবং জীবনের চক্র থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করবে I এই 12 জ্যোতির্লিঙ্গগুলো হ’ল:  

জ্যোতির্লিঙ্গের অবস্থানগুলো

  1. সোমনাথ
  2. মল্লিকার্জুন
  3. মহাকাল
  4. ওঙ্কারম  
  5. কেদারশ্বের
  6. ভীমশংকর
  7. বিশ্বেশ্বর/বিশ্বনাথ
  8. ত্রাম্বকেশ্বর
  9. বৈদ্যনাথ
  10. নাগেশ্বর
  11. রামেশ্বরম
  12. ঘৃষ্ণেশ্বর মন্দির 

জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দিরগুলোর সুবিধা এবং সীমাবদ্ধতা

আমাদের দিকনির্দেশ এবং চেতনার (আলোর) জন্য জ্যোতির্লিঙ্গগুলোর অন্তর্নিহিত শক্তির গভীর প্রয়োজন রয়েছে I তাই, অনেকে আশীর্বাদ এবং অন্তরের অন্ধকার দূর করার জন্য এই 12 জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দিরে তীর্থযাত্রা করে I তবে জ্যোতির্লিঙ্গের  ঐশ্বরিক আলো কেবলমাত্র তারাই দেখতে পারে যারা আধ্যাত্মিক লক্ষ্য অর্জনের  উচ্চ স্তরে পৌঁছাতে পারে I     

তাহলে আমরা যদি আধ্যাত্মিকতার সেই স্তরে পৌঁছাতে না পেরে থাকি? বা জ্যোতির্লিঙ্গের প্রতি আমাদের আকাঙ্খা শেষ অবধি দীর্ঘকাল হয়ে যায় এবং সেই দিব্য জ্যোতির প্রকাশ ম্লান হয়ে যায়? যদি আমরা তখন অনেক পাপ সমূহকে অর্জন করে থাকি? যদি আমরা তীর্থযাত্রাগুলো করতে সক্ষম না হয়ে থাকি? তাহলে কিভাবে জ্যোতিরলিঙ্গগুলো আমাদের উপকার করতে পারে? বা অন্যভাবে বলা যায়, কিভাবে এই জ্যোতি আমাদের মধ্যে থাকতে পারে, যাতে আমরা জ্যোতির ‘সন্তান’ হতে পারি?  

যীশু: জ্যোতি সকলের জন্য জ্যোতি দেয়

যীশু ঘোষণা করলেন যে তিনি ছিলেন আলো (জ্যোতি), না কেবল একটি পবিত্র তীর্থে প্রকাশ করলেন, বরং বিশ্বব্যাপী সকলে যাতে দেখতে পারে এবং ‘জ্যোতির সন্তান’ হতে পারে I শিবের জন্য রূপ/প্রতীক/চিহ্ন একটি গোলাকার বেলন, আমাদের ব্রহ্মা এবং বিষ্ণুর অভিজ্ঞলব্ধ সেই প্রকাশনের কথা মনে করিয়ে দেয় I যীশু জ্যোতির সম্বন্ধে শিক্ষা দিতে গিয়ে একটি ‘বীজের’ লিঙ্গ (রূপ, চিহ্ন, প্রতীক) ব্যবহার করেছিলেন I   

কিভাবে তিনি ‘বীজকে’ লিঙ্গ হিসাবে ব্যবহার করেছিলেন?

আমরা অনুসরণ করেছি তার দ্বারা মৃত্যু থেকে লাসারকে উত্থাপনের কর সেবা মিশন এবং সেই দিনে যিরূশালেমে প্রবেশ যার সম্বন্ধে বহু পূর্বে পবিত্র ‘সাত  সপ্তাহের’ দ্বারা ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল, শিখেছি যে তিনি স্বয়ং মৃত্যুকে পরাজিত করতে যাচ্ছিলেন I এখন আমরা এই একই দিনের (খর্জুর রবিবার) ঘটনাগুলোকে অবিরত অনুসরণ করতে থাকি I যিহূদিরা আসন্ন নিস্তারপর্বের উৎসবের জন্য অনেক দেশ থেকে উপস্থিত হচ্ছিল, যিরূশালেমে তীর্থযাত্রীদের ভিড়ে উপচে পড়ছিল I একটি গাধার উপরে যীশুর আগমন যিহূদিদের মধ্যে এক উত্তেজনা সৃষ্টি করল I তবে সুসমাচার অন্যদেরকেও লিপিবদ্ধ করে এছাড়াও যারা ধ্যান দিয়েছিল I     

20 নিস্তারপর্ব উপলক্ষে উপাসনা করার জন্য যাঁরা জেরুশালেমে এসেছিল, তাদের মধ্যে কয়েকজন গ্রীকও ছিল৷
21 তারা গালীলের বৈত্‌সৈদা থেকে য়ে ফিলিপ এসেছিলেন, তাঁর কাছে গেল, আর তাঁকে অনুরোধের সুরে বলল, ‘মহাশয় আমরা যীশুর সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে চাই৷’
22 ফিলিপ এসে একথা আন্দরিয়কে জানালেন৷ তখন আন্দরিয় ও ফিলিপ এসে যীশুকে তা বললেন৷

যোহন 12:20-22

যীশুর সময়ে গ্রীক-যিহূদির বাধা 

গ্রীকদের (অ-যিহূদিদের) যিহূদি উৎসব উদযাপন করা শোনা যায় নি I তখনকার দিনে যিহূদিরা গ্রীক এবং রোমীয়দের অশুচি বিবেচনা করত I গ্রীকরা তাদের অদেখা ঈশ্বর এবং এর উৎসবগুলোর সাথে যিহূদি ধর্মকে বোকামি বলে মনে করত I তাই যিহূদি এবং অ-যিহূদিরা কিছুটা শত্রুতার অনুভূতির সাথে  একে অপরের থেকে আলাদা থাকত I     

জ্যোতি সকল জাতিগণের জন্য আসে   

তবে যিশাইয় দীর্ঘ সময় পূর্বে (750 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে) এক পরিবর্তনকে আগে থেকেই দেখেছিলেন I 

Rsi

ঐতিহাসিক কালপঞ্জির মধ্যে যিশাইয় এবং অন্য হিব্রু ঋষি (ভাববাদীরা)

তিনি লিখেছিলেন:

রবর্তী স্থানের সব লোকরা আমার কথা শোন| পৃথিবীবাসী সবাই আমার কথা শোন! আমি জন্মাবার আগেই প্রভু আমাকে তাঁর সেবা করতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন| আমি মাতৃজঠরে থাকার সময়েই প্রভু আমার নাম ধরে ডাক দেন|

যিশাইয় 49:1

5 প্রভু আমাকে আমার মাতৃগর্ভে সৃষ্টি করেছেন, যাতে আমি তাঁর দাস হতে পারি এবং যাকোব ও ইস্রায়েলকে পথ প্রদর্শন করে তাঁর কাছে ফিরিয়ে আনতে পারি| প্রভু আমাকে সম্মান দেবেন| ঈশ্বরের কাছ থেকে আমি আমার শক্তি পাব|”প্রভু আমাকে বলেন,
6 “তুমি আমার খুবই গুরুত্বপূর্ণ দাস| ইস্রায়েলের লোকরা এখন বন্দী| কিন্তু তাদের আমার কাছে আনা হবে| যাকোবের পরিবারগোষ্ঠী আমার কাছেই ফিরে আসবে| কিন্তু তোমার অন্য কাজ আছে, এর থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেই কাজ! আমি তোমাকে সমস্ত জাতির আলো হিসেবে তৈরি করব| বিশ্ববাসীকে রক্ষা করতে তুমিই হবে আমার পথ|”

যিশাইয় 49:5-6

রুশালেম, আমার আলো উঠে পড়! তোমার আলো (ঈশ্বর) আসছেন| তোমার উপর প্রভুর মহিমা প্রতিভাত হবে|
2 অন্ধকার পৃথিবীকে ঢেকে দিয়েছে| লোকরা অন্ধকারাচ্ছন্ন| কিন্তু প্রভু তোমার উপর তাঁর কিরণ বিকীরণ করবেন| তাঁর মহিমা তোমার উপর দেখা যাবে|
3 সব জাতি তোমার আলোর কাছে আসবে| রাজারাও তোমার উজ্জ্বল আলোর (ঈশ্বর) কাছে আসবেন|

যিশাইয় 60:1-3

যিশাইয় ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে আসন্ন প্রভুর ‘দাস’ যদিও যিহূদি (‘যাকোবের উপজাতি’) পরজাতিদের (অ-যিহূদি) জন্যও এক জ্যোতি হবে, সাথে তাঁর জ্যোতি জগতের শেষ অবধি পৌঁছবে I কিন্তু যিহূদি এবং অ-যিহূদিদের মধ্যে দাঁড়ানো কয়েক শত বছরের এই বাধার সাথে কিভাবে এটি ঘটতে পারত?     

খর্জুর রবিবার: সকল লোকেদের জন্য জ্যোতি এসে গেছে

তবে সেই খর্জুর রবিবার গ্রীকদেরকে যীশুর সগে দেখা করতে যিরূশালেমে যাত্রা করতে দেখল; সুসমাচার বলতে থাকে:

23তখন যীশু তাঁহাদিগকে উত্তর করিয়া বলিলেন, সময় উপস্থিত, যেন মনুষ্যপুত্র মহিমান্বিত হন। 24সত্য, সত্য, আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, গোমের বীজ যদি মৃত্তিকায় পড়িয়া না মরে, তবে তাহা একটী মাত্র থাকে; কিন্তু যদি মরে, তবে অনেক ফল উৎপন্ন করে। 25যে আপন প্রাণ ভাল বাসে, সে তাহা হারায়; আর যে এই জগতে আপন প্রাণ অপ্রিয় জ্ঞান করে, সে অনন্ত জীবনের নিমিত্ত তাহা রক্ষা করিবে। 26কেহ যদি আমার পরিচর্য্যা করে, তবে সে আমার পশ্চাদাগামী হউক; তাহাতে আমি যেখানে থাকি, আমার পরিচারকও সেইখানে থাকিবে; কেহ যদি আমার পরিচার্য্যা করে, তবে পিতা তাহার সম্মান করিবেন।

27এখন আমার প্রাণ উদ্বিগ্ন হইয়াছে; ইহাতে কি বলিব? পিতঃ, এই সময় হইতে আমাকে রক্ষা কর? কিন্তু ইহারই নিমিত্ত আমি এই সময় পর্য্যন্ত আসিয়াছি। 28পিতঃ, তোমার নাম মহিমান্বিত কর। তখন স্বর্গ হইতে এই বাণী হইল, ‘আমি তাহা মহিমান্বিত করিয়াছি, আবার মহিমান্বিত করিব।’

29যে লোকসমূহ দাঁড়াইয়া শুনিয়াছিল, তাহারা বলিল, মেঘগর্জ্জন হইল; আর কেহ কেহ বলিল, কোন স্বর্গ-দূত ইহাঁর সহিত কথা কহিলেন।

30যীশু উত্তর করিয়া কহিলেন, ঐ বাণী আমার জন্য হয় নাই, 31কিন্তু তোমাদেরই জন্য। এখন এ জগতের বিচার উপস্থিত, এখন এ জগতের অধিপতি বাহিরে নিক্ষিপ্ত হইবে। 32আর আমি ভূতল হইতে উচ্চীকৃত হইলে সকলকে আমার নিকটে আকর্ষণ করিব। 33তিনি যে কিরূপ মরণে মরিবেন, তাহা এই বাক্য দ্বারা নির্দ্দেশ করিলেন।

34তখন লোকসমূহ তাঁহাকে উত্তর করিল, আমরা ব্যবস্থা হইতে শুনিয়াছি যে, খ্রীষ্ট চিরকাল থাকেন; তবে আপনি কি প্রকারে বলিতেছেন যে, মনুষ্যপুত্রকে উচ্চীকৃত হইতে হইবে? সেই মনুষ্য পুত্র কে?

35তখন যীশু তাহাদিগকে কহিলেন, আর অল্প কালমাত্র জ্যোতি তোমাদের মধ্যে আছে। যাবৎ তোমাদের কাছে জ্যোতি আছে, যাতায়াত কর, যেন অন্ধকার তোমাদের উপরে আসিয়া না পড়ে; আর যে ব্যক্তি অন্ধকারে যাতায়াত করে, সে কোথায় যায়, তাহা জানে না। 36যাবৎ তোমাদের কাছে জ্যোতি আছে, সেই জ্যোতিতে বিশ্বাস কর, যেন তোমরা জ্যোতির সন্তান হইতে পার।

যীশু এই সকল কথা বলিলেন, আর প্রস্থান করিয়া তাহাদের হইতে লুকাইলেন। 37কিন্তু যদিও তিনি তাহাদের সাক্ষাতে এত চিহ্ন-কার্য্য করিয়াছিলেন, তথাপি তাহারা তাঁহাকে বিশ্বাস করিল না; 38যেন যিশাইয় ভাববাদীর বাক্য পূর্ণ হয়, তিনি ত বলিয়াছিলেন, “হে প্রভু, আমরা যাহা শুনিয়াছি, তাহা কে বিশ্বাস করিয়াছে? আর প্রভুর বাহু কাহার কাছে প্রকাশিত হইয়াছে?”

39এই জন্য তাহারা বিশ্বাস করিতে পারে নাই, কারণ যিশাইয় আবার বলিয়াছেন,

40“তিনি তাহাদের চক্ষু অন্ধ করিয়াছেন,

তাহাদের হৃদয় কঠিন করিয়াছেন,

পাছে তাহারা চক্ষে দেখে, হৃদয়ে বুঝে, এবং ফিরিয়া আইসে,

আর আমি তাহাদিগকে সুস্থ করি।”

41যিশাইয় এই সমস্ত বলিয়াছিলেন, কেননা তিনি তাঁহার মহিমা দেখিয়াছিলেন, আর তাঁহারই বিষয় বলিয়াছিলেন।

42তথাপি অধ্যক্ষদের মধ্যেও অনেকে তাঁহাতে বিশ্বাস করিল; কিন্তু ফরীশীদের ভয়ে স্বীকার করিল না, পাছে সমাজচ্যুত হয়; 43কেননা ঈশ্বরের কাছে গৌরব অপেক্ষা তাহারা বরং মনুষ্যদের কাছে গৌরব অধিক ভাল বাসিত।

44যীশু উচ্চৈঃস্বরে বলিলেন, যে আমাতে বিশ্বাস করে, সে আমাতে নয়, কিন্তু যিনি আমাকে পাঠাইয়াছেন, তাঁহাতেই বিশ্বাস করে; 45এবং যে আমাকে দর্শন করে, সে তাঁহাকেই দর্শন করে, যিনি আমাকে পাঠাইয়াছেন। 46আমি জ্যোতিঃস্বরূপ হইয়া এই জগতে আসিয়াছি, যেন, যে কেহ আমাতে বিশ্বাস করে, সে অন্ধকারে না থাকে। 47আর যদি কেহ আমার কথা শুনিয়া পালন না করে, আমি তাহার বিচার করি না, কারণ আমি জগতের বিচার করিতে নয়, কিন্তু জগতের পরিত্রাণ করিতে আসিয়াছি। 48যে আমাকে অগ্রাহ্য করে, এবং আমার কথা গ্রহণ না করে, তাহার বিচারকর্ত্তা আছে; আমি যে বাক্য বলিয়াছি, তাহাই শেষ দিনে তাহার বিচার করিবে। 49কারণ আমি আপনা হইতে বলি নাই; কিন্তু কি কহিব ও কি বলিব, তাহা আমার পিতা, যিনি আমাকে পাঠাইয়াছেন, তিনিই আমাকে আজ্ঞা করিয়াছেন। 50আর আমি জানি যে, তাঁহার আজ্ঞা অনন্ত জীবন। অতএব আমি যাহা যাহা বলি, তাহা পিতা আমাকে যেমন কহিয়াছেন, তেমনি বলি।

যোহন 12:23-50

যীশু গ্রীকদের গ্রহণের জন আগ্রহী ছিলেন এবং ‘সমস্ত লোকের’ (কেবল যিহূদি নয়) জ্যোতি দেখার সম্বন্ধে একটি সূচনা হিসাবে আগে থেকেই দেখেছিলেন I এমনকি যারা আধ্যাত্মিকতা অর্জনের উচ্চ স্তরেও পৌঁছয়নি, পাপের বোঝায় আবদ্ধ, এবং মায়ার দ্বারা অন্ধ তারাও তাঁর আলোর কাছে যেতে পারে কারণ তিনি এক জ্যোতি রূপে পৃথিবীতে এসেছিলেন I (পদ 46), একটি জ্যোতি সমস্ত জাতিগণকে উজ্জ্বল করার ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল I যারা তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকে তারা ‘যিনি তাঁকে পাঠিয়েছেন তাঁকে দেখবে’ (পদ 45) – তারা ঐশ্বরিক প্রকাশ দেখবে I    

যীশু ‘বীজের’ দ্বারা প্রতীক (লিঙ্গ)

যীশু বললেন কিছু জিনিস বুঝতে পারা কঠিন I প্রতীক বা লিঙ্গ, যাকে তিনি নিজের জন্য ব্যবহার করেছিলেন তা একটি ‘বীজ’ ছিল (পদ 24) I কেন সেই প্রতীক? মনে হয় শিবের জ্যোতির্লিঙ্গের জ্যোতির রশ্মির তুলনায় ক্ষুদ্র এবং গুরুত্বহীন I তিনি ‘উত্থিত’ হওয়ার সম্বন্ধে বলেছিলেন যাকে সুসমাচার তাঁর  ক্রুশের পরে আসন্ন মৃত্যুর সম্বন্ধে ব্যাখ্যা করে I কিভাবে মৃত্যুবরণ মৃত্যুর পরাজয় ঘটাবে? দেবতা এবং অসুরদের পূর্ববর্তী সমস্ত মোকাবেলায়, দেবতারা সর্বদা তাদের বিরোধীদের যুদ্ধের বিজয়ের দ্বারা পরাজিত করেছিলেন, মৃত্যুবরণের দ্বারা নয় I   

আবেগী সপ্তাহের জ্যোতিকে উপলব্ধি করা

বুঝতে হলে এই সপ্তাহের মধ্য দিয়ে তাঁকে আমাদের অনুসরণ করতে হবে I  তিনি সেই সপ্তাহের ঘটনাগুলোকে গতিশীল করলেন, প্রায়শই আবেগী সপ্তাহ বলে পরিচিত, যা পৃথিবীর ইতিহাসকে পরিবর্তন করে দেয় I সুসমাচারে লিপিবদ্ধ এর দৈনন্দিন ঘটনাবলীকে অনেক ভাববাদীদের পরে বিন্যাস করা হয়েছিল, এমনকি জগতের সৃষ্টির দিকে ফিরে গিয়েও I তিনি প্রকাশ করছিলেন শুরুতে যিনি সৃষ্টি করেছিলেন তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি নিজেকে সবেমাত্র জ্যোতি হিসাবে ঘোষণা করেছিলেন I      

আবেগী সপ্তাহের প্রতিটি দিনের মধ্য দিয়ে কালপঞ্জি তৈরী করে আমরা এই দৈনন্দিন ঘটনাগুলোকে অনুসরণ করি I  

আবেগী সপ্তাহের ঘটনাগুলো: দিন 1, রবিবার

 সপ্তাহের সেই প্রথম দিন, খর্জুর রবিবারে, তিনি তিনজন ভাববাদীদের তিনটি বিভিন্ন ভবিষ্যদ্বাণীকে পুরণ করলেন I প্রথমত:, তিনি সখরিয়র দ্বারা ভবিষ্যদ্বাণী করা একটি গাধার উপরে চড়ে যিরূশালেমে প্রবেশ করলেন I দ্বিতীয়তঃ, দানিয়েলের দ্বারা ভবিষ্যদ্বাণী করা সময়ে তিনি এইরকম করলেন I তৃতীয়তঃ, তিনি অ-যিহূদিদের মধ্যে উৎসাহ প্রজ্বলিত করতে আরম্ভ করলেন, যার সম্বন্ধে যিশাইয় ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে সমস্ত জাতিগণকে ঊজ্বল করতে আলোকিত করবেন, পৃথিবীর চতুর্দিকে সমস্ত লোকেদের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করবেন I         

আমরা পরে দেখব কিভাবে তিনি পৃথিবীর সর্বাধিক ধনী মন্দিরকে দ্বিতীয়  দিনে বন্ধ করলেন I

যীশু, জীবন মুক্ত, মৃতদের পবিত্র নগরে যাত্রা করেন

বারাণসী সাত পবিত্র শহরগুলোর (সপ্ত পুরী) মধ্যে পবিত্রতম I প্রতি বছর 10 লক্ষেরও বেশি তীর্থযাত্রী তীর্থ-যাত্রায় আসে, অনেকে এর অবস্থান (যেখানে বরুণা এবং অসি গঙ্গায় যোগদান করে), এবং এর পৌরাণিক বিশিষ্টতা এবং ইতিহাসের কারণে তীর্থ-যাত্রার জন্য, জীবন মুক্ত রূপে আসে I এছাড়াও বেনারস, বারাণসী, অভিমুক্ত, বা কাশী (“আলোর শহর”) বলে পরিচিত, বারাণসী যেখানে শিব পাপের জন্য ক্ষমাকে দেখতে পেয়েছিলেন I 

বারাণসীতে মনিকর্নিকা ঘাটে মৃতদের দাহসংস্কার করা হয় I

কাশী খন্ড (বৃহৎ তীর্থ স্থলের জন্য ‘ভ্রমণ নির্দেশিকা’ পুরাণ) অনুসারে, শিব ভৈরবের আকারে, এবং ব্রহ্মার সঙ্গে এক উত্তপ্ত বিতর্কে, ব্রহ্মার একটি মাথা তার দেহ থেকে বিছিন্ন করে ফেললেন I এই মারাত্মক অপরাধের কারণে, বিচ্ছিন্ন মাথাটি তার হাতে আটকে গেল – দোষ তার কাছ থেকে ছেড়ে গেল  না I শিব/ভৈরব দোষ (এবং আটকানো মাথা) থেকে নিজেকে মুক্তি পেতে অনেক স্থানে ভ্রমণ করলেন কিন্তু যখন তিনি বারাণসীতে এলেন তখনই তার হাত থেকে বিচ্ছিন্ন মাথাটি ভেগে গেল I অতএব শিব অন্যান্য সমস্ত তীর্থগুলোর উপরে বারাণসীকে পচ্ছন্দ করলেন এবং আজ বারাণসীতে তাঁর প্রতি উৎসর্গীকৃত অনেক মঠ এবং লিঙ্গ সমূহ রয়েছে I       

বারাণসী: মৃত্যুর পবিত্র নগর

 কাল ভৈরব শিবের ভয়ংকর গুনাবলীর একটি প্রকাশ, এবং কাল (সংস্কৃত: काल) হয় ‘মৃত্যু’ বা ‘কালো’ কে বোঝায় I এটি বারাণসীতে ভৈরবকে মৃত্যুর প্রহরী করে তোলে I যম, মৃত্যুর আর এক দেবতা বারাণসীতে প্রবেশ করতে অক্ষম I এইভাবে ভৈরব আত্মাগুলোকে শাস্তি দেওয়া এবং সংগ্রহ করার ভূমিকা পুরণ করেন I বলা হয় যে যারা বারাণসীতে মারা যায় তারা ভৈরবের (ভৈরবী যাতনার) মুখোমুখি হবে I   

অতএব বারাণসী মারা যাওয়া এবং অন্তিম সংস্কারের একটি শুভ স্থান, যেহেতু মৃত্যুর আধ্যাত্মিক বিষয়টি সেখানে শক্তিশালী, এবং সেখানে মৃত্যু এবং সংসার থেকে মুক্তি পাওয়ার ক্রমবর্ধমান আশা রয়েছে I অনেকে তাদের নিকটবর্তী মৃত্যুর প্রত্যাশায় আসে এবং এর জন্য ধর্মশালায় অপেক্ষা করে I এই অর্থে জীবনের তীর্থযাত্রায় বারানসী চূড়ান্ত গন্তব্য স্থল I বারাণসীতে দুটি বিশিষ্ট দাহ সংস্কারের ঘাট আছে, মনিকর্নিকা এবং হরিশ্চন্দ্র I দুটির মধ্যে মনিকর্নিকা অধিক জনপ্রিয়, মৃত্যুর পবিত্র স্থান বলে পরিচিত, নদী সংলগ্ন স্থান যেখানে শ্মশানের আগুন অবিরত জ্বলতে থাকে I এক দিনে 30,000 পর্যন্ত শ্রদ্ধালু বারাণসীর গঙ্গার ঘাটগুলোতে স্নান করতে পারে I        

তদনুসারে, সারা ভারত থেকে লোকেদের ঝাঁক বারাণসীতে মরতে আসে যাতে তাদের মৃত্যুর সময়ে শিবের থেকে নির্দেশ পেতে পারে কিভাবে পুনর্জন্মের চক্র ভাঙ্গতে পারে এবং এইভাবে মোক্ষ অর্জন করতে পারে I সংক্ষেপে, বারাণসী হ’ল মৃতদের পবিত্র নগর I তবে আরও একটি এই ধরণের নগর আছে এবং এটি ঠিক যেমন পবিত্র, তেমনই প্রাচীন…  

যিরূশালেম: মৃত্যুর পবিত্র নগর

যিরূশালেমকে মৃতদের আর একটি পবিত্র নগর যা জানার যোগ্য হয় I সেখানে সমাধিস্থ হওয়া শুভ বলে বিবেচিত করা হয় যেহেতু বিশ্বাস করা হয় যে সমাধিস্থ হওয়া ব্যক্তিরা সর্বপ্রথম সেখানে মৃত্যু থেকে প্রথমে পুনরুত্থিত হবে, তাদের উপরে মৃত্যুর বন্ধন থেকে মুক্তির সন্ধান পাবে I ফলস্বরূপ, শতাব্দী ধরে, যিহূদিরা এই আসন্ন মুক্তির প্রত্যাশা করে সেখানে সমাধিস্থ হতে চেয়ে আসছে I     

আধুনিক যিরূশালেমে সমাধি সমূহ: মৃত্যু থেকে মুক্তির আশার জন্য

এটি ছিল এই পবিত্র নগরী যেখানে যীশু এসেছিলেন, সেই দিন যাকে এখন খর্জুর রবিবার বলা হয় I যে কায়দায় তিনি এরকম করলেন, এবং এর সময়সীমা তাঁকে জীবন মুক্ত (এমনকি জীবিত অবস্থায় মৃত্যু থেকে মুক্তি) হতে  দেখিয়েছিল I তবে তিনি কেবল নিজের জন্য জীবন মুক্ত ছিলেন না, বরং আপনার এবং আমার জন্য জীবন মুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন I আমরা জানি মৃতদের পবিত্র শহরে প্রবেশের পাশাপাশি মৃত্যু থেকে লাসারকে জীবনে উত্থাপন করে কিভাবে তিনি এইরকম করলেন I সুসমাচারটি বিবৃত করে:

যীশু রাজা হিসাবে যিরূশালেমে আসেন

12পরদিন পর্ব্বে আগত বিস্তর লোক, যীশু যিরূশালেমে আসিতেছেন শুনিতে পাইয়া, 13খর্জ্জুর-পত্র লইয়া তাঁহার সহিত সাক্ষাৎ করিতে বাহির হইল, আর উচ্চৈঃস্বরে বলিতে লাগিল, হোশান্না; ধন্য তিনি, যিনি প্রভুর নামে আসিতেছেন, যিনি ইস্রায়েলের রাজা।

14তখন যীশু একটী গর্দ্দভশাবক পাইয়া তাহার উপরে বসিলেন, যেমন লেখা আছে,

    15“অয়ি সিয়োন-কন্যে, ভয় করিও না,

     দেখ, তোমার রাজা আসিতেছেন,

     গর্দ্দভ-শাবকে চড়িয়া আসিতেছেন।”

16তাঁহার শিষ্যেরা প্রথমে এই সমস্ত বুঝিলেন না, কিন্তু যীশু যখন মহিমান্বিত হইলেন, তখন তাঁহাদের স্মরণ হইল যে, তাঁহার বিষয়ে এই সকল লিখিত ছিল, আর লোকেরা তাঁহার প্রতি এই সকল করিয়াছে।

17তিনি যখন লাসারকে কবর হইতে আসিতে ডাকেন, এবং মৃতগণের মধ্য হইতে উঠান, তখন যে লোকসমূহ তাঁহার সঙ্গে ছিল, তাহারা সাক্ষ্য দিতে লাগিল। 18আর এই কারণ লোকসমূহ গিয়া তাঁহার সহিত সাক্ষাৎ করিল, কেননা তাহারা শুনিয়াছিল যে, তিনি সেই চিহ্ন-কার্য্য করিয়াছেন। 19তখন ফরীশীরা পরস্পর বলিতে লাগিল, তোমরা দেখিতেছ, তোমাদের সমস্ত চেষ্টা বিফল; দেখ, জগৎসংসার উহার পশ্চাদাগামী হইয়াছে।

যোহন 12:12-19

কি ঘটেছিল তাকে সম্পূর্ণরূপে উপলব্ধি করতে আমাদের বোঝা দরকার হিব্রু বেদ প্রাচীন রাজার প্রথা সম্পর্কে কি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল I

দায়ূদের অশ্বমেধ যজ্ঞের রীতি

পিতৃপুরুষ রাজা দায়ূদ (1000 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) দিয়ে শুরু করে, হিব্রু রাজাগণ তাদের রাজকীয় ঘোড়ায় চড়ে একটি মিছিলের নেতৃত্ব দিয়ে প্রতিবছর পবিত্র নগর যিরূশালেমে প্রবেশ করতেন I যদিও প্রাচীন বৈদিক অশ্বমেধ/অশ্বমেধা যজ্ঞের বলি রূপ এবং পদ্ধতিতে আলাদা, উদ্দেশ্য একই ছিল – তাদের প্রজা এবং অন্যান্য শাসকদের উপরে সাম্রাজ্যের সার্বভৌমত্ব প্রমাণ করা I     

সখরিয় দ্বারা ‘পৃথক’ প্রবেশের ভবিষ্যদ্বাণী

সখরিয়, যিনি আসন্ন রাজার নামের বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, আরও পূর্বাভাষ দিয়েছিলেন যে এই আসন্ন রাজা যিরূশালেমে প্রবেশ করবেন, তবে রাজকীয় আরোহণের পরিবর্তে গাধার উপরে উপবিষ্ট হয়ে I বিভিন্ন হিব্রু ঋষিগণ এই উচ্চ অস্বাভাবিক ঘটনার বিভিন্ন বিষয়গুলোকে আগে থেকেই দেখেছিলেন I   

জাকারিয়া এবং অন্যান্যরা যিরূশালেমে আসার কিং’র প্রবেশপত্রে আগেই দেখেছিলেন

সখরিয় এবং অন্যান্যরা যারা আসন্ন রাজার যিরূশালেমের প্রবেশকে আগে থেকেই দেখেছিলেন

উপরে সুসমাচারে উদ্ধৃত করা সখরিয়র ভবিষ্যদ্বাণীর অংশকে রেখাঙ্কিত করা হয়েছে I সখরিয়র সম্পূর্ণ ভবিষ্যদ্বাণীটি ছিল:

সীয়োনের রাজার আগমন 

9হে সিয়োন-কন্যা অতিশয় উল্লাস কর;

 হে যিরূশালেম-কন্যা, জয়ধ্বনি কর।

   দেখ, তোমার রাজা তোমার কাছে আসিতেছেন;

 তিনি ধর্ম্মময় ও পরিত্রাণযুক্ত, তিনি নম্র ও গর্দ্দভে উপবিষ্ট, গর্দ্দভীর শাবকে      উপবিষ্ট

10 আর আমি ইফ্রয়িম হইতে রথ ও যিরূশালেম হইতে অশ্ব উচ্ছিন্ন করিব,

    আর যুদ্ধ-ধনু উচ্ছিন্ন হইবে; এবং তিনি জাতিদিগকে শান্তির কথা কহিবেন;

  আর তাঁহার কর্ত্তৃত্ব এক সমুদ্র অবধি অপর সমুদ্র পর্য্যন্ত,

  ও নদী অবধি পৃথিবীর প্রান্ত পর্য্যন্ত ব্যাপিবে।

11আর তোমার বিষয়ে বলিতেছি, তোমার নিয়মের রক্ত প্রযুক্ত

    আমি তোমার বন্দিদিগকে সেই নির্জল

   কূপের মধ্য হইতে মুক্ত করিয়াছি

সখরিয় 9:9-11

সখরিয় এক আসন্ন রাজার বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল যিনি অন্যান্য রাজাদের থেকে আলাদ হবেন I তিনি ‘রথ’, ‘যুদ্ধের ঘোড়া’, এবং ‘যুদ্ধের ধনুক’ ব্যবহার করে রাজা হবেন না I প্রকৃতপক্ষে, এই রাজা এই অস্ত্রগুলোকে অপসারণ করবেন এবং পরিবর্তে ‘জাতি সমূহের প্রতি শান্তি ঘোষণা করবেন’ I তবে, এই রাজাকে তখনও এক শত্রুকে পরাজিত করতে হবে – সব থেকে বড় শত্রু মৃত্যুকে I    

এই রাজার মুখোমুখী হওয়ার বিষয়টি আমরা যখন বুঝতে পারি তখন এটি স্পষ্ট হয়ে যায় I সাধারণতঃ, একজন রাজার শত্রু এক বিরোধী জাতির অন্য আর একজন রাজা, বা অন্য শত্রু, বা তার লোকেদের মধ্য থেকে বিদ্রোহী, বা তার বিরোধী প্রজারা হয় I তবে ভাববাদী সখরিয় লিখেছিলেন যে একটি ‘গাধার’ উপরে প্রকাশিত রাজা ‘জলহীন খাই থেকে বন্দিদের মুক্ত করতে যাচ্ছিলেন’ (পদ 11) I ‘খাই’ কে হিব্রু পদ্ধতিতে কবর বা মৃত্যুর কথা বোঝায় I এই আসন্ন রাজা যারা একনায়ক, দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদ, দুষ্ট রাজার বন্দী ছিল বা কারাগারে আটকে ছিল তাদের নয়, যারা মৃত্যুর ‘বন্দী’ ছিল তাদেরকে মুক্ত করতে যাচ্ছিলেন I   

মৃত্যু থেকে লোকেদের রক্ষা করার কথা যখন বলা হয় আমরা বুঝতে পারি  শুধুমাত্র কারোর মৃত্যুকে বিলম্ব করা হয় I আমরা হয়ত, উদাহরণস্বরূপ, একজন ডুবন্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করি বা কারোর জীবন বাঁচাতে ঔষধ প্রদান করি I এটি কেবল মৃত্যুকে স্থগিত করে কারণ ‘রক্ষা পাওয়া’ ব্যক্তি পরে মারা যাবে I তবে সখরিয় ‘মৃত্যু থেকে’ লোকেদের ‘রক্ষা করার’ বিষয়ে নয়, বরং মৃত্যু দ্বারা যারা বন্দী তাদের উদ্ধার করার বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করছিলেন – যারা ইতিমধ্যেই মৃত I সখরিয় দ্বারা ভবিষ্যদ্বাণী করা একটি গাধার উপরে আসা রাজা, মৃত্যুর মুখোমুখি হবেন এবং নিজেই পরাজিত করবেন – এর বন্দিদের মুক্ত করে I        

খর্জুর রবিবারের দিনে যীশুর পরিপূর্ণতা

যীশু এখন খর্জুর রবিবার নামে খ্যাত দিনটিতে সখরিয়র ভবিষ্যদ্বাণীর সাথে যিরূশালেমে প্রবেশের মাধ্যমে রাজকীয় ‘অশ্বমেধ’ যজ্ঞের মিছিলকে একীভূত    করলেন I একটি যুদ্ধের ঘোড়ার পরিবর্তে তাঁকে একটি গাধার উপরে চড়ানো হয়েছিল I লোকেরা যেমন দায়ূদের জন্য করেছিলেন তেমনি যীশুর জন্য তাদের পবিত্র গীতা (গীসংহিতা) থেকে একই গান গাইলেন:  

25আহা! সদাপ্রভু, বিনয় করি, পরিত্রাণ কর;

আহা! সদাপ্রভু, বিনয় করি, সৌভাগ্য দেও।

26ধন্য তিনি, যিনি সদাপ্রভুর নামে আসিতেছেন;

আমরা সদাপ্রভুর গৃহ হইতে তোমাদিগকে ধন্যবাদ করি।

27সদাপ্রভুই ঈশ্বর; তিনি আমাদিগকে দীপ্তি দিয়াছেন;

তোমরা রজ্জু দ্বারা উৎসবের বলি বেদির শৃঙ্গে বাঁধ।

 গীতসংহিতা 118:25-27

লোকেরা তার প্রতি এই প্রাচীন গান গাইল কারণ তারা জানত যীশু লাসারকে উত্থাপন করেছেন, এবং তারা যিরূশালেমে তার আগমনকে প্রত্যাশিত করেছিল I তারা ‘হোশান্না’ অর্থাৎ ‘পরিত্রাহি’ বলে চীৎকার করছিল যেমন গীতসংহিতা 118:25 বহু পূর্বে লিখেছিল I যীশু তাদেরকে কিসের থেকে ‘রক্ষা’ করতে যাচ্ছিলেন? ভাববাদী সখরিয় আমাদের বলেছিলেন – মৃত্যুকে স্বয়ং I কতটা উপযুক্ত ছিল যে একটি গাধার উপরে চড়ে মৃতদের পবিত্র নগরে প্রবেশ করার দ্বারা যীশু নিজেকে এই রাজা বলে ঘোষণা করলেন I      

যীশু দুঃখের সাথে রোদন করলেন

খর্জুর রবিবারের দিনে যখন যীশু যিরূশালেমে প্রবেশ করলেন (বিজয়ী প্রবেশ বলেও পরিচিত) ধর্মীয় নেতারা তাঁর বিরোধিতা করল I সুসমাচার তাদের বিরোধের প্রতি প্রতিক্রিয়া লিপিবদ্ধ করে I 

41পরে যখন তিনি নিকটে আসিলেন, তখন নগরটী দেখিয়া তাহার জন্য রোদন করিলেন, 42কহিলেন, তুমি, তুমিই যদি আজিকার দিনে, যাহা যাহা শান্তিজনক, তাহা বুঝিতে! কিন্তু এখন সে সকল তোমার দৃষ্টি হইতে গুপ্ত রহিল। 43কারণ তোমার উপরে এমন সময় উপস্থিত হইবে, যে সময়ে তোমার শত্রুগণ তোমার চারিদিকে জাঙ্গাল বাঁধিবে, তোমাকে বেষ্টন করিবে, তোমাকে সর্ব্বদিকে অবরোধ করিবে, 44এবং তোমাকে ও তোমার মধ্যবর্ত্তী তোমার বৎসগণকে ভূমিসাৎ করিবে, তোমার মধ্যে প্রস্তরের উপরে প্রস্তর থাকিতে দিবে না; কারণ তোমার তত্ত্বাবধানের সময় তুমি বুঝ নাই 

 লুক 19:41-44

যীশুবললেন নেতাদের ‘এই দিনে’ ঈশ্বরের আগমনের সময়কে’ চেনা উচিত  ছিল I   

তিনি কি বোঝাতে চেয়েছিলেন? তারা কি হারাল?  

তারা তাদের বেদে 533 বছর আগে দানিয়েলের দ্বারা ভবিষ্যদ্বাণী করা ‘সত্তর  সপ্তাহের’ হেঁয়ালিটি বুঝতে ভুল করেছিল I সত্তর সপ্তাহের দ্বারা ভবিষ্যদ্বাণীটি পাঁচশত বছর আগেও রাজার আগমনের দিনটিকে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল I

দানিয়েলের সাত সপ্তাহ তাঁর আগমনের দিনটিকে ভবিষ্যদ্বাণী করে

খর্জুর রবিবার শুভ ছিল যেহেতু সখরিয়র ভবিষ্যদ্বাণীগুলো (একটি গাধার উপরে চড়ে মৃত্যুকে পরাজিত করতে রাজার আসার বিষয়ে) এবং দানিয়েলের ভবিষ্যদ্বাণী সেই একই দিন এবং একই নগর – যিরূশালেমে, মৃতদের পবিত্র নগরে সম্মিলিত হয়েছিল I  

জাতিদের মধ্যে আমাদের জন্য

এর শুভ অবস্থানের কারণে বারাণসী মৃতদের পবিত্র নগরের তীর্থ যাত্রা I তীর্থযাত্রীদের উপরে আশীর্বাদ একমাত্র তখনই আসে যদি তারা উপরে বর্ণিত ভৈরবের কাহিনীর অবস্থানে আসে I এই কারণেই এর অপর নাম হ’ল কাশী, আলোর শহর I

আমাদের জীবন মুক্ত হিসাবে যীশুর সাথে এটি ভিন্ন ছিল যেহেতু যিরূশালেমে  মৃত্যুর উপরে তাঁর বিজয়, তাঁর হিসাবে, যিরূশালেমের বাইরে সমস্ত জাতিগণের কাছে অগ্রসর হবে I 

কেন?

কারণ তিনি নিজেকে জগতের আলো’ হিসাবে ঘোষণা করেছিলেন যার বিজয় যিরূশালেম থেকে বার হয়ে সমস্ত জাতিগণের দিকে যাবে – যেখানেই আপনি এবং আমি থাকি না কেন I যীশুর বিজয়ের দ্বারা অশির্বাদিত হতে আমাদের যিরূশালেমের যাত্রায় যেতে হবে না I আমরা দেখব কিভাবে সেই সপ্তাহে ঘটনাগুলো মৃত্যুর সাথে যুদ্ধের দিকে তাঁকে নিয়ে যাচ্ছিল I   

খ্রীষ্টের আগমন:’সাত’ চক্রে

পবিত্র সাত

সাত একটি শুভ সংখ্যা যা নিয়মিতরূপে পবিত্রতার সঙ্গে যুক্ত I সাতটি পবিত্র নদী সমূহের সম্বন্ধে বিবেচনা করুন: গঙ্গা, গোদাবরী, যমুনা, সিন্ধু, সরস্বতী, কাবেরী, এবং নর্মদা I

সাতটি পবিত্র স্থলের সাথে সাতটি পবিত্র শহর (সপ্ত পুরী) I সাতটি তীর্থ স্থান:

1.  অযোধ্যা (অযোধ্যা পুরী)

2, মথুরা (মথুরা পুরী)

3. হরিদ্বার (মায়া পুরী)

4. বারানসী (কাশী পুরী)

5. কাঞ্চিপুরম (কাঁচি পুরী)

6. উজ্জৈন (অবন্তিকা পুরী)

7. দ্বারকা (দ্বারকা পুরী)

মহাজাগতিক বিশ্বে সাতটি ঊর্ধ্ব এবং সাতটি নিম্ন লোক সমূহ রয়েছে I উইকিপিডিয়া বলে

… 14টি জগৎ, সাতটি উর্ধ্বে I (ব্যহর্তি)এবং সাতটি নিম্নে (পাতাল), অর্থাৎ ভু:, ভুর্ভ:, স্ব:, মহ:”, জন:, তপ:, এবং সত্য উপরে এবং নীচে অতল, বিতল, সুতল, রসাতল, তলাতল, মহাতল, পাতাল…  

চক্রের ছাত্ররা নিয়মিতভাবে আমাদের শরীরের সাত চক্র মন্ডল উদ্ধৃত করে

1. মূলাধার চক্র 2. স্বাধিস্টান চক্র 3. নাভি-মনিপুর চক্র 4. অনাহত চক্র 5. বিশুদ্ধি চক্র 6. আজ্ঞা চক্র 7. সহস্রা চক্র  

হিব্রু বেদে ‘সাত’ পবিত্র

যেহেতু নদী, তীর্থ, ব্যহর্তি, পাতাল এবং চক্র সমূহ ‘সাতের’ দ্বারা সম্পূর্ণ হয়েছে, সেই হেতু এটি দেখতে পাওয়া আশ্চর্য নয় যে হিব্রু বেদে খ্রীষ্টের আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী করতে সাত কে আবারও ব্যবহার করা হয়েছিল I প্রকৃতপক্ষে. প্রাচীন ঋষিগণ তাঁর আগমনকে নির্দিষ্ট করে দেওয়ার জন্য সাতের সাতটি চক্র ব্যবহার করেছিলেন I আমরা এই ‘সাত সমূহের সাত’ চক্রকে উদঘাটন করি, তবে প্রথমে এই প্রাচীন হিব্রু ভাববাদীদের একটি সামান্য পর্যালোচনা I

যদিও কয়েক শত বছর ধরে একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্নতা, তাদের নিজেদের মধ্যে মানবীয় সামঞ্জস্যকে অসম্ভব করে তোলে, তাদের ভাববাণীগুলো আসন্ন খ্রীষ্টের উপরে কেন্দ্রীভূত ছিল I যিশাইয় এই বিষয়টিকে আরম্ভ করতে শাখার চিহ্নকে ব্যবহার করেছিলেন I সখরিয় ভবিষ্যদ্বাণী করলেন যে এই শাখার নাম ইহোশুয়া হবে I (ইংরেজিতে যীশু) I হ্যাঁ, খ্রীষ্টের বিশেষ নামটি যীশুর বেঁচে থাকার 500 বছর পূর্বে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল I   

ভাববাদী দানিয়েল – সাত সমূহের মধ্যে

এখন দানিয়েলের সম্বন্ধে I তিনি বাবিলের নির্বাসনে বাস করতেন, বাবিল এবং পারস্য সরকারের মধ্যে এক শক্তিশালী পদাধিকারী হয়েছিলেন – এবং একজন হিব্রু ভাববাদী I

কালপঞ্জির মধ্যে হিব্রু বেদের অন্যান্য ভাববাদীদের সঙ্গে দানিয়েলকে দেখান হয়েছে  

 তার বইয়ের মধ্যে, দানিয়েল নিম্নলিখিত বার্তাটি পেয়েছিলেন:

21আমার প্রার্থনার কথা শেষ হইতে না হইতে, আমি প্রথম দর্শনে যে ব্যক্তিকে দেখিয়াছিলাম, সেই গাব্রিয়েল বেগে উড়িয়া আসিয়া সন্ধ্যাকালীন নৈবেদ্যের সময়ে আমাকে স্পর্শ করিলেন। 22তিনি আমাকে বুঝাইয়া দিলেন, এবং আমার সহিত আলাপ করিয়া কহিলেন, হে দানিয়েল, আমি এক্ষণে তোমাকে বুদ্ধিকৌশল দিতে আসিয়াছি। 23তোমার বিনতির আরম্ভ সময়ে আজ্ঞা নির্গত হইয়াছিল, তাই আমি তোমাকে সংবাদ দিতে আসিলাম, কেননা তুমি অতিশয় প্রীতি-পাত্র; অতএব এই বিষয় বিবেচনা কর, ও এই দর্শন বুঝিয়া লও।

24তোমার জাতির ও তোমার পবিত্র নগরের সম্বন্ধে সত্তর সপ্তাহ নিরূপিত হইয়াছে—অধর্ম্ম সমাপ্ত করিবার জন্য, পাপ শেষ করিবার জন্য, অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত করিবার জন্য, অনন্তকালস্থায়ী ধার্ম্মিকতা আনয়ন করিবার জন্য, দর্শন ও ভাববাণী মুদ্রাঙ্কিত করিবার জন্য, এবং মহাপবিত্রকে অভিষেক করিবার জন্য। 25অতএব তুমি জ্ঞাত হও, বুঝিয়া লও, যিরূশালেমকে পুনঃস্থাপন ও নির্ম্মাণ করিবার আজ্ঞা বাহির হওয়া অবধি অভিষিক্ত ব্যক্তি, নায়ক, পর্য্যন্ত সাত সপ্তাহ আর বাষট্টি সপ্তাহ হইবে, উহা চক ও পরিখাসহ পুনরায় নির্ম্মিত হইবে, সঙ্কটকালেই হইবে। 26সেই বাষট্টি সপ্তাহের পরে অভিষিক্ত ব্যক্তি উচ্ছিন্ন হইবেন, এবং তাঁহার কিছুই থাকিবে না; 

দানিয়েল 9:21-26a

এটি ‘অভিষিক্ত ব্যক্তির’ সম্বন্ধে একটি ভবিষ্যদ্বাণী (=খ্রীষ্ট = মসীহ) পূর্বাভাস দেয় কখন তিনি আসবেন I এটি ‘যিরূশালেমের পুনস্থাপন এবং পুনর্নির্মাণের’ আদেশ জারি করার সাথে শুরু হবে I যদিও দানিয়েলকে এই বার্তাটি দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি লিখেছিলেন (প্রায় 537 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে) এই উল্টো গণনা শুরু হওয়া দেখতে তিনি বেঁচে থাকেন নি I

যিরূশালেমের পুনস্থাপনের অদেশ জারি

তবে নহিমিয়, দানিয়েলের প্রায় একশত বছরের পরে, এই উল্টোগণনাকে শুরু হতে দেখেছিলেন I তিনি তার বইয়ের মধ্যে লিখেছেন যে 

1অর্তক্ষস্ত রাজার অধিকারের বিংশতিতম বৎসরের নীসন মাসে রাজার সম্মুখে দ্রাক্ষারস থাকাতে আমি সেই দ্রাক্ষারস লইয়া রাজাকে দিলাম। [তৎপূর্ব্বে] আমি তাঁহার সাক্ষাতে কখনও বিষণ্ণ হই নাই। 2রাজা আমাকে কহিলেন, তোমার ত পীড়া হয় নাই, তবে মুখ কেন বিষণ্ণ হইয়াছে? ইহা ত চিত্তের বিষাদ ব্যতিরেকে আর কিছু নয়। তখন আমি অতিমাত্র ভীত হইলাম। 3আর আমি রাজাকে কহিলাম, মহারাজ চিরজীবী হউন; আমি কেন বিষণ্ণবদন হইব না? যে নগর আমার পিতৃলোকদের কবরস্থান, তাহা ধ্বংসিত ও তাহার দ্বার সকল অগ্নিভক্ষিত হইয়াছে।

4তখন রাজা আমাকে কহিলেন, তুমি কি ভিক্ষা চাও? তাহাতে আমি স্বর্গের ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করিলাম। 5আর রাজাকে কহিলাম, যদি মহারাজের তুষ্টি হয়, এবং আপনার দাস যদি আপনার দৃষ্টিতে অনুগ্রহ পাইয়া থাকে, তবে আপনি আমাকে যিহূদায়, আমার পিতৃলোকদের কবরের নগরে, বিদায় করুন, যেন আমি তাহা নির্ম্মাণ করি।

6তখন রাজা—রাজমহিষীও তাঁহার পার্শ্বে উপবিষ্টা ছিলেন—আমাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমার যাত্রা কত দিনের জন্য হইবে? আর কবে ফিরিয়া আসিবে? এইরূপে রাজা সন্তুষ্ট হইয়া আমাকে বিদায় করিলেন, আর আমি তাঁহার কাছে সময় নিরূপণ করিলাম।

নহিমিয় 2:1-6

আর আমি যিরূশালেমে উপস্থিত হইয়া সে স্থানে তিন দিন রহিলাম।

নহিমিয় 2:11

এটি ‘যিরূশালেমের পুনস্থাপন এবং পুনর্নির্মাণের’ আদেশকে নথিভুক্ত করে যার সম্বন্ধে দানিয়েল উল্টো গণনা শুরু হওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল I এটি ইতিহাসের সু-পরিচিত পারস্য সম্রাট অর্তক্ষস্তের রাজত্বের বিংশতিতম বছরে ছিল যা 465 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে শুরু হয় I সুতরাং তার বিংশতিতম বছর 444 খ্রীষ্ট পূর্বাব্দে এই আদেশকে স্থাপন করা হবে I দানিয়েলের প্রায় এক শত বছর পরে. পারস্য সম্রাট তার আদেশ জারি করলেন, উল্টো গণনা শুরু করে যা খ্রীষ্টকে নিয়ে আসবে I   

রহস্যময় সাত সমূহ

দানিয়েলের ভবিষ্যদ্বাণী ইঙ্গিত দিল যে “সাত ‘সপ্তাহ’ এবং বাষট্টি ‘সপ্তাহ’” এর পরে খ্রীষ্ট প্রকাশিত হবেন I  

একটি ‘সাত’ বলতে কি বোঝায়? 

মশির ব্যবস্থায় একটি সাত-বছরের চক্র রয়েছে I প্রত্যেকে সাত বছর অন্তর  জমিকে কৃষিকার্য থেকে বিশ্রাম দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল যাতে জমিকে সম্পুরন করা যেতে পারে I অতএব ‘সাত’ একটি 7-বছরের চক্র I সেটিকে মনে রেখে আমরা দেখি যে উল্টো গণনা দু ভাগে আসে I প্রথম ভাগটি ছিল ‘সাত সপ্তাহ’ বা সাত 7-বছর সময়কাল I এই 7X7=49 বছর যিরূশালেমকে পুনর্নির্মাণ করতে সময় নিয়েছিল I এর পরে বাষট্টি সপ্তাহ ছিল. সুতরাং পুরো উল্টো গননা ছিল 7×7+62×7= 483 বছর I আদেশ জারির থেকে খ্রীষ্টের প্রকাশন পর্যন্ত 483 বছর হবে I      

360-দিনের বছর

আমাদেরকে সামান্য একটু ক্যালেডার সমন্বয় করতে হবে I যেমনভাবে বহু প্রাচীনরা করেছিলেন, ভাববাদীরা এক 360 দিন দীর্ঘ বছর ব্যবহার করতেন I একটি ক্যালেণ্ডারের মধ্যে একট ‘বছরের’ দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করার বিভিন্ন উপায়  রয়েছে I পাশ্চাত্য একটি (সৌর প্রদক্ষিণের উপরে ভিত্তিশীল) 365.24 দিন  দীর্ঘ, মুসলিম একটি 354 দিন (চন্দ্রের চক্রের উপরে ভিত্তিশীল) I যেটি দানিয়েল ব্যবহার করেছিল তা 360 দিনের অর্ধেক পথ ছিল I অতএব 483  ‘360-দিন’ বছরের 483X360/365.24 = 476 সৌর বছর হয় I          

যে বছর খ্রীষ্টের আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল

আমরা এখন হিসাব করতে পারি কখন খ্রীষ্টের আগমন সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল I আমরা ‘খ্রীষ্টপূর্বাব্দ’ থেকে ‘খ্রীষ্টাব্দ’ যুগে 1 খ্রীষ্ট পূর্বাব্দ থেকে 1 খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত (কোনো ‘শুন্য’ বছর নেই) শুধুমাত্র 1 বছরের সাথে যাই I এখানে হিসাবটি রয়েছে I

শুরুর বছর 444 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ (অর্তক্ষত্রের বিংশতিতম বছর)
সময়ের দৈর্ঘ্য 476 সৌর বছর
আধুনিক ক্যালেন্ডারের প্রত্যাশিত আগমন (-444+476+1)(‘+1’ কারণ কোনো 0  খ্রীষ্টপূর্বাব্দ নেই = 33
প্রত্যাশিত বছর33 খ্রীষ্টাব্দ
খ্রীষ্টের আগমনের জন্য আধুনিক ক্যালেন্ডারের হিসাব

নাসরতের যীশু যিরূশালেমে একটি গাধার উপরে চড়ে এসেছিলেন যার মধ্য দিয়ে সু-পরিচিত খর্জুর রবিবারের উৎসব গড়ে উঠলো I সেই দিনই তিনি নিজেকে ঘোষণা করেছিলেন এবং তাদের খ্রীষ্ট হিসাবে যিরূশালেমে প্রবেশ করেছিলেন I বছরটি ছিল 33 খ্রীষ্টাব্দ – যেমন ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল I    

ভাববাদী দামিয়েল এবং নহিমিয়, একে অপরকে জানতে অক্ষম ছিল যেহেতু তারা 100 বছরের ব্যবধানে বাস করেছিল, ঈশ্বরের দ্বারা সমন্বিত হয়েছিল ভবিষ্যদ্বাণীগুলো জানার জন্য উল্টোগণনাকে গতিশীল করতে যা খ্রীষ্টকে প্রকাশ করেছিল I দানিয়েলের ‘সত্তর সপ্তাহের’ তার দর্শন পাওয়ার 537 বছরের পরে, যীশু খ্রীষ্ট রূপে যিরূশালেমে প্রবেশ করেছিলেন I খ্রীষ্টের নামের বিষয়ে সখরিয়র ভবিষ্যদ্বাণীর পাশাপাশি, এই ভাববাদীগণ আশ্চর্য ভবিষ্যদ্বাণী লিখেছিলেন যাতে সকলে ঈশ্বরের পরিকল্পনার প্রকাশ দেখতে পায় I   

আগমনের ‘সেই দিনের’ সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী

এটি ঘটার কয়েক শত বছর পূর্বে, প্রবেশের বছর সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করা, বিস্ময়কর I তবে তারা দিনটির বিষয়েও এটিকে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল I 

খ্রীষ্টের প্রকাশনের পূর্বে এক 360-দিনের বছরকে ব্যবহার করে দানিয়েল 483 বছরের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল I তদানুসারে, দিনগুলোর সংখ্যা হ’ল:   

483 বছর X 360 দিন/বছর = 173880 দিন

আধুনিক আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারের ক্ষেত্রে 365.242 দিন/বছর সহ এটি হ’ল অতিরিক্ত 25 দিন সহ 476 বছর I (173880/365.24219879 = 476 অবশিষ্ট 25)

রাজা অর্তক্ষত্র যিরূশালেমের পুনস্থাপনের আদেশ জারি করলেন:

বিংশতিতম বছরের নীসনের মাসে…

নহিমিয় 2:1

নীসন 1 তারিখ নিশ্চিত যেহেতু এটি যিহূদি এবং পার্সিয়ান নতুন বছর শুরু করেছিল, যা উৎসবের মধ্যে রাজার পক্ষে নহিমিয়র সাথে কথা বলার কারণ দেয় I নীসন 1 তারিখ এছাড়াও এক অমাবস্যাকে চিহ্নিত করে যেহেতু তারা চান্দ্র মাসের ব্যবহার করত I আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের সাহায্যে আমরা জানি খ্রীষ্টপূর্ব 444 এর নীসন 1 তারিখ যা আমাবস্যাকে চিহ্নিত করে কখন ঘটেছিল I জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুসারে পারস্য সম্রাট অর্তক্ষত্রর বিংশতিতম বছরের নীসন 1 তারিখের অর্ধ চন্দ্রকে আধুনিক ক্যালেন্ডারের মধ্যে খ্রীষ্টপূর্ব 444 এর মার্চ 4 তারিখের রাত্রি 10 টায় স্থাপন করে[[i]]I      

খর্জুর রবিবারের সেই দিনের প্রতি

দানিয়েলের ভবিষ্যদ্বাণী করা সময়ের 476 বছরকে আজকের দিনের সাথে যোগ করলে আমাদের কাছে 33 খ্রীষ্টাব্দের মার্চ 4 তারিখ নিয়ে আসে, যেমন ভাবে উপরে ব্যাখ্যা করা হয়েছে I দানিয়েলের ভবিষ্যদ্বাণী করা সময়ের অবশিষ্ট 25 দিনগুলো 33 খ্রীষ্টাব্দের মার্চ 4 তারিখের সঙ্গে যোগ করলে আমাদেরকে 33 খ্রীষ্টাব্দের 29 মার্চ দেয় I 33 খ্রীষ্টাব্দের 29 মার্চ ছিল রবিবার – খর্জুর রবিবারসেই বিশেষ দিন যাতে খ্রীষ্ট হওয়ার দাবি কোরে, যীশু গাধার উপরে চড়ে যিরূশালেমে প্রবেশ করেছিলেন[ii]I     

আরম্ভ – আদেশ জারি হয় মার্চ 4,  444 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ
সৌর বছরগুলো যুক্ত করুন (-444+ 476 +1)মার্চ 4, 33 খ্রীষ্টাব্দ
শেষ ‘সাত সপ্তাহের’ 25 দিনগুলো যোগ করুনমার্চ 4 + 25 = মার্চ 29, 33 খ্রীষ্টাব্দ
মার্চ 29, 33 খ্রীষ্টাব্দখর্জুর রবিবারে যিরূশালেমে যীশুর প্রবেশ
29 মার্চ, 33 খ্রীষ্টাব্দে, গাধার উপরে চড়ে যিরূশালেমে প্রবেশ করে, যীশু সখরিয় এবং দানিয়েল উভয়ের ভবিষ্যদ্বাণী পূরণ করেছিলেন – সেই দিনে I 
দানিয়েলের ‘সাত সপ্তাহের’ চক্র খর্জুর রবিবারের দিনকে পূরণ করেছিল

খ্রীষ্টের প্রকাশনের 173880 দিনের পূর্বে দানিয়েল ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল; নহিমিয় সময়টি আরম্ভ করেছিল I এটি 29 মার্চ, 33 খ্রীষ্টাব্দে শেষ হয়েছিল যখন যীশু খর্জুর রবিবারের দিনে যিরূশালেমে প্রবেশ করেছিলেন. সবকিছু ‘সাত সপ্তাহের’ মধ্যে পুরো হয়ে গিয়েছিল I  

পরে সেই একই দিনে যীশু আর একটি সাত সৃষ্টির সপ্তাহের নমুনায় তাঁর ক্রিয়া কলাপ আরম্ভ করলেন I এইভাবে তিনি তাঁর শত্রু মৃত্যুর সঙ্গে তাঁর যুদ্ধের দিকে নিয়ে যাওয়া ঘটনাগুলোকে গতিশীল করলেন I  


1.ডা. হ্যারল্ড ডব্লিউ. হোএনার, খ্রীস্টের জীবনের ঐতিহাসিক বিষয় সমূহ I 1977. 176 পৃষ্ঠা.

2.আসন্ন শুক্রবার ছিল নিস্তারপর্ব, এবং নিস্তারপর্ব সর্বদা নীসন 14 তারিখে হত I 33 খ্রীষ্টাব্দের নীসন 14 তারিখ ছিল 3 এপ্রিল I  শুক্রবার 3 এপ্রিলের 5 দিন পূর্বে খর্জুর রবিবার ছিল 29 মার্চ I

যীশু কর সেবক হিসাবে সেবা করেন – অযোধ্যার থেকে দীর্ঘ স্থায়ী একটি জ্বলন্ত কলহ

অযোধ্যার দীর্ঘ এবং তিক্ত কলহ এক নতুন মাত্রায় পৌঁছায় যখন এটি খুব দুরত্বে নিউইয়র্ক শহরে একট গোলমাল সৃষ্টি করেছিল যার সম্বন্ধে আসআম নিউজ রিপোর্ট করেছিল I একই স্থানের বাবরি মসজিদটির বিরুদ্ধে নির্মিত  পরম্পরাগতভাবে রামের জন্ম স্থান (রাম জনমভূমি) বলে বিবেচিত স্থানের উপরে নিয়ন্ত্রণ কে ঘিরে অযোধ্যার বিরোধ কয়েক শত বছরের পুরনো রাজনৈতিক, ঐতিহাসিক, এবং সামাজিক-ধর্মীয় কোন্দল I

বাবরি মসজিদের স্তম্ভলিপি অনুসারে, প্রথম মুঘল সম্রাট, বাবর, 1528-29 সালে  নির্মাণ করেছিলেন I তবে কয়েক শতাব্দী ধরে বিতর্কের ছায়া বাবরি মসজিদের উপরে পড়েছিল কারণ অনেকে বিশ্বাস করত যে বাবর এটিকে রামের জন্ম স্থানের স্মরণে নির্মিত একটি আগেকার মন্দিরের ধ্বংসের উপরে নির্মাণ করেছিল I কয়েক শতাব্দী ধরে কোন্দলটি উত্তেজনায় ফুটছিল, প্রায়শই সহিংস দাঙ্গা এবং গুলি চলতে থাকে I  

অযোধ্যাতে কর সেবক 

বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভি এইচ পি) এবং ভারতীয় জনতা পার্টি (বি জে পি) দ্বারা আয়োজিত 1992 এর একটি সমাবেশ দেড় লক্ষ কর সেবক বা ধর্মীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সংগ্রহ করেছিল I এই কর সেবকরা মার্চের মধ্যে বাবরি মসজিদকে ধ্বংস করেছিল I মসজিদের ধ্বংসের কারণে সারা ভারতবর্ষ জুড়ে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছিল I বোম্বেতে আনুমানিক 2000 কে হত্যা করা হয়েছিল I   

তখন থেকে 2019 পর্যন্ত কোন্দল আদালতের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হ’ল, জাতির রাজনীতির মধ্যে ঘুরপাক খেল, এবং রাস্তায় রাস্তায় দাঙ্গা হ’ল I মন্দির নির্মাণ শুরু করার জন্য কর সেবকদের প্রস্তুত উপস্থিতি ভি এইচ পি –এর দিকে গতিবেগের শিরোনাম দিয়েছিল I   

অবশেষে 2019 এর মধ্যে, সুপ্রীম কোর্ট চূড়ান্ত আবেদনের মামলায় তাদের রায় ঘোষণা করল I এটি রায় দিল যে করের নথি অনুযায়ী ওই জমি সরকারের অধীনে ছিল I এটি আরও আদেশ দিল যে একটি ট্রাস্ট হিন্দু মন্দির নির্মাণ করতে জমি পাবে I সরকারকে আর একর্টি জমির এলাকাকে সুন্নি কেন্দ্রীয় ওয়াকফ বোর্ডকে তাদের মসজিদের জন্য বরাদ্দ করতে ছিল I  

2020 সালের 5 ফেব্রুয়ারীতে, ভারত সরকার ঘোষণা করল যে শ্রী রাম জনমভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট অযোধ্যাতে রাম মন্দির নির্মাণ করবে I 2020 সালের 5 আগস্ট জমি-পূজন অনুষ্ঠান ভারতের প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দ্বারা উদ্বোধন করা হয়েছিল I এই মন্দির নির্মাণের শুরুতে উত্তেজনা বাড়ল যা নিউ ইয়র্ক শহরে অনুভূত হল I  

কর সেবক মূলত একটি শিখ পরিভাষা ছিল কারোর জন্য যে স্বাধীন ভাবে ধর্মীয় উদ্দেশ্যে স্বেচ্ছায় তার সেবাদান করে I পরিভাষাটি সংস্কৃত থেকে নেওয়া কর (হাত) এবং সেবক (দাস) I অযোধ্যা কোন্দলে, শিখ পরম্পরা থেকে ধার করে ভি এইচ পি – এর দ্বারা কর সেবকদের সংগঠিত করা হয়েছিল I                        

যীশু (ভিন্ন) কর সেবক হিসাবে

তবে এই অযোধ্যা কোন্দলের বহু পূর্বে, যীশুও শত্রুদের সাথে একটি বিরোধ ঘোষণা করে কর সেবকের ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন, যেটি আবারও মানব জীবনের অনেক ক্ষেত্রকেই পুনরায় দখল করেছে, মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে যা আজ অবধি অব্যাহত রয়েছে I এই কোন্দলটি আবারও একটি শুভ মন্দিরে কেন্দ্রীভূত হয়েছিল I তবে এটি একটি নিকটস্থ গ্রামে শুরু হয়েছিল যখন যীশু, একজন কর সেবক হয়ে, স্বেচ্ছাকৃতভাবে বন্ধুদের বড় প্রয়োজনে সাহায্য করেছিলেন I এই ধরণের কার্যটি অযোধ্যার কলহের চেয়ে ইতিহাসের পরিবর্তন এবং আমাদের জীবনকে আরও গভীরভাবে প্রভাবিত করে, ঘটনাগুলির একটি শৃঙ্খলকে স্ফুলিঙ্গ করে তোলে I যীশুর কর সেবকের কার্যাবলী তাঁর কেন্দ্রীয় মিশনকে প্রকাশিত করেছিল I     

কি ছিল যীশুর মিশন?

যীশু শিক্ষা দিয়েছিলেন, সুস্থ করেছিলেন, এবং অনেক অলৌকিক কার্য সমূহ সম্পন্ন করেছিলেন I তবে প্রশ্নটি এখনও শিষ্য, অনুগামী এবং এমনকি তাঁর সেবাকারীদের মনে থেকে যায়: কেন তিনি এসেছিলেন? মশি সহ পূর্ববর্তী ঋষিদের মধ্যে অনেকে আবারও শক্তিশালী অলৌকিক কার্য সম্পাদিত করেছিল I যেহেতু মশি ইতিমধ্যেই ধর্মের ব্যবস্থা দিয়েছিলেন, এবং “যীশু ব্যবস্থাকে বিলুপ্ত করতে আসেন নি”, তাহলে তাঁর মিশন কি ছিল? 

যীশুর বন্ধু অত্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়ল I তাঁর শিষ্যরা আশা করেছিল যে যীশু তাঁর বন্ধুকে সুস্থ করবেন, যেভাবে তিনি অন্য অনেকদের সুস্থ করেছেন I সুসমাচার লিপিবদ্ধ করে কিভাবে তিনি তাঁর বন্ধুকে শুধুমাত্র সুস্থতা করার চেয়ে স্বেচ্ছাকৃতভাবে আরও অনেক গভীর ভাবে সাহায্য করলেন I এটি প্রকাশিত করল তিনি কি করতে স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন, তাঁর কর সেবক হিসাবে মিশনকে I এখানে বিবরণটি রয়েছে I     

মৃত্যুর মুখোমুখি যীশু

সার নামে একটি লোক অসুস্থ ছিলেন; তিনি বৈথনিযা গ্রামে থাকতেন৷ সেই গ্রামেই মরিয়ম ও তাঁর বোন মার্থাও থাকতেন৷
2 এই মরিয়মই বহুমূল্য সুগন্ধি আতর যীশুর উপরে ঢেলে নিজের চুল দিয়ে তাঁর পা মুছিয়ে দিয়েছিলেন৷ লাসার ছিলেন এই মরিয়মেরই ভাই৷
3 তাই লাসারের বোনেরা একটি লোক পাঠিয়ে যীশুকে বলে পাঠালেন, ‘প্রভু, আপনার প্রিয় বন্ধু লাসার অসুস্থ৷’
4 যীশু একথা শুনে বললেন, ‘এই রোগে তার মৃত্যু হবে না; কিন্তু তা ঈশ্বরের মহিমার জন্যই হয়েছে, য়েন ঈশ্বরের পুত্র মহিমান্বিত হন৷’
5 যীশু মার্থা, তার বোনও লাসারকে ভালবাসতেন৷
6 তাই তিনি যখন শুনলেন য়ে লাসার অসুস্থ, তখন য়েখানে ছিলেন সেই জায়গায় আরো দুদিন রয়ে গেলেন৷
7 এরপর তিনি শিষ্যদের বললেন, ‘চল, আমরা আবার যিহূদিযাতে যাই৷’
8 তাঁর শিষ্যরা তাঁকে বললেন, ‘গুরু, সম্প্রতি সেখানকার লোকেরা আপনাকে পাথর ছুঁড়ে মেরে ফেলতে চাইছিল৷ তবে কেন আপনি আবার সেখানে য়েতে চাইছেন?’
9 এর উত্তরে যীশু বললেন, ‘দিনে বারো ঘন্টা আলো থাকে৷ কেউ যদি দিনের আলোতে চলে তবে সে হোঁচট খেয়ে পড়ে যায় না, কারণ সে জগতের আলো দেখতে পায়৷
10 কিন্তু কেউ যদি রাতের আঁধারে চলে তবে সে হোঁচট খায়, কারণ তার সামনে কোন আলো নেই৷’
11 তিনি একথা বলার পর তাদের আবার বললেন, ‘আমাদের বন্ধু লাসার ঘুমিয়ে পড়েছে; কিন্তু আমি তাকে জাগাতে যাচ্ছি৷
12 তখন তাঁর শিষ্যরা তাঁকে বললেন, ‘প্রভু, সে যদি ঘুমিয়ে থাকে তবে সে ভাল হয়ে যাবে৷’
13 যীশু লাসারের মৃত্যুর বিষয়ে বলছিলেন, কিন্তু তাঁরা মনে করলেন তিনি তাঁর স্বাভাবিক ঘুমের কথা বলছেন৷
14 তাই যীশু তখন তাদের স্পষ্ট করে বললেন, ‘লাসার মারা গেছে৷
15 আর তোমাদের কথা ভেবে আমি আনন্দিত য়ে আমি সেখানে ছিলাম না, কারণ এখন তোমরা আমাকে বিশ্বাস করবে৷ চল, এখন আমরা তার কাছে যাই৷’
16 তখন থোমা (যাঁকে দিদুমঃ বলে) অন্য শিষ্যদের উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘চল, আমরাও যাবো, আমরাও যীশুর সঙ্গে মরব৷’
17 যীশু বৈথনিযাতে এসে জানতে পারলেন য়ে গত চারদিন ধরে লাসার কবরে আছেন৷
18 বৈথনিযা থেকে জেরুশালেমের দূরত্ব ছিল প্রায় দুই মাইল৷
19 তাই ইহুদীদের অনেকেই মার্থা ও মরিয়মকে তাঁদের ভাইয়ের মৃত্যুর পর সান্ত্বনা দিতে এসেছিল৷
20 মার্থা যখন শুনলেন য়ে যীশু এসেছেন, তখন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গেলেন, কিন্তু মরিয়ম ঘরেই থাকলেন৷
21 মার্থা যীশুকে বললেন, ‘প্রভু, আপনি যদি এখানে থাকতেন তাহলে আমার ভাই মরত না৷
22 কিন্তু এখনও আমি জানি য়ে, আপনি ঈশ্বরের কাছে যা কিছু চাইবেন, ঈশ্বর আপনাকে তাই দেবেন৷’
23 যীশু তাঁকে বললেন, ‘তোমার ভাই আবার উঠবে৷’
24 মার্থা তাঁকে বললেন, ‘আমি জানি শেষ দিনে পুনরুত্থানের সময় সে আবার উঠবে৷’
25 যীশু মার্থাকে বললেন, ‘আমিই পুনরুত্থান, আমিই জীবন৷ য়ে কেউ আমাকে বিশ্বাস করে, সে মরবার পর জীবন ফিরে পাবে৷
26 য়ে কেউ জীবিত আছে ও আমায় বিশ্বাস করে, সে কখনও মরবে না৷ তুমি কি একথা বিশ্বাস কর?’
27 মার্থা তাঁকে বললেন, ‘হ্যাঁ, প্রভু! আমি বিশ্বাস করি য়ে জগতে যাঁর আসার কথা আছে আপনিই সেই খ্রীষ্ট, ঈশ্বরের পুত্র৷’
28 এই কথা বলার পর মার্থা সেখান থেকে চলে গেলেন ও তার বোন মরিয়মকে একান্তে ডেকে বললেন, ‘গুরু এসেছেন, আর তিনি তোমায় ডাকছেন৷’
29 মরিয়ম একথা শুনে তাড়াতাড়ি করে যীশুর কাছে গেলেন৷
30 যীশু তখনও গ্রামের মধ্যে ঢোকেন নি৷ মার্থা য়েখানে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন তিনি সেখানেই ছিলেন৷
31 য়ে ইহুদীরা মরিয়মের সঙ্গে বাড়িতে ছিল ও তাঁকে সান্ত্বনা দিচ্ছিল, তারা যখন দেখল য়ে মরিয়ম তাড়াতাড়ি করে উঠে বাইরে যাচ্ছেন, তখন তারাও তার পিছনে পিছনে চলল, তারা মনে করল য়ে তিনি হয়তো লাসারের কবরের কাছে যাচ্ছেন ও সেখানে গিয়ে কাঁদবেন৷
32 যীশু য়েখানে ছিলেন, মরিয়ম সেখানে এসে তাঁকে দেখে তাঁর পায়ের ওপর পড়ে বললেন, ‘প্রভু, আপনি যদি এখানে থাকতেন, আমার ভাই মরত না৷’
33 যীশু যখন দেখলেন য়ে মরিয়ম কাঁদছেন আর তার সঙ্গে য়ে সব ইহুদীরা এসেছিল তারাও কাঁদছে, তখন তিনি দুঃখিত হয়ে উঠলেন এবং অন্তরে গভীরভাবে বিচলিত হলেন৷
34 তখন তিনি বললেন, ‘তোমরা তাকে কোথায় রেখেছ?’ তারা বললেন, ‘প্রভু, আসুন, এসে দেখুন৷’
35 যীশু কেঁদে ফেললেন৷
36 তখন সেই ইহুদীরা সকলে বলতে লাগল, ‘দেখ! উনি লাসারকে কত ভালোবাসতেন৷’
37 কিন্তু তাদের মধ্যে আবার কেউ কেউ বলল, ‘যীশু তো অন্ধকে দৃষ্টিশক্তি দিয়েছেন; কেন তিনি লাসারকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচালেন না?’
38 এরপর যীশু আবার অন্তরে বিচলিত হয়ে উঠলেন৷ লাসারকে য়েখানে রাখা হয়েছিল, যীশু সেই কবরের কাছে গেলেন৷ কবরটি ছিল একটা গুহা, যার প্রবেশ পথ একটা পাথর দিয়ে ঢাকা ছিল৷
39 যীশু বললেন, ‘ঐ পাথরটা সরিয়ে ফেল৷’সেই মৃত ব্যক্তির বোন মার্থা বললেন, ‘প্রভু চারদিন আগে লাসারের মৃত্যু হয়েছে৷ এখন পাথর সরালে এর মধ্য থেকে দুর্গন্ধ বের হবে৷’
40 যীশু তাঁকে বললেন, ‘আমি কি তোমায় বলিনি, যদি বিশ্বাস কর তবে ঈশ্বরের মহিমা দেখতে পাবে?’
41 এরপর তারা সেই পাথরখানা সরিয়ে দিল, আর যীশু উর্দ্ধ দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘পিতা, আমি তোমায় ধন্যবাদ দিই, কারণ তুমি আমার কথা শুনেছ৷
42 আমি জানি তুমি সব সময়ই আমার কথা শুনে থাক৷ কিন্তু আমার চারপাশে যাঁরা দাঁড়িয়ে আছে তাদের জন্য আমি একথা বলছি, য়েন তারা বিশ্বাস করে য়ে তুমি আমায় পাঠিয়েছ৷’
43 এই কথা বলার পর যীশু জোর গলায় ডাকলেন, ‘লাসার বেরিয়ে এস!’
44 মৃত লাসার সেই কবর থেকে বাইরে এল৷ তার হাতপা টুকরো কাপড় দিয়ে তখনও বাঁধা ছিল আর তার মুখের ওপর একখানা কাপড় জড়ানো ছিল৷যীশু তখন তাদের বললেন, ‘বাঁধন খুলে দাও এবং ওকে য়েতে দাও৷’

যোহন 11:1-44

যীশুর স্বেচ্ছাকৃত সেবা …

ভগ্নীরা আশা করেছিল যে যীশু তাদের ভাইকে সুস্থ করতে দ্রুত আসবেন I যীশু উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে তার পৌঁছোতে দেরী করলেন, লাসারকে মারা যেতে অনুমতি দিলেন, এবং কেউ বুঝলো না কেন I বিবরণটি দুবার বলে যে যীশু ‘গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছিলেন’ এবং তাই তিনি রোদন করলেন I    

কি তাকে মর্মাহত করল?

যীশু মৃত্যুর নিজের প্রতি ক্রোধিত ছিলেন, বিশেষভাবে যেহেতু তিনি তাঁর  বন্ধুর উপরে তার কর্ত্তৃত্ব দেখলেন I 

এই উদ্দেশ্যে তিনি তাঁর আগমনটি সুনির্দিষ্টভাবে বিলম্ব করেছিলেন – যাতে তিনি মৃত্যুর নিজের সাথে মুখোমুখি হতে পারেন I যীশু চার দিন অপেক্ষা করলেন যাতে প্রত্যেকে – আমরা যারা এটি পড়ছি তারা সহ – নিশ্চিত ভাবে জানব যে লাসার মৃত ছিল, শুধুমাত্র গুরুতরভাবে অসুস্থ ছিল না I   

… আমাদের মহত্তম প্রয়োজন

অসুস্থ লোকেদের সুস্থ করা ভাল অর্থাৎ যেমন, তাদের মৃত্যুকে স্থগিত করে I সুস্থ হোক বা না হোক, ভাল বা মন্দ, স্ত্রী বা পুরুষ, বৃদ্ধ বা যুবক, ধার্মিক বা নয় মৃত্যু লোকেদের অবশেষে হরণ করবে I আদমের সময় থেকে এটি সত্য হয়ে এসেছে, যে তার অবাধ্যতার কারণে মরণশীল হয়ে উঠেছিল I তার সমস্ত বংশধরগণ, আমি আপনি সহ, এক শত্রুর দ্বারা বন্দী হয়ে আছি – মৃত্যু I আর অনুভব করি যে মৃত্যুর বিরুদ্ধে কোনো উত্তর, কোনো আশা নেই I যখন কেবল অসুস্থতা থাকে আশা টিকে থাকে, সেই জন্যই লাসারের বোনেদের কাছে সুস্থতার মধ্যে আশা ছিল I কিন্তু মৃত্যুর সাথে তাদের কোনো আশা ছিল না I এটি আমাদের ক্ষেত্রেও সত্য I হাঁসপাতালে কোনো আশা থাকলেও অন্তিম সংস্কারে কোনো আশা নেই I মৃত্যু আমাদের চূড়ান্ত শত্রু I এটি এমন শত্রু যাকে যীশু আমাদের জন্য স্বেচ্ছাকৃতভাবে পরাস্ত করেছিলেন আর এই জন্যই তিনি বোনেদের কাছে ঘোষণা করলেন:   

“আমিই পুনরুত্থান এবং জীবন I”

যোহন 11:25

যীশু মৃত্যর ক্ষমতাকে ভাঙ্গতে এসেছিলেন এবং সকলকে জীবন দিতে যারা এটিকে চেয়েছিল I এই মিশনের জন্য তিনি লাসারকে মৃত্যু থেকে উঠিয়ে প্রকাশ্যে তাঁর কর্ত্তৃত্ব দেখিয়েছিলেন I তিনি অন্য সকলের জন্য সেই একই প্রস্তাব দেন যারা মৃত্যুর পরিবর্তে জীবন চাইবে I    

প্রতিক্রিয়া সমূহ একটি কলহ শুরু করে

যদিও মৃত্যু সকল লোকেদের চূড়ান্ত শত্রু, আমাদের মধ্যে অনেকে ক্ষুদ্রতর  ‘শত্রুদের’ সঙ্গে জড়িয়ে পরে, যার ফলে বিরোধগুলো (রাজনৈতিক, ধর্মীয়, জাতিগত ইত্যাদি) সর্বদা আমাদের চতুর্দিকে চলতে থাকে I অযোধ্যা কোন্দলের মধ্যে এটিকে আমরা দেখি I যাই হোক সকল লোকেরা এটি বা অন্য বিরোধগুলোর মধ্যে’ তারা তাদের ‘পক্ষে’ সঠিক হোক বা না হোক তাতে কিছু এসে যায় না, তারা মৃত্যুর বিরুদ্ধে শক্তিহীন I সতী এবং শিবের সাথে আমরা এটিকে দেখেছি

যীশুর সময়েও এটি সত্য ছিল I এই অলৌকিক কার্যের প্রতি প্রতিক্রিয়াগুলো থেকে আমরা দেখতে পারি তখনকার বসবাসকারী বিভিন্ন লোকেদের মধ্যে কি চিন্তা ছিল I সুসমাচার বিভিন্ন প্রতিক্রিয়াগুলো লিপিবদ্ধ করেছিল৷  

45 তখন মরিয়মের কাছে যাঁরা এসেছিল, সেই সব ইহুদীদের মধ্যে অনেকে যীশু যা করলেন তা দেখে যীশুর ওপর বিশ্বাস করল৷
46 কিন্তু তাদের মধ্যে কয়েকজন ফরীশীদের কাছে গিয়ে যীশু যা করেছিলেন তা তাদের জানালো৷
47 এরপর প্রধান যাজক ও ফরীশীরা পরিষদের এক মহাসভা ডেকে সেখানে নিজেদের মধ্যে বলাবলি করল, ‘আমরা এখন কি করব? এই লোকটা তো অনেক অলৌকিক চিহ্নকার্য় করছে৷
48 আমরা যদি ওকে এই ভাবেই চলতে দিই তাহলে তো সকলেই এর ওপর বিশ্বাস করবে৷ তখন রোমীয়েরা এসে আমাদের এই মন্দির ও আমাদের জাতিকে ধ্বংস করবে৷’
49 কিন্তু তাদের মধ্যে একজন, য়াঁর নাম কাযাফা, যিনি সেই বছরের জন্য মহাযাজকের পদ পেয়েছিলেন, তাদের বললেন, ‘তোমরা কিছুই জানো না৷
50 আর তোমরা এও বোঝ না য়ে গোটা জাতি ধ্বংস হওযার পরিবর্তে সেই মানুষের মৃত্যু হওযা তোমাদের পক্ষে মঙ্গলজনক হবে৷’
51 একথা কাযাফা য়ে নিজের থেকে বললেন তা নয়, কিন্তু সেই বছরের জন্য মহাযাজক হওযাতে তিনি এই ভাববাণী করলেন, য়ে সমগ্র জাতির জন্য যীশু মৃত্যুবরণ করতে যাচ্ছেন৷
52 যীশু য়ে কেবল ইহুদী জাতির জন্য মৃত্যুবরণ করবেন তা নয়, সারা জগতে য়ে সমস্ত ঈশ্বরের সন্তানরা চারদিকে ছড়িয়ে আছে, তাদের সকলকে একত্রিত করার জন্য যীশু মৃত্যুবরণ করবেন৷
53 তাই সেই দিন থেকে তারা যীশুকে হত্যা করার জন্য চক্রান্ত করতে লাগল৷
54 যীশু তখন প্রকাশ্যে ইহুদীদের মধ্যে চলাফেরা বন্ধ করে দিলেন৷ তিনি সেখান থেকে মরুপ্রান্তরের কাছে ইফ্রযিম নামে এক শহরে চলে গেলেন এবং সেখানে তিনি তাঁর শিষ্যদের সঙ্গে থাকলেন৷
55 ইহুদীদের নিস্তারপর্ব এগিয়ে আসছিল, আর অনেক লোক নিজেদের শুচি করবার জন্য নিস্তারপর্বের আগেই দেশ থেকে জেরুশালেমে গেল৷
56 তারা সেখানে যীশুর খোঁজ করতে লাগল৷ তারা মন্দির চত্বরে দাঁড়িয়ে পরস্পর বলাবলি করতে লাগল,. ‘তোমরা কি মনে কর? তিনি কি এই পর্বে আসবেন?’
57 প্রধান যাজকরা ও ফরীশীরা এই আদেশ দিল য়ে, যীশু কোথায় আছেন তা যদি কেউ জানে তবে তাদের য়েন জানানো হয় যাতে তারা তাঁকে গ্রেপ্তার করতে

পারে৷যোহন 11:45-57

নেতারা যিহূদিদের অবস্থা সম্পর্কে অধিক উদ্বিগ্ন ছিল I একটি সমৃদ্ধ মন্দির সমাজের মধ্যে তাদের খ্যাতি সুনিশ্চিত করেছিল I তারা মৃত্যুর হাতছানির  থেকে বেশি চিন্তিত ছিল I   

সুতরাং উত্তেজনা বেড়ে উঠল I যীশু ঘোষণা করলেন যে তিনি ‘জীবন’ এবং ‘পুনরুত্থান’ এবং স্বয়ং মৃত্যুকে পরাস্ত করবেন I লোকেদের মধ্যে অনেকে তাঁকে বিশ্বাস করল, তবে অন্য অনেকে কি বিশ্বাস করতে হবে তা জানল না I       

নিজেকে এটি জিজ্ঞাসা করুন ….

আপনি যদি লাসারের উত্থাপন দেখতেন আপনি কি পচ্ছন্দ করতেন? আপনি কি ফারিসীদের মতন পছন্দ করতেন, কিছু বিরোধের উপরে মনোনিবেশ করতেন যাকে ইতিহাস শীঘ্র ভুলে যাবে, এবং মৃত্যুর থেকে জীবনের প্রস্তাবকে    হারাতেন? বা আপনি কি তাঁকে ‘বিশ্বাস’ করবেন, পুনরুত্থানের তাঁর প্রস্তাবকে, এমনকি আপনি যদি আদৌ এটিকে না বুঝে থাকেন? বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া সমূহ যাকে সুসমাচার অতীতে তখন লিপিবদ্ধ করে তাঁর প্রস্তাবের প্রতি সেই প্রতিক্রিয়াগুলো আজকের দিনেও আমরা করি I এটি আমাদের জন্য সেই মূল বিতর্ক যেমন এটি অতীতে তখন ছিল I    

নিস্তারপর্ব এগিয়ে আসার সাথে সাথে সেই বিতর্কগুলো বাড়তে থাকল – যে উৎসবটি 1500 বছর পূর্বে মৃত্যুকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চিহ্ন রূপে শুরু হয় I সুসমাচার দেখায়  কিভাবে যীশু মৃত্যুর বিরুদ্ধে তাঁর কর সেবার মিশন সম্পন্ন করতে মৃতের পবিত্র নগরে প্রবেশের সাথে সাথে, বারাণসীর মতন একটি শহর, এখন খর্জুর রবিবার বলে পরিচিত এমন এক দিনে যাত্রা শুরু করেছিলেন I    

দক্ষ যজ্ঞ, যীশু এবং ‘হারানোরা’

বিভিন্ন রচনা সমূহ দক্ষ যজ্ঞের কাহিনীর বিবরণ দেয় তবে এর সারাংশ হ’ল যে শিব আদি পরাশক্তির এক অবতার দক্ষয়ানা/সতীকে বিবাহ করেছিলেন, যাঁকে শক্তির শ্রদ্ধালুদের দ্বারা বিশুদ্ধ আদ্য শক্তি রূপে বিবেচনা করা হয় I (আদি পরাশক্তিকে আবারও পরম শক্তি, আদি শক্তি, মহাশক্তি, মহাদেবী, মহাগৌরী, মহাকালী, বা সত্যম শক্তি হিসাবে জানা যায়) I    

দক্ষয়ানার পিতা, দক্ষ শিবের অত্যধিক তপস্যার কারণে শিবের সঙ্গে তার বিবাহকে অপচ্ছন্দ করেছিলেন I তাই দক্ষ যখন একটি যজ্ঞ রীতির অনুষ্ঠান করলেন তিনি কেবল তার কন্যা সতী এবং শিবকে ছাড়া সমগ্র পরিবারকে আমন্ত্রণ করলেন I তবে সতী, যজ্ঞ অনুষ্ঠানের কথা শুনে যেভাবেই হোক  গেলেন I তার উপস্থিতির কারণে তার পিতা রাগান্বিত হলেন এবং ক্রমাগত তার উপরে চীৎকার করে চলে যেতে বললেন I ফলস্বরূপ এটি সতীকে ক্রুদ্ধ করল যাতে তিনি তার আদি পরাশক্তি রূপে ফিরে এলেন এবং তার নশ্বর দেহ রূপ সতীকে যজ্ঞের আগুনে জ্বালিয়ে দিলেন এবং এটি জ্বলন্ত শিখায় মেঝেতে ধ্বসে পড়ল I        

দক্ষ যজ্ঞে ‘ক্ষতির’ অন্বেষণ

সতীর আত্মাহুতি শিবকে শোকে আঘাত করল I তিনি তার প্রিয় সতীকে হারালেন I তাই শিব এক ভয়ংকর “তান্ডব” লীলা করলেন, বা বিনাশের নৃত্য, এবং যত শিব নৃত্য করলেন তত বেশি বিনাশ ঘটল I তার তান্ডব পরবর্তী দিনগুলোতে ব্যাপক ধ্বংস এবং মৃত্যু ঘটাল I তার দুঃখ এবং ক্রোধে, শিব সতীর দেহকে বহন করলেন এবং এটিকে নিয়ে বিশ্বব্রহ্মান্ডের চতুর্দিকে ঘুরে বেড়ালেন I বিষ্ণু দেহটিকে 51 টি শরীরের অংশে কাটলেন যা শক্তিপীঠের পবিত্র স্থলে পরিণত হতে পৃথিবীতে পড়ল I এই 51 টি পবিত্র স্থানগুলোকে আজকের দিনে বিভিন্ন শক্তি মন্দির রূপে স্মরণ করা হয়, সতীকে হারিয়ে শিব যে ক্ষতি অনুভব করেছিলেন I       

দক্ষ যজ্ঞে যখন তারা একে অপরকে মৃত্যুর কাছে হারায় আমরা দেব দেবীদের ক্ষতির প্রতি কৃতজ্ঞতা বোধ করি I তবে আমরা সকলে মৃত্যুর কাছে এক প্রিয়জনের হারানোর মধ্য দিয়ে যাই I আপনি তখন কি করেন যখন আপনার ভালবাসার কাউকে হারান? আপনি কি হতাশায় হাল ছেড়ে দেন? ক্রোধে ফেটে পড়েন? তাদেরকে কি ফিরে পেতে চেষ্টা করেন?

ঈশ্বরের সম্বন্ধে কি? তিনি কি যত্ন নেন বা এমনকি লক্ষ্য করেন যখন আমাদের মধ্যে কেউ তাঁর রাজ্যে হারিয়ে যায়?

যীশু ‘হারানোর’ চশমার মাধ্যমে শিক্ষা দেন 

যীশু বিভিন্ন দৃষ্টান্ত বলেছিলেন আমাদের দেখাতে কিভাবে ঈশ্বর অনুভব করেন এবং তিনি কি করেন যখন তিনি আমাদের মধ্যে এমনকি একজনকেও হারান I

তাঁর শিক্ষার শক্তিকে অনুভব করতে আমাদের অবশ্যই স্মরণ করতে হবে যে পবিত্র লোকেরা প্রায়শই তাদের থেকে একদা থাকেন যারা পবিত্র নয় যাতে তারা অশুচি না হয়ে যায় I যীশুর সময়ে ধর্ম ব্যবস্থার শিক্ষার এটাই সত্য ছিল I তবে যীশু শিক্ষা দিয়েছিলেন যে আমাদের পবিত্রতা এবং পরিচ্ছনতা আমাদের অন্তরের একটি প্রধান বিষয়, এবং সক্রিয়ভাবে তাদের সঙ্গে থাকতে চেয়েছিলেন  যারা রীতিগতভাবে শুদ্ধ ছিল না I এখানে সুসমাচার সেইভাবে যারা অশুচি এবং ধর্মীয় শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া উভয়ের সাথে তার সম্পর্ককে লিপিবদ্ধ করে I    

নেক কর আদায়কারী ও পাপী লোকেরা প্রায়ই যীশুর কথা শোনার জন্য আসত৷
2 এতে ফরীশী ও ব্যবস্থার শিক্ষকরা এই বলে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করতে লাগল, ‘এই লোকটা জঘন্য পাপী লোকদের সঙ্গে মেলামেশা ও খাওযা দাওযা

করে৷’লুক 15:1-2

কেন যীশু পাপীদের স্বাগত জানান এবং তাদের সঙ্গে ভোজন করেন? তিনি কি পাপ উপভোগ করতেন? যীশু তার সমালোচকদের তিনটি দৃষ্টান্ত বলে উত্তর দিয়েছিলেন I  

হারানো মেষের দৃষ্টান্ত

3 তখন যীশু তাদের কাছে এই দৃষ্টান্ত দিলেন,
4 ‘যদি তোমাদের মধ্যে কারোর একশোটি ভেড়া থাকে, তার মধ্যে থেকে একটা হারিয়ে যায়, তবে সে কি মাঠের মধ্যে বাকি নিরানব্বইটা রেখে য়েটা হারিয়ে গেছে তাকে না পাওযা পর্যন্ত তার খোঁজ করবে না?
5 আর যখন সে ঐ ভেড়াটাকে খুঁজে পায়, তখন তাকে আনন্দের সঙ্গে কাঁধে তুলে নেয়৷
6 তারপর বাড়ি এসে তার বন্ধুবান্ধব ও প্রতিবেশীদের ডেকে বলে, ‘এস, আমার সঙ্গে তোমরাও আনন্দ কর, কারণ আমার য়ে ভেড়াটা হারিয়ে গিয়েছিল তাকে আমি খুঁজে পেয়েছি৷’
7 আমি তোমাদের বলছি, ঠিক সেইভাবে নিরানব্বই জন ধার্মিক, যাদের মন পরিবর্তনের প্রযোজন নেই তাদের থেকে একজন পাপী যদি ঈশ্বরের কাছে মন ফিরায়, তাকে নিয়ে স্বর্গে মহানন্দ

হয়৷লুক 15:3-7

এই গল্পের মধ্যে যীশু আমাদের মেষপালক হিসাবে তার সাথে মেষের তুলনা করেছেন I যে কোনো মেষপালকের তার হারানো মেষ খোঁজার মতন, তিনি হারানো লোকদের খুজতে স্বয়ং বার হন I হয়ত কোনো পাপ – এমনকি গোপন একটি – আপনাকে ফাঁদে ফেলেছে, আপনাকে হারানো অনুভব করাচ্ছে I বা হয়ত আপনার জীবন, এর সমস্ত সমস্যার সাথে, এতটাই বিভ্রান্তিকর যে আপনি হারিয়ে যাওয়া অনুভব করছেন I এ গল্প আশা দেয় কারণ আপনি জানতে পারেন যে যীশু আপনাকে পেতে অন্বেষণ করছেন I হানি আপনাকে ধ্বংস করার আগেই তিনি আপনাকে উদ্ধার করতে চান I তিনি এইরকম করেন কারণ তিনি ক্ষতি অনুভব করেন যখন আপনি হারিয়ে যান I      

তারপরে তিনি একটি দ্বিতীয় গল্প বললেন:

হারানো মুদ্রার দৃষ্টান্ত

8 ধর, কোন একজন স্ত্রীলোকের দশটা রূপোর সিকির একটা হার ছিল৷ তার মধ্য থেকে সে যদি একটা হারিয়ে ফেলে, তাহলে সে কি প্রদীপ জ্বেলে সেই সিকিটি না পাওযা পর্যন্ত ঘরের প্রতিটি জায়গা ভাল করে ঝাঁট দিয়ে খুঁজে দেখবে না?’
9 আর সে তা খুঁজে পেলে তার বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের ডেকে বলবে, ‘এস, আমার সঙ্গে আনন্দ কর, কারণ আমার য়ে সিকিটি হারিয়ে গিয়েছিল তা আমি খুঁজে পেয়েছি৷’
10 আমি তোমাদের বলছি, ঠিক এইভাবে একজন পাপী যখন মন-ফিরায়, তখন ঈশ্বরের স্বর্গদূতদের সামনে আনন্দ

হয়৷’লুক 15:8-10

এই গল্পের মধ্যে আমরা মূল্যবান তবে হারানো মুদ্রা আর তিনি এমন একজন যিনি এটি খুঁজছেন I যদিও মুদ্রা হারিয়ে গেছে সে ‘জানে’ না যে সে হারিয়ে   গেছে I এ হারানোকে অনুভব করে না I এটি স্ত্রী লোকটি যে হারানোর জ্ঞানকে অনুভব করে আর তাই সে সমস্ত কিছুর নিচে এবং পেছনে দেখে অত্যন্ত সতর্কভাবে বাড়িটিতে ঝাড়ু দেয়, যতক্ষণ না মূল্যবান মুদ্রাটিকে খুঁজে পায় সে সন্তুষ্ট হয় না I হয়ত আপনি ‘হারানো’ অনুভব করেন না I কিতু সত্য হ’ল যে আমরা সবাই, আমরা অনুভব করি কিম্বা না করি I যীশুর দৃষ্টিতে আপনি মূল্যবান তবে হারানো মুদ্রা এবং তিনি হারানো অনুভব করেন আর তাই তিনি খোঁজেন এবং আপনাকে পেতে কার্য করেন I        

তার তৃতীয় গল্প সর্বাধিক সুপরিচিত I

হারানো পুত্রের দৃষ্টান্ত

11 এরপর যীশু বললেন, ‘একজন লোকের দুটি ছেলে ছিল৷
12 ছোট ছেলেটি তার বাবাকে বলল, ‘বাবা, সম্পত্তির য়ে অংশ আমার ভাগে পড়বে তা আমায় দিয়ে দাও৷’ তখন বাবা দুই ছেলের মধ্যে সম্পত্তি ভাগ করে দিলেন৷
13 কিছু দিন পর ছোট ছেলে তার সমস্ত কিছু নিয়ে দূর দেশে চলে গেল৷ সেখানে সে উচ্ছৃঙ্খল জীবন-যাপন করে সমস্ত টাকা পয়সা উড়িয়ে দিল৷
14 তার সব টাকা পয়সা খরচ হয়ে গেলে সেই দেশে ভীষণ দুর্ভিক্ষ দেখা দিল আর সেও অভাবে পড়ল৷
15 তাই সে সেই দেশের এক ব্যক্তির কাছে দিন মজুরীর একটা কাজ চাইল৷ সেই ব্যক্তি তাকে তার শুযোর চরাবার জন্য মাঠে পাঠিয়ে দিল৷
16 শুযোর য়ে শুঁটি খায় তা খেয়ে সে তার পেট ভরাতে চাইত, কিন্তু কেউ তাকে তাও দিত না৷
17 শেষ পর্যন্ত একদিন তার চেতনা হল, আর সে বলল, ‘আমার বাবার কাছে কত মজুর পেট ভরে খেতে পায় আর এখানে আমি খিদের জ্বালায় মরছি৷
18 আমি উঠে আমার বাবার কাছে যাব, তাকে বলব, বাবা, আমি ঈশ্বরের বিরুদ্ধে ও তোমার বিরুদ্ধে অন্যায় পাপ করেছি৷
19 তোমার ছেলে বলে পরিচয় দেবার কোন য়োগ্যতা আর আমার নেই৷ তোমার চাকরদের একজনের মতো করে তুমি আমায় রাখ!’
20 এরপর সে উঠে তার বাবার কাছে গেল৷‘সে যখন বাড়ি থেকে বেশ কিছুটা দূরে আছে, এমন সময় তার বাবা তাকে দেখতে পেলেন, বাবার অন্তর দুঃখে ভরে গেল৷ বাবা দৌড়ে গিয়ে ছেলের গলা জড়িয়ে ধরে তাকে চুমু খেলেন৷
21 ছেলে তখন তার বাবাকে বলল, ‘বাবা, আমি ঈশ্বরের দৃষ্টিতে ও তোমার কাছে অন্যায় পাপ করেছি৷ তোমার ছেলে বলে পরিচয় দেবার য়োগ্যতা আমার নেই৷
22 কিন্তু তার বাবা চাকরদের ডেকে বললেন, ‘তাড়াতাড়ি কর, সব থেকে ভাল জামাটা নিয়ে এসে একে পরিয়ে দাও৷ এর হাতে আংটি ও পায়ে জুতো পরিয়ে দাও৷
23 হৃষ্টপুষ্ট একটা বাছুর নিয়ে এসে সেটা কাট, আর এস, আমর সবাই মিলে খাওযা দাওযা করি, আনন্দ করি!
24 কারণ আমার এই ছেলেটা মারা গিয়েছিল আর এখন সে জীবন ফিরে পেয়েছে! সে হারিয়ে গিয়েছিল, এখন তাকে খুঁজে পাওযা গেছে৷’এই বলে তারা সকলে আনন্দ করতে লাগল৷
25 ‘সেই সময় তাঁর বড় ছেলে মাঠে ছিল৷ বাড়ির কাছাকাছি এসে সে বাজনা আর নাচের শব্দ শুনতে পেল৷
26 তখন সে একজন চাকরকে ডেকে জিজ্ঞাসা করল, ‘কি ব্যাপার, এসব কি হচ্ছে?’
27 চাকরটি বলল, ‘আপনার ভাই এসেছে, আর সে সুস্থ শরীরে নিরাপদে ফিরে এসেছে বলে আপনার বাবা হৃষ্টপুষ্ট বাছুর কেটে ভোজের আযোজন করেছেন৷’
28 এই শুনে বড় ছেলে খুব রেগে গেল, সে বাড়ির ভেতরে য়েতে চাইল না৷ তখন তার বাবা বেরিয়ে এসে তাকে সান্ত্বনা দিলেন৷
29 কিন্তু সে তার বাবাকে বলল, ‘দেখ, এত বছর ধরে আমি তোমাদের সেবা করেছি, কখনও তোমার কথার অবাধ্য হই নি৷ তবু আমার বন্ধুদের সঙ্গে একটু আমোদ করার জন্য তুমি আমায় কখনও একটা ছাগলও দাও নি৷
30 কিন্তু তোমার এই ছেলে য়ে বেশ্যাদের পেছনে তোমার টাকা উড়িয়ে দিয়েছে, সে যখন এল তখন তুমি তার জন্য হৃষ্টপুষ্ট বাছুর কাটলে৷’
31 তার বাবা তাকে বললেন, ‘বাছা, তুমি তো সব সময় আমার সঙ্গে সঙ্গে আছ; আর আমার যা কিছু আছে সবই তো তোমার৷
32 কিন্তু আমাদের আনন্দিত হয়ে উত্‌সব করা উচিত, কারণ তোমার এই ভাই মরে গিয়েছিল আর এখন সে জীবন ফিরে পেয়েছে৷ সে হারিয়ে গিয়েছিল, এখন তাঁকে খুঁজে পাওযা গেছে৷’

লুক 15:11-32

এই গল্পের মধ্যে হয় আমরা জ্যেষ্ঠ, ধার্মিক পুত্র, বা কনিষ্ঠ পুত্র যে অনেক দুরে চলে যায় I যদিও জ্যেষ্ঠ পুত্র সমস্ত ধর্মীয় পূজা পাঠ পালন করে তবুও সে কখনও তার পিতার প্রেমময় হৃদয়কে বুঝতে পারে না I কনিষ্ঠ পুত্র ভাবল সে বাড়ি ছেড়ে স্বাধীনতা লাভ করছে তবে নিজেকে উপবাস এবং অপমানের মধ্যে  পরিবেষ্টিত দেখল I তখন ‘তার জ্ঞান ফিরে এলো’, উপলব্ধি করে সে তার বাড়ি ফিরে যেতে পারত I ফিরে যাওয়া প্রকাশ করবে যে তার প্রথম স্থানটি ছাড়া ভুল হয়েছিল, এবং এটি স্বীকার করতে নম্রতার প্রয়োজন হবে I এটি চিত্রিত করে ‘অনুতাপ’ বলতে কি বোঝায় যাকে স্বামী যোহন শিখিয়েছিলেন I  

যখন সে তার অহংকার গলাধকরণ করল এবং তার পিতার কাছে ফিরে এল সে তার প্রেম এবং তার কল্পনাতীত অনেক অধিক স্বীকৃতি দেখল I স্যান্ডেল, পোশাক, আংটি, ভোজ, আশির্বাদ, এবং গ্রহণযোগ্যতা – এই সমস্তই ভালবাসার স্বাগত জানানোর কথা বলে I এটি আমাদের বুঝতে সাহায্য করে যে ঈশ্বর আমাদের ভালবাসেন ততটা, আমাদের চান তার কাছে ফিরে যাই I এর জন্য প্রয়োজন ‘অনুতাপ’ তবে আমরা যখন করি আমরা তাকে আমাদের গ্রহণ করতে প্রস্তুত দেখব I 

মৃত্যু – দুর্গম ক্ষতি

দক্ষ যজ্ঞে আমরা দেখি যে এমনকি শিব এবং আদি পরাশক্তির শক্তি মৃত্যুর বিচ্ছিনতাকে পরাস্ত করতে পারে নি I সতীর 51 বিক্ষিপ্ত শরীরের অংশ এই ঘটনার স্বাক্ষ্য দেয় এমনকি আমাদের সময়েও I এটি চূড়ান্ত ‘হারানোকে’ চিত্রিত করে I এটি  এই প্রকারের ‘হারানো’ যার থেকে যীশু আমাদের উদ্ধার করতে এসেছিলেন I আমরা এটিকে দেখি যেমন তিনি সেই চূড়ান্ত শত্রুর সম্মুখীন হলেন – মৃত্যু নিজেই I   

জীবন্ত জল: গঙ্গা তীর্থের চশমার মাধ্যমে

এক প্রভাবশালী তীর্থ প্রয়োজনীয় হয় যদি কেউ ঈশ্বরের সাক্ষাত্কার আশা করে I তীর্থ (সংস্কৃত तीर्थ) যার অর্থ হ’ল “পার করার স্থান, নদী”, এবং যে কোনো পবিত্র স্থান, পাঠ্য বা ব্যক্তিকে বোঝায় I তীর্থ বাক্যগুলোর মধ্যে একটি পবিত্র স্পর্শকারী সংযোগ স্থল এবং তবুও একে অপরের থেকে  আলাদা I বৈদিক গ্রন্থ সমূহের মধ্যে, তীর্থ (বা ক্ষেত্র, গোপিথা এবং মহালয়া) এক পবিত্র ব্যক্তি বা পবিত্র গ্রন্থকে বোঝায়, যা এক অস্তিত্বের থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তর করতে পারে I       

তীর্থ-যাত্রা তীর্থের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত যাত্রা

আমরা আমাদের অভ্যন্তরীণ সত্তা সমূহকে পুনরুজ্জীবিত ও পবিত্র করতে তীর্থ-যাত্রা করি, এবং ভ্রমণের মধ্যে আধ্যাত্মিক যোগত্যার কারণে, বৈদিক গ্রন্থ সমূহের মধ্যে একটি থিম নিশ্চিত হয় I তারা দৃঢ়ভাবে বলে যে তীর্থ-যাত্রা পাপ থেকে মুক্তি দিতে পারে I তীর্থ=যাত্রা অভ্যন্তরীণ ধ্যান যাত্রা থেকে শুরু করে শারীরিকভাবে বিখ্যাত মন্দির ভ্রমন করতে পারে বা গঙ্গার মতন নদীতে স্নান, সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তীর্থ স্থল I ভারতীয় পরম্পরায় জল সবচেয়ে পবিত্র প্রতীক I গঙ্গার জল দিয়ে বিশেষত তাই I গঙ্গা নদীর দেবীকে গঙ্গা মাতা বলে শ্রদ্ধা করা হয় I       

তীর্থ হিসাবে গঙ্গার জল

গঙ্গা এর পুরো দৈর্ঘ্য জুড়ে পবিত্র I প্রতি দিনের আচার অনুষ্ঠান, পৌরানিক কাহিনী, উপাসনা পদ্ধতি এবং দেবী গঙ্গার শক্তি এবং তার জীবন্ত জলের প্রতি বিশ্বাস আজও ভক্তির কেন্দ্রবিন্দু I অনেক মৃত্যুর আচার অনুষ্ঠানে গঙ্গা জলের প্রয়োজন হয় I এইভাবে গঙ্গা জীবিত এবং মৃতদের মধ্যে তীর্থে পরিণত হয় I বলা হয় গঙ্গা তিনটি বিশ্বে প্রবাহিত: স্বর্গ, পৃথিবী, এবং ভূতল যাকে ত্রিলোক-পথ-গামিনী রূপে উল্লেখ করা হয় I এইভাবে এটি গঙ্গার ত্রিশালিতে (“তিনটি স্থান সমূহ”) যেখানে শ্রদ্ধা এবং বিসর্জন সাধারনত অনুষ্ঠিত হয় I অনেকে চায় তাদের ভষ্ম গঙ্গা নদীতে রাখা হোক I    

This image has an empty alt attribute; its file name is ganges-among-the-mountains.jpg

পর্বতের মধ্যে গঙ্গা নদী

গঙ্গার পুরাণশাস্ত্র  

শিব, গঙ্গাধারা বা “গঙ্গার বাহক”, যাঁকে গঙ্গার সঙ্গী বলা হয় I বৈদিক গ্রন্থে গঙ্গার অবতরণে শিবের ভূমিকা সম্পর্কে বলা হয়েছে I যখন গঙ্গা পৃথিবীতে অবতরণ করল, শিব তার মাথায় তাকে ধরার প্রতিশ্রুতি দিল যাতে পতন পৃথিবীকে টুকরো টুকরো না করে I গঙ্গা যখন শিবের মাথায় পড়ল, শিবের কেশ তার পতনকে ভেঙ্গে গঙ্গাকে সাতটি ধারায় ভগ্ন করল, প্রতিটি ভারতের বিভিন্ন অংশে প্রবাহিত হল I সুতরাং কেউ যদি গঙ্গা নদীর যাত্রা না করতে পারে তবে একটি যাত্রা এই অন্য পবিত্র ধারাগুলোতে করতে পারা যায়, যেগুলোকে বিশ্বাস করা হয় গঙ্গার মতন একই পবিত্রতা ধারণ করে: যমুনা, গোদাবরী সরস্বতী, নর্মদা, সিন্ধু এবং কাবেরী I      

গঙ্গার অবতরণ অবিরাম বলে বিবেচনা করা হয়; গঙ্গার প্রত্যেকটি ঢেউ পৃথিবীকে স্পর্শ করার পূর্বে শিবের মাথাকে স্পর্শ করে I গঙ্গা শিবের শক্তি বা বলের তরল রূপ I একটি তরল শক্তি হওয়ায় গঙ্গা ঈশ্বরের অবতার I গঙ্গার ঐশ্বরিক অবতরণ, সকলের জন্য মুক্তভাবে প্রবাহিত হচ্ছে I তার অবতরণের  পরে গঙ্গা শিবের বাহনে পরিণত হয়েছিল, তার বাহনের (গাড়ি) শীর্ষে কুমীর (মকর) যখন তার হাতে একটি কুম্ভ (প্রচুর পরিমানে ফুলদানি) চিত্রিত  হয়েছে I    

গঙ্গা দশহরা

প্রতি বছর একটি উৎসব গঙ্গা দশহরা, গঙ্গার প্রতি উৎসর্গীকৃত করে এই পৌরাণিক অনুষ্ঠানগুলো উদযাপন করে I উৎসবটি মে এবং জুনের মধ্যে দশ দিন ধরে চলে, জৈষ্ঠ মাসের দশম দিনে শেষ হয় I এই দিনে, স্বর্গ থেকে মর্ত্যে গঙ্গার অবতরণকে (অবতারণা) উদযাপন করা হয় I সেই দিনে গঙ্গার জলে বা অন্য পবিত্র ধারায় একটি দ্রুত অবগাহনকে দশটি পাপ (দশহারা) বা জীবনকালের পাপগুলো থেকে মুক্তি পাবে বলে ভাবা হয় I       

যীশু: তীর্থ আপনাকে জীবন্ত জল দেয়

যীশু নিজেকে বর্ণনা করতে এই একই বিশেষ ধারণাগুলোকে ব্যবহার   করেছিলেন I তিনি ঘোষণা করলেন তিনি হলেন অনন্ত জীবন প্রদানকারী ‘জীবন্ত জল’ I এটি তিনি একজন স্ত্রীকে বললেন যে পাপের মধ্যে আটকে পড়েছিল  এবং যার ফলে আমাদের মধ্যে সকলে যারা একই অবস্থায় আছে I বাস্তবে তিনি বলছিলেন তিনি তীর্থ এবং আমরা সবথেকে গুরুত্ত্বপূর্ণ তীর্থযাত্রা করতে পারি  তাঁর কাছে এসে I এই স্ত্রীটি দেখতে পেল যে তার সমস্ত পাপ সমূহ, কেবল দশটি নয়, চিরকালের নিমিত্ত শুদ্ধ হয়েছিল I আপনি যদি গঙ্গার জল পেতে দুরে যাত্রা করেন এর শুদ্ধ করার ক্ষমতার জন্য, তাহলে যীশুর দ্বারা প্রস্তাবিত ‘জীবন্ত জল’ কে বুঝে দেখুন I এই জলে আপনার শারীরিক যাত্রা করার দরকার নেই বরং স্ত্রীটি যেমন আবিষ্কার করল, আপনাকে অভ্যন্তরীণ শুদ্ধতার মধ্যে আত্ম-উপলব্ধিতায় যাত্রা করতে হবে তাঁর জল আপনাকে পবিত্র করার আগে I    

সুসমাচারটি এই সাক্ষাত্কারটি লিপিবদ্ধ করে:

যীশু এক শমরিয় স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন

রীশীরা জানতে পারল য়ে যীশু য়োহনের চেয়ে বেশী শিষ্য করেছেন ও বাপ্তাইজ করছেন৷
2 যদিও যীশু নিজে বাপ্তাইজ করছিলেন না, বরং তাঁর শিষ্যরাই তা করছিলেন৷
3 তারপর তিনি যিহূদিযা ছেড়ে চলে গেলেন এবং গালীলেই ফিরে গেলেন৷
4 গালীলে যাবার সময় তাঁকে শমরিযার মধ্য দিয়ে য়েতে হল৷
5 যাকোব তাঁর ছেলে য়োষেফকে য়ে ভূমি দিয়েছিলেন তারই কাছে শমরীযার শুখর নামে এক শহরে যীশু গেলেন৷
6 এখানেই যাকোবের কুযাটি ছিল, যীশু সেই কুযার ধারে এসে বসলেন কারণ তিনি হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন, তখন বেলা প্রায় দুপুর৷
7 একজন শমরীযা স্ত্রীলোক সেখানে জল তুলতে এল৷ যীশু তাকে বললেন, ‘আমায় একটু জল খেতে দাও তো৷’
8 সেই সময় শিষ্যরা শহরে কিছু খাবার কিনতে গিয়েছিল৷
9 সেই শমরীয় স্ত্রীলোকটি তাঁকে বলল, ‘একি আপনি একজন ইহুদী হয়ে আমার কাছ থেকে খাবার জন্য জল চাইছেন! আমি একজন শমরীয় স্ত্রীলোক!’ ইহুদীরা শমরীয়দের সঙ্গে কোনরকম মেলামেশা করত না৷
10 এর উত্তরে যীশু তাকে বললেন, ‘তুমি যদি জানতে য়ে ঈশ্বরের দান কি আর কে তোমার কাছ থেকে খাবার জন্য জল চাইছেন৷ তাহলে তুমিই আমার কাছে জল চাইতে আর আমি তোমাকে জীবন্ত জল দিতাম৷’
11 স্ত্রীলোকটি তাঁকে বলল, ‘মহাশয়, আপনি কোথা থেকে সেই জীবন্ত জল পাবেন? এই কুযাটি যথেষ্ট গভীর৷ জল তোলার কোন পাত্রও আপনার কাছে নেই৷
12 আপনি কি আমাদের পিতৃপুরুষ যাকোবের চেয়ে মহান? তিনি আমাদের এই কুযাটি দিয়ে গেছেন৷ তিনি নিজেই এই কুযার জল খেতেন এবং তাঁর সন্তানেরা ও তাঁর পশুপালও এর থেকেই জল পান করত৷’
13 যীশু তাকে বললেন, ‘য়ে কেউ এই জল পান করবে তার আবার তেষ্টা পাবে৷
14 কিন্তু আমি য়ে জল দিই তা য়ে পান করবে তার আর কখনও পিপাসা পাবে না৷ সেই জল তার অন্তরে এক প্রস্রবনে পরিণত হয়ে বইতে থাকবে, যা সেই ব্যক্তিকে অনন্ত জীবন দেবে৷’
15 স্ত্রীলোকটি তাঁকে বলল, ‘মশায়, আমাকে সেই জল দিন, য়েন আমার আর কখনও পিপাসা না পায় আর জল তুলতে আমায় এখানে আসতে না হয়৷’
16 তিনি তাকে বললেন, ‘যাও, তোমার স্বামীকে এখানে ডেকে নিয়ে এস৷’
17 তখন সেই স্ত্রীলোকটি বলল, ‘আমার স্বামী নেই৷’যীশু তাকে বললেন, ‘তুমি ঠিকই বলেছ য়ে তোমার স্বামী নেই৷
18 তোমার পাঁচ জন স্বামী হয়ে গেছে; আর এখন য়ে লোকের সঙ্গে তুমি আছ সে তোমার স্বামী নয়, তাই তুমি যা বললে তা সত্যি৷’
19 সেই স্ত্রীলোকটি তখন তাঁকে বলল, ‘মহাশয়, আমি দেখতে পাচ্ছি য়ে আপনি একজন ভাববাদী৷
20 আমাদের পিতৃপুরুষেরা এই পর্বতের ওপর উপাসনা করতেন৷ কিন্তু আপনারা ইহুদীরা বলেন য়ে জেরুশালেমই সেই জায়গা য়েখানে লোকেদের উপাসনা করতে হবে৷’
21 যীশু তাকে বললেন, ‘হে নারী, আমার কথায় বিশ্বাস কর! সময় আসছে যখন তোমরা পিতা ঈশ্বরের উপাসনা এই পাহাড়ে করবে না, জেরুশালেমেও নয়৷
22 তোমরা শমরীয়রা কি উপাসনা কর তোমরা তা জানো না৷ আমরা ইহুদীরা কি উপাসনা করি আমরা তা জানি, কারণ ইহুদীদের মধ্য থেকেই পরিত্রাণ আসছে৷
23 সময় আসছে, বলতে কি তা এসে গেছে, যখন প্রকৃত উপাসনাকারীরা আত্মায় ও সত্যে পিতা ঈশ্বরের উপাসনা করবে৷ পিতা ঈশ্বরও এইরকম উপাসনাকারীদেরই চান৷
24 ঈশ্বর আত্মা, যাঁরা তাঁর উপাসনা করে তাদেরকে আত্মায় ও সত্যে উপাসনা করতে হবে৷’
25 তখন সেই স্ত্রীলোকটি তাঁকে বলল, ‘আমি জানি, মশীহ আসছেন৷ মশীহকে তারা খ্রীষ্ট বলে৷ যখন তিনি আসবেন, তখন আমাদের সব কিছু জানাবেন৷’
26 যীশু তাকে বললেন, ‘তোমার সঙ্গে য়ে কথা বলছে আমিই সেই মশীহ৷’
27 সেই সময় তাঁর শিষ্যরা ফিরে এলেন৷ একজন স্ত্রীলোকের সঙ্গে যীশুকে কথা বলতে দেখে তাঁরা আশ্চর্য হয়ে গেলেন৷ তবু কেউ তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন না, ‘আপনি কি চাইছেন?’ বা ‘আপনি কি জন্য ওর সঙ্গে কথা বলছেন?’
28 সেই স্ত্রীলোকটি তখন তার কলসী ফেলে রেখে গ্রামে গেল, আর লোকদের বলল,
29 ‘তোমরা এস, একজন লোককে দেখ, আমি যা কিছু করেছি, তিনি আমাকে সে সব বলে দিলেন৷ তিনিই কি সেই মশীহ নন?’
30 তখন লোকেরা শহর থেকে বের হয়ে যীশুর কাছে আসতে লাগল৷
31 এরই মাঝে তার শিষ্যরা তাঁকে অনুরোধ করে বললেন, ‘রব্বি (গুরু), আপনি কিছু খেয়ে নিন!’
32 কিন্তু তিনি তাঁদের বললেন, ‘আমার কাছে এমন খাবার আছে যার কথা তোমরা কিছুই জান না৷’
33 তখন তাঁর শিষ্যরা পরস্পর বলাবলি করতে লাগল, ‘তাহলে কি কেউ তাঁকে কিছু খাবার এনে দিয়েছে?’
34 তখন যীশু তাঁদের বললেন, ‘যিনি আমায় পাঠিয়েছেন, তাঁর ইচ্ছা পালন করা ও তাঁর য়ে কাজ তিনি আমায় করতে দিয়েছেন তা সম্পন্ন করাই হল আমার খাবার৷
35 তোমরা প্রায়ই বলে থাক, ‘আর চার মাস বাকী আছে, তারপরই ফসল কাটার সময় হবে৷’ কিন্তু তোমরা চোখ মেলে একবার ক্ষেতের দিকে তাকিয়ে দেখ, ফসল কাটবার মতো সময় হয়েছে৷
36 য়ে ফসল কাটছে সে এখনই তার মজুরী পাচ্ছে, আর সে তা করছে অনন্ত জীবন লাভের জন্য৷ তার ফলে বীজ য়ে বোনে আর ফসল য়ে কাটে উভয়েই একই সঙ্গে আনন্দিত হয়৷
37 এই প্রবাদ বাক্যটি সত্য য়ে, ‘একজন বীজ বোনে আর অন্যজন কাটে৷’
38 আমি তোমাদের এমন ফসল কাটতে পাঠিয়েছি, যার জন্য তোমরা কোন পরিশ্রম করনি৷ তার জন্য অন্যরা খেটেছে আর তোমরা তাদের কাজের ফসল তুলছ৷’
39 সেই শহরের অনেক শমরীয় তাঁর ওপর বিশ্বাস করল, কারণ সেই স্ত্রীলোকটি সাক্ষ্য দিচ্ছিল, ‘আমি যা যা করেছি সবই তিনি আমাকে বলে দিয়েছেন৷’
40 শমরীয়রা তাঁর কাছে এসে যীশুকে তাদের সঙ্গে থাকতে অনুরোধ করল৷ তখন তিনি দুদিন সেখানে থাকলেন৷
41 আরও অনেক লোক তাঁর কথা শুনে তাঁর ওপর বিশ্বাস করল৷
42 তারা সেই স্ত্রীলোকটিকে বলল, ‘প্রথমে তোমার কথা শুনে আমরা বিশ্বাস করেছিলাম, কিন্তু এখন আমরা নিজেরা তাঁর কথা শুনে বিশ্বাস করেছি ও বুঝতে পেরেছি য়ে ইনি সত্যিই জগতের উদ্ধারকর্তা৷’ 

যোহন 4:1-42

যীশু দুটি কারণের জন্য জল চাইলেন I প্রথমত, তিনি তৃষ্ণার্ত ছিলেন I তবে তিনি (একজন ঋষি হওয়ায়) জানতেন যে সে এছাড়াও এক সম্পূর্ণ ভিন্ন উপায়ে তৃষ্ণার্ত ছিল I সে তার জীবনে সন্তুষ্টির জন্য তৃষ্ণার্ত ছিল I সে ভাবল পুরুষদের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করে সে তার তৃষ্ণাকে সন্তুষ্ট করতে   পারে I তার কাছে কয়েকজন পতি ছিল এবং এমনকি সে যীশুকে বলছিল যে সে যে পুরুষটির সংগে থাকছে সেও তার পতি ছিল না I তার প্রতিবেশীরা তাকে অনৈতিক হিসাবে দেখত I এই জন্যই সম্ভবত সে দুপুরবেলায় একা জল আনতে গিয়েছিল যেহেতু গ্রামের অন্যান্য মহিলারা তাকে সঙ্গে নিতে চাইত না যখন তারা সকালের ঠান্ডায় কুয়োতে জল আনতে যেত I স্ত্রীটির অনেক পুরুষ ছিল, এবং এটি তাকে গ্রামের অনান্য মহিলাদের থেকে পৃথক করেছিল I      

যীশু তৃষ্ণার সেই একই থিমটি ব্যবহার করেছিলেন যাতে সে উপলব্ধি করতে পারে যে তার পাপের মূল ছিল তার জীবনে এক গভীর তৃষ্ণা – এমন একটি তৃষ্ণা যাকে নিবারণ করতে হয়েছিল I তিনি তার (এবং আমাদের কাছে) কাছে আরও ঘোষণা করছিলেন যে কেবলমাত্র তিনিই চূড়ান্তভাবে আমাদের অভ্যন্তরীণ তৃষ্ণা মেটাতে পারেন যা আমাদের সহজে পাপের মধ্যে নিয়ে যায় I 

বিশ্বাস করা – সত্যের মধ্যে স্বীকারোক্তি

তবে ‘জীবন্ত জলের’ এই প্রস্তাব স্ত্রীটিকে একটি সংকটের মধ্যে ফেলল I যীশু যখন তাকে তার পতিকে নিয়ে আসতে বললেন তিনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাকে তার পাপকে স্বীকৃতি দিতে এবং স্বীকার করতে বাধ্য করছিলেন – এটি স্বীকার করার জন্য I আমরা যে কোনো মূল্যে এটিকে এড়িয়ে যাই! আমরা আমাদের পাপ লুকোতে পছন্দ করি I বা আমরা আমরা পাপের অজুহাত তৈরী করে যুক্তিযুক্ত করি I তবে আমরা যদি ‘অনন্ত জীবন’ গামী ঈশ্বরের বাস্তবতার অভিজ্ঞতা লাভ করি তাহলে আমাদের অবশ্যই সৎ হতে হবে এবং আমাদের পাপ স্বীকার করতে হবে, কারণ সুসমাচার তাই প্রতিশ্রুতি দেয়:

8 আমরা যদি বলি য়ে আমাদের কোন পাপ নেই, তাহলে আমরা নিজেদেরই ঠকাই এবং তাঁর সত্য আমাদের মধ্যে নেই৷
9 আমরা যদি নিজেদের পাপ স্বীকার করি, বিশ্বস্ত ও ধার্মিক ঈশ্বর আমাদের সমস্ত পাপ ক্ষমা করবেন ও সকল অধার্মিকতা থেকে আমাদের শুদ্ধ করবেন৷

1 যোহন 1:8-9

এই কারণে, যীশু যখন শমরিয় স্ত্রীটিকে বললেন যে

24 ঈশ্বর আত্মা, যাঁরা তাঁর উপাসনা করে তাদেরকে আত্মায় ও সত্যে উপাসনা করতে হবে৷’

যোহন 4:24

সত্য দ্বারা তিনি আমাদের নিজেদের সম্পর্কে সত্যবাদী হওয়া বোঝাতে চেয়েছিলেন, আমাদের ভুলকে আড়াল বা অজুহাত দেখানোর চেষ্টা করছেন না I আশ্চর্যজনক সংবাদ হ’ল যে ঈশ্বর ‘চান’ এবং আরাধনাকারীদের থেকে মুখ ফেরাবেন না যারা এই ভাবে সততার সাথে আসে – এতে কিছু এসে যায় না তারা কতটা অশুদ্ধ হয়েছে I 

তবে তার পাপকে স্বীকার করা তার পক্ষে অত্যন্ত কঠিন ছিল I লুকোনোর একটি সুবিধাজনক উপায় হ’ল আমাদের পাপের থেকে বিষয়টিকে ধর্মীয় দ্বন্দে পরিণত করা I পৃথিবীতে অনেক ধর্মীয় দ্বন্দ আছে I তখনকার দিনে শমরিয় এবং যিহূদিদের মধ্যে আরাধনার উপযুক্ত স্থান সম্বন্ধে এক ধর্মীয় দ্বন্দ ছিল I যিহূদিরা বলত আরাধনা যিরূশালেমে হওয়া উচিত আর শমরিয়রা ধরে ছিল এটি অন্য কোনো পর্বতে হওয়া উচিত I এই ধর্মীয় দ্বন্দের দিকে ফিরে সে কথাবার্তাটিকে তার পাপের থেকে সরিয়ে বিপথে নিয়ে যেতে আশা করছিল I সে এখন তার পাপকে তার ধর্মের পেছনে লুকোতে পারত I      

কত সহজ এবং স্বাভাবিকভাবে ভাবে আমরা একই জিনিস করি – বিশেষত আমরা যদি ধার্মিক হই I তখন আমরা বিচার করতে পারি অন্যরা কতটা ভুল আর আমরা কতটা সঠিক – যখন আমরা আমাদের পাপ স্বীকার করার প্রয়োজনকে উপেক্ষা করি I 

যীশু তার সঙ্গে এই দ্বন্দকে অনুসরণ করেন নি I তিনি জোর দিলেন যে আরাধনার স্থান অত বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়, তবে আরাধনার মধ্যে তার নিজের সততা বেশি মানে রাখে I সে ঈশ্বরের সামনে যে কোনো জায়গায় আসতে পারে (যেহেতু তিনি আত্মা), তবে এই ‘জীবন্ত জল’ গ্রহণ করতে পারার আগে তার সৎ আত্ম-উপলব্ধির প্রয়োজন I     

আমাদের সকলকে অবশ্যই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে

সুতরাং তাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ছিল I সে একটি ধর্মীয় দ্বন্দের পেছনে লুকিয়ে থাকা চালিয়ে যেতে বা হয়ত কেবল তাকে ছেড়ে দিতে পারত I তবে সে অবশেষে তার পাপ স্বীকার করতে পচ্ছন্দ করল – স্বীকার করতে – এত দূর পর্যন্ত যে সে অন্যদের বলতে গ্রামে ফিরে গেল কিভাবে এই ঋষি তাকে জানতেন এবং এবং তিনি কি করেছেন I সে আর লুকিয়ে থাকলো না I এইরকম করে সে একজন ‘বিশ্বাসী’ হয়ে গেল I সে আগে পূজা এবং ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান করত, কিন্তু এখন সে – এবং তার গ্রামের তারা – ‘বিশ্বাসী’ হয়ে গেল I   

একজন বিশ্বাসী হতে গেলে শুধুমাত্র মানসিকভাবে সঠিক শিক্ষার সঙ্গে একমত হওয়া নয় – যদিও সেটি গুরুত্বপূর্ণ I এটি হ’ল বিশ্বাস করার সম্বন্ধে যে তাঁর করুণার প্রতিশ্রুতির উপরে ভরসা করা যেতে পারে, আর তাই আপনার পাপকে আর ঢেকে রাখা উচিত নয় I এটাই দীর্ঘ সময় আগে আমাদের জন্য আব্রাহাম  নমুনা করেছিলেন – তিনি একটি প্রতিশ্রুতিতে ভরসা করেছিলেন I

আপনি কি আপনার পাপের অজুহাত করেন বা লুকিয়ে রাখেন? আপনি কি এটিকে ভক্তিপূর্ণ ধর্মীয় অনুশীলন বা ধর্মীয় দ্বন্দের সঙ্গে লুকিয়ে রাখেন? বা আপনি কি আপনার পাপ স্বীকার করেন? কেন আমাদের সৃষ্টিকর্তার সামনে এসে  সৎভাবে অপরাধ এবং লজ্জা সৃষ্টিকারী পাপকে স্বীকার করেন না? তখন আনন্দ করুন যে তিনি আপনার আরাধনা ‘চান’ এবং সমস্ত অধার্মিকতা থেকে আপনাকে পবিত্র করবেন I 

স্ত্রীটির তার প্রয়োজন সম্পর্কে সৎ গ্রহণযোগ্যতা তাকে খ্রীষ্টকে ‘মসীহ’ হিসাবে বোঝার জন্য পরিচালিত করেছিল এবং যীশুর দুদিন অবস্থান করার পরে তারা তাঁকে ‘জগতের উদ্ধারকর্তা’ হিসাবে বুঝতে পারল I হয়ত আমরা এটিকে এখনও পুরোপুরি বুঝি না I তবে স্বামী যোহন যেভাবে লোকেদের তাদের পাপ এবং প্রয়োজন স্বীকার করে বোঝার জন্য প্রস্তুত করেছিলেন, এটি আমাদের কিভাবে আমরা হারিয়ে গেছি তা সনাক্ত করতে এবং তাঁর কাছ থেকে জীবন্ত জল পান করতে প্রস্তুত করবে I 

ঈশ্বরের রাজ্য? পদ্ম, শঙ্খ এবং জোড়া মাছে গুণের চিত্র

পদ্মটি দক্ষিন এশিয়ার প্রতিষ্ঠিত ফুল I পদ্ম ফুলটি প্রাচীন ইতিহাসে একটি বিশিষ্ট প্রতীক ছিল, আজকের দিনেও তাই রয়েছে I পদ্ম গাছগুলো তাদের পাতাগুলোতে একটি স্বতন্ত্র কাঠামো রাখে যা একটি স্ব-পরিষ্কারের ক্ষমতা সরবরাহ করে, কাদা থেকে অপরিচ্ছন্ন ফুলগুলো ফুঠতে দেয় I এই প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যটি ময়লা থেকে দুরে থাকা কাদা থেকে উত্থিত হিসাবে ফুলের প্রতীকী উল্লেখ সমূহকে সৃষ্টি করেছে I ঋগ্বেদ প্রথমে একটি রূপকের মধ্যে পদ্মের উল্লেখ করেছে (RV 5. LXVIII. 7-9) যেখানে মনে হয় এটি কোনও শিশুর নিরাপদ জন্মের জন্য একটি ইচ্ছার বর্ণনা করে I    

বিষ্ণু যখন খর্বাকৃত বামন ছিলেন, তার পত্নী লক্ষ্মী একটি পদ্ম থেকে পদ্মা বা কমলা নামে যার উভয়ের অর্থ “পদ্ম” মহান সমুদ্র মন্থনের মধ্যে আবির্ভূত হয়েছিলেন I লক্ষ্মী পদ্মের সাথে এক নিবিড় সম্পর্ক বজায় রাখেন, ফুলের মধ্যেই নিজের নিবাস রেখেছেন I   

একটি শঙ্খ আচার এবং ধর্মীয় গুরুত্বের একটি শঙ্খের খোল I শঙ্খ একটি বৃহৎ সামুদ্রিক শামুকের খোল তবে পুরানে শঙ্খ বিষ্ণুর প্রতীক এবং প্রায়শই একটি তুরী হিসাবে ব্যবহৃত হয় I

পদ্ম এবং শঙ্খ আট অষ্টমঙ্গলার (শুভ লক্ষণ সমূহ) শিক্ষার সরঞ্জামগুলোর মধ্যে দুটি I এগুলো কালজয়ী যোগ্যতাবলী বা গুণের জন্য চিত্র বা প্রতীক হিসাবে পরিবেশন করে I অসংখ্য গ্রন্থে গুণ সহজাত প্রাকৃতিক শক্তির ধারনা নিয়ে আলোচনা করে, যা একত্রে পৃথিবীকে রূপান্তর করে পরিবর্তন করে চলেছে I তিনটে গুণ ভেতরে I শঙ্খর চিন্তাভাবনা হ’ল: স্বত্ব (উত্তমতা, গঠনমূলক, একতান), রজস (আবেগ, সক্রিয়, বিভ্রান্ত), এবং তামস (অন্ধকার, ধ্বংসাত্মক, বিশৃঙ্খল) I ন্যায় এবং বৈশেষিক চিন্তা ভাবনা আরও অধিক গুণ সমূহের জন্য অনুমতি দেয় I একটি গুণ হিসাবে ঈশ্বরের রাজ্যের সম্বন্ধে কি ভাবেন?   

পদ্ম ফুল শঙ্খ চিন্তাধারার মধ্যে সত্ত্ব, রজস, তামস গুণগুলোকে চিত্রিত করে I

যীশু ঈশ্বরের রাজ্যকে এক পরিচালনাকারী যোগ্যতা হিসাবে, একটি গুণ হিসাবে  দেখেছিলেন, যেহেতু এটি জৈবিকভাবে পরিবর্তন এবং বিশ্বকে পরাভূত করছে I তিনি শেখালেন যে আমাদেরকে ঈশ্বরের রাজ্যে আমন্ত্রণ করা হয়েছে, তবে এটি করার জন্য দ্বিজরও প্রয়োজন I তিনি তখন গাছপালা, শঙ্খ এবং জোড়া মাছ (অষ্টমঙ্গল গুণ সমূহ) ব্যবহার করে ঈশ্বরের রাজ্যের প্রকৃতি বা গুণের উপরে এক ধারাবাহিক গল্প (দৃষ্টান্ত বলা হয়) দিলেন ঈশ্বরের রাজ্যকে বোঝার জন্য  তাঁর শিক্ষার সরঞ্জাম হিসাবে আমাদের সাহায্য করতে I 

ই দিনই যীশু ঘর থেকে বের হয়েহ্রদের ধারে এসে বসলেন৷
2 তাঁর চারপাশে বহু লোক এসে জড় হল, তাইতিনি একটা নৌকায় উঠে বসলেন, আর সেই সমবেত জনতা তীরে দাঁড়িয়ে রইল৷
3 তখন তিনি দৃষ্টান্তের মাধ্যমে তাদের অনেক বিষয়ে শিক্ষা দিতে লাগলেন৷ তিনি বললেন, ‘একজন চাষী বীজ বুনতে গেল৷
4 সে যখন বীজ বুনছিল, তখন কতকগুলি বীজ পথের ধারে পড়ল, আর পাখিরা এসে সেগুলি খেয়ে ফেলল৷
5 আবার কতকগুলি বীজ পাথুরে জমিতে পড়ল, সেখানে মাটি বেশী ছিল না৷ মাটি বেশী না থাকাতে তাড়াতাড়ি অঙ্কুর বের হল৷
6 কিন্তু সূর্য় উঠলে পর অঙ্কুরগুলি ঝলসে গেল, আর শেকড় মাটির গভীরে যায়নি বলে তা শুকিয়ে গেল৷
7 আবার কিছু বীজ কাঁটাঝোপের মধ্যে পড়ল৷ কাঁটাঝোপ বেড়ে উঠে চারাগুলোকে চেপে দিল৷
8 কিছু বীজ ভাল জমিতে পড়ল, তাতে ফসল হতে লাগল৷ সে যা বুনেছিল, কোথাও তার ত্রিশগুণ, কোথাও ষাটগুণ, কোথাও শতগুণ ফসল হল৷
9 যার শোনার মতো কান আছে সে শুনুক!’

মথি 13:1-9
পদ্মের বীজের মধ্যে একটি জীবনী শক্তি থাকে যা তাদের অঙ্কুরিত করে

এই দৃষ্টান্তটির অর্থ কি? আমাদের অনুমান করতে হবে না, যেহেতু তিনি তাদেরকে অর্থ দিয়েছিলেন যারা চেয়েছিল:

18 ‘এখন তবে সেইচাষী ও তার বীজ বোনার মর্মার্থ শোন৷
19 কেউ যখন স্বর্গরাজ্যের শিক্ষার বিষয় শুনেও তা বোঝে না, তখন দুষ্ট আত্মা এসে তার অন্তরে যা বোনা হয়েছিল তা সরিয়ে নেয়৷ এটা হল সেই পথের ধারে পড়া বীজের

কথা৷মথি 13:18-19
তবে এই বীজগুলো কোন নিষ্পিষ্ট রাস্তায় অঙ্কুরিত হতে পারে না

20 আর পাথুরে জমিতে য়ে বীজ পড়েছিল, তা সেই সব লোকদের কথাই বলে যাঁরা স্বর্গরাজ্যের শিক্ষা শুনে সঙ্গে সঙ্গে আনন্দের সাথে তা গ্রহণ করে;
21 কিন্তু তাদের মধ্যে সেই শিক্ষার শেকড় ভাল করে গভীরে য়েতে দেয় না বলে তারা অল্প সময়ের জন্য স্থির থাকে৷ যখন সেই শিক্ষার জন্য সমস্যা, দুঃখ কষ্ট ও তাড়না আসে, তখনই তারা পিছিয়ে যায়৷

মথি 13:20-21
সূর্যের তাপ বীজের জীবনকে মেরে ফেলতে পারে

22 কাঁটাঝোপে য়ে বীজ পড়েছিল, তা এমন লোকদের বিষয় বলে যাঁরা সেই শিক্ষা শোনে, কিন্তু সংসারের চিন্তা ভাবনা ও ধনসম্পত্তির মাযা সেই শিক্ষাকে চেপে রাখে৷ সেজন্য তাদের জীবনে কোন ফল হয় না৷

মথি 13:22
অন্য গাছপালা পদ্ম ফুলের বৃদ্ধিকে বাধা দিতে পারে

23 য়ে বীজ উত্কৃষ্ট জমিতে বোনা হল, তা এমন লোকদের কথা প্রকাশ করে যাঁরা শিক্ষা শোনে, তা বোঝে এবং ফল দেয়৷ কেউ একশ গুণ, কেউ ষাট গুণ আর কেউ বা তিরিশ গুণ ফল

দেয়৷মথি 13:23
সঠিক জমিতে পদ্ম গাছ বেড়ে উঠবে এবং সৌন্দর্যে বহুগুণিত হবে  

ঈশ্বরের রাজ্যের সম্বন্ধে চারটি প্রতিক্রিয়া আছে I প্রথমটিতে কোনো ‘বুদ্ধি’ নেই আর তাই দুষ্ট বার্তাটিকে তাদের হৃদয় থেকে হরণ করে নিয়ে যায় I বাকি তিনটি প্রতিক্রিয়ার সবগুলো প্রাথমিকভাবে সকারাত্মক এবং তারা আনন্দের সঙ্গে বার্তাটিকে গ্রহণ করে I তবে এই বার্তাটিকে কঠিন সময়ের মাধ্যমে আমাদেরকে অবশ্যই গড়ে তুলতে হয় I এটি আমাদের জীবনে প্রভাবিত না করে এমন মানসিক শক্তি অপর্যাপ্ত I তাই এদের মধ্যে দুটি প্রতিক্রিয়া. যদিও তারা প্রাথমিকভাবে বার্তাটিকে পেয়েছিল, তাদের হৃদয়ে এটিকে বৃদ্ধি পেতে অনুমতি দেয় নি I কেবল চতুর্থ হৃদয়, যা ‘বাক্যটি শোনে এবং এটিকে বোঝে’ প্রকৃতরূপে এটিকে এমনভাবে গ্রহণ করবে যাকে ঈশ্বর অন্বেষণ করছিলেন I

যীশু এই দৃষ্টান্তটি শেখালেন যাতে আমরা আমাদের জিজ্ঞাসা করি: ‘এই মাটিগুলোর মধ্যে কোনটি আমি?’

আগাছার দৃষ্টান্ত

এই দৃষ্টান্তটি সম্বন্ধে ব্যাখ্যা করার পরে যীশু আগাছা ব্যবহার করে একটি দৃষ্টান্ত শেখালেন I 

24 এবার যীশু তাদের কাছে আর একটি দৃষ্টান্ত রাখলেন৷ ‘স্বর্গরাজ্য এমন একজন লোকের মতো যিনি তাঁর জমিতে ভাল বীজ বুনলেন৷
25 কিন্তু লোকেরা যখন সবাইঘুমিয়ে ছিল, তখন সেইমালিকের শত্রু এসে গমের মধ্যে শ্যামা ঘাসের বীজ বুনে দিয়ে চলে গেল৷
26 শেষে গমের চারা যখন বেড়ে উঠে ফল ধরল, তখন তার মধ্যে শ্যামাঘাসও দেখা গেল৷
27 সেইমালিকের মজুররা এসে তাঁকে বলল, ‘আপনি কি জমিতে ভাল বীজ বোনেন নি? তবে শ্যামাঘাস কোথা থেকে এল?’
28 তিনি তাদের বললেন, ‘এটা নিশ্চয়ই কোন শত্রুর কাজ৷’তাঁর চাকরেরা তখন তাঁকে বলল, ‘আপনি কি চান, আমরা গিয়ে কি শ্যামা ঘাসগুলি উপড়ে ফেলব?’
29 ‘তিনি বললেন, ‘না, কারণ তোমরা যখন শ্যামা ঘাস ওপড়াতে যাবে তখন হয়তো ঐগুলোর সাথে গমের গাছগুলোও উপড়ে ফেলবে৷
30 ফসল কাটার সময় না হওয়া পর্যন্ত একসঙ্গে সব বাড়তে দাও৷ পরে ফসল কাটার সময় আমি মজুরদের বলব তারা য়েন প্রথমে শ্যামা ঘাস সংগ্রহ করে আঁটি আঁটি করে বাঁধে ও তা পুড়িয়ে দেয় এবং গম সংগ্রহ করে গোলায় তোলে৷’ 

মথি 13:24-30
গাছ এবং গম: পাকা করার আগে গম এবং গাছগুলি একই দেখায়

আগাছা এবং গম: পেকে যাওয়ার পূর্বে গম এবং আগাছাকে একই রকম দেখতে লাগে   

এখানে তিনি দৃষ্টান্তটিকে ব্যাখ্যা করেন I

36 পরে যীশু লোকদের বিদায় দিয়ে ঘরে চলে গেলেন৷ তখন তাঁর শিষ্যরা এসে তাঁকে বললেন, ‘সেইক্ষেতের ও শ্যামা ঘাসের দৃষ্টান্তটি আমাদের বুঝিয়ে দিন৷’
37 এর উত্তরে যীশু তাদের বললেন, ‘যিনি ভাল বীজ বোনেন, তিনি মানবপুত্র৷
38 জমি বা ক্ষেত হল এই জগত, স্বর্গরাজ্যের লোকরা হল ভাল বীজ৷ আর শ্যামাঘাস তাদেরই বোঝায়, যাঁরা মন্দ লোক৷
39 গমের মধ্যে য়ে শত্রু শ্যামা ঘাস বুনে দিয়েছিল, সে হল দিয়াবল৷ ফসল কাটার সময় হল জগতের শেষ সময় এবং মজুররা যাঁরা সংগ্রহ করে, তারা ঈশ্বরের স্বর্গদূত৷
40 ‘শ্যামা ঘাস জড় করে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়৷ এইপৃথিবীর শেষের সময়েও ঠিক তেমনি হবে৷
41 মানবপুত্র তাঁর স্বর্গদূতদের পাঠিয়ে দেবেন, আর যাঁরা পাপ করে ও অপরকে মন্দের পথে ঠেলে দেয়, তাদের সবাইকে সেইস্বর্গদূতরা মানবপুত্রের রাজ্যের মধ্য থেকে একসঙ্গে জড় করবেন৷
42 তাদের জ্বলন্ত আগুনের মধ্যে ফেলে দেবেন৷ সেখানে লোকে কান্নাকাটি করবে ও দাঁতে দাঁত ঘষতে থাকবে৷
43 তারপর যাঁরা ধার্মিক প্রতিপন্ন হয়েছে, তারা পিতার রাজ্যে সূর্যের মতো উজ্জ্বল হয়ে দেখা দেবে৷ যার শোনার মতো কান আছে সে

শুনুক!মথি 13:36-43

সর্ষে বীজ এবং খামীরের দৃষ্টান্ত 

যীশু অন্যান্য সাধারণ গাছপালার উদাহরণ সহ আবার কিছু অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত দৃষ্টান্তও শিখিয়েছিলেন I 

31 যীশু তাদের সামনে আর একটি দৃষ্টান্ত রাখলেন, ‘স্বর্গরাজ্য এমন একটা সরষে দানার মতো যা নিয়ে কোন একজন লোক তার জমিতে লাগাল৷
32 সমস্ত বীজের মধ্যে ওটা সত্যিই সবচেয়ে ছোট, কিন্ত গাছ হয়ে বেড়ে উঠলে পর তা সমস্ত শাক-সব্জীর থেকে বড় হয়ে একটা বড় গাছে পরিণত হয়, যাতে পাখিরা এসে তার ডালপালায় বাসা বাঁধে৷’
33 তিনি তাদের আর একটা দৃষ্টান্ত বললেন, ‘স্বর্গরাজ্য য়েন খামিরের মতো৷ একজন স্ত্রীলোক তা নিয়ে একতাল ময়দার সঙ্গে মেশাল ও তার ফলে সমস্ত ময়দা ফেঁপে উঠল৷’

মথি 13:31:33
সর্ষে বীজ ক্ষুদ্র
সর্ষে গাছগুলো প্রচুর ভাবে বেড়ে ওঠে

ঈশ্বরের রাজ্য ক্ষুদ্র হয়ে শুরু হয় এবং এই জগতে তাত্পর্যহীন হয় তবে জগত জুড়ে ময়দার তালের মধ্যে কার্যরত খামিরের মতন বৃদ্ধি পাবে এবং একটি ক্ষুদ্র বীজ এক বৃহৎ বৃক্ষে বৃদ্ধি পাবে I এটি শক্তির দ্বারা ঘটে না, বা হঠাত, এর বৃদ্ধি অদৃশ্য তবে সর্বত্র এবং অপ্রতিরোধ্য I 

গুপ্ত খাজনা এবং বহুমূল্য মুক্তোর দৃষ্টান্ত

44 ‘স্বর্গরাজ্য ক্ষেতের মধ্যে লুকিয়ে রাখা ধনের মতো৷ একজন লোক তা খুঁজে পেয়ে আবার সেই ক্ষেতের মধ্যে লুকিয়ে রাখল৷ সে এতে এত খুশী হল য়ে সেখান থেকে গিয়ে তার সর্বস্ব বিক্রি করে সেই ক্ষেতটি কিনল৷
45 ‘আবার স্বর্গরাজ্য এমন একজন সওদাগরের মতো, য়ে ভাল মুক্তা খুঁজছিল৷
46 যখন সে একটা খুব দামী মুক্তার খোঁজ পেল, তখন গিয়ে তার যা কিছু ছিল সব বিক্রি করে সেইমুক্তাটাই

কিনল৷মথি 13:44-46
শামুকের খোলের মধ্যে মূল্যবান খাজনা থাকতে পারে তবে বাইরে থেকে মূল্যকে দেখা যায় না
কিছু শামুকের খোলের মধ্যে গোলাপী মুক্তো থাকে – বহু মূল্যের সাথে গুপ্তভাবে
গোলাপী মুক্তোগুলো অনেক মূল্যবান

এই দৃষ্টান্তগুলো ঈশ্বরের রাজ্যের মূল্যের উপরে ফোকাস করে I ক্ষেতের মধ্যে লুকোনো এক খাজনার কথা চিন্তা করুন I লুকোনো থাকায়, প্রত্যেকে এর পাশ দিয়ে চলে যায় ভাবে ক্ষেতটির মূল্য অল্প আর তাই এর প্রতি তাদের কোনো উৎসাহ নেই I তবে একজন বুঝতে পারে সেখানে খাজানা আছে, ক্ষেতটিকে মূল্যবান করেছে – যথেষ্ট মূল্যবান যে এটিকে ক্রয় করতে এবং খাজানাটিকে পেতে সমস্ত কিছু বিক্রী করে দেওয়া যায় I অতএব এটি ঈশ্বরের রাজ্যের সঙ্গে – অধিকাংশের দ্বারা অলক্ষিত মূল্য, তবে কয়েকজন যারা এর যোগ্যতাকে কে দেখে অনেক মূল্য লাভ করে I     

জালের দৃষ্টান্ত

47 ‘স্বর্গরাজ্য আবার এমন একটা বড় জালের মতো যা সমুদ্রে ফেলা হলে তাতে সব রকম মাছ ধরা পড়ল৷
48 জাল পূর্ণ হলে লোকরা সেটা পাড়ে টেনে তুলল, পরে তারা বসে ভালো মাছগুলো বেছে ঝুড়িতে রাখল এবং খারাপগুলো ফেলে দিল৷
49 জগতের শেষের দিনে এই রকমই হবে৷ স্বর্গদূতরা এসে ধার্মিক লোকদের মধ্য থেকে দুষ্ট লোকদের আলাদা করবেন৷
50 স্বর্গদূতরা জ্বলন্ত আগুনের মধ্যে দুষ্ট লোকদের ফেলে দেবেন৷ সেখানে লোকে কান্নাকাটি করবে ও দাঁতে দাঁত ঘসবে৷’

মথি 13:47:50
ঈশ্বরের রাজ্য গোয়ার এই মছুয়ারাদের মতন লোকেদের বাছাই করবে

যীশু অষ্টমঙ্গলার আর একটিকে ব্যবহার করেছিলেন – জোড়া মাছকে ঈশ্বরের রাজ্য সম্বন্ধে শিক্ষা দিতে I মছুয়ারাদের মাছকে আলাদা করার মতন ঈশ্বরের রাজ্য লোকেদের দুই দলে আলাদা করবে I এটি বিচারের দিনে ঘটবে I   

ঈশ্বরের রাজ্য রহস্যজনকভাবে বাড়ে, ময়দার তালে খামিরের মতন; বেশিরভাগ থেকে গোপনীয় মূল্য; এবং মানুষের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া জাগ্রত করে I এটি যারা বোঝে এবং যারা না বুঝবে তাদের আলাদা করে I এই দৃষ্টান্তগুলো শেখানোর পরে যীশু তাঁর শ্রোতাদের এই প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করলেন I

51 যীশু তাঁর শিষ্যদের জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমরা কি এসব কথা বুঝলে?’তারা তাঁকে বলল, ‘হ্যাঁ, আমরা

বুঝেছি৷’মথি 13:51

আপনি কি ভাবেন? ঈশ্বরের রাজ্যকে যদি বিশ্বব্যাপী চলমান একটি গুণের মতন বোঝা যায় এটি তবুও আপনার কোনো উপকারে আসে না যদি না এটি আপনার মাধ্যমেও চলতে পারে I কিন্তু কিভাবে?

যীশু একটি গঙ্গা তীর্থের মতন তাঁর জীবন্ত জলের দৃষ্টান্ত দিয়ে ব্যাখ্যা করেন I  

যীশু শিক্ষা দেন যে প্রাণ আমাদের দ্বিজর কাছে নিয়ে আসে

দ্বিজর অর্থ হ’ল ‘দ্বিতীয় জন্ম’ বা পুনরায় জন্ম’ I এটি এই ধারণার উপর প্রতিষ্ঠিত যে একজন ব্যক্তির প্রথমে জন্ম হয় এবং পরে আধ্যাত্মিকভাবে দ্বিত্বীয় বার জন্ম হয় I এই আধ্যাত্মিক জন্মটি পরম্পরাগতভাবে উপনয়ন অনুষ্ঠানের সময়ে ঘটে বলে প্রতীকী হয়, যখন পবিত্র সূতো (যজ্ঞপবীত, উপবীত বা জনৌ) পরিধান করা হয় I যাই হোক. যদিও প্রাচীন বৈদিক (1500-600 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) পাঠ্য যেমন বৌদ্ধায়ন গৃহসুত্র উপনয়ন সম্বদ্ধে আলোচনা করে, দ্বিজ সম্পর্কে কোনো প্রাচীন গ্রন্থ উল্লেখ করে না I উইকিপীডিয়া বলে        

এর ক্রমবর্দ্ধমান উল্লেখগুলো মধ্য থেকে শেষ প্রথম-সহ্রসাব্দ খ্রীষ্টাব্দের গ্রন্থের ধর্মশাস্ত্রগুলো পাঠ্যে প্রদর্শিত হয় I দ্বিজ শব্দের উপস্থিতি এমন একটি চিহ্ন যা এই পাঠ্যটি সম্ভবত মধ্যযুগীয় যুগের ভারতীয় পাঠ্য I   

অতএব যদিও দ্বিজ বর্তমানে একটি পরিচিত ধারণা, এটি আপেক্ষিকভাবে নতুন I দ্বিজ কোথা থেকে এসেছিল?

থোমার দ্বারা যীশু এবং দ্বিজ

দ্বিজর উপরে প্রাচীনতম যে কারোর দ্বারা নথিভুক্ত শিক্ষা হ’ল যীশুর I যোহনের সুসমাচার (50-100 খ্রীষ্টাব্দে লেখা) দ্বিজ সম্পর্কে যীশুর নেতৃত্বে একটি আলোচনাকে লিপিবদ্ধ করে I এটা খুব ভালো হতে পেরেছিল যে যীশুর এক শিষ্য থোমা, যিনি প্রথমে ভারতবর্ষে এসেছিলেন 52 খ্রীষ্টাব্দে মালাবার উপকূলে এবং তারপরে চেন্নাইতে যীশুর জীবন এবং শিক্ষার একজন প্রত্যক্ষদর্শী রূপে দ্বিজর ধারনাটিকে নিয়ে এসেছিলেন এবং ভারতীয় চিন্তাধারা এবং অনুশীলনের মধ্যে এটিকে প্রবর্তন করেছিলেন I যীশুর শিক্ষার সাথে ভারতবর্ষে থোমার আগমন ভারতীয় গ্রন্থে দ্বিজর উত্থানের সঙ্গে মেলে I       

প্রাণের মাধ্যমে যীশু এবং দ্বিজ

যীশু দ্বিজকে সংযুক্ত করেছিলেন, উপনয়নের সঙ্গে নয়, বরং প্রাণের (प्राण) সঙ্গে, যা আরও একটি প্রাচীন ধারণা I প্রাণ স্বাস, আত্মা, বায়ু বা জীবন শক্তিকে বোঝায় I প্রাণ সম্পর্কে প্রাচীনতম উল্লেখগুলোর মধ্যে একটি 3000 বছরের পুরনো ছন্দোক  উপনিষদে রয়েছে, তবে কথা, মুন্দকা এবং প্রশ্ন উপনিষদ সহ অন্য অনেক উপনিষদগুলো ধারনাটি ব্যবহার করে I বিভিন্ন গ্রন্থে বিকল্প সুনির্দিষ্ট বিবরণ দেওয়া রয়েছে, তবে প্রাণ প্রাণায়াম ও আয়ুর্বেদ সহ আমাদের শ্বাস/শ্বাস-প্রশ্বাসের দক্ষতা অর্জনের জন্য সমস্ত যৌগিক কৌশল অবলম্বন করে I প্রাণগুলোকে মাঝে মাঝে প্রাণ, অপান, উদান, সমান, আর ব্যান হিসাবে আয়ুর (বায়ু) দ্বারা শ্রেণীবদ্ধ করা হয় I    

এখানে দ্বিজর পরিচয় দিতে গিয়ে যীশুর কথোপকথন পাওয়া যায় I (নিম্নরেখাঙ্কিত শব্দগুলো দ্বিজ বা দ্বিতীয় জন্মের উল্লেখগুলোকে যখন মোটা মুদ্রাক্ষর বিশিষ্ট শব্দগুলো প্রাণ বা বায়ু, আত্মাকে চিহ্নিত করে)   

1ফরীশীদের মধ্যে এক ব্যক্তি ছিলেন, তাঁহার নাম নীকদীম; তিনি যিহূদীদের এক জন অধ্যক্ষ। 2তিনি রাত্রিকালে যীশুর নিকটে আসিলেন, এবং তাঁহাকে কহিলেন, রব্বি, আমরা জানি, আপনি ঈশ্বরের নিকট হইতে আগত গুরু; কেননা আপনি এই যে সকল চিহ্ন-কার্য্য সাধন করিতেছেন, ঈশ্বর সহবর্ত্তী না থাকিলে এ সকল কেহ করিতে পারে না।

3যীশু উত্তর করিয়া তাঁহাকে কহিলেন, সত্য, সত্য, আমি তোমাকে বলিতেছি, নূতন জন্ম না হইলে কেহ ঈশ্বরের রাজ্য দেখিতে পায় না।

4নীকদীম তাঁহাকে কহিলেন, মনুষ্য বৃদ্ধ হইলে কেমন করিয়া তাহার জন্ম হইতে পারে? সে কি দ্বিতীয় বার মাতার গর্ভে প্রবেশ করিয়া জন্মিতে পারে?

5যীশু উত্তর করিলেন, সত্য, সত্য, আমি তোমাকে বলিতেছি, যদি কেহ জল এবং আত্মা হইতে না জন্মে, তবে সে ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করিতে পারে না। 6মাংস হইতে যাহা জাত, তাহা মাংসই; আর আত্মা হইতে যাহা জাত, তাহা আত্মাই। 7আমি যে তোমাকে বলিলাম, তোমাদের নূতন জন্ম হওয়া আবশ্যক, ইহাতে আশ্চর্য্য জ্ঞান করিও না। 8বায়ু যে দিকে ইচ্ছা করে, সেই দিকে বহে, এবং তুমি তাহার শব্দ শুনিতে পাও; কিন্তু কোথা হইতে আইসে, আর কোথায় চলিয়া যায়, তাহা জান না; আত্মা হইতে জাত প্রত্যেক জন সেইরূপ।

9নীকদীম উত্তর করিয়া তাঁহাকে কহিলেন, এ সকল কি প্রকারে হইতে পারে?

10যীশু উত্তর করিয়া তাঁহাকে কহিলেন, তুমি ইস্রায়েলের গুরু, আর এ সকল বুঝিতেছ না? 11সত্য, সত্য, আমি তোমাকে বলিতেছি, আমরা যাহা জানি তাহা বলি, এবং যাহা দেখিয়াছি তাহার সাক্ষ্য দিই; আর তোমরা আমাদের সাক্ষ্য গ্রহণ কর না। 12আমি পার্থিব বিষয়ের কথা কহিলে তোমরা যদি বিশ্বাস না কর, তবে স্বর্গীয় বিষয়ের কথা কহিলে কেমন করিয়া বিশ্বাস করিবে? 13আর স্বর্গে কেহ উঠে নাই; কেবল যিনি স্বর্গ হইতে নামিয়াছেন, সেই মনুষ্যপুত্র, যিনি স্বর্গে থাকেন।

14আর মোশি যেমন প্রান্তরে সেই সর্পকে উচ্চে উঠাইয়াছিলেন, সেইরূপে মনুষ্যপুত্রকেও উচ্চীকৃত হইতে হইবে, 15যেন, যে কেহ তাঁহাতে বিশ্বাস করে, সে অনন্ত জীবন পায়। 16কারণ ঈশ্বর জগৎকে এমন প্রেম করিলেন যে, আপনার একজাত পুত্রকে দান করিলেন, যেন, যে কেহ তাঁহাতে বিশ্বাস করে, সে বিনষ্ট না হয়, কিন্তু অনন্ত জীবন পায়। 17কেননা ঈশ্বর জগতের বিচার করিতে পুত্রকে জগতে প্রেরণ করেন নাই, কিন্তু জগৎ যেন তাঁহার দ্বারা পরিত্রাণ পায়।

18যে তাঁহাতে বিশ্বাস করে, তাহার বিচার করা যায় না; যে বিশ্বাস না করে, তাহার বিচার হইয়া গিয়াছে, যেহেতুক সে ঈশ্বরের একজাত পুত্রের নামে বিশ্বাস করে নাই। 19আর সেই বিচার এই যে, জগতে জ্যোতি আসিয়াছে, এবং মনুষ্যেরা জ্যোতি হইতে অন্ধকার অধিক ভাল বাসিল, কেননা তাহাদের কর্ম্ম সকল মন্দ ছিল। 20কারণ যে কেহ কদাচরণ করে, সে জ্যোতি ঘৃণা করে, এবং জ্যোতির নিকটে আইসে না, পাছে তাহার কর্ম্ম সকলের দোষ ব্যক্ত হয়। 21কিন্তু যে সত্য সাধন করে, সে জ্যোতির নিকটে আইসে, যেন তাহার কর্ম্ম সকল ঈশ্বরে সাধিত বলিয়া সপ্রকাশ হয়।

যোহন 3:1-21

এই কথপোকথনের মধ্যে বিভিন্ন ধারণা সমূহকে উত্থাপন করা হয়েছে I প্রথমত, যীশু এই দ্বিতীয় জন্মের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন (‘আপনাকে অবশ্যই আবার জন্মগ্রহণ করতে হবে’) I তবে এই জন্মের মধ্যে কোনো মানবীয় প্রতিনিধি নেই I প্রথম জন্ম, যা মাংসের থেকে তা মাংসকে জন্ম দেয়’ এবং ‘জলের থেকে জন্ম’ মানবীয় প্রতিনিধির থেকে আসে এবং মানবীয় নিয়ন্ত্রণের অধীন হয় I কিন্তু দ্বিতীয় জন্ম (দ্বিজ) তিনটি স্বর্গীয় প্রতিনিধিকে জড়িত করে: ঈশ্বর, মনুষ্য পুত্র, এবং আত্মাকে (প্রাণ) I এগুলোকে আমাদের অন্বেষণ করা যাক   

ঈশ্বর

যীশু বললেন যে ‘ঈশ্বর জগতকে এমন প্রেম করলেন…’ অর্থাৎ ঈশ্বর সকল লোকদের ভালবাসেন … এই জগতের প্রত্যেক নিবাসীকে … কেউ বাদ নয় I আমরা এই ভালবাসার সীমাটির উপরে প্রতিফলন করতে সময় ব্যয় করতে পারি, তবে যীশু চান যে আমরা প্রথমে স্বীকৃতি দিই যে এর অর্থ ঈশ্বর আপনাকে ভালবাসেন I ঈশ্বর আপনাকে অনেক ভালবাসেন, বর্ণ, ধর্ম, ভাষা, বয়স, লিঙ্গ, ধন সম্পদ, শিক্ষা … আপনার অবস্থা যাই হোক না কেন I যেমন অন্য কোথাও বলা হয়েছে:  

38 কারণ আমি নিশ্চিতভাবে জানি য়ে কোন কিছুই প্রভু যীশু খ্রীষ্টের নিহিত ঐশ্বরিক ভালবাসা থেকে আমাদের বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না, মৃত্যু বা জীবন, কোন স্বর্গদূত বা প্রভুত্বকারী আত্মা, বর্তমান বা ভবিষ্যতের কোন কিছু, উর্দ্ধের বা নিম্নের কোন প্রভাব কিংবা সৃষ্ট কোন কিছুই আমাদের সেই ভালবাসা থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না৷

39রোমীয় 8:38-39

আপনার জন্য (এবং আমার জন্য) ঈশ্বরের ভালবাসা দ্বিতীয় জন্মের প্রয়োজনীয়তাকে অপসারণ করে না (“তারা যতক্ষণ না আবার জন্ম না নেয় কেউ ঈশ্বরের রাজ্য দেখতে পায় না”) বরং আপনার জন্য ঈশ্বরের ভালবাসা তাঁকে কার্যে পরিচালিত করেছিল I 

 “ঈশ্বর জগতকে এমন প্রেম করলেন যে তিনি তাঁর একটি এবং একমাত্র পুত্রকে দান করলেন …”

আমাদেরকে দ্বিতীয় স্বর্গীয় প্রতিনিধির কাছে নিয়ে আসে …

মনুষ্য পুত্র

 ‘মনুষ্য পুত্র’ যীশুর নিজের প্রতি উল্লেখ I এই পরিভাষাটির অর্থ কি আমরা পরে দেখব I এখানে তিনি বলছেন যে পুত্রকে পিতার দ্বারা প্রেরণ করা হয়েছিল I তারপরে তিনি উপরে ওঠার বিষয়ে মজার বিবৃতি দেন I 

14 ‘মরুভূমির মধ্যে মোশি য়েমন সাপকে উঁচুতে তুলেছিলেন, তেমনি মানবপুত্রকে অবশ্যই উঁচুতে

ওঠানো হবে৷যোহন 3:14

এটি প্রায় 1500 বছর আগে মশির সময়ে ঘটা হিব্রু বেদের বিবরণকে উল্লেখ করে যা এখানে দেওয়া হয়েছে:

ব্রোঞ্জের সর্প

4 তারা হোর পর্বত থেকে লোহিত সাগরের পথ ধরে ইদোমের আশেপাশে যাত্রা করেছিল। কিন্তু লোকেরা পথে অধৈর্য হয়ে উঠল; 5 তারা Godশ্বর ও মোশির বিরুদ্ধে কথা বলল এবং বলল, “আপনি কেন আমাদের মিশর থেকে মরুভূমিতে মরতে এনেছিলেন? রুটি নেই! জল নেই! এবং আমরা এই দু: খিত খাবারকে ঘৃণা করি! “

6 তখন প্রভু তাদের মধ্যে বিষাক্ত সাপ প্রেরণ করলেন; তারা লোকদের কামড় দিল এবং বহু ইস্রায়েলীয় মারা গেল। 7 লোকেরা মোশির কাছে এসে বলল, “আমরা যখন প্রভুর বিরুদ্ধে এবং আপনার বিরুদ্ধে কথা বলেছিলাম তখন আমরা পাপ করেছি। প্রার্থনা করুন যে প্রভু সাপগুলি আমাদের থেকে দূরে সরিয়ে নেবেন। ” সুতরাং মোশি লোকদের জন্য প্রার্থনা করলেন।

8 প্রভু মোশিকে বললেন, “একটি সাপ তৈরি কর এবং একটি খুঁটিতে লাগিয়ে দাও; যে কাউকে কামড়েছে সে তা দেখে বাঁচতে পারে। 9 সুতরাং মোশি একটি পিতলের সাপ তৈরি করলেন এবং একটি খুঁটিতে রাখলেন। তারপরে যখন কেউ সাপকে কামড়েছিল এবং ব্রোঞ্জের সাপের দিকে তাকাচ্ছিল তখন তারা বাঁ

চল।গণনা পুস্তক 21:4-9

যীশু এই গল্পটিকে ব্যবহার করে স্বগীয় সংস্থায় তার ভূমিকা ব্যাখ্যা করেছিলেন I সাপে কামড়ানো লোকেদের জন্য কি ঘটে থাকবে ভেবে দেখুন I   

যখন বিষাক্ত সাপের দ্বারা দংশিত হয় বিশ শরীরে প্রবেশ করে I স্বাভাবিক চিকিৎসা হ’ল বিষ চুষে বার করে দেওয়া; দংশিত অঙ্গ শক্তকরে বাঁধা যাতে রক্ত প্রবাহিত না হয় এবং বিষ দংশন থেকে ছড়িয়ে না যায়; এবং ক্রিয়াকলাপ কমিয়ে দেয় যাতে হৃৎপিণ্ডের কম স্পন্দন বিষকে দ্রুত পাম্প করে সারা শরীরে ছড়িয়ে না দেয় I    

যখন সর্পরা ইস্রায়েলীয়দের সংক্রমিত করল তাদের বলা হ’ল যে নিরাময় পেতে তাদেরকে নিকটস্থ একট পোলের উপরে উত্থিত ব্রোঞ্জ সর্পের দিকে তাকাতে হবে I আপনি এটি কল্পনা করতে পারেন যেন কেউ বিছানা থেকে ঘুরপাক খেতে খেতে কাছের উত্থিত সর্পটির দিকে তাকাচ্ছে এবং তারপরে সুস্থ হচ্ছে I কিন্তু ইস্রায়েলীয়দের শিবিরে 30 লক্ষ লোক ছিল (তারা সামরিক যুগের 6,00000 লাখেরও বেশি গণনা করেছিল) – একটি বৃহৎ আধুনিক শহরের আকার I সম্ভাবনা বেশি ছিল এই দংশনগুলো কয়েক মিটার দুরে ছিল এবং ব্রোঞ্জের সর্পের পোলের থেকে দেখার   বাইরে I অতএব সাপে দংশিতদের একটি পছন্দ করতে ছিল I তারা ক্ষতটি শক্তভাবে বেঁধে রাখা এবং বিষের বিস্তারকে সীমাবদ্ধ করার জন্য বিশ্রাম সহ সামান্য সাবধানতা অবলম্বন করতে পারত I অথবা তাদেরকে মশির দ্বারা ঘোষিত উপশমের উপরে ভরসা করতে হত এবং কয়েক কিলোমিটার চলতে হত রক্ত প্রবাহকে বাড়িয়ে  এবং বিষকে ছড়িয়ে পোলের উপরে ব্রোঞ্জের সর্পের দিকে তাকাতে I এটি মশির বাক্যের প্রতি আস্থা বা বিশ্বাসের অভাব হবে যা প্রতিটি ব্যক্তির ক্রিয়াকলাপ নির্ধারণ করবে I

যীশু ব্যাখ্যা করছিলেন যে তার সত্তা ক্রুশের উপরে উত্থিত হয়েছিল যা আমাদের পাপ এবং মৃত্যু থেকে মুক্ত করতে তাকে শক্তি দেয়, ঠিক যেমন ব্রোঞ্জের সর্প ইস্রায়েলীয়দের বিষাক্ত মৃত্যুর থেকে মুক্ত করত I যাইহোক, ঠিক যেমন ইস্রায়েলীয়দের ব্রোঞ্জের সর্পের উপশমের উপরে ভরসা করা এবং পোলের দিকে তাকানো দরকার ছিল আমাদেরও ভরসার চোখ, বা বিশ্বাস নিয়ে যীশুর দিকে তাকানোর দরকার I তার জন্য তৃতীয় স্বর্গীয় প্রতিনিধির কাজ করা দরকার I    

আত্মা – প্রাণ

আত্মা সম্পর্কে যীশুর বক্তব্য বিচার করুন

বায়ু যে দিকে ইচ্ছা করে, সেই দিকে বহে, এবং তুমি তাহার শব্দ শুনিতে পাও; কিন্তু কোথা হইতে আইসে, আর কোথায় চলিয়া যায়, তাহা জান না; আত্মা হইতে জাত প্রত্যেক জন সেইরূপ।

যোহন 3:8

এটি ‘আত্মা’ হিসাবে বায়ুরজন্য একই গ্রীক শব্দ (নিউমা) I ঈশ্বরের আত্মা বায়ুর মতন I কোনো মানুষ সরাসরিভাবে বায়ুকে কখনও দেখে নি I আপনি এটিকে দেখতে পারেন না I তবে বায়ু আমাদের চারিদিকে সর্বত্র রয়েছে I বায়ু  পর্যবেক্ষণযোগ্য I আপনি জিনিসগুলোতে এর প্রভাবের মাধ্যমে এটিকে পর্যবেক্ষণ করেন I বায়ু যখন যায় তখন এটি পাতাগুলো সঞ্চার করে, চুল ওড়ায়, পতাকা পতপত করায় এবং জিনিসগুলোকে উত্তেজিত করে I আপনি বায়ুকে নিয়ন্ত্রণ এবং এটিকে নির্দেশিত করতে পারেন না I বায়ু সেখানেই বয়ে যায় যেখানে এ বইবে I আমরা পাল তুলতে পারি যাতে বায়ুর শক্তি আমাদের নৌবহরে চালিত করে I উত্তোলিত এবং জড়িত পালটি তা হয় যা আমাদেরকে তার শক্তি প্রদান কোরে বায়ুকে আমাদের সাথে চলতে দেয় I ওই উত্থিত পাল ব্যতীত বায়ুর গতি এবং শক্তি, যদিও এটি আমাদের চারপাশে ঘুরপাক খায়, আমাদের কোনো উপকার করে না I   

আত্মার ক্ষেত্রেও এটি একই রকম I আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেখানে সে ইচ্ছা করে আত্মা সেখানেই চলে I তবে আত্মার অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে আপনি এটিকে আপনাকে প্রভাবিত করতে আপনি অনুমতি দিতে পারেন, এর জীবন শক্তিকে আপনার কাছে নিয়ে আসতে, আপনাকে চালাতে I ইনি ক্রুশের উপরে উত্থিত মনুষ্য পুত্র, যা  উত্থিত ব্রোঞ্জের সর্প, বা বাযুতে উত্থিত পাল I ক্রুশে উত্থিত মনুষ্য পুত্রের উপরে আমরা যখন ভরসা রাখি এটি আমাদেরকে জীবন দান করতে আত্মাকে অনুমতি  দেয় I আমরা তখন আবার জন্ম গ্রহণ করি – আত্মার এই দ্বিতীয় সময় I আমরা তখন আত্মার জীবন পাই – প্রাণ I আত্মাটির প্রাণ আমাদের ভেতর থেকে আমাদেরকে দ্বিজ হতে সক্ষম করে I কেবল উপনয়ন হিসাবে বাইরের প্রতীক রূপে নয় I       

দ্বিজ – উপর থেকে

এটিকে যোহনের সুসমাচারে একসাথে এনে এইভাবে সংক্ষিপ্তসার করা হয়:

12 কিন্তু কিছু লোক তাঁকে গ্রহণ করল এবং তাঁকে বিশ্বাস করল৷ যাঁরা বিশ্বাস করল তাদের সকলকে তিনি ঈশ্বরের সন্তান হবার অধিকার দান করলেন৷
13 ঈশ্বরের এই সন্তানরা প্রাকৃতিক নিয়ম অনুসারে কোন শিশুর মতো জন্ম গ্রহণ করে নি৷ মা-বাবার দৈহিক কামনা-বাসনা অনুসারেও নয়, ঈশ্বরের কাছ থেকেই তাদের এই

জন্ম৷যোহন 1:12-13

একটি শিশু হতে গেলে একটি জন্মের দরকার, সেইরকমভাবে ‘ঈশ্বরের সন্তান হতে’ দ্বিতীয় জন্মের বর্ণনা করছে – দ্বিজ I দ্বিজকে উপনয়নের মতন বিভিন্ন রীতিনীতির মাধ্যমে প্রতীকী করা যেতে পারে কিন্তু প্রকৃত অভ্যন্তরীণ দ্বিতীয় জন্মকে ‘মানবীয় সিদ্ধান্তের’ দ্বারা অভিষিক্ত করা যায় না I একটি রীতিনীতি, যেমনটি ঠিক, জন্মের বর্ণনা দিতে পারে, আমাদের এই জন্মের প্রয়োজনীয়তার কথা মনে করিয়ে দিতে পারে তবে এ এটিকে নিয়ে আসতে পারে না I আমরা যখন ‘তাঁকে গ্রহণ করি’ এবং ‘তাঁর নামে বিশ্বাস করি’ তখনই এটি কেবল ঈশ্বরের অভ্যন্তরীণ কাজ হয় I       

আলো এবং অন্ধকার

নৌযানটির পদার্থবিদ্যা বোঝার অনেক আগেই লোকে শতাব্দী ধরে পাল ব্যবহার করে বায়ুর শক্তি ব্যবহার করেছে I অনুরূপভাবে, আমরা দ্বিতীয় জন্মের জন্য আত্মাকে শক্তিশালী করতে পারি, এমনকি যদিও আমরা এটিকে আমাদের মন দিয়ে পুরোপুরি বুঝতে না পারি I এটি কোনো বুদ্ধির অভাব নয় যা আমাদের বাধা দেবে I যীশু বরং শিখিয়েছিলেন যে এটি আমাদের অন্ধকারের ভালবাসা (আমাদের মন্দ কর্ম) হতে পারে যা আমাদের সত্যের আলোতে আসতে বাধা দেয় I 

19 আর এটাই বিচারের ভিত্তি৷ জগতে আলো এসেছে, কিন্তু মানুষ আলোর চেয়ে অন্ধকারকে বেশী ভালবেসেছে, কারণ তারা মন্দ কাজ করেছে৷

যোহন 3:19

এটি আমাদের বুদ্ধিদীপ্ত উপলব্ধি অপেক্ষা বরং আমাদের নৈতিক প্রতিক্রিয়া যা আমাদের দ্বিতীয় জন্মকে বাধা দেয় I আমাদের আলোতে আসার পরিবর্তে অনুযোগ করা হয় I  

21 কিন্তু য়ে কেউ সত্যের অনুসারী হয় সে আলোর কাছে আসে, যাতে সেই আলোতে স্পষ্ট বোঝা যায় য়ে তার সমস্ত কাজ ঈশ্বরের মাধ্যমে হয়েছে৷

যোহন 3:21

আমরা দেখি কিভাবে তাঁর দৃষ্টান্তগুলো আমাদের আলোতে আসার সম্পর্কে আরও শিক্ষা দেয় I

একটি অভ্যন্তরীণ শুদ্ধতার উপরে শিক্ষা দেন

ধর্মীয় আচারগতভাবে শুদ্ধ হওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ? শুদ্ধতা বজায় রাখতে এবং অশুদ্ধতা এড়িয়ে যেতে? আমাদের মধ্যে অনেকে শুদ্ধতার বিভিন্ন পদ্ধতি সমূহকে এড়িয়ে যেতে বা কম করতে কঠিন পরিশ্রম করে, যেমন ছুয়াছুই, লোকেদের মধ্যে পারস্পরিক স্পর্শতা যা একে অপরকে অশুদ্ধ করে I অনেকে আবার অশুদ্ধ খাদ্য এড়িয়ে যায়, আর এক প্রকারের অশুদ্ধতা যেখানে আহার প্রস্তুতকারী একজনের অশুদ্ধতার কারণে আমাদের আহারের নিমিত্ত খাদ্যের মধ্যে অশুদ্ধতা উৎপন্ন হয় I      

ধর্মগুলো শুদ্ধতা বজায় রাখে

যখন আপনি এটির উপরে প্রতিবিম্বিত করেন, আমরা বিধিগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করতে প্রচুর চেষ্টা করতে পারি I একটি শিশুর জন্মের পরে, মায়ের সুতকের নির্ধারিত নিয়মগুলো অনুসরণ করা উচিত, যা এক দীর্ঘ সময়ের জন্য সামাজিক দুরত্বকে অন্তর্ভুক্ত করে I জন্মের পরে যাচচাকে (নুতন মা) কিছু পরম্পরায় এক মাস ধরে অশুদ্ধ বিবেচনা করা হয় I কেবলমাত্র একটি শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়ার (সর) মাধ্যমে যা স্নান এবং মালিশকে অন্তর্ভুক্ত করে, মাকে পুনরায় শুদ্ধ বলে বিবেচনা করা হবে I জন্ম ছাড়াও, স্ত্রীর মাসিক রক্তস্রাবের সময় যা সাধারণত তাকে অশুদ্ধ করে বলে দেখা হয় তাই তাকেও ধর্মীয় আচারের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শুদ্ধতা পুনর্লাভ করা উচিত I বিবাহের পূর্বে বা অগ্নি নৈবেদ্যের (হোম বা যজ্ঞ) আগে, শুদ্ধতা বজায় রাখতে অনেক লোক ধর্মীয় আচারের প্রক্রিয়া পালন করবে যাকে পুণ্যহবচনম বলা হয় যেখানে মন্ত্র উচ্চারণ করা হয় এবং লোকেদের উপরে জল ছিটানো হয় I           

যে খাদ্য আমরা খাই, যে জিনিসগুলো বা লোকেদের আমরা স্পর্শ করি, বা আমাদের শারীরিক কার্যকলাপ যাই হোক না কেন, নানান পদ্ধতি সমূহ আছে যার দ্বারা আমরা শুদ্ধ হতে পারি I অতএব অনেকে শুদ্ধতা বজায় রাখতে কঠিন পরিশ্রম করে I এই জন্যই উত্তরণের আচার অনুষ্ঠানকে, সমস্কার (বা সংস্কার) বলে জানা যায়, যা দেওয়া হয়েছিল – যথাযথভাব সুদ্ধতার সাথে জীবনের মাধ্যমে প্রগতি করতে I  

গৌতম ধর্ম সুত্র

প্রাচীনতম সংস্কৃত ধর্মসুত্রগুলোর মধ্যে গৌতম ধর্মসুত্র একটি অন্যতম I এর তালিকার মধ্যে 40টি বাহ্যিক সমস্কারগুলো (যেমন স্নানের পরে ধর্মীয় শুদ্ধতা) আছে তবে শুদ্ধতা বজায় রাখতে এছাড়াও আটটি অভ্যন্তরীণ সমস্কারগুলো আছে যেগুলোকে আমাদের অবশ্যই অনুশীলন করা উচিত I সেগুলো হ’ল: 

সমস্ত প্রাণীর প্রতি সমবেদনা, ধৈর্য, হিংসার অভাব, বিশুদ্ধতা, প্রশান্তি, একটি ইতিবাচক মনোভাব রাখা, উদারতা এবং অধিকারের অভাব I  

সমস্ত প্রাণীর প্রতি সমবেদনা, ধৈর্য, হিংসার অভাব, বিশুদ্ধতা, প্রশান্তি, ইতিবাচক মনোভাব, উদারতা এবং অধিকারের অভাব রয়েছে।

গৌতম ধর্ম-সুত্র 8:23

শুদ্ধতা এবং অশুদ্ধতার উপরে যীশু   

আমরা দেখেছি যীশুর বাক্যের শক্তি কিভাবে কর্ত্তৃত্বর সাথে শিক্ষা দেয়, লোকেদের সুস্থ করে, এবং প্রকৃতিকে আজ্ঞা দেয় I এছাড়াও যীশু আমাদের অভ্যন্তরীণ শুদ্ধতার সম্বন্ধে আমাদেরকে চিন্তা করতে বললেন, এবং শুধুমাত্র বাহ্যিক নয় I যদিও আমরা অন্য লোকেদের বাহ্যিক শুদ্ধতাকে কেবলমাত্র দেখতে পারি, ঈশ্বরের পক্ষে এটি আলাদা – তিনি অভ্যন্তরকেও দেখেন I যখন ইস্রায়েলের রাজাদের মধ্যে একজন বাহ্যিক শুদ্ধতা বজায় রাখলেন, কিন্তু তার অভ্যন্তরীণ হৃদয়ের শুদ্ধতা পালন করলেন না, তার গুরু বাইবেলে লিপিবদ্ধ এই বার্তাটি নিয়ে এলেন:    

যাদের হৃদয় তাঁর প্রতি সম্পূর্ণরূপে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ তাদের দৃ to় করার জন্য প্রভুর চোখ সমস্ত পৃথিবী জুড়ে রয়েছে।

2 বংশাবলী 16:9a  

অভ্যন্তরীণ শুদ্ধতার সম্পর্ক আমাদের ‘হৃদয়ের’ সাথে হয় – যে ‘আপনি’ যা ভাবে, অনুভব করে, সিদ্ধান্ত নেয়, সমর্পণ করে, মান্য করে এবং জিভকে নিয়ন্ত্রণ করে I কেবল আমাদের অভ্যন্তরীণ সুদ্ধতার সাথে আমাদের সমস্কার কার্যকর হবে I তাই যীশু তার শিক্ষায় বাহ্যিক শুদ্ধতার বিপরীত এটির উপরে জোর দিয়েছিলেন I এখানে সুসমাচার অভ্যন্তরীণ শুদ্ধতা সম্পর্কে তার শিক্ষাকে লিপিবদ্ধ করে I   

37 যীশু এই কথা শেষ করলে একজন ফরীশী তার বাড়িতে যীশুকে খাওযার জন্য নিমন্ত্রণ করল৷ তাই তিনি তার বাড়িতে গিয়ে খাবার আসনে বসলেন৷
38 কিন্তু সেই ফরীশী দেখল য়ে খাওযার আগে প্রথা মতো যীশু হাত ধুলেন না৷
39 প্রভু তাকে বললেন, ‘তোমরা ফরীশীরা থালা বাটির বাইরেটা পরিষ্কার কর, কিন্তু ভেতরে তোমরা দুষ্টতা ও লোভে ভরা৷
40 তোমরা মূর্খের দল! তোমরা কি জান না যিনি বাইরেটা করেছেন তিনি ভেতরটাও করেছেন?
41 তাই তোমাদের থালা বাটির ভেতরে যা কিছু আছে তা দরিদ্রদের বিলিয়ে দাও, তাহলে সবকিছুই তোমাদের কাছে সম্পূর্ণ শুচি হয়ে যাবে৷
42 কিন্তু হায়, ফরীশীরা ধিক্ তোমাদের কারণ তোমরা পুদিনা, ধনে ও বাগানের অন্যান্য শাকের দশমাংশ ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে উত্‌সর্গ করে থাক, কিন্তু ন্যায়বিচার ও ঈশ্বরের প্রতি প্রেমের বিষয়টি অবহেলা কর৷ কিন্তু প্রথম বিষয়গুলির সঙ্গে সঙ্গে শেষেরগুলিও তোমাদের জীবনে পালন করা কর্তব্য৷
43 ধিক্ ফরীশীরা! তোমরা সমাজ-গৃহে সম্মানিত আসন আর হাটে বাজারে সকলের সশ্রদ্ধ অভিবাদন পেতে কত না ভালবাস৷
44 ধিক্ তোমাদের! তোমরা মাঠের মাঝে মিশে থাকা কবরের মতো, লোকেরা না জেনে যার ওপর দিয়ে হেঁটে যায়৷

লুক 11:37-44

52 ‘ধিক্ ব্যবস্থার শিক্ষকরা কারণ তোমরা জ্ঞানের চাবিটি ধরে আছ৷ তোমরা নিজেরাও প্রবেশ করনি আর যাঁরা প্রবেশ করার চেষ্টা করছে তাদেরও বাধা

দিচ্ছ৷’লুক 11:52

 (‘ফরীশীরা’ স্বামী বা পন্ডিতদের অনুরূপ, যিহূদি শিক্ষক ছিলেন I যীশু ঈশ্বরকে ‘দশমাংশ’ দেওয়ার উল্লেখ করেছেন I এটি ছিল ধর্মীয় ভিক্ষা দান)     

একটি মৃত শরীর স্পর্শ করা যিহূদি ব্যবস্থায় অশুদ্ধতা ছিল I যীশু যখন বললেন তারা ‘চিহ্নবিহীন কবরের’ দিয়ে হেঁটে গেছে তিনি বুঝিয়েছিলেন যে তারা এমনকি এটি না জেনেও অশুচি ছিল কারণ তারা অভ্যন্তরীণ পরিচ্ছনতাকে উপেক্ষা করছিল I অভ্যন্তরীণ শুদ্ধতাকে উপেক্ষা করা আমাদেরকে একটি মৃত দেহ স্পর্শ করার মতন অশুদ্ধ করে I      

ধর্মীয়ভাবে শুদ্ধ ব্যক্তিকে হৃদয় অপবিত্র করে      

নিম্নলিখিত শিক্ষায়, যীশু ভাববাদী যিশাইয় থেকে উদ্ধৃত করলেন যিনি 750 খ্রীষ্টাব্দে বাস করতেন I

https://en.satyavedapusthakan.net/wp-content/uploads/sites/3/2017/10/isaiah-sign-of-the-branch-timeline--1024x576.jpg

ঐতিহাসিক কালপঞ্জির মধ্যে ঋষি যিশাইয় এবং অন্যান্য হিব্রু ঋষিগণ  (ভাববাদীরা)

রুশালেম থেকে কয়েকজন ফরীশী ও ব্যবস্থার শিক্ষক যীশুর সঙ্গে দেখা করতে এলেন৷ তাঁরা যীশুকে বললেন,
2 ‘আমাদের পিতৃপুরুষরা য়ে নিয়ম আমাদের দিয়েছেন, আপনার অনুগামীরা কেন তা মেনে চলে না? খাওয়ার আগে তারা ঠিকমতো হাত ধোয় না!’
3 এর উত্তরে যীশু তাঁদের বললেন, ‘তোমাদের পরম্পরাগত আচার পালনের জন্য তোমরাই বা কেন ঈশ্বরের আদেশ অমান্য করো?
4 কারণ ঈশ্বর বলেছেন, ‘তোমরা বাবা-মাকে সম্মান করো৷’আর ‘য়ে কেউ তার বাবা-মার নিন্দা করবে তার মৃত্যুদণ্ড হবে৷’
5 কিন্তু তোমরা বলে থাকো, কেউ যদি তার বাবা কিংবা মাকে বলে, ‘আমি তোমাদের কিছুই সাহায্য করতে পারব না, কারণ তোমাদের দেবার মত যা কিছু সব আমি ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে দানস্বরূপ উত্‌সর্গ করেছি,’
6 তবে বাবা মায়ের প্রতি তার কর্তব্য কিছু থাকে না৷ তাই তোমাদের পরম্পরাগত রীতির দ্বারা তোমরা ঈশ্বরের আদেশ মূল্যহীন করেছ৷
7 তোমরা হলে ভণ্ড! ভাববাদী যিশাইয় তোমাদের বিষয়ে ঠিকই ভাববাণী করেছেন:
8 ‘এই লোকগুলো মুখেই আমায় সম্মান করে, কিন্তু তাদের অন্তর আমার থেকে অনেক দূরে থাকে৷
9 এরা আমার য়ে উপাসনা করে তা মিথ্যা, কারণ এরা য়ে শিক্ষা দেয় তা মানুষের তৈরী কতকগুলি নিয়ম মাত্র৷'”
10 এরপর যীশু লোকদের তাঁর কাছে ডেকে বললেন, ‘আমি যা বলি তা শোন ও তা বুঝে দেখ৷
11 মানুষ যা খায় তা মানুষকে অশুচি করে না৷ কিন্তু মুখের ভেতর থেকে যা বের হয়ে আসে, তাইমানুষকে অশুচি করে৷’
12 তখন যীশুর শিষ্যরা তাঁর কাছে এসে বললেন, ‘আপনি কি জানেন ফরীশীরা আপনার এই কথা শুনে অপমান বোধ করছেন?’
13 এর উত্তরে যীশু বললেন, ‘য়ে চারাগুলি আমার স্বর্গের পিতা লাগাননি, সেগুলি উপড়ে ফেলা হবে৷
14 তাই ওদের কথা বাদ দাও৷ ওরা নিজেরা অন্ধ, ওরা আবার অন্য অন্ধদের পথ দেখাচ্ছে৷ দেখ, অন্ধ যদি অন্ধকে পথ দেখাতে যায়, তবে দুজনেইগর্তে পড়বে৷’
15 তখন পিতর যীশুকে বললেন, ‘আপনি যা বললেন, তার অর্থ আমাদের বুঝিয়ে দিন৷’
16 যীশু বললেন, ‘তোমরাও কি এখনও বুঝতে পারছ না?
17 তোমরা কি বোঝ না য়ে, যা কিছু মুখের মধ্যে যায় তা উদরে গিয়ে পৌঁছায় ও পরে তা বেরিয়ে পায়খানায় পড়ে৷
18 কিন্তুমুখেরমধ্য থেকে যা বের হয় তা মানুষের অন্তর থেকেই বের হয় আর তাই মানুষকে অশুচি করে তোলে৷
19 আমি একথা বলছি কারণ মানুষের অন্তর থেকেইসমস্ত মন্দচিন্তা, নরহত্যা, ব্যভিচার, য়ৌনপাপ, চুরি, মিথ্যা সাক্ষ্য ও নিন্দা বার হয়৷
20 এসবইমানুষকে অশুচি করে, কিন্তু হাত না ধুয়ে খেলে মানুষ অশুচি হয়

না৷’মথি 15:1-20

আমাদের হৃদয় থেকে যা বেরিয়ে আসে তা আমাদের অশুদ্ধ করে I গৌতম ধর্মসূত্রে তালিকাভুক্ত শুদ্ধ চিন্তার তালিকার প্রায় ঠিক বিপরীত যীশুর অশুদ্ধ চিন্তার তালিকা I এইভাবে তারা একই শিক্ষা দেয় I

23 ‘ধিক্ ব্যবস্থার শিক্ষক ও ফরীশীর দল, তোমরা ভণ্ড! তোমরা পুদিনা, মৌরী ও জিরার দশভাগের একভাগ ঈশ্বরকে দিয়ে থাক অথচ ন্যায়, দযা ও বিশ্বস্ততা, ব্যবস্থার এই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা অবহেলা করে থাক৷ আগের ঐ বিষয়গুলি পালন করার সঙ্গে সঙ্গে পরের এই বিষয়গুলি পালন করাও তোমাদের উচিত৷
24 তোমরা অন্ধ পথপ্রদর্শক, তোমরা মশা ছেঁকে ফেল, কিন্তু উট গিলে থাক৷
25 ‘ধিক্ ব্যবস্থার শিক্ষক ও ফরীশীর দল, তোমরা ভণ্ড! তোমরা থালা বাটির বাইরেটা পরিষ্কার করে থাক, কিন্তু ভেতরটা থাকে লোভ ও আত্মতোষণে ভরা৷
26 অন্ধ ফরীশী! প্রথমে তোমাদের পেয়ালার ভেতরটা পরিষ্কার কর, তাহলে গোটা পেয়ালার ভেতরে ও বাইরে উভয় দিকই পরিষ্কার হবে৷
27 ‘ধিক্ ব্যবস্থার শিক্ষক ও ফরীশীর দল, তোমরা ভণ্ড! তোমরা চুনকাম করা কবরের মতো, যার বাইরেটা দেখতে খুব সুন্দর, কিন্তু ভেতরে মরা মানুষের হাড়গোড় ও সব রকমের পচা জিনিস রয়েছে৷
28 তোমরা ঠিক সেইরকম, বাইরের লোকদের চোখে ধার্মিক, কিন্তু ভেতরে ভণ্ডামী ও দুষ্টতায়  

পূর্ণ৷মথি 23:23-28

যে কোনো পেয়ালায় আপনি পান করুন, আপনি চাইবেন ভেতরটা পরিষ্কার হোক, কেবল বাইরেটা নয় I এই দৃষ্টান্তটির মধ্যে আমরা হলাম পেয়ালা I ঈশ্বরও চান আমরা ভেতর থেকে পরিষ্কার হই, কেবল বাইরেটা নয় I  

আমরা সবাই যা দেখেছি যীশু তা উল্লেখ করছেন I ধর্মীয়দের মধ্যে বাহ্যিক পরিচ্ছনতা অনুসরণ করা একেবারে সাধারণ বিষয় হতে পারে, তবে অনেকে এখনও অভ্যন্তরে লোভ এবং প্রবৃত্তিতে পরিপূর্ণ – এমনকি তারাও যারা ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ I অভ্যন্তরীণ শুদ্ধতা অর্জন করা প্রয়োজন – তবে এটি অনেক কঠিন I    

যীশু গৌতম ধর্মসূত্রের মতই অনেক কিছু শিক্ষা দিলেন, যা আটটি অভ্যন্তরীণ সংস্কারের তালিকা তৈরি করার ঠিক পরে বলে: 

একজন লোক যে চল্লিশ সংস্কার সমূহ পালন করেছে কিন্তু এই আট গুণগুলোর অভাব আছে সে ব্রহ্মার সাথে একাত্মতা অর্জন করে না I

একজন লোক যে চল্লিশ সংস্কার সমূহের মধ্যে কেবল কিছু পালন করেছে  কিন্তু এই আট গুণগুলোর অধিকারী, অন্য দিকে, সে ব্রহ্মার সাথে একাত্মতা অর্জন করতে নিশ্চিত হয় I

গৌতম ধর্ম-সুত্র 8:24-25

অতএব সমস্যাটি উত্থিত হয়েছে I কিভাবে আমরা আমাদের হৃদয়কে শুদ্ধ করি যাতে আমরা ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করতে পারি – ব্রহ্মার সাথে একাত্মতা? দ্বিজা সম্পর্কে শিখতে আমরা সুসমাচারের মধ্যে দিয়ে চলতে যাচ্ছি I